পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৭৩
সিলেবাস
Exam - 8 Full Model Test-1 Topic ➝ Full Syllabus.
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৭৩ প্রশ্ন

.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯, বিধি-৬ কোন বিষয়ে বিধান দেয়?
  1. সম্পত্তির ক্রোক
  2. ডিক্রি জারির আদেশ
  3. অন্তর্বর্তী বিক্রয়ের আদেশ
  4. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৬ এর বিধান অন্তর্বর্তী বিক্রয়ের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা (Power to order interim sale):
- কোন অস্থাবর সম্পত্তি মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হয়ে থাকলে অথবা রায় ঘোষণার পূর্বেই উক্ত মোকদ্দমায় ক্রোক করা হয়ে থাকলে, যা দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল, অথবা যা অন্য কোন ন্যায় সঙ্গত এবং যথেষ্ট কারণে অবিলম্বে বিক্রয় করার প্রয়োজন হয়, তা আদালত মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে নিলামে বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারেন।
⇒ আদেশ ৩৯ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত শুনানীর আগে শুনানীকাল পর্যন্ত বা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যে আদেশ দেওয়া হয় তাঁকে ad interim injunction order বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ বলা হয়।
⇒ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত শুনানীর পর দরখাস্তের গুণাগুণ বিবেচনায় নিয়ে আদেশ দিতে হয়, অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে দরখাস্তের গুণাগুণ যাচাইয়ের দরকার পড়ে না, বরং পরিস্থিতি খুবই জরুরি হলে এই আদেশ দেওয়া যায়।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-39 Rule-6. Power to order interim sale:
- The Court may, on the application of any party to a suit, order the sale, by any person named in such order, and in such manner and on such terms as it thinks fit, of any movable property, being the subject-matter of such suit, or attached before judgment in such suit, which is subject to speedy and natural decay, or which for any other just and sufficient cause it may be desirable to have sold at once.

.
আদেশ ৪৭, বিধি ২ অনুসারে, নিম্নের কোনটি 'পুনর্বিবেচনার' জন্য গ্রহণযোগ্য সাধারণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয় না?
  1. বিচারকের ব্যক্তিগত মত
  2. নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান ভ্রান্তি
  3. ক্লারিক্যাল বা গাণিতিক ভুল
  4. নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ উদ্ভাবন
ব্যাখ্যা

⇒ আদেশ ৪৭, বিধি ২ (Order 47, Rule 2, CPC) অনুযায়ী, পুনর্বিবেচনার আবেদন করার জন্য গ্রহণযোগ্য সাধারণ কারণ হলো:
- নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ উদ্ভাবন (New and important matter or evidence)
- ক্লারিক্যাল বা গাণিতিক ভুল (Clerical or arithmetical mistake)
- নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান ভ্রান্তি (Error apparent on the face of the record)
কিন্তু বিচারকের ব্যক্তিগত মত বা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ নয়।

⇒ আদেশ ৪৭ বিধি ২: যার নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে:
বিধি ১ এ উল্লেখিত রূপ এবং নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা প্রমাণ আবিষ্কারের বা ক্লারিক্যাল সম্পর্কে অথবা গাণিতিক ভুলের সঙ্গত কারণ বা নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান কোন ভ্রান্তির অস্তিত্ব ছাড়া অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণের উপর করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত অন্য কোন আদালতের ডিক্রি বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন করলে পুনর্বিবেচনার জন্য প্রার্থীত ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন, শুধু সে বিচারকের নিকট আবেদন করতে হবে, কিন্তু ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন তিনি যদি বিধি-৪ এর উপবিধি-২ এর অন্তর্গত (ক) শর্তাংশ মোতাবেক নোটিশ জারি করে থাকেন, তাহলে অনুরূপ আবেদনপত্র তার স্থলাভিষিক্ত বিচারক দ্বারা সমাধান করা যাবে।
-------
⇒ Order 47 Rule 2: To whom applications for review may be made:
An application for review of a decree or order of a Court, not being a the High Court Division, upon some ground other than the discovery of such new and important matter or evidence as is referred to in rule 1 or the existence of a clerical or arithmetical mistake or error apparent on the face of the decree, shall be made only to the Judge who passed the decree or made the order sought to be reviewed, but any such application may, if the Judge who passed the decree or made the order has ordered notice to issue under rule 4, sub-rule (2), proviso (a), be disposed of by his successor.

.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে যদি ডিক্রি দায়িক বা তার প্ররোচনায় কেউ ডিক্রিদারকে ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত বাধা প্রদান করে, তবে কোন বিধান প্রযোজ্য?
  1. আদেশ ২১, বিধি ৯৮
  2. আদেশ ২১, বিধি ৯৭
  3. আদেশ ২১, বিধি ৯৫
  4. আদেশ ২১, বিধি ১০১
ব্যাখ্যা

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ৯৮ এটি প্রযোজ্য হয় যখন ডিক্রি দায়িক বা তার প্ররোচনায় কেউ ডিক্রির বাস্তবায়নে বাধা দেয়, এবং সে বাধার কোন ন্যায়সঙ্গত কারণ নেই। এই অবস্থায়, ডিক্রিদার আদালতে দরখাস্ত করতে পারেন, এবং আদালত তাকে দখল নিশ্চিত করার আদেশ দিতে পারে, এবং প্রয়োজন হলে দায়িককে ৩০ দিন পর্যন্ত দেওয়ানি জেলে পাঠাতে পারে।

​⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৯৭ মতে স্থাবর সম্পত্তির দখলে বাধা দান (Resistance or obstruction to possession of immovable property): স্থাবর সম্পত্তির দখলের জন্য প্রদত্ত ডিক্রির মালিক কিংবা নিলাম সম্পত্তির ক্রেতা উক্ত সম্পত্তির দখল লাভে কোন ব্যক্তি কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হলে আদালতে অভিযোগ করে একটি আবেদন করতে পারবেন। যে পক্ষের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে সে পক্ষকে আদালতে হাজির হওয়া এবং জবাব দেয়ার জন্য আদালত সমন প্রদান করবেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৯৮ মতে দায়িক কর্তৃক প্রতিবন্ধ বা বাধাদান (Resistance or obstruction by Judgment-debtor): ডিক্রি দায়িক বা তার প্ররোচনায় অন্য কোন ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত বাধাদান করলে আদালত আবেদনকারীকে সম্পত্তি দখলে রাখার নির্দেশ দিবে এবং আবেদনকারীকে এর পরেও দখল লাভে বাধাদান করলে আদালত দায়িককে ৩০ দিন পর্যন্ত দেওয়ানি জেলে আটকের নির্দেশ দিতে পারেন।

অর্থাৎ আদেশ ২১ বিধি-৯৭ মতে যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হলে এবং আদেশ ২১ বিধি-৯৮ মতে ডিক্রি দায়িক বা তার প্ররোচনায় অন্য কোন ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত প্রতিবন্ধ বা বাধাদান করলে ডিক্রির মালিক বা ডিক্রিদার বাধা না দেওয়ার জন্য আদালতে দরখাস্ত করতে পারবেন।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21 Rule-97.Resistance or obstruction to possession of immovable property:
(1) Where the holder of a decree for the possession of immovable property or the purchaser of any such property sold in execution of a decree is resisted or obstructed by any person in obtaining possession of the property, he may make an application to the Court complaining of such resistance or obstruction.
(2) The Court shall fix a day for investigating the matter and shall summon the party against whom the application is made to appear and answer the same.

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21 Rule-98.Resistance or obstruction by Judgmentdebtor:
Where the Court is satisfied that the resistance or obstruction was occasioned without any just cause by the judgment-debtor or by some other person at his instigation, it shall direct that the applicant be put into possession of the property, and where the applicant is still resisted or obstructed in obtaining possession, the Court may also, at the instance of the applicant, order the judgment-debtor, or any person acting at his instigation, to be detained in the civil prison for a term which may extend to thirty days.

.
দেওয়ানী কার্যবিধির ORDER XLIV এর মূল বিষয় কী?
  1. Appeals from Orders
  2. Pauper Appeals
  3. Review of Judgments
  4. Appeals from Original Decrees
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-XLIV (Order 44) এ দরিদ্র ব্যক্তির আপিল (Pauper Appeals)–এর বিধানাবলী উল্লেখ আছে।
​- এই আদেশ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি আপিল করার অধিকার রাখেন কিন্তু আবশ্যকীয় কোর্ট ফি প্রদান করতে অক্ষম, তিনি দরখাস্তের মাধ্যমে pauper হিসেবে আপিল করতে পারেন।
​- এ ক্ষেত্রে, আদেশ-৪৪ বলেছে যে আদেশ-৩৩ (Order XXXIII) এর দরিদ্র বাদীর মামলা সংক্রান্ত বিধানাবলীও প্রযোজ্য হবে।

→ ​অর্থাৎ ​দেওয়ানী কার্যবিধির Order XLIV মূলত দারিদ্র্যর কারণে ফি দিতে অক্ষম ব্যক্তিদের (pauper) আপিল সংক্রান্ত বিধান নিয়ন্ত্রণ করে। এতে বলা আছে কে pauper হিসেবে আপিল করতে পারবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে, এবং pauper হওয়ার তদন্ত কিভাবে করা হবে।
​​- অতএব, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-XLIV (Order 44) = Pauper Appeals এর করার বিধান রয়েছে।

.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুসারে, আপিল আদালতের নিম্নলিখিত ক্ষমতাগুলোর মধ্যে কোনটি নয়?
  1. বিচার্য বিষয় গঠন করা
  2. বাদীকে নতুন মামলার আদেশ করা
  3. মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ করা
  4. মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১০৭ অনুসারে, আপিল আদালতের ক্ষমতাগুলোর মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
ক) বিচার্য বিষয় গঠন করা: ধারা ১০৭(১)(গ) অনুসারে, আপিল আদালত বিচার্য বিষয় গঠন করতে এবং তা বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারে।
গ) মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ করা: ধারা ১০৭(১)(খ) অনুসারে, আপিল আদালত মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ করতে পারে।
ঘ) মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা: ধারা ১০৭(১)(ক) অনুসারে, আপিল আদালত মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে পারে।

কিন্তু খ) বাদীকে নতুন মামলার আদেশ করা ধারা ১০৭-এর অধীনে আপিল আদালতের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না। আপিল আদালতের কাজ হলো নিম্ন আদালতের রায় বা আদেশ পর্যালোচনা করা, পুনর্বিচারে প্রেরণ করা, বিচার্য বিষয় গঠন করা, অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করা বা মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করা। নতুন মামলা দায়েরের আদেশ দেওয়া আপিল আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে নয়, কারণ এটি মৌলিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের কাজ।
সুতরাং, সঠিক উত্তর: খ) বাদীকে নতুন মামলার আদেশ করা।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৭ ধারার বিধান: আপিল আদালতের ক্ষমতা:-
১) যে সকল শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ বিধি দ্বারা হতে পারে, তৎসাপেক্ষে আদালতের নিম্নলিখিত ক্ষমতাবলী থাকবে-
ক) কোন মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার;
খ) কোন মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ করার;
গ) বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেগুলো বিচারার্থে প্রেরণ করার;
ঘ) অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ বা অনুরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য তলব করতে ক্ষমতা।
২) এই আইনে কোন মৌলিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের উপর তথাকার মোকদ্দমার ব্যাপারে যেরূপ ক্ষমতা প্রদত্ত এবং কর্তব্য আরোপিত হয়ে থাকে, উল্লেখিত শর্তসাপেক্ষে আপিল আদালতের উপরও এরূপ ক্ষমতা এবং প্রায় একইরূপ কর্তব্য বর্তাবে।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Section 107. Powers of Appellate Court:
(1) Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, an Appellate Court shall have power-
(a) to determine a case finally;
(b) to remand a case;
(c) to frame issues and refer them for trial;
(d) to take additional evidence or to require such evidence to be taken.
(2) Subject as aforesaid, the appellate Court shall have the same powers and shall perform as nearly as may be the same duties as are conferred and imposed by this Code on Courts of original jurisdiction in respect of suits instituted therein.

.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে মামলা দায়েরের সময় সমন জারির জন্য কোর্ট ফি কখন পরিশোধ করতে হয়?
  1. সমন জারির পরে
  2. আরজি দাখিলের সময়
  3. মামলা শেষ হওয়ার পর
  4. কোনো ফি পরিশোধের প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, Order IV Rule 1(1a) অনুযায়ী "The Court fees chargeable for service of summons shall be paid in the case of suits when the plaint is filed..."
​- দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার IV, বিধি ১(১ক) অনুসারে, মামলা দায়েরের সময় সমন জারির জন্য প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি আরজি দাখিলের সময় পরিশোধ করতে হয়। 
- তবে অর্ডার IV, বিধি ১(১খ) অনুযায়ী, অন্যান্য কার্যক্রমের (Other Proceedings) ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া আবেদনের সময় কোর্ট ফি পরিশোধ করতে হয়। 
- ​অর্থাৎ, মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সমন জারির ফি আরজি দাখিলের সময়ই পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারা অনুযায়ী, প্রিসেপ্ট (precept) দ্বারা ক্রোকের কার্যকারিতা কত সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়?
  1. ছয় মাস
  2. তিন মাস
  3. দুই মাস
  4. এক মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৪৬ (২) অনুসারে বলা হয়েছে: “তবে শর্ত থাকে যে, অনুরোধপত্রের (precept) ভিত্তিতে সম্পত্তি ক্রোক দুই মাসের অধিককাল কার্যকর থাকবে না, যদি না ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ক্রোকের মেয়াদ বাড়ায়, অথবা ক্রোক কার্যকরকারী আদালতের কাছে ডিক্রি স্থানান্তর করা হয় এবং ডিক্রিদার সম্পত্তি বিক্রয়ের আবেদন করেন।”
- অর্থাৎ, স্বাভাবিকভাবে অনুরোধপত্রে ভিত্তি করে সম্পত্তি ক্রোক সর্বোচ্চ দুই মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারার বিধান ডিক্রি জারির অনুরোধ:-
১) ডিক্রিদারের আবেদন অনুযায়ী ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ন্যায়সঙ্গত মনে করলে অন্য কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে ডিক্রি জারি করার অনুরোধ করতে পারেন এবং এরূপ আদালত ডিক্রি জারি করতে এবং অনুরোধপত্রে নির্ধারিত দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন।
২) যে আদালতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সে আদালত ডিক্রি জারির ব্যাপারে সম্পত্তি ক্রোকের নির্ধারিত পদ্ধতি মোতাবেক সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন:
তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রিপ্রদানকারী আদালত ক্রোকের সময় বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত অথবা এরূপ ক্রোক নির্ধারিত হওয়ার পূর্বে যে আদালত কর্তৃক ক্রোক করা হয়েছে, ঐ আদালতের নিকট ডিক্রি হস্তান্তর করা না হলে এবং ডিক্রিদার সম্পত্তি বিক্রয়ের আবেদন না করলে অনুরোধলিপি অনুসারে কোন ক্রোক দুই মাসের অধিককাল কার্যকর থাকবে না।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 46. Precepts:
(1) Upon the application of the decree-holder the Court which passed the decree may, whenever it thinks fit, issue a precept to any other Court which would be competent to execute such decree to attach any property belonging to the judgment-debtor and specified in the precept.
(2) The Court to which a precept is sent shall proceed to attach the property in the manner prescribed in regard to the attachment of property in execution of a decree:
Provided that no attachment under a precept shall continue for more than two months unless the period of attachment is extended by an order of the Court which passed the decree or unless before the determination of such attachment the decree has been transferred to the Court by which the attachment has been made and the decree-holder has applied for an order for the sale of such property.

.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৫২-এর অধীনে কোনটি সংশোধনের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. গাণিতিক ভুল
  2. করণিক ভুল
  3. আকস্মিক বিচ্যুতি
  4. আইনের ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ধারা ১৫২ (Section 152 CPC) অনুযায়ী, আদালত নিম্নলিখিত ত্রুটি সংশোধন করতে পারে:
- করণিক ভুল (Clerical mistake) – যেমন লেখা বা টাইপিং এর ভুল
- গাণিতিক ভুল (Arithmetical mistake) – যেমন হিসাবের ভুল
- আকস্মিক বিচ্যুতি বা ছোঁড়া ত্রুটি (Accidental slip or omission)
কিন্তু আইনের ভুল প্রয়োগ বা বিচারকের সিদ্ধান্তের নীতিগত ভুল সংশোধনের জন্য ধারা ১৫২ প্রযোজ্য নয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫২ ধারার বিধান রায়, ডিক্রি বা আদেশসমূহের সংশোধন:
রায়, ডিক্রি বা আদেশে করণিক বা গাণিতিক ভুল অথবা কোন আকষ্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির কারণে তথায় কোন ভুল থাকলে যে কোন সময় আদালত নিজস্ব উদ্যোগে কিংবা কোন পক্ষের আবেদনে তা শুদ্ধ করতে পারে।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 152 Amendment of judgments, decrees or orders:
Clerical or arithmetical mistakes in judgments, decrees or orders or errors arising therein from any accidental slip or omission may at any time be corrected by the Court either of its own motion or on the application of any of the parties.

.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে মধ্যস্থতাকারীদের (Mediators) তালিকা প্রস্তুত এবং হালনাগাদ করার দায়িত্ব কে রাখে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. সরকার
  3. জেলা জজ
  4. জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের (Mediators) তালিকা প্রস্তুত এবং হালনাগাদ করার দায়িত্ব জেলা জজের।
- জেলা জজ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির পরামর্শক্রমে তালিকা তৈরি করেন।
- তালিকায় থাকতে পারেন: প্যানেল সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত জজ, এবং পক্ষগুলোর নিযুক্ত উকিল ব্যতীত অন্যান্য যোগ্য উকিল।
- প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে নিযুক্ত কেউ মধ্যস্থতাকারী হতে পারবে না।

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক(১০) অনুযায়ী "জেলা জজ, জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সাথে পরামর্শ করে মধ্যস্থতাকারীদের একটি প্যানেল প্রস্তুত করবেন (যা সময় সময় আপডেট করা হবে)। এই প্যানেলে আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, মধ্যস্থতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত নয় এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।"
এবং জেলা জজ নিজ প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে এই প্যানেল সম্পর্কে অবহিত করবেন।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section-(10) For the purposes of this section, the District Judge shall, in consultation with the President of the District Bar Association, prepare a panel of mediators (to be updated from time to time) consisting of pleaders, retired judges, persons known to be trained in the art of dispute resolution, and such other person or persons, except persons holding office of profit in the service of the Republic, as may be deemed appropriate for the purpose, and shall inform all the Civil Courts under his administrative jurisdiction about the panel:
Provided that, a mediator under this sub-section shall not act as a mediator between the parties if he had ever been engaged by either of the parties as a pleader in any suit in any Court.

১০.
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর কোন ধারায় ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ৮৫
  2. ধারা ৮৮
  3. ধারা ৮৯
  4. ধারা ৯২
ব্যাখ্যা

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ধারা ৮৮ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার বিধান বর্ণনা করে। এই ধারা অনুসারে, যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই সম্পত্তি বা অর্থের উপর মালিকানার দাবি করেন এবং যিনি এই দাবির সম্মুখীন হন (বাদী) তার মোকদ্দমার খরচ ছাড়া উক্ত সম্পত্তি বা অর্থের উপর কোনো স্বার্থ না থাকে, তবে তিনি ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। এই মোকদ্দমার উদ্দেশ্য হলো আদালতের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যে সম্পত্তি বা অর্থ কার কাছে অর্পণ করতে হবে এবং বাদীর ক্ষতিপূরণ (যদি থাকে) আদায় করা।
- ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে বাদী নিরপেক্ষ থাকেন এবং বিবাদীদের দাবি সম্পর্কে কোনো পক্ষপাতিত্ব বা ষড়যন্ত্রে জড়ান না। এই ধারা নিশ্চিত করে যে বাদী কেবল আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পান এবং কোনো পক্ষের সাথে যোগসাজসে জড়ান না।
​- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৮ ধারায় স্বার্থ বিহীন মামলার বিধান আছে।
​ 
⇒ এছাড়াও ​ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার বিস্তারিত বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার ৩৫-এ বর্ণিত আছে। এই অর্ডারে বলা হয়েছে যে এই ধরনের মোকদ্দমায় কমপক্ষে দুইজন বিবাদী থাকতে হবে, এবং আরজিতে বাদীর নিরপেক্ষতা, বিবাদীদের পৃথক দাবি এবং কোনো ষড়যন্ত্রের অভাব উল্লেখ করতে হবে।

- আদেশ ৩৫ বিধি-১: ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় আরজি (Plaint in interpleader-suits): ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় প্রত্যেকটি মোকদ্দমার আরজিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি বিবৃত করতে হবে - বাদী মোকদ্দমার খরচের জন্য ব্যয়িত দাবি ব্যতীত অন্য কোন স্বার্থ দাবী করে না; বিবাদীগণ কর্তৃক দাবিসমূহ পৃথকভাবে প্রণীত হয়েছে; এবং বাদী ও কোন বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ যোগসাজস বা ষড়যন্ত্র নেই।
- আদেশ ৩৫ বিধি-৫: প্রতিনিধি বা প্রজাগণ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে না।

১১.
ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে দেনাদারকে নোটিশ প্রদানের বিধান কোন আদেশ ও বিধিতে উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ-২০, বিধি-২১
  2. আদেশ-২১, বিধি-২২
  3. আদেশ-২২, বিধি-২১
  4. আদেশ-২৩, বিধি-২০
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-২২ তে ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে নোটিশ প্রদানের বিধান রয়েছে- সাধারণত নোটিশ ব্যতীত ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়, তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। যথ‍া:
- ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়।
- পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিগণের বিপক্ষে ডিক্রি জারি করলে। তবে নোটিশ দিতে গিয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব বা ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হলে নোটিশ না দিলেও হবে।
- এছাড়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন করলে নোটিশ দিতে হয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ৫০(১) ধারা অনুযায়ী, দেনাদারের (Judgement debtor) মৃত্যু হলে তার বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করা যাবে। এক্ষেত্রে বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন হলে নোটিশ দিতে হয়। অর্থাৎ দেনাদারের বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জারির আবেদন করতে হলে নোটিশ দিতে হয়।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-22. Notice to show cause against execution in certain cases:
(1) Where an application for execution is made-
(a) more than two years after the date of the decree, or
(b) against the legal representative of a party to the decree,
or where an application is made for execution of a decree filed under the provisions of section 44A, the Court executing the decree shall issue a notice to the person against whom execution is applied for, requiring him to show cause, on a date to be fixed, why the decree should not be executed against him:
Provided that no such notice shall be necessary in consequence of more than two years having elapsed between the date of the decree and the application for execution if the application is made within two years from the date of the last order against the party against whom execution is applied for, made on any previous application for execution, or in consequence of the application being made against the legal representative of the judgment-debtor, if upon a previous application for execution against the same person the Court has ordered execution to issue against him.

১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩ এর বিধান কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না?
  1. বাদীর দাবী পরিত্যাগ
  2. ডিক্রি জারির কার্যক্রম
  3. মামলার আপস মীমাংসা
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ (ORDER XXIII) মূলত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর জন্য প্রযোজ্য:
১) মামলা প্রত্যাহার – বাদী নিজে মামলা তুলে নিতে পারে।
২) দাবির আংশিক পরিত্যাগ – বাদী তার দাবির কিছু অংশ বাদ দিতে পারে।
৩) আদালতের অনুমতি নিয়ে নতুন মামলা দায়ের – নির্দিষ্ট শর্তে অনুমতি নিয়ে।
৪) মামলার আপস মীমাংসা – আইনগত আপস হলে আদালত সেটি রেকর্ড করে ডিক্রি দেয়।

- সুতরাং ORDER XXIII মূলত মামলার প্রত্যাহার, আংশিক দাবির পরিত্যাগ এবং আপস মীমাংসার জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু একবার ডিক্রি জারি হয়ে গেলে তার কার্যকর (execution) প্রক্রিয়ায় এই আদেশ প্রযোজ্য নয়। এজন্য Rule 4 স্পষ্টভাবে বলে, “Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.”
------- 
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-23 Rule-4. Proceedings in execution of decrees not affected:
Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.

১৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৮৯খ অনুসারে কোন পরিস্থিতিতে মোকদ্দমা সালিশে পাঠানো যায়?
  1. জেলা জজের নির্দেশে
  2. আদালতের নিজস্ব উদ্যোগে
  3. পক্ষগণের আবেদনের ভিত্তিতে
  4. সরকারের অনুমোদনের পর
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯খ(১) অনুসারে, মোকদ্দমার যে কোনো পর্যায়ে পক্ষগণ যদি আদালতের নিকট আবেদন করেন যে তারা মোকদ্দমার বিরোধ বা বিষয়টি সালিশের (arbitration) মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে চান, তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করবেন এবং মোকদ্দমা তুলে নেওয়ার অনুমতি দেবেন। এরপর বিরোধটি সালিশ আইন, ২০০১ অনুসারে নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ, মোকদ্দমা সালিশে পাঠানোর জন্য পক্ষগণের আবেদন প্রয়োজন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯খ ধারায় সালিশ বা Arbitration এর বিধান রয়েছে। ৮৯খ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী আদালত কোন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিরোধীয় বিষয়টি সালিশের নিকট পাঠাতে পারেন এবং এই জন্য মোকদ্দমার পক্ষগণ মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে তা তুলে নেওয়ার জন্য আদালতের নিকট আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করবেন এবং মোকদ্দমা তুলে নেওয়ার অনুমতি দিবেন। তারপর সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী বিরোধটি নিষ্পত্তি করতে হবে অর্থাৎ কোন বিরোধ সালিশে (Arbitration) পাঠানো হলে তা সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 89B- Arbitration:
(1) If the parties to a suit, at any stage of the proceeding, apply to the Court for withdrawal of the suit on ground that they will refer the dispute or disputes in the suit to arbitration for settlement, the Court shall allow the application and permit the suit to be withdrawn; and the dispute or disputes, thereafter, shall be settled in accordance with Salish Ain, 2001 (Act No. 1 of 2001) so far as may be applicable:
Provided that, if, for any reason, the arbitration proceeding referred to above does not take place or an arbitral award is not given, the parties shall be entitled to re-institute the suit permitted to be withdrawn under this sub-section.
(2) An application under sub-section (1) shall be deemed to be an arbitration agreement under section 9 of the Salish Ain, 2001 (Act No. 1 of 2001).

১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে কোনো প্রসেস (Process) জারি হলে তার খরচ কে বহন করবে?
  1. সরকার
  2. বিবাদী পক্ষ
  3. আদালত স্বয়ং
  4. প্রসেস প্রেরণকারী পক্ষ
ব্যাখ্যা

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ORDER XLVIII (Miscellaneous), Rule 1(1) অনুযায়ী: কোনো প্রসেস (যেমন সমন, নোটিশ, আদেশ ইত্যাদি) জারি করা হলে তার খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে, যার পক্ষে প্রসেসটি জারি করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রসেস প্রেরণকারী পক্ষ।

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার XLVIII, বিধি ১(১) অনুযায়ী স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
"Every process issued under this Code shall be served at the expense of the party on whose behalf it is issued, unless the Court otherwise directs."
অর্থাৎ, যে পক্ষের পক্ষে প্রসেস (যেমন সমন, নোটিশ, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি) জারি করা হয়, সেই পক্ষই প্রসেস পরিবেশনের খরচ বহন করবে।
তবে আদালত বিশেষ ক্ষেত্রে অন্যথায় নির্দেশ দিতে পারে (যেমন দরিদ্র পক্ষের জন্য খরচ মওকুফ করা)।

⇒ ​দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার XLVIII, বিধি ১(১) অনুসারে, কোনো প্রসেস (Process) জারি করা হলে তার খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে যার পক্ষে প্রসেসটি জারি করা হয়েছে, যদি না আদালত অন্যথা নির্দেশ দেয়। এর মানে হলো, যে পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) প্রসেস জারির আবেদন করে, তাকে সাধারণত প্রসেস পরিবেশনের খরচ বহন করতে হবে। তবে, আদালতের বিশেষ নির্দেশ থাকলে এই খরচের দায়িত্ব অন্য কোনো পক্ষের উপর অর্পিত হতে পারে।
অধিকন্তু, অর্ডার XLVIII, বিধি ১(২) অনুসারে, প্রসেস পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি প্রসেস জারির আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এটি নিশ্চিত করে যে প্রসেস জারির প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং আদালতের কার্যক্রমে কোনো বিলম্ব না হয়।

১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, আপিল শুনানিতে কতবার স্থগিতাদেশ (Adjournment) দেওয়া যায়?
  1. যতবার ইচ্ছা
  2. সর্বোচ্চ একবার
  3. সর্বোচ্চ তিনবার
  4. সর্বোচ্চ ছয়বার
ব্যাখ্যা

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর Order XLI, Rule 12A(1) অনুসারে, আপিল শুনানির সময় যেকোনো পক্ষের আবেদনে সর্বোচ্চ তিনবার স্থগিতাদেশ (Adjournment) দেওয়া যায়। তিনবারের বেশি স্থগিতাদেশ চাইলে আদালত কস্ট (খরচ) আরোপ করতে পারে (ন্যূনতম ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা)।
যদি আবেদনকারী কস্ট পরিশোধ না করেন, তাহলে আপিলকারীর ক্ষেত্রে আপিল খারিজ (Dismissed) হতে পারে।
রেসপন্ডেন্টের ক্ষেত্রে একতরফা (Ex parte) রায় দেওয়া হতে পারে।

- অর্থাৎ ​দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার XLI, রুল 12A অনুযায়ী, আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষের অনুরোধে সর্বোচ্চ তিনবার স্থগিতাদেশ (Adjournment) দেওয়া যায়। তিনবারের বেশি স্থগিতাদেশ দেওয়া হলে, আদালত নির্দিষ্ট শর্তে (যেমন খরচ প্রদান) এগিয়ে যেতে পারে, এবং অ-সম্মতি হলে আপিল খারিজ বা এক্স-পার্টে নিষ্পত্তি হতে পারে।
​-----------
​⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-41 Rule-12A.Adjournment in appeal:
(1) The Appellate Court shall not grant more than three adjournments for hearing of an appeal at the instance of either party to the appeal, and any adjournment granted to a party beyond the aforesaid limit shall make such party liable to pay such cost which shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka to the other party as the Court may deem appropriate and determine, non-compliance with which, by the appellant shall render the appeal liable to be dismissed and, by the respondent shall render the appeal liable to be disposed of ex parte.
(2) An appeal dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (1) shall not be revived for hearing unless the party, for whose non-compliance the appeal was dismissed or disposed of ex parte, makes, within thirty days of such dismissal or ex parte disposal, an application to the court for such revival; and upon such application being made, the Court shall award such cost as shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka as it may deem appropriate and determine, and the cost being deposited, the appeal shall be revived for hearing without any further proceeding; and the cost deposited in the Court shall be paid by it to the other party:
Provided that no appeal shall be revived more than once at the instance of the same party under this rule.
(3) The Appellate Court shall not, of its own, order any adjournment at the stage of hearing of appeal without recording reasons therefor.

১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন অর্ডারে রিভিউ সম্পর্কিত বিধান বর্ণিত আছে?
  1. অর্ডার ৪৫
  2. অর্ডার ৪৬
  3. অর্ডার ৪৭
  4. অর্ডার ৪৮
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার ৪৭ রিভিউ সম্পর্কিত বিধান বর্ণনা করে। 
​-
এই অর্ডারের বিধি ১-এ রিভিউ আবেদনের শর্তগুলি উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন:
- নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় বা প্রমাণ আবিষ্কার হওয়া।
- মামলার নথিতে স্পষ্ট ভ্রান্তি বা ত্রুটি থাকা।
- অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ থাকা।
এই অর্ডারটি নির্দিষ্ট করে যে রিভিউ আবেদন শুধুমাত্র সেই আদালতে দায়ের করা যাবে যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেছে।

⇒ ​দেওয়ানি কার্যবিধি ধারা-১১৪ ও অর্ডার ৪৭ দেওয়ানি রিভিউ (Review):
ধারা ১১৪ অনুযায়ী: যদি কোনো ব্যক্তি নিম্নলিখিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন—
১. এমন ডিক্রি বা আদেশ যার বিরুদ্ধে আপীল করা যেত কিন্তু করা হয়নি,
২. এমন আদেশ যার বিরুদ্ধে আপীলের সুযোগ নেই, অথবা
৩. Small Causes Court-এর রেফারেন্সের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হন—
তবে তিনি সেই আদালতে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন, যিনি ঐ আদেশ বা ডিক্রি জারি করেছেন।

​অর্ডার ৪৭ অনুযায়ী: ধারা ১১৪-এর অধীনে রিভিউ আবেদনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া বর্ণিত।
রিভিউ শুধুমাত্র তখনই করা যাবে যখন—
১. নতুন বা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায় যা আগে সম্ভব ছিল না,
২. রেকর্ডে স্পষ্ট ভুল বা ত্রুটি থাকে, অথবা
৩. অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে।
এছাড়া, অর্ডার ৪৭-এ রিভিউ মঞ্জুরি বা নামঞ্জুরের পদ্ধতি, আবেদন আদালত, শুনানির আগে নোটিশ, এবং পুনঃশুনানি প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে বর্ণিত।

১৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী কত ধরনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১২ অনুযায়ী, চুক্তির সুনির্দিষ্ট পারফরমেন্স আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নলিখিত চারটি ক্ষেত্রে আদায়যোগ্য:
১) যখন চুক্তিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত কোনো ট্রাস্টের অন্তর্ভুক্ত থাকে।
২) যখন চুক্তিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি হবে তার মানদণ্ড নির্ধারণের কোন উপায় নেই।
৩) যখন চুক্তিভুক্ত কাজ এমন যে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে যথেষ্ট প্রতিকার পাওয়া যায় না।
৪) যখন সম্ভাবনা থাকে যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
সুতরাং, মোট ৪টি পৃথক পরিস্থিতিতে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ আদায় করতে পারে।

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা- যে-সব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য:
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced-
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust;
(b) when 4[there] exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done;
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or
(d) When it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done.

Explanation- Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.

১৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের প্রস্তাবনা অনুসারে আইনটি কোন ধরনের মামলার জন্য প্রযোজ্য?
  1. ফৌজদারি মামলা
  2. দেওয়ানি মামলা
  3. প্রশাসনিক মামলা
  4. সাংবিধানিক মামলা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) এর প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি "নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি মামলায় প্রাপ্তিযোগ্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত আইনকে সংজ্ঞায়িত ও সংশোধন করার" জন্য প্রণীত হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেওয়ানি মামলাগুলিতে এমন প্রতিকার প্রদান করা যা আর্থিক ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অধিকার বা সম্পত্তির পুনরুদ্ধার, চুক্তির বাস্তবায়ন, অথবা অবৈধ দখল থেকে মুক্তি নিশ্চিত করে।
- সুতরাং ​সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) মূলত দেওয়ানি মামলার জন্য প্রযোজ্য। 
​- অর্থাৎ, এটি এমন মামলায় ব্যবহৃত হয় যেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তার নির্দিষ্ট অধিকার বা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।

​প্রস্তাবনা: যেহেতু কিছু নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত আইন নির্ধারণ এবং সংশোধন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; তাই এটি নিম্নরূপ প্রবর্তিত হলো:-
--------
Preamble: WHEREAS it is expedient to define and amend the law relating to certain kinds of specific relief obtainable in civil suits; It is hereby enacted as follows:

১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে অনুযায়ী চুক্তি থেকে উদ্ভূত বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে আদালত কোন অধ্যায়ের বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. প্রথম অধ্যায়
  2. দ্বিতীয় অধ্যায়
  3. তৃতীয় অধ্যায়
  4. চতুর্থ অধ্যায়
ব্যাখ্যা

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো বাধ্যবাধকতা চুক্তি থেকে উদ্ভূত হয়, তবে আদালত দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধান ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারার বিধান চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়। এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 54 Perpetual injunctions when granted: Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication.
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act.
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff;
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion;
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief;
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion;
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings.
Explanation- For the purpose of this section a trademark is property.

২০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারা অনুসারে কত বছরের বেশি সময়ব্যাপী চলমান চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য নয়?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১(ছ) অনুযায়ী "যে চুক্তির কার্যকারিতা ৩ (তিন) বছরের অধিক সময় ধরে চলমান থাকে, তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।"
- ​অর্থাৎ, যদি কোনো চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের বিষয়টি চুক্তির তারিখ থেকে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান থাকে, তাহলে সাধারণভাবে সেই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না।

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা;
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।
------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 21 Contracts not specifically enforceable:
The following contracts cannot be specifically enforced:–
(a) a contract for the non-performance of which compensation in money is an adequate relief;
(b) a contract which runs into such minute or numerous details, or which is so dependent on the personal qualifications or volition of the parties, or otherwise from its nature is such, that the Court cannot enforce specific performance of its material terms;
(c) a contract the terms of which the Court cannot find with reasonable certainty;
(d) a contract which is in its nature revocable;
(e) a contract made by trustees either in excess of their powers or in breach of their trust;
(f) a contract made by or on behalf of a corporation or public company created for special purposes, or by the promoters of such company, which is in excess of its powers;
(g) a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date;
(h) a contract of which a material part of the subject- matter, supposed by both parties to exist, has, before it has been made, ceased to exist.
And, save as provided by the Arbitration Act, 1940, no contract to refer present or future differences to arbitration shall be specifically enforced; but if any person who has made such a contract other than an arbitration agreement to which the provisions of the said Act apply and has refused to perform it sues in respect of any subject which he has contracted to refer, the existence of such contract shall bar the suit.

২১.
"দলিল সংশোধন" (Rectification of Instruments) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. অধ্যায় ৩
  2. অধ্যায় ৪
  3. অধ্যায় ৫
  4. অধ্যায় ৭
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (The Specific Relief Act, 1877)-এর অধ্যায় ৩-এ দলিল সংশোধন (Rectification of Instruments) বিষয়ক বিধানাবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। Chapter III OF THE RECTIFICATION OF INSTRUMENTS.
- এই অধ্যায়ে, মূলত ভুলবশত বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিপূর্ণ দলিল সংশোধনের জন্য আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

অধ্যায়সমূহ নিচে দেওয়া হলো:
1. সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (Recovering possession of property) - ধারা (৮-১১);
2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন (Specific performance of contract) - ধারা (১২-৩০);
3. দলিল সংশোধন (Rectification of Instruments) - ধারা (৩১-৩৪);
4. চুক্তি রদ (Rescission of a contract) - ধারা (৩৫-৩৮);
5. দলিল বাতিল (Cancellation of instrument) - ধারা (৩৯-৪১);
6. ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) - ধারা (৪২-৪৩);
7. তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (Appointment of receiver) - ধারা ৪৪;
8. বিলুপ্ত (Omitted) - ধারা (৪৫-৫১);
9. সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞা (Injunction generally) - ধারা (৫২-৫৩);
10. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunction) - ধারা (৫৪-৫৭)।

২২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতা (discretion) সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ধারা ২১
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ৩৬
  4. ধারা ১৮
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী,
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি প্রদানে এখতিয়ার হচ্ছে বিবেচনামূলক এবং কেবলমাত্র তা করা আইনসম্মত, এ কারণেই আদালত এমন প্রতিকার মঞ্জুর করতে বাধ্য না। আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা স্বেচ্ছাধীন হবেনা বরং নিখুঁত এবং যুক্তিযুক্ত, বিচার বিভাগীয় নীতি দ্বারা নিযন্ত্রিত এবং আপিল আদালত কর্তৃক সংশোধনযোগ্য হতে হবে। ২২ ধারায় ২টি ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারে। ১টি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি দিতে যথাযথভাবে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
নিম্নলিখিত ২টি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ [solatium] প্রদান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-
i. বিবাদির প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে;
যেখানে এমন পরিস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে যে, তা বাদীকে বিবাদির উপর একটি অন্যায় সুবিধা প্রদান করছে, যদিও সেখানে বাদীর পক্ষ হতে কোন জালিয়াতি বা ভুল বিবরণ নাও থাকতে পারে।
ii. বিবাদির প্রতি কঠোরতা;
যেখানে চুক্তির কাজ সম্পাদন বিবাদীকে কোন কঠোরতায় বা কষ্টে জড়িয়ে ফেলবে যা বিবাদী বুঝতে পারেনা, অপরদিকে উহা না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না। এই দুটি ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 22. Discretion as to decreeing specific performance:
The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal.
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:-
I. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
II. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
III. Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.

২৩.
Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 অনুসারে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা দিতে পারেন?
  1. ১০,০০০ টাকা
  2. ২,০০,০০০ টাকা
  3. ৩,০০,০০০ টাকা
  4. ৫,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩২: ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডের ক্ষমতা:

(সংশোধনের পরে)
• মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ৫ বছর
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০ টাকা
- চাবুক মারা — বিলুপ্ত
• দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ৩ বছর
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ টাকা
• তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ২ বছর
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ টাকা

(সংশোধনের পূর্বে)
• মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ৫ বছর (আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাসসহ)
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা
- চাবুক মারা (Whipping) — (বর্তমানে বিলুপ্ত)
• দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ৩ বছর (আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাসসহ)
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা
• তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ২ বছর
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা
২৪.
Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 অনুসারে, ধারা ৪১৪-এ জরিমানার পরিমাণ কত টাকা পর্যন্ত হলে আপিল করা যায় না?
  1. ২০০ টাকা
  2. ২,০০০ টাকা
  3. ৫,০০০ টাকা
  4. ১০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 অনুসারে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৪-এর সংশোধনের মাধ্যমে পূর্বে উল্লিখিত "two hundred taka" (২০০ টাকা) শব্দগুলির পরিবর্তে "five thousand taka" (৫,০০০ টাকা) শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এর অর্থ হলো, ধারা ২৬০-এর অধীনে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট যদি সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করেন, তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো আপিল করতে পারবেন না। তবে, জরিমানার পরিমাণ ৫,০০০ টাকার বেশি হলে বা কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে আপিল করা যাবে।

অর্থাৎ সংশোধিত ধারা ৪১৪ অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না। অতএব, সঠিক উত্তর হলো গ) ৫,০০০ টাকা। 

২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৫ ধারা মূলত কোন বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. অভিযোগপত্র দাখিলের পদ্ধতি
  2. অভিযোগপত্রে ভুল বা অসম্পূর্ণতার প্রভাব
  3. অভিযোগপত্রে সাক্ষীদের নাম উল্লেখ করা
  4. অভিযোগপত্রে অপরাধের সঠিক বর্ণনা দেওয়ার গুরুত্ব
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৫ ধারা অভিযোগপত্রে ভুল বা অসম্পূর্ণতা থাকলে তার প্রভাব কী হবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। এতে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্রে কোনো ভুল বা অপরাধের বিস্তারিত উল্লেখ করতে ব্যর্থতা যদি হয়, তবে সেটি তখনই গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি এ ভুল বা অসম্পূর্ণতার কারণে বিভ্রান্ত হয় এবং ন্যায়বিচারে ব্যর্থতা ঘটে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৫ ধারার বিধান: ভুলের প্রভাব:
 - অভিযোগপত্রে অপরাধ বা অপরাধের বিবরণ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা কোনো তথ্য উল্লেখ করতে অসমর্থতা, মামলার যে কোনো পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য হবে না, যদি না এই ভুল বা অসম্পূর্ণতার কারণে অভিযুক্ত প্রকৃতপক্ষে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং এর ফলে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটে।
-------------
→ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 225. Effect of errors: 
- No error in stating either the offence or the particulars required to be stated in the charge, and no omission to state the offence or those particulars, shall be regarded at any stage of the case as material, unless the accused was in fact misled by such error or omission, and it has occasioned a failure of justice.
২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের চতুর্থ কলামে কোন বিষয় নির্ধারণ করা হয়?
  1. অপরাধের শাস্তির পরিমাণ
  2. অপরাধটি জামিনযোগ্য কি না
  3. অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য কি না
  4. প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে না ওয়ারেন্ট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের চতুর্থ কলামে নির্ধারণ করা হয় যে, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে না ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে। এটি মামলার প্রকৃতি এবং আদালতের প্রাথমিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে, যা অপরাধের গুরুত্ব এবং আইনি প্রক্রিয়ার ধরন নির্ধারণে সহায়ক।
অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) অপরাধের শাস্তির পরিমাণ: এটি সপ্তম কলামে উল্লেখ থাকে, চতুর্থ কলামে নয়।
খ) অপরাধটি জামিনযোগ্য কি না: এটি পঞ্চম কলামে উল্লেখ করা হয়।
গ) অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য কি না: এটি ষষ্ঠ কলামে উল্লেখ থাকে।
অতএব, চতুর্থ কলামে শুধুমাত্র সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু সম্পর্কিত বিষয় নির্ধারণ করা হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একটি সারণীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মোট ৮টি কলাম রয়েছে। এই কলামগুলো বিচার প্রক্রিয়া, পুলিশি ক্ষমতা, জামিন, শাস্তি ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়।
- ১ম কলামে উল্লেখ থাকে দণ্ডবিধির (Penal Code) কোন ধারা অনুযায়ী অপরাধটি হয়েছে।
- ২য় কলামে লেখা থাকে সেই ধারার অধীনে অপরাধটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
- ৩য় কলামে বলা হয়, পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে কি না, অর্থাৎ এটি আমলযোগ্য (Cognizable) না আমল-অযোগ্য (Non-cognizable)।
- ৪র্থ কলামে বলা থাকে, প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে না ওয়ারেন্ট, তা নির্ধারণ করা হয়।
- ৫ম কলামে উল্লেখ থাকে অপরাধটি জামিনযোগ্য (Bailable) না জামিন-অযোগ্য (Non-bailable)।
- ৬ষ্ঠ কলামে বলা হয় অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কি না — অর্থাৎ ভুক্তভোগী চাইলেই কি সেটি মিটমাট করে নিতে পারে।
- ৭ম কলামে উল্লেখ থাকে সংশ্লিষ্ট ধারায় নির্ধারিত শাস্তির পরিমাণ।
- ৮ম তথা শেষ কলামে বলা হয়, সেই অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার কোন আদালতের আছে।

২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক অনুসারে গ্রেফতারের সময় পুলিশ অফিসারের কী থাকতে হবে?
  1. গ্রেফতারি পরোয়ানা
  2. সরকারি গাড়ি
  3. সাদা পোশাক পরা
  4. পরিষ্কার ও দৃশ্যমান নাম পরিচয়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক (ক) অনুসারে, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ কর্মকর্তার সঠিক, দৃশ্যমান এবং পরিষ্কার নাম পরিচয় থাকতে হবে, যা সহজে শনাক্তকরণের সুবিধা প্রদান করে।
সঠিক উত্তর: ঘ) পরিষ্কার ও দৃশ্যমান নাম পরিচয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক: গ্রেফতারের পদ্ধতি এবং গ্রেফতারকারী অফিসারের কর্তব্য:
গ্রেফতার করার সময়, পুলিশ অফিসার বা অন্য যে ব্যক্তি গ্রেফতার করে, তাকে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবে—
১. (ক) তার নাম স্পষ্ট, পরিচিতিযোগ্য এবং সহজে বোঝার মতোভাবে ধারণ করতে হবে, যাতে পরিচয় সহজ হয়।
২. (খ) নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং চাহিদা হলে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে এবং গ্রেফতারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের তার পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
৩. (গ) গ্রেফতারের একটি স্মারকলিপি তৈরি করতে হবে, যা—
(i) অন্তত একজন সাক্ষীর সাক্ষরিত থাকবে; ওই সাক্ষী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্মানিত নাগরিক হতে হবে। যদি এমন কেউ না থাকে, তবে তার কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
(ii) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা অঙ্গুলিমুদ্রা থাকবে, যদি সে প্রত্যাখ্যান না করে।
৪. (ঘ) যদি গ্রেফতার স্থান তার বাসার বাইরে হয়, তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার, আত্মীয় বা তার নিজ নির্বাচিত বন্ধুকে যত দ্রুত সম্ভব কিন্তু গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের জায়গার খবর দিতে হবে।
৫. (ঙ) যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে তাকে মেডিকেল অফিসার বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে হবে, মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে এবং আঘাতের কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
৬. (চ) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি চাইলে, গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার অথবা পরিবারের কাছাকাছি কারো সাথে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।

২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩৯ ধারা কী বিষয়ে আলোচনা করে?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণের পদ্ধতি
  2. নতুন তদন্তের পদ্ধতি
  3. যৌথভাবে অভিযোগ ও বিচারের শর্ত
  4. একক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: যৌথভাবে অভিযোগ ও বিচারের শর্ত।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩৯ ধারা আদালতকে অনুমতি দেয় একই লেনদেনে সংঘটিত অপরাধের জন্য একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একসঙ্গে অভিযোগ গঠন এবং একত্রে বিচার করার। এতে যারা একই অপরাধে অভিযুক্ত বা সহায়তা বা চেষ্টা করার জন্য অভিযুক্ত, অথবা একই ধরনের একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত, তারা একসঙ্গে বিচার হতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩৯ ধারার বিধান নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের একসঙ্গে অভিযোগ আনা এবং বিচার করা যেতে পারে:
(ক) যারা একই অপরাধে অভিযুক্ত এবং সেই অপরাধ একই লেনদেনের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।
(খ) যারা এক অপরাধে অভিযুক্ত এবং যারা সেই অপরাধে সহায়তা করার জন্য বা সেই অপরাধ করার চেষ্টা করার জন্য অভিযুক্ত।
(গ) যারা একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত, যেগুলি ধারা ২৩৪ অনুযায়ী একসঙ্গে এক বছর সময়সীমার মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।
(ঘ) যারা বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত, যা একই লেনদেনের মধ্যে ঘটেছে।
(ঙ) যারা চুরি, দখলদারি, বা অপরাধমূলকভাবে সম্পত্তি দখলের জন্য অভিযুক্ত, এবং যারা সেই অপরাধের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পত্তি গ্রহণ, সংরক্ষণ, বা রক্ষা করার জন্য অভিযুক্ত, অথবা সেই অপরাধের সহায়তা বা চেষ্টা করার জন্য অভিযুক্ত।
(চ) যারা দণ্ডবিধির ধারা ৪১১ এবং ৪১৪ অনুযায়ী চুরির সম্পত্তি গ্রহণের জন্য অভিযুক্ত, যেখানে সেই সম্পত্তির মালিকানা এক অপরাধে স্থানান্তরিত হয়েছে।
(ছ) যারা দণ্ডবিধির অধ্যায় ১২-এর আওতায় ভুয়া মুদ্রার সম্পর্কিত অপরাধে অভিযুক্ত এবং যারা একই মুদ্রার সাথে সম্পর্কিত অন্য অপরাধে অভিযুক্ত, অথবা সেই অপরাধের সহায়তা বা চেষ্টা করার জন্য অভিযুক্ত।
এই শর্তগুলি পূর্বের অংশের বিধি অনুসারে প্রযোজ্য হবে।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure,1898 Section- 239. What persons may be charged jointly:
The following persons may be charged and tried together, namely:- 
(a) persons accused of the same offence committed in the course of the same transaction; 
(b) persons accused of an offence and persons accused of abetment, or of an attempt to commit such offence; 
(c) persons accused of more than one offence of the same kind, within the meaning of section 234 committed by them jointly within the period of twelve months; 
(d) persons accused of different offences committed in the course of the same transaction; 
(e) persons accused of an offence which includes theft, extortion, or criminal misappropriation, and persons accused of receiving or retaining, or assisting in the disposal or concealment of, property possession of which is alleged to have been transferred by any such offence committed by the first-named persons, or of abetment of or attempting to commit any such last named offence; 
(f) persons accused of any offence under sections 411 and 414 of the Penal Code or either of those sections in respect of stolen property the possession of which has been transferred by one offence; and 
(g) persons accused of any offence under Chapter XII of the Penal Code relating to counterfeit coin, and persons accused of any other offence under the said Chapter relating to the same coin, or of abetment of or attempting to commit any such offence; 
and the provisions contained in the former part of this Chapter shall, so far as may be, apply to all such charges.
২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০০ অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করার পর কী করতে হবে?
  1. পরোয়ানা ধ্বংস করতে হবে
  2. পরোয়ানা সংরক্ষণ করতে হবে
  3. পরোয়ানা পুলিশ স্টেশনে জমা দিতে হবে
  4. পরোয়ানা ইস্যুকারী আদালতে ফেরত দিতে হবে
ব্যাখ্যা

-ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০০ অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করার পর পরোয়ানা ইস্যুকারী আদালতে ফেরত দিতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০০ ধারার বিধান: দণ্ড কার্যকর করার পর ফেরত: যেক্ষেত্রে কোন দণ্ড সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হইয়াছে, সেক্ষেত্রে যে পদ্ধতিতে তা কার্যকর করা হয়েছে সম্পাদনকারী অফিসার উহার সত্যতা অনুমোদন পূর্বক স্বহস্তে পৃষ্ঠাঙ্কনসহ পরোয়ানাটি তার ইস্যুকারী আদালত বরাবর ফেরত দিবেন।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-400: Return of warrant on execution of sentence:
When a sentence has been fully executed, the officer executing it shall return the warrant to the Court from which it issued, with an endorsement under his hand certifying the manner in which the sentence has been executed. 

৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৩ অনুসারে, কোন মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষীদের বক্তব্য লিখে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে না?
  1. আপিলযোগ্য মামলা
  2. আপিলঅযোগ্য মামলা
  3. জামিনযোগ্য মামলা
  4. উল্লিখিত সকল মামলায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৩ ধারা অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারের যে সকল মামলা আপিলযোগ্য নয়, সেই সকল মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষীদের সাক্ষ্য লিখে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে না। তবে ম্যাজিস্ট্রেটকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরম্যাটে মামলার প্রধান তথ্য যেমন অভিযোগের তারিখ, অভিযুক্তের নাম, অপরাধের বিবরণ, অভিযুক্তের বক্তব্য ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করতে হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৩ ধারা অনুসারে,সংক্ষিপ্ত বিচারের যে সকল মামলা আপিলযোগ্য নয়,সেই সকল মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের বা ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চের সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার বা আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করার প্রয়োজন নাই,তবে তিনি বা তারা সরকার কর্তৃক নির্দেশিত ফরমে নিম্নলিখিত তথ্য লিপিবদ্ধ করবেন:

(ক) ক্রমিক নম্বর;
(খ) অপরাধ সংঘটনের তারিখ;
(গ) এজহার বা নালিশের তারিখ:
(ঘ) ফরিয়াদির (যদি থাকে) নাম:
(ঙ) নাম, পিতার নাম ও বাসস্থান;
(চ) নালিশি অপরাধ এবং প্রমাণিত অপরাধ (যদি থাকে) এবং ২৬০ ধারার (১) উপধারার (ঘ), (ঙ) বা (ছ) শাখার অন্তর্ভুক্ত ক্ষেত্রে যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ করা হইয়াছে, তার মূল্য;
(ছ) অভিযুক্তের বক্তব্য ও তার জবানবন্দি (যদি থাকে);
(জ) যা সাব্যস্ত করা হল তা এবং দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে কারণসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ;
(ঝ) দণ্ড বা অন্য চূড়ান্ত আদেশ; এবং
(ঞ) বিচার শেষ হবার তারিখ।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure,1898 Section-263. Record in cases where is no appeal:
In cases where no appeal lies, the Magistrate or Bench of Magistrates need not record the evidence of the witnesses or frame a formal charge; but he or they shall enter in such form as the Government may direct the following particulars:- 
(a) the serial number; 
(b) the date of the commission of the offence; 
(c) the date of the report or complaint; 
(d) the name of the complainant ( if any); 
(e) the name, parentage and residence of the accused; 
(f) the offence complained of and the offence (if any) proved, and in cases coming under clause (d), clause (e), clause (f) or clause (g) of sub-section (1) of section 260 the value of the property in respect of which the offence has been committed; 
(g) the plea of the accused and his examination (if any); 
(h) the finding, and, in the case of a conviction, a brief statement of the reasons therefor; 
(i) the sentence or other final order; and 
(j) the date on which the proceedings terminated.
৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮২ কোন ধরনের শাস্তিতে প্রযোজ্য?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. কারাদণ্ড
  3. জরিমানা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮২ অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গর্ভবতী স্ত্রীলোকের শাস্তি স্থগিত করা হয়। হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করাকে বিলম্বিত করতে পারে বা তা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারে। এই ধারা শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ডের জন্য প্রযোজ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারার বিধান গর্ভবতী স্ত্রীলোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতকরণ:
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোন স্ত্রীলোক গর্ভবতী রয়েছে বলে দেখা গেলে হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-382- Postponement of capital sentence on pregnant woman:
If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life.

৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৪ অনুসারে, অভিযোগ প্রণয়নের পর মামলা প্রত্যাহার করলে আসামির কী হবে?
  1. শাস্তি পাবে
  2. খালাস পাবে
  3. জামিন পাবে
  4. নতুন করে বিচার হবে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৪(খ) স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে অভিযোগ প্রণয়নের পর (চার্জ ফ্রেমিং-এর পর) মামলা প্রত্যাহার করা হলে আসামি সংশ্লিষ্ট অপরাধ থেকে খালাস (Acquittal) পাবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার বিধান: মামলা প্রত্যাহারের ফল:-
পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচ্ছে, তার যেকোনো এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং উক্ত প্রত্যাহারের দরুন-
(ক) অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে তা করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দান করতে হবে; এবং
(খ) অভিযোগ প্রণয়নের পর তা করা হলে বা এই বিধির অধীন কোন অভিযোগ প্রণয়ন প্রয়োজন না হলে, উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে খালাস দিতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 494: Effect of withdrawal from prosecution:
Any Public Prosecutor may, with the consent of the Court, before the judgment is pronounced, withdraw from the prosecution of any person either generally or in respect of any one or more of the offences for which he is tried; and upon such withdrawal-
(a) if it is made before a charge has been framed, the accused shall be discharged in respect of such offence or offences;
(b) if it is made after a charge has been framed, or when under Code no charge is required, he shall be acquitted in respect of such offence or offences.

৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪০ অনুসারে, ফৌজদারি আদালতে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির কী অধিকার রয়েছে?
  1. সাক্ষী ছাড়া মামলা পরিচালনার অধিকার
  2. মামলা বাতিলের আবেদন করার অধিকার
  3. কৌঁসুলীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার
  4. সরাসরি বিচারকের সাথে যোগাযোগ করার অধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০(১) ধারা অনুযায়ী, ফৌজদারি আদালতে কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা যার বিরুদ্ধে কার্যক্রম দায়ের করা হয়েছে, তার অধিকার রয়েছে কৌঁসুলীর (Pleader) মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন করার।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারার বিধান:- যাহার বিরুদ্ধে কার্যক্রম দায়ের করা হইয়াছে তাহার আত্মপক্ষ সমর্থন করিবার অধিকার ও সাক্ষী হইবার যোগ্যতা:
(১) ফৌজদারি আদালতে কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির অথবা এরূপ কোন আদালতে এই আইনানুসারে যার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে কৌসুলীর দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার তার থাকবে।
(২) এরূপ কোন আদালতে যার বিরুদ্ধে ১০৭ ধারা অথবা দশম অধ্যায়, একাদশ অধ্যায়, দ্বাদশ অধ্যায়, ষষ্ঠ বিংশ অধ্যায় বা ৫৫২ ধারা অনুসারে মামলা রুজু করা হয়েছে, সেই ব্যক্তি নিম্নে উক্ত মামলার সাক্ষী হিসাবে হাজির হতে পারবে।
(৩) কোন অপরাধের দায়ে ফৌজদারি আদালতে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি আসামি পক্ষে সাক্ষী হওয়ার যোগ্য বা তার সাথে একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য কোন আসামীর বিরুদ্ধে প্রণীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য শপথ গ্রহণপূর্বক সাক্ষ্য দিতে পারবে:
-তবে শর্ত এই যে,
ক) সেই ব্যক্তি নিজে লিখিতভাবে অনুরোধ না করলে তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা হবেনা; অথবা
খ) সে সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হলে মামলার কোন পক্ষ বা আদালত সেই বিষয়ে যে কোন মন্তব্য করতে পারবে না অথবা ইহা দ্বারা তার বিরুদ্ধে বা তার সাথে এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য কোন আসামীর বিরুদ্ধে কোন অনুমানের উদ্ভব হবে না।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 340: Right of person against whom proceedings are instituted to be defended and his competency to be a witness:
(1) Any person accused of an offence before a Criminal Court, or against whom proceedings are instituted under this Code in any such Court, may of right be defended by a pleader. 
(2) Any person against whom proceedings are instituted in any such Court under section 107, or under Chapter X, Chapter XI, Chapter XII or Chapter XXXVI, or under section 552, may offer himself as a witness in such proceedings. 
(3) Any person accused of an offence before a Criminal Court shall be a competent witness for the defence and may give evidence on oath in disproof of the charges made against him or any person charged together with him at the same trial: 
Provided that- 
(a) he shall not be called as a witness except on his own request in writing; or 
(b) his failure to give evidence shall not be made the subject of any comment by any of the parties or the Court or give rise to any presumption against himself or any persons charged together with him at the same trial.
৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারা মূলত কোন পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. সাক্ষীদের অনুপস্থিতির পরিণাম
  2. অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতির পরিণাম
  3. অভিযোগকারীর অনুপস্থিতির পরিণাম
  4. আইনজীবীর অনুপস্থিতির পরিণাম
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ মূলত অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি বিষয়ে কথা বলে। ধারা অনুযায়ী, যদি মামলায় সমন জারি হয়ে অভিযুক্তের হাজিরা নির্দিষ্ট দিনে বা পরে (যে দিন শুনানি মুলতবি করা হয়) হয়, কিন্তু অভিযোগকারী উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণত অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দেবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ অনুযায়ী-
নালিশের ভিত্তিতে যদি সমন জারি করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির হাজির হবার জন্য নির্দিষ্ট দিনে অথবা তার পরবর্তী কোন দিনে (শুনানি মূলতবীর দিন) অভিযোগকারী যদি উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন যদি না কোন কারণে তিনি অন্য কোন দিনে মামলাটির শুনানি মুলতবি করে দেয়া যথাযথ বিবেচনা করেন।
শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে কোন অভিযোগকারী যদি সরকারি কর্মচারী হন এবং যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিমত পোষণ করেন যে, অভিযোগকারীর ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দেয়া অপ্রয়োজনীয় সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ঐরূপ হাজিরা দেয়া হতে অব্যাহতি দিতে পারেন ও মামলায় অগ্রসর হতে পারেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-247.Non-appearance of complainant:
If the summons has been issued on complaint, and upon the day appointed for the appearance of the accused, or any day subsequent thereto which the hearing may be adjourned, the complainant does not appear, the Magistrate shall, notwithstanding anything herein before contained, acquit the accused, unless for some reason he thinks proper to adjoin the hearing of the case to some other day:
Provided that, where the complainant is a public servant and his personal attendance is not required, the Magistrate may dispense with his attendance, and proceed with the case.
৩৫.
আইনানুগভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশে সৈনিক ভিড়ের উপর গুলি করলে এটি অপরাধ নয়। এটি দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী দায়মুক্ত?
  1. ধারা ৭৬
  2. ধারা ৭৭
  3. ধারা ৮০
  4. ধারা ৮৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৭৬ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আইন দ্বারা বাধ্য থাকে, অথবা ঘটনার ভ্রান্তি (mistake of fact)-এর কারণে সদিচ্ছায় নিজেকে আইন দ্বারা বাধ্য মনে করে কোনো কাজ সম্পাদন করে, তবে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
- এই পরিস্থিতিতে, সৈনিক তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনানুগ আদেশ মেনে কাজ করেছে, যা ধারা ৭৬-এর আওতাভুক্ত। তাই এটি একটি দায়মুক্তি (exception) এবং সৈনিক কোনো অপরাধের জন্য দায়ী হবে না।

⇒  দণ্ডবিধির ৭৬ ধারার বিধান- আইনবলে বাধ্য বা ভুল ধারণাবশতঃ নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক সম্পাদিত কার্য:
যে ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনত: বাধ্য বলে কোন কাজ সম্পাদন করলে, অথবা আইনের কাজটি ভুল না করে ঘটনা সম্পর্কে ভুলবশত: কাজটি করতে আইনত: বাধ্য বলে সরল মনে বিশ্বাস করে সে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদন করলে তা অপরাধ হবে না।
উদাহরণসমূহ:
(ক) ক একজন সৈনিক। সে তার উর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশক্রমে আইনের বিধানমতে কোন জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে। ক-এর গুলিবর্ষণ কাজ অপরাধ হবে না।
(খ) বিচারালয়ের জনৈক কর্মকর্তা 'ক' উক্ত বিচারালয় কর্তৃক ম-কে গ্রেফতার করার জন্য আদিষ্ট হয়ে এবং যথাযথ তদন্তের পর 'খ'-কে 'ম' মনে করে 'খ'-কে গ্রেফতার করেন। 'ক' কোন অপরাধ সংঘটন করেন নাই।
---------
⇒The Penal Code, 1860-Section 76: Act done by a person bound, or by mistake of fact believing himself bound, by law:
Nothing is an offence which is done by a person who is, or who by reason of a mistake of fact and not by reason of a mistake of law in good faith believes himself to be, bound by law to do it.
Illustrations:
(a) A, a soldier, fires on a mob by the order of his superior officer, in conformity with the commands of the law. A has committed no offence.
(b) A, an officer of a Court of Justice, being ordered by that Court to arrest Y, and, after due enquiry, believing Z to be Y, arrests Z. A has committed no offence.

৩৬.
‘A’ মিথ্যাভাবে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘Z’-কে প্রতারিত করে এবং তাকে ঋণে পণ্য সরবরাহ করতে প্ররোচিত করে সফল হয়, যা পরিশোধের ইচ্ছা তার ছিল না। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৫ অনুসারে, প্রতারণা (Cheating) হলো কোনো ব্যক্তিকে প্রতারণামূলকভাবে প্ররোচিত করা যাতে সে সম্পত্তি হস্তান্তর করে বা এমন কাজ করে যা সে আইনত করতে বাধ্য নয়, এবং এতে তার ক্ষতি হয় বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখানে, ‘A’ মিথ্যাভাবে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘Z’-কে প্রতারিত করেছে এবং তাকে ঋণে পণ্য সরবরাহ করতে প্ররোচিত করেছে, যা পরিশোধের ইচ্ছা তার ছিল না। এটি স্পষ্টতই প্রতারণার অপরাধ। ধারা ৪১৭ অনুসারে, সাধারণ প্রতারণার শাস্তি হলো ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই। তবে, যদি প্রতারণার ফলে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তবে ধারা ৪২০ (প্রতারণা এবং অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচনা) প্রযোজ্য, যার শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড এবং জরিমানা। এখানে, ‘A’-এর কাজ ধারা ৪২০-এর অধীনে পড়ে, কারণ সে অসৎ উদ্দেশ্যে ‘Z’-কে সম্পত্তি (পণ্য) হস্তান্তরে প্ররোচিত করে সফল হয়েছে।

অর্থাৎ ‘A’-এর কাজ ধারা ৪২০-এর অধীনে প্রতারণা এবং অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচনা হিসেবে গণ্য, এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) ৭ বছরের কারাদণ্ড।
---- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section 420. Cheating and dishonestly inducing deliver of property:
Whoever cheats and thereby dishonestly induces the person deceived to deliver any property to any person, or to make, alter or destroy the whole or any part of a valuable security, or anything which is signed or sealed, and which is capable to being converted into a valuable security, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

৩৭.
পাবলিক জায়গায় দুজন বা ততোধিক ব্যক্তি লড়াই করে জনশান্তি বিঘ্নিত করলে তাকে কী বলা হয়?
  1. Rioting
  2. Affray
  3. Public nuisance
  4. Unlawful assembly
ব্যাখ্যা

⇒ দুজন বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো পাবলিক জায়গায় পরস্পরের সাথে লড়াই করে এবং তা দেখে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়, তখন সেই অপরাধটি Affray (আফ্রে) বা "জনসমক্ষে হুল্লোড় বা মারামারি" নামে পরিচিত। এটি দণ্ডবিধির Section 159 এ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

- Rioting (দাঙ্গা) হলো পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির unlawful assembly (বেআইনি জমায়েত) দ্বারা সহিংসতা বা disturbance সৃষ্টি করা (Section 146)।
- Public nuisance (জনউপদ্রব) হলো এমন কোনো কাজ যা সাধারণ জনগণের inconvenient বা harmful (Section 268)।
- Unlawful assembly (বেআইনি জমায়েত) হলো পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির এমন সমাবেশ যাদের সাধারণ অবৈই লক্ষ্য থাকে (Section 141)।
- যেহেতু প্রশ্নে শুধু দুজন বা ততোধিক ব্যক্তির লড়াই এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করার কথা উল্লেখ আছে, তাই এটি Affray এর সংজ্ঞার সাথে মেলে।

- "Affray" বা সড়ক মারামারি সংঘটিত হওয়ার জন্য জনসাধারণের শান্তি বিঘ্নিত হওয়া অপরিহার্য। এটি দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারায় উল্লেখিত যে, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে মারামারি করলে জনশান্তি বিঘ্নিত হয় এবং এটি "Affray" হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামারি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারার বিধান মারামারির শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-159. Affray:
When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".
⇒ The Penal Code, 1860- Section-160. Punishment for committing affray:
Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.

৩৮.
‘A’ জনসমক্ষে বলে, “Z একজন সৎ ব্যক্তি নন, তিনি B-এর ঘড়ি চুরি করেছেন,” এই উদ্দেশ্যে যাতে Z-এর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। এটি সত্য নয় এবং কোনো ব্যতিক্রমের আওতায় পড়ে না। দণ্ডবিধির বিধান অনুসারে এই অপরাধের নাম কী?
  1. প্রতারণা
  2. মানহানি
  3. ক্ষতিসাধন
  4. মিথ্যা অভিযোগ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বা জেনেশুনে যে এটি সুনাম ক্ষুণ্ন করবে, এমনভাবে মুখে, লিখিতভাবে, চিহ্নের মাধ্যমে, বা দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে অভিযোগ করা মানহানি (Defamation) হিসেবে গণ্য। এখানে, ‘A’ জনসমক্ষে বলেছে যে “Z একজন সৎ ব্যক্তি নন, তিনি B-এর ঘড়ি চুরি করেছেন,” যা মিথ্যা এবং Z-এর সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যতিক্রমের (Exceptions) আওতায় পড়ে না, তাই ধারা ৪৯৯-এর অধীনে মানহানি হিসেবে গণ্য। ধারা ৫০০ অনুসারে, এই অপরাধের শাস্তি হলো ২ বছর পর্যন্ত সাধারণ কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই।

অর্থাৎ ‘A’-এর কাজ ধারা ৪৯৯-এর অধীনে মানহানি হিসেবে গণ্য। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) মানহানি।

৩৯.
দণ্ডবিধির ধারা ১৩৩ অনুসারে, কোনো সৈনিক, নাবিক বা বিমানসেনা কর্তৃক তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপর আক্রমণে প্ররোচনার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১৩৩ অনুসারে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমান বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বিমানসেনা কর্তৃক তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপর, তিনি দায়িত্ব পালনকালে, আক্রমণে প্ররোচনার শাস্তি হলো যেকোনো ধরনের কারাদণ্ড, যা সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং জরিমানাও হতে পারে।
--------- 
⇒The Penal Code, 1860- Section-133. Abetment of assault by soldier, sailor or airman on his superior officer, when in execution of his office:
Whoever, abets an assault by an officer, soldier, sailor or airman, in the Army, Navy or Air Force of Bangladesh, on any superior officer being in the execution of his office, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.

৪০.
দণ্ডবিধির ধারা ১৪৪ অনুসারে, মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে অবৈধ সমাবেশে যোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১৪৪ অনুসারে, যে কেউ মারাত্মক অস্ত্র বা এমন কিছু নিয়ে অবৈধ সমাবেশে যোগ দেয়, যা অপরাধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হলে মৃত্যু ঘটাতে পারে, তাকে যে কোনো ধরনের কারাদণ্ডে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত দণ্ডিত করা যেতে পারে, অথবা জরিমানা, অথবা উভয়ই।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারার বিধান মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বে-আইনী সমাবেশে যোগদান করা :- কোন ব্যক্তি যদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটতে পারে তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদান করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-144: Joining unlawful assembly armed with deadly weapon:-
- Whoever, being armed with any deadly weapon, or with anything which, used as a weapon of offence, is likely to cause death, is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৪১.
দণ্ডবিধির ধারা ১১৫ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ড বা জীবনাদায়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্ররোচনা যদি সম্পন্ন না হয়, তবে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. কোনো শাস্তি হবে না
ব্যাখ্যা

⇒  দণ্ডবিধির ধারা ১১৫ অনুসারে, যদি মৃত্যুদণ্ড বা জীবনাদায়ে শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধের প্ররোচনা সম্পন্ন না হয় এবং এই ধরনের প্ররোচনার শাস্তির জন্য কোডে কোনো বিশেষ বিধান না থাকে, তবে প্ররোচককে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো ধরনের কারাদণ্ড এবং জরিমানা দেওয়া যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১১৫ ধারার বিধান- মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের উস্কানি দেওয়া - যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়; যদি ক্ষতি সৃষ্টিকারী কার্য সম্পাদিত হয়:
যে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটিত করার জন্য উস্কানি দেয়, কিন্তু উস্কানির ফলে ওই অপরাধ সংঘটিত না হয় এবং এই দণ্ডবিধিতে উস্কানির শাস্তির জন্য কোনো বিশেষ বিধান না থাকে, তাকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হতে পারে;
এবং যদি কোনো এমন কার্য, যার জন্য উস্কানিদাতা দণ্ডনীয়, এবং যার কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সংঘটিত হয়, তাহলে উস্কানিদাতা ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 115.  Abetment of offence punishable with death or imprisonment for life- if offence be not committed; if act causing harm be done in consequence:
Whoever abets the commission of an offence punishable with death or 31[imprisonment] for life, shall, if that offence be not committed in consequence of the abetment, and no express provision is made by this Code for the punishment of such abetment, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
-and if any act for which the abettor is liable in consequence of the abetment, and which causes hurt to any person, is done, the abettor shall be liable to imprisonment of either description for a term which may extend to fourteen years, and shall also be liable to fine. 

Illustration
A instigates B to murder Z. The offence is not committed. If B had murdered Z, he would have been subject to the punishment of death or 32[imprisonment] for life. Therefore A is liable to imprisonment for a term which may extend to seven years and also to a fine; and, if any hurt be done to Z in consequence of the abetment, he will be liable to imprisonment for a term which may extend to fourteen years, and to fine.

৪২.
দণ্ডবিধির ধারা ১৭০ অনুসারে, সরকারি কর্মচারীর ভান করে কোনো কাজ করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১৭০ অনুসারে, যে কেউ জেনেশুনে এমন কোনো সরকারি কর্মচারীর পদে থাকার ভান করে, যে পদে তিনি নেই, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির পদে থাকার ভান করে এবং এই ভান করে কোনো কাজ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তিনি যে কোনো ধরনের কারাদণ্ডে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত, জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭০ ধারার বিধান: ভুয়া সরকারী কর্মচারী বলিয়া পরিচয় দেওয়া:
- কোন ব্যক্তি যদি কোন পদে অধিষ্ঠিত নয় বলে জানা সত্ত্বেও সে পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে বলে পরিচয় দেয় অথবা অন্য যে ব্যক্তি যে পদে অধিষ্ঠিত আছে নিজেকে সে পদে অধিষ্ঠিত সে ব্যক্তি বলে ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং এইরূপ মিথ্যা ছদ্মবেশ ধারণ করে সে পদের অধিকার বলে কোন কাজ করে বা করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম করাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------
⇒ The Penal Code,1860, Section-170: Personating a public servant:
- Whoever pretends to hold any particular office as a public servant, knowing that he does not hold such office or falsely personates any other person holding such office, and in such assumed character does or attempts to do any act under colour of such office, shall be punished with imprisonment of either description, for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৪৩.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী কোন ধরনের সম্পত্তি চুরির বিষয়বস্তু হতে পারে?
  1. মেধা সম্পত্তি
  2. স্থাবর সম্পত্তি
  3. অস্থাবর সম্পত্তি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৮ অনুসারে, চুরি (Theft) হলো কোনো ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তি (Movable Property) তার সম্মতি ছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা, যাতে সেই সম্পত্তি তার দখল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
- মেধা সম্পত্তি (Intellectual Property): এটি চুরির বিষয়বস্তু হতে পারে না, কারণ এটি অস্থাবর সম্পত্তি নয়। মেধা সম্পত্তি, যেমন কপিরাইট বা পেটেন্ট, অন্য আইনের (যেমন কপিরাইট আইন) অধীনে সুরক্ষিত থাকে।
- স্থাবর সম্পত্তি (Immovable Property): যেমন জমি বা বাড়ি, চুরির বিষয়বস্তু হতে পারে না, কারণ চুরির সংজ্ঞা অনুযায়ী সম্পত্তি অবশ্যই অস্থাবর হতে হবে।
- অস্থাবর সম্পত্তি (Movable Property): দণ্ডবিধির ধারা ২২-এ সংজ্ঞায়িত, যা শারীরিকভাবে স্থানান্তরযোগ্য এবং যা চুরির বিষয়বস্তু হতে পারে, যেমন টাকা, গয়না, গাড়ি ইত্যাদি।
- কোনটি নয়: এটি সঠিক নয়, কারণ অস্থাবর সম্পত্তি চুরির বিষয়বস্তু হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।

৪৪.
The Penal Code এর বিধান অনুসারে “Person” শব্দের মানে কী?
  1. শুধুমাত্র নারী ব্যক্তি
  2. শুধুমাত্র পুরুষ ব্যক্তি
  3. শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি
  4. ব্যক্তি, কোম্পানি বা কোন প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২য় অধ্যায়ের ৬ থেকে ৫২ক ধারার সাধারণ ব্যাখ্যা (General Explanation) অংশে দণ্ডবিধিতে ব্যবহৃত কতিপয় শব্দের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ১১ ধারায় ব্যক্তি (Person) সংজ্ঞা রয়েছে।
- দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১১ অনুযায়ী: “Person” বলতে বোঝায় – যে কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, সমিতি (Association), বা যেকোনো ব্যক্তি-সমষ্টি, সেটা নিবন্ধিত/কর্পোরেট হোক বা না হোক।
অর্থাৎ Person = Individual + Company + Association + Body of Persons.
-------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 11: “Person”:
- The word “person” includes any Company or Association, or body of persons, whether incorporated or not.

৪৫.
দণ্ডবিধির ধারা ৪০৫ অনুসারে, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মূল উপাদান কী?
  1. সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়
  2. সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর
  3. সম্পত্তির মালিকের সম্মতিতে ব্যবহার
  4. অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি আত্মসাৎ বা ব্যবহার
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪০৫ অনুসারে, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust) হলো যখন কোনো ব্যক্তি, যিনি কোনো সম্পত্তি বা সম্পত্তির উপর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন, অসৎ উদ্দেশ্যে সেই সম্পত্তি আত্মসাৎ করে, নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, বা আইনি নির্দেশ বা চুক্তি লঙ্ঘন করে সেই সম্পত্তি ব্যবহার বা নিষ্পত্তি করে, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কাউকে তা করতে দেয়। এই অপরাধের মূল উপাদান হলো:
দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়া (Entrustment): ব্যক্তিকে সম্পত্তি বা তার উপর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অসাধুতা (Dishonesty): সম্পত্তি আত্মসাৎ, ব্যবহার বা নিষ্পত্তি অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়।
আইন বা চুক্তি লঙ্ঘন: সম্পত্তির ব্যবহার বা নিষ্পত্তি আইনের নির্দেশ বা প্রকাশ্য/অপ্রকাশ্য চুক্তির বিপরীত হতে হবে।
ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে অনুমতি দেওয়া: ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কাউকে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করতে দেওয়াও এই অপরাধের আওতায় পড়ে।
অর্থাৎ অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মূল উপাদান হলো অসৎ উদ্দেশ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পত্তি আত্মসাৎ বা ব্যবহার করা, যা ধারা ৪০৫-এর সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

⇒ দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারার বিধান অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ:- কোন ব্যক্তি যদি কোনভাবে কোন সম্পত্তির বা সম্পত্তি পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, অসাধুভাবে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, অথবা অনুরূপ দায়িত্ব যেভাবে নির্বাহিত হত বলে বিহিত আইনে নির্দেশ করা হয়েছে, তা খেলাফ করে সে দায়িত্ব নির্বাহ সম্পর্কে সে প্রকাশ্য বা অনুরূপ যে আইনগত চুক্তি করেছে তা খেলাফ করে সে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করে, বা বিলি ব্যবস্থা করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক অপর কোন ব্যক্তিকে তা করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের' অপরাধ করেছে।
------------
⇒The Penal Code, 1860,-Section 405. Criminal breach of trust:
 Whoever, being in any manner entrusted with property, or with any dominion over property, dishonestly misappropriates or converts to his own use that property, or dishonestly uses or disposes of that property in violation of any direction of law prescribing the mode in which such trust is to be discharged, or of any legal contract, express or implied, which he has made touching the discharge of such trust, or wilfully suffers any other person so to do, commits "criminal breach of trust".

৪৬.
বড় ক্ষতি ঠেকাতে ছোট ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করলে অপরাধ নয়। এটি দণ্ডবিধির কোন ধারা দ্বারা স্বীকৃত?
  1. ধারা ৭৯
  2. ধারা ৮১
  3. ধারা ৮৫
  4. ধারা ৮৭
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৮১ অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া ও সদিচ্ছায় যদি কেউ বৃহত্তর ক্ষতি এড়াতে কোনো কাজ করে, তবে সেই কাজ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলেও অপরাধ নয়।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ধারা ৮১: ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও অপর ক্ষতি প্রতিরোধে ও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ব্যতীত কাজ করলে তা অপরাধ নয়:

যদি কোনো কাজ এমন জেনে-বুঝেই করা হয় যে, তাতে ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও সেই কাজটি কারো প্রতি ক্ষতি সাধনের অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ব্যতীত এবং সদাশয়ভাবে (good faith) করা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তির প্রতি অন্য একটি ক্ষতি প্রতিরোধ বা পরিহারের উদ্দেশ্যে, তাহলে তা মাত্ৰ এই কারণে অপরাধ বলে গণ্য হবে না যে, সেটি ক্ষতির সম্ভাবনা রাখে।
ব্যাখ্যা: এই ধরনের ক্ষেত্রে, যেই ক্ষতি প্রতিরোধ বা পরিহার করা হচ্ছিল, সেটি কতটা প্রকৃত ও তাৎক্ষণিক ছিল, এবং সেই কারণে ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাজটি করা যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য ছিল কি না, তা বাস্তব প্রশ্ন (question of fact) হিসেবে বিবেচিত হবে।
------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 81: Act likely to cause harm, but done without criminal intent and to prevent other harm:
Nothing is an offence merely by reason of its being done with the knowledge that it is likely to cause harm, if it be done without any criminal intention to cause harm, and in good faith for the purpose of preventing or avoiding other harm to person or property.
Explanation:-It is a question of fact in such a case whether the harm to be prevented or avoided was of such a nature and so imminent as to justify or excuse the risk of doing the act with the knowledge that it was likely to cause harm.

৪৭.
দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় কোন সম্পত্তি চোরাই মাল বলে বিবেচিত হয়?
  1. বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি
  2. দস্যুতা দ্বারা হস্তান্তরিত সম্পত্তি
  3. অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গকৃত সম্পত্তি
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪১০ অনুসারে, "চোরাই সম্পত্তি" (Stolen Property) বলতে এমন সম্পত্তিকে বোঝায় যার দখল নিম্নলিখিত উপায়ে হস্তান্তরিত হয়েছে বা যা নিম্নলিখিত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে:
→ চুরি (Theft): ধারা ৩৭৮-এর অধীনে সংজ্ঞায়িত, যেখানে অসৎ উদ্দেশ্যে অস্থাবর সম্পত্তি মালিকের সম্মতি ছাড়া সরিয়ে নেওয়া হয়।
→ জোরপূর্বক আদায় (Extortion): ধারা ৩৮৩-এর অধীনে, যেখানে ভয় দেখিয়ে বা জোর করে সম্পত্তি গ্রহণ করা হয়।
→ দস্যুতা (Robbery): ধারা ৩৯০-এর অধীনে, যা চুরি বা জোরপূর্বক আদায়ের সাথে সহিংসতা বা ভয়ের উপাদান জড়িত।
→ অপরাধমূলক আত্মসাৎ (Criminal Misappropriation): ধারা ৪০৩-এর অধীনে, যেখানে অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি নিজের বা অন্যের ব্যবহারে প্রয়োগ করা হয়।
→ অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust): ধারা ৪০৫-এর অধীনে, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পত্তি অসৎ উদ্দেশ্যে আত্মসাৎ বা ব্যবহার করা হয়।
- এই সম্পত্তি বাংলাদেশের মধ্যে বা বাইরে এই অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত হলেও চোরাই সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। তবে, যদি এই সম্পত্তি আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির হাতে চলে আসে, তবে তা আর চোরাই সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে না।

অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি: সঠিক, কারণ জোরপূর্বক আদায় (Extortion) দ্বারা অর্জিত সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি হিসেবে গণ্য।
খ) দস্যুতা দ্বারা হস্তান্তরিত সম্পত্তি: সঠিক, কারণ দস্যুতা (Robbery) দ্বারা হস্তান্তরিত সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তির আওতায় পড়ে।
গ) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গকৃত সম্পত্তি: সঠিক, কারণ অপরাধমূলক আত্মসাৎ (ধারা ৪০৩) এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (ধারা ৪০৫) দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিও চোরাই সম্পত্তি।
ঘ) উপরের সবগুলোই: সঠিক, কারণ ধারা ৪১০-এ উল্লিখিত সকল উপায়ে (চুরি, জোরপূর্বক আদায়, দস্যুতা, অপরাধমূলক আত্মসাৎ, এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ) অর্জিত সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলোই। 

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান চোরাই সম্পত্তি:- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
---------
⇒ The Penal Code, 1860,Section 410. Stolen property:
Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.

৪৮.
দণ্ডবিধির ধারা ২১২ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২১২ অনুসারে, যে কেউ জেনেশুনে বা যুক্তিসঙ্গত কারণে বিশ্বাস করে যে কোনো ব্যক্তি অপরাধী এবং তাকে আইনি শাস্তি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে আশ্রয় দেয় বা লুকিয়ে রাখে, তিনি নিম্নলিখিত শাস্তির জন্য দায়ী হবেন:
→ যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হয়, তবে শাস্তি হবে ৫ বছর পর্যন্ত যে কোনো ধরনের কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
→ যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য হয়, তবে শাস্তি হবে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
→ যদি অপরাধটি ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য হয় (১০ বছরের কম), তবে শাস্তি হবে সেই অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়ই।
ব্যতিক্রম: এই বিধান স্বামী বা স্ত্রী কর্তৃক অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
--------
⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া, অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হইলে:
কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-
-দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
-দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সে অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
অত্র ধারার অপরাধ বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।

ব্যতিক্রম:- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 212. Harbouring offender if a capital offence; if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment
Whenever an offence has been committed, whoever harbours or conceals a person whom he knows or has reason to believe to be the offender, with the intention of screening him from legal punishment, 
shall, if the offence is punishable with death, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, and shall also be liable to fine; 
and if the offence is punishable with 70[imprisonment] for life or with imprisonment which may extend to ten years, shall be, punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine; 
and if the offence is punishable with imprisonment which may extend to one year, and not to ten years, shall be punished with imprisonment of the description provided for the offence for a term which may extend to one-fourth part of the longest term of imprisonment provided for the offence, or with fine, or with both. 
"Offence" in this section includes any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would be punishable under any of the following sections, namely, 302, 304, 382, 392, 393, 394, 395 396, 397, 398, 399, 402, 435, 436, 449, 450, 457, 458, 459 and 460; and every such act shall, for the purposes of this section, be deemed to be punishable as if the accused person had been guilty of it in Bangladesh. 
 
Exception: This provision shall not extend to any case in which the harbour or concealment is by the husband or wife of the offender.

৪৯.
‘E’ জেনেশুনে একটি জাল ব্যাংক-নোট দখলে রাখে এবং তা সত্য বলে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে রাখে। দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুসারে 'E' এর অপরাধটি শাস্তিযোগ্য?
  1. ধারা ৪৮৯ক
  2. ধারা ৪৮৯খ
  3. ধারা ৪৮৯গ
  4. ধারা ৪৮৯ঘ
ব্যাখ্যা

⇒ ‘E’ জেনেশুনে একটি জাল ব্যাংক-নোট দখলে রাখে এবং তা সত্য বলে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে রাখে। দণ্ডবিধি (Penal Code) অনুসারে, এই অপরাধটি ধারা ৪৮৯গ (Section 489C) এর অধীনে শাস্তিযোগ্য।
⇒ ধারা ৪৮৯গ এ বলা আছে: যে কেউ জেনেশুনে বা বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকা সত্ত্বেও কোনো জাল বা নকল মুদ্রা-নোট বা ব্যাংক-নোট দখলে রাখে এবং তা সত্য বলে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে রাখে, সে উভয় প্রকারের কারাদণ্ডে, যা সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
- সঠিক উত্তর: গ) ধারা ৪৮৯গ।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-489C. Possession of forged or counterfeit currency-notes or bank-notes:
Whoever has in his possession any forged or counterfeit currency-note or bank-note, knowing or having reason to believe the same to be forged or counterfeit and intending to use the same as genuine or that it may be used as genuine, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, or with fine, or with both.

৫০.
আসামি ‘B’ পুলিশ হেফাজতে বলে, “আমি ছুরিটি নদীর ধারে ফেলেছি যা দিয়ে আমি অপরাধ করেছি।” পুলিশ সেই স্থান থেকে ছুরিটি উদ্ধার করে। সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে এই ঘটনা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. ধারা ২৪
  2. ধারা ২৫
  3. ধারা ২৬
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ২৭ ধারা অনুসারে, পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামির দেওয়া তথ্যের সেই অংশটি আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য, যা সরাসরি কোনো আলামত (যেমন ছুরি) উদ্ধারের সাথে সম্পর্কিত। এই ক্ষেত্রে, আসামি ‘B’-এর তথ্যের ভিত্তিতে ছুরিটি উদ্ধার হয়েছে, তাই এটি ২৭ ধারার অধীনে গ্রহণযোগ্য।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ধারা ২৪: জোরপূর্বক বা প্রলোভনের মাধ্যমে প্রাপ্ত স্বীকারোক্তি অগ্রহণযোগ্য।
ধারা ২৫: পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়।
ধারা ২৬: পুলিশ হেফাজতে দেওয়া স্বীকারোক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে না হলে গ্রহণযোগ্য নয়।

- সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী- আসামীর নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে যদি আলামত উদ্ধার হয়, তাহলে উক্ত স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যেতে পারে।
- সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা: আসামীর নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য কতটুকু প্রমাণ হতে পারে:
পুলিশ অফিসারের হেফাজতে থাকা কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য হতে প্রাপ্ত কোন তথ্যে, যদি এমন বিষয় উদঘাটিত হয় যা ঘটনার সাথে স্পষ্টরূপে সম্পর্কযুক্ত হয় তবে তা দোষ স্বীকার হোক বা না হোক প্রমাণ করা যেতে পারে।
------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section 27: How much of information received from accused may be proved:
Provided that, when any fact is deposed to as discovered in consequence of information received from a person accused of any offence, in the custody of a police officer, so much of such information, whether it amounts to a confession or not, as relates distinctly to the fact thereby discovered, may be proved.

৫১.
‘A’ একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কারণে ‘B’-এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করে। দুর্ঘটনায় ‘A’-এর গাড়ির ক্ষতি এবং চিকিৎসা ব্যয়ের প্রমাণ পেশ করা হয়। সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে এই তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১২
  4. ধারা ১৩
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ১২ ধারা অনুসারে, ক্ষতিপূরণের মামলায় যে তথ্য আদালতকে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে সহায়তা করে, তা প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এখানে ‘A’-এর গাড়ির ক্ষতি এবং চিকিৎসা ব্যয়ের প্রমাণ ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে সরাসরি সহায়ক, তাই এটি ধারা ১২-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক।
- অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ধারা ১০: ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক তথ্য সম্পর্কিত।
ধারা ১১: কোনো ঘটনার সম্ভাব্যতা বা অসম্ভাব্যতা প্রমাণে তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণ করে।
ধারা ১৩: সম্পত্তির অধিকার বা দাবি সম্পর্কিত মামলায় প্রাসঙ্গিক তথ্য নির্ধারণ করে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ধারা-১২: ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক তথ্য:
যে সকল দেওয়ানি মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়, সেক্ষেত্রে যে কোন তথ্য যা আদালতকে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে সহায়তা করবে, তা প্রাসঙ্গিক।
অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, যে কোনো ঘটনা যা আদালতকে মামলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সহায়তা করে, সেগুলোকে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য করা হবে।
------------ 
⇒The Evidence Act,1872, Section-12. In suits for damages, facts tending to enable Court to determine amount are relevant:
 In suits in which damages are claimed, any fact which will enable the Court to determine the amount of damages which ought to be awarded, is relevant.

৫২.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে "ডিজিটাল রেকর্ড" এর সংজ্ঞায় নিচের কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ডিভিডি রেকর্ড
  2. সিসিটিভি রেকর্ড
  3. হস্তলিখিত চিঠি
  4. কম্পিউটার মেমোরি
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুসারে, "ডিজিটাল রেকর্ড" বা "ইলেকট্রনিক রেকর্ড" বলতে এমন রেকর্ড, ডেটা বা তথ্য বোঝায় যা ম্যাগনেটিক, ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমোরি, মাইক্রোফিল্ম, ডিজিটাল ভার্সাটাইল ডিস্ক (ডিভিডি), সিসিটিভি রেকর্ড, ড্রোন ডেটা, সেল ফোনের রেকর্ড, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে তৈরি, প্রস্তুত, প্রেরিত, গৃহীত বা সংরক্ষিত হয়, যেমনটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০১৮-এ সংজ্ঞায়িত।
- হস্তলিখিত চিঠি একটি ডিজিটাল মাধ্যম নয়, তাই এটি "ডিজিটাল রেকর্ড"-এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
--------
- [“Digital record" or “electronic record” means any record, data or information generated, prepared, sent, received or stored in magnetic or electro-magnetic, optical, computer memory, micro film, computer generated micro fiche including audio, video, Digital Versatile Disc or Digital Video Disc (DVD), records of Closed Circuit Television (CCTV), drone data, records from cell phone, hardware, software or any other digital device as defined in Digital Security Act, 2018 (Act No. 46 of 2018)]

৫৩.
সাক্ষ্য আইনে "সাক্ষ্য" (Evidence) কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুসারে, "সাক্ষ্য" (Evidence) তিন প্রকারে বিভক্ত: 
১. মৌখিক সাক্ষ্য (Oral Evidence): আদালতের সামনে সাক্ষীদের দেওয়া বক্তব্য, যা তদন্তাধীন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত।
২. দলিলি সাক্ষ্য (Documentary Evidence): আদালতের পরিদর্শনের জন্য পেশ করা নথি বা ডকুমেন্ট।
৩. ভৌত বা ফরেনসিক সাক্ষ্য (Physical or Forensic Evidence): রক্ত, চুল, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, পায়ের ছাপ ইত্যাদি উপাদান বা বস্তু, যা অপরাধের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বা কোনো তথ্য প্রমাণ বা অপ্রমাণ করে।

৫৪.
কোর্ট মার্শালের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন প্রযোজ্য হবে না যদি তা অনুষ্ঠিত হয়:
  1. আর্মি অ্যাক্ট, ১৯৫২ এর অধীনে
  2. নৌ-শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীনে
  3. বিমান বাহিনী আইন, ১৯৫৩ এর অধীনে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১ অনুসারে, এই আইন বাংলাদেশের সকল বিচারিক কার্যক্রমে প্রযোজ্য, যার মধ্যে কোর্ট মার্শালও অন্তর্ভুক্ত। তবে, এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে আর্মি অ্যাক্ট, ১৯৫২, নৌ-শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ, ১৯৬১, এবং বিমান বাহিনী আইন, ১৯৫৩-এর অধীনে অনুষ্ঠিত কোর্ট মার্শালের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন প্রযোজ্য হবে না। 
- অতএব, উপরের সবগুলো ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইন নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়-
ⅰ) The Army (সেনাবাহিনী) Act, 1962 অথবা The Naval Discipline (নৌ-শৃঙ্খলা) Ordinance, 1961 অথবা The Air Force Act (বিমান বাহিনী আইন), 1953 এর ক্ষেত্রে;
ii) আদালত বা বিচারকের নিকট দাখিলকৃত কোন হলফনামার (Affidavits) ক্ষেত্রে;
iii) কোন সালিশকারক বা Arbitrator এর সম্মুখে সংঘটিত কার্যাবলীর ক্ষেত্রে অর্থাৎ সালিশের ক্ষেত্রে;
iv) তদন্ত বা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে; এবং
ⅳ) প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন প্রযোজ্য নয়।
---------------------------
⇒ The Evidence Act,1872: Section-1: Extent:
It extends to the whole of Bangladesh and applies to all judicial proceedings in or before any Court, including Courts-martial, other than Courts-martial convened under the Army Act, 1952, the Naval

৫৫.
‘A’ এবং ‘B’-এর মধ্যে একটি মামলায় ‘A’ দাবি করে যে ‘B’ তার কাছে ঋণী। ‘B’ পূর্বে একটি মৌখিক বক্তব্যে বলেছিল, “আমি ‘A’-এর কাছে ৫০,০০০ টাকা ঋণী।” সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে এই বক্তব্য একটি ‘স্বীকারোক্তি’ (Admission) হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. ধারা ১৭
  2. ধারা ১৮
  3. ধারা ১৯
  4. ধারা ২০
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৮ অনুসারে, মামলার পক্ষগুলোর দ্বারা বা তাদের প্রতিনিধি দ্বারা দেওয়া বক্তব্য স্বীকারোক্তি (Admission) হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এখানে ‘B’ মামলার একটি পক্ষ এবং তার মৌখিক বক্তব্য, “আমি ‘A’-এর কাছে ৫০,০০০ টাকা ঋণী,” ঋণের বিষয়ে সরাসরি প্রাসঙ্গিক। তাই এই বক্তব্য ধারা ১৮-এর অধীনে স্বীকারোক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৮ ধারামতে, নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণের স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হবে। যথা-
ⅰ)) মোকদ্দমার পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধির স্বীকৃতি;
ii) প্রতিনিধিত্বমূলক মামলার ক্ষেত্রে মামলার বাদী বা বিবাদীর প্রতিনিধি হিসেবে প্রদত্ত স্বীকৃতি;
iii) মামলার বিষয় বস্তুতে মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থের অধিকারী ব্যক্তিদের বক্তব্য অথবা তাদের নিকট থেকে স্বার্থ প্রাপ্ত ব্যক্তিতে বক্তব্য অর্থাৎ মামলার বিষয়বস্তুতে কোনভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বীকৃতি; অথবা
iv) মামলার কোন পক্ষের বিরুদ্ধে যার অবস্থান বা দায় রয়েছে তেমন ব্যক্তির স্বীকৃতি বা বক্তব্য।
-------------
⇒The Evidence Act, 1872, Section-18:
- Admission -by party to proceeding or his agent-
Statements made by a party to the proceeding, or by an agent to any such party, whom the Court regards, under the circumstances of the case, as expressly or impliedly authorized by him to make them, are admissions.
- by suit or in representative character-
Statements made by parties to suits suing or sued in a representative character, are not admissions, unless they were made while the party making them held that character.
- by party interested in subject-matter;Statements made by–
(1) persons who have any proprietary or pecuniary interest in the subject-matter of the proceeding, and who make the statement in their character of persons so interested, or
- by person from whom interest derived-
(2) persons from whom the parties to the suit have derived their interest in the subject-matter of the suit, are admissions, if they are made during the continuance of the interest of the persons making the statements.

৫৬.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে, বিদেশি দেশের আইন সম্পর্কে মত গঠনের জন্য আইন-বই বা রায় প্রকাশনা প্রাসঙ্গিক?
  1. ধারা ৩৫
  2. ধারা ৩৬
  3. ধারা ৩৭
  4. ধারা ৩৮
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩৮ অনুসারে, কোনো দেশের আইন সম্পর্কে আদালতের মতামত গঠনের জন্য, সেই দেশের সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বইয়ে থাকা আইনের বিবরণ বা সেই দেশের আদালতের রায়ের রিপোর্ট প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এটি বিদেশি দেশের আইনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী কোন দেশের কোন আইন সম্পর্কে যখন আদালতকে কোন অভিমতে উপনীত হতে হয়, তখন উক্ত আইন সম্পর্কে ঐ দেশের সরকারের কর্তৃত্বে মুদ্রিত ও প্রকাশিত উক্ত আইন সম্বলিত কোন পুস্তকে এবং ঐ দেশের আদালতসমূহের সিদ্ধান্তের রিপোর্ট বলে কথিত কোন পুস্তকে প্রকাশিত কোন সিদ্ধান্তের রিপোর্ট প্রাসঙ্গিক হবে।
--------------
⇒The Evidence Act, 1872,Section 38.Relevancy of statements as to any law contained in law-books:
 When the Court has to form an opinion as to a law of any country, any statement of such law contained in a book purporting to be printed or published under the authority of the Government of such country and to contain any such law, and any report of a ruling of the Courts of such country contained in a book purporting to be a report of such rulings, is relevant.

৫৭.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে আদালতকে কিছু বিষয়ে বাধ্যতামূলকভাবে বিচারিক নোটিশ নিতে হবে?
  1. ধারা ৫২
  2. ধারা ৫৭
  3. ধারা ৫৮
  4. ধারা ৭৫
ব্যাখ্যা

⇒সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২–এর ধারা ৫৭–তে বলা হয়েছে, কিছু বিষয়ে আদালতকে বাধ্যতামূলকভাবে বিচারিক নোটিশ নিতে হবে। 
- এর অধীনে আদালত কিছু সাধারণ বা স্বীকৃত বিষয়, যেমন বাংলাদেশের সকল আইন, সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধবিধি, সংসদের কার্যক্রম, সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে প্রকাশিত নাম, স্বীকৃত রাষ্ট্রের নাম, জাতীয় পতাকা, এবং সময় ও ভূগোল সম্পর্কিত বিষয়াবলী, সম্পর্কে স্বপ্রমাণ গ্রহণ করতে বাধ্য থাকে। এই ধরনের বিষয়গুলি আদালতে যুক্ত করা হলে, আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে এগুলোকে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য করবে এবং এর জন্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে না।
এটি আদালতের কার্যক্রম সহজ করে এবং সময় বাঁচাতে সহায়ক।
অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৭ আদালতকে নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে বিচারিক নোটিশ (judicial notice) নিতে বাধ্য করে।
-----------
⇒The Evidence Act,1872, Section 57 of the Evidence Act outlines the facts that the Court must take judicial notice of, including:
1. All Bangladesh Laws.
2. Articles of War for the Armed Forces.
3. The proceedings of Parliament and any legislature with power over Bangladesh's territories.
4. The seals of all courts in Bangladesh, including Admiralty and Maritime Courts and Notaries Public.
5. Names, titles, functions, and signatures of public officeholders, as published in the official Gazette.
6. The existence, title, and national flag of recognized States.
7. Geographical divisions, public festivals, fasts, and holidays notified in the official Gazette.
8. The territories of Bangladesh.
9. Hostilities between Bangladesh and other States or entities.
10. The names of court members, officers, advocates, and authorized persons.
11. The rule of the road on land and sea.
The Court may refer to books or documents of reference for these facts. If any person requests judicial notice, the Court may refuse unless the necessary documents are presented.

৫৮.
নিম্নের কোনটি সরকারি দলিল (Public Document) হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ব্যক্তিগত ডায়েরি
  2. পারিবারিক চিঠিপত্র
  3. দুই বন্ধুর মধ্যে চুক্তিপত্র
  4. আদালতের ডিক্রি বা আদেশ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৪ অনুযায়ী, আদালতের আদেশ বা ডিক্রি সরকারি দলিলের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এগুলো বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের অংশ এবং সরকারি রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষিত হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২: ৭৪ ধারার বিধান সরকারি দলিল:
নিম্নলিখিত দলিলসমূহ সরকারি দলিল (Public Documents) হিসেবে গণ্য হবে—
(১) যে সকল দলিল নিম্নলিখিত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কার্যাবলির অংশ বা রেকর্ড হিসেবে গঠিত:
(i) সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(ii) সরকারি সংস্থা ও ট্রাইব্যুনালের, এবং
(iii) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশের কোনো অংশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় সরকারি কর্মকর্তার।
(২) বাংলাদেশে সরকারিভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ রেকর্ড।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section- 74. Public documents:
The following documents are public documents:– 
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
(i) of the sovereign authority, 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.

৫৯.
সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে কয় ধরনের সাক্ষ্য ব্যবহার করা যেতে পারে?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. এক ধরনের
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যায় দুই ধরনের সাক্ষ্য দ্বারা—
১) প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)
২) গৌণ সাক্ষ্য (Secondary Evidence)
- সঠিক উত্তর: ক) দুই ধরনের।

→ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাথমিক সাক্ষ্য হচ্ছে মূল দলিল, যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক সাক্ষ্য তখন ব্যবহার করা হয় যখন মূল দলিল আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব না হয়, এবং তখন তার প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

দালিলিক সাক্ষ্য (Documentary Evidence):
দালিলিক সাক্ষ্য বলতে আদালতের পরিদর্শনের জন্য যে সমস্ত দলিল বা লিপিবদ্ধ বস্তু উপস্থাপন করা হয়, তা বোঝানো হয়। সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুসারে, দলিলের বিষয়বস্তু দুই প্রকার দালিলিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে:
১. প্রাথমিক সাক্ষ্য; এবং
২. মাধ্যমিক সাক্ষ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য এর মাধ্যমে।

⇒ The Evidence Act, 1872- Section 61 - Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.

৬০.
নিচের কোনটি ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading Question) এর উদাহরণ?
  1. "ঘটনাটি কখন ঘটেছিল?"
  2. "আপনি কি স্কুলে পড়তেন?"
  3. "আপনার নাম কি সালমান?"
  4. "আপনি গতকাল কোথায় ছিলেন?"
ব্যাখ্যা

⇒ ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question হলো এমন প্রশ্ন যা সরাসরি উত্তরের ইঙ্গিত প্রদান করে। এই ধরনের প্রশ্নের মধ্যে প্রশ্নকারী যেই উত্তর চান, তা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে উপস্থিত থাকে। সাধারণত, ইঙ্গিতবাহী প্রশ্নে সাক্ষী হ্যাঁ বা না উত্তরে উত্তর দেয়। উদাহরণস্বরূপ: "আপনার নাম কি সালমান?"—এখানে প্রশ্নের মধ্যে উত্তরের ইঙ্গিত (সালমান) দেওয়া আছে, তাই এটি ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading Question)।
- এ ধরনের প্রশ্ন সাধারণত সাক্ষীর জবানবন্দি বা সাক্ষ্য প্রদানের সময় আদালতের অনুমতি ছাড়া করা যায় না, বিশেষত যখন সাক্ষীকে জেরা (Cross-examination) করা হচ্ছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান হলো ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন: প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
⇒ যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে। সাধারণত হ্যাঁ অথবা না ব্যাজেই এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়।
⇒ অর্থাৎ নির্দেশক প্রশ্ন বা Leading question তাই যার মধ্যে উক্ত প্রশ্নের উত্তরের ইঙ্গিত থাকে।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 141. Leading questions:
- Any question suggesting the answer which the person putting it wishes or expects to receive is called a leading question.

৬১.
‘A’ একটি মামলায় দাবি করে যে ‘B’ তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। ‘A’ মারা যাওয়ার আগে লিখিতভাবে বলে, “ ‘B’ আমার খাবারে বিষ মিশিয়েছে, যার ফলে আমি অসুস্থ হয়েছি।” সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে এই বক্তব্য প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. ধারা ৩২(১)
  2. ধারা ৩২(২)
  3. ধারা ৩২(৩)
  4. ধারা ৩২(৪)
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(১) অনুসারে, যে ব্যক্তি মৃত বা সাক্ষ্য দিতে অক্ষম, তার মৃত্যুর কারণ বা সংশ্লিষ্ট ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কিত লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য প্রাসঙ্গিক, যদি মৃত্যুর কারণ মামলায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এখানে ‘A’ মারা যাওয়ার আগে লিখিতভাবে বলেছে, “‘B’ আমার খাবারে বিষ মিশিয়েছে, যার ফলে আমি অসুস্থ হয়েছি,” যা তার মৃত্যুর কারণ বা সংশ্লিষ্ট ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কিত। তাই এই বক্তব্য ধারা ৩২(১)-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

-The Evidence Act, 1872, Section-32:Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant
- Statements, written or verbal, of relevant facts made by a person who is dead, or who cannot be found, or who has become incapable of giving evidence, or whose attendance cannot be procured without an amount of delay or expense which under the circumstances of the case appears to the Court unreasonable, are themselves relevant facts in the following cases:–
When it relates to cause of death;
(1) When the statement is made by person as to the cause of his death, or as to any of the circumstances of the transaction which resulted in his death, in cases in which the cause of that person's death comes into question. 
Such statements are relevant whether the person who made them was or was not, at the time when they were made, under expectation of death, and whatever may be the nature of the proceeding in which the cause of his death comes into question.

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

৬২.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় দুষ্কর্মের সহযোগীর সাক্ষ্য সম্পর্কে বিধান দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ১৩১
  2. ধারা ১৩২
  3. ধারা ১৩৩
  4. ধারা ১৩৪
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৩৩-এ বলা হয়েছে: দুষ্কর্মের সহযোগী একজন সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তি এবং তার অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতেও আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা বেআইনি হবে না।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান দুষ্কর্মে সহযোগী: দুষ্কর্মের সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলিয়া গণ্য হইবেন। দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেওয়া হইলে কেবল সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনি হইবে না।
⇒ ১৩৩ ধারা অনুযায়ী একজন দুষ্কর্মের সহযোগী অন্যান্য সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য এবং এর উপর ভিত্তি করে শাস্তি দেওয়া হলে বেআইনি হবে না।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section-133. Accomplice: An accomplice shall be a competent witness against an accused person, and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.

৬৩.
তামাদি আইন অনুযায়ী মামলার সময় গণনা কখন শুরু হয়?
  1. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  2. বিচারকের আদেশের দিন থেকে
  3. মামলার কারণ উদ্ভব হবার দিন থেকে
  4. অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অধীনে, মামলার সময় গণনা সাধারণত মামলার কারণ উদ্ভব (Cause of Action) হওয়ার দিন থেকে শুরু হয়। এটি তামাদি আইনের মূল নীতি, যা নির্ধারণ করে যে কোনো মামলা, আপিল বা আবেদন দায়েরের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা কখন থেকে গণনা করা হবে। “Cause of Action” বলতে সেই ঘটনা বা পরিস্থিতিকে বোঝায়, যা মামলা দায়েরের অধিকার সৃষ্টি করে।

তামাদি আইনের ধারা ১২(১) অনুযায়ী, মামলার তামাদি মেয়াদ গণনার সময় সেই দিনটি বাদ দেওয়া হয়, যেদিন মামলার কারণ উদ্ভব হয়। অর্থাৎ, মামলার কারণ উদ্ভবের পরের দিন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো চুক্তি ভঙ্গের ঘটনা ১ জানুয়ারি, ২০২৫-এ ঘটে, তবে তামাদি মেয়াদ ২ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে গণনা শুরু হবে।

- তামাদি আইনের ১ম তফসিলে বিভিন্ন ধরনের মামলার জন্য নির্দিষ্ট তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা আছে, এবং এই মেয়াদগুলো সাধারণত কারণ উদ্ভবের সময় থেকে গণনা করা হয়।
- কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন ধারা ৬ (বৈধ অপারগতা) বা ধারা ১৮ (প্রতারণা), তামাদি মেয়াদ গণনার শুরু বিলম্বিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদ প্রতারণা জানার দিন থেকে শুরু হবে (ধারা ১৮)।
- ধারা ১৫ অনুযায়ী, যদি আদালতের নির্দেশে কোনো মামলা স্থগিত থাকে বা নোটিশ প্রদানের প্রয়োজন হয়, তবে সেই সময় তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যায়।
⇒ অর্থাৎ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, মামলার সময় গণনা মামলার কারণ উদ্ভব হওয়ার দিন থেকে শুরু হয়, এবং এটি আইনের মূল নীতি। এই নীতি নিশ্চিত করে যে বিচারপ্রার্থী তার অধিকার দ্রুত আদায়ের জন্য পদক্ষেপ নেয়, যা তামাদি আইনের “শান্তির আইন” হিসেবে পরিচিতির একটি প্রধান কারণ।

৬৪.
তামাদি আইনের কোন ধারা বিদেশে অনুষ্ঠিত চুক্তির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ধারা ১১
  2. ধারা ১৩
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ১৭
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১১ বিদেশে অনুষ্ঠিত চুক্তির উপর মামলার ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধারা অনুযায়ী: ধারা ১১(১): বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলা, যদি তা বিদেশে অনুষ্ঠিত কোনো চুক্তির উপর ভিত্তি করে হয়, তবে তামাদি আইন, ১৯০৮-এর নিয়ম অনুসারে তামাদি মেয়াদ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, বিদেশি চুক্তির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের তামাদি আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে।
ধারা ১১(২): কোনো বিদেশি তামাদি নিয়ম (foreign rule of limitation) বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলায় প্রতিরক্ষা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না সেই নিয়ম চুক্তিটিকে বিলুপ্ত করে দেয় এবং উভয় পক্ষ সেই বিদেশি দেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেখানে বসবাস করে থাকে।

অর্থাৎ তামাদি আইনের ধারা ১১ স্পষ্টভাবে বিদেশে অনুষ্ঠিত চুক্তির উপর মামলার ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে, এবং এটি নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশে দায়েরকৃত এই ধরনের মামলায় তামাদি আইন, ১৯০৮-এর বিধান প্রযোজ্য হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লিখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।
---------
⇒The Limitation Act, 1908: Section 11: Suits on foreign contracts:
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act.
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.

৬৫.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ কত দিন?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ২০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ হলো ৭ দিন, যা অনুচ্ছেদ ১৫০-এ উল্লেখিত। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল দায়েরের জন্য তামাদি মেয়াদ ৭ দিন, যা রায় ঘোষণার তারিখ থেকে গণনা করা হয়। এটি প্রথম তফসিলের দ্বিতীয় বিভাগে (আপিল) অন্তর্ভুক্ত।
অর্থাৎ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ হলো ৭ দিন, যা অনুচ্ছেদ ১৫০-এ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৬৬.
তামাদি আইনে ‘সুখাধিকার’ সম্পর্কিত ধারাটি কোনটি?
  1. ধারা ২২
  2. ধারা ২৬
  3. ধারা ২৭
  4. ধারা ২৯
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৬ ‘সুখাধিকার’ (Easement) সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। 
এই ধারা অনুযায়ী:
সুখাধিকারের সংজ্ঞা ও অর্জন: সুখাধিকার বলতে এমন অধিকার বোঝায় যা কোনো চুক্তি ছাড়াই উদ্ভূত হয়, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যের সম্পত্তির কোনো অংশ (যেমন, মাটি, গাছপালা, বা অন্য কিছু) নিজের লাভের জন্য ব্যবহার বা অপসারণ করতে পারে। ধারা ২৬(১) বলে, যদি কেউ শান্তিপূর্ণভাবে, প্রকাশ্যে এবং অধিকার হিসেবে ২০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে আলো, বাতাস, পথ, পানি বা অন্য কোনো সুখাধিকার উপভোগ করে, তবে তা পরম ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার হিসেবে গণ্য হবে।
সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে: ধারা ২৬(২) অনুযায়ী, যদি সুখাধিকার সরকারি সম্পত্তির উপর দাবি করা হয়, তবে ২০ বছরের পরিবর্তে ৬০ বছরের সময় প্রয়োজন।
মামলার সময়সীমা: সুখাধিকার দাবি করার জন্য মামলা দায়ের করতে হলে, ২০ বছরের উপভোগের সময়টি মামলা দায়েরের ২ বছরের মধ্যে শেষ হতে হবে।
- অর্থাৎ তামাদি আইনের ধারা ২৬ সরাসরি ‘সুখাধিকার’ অর্জনের নিয়ম, সময়সীমা এবং শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করে, এবং এটি ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে সুখাধিকারের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রযোজ্য।

৬৭.
তামাদি আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী কী ঘটে যদি বাদী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করতে ব্যর্থ হয়?
  1. মামলা স্বীকৃত হয়
  2. মামলা স্থগিত থাকে
  3. মামলা রিভিউ করা হয়
  4. মামলা বাধ্যতামূলক খারিজ হয়
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, যদি কোনো বাদী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা, আপিল বা আবেদন দায়ের করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই মামলা, আপিল বা আবেদন বাধ্যতামূলকভাবে খারিজ হয়ে যাবে, এমনকি যদি বিবাদী তামাদি প্রশ্নটি প্রতিরক্ষা হিসেবে উত্থাপন না করে। এই ধারা স্পষ্টভাবে বলে যে, প্রথম তফসিলে উল্লিখিত তামাদি মেয়াদের পরে দায়েরকৃত কোনো মামলা, আপিল বা আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না ধারা ৪ থেকে ২৫-এর বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হয়।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
ধারা ৩-এর বিধান: এই ধারা তামাদি আইনের মূল নীতির প্রতিফলন ঘটায়, যা নিশ্চিত করে যে বিচারপ্রার্থীকে তার অধিকার আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি বাদী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালতের কাছে মামলাটি খারিজ করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। এটি আইনের “Equity aids the vigilant, not the indolent” নীতির প্রকাশ, যার অর্থ যিনি সতর্ক থাকেন, তিনিই ইকুইটি পান; উদাসীন ব্যক্তি পান না।
উদাহরণ: ২০ ডিএলআর (West Pakistan) ১৩৩ মামলায় আদালত বলেছেন, যদি তামাদি মেয়াদ অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তবে মামলা খারিজ হয়ে যাবে, এমনকি আরজি প্রত্যাহারের আদেশও মামলা খারিজ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, পরবর্তীতে একই বিষয়ে মামলা দায়ের করলে তা দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১-এর রেস জুডিকাটা নীতির দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হবে।
ব্যতিক্রম: ধারা ৪ থেকে ২৫-এর বিধান (যেমন, আদালত বন্ধ থাকা, বৈধ অপারগতা, প্রতারণা, ভুল আদালতে মামলা ইত্যাদি) প্রযোজ্য হলে তামাদি মেয়াদ বাড়ানো বা বাদ দেওয়া যেতে পারে।
- অর্থাৎ তামাদি আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী, বাদী যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের করতে ব্যর্থ হয়, তবে মামলাটি বাধ্যতামূলকভাবে খারিজ হয়ে যায়। এটি তামাদি আইনের কঠোর বিধান, যা নিশ্চিত করে যে বিচার প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা বজায় থাকে।

৬৮.
তামাদি আইনের ধারা ৭ অনুযায়ী, একাধিক বাদীর মধ্যে একজন বৈধ অপারগতায় থাকলে এবং তার সম্মতি ছাড়া মামলা পরিচালনা সম্ভব না হলে, তামাদি মেয়াদ কীভাবে প্রভাবিত হবে?
  1.  সকলের বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ চলবে
  2. কারও বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ চলবে না
  3. আদালতের নির্দেশের উপর নির্ভর করবে
  4. শুধুমাত্র অপারগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ চলবে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৭ একাধিক বাদী বা আবেদনকারীর মধ্যে একজন বা কয়েকজনের বৈধ অপারগতা (Legal Disability) সম্পর্কে বিধান প্রদান করে। এই ধারা অনুযায়ী যদি একাধিক ব্যক্তি যৌথভাবে কোনো মামলা দায়ের বা আবেদন করার অধিকারী হন এবং তাদের মধ্যে একজন বা কয়েকজন বৈধ অপারগতায় (যেমন, নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতায় ভুগছেন) থাকেন, তবে নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়:
১) যদি অপারগত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া মামলা পরিচালনা সম্ভব না হয়: এই ক্ষেত্রে, তামাদি মেয়াদ কারও বিরুদ্ধে চলবে না যতক্ষণ না অপারগত ব্যক্তি সক্ষম হয়ে ওঠেন বা তাদের সম্মতি ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ, তামাদি মেয়াদ স্থগিত থাকে যতক্ষণ না সকল পক্ষ সক্ষম হয় বা অপারগতা অবসান হয়।
২)যদি অপারগত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া মামলা পরিচালনা সম্ভব হয়: এই ক্ষেত্রে, তামাদি মেয়াদ সকলের বিরুদ্ধে স্বাভাবিকভাবে চলবে।

উদাহরণ (ধারা ৭-এর ইলাস্ট্রেশন থেকে):
ইলাস্ট্রেশন (খ): A একটি ঋণ গ্রহণ করে, যেখানে E, F এবং G একটি ফার্মের পার্টনার। E এবং F উন্মাদ এবং G নাবালক। এই ক্ষেত্রে, যেহেতু E, F এবং G-এর সম্মতি ছাড়া ঋণের পরিশোধের জন্য মামলা পরিচালনা সম্ভব নয়, তাই তামাদি মেয়াদ কারও বিরুদ্ধে চলবে না যতক্ষণ না E বা F সুস্থ হয় অথবা G প্রাপ্তবয়স্ক হয়।

- অর্থাৎ তামাদি আইনের ধারা ৭ অনুযায়ী, যদি একাধিক বাদীর মধ্যে একজন বৈধ অপারগতায় থাকেন এবং তার সম্মতি ছাড়া মামলা পরিচালনা সম্ভব না হয়, তবে কারও বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ চলবে না যতক্ষণ না অপারগতা অবসান হয় বা সম্মতি ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়। এটি নিশ্চিত করে যে অপারগত ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষিত থাকে।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 7. Disability of one of several plaintiffs or applicants:
Where one of several persons jointly entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is under any such disability, and discharge can be given without the concurrence of such person, time will run against them all:
but, where no such discharge can be given, time will not run as against any of them until one of them becomes capable of giving such discharge without the concurrence of the others or until the disability has ceased.

Illustrations:
(a) A incurs a debt to a firm of which B, C and D are partners. B is insane, and C is a minor. D can give a discharge of the debt without the concurrence of B and C. Time runs against B, C and D. 
(b) A incurs a debt to a firm of which E, F and G are partners. E and F are insane, and G is a minor. Time will not run against any of them until either E or F becomes sane, or G attains majority.

৬৯.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারের ক্যাননস অনুসারে জুনিয়র অ্যাডভোকেটদের প্রতি সিনিয়র অ্যাডভোকেটদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
  1. কেবলমাত্র নির্দেশমূলক
  2. ব্যক্তিগত সমালোচনামূলক
  3. সৌজন্যমূলক এবং সহায়ক
  4. উদাসীন এবং প্রতিযোগিতামূলক
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারের ক্যাননস, ১৯৬৯-এর অধ্যায় ১-এর ধারা ১০-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
"Junior and younger members should always be respectful to senior and older members. The latter are expected to be not only courteous but also helpful to their junior and younger brethren at the Bar."
(জুনিয়র ও কম বয়সী সদস্যদের সর্বদা সিনিয়র ও বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। সিনিয়রদের কাছ থেকে আশা করা হয় যে তারা শুধুমাত্র শিষ্টাচারপূর্ণই নন, বরং বারেতে তাদের জুনিয়র ও কম বয়সী সহকর্মীদের প্রতি সহায়তামূলকও হবেন।)

⇒এই ধারা অনুযায়ী, সিনিয়র অ্যাডভোকেটদের দায়িত্ব হলো:
- জুনিয়র অ্যাডভোকেটদের সাথে সৌজন্যপূর্ণ (courteous) আচরণ করা।
- তাদের পেশাগত বিকাশে সহায়ক (helpful) ভূমিকা পালন করা।
- জুনিয়রদেরকে নির্দেশনা, পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে উৎসাহিত করা।
সুতরাং, সিনিয়র অ্যাডভোকেটদের সৌজন্যমূলক এবং সহায়ক আচরণই ক্যাননসসম্মত।

৭০.
বার কাউন্সিলের প্রথম সভায় কে সভাপতিত্ব করবেন?
  1. অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. বার কাউন্সিলের সম্পাদক
  3. সবচেয়ে সিনিয়র অ্যাডভোকেট
  4. ভোটে নির্বাচিত একজন সদস্য
ব্যাখ্যা

⇒ বার কাউন্সিল বিধিমালা, ১৯৭২-এর বিধি ২৮ অনুযায়ী, একটি বার কাউন্সিলের মেয়াদ শুরুর তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়া বাধ্যতামূলক। এই সভা আহ্বান করবেন বার কাউন্সিলের সম্পাদক, এবং সভায় ভোটে নির্বাচিত একজন সদস্য সভাপতিত্ব করবেন।
⇒  বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর বিধি ২৮ অনুসারে, বার কাউন্সিলের প্রথম সভায় ভোটে নির্বাচিত একজন সদস্য সভাপতিত্ব করবেন।
--------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council rules 1972: Rules-28. The first meeting of a Bar Council shall be held within a month of the commencement of the term of the Bar Council and the Secretary shall convené such meeting. The meeting will be presided over by a member voted to chair.

৭১.
বার কাউন্সিলের সভাপতি কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. মানবাধিকার কমিশনের সদস্য
  4. বাংলাদেশ অ্যাটর্নি-জেনারেল
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর আর্টিকল ৬(২) অনুসারে, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল বার কাউন্সিলের সভাপতি (চেয়ারম্যান) হিসেবে এক্স-অফিসিও (ex officio) দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 অনুচ্ছেদ ৬ এ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান এর বিষয়ে আলোচনা করা আছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
(১) বার কাউন্সিলে একজন চেয়ারম্যান এবং একজন সহ-চেয়ারম্যান (ভাইস-চেয়ারম্যান) থাকবেন।
(২) বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে (ex officio) বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন।
(৩) সহ-চেয়ারম্যান বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাচন করে বেছে নেওয়া হবে।
(৪) চেয়ারম্যান ও সহ-চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
----------
⇒ Article 6. (1) There shall be a Chairman and a Vice-Chairman of the Bar Council.
(2) The Attorney-General for Bangladesh shall be the Chairman ex officio of the Bar Council.
(3) The Vice-Chairman of the Bar Council shall be elected in the prescribed manner by the members of the Council from amongst themselves.
(4) The Chairman and the Vice-Chairman of the Bar Council shall have such powers and functions as may be prescribed.]

৭২.
অ্যাডভোকেটের পাবলিক অফিসারের সাথে পেশাগত ক্ষমতায় যোগাযোগের পূর্বে নিজের পরিচয় প্রকাশ করার নির্দেশ কোন অধ্যায় এবং বিধিতে দেয়া হয়েছে?
  1. অধ্যায় ৪, বিধি ২
  2. অধ্যায় ৪, বিধি ৪
  3. অধ্যায় ৪, বিধি ৬
  4. অধ্যায় ৩, বিধি ৬
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারের ক্যাননস, ১৯৬৯-এর অধ্যায় ৪, বিধি ৬-এ উল্লেখ আছে যে, একজন অ্যাডভোকেট পেশাগত ক্ষমতায় কোনো পাবলিক অফিসার, বোর্ড, কমিটি বা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করার পূর্বে অথবা তাদের সামনে উপস্থিত হওয়ার পূর্বে প্রথমে প্রকাশ করবেন যে তিনি একজন অ্যাডভোকেট এবং এমন স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করছেন যা উক্ত অফিসার, বোর্ড, কমিটি বা সংস্থার কার্যক্রম দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

⇒ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারের ক্যাননস, ১৯৬৯-এর অধ্যায় ৪ (Conduct with Regard to the Public Generally) বিধি ৬-এ বলা হয়েছে যে, একজন অ্যাডভোকেট তার পেশাগত ক্ষমতায় কোনো পাবলিক অফিসার, বোর্ড, কমিটি বা body-এর কাছে উপস্থিত হওয়ার পূর্বে অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে যে তিনি একজন অ্যাডভোকেট এবং তিনি যে স্বার্থগুলি প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেগুলি উক্ত অফিসার, বোর্ড, কমিটি বা body-এর কার্যক্রম দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

- এই বিধির উদ্দেশ্য হল স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব (conflict of interest) এড়ানো। এটি অ্যাডভোকেটদের পেশাগত নৈতিকতা এবং সম্মান বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৭৩.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর কোন অনুচ্ছেদে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা বর্ণিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২১
  2. অনুচ্ছেদ ২৫
  3. অনুচ্ছেদ ২৭
  4. অনুচ্ছেদ ৩০
ব্যাখ্যা

⇒  বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ২৭-এ অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা বর্ণিত আছে। এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন ব্যক্তি অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন যদি তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন, ২১ বছর বয়স পূর্ণ করেন, নির্দিষ্ট আইনি ডিগ্রি অর্জন করেন, বার কাউন্সিলের নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করেন। (অর্ডারের আর্টিকল ২৭(১))

⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 এর ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তির অন্য সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য অন্যূন বয়স হতে হবে ২১ বৎসর।
⇒ আইনজীবী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে Bangladesh Legal Practitioner and Bar Council Order 1972 এর অনুচ্ছেদ – ২৭ অনুযায়ী নিম্নোক্ত শর্তাবলি পূরণ করতে হবে:
১। প্রথমত তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;
২। তাকে ২১বছর বয়সী হতে হবে;
৩। আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে হবে-
বাংলাদেশের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে;
বার কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত দেশের বাইরের কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে;
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের পূর্বে হলে পাকিস্তানের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ;
১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্টের পূর্বে হলে ভারতবর্ষের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে;
ব্যারিস্টার এট ল’ হয়ে থাকলে;
৪। বার কাউন্সিল কর্তৃক কোন পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে এবং পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি দিলে।
-----------------
⇒ -According to article 27 of The Bangladesh Legal Practitioner’s and Bar Council Order, 1972,
Qualifications to become a lawyer of the Subordinate Court: a person shall be qualified to be admitted as an advocate if he fulfills the following conditions, namely:-
-The Person must be a citizen of Bangladesh;
- He must complete the age of twenty-one years;
- (i) He had obtained a degree in law from any university situated within the territory which forms part of Bangladesh; or
[Note: 4-years LL. B (Hon’s) or 2 years LL.B pass the course (must have completed before 2018 because now these 2 years pass the course is not allowed anymore) from any approved university of Bangladesh]
- (ii) Any similar foreign course can be accepted with the clear permission given by the Bangladesh Bar Council; or
- (iii) A bachelor’s degree in law from any university outside Bangladesh recognized by the Bar Council;
-The applicant has to undergo pupilage for a period of 6 (six) months under a practicing Advocate of at least 10 years standing in the profession;
- He has passed such examination as may be prescribed by the Bar Council;
- He has paid such enrolment fee and fulfills such other conditions as may be specified in the rules made by the bar council.