পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৩
সিলেবাস
পরীক্ষা- ৯ পিএসসি নির্ধারিত গদ্য ও নাট্য সাহিত্য, কাব্য ও নাট্য সাহিত্য এবং পিএসসির ৩ কবি (লেকচার ৮ ও ৯)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন

.
'জগৎসিংহ' কোন উপন্যাসের চরিত্র ? 
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. মৃণালিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা

জগৎসিংহ  'দুর্গেশনন্দিনী'  উপন্যাসের  চরিত্র ।

রামমোহন, বিদ্যাসাগর নারীমুক্তির জন্য লড়াই করেছেন, নারীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে কলম ধরেছেন সেই উনিশ শতকে দাঁড়িয়ে বঙ্কিম বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে বাংলার নারীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরলেন। 

জগৎসিংহের প্রতি তিলোত্তমার প্রেম, বিমলার কতলু খাঁকে হত্যা, আয়েষার মানসিক চলন সবই সেসময়ের সমাজের কাছে ভয়ানকভাবে নতুন। এখানে দুর্গেশনন্দিনীর সার্থকতা। বাংলা সমাজ ও সাহিত্যকে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ নামক উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে বঙ্কিম নতুন কিছু উপহার দিয়েছিলেন যার সঙ্গে বাংলার মানুষের এতকাল কোনো পরিচয় ছিলো না।

'দুর্গেশনন্দিনী' ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের মাটি পরীক্ষা করা উপন্যাস। তার সফলতা বঙ্কিমের লেখনিকে দিয়েছিল গতি।

.
 প্রমথ চৌধুরীর চলিত রীতির প্রথম গদ্যরচনা কোনটি?
  1. তেল-নুন-লাকড়ি
  2. চার ইয়ারী কথা
  3. নানা কথা
  4. বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা

চলিত রীতির তাঁর প্রথম গদ্যরচনা বীরবলের হালখাতা (ভারতী পত্রিকায় প্রকাশ : ১৯০২)।

> তার রচিত সাহিত্য রচনা :

গদ্য - হালখাতা।

প্রবন্ধগ্রন্থ – তেল-নুন-লাকড়ি, দুই ইয়ারির কথা, বীরবলের হালখাতা, নানা কথা, রায়তের কথা, ঘরে

বাইরে, প্রবন্ধ সংগ্রহ।

কাব্যগ্রন্থ - সনেট পঞ্চাশৎ ।

গল্পগ্রন্থ – চার ইয়ারী কথা, আহুতি, নীললোহিত, নীল লোহিতের আদিপ্রেম ও গল্পসংগ্রহ।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
কোনটি প্রবন্ধগ্রন্থ নয়?
  1. তেল নুন লকড়ি
  2. রায়তের কথা
  3. নানা কথা
  4. আহুতি
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থগুলোর নাম ‘তেল নুন লকড়ি' (১৯০৬), 'বীরবলের হালখাতা' (১৯১৬), ‘নানাকথা' (১৯১৯), ‘আমাদের শিক্ষা' (১৯২০), 'রায়তের কথা' (১৯২৬), ‘নানাচর্চা' (১৯৩২), ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ' (১ম খণ্ড-১৯৫২, ও ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থগুলোর নাম  ‘চার ইয়ারী কথা' (১৯১৬), 'আহুতি' (১৯১৯), ‘নীললোহিত' ও 'গল্পসংগ্রহ’ (১৯৪১)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
নিচের কোনটি গল্প গ্রন্থ?
  1. বীরবলের হালখাতা
  2. তেল নুন লকড়ি
  3. চার ইয়ারী কথা
  4. আমাদের শিক্ষা'
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থগুলোর নামঃ  ‘তেল নুন লকড়ি' (১৯০৬), 'বীরবলের হালখাতা' (১৯১৬), ‘নানাকথা' (১৯১৯), ‘আমাদের শিক্ষা' (১৯২০), 'রায়তের কথা' (১৯২৬), ‘নানাচর্চা' (১৯৩২), ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ' (১ম খণ্ড-১৯৫২, ও ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থগুলোর নাম  ‘চার ইয়ারী কথা' (১৯১৬), 'আহুতি' (১৯১৯), ‘নীললোহিত' ও 'গল্পসংগ্রহ’ (১৯৪১)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
অপরাজিতা দেবী' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. রবীন্দ্রনাথ
  2. বিদ্যাসাগর
  3. দীনবন্ধু
  4. শরৎচন্দ্র
ব্যাখ্যা

একনজরে শরৎ পরিচিতি:

> তিনি ১৯০৩ সালে ভাগ্যান্বেষণের জন্য রেঙ্গুনে গমন করেন। সেখানে তার প্রথম গল্প ‘মন্দির' লেখা হয়। পরে একই সালে স্বাক্ষরবিহীনভাবে প্রেরিত এই গল্পের জন্য তিনি 'কুন্তলীন' পুরস্কার লাভ করেন।

> বার্মায় প্রবাসকালে তিনি সাহিত্য সাধনায় মনোনিবেশ করেন। ১৯০৭ সালে 'ভারতী' পত্রিকায় ‘বড়দিদি’ উপন্যাস প্রকাশিত হয়।

> তিনি বাংলা সাহিত্যে অনিলা দেবী, অপরাজিতা দেবী, পরশুরাম, শ্রীকান্ত শর্মা, সুরেন্দনাথ গঙ্গোপাধ্যায়

ছদ্মনামে লিখতেন।

> সাধারণভাবে শ্রীকান্তকে শরৎচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা বলে বিবেচিত করা হয়। তবে নির্মাণ-কাঠামো ও

চরিত্রচিত্রণের দিক থেকে দত্তা উপন্যাসটিকে অনেকেই শরৎ চন্দ্রের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলির একটি বলে মনে করেন।

.
রমেশ, রমা কোন গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র? 
  1. দত্তা
  2. শ্রীকান্ত
  3. গৃহদাহ
  4. পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা

রমেশ, রমা ‘পল্লী সমাজ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। 
সমাজ-সমালোচনামূলক উপন্যাস হিসেবে 'অরক্ষণীয়া', 'বামুনের মেয়ে', ‘পল্লী সমাজ' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সমাজে অনুষ্ঠিত অত্যাচার-উৎপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়েছে এসব উপন্যাসে। সমাজের নিষ্ঠুরতার জন্য স্বাভাবিক প্রেমের বিকাশ ব্যাহত হওয়ার চিত্রও এগুলোতে দেখা যায়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্প কোনটি?
  1. বড়দিদি
  2. বিরাজবৌ
  3. বিন্দুর ছেলে
  4. মন্দির
ব্যাখ্যা

তাঁর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘মন্দির' (১৯০৫) এক আত্মীয়ের নামে কুন্তলীন গল্প প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়। তাঁর দ্বিতীয় গল্প ‘বড়দিদি' ভারতী নামক সে আমলের প্রখ্যাত সাহিত্য পত্রিকায় ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয়। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প-উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল : বড়দিদি(১৯১৩), বিরাজবৌ, (১৯১৪), বিন্দুর ছেলে (১৯১৪), পরিণীতা (১৯১৪), পণ্ডিতমশাই (১৯১৪), মেজদিদি (১৯১৫), পল্লীসমাজ (১৯১৬) চন্দ্ৰনাথ (১৯১৬), বৈকুণ্ঠের উইল(১৯১৬), অরক্ষণীয়া (১৯১৬), শ্রীকান্ত, (প্রথম পর্ব ১৯১৭, দ্বিতীয় পৰ্ব ১৯১৮, তৃতীয় পর্ব ১৯২৭, চতুর্থ পর্ব ১৯৩৩), দেবদাস (১৯১৭), নিষ্কৃতি (১৯১৭), কাশীনাথ(১৯১৭), চরিত্রহীন (১৯১৭), স্বামী (১৯১৮), দত্তা (১৯১৮), ছবি (১৯২০), গৃহদাহ(১৯২০), দেনাপাওনা (১৯২৩), পথের দাবী (১৯২৬), শেষ প্রশ্ন (১৯৩১), বিপ্রদাস(১৯৩৫) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
'দিবাকর' কোন গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র? 
  1. চরিত্রহীন
  2. বড়দিদি
  3. পল্লীসমাজ
  4. দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্রের উপন্যাসগুলোর মধ্যে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের পরিচায়ক হিসেবে বিশেষভাবে গুরুত্ব লাভ করেছে ‘চরিত্রহীন', ‘শ্রীকান্ত' ও ‘গৃহদাহ' উপন্যাস তিনটি। এই উপন্যাস কয়টিতে শরৎচন্দ্র এমন এক প্রকার প্রেমের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করেছেন যাকে সমাজবিগর্হিত বা সমাজ অননুমোদিত বলা চলে । অবশ্য এদেশের সমাজের দৃষ্টিতে তা সমর্থনযোগ্য না হলেও মানবমানবীর হৃদয়ের প্রবৃত্তি হিসেবে তাকে নিষিদ্ধ বলা চলে কিনা তা-ই শরৎচন্দ্র এই পর্যায়ে ব্যক্ত করেছেন। মানুষের মনোবৃত্তি সকল সময়ে সমাজের বিধিনিষেধ মেনে চলে না—মানুষের বিচিত্র মন নিজস্ব পথরেখা ধরে অগ্রসর হয়ে থাকে। ‘চরিত্রহীন' উপন্যাসে সতীশ-সাবিত্রীর প্রেমলীলা প্রাধান্য লাভ করলেও, উপেন্দ্র-দিবাকর-কিরণময়ী প্রভৃতি চরিত্রের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যও প্রকাশমান। এদের চরিত্রের মাধ্যমে সমাজ-নিষিদ্ধ প্রেমের চিত্রাঙ্কন করে কী অবস্থায় তা সংঘটিত হয়েছে তা নিপুণ ভাবে বিবৃত করেছেন এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই পাঠকের স্বাধীন বিচারের সুযোগ দিয়েছেন।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সমাজ-সমালোচনামূলক উপন্যাস নয় কোনটি? 
  1. অরক্ষণীয়া
  2. বামুনের মেয়ে
  3. পল্লী সমাজ
  4. পথের দাবী 
ব্যাখ্যা

সমাজ-সমালোচনামূলক উপন্যাস হিসেবে 'অরক্ষণীয়া', 'বামুনের মেয়ে', ‘পল্লী সমাজ' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সমাজে অনুষ্ঠিত অত্যাচার-উৎপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়েছে এসব উপন্যাসে। সমাজের নিষ্ঠুরতার জন্য স্বাভাবিক প্রেমের বিকাশ ব্যাহত হওয়ার চিত্রও এগুলোতে দেখা যায়। শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' উপন্যাসটি রাজনৈতিক পটভূমিকায় রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম চাঞ্চল্যকর উপন্যাস। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উপন্যাস নয় কোনটি? 
  1. ‘সোনার চেয়ে দামী’
  2. ‘হলুদ নদী সবুজ বন'
  3. ‘অহিংসা’
  4. চাঁপা ডাঙার বৌ
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-৫৬) জীবনে সাংকেতিকতা ও উদ্ভট সমস্যার আরোপ করে উপন্যাস রচনা করেছেন। তাঁর জীবনে অভিজ্ঞতার পরিধি ছিল ব্যাপক । বিজ্ঞানের ছাত্র, কমিউনিজমের অনুসারী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভদ্র আভিজাত্যের সচেতন গৌরববোধ থাকলেও সমাজের নিম্নতম প্রত্যন্ত গণ্ডীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল । তাই সাধারণ বাস্তব মানুষ তাঁর উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে। তাঁর ‘দিবারাত্রির কাব্য', ‘পুতুল নাচের ইতিকথা' প্রভৃতি উপন্যাসে উদ্ভট কল্পনাবিলাস ও সূক্ষ্ম বাস্তব পর্যালোচনা লক্ষগোচর হয়। ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসে লেখক আশ্চর্য সমাজচেতনার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হচ্ছে : 'জননী', ‘শহরতলী’, ‘শহরবাসের ইতিকথা’, ‘চতুষ্কোণ', ‘অহিংসা’, ‘সোনার চেয়ে দামী’, ‘হরফ’, ‘ইতিকথার পরের কথা’, ‘পরাধীন প্রেম', ‘হলুদ নদী সবুজ বন' ইত্যাদি।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭২)
সমকালীন উপন্যাসে সবচেয়ে সমাজ- সচেতন শিল্পীমনের অধিকারী ছিলেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল রাঢ় প্রত্যন্তবর্তী আপন জন্ম-মাটি বীরভূম-লাভপুরের গ্রামজীবন-নির্ভর। অশিক্ষা, সামাজিক উপেক্ষা, আর্থিক রিক্ততা ও অন্ধকুসংস্কার জড়ানো সে জীবনের সংকট সমস্যা তাঁর রচনায় বিধৃত হয়েছে। তিনি ব্যক্তির ওপর সমাজকে স্থান দিয়ে সার্থক সামাজিক উপন্যাসের সৃষ্টি করেছেন। ‘চৈতালি ঘূর্ণি' তাঁর প্রথম উপন্যাস। ‘ধাত্রীদেবতা', ‘গণদেবতা', ‘পঞ্চগ্রাম’ এই প্রসঙ্গে তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। মানবজীবনকে গভীরভাবে দেখার ক্ষমতার ফলে তাঁর উপন্যাসে মানুষের অমর প্রাণশক্তির জয়গান উচ্চকিত হয়েছে। ‘রাইকমল' ও ‘কবি' উপন্যাসে বৈষ্ণব ও কবিয়ালের জীবনের রূপায়ণ লক্ষ করা যায়। বিচিত্র জীবনধারার পরিচয় তাঁর উপন্যাসে সহজলভ্য। 'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা'য় রাঢ়ের নিম্ন শ্রেণি হিন্দুর জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। গল্পরচনায়ও তাঁর অপরিসীম কৃতিত্ব বিদ্যমান ছিল । তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে ‘কালিন্দী', ‘চাঁপা ডাঙার বৌ’, ‘মন্বন্তর’, ‘আগুন’, ‘সন্দীপন পাঠশালা', 'আরোগ্য নিকেতন', 'বিপাশা', 'একটি চড় ই পাখি ও কালো মেয়ে’, ‘উনিশ শ একাত্তর', 'নবদিগন্ত' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প নয় কোনটি? 
  1. ‘অভাগীর স্বর্গ'
  2. 'রসকলি'
  3. ‘কাশীনাথ’
  4. ‘মামলার ফল’
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮) প্রধানত ঔপন্যাসিক; তাঁর ছোটগল্পের সংখ্যা খুবই কম। তবু সেই স্বল্পসংখ্যক গল্পে তাঁর বিশেষ প্রতিভার পরিচয় উদ্ভাসিত হয়ে আছে। ‘মন্দির' গল্প নিয়ে তিনি সাহিত্যসমাজে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সম্ভবত শরৎচন্দ্র ছোটগল্প রচনার শিল্পগত কুশলতার অধিকারী ছিলেন না, তাঁর ঔপন্যাসিক সত্তাই বেশি কার্যকর ছিল। সেই জন্য ‘কাশীনাথ’, ‘একাদশী বৈরাগী’, ‘মামলার ফল’, 'পরেশ’, 'বিলাসী' ইত্যাদি রচনা ঠিক ছোটগল্পের প্রকৃত সীমানায় আসে নি । প্রকৃতপক্ষে মুষ্টিমেয় গল্পের জন্যই তাঁর কৃতিত্ব। সে দিক থেকে ‘অভাগীর স্বর্গ' ও ‘মহেশ’ সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য।

সমকালীন কথাসাহিত্যের ইতিহাসে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৮৯৮-১৯৭১) আসন ছিল অত্যুচ্চ শীর্ষবর্তী। তিনি তাঁর দেশ দক্ষিণপূর্ব বীরভূমের সাধারণ মানুষের জীবন—পুরানো জমিদার ঘর থেকে মাল-বেদে পাড়ার পর্যন্ত পরিচয় গল্পে রূপায়িত করেছেন। বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির পরিচয় তাঁর গল্পে সহজলভ্য। বৈষ্ণববৈষ্ণবী, বেদেবেদেনী ইত্যাদি বিচিত্র ধরনের চরিত্র অবলম্বন করে তাঁর গল্পগুলো রচিত। ক্ষয়িষ্ণু জমিদারের পরিচয়ও তাঁর গল্পে পাওয়া যায়। ‘পাষাণপুরী’, ‘নীলকণ্ঠ’, ‘ছলনাময়ী', ‘জলসাগর', 'রসকলি', 'তিন শূন্য' ইত্যাদি গল্পগ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১২.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর গল্পগ্রন্থ?
  1. 'মিহি ও মোটা কাহিনি’
  2. শহরতলী
  3. চতুষ্কোণ
  4. ‘হলুদ নদী সবুজ বন'
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-৫৬) ‘অতসীমামী’, ‘প্রাগৈতিহাসিক', 'মিহি ও মোটা কাহিনি’, ‘আজ কাল পরশুর গল্প' ইত্যাদি গল্পগ্রন্থের গল্পের মাধ্যমে যে বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করেছেন তাতে তাঁকে প্রথম শ্রেণির গল্পলেখকের পর্যায়ভুক্ত মনে করা চলে। 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-৫৬) জীবনে সাংকেতিকতা ও উদ্ভট সমস্যার আরোপ করে উপন্যাস রচনা করেছেন। তাঁর জীবনে অভিজ্ঞতার পরিধি ছিল ব্যাপক । বিজ্ঞানের ছাত্র, কমিউনিজমের অনুসারী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভদ্র আভিজাত্যের সচেতন গৌরববোধ থাকলেও সমাজের নিম্নতম প্রত্যন্ত গণ্ডীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল । তাই সাধারণ বাস্তব মানুষ তাঁর উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে। তাঁর ‘দিবারাত্রির কাব্য', ‘পুতুল নাচের ইতিকথা' প্রভৃতি উপন্যাসে উদ্ভট কল্পনাবিলাস ও সূক্ষ্ম বাস্তব পর্যালোচনা লক্ষগোচর হয়। ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসে লেখক আশ্চর্য সমাজচেতনার পরিচয় দিয়েছেন।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হচ্ছে : 'জননী', ‘শহরতলী’, ‘শহরবাসের ইতিকথা’, ‘চতুষ্কোণ', ‘অহিংসা’, ‘সোনার চেয়ে দামী’, ‘হরফ’, ‘ইতিকথার পরের কথা’, ‘পরাধীন প্রেম', ‘হলুদ নদী সবুজ বন' ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩.
‘সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত'। উক্তিটি কোন প্রবন্ধের?
  1. সাহিত্যে খেলা
  2. বই পড়া
  3. কথার কথা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

‘সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি বই পড়া প্রবন্ধের। 
‘বইপড়া' প্রবন্ধটি ': প্রবন্ধ সংগ্রহ'   থেকে সংকলিত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪.
“ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে; উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে” উক্তিটি কোন প্রবন্ধের।
  1. কথার কথা
  2. সাহিত্যে খেলা
  3. বই পড়া
  4. যৌবনে দাও রাজটিকা
ব্যাখ্যা

ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে; উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে”—‘কথার কথা’ প্রবন্ধের। 

অন্য উল্লেখযোগ্য উক্তিঃ
“যতদূর পারা যায় যে ভাষায় কথা কই, সে ভাষায় লিখতে পারলে লেখা প্রাণ পায়”—‘কথার কথা’ (বীরবলের হালখাতা)। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫.
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস কত খণ্ড?
ব্যাখ্যা

 শ্রীকান্ত ৪ খণ্ড। প্রকাশ : ১৯১৭, ১৯১৮, ১৯২৭, ১৯৩৩ ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬.
কার মনে হলো? 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'
  1. শ্রীকান্ত
  2. ইন্দ্রনাথ
  3. অন্নদাদিদি
  4. রাজলক্ষ্মী
ব্যাখ্যা

‘শ্রীকান্ত’ শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এর চারটি খণ্ড। ১ম খণ্ড ১৯১৭, ২য় খণ্ড ১৯১৮, ৩য় খণ্ড ১৯২৭, ৪র্থ খণ্ড ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ১ম খণ্ড মাসিক ‘ভারতবর্ষে' (১৯১৬-’১৭) ‘শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী' নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় ‘শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'। ২য় ও ৩য় খণ্ডও ‘ভারতবর্ষে’ প্রকাশ পায়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রথম প্রকাশিত হয় ‘বিচিত্রা' পত্রিকায়। ১ম খণ্ডে বালক শ্রীকান্তের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন। খণ্ডটি যখন শেষ হয় তখন শ্রীকান্তের  মনে হলো : 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।' এই খণ্ডের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, অন্নদাদিদি, রাজলক্ষ্মী (পিয়ারী)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন উপন্যাস 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়? 
  1. বড়দিদি
  2. পল্লীসমাজ
  3. ‘দেনাপাওনা'
  4. 'দত্তা'
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘দেনাপাওনা' উপন্যাস " ষোড়শী নামে নাট্যায়িত হয়। 

‘দেনাপাওনা’ (১৯২৩) শরৎচন্দ্রের অন্যান্য উপন্যাসের মতোই নারীপুরুষের সম্পর্ক, নারীত্ব ও সতীত্বের ধারণার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র। কাহিনির নায়ক জীবনানন্দ শরৎচন্দ্রের সৃষ্ট চরিত্রগুলির অন্যতম। এই উপন্যাস ‘ষোড়শী’ (১৩২৭) নামে নাট্যায়িত হয় এবং মঞ্চে সাফল্যের সঙ্গে অভিনীত হয় ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৮.
'চন্দ্রমুখী' কোন গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র? 
  1. ‘নিষ্কৃতি'
  2. ‘দেনাপাওনা'
  3. 'দেবদাস'
  4. 'দত্তা'
ব্যাখ্যা

 'চন্দ্রমুখী' 'দেবদাস' উপন্যাসের চরিত্র। 

'দেবদাস' (১৯১৭) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।

‘ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় । সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় দেবদাস তার বাল্যপ্রণয়ী পার্বতীকে বিয়ে করতে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতায় নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করার বেদনাময় কাহিনি। এই উপন্যাস সমস্ত ভারতবর্ষে জনপ্রিয় হয়। দেবদাস ও পার্বতী আধুনিক ভারতীয় জীবনে ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকার রূপকে পরিণত করেছে। 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : 

দেবদাস, পার্বতী (পারু), চন্দ্রমুখী, চুনিলাল, ধর্মদাস। চলচ্চিত্রে পার্বতী

চরিত্রে ঐশ্বর্য রাই, চন্দ্রমুখী চরিত্রে মাধুরী দীক্ষিত, দেবদাস চরিত্রে শারুখ খান অভিনয় করেন। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৯.
‘পথের দাবী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় কত সালে ?
  1. ১৯২৩
  2. ১৯২৪
  3. ১৯২৫
  4. ১৯২৬
ব্যাখ্যা

পথের দাবী' (১৯২৬) রাজনৈতিক উপন্যাস। স্বদেশি বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকত। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে। গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এউপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২০.
কোনটি  নজিবর রহমান এর উপন্যাস নয়?
  1. আনোয়ারা
  2. প্রেমের সমাধি
  3. ‘গরিবের মেয়ে' 
  4. ‘দুনিয়া আর চাই না'
ব্যাখ্যা

নজিবর রহমান  রচিত উপন্যাসসমূহ:
‘আনোয়ারা' (১৯১৪),
'প্রেমের সমাধি' (১৯১৫), ‘চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি' (১৯১৭),
‘পরিণাম' (১৯১৮),
‘গরিবের মেয়ে' (১৯২৩), 'মেহেরুন্নিসা'।
 
তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থসমূহ: ‘দুনিয়া আর চাই না' (১৯২৪), 'সাহিত্য প্রসঙ্গ' (১৯০৪)।

২১.
‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত পতীর জয়।' এটিই কোন উপন্যাসের মূল বক্তব্য?
  1. আনোয়ারা
  2. প্রেমের সমাধি
  3. ‘গরিবের মেয়ে' 
  4. ‘দুনিয়া আর চাই না'
ব্যাখ্যা

গ্রামীণ জীবনের পটভূমিকায় মুসলমান সম্প্রদায়ের পারিবারিক ও সামাজিক চিত্রের আলোকে নজিবর রহমান রচনা করেন বিখ্যাত উপন্যাস 'আনোয়ারা' (১৯১৪)। সত্যের জয় এবং অসত্যের পরাজয়, প্রেম, বিরহ, দাম্পত্য জীবনের নানাবিধ সংকট ও সেই সংকট থেকে উত্তরণ এ উপন্যাসের মূল সুর। নামাজের জন্য অজু করতে গিয়ে তরুণী আনোয়ারা কোরআন পাঠরত নুরুল এসলামকে দেখে। আনোয়ারা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে এমন ধর্মনিষ্ঠ স্বামীর জন্য। পরে তাদের মিলন হয়। এ উপন্যাসে দেখানো হয়েছে যে, একজন নারীর জীবনে পতির জন্য আরাধনা, পতিকে পাবার পর তার সেবাযত্ন, পতির কথার বাইরে | না যাওয়া ইত্যাদি মূখ্য। ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত পতীর জয়।' এটিই এ উপন্যাসের মূল বক্তব্য। স্বামীভক্ত আনোয়ারা এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। ষাটের দশকে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান এ উপন্যাসটি নিয়ে একটি সফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

২২.
পদ্মানদীর মাঝি কত সালে প্রকাশিত হয়? 
  1. ১৯৩৫
  2. ১৯৩৬
  3. ১৯৪১
  4. ১৯৪৬
ব্যাখ্যা

পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬)  সালে প্রকাশিত হয়।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগুলোর নাম ‘জননী' (১৯৩৫), 'দিবারাত্রির কাব্য' (১৯৩৫), ‘পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬), ‘পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬), ‘সহরতলী' (১৯৪১), ‘অহিংসা' (১৯৪১), ‘সহরবাসের ইতিকথা' (১৯৪৬), ‘সোনার চেয়ে দামী' (১৯৫১), 'স্বাধীনতার স্বাদ' (১৯৫১), ‘আরোগ্য' (১৯৫৩) ইত্যাদি I

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৩.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম কী?
  1.  'দিবারাত্রির কাব্য
  2. ‘পুতুলনাচের ইতিকথা'
  3. ‘জননী'
  4. পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম ‘জননী' (১৯৩৫)। 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগুলোর নাম ‘জননী' (১৯৩৫), 'দিবারাত্রির কাব্য' (১৯৩৫), ‘পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬), ‘পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬), ‘সহরতলী' (১৯৪১), ‘অহিংসা' (১৯৪১), ‘সহরবাসের ইতিকথা' (১৯৪৬), ‘সোনার চেয়ে দামী' (১৯৫১), 'স্বাধীনতার স্বাদ' (১৯৫১), ‘আরোগ্য' (১৯৫৩) ইত্যাদি I

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৪.
গোপাল' নিচের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. ‘পুতুলনাচের ইতিকথা'
  2. সহরবাসের ইতিকথা
  3. আরোগ্য
  4. ‘অহিংসা'
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ‘সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।' ‘পুতুলনাচের ইতিকথা'য় সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে। উপন্যাস আরম্ভ হয়েছে বজ্রাঘাতে নিহত হারু ঘোষের বর্ণনা দিয়ে। নায়ক শশী ডাক্তার বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও মড়াস্পর্শ অনুচিতসহ এরকম নানা কুসংস্কার তার মধ্যে কার্যকর। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের অন্তর্গত টানাপোড়েন ও অস্তিত্ব সংকট শশী চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত। কুসুম বৃষ্টিতে ভিজে তার কাছে এলেও শশী নিশ্চুপ থাকে। লোকায়ত ভাষায় অনুভব প্রকাশ করে কুসুম। উচ্ছ্বল এই নারী এক সময় অন্তর্গতভাবে সবকিছুতে আগ্রহ
হারায়। তাই কুসুমের আত্মিক মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে সেনদিদির সঙ্গে শশীর পিতা গোপালের সম্পর্ক, যাদব পণ্ডিত ও তার স্ত্রীর ইচ্ছামৃত্যু ইত্যাদি উপন্যাসটিকে বহুবিচিত্র করেছে। ‘পুতুলনাচের ইতিকথা'য় পুতুল বলতে এই মানুষগুলোকেই বোঝানো হয়েছে, যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৫.
কবি জসীম উদ্দীন রচিত গানের ছত্র নয় কোনটি?
  1. 'আমার সোনার ময়না পাখি'
  2. 'কোন বা পথে নিতাইগঞ্জ যাই'
  3. 'প্রাণো সখি রে ঐ শোন কদম্ব তলে'
  4. 'নদীর কূল নাই কিনার নাই'
ব্যাখ্যা

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার বিখ্যাত ‘পরানের বান্ধবরে-বুড়ি হইলাম তোর কারণে’  কিংবা ডলি সায়ন্তিনীর ‘কোন বা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগীতির রচয়িতা জীবন্ত কিংবদন্তি ও মরমী বাউল সাধক শেখ ওয়াহিদুর রহমান

কবি জসীম উদ্দীন রচিত গানের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য -
আমার সোনার ময়না পাখি......
আমায় ভাসাইলি রে, আমায় ডুবাইলি রে..........
আমায় এত রাতে কেন ডাক দিলি......
প্রাণো সখি রে ঐ শোন কদম্ব তলে.......
আমার হার কালা করলাম রে......
নদীর কূল নাই কিনার নাই ...
আমারে ছাড়িয়া বন্ধু কই গেলা রে.......
নিশিতে যাইও ফুলবনে রে ভোমরা.....
বাঁশরি আমার হারাই গিয়াছে...
আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে, প্রাণ বিনোদিয়া...

২৬.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি? 
  1. ‘সোনার চেয়ে দামী'
  2. স্বাধীনতার স্বাদ
  3. সমুদ্রের স্বাদ
  4. ‘সহরবাসের ইতিকথা'
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগুলোর নাম ‘জননী' (১৯৩৫), 'দিবারাত্রির কাব্য' (১৯৩৫), ‘পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬), ‘পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬), ‘সহরতলী' (১৯৪১), ‘অহিংসা' (১৯৪১), ‘সহরবাসের ইতিকথা' (১৯৪৬), ‘সোনার চেয়ে দামী' (১৯৫১), 'স্বাধীনতার স্বাদ' (১৯৫১), ‘আরোগ্য' (১৯৫৩) ইত্যাদি I

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থগুলোর নামঃ অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫), প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), মিহি ও মোটা কাহিনী (১৯৩৮), সরীসৃপ (১৯৩৯), বৌ (১৯৪৩), সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩) ইত্যাদি ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৭.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বৌ 
  2. মিহি ও মোটা কাহিনী
  3. আরোগ্য
  4. সরীসৃপ
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগুলোর নাম ‘জননী' (১৯৩৫), 'দিবারাত্রির কাব্য' (১৯৩৫), ‘পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬), ‘পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬), ‘সহরতলী' (১৯৪১), ‘অহিংসা' (১৯৪১), ‘সহরবাসের ইতিকথা' (১৯৪৬), ‘সোনার চেয়ে দামী' (১৯৫১), 'স্বাধীনতার স্বাদ' (১৯৫১), ‘আরোগ্য' (১৯৫৩) ইত্যাদি I

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থগুলোর নাম অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫), প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), মিহি ও মোটা কাহিনী (১৯৩৮), সরীসৃপ (১৯৩৯), বৌ (১৯৪৩), সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩) ইত্যাদি ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৮.
‘আত্মহত্যার অধিকার' গল্পটি  কোন গ্রন্থভুক্ত?
  1. অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প
  2. প্রাগৈতিহাসিক
  3. মিহি ও মোটা কাহিনী
  4. সরীসৃপ
ব্যাখ্যা

একটি দরিদ্র পরিবারের লাঞ্ছিত জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ‘আত্মহত্যার অধিকার' গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প' গল্পগ্রন্থের অন্যতম বিখ্যাত গল্প। এখানে গরিব নীলমণির যে কষ্টের কাহিনি বিবৃত হয়েছে এবং সেই সঙ্গে তার যুবতী মেয়ে শ্যামা কষ্টকে দলিত করে, যেভাবে তার জীবনের রস আস্বাদনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, গল্পে সেই আসক্তিকেই বড় করে দেখানো হয়েছে। লেখকের ভাব পরিকল্পনায় প্রতিভাত হয়েছে যে, এই অসমবিন্যস্ত জগৎ ও জীবনে সবাই অসুস্থ ও বিকারগ্রস্ত। স্রষ্টার সৃষ্টির অসমতার প্রতি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সন্ধানী দৃষ্টি এখানে বক্রও ব্যঙ্গাত্মক শিল্পরীতিতে বিশ্লেষিত হয়েছে। স্রষ্টা নিজে কেন এমন অসাম্য সৃজন করলেন, সেই প্রশ্নও করেছেন তিনি ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৯.
'গৌতম ঘোষ' কোন গ্রন্থ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন?
  1. পুতুলনাচের ইতিকথা
  2.  প্রাগৈতিহাসিক
  3. পদ্মানদীর মাঝি 
  4. ‘মাসি-পিসি'
ব্যাখ্যা

গৌতম ঘোষ পদ্মানদীর মাঝি নিয়ে কে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩০.
'পাঁচি' চরিত্রটি নজরুলের কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. বাধনহারা
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

পাঁচি চরিত্রটি নজরুলের ‘মৃত্যু-ক্ষুধা’ উপন্যাসে পাওয়া যায়। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩১.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন পত্রিকার সহ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন?
  1. প্রবাসী
  2. কবিতা
  3. বঙ্গশ্রী
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বঙ্গশ্রী' (১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত) পত্রিকার সহ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩২.
‘মমতাদি' গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প
  2. প্রাগৈতিহাসিক
  3. মিহি ও মোটা কাহিনী
  4. সরীসৃপ
ব্যাখ্যা

‘মমতাদি' গল্পটি ‘সরীসৃপ' (১৯৩৯) নামক  গ্রন্থের অন্তর্গত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৩.
‘ধন বড় না বিদ্যা বড়'-এ বিতর্ক এবং বিতর্কের সমাধানই কোন গ্রন্থের মূল বিষয়?
  1. এর উপায় কি
  2. ‘রত্নবতী'
  3. জমীদার দর্পণ
  4. বিষাদ-সিন্ধু'
ব্যাখ্যা

‘রত্নবতী মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থ। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ হিসেবে মূল্যবান। এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ঐতিহাসিকভাবে২রা সেপ্টেম্বর ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে, কলিকাতা থেকে । লেখক নাম-পৃষ্ঠায় গ্রন্থটিকে ‘কৌতুকাবহ উপন্যাস' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প। রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে ‘ধন বড় না বিদ্যা বড়'-এ বিতর্ক এবং বিতর্কের সমাধানই ‘রত্নবতী'র মূল বিষয় ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৪.
'আবুমোল্লা, নূরন্নেহার' নিচের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. এর উপায় কি
  2. ‘রত্নবতী'
  3. জমীদার দর্পণ
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী আবু মোল্লা, নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমীদার দর্পণ' (১৮৭৩)- এর মূল ঘটনা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৫.
ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে দীনবন্ধুর রচিত প্রহসন  কোনটি?
  1.  ‘সধবার একাদশী'
  2.  ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো'
  3. নবীন তপস্বিনী'
  4. 'জামাই বারিক'
ব্যাখ্যা

ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত
প্রহসন ‘সধবার একাদশী' (১৮৬৬।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৬.
সমাজের প্রাচীন পন্থীদের ব্যঙ্গ করে দীনবন্ধুর রচিত প্রহসনের নাম কী ?
  1. লীলাবতী’
  2. ‘কমলে কামিনী'
  3. জামাই বারিক
  4.  ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো'
ব্যাখ্যা

সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসনের নাম বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৭.
মধুসূদন কোন ছদ্মনামে 'নীলদর্পণ'  অনুবাদ করেন?
  1. Timothy penpoem
  2. A Native
  3. দত্ত কুলোদ্ভব কবি
  4. উপরের কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা

মধুসূদন A Native ছদ্মনামে 'নীলদর্পণ'  অনুবাদ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৮.
নিচের কোনটি নাটক নয়? 
  1. কমলে কামিনী
  2. জামাই বারিক' 
  3. ‘নবীন তপস্বিনী'
  4. ‘সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

: ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত
প্রহসন ‘সধবার একাদশী' (১৮৬৬।

 অপরাপর নাটকগুলোর নাম ‘নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৬), ‘লীলাবতী’(১৮৬৭), 'জামাই বারিক' (১৮৭২), ‘কমলে কামিনী' (১৮৭৩) ইত্যাদি

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৯.
'সাবিত্রী' নিচের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. কমলে কামিনী
  2. ‘নীল-দর্পণ
  3.  ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো'
  4. নবীন তপস্বিনী'
ব্যাখ্যা

জেমস্ লঙ নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্রগুলির স্বাভাবিকতার গুণের জন্য অনেকেই নীল-দর্পণকে Uncle Tom's Cabin-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন ।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরাপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪০.
'নসিরাম'' নিচের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. নবীন তপস্বিনী'
  2. লীলাবতী
  3. কমলে কামিনী
  4.  ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা

‘বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৮৬)  হাস্যরসাত্মক নাটক ।
বঙ্কিমচন্দ্ৰ বলেছেন  ‘জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত
হইয়াছিল।' ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র :  নসিরাম, রতা, রাজীব, রাজমণি, কেশব, ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪১.
শামসুর রাহমান এর কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ‘যে অন্ধ সুন্দরী কাঁদে
  2. অক্টোপাস'
  3. ‘শূন্যতায় তুমি শোকসভা'
  4. এক ফোঁটা কেমন অনল
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমানের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলির নাম 
কবিতা : মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য : ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' (১৯৬০), ‘রৌদ্র করোটিতে’ (১৯৬৩), ‘বিধ্বস্ত নীলিমা' (১৯৬৭), 'বন্দী শিবির থেকে' (১৯৭২), ‘এক ধরনের অহংকার' (১৯৭৫), ‘শূন্যতায় তুমি শোকসভা' (১৯৭৭), 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে' (১৯৭৭), ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' (১৯৮২), ‘যে অন্ধ সুন্দরী কাঁদে' (১৯৮৪), ‘অবিরল জলাভূমি' (১৯৮৬), ‘এক ফোঁটা কেমন অনল' (১৯৮৬), ‘বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়' (১৯৮৮), 'হরিণের হাড়' (১৯৯৩), ‘উজাড় বাগানে' (১৯৯৫), 'হেমন্ত সন্ধ্যায় কিছুকাল' (১৯৯৭), ‘সৌন্দর্য আমার ঘরে’ (১৯৯৮), ‘স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি' (১৯৯৯), 'শুনি হৃদয়ের ধ্বনি' (২০০০), 'হৃদপদ্মে জ্যোৎস্না দোলে' (২০০১), 'ভগ্নস্তূপে গোলাপের হাসি' (২০০২), 'ভাঙাচোরা চাঁদ মুখ কালো করে ধুঁকছে(২০০৩), ‘কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে (২০০৪), ‘গোরস্থানে কোকিলের করুণ আহ্বান' (২০০৫), ‘অন্ধকার থেকে আলোয়' (২০০৬), 'না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন' (২০০৬)। 

উপন্যাস : মোট ৪টি উপন্যাস লিখেছেন: ‘অক্টোপাস' (১৯৮৩), ‘অদ্ভুত আঁধার এক' (১৯৮৫), ‘নিয়ত মন্তাজ’ (১৯৮৫), ‘এলো সে অবেলায়' (১৯৯৪)। 

প্রবন্ধ : ‘আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ' (১৯৮৬), ‘কবিতা এক ধরনের আশ্রয় (২০০২)।

আত্মস্মৃতি : ‘স্মৃতির শহর’
(১৯৭৯), ‘কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪)।

এগুলো ছাড়াও তিনি ৯টি শিশু-কিশোর সাহিত্যগ্রন্থ, ৩টি অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ, ৩টি অনুবাদ নাটকগ্রন্থসহ কলামগ্রন্থ, নিবন্ধগ্রন্থ ইত্যাদি মিলে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৪২.
নিচের কোনটি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস?
  1. কাবিলের বোন
  2. পানকৌড়ির রক্ত
  3. লোক লোকান্তর
  4. পাখির কাছে ফুলের কাছে 
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ : ‘লোক লোকান্তর' (১৯৬৩), 'কালের কলস' (১৯৬৬), 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩), ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না' (১৯৮০), ‘বখতিয়ারের ঘোড়াৎ (১৯৮৪), ‘দোয়েল ও দয়িতা' (১৯৯৭), 'পাখির কাছে ফুলের কাছে', 'প্রেমের কবিতা', ‘দ্বিতীয় ভাঙ্গন' (২০০২); গল্পগ্রন্থ : ‘পানকৌড়ির রক্ত' (১৯৭৫), ‘সৌরভের কাছে পরাজিত' (১৯৮৩), ‘গন্ধবণিক' (১৯৮৬), 'ময়ূরীর মুখ' (১৯৯৪); 

উপন্যাস : 'ডাহুকী' (১৯৯২), ‘উপমহাদেশ' (১৯৯৩), ‘আগুনের মেয়ে’ (১৯৯৫), ‘চেহারার চতুরঙ্গ' (২০০০), ‘কাবিলের বোন' (২০০১)। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৩.
অটলবিহারী,  নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী,  নিচের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. জামাই বারিক
  2. কমলে কামিনী
  3. সধবার একাদশী
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা

নীলদর্পণ' এর নায়ক নিমে দত্ত বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় চরিত্র। বলা হয়, কেনারাম চরিত্রের মধ্য দিয়ে
তৎকালীন শিক্ষিত শ্রেণির নৈতিক অবস্থানএবং বিচার ব্যবস্থার হাস্যকর পরিচয় ফুটে উঠেছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র : জীবনচন্দ্র, অটলবিহারী, নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।