পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: বাংলা সাহিত্য পরীক্ষার টপিক: ১. গুরুত্বপূর্ণ উক্তি/সংলাপ/চরিত্র (সকল যুগের) ২. ছদ্মনাম ৩. প্রবাদ-প্রবচন, ৪. ছন্দ/অলঙ্কার।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
'নুরু' ছদ্মনামে লিখতেন কোন কবি?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও
- কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

অন্যদিকে, 
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
• শামসুর রাহমান 'মৈনাক ও মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
• সৈয়দ মুজতবা আলী- ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ 'মুসাফির' প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং কবি নজরুল জীবনী।
.
'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'- সংলাপটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বহিপীর
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. সুড়ঙ্গ
  4. উজানে মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার ও সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে। আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে, সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ রচিত নাটকগুলো হলো-
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'ইন্ধন যোগানো' অর্থে কোন প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়
  2. আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট
  3. একে নাচনি বুড়ি তাতে পড়েছে ঢোলের বাড়ি
  4. ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়
সঠিক উত্তর:
একে নাচনি বুড়ি তাতে পড়েছে ঢোলের বাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একে নাচনি বুড়ি তাতে পড়েছে ঢোলের বাড়ি
ব্যাখ্যা
• 'একে নাচনি বুড়ি তাতে পড়েছে ঢোলের বাড়ি' অর্থ- ইন্ধন যোগানো। 

অন্যদিকে, 
• 'আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট' অর্থ - কষ্টের মধ্য দিয়েই ফল লাভ। 
• 'ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়' অর্থ - ইচ্ছাশক্তিতে কঠিন কাজ করা সম্ভব। 
• 'ইটটি (ঢিলটি) মারলে পাটকেলটি খেতে হয়' অর্থ- যেমন কাজ তেমন তার ফল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. নীল লোহিত
  2. বীরবল
  3. কৃষ্ণকান্ত
  4. কমলাকান্ত
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্ত
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- কমলাকান্ত। 

অন্যদিকে, 
• প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল। 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "নীললোহিত", "সনাতন পাঠক", "নীল উপাধ্যায়" ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'সংস্কৃত ভাঙা ছন্দ' নামকরণ করেছিলেন কোন ছন্দের?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দের
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দের
  3. ত্রিপদী ছন্দের
  4. পয়ার ছন্দের
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের
ব্যাখ্যা
• মাত্রাবৃত্ত:
- এই নামটি দিয়েছেন প্রবোধ চন্দ্র সেন, হালে, এর নোতুন নামকরণ করেছেন-কলাবৃত্ত।
- রবীন্দ্রনাথ এর নাম দিয়েছেন-সংস্কৃত ভাঙা ছন্দ।
- অমূল্যধন এর নাম দিয়েছেন-ধ্বনি প্রধান ছন্দ।

উৎস: 'ছন্দ ও অলঙ্কার' ড. অজয় কুমার চক্রবর্তী।
.
'চন্দরা' চরিত্রটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. একরাত্রি
  2. সমাপ্তি
  3. নষ্টনীড়
  4. শাস্তি
সঠিক উত্তর:
শাস্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাস্তি
ব্যাখ্যা
• 'চন্দরা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাস্তি ছোটগল্পের অন্তর্গত।

'শাস্তি' গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
'শাস্তি' গল্পের চন্দরা একটি বিপ্লবী চরিত্র। এ গল্পে রাগের বশে বড় ভাই তার স্ত্রীকে মেরে ফেলে এবং সেই দায় চাপিয়ে দেয়া হয় ছোট ভাইয়ের বউয়ের উপরে। কিন্তু স্বামীর এ কথা শোনার পরে স্ত্রী চন্দরা স্তব্ধ হয়ে যায়। যদিও দেখানো হয় শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকেই মেনে নিতে হয় চন্দরাকে। সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর, তবে তীব্র ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী চরিত্র এই চন্দরা।

• গল্পে চন্দরার স্বামীর একটি বিখ্যাত সংলাপ- "ঠাকুর, বউ গেলে বউ পাইব কিন্তু আমার ভাই ফাঁসি গেলে আর তো ভাই পাইব না।"

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- দুখিরাম,
- ছিরাম।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
• 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
• 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'শাস্তি' ছোটগল্প।
.
"হায়! জীবন এতো ছোট কেনে?" বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "কবি" উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি' (১৯৪৪)।
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের একটি ক্ল্যাসিক সংলাপ - "এই খেদ আমার মনে, ভালোবেসে মিটল না আশ-কুলাল না এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেনে? এ ভুবনে।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মধুসূদন দত্ত
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
• মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম হুতোম পেঁচা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'উনা ভাতে দুনা বল' প্রবাদের অর্থ কী?
  1. স্বল্পাহার দুর্বলতার কারণ
  2. স্বল্পআহারে স্বাস্থ্যহানী
  3. স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ
  4. স্বল্পাহার স্বল্পশক্তি
সঠিক উত্তর:
স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ
ব্যাখ্যা
• 'উনা ভাতে দুনা বল' অর্থ - স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ। 

এরূপকিছু প্রবাদ প্রবচন হলো-
- 'উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ' অর্থ - নাগালের বহির্ভূত জিনিস দানে ব্যবহৃত। 
- 'উন বর্ষা দুনো শীত' অর্থ - অল্প বর্ষায় বেশি শীত। 
- 'এক মাঘে শীত যায় না' অর্থ - বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সব সময় থাকে না। 
- 'এক হাতে তালি বাজে না' অর্থ - এক পক্ষ বিবাদ সৃষ্টি করে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
বিখ্যাত 'হোসেন মিয়া' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. লালসালু
  4. বরফ গলা নদী
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
তানপ্রধান বা ধীর লয়ের ছন্দ বলা হয়-
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দকে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে
ব্যাখ্যা
• অক্ষর বৃত্ত:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান বা ধীর লয়ের ছন্দ বলা হয়। প্রবোধচন্দ্র এর নাম দিয়েছেন "মিশ্রকলাবৃত্ত” ছন্দ এবং রবীন্দ্রনাথ এর নামকরণ করেছেন "সাধু-বাংলার ছন্দ"।

এই ছন্দের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-
ক) স্বরের হ্রস্ব বা দীর্ঘ' বিচারের কোনো অবকাশ নেই।
খ) অক্ষরবৃত্তে প্রতিটি অন-র একমাত্রার। তবে রবীন্দ্রনাথ একথা স্বীকার করেন ন।
গ) যদি কোনো শব্দের শেষে হলন্ত বা ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর থাকে তাহ'লে দু'মাত্রার হবে, তবে সর্বত্র এ নীতিও অনুসৃত হয়নি। হলন্ত অক্ষরকে একমাত্রা ধরে উচ্চারণ করতে গেলে উচ্চারণ কিছু দ্রুত হওয়া দরকার। কিন্তু তাতে স্বর-গাম্ভীর্য' কমে আসে, এবং এটা হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এতে স্বাভাবিক উচ্চারণের বিরোধী হয়ে পড়ে, সুতরাং পয়ার জাতীয় ছন্দে অন্তিম হলন্ত অক্ষরকে একমাত্রা না ধরে দুমাত্রা ধরাই উচিত।
ঘ) এই ছন্দে অক্ষর-ধানির চেয়ে সুরের প্রবাহ চরণের মধ্যে বিচিত্র ভাবে প্রকাশ লাভকরে।
ঙ) এই ছন্দে যেমন যুক্তাক্ষর বজিত চরণ রচনা করা যায় তেমনি যুক্তাক্ষর-বহুল চরণ রচনা করতে কোনো বাধার সৃষ্টি হয় না।
চ) হ্রস্ব দীর্ঘস্বরের যেমন সংকোচন-প্রসারণ ঘটে তেমনি যুগ্মধ্বনিতেও সংকোচন-প্রসারণ ঘটে।
ছ) এই ছন্দের তানপ্রবাহের জন্যে লঘুগুর অক্ষরের মধ্যে একটা সামঞ্জস্যও দেখতে পাওয়া যায়।
জ) এই ছন্দে স্থৈর্য ও গতি পাশাপাশি থাকার ফলে কিছুটা গতি মন্থরতা এসেছে।
ক) গাম্ভীর্য' ও সংযম বেশি থাকায় এই ছন্দে শুধু কবিতা নয় মহাকাব্যও রচিত 'হ'তে পারে।
অমিত্রাক্ষর ছন্দের জন্য অক্ষরবৃত্তের রূপকল্পই বিশেষ ভাবে গ্রহণযোগ্য।

উৎস: 'ছন্দ ও অলঙ্কার' ড. অজয় কুমার চক্রবর্তী।
১২.
'এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।'- সংলাপটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. পথের দাবী
  2. কবর
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা
• 'এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।'- সংলাপটি মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' নাটকের অন্তর্ভুক্ত।

• 'কবর' নাটক:
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

'কবর' নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়।

- পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কবর' নাটক।
১৩.
'কালকূট' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. বিমল ঘোষ
  4. রাজনারায়ণ বসু
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
• সমরেশ বসুর জন্মনাম সুরথনাথ বসু; কিন্তু সমরেশ বসু নামেই লেখক পরিচিতি সমধিক।
সমরেশ বসু কালকূট ও ভ্রমর ছদ্মনামে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচনা করেছেন। 

অন্যদিকে, 
• কবি বিমল ঘোষের ছদ্মনাম- 'মৌমাছি'। 
• রাজশেখর বসু 'পরশুরাম' ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল' প্রবাদের অর্থ কী?
  1. যার জিনিস তাকেই দান করা।
  2. নিজেকে সংশ্লিষ্ট না করা।
  3. আয়ত্তে না আসতেই আড়ম্বর।
  4. গায়ে পড়ে কর্তৃত্ব জাহির করা।
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তে না আসতেই আড়ম্বর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তে না আসতেই আড়ম্বর।
ব্যাখ্যা
• 'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল' অর্থ- আয়ত্তে না আসতেই আড়ম্বর।
- বাক্য: খেলা শুরু না হতেই জয়েন গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

অন্যদিকে, 
- 'গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো' অর্থ- যার জিনিস তাকেই দান করা। 
- 'কানে দিয়েছি তুলো পিঠে বেঁধেছি কুলো' অর্থ- নিজেকে সংশ্লিষ্ট না করা। 
- 'গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল' অর্থ- গায়ে পড়ে কর্তৃত্ব জাহির করা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ' এর স্রষ্টা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
উৎপত্তির বিচারে 'অক্ষরবৃত্ত' কোন ধরনের শব্দ?
  1. সংস্কৃত ছন্দ
  2. তদ্ভব ছন্দ
  3. অর্ধতৎসম ছন্দ
  4. হিন্দি ছন্দ
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭.
'জাগো বাহে, কোনঠে সবায়?'- সংলাপটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. নূরলদীনের সারাজীবন
  4. কি চাহ শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
নূরলদীনের সারাজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরলদীনের সারাজীবন
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে প্রদত্ত সংলাপটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্যের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------
• নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারাজীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরুলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন ছদ্মনামে লিখেছেন?
  1. নীহারিকা দেবী
  2. শ্রীমতি মধ্যমা
  3. অনুপমা দেবী
  4. অনুরূপা দেবী
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতি মধ্যমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতি মধ্যমা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে, 
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী। 
• অনুরূপা দেবীের ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী। 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুরূপা দেবী, পরশুরাম, শ্রীকান্ত শর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
'ঘটি ডোবে না নামে তালপুকুর' প্রবাদটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অক্ষমতা সত্ত্বেও বড়াই করা।
  2. দায়িত্ব গ্রহণের পরিবর্তে ঘুরে বেড়ানো।
  3. নিজের ক্ষতি করেও অপরের উপকার সাধন।
  4. ফাঁকা প্রতিশ্রুতি অর্থহীন।
সঠিক উত্তর:
অক্ষমতা সত্ত্বেও বড়াই করা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষমতা সত্ত্বেও বড়াই করা।
ব্যাখ্যা
• 'ঘটি ডোবে না নামে তালপুকুর' অর্থ- অক্ষমতা সত্ত্বেও বড়াই করা।
- বাক্য: দুবেলা ভাত খেতে প চায়-ঘটি ডোবে না, নামে তালপুকুর।

অন্যদিকে, 
• 'গায়ে ফু-দিয়ে বেড়ানো' অর্থ- দায়িত্ব গ্রহণের পরিবর্তে ঘুরে বেড়ানো। 
• 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো' অর্থ- নিজের ক্ষতি করেও অপরের উপকার সাধন। 
• 'কথায় চিঁড়ে ভিজে না' অর্থ- ফাঁকা প্রতিশ্রুতি অর্থহীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. ধনপতি সওদাগর
  2. বেহুলা
  3. ফুল্লরা
  4. লহনা
সঠিক উত্তর:
বেহুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহুলা
ব্যাখ্যা
• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

এই কাব্যের চরিত্রগুলো হলো:
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- চাঁদ সওদাগর
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

অন্যদিকে, 
• ধনপতি সওদাগর, ফুল্লরা ও লহনা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
'সত্য পীর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. কায়কোবাদ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে, 
• প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছদ্মনাম ছিল- কৃত্তিবাস ভদ্র, লেখরাজ সামন্ত। 
• কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রকৃত নাম- জসীম উদ্দীন মোল্লা।
• কাজেম আল কোরেশীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- কায়কোবাদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২.
'লোকছন্দ' কোন ছন্দের প্রচলিত নাম?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

অন্যদিকে, 
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:  উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• পয়ার ছন্দ: পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দোরীতিও বটে। মধ্যযুগে পয়ার ছন্দেই রামায়ণ ও মহাভারতের বঙ্গানুবাদ এবং মঙ্গলকাব্যসমূহ রচিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া এবং প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
২৩.
'ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো' প্রবাদটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. কোনো না কোনোভাবে কার্যসিদ্ধি।
  2. বুদ্ধির জোরে কষ্ট এড়িয়ে কার্যসিদ্ধি।
  3. ক্ষমতাবানকে অযথা সাহায্য করা।
  4. অবহেলিত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় সাহায্য। 
সঠিক উত্তর:
অবহেলিত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় সাহায্য। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবহেলিত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় সাহায্য। 
ব্যাখ্যা
• 'ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো' অর্থ- অবহেলিত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় সাহায্য। 

অন্যদিকে, 
• 'ধারে না হলে ভারে কাটে' অর্থ- কোনো না কোনোভাবে কার্যসিদ্ধি। 
• 'তেলা মাথায় তেল দেয়া' অর্থ- ক্ষমতাবানকে অযথা সাহায্য করা। 
• 'ধরি মাছ না ছুঁই পানি' অর্থ- বুদ্ধির জোরে কষ্ট এড়িয়ে কার্যসিদ্ধি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪.
'তিলোত্তমা' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।