পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৯
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিক - বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: শওকত আলী, শওকত ওসমান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সেলিনা হোসেন, সেলিম আল দীন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ শামসুল হক। ২. অন্যান্য লেখকগণ: শহীদ কাদরী, শহীদুল্লা কায়সার, শামসুজ্জামান খান, সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যেন সেন, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, সমর সেন, সরদার জয়েন উদ্দিন, সানাউল হক, সিকান্দার আবু জাফর, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্বর্ণকুমারী দেবী, সোমেন চন্দ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুকুমার রায়, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ও সম-সাময়িক গুরুত্বপূর্ণ লেখক। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ----------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন

.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৮ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২১ বছর
  4. ২৪ বছর
ব্যাখ্যা

•  সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
---------------------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার মামার বাড়িতে, যা কলকাতার কালীঘাট এলাকায় অবস্থিত।
- তাঁর আদি নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়।
- তাঁর পিতার নাম নিবারণ ভট্টাচার্য এবং মাতার নাম সুনীতি দেবী।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- কারণ তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ সমাজের নানা অনিয়ম ও দাঙ্গার বিরুদ্ধে সব সময় কলমের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন।
- নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য তার লেখনীগুলো বাঙালি পাঠক সমাজকে চিরকাল স্মরণ করাবে।
- ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- ‘কলম’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
শামসুর রাহমান কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মাহুতটুলী
  2. ওয়ারী
  3. হাজারীবাগ
  4. শাখারিবাজার
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে তাঁর নানাবাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
• প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
• রৌদ্র করোটিতে;
• বিধ্বস্ত নীলিমা;
• বন্দী শিবির থেকে;
• নিজ বাসভূমে;
• বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
• এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

• এছাড়া তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ- এলাটিং বেলাটিং।

• তাঁর উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

.
নিচের কোনটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর লেখা গান? 
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ 
  2. সব ক’টা জানালা খুলে দাও না
  3. ভালো আছি, ভালো থেকো
  4. মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
ব্যাখ্যা

“ভালো আছি, ভালো থেকো” গানের রচয়িতা- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।
-------------------------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সাবেড়হাট গ্রামে।
- তিনি তার প্রতিবাদী চেতনা ও প্রেমিকাভঙ্গির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ রূপে গ্রহণ করেন।
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কাব্য হলো:
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।
-------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• “সব ক’টা জানালা খুলে দাও না” হলো বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান।
- গানটি সাবিনা ইয়াসমিন গেয়েছেন। 
- গানটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং শহীদদের স্মরণ করার জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

• “মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি” গানটির রচয়িতা গোবিন্দ হালদার।
- গানটি বাঙালির দৃঢ় সংকল্প ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
“সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে কোন সাহিত্যিক ছন্দের জাদুকর উপাধিতে অভিহিত করেছেন?  
  1. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যজিৎ রায় 
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

“সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ছন্দের জাদুকর উপাধিতে অভিহিত করা হয়"। 
-------------------------------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রসিদ্ধ বাঙালি কবি ও ছড়াকার।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার কাছে নিমতা গ্রামে।
- পেশায় তিনি কবি, ছড়াকার এবং অনুবাদক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক শক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো:
• ছন্দের অসাধারণ দক্ষতা, 
• ভাষার গভীর বোঝাপড়া এবং
• জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঐতিহ্য বিষয়ক পাণ্ডিত্য।
- তিনি তাঁর কবিতায় ছন্দের কারুকার্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ছন্দের জাদুকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘কুহু ও কেকা’,
- ‘বেণু ও বীণা’,
-‘পালকির গান',
- ‘ফুলের ফসল’।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শহীদ কাদরী 
  4. শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা

'সারেং বৌ'- উপন্যাসের রচয়িতা- শহীদুল্লা কায়সার।
-------------------------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘সারেং বৌ’,
- ‘সংশপ্তক’,
- ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘ’,
- ‘তিমির বলয়’,
- ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’,
- ‘সমুদ্র ও তৃষ্ণা’,
- ‘চন্দ্রভানের কন্যা’,
- ‘কবে পোহাবে বিভাবরী’ (এবং অসমাপ্ত রচনা)।
------------------------------------------
• 'সারেং বৌ’ সম্পর্কিত তথ্য:
- 'সারেং বৌ’ শহীদুল্লা কায়সারের একটি বিখ্যাত উপন্যাস
- এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন তুলে ধরে।
- গল্পের মূল চরিত্র- সারেং কদম এবং তার স্ত্রী নবিতুন।
- উপন্যাসে তাদের প্রেম, বিচ্ছেদ, দুঃখ-কষ্ট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলার গল্প বলা হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
নিচের কোন গ্রন্থটি সুকুমার রায়ের ননসেন্স ছড়ার শ্রেষ্ঠ সংকলন হিসেবে পরিচিত?
  1. খাই খাই
  2. হযবরল
  3. আবোল তাবোল
  4. পাগলা দাশু 
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল'- সুকুমার রায়ের ননসেন্স ছড়ার শ্রেষ্ঠ সংকলন হিসেবে পরিচিত। 
------------------------------------
• সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায়।
- তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী,
- আর তাঁর পুত্র ছিল সত্যজিৎ রায়- বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- সুকুমার রায় ছিলেন বহু গুণে সমৃদ্ধ একজন শিল্পী।
- কলেজ জীবনে তিনি ছোটদের জন্য হাস্যরসপূর্ণ নাটক রচনা করতেন এবং তাতে নিজে অভিনয়ও করতেন।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই  সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করার ক্ষমতা ছিল সুকুমার রায়ের। 
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের পাশাপাশি সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 

• তাঁর রচিত কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: হযবরল।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
----------------------------------------------- 
• 'আবোল তাবোল' নিয়ে কিছু কথা:
- সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল হলো বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে আজগুবি, উদ্ভট ও কাল্পনিক বিষয় নিয়ে মজার ছড়া রয়েছে।
- ছড়াগুলো মূলত ব্যঙ্গাত্মক এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য লেখা।
- আবোল তাবোল-এ হাঁসজারু, কুমড়োপটাশ-এর মতো চরিত্র সৃষ্টি করে সুকুমার রায় শিশু সাহিত্যে এক নতুন ধারার সূচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

.
শহীদ কাদরীর সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও
  2. কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই
  3. গোধূলির গান
  4. তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
ব্যাখ্যা

শহীদ কাদরীর সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- 'গোধূলির গান'। 
------------------------------------- 
• শহীদ কাদরী:
- শহীদ কাদরী ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি ও লেখক।
- কবি শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৪৭-পরবর্তী বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন ও আধুনিকতার নতুন রূপ প্রবর্তন করেন
- শহীদ কাদরী তার সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক লাভ করেছেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উত্তরাধিকার;
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা;
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই।
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও। 

তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘গোধূলির গান’ তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থটি তাঁর প্রয়াণের পর পাণ্ডুলিপি থেকে প্রকাশ করা হয়।  

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
প্রথম আলো পত্রিকা। 

.
‘সমকাল' মাসিক পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন- 
  1. সেলিম আল দীন
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. শওকত আলী
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

‘সমকাল' মাসিক পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন - সিকান্দার আবু জাফর।
--------------------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও গীতিকার।
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ষাটের দশকের বাঙালি জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি দেশপ্রেমমূলক কবিতা, নাটক ও গণসংগীত রচনার মাধ্যমে মানুষকে আন্দোলন ও সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
- পেশাগত জীবনে তিনি কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও সাংবাদিকতা—সাহিত্যের নানা শাখায় সক্রিয় ছিলেন।
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সমকাল’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন।
- বিশেষ করে ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি এবং সিরাজ-উদ-দৌলা নাটকটি তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

• সিকান্দার আবু জাফরের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ-
• উপন্যাস: 
- পূরবী;
- নতুন সকাল।

• ছোটগল্প: মাটি আর অশ্রু। 

• কবিতা:
- প্রসন্ন শহর;
- তিমিরান্তিক;
- বৈরী বৃষ্টিতে;
- বাংলা ছাড়ো। 

• নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাউল;
- সঙ্গীত মালব কৌশিক। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

.
সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট- 
  1. দেশভাগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
  2. ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়
  3. জাফর ও আনজুমের প্রেম
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

'যাপিত জীবন' উপন্যাসে ভাষা আন্দোলন, দেশভাগ এবং বাঙালি জাতিসত্তার সংগ্রামের চিত্র ফুটে ওঠে।
---------------------------------- 
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক),
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।
-----------------------------------------------
যাপিত জীবন উপন্যাসের খুঁটিনাটি:
- যাপিত জীবন উপন্যাসটি প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের লেখা এক  ঐতিহাসিক সৃষ্টি।
- এটি ১৯৮১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়, জাফর ও আনজুমের প্রেম, দেশভাগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাঙালির শেকড় ও মাটির সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে নায়ক জাফরের চরিত্র বাঙালি জাতির সংগ্রাম, অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ফুটে ওঠে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১০.
শওকত ওসমান রচিত ‘আমলার মামলা’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী? 
  1. শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ 
  2. আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি ও শোষণ
  3. দরিদ্র পরিবারের জীবন সংগ্রাম 
  4. সব কয়টি 
ব্যাখ্যা

• ‘আমলার মামলা’ শওকত ওসমান রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
-----------------------------------------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।
----------------------------------------------------
‘আমলার মামলা’ নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত ওসমানের বিখ্যাত নাটক ‘আমলার মামলা’ তৎকালীন সমাজব্যবস্থার একটি বাস্তব ও নির্মম প্রতিফলন।
- এই নাটকটি মূলত আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষের শোষণের চিত্র তুলে ধরে।
- নাটকটিতে দেখানো হয়েছে—কীভাবে সরকারি আমলারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে নিপীড়ন করে এবং আইনি জটিলতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে।
- নাটকের কাহিনিতে একটি দরিদ্র পরিবারের পাঁচজন মেধাবী ছেলের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।
- বিশেষ করে বড় ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দারিদ্র্য ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির কারণে ভেঙে যায়।
- তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে।
- ‘আমলার মামলা’ শুধু শোষণের কাহিনি নয়, বরং শোষণের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কথাও বলে
- নাটকে দেখা যায়, অন্যায়ের শিকার মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হয় এবং প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১১.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কোন উপাধি দ্বারা ভূষিত ছিলেন?
  1. পণ্ডিত
  2. বিদ্যাভূষণ
  3. মহামহোপাধ্যায়
  4. সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের জনক
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি ছিল- 'মহামহোপাধ্যায়'। 
-----------------------------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত পণ্ডিত, সংরক্ষণবিদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তিনি ৬ ডিসেম্বর ১৮৫৩ সালে খুলনার কুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।
- সাহিত্যচর্চায় অবদানের জন্য তাঁকে মহামহোপাধ্যায় উপাধি প্রদান করা হয়।
- এছাড়াও তিনি বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের বহু লুপ্তপ্রায় পুঁথি উদ্ধার, পাঠোদ্ধার ও সম্পাদনার মাধ্যমে ভাষা ও সাহিত্যে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

• তাঁর প্রধান অবদান:
• ১৯০৭ সালে নেপাল থেকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লিখিত নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। 
- ১৯১৬ সালে এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বেণের মেয়ে,
- কাঞ্চনমালা।

• তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- রামচরিতম, 
- ভারত মহিলা,
- তৈল।

• তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ:
- বৌদ্ধধর্ম,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ,
- আমাদের ইতিহাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১২.
সেলিম আল দীন রচিত উপজাতিদের নিয়ে উপকথাভিত্তিক মঞ্চনাটকটির নাম - 
  1. একটি মারমা রূপকথা 
  2. সাঁওতাল বিদ্রোহের রোজনামচা
  3. চোট্টি মুন্ডা ও তার তীর 
  4. অরণ্যের অধিকার
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন রচিত উপজাতিদের নিয়ে উপকথাভিত্তিক মঞ্চনাটকটির নাম- একটি মারমা রূপকথা।
------------------------------------------
• সেলিম আল দীন:
-  সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনি জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা আধুনিক নাট্যকারদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- তাকে নাট্যাচার্য  উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিলো।
- সেলিম আল দীনের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস এবং অসংখ্য নাটক।

• তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো:
- একটি মারমা রূপকথা,
- গঙ্গাবতী,
- জন্ডিস, বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র, ইত্যাদি।  
-------------------------------
• ‘একটি মারমা রূপকথা’ বিষয়ক কিছু তথ্য: 
- সেলিম আল দীনের ‘একটি মারমা রূপকথা’ নাটকটি মারমা নৃগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে রচিত। 
- কাহিনিটি ‘মনরি-মাংৎসুমুই’ নামক লোকগল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে।
- ১৯৯০-এর দশকে ঢাকা থিয়েটার দেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি নিয়ে কাজ শুরু করে।
- তখন সেলিম আল দীনের নেতৃত্বে এই নাটকটি নির্মিত হয়।
- এটি তাঁর নব্য-নৃগোষ্ঠী নাটক ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
- এই নাটকের মাধ্যমে আদিবাসী জীবন ও লোককথাকে ব্যবহার করে বাংলা নাটকে শিকড় সন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে।
------------------------------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• তারাপদ রায় রচিত ‘সাঁওতাল বিদ্রোহের রোজনামচা’ গ্রন্থটি সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• মহাশ্বেতা দেবী মূলত লোধা, শবর ও অন্যান্য উপজাতিদের অধিকার, জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে লিখেছেন। 
- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে- ‘চোট্টি মুন্ডা ও তার তীর’। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

১৩.
বেগম সুফিয়া কামাল কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৯ সালে 
  2. ১৯১১ সালে 
  3. ১৯১৩ সালে 
  4. ১৯১৫ সালে 
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী।
- তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও বলা হয়ে থাকে।
- বেগম সুফিয়া কামাল ২০শে জুন ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মাতা ছিলেন সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধের অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।
- তিনি ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প- ‘কেয়ার কাঁটা’।
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৪.
‘যাত্রা’ উপন্যাসে ‘যাত্রা’ শব্দটি প্রধানত কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আনন্দভ্রমণ
  2. যুদ্ধযাত্রা
  3. অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে পলায়ন
  4. বিজয় অভিযাত্রা
ব্যাখ্যা

'যাত্রা' উপন্যাসে ‘যাত্রা’ বলতে বোঝানো হয়েছে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে দিশাহীনভাবে শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার করুণ বাস্তবতা।
-----------------------------------------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।

- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• 'যাত্রা';
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।
-------------------------------------------
‘যাত্রা’ উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত আলীর ‘যাত্রা’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর ঢাকার সাধারণ মানুষের প্রাণরক্ষার তাগিদে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার করুণ ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাপ্রবাহ ডায়েরি বা দৈনন্দিন দিনপঞ্জির আদলে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে নগরবাসীর আত্মরক্ষার্থে পলায়ন, আশ্রয়ের সন্ধান, উদ্বাস্তু জীবনের অসহায়ত্ব এবং সেই যাত্রাপথেই ধীরে ধীরে প্রতিরোধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- যুদ্ধের ধ্বংসলীলা, মানুষের ভয়–হতাশা–আশা এবং টিকে থাকার আপ্রাণ সংগ্রামের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো মিলিয়ে ‘যাত্রা’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে এক গভীরভাবে মর্মস্পর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

উৎস: যাত্রা উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।

১৫.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ গ্রন্থটি প্রধানত কোন দেশের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. তাজিকিস্তান 
  2. উজবেকিস্তান 
  3. আফগানিস্তান
  4. কাজাকিস্তান 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি- দেশে বিদেশে আফগানিস্তান ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে রচিত।
------------------------------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।
- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।
----------------------------------------------------- 
• ‘দেশে বিদেশে’ নিয়ে কিছু তথ্য:
- ‘দেশে বিদেশে’ সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ এবং বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের এক অসাধারণ উদাহরণ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনিটি মূলত ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে তার আফগানিস্তানের কাবুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতার ওপর লেখা।
- এই গ্রন্থে তিনি আফগান সমাজের দৈনন্দিন জীবন, মানুষের চলাফেরা, ভাষা, পোশাক, খাদ্য ও সংস্কৃতির নিখুঁত চিত্র তুলে ধরেছেন।
- লেখক তার সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে কাবুলের জীবন এবং মানুষের চিন্তাভাবনা বর্ণনা করেছেন।
- গ্রন্থটিতে রাজা আমানুল্লাহ খানের আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা যেমন—নারী শিক্ষা, বোরকা প্রথা বাতিল ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।।
- এবং এর কারণে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াও স্থান পেয়েছে; যা পরবর্তীতে তার ক্ষমতাচ্যুতির কারণ হয়।
- লেখক কেবল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেননি;
- বরং তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, রসবোধ এবং ভাষার জাদুর মাধ্যমে গ্রন্থটিকে সাহিত্যিক মানও দিয়েছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৬.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘নিষিদ্ধ লোবান’ কী ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

“নিষিদ্ধ লোবান" সৈয়দ শামসুল হক এর লিখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
---------------------------------------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- সৈয়দ শামসুল হকের প্রধান রচনা:
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলে যা।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৭.
সমর সেনের উপাধি ছিল-  
  1. স্বভাব কবি
  2. নাগরিক কবি 
  3. কবি কন্ঠহার 
  4. আধুনিক নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা

সমর সেনের উপাধি ছিল- 'আধুনিক নাগরিক কবি'। 
-----------------------------------------
সমর সেন:
-  সমর সেন ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা অরুণ সেন ছিলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক।
- তাঁর পিতামহ ছিলেন প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন।
- সমর সেন রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী রাজনীতিতেও নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।
- সমর সেনকে আধুনিক নাগরিক কবি বলা হয়।
- কারণ তাঁর কবিতায় নগর জীবন, সমাজ এবং আধুনিক মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা গভীরভাবে ফুটে উঠে।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- কয়েকটি কবিতা;
- গ্রহণ;
- নানা কথা;
- খোলা চিঠি;
- তিন পুরুষ। 

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হচ্ছে- বাবু বৃত্তান্ত। 
----------------------------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
• শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হয়।
• কবি কন্ঠহার বিদ্যাপতির উপাধি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৮.
“হে কবি! নীরব কেন—ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” - পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অংশ?  
  1. হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল
  2. স্বাধীনতা তুমি
  3. তাহারেই পড়ে মনে
  4. অঙ্গুরি এসেছ তুমি
ব্যাখ্যা

• তাহারেই পড়ে মনে।
     — সুফিয়া কামাল।

"কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল? ”

 “ হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়? ”
------------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মী।  
- বেগম সুফিয়া কামাল ২০ জুন ১৯১১ সালে বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন সৈয়দ আবদুল বারী এবং মা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- ১৯২৫ সালে তিনি মাতৃমঙ্গল নামক সংগঠনের একমাত্র মুসলিম সদস্য ছিলেন।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- তিনি বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা (প্রথম গল্পগ্রন্থ),
- সাঁঝের মায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ), 
- মায়া কাজল (কাব্যগ্রন্থ), 
- উদাত্ত পৃথিবী (কাব্যগ্রন্থ), 
- অভিযাত্রিক (কাব্যগ্রন্থ), 
- সোভিয়েতের দিনগুলি (ভ্রমণ কাহিনী),
- একালে আমাদের কাল (আত্মজীবনীমূলক রচনা),
- একাত্তরের ডায়েরী (স্মৃতিকথা)।

- তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ-
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে। 
----------------------------------------- 
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার খুঁটিনাটি:
- ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি বেগম সুফিয়া কামালের রচিত একটি নাটকীয় সংলাপনির্ভর কবিতা।
- কবিতায় কবি ও কবি-ভক্তের মধ্যে সংলাপ বিনিময় হয়েছে।
- এটি প্রথম ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- কবিতার মূলভাব হলো—প্রকৃতির পালাবদলের (বসন্তের আগমন) মধ্যেও প্রিয়জনের (স্বামীর) বিয়োগে কবির জীবনে নেমে আসা গভীর শূন্যতা ও বিষাদ।
- কবিতায় দেখা যায় যে, কবি বসন্তের সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করে কেবল অন্তর্নিহিত দুঃখ ও প্রিয়জন বিয়োগের বেদনা স্মরণ করেছেন।
---------------------------------- 
উল্লেখ্য, 
হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল, স্বাধীনতা তুমি, অঙ্গুরি এসেছ তুমি- শামসুর রাহমান রচিত কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া;
তাহারেই পড়ে মনে কবিতা। 

১৯.
'উদীচী' সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিল- 
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. সত্যেন সেন 
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা

• 'উদীচী' সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিল- সত্যেন সেন।
----------------------------------------- 
• সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ছিলেন একজন সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি বিপ্লবী কথাশিল্পী হিসেবেও সমানভাবে পরিচিত। 
- তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন সেন ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের সুকণ্ঠ গায়ক।
- তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন।
- এছাড়া তিনি মার্ক্সবাদে দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:

উপন্যাস:
- আলবেরুনী, 
- মা, অপরাজেয়, 
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পদচিহ্ন,
- পাপের সন্তান,
- কুমারজীব,
- বিদ্রোহী কৈবর্ত,
- পুরুষমেধ,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ

ইতিহাস ও গবেষণা বিষয়ক
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম,
- মানবসভ্যতার ঊষালগ্নে,
- ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের ভূমিকা। 

শিশুসাহিত্য:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী

বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমাদের এই পৃথিবী,
- এটমের কথা।
---------------------------------------------------- 
উদীচী সম্পর্কিত কিছু কথা:
- বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (উদীচী) বাংলাদেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ১৯৬৮ সালে সত্যেন সেন এর নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত ও শহীদুল্লা কায়সারসহ একঝাঁক তরুণ সদস্য যোগদানের মাধ্যমে উদীচী'র কার্যক্রম শুরু হয়।
- জন্মলগ্ন থেকেই উদীচী অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ গঠনের জন্য সংগ্রাম করেছে।
- ৬৮ থেকে ৭১ সালের মধ্যে উদীচী বাঙালির সার্বিক মুক্তির চেতনাকে ধারণ করে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম পরিচালনা করে।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২০.
‘নয়ন ঢুলি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন 
  2. সরদার জয়েনউদ্দীন
  3. সমর সেন 
  4. শামসুজ্জামান খান 
ব্যাখ্যা

‘নয়ন ঢুলি’ উপন্যাসের রচয়িতা সরদার জয়েনউদ্দীন।
------------------------------------
সরদার জয়েনউদ্দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ছিলেন চল্লিশের দশকের একজন গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
- তিনি শিশুতোষ রচয়িতা হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- তিনি পাবনার কামারহাটি গ্রামের কৃষক পরিবারে ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস।
- সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক পাকিস্তান, সংবাদ, ইত্তেফাক, অবজার্ভার পত্রিকা এবং বাংলা একাডেমী, ন্যাশনাল বুক সেন্টার, বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ড প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
- কথাসাহিত্যে তাঁর পরিচয় জনসম্মুখে আসে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ নয়ন ঢুলি দিয়ে।
-
সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯৮৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থসমূহ:
- নয়ন ঢুলি;
- বীর কণ্ঠীর বিয়ে;
- খরস্রোত;
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম;
- অষ্টপ্রহর। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস :
- নীল রং রক্ত;
- পান্নামতি;
- আদিগন্ত;
- অনেক সূর্যের আশা;
- বেগম শেফালী মির্জা;
- বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ।

• তাঁর বিখ্যাত শিশুতোষ রচনা:
- উল্টো রাজার দেশ;
- অবাক অভিযান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২১.
'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' নামক রম্য রচনাটির রচয়িতা কে?
  1. সরদার জয়েনউদ্দীন
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সমর সেন 
ব্যাখ্যা

শামসুজ্জামান খান- 'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' নামক রম্য রচনাটির রচয়িতা। 
--------------------------------------------------- 
• শামসুজ্জামান খান:
- শামসুজ্জামান খান ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও ফোকলোরবিদ।
- তিনি মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
- এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।
- ২০১৮ সালে শামসুজ্জামান খান 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার' অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
-
শামসুজ্জামান খান ২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল ঢাকায় করোনায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান:
- তিনি ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহশালা সম্পাদনা করেছেন।
-  এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের ফোকলোর সংগ্রহমালা সম্পাদনা করেছেন।
- এর মাধ্যমে তিনি দেশের লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গীত,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- মুক্তিবুদ্ধি,
- ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমকাল,
- আধুনিক ফোকলোর চিন্তা,
- ফোকলোর চর্চা। 

• রম্য রচনাসমূহ: 
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা

• শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ,
- লোভী ব্রাহ্মণ ও তেনালী রাম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালের কন্ঠ পত্রিকা।

২২.
সানাউল হক রচিত ‘বন্দর থেকে বন্দরে’ ভ্রমণকাহিনিতে কোন দেশে ভ্রমণের কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. ব্রিটেন
  2. বেলজিয়াম
  3. ভারত
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা

সানাউল হকের ভ্রমণকাহিনি ‘বন্দর থেকে বন্দরে’ অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
------------------------------------------------
• সানাউল হক: 
- সানাউল হক ছিলেন চল্লিশের দশকের একজন খ্যাতিমান কবি, অনুবাদক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মী।
- তিনি ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চৌরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম- আল মামুন সানাউল হক।
- তাঁর কবিতায় স্বদেশপ্রেম ও ব্যক্তিগত অনুভূতি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
- অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমনের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত 'বন্দর থেকে বন্দরে' নামক ভ্রমণ-কাহিনির জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি খ্যাতি লাভ করেছেন। 
- সানাউল হক ১৯৯৩ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- প্রবাসে যখন,
- বিরাশির কবিতা,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৩.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দিয়েছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহাম্মাদ শহিদুল্লাহ 
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ভাষাচার্য উপাধি দিয়েছেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
---------------------------------------------- 
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা করেছেন।
- ভাষা নিয়ে তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্মে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ভাষাচার্য উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তাছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘Origin and Development of the Bengali Language; 
- Bengali Phonetic Reader;
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা;
- পশ্চিমের যাত্রী;
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা;
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ;
- ভারত সংস্কৃতি;
- সংস্কৃতি কী;
- রবীন্দ্রসঙ্গমে,
- ইউরোপ ভ্রমণ,
- Languages and Literatures of Modern India;
- World Literature and Tagore;
- দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৪.
শহীদুল্লা কায়সারের পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ গ্রন্থে কোন দেশের জীবনচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. পাকিস্তান
  2. আফগানিস্তান
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. তুরস্ক 
ব্যাখ্যা

শহীদুল্লা কায়সারের পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ গ্রন্থে সোভিয়েত ইউনিয়নের জীবনচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
------------------------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
--------------------------------------------- 
‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’- ভ্রমণকাহিনির কিছু তথ্য: 
- বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য একটি ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে শহীদুল্লা কায়সারের— ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’।
- এই ভ্রমণকাহিনী তৎকালীন মধ্য এশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের (উজবেকিস্তান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের) রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার একটি প্রত্যক্ষদর্শী চিত্র।

- বইটিতে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তি এবং এর পটভূমি বর্ণিত হয়েছে।
- সেই সঙ্গে চুক্তির পর ১৯৬৬ সালে আকস্মিকভাবে মৃত্যু হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ঘটনাবলীও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে।
- এই গ্রন্থে শহীদুল্লা কায়সার সোভিয়েত ইউনিয়নের জীবনধারা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও আধুনিকতার মিশ্রণ পর্যবেক্ষণ করেছেন।
- পাশাপাশি, পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ পর্যন্ত তার যাত্রাপথের অভিজ্ঞতাও বর্ণনা করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৫.
ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত গীতিকাব্য কোনটি?
  1. অনল-প্রবাহ
  2. প্রেম প্রবাহিনী
  3. কবিতা ও গান
  4. প্রদীপ
ব্যাখ্যা

- ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত গীতিকাব্য- 'অনল প্রবাহ’। 
--------------------------------------------------
• ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি লেখক, কবি, বাগ্মী ও কৃষক নেতা।
- তাঁর জন্ম ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- জন্মস্থানের সঙ্গে পরিচয় বজায় রাখতেই তিনি নিজের নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সমাজে নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি পরিচিত।
- তাকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়।
- সাহিত্যকর্মের দিক থেকেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে:
- অনল-প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী ও
- প্রেমাঞ্জলি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।
---------------------------------------------- 
‘অনল প্রবাহ’ নিয়ে কিছু কথা:
- অনল প্রবাহ হলো সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি গীতিকাব্য।
- এই কাব্যটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- সাহিত্য ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘অনল-প্রবাহ’ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- এ কারণে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের কবিদের মধ্যে একজন হিসেবে কারাবরণ করেন।
---------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত গীতিকাব্য- 'প্রেম প্রবাহিনী';
- স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত গীতিকাব্য- 'কবিতা ও গান'।
- অক্ষয়কুমার বড়াল রচিত গীতিকাব্য- 'প্রদীপ'।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৬.
‘ইঁদুর’ গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সমর সেন
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  4. সরদার জয়েনউদ্দীন 
ব্যাখ্যা

‘ইঁদুর’ গল্পের রচয়িতা- সোমেন চন্দ। 
------------------------------------------ 
• সোমেন চন্দ:
- সোমেন চন্দ ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্রকুমার চন্দ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে নরসিংদিতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ঢাকায় প্রগতি লেখক সংঘের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চায় সক্রিয় হন।
- বাংলা সাহিত্যে গণসাহিত্য ধারার সূচনায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ‘বন্যা’ নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন।
- তাঁর ‘ইঁদুর’ গল্পটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। 
- উপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ইঁদুর গল্প পড়েই কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন। 
- ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ তিনি আততায়ীর হাতে নিহত হন।
- মৃত্যুর পর তাঁর রচনাগুলো বিভিন্ন সংকলনে প্রকাশিত হয়। 

- তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ-
'ইঁদুর',   
• ‘সংকেত ও অন্যান্য গল্প’,
• 'বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প’।
• ১৯৭৩ সালে রণেশ দাশগুপ্ত সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ নামে তাঁর গল্পসমূহের একটি সংকলন সম্পাদনা করেন।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৭.
"এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে। "- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সত্যেন সেন
  4. সুকান্ত
ব্যাখ্যা

• আঠারো বছর বয়স। 
       — সুকান্ত ভট্টাচার্য।

"আঠারাে বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পর্ধায় নেয় মাথা তােলবার ঝুঁকি,
আঠারাে বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।" 

"আঠারাে বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নােয়াবার নয়
আঠারাে বছয় বয়স জানে না কাঁদা।"

"এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে ষ্টীমারের মতাে চলে,
প্রাণ, দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।" 
---------------------------------------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার মামার বাড়িতে, যা কলকাতার কালীঘাট এলাকায় অবস্থিত।
- তাঁর আদি নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়।
- তাঁর পিতার নাম নিবারণ ভট্টাচার্য এবং মাতার নাম সুনীতি দেবী।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- ‘কলম’।
----------------------------------------------------
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূলভাব:
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণকে চিত্রিত করেছেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কবিতা ‘আঠারো বছর বয়স’ ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি তাঁর ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় তারুণ্যের শক্তি, বিদ্রোহ ও সম্ভাবনার চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই বয়স শৈশব–কৈশোর পেরিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সময়;
- যখন ভয় কমে গিয়ে দুঃসাহস ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা জাগে।
- তরুণরা অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রস্তুত থাকে এবং সমাজের বাধা ভেঙে এগোতে চায়।
- তবে এই বয়সে শুভ–অশুভের দ্বন্দ্ব ও পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
- তবুও কবির বিশ্বাস, ব্যর্থতা অতিক্রম করে এই তারুণ্যই দেশ ও জাতির উন্নয়নের প্রধান শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৮.
‘গাছপাথর’ ছদ্মনামে লিখালিখি করতেন কোন প্রাবন্ধিক?  
  1. ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী 
  4. সাইদ আহমদ
ব্যাখ্যা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ছদ্মনাম - ‘গাছপাথর’।
-------------------------------------------- 
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি লেখক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন, মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি মার্ক্সবাদী ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন। 
- তিনি “গাছপাথর” ছদ্মনামে লিখালিখি করতেন।
- দৈনিক সংবাদে 'গাছপাথর' ছদ্মনামে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন লিখে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
- শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশের সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করেছে।

• তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থসমূহ:
- অন্বৈষণ;
- রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি;
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক;
- গণতন্ত্রের পক্ষ-বিপক্ষ;
- দ্বিজাতিতত্ত্বের সত্য-মিথ্যা;
- লিঙ্কনের বিষণ্ণ মুখ;
- নজরুল ইসলাম: কবি ও অন্যান্য;
- শেক্সপীয়রের মেয়েরা ইত্যাদি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- শেষ নেই;
- কণার অনিশ্চিত যাত্রা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব;
- ইবসেনের বুনো হাঁস। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
প্রথম আলো পত্রিকা। 

২৯.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবি’ কোন শাসনামলের প্রেক্ষাপটে রচিত? 
  1. মুঘল শাসন
  2. ব্রিটিশ শাসন
  3. পাকিস্তান আমল
  4. স্বাধীন ভারতের পরবর্তী শাসনামল
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পথের দাবি' ব্রিটিশ শাসনামলে লেখা একটি বিপ্লবী উপন্যাস।
----------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘বাঙালি ব্যাথার নিকটতম প্রতিবেশী’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- 'মন্দির' (১ম ছোটগল্প),
- ' মহেশ',
- 'রামের সুমতি',
- 'অভাগীর স্বর্গ',
- 'বিলাশী', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- 'দেবদাস',
- 'শ্রীকান্ত',
- 'পথের দাবী',
- 'গৃহদাহ',
- 'দত্তা',
- 'বড়দিদি' (১ম উপন্যাস),
- 'বৈকুন্ঠের উইল',
- 'শেষের পরিচয়',
- 'দেনা-পাওনা', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- 'রমা';
- 'ষোড়শী'।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত বড়গল্প: মেঝদিদি। 
----------------------------------------- 
'পথের দাবী':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবি' রাজনীতির বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা।
- এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এই উপন্যাসটি সব্যসাচী মল্লিক নামক এক বিপ্লবী নেতার নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গোপন বিপ্লবী দলের সংগ্রাম নিয়ে রচিত।
- এর বিপ্লবী বিষয়বস্তুর কারণে এটি ব্রিটিশ ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩০.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কোন গ্রন্থটি ফরাসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে?
  1. ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা
  2. প্রেমের কবিতা
  3. জার্মান সাহিত্য
  4. কবিতার কথা
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আলী আহসান রচিত প্রেমের কবিতা গ্রন্থটি ফরাসি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।
-------------------------------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯২০ সালের ২৬ মার্চ মাগুরার আলোকদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০–৬৭ পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমীর পরিচালক ছিলেন।
- ১৯৭২ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন।
- নবনির্মিত বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিকভাবে গড়ে তোলাসহ তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দেন- 
• সংবিধানের বাংলা ভাষ্য চূড়ান্তকরণ,
• শিল্পকলা একাডেমীর গঠনতন্ত্র প্রণয়ন,
• বাংলা একাডেমী ও ডেভেলপমেন্ট বোর্ড একত্রীকরণ।
• এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের ইংরেজি অনুবাদ তিনি সম্পন্ন করেন।

- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- Our Heritage;
- নজরুল ইসলাম;
- প্রেমের কবিতা;
- ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা;
- রবীন্দ্রনাথ: কাব্যবিচারের ভূমিকা;
- কথাবিচিত: বিশ্বসাহিত্য ইত্যাদি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত;
- রজনীগন্ধা;
- সহসা সকচিত।
----------------------------------------
• ফরাসী অনুবাদ: 
- “Poems d’amour: Claire & Yvan Goll” হলো ফরাসি ভাষার একটি প্রেমের কবিতা সংকলন। 
- আবদুল মান্নান সৈয়দ এই গ্রন্থটি ফরাসি থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।
- বাংলায় অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম- প্রেমের কবিতা। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩১.
‘মেহেরজান’ চরিত্রটি শওকত ওসমানের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. তস্কর লস্কর
  3. কাঁকর মণি
  4. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

‘মেহেরজান’ চরিত্রটি শওকত ওসমান রচিত 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের চরিত্র। 
---------------------------------------------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:  
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।
------------------------------------ 
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস নিয়ে কিছু তথ্য:
- 'ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শওকত ওসমান স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অধিকারহীনতা ও সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
- আইয়ুব খানের দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করেই উপন্যাসটি নির্মিত।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- হাবসি ক্রীতদাস তাতারী, মেহেরজান, এবং আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ।
- এ উপন্যাসে লেখক তাতারীর হাসি এবং মেহেরজানের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার প্রতীকী উপস্থাপন করেছেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩২.
“বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।”- কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. জসীম উদ্দীন 
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য 
ব্যাখ্যা

• “বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।”- কবিতাংশের রচয়িতা শামসুর রাহমান। 
---------------------------------------------------------------
• স্বাধীনতা তুমি।
      – শামসুর রাহমান।

“স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।”

“স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।”
------------------------------------------- 
শামসুর রহমান:
-  শামসুর রহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে তাঁর নানাবাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
• প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
• রৌদ্র করোটিতে;
• বিধ্বস্ত নীলিমা;
• বন্দী শিবির থেকে;
• নিজ বাসভূমে;
• বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
• এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

• এছাড়া তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ- এলাটিং বেলাটিং।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।
-----------------------------------------------
‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতা সম্পর্কিত কিছু কথা:
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি  হলো বাঙালির অস্তিত্ব, সংগ্রাম ও স্বপ্নের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
- কবিতাটি 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- শামসুর রাহমান ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতায় স্বাধীনতাকে কোনো বিমূর্ত ধারণা হিসেবে দেখাননি।

- তিনি দেখিয়েছেন যে স্বাধীনতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট-বড় মুহূর্তে মিশে আছে।
- উদাহরণস্বরূপ,
• রবিঠাকুরের গান আমাদের সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীলতার অংশ হিসেবে স্বাধীনতার স্বাদ দেয়,
• মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক লড়াই ও সাহসের প্রতীক,
• মা-বোনের শাড়ি ঘরোয়া জীবনের আনন্দে স্বাধীনতার উপস্থিতি প্রকাশ করে,
• আর ছায়া ও স্বপ্ন আমাদের আশা ও সংগ্রামের প্রতিফলন হিসেবে স্বাধীনতার অর্থ বোঝায়।
- অর্থাৎ, কবি স্বাধীনতাকে মানুষের জীবন ও অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রেখেছেন।

উৎস: 
'স্বাধীনতা তুমি' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৩৩.
“The Origin and Development of the Bengali Language” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?”
  1. অমর্ত্য সেন
  2. ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ 
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজা রামমোহন রায় 
ব্যাখ্যা

“The Origin and Development of the Bengali Language” গ্রন্থটির রচয়িতা- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। 
---------------------------------------
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লন্ডনে ধ্বনিতত্ত্ব, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ব এবং প্রাকৃত, ফারসি, প্রাচীন আইরিশ, গোথিকসহ বিভিন্ন ভাষা অধ্যয়ন করেন।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা করেছেন।
- ভাষা নিয়ে তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্মে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ভাষাচার্য উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি খ্যাতিলাভ করেছেন “The Origin and Development of the Bengali Language” গ্রন্থ রচনার মধ্য দিয়ে।
- বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তিনি ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘Origin and Development of the Bengali Language; 
- Bengali Phonetic Reader;
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা;
- পশ্চিমের যাত্রী;
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা;
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ;
- ভারত সংস্কৃতি;
- সংস্কৃতি কী;
- রবীন্দ্রসঙ্গমে,
- ইউরোপ ভ্রমণ,
- Languages and Literatures of Modern India;
- World Literature and Tagore;
- দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ। 
----------------------------------------------------- 
‘The Origin and Development of the Bengali Language’:
- এই গ্রন্থটি অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের একটি মৌলিক গবেষণা।
- এতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিবর্তন, ধ্বনি ও রূপতত্ত্ব, বাক্য গঠন আলোচনা করা হয়েছে।
- পাশাপাশি ইন্দো-আর্য ভাষা পরিবারের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণও আলোচনা করা হয়েছে।
- তিনি প্রমাণ করেছেন যে বাংলা ভাষা সরাসরি সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত নয়।
- বরং এটি প্রাচীন গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে বিকশিত হয়েছে, যা প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্য ভাষার একটি শাখা।
- গ্রন্থে বলা হয়েছে, সপ্তম শতাব্দীর দিকে গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষার আধুনিক রূপের বিকাশ শুরু হয়।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩৪.
“বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”—উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া?
  1. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  2. পালামৌ
  3. বিচিত্র চিন্তা
  4. পাখির বাসা 
ব্যাখ্যা

“বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”—এই অমর উক্তিটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি ‘পালামৌ’ গ্রন্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
------------------------------------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
-  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৪–১৮৮৯) ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও পণ্ডিত।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তিনি একজন স্বশিক্ষিত মানুষ ছিলেন।
- নিজের উদ্যোগে অধ্যয়নের মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইন বিষয়ে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
• যাত্রা সমালোচনা,
• কণ্ঠমালা,
• রামেশ্বরের অদৃষ্ট,
• মাধবীলতা,
• দামিনী, প্রভৃতি। 
----------------------------------------------
‘পালামৌ’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- 'পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভ্রমণকাহিনী।
- ‘পালামৌ’ ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পালামৌ বিহারের একটি স্থান।
- বিহারে অবস্থানকালে নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা অবলম্বনে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন।
- এই রচনাতেই তিনি অমর বাক্য সৃষ্টি করেন - “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”
---------------------------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত হুতোম প্যাঁচার নকশা একটি ব্যঙ্গরচনা।
• বিচিত্র চিন্তা- আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধ। 
• পাখির বাসা- ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৩৫.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত 'পরিচয়' পত্রিকাটি কি ধরনের ছিল? 
  1. সাপ্তাহিক 
  2. মাসিক 
  3. ত্রৈমাসিক 
  4. বার্ষিক 
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।
- প্রসিদ্ধ গায়িকা রাজেশ্বরী বাসুদেব তাঁর স্ত্রী।
- তিনি পঞ্চপাণ্ডবদের মধ্যকার একজন। 
- তিনি ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী প্রধান কবিদের একজন ছিলেন।
- তিনি ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যদর্শন অনুসরণ করে তিনি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য কাব্যে ফুটিয়ে তুলতেন। 
- বাংলা কবিতায় তাঁর হাত ধরেই দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটে।
- বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের প্রবর্তক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

- সুধীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী ইত্যাদি। 

- তাঁর বিখ্যাত তিনটি গদ্যগ্রন্থ— 
 • স্বগত,
• কুলায় ও
• কালপুরুষ।

• এছাড়া তিনি 'প্রতিধ্বনি' নামে একটি অনুবাদগ্রন্থও রচনা করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩৬.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- 
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. দুই সৈনিক
  3. জলাঙ্গী 
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 
- কর্মজীবনের প্রাথমিক সময়ে স্বল্পকাল তিনি কৃষক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ মে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:  
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- জলাঙ্গী; 
- নেকড়ে অরণ্য।
--------------------------------------------- 
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ নিয়ে কিছু তথ্য: 

- ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’: 
- ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা।
- এবং ১৯৭১ সালেই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি, নৈতিক দিক এবং সেই সময়ের সামাজিক ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরে।

- ‘দুই সৈনিক’:
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘দুই সৈনিক’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- ধানশীষ প্রকাশনী থেকে, স্বাধীনতা দিবসে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- শওকত ওসমান ‘দুই সৈনিক’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতা ও সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব, বিশেষ করে নারী নির্যাতনের মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরেছেন। 

- ‘জলাঙ্গী’:
- শওকত ওসমানের ‘জলাঙ্গী’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঁকাজল গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন, মানসিক টানাপোড়েন, ও হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ চিত্রিত হয়েছে।

উৎস:
সংশ্লিষ্ট উপন্যাসসমূহ; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়? 
  1. ১৮৭৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দত্তা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- বিজয়া ও নরেন্দ্র 
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম ছোটগল্প 'মন্দির'। 
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপাধি পরশুরাম। 
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে যে তথ্যটি সঠিক নয়, তা হলো— তিনি ১৮৭৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ  করেন। 
- বাকি অপশনের তথ্যগুলো সঠিক।
-----------------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পরশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘বাঙালি ব্যাথার নিকটতম প্রতিবেশী’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- 'মন্দির' (১ম ছোটগল্প),
- ' মহেশ',
- 'রামের সুমতি',
- 'অভাগীর স্বর্গ',
- 'বিলাশী', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- 'দেবদাস',
- 'শ্রীকান্ত',
- 'পথের দাবী',
- 'গৃহদাহ',
- 'দত্তা',
- 'বড়দিদি' (১ম উপন্যাস),
- 'বৈকুন্ঠের উইল',
- 'শেষের পরিচয়',
- 'দেনা-পাওনা', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- 'রমা';
- 'ষোড়শী'।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত বড়গল্প: মেঝদিদি। 
---------------------------------------- 
উল্লেখ্য, 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দত্তা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- বিজয়া ও নরেন্দ্র।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দত্তা’ উপন্যাসে প্রেম, সামাজিক বাধা ও ধর্মীয় বিভাজন অতিক্রম করে ধনী ব্রাহ্ম কন্যা বিজয়া ও দরিদ্র হিন্দু যুবক নরেনের মধ্যে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস:
'দত্তা' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
‘টেকচাঁদ’ ছদ্মনামটি কোন সাহিত্যিকের? 
  1. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘টেকচাঁদ’ ছদ্মনামটি- সৈয়দ মুজতবা আলীর। 
--------------------------------- 
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর সবচেয়ে পরিচিত ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।
- এই নামে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা-য় কলাম লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- এছাড়া তিনি ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী এবং মুসাফির সহ আরও অনেক ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন।

- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।
-------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - 'জরাসন্ধ'।
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - ‘টেকচাঁদ ঠাকুর'।
• সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - 'সুবচনী'।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩৯.
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত 'পুঁই ডালিমের কাব্য' কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে রচিত? 
  1. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ
  3. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দীন আবুল কালামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ- পুঁই ডালিমের কাব্য।
-------------------------------------------------
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭) বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- কাশবনের কন্যা,
- ভাওয়াল গড়ের উপকথা,
- আলমনগরের উপকথা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।
----------------------------------------------
পুঁই ডালিমের কাব্য সম্পর্কিত তথ্য:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পুঁই ডালিমের কাব্য’ মূলত মুক্তিযুদ্ধকালীন গ্রামীণ জীবন ও সাধারণ মানুষের সংগ্রাম নিয়ে লেখা একটি গ্রন্থ।
- এতে গ্রাম বাংলার জীবন-মৃত্যুর টানাপোড়েন, আদর্শের সংঘাত এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চিত্রিত হয়েছে।
- এ গ্রন্থে দেখানো হয়েছে কীভাবে শান্তিপ্রিয় মানুষও যুদ্ধের নির্মমতার শিকার হয়।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের অত্যাচারও এতে বর্ণিত হয়েছে।
- অত্যাচারের মধ্যেও মানুষ মুক্তির স্বপ্ন দেখে এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়।
- এটি শুধু যুদ্ধের গল্প নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি এবং সংগ্রাম ও সাহসের কাব্যিক আখ্যান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন গ্রন্থের জন্য কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন? 
  1. মন্দির
  2. মহেশ
  3. পথের দাবি
  4. দেনা-পাওনা
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'মন্দির’ গল্পের জন্য কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন। 
-----------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘বাঙালি ব্যাথার নিকটতম প্রতিবেশী’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- 'মন্দির' (১ম ছোটগল্প), 
- ' মহেশ',
- 'রামের সুমতি',
- 'অভাগীর স্বর্গ',
- 'বিলাশী', ইত্যাদি।
--------------------------------- 
পুরস্কার:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম রচিত ছোটগল্প 'মন্দির'।
- এই ছোটগল্পটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- তাঁর প্রথম মুদ্রিত গল্প 'মন্দির'-এর জন্য তিনি কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন।
- এটি ছিল তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরুর দিকের একটি বড় স্বীকৃতি, যা তাঁকে সাহিত্য জগতে পরিচিতি পেতে সাহায্য করে। 
--------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- 'মহেশ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প। 
- 'পথের দাবী' ও 'দেনা-পাওনা' হচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৪১.
শামসুর রাহমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- 
  1. এলাটিং বেলাটিং
  2. ধান ভানলে কুঁড়ো দেব
  3. কিশোর কবিতা
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাকে নাগরিক কবি বলা হয়ে থাকে। 

শামসুর রাহমানের শিশুতোষ গ্রন্থ- 
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো,
- কিশোর কবিতা, 
- রংধনু সাঁকো,
- লাল ফুলকির ছড়া,
- স্মৃতির শহর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৪২.
"মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মনুষ্যত্বের মরণ দেখিলে।"- উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. দত্তা
  2. শ্রীকান্ত
  3. গৃহদাহ 
  4. বৈকুন্ঠের উইল 
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উক্তি: “মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মনুষ্যত্বের মরণ দেখিলে”— তার বিখ্যাত উপন্যাস শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব) থেকে নেওয়া।
---------------------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘সাহিত্য সম্রাট’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।
- তিনি মূলত পল্লী জীবন ও সমাজকে তাঁর উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়েছেন।
- তিনি ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- 'দেবদাস',
- 'শ্রীকান্ত',
- 'পথের দাবী',
- 'গৃহদাহ',
- 'দত্তা',
- 'বড়দিদি' (১ম উপন্যাস),
- 'বৈকুন্ঠের উইল',
- 'শেষের পরিচয়',
- 'দেনা-পাওনা', ইত্যাদি।
----------------------------------------
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি মূলত শ্রীকান্তের ভবঘুরে জীবন, তার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র হল- শ্রীকান্ত।

- “মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মনুষ্যত্বের মরণ দেখিলে”-
- এই উক্তিটি লেখক শ্রীকান্তর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।
- এখানে শ্রীকান্ত চরিত্রের মাধ্যমে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের সাধারণ মৃত্যু তাকে ততটা ব্যথিত করে না যতটা ব্যথিত হয় মনুষ্যত্বের বা মানবিকতার অবক্ষয় দেখলে।
- শ্রীকান্ত চারপাশের মানুষের আচরণ ও সমাজের অবক্ষয়কে লক্ষ্য করে এই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
- এই উক্তি মানুষের শারীরিক মৃত্যুর চেয়ে নৈতিক ও মানবিক পতনের গুরুত্ব এবং লেখকের গভীর মানবিক মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তোলে।

উৎস:
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪৩.
'পথ জানা নাই' গল্পের রচয়িতা কে? 
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. আবু ইসহাক
  3. আশরাফ সিদ্দিকী
  4. শামসুর রাহমান 
ব্যাখ্যা

'পথ জানা নাই' গল্পের রচয়িতা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম। 
----------------------------------------------
• শামসুদ্দিন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দিন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭) বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
শামসুদ্দীন আবুল কালাম একজন ব্যতিক্রমী ধারার লেখক।
- সাধারণ মানুষের সরল জীবনের প্রতিচ্ছবি অঙ্কনে তিনি দক্ষ রূপকার। 
- ১৯২৩ সালে তিনি দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন।
- পরবর্তীতে ১৯২৪ সালে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান এবং মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো: 

• 'পথ জানা নাই' গল্পগ্রন্থের গল্পসমূহ:
- পথ জানা নাই,
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।
------------------------------------------------- 
 ‘পথ জানা নেই’ গল্পের মূলভাব:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পথ জানা নেই’ গল্পে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্ভিক্ষ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন ফুটে উঠেছে।
- গল্পে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে বা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়;
- ফলে পরিবার ও সমাজে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়।
- প্রিয়জনের বিচ্ছিন্নতা ও হতাশার মাধ্যমে গল্পে যুদ্ধোত্তর বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পথ জানা নাই’ গল্পে মূল চরিত্ররা হলেন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষ—কৃষক ও দরিদ্র পরিবার। 
- এই সাধারণ মানুষের সমষ্টিগত জীবনের দুঃখ, বিচ্ছিন্নতা ও দিশাহীনতার প্রতিচ্ছবিই গল্পে ফুটে উঠেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪৪.
‘হুগলীর ইমামবাড়ি’ উপন্যাসটি কোন চরিত্রকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে? 
  1. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক 
  2. হাজী মুহম্মদ মহসিন
  3. হাতেম তাই
  4. হাজী শরীয়তুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

‘হুগলীর ইমামবাড়ি’ হাজী মুহম্মদ মহসিনকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে।
--------------------------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন।
- এটি তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও তিনি কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। 

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
-------------------------------------------- 
'হুগলীর ইমামবাড়ি’ নিয়ে কিছু কথা:
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রসিদ্ধ উপন্যাস হুগলীর ইমামবাড়ি রচিত হয়েছে হাজী মুহম্মদ মহসিনকে নিয়ে।
- হুগলীর ইমামবাড়ি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট উনিশ শতকের হুগলি অঞ্চলের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন।
- উপন্যাসটি হাজী মুহম্মদ মহসিনের দানকৃত সম্পত্তি থেকে নির্মিত ইমামবাড়িকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে ঐতিহাসিক ও কল্পনার মিশেল চমতকারভাবে ফুটে উঠেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪৫.
সেলিনা হোসেনের ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ইতিহাস-নির্ভর উপন্যাস
  2. রোমান্টিক উপন্যাস
  3. বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
  4. সামাজিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি ভাষাশহিদ সোমেন চন্দ এবং ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা ইতিহাস-নির্ভর উপন্যাস। 
------------------------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।
------------------------------------------------------ 
‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসের খুঁটিনাটি:
-  ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ বাঙালির আত্মপরিচয়।
- এই উপন্যাসে লেখিকা শেকড় অনুসন্ধান এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- সেলিনা হোসেনের ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ সালে সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি একুশের উপন্যাস সংকলনের অংশ হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়।

- ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি ইতিহাস-নির্ভর একটি উপন্যাস।
- সেলিনা হোসেনের 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' উপন্যাস ভাষাশহিদ সোমেন চন্দকে নিয়ে লেখা।
- গল্পের প্রেক্ষাপট ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- উপন্যাসের প্রধান বিষয়- মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাগরণ, শাসক-শোষক বিরোধী লড়াই এবং ঐতিহ্যের পুনর্মূল্যায়ন।
- উপন্যাসে প্রধান চরিত্র- সোমেন চন্দ, মুনিম, আসাদ, সালাম, রাহাত, বেণু, নীলা, রেণু প্রমুখের মাধ্যমে ছাত্রসমাজের সংগ্রাম, আদর্শ এবং ভবিষ্যতের পথচলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

উৎস:
‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪৬.
‘একাত্তরের ডায়েরী’ প্রধানত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. স্মৃতিকথা
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

‘একাত্তরের ডায়েরী’- সুফিয়া কামালের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির ভিত্তিতে লেখা স্মৃতিকথা।
--------------------------------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’ ও
তাঁর বিখ্যাত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।
-------------------------------------------
• ‘একাত্তরের ডায়েরী’ সম্পর্কিত তথ্য: 
- এটি মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- সুফিয়া কামাল ‘একাত্তরের ডায়েরী’ স্মৃতিকথায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন তার অভিজ্ঞতা, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ ও বাঙালির সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছেন। 
- সুফিয়া কামালের ‘একাত্তরের ডায়েরী’ ১৯৮৯ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- এই ডায়েরী ছিল কবির ব্যক্তিগত দিনলিপি।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।

৪৭.
শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাসের প্রথম কাহিনী কোনটি? 
  1. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  2. দক্ষিণায়নের দিন
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. আরেকটি স্বাধীন কাহিনী
ব্যাখ্যা

শওকত আলী রচিত ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী দক্ষিণায়নের দিন।
------------------------------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।

- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• যাত্রা;
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।
-------------------------------------- 
ত্রয়ী উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত আলীর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো:
দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫): ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
• কুলায় কালস্রোত (১৯৮৬): দ্বিতীয় কাহিনী, ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
• পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬): শেষ কাহিনী, গল্পের সমাপ্তি।

- এই তিনটি উপন্যাস মূলত রাজনৈতিক জীবন ও মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এই ত্রয়ী উপন্যাস শওকত আলীর সৃষ্টিশীলতার শীর্ষকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
- এই ত্রয়ী যেন একটি বড় কাহিনীর তিনটি অংশ, যা সময়ের আবর্তে মানুষের জীবন, সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখায়।
- এখানে সময়কে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে দেখা যায়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
সংশ্লিষ্ট উপন্যাস;
বাংলাপিডিয়া।

৪৮.
‘দেবদাস’ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু কী?
  1. একতরফা ভালোবাসা
  2. মধ্যবিত্তের প্রেম কাহিনি 
  3. একটি দম্পতির প্রেম
  4. প্রেমের ত্রয়ী সম্পর্ক 
ব্যাখ্যা

- দেবদাস, পার্বতী ও চন্দ্রমুখীর প্রেমকাহিনী 'দেবদাস' উপন্যাসের মূল কেন্দ্র।
-----------------------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘সাহিত্য সম্রাট’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘কালের যাত্রা’ নামক সাংকেতিক নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়কে উৎসর্গ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়ের ৭৫তম জন্মদিনে রবিঠাকুর এই নাটকটি তাকে উৎসর্গ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- 'বড়দিদি' (১ম উপন্যাস),
- 'দেবদাস',
- 'শ্রীকান্ত',
- 'পথের দাবী',
- 'গৃহদাহ',
- 'দত্তা',
- 'বৈকুন্ঠের উইল',
- 'শেষের পরিচয়',
- 'দেনা-পাওনা', ইত্যাদি।
----------------------------------------
অন্যদিকে,
• 'দেবদাস' উপন্যাস সম্পর্কিত তথ্য:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দেবদাস’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালের ৩০ জুন।
- কলকাতার গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- যদিও এটি ১৯০১ সালে লেখা শেষ হয়।
- এটি লেখকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল অনূদিত রচনাগুলোর একটি।

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবদাস' একটি বিখ্যাত বাংলা প্রেমের উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প।
- দেবদাস'- উপন্যাসটি  দেবদাস, পার্বতী (পারু) এবং চন্দ্রমুখীর বিয়োগান্তক প্রেম কাহিনীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- দেবদাস হলো মূল চরিত্র।
- এই উপন্যাসে দেবদাস এর সাথে তার বাল্য কালের প্রেমিকা পার্বতীর সামাজিক কারণে মিলন সম্ভব হয় না।
- একজন ব্যর্থ প্রেমিকের প্রতিচ্ছবি হয়ে দেবদাস বিচ্ছেদ এবং দুঃখের ভার বইতে না পেরে মদ্যপানে আসক্ত হয়ে মারা যান।

উৎস: 
'দেবদাস' উপন্যাস;
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪৯.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকে কোন জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে?
  1. অস্তিত্ববাদ
  2. সমাজতান্ত্রিক বস্তুবাদ
  3. নীতিবাদী আদর্শবাদ
  4. পরাবাস্তববাদ
ব্যাখ্যা

তরঙ্গভঙ্গ’ নাটকটির অন্যতম প্রধান দিক হলো অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শন। 
-------------------------------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
-  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাহিত্যিক পুরস্কার লাভ করেন।
- এছাড়া ১৯৮৩ সালে মরণোত্তরভাবে বাংলাদেশ সরকারের ‘একুশে পদক’ দ্বারা সম্মানিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয়।
- প্যারিসের উপকণ্ঠে মদোঁ-স্যুর বেল্ভুতে তাকে সমাহিত করা হয়।

- তাঁর  সাহিত্যকীর্তিকে সমৃদ্ধ করেছে যেসব নাটক:
• ‘বহিপীর’,
•‘তরঙ্গভঙ্গ’,
• ‘সুরঙ্গ’ ও
• ‘উজানে মৃত্যু’। 
---------------------------------------------
‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটকটি নিয়ে কিছু কথা:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- বাংলা একাডেমি কর্তৃক নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- এর আগে নাটকটি ১৯৬২ সালে এটি ত্রৈমাসিক ‘সংলাপ’ পত্রিকায় ‘একটি বিচারকের আত্মকাহিনী’ শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে দুটি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- ‘তরঙ্গভঙ্গ’ কেবল একটি কাহিনি নয়, বরং অস্তিত্ববাদী দর্শন, মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক বাস্তবতার সমন্বয়ে গঠিত এক অর্থবহ নাট্যরূপ।
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ হলো: বিচারক (জজ), মৌলবী আবদুস সাত্তার, উকিল, ভিখারিনী, মতলুব আলী, যুবক, আসামি আমিনা, বারিশ পীর, কেরানি, চাপরাসি এবং গ্রামবাসী।

- ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটকটিতে মানবজীবনের অস্তিত্ববাদী সংকট গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- এখানে জীবনকে অর্থহীনতা, বিচ্ছিন্নতা ও অনিশ্চয়তার আবর্তে আবদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- আমেনার মতো চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা, নৈতিক দ্বন্দ্ব ও অস্তিত্বের ভার স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
- একই সঙ্গে মতলুব আলী ও আরেফ আলীর মতো চরিত্রদের পাপবোধও অস্তিত্ববাদী সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

- নাটকটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।
- নাটকে নায়িকা আমিনা তার স্বামী ও শিশু সন্তানকে হত্যা করেছিল।
- চরিত্রগুলোর অপরাধবোধ, মানসিক টানাপোড়েন ও আত্মসংঘাত—বিশেষত আমেনার স্বামী ও সন্তান হত্যার পরের মানসিক অবস্থা—নাটককে গভীরতা দিয়েছে। 

- এছাড়া নাটকটি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে;
- যেখানে প্রতিটি চরিত্র সমাজের একেকটি শ্রেণির প্রতিনিধি।

উৎস:
'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।