পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৯৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১১ Full Model Test - 1
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৯৫ প্রশ্ন

.
'Espionage' - এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. তকমা
  2. প্রান্তরেখা
  3. গুপ্তচরবৃত্তি
  4. পটভূমি
ব্যাখ্যা

• 'Espionage' এর সঠিক বাংলা পরিভাষা - গুপ্তচরবৃত্তি। 

• অন্যদিকে,

- Badge- তকমা,
- Background- পটভূমি,
- Indention - প্রান্তরেখা।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।

.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. চন্দ্ৰমুখ
  2. কাজলকালো
  3. সিংহপুরুষ
  4. মনমাঝি
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।

 যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

• অন্যদিকে: 
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্ৰমুখ
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

.
"শুনিলাম মানবের কত বাণী দলে দলে
অলক্ষিত পথে উড়ে চলে
অস্পষ্ট অতীত হতে অস্ফুট সুদূর যুগান্তরে।" - উদ্ধৃত কাব্যাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• "শুনিলাম মানবের কত বাণী দলে দলে
অলক্ষিত পথে উড়ে চলে
অস্পষ্ট অতীত হতে অস্ফুট সুদূর যুগান্তরে।"- উদ্ধৃত কাব্যাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বলাকা' কাব্যের অন্তর্গত সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা' কবিতার অংশবিশেষ।

এখানে কবি মানুষের চলার গতিপ্রবাহ সম্পর্কে ব্যঞ্জনাময় উক্তি করছেন।
সন্ধ্যা ও রাত্রির সন্ধিক্ষণে এক ঝাঁক হংসপাখির আকস্মিক শব্দঝংকারে কবিচিত্তে উন্মোচিত হয়েছে বিশ্বসৃষ্টির চলার ধর্ম সম্পর্কিত বোধি। সচল ও অচল উভয় বস্তুতে তিনি প্রত্যক্ষ করেন অন্তবিহীন চলমানতা, সুদূর অতীত উৎস থেকে অনাগত ও অস্ফুট ভবিষ্যতের দিকে সবকিছুই নিরন্তর ধাবিত হচ্ছে। মানুষ সৃষ্টির চৈতন্যবান প্রাণী, তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, শ্রম-কর্ম ও বাণী রয়েছে। মানুষ সর্বদাই স্বপ্ন ও আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে চায়। এই অসংখ্য স্বপ্নাদর্শ বাণীরূপ ধারণ করে অতীত থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, বর্তমান পার হয়ে তারা চলছে অপরিস্ফুট সুদূর ভবিষ্যতের দিকে। চলার ধর্মই জীবন ধর্ম, চৈতন্যেরও লক্ষ্য এই চলার মধ্য দিয়ে পূর্ণতায় পৌঁছানো; কিন্তু সেই পূর্ণতার স্বরূপ সে জানেনা, তাই কবি একে অস্ফুট বলছেন। তবে মানুষ তার সুন্দর, শুভ ও কল্যাণময় সত্তার দিকেই ছুটে চলছে।
মানুষের এই যাত্রাপথটিকে কবি দেখতে পাচ্ছেন, এক অর্থে রবীন্দ্রনাথ সর্বদাই পথিক মানুষের কথা বলেন- চলাই যার আনন্দ।

============ 
• 'বলাকা' কাবগ্রন্থ: 
- বলাকা ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
- কাব্যটি রবীন্দ্র কবি মানসের বিবর্তন ধারাপথে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- এ কাব্যের ভাষা তীক্ষ্ণ, দীপ্ত, শাণিত ও উজ্জ্বল।
- এ কাব্যের ছন্দের গতিময়তা ও ভাষার সংহতি এবং নবতর বক্তব্যকে রূপ দেওয়ার কারণে এর আঙ্গিক একটি বিশিষ্টরূপ লাভ করেছে।
- কাব্যটি রচনার পশ্চাতে তিনটি বিষয় কবিকে অনুপ্রাণিত করেছে;
ক. কবির ইউরোপ ভ্রমণ, খ. কবির নোবেল পুরস্কার লাভ, গ. সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রথম মহাযুদ্ধ। 
---------------------- 
সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা
আঁধারে মলিন হল--যেন খাপে-ঢাকা
বাঁকা তলোয়ার;
দিনের ভাঁটার শেষে রাত্রির জোয়ার
এল তার ভেসে-আসা তারাফুল নিয়ে কালো জলে;
অন্ধকার গিরিতটতলে
দেওদার তরু সারে সারে;
মনে হল সৃষ্টি যেন স্বপ্নে চায় কথা কহিবারে,
বলিতে না পারে স্পষ্ট করি,
অব্যক্ত ধ্বনির পুঞ্জ অন্ধকারে উঠিছে গুমরি।

উৎস: সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা, বলাকা- কাব্য, বাংলাপিডিয়া।

.
"ঈ-প্রত্যয়" -যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কিশোরী
  2. নারী
  3. সুন্দরী
  4. বুদ্ধিমতী
ব্যাখ্যা

• 'মতী প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী,
শ্রীমান - শ্রীমতী।

• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিশোর - কিশোরী,
নর - নারী,
সুন্দর - সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সালের সংস্করণ)।

.
বঙ্গ-কামরূপী ভাষায় পদ রচনা করেন কোন কবি?
  1. বীণাপা
  2. সরহপা
  3. শান্তিপা
  4. জয়নন্দীপা
ব্যাখ্যা

• সরহ পা: 
- সরহ পা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা ছিল বঙ্গ-কামরূপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা।তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

অন্যদিকে,
• বীণাপা রচিত চর্যাপদের ভাষা ছিল বাংলা।
• শান্তিপা রচিত চর্যাপদের ভাষা ছিল প্রাচীন মৈথিলি।
• জয়নন্দীপা রচিত পদের ভাষা ছিল আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপ তথা প্রত্ন-মৈথিলি-উড়িয়া-বাংলা-আসামি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

.
"চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ো না।" – বাক্যটিতে ‘চলন্ত' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. পূরণবাচক
  4. গুণবাচক
ব্যাখ্যা

• অবস্থাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন,
- চলন্ত ট্রেন, - তরল পদার্থ – এখানে ‘চলন্ত ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• "চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ো না।" – বাক্যটিতে ‘চলন্ত' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
-------------------

• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন চালাক - ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা’ হলো গুণবাচক বিশেষণ। 

• ক্রমবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: এক টাকা, - আট দিন – এখানে এক’ ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম’ পূরণবাচক বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

.
বিরোধ যোজক কোনটি?
  1. তাই
  2. যত
  3. তবুও
  4. না-হয়
ব্যাখ্যা

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না। - এখানে, "তবুও" - বিরোধ যোজক হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ যোজক - যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
বিকল্প যোজক - চা না-হয় কফি খান।
কারণ যোজক- বসার সময় নেই তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
সৈয়দ মুজতবা আলী মূলত কোন ধরনের রচনার জন্য বিখ্যাত?
  1. রম্য নাটক
  2. আধুনিক উপন্যাস
  3. মহাকাব্য
  4. রম্যরচনা
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষাশৈলী ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য:
সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা রম্যরচনার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন ভাষা থেকে শ্লোক, রূপক, শব্দ, বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচনের যথার্থ ব্যবহার, সূক্ষ্ম হাস্যরস সৃষ্টিতে দক্ষতা এবং গভীর জীবনবোধকে সহজ–সরল অথচ বুদ্ধিদীপ্ত ভাষায় প্রকাশ করার অসামান্য ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি রম্যরচনার জন্য বিখ্যাত।

রম্যরচনায় তাঁর ভাষাভঙ্গি এমন স্বতন্ত্র—যা অনুকরণ করা আজও কোনো বাংলা সাহিত্যিকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ তাঁর স্টাইল ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং বহু ভাষাগত উপাদানে সমৃদ্ধ। তিনি ছিলেন এক বহুভাষাবিদ; ফলে তাঁর রচনায় প্রবেশ করেছে বহুভাষার অজস্র শব্দ, বিশেষ উচ্চারণরীতি, ভাষাভঙ্গি, বাগধারা এবং শব্দচয়নের অভিনবত্ব।

বিভিন্ন ভাষার শব্দ, শব্দাংশ বা ধ্বনি মিলিয়ে তিনি অসংখ্য নতুন শব্দ বা ‘জোড়কমল শব্দ’ সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁর রচনাকে দিয়েছে আলাদা স্বকীয়তা, মাধুর্য এবং অনবদ্য রসের স্বাদ।

সাহিত্যিক সৃজনশীলতা, ভাষার খেলায় দক্ষতা, আর রসিকতাকে জীবনের গভীর সত্যের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষমতার জন্যই সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যে একমাত্র ও অদ্বিতীয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:

• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।

.
"মাটি দিয়ে কলসি তৈরি হয়।" - এখানে 'মাটি' কোন কারক?
  1. সম্প্রদান
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• "মাটি দিয়ে কলসি তৈরি হয়।"
- এখানে 'কিসের দ্বারা' কলসি তৈরি হয় প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মাটি' দ্বারা।
- সে অনুসারে, এখানে 'মাটি' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১০.
"টুপ ভুজঙ্গ"- বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. অনভিজ্ঞ
  2. নেশাগ্রস্ত
  3. আশায় নৈরাশ্য
  4. অপদার্থ
ব্যাখ্যা

 • "টুপ ভুজঙ্গ"- বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নেশাগ্রস্ত।
বাক্য গঠন: বেটা টুপ ভুজঙ্গ, এ পাড়ায় মাতলামি করতে এসো না।

অন্যদিকে,
• 'আকাশের চাঁদ' - দুর্লভ বস্তু।
• ’গুড়ে বালি’ - আশায় নৈরাশ্য।
• 'অকাল কুষ্মাণ্ড' - অপদার্থ।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা হলো:
• ’চুলোয় যাওয়া’ - নষ্ট হওয়া।
• ‘কেবলা হাকিম’ - অনভিজ্ঞ।
• ’গোড়ায় গলদ’ - শুরুতেই ভুল।
• 'কেতাদুরস্ত' — পরিপাটি। 
• ’কৈ মাছের জান’ - যা সহজে মরে না।
• ’তিলকে তাল করা’ - ছোটকে বড় করা।
• 'অক্ষরে অক্ষরে' - সম্পূর্নভাবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১.
They demanded to open the gate immediately. (make it passive)
  1. She demanded that the gate is being opened immediately.
  2. She demanded that the gate to be opened immediately.
  3. They demanded that the gate should be opened immediately.
  4. She demanded that the gate has to be opened immediately.
ব্যাখ্যা

• Agree/ be anxious/ arrange/ determine/ be determined/ decide/ demand + infinitive object যুক্ত Sentence কে Active voice কে Passive voice করার নিয়ম: 
- প্রদত্ত Active voice এর Subject ও Verb বসবে।
that বসে।
- Infinitive এর পরের Object বসবে।
should be বসে।
- Infinitive এর পরের verb এর past participle বসে।

• Active voice
: They demanded to open the gate immediately.
• Passive voice: They demanded that the gate should be opened immediately.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.

১২.
I heard the news that they were getting married.
Here, the underlined clause is a/ an -
  1. Noun Clause
  2. Adverbial Clause
  3. Adjective Clause
  4. Prepositional Clause
ব্যাখ্যা

Noun Clause:
- যে সব Subordinate Clause Noun এর কাজ করে থাকে, অর্থাৎ Subject, Object, Compliment বা Case in Apposition এর কাজ করে থাকে তাকে Noun Clause বলে।

Noun Clause বিভিন্নভাবে ব্যবহার হতে পারে। যেমন:
- Verb এর Subject হিসেবে।
- Verb এর Object হিসেবে।
- Object এর complement হিসেবে। Complement দুই প্রকার। যেমন: 1. Subjective Complement এবং 2. Objective Complement
- Verb এর Subject এর Complement হিসেবে। 
- Noun বা pronoun এর apposition হিসেবে।
- Preposition এর object হিসেবে।

• Noun বা pronoun এর apposition হিসেবে - News, Belief, Fact, Rumour ইত্যাদি এরপর Noun in apposition হিসেবে Noun Clause হয়।
- Noun in apposition হিসেবে Clause টি that দ্বারা শুরু হয়। তাই 'that they were getting married' একটি Noun clause.
- that they were getting married এখানে the news সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করছে।

• উল্লেখ্য, Apposition হলো কোন Noun/ pronoun সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করা।
- এই অতিরিক্ত তথ্য noun/ pronoun কে modify করে না। তাই তা adjective clause হবে না।

Correct Answer: I heard the news that they were getting married. Here, the underlined clause is a/ an - Noun Clause.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.

১৩.
Choose the correct spelling.
  1. Jurisdition
  2. Jorisdiction
  3. Juridiction
  4. Jurisdiction
ব্যাখ্যা

• The correct spelling is 'Jurisdiction' (Noun).

Jurisdiction
- English meaning: The authority that an official organization has to make legal decisions about somebody/something.
- Bangla meaning: বিচারব্যবস্থা; আইনগত অধিকার; আইনগত অধিকারের ব্যাপ্তি বা সীমা; অধিকারের এলাকা; এক্তিয়ার। 

Example sentence: The court has no jurisdiction over cases outside its state.
- Bangla meaning: আদালতের কোনো কর্তৃত্ব নেই তার রাজ্য সীমার বাইরে মামলার ওপর।

Source: Accessible Dictionary, Oxford Dictionary, Merriam & Webster Dictionary.

১৪.
Which philosopher said, "The last capitalist we hang shall be the one who sold us the rope"? 
  1. Karl Marx
  2. Jean-Jacques Rousseau
  3. Niccolo Machiavelli
  4. Vladimir Lenin
ব্যাখ্যা

"The last capitalist we hang shall be the one who sold us the rope" was said by - Karl Marx.

Karl Marx (1818-1883)
- তিনি একাধারে একজন German philosopher, revolutionary, sociologist, historian এবং economist.
- Victorian Period এর অন্যতম এই লেখকের পুরো নাম Karl Heinrich Marx.
- Karl Marx was born on May 5, 1818, Prussia [Germany]
- He died on March 14, 1883, London, England.
- Karl Marx কে “ Socialism and modern scientific communism” বলা হয়।
- তিনি Friedrich Engels -এর সঙ্গে মিলে ১৮৪৮ সালে 'The Communist Manifesto' প্রকাশ করেন, যা সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

His famous books:
- Das Kapital,
- Communist Manifesto,
- Holy Family,
- The Eighteenth Brumaire of Louis Bonaparte
- The Poverty of Philosophy.

Famous quotes:
- Men make their own history.
- Religion is opium to the people.
- History repeats itself, first as a tragedy, second as a farce.

Source: Britannica.

১৫.
The proposed plan runs counter to the original objectives.
Here, what is the meaning of the phrase 'run counter to'?
  1. Contradict
  2. Disobey
  3. Generous
  4. Remove
ব্যাখ্যা

The required answer is - Contradict.

Run counter to
- English meaning: To be opposed to; To disagree with someone.
- Bangla meaning: বিরোধিতা করা, কারো সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা। 

উল্লিখিত অপশনগুলো,
- Contradict (Verb) - বিরুদ্ধ বা বিসদৃশ হওয়া;
- Disobey (Verb) - আদেশ অমান্য করা;
- Generous (Adjective) - উদার;
- Remove (Verb) - সরানো; সরিয়ে নেওয়া।

সুতরাং, অপশনের অর্থ বিবেচনা করে দেখা যায় যে, The meaning of the phrase 'run counter to' is - Contradict.

Source: Oxford Dictionary, Merriam Webster Dictionary, Accessible Dictionary.

১৬.
Choose the correct sentence.
  1. The strength of this bridge is higher than old bridge.
  2. The strength of this bridge is higher than those of the old bridge.
  3. The strength of this bridge is higher than that of the old bridge.
  4. The strength of this bridge is higher than the old bridge's strength.
ব্যাখ্যা

Correct Sentence: The strength of this bridge is higher than that of the old bridge.

• দুটি Noun এর মধ্যে তুলনা করার সময় পূর্বের Noun এর পুনরাবৃত্তি পরিহার করতে Uncountable Noun এর পরিবর্তে that of এবং Plural Countable Noun এর পরিবর্তে those of ব্যবহৃত হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোনো Comparative sentence এর প্রথম অংশ যদি The + Noun + of + Noun হয়, তবে verb এর পরের অংশ হবে than + that/ those of হবে।

উল্লিখিত বাকি অপশনগুলো,
(ক) Sentence টিতে Comparative sentence এর প্রথম অংশের নিয়ম অনুসারে The + Noun + of + Noun (The strength of this bridge) হয়েছে, তাই দ্বিতীয় অংশে than এরপর that of হবে। কারণ, The strength of this bridge দ্বারা Uncountable Noun কে বুঝায়।

(খ) Sentence টিতে The strength of this bridge, Uncountable Noun কে বুঝায় তাই those of এর পরিবর্তে that of হবে।

(ঘ) দুটি Noun এর মধ্যে তুলনা করার সময় পূর্বের Noun এর পুনরাবৃত্তি পরিহার করতে হবে। তাই Sentence টিতে The strength of this bridge, Uncountable Noun কে বুঝায় তাই এখানে the old bridge's strength এর পরিবর্তে han that of the old bridge হবে।

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.

১৭.
Who is the main character of the novel "Vanity Fair"? 
  1. Lady Crawley
  2. Miss Pinkerton
  3. Becky Sharp
  4. Amelia Sedley
ব্যাখ্যা

The main character of the novel "Vanity Fair" is - Becky Sharp.

Vanity Fair:
- এটি William Makepeace Thackeray রচিত একটি Novel.
- It was published in 1848.
- It is a novel about early 19th-century English society.
- এটি নিজ নামে প্রকাশিত William Makepeace Thackeray এর প্রথম লেখা।
- এই উপন্যাসকে বলা হয় A Novel Without a Hero. কারণ, সাধারণ উপন্যাস গুলোতে যেভাবে একজন বিশেষ নায়ক বা নায়িকার কর্মকান্ডকে প্রধান বিবেচনা করে কাহিনি আবর্তিত হয়, তার উপন্যাস গুলো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বরং বহু চরিত্রকে ঘিরে তার উপন্যাসের কাহিনি গড়ে ওঠে।

সার-সংক্ষেপ:
- এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র Becky Sharp নামের একজন মেয়ে।
- যে জাগতিক সাফল্য অর্জনকেই তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য উদ্দেশ্য মনে করে। এই লক্ষ্য অর্জনে নৈতিকতার ধার ধারেনা।
- অপর গুরুত্বপূর্ন চরিত্র Amelia সৎ এবং নৈতিকতা গুন সম্পন্ন। তবে সে Becky Sharp এর মতো রোমাঞ্চ-অন্বেষী নয়।
- এই দুই নারী চরিত্রের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা উত্থান-পতন এবং তাদের সংস্পর্শে আসা পুরুষদের বিভিন্ন ঘটনাবহুল চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উপন্যাসটিতে।

• William Makepeace Thackeray (1811-1863):
- তিনি একজন Indian-born British novelist.
- Victorian Period এর একজন ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'The Cornhill Magazine' এর founder.

Best Works:
- Vanity Fair,
- The Virginians: A Tale of the Last Century,
- Catherine: A Story.

Source: Britannica, An ABC of English Literature by M Mofizar Rahman.

১৮.
The hiring of new staff is contingent ________ the approval of the finance department.
  1. in
  2. on
  3. with
  4. over
ব্যাখ্যা

Complete sentence: The hiring of new staff is contingent on the approval of the finance department.

Contingent on/ upon something:
- English Meaning: depending on something else in the future in order to happen.
- Bangla Meaning: (কোনো কিছু) সাপেক্ষ (ঘটতে পারে আবার না-ও পারে)।

Example sentence:
- Outdoor activities are, as ever, contingent on the weather.

Source: Cambridge Dictionary, Accessible Dictionary by Bangla Academy.

১৯.
Had they arrived earlier, they __________ the manager.
  1. have met
  2. would have meet
  3. would have met
  4. would met
ব্যাখ্যা

Third Condition এর নিয়ম অনুসারে:
- If বা Had যুক্ত দুটি clause থাকে। 
- দুটি clause এর যেকোন একটিতে If/ had দিয়ে clause টি শুরু হবে।
- If বা Had যুক্ত clause টি Past Perfect Tense হয়। 
- ২য় clause টি Past perfect Conditional (would have, might have, should have, could have) বসে।
- Verb এর Past Participle form বসে।

Complete Sentence: Had they arrived earlier, they would have met the manager.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.

২০.
Who famously said, "Pleasure's a sin, and sometimes sin's a pleasure"? 
  1. William Blake
  2. John Keats
  3. S. T. Coleridge
  4. Lord Byron
ব্যাখ্যা

Lord Byron famously said, "Pleasure's a sin, and sometimes sin's a pleasure".
- উক্তিটি  Lord Byron বিখ্যাত কবিতা Don Juan হতে উদ্ধৃত।

Don Juan
- Romantic period এর অন্যতম Poet and Satirist হলো Lord Byron.
- এর অনবদ্য সৃষ্টি Don Juan হচ্ছে A satire in the form of a picaresque verse tale.
- এই কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে Don Juan এবং যাকে ঘিরে এই কবিতার মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে।
- তার নামেই কবিতাটির নামকরণ করা হয়েছে।

- Donna Julia কে এই কবিতায় প্রথমে Don Juan এর মায়ের বান্ধবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, পরবর্তীতে যার সঙ্গে Don Juan একটি অসম প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে।
- বিভিন্ন নাটকীয়তা শেষে তাদের এই ভালোবাসার করুণ পরিণতি দেখতে পাওয়া যায়।

এই কবিতার গুরুত্বপুর্ন চরিত্র সমুহ
- Don Juan,
- Donna Inez,
- Donna Julia,
- Don Alfonso, etc.

এই কবিতার কিছু বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে -
- "Sweet is revenge — especially to women.
- "Pleasure's a sin, and sometimes sin's a pleasure."
- "Man's love is of man's life a thing apart, 'Tis woman's whole existence."

Lord Byron
- তার পুরো নাম হলো George Gordon Byron.
- George Gordon Byron (1788-1824) একজন British Romantic Poet এবং Satirist ছিলেন।
- ১৭৯৮ সালে ১০ বছর বয়সে, তিনি তার বড়-চাচা William Byron এর উপাধি পেয়েছিলেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে Lord Byron হিসাবে স্বীকৃত হন।

His Best Works
- Beppo,
- Childe Harold’s Pilgrimage,
- Don Juan,
- English Bards and Scotch Reviewers,
- Giaour,
- Hours of Idleness,
- Lara,
- Manfred,
- Sardanapalus,
- The Bride of Abydos,
- The Corsair,
- The Prisoner of Chillon,
- The Two Foscar, etc.

Source: Britannica and Live MCQ Lecture.

২১.
বাংলাদেশ কত তারিখে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর সদস্য পদ লাভ করে?
  1. ৮ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. ১৫ জুন, ১৯৭২
  3. ১২ নভেম্বর, ১৯৭৩
  4. ২২ জুন, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

ILO:
- ILO এর পূর্ণরূপ: International Labour Organization.
- এটি ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তির ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর ILO জাতিসংঘের প্রথম বিশেষায়িত সংস্থার মর্যাদা লাভ করে।
- ILO এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮৭টি।
- বর্তমান ১১তম মহাপরিচালক  গিলবার্ট এফ হাউংবো (অক্টোবর ২০২২ থেকে)
- বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ২২ জুন ILO এর সদস্যপদ লাভ করে।
- ILO ১৯৬৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে।

উৎস: ILO ওয়েবসাইট।

২২.
পূর্ব তিমুর কোন দেশ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. পর্তুগাল
  3. ইন্দোনেশিয়া 
  4. পাপুয়া নিউগিনি
ব্যাখ্যা

পূর্ব তিমুর:
- আনুষ্ঠানিক নাম "ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব টিমর-লেস্টে,"
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র।
- এটি তিমুর দ্বীপের পূর্ব অংশে অবস্থিত।
- দেশটির আয়তন প্রায় ১৪,৯১৯ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ১.৩ মিলিয়ন।
- রাজধানী দিলি, এবং দেশটির প্রধান ভাষা টেটুন এবং পর্তুগিজ।
- পূর্ব তিমুর ২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
- দেশটির অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক এবং প্রধান রপ্তানি পণ্য কফি।
- এটি একটি সংবিধানিক প্রজাতন্ত্র, যেখানে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

উৎস: Britannica.

২৩.
দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মাঝখানে অবস্থিত দেশকে বলা হয়-
  1. উপনিবেশ রাষ্ট্র
  2. বাফার রাষ্ট্র 
  3. নিরপেক্ষ রাষ্ট্র
  4. জিরোসাম রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

বাফার রাষ্ট্র:
- দুই বা ততোধিক প্রতিদ্বন্দ্বী বৃহৎ শক্তিসমূহের মাঝখানে অবস্থিত দেশকে বাফার স্টেট বলা হয়।
- দুটি বৃহৎ শক্তিশালী দেশের মধ্যস্থলে অবস্থিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেক সময় বিশেষভাবে সাহায্য করে।
- দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত বেলজিয়ামের কথা উল্লেখ করতে পারি।
- বৈশ্বিক রাজনীতি ও কুটনীতিতে দুই বা ততােধিক বিবাদমান শক্তি বা দেশসমূহের মধ্যে সংঘর্ষ ও সংঘাত এড়ানাের জন্য দুইরাষ্ট্র বা শক্তির মাঝখানে যে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয় বা বজায় রাখা হয় এবং যা অস্তিত্বশীল, সে রাষ্ট্রকে বাফার রাষ্ট্র বলা হয়।

⇒ বেলজিয়াম (জার্মানি-ফ্রান্সের মাঝে), নেপাল ও ভুটান (ভারত-চীন), লেবানন (ইসরায়েল এবং সিরিয়ার মধ্যে) এবং মঙ্গোলিয়া (চীন-রাশিয়ার মাঝে) বাফার স্টেটের উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
- মঙ্গোলিয়া ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীনের মধ্যে একটি বাফার হিসাবে কাজ করেছিল।
- এটি বর্তমানে রাশিয়া এবং চীনের মধ্যে একটি বাফার হিসাবে কাজ করে। 

উৎস: WorldAtlas.

২৪.
২০২৫ সালের বুকার পুরস্কার লাভ করেন কে?
  1. ডেভিড সা–লাই
  2. মিশেল এইচ ডেভোরেট
  3. জন ক্লার্ক
  4. লাজলো ক্রাজনাহরকাই
ব্যাখ্যা

• বুকার পুরস্কার (Booker Prize) - একটি সাহিত্য পুরস্কার।
- এটি যুক্তরাজ্য থেকে প্রদান করা হয়। 
- পুরস্কারটির পূর্বনাম ছিল - Booker–McConnell Prize ও Man Booker Prize।
- ১৯৬৮ সাল থেকে পুরস্কারটি শুধু ব্রিটিশ লেখকদের প্রদান করা হত। 
- পরবর্তীতে তা কমনওয়েলথ দেশ সমূহের ইংরেজি ভাষার লেখক এবং ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ইংরেজি ভাষার লেখকদের প্রদান করা হয়ে আসছে।

⇒ হাঙ্গেরীয়-ব্রিটিশ লেখক ডেভিড সা–লাই তাঁর 'ফ্লেশ' উপন্যাসের জন্য এ বছর বুকার পুরস্কার জিতেছেন।
- উপন্যাসটিতে একজন হাঙ্গেরীয় অভিবাসীর অর্থ উপার্জন এবং হারানোর বেদনাদায়ক গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

 উৎস: বুকার ‍পুরস্কার ওয়েবসাইট।

২৫.
২০তম জি–২০ শীর্ষ সম্মেলন-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয় কোন শহরে?
  1. রিও ডি জেনিরো
  2. কোপেনহেগেন
  3. জোহানেসবার্গ
  4. জেনেভা
ব্যাখ্যা

জি-২০:
- গ্রুপ অব টুয়েন্টি (G20) হলো আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান ফোরাম।
- এটি সমস্ত প্রধান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ইস্যুতে বৈশ্বিক স্থাপত্য এবং শাসন গঠন এবং শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৯৯ সালে এই অর্থনৈতিক জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- জি-২০ জোটের বর্তমান সদস্য: আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
- জি-২০ জোটের নতুন সদস্য আফ্রিকান ইউনিয়ন। 
- বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৮৫ শতাংশই এই জোটের দখলে।
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশের সঙ্গে জড়িত জি-২০ দেশগুলো।
- ২০২৫ সালে ২০তম সম্মেলন জি-২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় আফ্রিকার অর্থনৈতিক রাজধানী জোহানেসবার্গে ।

উৎস: i) আল জাজিরা।
         ii) G-20 ওয়েবসাইট।

২৬.
জাতিসংঘ কোন সালকে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ (IYWF) ঘোষণা করেছে?
  1. ২০২৭ সাল
  2. ২০২৬ সাল
  3. ২০২৮ সাল
  4. ২০২৫ সাল
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘ ২০২৬ সালকে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ (IYWF 2026) ঘোষণা করেছে।
- এই বছর কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায়, উৎপাদন থেকে শুরু করে বাণিজ্য পর্যন্ত, নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হবে, যদিও প্রায়শই তা অস্বীকৃত থেকে যায়।
- খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে নারী কৃষকরা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
- IYWF 2026 বিশ্বব্যাপী নারীদের জীবিকা উন্নত করতে এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পদক্ষেপ গ্রহণের প্রচার করবে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

২৭.
কোন সম্রাটের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. সম্রাট হুমায়ূন
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা

- প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
- বারোভূঁইয়াদের দমন করার জন্য সম্রাট আকবর বিশেষ মনোযোগ দেন।
- এজন্য তিনি ১৫৮৩ সালে শাহবাজ খান, ১৫৮৫ সালে সাদিক খান, ১৫৮৬ সালে উজির খান ও ১৫৯৪ সালে রাজা মানসিংহকে বাংলার সুবাদার করে পাঠান।
- তাঁরা ঈসা খান ও অন্যান্য জমিদারের সাথে বহুবার যুদ্ধ করেন।
- কিন্তু বারোভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খানকে সম্পূর্ণ পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।
- তিনি সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকারের বিনিময়ে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন।
-১৫৯৯ সালে ঈসা খানের মৃত্যু হলে বারোভূঁইয়াদের নেতা হন তাঁর পুত্র মুসা খান।
- এদিকে ১৬০১ সালে মানসিংহকে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলায় পাঠানো হয়। এবার মানসিংহ কিছুটা সফল হন।
- ১৬০৩ সালে মুসা খান এক নৌযুদ্ধে মানসিংহের হাতে পরাজিত হন।
- কিন্তু চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করার আগে সম্রাট আকবরের অসুস্থতার খবর আসে।
- সম্রাটের ডাকে মানসিংহ আগ্রায় ফিরে যান।
- সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সেলিম 'জাহাঙ্গীর' নাম ধারণ করে ১৬০৫ সালে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি মানসিংহকে আবার বাংলায় প্রেরণ করেন।
- এক বছর পর ১৬০৬ সালে কুতুব উদ্দিন কোকাকে বাংলার প্রাদেশিক শাসক বা সুবাদার নিয়োগ করা হয়।
- কুতুব উদ্দিন শের আফকুনের হাতে প্রাণ হারান।
- তাঁর পরবর্তী সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খান এক বছর পর মারা যান।
- এর পর ইসলাম খান ১৬০৮ সালে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- বারোভূঁইয়াদের মোকাবিলা করার জন্য ইসলাম খান শক্তিশালী নৌবহর গড়ে তোলেন।
- মুসা খানের সাথে প্রথম সংঘর্ষ বাধে ১৬০৯ সালে করতোয়া নদীর পূর্বতীরে যাত্রাপুরে।
- সেখানে মুসা খানের দুর্গ ছিল। যুদ্ধে মুসা খান ও অন্যান্য জমিদার শেষ পর্যন্ত পিছু হটেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী।
- সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর'। 
- বাংলার বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ সালে)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৮.
”শাহবাজপুর” কোন জেলার পূর্ব নাম?
  1. বরিশাল
  2. ভোলা
  3. নোয়াখালী
  4. লক্ষ্মীপুর 
ব্যাখ্যা

• ভোলা:
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত ভোলা জেলা।
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ যা বাংলা করলে ‘বাংলাদেশের দ্বীপের রাণী’ হয়।
-  বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা।
- ভোলা জেলার পূর্ব নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর।
- হিমালয় থেকে নেমে আসা ৩টি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ।
- জেলাটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৯.
ফরাসি বিপ্লব শেষ হয় কত সালে?
  1. ১৭৮৯ সালে
  2. ১৭৮৩ সালে
  3. ১৭৯২ সালে
  4. ১৭৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।
- 'স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী'- ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসী বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ১৭৯৯ সালে এই বিপ্লব শেষ হয়।

উল্লেখ্য,
- রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার লেখনীর মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।

উৎস: Britannica.

৩০.
মার্কিন রাজনীতিবিদ জোহরান মামদানির জন্মস্থান কোথায়?
  1. দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. নাইজেরিয়া
  4. উগান্ডা
ব্যাখ্যা

- ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত ১১১তম মেয়র।
- গত ১০০ বছরের মধ্যে নিউ ইয়র্কের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হলেন ৩৪ বছর বয়সী মামদানি।
- নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র তিনি।
- জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার তিনবারের নির্বাচিত সদস্য। 
- তাঁর জন্ম উগান্ডায়।
- শিশু মামদানি বড় হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে।
- সাত বছর বয়সে মা–বাবার হাত ধরে তিনি নিউইয়র্কে চলে আসেন।
- নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য হওয়ার আগে জোহরান একজন কাউন্সিলর ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একজন ‘র‍্যাপার’ও।

উৎস: প্রথম আলো।

৩১.
একটি ক্লাসে ৮০০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে যার মধ্যে ৪০% ছাত্র, সেই ক্লাসে ছাত্রীর সংখ্যা কত হবে? 
  1. ৪৮০ জন 
  2. ৪৫০ জন 
  3. ৫২০ জন 
  4. ৫৫০ জন 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ক্লাসে ৮০০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে যার মধ্যে ৪০% ছাত্র, সেই ক্লাসে ছাত্রীর সংখ্যা কত হবে? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
মোট ছাত্র-ছাত্রী = ৮০০ জন 

∴ ক্লাসে ছাত্র সংখ্যা = ৮০০ এর ৪০% 
= ৮০০ এর ৪০/১০০ 
= ৩২০ জন

∴ ক্লাসে ছাত্রীর সংখ্যা = (৮০০ - ৩২০) জন
= ৪৮০ জন।

৩২.
a = 1, b = 1, c = 2 এবং d = 2 হলে, a - (- b) - (- c) - (- d) = কত? 
  1. 0
  2. 3
  3. 6
  4. 4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: a = 1, b = 1, c = 2 এবং d = 2 হলে, a - (- b) - (- c) - (- d) = কত? 

সমাধান: 
a - (- b) - (- c) - (- d) 
= a + b + c + d 
= 1 + 1 + 2 + 2 
= 6

৩৩.
৪০ জন পুরুষ একটি পুকুর ৩০ দিনে খনন করতে পারে। কত জন পুরুষ ৪০ দিনে পুকুরটি খনন করতে পারবে? 
  1. ২০ জন 
  2. ২৫ জন 
  3. ৩০ জন 
  4. ৪০ জন
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৪০ জন পুরুষ একটি পুকুর ৩০ দিনে খনন করতে পারে। কত জন পুরুষ ৪০ দিনে পুকুরটি খনন করতে পারবে? 

সমাধান: 
৩০ দিনে পুকুরটি খনন করতে পুরুষ লাগে = ৪০ জন
∴ ১ দিনে পুকুরটি খনন করতে পুরুষ লাগে = ৪০ × ৩০ জন 
∴ ৪০ দিনে পুকুরটি খনন করতে পুরুষ লাগে = (৪০ × ৩০)/৪০ জন 
= ৩০ জন। 

∴ নির্ণেয় লোক সংখ্যা = ৩০ জন।

৩৪.
২১ মিটার দীর্ঘ এবং ১৫ মিটার প্রস্থ একটি বাগানের বাইরের চারদিকে ২ মিটার প্রশস্ত একটি রাস্তা আছে । রাস্তাটির ক্ষেত্রফল কত? 
  1. ১৬০ বর্গমিটার
  2. ১৫০ বর্গমিটার
  3. ১৮০ বর্গমিটার
  4. ১৯০ বর্গমিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ২১ মিটার দীর্ঘ এবং ১৫ মিটার প্রস্থ একটি বাগানের বাইরের চারদিকে ২ মিটার প্রশস্ত একটি রাস্তা আছে । রাস্তাটির ক্ষেত্রফল কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
রাস্তাসহ বাগানের দৈর্ঘ্য = {২১ মি. + (২ + ২) মি.} = ২৫ মিটার 
রাস্তাসহ বাগানের প্রস্থ = {১৫ মি. + (২ + ২) মি.} = ১৯ মিটার 
∴ রাস্তাসহ বাগানের ক্ষেত্রফল = (২৫ × ১৯) বর্গমিটার 
= ৪৭৫ বর্গমিটার

আবার, 
রাস্তাবাদে বাগানের ক্ষেত্রফল = (২১ × ১৫) বর্গমিটার 
= ৩১৫ বর্গমিটার

∴ রাস্তার ক্ষেত্রফল = (৪৭৫ – ৩১৫) বর্গমিটার 
= ১৬০ বর্গমিটার।

৩৫.
৩১০° কোণকে কী কোণ বলে? 
  1. পূরক কোণ 
  2. সূক্ষ্মকোণ 
  3. প্রবৃদ্ধ কোণ 
  4. স্থূলকোণ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৩১০° কোণকে কী কোণ বলে? 

সমাধান: 
- যে কোণের পরিমাণ ১৮০° থেকে বা দুই সমকোণের চেয়ে বড় কিন্তু ৩৬০° থেকে ছোট তাকে প্রবৃদ্ধ কোণ বলে। 
সুতরাং, ৩১০° কোণকে প্রবৃদ্ধ কোণ বলে। 

অন্যদিকে, 
- দুইটি কোণের সমষ্টি ৯০° হলে, কোণ দুইটির একটিকে অপরটির পূরক কোণ বলে। 

৩৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশ ও বিধিতে 'যৌথ ডিক্রিদার কর্তৃক জারির আবেদন' এর বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ ২১, বিধি ৭
  2. আদেশ ২১, বিধি ১০
  3. আদেশ ২১, বিধি ১৩
  4. আদেশ ২১, বিধি ১৫
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ১৫-এর শিরোনামই হল "Application for execution by joint decree-holder" বা "যৌথ ডিক্রিদার কর্তৃক জারির আবেদন"।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১৫: যৌথ ডিক্রিদার কর্তৃক জারির জন্য আবেদন:
(১) যখন একাধিক ব্যক্তির অনুকূলে যৌথভাবে একটি ডিক্রি পাস করা হয়, তখন তাদের মধ্যে যেকোনো একজন বা একাধিক ব্যক্তি, যদি ডিক্রিতে বিপরীত কোনো শর্ত আরোপ করা না থাকে, তবে সকলের সুবিধার জন্য সম্পূর্ণ ডিক্রিটি জারির (execution) জন্য আবেদন করতে পারেন। অথবা, যদি তাদের মধ্যে কেউ মারা যান, তবে জীবিতদের এবং মৃত ব্যক্তির আইনি প্রতিনিধিদের সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন।
(২) যখন আদালত এই বিধির অধীনে করা কোনো আবেদন মঞ্জুর করার জন্য পর্যাপ্ত কারণ দেখতে পান, তখন আবেদন প্রক্রিয়ায় যারা যোগদান করেননি তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আদালত যেরূপ প্রয়োজন মনে করবেন, সেরূপ আদেশ প্রদান করবেন।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-21 Rule-15. Application for execution by joint decree-holder:
(1) Where a decree has been passed jointly in favour of more persons than one, any one or more of such persons may, unless the decree imposes any condition to the contrary, apply for the execution of the whole decree for the benefit of them all, or, where any of them has died, for the benefit of the survivors and the legal representatives of the deceased.
(2) Where the Court sees sufficient cause for allowing the decree to be executed on an application made under this rule, it shall make such order as it deems necessary for protecting the interests of the persons who have not joined in the application.

৩৭.
‘A’ কর্তৃক ‘B’ তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করা হয়েছে। ‘B’ কত দিনের মধ্যে ‘A’-এর বিরুদ্ধে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৬ মাস
  2. ৬ বছর
  3. ১ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ A’ কর্তৃক ‘B’-কে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে (dispossession) ‘B’ স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা (suit for possession of immovable property with title) করতে পারবে বেদখলের তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

- তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিল এবং বেদখল হয়েছে বা দখল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে, তখন সেই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বেদখলের তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। বাদীকে স্বত্ব (title) প্রমাণ করতে হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর একটাই: ঘ) ১২ বছর।

-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৮ অনুযায়ী,
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে। 

এক্ষেত্রে,
⇒ বাদীকে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে;
⇒ বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে;
⇒ সরকার বাদী হলে ৬০ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে। (অনুচ্ছেদ-১৪৯)

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮: অনুচ্ছেদ ১৪২-
যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে, তখন বাদী বেদখল হলে অথবা বাদী তার দখল ত্যাগ করলে, সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য দখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।

৩৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১০৪
  2. ধারা ১১৪
  3. ধারা ১১৫
  4. ধারা ১২০
ব্যাখ্যা

⇒দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫ (Section 115) শিরোনামই হলো “Revision”। 
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-১১৫ এর বিধান রিভিশন।
১) কোন মোকদ্দমায় কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় জেলা জজ আদালত বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হলে, বা যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক ডিক্রি প্রদত্ত হলে, যার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা চলে না; সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশন তার নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা সমাপণ করিয়ে এই ডিক্রি বা আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে হাইকোর্ট ডিভিশন এই ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
২) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কোন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত এই মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করিয়ে এই আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে জেলা জজ আদালত উক্ত আদেশ সংশোধন করতে পারবে এবং তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
৩) জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা হস্তান্তর করলে উপ-ধারা (২) এর অধীনে জেলা জজের সকল সর্বময় ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে থাকবে।
৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার অবসান করিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত প্রদান করলে প্রয়োজনীয় আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন রিভিশনের অনুমতির অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) বা (৩) এর অধীনে প্রদানকৃত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা চলবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশন তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
৫) এই ধারাটির প্রতিস্থাপনে যেটাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ঐরূপ প্রতিস্থাপনের পূর্বে ১১৫নং ধারার অধীনে আরম্ভ হওয়া বা ঝুলন্ত থাকা কর্মপ্রক্রিয়া যেরূপে নিষ্পত্তি হবে যেন ১১৫নং ধারূ প্রতিস্থাপিত হয়নি।

৩৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) জন্য কোন পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে? 
  1. আপোষ ও মীমাংসা
  2. মীমাংসা ও সমঝোতা
  3. মধ্যস্থতা ও সালিশী
  4. সমঝোতা ও সালিশী
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির (Alternative Dispute Resolution - ADR) জন্য দুটি প্রধান পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে:
১) মধ্যস্থতা (Mediation);
২) সালিশী (Arbitration)।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা আছে। এর সাধারন নিয়মসমূহ হল- মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।
⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।
⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

৪০.
The Civil Courts Act, 1887-এর ধারা ১৪(১) অনুসারে, আদালতের আসনস্থল নির্ধারণ বা পরিবর্তন কীভাবে করা হয়?
  1. মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত দ্বারা
  2. আদালতের আদেশ দ্বারা
  3. জেলা প্রশাসকের আদেশ দ্বারা
  4. সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা
ব্যাখ্যা

⇒ The Civil Courts Act, 1887-এর ধারা 14(1) ও (2) অনুযায়ী একমাত্র সরকার-ই দেওয়ানি আদালতের বসার স্থান নির্ধারণ বা পরিবর্তনের এখতিয়ার রাখে।
- সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে।

⇒ The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ১৪ – আদালতের আসনস্থল:
(১) সরকার সরকারি গেজেটে (Official Gazette) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে যে কোনো দেওয়ানি আদালতের আসনস্থল স্থির করতে বা পরিবর্তন করতে পারে।
(২) বর্তমানে যে সকল স্থানে এই ধরনের আদালত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ধারা অনুযায়ী স্থির করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।

⇒ The Civil Courts Act, 1887- section-14. Place of sitting of Courts:
 (1) The Government may, by notification in the official Gazette, fix and alter the place or places at which any Civil Court under this Act is to be held. 
(2) All places at which any such Courts are now held shall be deemed to have been fixed under this section.

৪১.
বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে থাকলে তার অনুপস্থিতির সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ যাবে – এই বিধান তামাদি আইনের কোন ধারায় আছে?
  1. ধারা ১২
  2. ধারা ১৩
  3. ধারা ১৪
  4. ধারা ১৫
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী, কোনো মামলা (Suit) দায়েরের তামাদি মেয়াদ গণনা করার সময় বিবাদী যদি বাংলাদেশের বাইরে এবং সরকার-শাসিত অঞ্চলের বাইরে অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তার সেই পুরো অনুপস্থিতির সময়টুকু তামাদি গণনা থেকে বাদ যাবে। ফলে বিবাদী ফিরে আসার পর বাদী আবার পূর্ণ তামাদি মেয়াদ পাবেন। এই বিধান শুধুমাত্র মামলা (Suit)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আপিল বা দরখাস্তের ক্ষেত্রে নয়।
-  সুতরাং, বিবাদীর বিদেশ অবস্থানকালীন সময় বাদ দেওয়ার বিধানটি ধারা ১৩-তে বর্ণিত।

⇒ তামাদি আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, যদি বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে থাকে, তাহলে তামাদি মেয়াদ গণনার সময় তার অনুপস্থিতির সময় বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, বিবাদী যতদিন অনুপস্থিত থাকবে, সেই সময় তামাদি গণনার মধ্যে পড়বে না, বরং সে ফিরে আসার পর তামাদি গণনা চলবে।
- এই বিধান বাদীর স্বার্থ রক্ষার জন্য রাখা হয়েছে, যাতে বিবাদির বিদেশে থাকার কারণে বাদী মামলা দায়েরের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
--------
⇒ The Limitation Act:- Section 13. Exclusion of the time of the defendant’s absence from Bangladesh and certain other territories:
In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the defendant has been absent from Bangladesh and from the territories beyond Bangladesh under the administration of the Government shall be excluded.

৪২.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় আপিল পর্যায়ে মধ্যস্থতার (Mediation in Appeal) বিধান রয়েছে?
  1. ৮৯ক
  2. ৮৯খ
  3. ৮৯গ
  4. ৮৯ঘ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯গ (Section 89C) আপিল আদালতে মধ্যস্থতার (mediation in appeal) বিষয়ে বিধান প্রদান করে।
- এ ধারায় বলা হয়েছে, যদি আদেশ ৪১ এর অধীন কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা হয় এবং তা মূল পক্ষগণ বা তাদের স্থলাভিষিক্তদের মধ্যে হয়, তাহলে আপিল আদালত নিজে মধ্যস্থতা করতে পারে বা অন্য কারো মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য পাঠাতে পারে।

অর্থাৎ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৮৯গ (Section 89C) ধারায় আপীল পর্যায়ে মধ্যস্থতার বিধান আছে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার বিধান আপিলে মধ্যস্থতা (Mediation in Appeal):
- যদি আদেশ ৪১ এর অধীনে মূল ডিক্রি হতে কোন আপিল দায়ের হয় এবং যদি একই পক্ষগণের বা মূল পক্ষগণের স্থলাভিষিক্ত পক্ষগণের মধ্যে উক্ত আপিল দায়ের হয়ে থাকে, তাহলে আপিল আদালত উক্ত আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে অথবা আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করবে। এরূপ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আপিল আদালত প্রয়োজনীয় মনে করলে যতদূর সম্ভব ৮৯ক ধারার বিধানসমূহকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন (Mutatis Mutandis) সাপেক্ষে অনুসরণ করবে।
----------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section 89C- Mediation in Appeal:
- (1) An Appellate Court shall mediate in an appeal or refer the appeal for mediation in order to settle the dispute or disputes in that appeal, if the appeal is an appeal from original decree under Order XLI, and is between the same parties who contested in the original suit or the parties who have been substituted for the original contesting parties.
- (2) In mediation under sub-section (1), the provisions of section 89A shall be followed with necessary changes (mutatis mutandis) as may be expedient.

৪৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী, নিম্নের কোন ধরনের ডিক্রি ধারা ৪৮ এর আওতাভুক্ত নয়?
  1. অর্থ পরিশোধের ডিক্রি
  2. নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি
  3. সম্পত্তি হস্তান্তরের ডিক্রি
  4. কিস্তিতে টাকা পরিশোধের ডিক্রি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৮(১)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি" (not being a decree granting an injunction) এর ক্ষেত্রে এই ১২ বছর সময়সীমা প্রযোজ্য।
- অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি (Decree granting an injunction) ধারা ৪৮-এর সময়সীমার আওতাভুক্ত নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত:- নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়ে থাকলে ঐ একই ডিক্রি জারির জন্য নিম্নলিখিত তারিখ থেকে বার বৎসর পর প্রদত্ত কোন আবেদন অনুযায়ী একই ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ; বা
খ) কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশে আবেদনকারীর প্রার্থনা মতে কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ অথবা সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হলে, তা লঙ্ঘনের তারিখ।

২) এই ধারার কোন বিধানই-
ক) আবেদনের তারিখের অব্যাবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারি দেওয়ার ব্যাপারে রায়সিদ্ধ দেনাদার প্রতারণা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপস্থাপিত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারির আদেশদানে আদালতকে বিরত করবে না; বা
খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকারীতাকে সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে প্রভাবিত করবে না।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 48 Limit of Time for Execution:
 Execution barred in certain cases: (1) Where an application to execute a decree not being a decree granting an injunction has been made, no order for the execution of the same decree shall be made upon any fresh application presented after the expiration of twelve years from
(a) the date of the decree sought to be executed, or,
(b) where the decree or any subsequent order directs any payment of money or the delivery of any property to be made at a certain date or at recurring periods, the date of the default in making the payment or delivery in respect of which the applicant seeks to execute the decree.

(2) Nothing in this section shall be deemed:
(a) to preclude the Court from ordering the execution of a decree upon an application presented after the expiration of the said term of twelve years, where the judgment-debtor has, by fraud or force, prevented the execution of the decree at some time within twelve years immediately before the date of the application; or
(b) to limit or otherwise affect the operation of article 183 of the First Schedule to the Limitation Act, 1908.

৪৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৯৭৭-এর ধারা ৩৫ অনুযায়ী, চুক্তি রদের মামলা দায়ের করার সর্বোচ্চ সময়সীমা কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৫ এবং তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১১৪ অনুসারে চুক্তি রদের (rescission of contract) মামলা দায়ের করার সর্বোচ্চ সময়সীমা ১ বছর।

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১১৪ অনুযায়ী, চুক্তি প্রত্যাহার করার মামলা যে সকল বিষয় বাদীকে চুক্তি বাতিল করার অধিকার‌ প্রদান করে, সেগুলি সম্পর্কে বাদী যখন প্রথম অবগত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে করতে হবে।

৪৫.
According to Section 52 of The Specific Relief Act, 1877, Preventive relief is not granted at the discretion of the Court by ____________.
  1. Perpetual injunction
  2. Temporary injunction 
  3. Mandatory Injunction
  4. 'A' and 'B' Both
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫২ অনুসারে, বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) নিরোধক প্রতিকার (Preventive Relief) হিসেবে গণ্য নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫২-এর স্পষ্ট বিধান: "Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual." অর্থাৎ, আদালত তার সুবিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে অস্থায়ী (Temporary) বা চিরস্থায়ী (Perpetual) নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করেন।
 ⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে যেহেতু 'Preventive relief is not granted বা নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় না' কথাটি বলা আছে তাই সঠিক উত্তর হবে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction)।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 52 Preventive relief how granted: Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুরের প্রক্রিয়া:- আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

 ⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বা Preventive Relief এর সংজ্ঞা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারার (গ) অনুচ্ছেদের অধীন যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় তাকে নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বলে। অর্থাৎ যা না করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ প্রদানই হলো প্রতিরোধমূলক প্রতিকার।

 ⇒  সাধারণত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার প্রদান করা হলেও সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার নয়। যেমন- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হলেও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) হল আদেশাত্মক প্রতিকার।

৪৬.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কতজন ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা করলে তা ডাকাতি (Dacoity) হিসেবে গণ্য হবে?
  1. দুই বা ততোধিক ব্যক্তি
  2. তিন বা ততোধিক ব্যক্তি
  3. চার বা ততোধিক ব্যক্তি
  4. পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৯১ অনুসারে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা (robbery) করলে বা তার চেষ্টা করলে তা ডাকাতি (Dacoity) হিসেবে গণ্য হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারার বিধান ডাকাতি:- যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাঁচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।
----------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-391: Dacoity: When five or more persons conjointly commit or attempt to commit a robbery, or where the whole number of persons conjointly committing or attempting to commit a robbery, and persons present and aiding such commission or attempt, amount to five or more, every person so committing, attempting or aiding, is said to commit "dacoity".

৪৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক অনুযায়ী, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. জেলা পুলিশ সুপার
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. পাবলিক প্রসিকিউটর 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক (১) অনুসারে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার বা সমতুল্য পদমর্যাদার অন্য কোনো কর্মকর্তা যিনি তদন্ত তদারকি করছেন, তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। সুতরাং, এই ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ সুপার সঠিক উত্তর।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক: অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন ইত্যাদি (Interim Investigation Report, etc):
(১) ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩-এর উপ-ধারা (১)-এ যা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ের অধীন কোনো মামলার তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে, সংশ্লিষ্ট তদন্তের তদারকিতে থাকা পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, অথবা সমপর্যায়ের অন্য কোনো কর্মকর্তা, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন (interim investigation report) দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারেন, যাতে মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে বর্ণনা থাকবে।
(২) যদি উক্ত অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় যে, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, তাহলে পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, অথবা সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারেন। এবং ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল (যার এখতিয়ার প্রযোজ্য), যদি সেই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হন, তাহলে তারা ওই অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারেন, তবে উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী শর্ত সাপেক্ষে এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়।
(৩) এই ধারা অনুযায়ী কোনো অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরে যদি যথেষ্ট ও প্রামাণিক প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ধারা ১৭৩ অনুযায়ী দাখিলকৃত পুলিশ প্রতিবেদনে (চার্জশিটে) তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য নন, অর্থাৎ তার নাম পুনরায় চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
---------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 173A. Interim investigation report, etc.- 
(1) Notwithstanding anything contained in sub-section (1) of section 173, before completion of an investigation of any case under this Chapter, the Police Commissioner or the District Superintendent of Police or any other officer of equivalent rank supervising the investigation, as the case may be, may require the Investigating Officer to submit an interim investigation report as to the progress of the investigation of the case.
(2) If the interim investigation report, as required, discloses that there is insufficient evidence against any accused, the Police Commissioner, the District Superintendent of Police or any other officer of equivalent rank supervising the investigation, as the case may be, may direct the Investigating Officer to submit the report to the Magistrate and upon receipt of such report, the Magistrate or the Tribunal, as the case may be, may, if satisfied, order to discharge such accused subject to sub-section (3), without prejudice to the continuation of investigation against the remaining accused persons.
(3) Notwithstanding the discharge of any accused under sub-section (2), if, upon completion of the investigation, it appears on the basis of sufficient and substantive evidence that such person is involved in the commission of the alleged offence, the Investigating Officer shall not be precluded from including his name in the police report under section 173.

৪৮.
দণ্ডবিধির ধারা ৫৪ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ডকে অন্য যেকোনো দণ্ডে রূপান্তর করার ক্ষমতা কার আছে?
  1. রাষ্ট্রপতির
  2. সরকারের
  3. হাইকোর্টের
  4. জেলা জজের
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫৪ অনুসারে, সরকার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামির সম্মতি ব্যতীত উক্ত দণ্ডকে দণ্ডবিধিতে উল্লিখিত অন্য যেকোনো দণ্ডে (যেমন: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সশ্রম কারাদণ্ড ইত্যাদি) রূপান্তর (Commute) করার ক্ষমতা রাখে।

⇒ দণ্ডবিধির  ৫৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ড হ্রাসকরণ:- মৃত্যুদণ্ড দান করা যেতে পারে এইরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধকারীর সম্মতি ব্যতিরেকে উক্ত দত্তকে এই বিধি ও আইন বলে ব্যবস্থিত অন্য যেকোন স্বল্প দণ্ডে রূপান্তরিত করতে পারবেন।
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 54. Commutation of sentence of death:- In every case in which sentence of death shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for any other punishment provided by this Code.

৪৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০(৫) অনুসারে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানা কত টাকা?
  1. ২৫,০০০ টাকা
  2. ৫০,০০০ টাকা
  3. ১,০০,০০০ টাকা
  4. ৩,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 এর মাধ্যমে The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ২৫০ এর কয়েকটি উপ-ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে, যা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (frivolous or vexatious) অভিযোগের জন্য জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। নিচে সংশোধনীগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
→ ধারা ২৫০ এর উপ-ধারা (১): সংশোধনীর মাধ্যমে এই উপ-ধারায় "false and either frivolous or vexatious" শব্দগুলির পর "may" শব্দটির পরিবর্তে "shall" শব্দটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এর অর্থ, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য জরিমানা আরোপ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
→ ধারা ২৫০ এর উপ-ধারা (২): এই উপ-ধারায় জরিমানার পরিমাণ সংশোধন করা হয়েছে। পূর্বে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের জন্য জরিমানা ছিল সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা, যা সংশোধনীর মাধ্যমে বাড়িয়ে ৫০,০০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, যদি অভিযোগকারী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানার পরিবর্তে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করা যাবে।
→ ধারা ২৫০ এর উপ-ধারা (৫): এই উপ-ধারায় উল্লেখিত জরিমানার পরিমাণ পূর্বে ৩,০০০ টাকা ছিল, যা সংশোধনীর মাধ্যমে বাড়িয়ে ১,০০,০০০ টাকা (এক লাখ টাকা) করা হয়েছে। এটিই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ।
 
অর্থাৎ ধারা ২৫০ এর উপ-ধারা (৫) অনুসারে, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা এখন ১,০০,০০০ টাকা। এটি সংশোধনীর মাধ্যমে পূর্বের ৩,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো (৫,০০০ টাকা, ২৫,০০০ টাকা, ৫০,০০০ টাকা) ধারা ২৫০ এর বিভিন্ন উপ-ধারায় উল্লিখিত জরিমানার সাথে সম্পর্কিত হলেও, প্রশ্নটি সর্বোচ্চ জরিমানা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে, তাই উপ-ধারা (৫) এর ১,০০,০০০ টাকাই সঠিক উত্তর।

 ⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-250 False, frivolous or vexatious accusations:
(5) Notwithstanding anything contained in this section, the Magistrate may, in addition to the order directing payment of the compensation under sub-section (2), further order that the person ordered to pay such compensation shall also suffer imprisonment for a period not exceeding six months or pay a fine not exceeding one lac taka.

৫০.
'ক', 'খ'-এর পকেটে হাত দিয়ে পকেটমারির উদ্যোগ নেয়। 'খ'-এর পকেটে কিছু না থাকায় 'ক'-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। 'ক' দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে?
  1. ধারা ৩৭৯
  2. ধারা ৪১১
  3. ধারা ২৫১
  4. ধারা ৫১১
ব্যাখ্যা

⇒ উল্লিখিত ঘটনাটি দণ্ডবিধির ধারা ৫১১-এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা ধারাটির উদাহরণ (Illustration)-এও উল্লেখ আছে।
-‘ক’ পকেটমারির (চুরি) উদ্দেশ্যে ‘খ’-এর পকেটে হাত ঢুকিয়েছে, অর্থাৎ অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সুস্পষ্ট কাজ করেছে। পকেটে কিছু না থাকায় চুরি সম্পূর্ণ হয়নি, কিন্তু এটি দণ্ডবিধির ধারা ৫১১-এর সরাসরি উদাহরণ (Illustration-b)। যেহেতু কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের চেষ্টার জন্য আলাদা কোনো বিধান নেই, তাই ‘ক’ ধারা ৫১১-এর অধীনে দোষী হবে এবং সর্বোচ্চ চুরির শাস্তির অর্ধেক পর্যন্ত (সাধারণত ৩ বছর পর্যন্ত) কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড পেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৫১১ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগের সাজা:-
কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিবলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটন করার অথবা অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করানোর উদ্যোগ করে এবং অনুরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, তবে যেক্ষেত্রে অনুরূপ উদ্যোগের সাজার জন্য এই বিধিতে কোন প্রকাশ্য বিধান করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য সে ধরনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা সে অপরাধটির জন্য যে অর্থ দণ্ডেও বিধান করা হয়েছে সে অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) 'ক' একটি বাক্স ভেঙ্গে কিছু গহনাপত্র চুরি করার উদ্যোগ করে। সে বাক্সটি ভেঙ্গে দেখতে পায় যে, উহাতে কোন গহনাপত্র নাই। সে চুরির উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছে; সুতরাং সে এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
(খ) 'ক', 'চ'- এর পকেটে হাত দিয়ে চ-এর পকেট মারার উদ্যোগ নেয়। 'চ'- এর পকেটে কিছু ছিল না বলে ক-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। 'ক' এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
----------- 
⇒ The Penal Code, 1860,Section 511- Punishment for attempting to commit offences punishable with imprisonment for life or imprisonment:
Whoever attempts to commit an offence punishable by this Code with imprisonment for life or imprisonment, or to cause such an offence to be committed, and in such attempt does any act towards the commission of the offence, shall, where no express provision is made by this Code for the punishment of such attempt, be punished with imprisonment of any description provided for the offence, for a term which may extend to one-half of the longest term of imprisonment provided for that offence, or with such fine as is provided for the offence, or with both.

Illustration:
(a) A makes an attempt to steal some jewels by breaking open a box, and finds after so opening the box, that there is no jewel in it. He has done an act towards the commission of theft, and therefore is guilty under this section. 
(b) A makes an attempt to pick the pocket of Z by thrusting his hand into Z's pocket. A fails in the attempt in consequence of Z's having nothing in his pocket. A is guilty under this section.

৫১.
ফৌজদারি আদালত কখন অভিযোগ (charge) সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারে?
  1. বিচার শুরুর পূর্বে যেকোনো সময় 
  2. অভিযোগ দায়েরের সময়
  3. মামলার রায় ঘোষণার পরেও যেকোনো সময়
  4. মামলার রায় ঘোষণার আগে যেকোনো সময়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৭ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে: "Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced."
- অর্থাৎ, মামলার রায় ঘোষণার আগে যেকোনো সময় ফৌজদারি আদালত অভিযোগ (charge) সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-
অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 227: Court may alter charge:-
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.

৫২.
‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘Z’-এর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে, জেনে যে এটি ‘Z’-কে জখম বা ভীত করতে পারে, এবং ‘Z’-এর সম্মতি ছাড়া এটি করে। ‘A’ দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে অপরাধী? 
  1. ধারা ৩৫০
  2. ধারা ৩৫১
  3. ধারা ৩৫২
  4. ধারা ৩৫৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৫০ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে বলপ্রয়োগ করা, যদি এটি অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা আঘাত, ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টির জন্য হয়, তবে তা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বলে গণ্য হয়। এখানে, ‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘Z’-এর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে, জেনে যে এটি ‘Z’-এর শরীর জখম করতে পারে এবং তাকে ভয় দেখাতে পারে। এটি ধারা ৩৫০-এর অধীনে অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ।
- সুতরাং, ‘A’ ধারা ৩৫০-এর অধীনে অপরাধী হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারার বিধান অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
উদাহরণ:
(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-তে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাং ক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 350: Criminal force:
-Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other. 
 
Illustration:
(a) Z is sitting in a moored boat on a river. A unfastens the moorings, and thus intentionally causes the boat to drift down the stream. Here A intentionally causes motion to Z, and he does this by disposing substances in such a manner that the motion is produced without any other action on any person's part. A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, in order to the committing of any offence, or intending or knowing it to be likely that this use of force will cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force to Z. 
 
(b) Z is riding in a chariot. A lashes Z's horses, and thereby causes them to quicken their pace. Here A has caused change of motion to Z by inducing the animals to change their motion. A has therefore used force to Z; and if A has done this without Z's consent, intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy Z, A has used criminal force to Z. 
 
(c) Z is riding in a palanquin. A, intending to rob Z, seizes the pole and stops the palanquin. Here A has caused cessation of motion to Z, and he has done this by his own bodily power. A has therefore used force to Z; and as A has acted thus intentionally, without Z's consent, in order to the commission of an offence. A has used criminal force to Z. 

৫৩.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৪ অনুযায়ী নিম্নলিখিত কোনটি সরকারী দলিল (Public Document) হিসেবে গণ্য হবে? 
  1. ব্যক্তিগত চিঠি
  2. আদালতের রায়
  3. কবিতা বা উইল
  4. উল্লিখিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৪ অনুসারে, সরকারী দলিল (Public Document) বলতে সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলগুলোকে বোঝায়, যেমন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনালের নথিপত্র, বিচার বা শাসন বিভাগের লিখিত রেকর্ড। এর মধ্যে আদালতের রায় অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি সরকারী রেকর্ডে রক্ষিত হয়। অন্যান্য অপশনগুলো (ব্যক্তিগত চিঠি, কবিতা বা উইল) ধারা ৭৫-এর অধীনে বেসরকারী দলিল।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং
২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document)।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.

৫৪.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ২২ক অনুসারে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকারোক্তি কখন প্রাসঙ্গিক?
  1. সবসময় প্রাসঙ্গিক
  2. যখন আদালত ইচ্ছা করে
  3. যখন ডিজিটাল রেকর্ড হারিয়ে গেছে
  4. যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২২ক (22A) অনুসারে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকারোক্তি তখনই প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য, যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা (genuineness) প্রশ্নবিদ্ধ।
- অর্থাৎ, যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা (genuineness) প্রশ্নবিদ্ধ হয়, কেবলমাত্র তখনই ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২২ক ধারার বিধান: যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক:-দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন না হলে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু হিসাবে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section 22A: When oral admissions as to contents of digital records are relevant: Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question.

৫৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক(ঘ) অনুসারে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির ঘরের বাইরে অন্য কোথাও থেকে গ্রেপ্তার করলে কত ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের জানাতে হবে?
  1. ১২ ঘণ্টার মধ্যে
  2. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  3. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
  4. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৬ক(ঘ) অনুযায়ী, যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তার নিজস্ব ঠিকানা থেকে গ্রেফতার না করা হয়, তাহলে গ্রেফতারকারী পুলিশ অফিসার বা অন্য ব্যক্তি অতিস্বল্পতম সময়ে কিন্তু সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, বা বন্ধুকে জানাতে বাধ্য।
→ Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 এর মাধ্যমে The Code of Criminal Procedure, 1898 এ নতুন ধারা ৪৬ক (Section 46A) সন্নিবেশিত হয়েছে। এই ধারার উপ-ধারা ঘ(d) অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তিকে তার নিজ বাসস্থানের বাইরে অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য ব্যক্তিকে যত শীঘ্র সম্ভব, তবে গ্রেপ্তারের সময় থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, বা তার মনোনীত বন্ধুকে গ্রেপ্তারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের স্থান সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
সুতরাং, ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে জানানো বাধ্যতামূলক।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 46A. Procedure of arrest and duties of officer making arrest:
-In making an arrest, the police-officer or other person making the same shall-
(a) bear an accurate, visible and clear identification of his name which will facilitate easy identification;
(b) disclose his identity and if demanded, shall show his identity card to the person arrested and to the persons present at the time of arrest;
(c) prepare a memorandum of arrest which shall be-
(i)attested by at least one witness, who is a member of the family of the person arrested or a respectable inhabitant of the locality where the arrest is made and where no such witness is available, the reasons thereof be recorded in the memorandum;
(ii) countersigned or thumb-impressed by the person arrested if not refused by him;

(d) intimate, where the accused is arrested from a place other than his residence, to a family member, relative, or a friend nominated by the person arrested, as soon as practicable but not later than twelve hours from the time of such arrest, notifying the time and place of arrest and the place of custody;

(e) ensure, if any mark of injury is found on the body of the person arrested, the examination and first aid treatment of the person by a medical officer or a registered medical practitioner, as the case may be, in accordance with section 46E; obtain a certificate from the attending medical officer or practitioner; and record the reasons for such injury;

(f) allow the person arrested, if he so desires, to consult a lawyer of his choice or to meet any of his nearest relation, preferably within twelve hours of such arrest.

৫৬.
পারিবারিক আদালত বিবাদীর প্রার্থনামতে লিখিত বর্ণনা দাখিলের জন্য সর্বোচ্চ কতদিন সময় দিতে পারে? 
  1. ২১ কর্মদিবস
  2. অন্যূন ২১ দিন
  3. অন্যূন ২১ কর্মদিবস
  4. অনধিক ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৫৭.
Marz-ul-Maut বলতে কী বোঝায়? 
  1. মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তর
  2. মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
  3. মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া হুকুম
  4. মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে রোগ
ব্যাখ্যা

⇒ "মরজ-উল-মউত" (Marz-ul-Maut) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ "মৃত্যুর অসুস্থতা" (death illness)। এটি এমন একটি শারীরিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে ব্যক্তির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম এবং মৃত্যু নিকটবর্তী। এই অবস্থায় কোনো ব্যক্তি যে হিবা (গিফট) বা উইল করে, তা মৃত্যুশয্যা লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শরিয়া আইনের নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে বিতরণ করা হয়। এই সংজ্ঞাটি Fatima Bibee v. Ahmad Baksh (1904) মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে মরজ-উল-মউত হলো এমন রোগ যা ব্যক্তির মনে মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
⇒ Fatima Bibee v. Ahmad Baksh, (1904):
-The Calcutta High Court held in this case that Marz-ul-Maut is death illness, or the patient is suffering from such disease which induces in the person suffering and a belief that death would be caused thereby.

⇒ অর্থাৎ মরজ-উল-মউত শব্দের অর্থ হলো মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা।

৫৮.
‘ইজতিহাদ’ (Ijtihad) শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
  1. সহজে ফতোয়া দেওয়া 
  2. পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা
  3. কিতাব অনুসরণ করা
  4. নিজের মত প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা

⇒ ‘ইজতিহাদ’ শব্দটি আরবি মূল ‘জাহাদা’ (جَهَدَ) থেকে এসেছে। এই মূলের আভিধানিক অর্থ হলো “সর্বোচ্চ শক্তি, সাধ্য ও চেষ্টা প্রয়োগ করা”।
- লিসানুল আরব, তাজুল উরূস, আল-কামূসুল মুহীতের মতো প্রধান আরবি অভিধানগুলোতে ‘জুহদ’ ও ‘ইজতিহাদ’ বলতে বোঝানো হয়েছে “পূর্ণ শক্তি দিয়ে কোনো কাজে লেগে থাকা”। শরিয়তের পরিভাষায় এই ‘পূর্ণ শ্রম’ যখন কুরআন-সুন্নাহ থেকে শরয়ী হুকুম বের করার জন্য প্রয়োগ করা হয়, তখন তাকে বলা হয় ইজতিহাদ। 
- সুতরাং আভিধানিক অর্থই হলো “পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা” – এটি কোনোভাবেই “সহজে ফতোয়া দেওয়া” বা “নিজের মত প্রকাশ করা” নয়। বরং এর বিপরীত: এটি অত্যন্ত কঠিন, শ্রমসাধ্য ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ।
- আল্লামা আব্দুল আলীম সিদ্দিকী (রহ.) তাঁর “Ijtihad and Mujtahid” বইয়েও স্পষ্ট লিখেছেন: “The word 'Ijtihad' has been derived from the root JHD, and literally means ‘striving with full exertion.’”

অন্য অপশনগুলো:
ক) সহজে ফতোয়া দেওয়া → সম্পূর্ণ উল্টো। ইজতিহাদ সবচেয়ে কঠিন কাজ।
গ) কিতাব অনুসরণ করা → এটা তাকলীদের অর্থ।
ঘ) নিজের মত প্রকাশ করা → এটা ব্যক্তিগত রায়, কিন্তু ইজতিহাদ কুরআন-সুন্নাহর কঠোর নিয়মে আবদ্ধ।
সুতরাং একমাত্র সঠিক উত্তর: খ) পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা।

[The word 'Ijtihad' has been derived from the root JHD, and literally means "striving with full exertion." In Islamic legal terminology, it denotes an attempt to choose, in the light of the Qur'an and the Sunnah, between two or more differing legal interpretations and to deduce, from the Qur'an and the Sunnah, any new rulings in order to address new legal situations. One who performs "Ijtihad" is called "Mujtahid"]

তথ্যসূত্র: IJTIHAD AND MUJTAHID by Allama Abdul Aleem Siddiqui. [লিংক]

৫৯.
The Waqfs Ordinance, 1962 অনুসারে ওয়াকফ প্রশাসক (Administrator of Waqfs) কে নিয়োগ করেন? 
  1. সরকার
  2. জেলা জজ
  3. হাইকোর্ট
  4. ওয়াকফ কমিটি
ব্যাখ্যা

⇒ The Waqfs Ordinance, 1962-এর ধারা ৭(১)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “The Government shall appoint an Administrator of Waqfs for Bangladesh.”
- অর্থাৎ ওয়াকফ প্রশাসককে শুধুমাত্র সরকার (বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে) নিয়োগ করে।

- জেলা জজ, হাইকোর্ট বা ওয়াকফ কমিটির এই নিয়োগের কোনো ক্ষমতা নেই।
ধারা ৭(২)-এ বলা হয়েছে যে প্রশাসককে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে এবং রুলসে নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে।
আর ধারা ৭(৩)-এ বলা হয়েছে যে সাধারণত ৫ বছরের জন্য নিয়োগ করা হয় এবং পুনর্নিয়োগযোগ্য (eligible for re-appointment)।

----------
⇒ The Waqfs Ordinance, 1962 Section-7. Appointment of the Administrator:
(1) The Government shall appoint an Administrator of Waqfs for Bangladesh.
(2) No person shall be appointed as Administrator unless he is a Muslim and possesses such qualifications as may be prescribed by the rules. 
(3) The Administrator shall ordinarily be appointed for five years, and shall be eligible for re appointment.

৬০.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, নিচের কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. জারজ সন্তান
  2. নাবালক বৈধ সন্তান
  3. তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান
  4. উল্লিখিত সকলেই
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।) 
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
- অর্থাৎ জারজ সন্তান - এটি সঠিক উত্তর। অবৈধ সম্পর্কে জন্মগ্রহণকারী সন্তান তার পিতা-মাতা কারো কাছ থেকেই উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না।
অন্যদিকে, নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন না:
- নাবালক বৈধ সন্তান - বৈধ বিবাহে জন্মগ্রহণকারী নাবালক সন্তান পূর্ণ উত্তরাধিকারের অধিকারী। শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পত্তি অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে।
- তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান - তালাকের পর গর্ভজাত সন্তানও বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হয় এবং পিতার সম্পত্তিতে পূর্ণ উত্তরাধিকার লাভ করে।

৬১.
বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের কোন পদ্ধতি প্রযোজ্য?
  1. Mitakshara
  2. Dayabhaga
  3. Both Mitakshara and Dayabhaga
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দুইটি প্রধান পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে:
১) দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System)
২) মিতাক্ষরা পদ্ধতি (Mitakshara System)

→ বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System) অনুসারে পরিচালিত হয়।

দায়ভাগ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- ভৌগলিক প্রচলন: এই পদ্ধতি প্রধানত বাংলাদেশ (তৎকালীন বাংলা অঞ্চল) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে অনুসরণ করা হয়।
- উত্তরাধিকারের ভিত্তি: এই পদ্ধতিতে পিণ্ডদান (মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পাদন করার অধিকার) উত্তরাধিকার নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। যে ব্যক্তি পিণ্ডদান করার অধিকারী হন, তিনিই সাধারণত উত্তরাধিকারী হিসাবে গণ্য হন।
- সম্পত্তিতে মালিকানা: দায়ভাগ পদ্ধতিতে পিতা তার জীবদ্দশায় পারিবারিক সম্পত্তির একক মালিক হন। পুত্রদের পিতার জীবদ্দশায় সম্পত্তিতে কোন জন্মসূত্রে অধিকার (birthright) থাকে না।
- বিধবার অধিকার: ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীর অধিকার আইন (Hindu Women's Rights to Property Act, 1937) এর মাধ্যমে বিধবাদের উত্তরাধিকার স্বীকৃত হয়। এই মতে, একজন বিধবা তার স্বামীর সম্পত্তিতে এক পুত্রের সমান অংশ পেতে পারেন।

৬২.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুসারে, স্ত্রী কোন কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন?
  1. স্বামী এক বছর নিরুদ্দেশ থাকলে
  2. স্বামী তিন বছর ভরণপোষণ না দিলে
  3. স্বামী এক বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে
  4. স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে
ব্যাখ্যা

⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939-এর ধারা ২(iii)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “that the husband has been sentenced to imprisonment for a period of seven years or upwards” অর্থাৎ স্বামীকে ৭ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে। তবে প্রভাইডেড ক্লজে বলা আছে যে, সাজা চূড়ান্ত (final) না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রি পাস করা যাবে না।
অন্য অপশনগুলো কেন ভুল:
ক) স্বামী এক বছর নিরুদ্দেশ থাকলে → ভুল। নিরুদ্দেশ হতে হবে ৪ বছর (ধারা ২(i))
খ) স্বামী তিন বছর ভরণপোষণ না দিলে → ভুল। ভরণপোষণ না দেওয়া হতে হবে ২ বছর (ধারা ২(ii))
গ) স্বামী এক বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে → ভুল। দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হতে হবে ৩ বছর (ধারা ২(iv))
সুতরাং একমাত্র সঠিক উত্তর: ঘ) স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কুরআনে নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
------------
⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939- Section-2. Grounds for decree for dissolution of marriage:
A woman married under Muslim law shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any one or more of the following grounds, namely:- 
(i) that the whereabouts of the husband have not been known for a period of four years; 
(ii) that the husband has neglected or has failed to provide for her maintenance for a period of two years; 
(iia) that the husband has taken an additional wife in contravention of the provisions of the Muslim Family Laws Ordinance, 1961;
(iii) that the husband has been sentenced to imprisonment for a period of seven years or upwards; 
(iv) that the husband has failed to perform, without reasonable cause, his marital obligations for a period of three years; 
(v) that the husband was impotent at the time of the marriage and continues to be so; 
(vi) that the husband has been insane for a period of two years or is suffering from leprosy or a virulent venereal disease; 
(vii) that she, having been given in marriage by her father or other guardian before she attained the age of [eighteen years], repudiated the marriage before attaining the age of [nineteen years]: 
Provided that the marriage has not been consummated; 
(viii) that the husband treats her with cruelty, that is to say,- 
(a) habitually assaults her or makes her life miserable by cruelty of conduct even if such conduct does not amount to physical ill-treatment, or 
(b) associates with women of evil repute or leads an infamous life, or  
(c) attempts to force her to lead an immoral life, or 
(d) disposes of her property or prevents her exercising her legal rights over it, or 
(e) obstructs her in the observance of her religious profession or practice, or 
(f) if he has more wives than one, does not treat her equitably in accordance with the injunctions of the Qoran; 
(ix) on any other ground which is recognised as valid for the dissolution of marriage under Muslim law:
Provided that- 
(a) no decree shall be passed on ground (iii) until the sentence has become final; 
(b) a decree passed on ground (i) shall not take effect for a period of six months from the date of such decree, and if the husband appears either in person or through an authorised agent within that period and satisfies the Court that he is prepared to perform his conjugal duties, the Court shall set aside the said decree; and 
(c) before passing a decree on ground (v) the Court shall, on application by the husband, make an order requiring the husband to satisfy the Court within a period of one year from the date of such order that he has ceased to be impotent, and if the husband so satisfies the Court within such period, no decree shall be passed on the said ground.

৬৩.
হিন্দু বিবাহের প্রাচীন প্রকারের মধ্যে আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে কোনটি সবচেয়ে অসম্মানজনক? 
  1. আর্শ বিবাহ
  2. ব্রহ্ম বিবাহ
  3. পৈশাচ বিবাহ
  4. দৈব বিবাহ 
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রাচীন প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক এবং নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। মনুস্মৃতি এবং অন্যান্য হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, পৈশাচ বিবাহে একজন পুরুষ একজন নারীকে অজ্ঞান, নেশাগ্রস্ত বা মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় প্রলুব্ধ করে বা বলপূর্বক (যেমন ধর্ষণের মাধ্যমে) বিবাহ করে। এই বিবাহ সম্পূর্ণভাবে নারীর সম্মতি এবং মর্যাদার বিরুদ্ধে, যা এটিকে নৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) আর্শ বিবাহ: এই বিবাহে কন্যার পিতা একটি গাভী এবং ষাঁড়ের বিনিময়ে কন্যাকে দান করেন। এটি একটি প্রশস্ত বিবাহ এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য, যদিও এটি ব্রহ্ম বা দৈব বিবাহের তুলনায় কম সম্মানজনক। তবে, এটি পৈশাচ বিবাহের মতো নিন্দনীয় নয়।
খ) ব্রহ্ম বিবাহ: এটি হিন্দু বিবাহের সবচেয়ে পবিত্র এবং সম্মানজনক প্রকার। এতে কন্যার পিতা তার কন্যাকে বেদজ্ঞ, সৎ এবং নৈতিক চরিত্রের পাত্রের কাছে কন্যাদান করেন, কোনো যৌতুক ছাড়াই। এটি ধর্ম, জ্ঞান এবং সদগুণের প্রতীক, তাই এটি অসম্মানজনক নয়।
ঘ) দৈব বিবাহ: এই বিবাহে কন্যাকে ধর্মীয় যজ্ঞের দক্ষিণা হিসেবে পুরোহিতের কাছে দেওয়া হয়। যদিও এটি ব্রহ্ম বিবাহের তুলনায় কিছুটা নিম্নমানের, তবুও এটি প্রশস্ত (অনুমোদিত) এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য। এটি অসম্মানজনক নয়।

পৈশাচ বিবাহের অসম্মানজনক প্রকৃতি:
নৈতিক দিক: পৈশাচ বিবাহে নারীর সম্মতি থাকে না, এবং এটি বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি হিন্দু ধর্মের ধর্ম ও নৈতিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ: এই বিবাহ সমাজে পাপাচার হিসেবে বিবেচিত হত এবং সম্পূর্ণভাবে নিন্দিত।
আধুনিক দৃষ্টিকোণ: আধুনিক আইনে পাইশাচ বিবাহের কার্যকলাপ (যেমন ধর্ষণ বা জোরপূর্বক বিবাহ) দণ্ডবিধির অধীনে যৌন নির্যাতন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক, কারণ এটি নারীর ইচ্ছা ও সম্মতির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) পৈশাচ বিবাহ।

৬৪.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর বিধান অনুযায়ী, তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যানের নিকট প্রদানের পর কত দিন পর্যন্ত তা কার্যকর হয় না?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭(৩) এ বলা হয়েছে: “তালাক, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয় (স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে), তবে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ প্রদানের তারিখ থেকে নব্বই (৯০) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
অর্থাৎ স্বামী তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীর কাছেও একটি কপি পাঠাতে হবে।
- চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ (Arbitration Council) গঠন করবেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানো।
- তালাকের নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না। এই সময়টিকে এক ধরনের “Cooling-off Period” বা সমঝোতার সুযোগ বলা যায়।
- যদি স্ত্রী নোটিশ দেওয়ার সময় গর্ভবতী থাকেন, তবে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেও গর্ভকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারণ করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনোভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

৬৫.
পারিবারিক আদালতে খারিজ হওয়া মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন কত দিনের মধ্যে করতে হবে?
  1. ২১ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০(৫) অনুসারে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে: "বাদী, খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, আদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত আদেশ রহিত করিবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন"
- অর্থাৎ, পারিবারিক আদালতে খারিজ হওয়া মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০ পক্ষগণের অনুপস্থিতির ফলাফল:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাকা হইলে উক্ত সময়ে কোনো পক্ষই উপস্থিত না থাকিলে, আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিয়া দিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বাদী উপস্থিত হন, তবে বিবাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে-
(ক) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে, তাহা হইলে আদালত মোকদ্দমাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে;
(খ) যদি সমন বা নোটিশ বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে মর্মে প্রমাণিত না হয়, তাহা হইলে আদালত বিবাদীর উপর নূতনভাবে সমন ও নোটিশ জারি কারিবার আদেশ প্রদান করিবে;
(গ) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ জারি করা হইয়াছে, তবে তাহার উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে তাহাকে উপস্থিত হইয়া জবাব প্রদানের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয় নাই, তাহা হইলে আদালত পরবর্তী অনধিক ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে নির্ধারিত কোনো তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি স্থগিত রাখিবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ সম্পর্কে নোটিশ প্রদান করিবে।
(৩) যেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি করিয়া একতরফা শুনানির জন্য ধার্য করে এবং বিবাদী শুনানিকালে বা তৎপূর্বে আদালতে হাজির হইয়া পূর্বে হাজির না হইবার উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে, সেইক্ষেত্রে আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, শর্তসাপেক্ষে বিবাদীকে জবাব দাখিলের সুযোগ প্রদান করিয়া এইরূপে শুনানি করিবে যেন তিনি তাহার হাজির হইবার জন্য ধার্যকৃত দিনেই উপস্থিত হইয়াছেন।
(৪) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বিবাদী উপস্থিত হন, তবে বাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিবে, তবে বিবাদী যদি দাবির সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ স্বীকার করে, তাহা হইলে বিবাদীর উক্তরূপ স্বীকৃতির উপর আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং যেক্ষেত্রে দাবির অংশবিশেষ স্বীকার করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি ততটুকু খারিজ করিবে যতটুকু দাবির অবশিষ্টাংশের সহিত সম্পর্কিত।
(৫) যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমা উপধারা (১) এর অধীন খারিজ করা হয় অথবা উপধারা (৪) এর অধীন সম্পূর্ণ বা আংশিক খারিজ করা হয়, সেইক্ষেত্রে বাদী, খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, আদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত আদেশ রহিত করিবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং যদি তিনি আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমাটি শুনানির সময় তাহার অনুপস্থিতির জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খারিজ আদেশ রহিত করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি চালাইয়া যাইবার জন্য একটি তারিখ ধার্য করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ শর্তে উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করিতে পারিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বিবাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করা পর্যন্ত উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করা যাইবে না।
(৬) বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফাভাবে ডিক্রি প্রদান করা হইলে, তিনি ডিক্রি প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে উহা বাতিলের আদেশ দানের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং তিনি যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমার শুনানির সময় তাহার আদালতে অনুপস্থিত থাকিবার যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ শর্তে তাহার বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করিবার আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ধার্য করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, যদি ডিক্রিটি এমন হয় যে, তাহা কেবল উক্ত বিবাদীর বিরুদ্ধেই বাতিল করা যায় না, তাহা হইলে সকল বা অন্য যেকোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করা যাইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করিয়া এই উপধারার অধীন কোনো আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
(৭) Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) এর section 5 এর বিধানাবলি উপধারা (৬) এর অধীন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

৬৬.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯খ অনুযায়ী, বিবাহের প্রলোভনে যৌনকর্মের সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯খ-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে যৌনকর্ম করলে অপরাধী "অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে" দণ্ডনীয় হবেন। অর্থাৎ, এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এছাড়াও এই শাস্তির অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯খ: বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড:
যদি কোন ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ব্যতীত বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সংগে যৌনকর্ম করেন এবং যদি উক্ত ঘটনার সময় উক্ত ব্যক্তির সহিত উক্ত নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

৬৭.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ২৪ অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের পর ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য সম্পন্ন করার সময়সীমা কত?
  1. ৯০ কার্যদিবস
  2. ১২০ কার্যদিবস
  3. ১৮০ কার্যদিবস
  4. ২৪০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

⇒ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন,২০১২ এর ধারা ২৪(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গঠনের পর ১৮০ (একশত আশি) কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন না হলে ট্রাইব্যুনালকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ ব্যাখ্যাসহ হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিবেদন প্রেরণ করতে হবে।

⇒ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ২৪: বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা:
(১) এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধের অভিযোগ গঠনের ১৮০ (একশত আশি) কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, উক্ত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থতা বিচারকার্যকে বাতিল করিবে না, কিন্তু, ট্রাইব্যুনাল উক্ত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিতে সমর্থ না হইবার কারণ ব্যাখ্যা করিয়া ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে।

৬৮.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ৩০(১) অনুসারে, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে কত দিনের মধ্যে?
  1. ২০ দিনের মধ্যে
  2. ৩০ দিনের মধ্যে
  3. ৬০ দিনের মধ্যে
  4. ৯০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ৩০(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ড আরোপ বা প্রদানের তারিখ থেকে ত্রিশ (৩০) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করতে হবে।
⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন,১৯৭৪- ধারা ৩০- আপিল এবং মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন:
(১) বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ, রায় বা দন্ড আরোপ বা প্রদানের ত্রিশ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করা যাইবে।
(২) যেক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোনো মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে উহার কার্যধারা হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করিতে হইবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর করা যাইবে না।

⇒ The Special Powers Act, 1974 - Section 30: Appeals and confirmation of death sentences:
(1) An appeal from any order, judgment or sentence of a Special Tribunal may be preferred to the High Court Division within thirty days from the date of delivery or passing thereof.
(2) Where a Special Tribunal passes a sentence of death, the proceedings shall be submitted forthwith to the High Court Division and the sentence shall not be executed unless it is confirmed by that Division.

৬৯.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী, এই আইনের অধীন অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের সর্বনিম্ন মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ৪(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এই আইনের অধীন অপরাধের জন্য দণ্ড হল "ন্যূনতম দুই বৎসর এবং সর্বোচ্চ সাত বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড"।
সুতরাং, এই অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের সর্বনিম্ন মেয়াদ হলো ২ বছর।

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ৪- অপরাধের শাস্তি:
(১) কোন ব্যক্তি কোন আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ করিলে তিনি অন্যুন দুই বৎসর এবং অনধিক সাত বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দণ্ডপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনকালে সরকার কিংবা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতিসাধন করিলে তদ্‌জন্য আদালত তদ্‌বিবেচনায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্ত সরকার বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অনুকূলে প্রদান করিবার জন্য উক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আদেশ দিতে পারিবে এবং এই ক্ষতিপূরণের অর্থ সরকারী দাবী হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।

৭০.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৩২(১) অনুসারে, এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচারার্থ আমলে নেওয়ার জন্য কী প্রয়োজন?
  1. মন্ত্রিপরিষদের সম্মতি
  2. কমিশনের অনুমোদন
  3. পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন
  4. মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদন
ব্যাখ্যা

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৩২(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের অনুমোদন (Sanction) ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ আমলে (Cognizance) গ্রহণ করিবে না।"
সুতরাং, এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার শুরু করতে হলে আদালতকে অবশ্যই দুর্নীতি দমন কমিশনের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৩২- মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অনুমোদন, ইত্যাদি:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের অনুমোদন (Sanction) ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ আমলে (Cognizance) গ্রহণ করিবে না।
(২) এই আইনের অধীন মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কমিশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সরকার ও কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত অনুমোদনপত্রের কপি মামলা দায়েরের সময় আদালতে দাখিল করিতে হইবে।

৭১.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৮(১) অনুযায়ী, মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়েরের শাস্তি কী?
  1. সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৮(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে এবং ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ না জানিয়েও এই অধ্যাদেশের অধীন মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন, তাহলে তিনি "মূল অপরাধটির জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত রহিয়াছে সেই দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন"। অর্থাৎ, মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধের জন্য মূল অপরাধের সমান শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৮: মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অধ্যাদেশের অন্য কোনো ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করিবার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ না জানিয়াও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তি মূল অপরাধটির জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত রহিয়াছে সেই দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি এই অধ্যাদেশের অধীন একাধিক ধারায় মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন, তাহা হইলে উক্ত ধারাসমূহে বর্ণিত অপরাধসমূহের মধ্যে মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে যাহার পরিমাণ বেশি হয় উহাকেই দণ্ডের পরিমাণ হিসাবে নির্ধারণ করা যাইবে।(৩) ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বা স্বপ্রণোদিত হইয়া এই ধারার অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করিতে পারিবে।

৭২.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী নিচের কোনটি 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তাঁড়ি, পঁচুই, ইত্যাদি
  2. গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ
  3. অপিয়াম পপি গাছের বীজ
  4. কোকা গাছ ও কোকা পাতা
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী মাদকদ্রব্যগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে: 'ক', 'খ', এবং 'গ'। প্রতিটি শ্রেণির মাদকদ্রব্যের সংজ্ঞা এবং অন্তর্ভুক্ত পদার্থগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত।
⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী, 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো গাঁজা গাছ, ভাং গাছ, তাদের শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল, এবং এগুলোর সাথে প্রস্তুতকৃত নেশা বা আসক্তি সৃষ্টিকারী পদার্থ।

প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে:
ক) তাঁড়ি, পঁচুই, ইত্যাদি: এটি 'গ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
খ) গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ: এটি 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
গ) অপিয়াম পপি গাছের বীজ: এটি 'ক' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) কোকা গাছ ও কোকা পাতা: এটি 'ক' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
সঠিক উত্তর: খ) গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ।

৭৩.
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪(১) অনুসারে, কত বছর বয়সের নিচের কোনো শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার বা আটক রাখা যাবে না?
  1. সাত বৎসরের নিম্নে
  2. নয় বৎসরের নিম্নে
  3. বার বৎসরের নিম্নে
  4. ষোল বৎসরের নিম্নে
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।"
সুতরাং, ৯ বছর বয়সের নিচের কোনো শিশুকে আইনত গ্রেফতার বা আটক রাখার কোনো বিধান এই আইনে নেই।

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪: গ্রেফতার, ইত্যাদি:
(১) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।
(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ সংক্রান্ত কোন আইনের অধীন গ্রেফতার বা আটক করা যাইবে না।
(৩) শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্ত্ত, ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন এবং প্রাথমিকভাবে তাহার বয়স নির্ধারণ করিয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করিবেন : 
 তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতার করিবার পর কোন শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা, উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদ্‌ঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন শিশু কিন্তু সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করিয়াও দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহা নিশ্চিত হওয়া যায় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের বিধান অনুযায়ী শিশু হিসাবে গণ্য করিতে হইবে।
(৫) সংশ্লিষ্ট থানায় শিশুর জন্য উপযোগী কোন নিরাপদ স্থান না থাকিলে গ্রেফতারের পর হইতে আদালতে হাজির না করা সময় পর্যন্ত শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ক্ষেত্রে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বা ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন এইরূপ কোন শিশু বা অপরাধী এবং আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশুর সহিত একত্রে রাখা যাইবে না।

৭৪.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর বিধান অনুযায়ী, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কে নিয়োগ দেন?
  1. সরকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. জাতীয় পরিচালনা বোর্ড 
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ২১(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "সংস্থার একজন নির্বাহী পরিচালক থাকিবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷"
- অর্থাৎ, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নির্বাহী পরিচালককে নিয়োগ দেন সরকার। ধারা ২১(৪) এ আরও উল্লেখ আছে যে নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান কর্তৃক একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করা যায়, কিন্তু নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে সরকার।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ২১- নির্বাহী পরিচালক:
(১) সংস্থার একজন নির্বাহী পরিচালক থাকিবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
(২) নির্বাহী পরিচালক, সংস্থার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন এবং বোর্ডের নির্দেশ মোতাবেক সংস্থার কার্য সম্পাদন করিবেন।
(৩) সংস্থা, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ না হওয়া অবধি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্য হইতে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তা নির্বাহী পরিচালক]রূপে কাজ করিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ না হওয়া অবধি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় উহার বিদ্যমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী দ্বারা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কার্য সম্পাদনে 52[নির্বাহী পরিচালক]কে সহায়তা প্রদান করিবে।

৭৫.
হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন,১৮৮১ এর ধারা ১৪১(খ) অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা কত দিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ধারা ১৪১(খ) অনুসারে, চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা এক মাস বা ৩০ দিন। বিধানটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "(খ) এইরূপ অভিযোগ অবশ্যই সেই তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে দায়ের করিতে হইবে, যেই তারিখে ধারা ১৩৮-এর দফা (গ)-এর অধীন কার্যকারণের কারণ সৃষ্টি হয়;"
অর্থাৎ, চেক ডিসঅনার হওয়ার পর চেকের প্রাপক বা ধারককে যে তারিখে কারণ সৃষ্টি হয়, সেই তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

⇒ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন,১৮৮১ এর ধারা ১৪১:
ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (অধ্যাদেশ নং V of 1898)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নলিখিত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে:
(ক) ধারা ১৩৮-এর অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের বিচার কেবলমাত্র সেই ক্ষেত্রে আমলে নেওয়া যাইবে, যদি উক্ত অপরাধের জন্য অভিযোগ লিখিতভাবে দায়ের করা হয় এবং উক্ত অভিযোগটি চেকের প্রাপক বা ক্ষেত্রবিশেষে চেকের যথাযথ অধিকারপ্রাপ্ত ধারক কর্তৃক দাখিল করা হয়;
(খ) এইরূপ অভিযোগ অবশ্যই সেই তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে দায়ের করিতে হইবে, যেই তারিখে ধারা ১৩৮-এর দফা (গ)-এর অধীন কার্যকারণের কারণ সৃষ্টি হয়;
(গ) ধারা ১৩৮-এর অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ বিচার করিবার ক্ষমতা সেশন আদালতের অধস্তন কোনো আদালতের থাকিবে না।

⇒ The Negotiable Instruments Act, 1881: Section-141. Cognizance of offences:
Notwithstanding anything contained in the Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898),- 
(a) no court shall take cognizance of any offence punishable under section 138 except upon a complaint, in writing, made by the payee or, as the case may be, the holder in due course of the cheque;
(b) such complaint is made within one month of the date on which the cause of action arises under clause (c) of the proviso to section 138; 
(c) no court inferior to that of a Court of Sessions shall try any offence punishable under section 138.

৭৬.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮(২) অনুসারে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. এগুলি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য
  2. এগুলি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়
  3. এগুলি শুধুমাত্র সংবিধান ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
  4. এগুলি শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের সময় প্রয়োগ করতে হবে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮(২) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ "আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না"।
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮ এর বিধান: মূলনীতিসমূহ:
(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।
(২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না।
------------------
The Constitution of the People‌‌‍’s Republic of Bangladesh: Article-8. Fundamental principles
(1) The principles of nationalism, socialism, democracy and secularism, together with the principles derived from those as set out in this Part, shall constitute the fundamental principles of state policy.
(2) The principles set out in this Part shall be fundamental to the governance of Bangladesh, shall be applied by the State in the making of laws, shall be a guide to the interpretation of the Constitution and of the other laws of Bangladesh, and shall form the basis of the work of the State and of its citizens, but shall not be judicially enforceable.

৭৭.
“Nemo est supra leges” নীতিটি বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ২২ অনুচ্ছেদে
  2. ২৭ অনুচ্ছেদে
  3. ৩৭ অনুচ্ছেদে
  4. ৩৩ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

⇒ "Nemo est supra leges" লাতিন বাক্যাংশটির অর্থ "কেহই আইনের ঊর্ধ্বে নয়"। এই নীতিটি বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭-এ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যা "আইনের দৃষ্টিতে সমতা" প্রতিষ্ঠা করে।
 - সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত এই নীতিটি এটাই প্রমাণ করে যে, কোন ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। 'No man is above the law.'
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের বিধান: আইনের দৃষ্টিতে সমতা:- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
---------------
⇒ The Constitution of Bangladesh, Article 27. Equality before law:
 All citizens are equal before law and are entitled to equal protection of law.

৭৮.
“Due Process of Law” ধারণাটি সর্বপ্রথম কোন সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়?
  1. Bill of Rights 1689
  2. Magna Carta 1215
  3. US Constitution 1787
  4. French Declaration 1789
ব্যাখ্যা

⇒ "Due Process of Law" বা "যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া" ধারণাটির মূল উৎস হলো ম্যাগনা কার্টা (Magna Carta), ১২১৫। এটি ইংল্যান্ডের রাজা জনের সাথে বিদ্রোহী ব্যারনদের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক সনদ। ইংল্যান্ডের রাজা জন কর্তৃক স্বাক্ষরিত এই সনদ ম্যাগনা কার্টার ধারা ৩৯ (Clause 39) এ বলা হয়েছে:
"No free man shall be seized or imprisoned, or stripped of his rights or possessions, or outlawed or exiled, or deprived of his standing in any other way, nor will we proceed with force against him, or send others to do so, except by the lawful judgment of his equals or by the law of the land."
- এখানে "by the law of the land" (ভূমির আইন অনুযায়ী) বাক্যাংশটিই হলো "Due Process of Law" ধারণার প্রাথমিক রূপ। এর অর্থ হলো, রাজা বা সরকার কোনো ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাচারীভাবে গ্রেপ্তার, কারাদণ্ড বা তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না; এর জন্য দেশের প্রতিষ্ঠিত আইন অনুসরণ করা আবশ্যক।
- ১৭শ শতকে বিখ্যাত ইংরেজ আইনবিদ স্যার এডওয়ার্ড কোক (Sir Edward Coke) "law of the land" শব্দটিকে "Due Process of Law" হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার এই ব্যাখ্যা ইংরেজ আইনে এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ৫ম ও ১৪তম সংশোধনীতে এই ধারণাটি সরাসরি "Due Process of Law" শব্দে স্থান পায়।

অন্যান্য  অপশনগুলোর:
ক) Bill of Rights 1689: এটি ইংল্যান্ডের রাজতন্ত্রের ক্ষমতা সীমিত করে এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করলেও "Due Process" ধারণার উৎস নয়। এটি ম্যাগনা কার্টার দেওয়া অধিকারগুলোকে আরও শক্তিশালী করে।
গ) US Constitution 1787: মার্কিন সংবিধানে "Due Process of Law" ধারণাটি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কিন্তু এটি সর্বপ্রথম উল্লেখিত হয়নি। এটি ম্যাগনা কার্টা থেকে ধারণাটি গ্রহণ করেছে।
ঘ) French Declaration 1789: এটি মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, তবে এটি অ্যাংলো-আমেরিকান আইনি ঐতিহ্যের "Due Process of Law" ধারণার বাইরে।
সুতরাং, "Due Process of Law" ধারণার সর্বপ্রথম এবং মৌলিক উল্লেখ পাওয়া যায় ম্যাগনা কার্টা, ১২১৫-এ (Magna Carta 1215)।

৭৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারীকৃত অধ্যাদেশটি কখন তার কার্যকরতা হারাবে?
  1. সংসদে উপস্থাপনের তারিখেই
  2. প্রণয়নের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিবাহিত হলে
  3. সংসদে উপস্থাপনের পর ৩০ দিন অতিবাহিত হলে
  4. সংসদে উপস্থাপনের পর ৬০ দিন অতিবাহিত হলে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(২)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারীকৃত অধ্যাদেশটি সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের পর ত্রিশ (৩০) দিন অতিবাহিত হলে অথবা তার আগেই সংসদ যদি এটি অননুমোদনের প্রস্তাব পাস করে, তাহলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাবে। অর্থাৎ, উপস্থাপনের পর ৩০ দিন পার হওয়ার সাথে সাথেই অধ্যাদেশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়, যদি না সংসদ ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে এটি অনুমোদন দেয়।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা:
(১) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন এবং জারী হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না,
(ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন-দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না;
(খ) যাহাতে এই সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হইয়া যায়; অথবা
(গ) যাহার দ্বারা পূর্বে প্রণীত কোন অধ্যাদেশের যে কোন বিধানকে অব্যাহতভাবে বলবৎ করা যায়।
(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হইবে এবং ইতঃপূর্বে বাতিল না হইয়া থাকিলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে তাহা অননুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হইলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাইবে।
(৩) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থার কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট ব্যবস্থা-গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি এমন অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন, যাহাতে সংবিধান-দ্বারা সংযুক্ত তহবিলের উপর কোন ব্যয় দায়যুক্ত হউক বা না হউক, উক্ত তহবিল হইতে সেইরূপ ব্যয়নির্বাহের কর্তৃত্ব প্রদান করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার সময় হইতে তাহা সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে। 
(৪) এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন জারীকৃত প্রত্যেক অধ্যাদেশ যথাশীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং সংসদ পুনর্গঠিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় উপযোগীকরণসহ পালিত হইবে।

৮০.
Marbury vs Madison (1803) মামলায় প্রধান বিচারপতি জন মার্শাল কোন তত্ত্বের জন্ম দেন যা আইনের শাসনের ভিত্তি হয়ে ওঠে?
  1. Habeas Corpus
  2. Due Process
  3. Judicial Review
  4. Separation of Powers
ব্যাখ্যা

⇒ Marbury v. Madison (1803) মামলাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই মামলার রায়ের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি জন মার্শাল Judicial Review বা বিচার পর্যালোচনা তত্ত্বের জন্ম দেন।

 Judicial Review কী?

- এটি এমন একটি নীতি যার অধীনে আদালতের ক্ষমতা থাকে কোনো আইন, নির্বাহী আদেশ বা সরকারি কার্যকলাপ দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কিনা পরীক্ষা করার। যদি কোনো আইন বা কার্যকলাপ সাংবিধান-পরিপন্থী বলে প্রমাণিত হয়, তবে আদালত তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।

⇒ Marbury v. Madison মামলায় কী ঘটেছিল? 

- এই মামলায়, প্রধান বিচারপতি মার্শাল রায় দেন যে, কংগ্রেস কর্তৃক প্রণীত ১৭৮৯ সালের Judiciary Act-এর একটি ধারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিত। সংবিধান সুপ্রিম আইন হওয়ায়, সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিত কোনো সাধারণ আইন বাতিল হবে। এই রায়ের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট কংগ্রেসের প্রণীত আইন বাতিল করে এবং Judicial Review-এর ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে।

⇒ Judicial Review তত্ত্বটি আইনের শাসনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, কারণ এটি নিশ্চিত করে যে:
- সরকারের তিনটি শাখা—আইন প্রণেতা (কংগ্রেস), নির্বাহী (রাষ্ট্রপতি) এবং বিচার বিভাগ—সবাইকে সংবিধানের অধীনে থাকতে হবে।
- কোনো আইন বা সরকারি সিদ্ধান্তই সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়।
- বিচার বিভাগ সংবিধান রক্ষার প্রহরী হিসেবে কাজ করে এবং সংবিধান লঙ্ঘনকারী যেকোনো কাজ বন্ধ করতে পারে।
 
অন্যান্য অপশন:
Habeas Corpus: এটি একটি প্রাচীন আইনি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটক রাখা হয়েছে কিনা তা আদালতের কাছে প্রশ্ন করা যায়। এটি Marbury মামলায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
Due Process: এই ধারণাটি মার্কিন সংবিধানের ৫ম ও ১৪তম সংশোধনীতে রয়েছে, কিন্তু Marbury মামলার মূল অবদান ছিল আদালতের ক্ষমতা নির্ধারণ করা, Due Process নয়।
Separation of Powers: ক্ষমতার বিভাজনের তত্ত্বটি Montesquieu-এর মতো চিন্তাবিদদের থেকে এসেছে এবং মার্কিন সংবিধান এটি বাস্তবায়ন করেছে। Marbury মামলা এই তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে, কিন্তু এর জন্ম দেয়নি।

৮১.
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯(২) অনুসারে, বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধের ক্ষেত্রে নিচের কোন বিষয়টি উল্লেখ নেই?
  1. জনশৃঙ্খলা
  2. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  3. রাষ্ট্রের নিরাপত্তা
  4. আদালত-অবমাননা
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯(২) এ বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ আরোপের বিধান রয়েছে: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতা, আদালত-অবমাননা, মানহানি, অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা। 
তবে ধর্মীয় স্বাধীনতা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানের অন্য অনুচ্ছেদে (৪১ নং অনুচ্ছেদ) স্বতন্ত্রভাবে স্বীকৃত।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা:
(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার; নিশ্চয়তা দান করা হইল। 

⇒ The Constitution of Bangladesh, Article 39: Freedom of thought and conscience, and of speech:
(1) Freedom of thought and conscience is guaranteed.
(2) Subject to any reasonable restrictions imposed by law in the interests of the security of the State, friendly relations with foreign states, public order, decency or morality, or in relation to contempt of court, defamation or incitement to an offence– 
(a) the right of every citizen to freedom of speech and expression; and
(b) freedom of the press, are guaranteed.

৮২.
জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ধারা ২১ কোন আইনি নীতির প্রতিফলন ঘটায়? 
  1. Doctrine of Estoppel
  2. Doctrine of Ultra Vires
  3. Doctrine of Locus Poenitentiae
  4. All prior acts become invalid
ব্যাখ্যা

⇒ The General Clauses Act, 1897-এর ধারা ২১-এ Doctrine of Locus Poenitentiae বা পেনিটেনশিয়ার স্থান আলোচিত হয়েছে, যার অর্থ হল, কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে সরে আসা বা বাতিল করা।

⇒The General Clauses Act, 1897 এর ২১ ধারার বিধান: আদেশ, বিধি বা উপ-আইন প্রণয়নের ক্ষমতা, সংযোজন, সংশোধন, পরিবর্তন বা বাতিলের ক্ষমতাকে অন্তর্ভুক্ত করবে-
-যেক্ষেত্রে সংসদের কোন আইন বা প্রবিধি দ্বারা প্রজ্ঞাপন, আদেশ, বিধি বা উপ-বিধি জারীর কোন ক্ষমতা অর্পণ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে উক্ত ক্ষমতা একইভাবে প্রয়োগযোগ্য এবং অনুরূপ অনুমোদন ও শর্তাবলি (যদি থাকে), জারীকৃত কোন প্রজ্ঞাপন, আদেশ, বিধি বা উপ-আইনের সংযোজন, সংশোধন, পরিবর্তন বা তা বাতিলের ক্ষমতাকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
-------
⇒ The General Clauses Act, 1897, Section 21: Power to make to include power to add to, amend, vary or rescind, orders, rules or bye-laws:
-Where, by any Act of Parliament or Regulation, a power to issue notifications, orders, rules, or bye-laws is conferred, then that power includes a power, exercisable in the like manner and subject to the like sanction and conditions (if any), to add to, amend, vary or rescind any notifications, orders, rules or bye-laws so issued.

৮৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের উপদেষ্টামূলক মতামতের জন্য পাঠাতে পারেন?
  1. অনুচ্ছেদ ১০২
  2. অনুচ্ছেদ ১০৩
  3. অনুচ্ছেদ ১০৫
  4. অনুচ্ছেদ ১০৬ 
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬ এ সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার এর বিধান রয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে কোনো আইনি প্রশ্ন জনগুরুত্বপূর্ণ, তাহলে তিনি সেই প্রশ্নটি সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করতে পারেন। আপীল বিভাগ শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে তার মতামত জ্ঞাপন করতে পারে।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬- সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার:
যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এইরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।

৮৪.
আইনশাস্ত্রে “onus probandi” এর অর্থ কোনটির সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. Burden of proof
  2. Res judicata
  3. Habeas Corpus
  4. Presumption of innocence
ব্যাখ্যা

⇒ "Onus probandi" একটি ল্যাটিন আইনি পরিভাষা যার সরাসরি অর্থ হলো "প্রমাণের ভার" বা "Burden of Proof"। এটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় প্রকার মামলার একটি মৌলিক নীতি, যা নির্ধারণ করে কোন পক্ষকে তার দাবি বা বক্তব্য প্রমাণের দায়িত্ব বহন করতে হবে।
অর্থাৎ  আইনি পরিভাষায় এটি বোঝায় যে একটি দাবি বা অভিযোগ প্রমাণ করার দায়িত্ব কার উপর বর্তায়। যিনি কোনো বিষয়ে দাবি করেন, সাধারণত তার উপরই প্রমাণের ভার থাকে।
- Burden of proof (প্রমাণের ভার): "Onus probandi" এর সরাসরি ইংরেজি অনুবাদ।
- Res judicata: একটি ভিন্ন নীতি, যার অর্থ "বিষয়টি Already নিষ্পত্তি হয়েছে"।
- Habeas Corpus: একটি রিট, যার মাধ্যমে বেআইনি আটকদানের বিরুদ্ধে remedies নেওয়া হয়।
- Presumption of innocence: "নির্দোষতার অনুমান", যা ফৌজদারি মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি।
সুতরাং, "Onus Probandi" সরাসরি Burden of Proof-এর সাথেই সম্পর্কিত।

৮৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী নিম্নের কে শপথ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করাতে পারেন না?
  1. স্পীকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে, শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ক্ষমতা শুধুমাত্র স্পীকার, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতি-কে দেওয়া হয়েছে।
স্পীকার: রাষ্ট্রপতি ও সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়ান।
রাষ্ট্রপতি: প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির শপথ পড়ান।
প্রধান বিচারপতি: সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক, সরকারী কর্মকমিশনের সদস্য, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারের শপথ পড়ান।
তবে প্রধানমন্ত্রী কোনো ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর ক্ষমতা সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে দেওয়া হয়নি।

⇒ তৃতীয় তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষনাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে।
- শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ক্ষমতা ৩ জন ব্যক্তিকে দেওয়া হয়ছে।
- যথা- স্পীকার , রাষ্ট্রপতি , প্রধান বিচারপতি।

⇒ স্পীকার কর্তৃক - রাষ্ট্রপতি, সংসদ-সদস্য;
⇒ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক - প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, প্রধান বিচারপতি; 
⇒ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক - সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক, সরকারী কর্মকমিশনের সদস্য, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার।

৮৬.
অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ এর ধারা ১০ অনুসারে, সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ইজারা দেওয়া প্রজাস্বত্ব সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. এটি ধারা ৬ এর অধীন প্রজাস্বত্ব হিসেবে গণ্য হবে
  2. এটি ধারা ৭ এর অধীন প্রজাস্বত্ব হিসেবে গণ্য হবে
  3. এটি ধারা ৮ এর অধীন প্রজাস্বত্ব হিসেবে গণ্য হবে
  4. এটি ধারা ৯ এর অধীন প্রজাস্বত্ব হিসেবে গণ্য হবে
ব্যাখ্যা

⇒ অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ এর ধারা ১০- সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় উদ্দেশ্যের প্রজাস্বত্ব সমূহের প্রতি প্রযোজ্য বিশেষ বিধানাবলি- 
এই আইনের অন্য কোথাও অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোনো আইনে অথবা কোনো চুক্তিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো প্রজাস্বত্বের অন্তর্ভুক্ত অ-কৃষি জমি লিখিত ইজারা চুক্তির অধীন কোনো সময়ের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, যাহার উল্লেখ উক্ত ইজারা চুক্তিতে রহিয়াছে, অধিকৃত থাকে, তাহা হইলে উক্ত প্রজাস্বত্ব ধারা ৭ এ বর্ণিত শ্রেণীর প্রজাস্বত্ব বলিয়া গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত জমির অধিকারসম্পন্ন প্রজা কর্তৃক উক্ত জমি উক্ত ধর্মীয় উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার, অথবা তিন বৎসরের অধিক সময়ের জন্য উক্ত ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উক্ত জমি ব্যবহার না করার, কারণ ব্যতীত উক্ত প্রজাকে তাহার ভূমি মালিক কর্তৃক উচ্ছেদ করা যাইবে না।

সুতরাং যেকোনো লিখিত ইজারায় যদি সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় উদ্দেশ্য (যেমন—মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, কবরস্থান, ইদগাহ ইত্যাদি) উল্লেখ থাকে, তবে সেই প্রজাস্বত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধারা ৭-এর শ্রেণীভুক্ত হয়ে যায়—অন্য কোনো আইন বা চুক্তি যাই থাকুক না কেন।

⇒ The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949: Section-10. Special provisions applicable to tenancies for specific religious purposes:
Notwithstanding anything elsewhere contained in this Act or in any other law for the time being in force or in any contract, if the non-agricultural land comprised in any tenancy is held specifically for any religious purpose for any period under a lease in writing in which such purpose is specified, then such tenancy shall be deemed to be a tenancy of the class specified in section 7:
Provided that the tenant holding such land shall not be ejected by his landlord from such land except on the ground that he has used such land for any purpose other than the said religious purpose or has not used the land for the said religious purpose for more than three years.

৮৭.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ৪১ অনুযায়ী, প্রতীয়মান মালিক কর্তৃক সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য কার সম্মতি প্রয়োজনীয়?
  1. সরকারের
  2. হস্তান্তরগ্রহীতার
  3. প্রতীয়মান মালিকের
  4. সম্পত্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের
ব্যাখ্যা

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ধারা ৪১ অনুসারে, যখন কোনো ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে ঐ সম্পত্তির "প্রতীয়মান মালিক" হিসেবে পরিগণিত হন এবং সেই সম্পত্তি মূল্যের বিনিময়ে হস্তান্তর করেন, তখন হস্তান্তরটি বাতিলযোগ্য হবে না। এখানে প্রয়োজনীয় শর্ত হলো—স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ তাদের সম্মতি দিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হতে হবে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো—সম্পত্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪১ ধারার বিধান: প্রতীয়মান মালিক কর্তৃক হস্তান্তর: যখন কোন ব্যক্তি, স্থাবর সম্পত্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে, ঐ সম্পত্তির প্রতীয়মান মালিক বলে পরিগণিত হয় এবং মূল্যের বিনিময়ে সে তা হস্তান্তর করে, তখন তার হস্তান্তরের ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য গৃহীত যুক্তিসঙ্গত সাবধানতা গ্রহণ করে থাকলে এবং সরল বিশ্বাসে কার্য করে থাকলে, দাতার হস্তান্তরের ক্ষমতা ছিল না, এই যুক্তিতে হস্তান্তর বাতিলযোগ্য হবে না।
----------------
⇒ The Transfer of Property Act, 1882 Section 41. Transfer by ostensible owner:
- Where, with consent, express or implied, of the persons interested in immoveable property, a person is the ostensible owner of such property and transfers the same for consideration, the transfer shall not be voidable on the ground that the transferor was not authorised to make it: provided that the transferee, after taking reasonable care to ascertain that the transferor had power to make the transfer, has acted in good faith.

৮৮.
‘ক’ চুক্তি করে যে, ‘খ’-এর কারখানা বন্যার পানিতে ডুবে গেলে সে ‘খ’-কে ৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে। এটি কী ধরনের চুক্তি? 
  1. A contingent contract
  2. A contract of bailment
  3. A contract of guarantee
  4. A contract of partnership
ব্যাখ্যা

⇒ The Contract Act, 1872: ধারা ৩১- ঘটনা-নির্ভর চুক্তি (Contingent Contact):
কোনো চুক্তির আনুষঙ্গিক [Collateral] কোনো ঘটনা সংঘটিত হলে বা না হলে, কোনো কিছু করা বা বিরত থাকার চুক্তিই হচ্ছে:- ঘটনা-নির্ভর চুক্তি। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে কোনো কিছু ঘটা বা না ঘটার উপরে চুক্তি নির্ভর করলে তাকেই Contingent Contract বলে।

উদাহরণ:
ক-এর বাড়ি পুড়ে গেলে খ, ক-কে ১০,০০০ টাকা দিবে। এটি ঘটনা-নির্ভর চুক্তি।

- প্রদত্ত প্রশ্নে, 'ক' চুক্তি করেছে যে 'খ'-এর কারখানা বন্যার পানিতে ডুবে গেলে সে 'খ'-কে ৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে।
- এখানে "কারখানা বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া" একটি ভবিষ্যতের আনুষঙ্গিক ঘটনা, যার উপর চুক্তিটি শর্তযুক্ত।
- এটি ধারা ৩১-এ দেওয়া উদাহরণের (A contracts to pay B Taka 10,000 if B's house is burnt) সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুতরাং, এটি একটি ঘটনা-নির্ভর চুক্তি (Contingent Contract)।

⇒ The Contract Act, 1872, Section-31. "Contingent contract" defined: 
A "contingent contract" is a contract to do or not to do something, if some event, collateral to such contract, does or does not happen.

Illustration:
A contracts to pay B Taka 10,000 if B's house is burnt. This is a contingent contract.

৮৯.
Transfer of Property Act, 1882-এর ধারা ৮১ অনুসারে "Marshalling Securities" এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতার স্বার্থ রক্ষা করা
  2. আদালতের মাধ্যমে জমি বাজেয়াপ্ত করা
  3. সম্পত্তির মালিকের ঋণ বহনের চাপ কমানো
  4. প্রথম বন্ধকগ্রহীতার অধিকার সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ Transfer of Property Act, 1882-এর ধারা ৮১-এ বর্ণিত "Marshalling Securities" নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতার (subsequent mortgagee) স্বার্থ রক্ষা করা।
- এই নীতি অনুসারে, যখন একই মালিক একাধিক সম্পত্তি প্রথমে একজন বন্ধকগ্রহীতার কাছে বন্ধক রাখে এবং পরে তার মধ্যে এক বা একাধিক সম্পত্তি অন্য একজন বন্ধকগ্রহীতার কাছে বন্ধক রাখে, তখন পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতা এই অধিকার পান যে, প্রথম বন্ধকের ঋণ যেন সেই সম্পত্তি/সম্পত্তিগুলো থেকে পরিশোধ করা হয় যেগুলো তার (পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতার) কাছে বন্ধক রাখা হয়নি।

উদাহরণ:
মালিক A-এর X ও Y জমি প্রথমে B-এর কাছে বন্ধক। পরে শুধু Y জমি C-এর কাছে বন্ধক।
এখন C (পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতা) দাবি করতে পারেন যে প্রথম বন্ধকের ঋণ X জমি থেকে আগে পরিশোধ হোক, যাতে তার Y জমির ওপর ঋণের চাপ না পড়ে।

- সুতরাং, Marshalling-এর প্রাথমিক লক্ষ্য হলো পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতার স্বার্থ সংরক্ষণ করা, যাতে একই সম্পত্তিতে তার অধিকার প্রথম বন্ধকের অধিকারের কারণে ঝুঁকির মুখে না পড়ে।

⇒ Transfer of Property Act, 1882-এর ধারা ৮১-“Marshalling Securities”:
যদি কোনো ব্যক্তি (মালিক) দুই বা তার বেশি সম্পত্তি (properties) কোনো একজন ব্যক্তির কাছে বন্ধক (mortgage) রাখেন,
এবং তারপর সেই সম্পত্তিগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক সম্পত্তি আবার অন্য ব্যক্তির কাছে বন্ধক রাখেন, তাহলে- দ্বিতীয় (পরবর্তী) বন্ধকগ্রহীতা (subsequent mortgagee) যতক্ষণ পর্যন্ত বিপরীত কোনো চুক্তি না থাকে- এই অধিকারের অধিকারী হবেন যে, আগের বন্ধকের টাকা (prior mortgage-debt) সেই সম্পত্তি বা সম্পত্তিগুলো থেকে পরিশোধ করা হবে যেগুলো দ্বিতীয় বন্ধকগ্রহীতার কাছে বন্ধক রাখা হয়নি, যতদূর পর্যন্ত তা সম্ভব হয়।

তবে এই অধিকার এভাবে প্রয়োগ করা যাবে না যাতে-
আগের বন্ধকগ্রহীতার (prior mortgagee) অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অথবা এমন কোনো ব্যক্তির অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় যিনি বিনিময়ে (for consideration) ঐ সম্পত্তির কোনো স্বার্থ অর্জন করেছেন।

⇒ The Transfer of Property Act, 1882 Section-81: Marshalling securities:
If the owner of two or more properties mortgages them to one person and then mortgages one or more of the properties to another person, the subsequent mortgagee is, in the absence of a contract to the contrary, entitled to have the prior mortgage-debt satisfied out of the property or properties not mortgaged to him, so far as the same will extend, but not so as to prejudice the rights of the prior mortgagee or of any other person who has for consideration acquired an interest in any of the properties.

৯০.
নিবন্ধন আইনের ধারা ২৩ অনুযায়ী উইল ব্যতীত অন্য দলিল কতদিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে?
  1. ১ মাস 
  2. ৩ মাস 
  3. ৪ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৩ অনুযায়ী, উইল ব্যতীত অন্য কোনো দলিল নিবন্ধনের জন্য যথাযথ কর্মকর্তার কাছে তার সম্পাদনের তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে উপস্থাপন করতে হবে। এই সময়সীমা ধারা ২৪, ২৫, এবং ২৬-এর বিধান সাপেক্ষে প্রযোজ্য। তবে, কিছু ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে (যেমন, জরুরি প্রয়োজন বা অনিবার্য দুর্ঘটনার কারণে) ধারা ২৫ অনুযায়ী জরিমানা দিয়ে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে, কিন্তু সাধারণ নিয়ম হিসেবে তিন মাসের মধ্যে দলিল উপস্থাপন করতে হয়। উইলের ক্ষেত্রে ধারা ২৭ অনুযায়ী যে কোনো সময়ে নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করা যায়।

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৩: দলিল দাখিলকরণের সময়:
ধারা ২৪, ২৫ এবং ২৬ এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, উইল ব্যতীত অন্য কোন দলিল যদি উহা সম্পাদনের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে দাখিল করা না হয়, তাহা হইলে উহা নিবন্ধনের জন্য গৃহীত হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রি বা আদেশের নকল, ডিক্রি বা আদেশ দানের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে, বা, যেক্ষেত্রে উহা আপিলযোগ্য, সেক্ষেত্রে আপিল চূড়ান্ত হওয়ার তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে দাখিল করা যাইবে।
--------
⇒ The Registration Act, 1908, Section 23. Time for presenting documents:
Subject to the provisions contained in sections 24, 25 and 26, no document other than a will shall be accepted for registration unless presented for that purpose to the proper officer within [three months] from the date of its execution: 
Provided that a copy of a decree or order may be presented within three months from the day on which the decree or order was made, or, where it is appealable, within three months from the day on which it becomes final.

৯১.
রহিম ব্যাংক থেকে ১০,০০০ টাকা ঋণ নিল। রহিমের বন্ধু করিম ব্যাংকের কাছে প্রতিশ্রুতি দিল যে, রহিম ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সে (করিম) ঐ টাকা পরিশোধ করবে। The Contract Act, 1872 অনুসারে এই পরিস্থিতিতে করিম কে?
  1. ঋণগ্রহীতা
  2. জামিনদার
  3. পাওনাদার
  4. প্রধান দেনাদার
ব্যাখ্যা

⇒The Contract Act, 1872 অনুসারে অনাদায়ের ক্ষেত্রে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির অঙ্গীকার পালন, অথবা দায় পরিশোধের চুক্তিকে জামিনের চুক্তি (The Contract of Guarantee) বলা হয়।

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১২৬ অনুসারে:
- জামিনদার (Surety): যে ব্যক্তি তৃতীয় পক্ষের (প্রধান দেনাদার) দায় পরিশোধের গ্যারান্টি প্রদান করে।
- প্রধান দেনাদার (Principal Debtor): যার দায় পরিশোধের গ্যারান্টি দেওয়া হয়।
- পাওনাদার (Creditor): যাকে গ্যারান্টি দেওয়া হয়।
এই ক্ষেত্রে:
- করিম ব্যাংককে গ্যারান্টি দিয়েছে যে রহিম ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সে টাকা পরিশোধ করবে → জামিনদার। 
- রহিম প্রকৃত ঋণগ্রহীতা → প্রধান দেনাদার। 
- ব্যাংক ঋণদাতা → পাওনাদার। 
সুতরাং, করিম জামিনদার (Surety) এর ভূমিকায় রয়েছে।

⇒ চুক্তি আইনের ১২৬ ধারার বিধান "জামিনের চুক্তি", "জামিনদার", "প্রধান দেনাদার" এবং "পাওনাদার" ("Contract of guarantee", "surety", "principal debtor" "creditor"):
- জামিনের চুক্তি: জামিনের চুক্তি হল অনাদায়ের ক্ষেত্রে কোন তৃতীয় ব্যক্তির অঙ্গীকার পালন বা দায় পরিশোধের চুক্তি।
- জামিনদার: যে ব্যক্তি এমন অঙ্গীকার করে তাকে জামিনদার বলে।
- প্রধান দেনাদার: যে ব্যক্তির অনাদায় সম্পর্কে জামিন প্রদান করা হয় তাকে প্রধান দেনাদার বলা হয়।
- পাওনাদার: যে ব্যক্তির নিকট এমন জামিন প্রদান করা হয় তাকে পাওনাদার বলে। জামিনের চুক্তি মৌখিক বা লিখিত উভয় প্রকার হতে পারে।
-----------
⇒ The Contract Act, 1872, Section 126. "Contract of guarantee", "surety", "principal debtor" and "creditor":
 A "contract of guarantee" is a contract to perform the promise, or discharge the liability, of a third person in case of his default.
The person who gives the guarantee is called the "surety": the person in respect of whose default the guarantee is given is called the "principal debtor", and the person to whom the guarantee is given is called the "creditor". A guarantee may be either oral or written.

৯২.
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর ধারা ৯৬ অনুযায়ী, বিক্রয় রেজিস্ট্রেশনের তারিখ থেকে কত বছরের মধ্যে অগ্রক্রয়ের আবেদন করতে হয়?
  1. ১ বছরের মধ্যে
  2. ২ বছরের মধ্যে 
  3. ৩ বছরের মধ্যে
  4. ৫ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ৯৬(১) এর দ্বিতীয় শর্তাংশ (Provided further) অনুসারে, বিক্রয় রেজিস্ট্রেশনের তারিখ থেকে তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আর অগ্রক্রয়ের (Pre-emption) কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
- সুতরাং, অগ্রক্রয়ের আবেদন বিক্রয় রেজিস্ট্রেশনের তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে করতে হবে।

⇒ The State Acquisition and Tenancy Act,1950 এর ধারা ৯৬- অগ্রক্রয়ের অধিকার:
(১) যদি কোনো রায়তের হোল্ডিং-এর কোনো অংশ বা অংশীদারিত্ব এমন একজন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়, যিনি ওই হোল্ডিং-এর সহ-প্রজা (co-sharer tenant) নন, তবে ঐ হোল্ডিং-এর একজন বা একাধিক সহ-প্রজাভোগী, ধারা ৮৯ অনুযায়ী নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে, অথবা যদি এমন কোনো নোটিশ না দেওয়া হয়ে থাকে, তবে বিক্রয় সম্পর্কে জানার তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে, আদালতে আবেদন করতে পারবেন- যাতে উক্ত অংশ বা অংশীদারিত্ব তাদের নামে বিক্রয় করা হয়।
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীনে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না যদি না আবেদনকারী—
(ক) উত্তরাধিকারের মাধ্যমে উক্ত হোল্ডিং-এর একজন সহ-প্রজাভোগী হন; এবং
(খ) এমন ব্যক্তি হন, যিনি ধারা ৯০ অনুযায়ী হোল্ডিং বা তার কোনো অংশ/শেয়ার ক্রয় করতে পারেন।
আরও শর্ত থাকে যে, বিক্রয় রেজিস্ট্রেশনের তারিখ থেকে তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আর এই ধারা অনুযায়ী কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

৯৩.
নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৭৮ক অনুসারে, মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা এমন একটি স্থাবর সম্পত্তির 'বিক্রয়-চুক্তি' নিবন্ধনের ফিস কত?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৭৮ক(ক)(অ) অনুসারে, কোন স্থাবর সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা হলে, সেই সম্পত্তির বিক্রয়-চুক্তি নিবন্ধনের জন্য প্রদেয় নিবন্ধন ফিস পাঁচশত টাকা (৫০০ টাকা)।

⇒ The Registration Act, 1908 এর ধারা ৭৮ক- বিক্রয়ের চুক্তিপত্র, হেবা এবং বন্ধকী দলিলের নিবন্ধন ফিস:
ধারা ৭৮ বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-
(ক) কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়-চুক্তির জন্য প্রদেয় নিবন্ধন ফিস্ হইবে-
(অ) উক্ত সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা হইলে, পাঁচশত টাকা;
(আ) উক্ত সম্পত্তির মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হইলে, এক হাজার টাকা; এবং
(ই) উক্ত সম্পত্তির মূল্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে হইলে, দুই হাজার টাকা;

(খ) মুসলমানগণের ব্যক্তিগত আইনের (শরীয়াহ) অধীন কোন স্থাবর সম্পত্তির হেবার ঘোষণা নিবন্ধনের জন্য সম্পত্তির মূল্য নির্বিশেষে একশত টাকা ফিস পরিশোধ করিতে হইবে, যদি এইরূপ হেবা স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদী (নানা-নানী) ও নাতি-নাতনি, সহোদর ভ্রাতা, সহোদর ভগিনী এবং সহোদর ভ্রাতা-সহোদর ভগিনীগণের মধ্যে সৃষ্ট হয়;

(খখ) হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণের ব্যক্তিগত আইন অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির দান বিষয়ক ঘোষণা, যদি এইরূপ দান তাহাদের ব্যক্তিগত আইনে সমর্থন করে, তাহা হইলে সম্পত্তির মূল্য নির্বিশেষে প্রদেয় নিবন্ধন ফিস একশত টাকা হইবে, যদি উক্ত দান স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, পিতামহ-পিতামহী (মাতামহ-মাতামহী) ও পৌত্র-পৌত্রী (দৌহিত্র-দৌহিত্রী), সহোদর ভ্রাতা, সহোদর ভগিনী এবং সহোদর ভ্রাতা-সহোদর ভগিনীগণের মধ্যে সৃষ্ট হয়।

৯৪.
The Transfer of Property Act, 1882-এর মধ্যে কত প্রকার Mortgage এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৬ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা

⇒ নগদ অর্থ ঋণ হিসেবে গ্রহণের নিশ্চয়তার উদ্দেশ্যে ভবিষ্যত দেনা সৃষ্টি করতে পারে, এমন সম্পত্তির স্বত্ব অপরের নিকট হস্তান্তর করাকে রেহেন বা বন্ধক বলে।
- সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২–তে ৬ প্রকারের রেহেন (Mortgage) এর উল্লেখ রয়েছে।
ক) সাধারণ রেহেন:
সম্পত্তির দখল হস্তান্তর না করে রেহেনের টাকা ব্যক্তিগতভাবে পরিশােধের দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাকে সাধারণ রেহেন বলে। এখানে শর্ত থাকে চুক্তি মােতাবেক ঋণ গ্রহীতা টাকা পরিশােধ করতে না পারলে ঋণদাতা উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করে তার প্রাপ্য টাকা গ্রহণ করতে পারবে।
(খ) শর্তাধীন বিক্রয়ের মাধ্যমে রেহেন:
যদি কোন সম্পত্তি এই শর্তে বিক্রয় করা হয় যে, নির্দিষ্ট তারিখে টাকা পরিশােধ না করলে বিক্রয় চূড়ান্ত হবে অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশােধ করলে বিক্রয় বাতিল হবে তাহলে তাকে শর্তাধীন বিক্রয়ের মাধ্যমে নেহেন বলে।
(গ) খাই খালাসী রেহেন:
দাতা সম্পত্তির দখল গ্রহীতাকে প্রদান করবে, টাকা পরিশােধ না হওয়া পর্যন্ত দখল রাখবে তাকে খাই খালাসী রেহেন বলে ।
(ঘ) ইংলিশ রেহেন:
দাতা নির্দিষ্ট তারিখে রেহেনের টাকা পরিশােধের অঙ্গীকার করে সম্পত্তি গ্রহীতার নিকট হস্তান্তর করবে। শর্ত থাকবে নির্দিষ্ট তারিখে টাকা পরিশােধ করলে গ্রহীতা দাতাকে সম্পত্তি ফিরিয়ে দিবে। এটি হলাে ইংলিশ রেহেন।
(ঙ) দলিল জমা দেওয়ার রেহেন:
ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম শহরে বা সরকারী গেজেট দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন শহরে কোন ব্যক্তি যখন মহাজন বা তার প্রতিনিধির উপর জামানত সৃষ্টির জন্য দলিল জমা দেয়া হয় তাকে দলিল জমা দেওয়ার রেহেন বলে।
(চ) সংজ্ঞাহীন রেহেন:
যে রেহেন উপরােক্ত কোন রেহেনের অন্তর্ভুক্ত হয় না তাকে সংজ্ঞাহীন রেহেন বলে।

৯৫.
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ৪৭ অনুযায়ী Compensation Assessment-roll প্রস্তুতের জন্য মোট কয়টি কর্তৃপক্ষের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

⇒ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ৪৭ অনুযায়ী Compensation Assessment-roll প্রস্তুতের জন্য নিম্নোক্ত ৫টি কর্তৃপক্ষের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে:
(ক) রাষ্ট্রীয় ক্রয় কমিশনার (Commissioner of State Purchase)
(খ) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ পরিচালক (Director of Land Records and Surveys)
(গ) সেটেলমেন্ট অফিসার এবং সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার (Settlement Officers and Assistant Settlement Officers)
(ঘ) অন্যান্য রাজস্ব কর্মকর্তা (Other Revenue Officers)
(ঙ) বিশেষ বিচারক (Special Judges)
সুতরাং মোট ৫টি কর্তৃপক্ষ।

AUTHORITIES FOR THE PREPARATION OF COMPENSATION ASSESSMENT-ROLL:
⇒ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950: Section-47. Revenue and Judicial authorities:
There shall be the following authorities for the purposes of this part of this Act :- 
(a) the Commissioner of State Purchase; 
(b) the Director of Land Records and Surveys; 
(c) Settlement Officers and Assistant Settlement Officers; 
(d) Other Revenue Officers; 
(e) Special Judges.