ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে। লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে। লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার - ক্রিয়া বিভক্তি ও কারক বিভক্তি
'করলাম' শব্দে 'লাম' শব্দাংশটি হলো ক্রিয়া বিভক্তির উদাহরণ।
'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো কারক বিভক্তির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
যেসব শব্দাংশ পদের শেষে যুক্ত হয়ে বক্তব্যকে জোড়ালো করে তাকে বলক বলে ।
‘তখনই’ বা ‘এখনও’ শব্দের শেষে ‘ই’ এবং ‘ও’ শব্দাংশ হলো বলকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
যেসকল অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ) প্রভৃতি শব্দে 'অ' 'অভি' হলো উপসর্গ।
যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দে 'ইক' একটি প্রত্যয়।
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- 'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো বিভক্তির উদাহরণ।
যেসব শব্দাংশ পদের শেষে যুক্ত হয়ে বক্তব্যকে জোড়ালো করে তাকে বলক বলে।
- 'সে এখনই যাবে' বাক্যে এখনি শব্দের 'ই' দ্বারা শব্দটি জোড়ালো হচ্ছে। তাই এটি বলকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে। লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক
বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক এবং বাক্যের যেসকল পদে লগ্নক থাকে না তাকে অলগ্নক পদ বলে।
“ছেলেরা স্টেশন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছে” বাক্যটিতে 'ছেলেরা', 'দৌড়ে' 'যাচ্ছে' সলগ্নক পদ। অন্যদিকে 'স্টেশন', 'বরাবর' অলগ্নক পদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
কিছু স্বরসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়। সেগুলকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন: কুলটা = কুল + অটা
গো + অক্ষ = গবাক্ষ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়। সেগুলকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন: একাদশ = এক + দশ
বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি
গোষ্পদ = গো + পদ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
সদুপায় শব্দটি ব্যাঞ্জনসন্ধির (ব্যঞ্জন + স্বর) উদাহরণ।
সদুপায় = সৎ + উপায়।
সুত্র: ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড/দ/ব
অনুরূপভাবে দিগন্ত = দিক্ + অন্ত।
এখানে স্বরধ্বনিগুলো ঘোষবৎ হয়। এখানে ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষধ্বনি (ক/চ/ট/ত/প) পরবর্তী ঘোষধ্বনিতে (গ/জ/ড/দ/ব) পরিনত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
বাক্যে অন্তর্গত শব্দ বা পদকে ৮ টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যথা:
- বিশেষ্য
- বিশেষণ
- সর্বনাম
- ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়া
- যোজক
- অনুসর্গ
- আবেগ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
বিশেষণ এর শ্রেণিবিভাগ:
বর্ণবাচক বিশেষণ - নীল আকাশ, সবুজ ঘাস, লাল ফিতা।
গুণবাচক বিশেষণ - চালাক ছেলে, ঠাণ্ডা পানি।
অবস্থাবাচক বিশেষণ - চলন্ত ট্রেন, তরল পানি।
ক্রমবাচক বিশেষণ - এক টাকা, আট দিন।
পূরণবাচক বিশেষণ - তৃতীয় প্রজন্ম, দ্বাদশ অধিবেশন।
পরিমানবাচক বিশেষণ - আধা কেজি চাল, অনেক লোক।
উপাদানবাচক বিশেষণ - বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি।
প্রশ্নবাচক বিশেষণ - কেমন গান? কতক্ষণ সময়?
নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ - এই দিনে, সেই সময়।
ভাববাচক বিশেষণ - খুব ভালো খবর। ঘোড়াটি বেশ জরে ছুটছে।
বিধেয় বিশেষণ - লোকটা পাগল। এই পুকুরের পানি ঘোলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কি ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয় তালে ক্রিয়া পদ বলে।
ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।
সমাপিকা ক্রিয়া - যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করবে ।
অসমাপিকা ক্রিয়া - যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।
অসমাপিকা ক্রিয়া ৩ প্রকারের। যথা-
ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া - সে গান করে আনন্দ পায়।
শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া - গান করলে মন ভালো হয় ।
ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া - সে গান শিখতে রাজশাহী যাবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন, বিয়োজন অথবা সংকচ ঘটায়। যেমন: এতগুলো বই আর এতগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
যোজক ৫ প্রকার ।
সাধারন যোজক - নীপা আর দীপা দুই বোন।
বৈকল্পিক যোজক - তিনি হয় ট্রেনে আসবেন না হয় বাসে আসবেন।
বিরোধমূলক যোজক - এত বৃষ্টি হল, তবুও গরম গেল না
কারণবাচক যোজক - যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না।
সাপেক্ষ যোজক - যত গর্জে তত বর্ষে না।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বাংলা একাডেমি।
সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম: আমি , আমরা, তুমি, তোমরা ইত্যাদি।
- আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ , খোদ, আপনি ইত্যাদি।
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কোন, কার ইত্যাদি।
- নির্দেশক সর্বনাম: এ, ঐ, ইনি, উনি ইত্যাদি।
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম: কোন, কেউ কিছু ইত্যাদি।
- সকলবাচক সর্বনাম: সবাই, সব, সকল, সমুদয় ইত্যাদি।
- অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য , অপর, পর ইত্যাদি।
- পারষ্পরিক সর্বনাম: পরষ্পর, আপনা আপনি, নিজে নিজে ইত্যাদি।
- সাপেক্ষ সর্বনাম: যে-যে, যা-তা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
যে পদ ক্রিয়া কে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন: লোকটি ধীরে হাটে।
ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোন ক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয় তা নির্দেশ করে। যেমন, টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ে।
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। যেমন, যথাসময়ে সে হাজির হয়।
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান নির্দেশ করে। যেমন, কোথাও কেউ নেই।
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। যেমন, তিনি বেড়াতে যান নি।
পদানু ক্রিয়াবিশেষণ: কি, যে, বা, না , তো প্রভৃতি পদানু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন, খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন, বিয়োজন অথবা সংকোচ ঘটায়।
যেমন: এতগুলো বই আর এতগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
যোজক ৫ প্রকার ।
সাধারন যোজক - জলদি যাও এবং কাজটি সমাধান করে ফিরে এসো।
বৈকল্পিক যোজক - সংখ্যাটি ২০ কিংবা ২১ হতে পারে।
বিরোধমূলক যোজক - তাকে এত করে অনুরোধ করলাম, তবুও সে আমার কথা রাখলো না।
কারণবাচক যোজক - যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না
সাপেক্ষ যোজক - যতই পড়িবে, ততই জানিবে।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বাংলা একাডেমি।
স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
তৃষ্ণার্ত শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ তৃষ্ণা + ঋত।
সূত্র: অ/আ + ঋত = আর্।
অনুরূপভাবে, শীতার্ত = শীত + ঋত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
নিরাকার এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নিঃ + আকার।
এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। বিসর্গ সন্ধি তে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন হয়।
নিরাকার = নিঃ + আকার। এখানে বিসর্গ ‘র্’ তে পরিনত হয়ে যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)