পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১ টপিক: বাংলার প্রাচীন ইতিহাস, জনপদ, পরিব্রাজক, প্রাচীন বাংলার ইতিহাস-মৌর্য বংশ, গুপ্ত বংশ, গুপ্ত পরবর্তী যুগ পাল বংশ, প্রাচীন আমলের শিল্পকলা, মধ্যযুগে বাংলার ইতিহাস, মুসলিম শাসনের চিত্র, তুর্কি শাসনামল [Live Class - 1 & 2 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
রাঢ় জনপদ বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝানো হতো?
  1. পূর্ব বাংলা 
  2. উত্তর বাংলা
  3. দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
  4. পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চল
ব্যাখ্যা

রাঢ় জনপদ:
- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকে বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।

• রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ। এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
গুপ্ত সাম্রাজ্যে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন প্রথম শুরু করেন কে?
  1. শ্রীগুপ্ত
  2. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  3. সমুদ্রগুপ্ত
  4. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

গুপ্ত মুদ্রা:
- খ্রিস্টীয় চার শতকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা মুদ্রাতত্ত্বের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
• গুপ্ত মুদ্রার প্রচলন শুরু হয় সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক প্রথম চন্দ্রগুপ্ত কর্তৃক প্রকাশিত কিছু স্বর্ণমুদ্রার মধ্য দিয়ে। এ মুদ্রার এক পিঠে চন্দ্রগুপ্ত ও তাঁর রানী কুমারদেবীর প্রতিকৃতি এবং অপর পিঠে সিংহের উপর উপবিষ্ট দেবী এবং লিচ্ছব্যাঃ উক্তিটি উৎকীর্ণ রয়েছে। এ ধরনের মুদ্রার কিছু নিদর্শন চবিবশ পরগনা (উত্তর) ও বর্ধমান জেলা থেকে আবিষ্কৃত হয়।

• সমুদ্রগুপ্ত সাত ধরনের স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন। এগুলির মধ্যে রাজদন্ড, তীরন্দাজ, অশ্বমেধ এ তিন প্রকার মুদ্রা বাংলায় প্রচলিত ছিল বলে জানা যায়। রাজদন্ড অঙ্কিত মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে বাংলাদেশ, মেদিনীপুর, বর্ধমান, হুগলি এবং চবিবশ পরগনা (উত্তর) থেকে। ‘অশ্বমেধ’ মুদ্রা আবিষ্কৃত হয় কুমিল্লা জেলা থেকে। এতে অঙ্কিত রয়েছে উড়ন্ত পতাকা সম্বলিত যুপকাষ্ঠের সম্মুখে সাজসজ্জাবিহীন একটি অশ্ব। এর অপর পিঠে রয়েছে সজ্জিত বর্শার সম্মুখে দন্ডায়মান একজন নারী, যাকে প্রধান রানী বলে মনে করা হয় এবং উৎকীর্ণ হয়েছে ‘অশ্বমেধ পরাক্রম’ উক্তিটি। নারীমূর্তিটির ডান কাঁধের উপর রয়েছে একটি ঝাড়ু/ ব্রাশ। বাংলা থেকে সমুদ্রগুপ্তের যুদ্ধকুঠার, ব্যাঘ্রশিকারী, বীণাবাদক এবং ‘কচ’ মুদ্রার কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় নি।

• রাজা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় বঙ্গ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিভুক্ত হয়েছিল। তাঁর শাসনকালে বাংলায় প্রচলিত দুপ্রকারের মুদ্রা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। রাজা প্রথম কুমার গুপ্তের মুদ্রার পরেই দ্বিতীয় চন্দ্র গুপ্তের তীরন্দাজ মুদ্রা সর্বাধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

• রাজা প্রথম কুমারগুপ্ত ষোলো প্রকার স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেন। এগুলির মধ্যে বাংলার হুগলিতে ‘তীরন্দাজ’, মেদিনীপুর ও হুগলিতে ‘অশ্বারোহী’, হুগলিতে ‘গজারূঢ়’, বর্ধমানে ‘কার্তিকেয়’, বগুড়া, হুগলি ও বর্ধমানে ‘সিংহশিকারী’ মুদ্রা পাওয়া গেছে।

• বাংলায় প্রাপ্ত চার প্রকার মুদ্রার মধ্যে ‘তীরন্দাজ’ ও ‘রাজারানী’ মুদ্রার প্রচলন করেন রাজা স্কন্ধগুপ্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
‘বুলগাকপুর’ নামে বাংলাকে অভিহিত করেন কে?
  1. ইবনে বতুতা
  2. মিনহাজ-ই-সিরাজ
  3. জিয়াউদ্দিন বারানী
  4. আল বেরুনি
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা

বিদ্রোহের নগরী:
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
- এরপর রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনকাল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না। তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকে সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন। এজন্য বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

উল্লেখ্য,
- দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম রেখেছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- জিয়াউদ্দিন বারানী ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের সময় দিল্লি সালতানাতের একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।
- ইতিহাসের আকরগ্রন্থ ‘তারিখে ফিরোজশাহী’ লিখে সুপরিচিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বণিক বার্তা।

.
শশাঙ্ক আনুমানিক কোন সালে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ৫৯৮ খ্রি.
  2. ৬০৬ খ্রি.
  3. ৬২০ খ্রি.
  4. ৬৩৭ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
৬০৬ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০৬ খ্রি.
ব্যাখ্যা

রাজা শশাঙ্ক:
- বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী। বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন সুলতানের শাসনামলে ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মিত হয়?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহ
  4. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করা হয়। 
- সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। 
- খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। 
- তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।

• মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। 
- মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। 
- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

.
মৌর্য শাসনামলে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রাচীন নাম কী ছিল?
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. দেবকোট
  4. তাম্রলিপ্ত
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা

মৌর্য শাসনামলে বাংলা:
- মহাজনপদ যুগের শেষদিকে এসে মগধ অনেক শক্তিশালী হয়ে অন্যান্য প্রায় সকল জনপদকে দখল করে নিতে থাকে।
- ষোড়শ মহাজনপদের শেষদিকে এসে মগধ যখন অধিকাংশ মহাজনপদে তার নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে; তার কিছুদিন পর ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৌর্যরা ভারতে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।
- খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে মগধ রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের গয়া আর পাটনা জেলা নিয়ে। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, বর্তমান বাংলাদেশ পর্যন্ত এর বিস্তার ঘটেছিল।

• মহাস্থানগড়-এর নিকটবর্তী স্থানে প্রাপ্ত একটি শিলালিপির ভাষ্য হতে বাংলাদেশে মৌর্য শাসন বিস্তৃত হয়েছিল বলে ধরা হয়। এই শিলালিপিতে যদিও অশোকের নাম সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে এই লিপির ভাষ্য বিশ্লেষণ করে 'পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তিটির' রাজধানী হিসেবে আজকের বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়কে চিহ্নিত করা হয়।
- পুণ্ড্রবর্ধনের তখনকার নাম ছিল 'পুণ্ড্রনগর'।
- প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হলে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে উন্নত এক সংস্কৃতির পত্তন করেছিলেন মৌর্য বংশের রাজারা।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে মহাস্থানগড়ে ধারাবাহিকভাবে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম যুগের নানা নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। তাই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং ইতিহাসের বিচারে মহাস্থানগড় অঞ্চলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. খাজা আহসানুল্লাহ
  2. নওয়াব সলিমুল্লাহ
  3. নওয়াব আবদুল গনি
  4. নওয়াব নাসিরউদ্দিন
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল গনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল গনি
ব্যাখ্যা

আহসান মঞ্জিল:
- আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ।
- বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ঢাকার নবাব নওয়াব আব্দুল গনি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ’র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
- এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল।
- নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান।
- ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
- এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।

.
সম্রাট অশোক কোন যুদ্ধের পর যুদ্ধবিজয় নীতি পরিত্যাগ করেন?
  1. কলিঙ্গ যুদ্ধ
  2. তক্ষশীলা যুদ্ধ
  3. মগধ যুদ্ধ 
  4. উজ্জয়িনী যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
কলিঙ্গ যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলিঙ্গ যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।

উল্লেখ্য,
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর দেবনামপিয় পিয়দসি (পিয়দসি, অর্থাৎ দেবতাদের প্রিয়জন) শীর্ষক ধর্ম- রাজকীয় উপাধি গ্রহণ করেন এবং নিজেকে শান্তি ও মানবজাতির কল্যাণের কাজে নিবেদিত করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ছোট সোনা মসজিদ কোন আমলের স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. গুপ্ত
  2. সুলতানি
  3. নবাবী
  4. মুঘল
সঠিক উত্তর:
সুলতানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানি
ব্যাখ্যা

ছোট সোনা মসজিদ:
- ছোট সোনা মসজিদ সুলতানি আমলের একটি অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। এটি 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত। 
- মধ্যযুগের সুলতানি আমলের গৌড়নগরীর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
- মসজিদটিকে বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনামসজিদ।
- মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত হয় সোনামসজিদ। 
- প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১০.
মৌর্যদের পূর্বে মগধে কোন দুটি রাজবংশ শাসন করেছিল?
  1. কুষাণ ও সাতবাহন
  2. শুঙ্গ ও কণ্ব
  3. সেন ও পাল
  4. শৈশুনাগ ও নন্দ
সঠিক উত্তর:
শৈশুনাগ ও নন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈশুনাগ ও নন্দ
ব্যাখ্যা

মগধ সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ অব্দে ভারতে কোন অখন্ড সর্বভারতীয় রাজ্য ছিল না।
- এ সময়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ১৬টি রাজ্য বা ষোড়শ মহাজনপদে বিভক্ত ছিল। এ রাজ্যগুলির মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক যোগ্যতাবলে মগধ বৃহৎ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
- বর্তমান বিহারের দক্ষিণাংশ, মুখ্যত পাটনা ও গয়া জেলা, প্রাচীনকালে মগধ নামে পরিচিত ছিল।
- এ রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলীপুত্র।  

• মৌর্যদের পূর্বে দুটি বিখ্যাত রাজবংশ মগধে রাজত্ব করেন বলে জানা যায় এগুলি হলো হর্ষঙ্ক-শৈশুনাগ বংশ এবং নন্দ বংশ।
- হর্ষঙ্ক-শৈশুনাগ বংশের বিম্বিসার, অজাতশত্রু এবং নন্দবংশের মহাপদ্মনন্দ ও ধননন্দ হচ্ছেন প্রসিদ্ধ রাজা।
- বিম্বিসার মগধের সাম্রাজ্য বিস্তার নীতির বীজ বপন করেন।
- বৌদ্ধ শাস্ত্র অনুসারে বিম্বিসারকে হত্যা করে তাঁরই পুত্র অজাতশত্রু মগধের সিংহাসনে বসেন। 

• হর্ষঙ্ক-শৈশুনাগ বংশের পর মহাপদ্মনন্দ প্রতিষ্ঠা করেন নন্দ বংশের শাসন।
- বৌদ্ধ সূত্র মতে, তিনি ছিলেন 'উগ্রসেনা' বা ভয়ংকর সেনাদলের অধিপতি।
- ধননন্দ ছিলেন নন্দবংশের সর্বশেষ রাজা। তিনি অত্যাচারী এবং অর্থলিপ্স হিসাবে ইতিহাসে নিন্দিত। 
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এবং কৌটিল্য এর পরিপূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেন এবং নন্দ বংশের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রাচীন ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
চৈনিক পর্যটক মা-হুয়ান কার শাসনামলে বাংলায় ভ্রমণ করেন?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. হর্ষবর্ধন
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

চৈনিক পর্যটক মা-হুয়ান:
- মা হুয়ান  চৈনিক পরিব্রাজক।
- জেং হি (চেং হো)-র ভারত মহাসাগরে অভিযাত্রায় সফরসঙ্গী চার প্রধান কর্মকর্তার মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। 
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ-এর শাসনামলে বাংলায় ভ্রমণ করেন।

• গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং তিনি চীনে বিশেষ দূত প্রেরণ করেন। চীন সম্রাট ইয়াং লু'র সাথে তিনি দূত বিনিময় করেন।
- বাংলা থেকে ১৪০৫, ১৪০৮ ও ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দে চীন সম্রাটের দরবারে প্রতিনিধি দল প্রেরণ করা হয়, প্রত্যুত্তরে চীন সম্রাটও ১৪১১ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত চৈনিক দোভাষী মাহুয়ান-এর নেতৃত্বে একটি চীনা প্রতিনিধি দল বাংলায় প্রেরণ করেন।
- মাহুয়ান তাঁর বর্ণনায় বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে যেসব বর্ণনা দিয়েছেন তা বাংলার ইতিহাসের এক নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত।

উল্লেখ্য,
- খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে এসেছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ কৌটিল্য (তার আরেক নাম চাণক্য)। 
- আনুমানিক খ্রিস্টীয় ৩৯৯ অব্দে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে পায়ে হেঁটে বাংলা ভ্রমণে আসেন চীন দেশের ফা হিয়েন।
- হিউয়েন সাং একাধারে একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী, পর্যটক এবং অনুবাদক ছিলেন। হর্ষবর্ধনের আমলে ৬৩০-৬৪০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে চীনের এই পরিব্রাজক বাংলা ভ্রমণ করেন।
- সপ্তম শতকে  বাংলায় আসেন আরেক চীনা নাগরিক ‘ইৎ-সিং’। 
- ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ইবনে বতুতা বাংলা ভ্রমণে আসেন।
- বঙ্গের সুলতান জালালউদ্দিন মুহাম্মদের শাসনামলে চীনা পর্যটক ফেই-সিন বাংলা ভ্রমণে আসেন।
- আনুমানিক ১৬৫৫ সালে ইতালীর নিকোলা মানুচ্চি বাংলায় এসেছিলেন। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
ভারতবর্ষে মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. অশোক
  2. কৌটিল্য
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. বিন্দুসার 
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
ব্যাখ্যা

চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত। 
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে। সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে। শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কৌটিল্য বা চাণক্য (চাণক্য, প্রায়ই কৌটিল্য এবং বিষ্ণুগুপ্ত নামে পরিচিত)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
কোন যুগে অস্ট্রিক জাতি বাংলায় বসতি স্থাপন করে?
  1. আর্য যুগে
  2. প্রাক-আর্য যুগে
  3. বৈদিক যুগে
  4. গুপ্ত যুগে
সঠিক উত্তর:
প্রাক-আর্য যুগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাক-আর্য যুগে
ব্যাখ্যা

বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।
- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

• অস্ট্রিক জাতি:
- অস্ট্রিক প্রাচীন বাংলার একটি নৃগোষ্ঠী।
- প্রাচীন বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাক-আর্য বা অনার্য নরগোষ্ঠী ও আর্য নরগোষ্ঠী।
- আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত: নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয়।
- অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়। অস্ট্রিক জাতিকে নিষাদ জাতিগোষ্ঠী নামেও অভিহিত করা হয়।
- অস্ট্রিকদের আদি বাসস্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এখান থেকে তারা পূর্ব ভারত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যদিকে পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- অস্ট্রিকদের সংস্কৃতি ও সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। তারা কলা, লাউ, বেগুন, নারকেল, পান, সুপারি, হলুদ, আদা প্রভৃতি ফসলের চাষ করত। সম্ভবত গরু তাদের গৃহপালিত পশু ছিল না।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৪.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষাগুরু কে ছিলেন?
  1. বাণভট্ট
  2. কালিদাস
  3. কৌটিল্য
  4. মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
কৌটিল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌটিল্য
ব্যাখ্যা

কৌটিল্য: 
- ভারতে মৌর্য শাসনের শুরু করেছিলেন রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- সেই রাজার প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষাগুরু ছিলেন কৌটিল্য।
- সংস্কৃত ভাষায় রচিত খ্রিস্টপূর্ব তিন শতকের এ গ্রন্থটির রচয়িতা ছিলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী কৌটিল্য যিনি অতীব বুদ্ধিমান ‘চাণক্য’ বা সম্রাটের প্রাথমিক জীবনের শিক্ষক বিষ্ণুগুপ্ত বলেও পরিচিত।

⇒ বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সেই সময় কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে যা লিখে গেছেন, তা আজকের রাজনীতি, কূটনীতি, প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, সমাজনীতি ও অর্থনীতিতে সমানভাবে প্রযোজ্য।
- কৌটিল্য তাঁর শাস্ত্রে লিখেছেন, ‘সকল উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করে অর্থের ওপর। সে জন্য সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে খাজাঞ্চিখানার দিকে। জিহ্বার ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর স্বাদ আস্বাদন সম্ভব নয়, তেমনি একজন লোক রাজকর্মচারী হয়ে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে বসে থাকবেন, এটা অবিশ্বাস্য। জলের নিচের মাছের গতিবিধি যেমন লক্ষ করা সম্ভব নয়, তেমনি রাজকর্মচারীর তহবিল আত্মসাৎ করাও পর্যবেক্ষণ করা অসম্ভব। আকাশের অতি উঁচুতে পাখির ওড়াউড়ি দেখা সম্ভব, কিন্তু রাজকর্মচারীর সকল কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অসম্ভব।’

 অন্যদিকে,
- বানভট্ট ছিলেন সপ্তম শতাব্দীর একজন বিখ্যাত সংস্কৃত কবি ও গদ্যকার, যিনি উত্তর ভারতের রাজা হর্ষবর্ধনের (৬০৬-৬৪৭ খ্রিস্টাব্দ) সভাকবি ছিলেন। 
- কালিদাস ছিলেন প্রাচীন ভারতের, বিশেষ করে গুপ্ত যুগের (সম্ভবত ৪র্থ-৫ম শতাব্দী) সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কৃত কবি ও নাট্যকার, যাঁকে প্রায়শই ভারতের শেক্সপিয়র বলে গণ্য করা হয়।
- মেগাস্থিনিস ছিলেন একজন প্রাচীন গ্রিক কূটনীতিক, পর্যটক এবং ইতিহাসবিদ, যিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজত্বকালে (খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী) পাটলিপুত্রে গ্রিক শাসক সেলুকাস আই নিকেটর-এর দূত হিসেবে এসেছিলেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

১৫.
বিজয় সেন প্রথমে কোন পাল রাজার অধীনে সামন্তরাজা ছিলেন?
  1. ধর্মপাল 
  2. রামপাল
  3. দেবপাল
  4. মহীপাল
সঠিক উত্তর:
রামপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপাল
ব্যাখ্যা

বিজয় সেন:
- বাংলাদেশে বিজয় সেনের সময়ই সেনবংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন।
- বিজয় সেন সম্ভবত পালরাজা রামপালের রাজত্বকালে রাঢ় অঞ্চলে প্রথমে সামন্তরাজা ছিলেন।
- পরবর্তীকালে পাল শক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি ১০৯৭ খ্রিষ্টাব্দের আশেপাশে প্রায় সমগ্র বাংলা জয় করে সেনদের ক্ষুদ্র রাজ্যটিকে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন।
- এভাবে বিজয় সেন তাঁর সুদীর্ঘ ৬২ বছরের রাজত্বকালে বহু যুদ্ধে জয়লাভ করে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে একক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- তিনি বেশ কিছু উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। যেমন- 'পরম মাহেশ্বর, পরম ভট্টারক, মহারাজাধিরাজ, অরিরাজ নিশঙ্ক শঙ্কর' ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
স্বাধীন গৌড় রাজ্যের রাজধানী কোথায় স্থাপিত ছিল?
  1. পাটালিপুত্র
  2. দন্ডভুক্তি
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. পুন্ড্রনগর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা

স্বাধীন গৌড়রাজ্য:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে পরবর্তী গুপ্তবংশ নামে পরিচিত গুপ্ত উপাধি নেয়া রাজাগণ বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন।
- বিভিন্ন কারণে গুপ্ত বংশের রাজারা দুর্বল হয়ে পড়লে এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মগধে শশাঙ্ক নামক এক খ্যাতিমান শাসক গৌড় রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেন।
- প্রাথমিক যুগে শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত রাজ মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত।
- ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের আগে কোন এক সময় তিনি গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তিনি কর্ণসুবর্ণে রাজধানী স্থাপন করেন।
- প্রাথমিক সময়ে স্বাধীন গৌড় রাষ্ট্রের রাজা শশাঙ্ক দণ্ডভুক্তি রাজ্য, উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোগ রাজ্য এবং বিহারের মগধ রাজ্য জয় করে তার রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন। পশ্চিমে তার রাজ্য বারানসী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কামরূপ রাজারাও শশাঙ্কের হাতে পরাজিত হন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বকালে গ্রিক সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. সেলুকাস
  2. টলেমি
  3. মেগাস্থিনিস
  4. আলেকজান্ডার
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার
ব্যাখ্যা

গঙ্গারিডাই:
- গঙ্গারিডাই প্রথম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখায় একটি জনগোষ্ঠী ও একটি দেশের নাম হিসেবে উল্লিখিত।
- গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বকালে প্রধান গ্রিক সেনাপতি ছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। আলেকজান্ডার ও তাঁর সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ডিওডোরাস (৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ-১৬ খ্রিস্টাব্দ) সিন্ধু পরবর্তী দেশ সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, গঙ্গা পেরিয়ে যে অঞ্চল সেখানে ‘প্রাসিয়ই’(Prasioi) ও গঙ্গারিডাই-দের আধিপত্য।
- টলেমি (দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দ) গঙ্গারিডাই-এর অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, গঙ্গার পাঁচটি মুখ সংলগ্ন প্রায় সমস্ত এলাকা গঙ্গারিডাইগণ দখল করে রেখেছিল, ‘গাঙ্গে’ (Gange) নগর ছিল এর রাজধানী। 
- প্রাচীন বাংলার বঙ্গ জনপদকে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখকদের ‘গঙ্গারিডাই’-এর সমতুল্য গণ্য করা যেতে পারে।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে 'ঐতিহ্য অন্বেষণ' নামক সংস্থাটি দাবি করেছে যে, উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলেই হয়তো ইতিহাস বিখ্যাত গঙ্গারিডি বা গঙ্গারিডাই রাজ্য গড়ে উঠেছিল।

অন্যদিকে,
- সেলুকাস: আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর (৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) তাঁর সেনাপতি, যিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সাথে যুদ্ধ করেন।
- টলেমি: আলেকজান্ডারের আরেক সেনাপতি, যিনি মিশরে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- মেগাস্থিনিস: গ্রিক রাষ্ট্রদূত ও ঐতিহাসিক (চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সময়ে পাটলীপুত্রে আসেন), সেনাপতি নন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
সমুদ্রগুপ্তের শাসনামলে বাংলার কোন অঞ্চলটি করদ রাজ্য ছিল?
  1. পুন্ড্রবর্ধন
  2. রাঢ়
  3. সমতট
  4. গৌড়
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা

সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। তাঁকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ান বলা হয়।
- তার রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা জয় করা হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।

উল্লেখ্য,
- সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ প্রশস্তিলিপি সূত্রে জানা যায় যে, তিনি সমতট ব্যতীত বাংলার অন্য সব জনপদ তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত করেছিলেন।
- সমুদ্রগুপ্তের বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্যের পূর্বতন প্রত্যন্ত রাজ্য ছিল নেপাল, কর্তৃপুর (শনাক্তকরণ বিতর্কিত), কামরূপ, ডবাক (আসাম অথবা ঢাকা), এবং সমতট (দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা)। সমতট সম্ভবত গুপ্তদের করদ রাজ্য ছিল। তবে কালক্রমে এ অঞ্চলও গুপ্ত সাম্রাজ্যভুক্ত হয়ে পড়ে।

⇒ করদ রাজ্য:
- ইতিহাসে করদ রাজ্য বলতে সামন্ত রাজ্যকে বোঝানো হয়। দুই রাজ্যের রাজার মধ্যে যুদ্ধে যে হেরে যায় সেই রাজ্য জয়ী রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। যুদ্ধে পরাজিত রাজাকে সামন্ত রাজা বলা হয়। যুদ্ধেপরাজিত রাজা যুদ্ধে জয়ী রাজার সঙ্গে এক চুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন থাকেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
পাল রাজবংশের উত্থান ঘটে কোন শতকে?
  1. ষষ্ঠ শতক
  2. সপ্তম শতক
  3. অষ্টম শতক
  4. নবম শতক
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতক
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- পাল রাজবংশের উত্থান ঘটে ৮ম শতকের মাঝামাঝি সময়ে (আনুমানিক ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে)।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ একশ বছরের (মাৎস্যন্যায়) অরাজকতা দূর করতে গোপাল এই বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই রাজবংশ ৮ম থেকে ১২শ শতক পর্যন্ত বাংলা ও বিহার শাসন করেছিল। 
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
বাংলায় মাৎস্যন্যায়ের সময়কাল প্রায় কত বছর স্থায়ী হয়েছিল?
  1. ২৫ বছর
  2. ৫০ বছর
  3. ১০০ বছর 
  4. ২০০ বছর
সঠিক উত্তর:
১০০ বছর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০ বছর 
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায়:
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের সময়টি ছিল মোটামুটিভাবে ৬৫০-৭৫০ সালের মধ্যকার প্রায় ১০০ বছর।

• সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- বাংলা অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা যখন চরমে, তখন সিংহাসনে বসেন রাজা গোপাল। রাজা গোপালের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে পাল বংশ। রাজা গোপাল সিংহাসনে বসার মাধ্যমে অবসান ঘটে মাৎস্যন্যায়ের। 

উল্লেখ্য,
- সংস্কৃত শব্দ মাৎস্যন্যায়ের আক্ষরিক অর্থ ‘মাছের ন্যায়’।
- মাছেদের জগতে যেমন বড় মাছ ছোট ছোট মাছ খেয়ে ফেলে; তেমনি মানবসমাজে দুর্বলরা সবলদের হাতে, ক্ষমতাহীনরা শোষিত হয় ক্ষমতাবানদের হাতে।
- এভাবে অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলা গ্রাস করে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।