যুক্তবর্ণ: - একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। - যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। - এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২.
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে কী বলে?
ক
ভাববাচক বিশেষ্য
খ
বস্তুবাচক বিশেষ্য
গ
জাতিবাচক বিশেষ্য
ঘ
সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
পদ: - বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দই অপর কোনো বর্ণ বা বর্ণসমষ্টির সাথে যুক্ত হয়ে রূপান্তর লাভ করে পদে। - শব্দের সাথে এরূপ বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যোগ হলে এগুলোকে বলা হয় বিভক্তি। - বিভক্তিযুক্ত শব্দই পদ। - বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি শব্দই এক একটি পদ (Parts of speech)। - সহজভাবে বলা যায়, বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে।
পদের প্রকারভেদ: - পদ প্রধানত দুই প্রকার: অব্যয় ও সব্যয়। - সব্যয় পদ চার প্রকার : ১. বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া। - সুতরাং পদ মোট পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়।
বিশেষ্য পদ: - কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। - বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। - বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা-
১. সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য (Proper Noun): যে পদ দ্বারা ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- • ব্যক্তির নাম: সারা, কনিকা, শিলা, মাসুদ, দেলোয়ার প্রভৃতি। • ভৌগোলিক অস্থানের নাম: কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঢাকা, আমেরিকা, লন্ডন প্ৰভৃতি। • ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি): করতোয়া, মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর প্রভৃতি। • গ্রন্থের নাম: কৃষ্ণকুমারী, অগ্নি-বীণা, গীতাঞ্জলি, পথের দাবী, সঞ্চিতা, সঞ্চয়িতা, বিশ্বনবী প্রভৃতি।
২. জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun): - যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, পর্বত, নদী, ইংরেজ প্রভৃতি।
৩. বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য (Material Noun): - যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যথা— বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, পানি, লবণ প্রভৃতি।
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun): - যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা–ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা— সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
৫. ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun): - যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ = গমন। তদ্রুপ : ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি। আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর ‘আই’ প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। √ চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।
৬. গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun): - যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। তদ্রুপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩.
'তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।'- এ বাক্যের 'পুণ্য' কোন পদ?
ক
অব্যয়
খ
বিশেষ্য
গ
বিশেষণ
ঘ
ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।’- বাক্যে ‘পুণ্য’ বিশেষণ পদ।
• বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে৷
বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক । বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।
বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি । বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।
বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন । বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷
বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই । বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?
বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।
বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল। বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
ক
অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
খ
আমি সাক্ষী দিব না।
গ
এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
ঘ
পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। • শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
এমনকিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো-
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না। • শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।
• অশুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়। • শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• 'ঘাস' শব্দের 'স' — দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি। ------------------------- • দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: - যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। যেমন, - নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ। ------------------------- • দন্ত্য ব্যঞ্জন: - যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। - তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• তালব্য ব্যঞ্জন: - যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। - চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন: - কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। - হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
ক
সুকেশীনী
খ
শাশ্বত
গ
প্রজ্বলিত
ঘ
জাজ্বল্যমান
ব্যাখ্যা
• 'সুকেশীনী'- বানানটি অশুদ্ধ। - সুকেশী, সুকেশা, সুকেশিনী- তিনটিই শুদ্ধ। ------------------- অন্যদিকে, • 'জাজ্জ্বল্যমান' এর শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান। • 'প্রোজ্বলিত' এর শুদ্ধ বানান- প্রজ্বলিত। • 'শ্বাশত' এর শুদ্ধ বানান- শাশ্বত।
উৎস: বাংলা একাডেমি বাংলা বানান- অভিধান।
৭.
বাংলা বর্ণমালায় হ্রস্বস্বর কয়টি?
ক
১টি
খ
৪টি
গ
৬টি
ঘ
১০টি
ব্যাখ্যা
বাংলা স্বরধ্বনিতে — ৪টি হ্রস্বস্বর আছে।
• উচ্চারণের সময়ের তারতম্য অনুসারে স্বরধ্বনিগুলােকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। যেমন: ক.হ্রস্বস্বর ও খ. দীর্ঘস্বর।
হ্রস্বস্বর: যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে। যেমন: অ, ই, উ, ঋ এই (৪টি হ্রস্বস্বর)।
দীর্ঘস্বর: যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে। যেমন: আ,ঈ, উ, এ, ঐ, ও, ঔ এই ৭টি দীর্ঘস্বর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮.
'সার্বভৌম' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
ক
সর্বভূম + ষ্ণ
খ
সর্বভূমি + ষ্ণিক
গ
সর্বভূমি + ষ্ণ
ঘ
সার্বভূমি + ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• 'সার্বভৌম' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - সর্বভূমি + ষ্ণ।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের সাধারণ সূত্র: - দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়। যথা - → পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক। → সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য। → পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক। → সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯.
মহাপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
ক
প
খ
দ
গ
ঢ
ঘ
ব
ব্যাখ্যা
• 'ঢ'- মহাপ্রাণ ধ্বনি।
অন্যদিকে, ব, দ, প - অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: - অল্পপ্রাণ। - মহাপ্রাণ ৷
• অল্পপ্রাণ ধ্বনি: সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। যেমন - প,ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি। • মহাপ্রাণ ধ্বনি: সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্ৰাণ ধ্বনি। যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি সঠিক বানান?
ক
ক্ষুৎপিড়ীত
খ
ক্ষুতপীড়িত
গ
ক্ষুৎপীড়িত
ঘ
ক্ষুৎপিড়িত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, শুদ্ধ বানান — 'ক্ষুৎপীড়িত'। - এটি সংস্কৃত শব্দ। - বিশেষণ পদ। - প্রকৃতি প্রতয়: ক্ষুৎ + √ পীড়্ + ত। শব্দের অর্থ: - ক্ষুধায় কাতর।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১.
'সে খুব ভালাে একটি খবর দিয়েছে’- বাক্যের 'খুব' কোন প্রকার বিশেষণ?
ক
নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
খ
ভাববাচক বিশেষণ
গ
বিধেয় বিশেষণ
ঘ
অবস্থাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'সে খুব ভালাে একটি খবর দিয়েছে’- বাক্যের 'খুব' বিশেষণ — ভাববাচক বিশেষণ। ---------------------- • ভাববাচক বিশেষণ: - যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন – - 'সে খুব ভালাে একটি খবর দিয়েছে’, - ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’, এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
ক
ঝঞ্ঝাট
খ
ঝঞ্জাট
গ
জঞ্ঝাঠ
ঘ
জঞ্ঝাট
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, - ঝঞ্ঝাট- শুদ্ধ বানান।
• ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক বা চিহ্নকে — বর্ণ বলে। - ভাষা লিখে প্রকাশ করার সাংকেতিক চিহ্ন সমূহকে বর্ণ বলে। - বর্ণ হলো দৃশ্যগ্রাহ্য রূপ।
অন্যদিকে, • শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশকে - ধ্বনি বলে। - ধ্বনি হলো — শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ।
• বাগযন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে অক্ষর বলে। যেমন - সমাবর্তন শব্দে চারটি অক্ষর আছে। - সম+আ+√বৃৎ +অন = সমাবর্তন। ---------------------- • বর্ণ: - ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে। - বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। - ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। - এই বর্ণ কানে শােনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। - ভাষার সবগুলাে বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২২ সংস্করণ,বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
'নবীন' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
ক
নব + ইন
খ
নবো + ঈন
গ
নব + নীন
ঘ
নবীন + অ
ব্যাখ্যা
• 'নবীন' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় — নব + নীন (ঈন)। ---------------------- আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়: - 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন। - 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়। - 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = দাপ + অট। - 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্ + ইন্ '। - 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √দৃশ্ + অনীয়'।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
নিচের কোনটি বিস্ময়সূচক বাক্য?
ক
সে ঢাকা যাবে না।
খ
তোমার মঙ্গল হোক।
গ
তুমি কি লােকটিকে চিন?
ঘ
কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
ব্যাখ্যা
• কী সাংঘাতিক ব্যাপার!-বিস্ময়সূচক বাক্য। ------------------------ • বিবৃতিমূলক বাক্য: এ বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা বর্ণনা নির্দেশ করা হয়। এই ধরনের বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। - যথা: অস্তিবাচক বাক্য ও নেতিবাচক বাক্য।
বিবৃতিমূলক বাক্যের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে- - সে ঢাকা যাবে না। - পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে। - লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে। - সে কবিতা লিখছে।
• যে বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্খা করা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয় তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে। যেমন- তোমার মঙ্গল হোক।
• যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবােধক বাক্য। যেমন: - তোমার আজ কি পরীক্ষা? - তুমি কি লােকটিকে চিন?
• যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে। যেমন: - তাজ্জব ব্যাপার! - কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
বিদেশি শব্দ নয় কোনটি?
ক
খানকা
খ
আলপিন
গ
আনারস
ঘ
কচু
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'কচু'-তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
কর্তা নিজেই কোন কাজ করেছে, তা বোঝাতে কোন সর্বনাম হয়?
ক
নির্দেশক
খ
ব্যক্তিবাচক
গ
আত্মবাচক
ঘ
সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম: - কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝাতে আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটি করছে), স্বয়ং ইত্যাদি। -------------- নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরুত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন- - নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি। - দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমরা, তোমরা, তারা ইত্যাদি।
সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন - যারা-তারা, যে-সে,যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: - তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। - এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে - তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ। - বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।
এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ: সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২০.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ নয়?
ক
মুসাফির
খ
তকদির
গ
পেরেক
ঘ
মজলুম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, - 'পেরেক’ একটি — পর্তুগিজ শব্দ।
• 'পেরেক’ শব্দের অর্থ- তারকাঁটা।
অন্যদিকে, • ‘মুসাফির' আরবি শব্দ; যার অর্থ - যে সফর করে,পর্যটক, পথিক, বিদেশে ভ্রমণকারী ব্যক্তি। • ‘তকদির’ আরবি শব্দ; যার অর্থ-ভাগ্য। • 'মজলুম' আরবি শব্দ; যার অর্থ- অত্যাচারিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২২.
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’- বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
ক
আকাঙ্ক্ষা
খ
আসত্তি
গ
যোগ্যতা
ঘ
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’- বাক্যটিতে আসত্তিগুণের অভাব রয়েছে। --------------------------- একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি। যথা: • আকাঙ্ক্ষা: বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। যেমন: - ছেলেরা খেলে। - কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- - ছেলেরা ফুটবল খেলে। - কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।
উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- - হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।
• যোগ্যতা: বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা। - ‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।
উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর।
২৩.
বাক্য গঠনের উপাদান হলো-
ক
প্রত্যয়
খ
সমাস
গ
পদ
ঘ
ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• বাক্য গঠনের উপাদান হলো- পদ। ------------ • বাক্যতত্ত্ব: - বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে। - তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। - কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।
• পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্য গঠনের উপাদান হলো পদ। এবং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪.
'সে এখানে এসেই বসে পড়ল।' - বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ-
ক
সে এখানে এসে বসে পড়ল।
খ
সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
গ
সে এখানে এসে বসলো।
ঘ
সে এখানে এসে বসেছে।
ব্যাখ্যা
• 'সে এখানে এসেই বসে পড়ল।' - বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ: সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: - যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। - এজন্য সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করতে হয়। - সরল বাক্যে একটিমাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। যেমন - সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ। সরল বাক্য: ভিক্ষুককে টাকা দাও। যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।