পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: সাধারণ জ্ঞান টপিক: সাধারণ বিজ্ঞান [গুরত্বপূর্ণ সকল বিষয়সমূহ] জীববিজ্ঞান: মানবদেহ, রোগ, খাদ্য ও পুষ্টি, ভিটামিন, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি (এপিকালচার, সেরিকালচার, পিসিকালচার প্রভৃতি)।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
কতটি অ্যামাইনো এসিড নিয়ে ইনসুলিন গঠিত হয়?
  1. ২১ টি
  2. ৩০ টি
  3. ৫১ টি
  4. ৬২ টি
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের ‘আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস’ এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা

- এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে- ভিটামিন সি। 

ভিটামিন সি :

- ভিটামিন সি, যা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড নামে পরিচিত, একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
- এটি শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন ও কার্যকারিতা বাড়িয়ে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে।
- কোলাজেন নামক প্রোটিন উৎপাদনে এটি অপরিহার্য, যা ত্বক, হাড়, পেশি এবং রক্তনালীকে শক্তিশালী করে।
- ভিটামিন সি এর প্রধান উৎসগুলো হলো লেবু, কমলা, পেপে, স্ট্রবোর, টমেটো এবং বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি।

এন্টিঅক্সিডেন্ট:
- এন্টিঅক্সিডেন্ট হলো এমন একটি পদার্থ যা ফ্রি রেডিক্যাল নামক অস্থির অণুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে।
- ফ্রি রেডিক্যাল হলো অস্থির অণু, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে এবং কোষের ক্ষতি করতে পারে। এই ধরনের ক্ষতি বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণ হতে পারে, যেমন হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং আর্থ্রাইটিস।
- ভিটামিন সি এই ফ্রি রেডিক্যালগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সহায়তা করে, ফলে কোষের ক্ষতি রোধ হয়।

উৎস:
১। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

.
কোন রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়?
  1. এইডস
  2. কলেরা
  3. বসন্ত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের উপকারিতা:
- বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়
- ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
- ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
- কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
- জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা - ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
- লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
অনুচক্রিকা প্রধানত কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লাজমা
  2. অস্থিমজ্জা
  3. যকৃত
  4. হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়
- এদের গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পোলিও ভ্যাকসিন এর আবিষ্কারক কে?
  1. জোনাস সাল্ক
  2. লুই পাস্তুর
  3. এডওয়ার্ড জেনার
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা

পোলিও ভ্যাকসিন:
- পোলিও ভাইরাসজনিত স্নায়ুতন্ত্রের সংক্রামক রোগ পোলিও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
- আবিষ্কারক: জোনাস সাল্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- সময়কাল: ১৯৫৫ সাল।
- বৈশিষ্ট্য: Killed virus (নিষ্ক্রিয় ভাইরাস) দ্বারা তৈরি, ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রদান।
- ব্যাপক ব্যবহার শুরু: ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪, মার্কিন স্কুলশিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে।
- ফলাফল: যুক্তরাষ্ট্রে পোলিও আক্রান্তের হার প্রতি ১ লক্ষে ১৮ জন থেকে কমে ২ জনের নিচে নেমে আসে।

অন্যান্য অপশনসমূহ - 
- লুই পাস্তুর: জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্সসহ একাধিক ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন এবং জীবাণু তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
- এডওয়ার্ড জেনার: গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন।
- আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা

.
বাণিজ্যিকভাবে ফুল, ফল ও শাকসবজি চাষকে বলে-
  1. হর্টিকালচার
  2. প্রণকালচার
  3. পিসিকালচার
  4. সেরিকালচার
ব্যাখ্যা

Horticulture শব্দটি ল্যাটিন hortus (garden/উদ্যান) এবং cultura (চাষাবাদ) থেকে এসেছে। এটি ফুল, ফল, শাকসবজি ও অলঙ্কারিক উদ্ভিদ চাষের বিদ্যা।

আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি:
• মৎস্য চাষ - পিসিকালচার।
• চিংড়ি পালনবিদ্যা- প্রণকালচার।
উদ্যানবিদ্যা - হর্টিকালচার
• রেশমের (পোকার) চাষ - সেরিকালচার।
• মৌমাছির চাষ - এপিকালচার।
• পাখিপালন বিদ্যা- এভিকালচার।

উৎস: ব্রিটানিকা।

.
অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোন রোগে?
  1. ম্যালেরিয়া
  2. হিমোফিলিয়া
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

থ্যালাসেমিয়া:
- থ্যালাসেমিয়া একটি রক্তজনিত জিনগত রোগ।
- এটি উত্তরাধিকারসূত্রে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।
- রোগীর শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ত্রুটি দেখা যায়।
- হিমোগ্লোবিন অস্বাভাবিক হওয়ায় লোহিত রক্তকণিকা সহজে ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা হয়।
- অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে RBC তৈরি করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাড়ের গঠন বিকৃত হতে পারে
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ -
ম্যালেরিয়া: Plasmodium পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ।
হিমোফিলিয়া: রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

.
এপিকালচার কী?
  1. রেশমচাষ বিদ্যা
  2. মৌমাছিপালন বিদ্যা
  3. পাখিপালন বিদ্যা
  4. মৎস্যচাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ পদ্ধতি:
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার।
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার
• উদ্যান পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

.
ভিটামিন B12 এর রাসায়নিক নাম কী?
  1. থায়ামিন
  2. নায়াসিন
  3. রিবোফ্লাভিন
  4. কোবালামিন
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B12:
- ভিটামিন B12, যা কোবালামিন নামে পরিচিত, একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
- কোবালামিন নামটি এসেছে কারণ এই ভিটামিনের অণুতে কোবাল্ট নামক একটি খনিজ পদার্থ থাকে, যা এর কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
- এটি নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাবে পার্নিসাস এ্যনিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) হয়, যেখানে লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয় এবং তাদের সংখ্য কমে যায়।
- এটি স্নায়ু কোষের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের আবরণ (myelin sheath) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এর অভাবে স্নায়বিক দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অসাড়তা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
- এটি শরীরের প্রতিটি কোষে ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- সাধারণত প্রাণিজ উৎসে পাওয়া যায়, যেমন: যকৃত, মাছ, মাংস, ডিম, এবং দুগ্ধজাত পণ্য।

উল্লেখ্য-
- থায়ামিন: এটি ভিটামিন B1 এর রাসায়নিক নাম।
- নায়াসিন: এটি ভিটামিন B5 এর রাসায়নিক নাম।
- রিবোফ্লাভিন: এটি ভিটামিন B2 এর রাসায়নিক নাম।

উৎস:
১। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১০.
নিচের কোনটি বৃক্কের বাইরের আবরণ হিসেবে থাকে?
  1. প্লুরা
  2. পেরিকার্ডিয়াম
  3. পেরিটোনিয়াম
  4. মেনিনজিস
ব্যাখ্যা

বৃক্কের গঠন:
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে।
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়।
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল।
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত। এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল।
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে।
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে

অন্যদিকে,
- প্লুরা: ফুসফুস আবৃতকারী ঝিল্লী।
- পেরিকার্ডিয়াম: হৃৎপিণ্ড আবৃতকারী ঝিল্লী।
- মেনিনজিস: মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুকে আবৃত করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
নিচের কোনটি আয়োডিনের সবচেয়ে ভালো উৎস?
  1. বাদাম
  2. ডাল
  3. শাকসবজি
  4. সামুদ্রিক মাছ
ব্যাখ্যা

আয়োডিন (Iodine):
- থাইরয়েড গ্রন্থি হতে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিনের প্রধান খনিজ উপাদান হলো- আয়োডিন।
- দেহে মোট আয়োডিনের পরিমাণ মাত্র ২০-২৫ মিলিগ্রাম। এর বেশির ভাগই ৬৫% থাইরয়েড গ্রন্থিতে থাকে। সারা জীবনে একজন মানুষের মাত্র ৩-৪ গ্রাম আয়োডিন দরকার।
- সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক উদ্ভিদ, সমুদ্রের কাছাকাছি মাটিতে উৎপন্ন ফল ও সবজি ইত্যাদিতে আয়োডিন পাওয়া যায়। 
- থাইরক্সিন হরমোনের গঠন উপাদান হিসেবে আয়োডিন দেহের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরক্সিন হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
- আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যাকে সংক্ষেপে IDD (Iodine Deficiency Disorder) বলা হয়। 
- গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত, মৃত ও বিকলাঙ্গ শিশুর (cretin baby) জন্ম হতে পারে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
কোনটি অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ?
  1. ভাইরাস ধ্বংস করা
  2. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা
  3. কোষ বিভাজন বন্ধ করা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবায়োটিক যেভাবে কাজ করে
- অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে (যেমনঃ Penicillin)
- ব্যাকটেরিয়ার DNA প্রতিলিপি প্রক্রিয়া ব্যাহত করে।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ থামিয়ে দেয় (যেমনঃ Tetracycline)।

আন্টিবায়োটিক গ্রহণে সতর্কতা
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ বিপজ্জনক।
- কোর্স সঠিকভাবে শেষ করতে হবে।
- ভুলভাবে বা বেশি ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (Antibiotic Resistance) দেখা দেয়, যা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উৎস:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- WHO (World Health Organization).

১৩.
নিচের কোনটি কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. প্রোটোজোয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কলেরা:
- কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ:
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া।
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়, মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা।
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine - OCV) গ্রহণ।
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ।

উৎস:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO)

১৪.
পিসিকালচার কী?
  1. পাখিপালন বিদ্যা
  2. রেশমচাষ বিদ্যা
  3. মৎস্যচাষ বিদ্যা
  4. সামুদ্রিক মৎস্যপালন বিদ্যা
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ পদ্ধতি:
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যা- এভিকালচার।
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যা- সেরিকালচার।
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা- পিসিকালচার।
• সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিষয়ক বিদ্যা- মেরিকালচার।
• মৌমাছি চাষ বিষয়ক করা- এপিকালচার বলে।
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা- প্রণকালচার।
• উদ্যান বিষয়ক বিদ্যা- হর্টিকালচার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৫.
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত রোগ নয় কোনটি?
  1. হাম
  2. যক্ষ্মা
  3. ডিপথেরিয়া
  4. সিফিলিস
ব্যাখ্যা

ভাইরাসজনিত রোগ:
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: কোভিড-১৯, পোলিও, জন্ডিস, জলাতঙ্ক, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:

- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: কলেরা, যক্ষ্মা, আমাশয়, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, মেনিনজাইটিস, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।