পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৭ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ৮ টপিক: প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, শব্দ। [লাইভ ক্লাস – ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
কোনটিতে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পশ্বধম
  2. অদ্যাবধি
  3. শীতাতপ
  4. দুরাবস্থা
সঠিক উত্তর:
দুরাবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরাবস্থা
ব্যাখ্যা
• 'দুরাবস্থা' সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ - দুরবস্থা।

- এর সন্ধি:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, বাংলা শব্দভাণ্ডারে কত শতাংশ তৎসম শব্দ রয়েছে?
  1. ৬০% শব্দ
  2. ২৫% শব্দ
  3. ৫% শব্দ
  4. ২০% শব্দ
সঠিক উত্তর:
২৫% শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫% শব্দ
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে,
বাংলা ভাষায়,
• ২৫% শব্দ - তৎসম,
• ৫% শব্দ অর্ধ-তৎসম,
• ৬০% শব্দ - তদ্ভব,
• ৮% শব্দ - বিদেশি,
• এবং মাত্র ২% শব্দ - দেশি।

• তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরভিমান
  2. অহর্নিশ
  3. উপরোক্ত
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
ব্যাখ্যা
• 'উপরোক্ত' শব্দের শুদ্ধরূপ - উপর্যুক্ত / উপরিউক্ত।
- এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

অন্যদিকে,
নিরভিমান; অহর্নিশ; নির্দোষ - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
বাংলা ভাষার কোন শব্দসমূহ অনার্য জাতির ভাষা থেকে এসেছে?
  1. তৎসম শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. বিদেশি শব্দ
  4. দেশি শব্দ
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়। অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।

দেশি শব্দের উদাহরণ- পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
কোনটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রাতঃরাশ
  2. অধীনস্ত
  3. বিলাসবহুল
  4. সৌন্দর্যতা
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
ব্যাখ্যা
• 'বিলাসবহুল' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - আমোদ-প্রমোদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাযুক্ত।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
• সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
• অধীনস্ত - অধীন,
• প্রাতঃরাশ - প্রাতরাশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি দেশি শব্দ নয়?
  1. ডাব
  2. টোপর
  3. পেট
  4. টানাটানি
সঠিক উত্তর:
টানাটানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টানাটানি
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: চিকচিক, পেট, ডাব, টোপর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা শব্দ - টানাটানি, ঢাকাঢাকি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোন বাক্যটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়
  2. ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো।
  3. বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
  4. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে - ‘বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে’ বাক্যে।

• ‘ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়’ এবং ‘শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে ?’ বাক্য দুটিতে বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 

এদের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
শুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

অশুদ্ধ: ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো।
শুদ্ধ প্রয়োগ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।

অশুদ্ধ: ‘অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।’ - বাক্যে যথার্থ শব্দের প্রয়োগ না করার ভুল।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'গোলাম' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
গঠন অনুযায়ী শব্দ দুই প্রকার।
যথা:
১. মৌলিক,
২. সাধিত।

• মৌলিক শব্দ: 
যে শব্দকে আর ভাঙ্গা বা বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: লাল, গোলাপ, হাত, পা মৌলিক শব্দ। 

এখানে,
'গোলাম' - মৌলিক শব্দ।
‘গোলাম’ শব্দটি আর বিশ্লেষণ করা যায় না। এটি একক, অবিভক্ত অর্থ প্রকাশ করে। তাই এটি মৌলিক শব্দ।

• সাধিত শব্দ: 
যে শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন: পরিচালক, সম্পাদকীয়, গরমিল, নীলাকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
সমাস সাধিত শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. নিরহঙ্কারী
  2. অর্ধরাত্রি
  3. নীরোগী
  4. পিতৃহারা
সঠিক উত্তর:
পিতৃহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতৃহারা
ব্যাখ্যা
• 'পিতৃহারা' - শব্দটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
'অধ্যাদেশ’ কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. দেশি
  2. তৎসম
  3. তদ্ভব
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১.
নিচের কোন বাক্যে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  2. তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
  3. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  4. আমি অপমান হয়েছি।
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
===============
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
------------------ 
অন্য অপশনে, 
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
'ঘোড়া' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
ব্যাখ্যা
• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।

উদাহরণ:
হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. উৎপন্ন বৃদ্ধির জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়ােজন।
  2. সশঙ্কিত চিত্তে সে বলল।
  3. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  4. জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ ও ঘ) জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।
উত্তরপত্রের অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
------------------------ 

শুদ্ধ বাক্য:
• উৎপন্ন বৃদ্ধির জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়ােজন। - উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়ােজন।
• সশঙ্কিত চিত্তে সে বলল। - শঙ্কিত চিত্তে সে বলল।
• শুদ্ধ রূপ - বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
• শুদ্ধ রূপ - জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪.
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. প্রবীণ
  2. হস্তী
  3. পক্ষী
  4. রাজপুত
সঠিক উত্তর:
পক্ষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষী
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
চালক। এখানে গঠন এভাবে হয়েছে-'চল্' ধাতু 'অক' প্রত্যয়। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'যে চালায়'। আর 'চালক' কথাটির ব্যবহারিক অর্থও তাই।

এরূপ-
• পক্ষী =  পক্ষ+ ইন। অর্থ- যার পক্ষ বা ডানা আছে। 
• মিতালি = মিতা আলি। অর্থ- বন্ধুর ভাব।

এ ধরনের আরও উদাহরণ: কর্তা, নর্তক, দয়ালু, ধনী, ছেলেমি, লাজুক ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
• প্রবীণ; হস্তী - রুঢ়ি শব্দ।
• রাজপুত - যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫.
কোনটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. যুবরাজা
  2. বলিষ্ঠতর
  3. সময়কাল
  4. মহিমময়
সঠিক উত্তর:
মহিমময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিমময়
ব্যাখ্যা
• মহিমময় - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'মহিমময়' শব্দের অর্থ - মহিমাপূর্ণ।

অন্যদিকে,
• 'যুবরাজা', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: যুবরাজ।

• 'সময়কাল', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সময় / কাল।

• 'বলিষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বলিষ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
নিচের কোন শব্দটি বিদেশি?
  1. ডিঙা
  2. নাক
  3. চাবি
  4. বৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
চাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাবি
ব্যাখ্যা
• 'চাবি' — 'পর্তুগিজ' (বিদেশি ) ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• শব্দের অর্থ:
- তাল্য বন্ধ করা ও খোলার শলাকা,
- যন্ত্রাদি চালু বা বন্ধ করার কাঠিবিশেষ (গাড়ির চাবি)।

অন্যদিকে,
• ডিঙা - দেশি শব্দ।
• নাক - সংস্কৃত শব্দ।
• বৃক্ষ - সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭.
'উৎকর্ষতা' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সমাসজনিত
  2. সন্ধিজনিত
  3. বিভক্তিজনিত
  4. প্রত্যয়জনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• উৎকর্ষ এটি বিশেষ্য পদ,
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ। অর্থাৎ ‘উৎকর্ষতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
অর্থ অনুসারে 'পাঞ্জাবি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দের অর্থ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হলেও মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে যে শব্দের অর্থ বোঝা যায় না তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: হস্ত + ইন (যার হাত আছে) কিন্তু শব্দটি হাতি নামক একটি বিশেষ প্রাণীকে বোঝাচ্ছে। 

এমনিভাবে, 
• কুশ + অল- (কুশ আহরণকরে যে) কুশল কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ নিপুণ বা ভালো। 
• বাঁশ + ই- বাঁশি (বাঁশ দিয়ে তৈরি সব বস্তুকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বোঝাচ্ছে)।
• পাঞ্জাবি- বিশেষ ধরণের জামা; অথচ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পাঞ্জাবের লোক। 
• সন্দেশ - সংবাদ না বুঝিয়ে বিশেষ ধরনের। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।