পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
পরীক্ষা- ১০ যুক্তাক্ষর গঠন, ণত্ববিধান, ষত্ববিধান (লেকচার ৯)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
“বিজ্ঞান' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. জ+ঞ
  2. ঞ+গ
  3. ঞ+জ
  4. গ+ঞ
সঠিক উত্তর:
জ+ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ+ঞ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : জ+ঞ = জ্ঞ। যেমন- বিজ্ঞান, সংজ্ঞা। ঞ+জ = ঞ্জ। যেমন- গঞ্জ, কুঞ্জ ইত্যাদি ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
ক্ষ্ম যুক্তবর্ণটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ক+ষ+ম
  2. ক+ষ+ন
  3.  ক্+ষ
  4. হ্+ম
সঠিক উত্তর:
ক+ষ+ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+ষ+ম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : হ+ম=হ্ম, যেমন-ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম ইত্যাদি। ক্+ষ=ক্ষ, যেমন- শিক্ষা, রক্ষা ইত্যাদি। ক+ষ+ন=ক্ষ্ণ।

 ক+ষ+ম=ক্ষ্ম যেমনঃ লক্ষ্মী, লক্ষ্মণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম-
  1. কারবর্ণ
  2.  অনুবর্ণ
  3. ফলা
  4. রেফ
সঠিক উত্তর:
 অনুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 অনুবর্ণ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে- ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
'ষ্ণ’ সংযুক্ত ব্যঞ্জনটি কোন বর্ণের সংযুক্ত রূপ?
  1.  ষ্+ঞ
  2.  ষ্+ণ
  3. ষ্+ন
  4. ণ+ষ
সঠিক উত্তর:
 ষ্+ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ষ্+ণ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ষ্+ণ=ষ্ণ। যেমনঃ কৃষ্ণ। 

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
তালব্য বর্ণ কোনগুলো? 
  1. এ,ঐ
  2.  ই, ঈ
  3. উ, ঊ
  4. ও, ঔ
সঠিক উত্তর:
 ই, ঈ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ই, ঈ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : তালব্য বর্ণ- ই, ঈ । কন্ঠ তালব্য বর্ণ- এ, ঐ। ওষ্ঠ  বর্ণ- উ, ঊ । কণ্ঠ্যোষ্ঠ বর্ণ- ও, ঔ । 

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
 ‘হৃ’ এর যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. হ+ণ
  2.  হ+ন
  3. হ+ঋ
  4. হ+ঞ
সঠিক উত্তর:
হ+ঋ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ+ঋ
ব্যাখ্যা

 ‘হৃ’ এর যুক্তবর্ণ= হ+ঋ। 
হৃত, সুহৃদ, হৃদয় ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
উচ্চারণের দিক দিয়ে 'ল' কোন ধরনের ধ্বনি? 
  1. দন্ত্য ধ্বনি
  2. তালব্য ধ্বনি
  3. স্বর ধ্বনি
  4. ব্যঞ্জন ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : উচ্চারণের দিক দিয়ে ন, র, ল দন্তমূলীয় ধ্বনি ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নিচের কোনটি মূর্ধন্য বর্ণ?
  1.  ঋ
  2.  উ
  3. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
 ঋ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ঋ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ঋ মূর্ধন্য ধ্বনি, ঈ তালব্য ধ্বনি এবং উ ওষ্ঠ ধ্বনি।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
কোনটিতে ব-ফলার উচ্চারণ বহাল রয়েছে?
  1. বিধ্বস্ত
  2. উদ্বেগ
  3.  স্বত্ব 
  4. দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
উদ্বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্বেগ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা: ব-ফলার উচ্চারণ বহাল রয়েছে উদ্বেগ (উদবেগ), 
বাকি গুলোতে বহাল থাকেনিঃ  বিধ্বস্ত (বি দ্ ধ স্ তো ), স্বত্ব (শ ত্ তো), দ্বন্দ্ব (দ ন্ দো)।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১০.
 ম-ফলা যুক্ত কোন ব্যঞ্জনবর্ণগুলোর দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না?
  1.  গ, ঙ, ট 
  2. ত, প, স
  3. জ, ঞ, দ
  4.  ক, ঝ, ছ
সঠিক উত্তর:
 গ, ঙ, ট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 গ, ঙ, ট 
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : গ, ঙ, ট ব্যঞ্জনবর্ণগুলোর সাথে ম-ফলা যুক্ত হলে বর্ণগুলোর উচ্চারণ দ্বিত্ব হয় না। যেমন- যুগ্ম, বাগ্মী, বাঙ্গময়, কুটাল।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১১.
 ফলাযুক্ত শব্দ কোনটি? 
  1.  পল্বল
  2. শক্ত
  3. লিপ্সা
  4. কর্জ
সঠিক উত্তর:
 পল্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 পল্বল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ‘পল্বল' শব্দটি ফলাযুক্ত। অর্থ ছোট জলাশয়। ব্যঞ্জনবর্ণে ছয়টি ফলা রয়েছে : ণ/ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, ল-ফলা, র-ফলা। ব্যঞ্জনের নামানুসারে ফলার নামকরণ করা হয়। শক্ত, লিপ্সা যুক্ত ব্যঞ্জন।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১২.
 নিত্য মূর্ধন্য-ষ কোন শব্দে বর্তমান?
  1. কষ্ট
  2. উপনিষৎ
  3. কল্যাণীয়েষু
  4. পাষাণ
সঠিক উত্তর:
পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাষাণ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : নিত্য মূর্ধন্য-ষ হয়- ষড়ঋতু, ষড়যন্ত্র, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ. মানুষ, ঔষধ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৩.
নিচের কোন শব্দটিতে স্বভাবতই 'ষ' হয়? 
  1.  দ্বেষ
  2. সুষমা
  3. পরিষ্কার
  4. প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
 দ্বেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 দ্বেষ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : দ্বেষ, দোষ, ঘুষ, ঘোষণা শব্দগুলোতে স্বভাবতই 'ষ' হয়।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৪.
অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক-এর পর য- এর প্রয়োগ হলে তা কি হয়?
  1.  'স' হয়
  2. অবিকৃত থাকে 
  3.  বিকৃত হয়
  4. 'শ হয় 
সঠিক উত্তর:
অবিকৃত থাকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিকৃত থাকে 
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক-র এর পর য-এর প্রয়োগ হলে তা অবিকৃত থাকে। যেমন: ভীষণ, বিমর্ষ, জিগীষা ইত্যাদি।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৫.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়েছে?
  1. কৃষ্ণ
  2. কল্যাণীয়েষু
  3.  ভাষ্য
  4. অভিষেক
সঠিক উত্তর:
 ভাষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ভাষ্য
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ধরণ
  2. দারুন 
  3. দরুণ
  4. দরুন 
সঠিক উত্তর:
দরুন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দরুন 
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ –এর পর মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহৃত হবে- দারুণ।
ধরণ নয়, ধরন (যেহেতু ধরন শব্দটি তৎসম নয়)। দরুণ নয়, দরুন (যেহেতু দরুন শব্দটি ফারসি)।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৭.
‘দুর্নাম' ও ‘দুর্নিবার' শব্দ দুটিতে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হয়নি কেন?
  1. সমাসবদ্ধ পদ বলে
  2. দেশি শব্দ বলে
  3. বিদেশি শব্দ বলে
  4. তৎসম শব্দ বলে 
সঠিক উত্তর:
সমাসবদ্ধ পদ বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাসবদ্ধ পদ বলে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নাম ইত্যাদি ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৮.
 কোন শব্দে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. বর্ণমালা
  2. বিষাণ
  3. অপরাহ্ণ
  4. লাবণ্য
সঠিক উত্তর:
লাবণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাবণ্য
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : 'লাবণ্য' শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৯.
 ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোন জোড় অশুদ্ধ বানান?
  1. ত্রিকোণ, পুরোনো
  2. নেত্রকোনা, নিরূপণ
  3.  ধরণ, ঝর্ণা
  4. হরিণ, রূপায়ণ
সঠিক উত্তর:
 ধরণ, ঝর্ণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ধরণ, ঝর্ণা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শুদ্ধরূপ- ধরন, ঝরনা।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২০.
ণ-ত্ব বিধি অনুসারে কোন জোড় অশুদ্ধ বানান?
  1. দুনির্বার, নবারুণ
  2. হরিণ, মূল্যায়ন 
  3. পণ, প্রণয়ন
  4. কেরাণি, পরগণা
সঠিক উত্তর:
কেরাণি, পরগণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেরাণি, পরগণা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা :বিদেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধি প্রয়োজ্য না। যেমন : কেরানি, পরগনা, জার্মান, ফার্নিচার ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২১.
 ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ বানান? 
  1.  পুরোনো 
  2. ধরন
  3. ঝরনা
  4. বর্ননা
সঠিক উত্তর:
বর্ননা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ননা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শুদ্ধরূপ- বর্ণনা ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২২.
বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি আসলে কয়টি?
  1. ২৩
  2. ২৫
  3. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫
ব্যাখ্যা

পৃথক বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করা হয় দুটো (ঐ,ঔ)। এ ছাড়া আরো তেইশটি যৌগিক স্বরধ্বনি আছে কিন্তু এদের জন্য পৃথক কোনো বর্ণ নেই। অর্থাৎ বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি সাকুল্যে পঁচিশটি। এর মধ্যে নিচে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো :
অ + ও = অও > লও;
অ + এ অয় > নয়;
আ + ই = আইন> গাই;
আ+ এ = আয় > খায়; 
আ + উ = আউ > হাউ;
ই + আ = ইআ > উড়িয়া;
ই + ই = ইই > দিই;
ই + উ = ইউ > মিউ
ই+ এ = ইএ > গাইয়ে;
ই + ও = ইও > নিও;
উ + ই = উই > ছুঁই;
উ + ও = উও > কুয়ো;
এ + ই = এই > সেই;
এ + উ = এউ > কেউ;
ও + ই = ওউ > মউ;
ও + ও = ওও > ধোও;
এ্যা + এ = এ্যায় > দ্যায়;
এ্যা + ও = এ্যাও > ম্যাও'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৩.
ভুল বানান কোনটি? 
  1. অনুসঙ্গ
  2. প্রতিষেধক
  3.  জিনিস
  4. পোশাক
সঠিক উত্তর:
অনুসঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসঙ্গ
ব্যাখ্যা

ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন – অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ >অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক >প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান >অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি ।

 আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন— জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৪.
ভুল বানান কোনটি? 
  1. রটনা
  2. পরিমান
  3. গ্রহণ
  4. পরিবহণ
সঠিক উত্তর:
পরিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিমান
ব্যাখ্যা

ঋ র ষ ধ্বনির পর যদি কোন স্বরবর্ণ ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ, ং ধ্বনি থাকে, তার পরে ণ হবে। যেমন: শ্রবণ, পরিবহণ, পরিমাণ, রোপণ, ভ্রমণ, দর্পণ, গ্রহণ, ব্ৰাহ্মণ, নির্মাণ ইত্যাদি।

ঋ র ষ-এর পর চ-বর্গ, ত-বৰ্গ, ট- বর্গের কোনো বর্ণ থাকলে এরপর ণ না হয়ে ন হবে। যেমন: রচনা, রটনা, প্রার্থনা, আবর্জনা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৫.
বাংলা ভাষায় সংখ্যাবর্ণ কয়টি? 
  1. ১১
  2. ২৫
  3. ১০
  4. ৩০
সঠিক উত্তর:
১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যা বর্ণ রয়েছে। যেমন: ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯।

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা।

২৬.
ভুল বানান কোনটি? 
  1. নারায়ণ
  2. দক্ষিণায়ন
  3. উত্তরায়ণ
  4. চন্দ্রায়ণ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রায়ণ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, নারায়ণ, দক্ষিণায়ন ও উত্তরায়ণ- তিনটি বানানই শুদ্ধ। 

অন্যদিকে, চন্দ্রায়ণ অশুদ্ধ। 
সঠিক বানান হচ্ছে - চান্দ্রায়ণ। 

২৭.
ভুল বানান কোনটি? 
  1. প্ৰণাম
  2. প্রবীণ
  3. নির্ণীত
  4. প্রণষ্ট
সঠিক উত্তর:
প্রণষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রণষ্ট
ব্যাখ্যা

প্র, পরা, পরি, নির- এ চারটি উপসর্গ ও অন্তর শব্দের পর- নদ, নম, নশ, নহ, নী, নু, নুদ, অন ও হন ধাতুর
দন্ত্য-ন মূর্ধণ্য 'ণ' হয়। যেমন: পরিণত প্ৰমাণ পরিণতি পরিণয় পরিণাম প্রণতি প্ৰণাম প্রণিধান প্রণীত  প্রবণ  প্রবীণ প্ৰয়াণ নির্ণয় নির্ণীত। (ব্যতিক্রম: প্ৰনষ্ট)

উৎসঃ উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ,  শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা।

২৮.
ভুল বানান কোনটি? 
  1. নিরন্ন
  2.  শ্রীমাণ
  3. ত্রিনয়ন
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
 শ্রীমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 শ্রীমাণ
ব্যাখ্যা

সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে সবসময় ন হয়। যেমন-
অগ্রনায়ক অহর্নিশ ত্রিনয়ন দুর্নাম দুর্নিবার দুর্নীতি নিরন্ন পরনিন্দা মৃগনাভি রুপবান শ্রীমান
সর্বনাম হরিনাম ইত্যাদি ।

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা। 

২৯.
ভুল কোনটি? 
  1. জবান
  2. ধরেন
  3. ভ্রান্থ
  4. গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্থ
ব্যাখ্যা

ভ্রান্ত বানানে ন এর সাথে ত হয়। থ নয়। যেমনঃ ভ্রান্তিবিলাস।

ত বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) বর্ণের পূর্বে যুক্ত কখনো 'ণ' হয় না, ‘ন' হয়।
যেমন- অস্ত অন্ধ অন্ন অন্দর কিন্তু ক্রান্তি গ্রন্থাগার গ্রন্থি আক্রান্ত আচ্ছন্ন আনন্দ ইন্ধন গন্ধ পর্যন্ত চন্দন চিন্তা উৎপন্ন উন্নত কান্না ছন্দ জন্তু তত্ত দুরন্ত নন্দন নিবন্ধ পছন্দ পন্থা প্ৰবন্ধ প্রসন্ন প্রান্ত প্রান্তিক ফন্দি বন্দুক বন্ধু বন্ধন বিন্দু বিভ্রান্ত ভ্রান্ত ভিন্ন মন্থন রোমন্থন শাস্ত সন্ধ্যা সন্নিধান সন্ন্যাস সিন্ধু।

বিদেশি শব্দে ‘ন' হয়। যেমন- কোরআন, জবান, ফরমান, ইরান, তুরান, জার্মান, সাইরেন, রানা, হর্ন ইত্যাদি।

বাংলা ক্রিয়া পদে অন্তঃস্থিত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না। যেমন: ধরেন, মারেন, যাবেন, খাবেন, হবেন, নিবেন ইত্যাদি ।

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা।

৩০.
ভুল কোনটি? 
  1. কৃষি 
  2. কৃষ
  3. তৃষা 
  4. উৎকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
কৃষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ
ব্যাখ্যা

ঋ বা ঋ-কার (.)-এর পর 'ষ' হয়। যেমন-
ঋষভ ঋষি উৎকৃষ্ট কৃষক কৃষাণ কৃষি কৃষ্ণ কৃষ্ণা তৃষ্ণা তৃষা দৃষ্টি সৃষ্টি।

∗ ব্যতিক্রমঃ কৃশ্ ধাতু থেকে জাত- কৃশ, কৃশতা, কৃশাঙ্গ, কৃশানু, কৃশোদর ।

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা। 

৩১.
ভুল কোনটি? 
  1. বর্ষীয়ান
  2. ঘর্ষণ
  3. অর্ষ
  4. হর্ষ
সঠিক উত্তর:
অর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ষ
ব্যাখ্যা

রেফ ( ́) এর পরে 'ষ' হয়। যেমন-
আকর্ষণ ঈর্ষা উৎকর্ষ ঘর্ষণ চিকীর্ষা পর্ষদ বৰ্ষ বর্ষা বর্ষীয়ান বার্ষিক বিকর্ষণ বিমর্ষ মহর্ষি মহাকর্ষ মুমূর্ষু শীর্ষ সংঘর্ষ সপ্তর্ষি হর্ষ।

∗ ব্যতিক্রম: অর্শ, আদর্শ, দর্শন, পরামর্শ, বর্শা, স্পর্শ ইত্যাদি।

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা। 

৩২.
ভুল কোনটি? 
  1. জ্যোতিস্ক 
  2. আস্পদ
  3. অয়স্কান্ত
  4. দুষ্কৃত
সঠিক উত্তর:
জ্যোতিস্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যোতিস্ক 
ব্যাখ্যা

সন্ধিতে বিসর্গযুক্ত ই-কার (িঃ) বা উ-কারের (, ঃ) পর ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গস্থানে 'ষ' হয়। 

যেমন: ই-কার (ইঃ )+ক, খ, প, ফ,
জ্যোতিষ্ক নিষ্কলঙ্ক নিষ্কণ্টক নিষ্কর নিষ্কাম নিষ্ক্রিয় নিষ্কৃতি নিষ্পন্ন নিষ্পাপ নিষ্প্রাণ নিষ্পিষ্ট নিষ্পেষণ নিষ্পত্তি নিষ্ফল বহিষ্কার। 

উ-কার (ুঃ) + ক, খ, প, ফ,
আয়ুষ্কাল চতুষ্পদ চতুষ্ফল দুষ্কর্ম দুষ্কার্য দুষ্কৃত নিষ্পত্র নিষ্প্রভ নিষ্প্রদীপ দুষ্কৃতি দুষ্ক্রিয়া দুষ্পাচ্য ইত্যাদি ।

∗ কিন্তু ই-কার  (িঃ)  বা উ-কারের (ঃ) জায়গায় অঃ/আঃ থাকলে বিসর্গস্থানে 'স' হবে। যেমন- তিরঃ+কার=তিরষ্কার, ভাঃ+কর=ভাস্কর। এরকম- অয়স্কান্ত, আস্পদ, তক্ষর, তেজস্কার, নমস্কার, পুরস্কার, বৃহস্পতি, মনস্কামনা। 

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা।

৩৩.
ভুল কোনটি? 
  1. কল্যাণীয়েসু 
  2. কল্যাণীয়াসু
  3. শ্রদ্ধাস্পদেষু
  4. পূজনীয়াসু 
সঠিক উত্তর:
কল্যাণীয়েসু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণীয়েসু 
ব্যাখ্যা

সম্ভাষণসূচক শব্দে এ-কারের পর 'ষ' হয়। যেমন-
কল্যাণীয়েষু
বন্ধুবরেষু
প্রিয়বরেষু
শ্রীচরনেষু 
শ্রদ্ধাভাজনেষু 
সুজনেষু 
শ্রদ্ধাস্পদেষু
স্নেহাস্পদেষু 
প্রীতিভাজনেষু ইত্যাদি । 

∗ কিন্তু সম্ভাষণসূচক স্ত্রীবাচক শব্দে আ-কারের পর ‘স’ হয়। যেমন-
কল্যাণীয়াসু
পূজনীয়াসু 
মাননীয়াসু
সুচরিতাসু
সুজনীয়াসু
সুপ্রিয়াসু ইত্যাদি ।

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা। 

৩৪.
কোনটিতে  স্বভাবতই 'ষ' হয়নি।
  1. ষটচক্র
  2. প্রদোষ 
  3. বিষাণ
  4. পোষাক
সঠিক উত্তর:
পোষাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোষাক
ব্যাখ্যা

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। যেমন-
অভিলাষ
আভাষ
আষাঢ়
ঈষৎ
উষা
ঊষর 
ঔষধ
কলুষ
কোষ
ঘুষ
ঘোষণা
তোষণ
দোষ
দ্বেষ 
পাষণ্ড
পাষাণ
পোষণ
 পৌষ
প্রদোষ 
বিশেষ 
বিষয়
বিষাণ
ভাষণ
ভাষা
ভূষণ
মহিষ 
মানুষ
রোষ শোষণ
ষটচক্র
ষড়ঋতু ষড়যন্ত্র ষোড়শ
সরিষা
ইত্যাদি।

বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন-
অফিস আগস্ট ইশারা কমিশন খানসামা চশমা জিনিস তোশক নকশা পোশাক পোস্ট বুরুশ মাস্টার মুনশী মুশকিল শয়তান শৌখিন সুপারিশ স্টেশন স্টেশনারি স্টীমার হোস্টেল ইত্যাদি।

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা। 

৩৫.
ভুল কোনটি? 
  1. জিনিস
  2. মহিশ 
  3. মুনশী 
  4. ইশারা
সঠিক উত্তর:
মহিশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিশ 
ব্যাখ্যা

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। যেমন-
অভিলাষ
আভাষ
আষাঢ়
ঈষৎ
উষা
ঊষর 
ঔষধ
কলুষ
কোষ
ঘুষ
ঘোষণা
তোষণ
দোষ
দ্বেষ 
পাষণ্ড
পাষাণ
পোষণ
 পৌষ
প্রদোষ 
বিশেষ 
বিষয়
বিষাণ
ভাষণ
ভাষা
ভূষণ
মহিষ 
মানুষ
রোষ শোষণ 
ষটচক্র
ষড়ঋতু
ষড়যন্ত্র
ষোড়শ
সরিষা
ইত্যাদি।

বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন-
অফিস আগস্ট ইশারা কমিশন খানসামা চশমা জিনিস তোশক নকশা পোশাক পোস্ট বুরুশ মাস্টার মুনশী মুশকিল শয়তান শৌখিন সুপারিশ স্টেশন স্টেশনারি স্টীমার হোস্টেল ইত্যাদি।

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা। 

৩৬.
ভুল কোনটি?
  1. শোষণ 
  2. অভিলাষ
  3. সরিষা
  4. জিনিষ 
সঠিক উত্তর:
জিনিষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনিষ 
ব্যাখ্যা

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। যেমন-
অভিলাষ
আভাষ
আষাঢ়
ঈষৎ
উষা
ঊষর 
ঔষধ
কলুষ
কোষ ঘুষ
ঘোষণা
তোষণ
দোষ
দ্বেষ 
পাষণ্ড
পাষাণ
পোষণ
 পৌষ
প্রদোষ 
বিশেষ 
বিষয়
বিষাণ
ভাষণ
ভাষা
ভূষণ
মহিষ 
মানুষ
রোষ
শোষণ 
ষটচক্র
ষড়ঋতু
ষড়যন্ত্র
ষোড়শ
সরিষা
ইত্যাদি।

বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন-
অফিস আগস্ট ইশারা কমিশন খানসামা চশমা জিনিস তোশক নকশা পোশাক পোস্ট বুরুশ মাস্টার মুনশী মুশকিল শয়তান শৌখিন সুপারিশ স্টেশন স্টেশনারি স্টীমার হোস্টেল ইত্যাদি।

উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য , মোহসীনা নাজিলা। 

৩৭.
ভুল কোনটি?
  1. দর্পণ
  2. অগ্রহায়ণ
  3. চক্ষুষ্মাণ 
  4. গরীয়ান্
সঠিক উত্তর:
চক্ষুষ্মাণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চক্ষুষ্মাণ 
ব্যাখ্যা

র, ঋ, রেফ ( ), ঋ-কার (), র-ফলা (, ) অথবা 'য'-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গের ৫টি (ক খ গ ঘ ঙ) এবং প-বর্গের ৫টি (প ফ ব ভ ম) এবং য য় হ ং এই বর্ণগুলোর ব্যবধান থাকে তবে তার পরেও মূর্ধন্য ণ হবে। যেমন :
উপক্রমণিকা
তর্পণ
অর্পণ
পরিহরণ
রক্ষিণী
শ্রাবণ
অকর্মণ্য
কৃপণ
দর্পণ
পূর্বাহ্ণ
রঙ্গিণী
সন্তৰ্পণ
আক্রমণ
ক্ষেপণাস্‌ত্র
দ্রবণ
প্রান
রমণী
সমৰ্পণ
অগ্রহায়ণ
গৃহিণী
দ্রাবণ
বর্ষা
সর্বাঙ্গীণ
আরোহণ
গ্রহণ
নিরূপণ
রোপণ
অপরাহ্
গ্রামীণ
নিষ্কমণ
ভ্রমণ
উৎক্ষেপণ
চর্বণ
পাৰ্বণ
ভ্রাম্যমাণ
শ্রবণ

তবে ওপরের নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যেমন : আয়ুষ্মান্, গরীয়ান্, চক্ষুষ্মান, নির্গমন, পূষা, বহির্গমন, বর্ষীয়ান, রঙ্গন, শ্রীমা ইত্যাদি।

লক্ষণীয় একই পদের মধ্যে প্রথমে ঋ ষ্ র্ -এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য-ব-হ এবং অনুষারের ব্যবধান থাকে তা হলেও 'ন' পরিবর্তিত হয়ে'ণ' হবে।
রণ (রঅণ- এখানে 'অ' ব্যবধান)
এই নিয়মেই অপেক্ষমাণ, ম্রিয়মাণ।

তবে অন্য বর্ণ ব্যবধান থাকলে 'ণ' হবে না। অর্চনা, অর্জন, দর্শন, কীৰ্ত্তন
[এইসব শব্দে যথাক্রমে র-এর পর চ, জ, শ ও ত ব্যবধান আছে।

মনে রাখতে হবে, এ দুটি নিয়ম এক পদেই প্রযোজ্য। যেখানে দুটি পদ নিয়ে শব্দটি সেখানে এ দুটি নিয়ম খাটবে না। তাই দুর্ণাম নয়, দুর্নাম। হরিণাম নয়, হরিনাম। ত্রিণয়ন নয়, ত্রিনয়ন। বীরাঙ্গণা নয়,
বীরাঙ্গনা। শিক্ষাঙ্গণ নয়, শিক্ষাঙ্গন। চিত্রাঙ্কণ নয়, চিত্রাঙ্কন।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩৮.
ভুল কোনটি?
  1. বহির্গমণ 
  2. চর্বণ
  3. পাৰ্বণ
  4. ভ্রাম্যমাণ
সঠিক উত্তর:
বহির্গমণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহির্গমণ 
ব্যাখ্যা

র, ঋ, রেফ ( ), ঋ-কার (), র-ফলা (, ) অথবা 'য'-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গের ৫টি (ক খ গ ঘ ঙ) এবং প-বর্গের ৫টি (প ফ ব ভ ম) এবং য য় হ ং এই বর্ণগুলোর ব্যবধান থাকে তবে তার পরেও মূর্ধন্য ণ হবে। যেমন :
উপক্রমণিকা 
তর্পণ
অর্পণ
পরিহরণ 
রক্ষিণী
শ্রাবণ
অকর্মণ্য
কৃপণ
দর্পণ
পূর্বাহ্ণ
রঙ্গিণী
সন্তৰ্পণ
আক্রমণ
ক্ষেপণাস্‌ত্র
দ্রবণ
প্রান
রমণী
সমৰ্পণ
অগ্রহায়ণ
গৃহিণী
দ্রাবণ
বর্ষা
সর্বাঙ্গীণ
আরোহণ
গ্রহণ
নিরূপণ
রোপণ
অপরাহ্
গ্রামীণ
নিষ্কমণ ভ্রমণ
উৎক্ষেপণ
চর্বণ
পাৰ্বণ
ভ্রাম্যমাণ
শ্রবণ

তবে ওপরের নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যেমন : আয়ুষ্মান্, গরীয়ান্, চক্ষুষ্মান, নির্গমন, পূষা, বহির্গমন, বর্ষীয়ান, রঙ্গন, শ্রীমা ইত্যাদি।

লক্ষণীয়একই পদের মধ্যে প্রথমে ঋ ষ্ র্ -এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য-ব-হ এবং অনুষারের ব্যবধান থাকে তা হলেও 'ন' পরিবর্তিত হয়ে'ণ' হবে।
রণ (রঅণ- এখানে 'অ' ব্যবধান)
এই নিয়মেই অপেক্ষমাণ, ম্রিয়মাণ। 

তবে অন্য বর্ণ ব্যবধান থাকলে 'ণ' হবে না। অর্চনা, অর্জন, দর্শন, কীৰ্ত্তন
[এইসব শব্দে যথাক্রমে র-এর পর চ, জ, শ ও ত ব্যবধান আছে।

মনে রাখতে হবে, এ দুটি নিয়ম এক পদেই প্রযোজ্য। যেখানে দুটি পদ নিয়ে শব্দটি সেখানে এ দুটি নিয়ম খাটবে না। তাই দুর্ণাম নয়, দুর্নাম। হরিণাম নয়, হরিনাম। ত্রিণয়ন নয়, ত্রিনয়ন। বীরাঙ্গণা নয়,
বীরাঙ্গনা। শিক্ষাঙ্গণ নয়, শিক্ষাঙ্গন। চিত্রাঙ্কণ নয়, চিত্রাঙ্কন।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩৯.
ভুল কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা
  2. শিক্ষাঙ্গণ
  3. চিত্রাঙ্কন
  4. সর্বাঙ্গীণ
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাঙ্গণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাঙ্গণ
ব্যাখ্যা

র, ঋ, রেফ ( ), ঋ-কার (), র-ফলা (, ) অথবা 'য'-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গের ৫টি (ক খ গ ঘ ঙ) এবং প-বর্গের ৫টি (প ফ ব ভ ম) এবং য য় হ ং এই বর্ণগুলোর ব্যবধান থাকে তবে তার পরেও মূর্ধন্য ণ হবে। যেমন :
উপক্রমণিকা 
তর্পণ
অর্পণ
পরিহরণ 
রক্ষিণী
শ্রাবণ
অকর্মণ্য
কৃপণ
দর্পণ
পূর্বাহ্ণ
রঙ্গিণী
সন্তৰ্পণ
আক্রমণ
ক্ষেপণাস্‌ত্র
দ্রবণ
প্রান
রমণী সমৰ্পণ
অগ্রহায়ণ
গৃহিণী
দ্রাবণ
বর্ষা
সর্বাঙ্গীণ
আরোহণ
গ্রহণ
নিরূপণ
রোপণ
অপরাহ্
গ্রামীণ
নিষ্কমণ ভ্রমণ
উৎক্ষেপণ
চর্বণ
পাৰ্বণ
ভ্রাম্যমাণ
শ্রবণ

তবে ওপরের নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যেমন : আয়ুষ্মান্, গরীয়ান্, চক্ষুষ্মান, নির্গমন, পূষা, বহির্গমন, বর্ষীয়ান, রঙ্গন, শ্রীমা ইত্যাদি।

লক্ষণীয়একই পদের মধ্যে প্রথমে ঋ ষ্ র্ -এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য-ব-হ এবং অনুষারের ব্যবধান থাকে তা হলেও 'ন' পরিবর্তিত হয়ে'ণ' হবে।
রণ (রঅণ- এখানে 'অ' ব্যবধান)
এই নিয়মেই অপেক্ষমাণ, ম্রিয়মাণ। 

তবে অন্য বর্ণ ব্যবধান থাকলে 'ণ' হবে না। অর্চনা, অর্জন, দর্শন, কীৰ্ত্তন
[এইসব শব্দে যথাক্রমে র-এর পর চ, জ, শ ও ত ব্যবধান আছে।

মনে রাখতে হবে, এ দুটি নিয়ম এক পদেই প্রযোজ্য। যেখানে দুটি পদ নিয়ে শব্দটি সেখানে এ দুটি নিয়ম খাটবে না। তাই দুর্ণাম নয়, দুর্নাম। হরিণাম নয়, হরিনাম। ত্রিণয়ন নয়, ত্রিনয়ন। বীরাঙ্গণা নয়, বীরাঙ্গনা। শিক্ষাঙ্গণ নয়, শিক্ষাঙ্গন। চিত্রাঙ্কণ নয়, চিত্রাঙ্কন

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪০.
ভুল কোনটি?
  1. আয়ুষ্মাণ
  2. বর্ষীয়ান
  3. গ্রামীণ
  4. ম্রিয়মাণ
সঠিক উত্তর:
আয়ুষ্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়ুষ্মাণ
ব্যাখ্যা

র, ঋ, রেফ ( ), ঋ-কার (), র-ফলা (, ) অথবা 'য'-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গের ৫টি (ক খ গ ঘ ঙ) এবং প-বর্গের ৫টি (প ফ ব ভ ম) এবং য য় হ ং এই বর্ণগুলোর ব্যবধান থাকে তবে তার পরেও মূর্ধন্য ণ হবে। যেমন :
উপক্রমণিকা 
তর্পণ
অর্পণ
পরিহরণ  
রক্ষিণী
শ্রাবণ
অকর্মণ্য
কৃপণ
দর্পণ
পূর্বাহ্ণ
রঙ্গিণী
সন্তৰ্পণ
আক্রমণ
ক্ষেপণাস্‌ত্র
দ্রবণ
প্রান
রমণী সমৰ্পণ
অগ্রহায়ণ
গৃহিণী
দ্রাবণ
বর্ষা
সর্বাঙ্গীণ
আরোহণ
গ্রহণ
নিরূপণ
রোপণ
অপরাহ্
গ্রামীণ
নিষ্কমণ
ভ্রমণ
উৎক্ষেপণ
চর্বণ
পাৰ্বণ
ভ্রাম্যমাণ
শ্রবণ

তবে ওপরের নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যেমন : আয়ুষ্মান্, গরীয়ান্, চক্ষুষ্মান, নির্গমন, পূষা, বহির্গমন, বর্ষীয়ান, রঙ্গন, শ্রীমা ইত্যাদি।

লক্ষণীয়একই পদের মধ্যে প্রথমে ঋ ষ্ র্ -এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য-ব-হ এবং অনুষারের ব্যবধান থাকে তা হলেও 'ন' পরিবর্তিত হয়ে'ণ' হবে।
রণ (রঅণ- এখানে 'অ' ব্যবধান)
এই নিয়মেই অপেক্ষমাণ, ম্রিয়মাণ। 

তবে অন্য বর্ণ ব্যবধান থাকলে 'ণ' হবে না। অর্চনা, অর্জন, দর্শন, কীৰ্ত্তন
[এইসব শব্দে যথাক্রমে র-এর পর চ, জ, শ ও ত ব্যবধান আছে।

মনে রাখতে হবে, এ দুটি নিয়ম এক পদেই প্রযোজ্য। যেখানে দুটি পদ নিয়ে শব্দটি সেখানে এ দুটি নিয়ম খাটবে না। তাই দুর্ণাম নয়, দুর্নাম। হরিণাম নয়, হরিনাম। ত্রিণয়ন নয়, ত্রিনয়ন। বীরাঙ্গণা নয়, বীরাঙ্গনা। শিক্ষাঙ্গণ নয়, শিক্ষাঙ্গন। চিত্রাঙ্কণ নয়, চিত্রাঙ্কন।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪১.
ভুল কোনটি?
  1. পরিণাশ
  2. অগ্রণী
  3. পরিণষ্ট
  4. গ্রামণী
সঠিক উত্তর:
পরিণষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিণষ্ট
ব্যাখ্যা

প্র, পরা, পরি, নির্—এই চারটি উপসর্গ ও অন্তর্ শব্দের পরে নদ, নম্, নশ্, নহ্, নী, নু, নুদ, অনু ও হ ধাতুর ‘নৃ' ণ হবে।
নশ—প্রণাম, পরিণাশ। ব্যতিক্রম : প্রনষ্ট, পরিনষ্ট। সুনীতিকুমার ণত্ব-বিধানে উদাহরণ হিসেবে ‘প্রণষ্ট' লিখেছেন, কিন্তু পাণিনি ব্যাকরণে প্রনষ্ট শব্দটিকে ব্যতিক্রম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

নহ্—পরিণাহ; নী—প্রণয়; নু—প্রণব; নুদ—প্রণোদ, প্রণোদিত: অন্—প্রাণ; হন্—অন্তৰ্ণন। অগ্র ও গ্রাম শব্দের পরবর্তী 'নী' ধাতুর 'ন' 'ণ' হয় : অগ্রণী, গ্রামণী ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪২.
শুদ্ধ কোনটি ?
  1. কেরাণি
  2. পরান
  3. ত্রিণয়ন
  4. ক্ষুণ্ণিবৃত্তি 
সঠিক উত্তর:
পরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরান
ব্যাখ্যা

 ণত্ব-বিধান বিদেশি শব্দ অথবা বিদেশি নামের বানানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ এসকল ক্ষেত্রে 'মূর্ধন্য ণ'-এর স্থলে 'দন্ত্য ন' ব্যবহৃত হবে।
উদাহরণ : গ্রিন, আলবেরুনি, ব্রেইন ড্রেইন, ইস্টার্ন। এরকম : আয়রন, ইরান, কার্নিশ, কুর্নিশ, কেরানি, কোরান, ক্লোরিন, জার্মান, ট্রেনিং, ফার্নিচার, বার্নার, বার্নিশ, মেরুন, রানার, শিরনি, সাইরেন, হর্ন, স্যাকারিন, হ্যারিকেন, হারমোনিয়াম ইত্যাদি। 

সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মে কিছু সাধিত শব্দে ণত্ব বিধি কার্যকর হয় না। ফলে ওই ধরনের তৎসম
শব্দে দন্ত্য ন বহাল থাকে।
যেমন : অগ্রনায়ক ছাত্রনিবাস দুর্নিবার নিরন্ন  অগ্রনেতা ত্রিনয়ন  নীরুদ্ধ নষ্ট সর্বনাম পরনিন্দা বহির্গমন হরিনাম ক্ষুন্নিবৃত্তি  রূপবান পুরুষানুক্রমে শ্রীমান্ অহর্নিশ দুর্নিমিত্ত  ত্রিনেত্র দুর্নিরীক্ষ্য নির্নিমেষ দুর্নাম দুর্নীতি নিষ্পন্ন পরান। 

খাঁটি বাংলা শব্দে ও অতৎসম শব্দে (অর্থাৎ তদ্ভব শব্দে) সর্বদা দন্ত্য ন হবে ।
বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারে মূল সংস্কৃত শব্দের যে রূপটি বাংলায় সরাসরি না এসে প্রাকৃত ভাষার মাধ্যমে
পরিবর্তিত হয়ে ঢুকেছে তাকে বলা হয় তদ্ভব বা প্রাকৃতজ শব্দ। যেমন : সংস্কৃত 'চন্দ্র' শব্দটি প্রাকৃতে হয়েছে চন্দ এবং বাংলায় হয়েছে চাঁদ। চন্দ্র > চন্দ, চাঁদ। এ ধরনের শব্দের মূল সংস্কৃত বানানে মূর্ধন্য ণ বহাল থাকবে, কিন্তু তদ্ভব শব্দের বানানে মূর্ধন্য ণ-এর স্থলে দন্ত্য ন হবে। যেমন :

সংস্কৃত (তৎসম)- পরিবর্তিত (তদ্ভব/ অর্ধতৎসম)
অগ্রহায়ণ - অঘ্রান
কর্ণ - কান
ক্ষণিক - খানিক
তৎক্ষণ-  তখন
প্রাণ- পরান
ব্রাহ্মণ - বামুন
লবণ - নুন

তৎসম; তদ্ভব / অর্ধতৎসম
কঙ্কণ - কাঁকন
কৃষাণ - কিষান
ঘৃণা - ঘেন্না
নিমন্ত্রণ - নেমন্তন্ন
বর্ষা - বরিষন 
যন্ত্রণা - যাতনা
শ্রবণ - শোনা

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৩.
ভুল কোনটি?
  1.  কিষাণ 
  2. কঙ্কণ
  3. বরিষন 
  4. ত্রিনেত্র
সঠিক উত্তর:
 কিষাণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 কিষাণ 
ব্যাখ্যা

ণত্ব-বিধান বিদেশি শব্দ অথবা বিদেশি নামের বানানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ এসকল ক্ষেত্রে 'মূর্ধন্য ণ'-এর স্থলে 'দন্ত্য ন' ব্যবহৃত হবে।
উদাহরণ : গ্রিন, আলবেরুনি, ব্রেইন ড্রেইন, ইস্টার্ন। এরকম : আয়রন, ইরান, কার্নিশ, কুর্নিশ, কেরানি, কোরান, ক্লোরিন, জার্মান, ট্রেনিং, ফার্নিচার, বার্নার, বার্নিশ, মেরুন, রানার, শিরনি, সাইরেন, হর্ন, স্যাকারিন, হ্যারিকেন, হারমোনিয়াম ইত্যাদি। 

সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মে কিছু সাধিত শব্দে ণত্ব বিধি কার্যকর হয় না। ফলে ওই ধরনের তৎসম
শব্দে দন্ত্য ন বহাল থাকে। 
যেমন : অগ্রনায়ক ছাত্রনিবাস দুর্নিবার নিরন্ন  অগ্রনেতা ত্রিনয়ন  নীরুদ্ধ নষ্ট সর্বনাম পরনিন্দা বহির্গমন হরিনাম ক্ষুন্নিবৃত্তি  রূপবান পুরুষানুক্রমে শ্রীমান্ অহর্নিশ দুর্নিমিত্ত  ত্রিনেত্র দুর্নিরীক্ষ্য নির্নিমেষ দুর্নাম দুর্নীতি নিষ্পন্ন পরান। 

খাঁটি বাংলা শব্দে ও অতৎসম শব্দে (অর্থাৎ তদ্ভব শব্দে) সর্বদা দন্ত্য ন হবে ।
বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারে মূল সংস্কৃত শব্দের যে রূপটি বাংলায় সরাসরি না এসে প্রাকৃত ভাষার মাধ্যমে
পরিবর্তিত হয়ে ঢুকেছে তাকে বলা হয় তদ্ভব বা প্রাকৃতজ শব্দ। যেমন : সংস্কৃত 'চন্দ্র' শব্দটি প্রাকৃতে হয়েছে চন্দ এবং বাংলায় হয়েছে চাঁদ। চন্দ্র > চন্দ, চাঁদ। এ ধরনের শব্দের মূল সংস্কৃত বানানে মূর্ধন্য ণ বহাল থাকবে, কিন্তু তদ্ভব শব্দের বানানে মূর্ধন্য ণ-এর স্থলে দন্ত্য ন হবে। যেমন :

সংস্কৃত (তৎসম)- পরিবর্তিত (তদ্ভব/ অর্ধতৎসম)
অগ্রহায়ণ - অঘ্রান
কর্ণ - কান
ক্ষণিক - খানিক
তৎক্ষণ-  তখন
প্রাণ- পরান
ব্রাহ্মণ - বামুন
লবণ - নুন

তৎসম; তদ্ভব / অর্ধতৎসম
কঙ্কণ - কাঁকন
কৃষাণ - কিষান
ঘৃণা - ঘেন্না
নিমন্ত্রণ - নেমন্তন্ন
বর্ষা - বরিষন 
যন্ত্রণা - যাতনা
শ্রবণ - শোনা

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৪.
ভুল কোনটি?
  1. বার্নার
  2. দুর্ণিরীক্ষ্য
  3. অঘ্রান
  4. ঘেন্না
সঠিক উত্তর:
দুর্ণিরীক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্ণিরীক্ষ্য
ব্যাখ্যা

 ণত্ব-বিধান বিদেশি শব্দ অথবা বিদেশি নামের বানানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ এসকল ক্ষেত্রে 'মূর্ধন্য ণ'-এর স্থলে 'দন্ত্য ন' ব্যবহৃত হবে।
উদাহরণ : গ্রিন, আলবেরুনি, ব্রেইন ড্রেইন, ইস্টার্ন। এরকম : আয়রন, ইরান, কার্নিশ, কুর্নিশ, কেরানি, কোরান, ক্লোরিন, জার্মান, ট্রেনিং, ফার্নিচার, বার্নার, বার্নিশ, মেরুন, রানার, শিরনি, সাইরেন, হর্ন, স্যাকারিন, হ্যারিকেন, হারমোনিয়াম ইত্যাদি। 

সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মে কিছু সাধিত শব্দে ণত্ব বিধি কার্যকর হয় না। ফলে ওই ধরনের তৎসম
শব্দে দন্ত্য ন বহাল থাকে। 
যেমন : অগ্রনায়ক ছাত্রনিবাস দুর্নিবার নিরন্ন  অগ্রনেতা ত্রিনয়ন  নীরুদ্ধ নষ্ট সর্বনাম পরনিন্দা বহির্গমন হরিনাম ক্ষুন্নিবৃত্তি  রূপবান পুরুষানুক্রমে শ্রীমান্ অহর্নিশ দুর্নিমিত্ত  ত্রিনেত্র দুর্নিরীক্ষ্য নির্নিমেষ দুর্নাম দুর্নীতি নিষ্পন্ন পরান। 

খাঁটি বাংলা শব্দে ও অতৎসম শব্দে (অর্থাৎ তদ্ভব শব্দে) সর্বদা দন্ত্য ন হবে ।
বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারে মূল সংস্কৃত শব্দের যে রূপটি বাংলায় সরাসরি না এসে প্রাকৃত ভাষার মাধ্যমে
পরিবর্তিত হয়ে ঢুকেছে তাকে বলা হয় তদ্ভব বা প্রাকৃতজ শব্দ। যেমন : সংস্কৃত 'চন্দ্র' শব্দটি প্রাকৃতে হয়েছে চন্দ এবং বাংলায় হয়েছে চাঁদ। চন্দ্র > চন্দ, চাঁদ। এ ধরনের শব্দের মূল সংস্কৃত বানানে মূর্ধন্য ণ বহাল থাকবে, কিন্তু তদ্ভব শব্দের বানানে মূর্ধন্য ণ-এর স্থলে দন্ত্য ন হবে। যেমন :

সংস্কৃত (তৎসম)- পরিবর্তিত (তদ্ভব/ অর্ধতৎসম)
অগ্রহায়ণ - অঘ্রান
কর্ণ - কান
ক্ষণিক - খানিক
তৎক্ষণ-  তখন
প্রাণ- পরান
ব্রাহ্মণ - বামুন
লবণ - নুন

তৎসম; তদ্ভব / অর্ধতৎসম
কঙ্কণ - কাঁকন
কৃষাণ - কিষান
ঘৃণা - ঘেন্না
নিমন্ত্রণ - নেমন্তন্ন
বর্ষা - বরিষন 
যন্ত্রণা - যাতনা
শ্রবণ - শোনা

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৫.
ভুল কোনটি?
  1. সঙ্গ
  2. আসঙ্গ
  3. প্রসঙ্গ
  4. অনুসঙ্গ
সঠিক উত্তর:
অনুসঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসঙ্গ
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় দেশি-বিদেশি শব্দ মিলে পঞ্চাশটিরও বেশি 'উপসর্গ' আছে। যেমন : অধি, অনু, অভি, উপ, পরা, পরি, পুর, প্রতি, সু ইত্যাদি। এসব উপসর্গের মধ্যে ই-কারান্ত (অর্থাৎ ি দিয়ে শেষ হচ্ছে যেগুলো—অধি, অভি, পরি, প্রতি, বি ইত্যাদি) এবং উ-কারান্ত (যেমন : অনু, সু ইত্যাদি) উপসর্গের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। 
যেমন : অধিষদ (অথচ সভাসদ, সংসদ), অভিষেক ( অভি + সেক। অথচ জলসেক) 
পরিষদ, পরিষ্কার (অথচ পুরস্কার), প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ( প্রতি + স্থান ) অথচ যথাস্থান ।

বিষণ্ণ, বিষম (অথচ অসম), দুর্বিষহ (অথচ অসহ), বিষয়, বিষাদ।

অনুষঙ্গ (অথচ সঙ্গ, আসঙ্গ, প্রসঙ্গ), অনুষ্ঠান ( অনু + স্থান। অথচ অস্থান, প্রস্থান)
সুষম (অথচ সম, অসম)। 

ই-কারের পর সিচ্, সিধু, সদ্ প্রভৃতি ধাতুর 'স' পাল্টে গিয়ে 'ষ' হয়। যেমন :
সিচ্—নিষেক, নিষিক্ত; সদ্ – বিষাদ, বিষণ্ণ; সিধ্ প্রতিষেধ, নিষেধ, নিষিদ্ধ ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৬.
ভুল কোনটি?
  1. নিসিক্ত
  2. বিষণ্ণ
  3. অসহ
  4. প্রতিষেধ
সঠিক উত্তর:
নিসিক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিসিক্ত
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় দেশি-বিদেশি শব্দ মিলে পঞ্চাশটিরও বেশি 'উপসর্গ' আছে। যেমন : অধি, অনু, অভি, উপ, পরা, পরি, পুর, প্রতি, সু ইত্যাদি। এসব উপসর্গের মধ্যে ই-কারান্ত (অর্থাৎ ি দিয়ে শেষ হচ্ছে যেগুলো—অধি, অভি, পরি, প্রতি, বি ইত্যাদি) এবং উ-কারান্ত (যেমন : অনু, সু ইত্যাদি) উপসর্গের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। 
যেমন : অধিষদ (অথচ সভাসদ, সংসদ), অভিষেক ( অভি + সেক। অথচ জলসেক)
পরিষদ, পরিষ্কার (অথচ পুরস্কার), প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ( প্রতি + স্থান ) অথচ যথাস্থান ।

বিষণ্ণ, বিষম (অথচ অসম), দুর্বিষহ (অথচ অসহ), বিষয়, বিষাদ।

অনুষঙ্গ (অথচ সঙ্গ, আসঙ্গ, প্রসঙ্গ), অনুষ্ঠান ( অনু + স্থান। অথচ অস্থান, প্রস্থান)
সুষম (অথচ সম, অসম)। 

ই-কারের পর সিচ্, সিধু, সদ্ প্রভৃতি ধাতুর 'স' পাল্টে গিয়ে 'ষ' হয়। যেমন :
সিচ্—নিষেক, নিষিক্ত; সদ্ – বিষাদ, বিষণ্ণ; সিধ্ প্রতিষেধ, নিষেধ, নিষিদ্ধ ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।