পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: ১. মধ্য-যুগের সাহিত্য ধারা; ২. মধ্যযুগের প্রধান প্রধান লেখক ও তাঁদের সাহিত্য কর্ম। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------- নির্দেশিকা: ১. এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে। ২. এই পরীক্ষাটি "Award Mania: Season - 10” এর জন্য প্রযোজ্য।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. ফকির গরিবুল্লাহ
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- কবি দৌলত কাজী 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন।
- রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার (রাজত্বকাল ১৬২২-৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
- পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

দৌলত কাজী:
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন। তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'। এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন কাব্য রচনা করেন?
  1. পদ্মাবতী
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. অভয়ামঙ্গল
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি ১৭১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
.
'ধনপতি' চরিত্রটি পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য 'চণ্ডীমঙ্গল’।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে। একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘শূন্যপুরাণ’ কোন যুগের সাহিত্য?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. উত্তর আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বিদ্যাপতি কোন শতকের কবি?
  1. ত্রয়োদশ শতক
  2. চতুর্দশ শতক
  3. পঞ্চদশ শতক
  4. ষোড়শ শতক
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
"নাথসাহিত্য" কোন যুগের সাহিত্যধারা?
  1. প্রাচীনযুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মহাকবি আলাওল রচিত সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. সিকান্দারনামা
  2. সপ্তপয়কর
  3. পদ্মাবতী
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
 
আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কার জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়?
  1. গোবিন্দদাস
  2. লোচন দাস
  3. শ্রীচৈতন্যদেব
  4. বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
মধ্যযুগের লেখক নয় কে?
  1. মালাধর বসু
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. মানিক দত্ত
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
রামরাম বসু:
- রামরাম বসু আধুনিক যুগের লেখক।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু। ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে
- বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন:
- রামপ্রসাদ সেন,
- মালাধর বসু/গুণরাজ খান,
- মানিক দত্ত,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- কৃত্তিবাস ওঝা,
- গোবিন্দদাস,
- চণ্ডীদাস,
- চন্দ্রাবতী,
- জ্ঞানদাস,
- দৌলত উজির বাহরাম খান,
- দৌলত কাজী,
- বড়ু চণ্ডীদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
"সত্যনারায়ণের পাঁচালী" রচনা করেন কে?
  1. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কাশীরাম দাস
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১২.
"মধুমালতী কাব্য" কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
'সনকা' চরিত্রটি কোন মঙ্গলকাব্যের?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। এবং এই কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
মধ্যযুগের কোন কবিকে ‘মৈথিল কোকিল‘ বলা হয়?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।  তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫.
'মহাভারত' এর মূল রচয়িতা কে?
  1. কাশীরাম দাস
  2. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. ভূদেব মখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন বিজয়পাণ্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস।
- মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।