পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়40 minutes
মোট প্রশ্ন৩৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৬: বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. শব্দপ্রকরণ [সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ] ২. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ] ৩. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।] এবং বিষয় - মানসিক দক্ষতা টপিকসমূহ: ১. বানান ও ভাষা (Spelling and Language) ২. যান্ত্রিক দক্ষতা (Mechanical Reasoning)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৭ প্রশ্ন

.
'অহি-নকুল' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. সমার্থে
  2. মিলনার্থে
  3. বিরোধার্থে
  4. বিপরীতার্থে
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্ব ও পরপদের মধ্যে আপাত বিরোধ আছে বলে মনে হয়, তাকে বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- দা-কুমড়ো,
- অহি-নকুল,
- স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কোনটি বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ?
  1. নিদাঘ
  2. নিরব
  3. নিরেট
  4. নির্ভর
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - নিরেট

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে। যথা:
১. বাংলা,
২. তৎসম (সংস্কৃত) এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - নিদাঘ, নিরব, নির্ভর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
বাক্যে স্বাধীন পদ রূপে ব্যবহৃত হয় -
  1. অনুসর্গ
  2. উপসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।' - বাক্যে 'শীতের' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. বিশেষণ পদ
  3. সর্বনাম পদ
  4. ক্রিয়া পদ
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে।
- বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

• বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -
শীত:
- বিশেষণ রূপে: শীতকালে কুয়াশা পড়ে।
- বিশেষ্য রূপে: শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।' - বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষে
  3. দুর্বোধ্যতার দোষে
  4. বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা
বাক্য:
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন -
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
- এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু
- 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' - বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

বাহুল্য-দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে।
যেমন -
- দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন
'আলেমগণ' বহু বচনবাচক শব্দ। এর সঙ্গে 'সব' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য-দোষ সৃষ্টি করেছে।

• শুদ্ধ বাক্য: দেশের আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'আমার স্বপন আধো জাগরণ।' - বাক্যে 'স্বপন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য
  2. কর্মকারকে শূন্য
  3. করণ কারকে শূন্য
  4. অধিকরণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'আমার স্বপন আধো জাগরণ।' - বাক্যে 'স্বপন' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- আমার স্বপন আধো জাগরণ।

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'আমার স্বপন আধো জাগরণ।' - এখানে 'কী আধো জাগরণ?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'স্বপন'। তাই 'স্বপন' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কোনটিতে সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  2. তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
  3. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  4. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: 
- সাধারণ অনুসর্গ,
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'দেশসেবার মহত্তম ব্রতই সৈনিকের দীক্ষা।' - বাক্যে 'মহত্তম' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্রমবাচক বিশেষণ
  2. বিধেয় বিশেষণ
  3. বিশেষণের অতিশায়ন
  4. ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণের অতিশায়ন:
বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে, তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে।
যেমন -
- যমুনা একটি দীর্ঘ নদী, পদ্মা দীর্ঘতর, কিন্তু মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী।
- সূর্য, পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যে তুলনায় সূর্য বৃহত্তম, পৃথিবী চন্দ্রের চেয়ে বৃহত্তর এবং চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর

তৎসম শব্দের অতিশায়ন:
১. তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে 'তর' এবং বহুর মধ্যে 'তম' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে থাকে।
যেমন -
→ গুরু-গুরুতর-গুরুতম।
→ দীর্ঘ-দীর্ঘতর-দীর্ঘতম।
কিন্তু 'তর' প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণটি শ্রুতিকটু হলে 'তর' প্রত্যয় যোগ না করে বিশেষণের পূর্বে 'অধিকতর' শব্দটি যোগ করতে হয়।
যেমন - অশ্ব হস্তী অপেক্ষা অধিকতর সুশ্রী।

২. বহুর মধ্যে অতিশায়নে তুলনীয় বস্তুর উল্লেখ না করেও 'তম' প্রত্যয় যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
- মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী।
- দেশসেবার মহত্তম ব্রতই সৈনিকের দীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
.
সরল বাক্যে রূপান্তর করুন - যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
  1. যদি সুসংবাদ পাও, তবে আনন্দিত হও।
  2. যেই সে সুসংবাদ পেল, সেই সে আনন্দিত হলো।
  3. সে সুসংবাদ পেল এবং আনন্দিত হলো।
  4. সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন -
- জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
- সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

- জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
- সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কোনটি?
  1. ওর
  2. পরস্পর
  3. নিজে
  4. স্বয়ং
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের। যথা:
→ বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
→ শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
→ অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে , স্বয়ং।
• পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
‘আমাকে একটি কলম দাও।’ - কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
→ সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।' - বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল না।
  2. হৈমন্তী চুপ না করিয়া রহিল।
  3. হৈমন্তী কোন কথা না বলিয়া রহিল না।
  4. হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
অপাদান কারকের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
  2. সুতায় কাপড় হয় না।
  3. ঘোড়ায় গাড়ি টানে।
  4. টাকায় টাকা হয়।
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারকের প্রয়োগ ঘটেছে - টাকায় টাকা হয়

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি।
তিলে তৈল হয়।
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়

অন্যদিকে,
- 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।' = কর্মকারক।
- এ সুতায় কাপড় হয় না। = করণ কারক।
- ঘোড়ায় গাড়ি টানে। = কর্তৃকারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. বলে ফেলা
  2. বড়ো হওয়া
  3. বেঁধে দেওয়া
  4. বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। যথা:
- সরল ক্রিয়া,
- প্রযোজক ক্রিয়া,
- নাম ক্রিয়া,
- সংযোগ ক্রিয়া,
- যৌগিক ক্রিয়া।

 • সংযোগ ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫.
উক্তি পরিবর্তন করুন: হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।"
  1. হামিদ তাদের বললো যে, তারা যেন আগামীকাল আসে।
  2. হামিদ তাদের বললো যে, তারা যেন পরদিন আসে।
  3. হামিদ বললো যে, তোমরা পরদিন এসো।
  4. হামিদ তাদের পরদিন যেতে বললো।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি। উক্তি দুই প্রকার। যথা:
১. প্রত্যক্ষ উক্তি ও
২. পরোক্ষ উক্তি।

• প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন -
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।"
• পরোক্ষ উক্তি: হামিদ তাদের পরদিন আসতে (বা যেতে) বলল

• প্রত্যক্ষ উক্তি: তিনি বললেন, "দয়া করে ভেতরে আসুন।"
• পরোক্ষ উক্তি: তিনি (আমাকে) ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'জনম তব কোন মহাকূলে?' - 'মহাকূলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'জনম তব কোন মহাকূলে?' - 'মহাকূলে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
(খ) তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
(গ) পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
(ঘ) সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- জনম তব কোন মহাকূলে?

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'জনম তব কোন মহাকূলে?' - এখানে 'জনম কোথায়?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'মহাকূলে'। তাই 'মহাকূলে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. কুসংশকার
  2. স্বায়ত্তশাসন
  3. নিশিথীনি
  4. মরিচীকা
ব্যাখ্যা
স্বায়ত্তশাসন বানানটি সঠিক

কুসংশকার বানানটি ভুল। এর সঠিক বানান হবে - কুসংস্কার।
নিশিথীনি বানানটি ভুল। এর সঠিক বানান হবে - নিশীথিনী।
মরিচীকা বানানটি ভুল। এর সঠিক বানান হবে - মরীচিকা।


উৎস: Accessible Dictionary.
১৮.
চাকার ব্যাসার্ধ ২ মিটার ও অক্ষদণ্ডের ব্যাসার্ধ ১ মিটার হলে, ৫০০ কেজি ওজনের বস্তু তোলার জন্য কত বল প্রয়োগ করতে হবে?
  1. ২৫০
  2. ১২৫
  3. ৫০০
  4. ১০০০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: চাকার ব্যাসার্ধ ২ মিটার ও অক্ষদণ্ডের ব্যাসার্ধ ১ মিটার হলে, ৫০০ কেজি ওজনের বস্তু তোলার জন্য কত বল প্রয়োগ করতে হবে?

সমাধান:
এখানে,
ভার = ৫০০ কেজি-ওজন
চাকার ব্যাসার্ধ = ২ মিটার
অক্ষদণ্ডের ব্যাসার্ধ = ১ মিটার
বল = কত?

আমরা জানি, 
বল/ভার = অক্ষদণ্ডের ব্যাসার্ধ/ চাকার ব্যাসার্ধ 
বা, বল/৫০০ = ১/২
বা, বল = ২৫০
৫০০ কেজি ওজনের বস্তু তোলার জন্য ২৫০ নিউটন বল প্রয়োগ করতে হবে।
১৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. অঘ্রান
  2. ঝরনা
  3. কল্যাণ
  4. গভর্ণর
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন। 

এখানে 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'। 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০.
নিচের এলোমেলো অক্ষর দিয়ে গঠিত অর্থপূর্ণ শব্দের শেষ অক্ষর কোনটি?
ধ, নি, রা, প, র
  1. নি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নিচের এলোমেলো অক্ষর দিয়ে গঠিত অর্থপূর্ণ শব্দের শেষ অক্ষর কোনটি?
ধ, নি, রা, প, র

সমাধান:
প্রদত্ত এলোমেলো অক্ষর দিয়ে গঠিত অর্থপূর্ণ শব্দ = নিরপরাধ 
অর্থপূর্ণ শব্দের শেষ অক্ষরটি হলো = ধ
২১.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য ও সরু তারের ব্যাস পরিমাপ করা যায়?
  1. মিটার স্কেল
  2. ভার্নিয়ার স্কেল
  3. স্ক্রু গজ
  4. স্লাইড ক্যালিপার্স
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ:
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়।
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়।
- এই যন্ত্রে U আকৃতির একটি কাঠামো থাকে।
- এই U আকৃতি বিশিষ্ট কাঠামোর দুই বাহুর প্রান্তে দুটি নল সংযুক্ত থাকে।
- একটি নলের মধ্য দিয়ে কীলক বা দন্ড A স্থায়ীভাবে আটকানো থাকে এবং অপর বাহুতে রয়েছে একটি ফাঁপা নল C, যার মধ্য দিয়ে একটি দন্ড B সংযুক্ত থাকে যা সামনে পেছনে সরানো যায়।
- C নলে মিলিমিটারে দাগাঙ্কিত একটি রৈখিক স্কেল থাকে।
- C নলের বাইরের অংশ অপর একটি ফাঁপা নল দ্বারা বেষ্টিত থাকে যার বহি:প্রান্তে একটি বেলনাকৃতির টুপি T থাকে।
- T এর কিনারকে সাধারণত 50 বা 100 ভাগ করা হয়।
- যখন B স্থায়ী কীলক বা সমতল প্রান্ত বিশিষ্ট দন্ড A কে স্পর্শ করে তখন বৃত্তাকার স্কেল শূন্য দাগ ও রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগ মিলে যায়।
- যদি দুটি স্কেলের শূন্য দাগ মিলে না যায় তাহলে বুঝতে হবে যন্ত্রটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে।

- টুপি T একবার ঘুরালে যতটুকু সরণ ঘটে এবং রৈখিক স্কেল বরাবরে যে দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে তাকে স্ক্রুর পিচ (pitch) বলা হয়।
- বৃত্তাকার স্কেলের মাত্র একভাগ ঘুরালে, এর প্রান্ত যতটুকু সরে আসে তাকে যন্ত্রের লঘিষ্ট গণন (Least count) L.C বলা হয়।
- স্পষ্টত: যন্ত্রের পিচকে বৃত্তাকার স্কেলের মোট ভাগ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যন্ত্রের লঘিষ্ঠ গণন পাওয়া যায়।
সুতরাং, লঘিষ্ঠ গণন = পিচ/বৃত্তাকার স্কেলের ভাগের সংখ্যা 
সাধারণত বৃত্তাকার স্কেলে 100 ভাগ থাকে এবং এই যন্ত্রে পিচ থাকে 1 mm
∴  লঘিষ্ঠ গণন, L.C = 1 mm/100 =0.01 mm
২২.
‘ল তু নী পু র ন’
এলোমেলো অক্ষর গুলো সাজিয়ে নিচের কোনটি অর্থ পূর্ণ শব্দ হয়?
  1. পুতুল ননীর
  2. পুতুল তুলীর
  3. নীল পুতুল
  4. ননীর পুতুল
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ‘ল তু নী পু র ন’
এলোমেলো অক্ষর গুলো সাজিয়ে নিচের কোনটি অর্থ পূর্ণ শব্দ হয়?

সমাধান:
এখানে ‘ননীর পুতুল’ ছাড়া অন্য কোনো শব্দের পূর্ণ অর্থ নেই।
তাই ‘ল তু নী পু র ন’ এলোমেলো অক্ষর গুলো সাজিয়ে ‘ননীর পুতুল’ শব্দ পাওয়া যায়।
- ‘ননীর পুতুল’ শব্দের অর্থ অতি আদরের।
২৩.
নিচের কোন এলোমেলো অক্ষরগুলো দিয়ে মানবদেহের অঙ্গের নাম হবে না?
  1. R Y A N P H X
  2. D R A G I A O H M
  3. O S C M R T U
  4. E A N P R C A S
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নিচের কোন এলোমেলো অক্ষরগুলো দিয়ে মানবদেহের অঙ্গের নাম হবে না?

সমাধান:
মানবদেহের অঙ্গ:
Pharynx - অন্ননালির উপরে অবস্থিত গহ্বর।
Diaphragm - বক্ষ ও উদরের মধ্যবর্তী ঝিল্লির পরদা; মধ্যচ্ছদা।
Scrotum - অণ্ডকোষের থলে; মুষ্ক।
Pancreas - পাকস্থলীর নিকটবর্তী পরিপাকরস নিঃসরণকারী গ্ল্যান্ড; অগ্ন্যাশয়।

অপশন 'খ' এ (D R A G I A O H M) P অনুপস্থিত।
২৪.
'অহঙ্কার’ অর্থে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. পায়া ভারি
  2. বকধার্মিক
  3. কাকভূষণ্ডী
  4. কানকাটা
ব্যাখ্যা
• ‘পায়া ভারি’  বাগধারা টির অর্থ = অহঙ্কার।

অন্যদিকে,
‘কানকাটা’  বাগধারা টির অর্থ = বেহায়া।
‘কাকভূষণ্ডী’ বাগধারার অর্থ = দীর্ঘজীবী।
‘বকধার্মিক’  বাগধারা টির অর্থ = ভণ্ড।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
'কালে ভদ্রে' বাগধারা টির অর্থ = কদাচিৎ
‘ডাকাবুকো’ বাগধারা টির অর্থ = নির্ভীক।
‘কূপমুন্ডক’ বাগধারার অর্থ = সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
'কেউ কেটা' বাগধারার অর্থ = সামান্য ।
'ঝিঙেফুল' ফোটা বাগধারার অর্থ = আয়ু ফুরিয়ে আসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২৫.
কোনো নৌকাকে বেশি গতিতে চালাতে হলে, বৈঠা ব্যবহার করতে হবে-
  1. ডান পার্শ্বে
  2. বাম পার্শ্বে
  3. সামনে
  4. পিছনে
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোনো নৌকাকে বেশি গতিতে চালাতে হলে, বৈঠা ব্যবহার করতে হবে-

সমাধান:
• কোনো নৌকাকে বেশি গতিতে চালাতে হলে, বৈঠা ব্যবহার করতে হবে পিছনে।
একজন মাঝি যখন নৌকা চালানোর সময় নৌকার পেছন থেকে বৈঠা দিয়ে পানিতে বা লগি দিয়ে ভূমিতে ধাক্কা দেন তখন পানি বা ভূমি যথাক্রমে বৈঠা ও লগির ওপর সমান ও বিপরীত বল প্রয়োগ করে। এই প্রতিক্রিয়া বলের অনুভূমিক উপাংশই নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
২৬.
'পটল তোলা' এর সমার্থক বাগধারা কোনটি?
  1. ডুব মারা
  2. তালকানা
  3. অক্কা পাওয়া
  4. ভরাডুবি
ব্যাখ্যা
- 'পটল তোলা' বাগধারার অর্থ মারা যাওয়া। এর সমার্থক বাগধারাটি হচ্ছে অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া)।

- 'ডুব মারা' বাগধারার অর্থ পালিয়ে যাওয়া।
- 'ভরাডুবি' বাগধারার অর্থ সর্বনাশ।
- 'তালকানা' বাগধারার অর্থ কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
কোনটি ‘শর্বরী' শব্দের বিপরীত শব্দ?
  1. শীতল
  2. সুন্দর
  3. শোভা
  4. দিবস
ব্যাখ্যা
• ‘শর্বরী' শব্দের বিপরীত শব্দ: 'দিবস'। 

আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ: 
'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - বিনীত,
'ভীরু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - নির্ভীক,
'জঙ্গম' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - স্থাবর,
'ঢালু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - সমান,
'উদ্যত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো- বিরত,
'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো- বিনীত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
২৮.
দন্ডে ঝুলানো বস্তুকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিতে কোন ব্যক্তির কষ্ট কম হবে?
  1. A ব্যক্তির
  2. B ব্যক্তির
  3. উভয়েরই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দন্ডে ঝুলানো বস্তুকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিতে কোন ব্যক্তির কষ্ট কম হবে?


সমাধান:
বস্তুটি যার কাছাকাছি আছে তার কষ্ট সবচেয়ে বেশি হবে। এবং যার চেয়ে দূরে তার কষ্টও কম হবে কারণ তার পাশে বস্তুর ভর জনিত বল কম অনুভূত হবে।
∴ A ব্যক্তিটির কষ্ট কম হবে।

 
২৯.
সঠিক সমার্থক শব্দজোড় কোনটি?
  1. অলয়, অবয়ব
  2. শুচি, পাবক
  3. মূঢ়, মূর্ছিত
  4. নগন্য, বাহ
ব্যাখ্যা
সঠিক সমার্থক শব্দজোড় হচ্ছে :
“আগুন” এর সমর্থক শব্দ :  শিখিন, শুচি, অনল, বহ্নি, সর্বভুক, পাবক, হুতাশন, জ্বলন, শিখাবৎ, বায়ুসখ, হুতভুক, অনিলসখ।

অন্যান্য শব্দের সমার্থক হচ্ছে:
“অশ্ব” এর সমর্থক শব্দ - বাহ, ঘোড়া, ঘোটক, বাজী, তুরঙ্গম, তুরগ, বাহনশ্রেষ্ঠ, হ্রেষী, বামী।
“অল্প”  এর সমর্থক শব্দ - নগণ্য, কম, সামান্য, কিয়ৎ, একটু, অনধিক, অবহুল।
“অজ্ঞ”  এর সমর্থক শব্দ - মূঢ়, মুর্খ, নির্বোধ, অশিক্ষিত, জ্ঞানহীন, বেকুব, নিরক্ষর, অবিদ্বান, অপ্রজ্ঞা।
‘অচেতন”  এর সমর্থক শব্দ - মূর্ছিত, আচ্ছন্ন, অসাড়, চেতনাশূন্য, সংজ্ঞাহীন, হেহুঁশ।
“অক্ষয়”  এর সমর্থক শব্দ - চিরন্তন, অলয়, অনশ্বর, ক্ষয়হীন, অমর, চিরায়ু, স্থায়ী, নাশহীন, অব্যয়।
“অঙ্গ”  এর সমর্থক শব্দ - বপু, দেহ, শরীর, অবয়ব, তনু, গতর, কাঠামো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
ট্রলি ব্যাগের ক্ষেত্রে কোন কথাটি সত্য?
  1. হাতল লম্বা করা হলে টানতে কষ্ট হয়
  2. হাতল এবং ভূমির মধ্যবর্তী কোণ কম হলে টানতে সুবিধা হয়
  3. হাতল এবং ভূমির মধ্যবর্তী কোণ বেশি হলে টানতে সুবিধা হয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ট্রলি ব্যাগের হাতল দ্বারা ট্রলি ব্যাগকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতলে প্রযুক্ত বল দুইটি উপাংশে বিভক্ত হয়। একটি Fsinθ এবং অপরটি Fcosθ
- Fsinθ উপাংশটি উপরের দিকে কার্যকর হয়, এবং Fcosθ উপাংশটি ব্যাগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। 

ব্যাগের হাতল যত লম্বা হবে হাতল এবং ভূমির মধ্যবর্তী কোণ তত কম হবে।
ফলে θ এর মান কম হয় ফলে cosθ এর মান বেশি হয়।
ফলে অনুভূমিক উপাংশ Fcosθ এর মান বেশি হয়।
অনুভূমিক উপাংশ মান বেশি হওয়ায় ব্যাগকে সহজেই টেনে নেওয়া যায়।
তাই ট্রলি ব্যাগের হাতল লম্বা রাখা হয়।
৩১.
Phone, Fax, Computer, Photocopier, Scanner, Joystick, Printer
শব্দগুলোর আলোকে সঠিক অনুক্রম নিচের কোনটি?
  1. P F C S P P J
  2. P F C P P S J
  3. P F C P S F J
  4. P F C P S J P
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: Phone, Fax, Computer, Photocopier, Scanner, Joystick, Printer
শব্দগুলোর আলোকে সঠিক অনুক্রম নিচের কোনটি?

সমাধান:
Phone, Fax, Computer, Photocopier, Scanner, Joystick, Printer শব্দগুলোর আদ্যক্ষর নিয়ে পাই,
P F C P S J P
৩২.
কোনো যান্ত্রিক গিয়ারের একটি বড় চাকা অপর একটি ছোট চাকার সাথে ক্রস-বেল্ট দ্বারা যুক্ত থাকলে ছোট চাকাটি বড় চাকাটির -
  1. একই দিকে ধীর গতিতে ঘুরবে।
  2. বিপরীত দিকে ধীর গতিতে ঘুরবে।
  3. একই দিকে দ্রুত গতিতে ঘুরবে।
  4. বিপরীত দিকে দ্রুত গতিতে ঘুরবে।
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোনো যান্ত্রিক গিয়ারের একটি বড় চাকা অপর একটি ছোট চাকার সাথে ক্রস-বেল্ট দ্বারা যুক্ত থাকলে ছোট চাকাটি বড় চাকাটির -

সমাধান:
আমরা জানি, 
• পরস্পর সংযুক্ত দুটি চাকা ক্রস-বেল্ট দ্বারা যুক্ত থাকলে একটি অপরটির বিপরীত দিকে ঘুরবে।
• সংযুক্ত চাকা ছোট হলে অপেক্ষাকৃত দ্রুত গতিতে ঘুরবে,
• আর সমান্তরাল-বেল্ট দ্বারা যুক্ত থাকলে একই দিকে ঘুরবে।
• আর বড় হলে অপেক্ষাকৃত ধীর গতিতে ঘুরবে।
• এছাড়া চাকার আকৃতি সমান হলে একই গতিতে ঘুরবে,

নিচের চিত্রের প্রথম ও ২য় চাকাটি সমান্তরাল-বেল্ট দ্বারা যুক্ত আছে।
B চাকাটি পরস্পর সংযুক্ত দুটি চাকা ক্রস-বেল্ট দ্বারা যুক্ত আছে।
৩৩.
"Identipication of correct spelling" এই বাক্যে নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. Identipication
  2. Correct
  3. Spelling
  4. None of them
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: "Identipication of correct spelling" এই বাক্যে নিচের কোন বানানটি ভুল?

সমাধান:
এই বাক্যে ভুল বানান Identipication এর সঠিক বানান হলো Identification
৩৪.
চাকা A যে সময়ে 30 বার ঘোরে, চাকা C সে সময়ে কত বার ঘোরবে?
  1. 15 বার
  2. 30 বার
  3. 60 বার
  4. 80 বার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: চাকা A যে সময়ে 30 বার ঘোরে, চাকা C সে সময়ে কত বার ঘোরবে?

 
 
সমাধান:
চাকা A এর দাঁত এর সংখ্যা C এর দ্বিগুণ।
অর্থাৎ যে সময়ে চাকা A একবার ঘোরবে, সে সময়ে চাকা C দুইবার ঘোরবে।
অতএব, চাকা A 30 বার ঘুরলে, সে সময়ে চাকা C 60 বার ঘোরবে।
৩৫.
Synonym of ‘Primeval’ is
  1. Modern
  2. Restore
  3. Antique
  4. Destroy
ব্যাখ্যা
Primeval (adjective)
English Meaning: Ancient; existing at or from a very early time.
বাংলা অর্থ: পৃথিবীর ইতিহাসের আদিতমকাল সম্বন্ধীয়, সনাতন, আদ্যকালীন।

• অপশনগুলোর মধ্যে ‘Primeval’ এর Synonym হচ্ছে Antique (প্রাচীন; প্রাচীনকাল থেকে বিদ্যমান বা বর্তমান; প্রাচীন রীতিবিশিষ্ট)।

অন্যদিকে,
→ Modern এর Synonyms: Contemporary, Current, Designer, Hot, Modernistic, New, mod.
→ Restore এর Synonyms: Freshen, Recharge, Recreate, Refresh, Refreshen, Regenerate.
→ Destroy এর Synonyms: Annihilate, Decimate, Demolish, Desolate, Devastate, Extinguish.

Source: Merriam-Webster Dictionary, Accessible Dictionary
৩৬.
The antonym of the word 'Gluttony' is-
  1. Voracity
  2. Dieting
  3. Gullible
  4. Overeat
ব্যাখ্যা
- The word 'Gluttony' means habitual greed or excess in eating.
- Synonyms: Voracity, overeat, Glut.
- Antonyms: Dieting, Reduce, Starve, Fasting.

উৎসঃ Merriam Webster Dictionary.
৩৭.
নিম্নের কোন বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই সঠিক?
  1. অনূর্বর, ঊর্ধবগামী, শুদ্ধ্যশুদ্ধি
  2. প্রজ্বলন, শ্রদ্ধাঞ্জলী, প্রজ্জ্বল
  3. অপরাহ্ণ, মধ্যাহ্ন, পূর্বাহ্ণ
  4. পিপিলীকা, দুরবস্থা, উপর্যুক্ত
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নিম্নের কোন বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই সঠিক?

সমাধান:
অপশন ‘গ’ এর সবগুলো বানানই (অপরাহ্ণ, মধ্যাহ্ন, পূর্বাহ্ণ) শুদ্ধ।

- অপশন ক এর ২টি বানান (অনূর্বর, ঊর্ধবগামী) ভুল।
এদের শুদ্ধ বানান হল- অনুর্বর, ঊর্ধ্বগামী।

 - অপশনে খ এর ২টি বানান (শ্রদ্ধাঞ্জলী, প্রজ্জ্বল) ভুল।
এদের শুদ্ধ বানান হল- শ্রদ্ধাঞ্জলি ও প্রোজ্জ্বল

- অপশন ঘ এর একটি বানান (পিপিলীকা) ভুল।
শুদ্ধ বানান হল- পিপীলিকা।