পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
"বাংলাবিদ সাহিত্য পরীক্ষা - ৪: টপিক সমূহ: অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, লোক সাহিত্য [লাইভ ক্লাস ⎯ ৭ ও ৮]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
মৈমনসিংহ গীতিকা কোথা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ কী?
  1. দুঃখ
  2. শোক
  3. কান্না
  4. বেদনা
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মর্সিয়া সাহিত্য ও কবির নাম:
- জয়নবের চৌতিশা- শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- নবীবংশ- সৈয়দ সুলতান। 
- সোনাভান- ফকির গরীবুল্লাহ। 
- জঙ্গনামা, ইমাম বিজয়- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।
- কাশিমের লড়াই- সেরবাজ চৌধুরী।
- মজুল হোসেন - মুহম্মদ খান। 
- হানিফার কাব্য - আব্দুল আলিম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
নিচের কোনটি নাথ সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. গোর্খবিজয়
  2. ময়নামতির গান
  3. গোপীচন্দ্রের সন্যাস
  4. জয়নবের চৌতিশা
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ।

নাথ সাহিত্য:

- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো গোরক্ষবিজয়।

উল্লেখ্য,
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক।
- মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
দেওয়ানা মদিনা পালার লেখক কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  3. মনসুর বয়াতি
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

দেওয়ানা মদিনা:
- দেওয়ানা মদিনা পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।
- বাংলাদেশ ও হবিগঞ্জ জেলার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙের দেওয়ান পরিবারের পালা হলো দেওয়ানা মদিনা।

• দেওয়ানা মদিনা পালার উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- 'আলাল' 
- 'দুলাল'
- আমিনা,
- মমিনা,
- ইরাধন ব্যাপারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
রামপ্রসাদ সেনকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

রামপ্রসাদ সেন:
 - তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি রামপ্রসাদ সেন।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

• তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গান হলো: 
- ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’,
- ‘ডুব দেরে মন কালী বলে’,
- ‘মা আমায় ঘুরাবি কত’ ইত্যাদি। এ গানগুলির আবেদন চিরন্তন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কোন কাব্যের উৎস আরবি ও ইরানি সাহিত্য নয়?
  1. ইউসুফ জোলেখা
  2. সোনাভান
  3. আমীর হামজা
  4. জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা

সোনাভান কাব্যের উৎস ভারতীয় সাহিত্য।

ফকির গরীবুল্লাহ:

- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- গরীবুল্লাহর প্রথম কাব্যখানি শুদ্ধ বাংলা ভাষায় রচিত। 
- তিনি একাধারে সাধক ও কবি ছিলেন।
- ইউসুফ জোলেখা, জঙ্গনামা ও আমীর হামজা কাব্যের উৎস আরবি ও ইরানি সাহিত্য।
- আর সোনাভান ও সত্যপীরের পুঁথি কাব্যের উৎস ভারতীয় সাহিত্য।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: ১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
         ২) বাংলাপিডিয়া।
         ৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'খাচার ভিতর অচিন পাখি' - গানটির রচয়িতা কে?
  1. হাছন রাজা
  2. দ্বিজ কানাই
  3. পাগলা কানাই
  4. লালন শাহ্
ব্যাখ্যা

"খাচার ভিতর অচিন পাখি"- গানটির রচয়িতা লালন শাহ্‌।

• লালন শাহ্:
- তিনি বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- তাঁর জন্ম ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে।
- লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কিন্তু নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেন।
- তাঁর রচিত গানে সেই জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।
- কুষ্টিয়ার  কাঙাল হরিনাথ এবং মীর মশাররফ হোসেন লালন শাহ ও তাঁর গানের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।
- হরিনাথ তাঁর অতি প্রিয় শিষ্য ছিলেন। 
-  রবীন্দ্রনাথ লালন শাহর ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি থেকে ২০টি গান তিনি  প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

• লালন শাহ্ রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর।
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
সৈয়দ সুলতানের সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা কোনটি?
  1. জ্ঞানচৌতিশা
  2. নবীবংশ
  3. শব-ই-মেরাজ
  4. জয়কুমার রাজার লড়াই
ব্যাখ্যা

'নবীবংশ' গ্রন্থ:
- সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ গ্রন্থটি রচিত হয় ১৫৮৪ সালে।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে  হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে। তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।

• সৈয়দ সুলতান:
- মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো -
- জ্ঞানচৌতিশা,
- নবীবংশ,
- শব-ই-মেরাজ ও
- জয়কুমার রাজার লড়াই (যুদ্ধবিষয়ক কাহিনীকাব্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. গোরক্ষবিজয়
  2. জয়নবের চৌতিশা
  3. সত্যপীর
  4. রাগনামা
ব্যাখ্যা

'জয়নবের চৌতিশা':
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয় শেখ ফয়জুল্লাহকে।
- শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'।
- এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ।
- এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

• যে পাঁচটি গ্রন্থের জন্য তিনি খ্যাতিমান সেগুলি:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়,
- সত্যপীর (১৫৭৫),
- জয়নবের চৌতিশা এবং
- রাগনামা।
- রাগনামাকে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০.
মৈমনসিংহ গীতিকা নয় নিচের কোনটি?
  1. কাজলরেখা
  2. রূপবতী
  3. কমলা
  4. সোনাভান
ব্যাখ্যা

'সোনাভান' ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য।

মৈমনসিংহ গীতিকা:

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯. কাজলরেখা
১০. দেওয়ানা মদিনা।

• ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়, যেমন
- মহুয়া- দ্বিজ কানাই, 
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১.
লোকসাহিত্যকে প্রধানত কতটি শাখায় ভাগ করা যায়?
  1. পাঁচটি
  2. ছয়টি
  3. সাতটি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- এটি মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা।
- এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

• লোকসাহিত্যকে প্রধানত আটটি শাখায় ভাগ করা যায়। যথা- 
- লোকসঙ্গীত,
- গীতিকা,
- লোককাহিনী,
- লোকনাট্য,
- ছড়া,
- মন্ত্র,
- ধাঁধা ও
- প্রবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১২.
'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  3. দ্বিজ ঈশান
  4. দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উল্লেখ্য,
ভনিতা থেকে আরও কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়, যেমন-
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন ধারার সাহিত্যকে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. অনুবাদ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমন্ডলে একটি সংহত সমাজমানস থেকে এর উদ্ভব।
- সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা।
- এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

• লোকসাহিত্যকে প্রধানত আটটি শাখায় ভাগ করা যায়। যথা- 
- লোকসঙ্গীত,
- গীতিকা,
- লোককাহিনী,
- লোকনাট্য,
- ছড়া,
- মন্ত্র,
- ধাঁধা ও
- প্রবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১৪.
মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. রাধারমণ গোপ
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. শেরবাজ
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রসার ঘটে পারস্যের কবিদের দ্বারা ।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
-  রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা ও অফৎনামা'।
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে 'জঙ্গনামা' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য লেখেন। এটি ১৭২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫.
মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ মূলত কোন বিষয়ক কাব্য?
  1. সামাজিক সংস্কার
  2. লোককথা
  3. মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধ
  4. শোককাব্য
ব্যাখ্যা

জঙ্গনামা:  
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

অন্যদিকে,
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্যের মধ্যে বিষয়গত মিল থাকলেও আঙ্গিক ও রসগত পার্থক্য আছে। 
- জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্য প্রথমত আরবে, পরে পারস্যে বিকাশ লাভ করে এবং মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে এ সাহিত্যধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- বাংলায় এ কাব্যধারা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬.
পূর্ববঙ্গ-গীতিকার পালাগুলি প্রধানত কোন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত?
  1. যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা
  2. রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর
  3. ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম
  4. ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- দীনেশচন্দ্র সেন ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম প্রভৃতি অঞ্চল থেকে আরও অনেক গীতিকা সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬) নামে মোট তিন খন্ডে প্রকাশ করেন।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৭.
'খনার বচন’ - রচয়িতার প্রকৃত নাম কী?
  1. পদ্মাবতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. লীলাবতী
  4. শকুন্তলা
ব্যাখ্যা

খনার বচন:
- ‘খনার বচন’ বলতে এমন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তিকে বোঝায়, যেটি জীবনের নীতি, শুভাশুভ, বিধিবিধান, উপদেশ ও দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব ঘটনা-ভিত্তিক উপলব্ধিকে সহজ করে।
- এগুলিকে ইংরেজিতে saying বা proverb–এর সমার্থক বলা যায়, তবে বচনের তাৎপর্য তা থেকেও বেশি বিস্তৃত।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে এটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮.
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম কী?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. সঙ্গীত সুধা
  3. গীতরত্ন
  4. সঙ্গীতকল্পতরু
ব্যাখ্যা

টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৯.
পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ভেলুয়া
  2. মলুয়া
  3. কাঞ্চনমালা
  4. কমল সওদাগর
ব্যাখ্যা

'মলুয়া' পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

পূর্ববঙ্গ গীতিকা:

- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- কমল সওদাগর,
- চৌধুরীর লড়াই,
- কাঞ্চনমালা,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া,
- কমলা রানির গান।

অন্যদিকে,
• মৈমনসিংহ-গীতিকা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২০.
'ইমামগণের কেচ্ছা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. রাধারমণ গোপ
  4. মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা

রাধারমণ গোপ:
- রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি ছিলেন। 

• তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম- 
- 'ইমামগণের কেচ্ছা' ও
- 'আফৎনামা'।

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।