পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - আধুনিক বিজ্ঞান ১. পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, মহাকর্ষ-অভিকর্ষ, কসমিক রে, ব্লাক হোল, হিগের কণা, ডায়োড, ট্রানজিস্টর, আইসি, আপেক্ষিক তত্ত্ব, ফোটন কণা, বিভিন্ন রশ্মি ও তার ব্যবহার, ইলেক্ট্রনিক্স, মহাকাশ ও জ্যাতির্বিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থ বিজ্ঞান ইত্যাদি। ২. বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, টাইড, টেকটোনিক প্লেট, সাইক্লোন, সুনামি, বিবর্তন, সামুদ্রিক জীবন, জোয়ার-ভাটা, জীব-বৈচিত্র, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান ও এর ব্যবহার, আধুনিক ভূগোল সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়। উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান ও ভূগোল বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। -------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সংঘটিত হয়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
• আবহাওয়া এবং জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন মূলত বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরে সংঘটিত হয়। ট্রপোমণ্ডল হলো বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর যেখানে আমাদের দৈনন্দিন আবহাওয়া দেখা যায়। এখানে বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ ও বায়ু প্রবাহের পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন আবহাওয়া ঘটনা যেমন বৃষ্টি, ঝড়, মেঘের সৃষ্টি ইত্যাদি ঘটে। স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল ও তাপমণ্ডল অন্যান্য স্তর যেখানে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন পদার্থ ও তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু সেখানকার পরিবর্তনগুলি সাধারণত জলবায়ুর দৈনন্দিন পরিবর্তনের মতো তীব্র নয়। তাই আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন ট্রপোমণ্ডলে হয়।

বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ:

- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে বায়ুমণ্ডলের মোট পাঁচটি স্তর বা পর্যায়ে রয়েছে। বায়ুমণ্ডলের এই ৫ টি স্তর হলো:
১) ট্রপোমণ্ডল (Troposphere),
২) স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere),
৩) মেসোমণ্ডল (Mesosphere),
৪) তাপমণ্ডল (Thermosphere) এবং
৫) এক্সোমণ্ডল (Exosphere)।

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
• ট্রপোমণ্ডল ভূ-পৃষ্ঠ হতে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরূ অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
• ট্রপোমণ্ডল স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে। এই উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপ কমে যাওয়ার প্রবনতাকে বলা হয় স্বাভাবিক তাপ হ্রাস।
• ট্রপোমণ্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
• ট্রপোমণ্ডল স্তরে আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া ঘটে থাকে।
• মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে যে ঘূর্ণিঝড় গঠিত হয়, তাকে __________ নামে অভিহিত করা হয়।
  1. টাইফুন
  2. হারিকেন
  3. সাইক্লোন
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
টাইফুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইফুন
ব্যাখ্যা
• উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে যে ঘূর্ণিঝড় গঠিত হয়, তাকে টাইফুন নামে অভিহিত করা হয়। টাইফুন মূলত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় যা সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার, বিশেষ করে জাপান, ফিলিপাইন, চীন ও তাইওয়ান অঞ্চলে সৃষ্টি হয়। এই ঘূর্ণিঝড়ের গতি খুব দ্রুত এবং এটি ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে। অন্যদিকে, একই ধরনের ঘূর্ণিঝড়কে আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে হারিকেন বলা হয়। আবার ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এর নাম সাইক্লোন। তাই, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে টাইফুন বলা হয়।
- সঠিক উত্তর: ক) টাইফুন।

সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:

• সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়।

• হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

• টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

• সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

• এ ছাড়াও, দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
• আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

• যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হয় না:
- পৃথিবীর বিষুব রেখা বরাবর সাগরে সাধারণত কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
- বিষুব রেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।
- অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরেও কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।

উল্লেখ্য, কোনো টাইফুন তার এলাকা থেকে সরে গিয়ে হারিকেন প্রবণ অঞ্চলে প্রবেশ করলে একে তখন একে হারিকেন হিসেবেই ডাকা হয়। একইভাবে কোনো হারিকেন দিক পরিবর্তন করে টাইফুনের এলাকায় চলে এলেও একে তখন টাইফুন বলা হয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড মেটেওরলজিক্যাল অর্গানাইজেনশনের ওয়েবসাইট এবং The Daily Star Bangla.
.
ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে কী বলা হয়?
  1. Transformer
  2. Emitter
  3. Collector
  4. Base
সঠিক উত্তর:
Base
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Base
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে Base বলা হয়। ট্রানজিস্টর মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত—Emitter, Base, এবং Collector। Emitter হলো সেই অংশ যেখান থেকে ইলেকট্রন বা হোল প্রবাহ শুরু হয়, আর Collector হলো যেখানে তারা জমা হয়। Base অংশটি খুবই পাতলা এবং এটি Emitter এবং Collector এর মাঝখানে অবস্থান করে। Base এর মাধ্যমে ছোট একটি সিগন্যাল প্রবাহিত হলে Emitter থেকে Collector পর্যন্ত বড় সিগন্যালের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই Base ট্রানজিস্টরের নিয়ন্ত্রণকারী অংশ হিসেবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে ট্রানজিস্টর সুইচ বা অ্যাম্প্লিফায়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।
- সঠিক উত্তর: ঘ) Base.

ট্রানজিস্টর (Transistor):

- ট্রানজিস্টর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া n-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে।
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়।
- আর একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে তিনযোজী পরমাণু প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে n-p-n ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়।

- তাই একটি ট্রানজিস্টরকে দুটি ডায়োডকে পিঠাপিঠি (Back to back) যুক্ত বলে ধরা হয়।
- ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে ট্রানজিস্টরের বেস (Base) বা ভূমি বলে।
- প্রান্তের যে অংশের চওড়া অপর প্রান্তের চেয়ে তুলনামূলক কম এবং অপদ্রব্যের অনুপাত একটু বেশি তাকে এমিটার (Emiter) বা নিঃসারক বলে।
- যে প্রান্তের চওড়া একটু বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কালেক্টর (Collector) বা সংগ্রাহক বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের-
  1. ছয় ভাগের একভাগ
  2. বিশ ভাগের একভাগ
  3. পাঁচ ভাগের একভাগ
  4. দশ ভাগের একভাগ
সঠিক উত্তর:
ছয় ভাগের একভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয় ভাগের একভাগ
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ, একই বস্তু চাঁদে পৃথিবীর চেয়ে অনেক কম ওজন অনুভব করে। এর কারণ হলো চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তি পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। মহাকর্ষ শক্তি সরাসরি বস্তুটির ওজন নির্ধারণ করে, কারণ ওজন হচ্ছে মহাকর্ষ শক্তির কারণে বস্তুতে কার্যকরী বল। তাই একই বস্তুর ওজন চাঁদে কম হবে। সাধারণভাবে, চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি পৃথিবীর প্রায় এক ছয় ভাগ হওয়ায়, বস্তুর ওজনও তার ছয় ভাগের এক ভাগ হয়ে যায়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) ছয় ভাগের এক ভাগ।


- চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ।

- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে এ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়।
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে এ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
.
মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য কোন উৎস ব্যবহার করা হয়?
  1. Fern
  2. Yeast
  3. Mucor
  4. Chlorella
সঠিক উত্তর:
Chlorella
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Chlorella
ব্যাখ্যা
• মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য প্রধানত Chlorella ব্যবহার করা হয়। Chlorella একটি নলাকার এককোষী শৈবাল, যা সূর্যালোকের সাহায্যে ফটোসিন্থেসিস করে খাদ্য এবং অক্সিজেন উৎপাদন করে। মহাকাশযানে দীর্ঘ সময় থাকার সময় মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসে সৃষ্ট কার্বন ডাইঅক্সাইড শৈবাল গ্রহণ করে অক্সিজেনে রূপান্তরিত করে, যা পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখে। এছাড়া, Chlorella প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি খাদ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে Fern, Yeast ও Mucor মহাকাশে খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য কম ব্যবহার হয়। তাই মহাকাশ গবেষণায় Chlorella একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব উৎস হিসেবে বিবেচিত।

• শৈবাল:

- শৈবালের সত্যিকার মূল, কান্ড ও পাতা নেই, তবে ক্লোরোফিল আছে।
- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং আলো ছাড়া জন্মাতে পারে না।
- শৈবালের কোষ-প্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত।
- শৈবাল এককোষী এবং বহুকোষী হতে পারে।
- মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের উৎস হিসেবে ক্লোরেলা উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়।
- ক্লোরেলা এক প্রকার সবুজ এককোষী শৈবাল যা প্রোটিন খাদ্যের আদর্শ উৎস।
- ক্লোরেলা হল ক্লোরোফাইটা বিভাগের এককোষী সবুজ শৈবালের প্রায় তেরো প্রজাতির একটি প্রজাতি।
- অন্যদিকে, ঈস্ট এবং মিউকর হলো ছত্রাক।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
.
জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলে কত শতাংশ থাকে?
  1. ০.৪১%
  2. ৭৮.০১%
  3. ০.০৩%
  4. ২০.৭১%
সঠিক উত্তর:
০.৪১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৪১%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় ০.৪১% থাকে। এটি বায়ুমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা বায়ুর আর্দ্রতা সৃষ্টি করে এবং জলচক্রের অংশ হিসেবে কাজ করে। জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং বৃষ্টির সৃষ্টি ও জলবাষ্পীয় মেঘ গঠনে ভূমিকা রাখে। 
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) ০.৪১%।


বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
• বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

• বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বিবর্তন নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে, সেটার নাম কী?
  1. Evolution
  2. Embryology
  3. Mycology
  4. Microbiology
সঠিক উত্তর:
Evolution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution
ব্যাখ্যা
– বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution.

অন্যদিকে,
- ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Embryology,
- অণুজীব বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় Microbiology,
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology.

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোনটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে?
  1. Voltmeter
  2. Ammeter
  3. Diode
  4. Transistor
সঠিক উত্তর:
Diode
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Diode
ব্যাখ্যা
• ডায়োড (গ) মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। রেকটিফায়ার এমন একটি ডিভাইস যা AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current) তে রূপান্তর করে। ডায়োডের একমুখী পরিবাহিতার বৈশিষ্ট্য আছে, অর্থাৎ এটি কেবল এক দিক দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত করতে দেয় এবং অপর দিক থেকে প্রতিরোধ করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে, ডায়োডকে পূর্ণ তরঙ্গ বা অর্ধ তরঙ্গ রেকটিফায়ার সার্কিটে ব্যবহার করে AC কারেন্টকে DC তে রূপান্তর করা হয়। অন্যদিকে, ভল্টমিটার ও অ্যামিটার বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্র এবং ট্রানজিস্টর মূলত অ্যাম্প্লিফায়ার বা সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, রেকটিফায়ার নয়।

ডায়োড:

- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোন গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই?
  1. Earth
  2. Mercury
  3. Jupiter
  4. Mars
সঠিক উত্তর:
Mercury
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mercury
ব্যাখ্যা
• Mercury - বুধ হলো সৌরজগতের এমন একটি গ্রহ যার কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা চাঁদ নেই। এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ এবং আকারেও সবচেয়ে ছোট। সূর্যের অত্যন্ত নিকটে অবস্থিত হওয়ায়, সূর্যের মহাকর্ষ বলের কারণে কোনো উপগ্রহ তার চারপাশে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারে না। এ ছাড়া, নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় কোনো চাঁদ আকর্ষণ করে রাখতে পারে না। ফলে মার্কিউরি একা ভ্রমণ করে তার কক্ষপথে। অপরদিকে, পৃথিবীর একটি, মঙ্গলের দুটি এবং বৃহস্পতির অসংখ্য উপগ্রহ রয়েছে। সুতরাং সঠিক উত্তর: খ) Mercury.

বুধ গ্রহ:

- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ।
- সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার।
- বুধ গ্রহের ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- বুধ গ্রহে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস বা পানি কোনো কিছু নেই।
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)।
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের।
- বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
নিচের কোনটি ভূমিকম্পের প্রভাব বা ফলাফল নয়?
  1. তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  2. ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি
  3. সমুদ্রতলের পরিবর্তন
  4. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তির কারণে সৃষ্ট হয় এবং এটি বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে। ভূমিকম্পের ফলে মাটিতে ফাটল ও চ্যুতি সৃষ্টি হয়, যা ভবন ধ্বংস, রাস্তা ভাঙন ইত্যাদি ঘটায়। এছাড়া, সমুদ্রতলে পরিবর্তন হয়ে সুনামি সৃষ্টি হতে পারে এবং নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে, ভূমিকম্পের কারণে সরাসরি তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটে না। তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে ভূমিকম্পের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাই উল্লিখিত বিকল্পগুলোর মধ্যে “ক) তাপমাত্রা বৃদ্ধি” ভূমিকম্পের একটি প্রভাব বা ফলাফল নয়।

• ভূমিকম্পের ফলাফল ও প্রভাব (Results and Effects of Earthquake):
• ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি:
- ভূমিকম্পের দরুন ভূ-ত্বকে অসংখ্য ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি হয়।
- ভূ-ত্বকে চ্যুতি সৃষ্টির ফলে চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূ-ভাগ নিচের দিকে নেমে যায়, যাকে স্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley) বলে এবং যখন উপরের দিকে ওঠে যায় তখন তাকে হর্স্ট (Horst) বা স্তূপ পর্বত বলে।

• সমুদ্রতলের পরিবর্তন:
- ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রতলের অনেক স্থান ওপরে উত্থিত হয় এবং স্থলভাগের অনেক স্থান সমুদ্রতলে ডুবে যায়।
যেমন- ১৯২১ সালের ভূমিকম্পের ফলে টোকিও উপসাগরের তলদেশ ৬০ মিটার উঁচু হয়।
- এছাড়া সমুদ্রগর্ভ হতে হিমালয় পর্বত উত্থিত হয়েছে।
- অপরদিকে ১৮৯৯ সালে ভারতে কচ্ছ উপসাগরের ৫০০০ বর্গকিলোমিটার স্থান সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত হয়।

• নদীর গতিপথ পরিবর্তন:
- ভূমিকম্পের ফলে নদীর গতি পরিবর্তিত হয়, নদী শুঁকিয়ে যায় কখনও জলাভূমির সৃষ্টি হয়।
যেমন- ১৯৫০ সালে আসামের ভূমিকম্পে দিবং নদীর গতি পথ পরিবর্তিত হয়।
- এছাড়া ১৭৮৭ সালে ভারতের আসাম রাজ্যে যে ভূমিকম্প হয় তার ফলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যায়।
- এজন্য ব্রহ্মপুত্র নদীটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনা খাত দিয়ে প্রবাহিত হয়।

আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল হলো:
- ভূমির উত্থান ও অবনমন;
- ভাঁজের সৃষ্টি;
- ভূ-পাত;
- বন্যার সৃষ্টি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
'A Brief History of Time' গ্রন্থটির লেখক -
  1. Jamal Nazrul Islam
  2. George Lemaitre
  3. Kepler
  4. Stephen Hawking
সঠিক উত্তর:
Stephen Hawking
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Stephen Hawking
ব্যাখ্যা
• 'A Brief History of Time' গ্রন্থটির লেখক হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী Stephen Hawking. এই বইটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি মহাবিশ্বের গঠন, সময়ের প্রকৃতি, কৃষ্ণগহ্বর (black holes), বিগ ব্যাং (Big Bang), আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মতো জটিল ধারণাগুলো সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে। স্টিফেন হকিং বইটিতে মূলত মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি বিজ্ঞানের জনপ্রিয়ীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। এই গ্রন্থই তাকে সাধারণ মানুষের মাঝে বিজ্ঞানী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।

তাঁর রচিত বইসমূহ-
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design, ইত্যাদি।

- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং ছিলেন একজন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।
- পৃথিবীর মানুষের কাছে “The Scientist on a Wheelchair” হিসেবে পরিচিত।
- স্টিফেন হকিং এর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র- ‘Theory of Everything.’

উৎস: ব্রিটানিকা।
১২.
সামুদ্রিক মাছ আর শৈবালের মধ্যে কোনটির প্রাচুর্য বেশি?
  1. Potassium
  2. Iodine
  3. Magnesium
  4. Iron
সঠিক উত্তর:
Iodine
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Iodine
ব্যাখ্যা
• সামুদ্রিক মাছ এবং শৈবাল—উভয়েই পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও আয়োডিনের (Iodine) প্রাচুর্য শৈবালে সবচেয়ে বেশি। শৈবাল প্রাকৃতিকভাবে আয়োডিন শোষণ করে এবং সংরক্ষণ করে, যা আমাদের থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। সামুদ্রিক মাছেও আয়োডিন থাকে, তবে পরিমাণে তা শৈবালের তুলনায় কম। পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং আয়রন উভয় উৎসেই থাকতে পারে, তবে আয়োডিনের আধিক্য তুলনামূলকভাবে শৈবালেই বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই আয়োডিন উপাদানের দিক থেকে শৈবাল বেশি সমৃদ্ধ।
- সঠিক উত্তর: খ) Iodine.

- খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং লবণ, সামুদ্রিক শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- এ সমস্ত উপাদান দেহের বৃদ্ধির কাজে সাহাজ্য করে।
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
- লৌহের অভাবে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।

সূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১৩.
ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ কত হলে তাকে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি
  2. ৪৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
  3. ৫১ কিলোমিটার বা তার বেশি
  4. ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
সঠিক উত্তর:
৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
ব্যাখ্যা
• সাইক্লোন হলো একটি প্রাকৃতিক বায়ুপ্রবাহ যা শক্তিশালী ঘূর্ণায়মান বাতাসের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। সাধারণত, যখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হয়, তখন তাকে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ধরনের বাতাস খুবই শক্তিশালী এবং এর ফলে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত, প্রবল ঝড়, ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাইক্লোন সাধারণত গভীর নিম্নচাপের অঞ্চল থেকে সৃষ্টি হয় এবং এটি স্থল বা সাগরের উপরে দ্রুত বেগে চলতে থাকে। সুতরাং, ঘন্টায় বাতাসের গতি যদি ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হয়, তখন সেটাকে সাইক্লোন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাইক্লোনের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তাই এটি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সাইক্লোন:

- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা।
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়।
- বঙ্গোসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রেক্ষিতে আলোর কণিকার নাম কী?
  1. Proton
  2. Photon
  3. Quark
  4. Neutron
সঠিক উত্তর:
Photon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Photon
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রেক্ষিতে আলোর কণিকাকে ফোটন (Photon) বলা হয়। ফোটন হল আলোর শক্তি কণিকা, যা আলোর তরঙ্গের সঙ্গে একত্রে বিদ্যমান। এটি কোনো বিশ্রাম ভরহীন কণা এবং আলোর বেগে (প্রায় ৩ লাখ কিমি/সেকেন্ড) চলাচল করে। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে, আলোর শক্তি নির্দিষ্ট পরিমাণে ছোট ছোট কণিকায় ভাগ হয়, যেগুলিকে ফোটন বলা হয়। ফোটন বিদ্যুতচুম্বকীয় বিকিরণ যেমন আলোক, রেডিও তরঙ্গ, এক্স-রে ইত্যাদির মৌলিক কণা। তাই আলোর কণিকার নাম হলো ফোটন।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: খ) Photon.

কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়।
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ কোন দুটি প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশ অবস্থিত?
  1. ইন্ডিয়ান প্লেট ও আফ্রিকান প্লেট
  2. ইন্ডিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেট
  3. ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার প্লেট
  4. কোনোটিই সঠিক নয়
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার প্লেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার প্লেট
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চলে অবস্থিত কারণ এটি ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার প্লেটের সংযোগস্থলে পড়ে। এই দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ ও আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশের উত্তরের ও পূর্বের অংশে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকে। ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর-পূর্ব দিকে মায়ানমার প্লেটের সাথে ধাক্কা খায়, যা ভূ-তলীয় চাপ সৃষ্টি করে এবং ফলে ভূমিকম্প হতে পারে। অন্যদিকে, আফ্রিকান ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেট বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে, তাই সেগুলো এই অঞ্চলে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার প্লেট।


- বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয়ে থাকে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে।
- ভূস্তরের ভূমিকম্প প্রবণ ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার সাব-প্লেটের মাঝখানে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেট দু'টি (১৯৩৪ খ্রীষ্টাব্দের পর থেকে) দীর্ঘদিন ধরে হিমালয়ের পাদদেশে আটকা পড়ে আছে।
- কিন্তু বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ভূ-তাত্ত্বিক চ্যুতি এলাকা বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬.
কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত নয়?
  1. বনাঞ্চল ধ্বংস
  2. খরা বৃদ্ধি
  3. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  4. সুপেয় পানি দূষণ
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তন মূলত পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে এবং এর ফলে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। বনাঞ্চল ধ্বংস, খরা বৃদ্ধি এবং সুপেয় পানি দূষণ—all these are direct or indirect consequences of changing climate patterns. জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়তে পারে, বৃষ্টি কমে বা বেড়ে যেতে পারে, যা বনাঞ্চল ধ্বংস এবং খরার কারণ হয়। পানি দূষণও বৃদ্ধি পায় কারণ প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল নয়; এটি মানব সমাজের বৃদ্ধি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণে ঘটে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি।


• জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনেরই নেতিবাচক প্রভাব।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমপক্ষে কত হতে হবে?
  1. ২৭° সেলসিয়াস
  2. ২০° সেলসিয়াস
  3. ১৭° সেলসিয়াস
  4. ১৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
২৭° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৭° সেলসিয়াস হতে হয়। এই উচ্চ তাপমাত্রা সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে বাষ্পীভবন ঘটায়, যা বায়ুমণ্ডলে আদ্রতা বৃদ্ধি করে। আদ্র বায়ু উত্তোলিত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় অংশে ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী বাতাসের সঞ্চার ঘটায়। যদি সমুদ্রের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের নিচে থাকে, তবে পর্যাপ্ত শক্তি সৃষ্টি হয় না এবং ঘূর্ণিঝড় গঠন কঠিন হয়। তাই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়া। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) ২৭° সেলসিয়াস।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস (Cyclone and Tidal Surge):

- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে কোনো কোনোটি মারাত্মক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে। এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।
- বিগত অর্ধশতাব্দীতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানে।
- এর মধ্যে ১৯৭০, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০৭, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় অন্যতম।
- জীবনহানির দিকে থেকে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ১৯৭০, ১৯৮৮ এবং ১৯৯১ সালে সংঘটিত হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
নিচের কোন রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই?
  1. Gamma Ray
  2. Roentgen Ray
  3. Alpha Ray
  4. Beta Ray
সঠিক উত্তর:
Gamma Ray
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Gamma Ray
ব্যাখ্যা
• Gamma রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর থাকে না। Gamma রশ্মি হল একটি ধরনের উচ্চ-শক্তির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ, যা তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত হয়। এটি আলফা, বিটা কণা থেকে আলাদা কারণ আলফা কণার ইতিবাচক চার্জ এবং ভর থাকে, আর বিটা রশ্মি ইলেকট্রন বা পজিট্রন হওয়ায় তাদেরও চার্জ ও ভর আছে। কিন্তু গামা রশ্মি কেবল তরঙ্গ আকারে থাকে, তাই এর কোনো ভর বা চার্জ নেই। তাই Gamma Ray-ই হলো সেই রশ্মি যার কোনো চার্জ ও ভর নেই।
- সঠিক উত্তর হলো ক) Gamma Ray.

তেজস্ক্রিয়তা:

- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরনের রশ্মি নির্গত হয়।
যথা-
১. আলফা কণিকা (α): ধনাত্মক আধান গ্রন্থ, যা ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যায়।
২. বিটা কণিকা (β): ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ, যা ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যায়।
৩. গামা রশ্মি (γ): তড়িৎ নিরপেক্ষ, যা কোনো দিকেই বিচ্যুত হয় না।
- এই রশ্মিগুলোর উৎপত্তি পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে হয়ে থাকে।

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
৩। এই রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম কী?
  1. Hertz
  2. Newton
  3. Decibel
  4. Nanometer
সঠিক উত্তর:
Decibel
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Decibel
ব্যাখ্যা
• শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম হলো ডেসিবেল (Decibel)। ডেসিবেল শব্দের তীব্রতা বা আওয়াজের মাত্রা পরিমাপের একটি ইউনিট। এটি একটি লোগারিদমিক স্কেল যা শব্দের চাপ বা শক্তির তুলনামূলক মাত্রা নির্ধারণ করে। সাধারণভাবে, মানুষের কান ০ ডেসিবেল থেকে শুরু করে প্রায় ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ শুনতে পারে, যেখানে ১২০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ ক্ষতিকর হতে পারে। হার্টজ (Hertz) শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি পরিমাপ করে, নিউটন (Newton) বলের একক এবং ন্যানোমিটার (Nanometer) দৈর্ঘ্যের একক। তাই শব্দ দূষণ পরিমাপের সঠিক একক হলো গ) ডেসিবেল।

শব্দদূষণ:

- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. Diode
  2. Resistor
  3. Capacitor
  4. Transistor
সঠিক উত্তর:
Transistor
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Transistor
ব্যাখ্যা
• ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য সাধারণত ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। ট্রানজিস্টর একটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস যা ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যালের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। এটি ইনপুটে ছোট সিগন্যাল নেয় এবং আউটপুটে বড় সিগন্যাল দেয়, যা রেডিও, টিভি, এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ডায়োড সিগন্যালের দিক নির্ধারণ করে, রেজিস্টর বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, এবং ক্যাপাসিটার সঞ্চিত চার্জ ধরে রাখে বা ছেড়ে দেয়, কিন্তু তারা সিগন্যাল বড় করার কাজ করে না।
- তাই, ছোট সিগন্যাল বড় করার জন্য সঠিক উত্তর হলো ঘ) ট্রানজিস্টর।


ট্রানজিস্টর:

- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে।
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)।
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো।
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়।
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়, যেটাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফায়ার।
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১.
মহাকর্ষ বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্রাভিটন
  2. Z বোসন
  3. ফোটন
  4. গ্লুঅন
সঠিক উত্তর:
গ্রাভিটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাভিটন
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ বলের বাহক কণা হলো গ্রাভিটন। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বলের জন্য আলাদা আলাদা বাহক কণা রয়েছে, যেমন আলো বা তড়িৎচুম্বকীয় বলের বাহক কণা হলো ফোটন। তবে মহাকর্ষ বলের ক্ষেত্রেও একটি কণা কল্পনা করা হয়েছে, যাকে গ্রাভিটন বলা হয়। এটি একটি কাল্পনিক, বিমাত্রিক কণা, যা মহাকর্ষীয় শক্তি পরিবহনের কাজ করে। যদিও গ্রাভিটন এখনও সরাসরি আবিষ্কার হয়নি, তবুও এটি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে মহাকর্ষের বাহক কণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) গ্রাভিটন।


মৌলিক বল:

- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।

- এই মৌলিক বলগুলো হলো-
১। মহাকর্ষ বল,
২। তাড়িতচৌম্বক বল,
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল।
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন।

অন্যদিকে,
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন।
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন।
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
২২.
বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক কে?
  1. Archimedes
  2. Charles Darwin
  3. Oppenheimer
  4. John Dalton
সঠিক উত্তর:
Charles Darwin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Charles Darwin
ব্যাখ্যা
• বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক হলেন চার্লস ডারউইন। তিনি "The Origin of Species" নামক বিখ্যাত গ্রন্থে প্রাকৃতিক নির্বাচন বা "Natural Selection" এর মাধ্যমে প্রজাতির ধাপে ধাপে পরিবর্তন ও অভিযোজন ব্যাখ্যা করেন। ডারউইনের মতে, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সক্ষম জীবেরা বেঁচে থাকে এবং তাদের বৈশিষ্ট্য উত্তরসূরিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময়ে জীবজগতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। আর্কিমিডিস, ওপেনহেইমার বা জন ডাল্টন বিবর্তন তত্ত্বের সাথে জড়িত নন।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) Charles Darwin.

বিবর্তনবাদ:

- বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক চার্লস ডারউইন।
- এই থিওরি বিজ্ঞানের জগতে বৈপ্লবিক তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।
- এই তত্ত্বে দেখানো হয়েছে প্রাণীরা সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
- বিবর্তনবাদের এই তত্ত্বটি আমাদের পৃথিবীর পশুপাখি ও উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে বুঝতে বড়ো ধরনের ভূমিকা রেখেছে।
- তার এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন যার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জনগোষ্ঠী থেকে নতুন প্রজাতির উদয় ঘটে।
- অন দ্য অরিজিন অফ স্পেশিস নামে চার্লস ডারউইনের এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- তার এই গ্রন্থে তিনি বিবর্তনবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রাণী ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে আপন পরিবেশের জন্যে বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ধারণে মূল ভূমিকা কার?
  1. বায়ুর আর্দ্রতা
  2. বায়ুর প্রকৃতি
  3. বায়ুর ঘনত্ব
  4. বায়ুর চাপ
সঠিক উত্তর:
বায়ুর আর্দ্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
• বায়ুর আর্দ্রতা:
- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।

- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। যথা- পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
• মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো জিনগত বৈচিত্র্য। মানুষের শরীরের গঠন, ত্বকের রঙ, চোখের আকৃতি, চুলের গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে জিন বা বংশগত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাস করা মানুষের মধ্যে হাজার হাজার বছর ধরে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবে জিনগত পরিবর্তন ঘটে। এই জিনগত বৈচিত্র্যই মঙ্গোলয়েডদের চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল ও সরু চোখ এবং নিগ্রয়েডদের ঘন কোঁকড়ানো চুল ও গাঢ় ত্বকের রঙের মত বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে।
- তাই সঠিক উত্তর: ক) জিনগত বৈচিত্র্য।


জীব-বৈচিত্র্য:

- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়।
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর।
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়।
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়।

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity):
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।

যথা-
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity):
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
- আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity):
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity):
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়।
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি ।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে।
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. মহীসোপান ও মহীঢালের অবস্থান
  2. সূর্যরশ্মি
  3. চন্দ্রকিরণ
  4. বায়ু প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
বায়ু প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ হলো বায়ু প্রবাহ। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুর চাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু এক স্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়। এই বায়ু যখন সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা জলপৃষ্ঠকে ঠেলে দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দিকে স্রোত সৃষ্টি করে। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক বায়ু ও পশ্চিমlies বায়ু সমুদ্রস্রোতের গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখে। যদিও সূর্যরশ্মি ও চন্দ্রের আকর্ষণ কিছুটা প্রভাব ফেলে, মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে বায়ু প্রবাহ।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বায়ু প্রবাহ।


বায়ুপ্রবাহ (Wind Movement ):

- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ।
- প্রধান বায়ুপ্রবাহের গতি অনুসরণ করে সমুদ্রের প্রধান স্রোতগুলো প্রবাহিত হয়।
- অয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্রস্রোত পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে এবং প্রত্যয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।
- মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের গতিপথ অনুসরণ করে ভারত মহাসাগরের স্রোতসমূহ প্রবাহিত হয়।
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হলে সমুদ্রস্রোতের গতি ও দিক পরিবর্তিত হয়।
- যেমন: উত্তর পূর্ব অয়ন বায়ু ও দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে নিরক্ষীয় অঞ্চলে যথাক্রমে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত এবং দক্ষিণ নিরীক্ষীয় স্রোতের উৎপত্তি হয়।
- অপরদিকে দক্ষিণ পশ্চিম প্রত্যয়ন বায়ুর প্রভাবে উত্তর আটলান্টিক ও প্রশান্তমহাসাগরে যথাক্রমে উপসাগরীয় স্রোত ও কুরোশিও স্রোত উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোকে আটকায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. Spacetime
  2. Gravitational Wave
  3. Event Horizon
  4. Singularity
সঠিক উত্তর:
Event Horizon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Event Horizon
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোসহ সবকিছুকে আটকায়, তাকে Event Horizon বলা হয়। এটি এমন একটি সীমানা, যার বাইরে কিছুই, এমনকি আলোও, কৃষ্ণ গহ্বরের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি থেকে পালাতে পারে না। Event Horizon হলো সেই বিন্দু, যেখানে স্থান ও সময়ের গতি এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে, কোনো বস্তুর জন্য ফিরে আসা অসম্ভব হয়। এটি কৃষ্ণ গহ্বরকে দৃশ্যমানভাবে বিচ্ছিন্ন করে তোলে এবং আমাদের পক্ষে তার অভ্যন্তরের কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয় না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: গ) Event Horizon.

• কৃষ্ণ গহ্বর:

- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোকে আটকায়, তাকে বলা হয় ইভেন্ট হরিজন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৭.
কোয়াসার কী?
  1. মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
  2. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ
  3. সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ
  4. একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশেষ
সঠিক উত্তর:
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
ব্যাখ্যা
• কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু, যা সাধারণত অনেক দূরের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থান করে। এগুলো একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চারপাশে গঠিত গ্যাস ও ধূলিকণার ঘূর্ণনের ফলে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কোয়াসার এতটাই উজ্জ্বল যে এটি একটি গোটা গ্যালাক্সিকে ছাপিয়ে আলো দিতে পারে, যদিও এর আকার তুলনামূলকভাবে ছোট। এরা মূলত মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু।


কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে কী বলা হয়?
  1. Pisciculture
  2. Prawn culture
  3. Mariculture
  4. Sericulture
সঠিক উত্তর:
Mariculture
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mariculture
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষবিদ্যা:
- সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে মেরিকালচার বলা হয়।

অন্যদিকে,
- সাধারণ মৎস্য চাষবিদ্যাকে পিসিকালচার বলা হয়।
- রেশম কীট পালন ও রেশম উৎপাদনের বিদ্যাকে সেরিকালচার বলা হয়।
- চিংড়ি ও অন্যান্য শেলফিশ চাষবিদ্যাকে প্রণকালচার বলা হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২৯.
P-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য নিচের কোনটি দিয়ে ডোপিং করতে হয়?
  1. Aluminum
  2. Phosphorus
  3. Bromine
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Aluminum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Aluminum
ব্যাখ্যা
• P-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য ডোপিং উপাদান হিসেবে Aluminum ব্যবহার করা হয়। জার্মেনিয়াম একটি অর্ধপরিবাহী উপাদান, যা ডোপিংয়ের মাধ্যমে তার পরিবাহিতা বাড়ানো যায়। P-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে এমন উপাদান প্রয়োজন যা জার্মেনিয়ামের চেয়ে একটি কম শক্তিবাহু ইলেকট্রন সরবরাহ করে। Aluminum একটি ট্রাইভ্যালেন্ট উপাদান, অর্থাৎ এর বাইরের স্তরে তিনটি ইলেকট্রন থাকে। এটি জার্মেনিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে ইলেকট্রনের ঘাটতি বা ‘হোল’ সৃষ্টি করে, যা পজিটিভ চার্জ বহনকারী হিসাবে কাজ করে।
- তাই সঠিক উত্তর: ক) Aluminum.

• ডোপিং (Doping):

- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি।

• P- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উচ্চতাপে মেশানো হয়।
- অপদ্রব্যের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন এর পরমাণুগুলো মূল অর্ধপরিবাহী কেলাসের গঠন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেলাস ল্যাটিসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।
- বিশুদ্ধ জার্মেনিয়ামের সাথে যদি উপযুক্ত মাত্রায় (দশ লক্ষে একটি) অ্যালুমিনিয়ামের মতো ত্রিযোজী মৌল মেশানো হয়, তা হলো ঐ কেলাসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী চতুর্যোজী অর্ধপরিবাহীর সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করতে এর একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে।

- এই ইলেকট্রন ঘাটতি মানেই 'হোল' সৃষ্টি হয়। প্রতিটি AI পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। এ হোলগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
- এ জন্য অ্যালুমিনিয়াম পরমানুকে 'গ্রাহক' পরমাণু বলে।
- এভাবে প্রতিটি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে।
- এখানে গরিষ্ঠ আধান বাহক হলো হোল এবং লঘিষ্ঠ আধান বাহক হলো ইলেকট্রন।
- এ কারণে এ ধরনের অর্ধপরিবাহীকে টাইপ p- অর্ধপরিবাহী বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
কোন সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সমকোণে অবস্থান করে?
  1. পূর্ণিমার সময়
  2. মুখ্য জোয়ারের সময়
  3. মরা কটালের সময়
  4. ভরা কটালের সময়
সঠিক উত্তর:
মরা কটালের সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরা কটালের সময়
ব্যাখ্যা
• চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী যখন সমকোণে অবস্থান করে, তখন তা মরা কটালের সময় ঘটে। এই অবস্থায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে এমন একটি কোণে থাকে, যা সূর্যের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণ গঠন করে। এর ফলে চাঁদের আকর্ষণ শক্তি সূর্যের আকর্ষণ শক্তির সাথে সরাসরি যোগ হয় না এবং সামুদ্রিক জোয়ার তুলনামূলকভাবে কম থাকে। পূর্ণিমা বা মুখ্য জোয়ার সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সরলরেখায় অবস্থান করে, যা বেশি জোয়ার সৃষ্টি করে। তাই চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর সমকোণ অবস্থানকে মরা কটালের সময় বলা হয়।
- সঠিক উত্তর হলো (গ) মরা কটালের সময়।


জোয়ার-ভাটা:

- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। - সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- জোয়ার-ভাটাকে প্রধান চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
• মুখ্য জোয়ার।
• গৌণ জোয়ার।
• ভরা কটাল।
• মরা কটাল।

মরা কটাল (Neap Tide):
- মরা কটালে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না। এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
বিমান চলাচলের জন্য বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটি ব্যবহৃত হয়?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. এক্সোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
• বিমান চলাচলের জন্য বায়ুমণ্ডলের স্তর হিসেবে প্রধানত স্ট্রাটোমণ্ডল ব্যবহার করা হয়। স্ট্রাটোমণ্ডল মেসোস্ফিয়ারের নিচে এবং তাপমণ্ডলের উপরে অবস্থিত। এই স্তরে বাতাস বেশ স্থিতিশীল থাকে এবং ঝড় বা বায়ুর গরমাগরম পরিবর্তন কম হয়, যা বিমানের জন্য নিরাপদ ও সুষম উড্ডয়নের পরিবেশ তৈরি করে। তাপমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলে বায়ুর গতিবেগ বেশি ও অস্থির হওয়ায় বিমান চলাচলের জন্য কম সুবিধাজনক। এক্সোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উপরের স্তর যা মহাকাশের খুব কাছে, সেখানে বিমান চলাচল সম্ভব নয়। তাই বিমান চলাচলের জন্য প্রধানত স্ট্রাটোমণ্ডল ব্যবহার করা হয়।

স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):

- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে।
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়।

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে।
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত।
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না।
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
সাইক্লোন সৃষ্টি হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. নিম্ন তাপমাত্রা
  2. উচ্চচাপ
  3. নিম্নচাপ
  4. সমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
• সাইক্লোন সৃষ্টি হওয়ার প্রধান কারণ হলো সমুদ্রের ওপর নিম্নচাপের সৃষ্টি। যখন সমুদ্রের পানি গরম হয়, তখন তার থেকে বাষ্প উঠতে থাকে এবং বাতাসের চাপ কমে যায়। এই নিম্নচাপের কারণে বাতাস কেন্দ্রের দিকে দ্রুত আকৃষ্ট হয় এবং ঘূর্ণায়মান গতিতে বাতাসের সঞ্চালন শুরু হয়। এই ঘূর্ণায়মান বাতাসের ভেলকমল অঞ্চল সৃষ্টি হয়, যাকে সাইক্লোন বলা হয়। উচ্চচাপ বা নিম্ন তাপমাত্রা সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ নয়, বরং গরম সমুদ্রের পানি এবং নিম্নচাপই এর মূল কারণ।
- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) নিম্নচাপ।


সাইক্লোন:

- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা।
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়।
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩.
পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান কত?
  1. ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  2. ৮ ঘন্টা ৪৮ মিনিট
  3. ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট
  4. ৭ ঘন্টা ৩৪ মিনিট
সঠিক উত্তর:
১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটার চক্র মূলত চাঁদ ও সূর্যের গৃহীত আকর্ষণ শক্তির কারণে ঘটে। সাধারণত, একদিনে দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা ঘটে। পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে সমুদ্রের পানি একবার বৃদ্ধি পায় এবং পরে আবার কমে যায়। এই ব্যবধান পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ চাঁদের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে এই সময়ের পরিমাণ কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
- তাই, পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান হল গ) ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট।


জোয়ার ভাঁটা:

- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা (Ebb or low Tide) বলে।
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়।
অর্থাৎ সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু'বার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাঁটা বেশি অনুভূত হয়।
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাঁটা বলে না।

জোয়ার ভাঁটার কারণ:
- জোয়ার ভাঁটা সম্পর্কে প্রাচীনকালে মানুষ নানা রকম অবাস্তুব কল্পনা করত।
- কিন্তু বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাঁটা হয়।
- জোয়ার ভাঁটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
ক. মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব এবং
খ. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ কোথায় ঘটেছিল?
  1. সর্বত্র
  2. মহাকাশে
  3. পৃথিবীতে
  4. সৌরজগতে
সঠিক উত্তর:
সর্বত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বত্র
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ঘটেনি, বরং এটি সর্বত্র ঘটেছিল। বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সূচনা একটি বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে হয়েছিল, যা থেকে সময়, স্থান, পদার্থ এবং শক্তি সবই সৃষ্টি হয়। এই বিস্ফোরণ কোন নির্দিষ্ট ‘স্থান’ থেকে নয়, বরং সময় ও স্থান উভয়ের সাথে সঙ্গে শুরু হয়েছিল। তাই বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণকে মহাকাশের কোনও নির্দিষ্ট বিন্দুতে বা পৃথিবীতে বা সৌরজগতে ঘটানো যায় না। এটি মহাবিশ্বের প্রতিটি স্থানে একই সাথে বিস্তৃত হয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ক) সর্বত্র।


• বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 

- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হতে পারা যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 

- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদূর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুর করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- বিগ ব্যাগ-এর পর 10-43 s পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা কেউ জানতে পারেনি, কিছুটা ধারণা পেয়েছে মাত্র। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে। একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. হাইড্রিলা
  2. কচ্ছপ
  3. বক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কচ্ছপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কচ্ছপ
ব্যাখ্যা
• একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো কচ্ছপ। বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেমে খাদ্য শৃঙ্খল থাকে যেখানে বিভিন্ন স্তরের প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে। প্রথম শ্রেণির খাদক হলো উদ্ভিদভক্ষী প্রাণীরা, যেমন বক। হাইড্রিলা হলো জলজ উদ্ভিদ, যা উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় শ্রেণির খাদকের কাজ হলো প্রথম শ্রেণির খাদকদের খাওয়া, যা এখানে কচ্ছপ। তাই কচ্ছপ পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (খ) কচ্ছপ।

বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো - 
- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।  
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।