পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৯: আইন বিষয়াবলী - (সাবজেক্ট ফাইনাল) Topic: Laws related to Family matters.
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৫ প্রশ্ন

.
একজন মুসলিম নারী কার সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেন?
  1. যে কোন পুরুষ
  2. কেবল মুসলিম পুরুষ
  3. মুসলিম এবং কিতাবীয় পুরুষ
  4. মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মের পুরুষ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih)
২) বাতিল (Void or Batil )
৩)  অনিয়মিত (Irregular or fasid)

বৈধ (Valid or Sahih)
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্য কোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে না। 

বাতিল (Void or Batil)
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid)
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।

.
মুসলিম আইনে 'ইজমা' কী বোঝায়?
  1. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী
  2. চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্ত
  3. মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্য
  4. কোরআনের নির্দেশের ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

কোরআন-
ইসলামী শরিয়তের ভিত্তি চারটি প্রধান উৎসের উপর স্থাপিত, যার মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ উৎস হলো কোরআনুল কারিম। এটি মুসলিমদের জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা এবং ইসলামী আইনের মূল ভিত্তি।

আইনের দ্বিতীয় উৎস হাদিস:
হাদিস অর্থ কথা বা বাণী। ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় মানদণ্ড সুন্নাহ বা হাদিস। শরিয়তের পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ নিঃসৃত বাণী, রাসুল হিসাবে তাঁর সম্পাদিত কাজ এবং সাহাবায়ে কেরামের শরিয়ত সম্পর্কিত এমন সব কথা ও কাজ রাসুলুল্লাহ (সা.) যার প্রতিবাদ করেননি বা নীরব থেকে এর প্রতি মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাই হাদিস।

ইজমা:
ইসলামের আইনে তৃতীয় উৎস ইজমা। কোনো বিশেষ যুগে কোনো বিশেষ প্রশ্নে মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্যকে আইনের পরিভাষায় ইজমা বলে। এর দুটি তাৎপর্য রয়েছে। 
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর পর মুসলিম রাষ্ট্রের বিস্তৃতির ফলে নবোদ্ভূত অনেক সমস্যা দেখা যায়, যা কোরআন-হাদিস নিয়ে সমাধা হয় না। ফলে মুসলিম সমাজ কোরআন হাদিসের শিক্ষার ভিত্তিতে স্বাধীন চিন্তায় ইজমার প্রয়োজন অনুভব করে। ইজমা তিনটি উপায়ে নির্ধারিত হয়—কথা, কাজ ও নীরবতায়।

কিয়াস: 
কিয়াস ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস। চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হলো কিয়াস। যে প্রশ্নে কোরআন-হাদিস নিশ্চুপ এবং ইজমাতেও সমাধান নেই, সেই প্রশ্নের সমাধানকল্পে সব সুন্নি মাজহাব যে উৎসের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তাকে কিয়াস বলা হয়।

.
মালিকি মতবাদের মূল উৎস কী?
  1. কিয়াস
  2. কুরআন ও হাদিস
  3. স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি
  4. কেবল ইজমা
ব্যাখ্যা

মুসলিম আইনের চার প্রধান মতবাদ (Schools of Islamic Law):
মুসলিম আইনকে চারটি প্রধান সুন্নি মতবাদে বিভক্ত করা হয়েছে। এই মতবাদগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এবং প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ইমামের অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

হানাফি মতবাদ (Hanafi School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু হানিফা (৭০২–৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি ইজতিহাদ (ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ) এবং রায় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
- হানাফি মতবাদ মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার ও সহনশীল।
- স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

মালিকি মতবাদ (Maliki School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৭১১–৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কুরআন ও হাদিস প্রধান উৎস, তবে মদিনার ঐতিহ্য এবং ইজমাও বিবেচ্য।

শাফেয়ি মতবাদ (Shafi'i School)
- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (৭৬৭–৮২০ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসকে প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- ইজমা (মুসলিম সমাজের ঐক্যমত) এবং কিয়াস (যুক্তিগত বিশ্লেষণ) ব্যবহারের উপর জোর দেয়।

হাম্বলি মতবাদ (Hanbali School)
- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (৭৮০–৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- এটি সবচেয়ে রক্ষণশীল সুন্নি মতবাদ।
- কুরআন ও হাদিস ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে খুব কম গ্রহণ করে।

.
Widow's Right to Retention কী বোঝায়?
  1. স্বামীর সম্পত্তি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহার করা
  2. স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের অংশ নিতে বাধ্য করা
  3. দেনমোহর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর সম্পত্তিতে দখল রাখা
  4. স্বামীর সম্পত্তি কেবল উত্তরাধিকারীদের জন্য সংরক্ষণ করা
ব্যাখ্যা

⇒ দেনমোহর হলো স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর নিকট অনিরাপদ ঋণ [Unsecured debt]। তালাকের পরবর্তী সময়ে যদি স্বামীর মৃত্যু হয় তবে স্বামীর রেখে যাও প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই। স্ত্রী বেঁচে থাকা অবস্থায়, তার মৃত স্বামীর সম্পত্তি হতে নিজে ঋণ পুনরুদ্ধার করতে পারে। স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তিতে দখল বহাল রাখতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত না তার দেনমোহর পরিশোধ হয়। এটাকে স্ত্রীর The Widow's Right to Retention বলে।

উল্লেখ্য,
দেনমোহর হচ্ছে প্রত্যেক বিবাহিত মুসলিম নারীর আইনগত অধিকার যা পুরুষ কর্তৃক পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। মুসলিম শরীয়াহ আইন অনুযায়ী, দেনমোহর দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে মুয়াজ্জল বা আশু দেনমোহর যা স্ত্রী দাবী করা মাত্র স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। মুয়াজ্জল দেনমোহর আবার তাৎক্ষণিক দেনমোহর হিসেবেও পরিচিত।

আরেক ধরনের দেনমোহর হচ্ছে মুঅজ্জল বা বিলম্বিত দেনমোহর। এ দেনমোহর শুধুমাত্র তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে দাবী করা যায়।

.
কোন পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম স্ত্রী আদালতে তালাক চাইতে পারবেন?
  1. স্বামী পাঁচ বছর কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলে
  2. তিন বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে
  3. দুই বছর স্বামী ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

.
সপ্রতিবন্ধ দায় বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র দানকৃত সম্পত্তির অধিকার
  2. জীবিত ব্যক্তির জীবদ্দশায় সম্পত্তি পাওয়া
  3. জন্মসূত্রে কোনো বাধা ছাড়া সম্পত্তিতে প্রাপ্ত অধিকার
  4. কারো মৃত্যুর পরে সম্পত্তিতে প্রাপ্ত অধিকার
ব্যাখ্যা

অপ্রতিবন্ধ দায় (Unobstructed heritage):
সংস্কৃত এবং বাংলায় দায় কথার অর্থ উত্তরাধিকার (inheritance)। যখন একজন কোন প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ বাধা ব্যতিরেকেই কোন সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে তখন তাহাকে অপ্রতিবন্ধ দায় বলা হয়। যেমন- মিতাক্ষরা মতে জন্মসূত্রে পুত্র পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে পিতার সহ-উত্তরাধিকারী হয়, এখানে পিতার অস্তিত্ব পুত্রের পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হইতে কোন বাধা সৃষ্টি করে না। এইভাবে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হওয়াকে বলে "অপ্রতিবন্ধ দায়।"

সপ্রতিবন্ধ দায় (Obstructed heritage):
যখন একজনের মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অপরের উত্তরাধিকার অথবা উত্তরজীবীসূত্রে অধিকার জন্মায় তখন ইহাকে সপ্রতিবন্ধ দায় বলা যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে অপ্রতিবন্ধ দায়ের ন্যায় জন্মসূত্রে সম্পত্তিতে অধিকার জন্মায় না। অর্থাৎ যেখানে একজনের সম্পত্তি পাওয়া অপরের মৃত্যুর উপর নির্ভরশীল তাহাকেই বলা যায় সপ্রতিবন্ধ দায়। 
এইক্ষেত্রে একজনের অস্তিত্ব অপরের সম্পত্তি পাওয়ার বাধা সৃষ্টি করে। বাধা অপসারিত হইলে পরে অন্যের উপর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বর্তায়। এইভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হওয়ার পর সম্পত্তি পাওয়াকে বলা হয় সপ্রতিবন্ধ দায়।

যেমন- মিতাক্ষরা মতে পিতা পৃথক সম্পত্তি রাখিয়া মারা গেলে পুত্র পিতার পৃথক সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পায় অথবা কোন সহ-উত্তরাধিকারী মারা গেলে অন্যান্য সহ-উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির অংশ উত্তরজীবী সূত্রে পায়। অপ্রতিবন্ধ দায় এবং সপ্রতিবন্ধ দায়, এই দুইটি শব্দেরই প্রয়োগ মিতাক্ষরা আইনে দৃষ্ট হয়। দায়ভাগ মতে এই পার্থক্যের সুযোগ নাই, কারণ দায়ভাগ মতে উত্তরাধিকার লাভের সূত্র একটাই এবং তাহা সর্বদাই সপ্রতিবন্ধ দায়।

.
হিন্দু দায়ভাগ মতে, সকুল্যের ঊর্ধ্বতন ____________ পুরুষ সমানোদক নামে অভিহিত।
  1. তিন
  2. পাঁচ
  3. সাত
  4. আট
ব্যাখ্যা

দায়ভাগ আইনে তিন শ্রেণীর উত্তরাধিকার নির্ধারিত আছে, যথা: সপিণ্ড, সাকুল্য এবং সমানোদক।

সপিণ্ড:
একজন মারা গেলে সে অর্থাৎ তার আত্মা যাদের নিকট হতে পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী তাহারা সকলেই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড। সপিণ্ড সর্বমোট ৫৩ জন।

সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন তিন পুরুষ সকুল্য নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় সপিণ্ডদের পিণ্ডদানের পর যা অবশিষ্ট থাকে সেই পিণ্ডলেপ সকুল্যদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়।

সমানোদক:
সকুল্যের ঊর্ধ্বতন সাত পুরুষ সমানোদক নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় তাদের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র জল নিবেদন করা হয়। সংস্কৃতে উদক শব্দের অর্থ জল।

উত্তরাধিকারিত্বে সপিণ্ডদের দাবী অগ্রগণ্য অর্থাৎ তাহারা প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারী। সপিণ্ডদের পর সকুল্যদের দাবী এবং সর্বশেষ সমানোদকের দাবী।

.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩- এ আদালত অবমাননা সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির ধরন কী?
  1. কারাদণ্ড
  2. অর্থদণ্ড
  3. উভয়ই
  4. শুধুমাত্র সতর্কীকরণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অর্থদণ্ড।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৩: পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,

তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডতি করিতে পারিবে।

.
মুসলিম ব্যক্তি রফিক প্রথমে নিজের সম্পত্তি তার চাচাতো ভাইর নামে উইল করেছেন। তবে জীবিত অবস্থায় তিনি সেই সম্পত্তি পরে বিক্রি করে দেন। এখন কী হবে?
  1. বিক্রি বাতিল হয়ে যাবে
  2. উইলটি প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে
  3. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে উইল কার্যকর হবে
  4. বিক্রিত অংশের মালিকানা চাচাতো ভাই পাবেন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে,
একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন, সেটি তার সম্পূর্ণ অধিকার। তবে, যদি তিনি ওই সম্পত্তির কিছু অংশ উইল করেন, তবে ওই উইলটি মৃত্যুর পর কার্যকর হবে। কিন্তু, যদি ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ওই সম্পত্তি বিক্রি করেন, তাহলে উইলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে, কারণ বিক্রি একটি কার্যকর আইনগত কাজ, যা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করে।

কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-
ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।
খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।
গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।

১০.
তালাক-উস-সুন্নাহ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক):
তালাক-উস-সুন্নাহ হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ দুই প্রকার হতে পারে;

ক. তালাক আহসান (সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক);
খ. তালাক হাসান (অনুমোদিত তালাক)।

তালাক-ই-আহসান: 
স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক।

তালাক-ই-হাসান: 
স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।

১১.
হানাফী মুসলিম 'M' এর পুত্র 'N' ১৯৬০ সালে মারা যায়। ১৯৬৫ সালে 'M', ১ পুত্র এবং মৃত পুত্রের ১ পুত্র রেখে মারা যান। ‘M’ এর সম্পত্তিতে ‘N’-এর পুত্র কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কোনো সম্পত্তি পাবে না
ব্যাখ্যা

MFLO, 1961 এর 4 ধারা অনুসারে:
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে যাহার সম্পত্তি বণ্টিত হবে তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তার পুত্র বা কন্যার মৃত্যু ঘটে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সময় ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান যদি কেউ থাকে, তবে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা জীবিত থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেত, তার সমান অংশ ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা অংশ অনুপাতে [per-stripes] পাবে। এ নিয়মকেই 'Doctrine of Representation' বলা হয়।

এখানে, Section 4 অনুযায়ী 'N' বেঁচে থাকলে যে অংশ পেত, 'N' এর পুত্র তা পাবে। সুতরাং, মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ 'M' এর জীবিত পুত্র এবং বাকি ১/২ অংশ 'N' - এর পুত্র পাবে।

উল্লেখ্য:
যেহেতু MFLO, 1961 আইনটি ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, সেহেতু, 'M' ১৯৬৫ সালে মৃত্যুবরণ করার পরই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে। 'N'-এর ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করা এখানে বিবেচ্য নয়।

১২.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, বিবাহ নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম বয়স কত?
  1. পুরুষ ও নারীর উভয়ের জন্য ১৮ বছর
  2. পুরুষ ও নারীর উভয়ের জন্য ২১ বছর
  3. পুরুষের জন্য ১৮ বছর, নারীর জন্য ১৬ বছর
  4. পুরুষের জন্য ২১ বছর, নারীর জন্য ১৮ বছর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) পুরুষের জন্য ২১ বছর, নারীর জন্য ১৮ বছর।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৫: হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ-
অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ২১ (একুশ) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু পুরুষ বা ১৮ (আঠার) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে উহা এই আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হইবে না।

১৩.
শুফার অধিকার সম্পর্কিত প্রথম দাবীকে কী বলা হয়?
  1. তলব-ই-ইশাদ
  2. তলব-ই-তমলিক
  3. তলব-ই-মৌসিবত
  4. তলব-ই-তকরির
ব্যাখ্যা

শুফা:
কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি শরীক বা প্রতিবেশী হওয়ার কারনে উক্ত সম্পত্তি সর্বাগ্রে ক্রয়ের অধিকারী হয় কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কারো নিকট বিক্রয় করলে উক্ত শরীক বা প্রতিবেশী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করতে পারেন। মুসলিম আইনে উক্তরূপ ক্রয় অধিকারকে শুফার অধিকার বলে।

নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ-শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির মাধ্যমে পথ ব্যবহার বা পানি নিষ্কাশনের অধিকারী ব্যক্তি।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারবেন।

• অগ্রক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা। যদি এই সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে পালন করা না হয়, তবে কোন ব্যক্তিই অগ্রক্রয়ের অধিকারী নয়। এই সকল আনুষ্ঠানিকতাগুলো হচ্ছে-

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।

১৪.
নিমাই মারা গেছেন এবং তার পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, দৌহিত্র কেউই জীবিত নেই। তার পিতা এবং মাতা জীবিত আছেন। দায়ভাগ মতবাদে এই ক্ষেত্রে সম্পত্তির অধিকার কী হবে?
  1. পিতা পূর্ণ স্বত্ব পাবেন
  2. পিতা জীবনস্বত্ব পাবেন
  3. মাতা সম্পত্তির জীবনস্বত্ব পাবেন
  4. পিতা এবং মাতা উভয়ে পূর্ণ স্বত্ব পাবেন
ব্যাখ্যা

উত্তর: ক) পিতা পূর্ণ স্বত্ব পাবেন।

দায়ভাগ মতবাদে উত্তরাধিকারের ক্রম:

দায়ভাগ মতবাদে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্রম নির্ধারিত। প্রথমে পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, এবং দৌহিত্র (কন্যার পুত্র) সম্পত্তির অধিকারী হন।
এই সকল উত্তরাধিকারী জীবিত না থাকলে, পরবর্তী অগ্রাধিকার পান মৃত ব্যক্তির পিতা। পিতা জীবিত থাকলে তিনি সম্পত্তির পূর্ণ স্বত্ব পান।
পিতা জীবিত না থাকলে তবেই মাতা সম্পত্তির অধিকারী হন, এবং তিনি জীবনস্বত্ব (life interest) পান, অর্থাৎ তিনি জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন, কিন্তু তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না।
পিতা এবং মাতার পরে ক্রমানুসারে সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, ভাইয়ের পুত্র, ভাইয়ের পুত্রের পুত্র, বোনের পুত্র, পিতামহ, পিতামহী, এবং পিতার ভাই সম্পত্তির অধিকারী হন।

এই ঘটনায় প্রয়োগ:
নিমাইয়ের কোনো পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, বা দৌহিত্র জীবিত নেই। তাই এই সকল অগ্রাধিকারের উত্তরাধিকারী বাদ পড়েন। নিমাইয়ের পিতা জীবিত আছেন। দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে, পিতা এই পর্যায়ে সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন এবং তিনি সম্পত্তির পূর্ণ স্বত্ব পাবেন। যেহেতু পিতা জীবিত আছেন, মাতা এই ক্ষেত্রে সম্পত্তির অধিকার পাবেন না, কারণ পিতার অগ্রাধিকার মাতার চেয়ে বেশি।

১৫.
Abdul Kadir Vs. Salima (1886) মামলায় আদালত মুসলিম বিবাহকে কী বলে আখ্যায়িত করেছে?
  1. পবিত্র বন্ধন
  2. ধর্মীয় অনুষ্ঠান
  3. এক ধরনের চুক্তি
  4. সামাজিক অনুষ্ঠান
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) এক ধরনের চুক্তি।

Abdul Kadir v Salima (1886):
ঘটনার বিবরণ:
Abdul Kadir ও Salima বিয়ের পর তিন মাস সুখে সংসার করেন। পরে Salima তার বাবার বাড়ি গেলে তার বাবা তাকে Abdul Kadir–এর কাছে ফিরে যেতে দেননি। তাই Abdul Kadir তার স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে বিবাহিত অধিকার পুনরুদ্ধারের (Restitution of Conjugal Rights) মামলা করেন।

প্রতিবাদীরা (স্ত্রী ও শ্বশুর) আদালতে তিনটি কারণ দেখানঃ
- বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে;
- ক্রূরতা (Cruelty);
- মোহর (Dower) প্রদান করা হয়নি।

আদালত প্রথম ও তৃতীয় কারণ (বিবাহবিচ্ছেদ ও ক্রূরতা) বাতিল করলেও মোহর প্রদান না করার যুক্তি বৈধ বলে স্বীকার করে। যদিও বিয়ের আগে মোহরের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করা হয়নি, আদালত বলে দেন – মোহর (prompt dower) আগে দিতে হবে।

Abdul Kadir পরে পুরো মোহর আদালতে জমা দেন। আদালত শর্তযুক্ত রায় দেন যে, মোহর প্রদান করলে তিনি তার স্ত্রীকে ফেরত পেতে পারেন। কিন্তু উভয় পক্ষই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

আপিল আদালত Abdul Kadir–এর আপিল খারিজ করে দেয়, কারণ মামলার শুরুতেই তিনি মোহর দেননি; তাই তার মামলার “দাঁড়ানোর অধিকার” (standing) ছিল না।

সবশেষে বিষয়টি আল্লাহাবাদ হাইকোর্টের পূর্ণ বেঞ্চে যায়, যেখানে মোহর না দেওয়া থাকলে স্বামীর দাবির গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না – সে প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যুক্তি:
আপিলকারী (Abdul Kadir): দাবী করেছিলেন যে, বিবাহিত অধিকার পুনরুদ্ধারের অধিকার মোহর প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।প্রতিবাদকারী: স্বামীর মামলা খারিজ হওয়া উচিত, কারণ মাহর প্রদান হয়নি।

রায়:
জাস্টিস সায়েদ মাহমুদ-এর মতামত (পূর্ণ বেঞ্চ দ্বারা অনুমোদিত) তিনটি মূল বিষয়ে কেন্দ্রীভূত:
১. মুসলিম বিবাহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আইনগত চুক্তি।
২. মাহরের প্রকৃতি এবং এর প্রভাব স্বামীর বিবাহিত অধিকার পুনরুদ্ধারের অধিকার-এর উপর।

১৬.
দেবোত্তরের অধীনে যে দেবমূর্তি থাকে, তাকে আইনত কী ধরা হয়?
  1. সেবায়েত
  2. বৈধ সত্ত্বা
  3. সরকারি সম্পত্তি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দেবত্তোর (Debutter):
মন্দির নির্মাণ করিয়া তাহাতে কোন দেবমূর্তির প্রতিষ্ঠা করতঃ নিয়ত পূজার্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য কোন সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত দেবোত্তর নামে পরিচিত। এই রকম বিগ্রহ বা দেবমূর্তি এক বৈধ সত্ত্বা (Juridical person) এবং তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত সম্পত্তির তিনি আইনত মালিক।

দেবোত্তর দুই রকমের হইতে পারে। যেমন- যখন কোন পরিবারের কোন ব্যক্তি পারিবারিক গৃহ দেবতার পূজা অর্চনার জন্য কোন সম্পত্তি দান করে যান, তা ব্যক্তিগত অথবা পারিবারিক দেবোত্তর বলা হয়। কারণ তদবস্থায় বিগ্রহের সেবা পূজার দায়িত্ব তাঁর বংশধরগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আবার সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে অনুরূপ দান সম্পন্ন হলে তা সার্বজনীন দেবোত্তররূপে পরিগণিত হয়।

১৭.
এক জেলার পারিবারিক আপিল আদালত থেকে অন্য জেলার পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল স্থানান্তরের ক্ষমতা- কার আছে?
  1. জেলা জজ আদালতের
  2. হাইকোর্ট বিভাগের
  3. পারিবারিক আপিল আদালতের
  4. ক এবং খ উভয়ের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) হাইকোর্ট বিভাগের।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২০: মোকদ্দমা এবং আপিল স্থানান্তর ও স্থগিতকরণ:
(১) হাইকোর্ট বিভাগ, কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে বা স্বীয় উদ্যোগে, লিখিত আদেশ দ্বারা, দায়েরকৃত যেকোনো-

(ক) মোকদ্দমা একই জেলার এক পারিবারিক আদালত হইতে অন্য পারিবারিক আদালতে অথবা এক জেলার পারিবারিক আদালত হইতে অন্য জেলার পারিবারিক আদালতে,

(খ) আপিল এক জেলার পারিবারিক আপিল আদালত হইতে অন্য জেলার পারিবারিক আপিল আদালতে, স্থানান্তর করিতে পারিবে।

(২) পারিবারিক আপিল আদালত, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বা স্বীয় উদ্যোগে, লিখিত আদেশ দ্বারা এই আইনের অধীন যেকোনো মোকদ্দমা তাহার নিজ এখতিয়ারাধীন স্থানীয় সীমানার মধ্যে এক পারিবারিক আদালত হইতে অন্য পারিবারিক আদালতে স্থানান্তর করিতে পারিবে।

(৩) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার অধীন যে আদালতে কোনো মোকদ্দমা বা আপিল স্থানান্তরিত হইবে সেই আদালত উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিবে, যেন উহার নিকট উক্ত মোকদ্দমা বা আপিল দায়ের করা হইয়াছে :

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমা স্থানান্তরের কারণে, পরবর্তী বিচারককে নূতন করিয়া কার্যধারা আরম্ভ করিবার প্রয়োজন হইবে না, যদি না উক্ত বিচারক লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক ভিন্নরূপ কোনো নির্দেশ প্রদান করেন।

(৪) পারিবারিক আপিল আদালত, লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার এখতিয়ারাধীন স্থানীয় সীমানার মধ্যে কোনো পারিবারিক আদালতের নিকট বিচারাধীন মোকদ্দমা স্থগিত করিতে পারিবে।

(৫) হাইকোর্ট বিভাগ, লিখিত আদেশ দ্বারা, কোনো পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে বিচারাধীন যেকোনো মোকদ্দমা বা আপিল স্থগিত করিতে পারিবে।

১৮.
সেলিম একজন সুন্নী মুসলমান সে পিতা, এক পুত্র ও এক কন্যাকে ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেছে, এক্ষেত্রে পিতা কত অংশ পাবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৪ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কোন অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

পিতার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে–

- ১/৬ অংশ: যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র রেখে মারা যান তবে পিতার অংশ হবে ১/৬ অংশ।

- ১/৬+অবশিষ্টাংশ (Residuary): যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা, পুত্রের কন্যা রেখে মারা যায় এবং কোন পুত্র বা পুত্রের পুত্র—- না থাকে তবে পিতার অংশ হবে ১/৬+অবশিষ্টাংশ।

- অবশিষ্টাংশভোগী (Residuary) : যদি কোন সন্তান-সন্ততি না থাকে তবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অংশ পাবে।

ধাপ ১: অংশীদার ও অবশিষ্টাংশভোগী চিহ্নিত করা-
অংশীদার: পিতা → স্বাভাবিকভাবে ১/৬ (যদি সন্তান থাকে)
অবশিষ্টাংশভোগী: পুত্র ও কন্যা → বাকি সম্পত্তি ভাগ করবে।
 
ধাপ ২: অংশীদার হিসাব-
পিতার অংশ: ১/৬ = ৩/১৮
অবশিষ্টাংশ (মোট − পিতার অংশ) = ১ − ১/৬ = ৫/৬ = ১৫/১৮
 
ধাপ ৩: অবশিষ্টাংশ ভাগ করা-
শারিয়াহ অনুযায়ী পুত্র = ২ অংশ, কন্যা = ১ অংশ
মোট অংশ = ৩ (পুত্র + কন্যা)
পুত্র = ১৫/১৮ × (২/৩) = ১০/১৮
কন্যা = ১৫/১৮ × (১/৩) = ৫/১৮।

১৯.
বিবাহিতা মহিলার উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন কী হিসেবে গণ্য হবে?
  1. স্ত্রীধন
  2. সীমিত স্ত্রীধন
  3. স্বামীর সম্পত্তি
  4. দানকৃত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

স্ত্রীধন:
যে সমস্ত সম্পত্তিতে মহিলাদের চূড়ান্ত মালিকানা রহিয়াছে অর্থাৎ যে সকল সম্পত্তিতে মহিলাগণ সম্পূর্ণ স্বত্বের অধিকারিণী তাহাকে বলা যায় স্ত্রীধন। ঐ সকল সম্পত্তি মহিলারা তাহাদের ইচ্ছানুযায়ী ভোগ-দখল, দান, বিক্রয়, উইল ইত্যাদি করিতে পারেন, তাহাতে কাহারও আইনত বাধা দেওয়ার কিছুই থাকে না।

- সকল মতেই একজন মহিলা কুমারী অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন বলিয়া গণ্য হইবে।

- অনুরূপভাবে সকল মতেই বিধবা উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

- একজন মহিলা বিবাহিতা অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহাও তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে। যেমন বিবাহ উপলক্ষ্যে স্ত্রী যে সমস্ত যৌতুকাদি পাইয়া থাকেন অথবা বিবাহিতা অবস্থায় আত্মীয়দের নিকট হইতে কোন সম্পত্তি দানসূত্রে পাইলে তাহাও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

তবে ব্যতিক্রম এই যে বাংলাদেশে বিবাহিতা অবস্থায় অনাত্মীয় ব্যক্তির নিকট হইতে দানসূত্রে কোন কিছু পাইলে, স্বামীর নিকট হইতে দানসূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পাইলে অথবা বিবাহিতা অবস্থায় কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হইলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে। স্বামীর জীবদ্দশায় উক্ত তিন প্রকারের সম্পত্তিতে বিবাহিতা মহিলার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত দান বিক্রয় ইত্যাদি করা যায় না। স্বামী মারা গেলে অবশ্য ঐ সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্ত্রীধনরূপে গণ্য হইবে। অর্থাৎ উক্ত তিন রকমে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্বামীর জীবদ্দশায় পুরাপুরি স্ত্রীধনরূপে গণ্য না করিয়া বরং সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

- যদি কোন মহিলার ভরণপোষণের জন্য মাসহারা বাবদ কোন অর্থ অথবা সম্পত্তি দেওয়া হয়, তবে তাহা সমস্ত মতপন্থী অনুযায়ীই স্ত্রীধনরূপে গণ্য।

- স্ত্রীধন দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিও স্ত্রীধন হইবে। স্ত্রীধনের বিনিময়ে আপোষ মীমাংসায় অন্য কোন সম্পত্তি পাওয়া গেলে তাহাও স্ত্রীধন হইবে।

২০.
“ইসতিহসান” অর্থ কী?
  1. জনকল্যাণ
  2. অনুমোদন
  3. গবেষণা
  4. প্রত্যাখ্যান
ব্যাখ্যা

ইসতিহসান:
'ইসতিহসান' অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন। কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

২১.
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর কত ধারায় 'বিচারের স্থান' সম্পর্কে বিধান আছে?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১১ক
  4. ধারা ১২
ব্যাখ্যা

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ১১ক- বিচারের স্থান:
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial:
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.

২২.
হিন্দুদের বিবাহে কোন অনুষ্ঠানগুলো অপরিহার্য?
  1. দান ও ভিক্ষা
  2. যজ্ঞ ও সপ্তপদী
  3. দত্তহোম ও অর্চনা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

হিন্দু বিবাহে অবশ্য পালনীয় অনুষ্ঠান:
বাংলাদেশে হিন্দুদের বিবাহে নানা প্রকার অনুষ্ঠান দৃষ্ট হয়। বর্ণ এবং স্থানভেদে এইগুলির পার্থক্যও লক্ষ করা যায়। কিন্তু দুইটি অনুষ্ঠান পালন বিবাহ ব্রাহ্ম মতেই হউক অথবা আসুর মতেই হউক অপরিহার্য। যথা:
(১) যজ্ঞ অথবা কুশণ্ডিকা: ইহার অর্থ পবিত্র যজ্ঞাগ্নির সম্মুখে শাস্ত্রীয় নির্দেশ মত বেদমন্ত্র পঠন।

(২) সপ্তপদী:`
ইহার অর্থ বর এবং কন্যার যজ্ঞাগ্নির চারিদিকে যুগ্মভাবে সাত কদম হাঁটা। এই অনুষ্ঠানের সময় বর কন্যাকে যুগ্মভাবে পুরোহিতের মাধ্যমে কতিপয় বেদমন্ত্র পাঠ করিতে হয়, বাংলায় যাহার সারমর্ম বর কন্যার যুগ্মভাবে পবিত্র যজ্ঞাগ্নির সম্মুখে দাম্পত্যজীবনে পরস্পরের প্রতি পরস্পরের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বিষয়ে অঙ্গীকার। সপ্তপদী হওয়া মাত্র বিবাহ আইন সম্পন্ন হইয়া যায় দানে অথবা পণে অর্থাৎ ব্রাহ্ম অথবা আসুর যে কোন মতেই বিবাহ হউক না কেন এই দুইটি অনুষ্ঠান অবশ্য পালন করিতে হইবে।

২৩.
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে ভরণপোষণ পেতে পারবেন না?
  1. স্বামী ধর্মান্তর হলে
  2. স্বামী স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করলে
  3. স্ত্রী ধর্মান্তরিত হলে
  4. স্বামী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তাকে পরিত্যাগ করলে
ব্যাখ্যা

১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
- স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশঙ্কা থাকে;
- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে,
এই ধরনের অন্যান্য যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।

তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসংগত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।

২৪.
Mahr-I-Misl অর্থ কী?
  1. নির্ধারিত দেনমোহর
  2. উপযুক্ত দেনমোহর
  3. বিলম্বিত দেনমোহর
  4. তাৎক্ষণিক দেনমোহর
ব্যাখ্যা

দেনমোহরের সংজ্ঞা (Definitions of dower)
মুসলিম আইনে দেনমোহর [Dower (MAHR)] হলো অর্থ বা অন্য কোন সম্পত্তি যেটা বিবাহের প্রতিদান হিসাবে স্বামী স্ত্রীকে পরিশোধ
করবে বা অর্পণ করবে- মর্মে প্রতিজ্ঞা করে। বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক দেনমোহর অবশ্যই দিতে হবে। দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য এবং স্ত্রীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য দেয়া হয়।
দেনমোহর বিবাহিত মুসলিম নারীর জন্য পবিত্র কোরআন স্বীকৃত একটি বিশেষ অধিকার যা স্বামীর উপর আরোপিত একটি দায়। বিবাহের অন্যতম শর্ত মোহর বা মোহরানা যা ব্যতীত কোন বিবাহ বৈধ হতে পারে না।

দেনমোহরের শ্রেণীবিভাগ (Kinds of Dower)
১. নির্ধারিত দেনমোহর (Specified dower/Mahr-I-Muazzama): 
স্বামী স্ত্রীকে কত পরিমাণ দেনমোহর দিবে তা যদি নির্ধারিত থাকে, তাহলে উক্ত দেনমোহর হলো নির্ধারিত দেনমোহর।

২. উপযুক্ত দেনমোহর (Unspecified/proper dower/Mahr-I-Misl):
যদি দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারিত না থাকে, তাহলে যে পরিমাণ দেনমোহর দেওয়া হয়, তাহলো যথার্থ বা উপযুক্ত দেনমোহর। তবে এই পরিমাণটি যুক্তিযুক্ত হবে।

৩. তলবী বা চাহিদামাত্র বা তাৎক্ষনিক দেনমোহর (Prompt Dower/Mahr-I-Muajjal):
যে কোন সময় স্ত্রী চাওয়া মাত্রই যে দেনমোহর স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য, তাকে আশু বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower) বলে। অর্থাৎ স্ত্রী যে কোন সময় তাৎক্ষণিক (Prompt Dower) দাবী করতে পারে। যদি স্ত্রী চাই তবে বিবাহের পরপরই তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধযোগ্য। 

৪. স্থগিত বা বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower/Mahr -I-Muwajjal):
বিবাহ বিচ্ছেদের সময় বা কোন নির্দিষ্ট ঘটনা সাপেক্ষে বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower) পরিশোধযোগ্য। Maina Bibi v Chowdhury Wakil Ahmed 52 I.A (1924) p.521 মামলার রায়ে বলা হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী দেনমোহরের টাকা পরিশোধের জন্য কোন সম্পত্তির দখল বজায় রাখতে পারে এবং এই দখল চালিয়ে যেতে পারে যতদিন পর্যন্ত না দেনমোহরের টাকা পরিশোধিত হয়।

২৫.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪(১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হলে, আদালত-
  1. পুনরায় সাক্ষ্য নেবে
  2. রায় ঘোষণা করবে
  3. মোকদ্দমা অন্য আদালতে পাঠাবে
  4. মোকদ্দমা স্থগিত রাখবে
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪ (বিচারের সমাপ্তি):
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।

(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।

২৬.
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম (১৯৯৫) মামলার রায় অনুযায়ী, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ভরণপোষণ কতদিন পর্যন্ত চলবে?
  1. আজীবন
  2. স্বামীর ইচ্ছা অনুযায়ী
  3. শুধুমাত্র ইদ্দতকাল পর্যন্ত
  4. ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও যতক্ষণ না পুনরায় বিয়ে হয়
ব্যাখ্যা

'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34':
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম মামলাটি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় যা ১৫ বিডিএল(৩৪) রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অধীনে রয়েছে। এই মামলার মূল বিষয় ছিল তালাকপ্রাপ্ত মহিলার Post-divorce Maintenance এর অধিকার সম্পর্কিত।

মামলার পটভূমি:
শামসুন নাহার বেগম তার স্বামী মুহাম্মদ হেফজুর রহমানের বিরুদ্ধে Maintenance-এর দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তালাক দেওয়ার পরও তাকে Maintenance প্রদান করা হচ্ছে না।

আইনি প্রশ্ন:
মামলার মূল আইনি প্রশ্ন ছিল, তালাকের পর একজন মহিলার Maintenance দেওয়ার অধিকার কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষভাবে, ইদ্দতকাল (তালাকের পর নির্দিষ্ট সময়কাল) ছাড়াও কি Maintenance প্রদান করা হবে?

আদালতের সিদ্ধান্ত:
হাই কোর্ট ডিভিশন রায় দিয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর Maintenance ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও চলমান থাকবে, যতক্ষণ না তিনি পুনরায় বিয়ে করেন এবং তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।
আদালত বলেছে, “একজন পুরুষ তার স্ত্রীর তালাক দেওয়ার পর তাকে ইদ্দতকাল পেরিয়ে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে Maintenance প্রদান করতে বাধ্য। এই Maintenance প্রদান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করে তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।”

২৭.
নিম্নলিখিত কোন পরিস্থিতিতে উমরিয়াতান নীতি প্রযোজ্য নয়?
  1. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে
  2. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে
  3. পিতা ও সন্তান শুধু উত্তরাধিকারী হলে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

Doctrine of Umariyatan (উমারিয়াতান নীতি):
উমারিয়াতান হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমারিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।

২৮.
কোনটি বিবাহিতা মহিলার সীমিত স্ত্রীধন এর উদাহরণ?
  1. স্বামীর নিকট হতে দানসূত্রে প্রাপ্ত স্থাবর সম্পত্তি
  2. অনাত্মীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত দানকৃত সম্পত্তি
  3. কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

একজন মহিলা বিবাহিতা অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহাও তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে। যেমন বিবাহ উপলক্ষ্যে স্ত্রী যে সমস্ত যৌতুকাদি পাইয়া থাকেন অথবা বিবাহিতা অবস্থায় আত্মীয়দের নিকট হইতে কোন সম্পত্তি দানসূত্রে পাইলে তাহাও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

তবে ব্যতিক্রম এই যে, বাংলাদেশে বিবাহিতা অবস্থায় অনাত্মীয় ব্যক্তির নিকট হইতে দানসূত্রে কোন কিছু পাইলে, স্বামীর নিকট হইতে দানসূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পাইলে অথবা বিবাহিতা অবস্থায় কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হইলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

স্বামীর জীবদ্দশায় উক্ত তিন প্রকারের সম্পত্তিতে বিবাহিতা মহিলার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত দান বিক্রয় ইত্যাদি করা যায় না। স্বামী মারা গেলে অবশ্য ঐ সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্ত্রীধনরূপে গণ্য হইবে। অর্থাৎ উক্ত তিন রকমে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্বামীর জীবদ্দশায় পুরাপুরি স্ত্রীধনরূপে গণ্য না করিয়া বরং সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

২৯.
মুসলিম আইনে দানের অপরিহার্য উপাদানগুলো কোনগুলো?
  1. Offer, Witness, Registration
  2. Acceptance, Deed, Witness
  3. Delivery, Witness, Deed
  4. Offer, Acceptance, Delivery of possession
ব্যাখ্যা

⇒ দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় হিবা নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

⇒ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়, আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।

৩০.
নারী সপিণ্ডের মধ্যে কে অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কন্যা
  2. পিতার মাতা
  3. বোন
  4. পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) বোন।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন:

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে।
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা। 

৩১.
দত্তহোম বলতে কী বোঝায়?
  1. দত্তক গ্রহণের সময় সম্পদ দান
  2. দত্তক গ্রহণের পরে কোর্টে নিবন্ধন
  3. দত্তক গ্রহণের যোগ্যতা অর্জন
  4. দত্তক নেওয়া উপলক্ষে যজ্ঞানুষ্ঠান
ব্যাখ্যা

দত্তহোম:
দত্তক নেওয়া উপলক্ষে যদি কোন যজ্ঞানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়, তাহাকে দত্তহোম বলে। দত্তক গ্রহণকালে দত্তহোম অত্যাবশ্যক কিনা এই বিষয়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন হাইকোর্টের নজীরে মতভেদ আছে। দত্তক গ্রহণকালে দত্তহোম করিতে হইবে হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে এই রকম কোন অবশ্য পালনীয় আদেশ (Mandatory provision of law) নাই।

ফলে, বাংলাদেশে দত্তহোম ব্যতীত অন্যান্য শর্তানুযায়ী দত্তক গ্রহণ করিলে তাহা (factum valet) নীতি অনুযায়ী সকল বর্ণের হিন্দুদের জন্য আইনত সিদ্ধ হইবে। তবে সাধারণত বিত্তবানরাই প্রয়োজনবোধে দত্তক নিয়া থাকেন এবং তাহারা এই উপলক্ষে দত্তহোম এবং সেই সঙ্গে আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন।

৩২.
“এগনেটিক ওয়ারিশ” বলতে কী বোঝায়?
  1. যাদের কেবল স্ত্রী থেকে উত্তরাধিকার আসে
  2. যারা নির্দিষ্ট অংশের অধিকারী
  3. যারা পুরুষ আত্মীয়ের মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয়
  4. যারা অংশীদারদের পরে কিছু পান না
ব্যাখ্যা

অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ (Residuaries):
মৃত ব্যক্তির যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এবং যারা অংশীদারদের নির্দিষ্ট অংশ নেবার পর কোন সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে তা অথবা কোন অংশীদার না থাকলে সমস্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এমন সমস্ত নিকটবর্তী আত্মীয়রা তালিকায় উল্লেখিত ক্রমানুসারে লাভ করে থাকে। মৃত ব্যক্তির এ সকল নিকটত্নীয়দেরকে অবশিষ্টাংশভোগী বলা হয়। এই অবশিষ্টংশ ভোগীদের কোন নির্দিষ্ট অংশ নাই। অংশীদারদের দেওয়ার পরেই কেবল অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবেন, কিন্তু এই অবশিষ্টাংশের পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি কোন অংশীদার না থাকেন, তবে সমস্ত সম্পত্তিই আসাবা বা অংশীদারগণ পাবেন। এ সকল আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণকে এগনেটিক ওয়ারিশ ও বলা হয়। কারণ এরা পুরুষ আত্মীয়ের মাধ্যমেই ওয়ারিশ হয়ে থাকে।

অবশিষ্টাংশ ভোগীগণের প্রধানতঃ নীচের তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়-
১) নিজ অধিকারসূত্রে অবশিষ্টাংশভোগ: অবশিষ্টংশভোগীদের তালিকাভুক্ত সব পুরুষই এই শ্রেণীর অন্তর্গত। তারা কখনো
অংশীদাররূপে সম্পত্তি পায় না; শুধুমাত্র অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবেই সম্পত্তি পেয়ে থাকে। পুত্র, পুত্রের পুত্র যত নীচেই হোক, আপন ভাই এবং বৈমাত্রেয় ভাই (যেখানে দুই মাতা কিন্তু এক পিতা) এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

২) অন্যের অধিকারসূত্রে অবশিষ্টাংশভোগী:
 তারা সবাই নারী, সংখ্যায় চারজন। তাদের প্রত্যেকেই পুরুষ আত্মীয়ের সাথে পুরুষের অর্ধেক হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে থাকে। যেমন: কন্যা, পুত্রের সাথে, পুত্রের কন্যা যত নীচেই হোক এর সাথে, আপন বোন আপন ভাই এর সাথে এবং বৈমাত্রেয় বোন বৈমাত্রেয় ভাই এর সাথে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভকরে। যেমন: কন্যা, পুত্রের সাথে, পুত্রের কন্যা যত নীচের হোক পুত্রের পুত্র যত নীচের হোক এর সাথে, আপন বোন আপন ভাইয়ের সাথে এবং বৈমাত্রেয় বোন বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সাথে অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে। উল্লেখিত পুরুষ আত্মীয় না থাকলে তারা সবাই অংশীদার হিসেবে সম্পত্তি পেয়ে থাকে।

৩) অন্যান্যদের সাথে এবং অন্যান্য পরিস্থিতিতে অবশিষ্টাংশভোগী:
আপন বোন এবং বৈমাত্রেয়বোন, কন্যা বা পুত্রের কন্যা যত নীচেরই হোক এর সাথে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি পায়। তাছাড় অন্যান্য পরিস্থিতিতে যেমন মৃত ব্যক্তির সন্তান, পুত্রের সন্তান যত নীচেরই হোক না থাকলে পিতা বা পিতার পিতা যত উপরের হোক অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে। আবার মৃত ব্যক্তির কন্যা, পুত্রের কন্যা যত নীচের হোক থাকলে পিতা, পিতার পিতা যত উপরের হোক অংশীদার এবং অবশিষ্টাংশভোগী উভয় যোগ্যতায় সম্পত্তি পেয়ে থাকে।

৩৩.
বাংলাদেশি মুসলিম নারী নাফিসা তার স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ আদায়ের মামলা করতে চান। এ মামলা করার জন্য তিনি কোন আদালতে যাবেন?
  1. দেওয়ানি আদালতে
  2. ফৌজদারি আদালতে
  3. পারিবারিক আদালতে
  4. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) পারিবারিক আদালত।

কারণ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩–এর ৫ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ভরণপোষণসহ বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, শিশু অভিভাবকত্ব ইত্যাদি বিষয়ে মামলা পারিবারিক আদালতই গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

৩৪.
জনৈক হিন্দু লোক ‘M’ মারা গেছেন। তাঁর ২ পুত্র এবং স্ত্রী  বেঁচে আছেন। স্ত্রী সম্পত্তির কত অংশ পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. পুত্রদের দ্বারা বঞ্চিত হবেন
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ মৃত্যুবরণ করলে নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে সবার আগে তাঁর পুত্র, পুত্রের অনুপস্থিতিতে পৌত্র (পুত্রের পুত্র) এবং পুত্র ও পৌত্রের অনুপস্থিতিতে প্রপ্রৌত্র (পুত্রের পুত্রের পুত্র) সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। কারণ, পুত্র তাঁর পিতার, পৌত্র তাঁর পিতার ও প্রপৌত্র তাঁর পিতা ও পিতামহের প্রতিনিধিত্ব করেন।  সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ অনুসারে বিধবা স্ত্রী তাঁর জীবদ্দশায় মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে পুত্রের সমান জীবনস্বত্ব পাবেন।

এখানে 'M' সম্পত্তি মোট তিন অংশে বিভক্ত হবে। সম্পত্তির বণ্টন:
- পুত্র (১) পাবে ১/৩ অংশ।
- পুত্র (২) পাবে ১/৩ অংশ।
- স্ত্রী পাবে ১/৩ অংশ।

৩৫.
ইসলামি আইনশাস্ত্রে, ওয়ালির প্রধান দায়িত্ব কী?
  1. নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করা
  2. নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা
  3. পারিবারিক সম্পত্তি দেখাশোনা করা
  4. উইলের সম্পত্তি দেখাশোনা করা
ব্যাখ্যা

নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবক (Guardian of a Minor)
ইসলামী শরিয়তে, নাবালক (অর্থাৎ, যে শিশু বা কিশোর আইনগতভাবে পূর্ণবয়সে পৌঁছায়নি) তার নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয় এবং তার ব্যক্তিগত এবং সম্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করতে অভিভাবক প্রয়োজন। এই অভিভাবককে "ওয়ালি" বলা হয়।

ওয়ালি (Guardian) - এর ভূমিকা:
ওয়ালি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নাবালকের বা অনাবালকের শারীরিক, মানসিক ও আইনি স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল। ওয়ালি সেই ব্যক্তি, যিনি নাবালক বা মেয়ে বা ছেলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার পক্ষ থেকে আইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারণত, ওয়ালি হিসেবে প্রথমে বাবা বা পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিয়োগ পায়, যদি না তারা জীবিত না থাকেন। এরপর তার পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে একজন পুরুষ বা মহিলাকে নিয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে নাবালক বা নাবালিকার স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

ওয়ালি হওয়ার শর্ত:
বয়স ও পরিপক্কতা: ওয়ালি হতে হলে অভিভাবকের অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতা: অভিভাবককে সৎ, যোগ্য এবং আইনের প্রতি আনুগত্যশীল হতে হবে।
পরিবারের অভিভাবক: প্রাথমিকভাবে, নাবালকের বাবা বা তার পরিবারের পুরুষ সদস্য ওয়ালি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, যদি বাবা না থাকেন, তাহলে মায়ের পক্ষ থেকেও অভিভাবক মনোনীত হতে পারেন।

৩৬.
হেবা গ্রহণের পূর্বে দানগ্রহীতা মৃত্যুবরণ করলে, উক্ত হেবা-
  1. বৈধ
  2. বাতিল
  3. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে বৈধ
  4. দাতার অনুমোদন সাপেক্ষে বৈধ
ব্যাখ্যা

• দান বা হেবা:
আইনের সরল ভাষায়, এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির কাছে স্বেচ্ছায় এবং বিনা প্রতিদানে কতিপয় বিদ্যমান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরকে দান বলে। মুসলিম আইনে একে 'হেবা' বলা হয়।

কোনো হেবা আইনানুগ হতে হলে অবশ্যই সেখানে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলো হলো-
(১) দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা বা প্রস্তাব (Offer);
(২) দানগ্রহীতা কর্তৃক উহা গ্রহণ (Acceptance);
(৩) দাতা কর্তৃক দানগ্রহীতাকে দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে। এই শর্তগুলো যদি পালন করা হয়, তাহলে হেবাটি আইনানুগভাবে সিদ্ধ হবে ।

হেবা করার যোগ্যতা-
নাবালক নয় এমন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।
 
কে হেবা গ্রহণ করতে পারে-
একজন মুসলিম তার সমগ্র ভূ-সম্পত্তি যেকোনো ব্যক্তি, হোক সে অমুসলিম বরাবর দান করতে পারেন। অর্থাৎ গ্রহীতার ক্ষেত্রে সাবালক, নাবালক, পুত্র, অপুত্র, স্বামী কিংবা স্ত্রী, ধনী-নির্ধন বালাই নেই, যে কাউকে দান করা যায় এবং তিনি বা তারা নির্বিবাদে দান গ্রহণ করতে পারেন। যদি হেবা গ্রহণের পূর্বে গ্রহীতা (Donee) মৃত্যুবরণ করেন, তবে হেবা গ্রহণের শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে গিফট কার্যকর হয় না এবং সেটি বাতিল (Void) হিসেবে বিবেচিত হয়।

৩৭.
তালাক-ই-তাফফিজের বিধান নিকাহনামার কত নম্বর কলামে উল্লেখ থাকে?
  1. ৮ নম্বর
  2. ১২ নম্বর
  3. ১৮ নম্বর
  4. ২৮ নম্বর
ব্যাখ্যা

• 'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':
সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে।

ইসলামিক বিবাহ নিবন্ধনের সময়, নিকাহনামার ১৮ নম্বর কলামে তালাকের ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টি উল্লেখ করার সুযোগ থাকে। যদি স্বামী এই কলামে স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করেন, তবে স্ত্রী নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে নিজেই তালাক নিতে পারেন। অতএব, তালাক-ই-তাফফিজের ক্ষমতা কার্যকর করার জন্য এই ধারাটিতে শর্তগুলি স্পষ্টভাবে লেখা থাকা জরুরি। 

৩৮.
হানাফি মুসলিম মোবারক মারা গেছেন। তার তিন স্ত্রী  এবং এক সন্তান জীবিত আছে। সম্পত্তি থেকে স্ত্রীরা মোট কত অংশ পাবেন?
  1. অর্ধেক
  2. এক তৃতীয়াংশ
  3. এক চতুর্থাংশ
  4. এক অষ্টমাংশ
ব্যাখ্যা

ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর অংশ: 
বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী রেখে মারা গেলে তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী পাবেন (১/৮) এক অষ্টমাংশ। আর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন (১/৪) এক চতুর্থাংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলেও এ অংশ বাড়বে না বরং স্ত্রীরা সবাই মিলে তাদের অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।

অর্থাৎ: স্ত্রী সংখ্যা যাই হোক, সন্তান থাকলে স্ত্রীরা সবাই মিলে ১/৮ অংশ পাবেন।

৩৯.
মুসলিম আইনে নাফাকা (Nafaqa) দ্বারা কী বোঝায়?
  1. দান করা সম্পত্তি
  2. ভরণপোষণ
  3. সম্পত্তির দায়
  4. অভিভাবকত্ব
ব্যাখ্যা

নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে।

স্ত্রীর অধিকার:
যদি কোনো স্ত্রীর কাছে স্বামীর অর্থনৈতিক সহায়তা বা নাফাকা প্রদান না করা হয়, তবে সে আদালতে নাফাকা চেয়ে মামলা করতে পারে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য নাফাকা একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি নিশ্চিত করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তালাকের পর, ইদ্দতকালে স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করাটা স্বামীর কর্তব্য

৪০.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর অধীন গঠিত সালিশী কাউন্সিল সেলিমের দ্বিতীয় বিবাহের দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করে। সেলিম এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চান। তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
  1. সালিশী কাউন্সিলে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন
  2. জেলা জজ আদালতে আপিল করবেন
  3. সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন
  4. জেলা জজ আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন
ব্যাখ্যা
উত্তর: গ) সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন।

• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।
 
২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।
 
৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।
 
৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
 
৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ড।
৪১.
Doctrine of Cy-près প্রয়োগের শর্ত কী?
  1. রাষ্ট্র ওয়াকফের আয় ব্যবহার করতে চাইলে
  2. ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতা মৃত্যুর আগে নির্দেশ না দিলে
  3. ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন সম্পত্তি প্রয়োজন হলে
  4. ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জন সম্ভব না হলে
ব্যাখ্যা

Doctrine of Cy-pres শব্দটি ফরাসি থেকে এসেছে, যার অর্থ "as near as possible"। এটি ইসলামী আইন এবং বিশেষত ওয়াকফের (Waqf) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুসলিম আইনে এই নীতি ব্যবহৃত হয় যখন ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্দেশ্য কোনো কারণে অর্জন করা সম্ভব হয় না। তখন সেই উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শরিয়াহ সম্মত একটি বিকল্প উদ্দেশ্য পূরণ করা হয়।

Doctrine of Cy-pres-এর মূল বৈশিষ্ট্য
মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে নিকটবর্তী উদ্দেশ্য:
ওয়াকফের উদ্দেশ্য যদি কার্যকর করা সম্ভব না হয়, তবে এই নীতির মাধ্যমে ওয়াকফের আয়ের ব্যবহার এমন কোনো উদ্দেশ্যে করা হয় যা মূল উদ্দেশ্যের খুব কাছাকাছি।

শরিয়াহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
বিকল্প উদ্দেশ্য অবশ্যই ইসলামী শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী হতে হবে। কোনো অশরিয়াহ কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

নিরপেক্ষ এবং সুবিবেচনা:
এই নীতির প্রয়োগ তখনই হয় যখন ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতার ইচ্ছা পূরণ করা পুরোপুরি সম্ভব নয় এবং সেই ইচ্ছার পরিবর্তে অন্য একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প খুঁজে বের করতে হয়।

৪২.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কার তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে দাপ্তরিক দায়িত্ব সম্পন্ন করেন?
  1. মহাপরিদর্শক
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. উপজেলা নির্বাহী অফিসার
  4. জেলা রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩- তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:
(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন।
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে। 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন। 

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।

৪৩.
মরজ-উল-মউত দানের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সর্বাধিক কত অংশ দান করতে পারেন?
  1. সম্পূর্ণ সম্পত্তি
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা

মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে। অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যু আশঙ্কায় থেকে তথা মৃত্যু শয্যায় থেকে দান করাকে মরজ-উল-মউত বলে। এরূপ দানের পর দাতার মৃত্যু হলে তা উইলের ন্যায় কার্যকর হবে অর্থাৎ তখন উইলের সীমাবদ্ধতা, বিধান ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে। 

অর্থাৎ, যখন কোনো ব্যক্তি এমন অসুস্থতায়/রোগে ভোগে, যার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়, এমতাবস্থায় কোনো দান (Gift/Hiba) করলে, দানটিকে মৃত্যুশয্যায় দান (Marz-ul-Maut) বলে।

এমন দান উইল (Wasiyyat) বলে গণ্য হবে এবং উইলের বিধান প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যক্তি মরজ-উল-মউতের সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তি বরাবর তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ সম্পত্তি দান (Gift/Hiba) করতে পারেন।

৪৪.
মুতা বিবাহ বলতে কী বোঝায়?
  1. স্থায়ী বিবাহ
  2. অস্থায়ী বিবাহ
  3. দেনমোহরবিহীন বিবাহ
  4. নাবালকের বিবাহ
ব্যাখ্যা

মুতা বিয়ে (Mut'a Marriage):
মুতা বিয়ে হলো একটি অস্থায়ী বিবাহের চুক্তি, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পন্ন হয় এবং চুক্তি শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এটি শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈধ বিবাহের একটি ধরন, তবে সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ে এটি বৈধ নয়।

মুতা বিয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
মুতা বিয়ে একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। সময় শেষ হলে এই বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। মুতা বিয়েতে দেনমোহর বা মেহের নির্ধারণ করা এবং তা প্রদান করা আবশ্যক। মুতা বিয়েতে স্ত্রী বা সন্তানরা সাধারণত স্বামীর উত্তরাধিকার দাবি করতে পারে না। এই বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না। এই বিবাহে তালাকের বিধান নেই, সময়সীমা শেষ হলেই বিবাহের সমাপ্তি ঘটে।

৪৫.
একজন অবিবাহিতা কন্যা স্ত্রীধন রেখে মারা গেলে প্রথমে কে উত্তরাধিকারী হয়?
  1. পিতা
  2. মাতা
  3. সহোদর ভ্রাতা
  4. সহোদর বোন
ব্যাখ্যা

স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার: 
স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার পুরুষদের উত্তরাধিকার হতে ভিন্ন প্রকৃতির। কোন অবিবাহিতা কন্যা স্ত্রীধন রাখিয়া মারা গেলে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরা উভয় মতপন্থী মতে নিম্নোক্ত তালিকা অনুযায়ী ক্রমিকানুসারে তাহার ওয়ারিশদের উপর বর্তায়। যথা:
(ক) সহোদর ভ্রাতা।
(খ) মাতা।
(গ) পিতা
(ঘ) পিতার নিকটতম উত্তরাধিকারীগণ।