পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়36 minutes
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬: বিষয় - গাণিতিক যুক্তি টপিক - পাটিগণিত [i) বাস্তব সংখ্যা, ভগ্নাংশ, ল.সা.গু ও গ.সা.গু, শতকরা, ii) সরল ও যৌগিক মুনাফা, লাভ-ক্ষতি, অংশীদারী হিসাব, অনুপাত ও সমানুপাত] এবং বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
১ থেকে ১০০ পর্যন্ত যেসব মৌলিক সংখ্যার একক স্থানে ৭আছে তাদের সমষ্টি কত?
  1. ১৯৪
  2. ২৭২
  3. ২২৭
  4. ৩২০
সঠিক উত্তর:
২৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭২
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত যেসব মৌলিক সংখ্যার একক স্থানে ৭আছে তাদের সমষ্টি কত?

সমাধান:
১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যাগুলো যাদের একক স্থানে ৭ আছে সেগুলো হলো,
৭, ১৭, ৩৭, ৪৭, ৬৭, ৯৭

∴ সমষ্টি = ৭ + ১৭ + ৩৭ + ৪৭ + ৬৭ + ৯৭ = ২৭২
.
২০০ এর ১৫% এর ৫০% = কত?
  1. ৩০
  2. ১৮
  3. ২৫
  4. ১৫
সঠিক উত্তর:
১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ২০০ এর ১৫% এর ৫০% = কত?

সমাধান:
২০০ এর ১৫% এর ৫০% = ২০০ × (১৫/১০০) × (৫০/১০০)
= ৩০ × (১/২)
= ১৫
.
২৪, ৩৬ এবং ৪৮ এর ল, সা, গু কত?
  1. ১২৪
  2. ১৫২
  3. ৮৮
  4. ১৪৪
সঠিক উত্তর:
১৪৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪৪
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ২৪, ৩৬ এবং ৪৮ এর ল, সা, গু কত?

সমাধান:
 সংখ্যাগুলোকে মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ করে পাই,
২৪ = ২ × ২ × ২ × ৩ 
৩৬ = ২ × ২ × ৩ × ৩
৪৮ = ২ × ২ × ২ × ২ × ৩

∴ ২৪, ৩৬ এবং ৪৮ এর ল, সা, গু = ২ × ২ × ২ × ২ × ৩ × ৩ = ১৪৪
.
A : B = ৫ : ৮ এবং B : C = ৬ : ৭ হলে, A : B : C = কত?
  1. ১৫ : ২৪ : ২৮
  2. ১৫ : ২০ : ২৬
  3. ৮ : ১৩ : ১৪
  4. ১৫ : ১২ : ২৮
সঠিক উত্তর:
১৫ : ২৪ : ২৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ : ২৪ : ২৮
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: A : B = ৫ : ৮ এবং B : C = ৬ : ৭ হলে, A : B : C = কত?

সমাধান:
A : B = (৫ × ৬) : (৮ × ৬) = ৩০ : ৪৮
B : C = (৬ × ৮) : (৭ × ৮) = ৪৮ : ৫৬

∴ A : B : C = ৩০ : ৪৮ : ৫৬ = ১৫ : ২৪ : ২৮
.
প্রশ্ন:
  1. ৫/৭
  2. ৭/১৮
  3. ১১/১৩
  4. ৭/৩০
সঠিক উত্তর:
৭/১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭/১৮
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন:

সমাধান:
.
একটি দ্রব্য ৬০০ টাকায় বিক্রয় করলে যত ক্ষতি হয়, ৭৫০ টাকায় বিক্রয় করলে তার চারগুণ লাভ হয়। দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য কত?
  1. ৬৭৫ টাকা
  2. ৬৫০ টাকা
  3. ৬৩৫ টাকা
  4. ৬৩০ টাকা
সঠিক উত্তর:
৬৩০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৩০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি দ্রব্য ৬০০ টাকায় বিক্রয় করলে যত ক্ষতি হয়, ৭৫০ টাকায় বিক্রয় করলে তার চারগুণ লাভ হয়। দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য কত?

সমাধান:
ধরি, দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য = x টাকা।

প্রশ্নানুসারে,
৬০০ টাকায় বিক্রয় করলে ক্ষতি = x - ৬০০
৭৫০ টাকায় বিক্রয় করলে লাভ = ৭৫০ - x 

প্রশ্নানুসারে,
⇒ ৭৫০ - x = ৪(x - ৬০০)
⇒ ৭৫০ - x = ৪x - ২৪০০
⇒ ৫x = ৩১৫০
⇒ x = ৩১৫০/৫
∴ x = ৬৩০

∴ দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য ৬৩০ টাকা।
.
(৮/১৫)​, (১২/২৫) এবং (১৬/৪৫)​ এর গ, সা, গু কত?
  1. ৪/২২৫
  2. ২/৭৫
  3. ৮/১২৫
  4. ৪/৮৫
সঠিক উত্তর:
৪/২২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪/২২৫
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: (৮/১৫)​, (১২/২৫) এবং (১৬/৪৫)​ এর গ, সা, গু কত?

সমাধান:
ভগ্নাংশের লব = ৮, ১২, ১৬
∴ লবগুলোর গ, সা, গু = ৪
এবং
ভগ্নাংশের হর = ১৫, ২৫, ৪৫
∴ হরগুলোর ল, সা, গু = ২২৫

আমরা জানি,
ভগ্নাংশের গ, সা, গু = লবগুলোর গ, সা, গু/হরগুলোর ল, সা, গু
= ৪/২২৫
.
একটি ব্যবসায় তিন বন্ধু (১/৪) : (১/৫) : (১/১০) অনুপাতে বিনিয়োগ করেছে। মোট মুনাফা ৩৩০০ টাকা হলে, তৃতীয় অংশীদারের প্রাপ্ত মুনাফা কত?
  1. ১৪০০ টাকা
  2. ৯০০ টাকা
  3. ১২০০ টাকা
  4. ৬০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
৬০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি ব্যবসায় তিন বন্ধু (১/৪) : (১/৫) : (১/১০) অনুপাতে বিনিয়োগ করেছে। মোট মুনাফা ৩৩০০ টাকা হলে, তৃতীয় অংশীদারের প্রাপ্ত মুনাফা কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
{(১/৪) × ২০} : {(১/৫) × ২০} : {(১/১০) × ২০} ; [২০ দ্বারা গুণ করে পাই]
= ৫ : ৪ : ২
এখন,
অনুপাতের যোগফল = ৫ + ৪ + ২ = ১১

∴ তৃতীয় অংশীদারের প্রাপ্ত মুনাফা = (২/১১) × ৩৩০০ = ৬০০ টাকা
.
৩১৩৬ এর বর্গমূল কত?
  1. ৩৮
  2. ৪৮
  3. ৫৬
  4. ৬৪
সঠিক উত্তর:
৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৩১৩৬ এর বর্গমূল কত?

সমাধান:
এখানে,
৩১৩৬ = ২ × ২ × ২ × ২ × ২ × ২ × ৭ × ৭
= (২ × ২) × (২ × ২) × (২ × ২) × (৭ × ৭)
প্রত্যেক জোড়া থেকে একটি নিয়ে পাই, ২ × ২ × ২ × ৭ = ৫৬

∴ ৩১৩৬ এর বর্গমূল = ৫৬
১০.
৬০০ টাকা দরে ৪ কেজি মিষ্টি ক্রয় করে ৫ টাকা হারে ভ্যাট দিলে মোট কত টাকা ভ্যাট দিতে হবে?
  1. ১৪৫ টাকা
  2. ১৪০ টাকা
  3. ৯০ টাকা
  4. ১২০ টাকা
সঠিক উত্তর:
১২০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৬০০ টাকা দরে ৪ কেজি মিষ্টি ক্রয় করে ৫ টাকা হারে ভ্যাট দিলে মোট কত টাকা ভ্যাট দিতে হবে?

সমাধান:
৪ কেজি মিষ্টির দাম = (৬০০ × ৪) টাকা = ২৪০০ টাকা

∴ ১০০ টাকায় ভ্যাট দিতে হবে = ৫ টাকা
∴ ১ টাকায় ভ্যাট দিতে হবে ৫/১০০ টাকা
∴ ২৪০০ টাকায় ভ্যাট দিতে হবে = (৫ × ২৪০০)/১০০ টাকা = ১২০ টাকা
১১.
দুইটি সংখ্যার গ, সা, গু ১২ এবং ল, সা, গু ২৪০। একটি সংখ্যা ৪৮ হলে, অপর সংখ্যাটি কত?
  1. ৬০
  2. ৫২
  3. ২৪
  4. ৩৬
সঠিক উত্তর:
৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুইটি সংখ্যার গ, সা, গু ১২ এবং ল, সা, গু ২৪০। একটি সংখ্যা ৪৮ হলে, অপর সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
একটি সংখ্যা × অপর সংখ্যা = ল, সা, গু × গ, সা, গু
⇒ ৪৮ × অপর সংখ্যা = ২৪০ × ১২
⇒ অপর সংখ্যা = ( ২৪০ × ১২)/৪৮
∴ অপর সংখ্যা = ৬০
১২.
কোন বৃহত্তম সংখ্যা দিয়ে ২১০ এবং ৩৫০ কে ভাগ করলে প্রত্যেকবার ১০ অবশিষ্ট থাকবে?
  1. ২১
  2. ১৫
  3. ২০
সঠিক উত্তর:
২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোন বৃহত্তম সংখ্যা দিয়ে ২১০ এবং ৩৫০ কে ভাগ করলে প্রত্যেকবার ১০ অবশিষ্ট থাকবে?

সমাধান:
২১০ এবং ৩৫০ কে যে সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে প্রত্যেকবার ১০ অবশিষ্ট থাকবে।
সেই সংখ্যা দিয়ে ২১০ - ১০ = ২০০ এবং ৩৫০ - ১০ = ৩৪০ কে ভাগ করলে অবশিষ্ট থাকবে না। -
অর্থাৎ বৃহত্তম সংখ্যাটি এমন হতে হবে যা দ্বারা ২০০ এবং ৩৪০ এর গ.সা.গু-এর সমান হয়।
২০০ এবং ৩৪০ এর গ.সা.গু = ২০
∴ নির্ণেয় বৃহত্তম সংখ্যা ২০।
১৩.
একটি বাঁশের ১/৪ অংশ কাঁদায়, ৩/৫ অংশ পানিতে এবং অবশিষ্ট ৬ মিটার পানির উপরে আছে। বাঁশটির দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৪০ মিটার
  2. ৪৫ মিটার
  3. ২৪ মিটার
  4. ৬০ মিটার
সঠিক উত্তর:
৪০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০ মিটার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বাঁশের ১/৪ অংশ কাঁদায়, ৩/৫অংশ পানিতে এবং অবশিষ্ট ৬ মিটার পানির উপরে আছে। বাঁশটির দৈর্ঘ্য কত?


সমাধান:

ধরি,
সম্পূর্ণ বাঁশটির দৈর্ঘ্য = ক মিটার

প্রশ্নমতে,
ক - (ক/৪) - (৩ক/৫) = ৬
⇒(২০ক - ৫ক - ১২ক)/২০ = ৬
⇒ ৩ক/২০ = ৬
⇒ ৩ক = ১২০
∴ ক = ৪০

সুতরাং সম্পূর্ণ বাঁশের দৈর্ঘ্য = ৪০ মিটার

১৪.
একজন বিক্রেতা দুইটি শার্ট প্রতিটি ১২০০ টাকায় বিক্রি করে। প্রথমটিতে ২০% লাভ এবং দ্বিতীয়টিতে ২০% ক্ষতি হয়। মোট লাভ বা ক্ষতির পরিমাণ কত?
  1. ক্ষতি ৮০ টাকা
  2. লাভ ১২০ টাকা
  3. ক্ষতি ১০০ টাকা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্ষতি ১০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষতি ১০০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একজন বিক্রেতা দুইটি শার্ট প্রতিটি ১২০০ টাকায় বিক্রি করে। প্রথমটিতে ২০% লাভ এবং দ্বিতীয়টিতে ২০% ক্ষতি হয়। মোট লাভ বা ক্ষতির পরিমাণ কত?

সমাধান:
মনেকরি,
ক্রয়মূল্য = ১০০ টাকা
প্রথম শার্ট:
বিক্রয়মূল্য = ১২০০ টাকা,
২০% লাভে বিক্রয়মূল্য = ১০০ + ২০ = ১২০ টাকা

বিক্রয়মূল্য ১২০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = ১০০ টাকা
বিক্রয়মূল্য ১ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = ১০০/১২০ টাকা
বিক্রয়মূল্য ১২০০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = (১০০ × ১২০০)/১২০ = ১০০০ টাকা

আবার,
বিক্রয়মূল্য = ১২০০ টাকা,
২০% ক্ষতিতে বিক্রয়মূল্য = ১০০ - ২০ = ৮০ টাকা

বিক্রয়মূল্য ৮০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = ১০০ টাকা
বিক্রয়মূল্য ১ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = ১০০/৮০ টাকা
বিক্রয়মূল্য ১২০০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = (১০০ × ১২০০)/৮০ = ১৫০০ টাকা

∴ মোট ক্রয়মূল্য = ১০০০ + ১৫০০ = ২৫০০ টাকা
∴ মোট বিক্রয়মূল্য = ১২০০ + ১২০০ = ২৪০০ টাকা

∴ ক্ষতি = ২৫০০ - ২৪০০ = ১০০ টাকা
১৫.
একটি বাক্সে ৫০ টি কয়েন আছে, যার মধ্যে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার কয়েনের অনুপাত ২ : ৩ : ৫। মোট টাকার পরিমাণ কত?
  1. ১৬৫ টাকা
  2. ১৭৫ টাকা
  3. ১৩০ টাকা
  4. ২৫০ টাকা
সঠিক উত্তর:
১৬৫ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৫ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বাক্সে ৫০ টি কয়েন আছে, যার মধ্যে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার কয়েনের অনুপাত ২ : ৩ : ৫। মোট টাকার পরিমাণ কত?

সমাধান:
অনুপাতের যোগফল = ২ + ৩ + ৫ = ১০
১ টাকার কয়েন সংখ্যা = (২/১০) × ৫০ = ১০ টি
২ টাকার কয়েন সংখ্যা = (৩/১০) × ৫০ = ১৫ টি
৫ টাকার কয়েন সংখ্যা = (৫/১০) × ৫০ = ২৫ টি

∴ মোট টাকা = (১০ × ১) + (১৫ × ২) + (২৫ × ৫)
= ১০ + ৩০ + ১২৫
= ১৬৫ টাকা
 
১৬.
রাকিব তার বন্ধুর সঙ্গে ব্যবসার শেয়ার থেকে ৮ মাসে ২০০০ টাকা মুনাফা পেল। মুনাফার হার ৮% হলে, ঐ ব্যবসায় রাকিবের মূলধন কত?
  1. ২৮৭০০ টাকা
  2. ৩৭৫০০ টাকা
  3. ৩২৪৫০ টাকা
  4. ৪২৫০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
৩৭৫০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: রাকিব তার বন্ধুর সঙ্গে ব্যবসার শেয়ার থেকে ৮ মাসে ২০০০ টাকা মুনাফা পেল। মুনাফার হার ৮% হলে, ঐ ব্যবসায় রাকিবের মূলধন কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
মুনাফা, I = ২০০০ টাকা
সময়, n = ৮ মাস = ৮/১২ বছর
= ২/৩ বছর
মুনাফার হার, r = ৮% = ৮/১০০ টাকা
= ২/২৫ টাকা

আমরা জানি,
I = Prn
⇒ P = I/rn
= ২০০০/{(২/২৫)(২/৩)}
= ২০০০/(৪/৭৫)
= (২০০০ × ৭৫)/৪
= ৩৭৫০০
১৭.
দুইটি রাশির অনুপাত ৮ : ১৫। পূর্ব রাশি ৪৮ হলে, উত্তর রাশি কত?
  1. ৭৫
  2. ৬০
  3. ৮০
  4. ৯০
সঠিক উত্তর:
৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুইটি রাশির অনুপাত ৮ : ১৫। পূর্ব রাশি ৪৮ হলে, উত্তর রাশি কত?

সমাধান:
পূর্ব রাশি : উত্তর রাশি
= ৮ : ১৫
= (৮ × ৬) : (১৫ × ৬)
= ৪৮ : ৯০

∴ উত্তর রাশি = ৯০
১৮.
যদি চিনির মূল্য ২৫% হ্রাস পায় তবে চিনির ব্যবহার শতকরা কত বাড়ালে চিনি বাবদ ব্যয় সমান থাকবে?
  1. ৩০.৩৩%
  2. ৩৩.৩৩%
  3. ২৫.২৫%
  4. ৩৫.৫০%
সঠিক উত্তর:
৩৩.৩৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩.৩৩%
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি চিনির মূল্য ২৫% হ্রাস পায় তবে চিনির ব্যবহার শতকরা কত বাড়ালে চিনি বাবদ ব্যয় সমান থাকবে?

সমাধান:
২৫% হ্রাসে, চালের বর্তমান মূল্য = (১০০ - ২৫) = ৭৫ টাকা

৭৫ টাকায় ব্যবহার বাড়াতে হবে = ২৫ টাকা
১ টাকায় ব্যবহার বাড়াতে হবে = ২৫/৭৫ টাকা
∴ ১০০ টাকায় ব্যবহার বাড়াতে হবে (২৫ × ১০০)/৭৫ টাকা
= ১০০/৩ = ৩৩.৩৩ টাকা
১৯.
একটি সংখ্যা ৬২০ থেকে যত বেশি, ৭৮০ থেকে তত ছোট। সংখ্যাটি কত?
  1. ৭০০
  2. ৬৮০
  3. ৭১০
  4. ৭২৫
সঠিক উত্তর:
৭০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি সংখ্যা ৬২০ থেকে যত বেশি, ৭৮০ থেকে তত ছোট। সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
সংখ্যাটি = সংখ্যা দুইটির সমষ্টি/২
= (৬২০ + ৭৮০)/২
= ১৪০০/২
= ৭০০
২০.
আসিফের বোনের বয়স, আসিফ ও তাঁর বাবার বয়সের মধ্য-সমানুপাতী। আসিফের বয়স ৮ বছর, বাবার বয়স ৩২ বছর হলে বোনের বয়স কত?
  1. ১৮ বয়স
  2. ২০ বয়স
  3. ১২ বয়স
  4. ১৬ বয়স
সঠিক উত্তর:
১৬ বয়স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ বয়স
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: আসিফের বোনের বয়স, আসিফ ও তাঁর বাবার বয়সের মধ্য-সমানুপাতী। আসিফের বয়স ৮ বছর, বাবার বয়স ৩২ বছর হলে বোনের বয়স কত?

সমাধান:
ধরি,
আসিফের বয়স, ক = ৮ বছর
আসিফের বোনের বয়স = খ বছর
আসিফের বাবার বয়স, গ = ৩২ বছর

সমানুপাতীর সূত্রানুসারে
ক : খ = খ : গ
⇒ ক/খ = খ/গ
⇒ খ = ক × গ
⇒ খ = (৮ × ৩২)
⇒ খ = ২৫৬
⇒ খ = √২৫৬
∴ খ = ১৬

∴ তাঁর বোনের বয়স = ১৬ বয়স
২১.
কোন সংখ্যার ৪০% থেকে ২৫ বিয়োগ করলে বিয়োগফল ৩৫। সংখ্যাটি কত?
  1. ১৩০
  2. ১৫০
  3. ৯০
  4. ১৮০
সঠিক উত্তর:
১৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোন সংখ্যার ৪০% থেকে ২৫ বিয়োগ করলে বিয়োগফল ৩৫। সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
ধরি,
সংখ্যাটি ক

প্রশ্নমতে,
(ক এর ৪০%) - ২৫ = ৩৫
⇒ (ক এর ৪০/১০০) = ৩৫ + ২৫
⇒ ২ক/৫ = ৬০
⇒ ২ক = ৩০০
⇒ ক = ৩০০ ÷ ২
∴ ক = ১৫০
২২.
বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা হার চক্রবৃদ্ধি মুনাফায় ১২০০০ টাকার ২ বছরের চক্রবৃদ্ধি মুনাফা কত?
  1. ২৪৪০ টাকা
  2. ১৮৭৫ টাকা
  3. ২৫২০ টাকা
  4. ২০২৫ টাকা
সঠিক উত্তর:
২৫২০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫২০ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা হার চক্রবৃদ্ধি মুনাফায় ১২০০০ টাকার ২ বছরের চক্রবৃদ্ধি মুনাফা কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
মূলধন, P = ১২০০০ টাকা
সময়, n = ২ বছর
সুদের হার, r = ১০/১০০ = ১/১০

আমরা জানি,
চক্রবৃদ্ধি মুনাফা = P(1 + r)n - P
= ১২০০০{১ + (১/১০)} - ১২০০০
= ১২০০০ × (১১/১০) - ১২০০০
= ১২০০০ × (১.১) - ১২০০০
= ১৪৫২০ - ১২০০০
= ২৫২০ টাকা
২৩.
দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর ১৮৯ হলে বড় সংখ্যাটি কত?
  1. ৯৫
  2. ৮৫
  3. ৭২
  4. ৯৭
সঠিক উত্তর:
৯৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর ১৮৯ হলে বড় সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
ধরি, সংখ্যা দুইটি x এবং x + ১

প্রশ্নমতে,
(x + ১) - x = ১৮৯
⇒ x + ২x + ১ - x = ১৮৯
⇒ ২x = ১৮৯ - ১
⇒ ২x = ১৮৮
∴ x = ৯৪

∴ বড় সংখ্যাটি = x + ১ = ৯৪ + ১ = ৯৫
২৪.
শশাঙ্কের সময়ে গৌড়ের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. সুবর্ণগ্রাম
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. কর্ণাটক
  4. কোটিবর্ষ
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৫.
বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. বখতিয়ার খলজি
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজাবাদের সিংহাসন অধিকারের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন।
- সোনারগাঁ ও সাতগাঁও তখনও তাঁর শাসনের বাইরে ছিল।
- ইলিয়াস শাহের স্বপ্ন ছিল সমগ্র বাংলার অধিপতি হওয়া। 
- ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সাতগাঁও তাঁর অধিকারে আসে।
- ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করে বহু ধনরত্ন হস্তগত করেন। 
- ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ে ইলিয়াস শাহের হাতে পরাজিত হন।
- সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সূচনা করলেও প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৬.
জব চার্নক কত সালে কোলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন?
  1. ১৬৫০ সালে
  2. ১৬৯০ সালে
  3. ১৭০০ সালে 
  4. ১৭২৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৯০ সালে
ব্যাখ্যা
কোলকাতা নগরী ও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ: 
- জব চার্নক নামে একজন ইংরেজ ১৬৯০ সালে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কোলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন
- ভাগীরথী নদীর তীরের এই তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে কোলকাতা নগরীর জন্ম হয়। 
- এখানেই কোম্পানি ১৭০০ সালে ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নাম অনুসারে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে।
- ধীরে ধীরে এটি ইংরেজদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা এবং রাজনৈতিক স্বার্থ বিস্তারের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৭.
হুসেন শাহি আমলের সূচনা হয় কত সালে?
  1. ১৪৯৩ সালে
  2. ১৫৩৮ সালে
  3. ১৪৫২ সালে
  4. ১৩৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৪৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
হুসেন শাহি বংশ: 
- হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন সৈয়দ হুসেন।
- সুলতান হয়ে তিনি 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বাংলায় 'হুসেন শাহি বংশ' নামে এক নতুন বংশের শাসনপর্ব শুরু হয়।
- বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে হুসেন শাহি আমল (১৪৯৩-১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) ছিল নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ।
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের প্রধান সুলতান।
- পিতা সৈয়দ আশরাফ-আল-হুসাইনি ও ভাই ইউসুফের সাথে তিনি তুর্কিস্তানের তিরমিজ শহর থেকে বাংলায় আসেন এবং রাঢ়ের চাঁদপাড়া গ্রামে প্রথমে বসবাস শুরু করেন।
- হুসেন শাহ পরে রাজধানী গৌড়ে যান এবং মুজাফফর শাহের অধীনে চাকরি লাভ করেন।
- পরে তিনি উজির হন। এভাবেই তিনি বাংলার ক্ষমতায় আসেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮.
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন কে?
  1. মীর মদন
  2. মোহন লাল
  3. সিন ফ্রে
  4. সকলেই 
সঠিক উত্তর:
সকলেই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকলেই 
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধের ঘটনা: 
- পলাশীর যুদ্ধ বাংলা তথা এ উপমহাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা।
- ১৭৫৭সালের ২৩শে জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির আমবাগানে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ইতোমধ্যে রবার্ট ক্লাইভ তার অবস্থান সুদৃঢ় করে সন্ধি ভঙ্গের অজুহাতে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- যুদ্ধে মীর মদন নিহত হন।
- নবাবের বিজয় আসন্ন জেনে মীর জাফর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়।
- মীর মদনের মৃত্যু ও মীর জাফরের অসহযোগিতা নবাবকে বিচলিত করে।
- নবাবের সেনাপতি মীর জাফর যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অসহযোগিতা করে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। 
- নবাবের সৈন্যরা যখন বিশ্রাম নিচ্ছে, সেই সময় মীর জাফরের ইঙ্গিতে ইংরেজ সৈন্যরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- যার অনিবার্য পরিণতি নবাবের পরাজয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৯.
কোন মুঘল সম্রাটের সময়ে বারোভূঁইয়াদের দমন করা হয়?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
আফগান শাসন ও বারোভূঁইয়া (১৫৩৮-১৫৭৬ সাল): 
- ১৫৩৮ সালে আরব এবং পারস্যের অভিজাত মুসলমানদের হাতে প্রতিষ্ঠিত বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান হলে বাংলাকে একে একে অন্যান্য বিদেশি শক্তিসমূহ গ্রাস করতে থাকে।
- মুঘল সম্রাট হুমায়ুন অল্প কিছুকাল বাংলার রাজধানীর ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আফগান নেতা শের শাহের কাছে পরাজয় মানতে হয়।
- বাংলা ও বিহার সরাসরি চলে আসে আফগানদের নিয়ন্ত্রণে।
- আফগানদের দুই শাখা-শূর আফগান ও কররানি আফগানরা বেশ কিছুকাল বাংলা শাসন করেন।
- শেষ পর্যন্ত মুঘল সম্রাট আকবর আফগানদের হাত থেকে বাংলার ক্ষমতা কেড়ে নেন।
- অবশ্য রাজধানী দখল করলেও মুঘলরা বাংলার অভ্যন্তরে অনেক দিন পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।
- এ সময় বাংলায় অনেক বড় বড় স্বাধীন জমিদার ছিলেন।
- 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত এ সকল জমিদার মুঘলদের অধিকার মেনে নেননি।
- সম্রাট আকবরের সময় মুঘল সুবাদারগণ 'বারোভূঁইয়া'দের দমন করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি।
- 'বারোভূঁইয়া'দের দমন করা হয় সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩০.
কার রাজত্বকালে বাংলার উত্তরাংশে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. সম্রাট বিন্দুসার 
  2. সম্রাট অশোক
  3. সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোক
ব্যাখ্যা
মৌর্য বংশের শাসন: 
- আলেকজান্ডারের ভারত প্রত্যাগমনের মাত্র দুই বছর পর ৩২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর মৌর্য বংশের শাসন চালু করেন।
- বাংলার উত্তরাংশে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (২৬৯-২৩২ খ্রিষ্টপূর্ব)।
- বাংলা তখন মৌর্যদের একটি প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।
- প্রাচীন পুণ্ড্রনগর ছিল এ প্রদেশের রাজধানী।
- উত্তর বঙ্গ ছাড়াও মৌর্য শাসন কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ), তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের তমলুক জেলা) ও সমতট (দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা) অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মৌর্যরাই ছিল ভারতের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩১.
শেরশাহ হুমায়ুনকে কোন যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন?
  1. চৌসার যুদ্ধ
  2. হলদিয়ার যুদ্ধ
  3. বিলগ্রামের যুদ্ধ
  4. উদয়নালার যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বিলগ্রামের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলগ্রামের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
আফগান বংশের শাসন: 
- গঙ্গা নদীর তীরে চৌসা নামক স্থানে হুমায়ুন পৌঁছালে শের খান তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
- অপ্রস্তুত হুমায়ুন পরাজিত হন (১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দ)।
- মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে শের খান 'শেরশাহ' উপাধি নেন।
- তিনি নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৫৪০ সালে মুঘল শাসনকর্তা আলী কুলিকে পরাজিত করে তিনি বাংলা দখল করেন।
- এ বছরই তিনি হুমায়ুনকে কনৌজের নিকট বিলগ্রামের যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।
- এভাবে দীর্ঘদিন পর বাংলা আবার দিল্লির শাসনে চলে আসে।
- চট্টগ্রাম ও সিলেট পর্যন্ত সমগ্র বাংলা অঞ্চল শেরশাহের সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- শেরশাহ আফগান শূর বংশের ছিলেন বলে এ সময়ের বাংলার শাসন ছিল শূর আফগান বংশের শাসন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩২.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড হেস্টিংস 
  3. লর্ড বেন্টিংক 
  4. লর্ড ডালহৌসি 
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত: 
- কোম্পানির শাসন দুর্নীতিমুক্ত ও সুসংগঠিত করতে ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়।
- তিনি ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- ঐ বছর ২২শে মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৩.
গুপ্ত শাসনের অবসানের পর বাংলায় কোন স্বাধীন রাজ্যের সৃষ্টি হয়?
  1. বঙ্গ
  2. রাঢ় 
  3. গৌড়
  4. ক ও গ উভয়ই 
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই 
ব্যাখ্যা
গুপ্ত পরবর্তী বাংলা: 
- ষষ্ঠ শতকের প্রথমার্ধেই বিভিন্ন যোদ্ধা জাতির সঙ্গে সংঘাত ও সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে গুপ্ত শাসনের অবসান ঘটে।
- সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের পর সারা উত্তর ভারতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশের উদ্ভব হয়।
- এই সুযোগে বাংলায় দুইটি স্বাধীন রাজ্যের সৃষ্টি হয়।
- এর একটি হলো বঙ্গ। দ্বিতীয় রাজ্যের নাম গৌড়। 
- বঙ্গের অবস্থান দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম-বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে।
- গৌড়ের অবস্থান ছিল বাংলার পশ্চিম ও উত্তর বাংলা নিয়ে।
- এ গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ যা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৪.
প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা কে ছিলেন?
  1. ঈসা খান
  2. দাউদ কররানি
  3. কেদার রায়
  4. চাঁদ রায়
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
ব্যাখ্যা
বারোভূঁইয়াদের ইতিহাস: 
- সম্রাট আকবর সমগ্র বাংলার ওপর তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
- বাংলার বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি।
- জমিদারগণ তাঁদের নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন। তাঁদের শক্তিশালী সৈন্য বাহিনী ও নৌবহর ছিল।
- স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তাঁরা একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।
- বাংলার ইতিহাসে এ জমিদারগণ 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত।
- এ 'বারো' বলতে বারোজনের সংখ্যা বোঝায় না।
- ধারণা করা হয় অনির্দিষ্ট সংখ্যক বড় বড় 'ভূঁইয়া' বা জমিদারদের বোঝাতেই 'বড়' থেকে 'বারো' শব্দটি প্রচলিত হয়েছে।
- প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
- হুসেন শাহি বংশের অবসান হলে ঈসা খানের পিতা সোলায়মান খান সোনারগাঁ অঞ্চলে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।
- খিজিরপুর দুর্গ ছিল তাঁর শক্তির প্রধান কেন্দ্র।
- সোনারগাঁ ও খিজিরপুরের নিকটবর্তী কারাবু তাঁর রাজধানী ছিল।
- দাউদ কররানির পতনের পর তিনি সোনারগাঁয়ে রাজধানী স্থাপন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৫.
'বিক্রমশীল' কার উপাধি ছিল?
  1. গোপাল 
  2. ধর্মপাল 
  3. রামপাল 
  4. মহীপাল 
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল 
ব্যাখ্যা
ধর্মপাল: 
- ধর্মপাল প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্ব করেন।
- ধর্মপাল ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি পরমেশ্বর, পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন।
- ভাগলপুরের পূর্ব দিকে তিনি একটি বৌদ্ধ বিহার বা মঠ নির্মাণ করেন।
- ধর্মপালের দ্বিতীয় নাম বা উপাধি ছিল 'বিক্রমশীল'।
- এ নামানুসারে বিহারটি 'বিক্রমশীল বিহার' নামে খ্যাত ছিল।
- নালন্দার মতো বিক্রমশীল বিহার বাংলা ও ভারতবর্ষের সর্বত্র ও বাইরে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।
- নবম শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত এটি সমগ্র ভারতবর্ষের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- তিব্বতের অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু এখানে অধ্যয়ন করতে আসত এবং এখানকার অনেক প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ আচার্য তিব্বতে বিশুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৬.
শায়েস্তা খানের আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্ম কোনটি?
  1. ছোট কাটরা
  2. হোসেনী দালান
  3. চক মসজিদ
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা
শায়েস্তা খানের স্থাপত্য কর্ম: 
- শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
- বিচিত্র সৌধমালা, মনোরম সাজে সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরী স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের সাক্ষ্য বহন করে।
- স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা যায়।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির মাজার, হোসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- অন্য কোনো সুবাদার বা শাসনকর্তা ঢাকায় শায়েস্তা খানের মতো নিজের স্মৃতিকে এত বেশি নবাবি আমলে রেখে যেতে পারেননি।
- বস্তুত ঢাকা ছিল শায়েস্তা খানের নগরী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৭.
'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. মধুসূদন দত্ত 
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. হেনরি লুই ডিরোজিও
  4. উইলিয়াম কেরী 
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট: 
- হেনরি লুই ডিরোজিও ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কোলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি। ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল।
- তিনি ছিলেন বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা।
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর দূরদৃষ্টি, বাগ্মিতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা তৎকালীন তরুণ সমাজকে ব্যাপক প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৮.
চন্দ্র বংশ বাংলার কোন অংশের স্বাধীন রাজবংশ ছিল?
  1. উত্তর-পশ্চিম বাংলা 
  2. দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
  3. উত্তর-পূর্ব বাংলা
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলা
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
ব্যাখ্যা
চন্দ্র বংশ:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি স্বাধীন রাজবংশ ছিল চন্দ্র বংশ। 
- দশম শতকের শুরু থেকে এগারো শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত দেড়শ' বছর এ বংশের রাজারা শাসন করেন।
- চন্দ্রবংশের প্রথম নৃপতি পূর্ণচন্দ্র ও তার পুত্র সুবর্ণচন্দ্র রোহিতগিরির ভূস্বামী ছিলেন।
- সুবর্ণচন্দ্রের পুত্র ত্রৈলোক্যচন্দ্রই এ বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার উপাধি ছিল 'মহারাজাধিরাজ'।
- ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা), বঙ্গ ও সমতট অর্থাৎ সমগ্র পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- লালমাইয়ের পাহাড়ি এলাকা ছিল চন্দ্র রাজাদের শাসন কেন্দ্র।
- এ পাহাড় প্রাচীনকালে রোহিতগিরি নামে পরিচিত ছিল।
- আনুমানিক ত্রিশ বছরকাল (৯০০-৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ) ত্রৈলোক্যচন্দ্র রাজত্ব করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৯.
কার সময় থেকে বাংলা সুবা প্রায় স্বাধীন হয়ে পড়ে?
  1. শায়েস্তা খান 
  2. আলিবর্দি খান 
  3. সুজাউদ্দিন খান
  4. মুর্শিদ কুলি খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা
নবাব মুর্শিদ কুলি খান: 
- নবাব মুর্শিদ কুলি খানের সময় থেকেই বাংলা সুবা প্রায় স্বাধীন হয়ে পড়ে।
- এ সময় সুবাকে বলা হতো 'নিজামত' আর সুবাদারের বদলে পদবি হয় 'নাজিম'।
- নাজিম পদটি হয়ে পড়ে বংশগত। সুবাদার বা নাজিমগণ বাংলার সিংহাসনে বসে মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে শুধু একটি অনুমোদন নিয়ে নিতেন।
- তাই আঠারো শতকের বাংলায় মুঘল শাসনের ইতিহাস নিজামত বা নবাবি আমলরূপে পরিচিত।
- আর প্রায় স্বাধীন শাসকগণ পরিচিত হন 'নবাব' হিসেবে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪০.
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৬ সালে
  2. ১৭৫৭ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম: 
- পলাশি যুদ্ধের এক'শ বছর পর ১৮৫৭ সালে ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহিদের নেতৃত্বে যে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিকভাবে হেয় করা, সর্বোপরি ভারতীয় সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এসবই এই সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
- বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪১.
বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী ছিল কোনটি?
  1. বিজয়পুর
  2. বিক্রমপুর
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. কোটিবর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিজয়পুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়পুর
ব্যাখ্যা
বিজয় সেন: 
- হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ) সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তার এই সুদীর্ঘ রাজত্বকালেই সেন বংশের শাসন স্বাধীন ও শক্তিশালী ভিত্তির উপর সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- কৈবর্ত্য বিদ্রোহের সময় তিনি রামপালকে সাহায্য করেন।
- বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান।
- আবার দক্ষিণ রাঢ়ের শুর বংশের সঙ্গে বৈবাহিক আত্মীয়তার সুত্র ধরে রাঢ় বিজয় সেনের অধিকারে আসে।
- এরপর বিজয় সেন বর্ম রাজাকে পরাজিত করে পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলা সেন অধিকারে নিয়ে আসেন।
- শেষ পাল রাজাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিজয় সেন মদনপালকে পরাজিত করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলা থেকে পালদের বিতাড়িত করে নিজ কর্তৃত্ব স্থাপন করেন।
- এরপর তিনি কামরূপ, কলিঙ্গ ও মিথিলা আক্রমণ করেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুর ছিল বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী।
- দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করা হয় বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে।
- শিব অনুরাগী বিজয় সেন পরম মহেশ্বর, পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ অরিরাজ-বৃষভ-শঙ্কর প্রভৃতি উপাধি গ্রহণ করেন।
- সেন বংশের অধীনেই সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলা দীর্ঘকালব্যাপী একক রাজার অধীনে ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪২.
১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন কে?
  1. লর্ড কার্জন
  2. ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫-১৯১১ সাল): 
- হিন্দুদের বড়ো অংশ বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে এবং মুসলমানদের বড়ো অংশ বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে। 
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি। 
- প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়।
- সে বছর অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
- এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ।
- প্রদেশের রাজধানী হর ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।