পরীক্ষা আর্কাইভ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

পরীক্ষাউপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫ বিষয়: কৃষি (টেকনিক্যাল) - ১ টপিক: ১. বাংলাদেশের কৃষি পরিচিতি, ২. মৃত্তিকা বিজ্ঞান, ৩. কৃষি ও পরিবেশবিজ্ঞান, ৪. ফসল সংগ্রহ ও বীজ প্রযুক্তি, ৫. ফসলের রোগ-পাকামাকড ও বালাই ব্যবস্থাপনা, ৬. উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, ৭. উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগ ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, ৮. আগাছা দমন।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৫ প্রশ্ন

.
কোনটি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি?
  1. ক্যানিং
  2. জেলী তৈরি
  3. জৈব অম্ল ব্যবহার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ:
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল দিয়ে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে ১-৩ বছর পর্যন্ত ফল সংরক্ষণ করা যায়।
- প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে কখনও কখনও ফলের স্বাদ ও গন্ধের তেমন পরিবর্তন হয় না আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের খাদ্য তৈরি করা হয়।

• ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি:
ক) ক্যানিং বা টিনজাত করে সংরক্ষণ (Canning):
- আম, আনারস, লিচু, কমলা ইত্যাদি ফলকে টিনজাত করে সংরক্ষণ করা যায়।

খ) তাপ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সাহায্যে সংরক্ষণ:
- উচ্চতাপমাত্রায় (১২০-১৫০° সে.) ফলের ভেতরের রোগ জীবাণু মারা যায় ও ফলের আভ্যন্তরীণ বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হয়।
- এ প্রক্রিয়ায় খাদ্য মানের তেমন পরিবর্তন হয় না, তবে ভিটামিন বি ও সি নষ্ট হয়ে যায়।
- এভাবে উচ্চতাপ প্রয়োগ করে ফলকে অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।

গ) চিনির দ্রবণে ফল সংরক্ষণ:
- চিনির ঘন রসে বিভিন্ন ফল যেমন আনারস, লিচু, পীচ, আম, আঙ্গুর, মাল্টা, কমলা, চেরি, পেঁপে, নাসপাতি ইত্যাদি ফল সংরক্ষণ করা যায়।
- ফল সংরক্ষণের জন্য চিনির দ্রবণের ঘনত্ব কমপক্ষে ৬০% হতে হবে।
- ছোট ছোট ফল যেমন, লিচু, চেরী, কমলার কোয়া ইত্যাদি আস্ত সংরক্ষণ করা হয়।
- অন্যান্য ফল সংরক্ষণের আগে সুবিধামত ছোট টুকরা করে পাতলা রসের সাথে জ্বাল দিয়ে সিরাপের ঘনত্ব ৬০-৭০ করা হয়।

ঘ) লবণের দ্রবণে সংরক্ষণ:
- টকস্বাদ যুক্ত ফলকে সাধারণত এই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।
- জলপাই, আমলকী, লেবু, কাঁচা আম ইত্যাদি ফল আস্ত অথবা ছোট টুকরা করে লবণ পানিতে সেদ্ধ করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত লবণ দ্রবণের ঘনত্ব ২০-২৫% না হয়।
- পরে ফলগুলো লবণ পানি থেকে উঠিয়ে বায়ুরোধী টিনে বা কাঁচের পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।

ঙ) জৈব অম্ল ব্যবহার করে:
- সিরকায় ৪-৬% এসিটিক এসিড থাকে যাতে জীবাণু বাঁচতে পারে না তাই ফল সংরক্ষনের জন্য সিরকা বা এসিটিক এসিড ব্যবহার করা যায়।

 চ) রস হিসেবে ফল সংরক্ষণ:
- যে কোন রসালো ফল থেকে রস বের করে তা সংরক্ষণ করা যায়।
- ফলে রস দ্রুত স্টেরিলাইজেশন করে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।
- এর সাথে প্রিজারভেটিভ যোগ করলে অনেকদিন ভাল থাকবে।
- আম, আনারস, লিচু, কমলা, আপেল ইত্যাদি ফল রস করে সংরক্ষণ করা যায়।

 ছ) জেলী তৈরি করে সংরক্ষণ:
- ফলের রস থেকে জেলী তৈরি করা হয়।
- চিনি ও পেকটিন ব্যবহার করা হয়।
- পেকটিন পালপ জমাট বাধতে সাহায্য করে।
- পেয়ারাতে পেকটিনের পরিমাণ বেশি বলে এতে বাড়তি পেকটিন যোগ করতে হয় না।
- পেয়ারা, কমলা, আনারস, আম, পেঁপে, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফল দিয়ে জেলি তৈরি করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
শস্যজাত ফসলের বীজ সংরক্ষণের জন্য বীজের আর্দ্রতা কত ভাগ প্রয়োজন হয়?
  1. ২৫%
  2. ১৭%
  3. ১৫%
  4. ১০%
ব্যাখ্যা
• বীজ সংরক্ষণ:
- বীজ যদি অধিক আর্দ্রতায় রাখা হয় তাহলে বীজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
- কারণ এর ফলে বীজের শ্বসন বৃদ্ধি পায়, রোগ বালাই ও পোকামাকড় এর আক্রমণ বাড়ে।
- যেহেতু বীজের জীবনকাল আর্দ্রতার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তাই বীজ সংরক্ষণের জন্য বীজ শুকানো প্রয়োজন।
- শস্যজাত ফসলের বীজ সংরক্ষণের জন্য ১০% আর্দ্রতা খুবই উপকারী।
-  তবে ৪% বা এর নিচের আর্দ্রতা বীজের অঙ্কুরোদ্গমের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
- বীজের আর্দ্রতা প্রতি ১% কমাতে বীজের জীবনকাল দ্বিগুণ হয়।

উৎস - Seed Science and Technology, TNAU AGRITECH website
.
কোনটি নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণের মতবাদ নয়?
  1. ব্যাপন মতবাদ
  2. ডোন্যান ইকুইলিব্রিয়াম
  3. অভিস্রবণ মতবাদ
  4. মাস ফ্লো মতবাদ
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণ:
- এ শোষণ প্রক্রিয়ায় কোন বিপাকীয় শক্তি বা ATP এর প্রয়োজন হয় না বলে একে নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ বলা হয়।
- এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের খনিজ লবণ শোষণ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ঘটে।
- এক্ষেত্রে মাটির দ্রবণে আয়নের ঘনত্ব মূলরোমের কোষের দ্রবণে আয়নের ঘনত্ব অপেক্ষা বেশি থাকে।
- মাটির দ্রবণ এবং মূলরোমের কোষের দ্রবণের ঘনত্বের এ অসমতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ উদ্ভিদ কোষে প্রবেশ করে।
- দ্রবণ দুটির ঘনত্ব যতক্ষণ পর্যন্ত সমান না হয় ততক্ষণ এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
- এতে শ্বসনের হার স্বাভাবিক থাকে।

- নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণের মতবাদগুলো হলো-
(ক) ব্যাপন মতবাদ,
(খ) আয়ন বিনিময় মতবাদ,
(গ) মাস ফ্লো মতবাদ এবং
(ঘ) ডোন্যান ইকুইলিব্রিয়াম মতবাদ।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ফসলের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান নয় কোনটি?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ক্যালসিয়াম
  3. সোডিয়াম
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
• সোডিয়াম ফসলের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান নয়। 

• অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements):

- উদ্ভিদে প্রায় 60টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই 60টি উপাদানের মধ্যে মাত্র 16টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
- এ 16টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি এবং মাইক্রো উপাদান ৬ টি।

• ম্যাক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- এরূপ উপাদানের সংখ্যা ১০টি।
যথা- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

• মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়।
- এদের সংখ্যা ৬টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাংলদেশের জন্য শৈত্য সহিষ্ণু ফসলের জাত কোনটি?
  1. ব্রি ধান ৫৫
  2. ব্রি ধান ২৮
  3. ব্রি ধান ৩৬
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
শৈত্য সহিষ্ণু ফসল:
- বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতকাল।
শীতকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা জানুয়ারি মাসে হয়ে থাকে। শীতকালে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে থাকে।
আমাদের দেশে শৈত্য বেশি পড়লে এবং শৈত্যতা দীর্ঘস্থায়ী হলে শীতকালীন ফসল, যেমন-গোলআলু ও গমের ফলন ভালো হয়।
তবে রোপা আমন ও বোরো ধানের পরাগায়ণ ও দানা গঠনের সময় শৈত্য বেশি পড়লে অর্থাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে চিটা হয়ে ফলন কমে যায়।
এ সময় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে এবং কয়েকদিন এ অবস্থা স্থায়ী হলে ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
এ জন্য সঠিক সময়ে বীজ বপন ও চারা রোপণ করতে হবে।
ব্রি ধান ৩৬ ও ব্রি ধান ৫৫ এ দু'টি শৈত্য সহিষ্ণু ধানের জাত।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
.
গোলআলু চাষের জন্য উপযুক্ত কোন মাটি?
  1. দোআঁশ মাটি
  2. বেলে মাটি
  3. এটেল মাটি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বালু কণা (Sand particles):
- বালু কণায় সাধারণতঃ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিলক্ষিত হয়:
১। বালুকণা স্বল্প ক্ষয়ীভূত শিলাদ্রব্যের ক্ষুদ্রাকার চূর্ণ এবং ইহাতে উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশকীয় খাদ্যোপাদান থাকে না বললেই চলে।
২। কণাগুলো সহজে একটা আর একটার সাথে লেগে থাকে না।
৩। এদের দ্বারা গঠিত রন্ধগুলো বড় হওয়ায় বায়ু ও পানি সহজেই চলাচল করতে পারে।
৪। ইহাদের জৈব ও অজৈব পদার্থের ধারন ক্ষমতা কম।
৫। এরা ভূমিক্ষয় ত্বরান্বিত করে এবং মরুভূমি গঠনে সহায়তা করে।
৬। যে সমস্ত ফসল ভূনিম্নস্থ কান্ড বা শিকড়ের জন্য চাষ করা হয় বা গভীরমূলী, সেগুলো বেলে মাটিতে ভাল হয়। যেমন: গোলআলু, মিষ্টি আলু প্রভৃতি।
৭। এদের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল খুবই কম।
৮। এদের ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতা (CEC) ০-৫ m.e./১০০ গ্রাম মাটি।
৯। এদের কণার ব্যাস ২.০০-০.০২ মিলিমিটার।

উৎস: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যায়?
  1. বর্ষা মৌসুমে
  2. শুষ্ক মৌসুমে
  3. উভয় মৌসুমে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফসল উৎপাদনে লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রভাব:
- শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যায়

- বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি প্রবাহ শুকনো মৌসুমে স্বাভাবিক মাত্রায় থাকেনা।
- ফলে নদীর পানির বিপুল চাপের কারণে সমুদ্রের লোনা পানি যতটুকু এলাকা জুড়ে আটকে থাকার কথা ততটুকু থাকেনা, পানির প্রবাহ কম থাকার কারণে সমুদ্রের লোনা পানি স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসে।
- ফলে লবণাক্ততা বেড়ে বেড়ে যায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল এলাকায়।
- লোনা পানির অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের একটি মারাত্মক সমস্যা।
- গবেষণায় দেখা গেছে যে, একটা সময় পরে আমাদের দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলো সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাবে এবং লবণাক্ত হয়ে পড়বে।
- ফলে সেখানে স্বাভাবিক ফসল ফলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশকে কয়টি 'কৃষি পরিবেশ অঞ্চল' এ ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২৪
  2. ৩০
  3. ৬৪
  4. ৮৮
ব্যাখ্যা
• মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে কৃষি পরিবেশ অঞ্চল(AEZ):
- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিন্নতা রয়েছে।
- এ ভিন্নতার কারণেই এক এক অঞ্চলে এক এক রকম ফসল ভালো জন্মে।
- মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে
- এই ৩০টি AEZ কে ৮৮টি উপঅঞ্চল এবং উপঅঞ্চলগুলোকে আবার ৫৩৫টি কৃষি পরিবেশগত একক এলাকায় ভাগ করা হয়েছে।
- কৃষি পরিবেশগত অঞ্চলে একই পরিবেশে এবং মাটির বৈশিষ্ট্যে ফসল উৎপাদন হয়।
- এ শ্রেণিভাগ মাটির ধরন, উর্বরতা, ফসল জন্মানোর প্রকৃতি, জমিতে বন্যার সময় পানির উচ্চতা, এলাকাভেদে ফসল জন্মানোর সময়সীমা, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রাকে বিবেচনা করে করা হয়েছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
.
ধান গাছের বাদামি দাগ কোন ধরনের জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত রোগ?
  1. ভাইরাস জনিত রোগ
  2. ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ
  3. ছত্রাক জনিত রোগ
  4. পোকাজনিত রোগ
ব্যাখ্যা
• দাগ:
- ফসলের পাতায়, কাণ্ডে বা ফলের গায়ে নানা ধরনের দাগ বা স্পট দেখা দেয়।
- দাগের রং কালো, হালকা বাদামি, গাঢ় বাদামি কিংবা দেখতে পানিতে ভেজার মতো হয়।
- ফসলের এসব দাগ বিভিন্ন রোগের কারণে হয়।
- যেমন: ধান গাছের বাদামি দাগ একটি ছত্রাকজনিত রোগের লক্ষণ।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০.
কোন এসিডের দ্রবণ দ্বারা বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গা যায়?
  1. হাইড্রোক্লোরিড এসিড
  2. বেনজোয়িক এসিড
  3. নাইট্রিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
• সালফিউরিক এসিড দ্রবণ দ্বারা বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গা যায়। 

• অম্লদ্রব্য সহযোগে বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গানো:
- এ পদ্ধতিতে বীজকে ঘন সালফিউরিক এসিডে ডুবিয়ে কিছুক্ষণ রাখতে হয়।
- ঘন সালফিউরিক এসিডের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.৮৪ হওয়া দরকার।
- সাধারণত বীজের দ্বিগুণ পরিমাণ এসিড (নিদিষ্ট ঘনমাত্রার) একটি কাঁচ বা মাটির পাত্রে নিতে হয়।
- তারপর বীজকে উক্ত পাত্রে ঢেলে মুখ আটকাতে হবে এবং মাঝে মাঝে কোন কাঠির সাহায্যে বীজকে নাড়াচাড়া করতে হবে।
- উপযুক্ত তাপমাত্রা হলো ৬০-৮০ ফাঃ।
- সময়ের পরিমাণ ১০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ৬ ঘন্টা পর্যন্ত হতে পারে।
- বীজাবরণ যখন পাতলা হয়ে আসে তখন সাবধানে এসিড ঢেলে নিতে হয় এবং তৎক্ষনাৎ বীজগুলোকে প্রবাহমান পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হয়।
- উক্ত ধোয়া বীজ ভিজা অবস্থায় সরাসরি জমিতে বপন করা চলে।
- অথবা ভালোভাবে শুকিয়ে গুদামেও রাখা চলে।

উৎস: Seed and Seed Technology, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
আধুনিক মতবাদ অনুসারে, পত্ররন্ধ্র বন্ধ এবং খোলা রাখার জন্য কোন আয়ন দায়ী?
  1. ক্যালসিয়াম আয়ন
  2. সোডিয়াম আয়ন
  3. পটাসিয়াম আয়ন
  4. ম্যাগনেসিয়াম আয়ন
ব্যাখ্যা
• পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার আধুনিক মতবাদ:
- পত্ররন্ধ্র উদ্ভিদের প্রধান গ্যাসীয় বিনিময় অঙ্গ যার মাধ্যমে উদ্ভিদ O2, CO₂, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি গ্যাসীয় উপাদান বিনিময় করে থাকে।
- উদ্ভিদের বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কার্যাবলী (যেমন- শ্বসন, সালোকসংশ্লেষণ, প্রস্বেদন ইত্যাদি) সম্পাদনের জন্য গ্যাস বিনিময় আবশ্যক।
- এ বিনিময় কার্যক্রম পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
- এ মতবাদ অনুসারে পত্ররন্ধ্র বন্ধ এবং খোলা রাখার বিষয়ে পটাসিয়াম আয়ন (K+) কে দায়ী করা হয়।
- দিনের বেলায় রক্ষীকোষ প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম আয়ন (K+) ও ক্লোরাইড আয়ন (CI-) শোষণ করে।
- ফলে রক্ষীকোষে অভিস্রবণিক চাপ বাড়ে এবং তখন পার্শ্ববর্তী মেসোফিল টিস্যু থেকে রক্ষীকোষে পানির ব্যাপন ঘটে।
- এ সময় রক্ষীকোষে টারগার প্রেসার (TP) বেড়ে যাবার ফলে তা স্ফীত হয়ে ধনুকের ন্যায় বেঁকে যায় ও পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
- রাতের বেলায় পটাসিয়াম আয়ন (K+) ও ক্লোরাইড আয়ন (CI-) রক্ষীকোষ হতে বের হয়ে আসে।
- ফলে রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ কমে।
- এর ফলে পানি রক্ষী কোষ থেকে বের হয়ে আসে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
খরা সহিষ্ণু গমের জাত কোনটি?
  1. প্রদীপ
  2. আকবর
  3. বর্ণালি
  4. শুভ্রা
ব্যাখ্যা
• খরা সহিষ্ণু গমের জাত:
- বারি গম ২০ (গৌরব) ও বারি গম ২৪ (প্রদীপ) দুইটি খরা সহিষ্ণু গমের জাত।
- এর মধ্যে বারি গম ২৪ এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:
- বারি গম ২৪ (প্রদীপ) এ জাতটি মধ্যম খাটো, উচ্চ ফলনশীল এবং খরা সহিষ্ণু।
- এ জাতের পাতা চওড়া, বাঁকানো ও হালকা সবুজ রঙের।
- জাতটির জীবনকাল ১০২-১১০ দিন এবং ফলন ৪.৩-৫.১ টন/হেক্টর।

উল্লেখ্য,
• খরা সহিষ্ণু ধানের জাত:
ব্রি ধান ৫৬ ও ব্রিধান ৫৭ দুইটি খরা সহিষ্ণু ধানের জাত। এর মধ্যে ব্রি ধান ৫৭ এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা
হলো:
ব্রি ধান ৫৭:
এ জাতটিও রোপা আমন। গাছের উচ্চতা ১১০-১১৫ সেমি জীবনকাল ১০০-১০৫ দিন। প্রজনন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮-১৪ দিন বৃষ্টি না হলেও ফলনের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। খরা কবলিত অবস্থায় জাতটি হেক্টরপ্রতি ৩.০-৩.৫ টন এবং খরা না হলে ৪.০-৪.৫ টন ফলন দিতে সক্ষম। ব্রি ধান ৫৬ ও ব্রি ধান ৫৭ এর জীবনকাল কম বলে এরা খরা সহ্যের পাশাপাশি খরা এড়াতেও পারে।
খরা সহিষ্ণু আখের জাত:
ঈশ্বরদী ৩৫: এ জাতটির ফলন ৯৪ টন/হেক্টর। আখের অন্যান্য খরা সহিষ্ণু জাতের মধ্যে রয়েছে ঈশ্বরদী ৩৩, ঈশ্বরদী ৩৭, ঈশ্বরদী ৩৯ ও ঈশ্বরদী ৪০ ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
১৩.
সবুজ ট্যাগ দিয়ে কোন বীজকে নির্দেশ করা হয়?
  1. প্রজনন বীজ
  2. ভিত্তি বীজ
  3. প্রত্যায়িত বীজ
  4. মানঘোষিত বীজ
ব্যাখ্যা
• মৌল বা প্রজনন বীজ (Breeder Seed):
- উদ্ভিদ প্রজনন প্রতিষ্ঠান বা কোন প্রজনন বিদের ঘনিষ্ট ও সরাসরি তত্ত্ববাবধানে উৎপন্ন এবং যা থেকে ভিত্তি শ্রেণীর বীজ উৎপাদন করা হয় তাকে প্রজনন বীজ বলে।
- এই বীজের সর্বাধিক কৌলিক বিশুদ্ধতা থাকে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার সবুজ হয়।

অন্যদিকে,
• ভিত্তি বীজ (Foundation seed):
- বীজের পরবর্তী বিস্তার ঘটানোর জন্য মৌলিকভাবে শনাক্ত করণযোগ্য জাতের প্রাথমিক উৎসকে ভিত্তি বীজ বলে।
- ভিত্তি বীজে কৌলিক স্বাতন্ত্র্য ও জাতের বিশুদ্ধতা বিদ্যমান থাকে।
- ভিত্তি বীজ থেকে প্রত্যায়িত যে বীজ উৎপাদন করা হয়।
- এ বীজের ট্যাগের কালার সাদা হয়।

• প্রত্যায়িত বীজ (Certified Seed):
- ভিত্তি বীজ থেকে প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদন করা হয়।
- যাতে বংশগত ও বাহ্যিক বিশুদ্ধতা নির্ধারিত মানে থাকে।
- বীজের গুণাবলী সংরক্ষণের জন্য প্রত্যয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।
- বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী এই অনুমোদনের কাজটি করে থাকে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার নীল হয়।

• মানঘোষিত বীজ (Truthfully labeled seed: TLS):
- উপরে তিনটি শ্রেণীর বীজ ছাড়া অন্য যে বীজ উৎপাদনকারী নিজেই উৎপাদন করে এবং নিজেই বীজের মাননিয়ন্ত্রণ করে এবং নিজেই ঘোষনা দেয় তাহাই মানঘোষিত বীজ।
- তিনি নিজস্বভাবে যাচাইপূর্বক ব্যাগ বা বস্তার গায়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করবে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার হলুদ হয়।

উৎস: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী (SCA) ।
১৪.
ধানের টুংরো রোগ ছড়ায় কার মাধ্যমে?
  1. অ্যাফিড
  2. ঘাস ফড়িং
  3. পাতা ফড়িং
  4. পামরি পোকা
ব্যাখ্যা
• ধানের টুংরো রোগ:
- এটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- পাতা ফড়িং এ রোগ ছাড়ায়।
- চারা রোপণের এক মাসের মধ্যে টুংরো রোগ দেখা দিতে পারে।
- আক্রমণের প্রথমে পাতার রং হালকা সবুজ, পরে আস্তে আস্তে হলদে হয়ে যায়।
- গাছ টান দিলে সহজেই উঠে আসে।
- কুশি হয় না।
- প্রথমে দুই-একটি গোছায় এ রোগটি দেখা যায়, পরে ধীরে ধীরে আশেপাশের গোছায় ছড়িয়ে পড়ে।

• দমন পদ্ধতি:
- পাতা ফড়িং এ রোগ ছাড়ায়, তাই পাতা ফড়িং দমন করতে হবে।
- আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে সবুজ পাতা ফড়িং মেরে ফেলা।
- রোগাক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলা।
- ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করা।

 উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
BRRI কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৬৩ সালে
  2. ১৯৭০ সালে
  3. ১৯৭২ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
• BRRI:
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)।
- এর পূর্ণরুপ- Bangladesh Rice Research Institute
- অবস্থান- জয়দেবপুর, গাজীপুর।
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হিসেবে কাজ শুরু করে।

- স্বাধীনতার পর নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
- এটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত বেশ কিছু আধুনিক জাতের ধান অন্যান্য দেশে যেমন ভারত, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, ভিয়েতনাম ও পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
১৬.
উদ্ভিদের কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলতে কী বুঝায়?
  1. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  2. ত্বকীয় প্রস্বেদন
  3. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  4. কাণ্ডীয় প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
• প্রস্বেদন:
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে।
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা।
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে।

• ত্বকীয় প্রস্বেদন (Cuticular transpiration):
- যে প্রস্বেদন কিউটিকলের মধ্য দিয়ে ঘটে তাকে ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে।
- উদ্ভিদের কান্ড এবং পাতার বহিঃত্বকের উপর কিউটিনের আবরণকে কিউটিকল বলে।
- উদ্ভিদকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করা কিউটিকলের প্রধান কাজ।
- কিউটিকল পাতলা হলে উহা ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে।
- এটাই কিউটিকুলার প্রস্বেদন।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৭.
উত্তম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল কোনটি?
  1. লেবু
  2. শিম
  3. গোলআলু
  4. সুপারি
ব্যাখ্যা
উত্তম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল:
নারিকেল, সুপারি, তাল, বার্লি, খেজুর, সুগারবিট, শালগম, তুলা, ধৈঞ্চা, পালংশাক।

• মধ্যম লবণাক্ততা সহিষ্ণু:
মিষ্টিআলু, গোলআলু, মরিচ, বরবটি, মুগ, খেসারি, মটর, যব, ভুট্টা, টমেটো, আমড়া, পেয়ারা।

• লবণাক্ততা সংবেদনশীল:
শিম, লেবু, কমলা, গাজর, পিঁয়াজ, স্ট্রবেরি, মসুর, আম, ডালিম

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
১৮.
'শ্যামা' আগাছার উপদ্রব কোন ফসলের জমিতে বেশি দেখা যায়?
  1. আলু
  2. গম
  3. ভুট্টা
  4. ধান
ব্যাখ্যা
• ধানক্ষেতের আগাছা:
- ধানক্ষেতে সাধারণত আরাইল, গইচা, শ্যামা প্রভৃতি আগাছার উপদ্রব হয়।
- এগুলো সরাসরি হাত/নিড়ানি দ্বারা ও ঔষধ প্রয়োগ করে দমন করতে হবে।

• আগাছা দমন:
- কমপক্ষে তিন বার ধানের জমিতে আগাছা দমন করতে হয়।
i) চারা রোপণ করার ১০-১৫ দিনের মধ্যে
ii) প্রথম আগাছা দমনের পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে
iii) থোড় বের হওয়ার পূর্বে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
নিম্ন তাপমাত্রার কারণে ধানগাছে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় না?
  1. চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়
  2. ধানগাছ হলদে বর্ণ ধারণ করে
  3. ধানের চারা দুর্বল হয়
  4. ফসলের জীবনকাল বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
• ধান উৎপাদনে তাপমাত্রার প্রভাব:
- ধানের জন্য অসহ্য গরম তাপমাত্রা হলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- ফুল ফোটার সময় ধানগাছ সবচেয়ে বেশি কাতর।
- এ সময় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হলে চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়।
নিম্ন তাপমাত্রার কারণে-
- ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়,
- ধানগাছ হলদে বর্ণ ধারণ করে,
- ধানের চারা দুর্বল হয় এবং ফসলের জীবনকাল বেড়ে যায়।

• ফসল উৎপাদনে তাপমাত্রার প্রভাব:
- আমরা আগেই জেনেছি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল ও শীতকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- পাশাপাশি গ্রীষ্ম ও শীতকালে তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধির অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে।
- কখনো কখনো গ্রীষ্মকালে অতি উচ্চ তাপমাত্রা এবং শীতকালে অত্যাধিক শীত পড়তে দেখা যাচ্ছে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে উফশী ধানের ফলন কমে যাবে এবং গমে রোগের আক্রমণ বেড়ে যাবে।
- এখনকার চেয়ে দেশের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে গম চাষ সম্ভব হবে না।
- আলু ও অন্যান্য শীতকালীন ফসল উৎপাদনে ধস নামবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
২০.
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (IPNS) এ কোন ধরনের সার ব্যবহৃত হয়?
  1. রাসায়নিক সার ও হরমোন
  2. জৈব সার
  3. রাসায়নিক সার
  4. জৈব ও রাসায়নিক সার
ব্যাখ্যা
• সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (IPNS):
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System – IPNS) হলো একটি বৈজ্ঞানিক কৌশল, যার মাধ্যমে ফসলের সঠিক পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়
- এ ব্যবস্থায় জৈব ও রাসায়নিক উভয় ধরনের সার মিলিয়ে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।


IPNS ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্যসমূহ:
• পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষা:
ফসলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যথাযথ পরিমাণে সরবরাহ করা।
• মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন:
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে এর গুণগত মান বজায় রাখা।
• উৎপাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধি:
ফসলের পরিমাণ ও মান – উভয়ই উন্নত করা।
• পরিবেশ রক্ষা:
অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো।

IPNS-এর প্রধান উপাদানসমূহ:
• জৈব সার:
যেমন – কম্পোস্ট, গোবর সার, পচা উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ইত্যাদি।
• রাসায়নিক সার:
যেমন – নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়ামসহ অন্যান্য মৌলিক সার।

উৎস: Fao Website.
২১.
মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে-
  1. মাটিতে খনিজ দ্রব্যের আকার বড় হলে
  2. মাটিতে খনিজ দ্রব্যের আকার ছোট হলে
  3. নুড়ি বা স্থুল বালিকণার পরিমাণ কমলে
  4. খ + গ
ব্যাখ্যা
• খনিজ দ্রব্য (Mineral matter):
- আয়তন ও ওজন ভিত্তিতে মৃত্তিকায় খনিজ দ্রব্যের শতকরা গড় পরিমাণ যথাক্রমে ৪৫ ও ৭৩ ভাগ।
- মাটিতে খনিজ দ্রব্যের আকার বড় হলে এবং নুড়ি বা স্কুল বালিকণার পরিমাণ বাড়লে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
- খনিজ দ্রব্য মৃত্তিকায় উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের ভাণ্ডার।
- খনিজ দ্রব্যের বৈশিষ্ট্যের ওপর তা নির্ভরশীল।
- পাথর খন্ড, বালি কণা, পলি কণা ও কর্দম কণা সমন্বয়ে মৃত্তিকা খনিজ দ্রব্য গঠিত।

উৎস: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২২.
'অল্টারনারিয়া ব্লাইট' কোন ফসলের প্রধান রোগ?
  1. সরিষা
  2. ধান
  3. পাট
  4. ইক্ষু
ব্যাখ্যা
• পাতা ঝলসানো রোগ (Alternaria blight):
- রোগের কারণ, উৎপত্তি ও বিস্তার : Alternaria brassicae এবং Alternaria brassiaicola নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগের সৃষ্টি হয় এবং বীজ বিকল্প পোষক ও বায়ুর মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৭% এর অধিক এবং তাপমাত্রা ১২-২৫ ডিগ্রি সে. ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দেয়।

• রোগের লক্ষণ:
১. এ রোগ প্রাথমিক অবস্থায় সরিষা গাছের নিচের বয়স্ক পাতায় ছোট, বাদামি গোলাকার দাগ আকারে আক্রমণ করে। পরবর্তীতে এ দাগ আকারে বড় হতে থাকে।
২. পরবর্তীতে গাছের পাতা, শুটি, কাণ্ড ও ফলে গোলাকার গাঢ় বাদামি বা কালো দাগের সৃষ্টি হয়। দাগগুলো ধূসর, গোলাকার সীমা রেখা দ্বারা আবদ্ধ থাকে। অনেকগুলো দাগ একত্রিত হয় বড় দাগের সৃষ্টি করে। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে পাতা ঝলসে যায়।
৩. আক্রান্ত শুঁটি থেকে পাওয়া বীজ ছোট, বিবর্ণ এবং কুঁচকে যায় এবং ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
২৩.
ফসল উৎপাদন মৌসুমের উপর ভিত্তি করে খরাকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
ব্যাখ্যা
• ফসল উৎপাদনে খরার প্রভাব:
- বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনে খরা অন্যতম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
- ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়ে গড় বৃষ্টিপাতের অভাবে মাটিতে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
- কম বৃষ্টিপাত ও অধিক হারে মাটি থেকে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার ফলে কৃষিক্ষেত্রে খরার প্রভাব দেখা দেয়।

ফসল উৎপাদন মৌসুমের উপর ভিত্তি করে খরাকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন-
- রবি খরা,
- খরিপ-১ খরা ও
- খরিপ-২ খরা।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
২৪.
কোন পোকার আক্রমণে ধান গাছের পাতার অগ্রভাগের ৩- ৪ সে.মি. কেটে ফেলে দমন করা যায়?
  1. লেদা পোকা
  2. পামরী পোকা
  3. এফিড পোকা
  4. পাতা মোড়ানো পোকা
ব্যাখ্যা
পামরী পোকা:
লক্ষণ:
- ক্ষতিগ্রস্থ পাতায় শিরার সমান্তরালে লম্বালম্বি দাগ পড়ে।
- পূর্ণ বয়স্ক ও গ্রাব দুই অবস্থায় ধানের ক্ষতি করে।
- কীড়াগুলি পাতার দুই পর্দার মাঝে সুড়ঙ্গ করে সবুজ অংশ খাওয়ার ফলে পাতা শুকিয়ে যায়।
- বাড়ন্ত ধানের জমিতে আক্রমন বেশি হয়।

ব্যবস্থাপনা:
১। আইল বা পার্শ্ববর্তী জায়গায় আগাছা পরিস্কার করা।
২। হাত জালের সাহায্যে বয়স্ক পোকা ধরে মাটিতে পুঁতে ফেলা।
৩। আক্রান্ত ক্ষেতের ধান গাছের পাতার অগ্রভাগের ৩- ৪ সে.মি. কেটে ধ্বংস করা।
৪। শতকরা ৩৫ ভাগ পাতার ক্ষতি হলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করা। যেমন: ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের পাইরিফস ২ মিলি/ লি. হারে অথবা কারটাপ গ্রুপের কাটাপ বা কারটাপ বা ফরওয়াটাপ কীটনাশক ১.৬ গ্রাম/ লি হারে পানিতে মিশিয়ে বিকালে স্প্রে করা।

উৎস: কৃষি বাতায়ন।
২৫.
কোন জাতীয় সার মাটিকে নরম রাখতে রাখতে সহায়তা দান করে?
  1. জিপসাম
  2. এমপি
  3. টিএসপি
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
• রাসায়নিক সারের উপকারিতা:
- কতকগুলো রাসায়নিক সার, বিশেষ করে টিএসপি মাটির সংযুক্তি উন্নত করে, আয়তনী ঘনত্ব কমায় এবং মাটিকে নরম করতে সহায়তা দান করে।
- টিএসপি সার মৃত্তিকা দ্রবণের কিছুটা রাসায়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করার পর খুব অল্প সময়ে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। জমিতে উপস্থিত ফসল খুব দ্রুত এর উপকার পায়। ইউরিয়া সার ব্যবহার করার কয়েকদিনের মধ্যে গাছ সবুজ ও সতেজ হয়ে ওঠে।
- রাসায়নিক সারে আয়তনের তুলনায় খাদ্যোপাদন বেশি থাকে ফলে বেশি পরিমাণ সার আনা নেয়া করার প্রয়োজন দেখা দেয় না। তাছাড়া উচ্চ ফলনশীল জাতের জন্য বেশি খাদ্যোপাদান প্রয়োজন হয় বলে রাসায়নিক সার এখানে খুবই কার্যকরী।
- অনেক রাসায়নিক সার, যেমন- ইউরিয়া এবং কিছু গৌণ উপাদান সার উদ্ভিদের অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পাতার উপর স্প্রে করে প্রয়োগ করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে গাছ তা
রাসায়নিক সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে দ্রুত খাদ্যোপাদান মাটিতে সরবরাহ হয় যার ফলে মাটির অণুজীবগুলোর পরিমাণ ও কার্যাবলী বৃদ্ধি পায়।
- রাসায়নিক সার, বিশেষ করে ইউরিয়া মাটির জৈব পদার্থ বিযোজনে সহায়তা করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
বাংলাদেশের কোন বিজ্ঞানী পাটের জিনোম আবিষ্কার করেন?
  1. ড. আহমেদ মোবাশ্বের
  2. ড. মোবারক আহমদ খান
  3. ড. মাকসুদুল আলম
  4. ড. মাসুদুর রহমান
ব্যাখ্যা
• পাটের জিনোম আবিষ্কার:
- বায়োটেকনোলজি বা জীবকৌশল বিজ্ঞানে অগ্রগতি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
- বাংলাদেশি বিজ্ঞানী কর্তৃক পাটের জেনেটিক ম্যাপ আবিষ্কার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, অর্থাৎ বাংলাদেশে কৃষির আধুনিক যুগের সূচনা হয়েছে।
- পাটের জিনোম আবিষ্কারক ড. মাকসুদুল আলম।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
২৭.
ধান রোপনের পূর্বে ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক কোনটি?
  1. গ্লাইফোসেট
  2. এমসিপিএ
  3. কারফেন্ট্রাজন ইথাইল
  4. প্রিটাইলাক্লোর
ব্যাখ্যা
ধানের জমিতে সঠিক আগাছানাশক নির্বাচন:

১) ধান রোপনের পূর্বে ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (প্রি-প্লান্ট):
- এটি সাধারণত রোপনের পূর্বে যে সমস্ত আগাছা জমিতে জন্মায়, তাদের দমন করে।
- উদাহরণ- গ্লাইফোসেট, গ্রামোক্সন এবং ২, ৪ ডি ইত্যাদি।

২) রোপনের পর ধান ক্ষেতে আগাছা জন্মানোর আগে ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (প্রি-ইমারজেন্স):
- জমিতে ধান রোপনের পর এবং আগাছা অংকুরোদগমের পূর্বে ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণত রোপন/বপনের ৩-৫ দিন পর ব্যবহার করা হয়।
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ আগাছানাশকই এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
- উদাহরণ- বুটাক্লোর ৫জি, প্রিটাইলাক্লোর ৫০০ ইসি, বিসপাইরিবেক সোডিয়াম + বেনসালফিউরান মিথাইল, এসিটাক্লোর + বেনসালফিউরান মিথাইল, অক্সাডায়াজন ২৫ ইসি গ্রুপের আগাছানাশক।

৩) আগাছা অংকুরোদগমের পর ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (পোস্ট ইমারজেন্স):
- এ শ্রেণীর আগাছানাশক ধানের জমিতে আগাছা জন্মানোর পর ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণত আগাছার পাতা যখন ১-২টি হয়, তখন এই আগাছানাশক ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ স্বরূপ- পাইরাজোসালফিউরান ইথাইল ১০ ডব্লিউপি, প্রিটাইলাক্লোর+পাইরাজোসালফিউরান ইথাইল, ডায়াফিমনি ২০০ এসসি, ইথক্সিসালফিউরান ১৫০ ডব্লিউপি, বিসপাইরিবেক সোডিয়াম এসসি, ফেনক্সলাম ২৪০ এসসি ইত্যাদি গ্রুপের আগাছানাশক।

৪) ধানের আগাছার পাতা ৩-৪টি হওয়ার পর ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (লেট পোস্ট ইমারজেন্স):
- এ ধরনের আগাছানাশক আগাছার পাতায় স্প্রে করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।
- যেমন- ২, ৪ ডি এমাইন, কারফেন্ট্রাজন ইথাইল এবং এমসিপিএ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
২৮.
নিচের কোন ফসল খরার সময় পাতার উপর লিপিড জমা করে প্রস্বেদন হারকে কমিয়ে দেয়?
  1. ভুট্টা
  2. সয়াবিন
  3. গম
  4. ধান
ব্যাখ্যা
• প্রস্বেদন নিয়ন্ত্রণ:
- এটি  ফসলের খরা পরিহারকরণ কৌশল।
- অনেক ফসল খরায় পতিত হলে পাতার উপর লিপিড জমা করে প্রস্বেদন হারকে কমিয়ে দেয়;
- যেমন- সয়াবিন ফসল।
- আবার অনেক ফসল পাতার উপরে মোম বা ঘন রোমের আচ্ছাদন সৃষ্টি করে প্রস্বেদন হ্রাস করে। 

ফসলের খরা পরিহারকরণ কৌশল:
নিচে ফসলের প্রধান প্রধান খরা পরিহারকরণ কৌশলগুলো বর্ণনা করা হলো:
১। পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণ: অনেক ফসল পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পানির অপচয় হ্রাস করে খরা অবস্থা মোকাবেলা করে। যেমন-যব ও লম্বা জাতের অনেক গম ফসল সকালের দিকে অল্প সময়ের জন্য পত্ররন্ধ্র খোলা রাখে এবং দিনের বাকি সময় পত্ররন্ধ্র বন্ধ রাখে। আবার অনেক ফসলের কোষে পানি ঘাটতি হলে এবং পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পত্ররন্ধ্রের আকার কমিয়ে দেয়, পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে দেয়। শিমের অধিকাংশ জাত এভাবে খরা পরিহার করে। আবার অনেক ফসলের পাতায় পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা কম থাকে, পত্ররন্ধ্র পাতার ছোট ছোট ভাঁজ বা গর্তের মধ্যে থাকে। ফলে প্রস্বেদন কম হয়, পানি সংরক্ষিত থাকে।

২। পাতার আকার হ্রাসকরণ অনেক ফসল খরাকবলিত অবস্থায় পাতার আকার হ্রাস করে প্রস্বেদন কমিয়ে দেয়; যেমন- ফেলন। পাতার কিনারা বা পাতার অগ্রভাগ পুড়িয়ে অনেক উদ্ভিদ পাতার আকার হ্রাস করে।

৩। পাতা ঝরানো খরার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অনেক ফসল নিচ থেকে পুরাতন পাতা ঝরিয়ে প্রস্বেদন হ্রাস করে। তুলা, চিনাবাদাম, জোয়ার ও ফেলনের এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। খরার অবসান হলে এ ধরনের ফসলে কাণ্ডের শীর্ষ বা পাতার কক্ষ থেকে পুনরায় কুশি গজায়। খরার ফলে ইথিলিন (এনজাইম) উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

৪। সালোকসংশ্লেষণ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ: কিছু ফসল পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রস্বেদন কমালেও পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে খুব কম পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে বেশি পরিমাণ খাদ্য তৈরি করে। ভুট্টা, আখ ইত্যাদি ফসলে এটা দেখা যায়।

৫। দক্ষ মূলতন্ত্র: কিছু কিছু উদ্ভিদ মূলের দৈর্ঘ্য, সংখ্যা ও ঘনত্ব বাড়িয়ে অধিক পরিমাণ পানি আহরণের মাধ্যমে খরা অবস্থা মোকাবেলা করে; যেমন- ভুট্টা, তুলা ও গমের অনেক জাতে এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। মূলের অধিক গভীরতা ও ঘনত্ব একই ফসলে বিরাজমান থাকলে সে ফসল অধিক খরা প্রতিরোধী হয়; যেমন- জোয়ার ও বাজরা। আবার ধইনচা, তুলা, অড়হর গভীরমূলী হওয়ায় খরা প্রতিরোধী হয়।

৬। পাতা মোড়ানো ও পাতা কুঞ্চিতকরণ অনেক দানা ফসল; যেমন- জোয়ার, কাউন পাতার আকার হ্রাসকরণ ছাড়াও খরা পরিবেশে পাতা কুঞ্চিত করে। আবার অনেক ফসল পাতা মুড়িয়ে সূর্যালোক প্রাপ্তির আয়তন কমিয়ে দেয়। ফলে এদের প্রস্বেদন কমে যাওয়ার কারণে পানির অপচয় হ্রাস পায় এবং খরা পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেয়।

৭। পাতার দিক পরিবর্তন অনেক উদ্ভিদে খরা অবস্থায় সূর্যালোকের সাথে বা খাড়াভাবে পাতার দিক পরিবর্তন করে। ফলে প্রস্বেদনের হার হ্রাস পেয়ে পানি সাশ্রয় হয়। চিনাবাদাম, তুলা ও ফেলনসহ আরও অনেক দ্বি-বীজপত্রী উদ্ভিদ এ প্রক্রিয়ায় খরা প্রতিরোধ করে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
২৯.
জমিতে জৈব সার প্রয়োগের ফলে নিচের কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়?
  1. মাটির পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  2. মাটির সংযুতির উন্নতি ঘটায়।
  3. মাটির অণুজীবের কার্যাবলি বাড়ায়।
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• জৈব সার:
- যেসব সার জীবের দেহ থেকে প্রাপ্ত অর্থাৎ উদ্ভিদ বা প্রাণীর ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রস্তুত করা যায়, তাদেরকে জৈব সার বলে।
- যেমন- গোবর সার, কম্পোস্ট সার, সবুজ সার, খৈল ইত্যাদি।
- গাছের প্রয়োজনীয় প্রায় সব খাদ্য উপাদানই জৈব সারে থাকে।

• জমিতে জৈব সার প্রয়োগের সুবিধা:
- জৈব সারে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদানই থাকে।
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- মাটির অণুজীবের কার্যাবলি বাড়ায়।
- মাটির সংযুতির উন্নতি ঘটায়।
- মাটির পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- মাটিতে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩০.
জৈব পদার্থের শতকরা কত ভাগ হিউমাস?
  1. ১ - ৫%
  2. ১০ - ১৫%
  3. ৭০ - ৮০%
  4. ৮৫ - ৯০%
ব্যাখ্যা
• হিউমাসের সংজ্ঞা:
- মৃত্তিকার জৈব পদার্থ সম্পূর্ণ বিয়োজনের পর অবশিষ্ট দ্রব্য যা তুলনামূলকভাবে স্থায়ী, বিয়োজন প্রতিরোধী, গাঢ় কাল থেকে বাদামী বর্ণের এবং প্রোটিন ও লিগনিন সমন্বয়ে গঠিত, তাকে হিউমাস বলা হয়।
- জীবাণুর উৎসেচকের অনুঘটক প্রক্রিয়ার ফলে জৈব পদার্থের বিয়োজন ঘটে থাকে।
- এ বিয়োজনের উপজাত হলো বাদামী বা গাঢ় বাদামী রংয়ের জটিল অনিয়তাকার অসমসত্ব (Heterogeneous) এক প্রকার মিশ্রণ।
-  লিগনিন, প্রোটিন, ও প্রোটিন কাদা জাতীয় উপরোক্ত পদার্থগুলোই এ মিশ্রণের উপাদান। এ মিশ্রণই হিউমাস।

• হিউমাসের বৈশিষ্ট্য:
১। গাঢ় বাদামী থেকে কালো বর্ণের।
২। পানিতে অদ্রবণীয় তবে ক্ষারে দ্রবণীয়।
৩। রাসায়নিক গঠন বড়ই জটিল।
81 শতকরা আনুমানিক ৩০ ভাগ আমিষ, ৩০ ভাগ লিগনিন ও ৩০ ভাগ জটিল চিনি ধারণ করে।
৫। শতকরা ৫৫-৫৮ ভাগ কার্বন, ৩-৬ ভাগ নাইট্রোজেন এবং সিলিকন, এলুমিনিয়াম ও লৌহ ধারণ করে।
৬। কার্বন নাইট্রোজেন অনুপাত ১২:১।
৭। সংকোচন ও প্রসারন গুণে সমৃদ্ধ।
৮। ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতা বেশি।
৯। জৈব পদার্থের শতকরা ৮৫-৯০ ভাগই হিউমাস।

উৎস: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনায় বালাইসমূহের ঘনত্ব কীরূপ থাকবে?
  1. সম্পূর্ণ ধ্বংস করা
  2. অর্থনৈতিক দ্বার প্রান্তের নিচে রাখা
  3. অর্থনৈতিক ক্ষতির ঘনত্বের উপরে যাওয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সমন্বিত বালাই বা আপদ দমন ব্যবস্থাপনা (Integrated Pest Management, IPM) :
- উদ্ভিদ সংরক্ষণের একটি পদক্ষেপ যার মাধ্যমে অনেক প্রকারের দমন পদ্ধতি সমন্বয় করে বালাইসমূহ অর্থনৈতিক স্বারপ্রান্তের (Economic threshold) নিচে রাখা হয়।
- সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য বা মূলনীতি হলো পোকা-মাকড় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস নয় বরং অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে শস্যকে রক্ষা করা।
- শস্য ভিত্তিক (Cropping system) সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা করা হয়ে থাকে।
- একটি শস্য উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ বীজ বপন থেকে ফসল কাটার পূর্ব পর্যন্ত নানাবিধ দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

উৎস: স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডিভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
নিচের কোনটি হ্যালোফাইটস?
  1. তুলা
  2. শিম
  3. কেওড়া
  4. সুগারবিট
ব্যাখ্যা
লবণাক্ততার প্রতি সাড়া প্রদানের উপর ভিত্তি করে ফসলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়;
ক) হ্যালোফাইটস- গোলপাতা, কেওড়া ও
খ) গ্লাইকোফাইটস- সুগারবিট, শিম, তুলা।
হ্যালোফাইটস জাতীয় উদ্ভিদ লবণাক্ত পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে সেখানেই জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে যা গ্লাইকোফাইটস পারে না।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৩৩.
পেঁপের রিং স্পট রোগ একটি-
  1. ভাইরাসজনিত রোগ
  2. ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
  3. ছত্রাকজনিত রোগ
  4. নেমাটোডজনিত রোগ
ব্যাখ্যা
• পেপের রিং স্পট:
- ভাইরাসের আক্রমণে পাতার উপর কিছুটা অঞ্চল ঘিরে গোলাকার  দাগ সৃষ্টি হয়।
- এ রকম লক্ষণকে রিং স্পট বলা হয়।
- এটি ভাইরাসজনিত একটি মারাত্মক রোগ।
- এ রোগের ফলে আমাদের মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন হয়।
- ভারতে ১৯৪৮ সালে প্রথম এ রোগটি লক্ষ করা যায়।
- অন্যান্য ফসলের ন্যায় পেঁপেরও নানা রকমের রোগ বালাই হয়।
- পেঁপের সবচেয়ে ক্ষতিকারক রোগ হলো রিং স্পট।
- এটি একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ।
- এটি এতই মারাত্মক যে এর ফলে ক্ষেতের পুরো ফসলই নষ্ট হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
পাটের মোজাইক রোগের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়?
  1. সাদা মাছি দমন করা
  2. আক্রান্ত গাছ জমি থেকে উঠিয়ে ফেলা
  3. সুস্থ বীজ বপন করা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• পাটের মোজাইক রোগ:
• লক্ষণ:
- ভাইরাসের আক্রমণে পাতার হলদে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে।
- পাতার শিরাত হলদে হয়ে যায়।

• প্রতিকার:
- আক্রান্ত গাছ জমি থেকে উঠিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে।
- সাদা মাছি এ রোগ ছড়ায়, তাই এই মাছি দমন করতে হবে।
- রোগমুক্ত সুস্থ বীজ বপন করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কত সাল থেকে কৃষি ঋণ প্রদান করছে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৮৩ সালে
  3. ১৯৮১ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে কৃষি ঋণ বিতরণে বিভিন্ন কর্মসূচী:
- বর্তমানে বানিজ্যিক ব্যাংকসমূহ প্রত্যক্ষভাবে কৃষকদেরকে ঋণ প্রদান করে থাকে।
- পূর্বে পাট বাজারজাতকরনের জন্য কৃষিক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋন প্রদান সীমাবদ্ধ ছিল।
- কিন্তু ১৯৭৭ সাল হতে বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশ ও সহযোগিতায় দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষি ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

১. ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলো ঋণগ্রহীতা কৃষকদেরকে যাতে অযথা হয়রানি কিংবা শোষণ করতে না পারে সেজন্য সরকার একটি জাতীয় ঋণ সালিশ বোর্ড গঠন করেছে। এ বোর্ড ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে।
২. কৃষি উৎপাদনে বিনিয়োগের স্বল্পতা দূর করার জন্য সরকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। এগুলোর মাধ্যমে মাঝারি সুদের হারে কৃষকদেরকে স্বল্প, মধ্যম দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করা হয়। এছাড়া নগদ তহবিল সরবরাহের মাধ্যমে সরাকার ৪ টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কৃষি ঋণদান কার্যক্রমের সাথে জড়িত করেছে।
৩. সরকার কৃষি ঋণবিতরণ সহজতার করার লক্ষ্যে বর্ধিত কলেবরে কৃষি/পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য নীতিমালায় নতুন নতুন বিষয় সন্নিবেশিত হচ্ছে।
৪. সকল ব্যাংকের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষিঋণের পরিমান ও আওতা বাড়ানো এবং পল্লী এলাকায় ব্যাংকিং কর্মকান্ডের সম্প্রসারণের কৌশলগত পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে।
৫. প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কথা চিন্তা করে সরকার ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করেছে।
৬. আমদানি বিকল্প শস্য চাষে শতকরা ৪ ভাগ রেয়াতি সুদের হারে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচ, এস, সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
প্রজনন বীজ ও ভিত্তি বীজ কোথায় উৎপাদন করা হয়?
  1. গবেষণা প্রতিষ্ঠানে
  2. বীজ বর্ধন খামারে
  3. প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজে
  4. প্রাইভেট নার্সারীতে
ব্যাখ্যা
• বীজের মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যয়ন:
- বীজের মান নিয়ন্ত্রণে বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম উন্নত বীজ স্বীকৃতির একটি প্রক্রিয়া।
- বীজমানের স্বকীয়তা তাক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রত্যয়ন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ১৯৭৪ সালে শস্য বীজ প্রকল্পের আওতায় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির জন্ম হয়।
- বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও বীজমান নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যয়নের আইনগত বৈধতাস্বরূপ বীজ তাধ্যাদেশ ১৯৭৭ইং এবং বীজ বিপি ১৯৮০ইং প্রণয়ন করা হয়।
- বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান) প্রজনন বীজ এবং ভিত্তি বীজ সরবরাহ করে থাকে।
- বি.এ.ডি.সি জাতীয় বীজ বোর্ড ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে এই সমস্ত বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ করে।
- প্রত্যয়ন এজেন্সী বি.এ.ডি.সি'র উৎপাদিত ভিত্তি ও প্রত্যয়িত বীজ প্রত্যয়ন করে।

উৎস: বীজ ও বীজ প্রযুক্তি, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৭.
ধানের ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী জীবাণু কোনটি?
  1. Fusarium oxysporum
  2. Rhizoctonia Solani
  3. Xanthomonas oryzae pv. oryzae
  4. Pyricularia oryzae
ব্যাখ্যা
• ধানের ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট:
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে গাছের কিছু কিছু অংশ খুব দ্রুত বিবর্ণ হয়।
- ফলে রোগাক্রান্ত গাছগুলো মরে যায়। অনেক সময় মৃত অংশ পঁচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
- এটি ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ বা ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত।
- ধানের যতগুলো মারাত্মক রোগ রয়েছে তার মধ্যে ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট অন্যতম।
- এটির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো- Xanthomonas oryzae pv. oryzae  |
- জাপানের কৃষকরা সর্বপ্রথম ধানের ব্লাইট রোগের সন্ধান পান।
- বাংলাদেশে এ রোগের অস্তিত্ব প্রথম পাওয়া যায় ১৯৬৬ সালে রোপা আমন ধানে।
- এ রোগের প্রকোপের মাত্রা অনুযায়ী ধানের ফলন ৬- ৬০% কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বাতায়ন।
৩৮.
ক্ষার মাটিকে কীভাবে চাষাবাদ উপযোগী করা যায়?
  1. লবণাক্ত সার প্রয়োগ করে
  2. লবণাক্ত পানি সেচ দিয়ে
  3. পানি সেচ অথবা জৈব সার প্রয়োগ করে
  4. বার বার ধান ও পাট চাষাবাদ করে
ব্যাখ্যা
• ক্ষার মাটির বৈশিষ্ট্য:
কোন মাটিতে যখন ক্ষার জাতীয় লবণ বিশেষতঃ সোডিয়াম কার্বনেটের আধিক্য ঘটার ফলে কোলয়েড মাইসেলিতে জাতীয় আয়ন সংখ্যায় বেশি হয়ে পড়ে তখন একে ক্ষার মাটি বলা হয়।

• ক্ষার মাটি পুনরুদ্ধার পদ্ধতি:
ক্ষার মাটিকে বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে পুনরুদ্ধার সম্ভব যথাঃ
(১) জল নিস্কাশন
(২) সেচ দিয়ে প্লাবিত করা। 
(৩) চাচিয়া পরিস্কার করা। 
(৪) বাস্থবায়ন কমাবার ব্যবস্থা করা, যেমন: মালচিং প্রয়োগ করা।
(৫) সেচ খাল ও নালা পাকা করা।
(৬) পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব ও সবুজ সার প্রয়োগ। 
(৭) অন্য স্থান থেকে উর্বর মাটি আনয়ন করে তা ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

উৎস: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
প্রকৃত বীজ কাকে বলে?
  1. নিষিক্ত ডিম্বককে
  2. নিষিক্ত ও পরিপক্ক ডিম্বককে
  3. বীজাত্বক দ্বারা আবৃত ভ্রূণকে
  4. স্ত্রী ও পুরুষ ফুলের রেণুর মিলনের ফলে উদ্ভাবিত ডিম্বককে
ব্যাখ্যা
• বীজ:
- বীজ উদ্ভিদের বংশ বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- উদ্ভিদতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যাবলী এবং কৃষি কাজের বৈচিত্র্যময় ব্যবহার অনুসারে বীজের সংজ্ঞা দু'রকম হতে পারে।
- প্রথমত, উদ্ভিদতত্ত্বানুসারে ফুলের পরাগরেণু দ্বারা ডিম্বক নিষিক্ত হবার পর পরিপক্ক ডিম্বককে বীজ বলে। যেমন: ধান, গম, পেঁপে বীজ।
- দ্বিতীয়ত, কৃষিতত্ত্বানুসারে গাছের যে অংশ (শারীরিক বা জাননিক) বংশ বিস্তারের জন্য ব্যবহৃত হয় তাকেই বীজ বলে। যেমন: আলুর টিউবার, মিষ্টি আলুর লতা, কলার সাকার, কুলের কুঁড়ি, পাথরকুচির পাতা, বিভিন্ন ফুল গাছের শাখা-প্রশাখা, ধান, গম ইত্যাদি।

- উপরিউক্ত সংজ্ঞা দ্বারা প্রকৃত বীজ ও কৃষি বীজের পার্থক্য নিরূপণ করতে পারি।
- প্রকৃত বীজ বা যৌন বীজ হচ্ছে বীজত্বকদ্বারা আবৃত এক সুপ্ত ভ্রূণধারী পরিণত ও নিষিক্ত ডিম্বক।
- আর গাছের যে কোন অংশ বিশেষ, যা উপযুক্ত পরিবেশে একই রকম গাছের বংশ বিস্তারের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে, তাকে কৃষি বীজ বলে।

উৎস: বীজ ও বীজ প্রযুক্তি, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪০.
ডালজাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার কয় ভাগে জমিতে প্রয়োগ করা হয়?
  1. ১ ভাগে
  2. ২ ভাগে
  3. ৩ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
• ডালজাতীয় ফসল:
- যে সমস্ত মাঠ ফসল খেলে আমিষজাতীয় খাবারের অভাব দূর হয়, তাদেরকে ডালজাতীয় ফসল বলা হয়।
- যেমন-মসুর, মুগ, মাষকালাই, খেসারী, ছোলা, মটর ইত্যাদি।
- এরা লিগুমিনোসী পরিবারের ফসল বিধায় এদেরকে লিগিউমজাতীয় ফসল বলা হয়।
- রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করে এজাতীয় ফসলের মুলে নডিউল সৃষ্টি করে।
- এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

• সার প্রয়োগ:
- মসুর চাষে হেক্টর প্রতি ৪৫ কেজি ইউরিয়া, ৮৫ কেজি টিএসপি বা ডিএপি এবং ৩৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়।
- জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ইউরিয়া ছাড়া সব সার ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।
- ইউরিয়া সার তিনভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ১৫-২০ দিন পর, দ্বিতীয় ভাগ ৩০-৪০ দিন পর এবং ৩য় ভাগ ৫০-৬০ দিন পর ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হয়।
- তবে পচা গোবর, কম্পোস্ট, খামারজাত সার ও জীবাণু সার এদের যে কোন একটি প্রয়োগ করলে ইউরিয়া সার লাগবে না।
- জীবানু সার প্রয়োগের পূর্বে এক কেজি মসুর বীজের সাথে ৫০ গ্রাম জীবাণু সার ও ৫০ গ্রাম চিটাগুড় মিশাতে হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান -
  1. ক্রমহ্রাসমান
  2. ক্রমবর্ধমান
  3. সবচেয়ে বেশি
  4. সবচেয়ে কম
ব্যাখ্যা
• অর্থনীতিতে কৃষির অবদান:
- জিডিপিতে সবচেয়ে ছোট খাত কৃষিখাত।
- আবার কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত কৃষিখাত।
- অন্যদিকে, কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম।
- সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান: ক্রমহ্রাসমান।

• স্থিরমূল্যে জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান:
- ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে: ১৩.৬২ শতাংশ,
- ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে: ১৩.১৪ শতাংশ,
- ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে: ১২.৫৬ শতাংশ,
- ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে: ১২.৫২ শতাংশ,
- ২০২০-২০২১ অর্থবছরে: ১২.০৭ শতাংশ,
- ২০২১-২০২২ অর্থবছরে: ১১.৫০ শতাংশ।
- ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে: ১১.২০ শতাংশ।
- ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে: ১১.০২ শতাংশ।

উৎস: BBS ও অর্থ মন্ত্রণালয়।
৪২.
সয়াবিন ফসলে কোন পোকার আক্রমন বেশি দেখা যায়?
  1. বিছাপোকা
  2. কাটালে পোকা
  3. লেদা পোকা
  4. গান্ধী পোকা
ব্যাখ্যা
• সয়াবিন ফসল:
 সয়াবিনের ইংরেজি নাম হলো Soybean এবং বৈজ্ঞানিক নাম হলো Glycine max.
- এ ফসল খুব বেশি বা খুব কম তাপমাত্রা কোনটিই সহ্য করতে পারে না।
- দোআঁশ, বেলে দোআঁশ ও এটেল দোআঁশ মাটি সয়াবিন চাষের জন্য উত্তম।
- ব্রাগ, ডেভিস, সোহাগ ইত্যাদি এর অনুমোদিত জাত।
- সয়াবিন ফসলে বিছাপোকা ও কান্ডের মাছি পোকার আক্রমণ দেখা যায়।
- বিছাপোকার মথের ডিম ফোটার পর প্রথম অবস্থায় শুককীটগুলো দলবদ্ধভাবে পাতার নিচের দিকে অবস্থান করে এবং পাতা খেয়ে ঝাঁঝড়া করে ফেলে।
- এ অবস্থায় আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে বিছাপোকা মেরে ফেলতে হয়।
- কান্ডের মাছি পোকা কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের নরম অংশ খায়।
- সেজন্য আক্রান্ত অংশ বা সম্পূর্ণ গাছ মরে যায়।
- অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করে উভয় পোকাই দমন করা সম্ভব।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
কৃষি চুন কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ক্যালসিয়াম ফসফেট
ব্যাখ্যা
• কৃষিতে চুন:
- চুন শব্দটির অর্থ বিভিন্নভাবে প্রকাশ করা হয়।
- রসায়ন বিদ্যায় ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে চুন বলে।
- কিন্তু কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ করে, একজন কৃষক বা একজন মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে কৃষি চুন বুঝেন এবং ৯০% এর বেশি ক্যালসিয়াম কার্বনেট কৃষি চুন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- জমিতে ব্যবহৃত চুন জাতীয় পদার্থগুলো নিম্নরূপ-
১) ক্যালসিক চুনাপাথর বা গুঁড়ো চুনাপাথর। 
২) ডলোমাইট চুনা পাথর। 
৩) কুইক লাইম। 
৪) কলিচুন। 
৫) চক (নরম চুনাপাথর থেকে হয়)। 
৬) বেসিক পাগ। 
৭) কোরাল খোসা লাইম। 
৮) কাঠের ছাই, ঝিনুক চূর্ণ ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
সিইসি (ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতা) এর একক কোনটি?
  1. গ্রাম/সিসি
  2. পাউন্ড/সেমি
  3. মি.গ্রাম/মিটার
  4. মিলি তুল্যাংক/১০০ গ্রাম মাটি
ব্যাখ্যা
• ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতা (সিইসি):
- নির্দিষ্ট পরিমাণ (১০ অথবা ২০ গ্রাম) মৃত্তিকার সঙ্গে এমোনিয়াম (NH4+), পটাসিয়াম (K+), বেরিয়াম (Ba++) বা ক্যালসিয়াম (Ca+) লবণের জলীয় দ্রবণ পর্যায়ক্রমে কয়েকবার বিক্রিয়া করালে মৃত্তিকার ক্যাটায়নগুলো প্রতিস্থাপিত হয়ে যথাক্রমে NH4+, K+, Ba++ ও Ca++এর দ্বারা মাটি সম্পৃক্ত হয়।
- দ্রবণে অবস্থিত মুক্ত আয়ন পানিতে ধুয়ে সরিয়ে নিয়ে যে কোন ক্যাটায়ন সম্পৃক্ত মাটি থেকে বিনিময় পদ্ধতিতে পুণরায় মাটিতে আবদ্ধ অবস্থা থেকে দ্রবণীয় অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব।
- তবে H+ আয়ন ব্যবহার করা সবচেয়ে উত্তম।
- বিনিময় দ্বারা মুক্ত ক্যাটায়নের পরিমাণ জানলে অতি সহেজই মৃত্তিকা ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতা হিসাব করা সম্ভব।
- ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতার ইউনিট হচ্ছে ১০০ গ্রাম মাটিতে মিলিইকুইভ্যালেন্ট (সব/১০০ম) বা মিলি তুল্যাংক।

উৎস: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
কোন পোকার আক্রমণে শীষ বের হবার পূর্বে হলে 'ডেডহার্ট' এবং শীষ আসার সময় হলে 'হোয়াইট হেড' লক্ষণ প্রকাশ পায়?
  1. পামরি পোকা
  2. মাজরা পোকা
  3. গলমাছি
  4. বাদামি গাছ ফড়িং
ব্যাখ্যা
• মাজরা পোকা (Stem borer):

• ক্ষতির লক্ষণ:
- মাজরা পোকার মথ ধানের পাতায় ডিম পাড়ে।
- ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে কান্ড ছিদ্র করে ভিতরে ঢুকে কান্ডের নীচের দিকে কেটে দেয়।
- আক্রমন শীষ বের হবার পূর্বে হলে 'ডেডহার্ট' এবং শীষ আসার সময় হলে 'হোয়াইট হেড' লক্ষণ প্রকাশ করে।

• দমন ব্যবস্থা:
১) ডিমের গাদা সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলা।
২) আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে মথ সংগ্রহ করে মেরে ফেলা।
৩) জমিতে ডালপালা পুঁতে পাখি বসবার ব্যবস্থা করা।
৪) জমিতে ১০-১৫% মরা ডগা অথবা শতকরা ৫% সাদা শীষ দেখা গেলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
৫) মাজরা পোকা প্রতিরোধী জাত যেমন বিআর-১, বিআর-১০, বিআর-১১, বিআর-২২, ব্রিশাইল ইত্যাদি চাষ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।