পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন৫২
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 14” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- বিষয়: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫২ প্রশ্ন

.
কম্পিউটারে ডাটা ইনপুট দেওয়ার জন্য নিচের কোন ডিভাইসটি ব্যবহৃত হয়?
  1. মনিটর
  2. প্রিন্টার 
  3. স্পিকার 
  4. ডিজিটাইজার
ব্যাখ্যা

◉ ডিজিটাইজার (Digitizer) হলো একটি ইনপুট ডিভাইস যা অ্যানালগ তথ্য (যেমন ছবি, অঙ্কন, নকশা) ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়।

পেরিফেরাল ডিভাইস:
- কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসগুলোকে কম্পিউটার পেরিফেরালস বলে।
- কম্পিউটার পেরিফেরাল ডিভাইসগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. ইনপুট ডিভাইস:
- যে হার্ডওয়্যার বা ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটার বিভিন্ন পরিবেশ বা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ডেটা গ্রহণ করে থাকে সেই সমস্ত হার্ডওয়্যারগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বলে।
- কম্পিউটার সিস্টেমে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য ইনপুট ডিভাইস সমূহ হলো -
Keyboard, Mouse, Trackball, Joystick, Touch Screen, Barcode Reader, Point-of-sale, OMR, OCR, Scanner, Digitizer, Lightpen, Graphics pad, Digital Camera ইত্যাদি।

২. আউটপুট ডিভাইস:
- কম্পিউটারের ফলাফল প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হার্ডওয়্যারগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বলে।
- কম্পিউটার সিস্টেমে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য আউটপুট ডিভাইস সমূহ হলো-
Monitor, Printer, Plotter, Speaker, Multimedia Projector, Image setter, Film Recorder, Headphone ইত্যাদি।

৩. ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস:
- কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত যে ডিভাইসগুলো একইসাথে ইনপুট ও আউটপুট হিসেবে কাজ করে তাদেরকে ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস বলে।
- কম্পিউটার সিস্টেমে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস সমূহ হলো-
Hard Disk, CD/DVD, Touch screen, Pendrive ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
হার্ড ডিস্ক কোন শ্রেণির মেমরির অন্তর্গত?
  1. প্রাইমারি মেমরি
  2. সেকেন্ডারি মেমরি
  3. ক্যাশ মেমরি
  4. রেজিস্টার
ব্যাখ্যা

◉ হার্ড ডিস্ক (Hard Disk Drive – HDD) হলো সেকেন্ডারি মেমরি, যেখানে ডেটা স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে।

সহায়ক মেমরি:
- কম্পিউটারের যে মেমরিতে বিভিন্ন তথ্য, নির্দেশাবলি, অডিও, ভিডিও, ইমেজ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায় তাকে সহায়ক মেমরি বলা হয়।
- এ ধরনের মেমরির কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকে না বিধায় ধীরগতি সম্পন্ন হয়।
- বিদ্যুৎ চলে গেলে বা কম্পিউটার বন্ধ করলেও প্রোগ্রাম হারিয়ে বা মুছে যায় না।

সহায়ক মেমরি (Secondary Memory) এর উদাহরণ:
- হার্ডডিস্ক,
- সিডি,
- ডিভিডি,
- পেনড্রাইভ,
- জিপ ড্রাইভ,
- ম্যাগনেটিক টেপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- RAM ও ROM হচ্ছে প্রাইমারি মেমরি। 
- রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমরিকে ইন্টারনাল মেমরি বলা হয়। 

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
Linux অপারেটিং সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. শুধু মোবাইলের জন্য
  2. কোড পরিবর্তনের সুযোগ নেই
  3. ওপেন সোর্স
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

Linux হলো একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যার সোর্স কোড সবার জন্য উন্মুক্ত এবং যেকেউ এটি পরিবর্তন, উন্নয়ন ও বিতরণ করতে পারে।

লিনাক্স (LINUX) অপারেটিং সিস্টেম:
- লিনাক্স হচ্ছে একটি মাল্টি টাস্কিং ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম যা বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার প্রোগ্রামার দ্বারা উন্নতি লাভ করেছে।
- এটি UNIX অপারেটিং সিস্টেমের একটি বিশেষ সংস্করণ।
- ১৯৯০ সালে ফিনল্যান্ডের যুবক লিনাস টারভোল্ডাস লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেন।
- লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম বর্ণভিত্তিক ও চিত্রভিত্তিক উভয় পরিবেশের সুবিধা প্রদান করে এবং এটির সিকিউরিটি ও গ্রাফিক্স অত্যন্ত শক্তিশালী।

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের অন্যতম সুবিধাসমূহ হলো:
১। লিনাক্স বর্ণভিত্তিক ও চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম।
২। লিনাক্স ওপেন সোর্স কোডভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম।
৩। ইন্টারনেট হতে সহজেই লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ডাউনলোড করা যায়।
৪। নেটওয়ার্ক সাপোর্ট সার্ভিস উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় অধিকতর শক্তিশালী।
৫। এটির সিকিউরিটি ও গ্রাফিক্স অত্যন্ত শক্তিশালী।
৬। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায় ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
কম্পিউটারের প্রসেসরের গতি সাধারণত কোন এককে পরিমাপ করা হয়?
  1. গিগাহার্টজ (GHz)
  2. গিগাবাইট (GB)
  3. পিক্সেল
  4. বাইট
ব্যাখ্যা

◉ কম্পিউটারের প্রসেসরের গতি মাপা হয় হার্টজ (Hz) এককে, যা প্রতি সেকেন্ডে কতটি সাইকেল সম্পন্ন হচ্ছে তা নির্দেশ করে। আধুনিক প্রসেসরের গতি সাধারণত গিগাহার্টজ (GHz) এ প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১ GHz = ১ বিলিয়ন সাইকেল/সেকেন্ড।

সিপিইউ/ মাইক্রোকম্পিউটারের গতি:
- মাইক্রোকম্পিউটারের গতি বিবেচনা করা হয় সিপিইউ তথা মাইক্রোপ্রসেসরের ক্লক স্পিড (Clock Speed)-এর দ্বারা।
- ক্লক স্পিড পরিমাপ করা হয় প্রতি সেকেন্ডে কতটি স্পন্দন (Pulse) বা টিক সম্পন্ন হয় তার ওপর নির্ভর করে।
- স্পন্দন পরিমাপ করা হয় হার্টজে।
- প্রসেসরের ক্লকটি প্রতি সেকেন্ডে এক মিলিয়ন বার স্পন্দন বা টিক করার সময়কে ১ মেগাহার্টজ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- যেমন- কোনো প্রসেসরের গতি যদি ৩৩ মেগাহার্টজ হয়, তাহলে তার অর্থ হলো প্রতি সেকেন্ড ৩৩,০০০,০০০ স্পন্দন তৈরি হবে।
- অর্থাৎ উক্ত প্রসেসরটি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩,০০০,০০০ ইনস্ট্রাকশন আদান-প্রদান করতে পারবে।
- এই স্পন্দনকেই ক্লক স্পিড ((Clock Speed) বলা হয়।
- সুতরাং প্রসেসরের স্পিড বা গতি বলতে প্রসেসরটি কত কিলোহার্টজ, মেগাহার্টজ বা গিগাহার্টজের তাই-ই বোঝায়।

সূত্র: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
মাইক্রো কম্পিউটার অন্য কী নামে পরিচিত? 
  1. মেইনফ্রেম
  2. মিনি কম্পিউটার
  3. সুপার কম্পিউটার
  4. পার্সোনাল কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

◉ মাইক্রো কম্পিউটার হলো একক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি ছোট আকারের কম্পিউটার, যা সাধারণত পার্সোনাল কম্পিউটার (PC) নামে পরিচিত।

মাইক্রো কম্পিউটার:
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে সবচেয়ে আকারে ছোট এবং সস্তা কম্পিউটার হচ্ছে মাইক্রোকম্পিউটার।
- মাইক্রো এর সাধারণ অর্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র।
- ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রোপ্রসেসর চিপ দিয়ে যে সকল কম্পিউটার গঠিত হয় সেসব কম্পিউটারকে বলা হয় মাইক্রোকম্পিউটার ।

মাইক্রো কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ:
১। পামটপ কম্পিউটার (Palmtop Computer) বা পিডিএ (PDA),
২। ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop Computer),
৩। নোটবুক কম্পিউটার (Notebook Computer) এবং
৪। ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop Computer) ইত্যাদি।
- এছাড়া ট্যাবলেট পিসি (Tablet PC), ফ্যাবলেট (Phablet), স্মার্টফোন (Smartphone) ইত্যাদিও মাইক্রোকম্পিউটারের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ফায়ারওয়ালের প্রধান কাজ কী?
  1. ভাইরাস তৈরি করা
  2. নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা প্রদান
  3. ডেটা মুছে ফেলা
  4. সফটওয়্যার ইনস্টল করা
ব্যাখ্যা

ফায়ারওয়াল (Firewall) হলো একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা নেটওয়ার্কে অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করে এবং অনুমোদিত ডেটা প্রবাহ নিশ্চিত করে।

ফায়ারওয়াল (Firewall):
- অননুমোদিত (Unauthorized) ব্যবহারকারীর হাত থেকে নেটওয়ার্ক রিসোর্সকে রক্ষা কিংবা সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে ফায়ারওয়াল (Firewall) ব্যবহার করা হয়।
- ফায়ারওয়াল হলো এমন এক ধরনের তথ্য ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা কোনো একটি কোম্পানির নিজস্ব নেটওয়ার্ক তথা ইন্ট্রানেট ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মধ্যে অবৈধ অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো কম্পিউটারের সফটওয়্যারের নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে ফায়ারওয়াল তৈরি করা হয়।
- সাধারণত কোনো ফায়ারওয়ালের সাথে রাউটার (Router) বা ডেডিকেটেড সার্ভার (Dedicated server) থাকে যা সম্পূর্ণ ফায়ারওয়াল হিসেবে কাজ করে।
- ফায়ারওয়াল কোনো প্রতিষ্ঠানের গেইট কিপার (Gate Keeper) হিসেবে কাজ করে যা যে কোনো ধরনের প্রবেশকে নিরাপদ এবং ডেটার ফিল্টার হিসেবে কাজ করে।
- ফায়ারওয়াল হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে কিন্তু সবসময় প্রতিরোধ করতে পারে না।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
রিলেশনাল ডাটাবেজে ডাটা কোন কাঠামোতে সংরক্ষণ করা হয়?
  1. গ্রাফ
  2. টেবিল
  3. লিস্ট
  4. ট্রি
ব্যাখ্যা

◉ রিলেশনাল ডাটাবেজ (RDBMS)-এ ডেটা টেবিল আকারে সংরক্ষণ করা হয়, যেখানে সারি (Row) এবং কলাম (Column) থাকে।

রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম:
- একটি ডাটাবেজে একাধিক টেবিল থাকতে পারে।
- কোন একটি নির্দিষ্ট ফিল্ডের উপর ভিত্তি করে দুই বা ততোধিক টেবিলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করাকে রিলেশনশীপ বলা হয়।
- রিলেশন তৈরি করা টেবিল থেকে প্রয়োজনীয় ডাটা নিয়ে আলাদা ডাটা টেবিল তৈরি করা যায়।
- রিলেশন করা ডাটা টেবিলের সমন্বয়ে গঠিত ডাটাবেজকে রিলেশনাল ডাটাবেজ বলা হয়।
- আধুনিক ডাটাবেজ বলতে সাধারণত রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকেই বুঝায়।
- রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সার্ভারে ডাটাবেজ ইঞ্জিন ব্যবহার করার জন্য বাজারে অনেক ধরনের সফট্ওয়্যার রয়েছে।
যথা- মাইক্রোসফ্‌ট একসিস, ওরাকল, মাইএসকিউএল, এসকিউএল সার্ভার, ইনফরমিক্স ইত্যাদি।

রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য হল:  
- সহজে টেবিল তৈরি করে ডাটা এন্ট্রি করা যায়।
- ডাটা টেবিলের সাথে অন্য এক বা একাধিক ডাটা টেবিলের মধ্যে রিলেশন তৈরি করা যায়।
- অসংখ্য ডাটার মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় ডাটাকে খুঁজে বের করা যায়।
- সহজে নানা ফরমেটের রিপোর্ট তৈরি করা যায় ও তা মুদ্রণ করা যায়।
- প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে লেবেল তৈরি করা যায় এবং ছাপানো যায়।
- বিভিন্ন ধরনের চার্ট তৈরি করা যায়।
- আকর্ষণীয় ডাটা এন্ট্রি ফর্ম তৈরি করা যায়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ই-মেইল ঠিকানায় '@' চিহ্নের পূর্ববর্তী অংশকে কী বলা হয়?
  1. ডোমেইন নেম
  2. সার্ভার নেম
  3. প্রোটোকল নেম
  4. ইউজারনেম
ব্যাখ্যা

◉ ই-মেইল ঠিকানা দুই অংশে বিভক্ত — ইউজারনেম এবং ডোমেইন নেম, যা '@' চিহ্ন দ্বারা আলাদা হয়।
- '@' এর আগে থাকা অংশটি হলো ইউজারনেম, যা ই-মেইল অ্যাকাউন্টের মালিককে চিহ্নিত করে।
- '@' এর পরে থাকা অংশটি হলো ডোমেইন নেম, যা ই-মেইল সার্ভারের ঠিকানা নির্দেশ করে।

ইমেইল:
- ১৯৭১ সালে রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিসন ARPANET-এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পত্রালাপ চালু করেন, যা ছিল প্রথম ইমেইল সিস্টেম।
- ইলেকট্রনিক মেইল (ই-মেইল) হলো এক ধরনের ডিজিটাল বার্তা বিনিময়ের পদ্ধতি, যেখানে একজন প্রেরক এক বা একাধিক প্রাপকের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে বার্তা পাঠাতে পারেন।
- ইমেইল ঠিকানায় @ চিহ্ন থাকা আবশ্যক।
- একটি ইমেইল ঠিকানা মূলত ইউজার আইডি এবং ডোমেইন নেম দ্বারা গঠিত।
- উদাহরণ: abc@def.com। এখানে @ চিহ্নের পূর্বের অংশটি ইউজার আইডি ও @ চিহ্নের পরের অংশটি ডোমেইন নেম নির্দেশ করে।
- ইমেইল আদান-প্রদানে POP, IMAP এবং SMTP প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।
ইমেইলে ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ:
- CC (Carbon Copy): একই ইমেইল একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে অন্য প্রাপকেরা দেখতে পান কে কে বার্তাটি পেয়েছেন।
- BCC (Blind Carbon Copy): একই ইমেইল একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠানো হলেও, এক প্রাপক অন্যদের ইমেইল ঠিকানা দেখতে পান না।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

.
ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেলে কোনটি মূলত সেবা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করে?
  1. সার্ভার
  2. সুইচ
  3. রাউটার
  4. ক্লায়েন্ট
ব্যাখ্যা

◉ ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেলে সার্ভার হলো সেই কম্পিউটার বা প্রোগ্রাম যা সেবা, ডেটা বা রিসোর্স সরবরাহ করে।

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক:
- ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক পদ্ধতিতে অন্তত একটি কম্পিউটারকে সার্ভার হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
- LAN এর ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়।
- সার্ভারের সাথে একাধিক কম্পিউটারের সংযোগ দেওয়া হয়, এই সংযোগকৃত কম্পিউটারগুলোকে ওয়ার্কস্টেশন বা ক্লায়েন্ট বলে।
- সার্ভার ক্লায়েন্টকে সেবা প্রদান করে।
- বিভিন্ন ক্লায়েন্ট বা ওয়ার্কস্টেশন থেকে একই সঙ্গে একাধিক ব্যবহারকারী সার্ভারের রিসোর্স শেয়ার করতে পারে।
- এই পদ্ধতির নেটওয়ার্কিং-এর জন্য সার্ভার কম্পিউটারে নেটওয়ার্ক কেন্দ্রীক অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

১০.
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নের কোনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
  1. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা
  2. পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ব্যাংকিং করা
  3. সফটওয়্যার আপডেট এড়িয়ে চলা
  4. অজানা লিংকে ক্লিক করা
ব্যাখ্যা

◉ শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সাইবার নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান উপায়, যা হ্যাকিং বা অননুমোদিত প্রবেশ রোধে সাহায্য করে।
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ডে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সমন্বয় থাকা উচিত।
- পাবলিক ওয়াই-ফাই এ ব্যাংকিং, অজানা লিংকে ক্লিক করা, বা আপডেট এড়ানো সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

অনলাইন পরিচিতি ও নিরাপত্তা:
- একজন ব্যক্তির অনলাইন পরিচিতি নিম্নোক্ত পরিচয় জ্ঞাপকের যেকোনো একটি বা তাদের সমন্বিত হতে পারে।
(ক) ই-মেইল ঠিকানা এবং
(খ) সামাজিক যোগাযোগের সাইটে তার প্রোফাইলের নাম।
- ই-মেইল কিংবা ফেসবুকে নিজের একাউন্ট যেন অন্যে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
- এক্ষেত্রে প্রত্যেক সাইটে ঢোকার ক্ষেত্রে যে পাসওয়ার্ডটি ব্যবহার করা হয়, সেটির গোপনীয়তা রক্ষা করাও জরুরি।

• পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য কয়েকটি টিপস বা কৌশল হলো- 
১। দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার: সংক্ষিপ্ত পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অধিক নিরাপদ। প্রয়োজনে প্রিয় বাক্য বা বাক্যাংশও পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, সহজ পাসওয়ার্ড যেমন- 123456, abcdef, qwerty, asdfghjkl, password ইত্যাদি ব্যবহার করা উচিত নয়।
২। বিভিন্ন ধরনের অক্ষর ব্যবহার: কেবল ছোট হাতের অক্ষর নয়, বড় হাতের এবং ছোট হাতের অক্ষরের পাশাপাশি সংখ্যা এবং প্রতীকও ব্যবহার করা উচিত। এটি পাসওয়ার্ডের শক্তিমত্তা বাড়ায়।
৩। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করা: শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের মধ্যে শব্দ, বাক্য, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সমন্বয় করা উচিত। যেমন: Z26a1$alr18a1@gmail.com।
৪। পাসওয়ার্ডের শক্তিমত্তা যাচাই করা: বেশিরভাগ অনলাইন সাইটে পাসওয়ার্ডের শক্তিমত্তা যাচাই করার একটি সুযোগ থাকে। নিয়মিতভাবে এই সুযোগ ব্যবহার করে পাসওয়ার্ডের শক্তিমত্তা পরীক্ষা করা এবং যদি প্রয়োজন হয়, সেটি আরও শক্তিশালী করে তোলা উচিত।
৫। সামাজিক জায়গায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন: সাইবার ক্যাফে বা ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের মতো পাবলিক কম্পিউটারে অনলাইন ব্যবহারের সময়, ব্যবহার শেষে সংশ্লিষ্ট সাইট থেকে লগ আউট করা অত্যন্ত জরুরি।
৬। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার: অনেক ব্যবহারকারী পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করেন যেমন- LastPass, KeePass ইত্যাদি। এইসব টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার পাসওয়ার্ডগুলো নিরাপদে রাখতে পারেন।
৭। পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন: একটি নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন, যেন আপনার অ্যাকাউন্টগুলি সর্বদা সুরক্ষিত থাকে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অষ্টম শ্রেণি।

১১.
বাইনারি সংখ্যা ১১০০১ এর দশমিক রূপ কী?
  1. ২৩
  2. ২৪
  3. ২৫
  4. ২৬
ব্যাখ্যা

◉ বাইনারি সংখ্যা ১১০০১ এর দশমিক রূপ হচ্ছে - ২৫

বাইনারি থেকে দশমিক সংখ্যায় রূপান্তর:
- বাইনারি থেকে দশমিক সংখ্যায় রূপান্তর করার সময় প্রত্যেক অংককে ২ দ্বারা গুণ করতে হয়।
- গুণ করার সময় স্থানীয় মান অনুযায়ী ২ এর ঘাত ০ হতে বাড়াতে হবে।
- প্রাপ্ত গুণফলকে যোগ করলে উক্ত বাইনারি সংখ্যাটির সমতুল্য দশমিক মান পাওয়া যাবে। 

এখানে, 
(11001)2 =  1 × 24 + 1 × 23 + 0 × 22 + 0 × 21 + 1 × 20
= 16 + 8 + 0 + 0 + 1
= 25

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (মাহবুবুর রহমান), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১২.
Amazon Web Services (AWS) কোন ধরনের সেবা প্রদান করে?
  1. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  2. ক্লাউড কম্পিউটিং
  3. ইমেইল মার্কেটিং টুল
  4. সার্চ ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা

◉ Amazon Web Services (AWS) হলো একটি বিস্তৃত ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম, যা অবকাঠামো (IaaS), প্ল্যাটফর্ম (PaaS) এবং সফটওয়্যার (SaaS) সেবা প্রদান করে।

Amazon Web Services (AWS):
- অ্যামাজনের ক্লাউড প্লাটফর্ম হলো AWS.
- AWS এর পূর্ণ রূপ Amazon Web Services.
- ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৬০ এর দশক থেকেই।
- তবে ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার শুরু করে।

AWS মূলত তিনটি key cloud service model-এ কাজ করে:
- IaaS (Infrastructure as a Service) → Example: EC2, S3.
- PaaS (Platform as a Service) → Example: AWS Elastic Beanstalk.
- SaaS (Software as a Service) → Example: AWS WorkSpaces.

উৎস: Amazon Web Services (AWS) ওয়েবসাইট।

১৩.
NAND গেটের আউটপুট কখন ‘০’ হয়?
  1. সব ইনপুট ‘১’ হলে
  2. সব ইনপুট ‘০’ হলে
  3. যেকোনো ইনপুট ‘১’ হলে
  4. ইনপুট ভিন্ন হলে
ব্যাখ্যা

◉ NAND গেট হলো AND গেটের পর NOT গেট, তাই সব ইনপুট ‘১’ হলে আউটপুট ‘০’ হয়।

ন্যান্ড গেইট:
- ন্যান্ড (NAND) গেইট হচ্ছে অ্যান্ড গেইট ও নট গেইটের সমন্বিত রূপ।
- অ্যান্ড গেইটের আউটপুটকে নট গেইটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করলে তখন তাকে বলা হয় ন্যান্ড গেইট।
- অ্যান্ড গেইট যে কাজ করে ন্যান্ড গেইট তার বিপরীত কাজ করে।



উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
Google এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. বিল গেটস ও পল অ্যালেন
  2. ল্যারি পেজ ও সার্গেই ব্রিন
  3. স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক
  4. মার্ক জাকারবার্গ
ব্যাখ্যা

◉ Google ১৯৯৮ সালে Larry Page এবং Sergey Brin কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন তারা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ছাত্র ছিলেন।

গুগল (Google):
- ল্যারি পেইজ এবং সার্জে ব্রেইন ১৯৯৮ সালে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন।
- গুগলের পুরাতন নাম ব্যাকরাব (BackRub)।
- গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন সুন্দর পিচাই।
- গুগল শব্দটির উৎপত্তি ‘গুগোল’ (googol) থেকে- যা একটি বিশেষ সংখ্যার নাম।
- গুগল ও আলফাবেটের কর্পোরেট হেডকোয়ার্টার কমপ্লেক্সের নাম হচ্ছে গুগলপ্লেক্স।
- গুগলপ্লেক্স মাউন্টেইন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- গুগলের সার্ভিসসমূহ: Google Nest, Drive, Google Maps, Google Workspace, Chrome, Gmail, Android, Google Assistant, YouTube, Google Keep, Google Meet, Contacts, Google Photos, Chromebook, AdSense প্রভৃতি।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
বিল গেটস ও পল অ্যালেন — Microsoft-এর প্রতিষ্ঠাতা।
স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক — Apple-এর প্রতিষ্ঠাতা।
মার্ক জাকারবার্গ — Facebook-এর প্রতিষ্ঠাতা।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১৫.
মাদারবোর্ডের প্রধান কাজ কী?
  1. সব কম্পোনেন্ট সংযুক্ত করা
  2. কাগজে তথ্য প্রিন্ট করা
  3. ইন্টারনেট সংযোগ করা 
  4. শব্দ আউটপুট দেওয়া
ব্যাখ্যা

মাদারবোর্ড (Motherboard) হলো কম্পিউটারের মূল সার্কিট বোর্ড, যা প্রসেসর, মেমরি, স্টোরেজ, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসসহ সব কম্পোনেন্টকে সংযুক্ত ও সমন্বয় করে।

মাদারবোর্ড:
- মাদারবোর্ডই হচ্ছে একটি কম্পিউটারের মূল অংশ, যা সিস্টেম ইউনিটের অভ্যন্তরে সংযুক্ত থাকে।
- সাধারণত কম্পিউটারের সমস্ত যন্ত্রাংশের সংযোগ স্থানকে বলা হয় মাদারবোর্ড।
- এটি সিস্টেম বোর্ড বা মেইনবোর্ড হিসেবেও পরিচিত।
- কম্পিউটারের ব্রেইন হিসেবে পরিচিত প্রসেসর মাদারবোর্ডের মধ্যেই থাকে।
- কম্পিউটারে যেকোনো যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হোক না কেন প্রতিটি তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদারবোর্ডের সাথে সংযোজিত।
- মাদারবোর্ড হলো কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় সার্কিট বোর্ড।

মাদারবোর্ডের মধ্যে কম্পিউটারের বিভিন্ন ডিভাইস:
- কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, হার্ড ডিস্কড্রাইভ, ফ্লোপি ডিস্ক ড্রাইভ, পেনড্রাইভ ইত্যাদি লাগানোর ব্যবস্থা থাকে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
Virtual Memory কী?
  1. অস্থায়ী ফাইল সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত রেজিস্টারের অংশ
  2. হার্ডডিস্কের অংশ যা RAM হিসেবে ব্যবহৃত হয়
  3. গ্রাফিক্স কার্ডের মেমরি
  4. অপটিক্যাল ডিস্কে সংরক্ষিত মেমরি
ব্যাখ্যা

ভার্চুয়াল মেমরি (Virtual Memory) হলো হার্ডডিস্ক বা SSD-এর একটি অংশ, যা RAM কম থাকলে সাময়িকভাবে RAM-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ভার্চুয়াল মেমরি:
- ভার্চুয়াল মেমরি (Virtual Memory) হলো কম্পিউটার সিস্টেমের একটি প্রযুক্তি যা প্রধান মেমরির (RAM) সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে হার্ড ড্রাইভের একটি অংশকে অস্থায়ীভাবে RAM হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে একসাথে আরও বেশি প্রোগ্রাম চালানো যায়।
- অপারেটিং সিস্টেম নিজেই ঠিক করে কোন অংশ RAM-এ থাকবে আর কোন অংশ হার্ড ড্রাইভে যাবে।
- যখন RAM পূর্ণ হয়ে যায়, তখন কম ব্যবহার হওয়া ডেটাগুলো হার্ড ড্রাইভের একটি নির্দিষ্ট অংশে (page file/swap space) পাঠানো হয়।
- প্রয়োজনে আবার সেই ডেটা RAM-এ ফিরিয়ে আনা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যবহারকারীর অজান্তেই ঘটে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বিভিন্ন টেক ওয়েবসাইট। 

১৭.
Arduino কী?
  1. একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন
  2. একটি নেটওয়ার্ক প্রোটোকল
  3. একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার বোর্ড
  4. একটি অপারেটিং সিস্টেম
ব্যাখ্যা

Arduino হলো একটি ওপেন-সোর্স মাইক্রোকন্ট্রোলার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, যা ইলেকট্রনিক প্রকল্প তৈরি ও প্রোগ্রামিং শেখার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

Arduino: 
- ওপেন-সোর্স ইলেকট্রনিক্স প্ল্যাটফর্ম যা সহজে ব্যবহারযোগ্য হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
- এটি বিভিন্ন সেন্সর, মোটর এবং অন্যান্য ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত হয়ে অটোমেশন, রোবোটিক্স, এবং IoT প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ইনপুট পড়তে সক্ষম, যেমন: সেন্সরে আলো পড়া, বোতামে আঙুলের চাপ, টুইটার মেসেজ গ্রহণ ইত্যাদি। 
- প্রোগ্রামিংয়ের জন্য Arduino IDE সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।
- বহুমুখী প্রয়োগ— রোবোটিক্স, IoT (Internet of Things), অটোমেশন, শিক্ষা, প্রোটোটাইপ ডেভেলপমেন্ট, এবং গবেষণা।

উৎস: Arduino ওয়েবসাইট। 

১৮.
GPU কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. গ্রাফিক্স প্রসেসিং
  2. ডাটাবেজ প্রসেসিং
  3. ফাইল কমপ্রেশন
  4. নেটওয়ার্ক প্রসেসিং
ব্যাখ্যা

GPU (Graphics Processing Unit) হলো বিশেষায়িত প্রসেসর, যা ছবি, ভিডিও, 3D গ্রাফিক্স এবং ভিজ্যুয়াল ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

Graphics Processing Unit (GPU): 
- GPU কম্পিউটারের একটি বিশেষ প্রসেসর যা মূলত গ্রাফিক্স প্রক্রিয়াকরণ এবং ডেটা প্রসেসিং দ্রুততর করতে ব্যবহৃত হয়।
- GPU-এর পূর্ণরূপ: Graphics Processing Unit.
- এটি গ্রাফিক্স, ইফেক্ট, ভিডিও প্রসেসিং, মেশিন লার্নিং এবং গেমিং অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

GPU-এর কার্যপ্রণালী:
- একাধিক ডেটা একইসাথে প্রক্রিয়া করতে পারে, যা CPU-এর তুলনায় সমান্তরাল গণনার জন্য অধিক কার্যকর।
- 2D এবং 3D গ্রাফিক্স রেন্ডারিং-এ দক্ষ।
- গেমিং, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR), 4K স্ক্রিন এবং উচ্চ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে।

GPU-এর গঠন ও ধরন:
- ইন্টিগ্রেটেড GPU: এটি কম্পিউটারের মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং CPU-এর সাথে একত্রিত থাকতে পারে।
- ডেডিকেটেড GPU: এটি একটি আলাদা হার্ডওয়্যার ইউনিট, যা উচ্চ গ্রাফিক্স ও গেমিং পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।

GPU ও তাপ উৎপাদন:
- গেমিং এবং গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ে বেশি অপারেশন সম্পাদন করায়, এটি CPU-এর তুলনায় অধিক তাপ উৎপন্ন করে।
- উন্নত কুলিং সিস্টেম এবং এয়ার ফ্লো মেকানিজম GPU-এর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

GPU-এর বর্তমান চাহিদা:
- গেমিং, ভিডিও এডিটিং, 3D মডেলিং, ডাটা সায়েন্স, AI এবং মেশিন লার্নিং-এ GPU-এর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তি যেমন 4K রেজোলিউশন এবং VR গেমিং-এর কারণে GPU-এর ক্ষমতা উন্নত করা হচ্ছে।

উৎস:
১। মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২। School of Science and Technology, Open University.

১৯.
প্রসেসরের কোর বৃদ্ধি করলে কী হয়?
  1. মাল্টিটাস্কিং ক্ষমতা বাড়ে
  2. মেমরির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় 
  3. মনিটরের রেজ্যুলেশন বৃদ্ধি পায় 
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা

◉ প্রসেসরের কোর সংখ্যা বাড়ালে একাধিক কাজ (মাল্টিটাস্কিং) একই সাথে দ্রুত ও দক্ষভাবে সম্পন্ন করা যায়।

প্রসেসর: 
- প্রসেসরকে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়, কারণ কম্পিউটারের সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
- কম্পিউটারের মূল চালিকাশক্তি হলো এই সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU) বা প্রসেসর। 
- অনেক সময় সিস্টেম ইউনিটকে ভুলবশত CPU বলা হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে CPU হলো সেই ছোট্ট চিপ, যা কেন্দ্রীয়ভাবে সমস্ত ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে। আকারে ছোট হলেও এর কর্মক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী।
- কম্পিউটারের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা অনেকাংশে প্রসেসরের গতি ও মানের উপর নির্ভরশীল।
- আধুনিক প্রসেসর একাধিক কোর-এর সমন্বয়ে তৈরি, যা মাল্টিটাস্কিং করতে সক্ষম। অর্থাৎ একাধিক প্রোগ্রাম বা কাজ একই সাথে দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

উৎস: শিক্ষায় আইসিটি, ব্যাচেলর অব এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
ডিজিটাল ওয়ালেট কী?
  1. ইন্টারনেট সংযোগের ধরন
  2. ই-কমার্স সিস্টেম 
  3. মোবাইলে টাকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা
  4. ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রক সংস্থা
ব্যাখ্যা

◉ ডিজিটাল ওয়ালেট (Digital Wallet) হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা, যেখানে টাকা, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড তথ্য এবং পেমেন্ট ডেটা নিরাপদে রাখা হয়।

ডিজিটাল ওয়ালেট: 
- ডিজিটাল ওয়ালেট (E-wallet) হলো একটি সফটওয়্যার বা অনলাইন সেবা, যা ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ইলেকট্রনিক লেনদেন করার সুযোগ দেয়।
- সাধারণত স্মার্টফোন অ্যাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে ডেস্কটপ সংস্করণও থাকতে পারে।
- বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লেনদেনের জন্য ব্যবহারকারীর পেমেন্ট তথ্য সংরক্ষণ করে। 
- কিছু ক্ষেত্রে এটি প্রচলিত ওয়ালেটের চেয়ে নিরাপদ, কারণ এতে ডেটা এনক্রিপশন ও পাসওয়ার্ড/বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি থাকে।
- উদাহরণ: PayPal, Google Pay, বিকাশ ইত্যাদি। 

উৎস: কর্পোরেট ফিন্যান্স ইন্সটিটিউশন। 

২১.
প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর কোনটি?
  1. Intel 8008
  2. Intel 4004
  3. Intel 8086
  4. Intel Pentium
ব্যাখ্যা

Intel 4004 ছিল বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মাইক্রোপ্রসেসর, যা ১৯৭১ সালে ইন্টেল দ্বারা তৈরি করা হয়।

মাইক্রোপ্রসেসর:
- কম্পিউটারের কার্যব্যবস্থাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য কম্পিউটারের যে অংশটি বা হার্ডওয়্যারটি সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে, তাকে মাইক্রোপ্রসেসর বা প্রসেসর হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- মাইক্রোপ্রসেসরের প্রতিষ্ঠাতা হলেন টেড হফ।
- যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেল কর্পোরেশন ১৯৭১ সালে প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবন করে।
- মাইক্রোপ্রসেসর হলো সিলিকনের তৈরি এক ধরনের ভিএলএসআই (VLSI-Very Large Scale Integration) চিপ।
- মাইক্রোপ্রসেসর কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ হিসেবে কাজ করে।
- মাইক্রোপ্রসেসরকেই মাইক্রোকম্পিউটারের মস্তিষ্ক বা ব্রেইন বলা হয়।
- মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারের আকার আরো ছোট হয়ে যায়, দাম কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে যায় যার ফলে কাজ করার ক্ষমতা, কাজের গতি ও নির্ভরশীলতা বহুগুণে বেড়ে যায়।
- বিটের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মাইক্রোপ্রসেসরের নামকরণ করা হয়ে থাকে। যথা: 4 বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 16 বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 32 বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 64 বিট মাইক্রোপ্রসেসর ইত্যাদি।
- বাণিজ্যিকভাবে নির্মিত বিশ্বের প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর Intel 4004.

সূত্র: ব্রিটানিকা।

২২.
Bluetooth প্রযুক্তি সাধারণত কোন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে কাজ করে?
  1. 2.4 GHz
  2. 5 GHz
  3. 900 MHz
  4. 1.8 GHz
ব্যাখ্যা

◉ Bluetooth একটি স্বল্প দূরত্বের বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি, যা 2.4 GHz এ কাজ করে।

ব্লুটুথ (Bluetooth):
- ব্লুটুথ হলো স্বল্প দূরত্বের ভেতর বিনা খরচে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য বহুলপ্রচলিত ওয়্যারলেস প্রযুক্তি।
- ব্লুটুথের সাহায্যে বিনা খরচে স্বল্প দূরত্বে থাকা আধুনিক প্রায় সকল ডিভাইস নিজেদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে বিধায় এটিকে তারবিহীন (Wireless) পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WPAN) প্রটোকল বলা হয়।
- Bluetooth এ Radio Frequency (RF) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
- Bluetooth 2.4GHz ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে।
- এটি প্রযুক্তিগতভাবে IEEE 802.15 নামে পরিচিত।
- Bluetooth কার্যকরী পাল্লা হচ্ছে ১০ মিটার। তবে বিদ্যুৎ কোষের শক্তি বৃদ্ধি করে এর পাল্লা ১০০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
- বর্তমানে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, গেমিং কনসোল, ডিজিটাল ক্যামেরা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, জিপিএস রিসিভার প্রভৃতি যন্ত্রাদিতে Bluetooth প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. তথ্য ও প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
কোন ডিজিটাল সার্কিট বিট প্যাটার্ন সংরক্ষণ করে এবং একটি নির্দিষ্ট দিকে সরাতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ডিমাল্টিপ্লেক্সার
  2. কাউন্টার
  3. মাল্টিপ্লেক্সার
  4. শিফট রেজিস্টার
ব্যাখ্যা

◉ শিফট রেজিস্টার হলো এক ধরনের সিকুয়েন্সিয়াল লজিক সার্কিট, যা ডেটা বিটগুলিকে স্টোর (সংরক্ষণ) করে এবং ক্লক সিগন্যালের সাহায্যে ডেটাকে লেফট বা রাইট দিকে শিফট (সরানো) করতে পারে।

রেজিস্টার:
- রেজিস্টার হলো কম্পিউটারের প্রসেসরের অভ্যন্তরে থাকা একটি উচ্চগতির বিশেষ ধরনের স্টোরেজ বা মেমোরি।
- এটি ডেটা প্রসেসিংয়ের আগে অস্থায়ীভাবে তথ্য সংরক্ষণ করে, যা প্রসেসরের কার্যক্ষমতাকে দ্রুততর করে।
- রেজিস্টার একগুচ্ছ ফ্লিপ-ফ্লপ এবং লজিক গেইটের সমন্বয়ে গঠিত একটি সার্কিট, যা অস্থায়ী মেমোরি হিসেবে কাজ করে।
- একটি n-বিট রেজিস্টার-এ n সংখ্যক ফ্লিপ-ফ্লপ থাকে এবং এটি n-বিট বাইনারি তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম।
- রেজিস্টার হলো CPU-এর অভ্যন্তরে থাকা প্রথম মেমোরি ডিভাইস, যা প্রসেসিং-এর সময় দ্রুত ডেটা সঞ্চয় ও পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করে।
- সরল এবং সাধারণ রেজিস্টারগুলো শুধুমাত্র ফ্লিপ-ফ্লপ সার্কিট দ্বারা তৈরি হয় এবং ক্লক পালস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

• গঠন অনুসারে রেজিস্টার দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা:
১. প্যারালাল লোড রেজিস্টার এবং
২. শিফট রেজিস্টার।

শিফট রেজিস্টার: 
- যে রেজিস্টার বাইনারি ডাটাকে ডানদিক বা বাম দিকে বা উভয় দিকে সরাতে পারে তাকে শিফট রেজিস্টার বলে।
- শিফট রেজিস্টারে একগুচ্ছ ফ্লিপ-ফ্লপ চেইন আকারে একটির সাথে অপরটি যুক্ত থাকে যাতে একটি ফ্লিপ-ফ্লপের আউটপুট পরবর্তী ফিল্প-ফ্লপের ইনপুটের সাথে সংযুক্ত থাকে।
- সকল ফ্লিপ-ফ্লপে একটি কমন ক্লক পালস্ পায় যা একটি স্টেজ থেকে অপর স্টেজে শিফট সূচনা করে।
- সকল ফ্লিপ-ফ্লপে একটি কমন ক্লক পালস্ দেওয়া হয়। এক একটি পালসে এক একটি বিট সরানো হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
টাচ স্ক্রিন কোন ধরনের ডিভাইস?
  1. শুধু ইনপুট
  2. শুধু আউটপুট
  3. ইনপুট ও আউটপুট উভয়ই
  4. স্টোরেজ
ব্যাখ্যা

◉ টাচ স্ক্রিন (Touch Screen) হলো এমন একটি ডিভাইস যা একই সাথে ইনপুট ডিভাইস (আঙুল বা স্টাইলাস দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া) এবং আউটপুট ডিভাইস (ডিসপ্লেতে তথ্য প্রদর্শন) হিসেবে কাজ করে।

ইনপুট ডিভাইস:
- যেসব ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডাটা বা তথ্য ইনপুট বা কমান্ড দেওয়া যায়, সেগুলোই ইনপুট ডিভাইস।
- উদাহরণ: কী-বোর্ড, মাউস, অপটিকাল রিডার, জয়স্টিক, মাইক্রোফোন, স্ক্যানার, গ্রাফিক্স প্যাড, লাইট পেন, ওয়েবক্যাম, ওসিআর ইত্যাদি।

আউটপুট ডিভাইস:
- যেগুলোর মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে ডাটা/তথ্য বা যেকোনো কিছু আউটপুট নেওয়া যায়, সেগুলোই আউটপুট ডিভাইস।
- উদাহরণ: মনিটর, প্রিন্টার, প্রজেক্টর, স্পিকার, প্লটার, হেডফোন ইত্যাদি।

ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস:
- কিছু ডিভাইস আছে যেগুলো ইনপুট-আউটপুট দুটোরই কাজ করে।
- উদাহরণ: পেনড্রাইভ, টাচ স্ক্রিন, মডেম ইত্যাদি।

সূত্র: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
ইউনিকোড ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. শুধু ইংরেজি ভাষা প্রদর্শন করার জন্য
  2. সংখ্যার জন্য কোড তৈরি করা
  3. মেমোরিতে স্পেস কমানোর জন্য 
  4. বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার অক্ষর ও চিহ্ন উপস্থাপন করা
ব্যাখ্যা

ইউনিকোড (Unicode) হলো একটি আন্তর্জাতিক মান, যা বিশ্বের সকল ভাষার অক্ষর, সংখ্যা ও প্রতীককে একটি অভিন্ন কোডে উপস্থাপন করে।

ইউনিকোড উদ্ভাবন ও উন্নয়ন:
- ১৯৯১ সালে Apple Computer Corporation এবং Xerox Corporation-এর একদল প্রকৌশলী যৌথভাবে ইউনিকোড উদ্ভাবন করেন।
- শুরু থেকেই ইউনিকোডকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে Unicode Consortium কাজ করে যাচ্ছে।

ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্য:
- বিশ্বের ছোট-বড় সকল ভাষাকে কম্পিউটারে কোডভুক্ত করার জন্য ইউনিকোড ব্যবহৃত হয়।
- ইউনিকোড মূলত ২ বাইট বা ১৬ বিটের কোড।
- এই কোডের মাধ্যমে ৬৫,৫৩৬টি অদ্বিতীয় চিহ্নকে নির্দিষ্ট করা যায়।
- যে ভাষাগুলোর জন্য ৮ বিট অপর্যাপ্ত ছিল (যেমন: চায়নিজ, কোরিয়ান, জাপানিজ), সেগুলোর সকল চিহ্ন সহজেই কোডভুক্ত করা সম্ভব হয়।

অ্যাসকির (ASCII) সাথে সম্পর্ক:
- ইউনিকোড অ্যাসকি কোডের সাথে কম্প্যাটিবল।
- অর্থাৎ, ইউনিকোডের প্রথম ২৫৬টি কোড অ্যাসকির প্রথম ২৫৬টি কোডের অনুরূপ।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

২৬.
H.323 প্রোটোকল সাধারণত কোথায় ব্যবহৃত হয়?
  1. Email
  2. Web browsing
  3. VoIP
  4. File Compression
ব্যাখ্যা

H.323 হলো একটি ITU-T স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল, যা VoIP (Voice over Internet Protocol) যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়।

VoIP:
- Voice over IP বা VoIP হলো একটি প্রটোকল।
- এটি সাধারণত অডিও এবং ভিডিও যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে ভয়েস সংকেত ডিজিটাল ডেটাতে রূপান্তরিত হয়ে ইন্টারনেট প্রোটোকল (IP) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রেরিত হয়।
- VOIP এর পূর্ণরূপ Voice over Internet Protocol.
- ইন্টারনেটে টেলিফোন কল দিতে এই প্রটোকল ব্যবহৃত হয়।
- VoIP-কে IP telephony বলা হয়, ইন্টারনেটের ডেটা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভয়েস টেলিফোন ট্র্যাফিক বহনের জন্য যোগাযোগ প্রযুক্তি।
- ভিওআইপি, ইন্টারনেট প্রোটোকল (IP) ব্যবহার করে।
- H.323 Protocol সাধারণত VolP (Voice Over Internet Protocol) এ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৭.
SSL সার্টিফিকেটের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. নিরাপদ ডেটা আদান-প্রদান নিশ্চিত করা
  2. ওয়েবসাইটের ডিজাইন পরিবর্তন করা
  3. ওয়েবসাইট দ্রুত লোড করার জন্য 
  4. ওয়েবসাইটে ভিজিটরের সংখ্যা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

◉ SSL (Secure Sockets Layer) সার্টিফিকেট ওয়েবসাইটে ডেটা এনক্রিপ্ট করে, যাতে ব্যবহারকারী এবং সার্ভারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান নিরাপদ থাকে।

SSL Certificate:
- SSL এর পূর্ণরূপ Secure Sockets Layer.
- SSL Certificate হলো একটি ডিজিটাল সার্টিফিকেট যা একটি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
- SSL একটি নিরাপত্তা প্রোটোকল যা একটি ওয়েব সার্ভার এবং একটি ওয়েব ব্রাউজারের মধ্যে একটি এনক্রিপ্ট করা লিংক তৈরি করে।
- এটি অনলাইন লেনদেন সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে এবং গ্রাহকের তথ্য গোপন ও সুরক্ষিত রাখতে কোম্পানি এবং সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত হয়।

ই-কমার্সে SSL এর ভূমিকা:
- ক্রেডিট কার্ড তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং পার্সোনাল ডাটা এনক্রিপ্ট করে।
- অনলাইন পেমেন্ট ট্রান্সাকশন সুরক্ষিত রাখে।
- গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য SSL সার্টিফিকেট থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
- SSL সাইটগুলিকে Google বেশি অগ্রাধিকার দেয়, ফলে SEO উন্নত হয়।

উৎস: Kaspersky website.

২৮.
উইন্ডোজে প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা ডিস্ক স্পেস সীমা নির্ধারণ করতে কোন ফাইল সিস্টেম ব্যবহৃত হয়?
  1. FAT32
  2. exFAT
  3. ReFS
  4. NTFS
ব্যাখ্যা

◉ NTFS (New Technology File System) এর গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো Disk Quota Management—এর মাধ্যমে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নির্ধারণ করতে পারেন প্রতিটি ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ কতটুকু ডিস্ক স্পেস ব্যবহার করতে পারবে।

NTFS:
- NTFS এর পূর্ণ অর্থ হলো New Technology File System.
- এ ধরনের সিস্টেমে প্রতিটি ফাইল বা ফোল্ডারের জন্য অ্যাকসেস কন্ট্রোল করা যায় এবং একই ড্রাইভে অধিক পরিমাণ ডেটা সংরক্ষণ করা যায়।
- এটিতে UNIX বা UNIX সমর্থিত অপারেটিং সিস্টেম চালানো যায়।
- তাছাড়া এতে Windows NT এবং Windows 2000 অপারেটিং সিস্টেম পরিচালনা করা যায়।
- NTFS পার্টিশনের সর্বোচ্চ ডেটা সংরক্ষণ ক্ষমতা হলো 8GB.

অন্যান্য অপশনসমূহ,
FAT32: এটি একটি সাধারণ ফাইল সিস্টেম, কিন্তু ডিস্ক কোটা সাপোর্ট করে না।
exFAT: এটি বড় ফাইল এবং বড় ভলিউম সাপোর্ট করে। 
ReFS: এটি ডেটা করাপশন প্রতিরোধ, বড় ভলিউম সাপোর্ট, এবং অটোমেটিক রিপেয়ার সুবিধা দেয়।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
হাফ-অ্যাডার সার্কিট ব্যবহার করে একটি ফুল-অ্যাডার তৈরি করতে অতিরিক্ত কোন লজিক গেইট প্রয়োজন?
  1. OR গেইট
  2. XOR গেইট
  3. NOT গেইট
  4. AND গেইট
ব্যাখ্যা

◉ হাফ-অ্যাডার ব্যবহার করে ফুল-অ্যাডার বাস্তবায়নের জন্য মূলত দুটি হাফ-অ্যাডার এবং একটি OR Gate প্রয়োজন।

অর্ধযোগের বর্তনী দ্বারা পূর্ণযোগের বর্তনী বাস্তবায়ন:
- হাফ অ্যাডারের সাহায্যে ফুল এডার তৈরীর জন্য ২টি Half-adder এবং Carry যোগের জন্য ১টি অতিরিক্ত অর গেইটের প্রয়োজন হয়।

ধরি, একটি পূর্ণযোগের বর্তনীর ইনপুট সংকেত ও ক্যারি যথাক্রমে A, B ও Ci এবং আউটপুট বা যোগফল S এবং ক্যারি Co।
- নিম্নে হাফ এডার দ্বারা ফুল এডার বাস্তবায়নের ব্লক ডায়াগ্রাম দেয়া হলো-

প্রথম হাফ-অ্যাডারের ইনপুট A ও B থেকে যোগফল S ও ক্যারি C পাওয়া যায়।
- দ্বিতীয় হাফ-অ্যাডারে ইনপুট হিসেবে ১ম অ্যাডারের যোগফল ST ও ক্যারি C দেয়া হয়, যার থেকে যোগফল S2 ও ক্যারি C2 পাওয়া যায়।
- দ্বিতীয় হাফ অ্যাডারের যোগফলই হবে ফুল অ্যাডারের যোগফল।
- ১ম ও ২য় হাফ অ্যাডারের ক্যারি যোগ করে পাওয়া যাবে ফুল অ্যাডারের ক্যারি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
কোন ধরনের প্রোগ্রাম সোর্স কোডের প্রতিটি নির্দেশ একবারে পড়ে সাথে সাথে কার্যকর করে?
  1. কম্পাইলার
  2. অ্যাসেম্বলার
  3. ইন্টারপ্রেটার
  4. ক ও গ 
ব্যাখ্যা

ইন্টারপ্রেটার একটি প্রোগ্রাম যা সোর্স কোডের প্রতিটি লাইন একে একে পড়ে, অনুবাদ করে এবং সাথে সাথে আউটপুট প্রদান করে। 
- এটি পুরো কোড একবারে অনুবাদ করে রান করে না, বরং লাইন-বাই-লাইন এক্সিকিউশন করে।

অনুবাদক প্রোগ্রাম:
- যে প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে উৎস বা সোর্স প্রোগ্রামকে বস্তু বা অবজেক্ট প্রোগ্রামে রুপান্তরিত করা হয়, তাকে অনুবাদক প্রোগ্রাম বলা হয়।
- হাই-লেভেল এর ভাষা কে মেশিন ভাষায় রুপান্তরিত করার জন্য অনুবাদক প্রোগ্রাম এর প্রয়োজন পরে।

তিন ধরনের অনুবাদক প্রোগ্রাম রয়েছে:
১. কম্পাইলার:
- কম্পাইলার হল এমন একটি অনুবাদক যা সোর্স প্রোগ্রামকে একসাথে সম্পূর্ণরূপে মেশিনের ভাষায় অনুবাদ করে একটি অবজেক্ট প্রোগ্রাম তৈরি করে এবং একটি এক্সিকিউশন ফাইল (.exe) তৈরি করে।

২. ইন্টারপ্রেটার:
- ইন্টারপ্রেটার উচ্চতর ভাষাকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে, তবে কম্পাইলার যেমন, প্রথমে সোর্স প্রোগ্রামকে অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করে এবং শেষে ফলাফল প্রদান করে কিন্তু ইন্টারপ্রেটার সোর্স প্রোগ্রামকে অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করে না। প্রোগ্রামে রূপান্তর করে না।
- ইন্টারপ্রেটার এক লাইন করে সম্পাদন করে এবং তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদান করে।

৩. অ্যাসেম্বলার:
- অ্যাসেম্বলার হচ্ছে অ্যাসেম্বলি ভাষায় লিখিত উৎস প্রোগ্রাম অর্থাৎ নেমোনিক কোডকে মেশিনের ভাষায় লিখিত অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করা এক ধরনের অনুবাদক প্রোগ্রাম।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
নিচের কোনটি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের কাজের মধ্যে পড়ে না?
  1. হিউরিস্টিক অ্যানালাইসিস
  2. সিগনেচার-ভিত্তিক ডিটেকশন
  3. রিয়েল-টাইম প্রোটেকশন
  4. কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার মেরামত
ব্যাখ্যা

◉ অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার হল একটি নিরাপত্তা প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটারের ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক সফটওয়্যার সনাক্ত ও অপসারণ করে। তবে এটি হার্ডওয়্যার রিপেয়ার (Hardware Repair) করতে পারে না। হার্ডওয়্যার রিপেয়ার একটি ম্যানুয়াল বা বিশেষায়িত টেকনিক্যাল সার্ভিসের মাধ্যমে করা হয়, সফটওয়্যারের মাধ্যমে নয়।

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার:
- কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্রের প্রতিষেধক হলো এন্টিভাইরাস।
- কম্পিউটার ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্রসমূহকে রক্ষা করতে এন্টিভাইরাস ইউটিলিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়।
- এই প্রোগ্রামগুলো প্রথমে আক্রান্ত কম্পিউটারে ভাইরাসের চিহ্নের সাথে পরিচিত ভাইরাসের চিহ্নগুলোর মিলকরণ করে।
- অতঃপর এটি সংক্রমিত অবস্থান থেকে আসল প্রোগ্রামকে ঠিক করে।

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. রিয়েল-টাইম প্রোটেকশন,
২. ভাইরাস স্ক্যানিং,
৩. সিগনেচার-ভিত্তিক ডিটেকশন,
৪. হিউরিস্টিক অ্যানালাইসিস,
৫. অটোমেটিক আপডেট,
৬. ফায়ারওয়াল ইন্টিগ্রেশন, ইত্যাদি।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

৩২.
ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে Hypervisor মূলত কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. সার্ভারের ট্র্যাফিক সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া
  2. নেটওয়ার্ক সংযোগের গতি বাড়ানো
  3. একাধিক ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি ও পরিচালনা করা
  4. কানেকশন লোড ব্যালেন্সিং
ব্যাখ্যা

Hypervisor হলো একটি বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার যা একাধিক ভার্চুয়াল মেশিন (VM) তৈরি ও পরিচালনা করে। এটি একটি ফিজিক্যাল সার্ভারের হার্ডওয়্যার রিসোর্স যেমন CPU, RAM, Storage ইত্যাদি ভাগ করে বিভিন্ন ভার্চুয়াল মেশিনকে ব্যবহার করতে দেয়।

ক্লাউড কম্পিউটিং:
- ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স যেমন- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা।
- ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যবহার শুরু করে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর বৈশিষ্ট্য:
- On-demand self-service,
- Broad network access,
- Limited customization,
- resource pooling,
- rapid elasticity,
- measured service.

উৎস:
১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২। Amazon Web Services ওয়েবসাইট। [লিংক] 

৩৩.
নিচের কোন সফটওয়্যারটি মূলত ফাইল Compress করার কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. WinZip
  2. Adobe Reader
  3. Notepad
  4. VLC Player
ব্যাখ্যা

◉ WinZip একটি জনপ্রিয় ফাইল কমপ্রেশন সফটওয়্যার, যা ফাইলকে ছোট আকারে সংকুচিত (Compress) করে এবং পরে পুনরায় আসল আকারে (Decompress) ফিরিয়ে আনে। এর মাধ্যমে বড় ফাইল সহজে শেয়ার ও সংরক্ষণ করা যায়।

ফাইল কম্প্রেশন (জিপ):
- বড় আকারের ফাইলকে ছোট করে সংরক্ষণ করার জন্যে কিংবা ইন্টারনেটে আদান-প্রদানের জন্যে জিপ করা হয়।
- জিপ ফাইলকে পরবর্তীতে ব্যবহার উপযোগী করার জন্যে এক্সট্র্যাক্ট করতে হয়।
- এতে করে ফাইল পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।

কিছু ফাইল কম্প্রেশন সফটওয়্যার:
- WinRAR,
- WinZip,
- 7-Zip,
- Stuffit,
- Bandizip,
- Tar,
- Gzip.

WinZip:
- WinZip হল Windows, macOS, iOS এবং Android এর জন্য একটি Compressor Tool.
- WinZip ব্যবহারকারীদের ফাইল কম্প্রেস করে এবং .zip ফরম্যাটে ফাইলটি পরিণত করে।
- WinZip বড় ফাইল কম্প্রেস করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্লাউড, ই-মেইল ইত্যাদিতে পাঠাতে সাহায্য করে।

অন্যান্য অপশনসমূহ,
খ) Adobe Reader: এটি একটি PDF ফাইল পড়ার এবং ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার।
গ) Notepad: এটি একটি সাধারণ টেক্সট এডিটর, যা টেক্সট ফাইল তৈরি এবং সম্পাদনা করতে ব্যবহৃত হয়।
ঘ) VLC Player: এটি একটি মাল্টিলিডিয়া সফটওয়্যার। 

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

৩৪.
কম্পিউটারের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU) এর কোন অংশ গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজ সম্পাদন করে?
  1. Control Unit
  2. Arithmetic Logic Unit
  3. Memory Unit
  4. Input/Output Unit
ব্যাখ্যা

◉ Arithmetic Logic Unit (ALU) হলো CPU-এর সেই অংশ, যা গাণিতিক (যেমন: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ) এবং যুক্তিমূলক (যেমন: তুলনা করা, সমান কি না পরীক্ষা) কাজ সম্পাদন করে।

গাণিতিক যুক্তি অংশ (Arithmetic Logic Unit):
- ALU এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Arithmetic Logic Unit.
- নিয়ন্ত্রণ অংশের তত্ত্বাবধানে গাণিতিক যুক্তি অংশ বা ALU বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক বা লজিক্যাল অপারেশনের কাজ সম্পাদন করে।
- বেশির ভাগ গাণিতিক অপারেশনগুলো হলো যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং লজিক্যাল অপারেশনগুলো হলো তুলনা, সত্য-মিথ্যা যাচাই ইত্যাদি।
- কোনো রেজিস্টার পরিষ্কারকরণ এবং রেজিস্টারে সংরক্ষিত তথ্য বা সংখ্যাকে ডানে-বামে সরানো ইত্যাদি কাজও এ অংশের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক বর্তনীর সহায়তায় গাণিতিক যুক্তি অংশ এই কার্যাবলি সম্পাদান করে থাকে এবং প্রয়োজনে ফলাফল অস্থায়ীভাবে রেজিস্টারে সংরক্ষিত রাখে।
- বর্তমানের মাইক্রোপ্রসেসরগুলোতে কাজের গতি বাড়ানোর প্রয়োজনে একাধিক গাণিতিক যুক্তি অংশ ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
Control Unit (CU) নির্দেশাবলী পড়ে এবং CPU-এর অন্যান্য অংশকে পরিচালনা করে, তবে নিজে কোনো গাণিতিক কাজ করে না।

Memory Unit ডেটা এবং নির্দেশাবলী সাময়িক বা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে।

Input/Output Unit বাহ্যিক ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ পরিচালনা করে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
স্মার্ট হোমে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো কোন প্রযুক্তির উদাহরণ?
  1. ব্লকচেইন
  2. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
  3. ইন্টারনেট অফ থিংস
  4. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
ব্যাখ্যা

◉ ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে সেন্সর ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইস ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয়ে তথ্য বিনিময় ও স্বয়ংক্রিয় কাজ সম্পাদন করে। স্মার্ট হোমে ব্যবহৃত ডিভাইস যেমন স্মার্ট লাইট, স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট, স্মার্ট লক, সিকিউরিটি ক্যামেরা—সবই IoT-এর উদাহরণ।

ইন্টারনেট অফ থিংস (Internal of things - IOT):
- ইন্টারনেট অফ থিংস (IOT) হলো পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এমন একটি সনাক্তকারী কম্পিউটিং ডিভাইস, যা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষের সাথে মানুষের বা মানুষের সাথে কম্পিউটারের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর করতে সাহায্য করে।
- একাধিক প্রযুক্তি যেমন মেশিন লার্নিং, কমোডিটি সেন্সর, এমবেডেড সিস্টেম এবং রিয়েল-টাইম অ্যানালিটিকস, একত্রিত করার কারণে ইন্টারনেট অফ থিংস বাস্তবায়িত হয়েছে।

IoT ডিভাইসের বৈশিষ্ট্য:
- কম শক্তি ব্যবহার করে কাজ করে,
- ছোট আকারের কম্পিউটার চিপ ব্যবহার করে,
- নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রোগ্রাম করা হয়,
- সেন্সর, একচুয়েটর এবং ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
• আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) মূলত মেশিনকে মানুষের মতো চিন্তা, শিখন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে, তবে স্মার্ট হোমের সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ IoT-এর মাধ্যমে হয়।
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) হলো এমন প্রযুক্তি যেখানে ব্যবহারকারীকে কৃত্রিম 3D পরিবেশে নিমজ্জিত করা হয়।
• ব্লকচেইন হলো বিকেন্দ্রীভূত ডেটা সংরক্ষণ প্রযুক্তি, যা সাধারণত ক্রিপ্টোকারেন্সি ও নিরাপদ ট্রানজ্যাকশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
১। Computer Applications in Business, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। আইবিএম ওয়েবসাইট। 

৩৬.
ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন?
  1. এনক্রিপশন
  2. ফায়ারওয়াল
  3. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন
  4. সব কয়টি
ব্যাখ্যা

◉ ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত তথ্য জড়িত থাকে। এজন্য নিচের সবগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন—

এনক্রিপশন (Encryption): ডেটা এনক্রিপ্ট করলে তথ্য ট্রান্সমিশনের সময় নিরাপদ থাকে এবং অননুমোদিত ব্যক্তির পক্ষে ডেটা পড়া অসম্ভব হয়।
ফায়ারওয়াল (Firewall): নেটওয়ার্ক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও অননুমোদিত অ্যাক্সেস প্রতিরোধ করে।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA): পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি যাচাইকরণ ধাপ (যেমন OTP বা বায়োমেট্রিক) ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাড়ায়।
অর্থাৎ, নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের জন্য এই তিনটি ব্যবস্থাই একসাথে প্রয়োগ করা জরুরি।

ই-কমার্স:
- ই-কমার্সের পূর্ণ অর্থ হলো ইলেকট্রনিক কমার্স।
- যে পদ্ধতিতে কোন পণ্য ক্রয় বিক্রয়, অর্ডার নেয়া ও তার মূল্য পরিশোধ থেকে যাবতীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হয় তাকে ই- কমার্স বলে।
- বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে সকল পেমেন্ট সিস্টেম প্রচলিত আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ই-পেমেন্ট সিস্টেম অর্থাৎ ব্যাংক লেনদেন, ক্রেডিট কার্ড বা ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ড, ডেবিট কার্ড, স্মার্ট কার্ড, ই-মানি, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, মানিগ্রাম ইত্যাদি।
- তবে আন্তজার্তিকভাবে ই-পেমেন্ট সিস্টেম জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশিয় বা স্থানীয়ভাবে ই-পেমেন্ট সিস্টেমের পাশাপাশি কল-টু-পে, ক্যাশ অন ডেলিভেরি, কুরিয়ার সার্ভিস ডেলিভেরি, নগদ, বিকাশ, শিওর ক্যাশ, রকেট, ডি-ম্যানি ইত্যাদি বেশি প্রচলিত।

উৎস: 
১। ই-কমার্স, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২। stripe.com ওয়েবসাইট। [লিংক] 

৩৭.
(175)10 ডেসিমাল সংখ্যাটির সমতুল্য অক্টাল মান কত? 
  1. 321
  2. 257
  3. 247
  4. 367
ব্যাখ্যা

◉ (175)10 = (257)8

পূর্ণ দশমিক সংখ্যাকে অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তর:
১. দশমিক সংখ্যাকে অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তরিত করার জন্য দশমিক সংখ্যাকে ৮ দিয়ে ভাগ করে ভাগশেষকে সংরক্ষণ করতে হবে।
২. ভাগফলকে পুনরায় ৮ দিয়ে ভাগ করে ভাগশেষকে সংরক্ষণ করতে হবে।
৩. এ পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করতে হবে যতক্ষণ না ভাজ্য ০ হয়।
৪. সংরক্ষিত ভাগশেষগুলোকে শেষ থেকে প্রথম দিকে ধারাবাহিকভাবে অর্থাৎ উল্টো করে সাজিয়ে লিখলে যে সংখ্যাটি পাওয়া যায় তাই দশমিক সংখ্যার সমকক্ষ অক্টাল সংখ্যা।

175 ÷ 8 = 21 ভাগশেষ 7
21 ÷ 8 = 2 ভাগশেষ 5
2 ÷ 8 = 0 ভাগশেষ 2

এখন ভাগশেষগুলো উল্টোদিক থেকে লিখলে পাওয়া যায় → 257

৩৮.
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এ কিউবিটের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. কেবলমাত্র 0 অবস্থায় থাকতে পারে
  2. কেবলমাত্র 1 অবস্থায় থাকতে পারে
  3. কেবলমাত্র 0 বা 1 অবস্থায় থাকতে পারে
  4. একই সাথে 0 এবং 1 অবস্থায় থাকতে পারে
ব্যাখ্যা

◉ ক্লাসিকাল কম্পিউটারের বিট এক সময়ে হয় 0 নয়তো 1 মান নেয়। কিন্তু কিউবিট (Qubit) সুপারপজিশন (Superposition) নামক কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্যের কারণে একই সাথে 0 এবং 1 — উভয় অবস্থার সংমিশ্রণে থাকতে পারে। এই ক্ষমতাই কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে জটিল গণনা দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম করে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং:
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং গাণিতিক সমস্যাগুলির সমাধানে একটি বিপ্লবী ধারণা।
- এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ধারণা ব্যবহার করে, যেখানে কোয়ান্টাম বিট (Qubit) একাধিক অবস্থানে থাকতে পারে, এবং তার ফলে এটি নির্দিষ্ট কাজগুলো খুব দ্রুত এবং দক্ষভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়।
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য যে অ্যালগরিদমগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি সাধারণত ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের তুলনায় কিছু সমস্যা সমাধানে অনেক দ্রুত কাজ করে।
- এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের মধ্যে একটি হল Shor’s Algorithm, যা বড় সংখ্যার গুণফল বের করা (Integer Factorization) এর জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৩৯.
DDoS আক্রমণের পূর্ণরূপ কী?
  1. Distributed Denial of Service
  2. Direct Denial of Service
  3. Data Denial of Service
  4. Digital Denial of Service
ব্যাখ্যা

◉ DDoS (Distributed Denial of Service) আক্রমণ হলো এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যেখানে একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইস ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট সার্ভার, নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইটে একসাথে বিপুল পরিমাণ অনুরোধ পাঠানো হয়।

DDoS Attack:
- DDoS এর পূর্ণরূপ Distributed Denial of Service.
- DDoS Attack হলো এক ধরণের সাইবার অপরাধ।
- DoS হলো এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যেখানে হ্যাকার ডিভাইসের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে একটি কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইসকে তার উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দূরে রাখে।
- কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা ইন্টারনেট ওয়েবসাইটে এই আক্রমণ চালানোর মাধ্যমে ঐ সিস্টেম বা সাইটের যথাযথ কার্যক্রমকে ধীর গতির, বা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়।
- DoS দ্বারা একটি নেটওয়ার্ককে আক্রমন করা যায় এবং DDoS দ্বারা একাধিক নেটওয়ার্কেকে আক্রমন করা যায়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৪০.
ক্যাশ মেমোরি (Cache Memory) এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. তথ্য পুনরুদ্ধার করা
  2. স্থায়ী ডেটা সংরক্ষণ
  3. ব্যাকআপ নেওয়া
  4. CPU এর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

◉ ক্যাশ মেমোরি হলো একটি খুব দ্রুতগতির মেমোরি যা CPU এবং প্রধান মেমোরি (RAM)-এর মধ্যে অবস্থান করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো CPU বারবার যে ডেটা বা নির্দেশনা ব্যবহার করে, তা সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা যাতে প্রসেসর দ্রুত সেই ডেটা পেতে পারে এবং সিস্টেমের সার্বিক কর্মক্ষমতা বাড়ে।

ক্যাশ মেমোরি (Cache Memory):
- এটি এক ধরনের বিশেষ উচ্চগতির মেমোরি ব্যবস্থা।
- মাইক্রোপ্রসেসর ও প্রধান স্মৃতির মাঝে অতি উচ্চগতির এবং কম ধারণক্ষমতাসম্পন্ন যে মেমোরি ব্যবহার করা হয় তাকে ক্যাশ মেমোরি বলা হয়।
- ক্যাশ মেমোরি র‍্যামের চেয়ে ছোট।
- কম্পিউটারের ডেটা স্থানান্তরের গতি বৃদ্ধি তথা মাইক্রোপ্রসেসরের প্রক্রিয়াকরণের গতি বৃদ্ধির জন্য ক্যাশ মেমোরি ব্যবহৃত হয়।
- এটি এক ধরনের স্ট্যাটিক স্মৃতি, যা উচ্চগতি সম্পূর্ণ ও তুলনামূলক দামি মেমোরি।
- ক্যাশ মেমোরি থাকে EPROM-এ।
- যখন CPU কোনো ডেটা প্রয়োজন করে, তখন এটি প্রথমে ক্যাশ মেমোরিতে খোঁজে। যদি সেখানে ডেটা পাওয়া যায় (যাকে ক্যাশ হিট বলে), CPU-কে ধীরগতির RAM বা অন্যান্য স্টোরেজ থেকে ডেটা আনতে হয় না, ফলে সামগ্রিক প্রসেসিং গতি বৃদ্ধি পায়।
- ক্যাশ মেমোরি CPU-এর কাছাকাছি অবস্থান করে এবং এটি RAM-এর তুলনায় অনেক দ্রুতগতির হওয়ায় ডেটা অ্যাক্সেসের সময় কমে যায়।

উৎস:
১. মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

৪১.
মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেমের মূল সুবিধা কী?
  1. একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো
  2. সিস্টেম ক্র্যাশ প্রতিরোধ করা
  3. হার্ডওয়্যার আপগ্রেডের প্রয়োজন কমানো
  4. দ্রুত বুটিং
ব্যাখ্যা

মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম এমন এক ধরনের OS, যা একই সময়ে একাধিক প্রোগ্রাম বা প্রসেস চালাতে পারে।

মাল্টিপ্রোগ্রামিং বা মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম (Multiprogramming or Multitasking):
- মাল্টিপ্রোগ্রামিং বা মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেমে একটি কম্পিউটার একসাথে অনেকগুলো প্রোগ্রাম চালাতে পারে বা ডেটা প্রসেসিং করতে পারে।
- ব্যাচ প্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেমে একটি প্রোগ্রাম প্রসেসিং-এর পর আরেকটি প্রোগ্রাম প্রসেসিং করে। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কম গতিসম্পন্ন ইনপুট-আউটপুট পেরিফেরাল ডিভাইসসমূহ যখন ডেটা আদান-প্রদানে ব্যস্ত থাকে তখন অপেক্ষাকৃত উচ্চতর গতিসম্পন্ন সিপিইউ অলস হয়ে বসে থাকে।
- কিন্তু মাল্টিপ্রোগ্রামিং-এর ক্ষেত্রে র‍্যাম (RAM)-এ একাধিক প্রোগ্রাম সঞ্চিত থাকে।
- সিপিইউ যখন কোনো একটা প্রোগ্রাম প্রসেসিং করে তখন ইনপুট-আউটপুট পেরিফেরাল ডিভাইসসমূহ একই প্রোগ্রাম বা অন্য আরেকটি প্রোগ্রামের ইনপুট নেওয়া কিংবা আউটপুট দেওয়ার কাজে হাত দেয়।
- আর এই সময়ে সিপিইউ অন্য আরেকটি প্রোগ্রামের প্রসেসিং শুরু করে। সুতরাং সিপিইউ এমনকি ইনপুট-আউটপুট পেরিফেরাল ব্যবস্থাও কখনও অলস অবস্থায় থাকে না।
- মাল্টিটাস্কিং সিস্টেম বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়, যেমন ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, মোবাইল ডিভাইস ইত্যাদি।
- IBM/VM, VM/SPCMS, Mac OS, UNIX, LINUX ইত্যাদি মাল্টিপ্রোগ্রামিং অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-১, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভোকেশনাল)

৪২.
মাদারবোর্ডে কোন উপাদানটি বিভিন্ন কম্পোনেন্টের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. Firmware
  2. RAM
  3. Chipset
  4. BIOS
ব্যাখ্যা

◉ Chipset হলো মাদারবোর্ডের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা CPU, RAM, স্টোরেজ ডিভাইস, এবং অন্যান্য পেরিফেরাল কম্পোনেন্টের মধ্যে ডেটা প্রবাহ এবং যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করে।

মাদারবোর্ড (Motherboard):
- মাদারবোর্ড একটি কম্পিউটারের মূল ও কেন্দ্রীয় অংশ, যা সিস্টেম ইউনিটের ভেতরে সংযুক্ত থাকে।
- এটি সিস্টেমের সমস্ত যন্ত্রাংশের সংযোগ স্থল হিসেবে কাজ করে এবং একে সিস্টেম বোর্ড বা মেইনবোর্ডও বলা হয়।
- কম্পিউটারের প্রধান প্রসেসর বা CPU মাদারবোর্ডেই স্থাপিত থাকে, যা কম্পিউটারের "মস্তিষ্ক" হিসেবে পরিচিত।
- মাদারবোর্ডে কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, হার্ড ড্রাইভ, ফ্লপি ডিস্ক ড্রাইভ, পেনড্রাইভ ইত্যাদি সংযুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পোর্ট ও সংযোগ ব্যবস্থা থাকে।
- কম্পিউটারের প্রতিটি যন্ত্রাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে, যা মাদারবোর্ডকে কেন্দ্রীয় সার্কিট বোর্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
- বর্তমানে বাজারে Intel, GIGABYTE, ASUS, MSI ইত্যাদি ব্র্যান্ডের মাদারবোর্ড জনপ্রিয়।

মাদারবোর্ডের স্লট:
- AGP slot,
- RAM slot,
- PCI slot ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
ChatGPT কোন শ্রেণির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত?
  1. Computer Vision
  2. Natural Language Processing
  3. Expert System
  4. Transformer
ব্যাখ্যা

ChatGPT হলো একটি AI মডেল যা Natural Language Processing (NLP) প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভাষা বুঝে নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী প্রাকৃতিকভাবে উত্তর প্রদান করা। NLP এর মাধ্যমে এটি টেক্সট বিশ্লেষণ, ভাষা অনুবাদ, সারসংক্ষেপ তৈরি, প্রশ্নোত্তর, ও কথোপকথন পরিচালনা করতে পারে।

Artificial intelligence (AI):
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) হলো কম্পিউটারের এমন দক্ষতা, যা সাধারণত মানুষের বুদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত কাজ করতে ব্যবহৃত হয়।
- AI যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, অর্থ আবিষ্কার করতে পারে, সাধারণীকরণ করতে পারে এবং অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে।
- ১৯৪০-এর দশকে ব্রিটিশ গণিতবিদ অ্যালান টিউরিং প্রথম AI-এর তাত্ত্বিক কাজ করেন; ১৯৫০-এর দশকে প্রথম AI প্রোগ্রাম তৈরি হয়।
- আজকের দিনে AI চিত্র শ্রেণিবিন্যাস করতে (যেমন: PReLU-net), গেমে পারদর্শিতা দেখাতে (যেমন: AlphaZero), কথা বলতে (যেমন: ChatGPT) এবং টেক্সট থেকে ছবি তৈরি করতে (যেমন: DALL-E) সক্ষম।
- চিকিৎসা নির্ণয়, সার্চ ইঞ্জিন, কণ্ঠস্বর বা হাতের লেখার স্বীকৃতি, এবং চ্যাটবটের মতো ক্ষেত্রে AI মানুষের দক্ষতার সমতুল্য হয়ে উঠেছে।

ChatGPT (চ্যাটজিপিটি)
- ৩০ নভেম্বর, ২০২২ তারিখে চালু হয়েছে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট (AI Chatbot), যার নাম ChatGPT.
- ChatGPT এর পূর্ণরুপ হচ্ছে Chat Generative Pre-trained Transformer.
- এটি Reinforcement Learning from Human Feedback (RLHF) মডেল ব্যবহার করে।
- OpenAI নামক প্রযুক্তি কোম্পানি চালু করেছে জনপ্রিয় এই চ্যাটবটটি।

উৎস: 
১। ব্রিটানিকা। 
2। ওপেন এআই ওয়েবসাইট। 

৪৪.
কম্পিউটারের বুট প্রক্রিয়ায় প্রথমে কোনটি কাজ করে?
  1. Operating System
  2. Hard disk
  3. BIOS/UEFI
  4. RAM
ব্যাখ্যা

◉ BIOS (Basic Input/Output System) অথবা UEFI (Unified Extensible Firmware Interface) কম্পিউটারের বুট প্রক্রিয়ায় প্রথম কাজ করে।

 বুটিং (Booting):
- একটি কম্পিউটারকে চালু করা হলে তা সিপিইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট প্রথমেই যাচাই করে নেয় যে কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর ইত্যাদি যন্ত্রাংশ এর সঙ্গে সঠিকভাবে যুক্ত আছে কিনা। এই যাচাই করার প্রক্রিয়াকে বলে পোস্ট Power on self test (POST)।
- যদি এই যন্ত্রাংশগুলো সঠিক ভাবে যুক্ত থাকে, তা হলে সিপিইউ কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমকে হার্ডডিস্ক থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে র‍্যামের মধ্যে তুলে নেয় এবং কম্পিউটারকে ব্যবহারকরীর নির্দেশ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে। এই সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় বুটিং (Booting)।
- অর্থাৎ বুটিং একটি স্বয়ক্রিয় প্রক্রিয়া, যা সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই কম্পিউটারকে ব্যবহার করা হয়।

Booting-এর ধাপগুলো:
1) Power On → কম্পিউটার চালু হলে BIOS/UEFI লোড হয়।
2) POST (Power-On Self Test) → হার্ডওয়্যার ঠিকমতো কাজ করছে কিনা চেক করা হয়।
3) Boot Loader Execution → অপারেটিং সিস্টেমের boot manager (যেমন Windows Boot Manager বা GRUB) চালু হয়।
4) OS Loading → Windows, Linux বা অন্য OS মেমোরিতে লোড হয়।
5) User Interface Ready → ইউজার login করতে পারে এবং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে।

উৎস:
১। মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। Lenovo Website.

৪৫.
নিম্নের কোনটি ডাটাবেজ অপারেশন নয়?
  1. SELECT
  2. INSERT
  3. UPDATE
  4. COMPILE
ব্যাখ্যা

COMPILE — প্রোগ্রামিং-এ কোডকে মেশিন কোডে রূপান্তরের প্রক্রিয়া, ডাটাবেজ অপারেশন নয়।

SQL:
- SQL এর পূর্ণরূপ হলো Structured Query Language।
- ১৯৭৪ সালে IBM (International Business Machine) এর Research Center এ SQL তৈরি করা হয়।
- ডেটা ডেফিনেশন ও ডেটা ম্যানিপুলেশন ল্যাংগুয়েজ হিসেবে বিভিন্ন RDBMS (যেমন- DB2, SQL/DS ORACLE, INGRES, FOXPRO ইত্যাদি) এ ব্যবহৃত হয়।
- Tuple Calculas এর উপর ভিত্তি করে SQL তৈরি করা হয়েছে।

SQL ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা প্রদান করে থাকে। যেমন-
১. ডেটা কুয়েরি ল্যাংগুয়েজ (Data Query Language - DQL):
- ডেটা কুয়েরি ল্যাংগুয়েজের সাহায্যে ডেটাবেজ থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা কুয়েরি করে ব্যবহার করা হয়।
- SELECT স্টেটমেন্টের সাহায্যে ডেটা পুনরুদ্ধার করা হয়।

২. ডেটা ডেফিনেশন ল্যাংগুয়েজ (Data Defination Language - DDL):
- DDL এর সাহায্যে টেবিলের গঠন পরিবর্তন যেমন- টেবিল তৈরি, টেবিল আপডেট, টেবিল মুছে ফেলা ইত্যাদি পরিবর্তনগুলি করা হয়।
- CREATE স্টেটমেন্টের সাহায্যে ডেটাবেজে নতুন টেবিল তৈরি করা হয়
- ALTER স্টেটমেন্টের সাহায্যে ডেটাবেজের স্ট্রাকচার পরিবর্তন যেমন- টেবিলে নতুন কোন ফিল্ড যোগ করা বা ডিলিট করা ইত্যাদি কাজ করা হয়।
- ডেটাবেজের টেবিল মুছে ফেলতে DROP স্টেটমেন্টেটি ব্যবহৃত হয়।

৩. ডেটা ম্যানিপুলেশন ল্যাংগুয়েজ (Data Manipulation Language - DML):
- এক বা একাধিক রেকর্ড মুছে ফেলার জন্য DELETE কমান্ড ব্যবহার করা হয়।
- এক বা একাধিক রেকর্ড এন্ট্রি করার জন্য INSERT কমান্ড ব্যবহার করা হয়।
- এক বা একাধিক রেকর্ড হালনাগাদ বা আপডেট করার জন্য UPDATE কমান্ড ব্যবহার করা হয়।

৪. ডেটা কন্ট্রোল ল্যাংগুয়েজ (Data Control Language - DCL):
- DCL এর সাহায্যে ডেটাবেস ব্যবহারকারীর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারে কী ব্যবহৃত হতো?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  3. মাইক্রোপ্রসেসর
  4. ভ্যাকুয়াম টিউব
ব্যাখ্যা

◉ প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি) ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের জন্য ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করত।

প্রথম প্রজন্ম কম্পিউটার:
- ১৯৪২ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সময়কালকে কম্পিউটারের প্রথম প্রজন্ম বলে ধরা হয়।
- এ প্রজন্মের কম্পিউটারের সার্কিটে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করা হতো।
- অসংখ্য ডায়োড, ট্রায়োড, ভালভ, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হতো বলে প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার ছিল আকৃতিতে বড় এবং স্বল্প গতিসম্পন্ন।
- আকৃতিতে বড় থাকার কারণে সহজে বহনযোগ্য ছিল না।
- প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারে পাঞ্চ কার্ডের মাধ্যমে ইনপুট দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
- এ প্রজন্মের কম্পিউটারে প্রোগ্রামের জন্য মেশিন ও অ্যাসেম্বলি ভাষা ব্যবহার করা হতো।
- UNIVAC, ENIAC, EDSAC, IBM 650, IBM 704, Mark I, Mark IV ইত্যাদি প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারের উদাহরণ।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৭.
"Keylogger" আক্রমণের উদ্দেশ্য কী?
  1. কিবোর্ডের শব্দ বিশ্লেষণ
  2. টাইপ করা কীস্ট্রোক রেকর্ড
  3. ইন্টারনেট গতি মাপা
  4. ভাইরাস স্ক্যান করা
ব্যাখ্যা

Keylogger টাইপ করা প্রতিটি কীস্ট্রোক রেকর্ড করে পাসওয়ার্ড বা গোপন তথ্য চুরি করে।

Key loggers হচ্ছে এক ধরনের স্পাইওয়্যার (Spyware), যেটা সাধারণত keystroke logger নামেও পরিচিত। 
- এটি কম্পিউটারের কীবোর্ডে টাইপিং ডাটা ট্র্যাক এবং রেকর্ড করে।

Malware (ম্যালওয়ার): 
Malware (ম্যালওয়ার) এর পূর্ণ শব্দরূপ হলো Malicious Software.
কম্পিউটার ভাইরাস ছাড়া ম্যালওয়ারের অন্তর্ভুক্ত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে। যেমন: 
- অ্যাডওয়্যার (Adware),
- স্পাইওয়্যার (Spyware),
- ট্রোজান হর্স (Trojan Horse),
- র‍্যানসমওয়্যার (Ransomware)
- Rootkits, 
- ওয়ার্ম (Worms) প্রভৃতি।

উৎস:
১. কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ২, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভােকেশনাল, ২০২১ সংস্করণ)।
২. মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। 

৪৮.
Flash Memory কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে?
  1. Magnetic
  2. Optical
  3. EEPROM
  4. Punch Card
ব্যাখ্যা

◉ Flash Memory হলো Electrically Erasable Programmable Read-Only Memory-এর একধরনের রূপ।

EEPROM:
- EEPROM-এর পূর্ণরূপ হলো "Electrically Erasable Programmable Read-Only Memory"।
- EEPROM-এ তথ্য মুছতে EPROM-এর তুলনায় অনেক কম সময় লাগে।
- EPROM-এর একটি অসুবিধা ছিল যে এতে সংরক্ষিত তথ্য মুছতে অনেক সময় লাগতো, প্রায় আধা ঘণ্টা। এছাড়া, আংশিকভাবে তথ্য মুছা সম্ভব ছিল না। এই অসুবিধা দূর করার জন্য EEPROM ব্যবহার করা হয়।
- EEPROM-এ আংশিক বা সম্পূর্ণ ডেটা মুছে ফেলা সম্ভব। তবে, এটি করার জন্য EEPROM কে সার্কিট থেকে খুলতে হয় না। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ প্রবাহ চালিয়ে তথ্য মুছে ফেলা যায় এবং নতুন তথ্য সংযোজন করা যায়।
- ফ্ল্যাশ মেমরি হলো এক ধরণের EEPROM (Electronically Erasable Programmable Read-Only Memory).

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৪৯.
Open Source Software এর বৈশিষ্ট্য কী?
  1. বিনামূল্যে ব্যবহার ও পরিবর্তন সম্ভব
  2. শুধু কেনার পর ব্যবহার সম্ভব
  3. শুধু দেখা যায়, পরিবর্তন করা যায় না
  4. শুধু কোম্পানি ব্যবহার করতে পারে
ব্যাখ্যা

Open Source Software (OSS) হলো এমন সফটওয়্যার যার সোর্স কোড উন্মুক্ত থাকে, ফলে যে কেউ এটি বিনামূল্যে ব্যবহার, পরিবর্তন, এবং পুনঃবিতরণ করতে পারে।

Open Source Software: 
- ওপেন সোর্স সফটওয়্যার (OSS) হলো এমন সফটওয়্যার যার সোর্স কোড সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, ফলে যে কেউ এটি দেখতে, পরিবর্তন করতে ও উন্নত করতে পারে। 
- এটি ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে বা খুব কম খরচে ব্যবহারের সুযোগ দেয় এবং কাস্টমাইজ ও পুনর্বিতরণের স্বাধীনতা প্রদান করে। 
- OSS সাধারণত বিকেন্দ্রীভূত ও সহযোগিতামূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, যেখানে বিশ্বব্যাপী ডেভেলপাররা একসাথে কাজ করে। 
- এই সফটওয়্যার খরচ-সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে।

উদাহরণ: 
- Linux,
- Haiku,
- LibreOffice, 
- WordPress ইত্যাদি। 

উৎস: Amazon Web Services (AWS) ওয়েবসাইট। 

৫০.
প্রথম উচ্চস্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা কোনটি?
  1. COBOL
  2. BASIC
  3. Pascal
  4. FORTRAN
ব্যাখ্যা

◉ প্রথম উচ্চস্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা ছিল FORTRAN (Formula Translation), যা ১৯৫৭ সালে IBM দ্বারা উন্নত করা হয়। 
এটি মূলত বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশল গণনার জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং মানুষের পড়া ও বোঝার উপযোগী সিনট্যাক্স ব্যবহার করত, যা মেশিন ভাষা বা অ্যাসেম্বলি ভাষার তুলনায় অনেক সহজ ছিল।

উচ্চ স্তরের ভাষা:
- হাই-লেভেল বা উচ্চ স্তরের ভাষা কোন সংকেত বা সাংকেতিক কোড নির্ভর নয়।
- তাছাড়া মেশিন ও অ্যাসেম্বলি ভাষায় প্রোগ্রাম লিখা অনেক কষ্টকর ও শ্রমসাধ্য ব্যাপার। এছাড়া মানুষের পক্ষে লো-লেভেল ভাষা বোঝা সহজসাধ্য নয়। এই অসুবিধা দুর করার জন্য উচ্চ স্তরের ভাষার উদ্ভব হয়।
- এই স্তরের ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম বিভিন্ন ধরনের মেশিনে ব্যবহার করা সম্ভব।
- উচ্চ স্তরের ভাষা মানুষের ভাষার (যেমন- ইংরেজি ভাষা) সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।
- উচ্চ স্তরের ভাষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ভাষা হচ্ছে- BASIC, COBOL, FORTRAN, PASCAL, C++, JAVA, PROLOG ইত্যাদি।
- কম্পাইলার বা ইন্টারপ্রেটার নামক প্রোগ্রাম ব্যবহার করে এ ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম মেশিনের ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

উচ্চ স্তরের ভাষার সুবিধা:
১। এ ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম যে কোনো কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়।
২। এ ভাষায় প্রোগ্রাম রচনা সহজ ও যুক্তিনির্ভর।
৩। প্রোগ্রামের ভুল নির্ণয় ও সংশোধন অপেক্ষাকৃত সহজ।
৪ । উচ্চ স্তরের ভাষায় অসংখ্য লাইব্রেরি ফাংশনের সুবিধা আছে।
৫। প্রোগ্রাম লেখার সময় কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে ধারণার প্রয়োজন নেই।
উচ্চ স্তরের ভাষার অসুবিধা:
১। কম্পিউটার সরাসরি এ ভাষা বুঝতে পারে না।
২। এ ভাষায় লিখিত প্রোগ্রামকে কম্পিউটারে চালাতে হলে অনুবাদক প্রোগ্রামের প্রয়োজন হয়।
৩। প্রোগ্রাম রান করতে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

উৎস: 
১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। IBM ওয়েবসাইট। 

৫১.
Machine Learning এর পথপ্রদর্শক কাকে বলা হয়?
  1. অ্যালান টুরিং
  2. আর্থার স্যামুয়েল
  3. জন ম্যাকার্থি
  4. মার্ভিন মিনস্কি
ব্যাখ্যা

◉ আর্থার স্যামুয়েল (Arthur Samuel) কে সাধারণত Machine Learning-এর পথপ্রদর্শক বলা হয়। তিনি 1959 সালে "Machine Learning" শব্দটি জনপ্রিয় করেন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিজ্ঞতা থেকে শেখার ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোগ্রাম তৈরিতে পথিকৃৎ ছিলেন।

মেশিন লার্নিং (Machine Learning):
- মেশিন লার্নিং ডেটা সায়েন্সের ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ।
- মেশিন লার্নিং হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কম্পিউটারকে ডেটা থেকে শেখানোর ক্ষমতা দেয়া।
- এটি কম্পিউটারকে প্যাটার্ন এবং পর্যাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে কোন কিছুর পূর্বাভাস অনুমান করতে এবং নির্ধারিত কাজ অনুমোদন করতে অনুমতি দেয়।
- Machine Learning এর পথপ্রদর্শক Arthur Samuel.
- মেশিন লার্নিং-এ পরিসংখ্যাতগত পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে, অ্যালগরিদমগুলিকে শ্রেণিবিন্যাস বা ভবিষ্যদ্বাণী করতে এবং ডেটা মাইনিং প্রকল্পগুলিতে মূল অন্তর্দৃষ্টিগুলি উন্মোচন করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়৷

মেশিন লার্নিং- এর উদাহরণ:
- উদাহরণস্বরূপ, আমাদের স্মার্ট ফোনে যে আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক দেই তাও মেশিন লার্নিং ও সেনসরের এর কল্যাণে সম্ভব হয়েছে। সহজ ভাষায় বললে, মেশিন মানে আমাদের স্মার্ট ফোনটির ফিঙ্গার প্রিন্ট সেনসরটি আমাদের ফিঙ্গারপ্রিন্টের প্যাটার্ন Learn করেছে।
- আবার, বলা যায়, আমরা Google Doc- এ Voice Recognition অপশন অন করে বাংলায় কথা বললে, Google Doc নিজে নিজেই বাংলা টাইপিং শুদ্ধভাবে করতে পারে। সহজ ভাষায় বলা যায়, মেশিন হচ্ছে Google আর তাকে বিভিন্ন অ্যালগরিদম আর প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলা ভাষা শেখানো হয়েছে যাকে আমরা Natural Language Processing (NPL) বলি।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial Intelligence):
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মানুষের চিন্তাভাবনা গুলোকে কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটার বা কম্পিউটার প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রের মধ্যে রূপ দেয়ার ব্যবস্থা।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স এর কয়েকটি ক্ষেত্র হলো:
১) NLP (অনুবাদ/তথ্য সমন্বয়) - Natural Language Processing,
২) Speech (স্পিচ টু টেক্সট/স্পিচ টু স্পিচ),
৩) মেশিন লার্নিং (ডিপ লার্নিং),
৪) রোবটিক্স,
৫) ভিশন (ইমেজ প্রসেসিং)।

উৎস:
১) IBM ওয়েবসাইট।
২) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২.
এনক্রিপশন হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে—
  1. ডেটা মুছে ফেলা হয় 
  2. ডেটা কপি করা হয় 
  3. ডেটাকে সুরক্ষিত করা হয় 
  4. ডেটা সংকুচিত করা হয় 
ব্যাখ্যা

এনক্রিপশন (Encryption) হলো ডেটাকে একটি গাণিতিক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এমনভাবে রূপান্তর করা যাতে শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা (যাদের ডিক্রিপশন কী আছে) সেই ডেটা পড়তে বা অ্যাক্সেস করতে পারে। এটি ডেটা গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন—ইমেল, অনলাইন লেনদেন বা সেনসিটিভ ফাইল সুরক্ষিত করতে।

ডেটা এনক্রিপশন:
- ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ডেটাকে উৎস হতে গন্তব্যে প্রেরণের পূর্বে যে বিশেষ পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা হয় তাকে ডেটা এনক্রিপশন পদ্ধতি বলা হয়।
- ডেটা এনক্রিপশনের ফলে প্রেরকের প্রেরিত ডেটা অন্য কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে সুবিধা পায় না।
- উৎস বা প্রেরক ডেটাকে এনক্রিপ্ট করে ‘মাধ্যমের' ভেতর দিয়ে পাঠালে প্রাপক বা গন্তব্য ঐ এনক্রিপ্টেড ডেটা ব্যবহারের পূর্বে ডিক্রিপ্ট করে।
- এনক্রিপ্ট এবং ডিক্রিপ্ট করার জন্য নির্দিষ্ট এ্যাপ্লিকেশন সফ্টওয়্যার ব্যবহৃত হয়।
- ডেটা এনক্রিপ্ট করার জন্য বহুল ব্যবহৃত দুটি স্ট্যান্ডার্ডের নাম হলো সিজার কোড (Caesar Code) ও ডাটা এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড (Data Encryption Standard - DES)

ডাটা এনক্রিপশনের মূল অংশ চারটি। যথা-
১. প্লেইন টেক্সট,
২. সাইফার টেক্সট,
৩. এনক্রিপশন এলগরিদম ও
৪. কী।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।