পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: বাংলা সাহিত্য পরীক্ষার টপিক: ১. গুরুত্বপূর্ণ উক্তি/সংলাপ/চরিত্র (সকল যুগের) ২. ছদ্মনাম ৩. প্রবাদ-প্রবচন, ৪. ছন্দ/অলঙ্কার।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
'রাজ শেখর বসু' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম -
  1.  লীলাময় রায়
  2. পরশুরাম
  3. কালকূট
  4. নীহারিকা দেবী
সঠিক উত্তর:
পরশুরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরশুরাম
ব্যাখ্যা

• 'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

অন্যদিকে,
- 'অন্নদাশংকর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।
- 'সমরেশ বসু' এর ছদ্মনাম - কালকূট।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

• রাজশেখর বসু,
- তিনি লেখক, বিজ্ঞানী, অভিধান প্রণেতা।
- ১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম;
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নদীয়া জেলার উলা গ্রামে।
- পিতা দার্শনিক পন্ডিত চন্দ্রশেখর বসু ছিলেন দ্বারভাঙ্গা রাজ এস্টেটের ম্যানেজার।
- তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট একুশ।

 • তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- রম্য-রচনা; 
- গড্ডলিকা ;
- কজ্জলী;
- হনুমানের স্বপ্ন; 
- গল্পকল্প;
- গল্প কৃষ্ণকলি ;
- আনন্দীবাঈ;

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
”বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?”-বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. সোনার তরী
  2. জন্মভূমি
  3. আমাদের গ্রাম
  4. কপোতাক্ষ নদ
সঠিক উত্তর:
কপোতাক্ষ নদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপোতাক্ষ নদ
ব্যাখ্যা

 ”বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?”- পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ’কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অন্তর্গত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
'কত ধানে কত চাল' প্রবাদটির অর্থ কী?
  1. অভিজ্ঞতা দিয়ে জানা
  2. অল্প বর্ষায় বেশি শীত
  3. অভিজ্ঞ ব্যক্তি
  4. স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ
সঠিক উত্তর:
অভিজ্ঞতা দিয়ে জানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিজ্ঞতা দিয়ে জানা
ব্যাখ্যা

• 'কত ধানে কত চাল' প্রবাদটির অর্থ - অভিজ্ঞতা দিয়ে জানা।

অন্যদিকে,
- 'উন বর্ষে দুনো শীত' প্রবাদটির অর্থ - অল্প বর্ষায় বেশি শীত। 
- 'উনা ভাতে দুনা বল' প্রবাদটির অর্থ - স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
’হাবু শর্মা’ কার সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. সমরেশ বসু
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
- শরৎচন্দ্রের পরে কথাসাহিত্যে যাঁরা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তারাশঙ্কর ছিলেন তাঁদের একজন।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'।
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

.
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত কত প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অলঙ্কার:
কাব্যকে সৌন্দর্যমণ্ডিতও সহৃদয়হৃদয়সংবেদ্য করার জন্য কবি যেসব কৌশল অবলম্বন করেন, তাকে অলঙ্কার বলে।
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত দুই প্রকার।
 যথা:
১. শব্দালঙ্কার এবং
২. অর্থালঙ্কার।

শব্দালংকার:
শব্দের ধ্বনিরূপকে আশ্রয় করে যে অলংকারের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় শব্দালংকার। শব্দালংকারের নানা শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। তন্মধ্যে প্রধান বিভাগগুলো হলো: অনুপ্রাস, যমক, শ্লেষ ও বক্রোক্তি।

অর্থালঙ্কার:
- যে অলঙ্কার একান্তভাবে শব্দের অর্থের উপর নির্ভর করে; অর্থ-প্রকাশক শব্দ বা শব্দাবলিকে পরিবর্তিত করে সেখানে সমার্থক অন্য শব্দ বসিয়ে দিলেও যে অলঙ্কার অক্ষুণ্ণ থাকে তাকে অর্থালঙ্কার বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম?
  1. অনুপমা দেবী
  2. নীহারিকা দেবী
  3. অনিলা দেবী
  4. শ্রীমতী রাধামণি দেবী
সঠিক উত্তর:
অনিলা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিলা দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী।

অন্যদিকে,
- অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
-  প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
”ডানায় ভর দিয়ে চলা।” প্রবাদটির অর্থ কী?
  1. ক্ষতি করা
  2. শূন্যলোকে ভাসা
  3. নির্ভিকে চলা
  4. সুখে শান্তিতে থাকা
সঠিক উত্তর:
শূন্যলোকে ভাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যলোকে ভাসা
ব্যাখ্যা

”ডানায় ভর দিয়ে চলা।” প্রবাদটির অর্থ - শূন্যলোকে ভাসা।

• কিছু প্রচলিত প্রবাদ প্রবচনের উদাহরণ- 
→ ধান ভানতে শিবের গীত = অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা। 
→ ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে = দুর্ভাগ্য সর্বত্রগামী।
→ ছোট মুখে বড় কথা = ছোটদের দ্বারা বা অযোগ্য লোকের দ্বারা মানী লোকের অসম্মান করা। 
→ ম্যাও ধরা = তোষামোদ করা। 
→ বজ্র আটুনি ফস্‌কা গেরো = বড় বড় কথা বা পরিকল্পনা। 
ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় - ইচ্ছাশক্তিতে কঠিন কাজ করা সম্ভব।
→ উন বর্ষা দুনো শীত - অল্প বর্ষায় বেশি শীত/অল্প কাজে অধিক লাভ।
→ এক মাঘে শীত যায় না - বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সব সময় থাকে না।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
“ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি,
আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।“- উক্তিটি কোন লেখকের?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রাম। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং
- তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
- তাঁর বিখ্যাত উক্তি-  “ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।“

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রকৃত নাম কী?
  1. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সনন্দা চক্রবর্তী
  3. রানা দাশ গুপ্ত
  4. মানিক মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়,
‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত  উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০.
বাংলা সাহিত্যে ছন্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৩ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
• ছন্দ: 
- কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল।
- হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।
 
• এর প্রধান শাখা হচ্ছে তিনটি:
- মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত।
 
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ: 
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: 
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'।
- যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
- বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
 
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- যে ছন্দে স্বরধ্বনির সংখ্যার উপর পর্বের মাত্রা সংখ্যা নির্ভরশীল, তাকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বলে।
- উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
- চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া।
১১.
”কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল। চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।” - এই পদটির লেখক কে?
  1. শান্তিপা
  2. লুইপা 
  3. ভুসুকুপা 
  4. ভাদেপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম পদটি লুইপার রচনা।
পদ - ১
”কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লুই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।”

• লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল" পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
’নীল লোহিত’ কোন লেখকের সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2.  জসীম উদ্‌দীন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 ‘নীল লোহিত’ হলো 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম।

এছাড়াও তিনি পরিচিত ছিলেন-

- নীল উপাধ্যায়
- সনাতন পাঠক

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পূর্ব-পশ্চিম
- আত্মপ্রকাশ
- সেই সময়
- প্রথম আলো
- অরণ্যের দিনরাত্রি  
- একা এবং কয়েকজন ।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- সত্য পীর।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
-  জসীম উদ্‌দীন এর ছদ্মনাম- 'পল্লীকবি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩.
কুমুদিনী ও মধুসূদন - চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।

- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

• তাঁর রচিত অন্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি, 
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর এক মাত্রার গণনা করা হয় কোন ছন্দে?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. পায়রাবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।

• স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- স্বরবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর এক মাত্রার গণনা করা হয়।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া।

১৫.
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী?
  1. ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  2. যাযাবর
  3. মৌমাছি
  4. জাবালি
সঠিক উত্তর:
যাযাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাযাবর
ব্যাখ্যা

• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- যাযাবর

অন্যদিকে,
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়  এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• বিমল ঘোষ এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- মৌমাছি।
• বিমল মিত্র এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- জাবালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬.
”ধান ভানতে শিবের গীত।” এই প্রবাদ-প্রবচন এর অর্থ কী?
  1. কোন ভাবে কার্যসিদ্ধি
  2. সব কিছুকে তুচ্ছ ভাবা
  3. অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা
  4. কৃত্রিম লজ্জা
সঠিক উত্তর:
অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা
ব্যাখ্যা

• ”ধান ভানতে শিবের গীত।” প্রবাদ-প্রবচন এর অর্থ- অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা।

অন্যদিকে,
- ”ধারে না হলে ভারে কাটে।” প্রবাদ-প্রবচন এর অর্থ- কোন ভাবে কার্যসিদ্ধি।
- ”ধারাকে সারা জ্ঞান।” প্রবাদ-প্রবচন এর অর্থ- সব কিছুকে তুচ্ছ ভাবা।
- ”নাচতে দাঁড়িয়ে ঘোমটা টানা।” প্রবাদ-প্রবচন এর অর্থ- কৃত্রিম লজ্জা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
’আয়েশা, তিলোত্তমা’ চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের?
  1. সংশপ্তক
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

• দুর্গেশনন্দিনী:
-দূর্গেশনন্দিনী অর্থ দুর্গ প্রধানের কন্যা।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস দূর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) ও কপালকুন্ডলা (১৮৬৬) রচনা করেন।
- উপন্যাস দুটি দ্রুত প্রচার লাভ করে।
- দূর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- আয়েশা,
- তিলোত্তমা, প্রভৃতি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৮.
”আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” এই পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. সুফিয়া কামাল
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

”আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” এই পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।

- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে
 প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'।
-  অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।

- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহি•

• রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯.
’ভাড়ুদত্ত, কালকেতু’ চরিত্রদ্বয় কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য
  2. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  3. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. মনসামঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০.
কাজেম আল কোরেশী এর ছদ্মনাম কী ছিল?
  1. দাদাভাই
  2. কায়কোবাদ
  3. বীরবল
  4. ওমর খৈয়াম
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি,
- তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা 
- আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি। 
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- ওমর খৈয়াম।
- রোকনুজ্জামান এর ছদ্মনাম- দাদাভাই।
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- 'বীরবল'।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১.
”লোম বাছতে কম্বল উজাড়”- প্রবচনটির অর্থ কী?
  1. নিষ্ফল পরিশ্রম
  2. পরিশ্রমে সাফল্য আসে
  3. সকলেই একই দলের
  4. স্বার্থসিদ্ধির ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
সকলেই একই দলের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকলেই একই দলের
ব্যাখ্যা

”লোম বাছতে কম্বল উজাড়”- প্রবচনটির অর্থ- সকলেই একই দলের।

অন্যদিকে,
”লাভের অঙ্ক শূন্য”- প্রবচনটির অর্থ-  নিষ্ফল পরিশ্রম।
”যতনে রতন মেলে”- প্রবচনটির অর্থ- পরিশ্রমে সাফল্য আসে।
”নিজের কোলে ঝোল টানা”- প্রবচনটির অর্থ- স্বার্থসিদ্ধির ব্যবস্থা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
সনেটের শেষ ছয় পঙ্‌ক্তিকে কী বলা হয়?
  1. ষঠক
  2. ষট্ক 
  3. স্ঠক
  4. ষষ্ঠক
সঠিক উত্তর:
ষট্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষট্ক 
ব্যাখ্যা

• সনেট (Sonnet): 
- গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে ।
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়। 
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক। 
-  প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষট্ক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক - ইতালীয় কবি পেত্রার্ক। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩.
'রুবি ও মোয়াজ্জেম' চরিত্র দুটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ব্যথার দান
  4. বাঁধন-হারা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• মৃত্যু-ক্ষুধা:
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস।
- এটি রচনা হয় ১৯২৭-১৯৩০ সালের মধ্যে এবং ধারাবাহিকভাবে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় (অগ্রহায়ণ ১৩৩৪ – ফাল্গুন ১৩৩৬)।
- এটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা মূলত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের সংগ্রামী জীবনের ছবি ফুটিয়ে তোলে।
- উপন্যাসটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: রুবি, আনসার, মোয়াজ্জেম প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. টেকচাঁদ ঠাকুর
  2. বীরবল
  3. লীলাময় রায়
  4. ভানুসিংহ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ভানুসিংহ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভানুসিংহ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর;
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর;
- আন্নাকালী পাকড়াশী;
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য;
- নবীনকিশোর শর্মণ;
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা;
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ;
- শ্রীমতী কনিষ্ঠা;
- শ্রীমতী মধ্যমা;

• অন্যদিকে:
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম- লীলাময় রায়।
• প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।
• 'প্রমথ চৌধুরী' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- বীরবল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।