পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - ভৌত বিজ্ঞান: পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ক ১. ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পদার্থের চৌম্বকত্ব, তড়িৎ চৌম্বক ও তাড়িত চৌম্বকীয় আবেশ, তরঙ্গ এবং শব্দ, শক্তি। ২. কাজ, শক্তি ও ক্ষমতা; তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক বিজ্ঞান ও আলোক যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা। উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। ---------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
কোন মাধ্যমে শব্দ দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়?
  1. শূন্য মাধ্যমে
  2. তরল মাধ্যমে
  3. কঠিন মাধ্যমে
  4. বায়বীয় মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
কঠিন মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
যেমন- একটি লম্বা স্প্রিং নিয়ে এর এক প্রান্তে আঘাত করলে দেখবে স্প্রিংটির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে আন্দোলন সঞ্চালিত হচ্ছে, শব্দের ঢেউ এভাবেই সঞ্চালিত হয়। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়। আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
.
"ন্যানো" (n) উপসর্গের মান কত?
  1. 10 -9
  2. 10 -6
  3. 10 -12
  4. 10 -15
সঠিক উত্তর:
10 -9
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10 -9
ব্যাখ্যা
- "ন্যানো" (n) উপসর্গের মান হলো 10-9  । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 

- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারবে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোন পদার্থ নিম্ন তাপমাত্রায় অপরিবাহীর এবং তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবাহীর মতো আচরণ করে?
  1. তামা
  2. রৌপ্য
  3. প্লাস্টিক
  4. জার্মেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
জার্মেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- পরিবাহী পদার্থের ইলেকট্রনসমূহ এক পরমাণু থেকে অন্য পরমাণুতে সহজেই চলাচল করতে পারে। 
যেমন- ধাতু, বিশেষ করে রৌপ্য, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- কার্বন অধাতু হলেও এর একটি রূপ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- অপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে এর পরমাণুর ইলেকট্রন সহজে চলাচল করতে পারে না। 
- তবে অপরিবাহী পদার্থকে ঘষে আহিত করা যায়। 
- এছাড়া যদি ইলেকট্রন গৃহীত বা বর্জিত হয়, তাহলেও অপরিবাহী পদার্থ আধানযুক্ত হয়। 
যেমন: প্লাস্টিক, গ্লাস ও রাবার ইত্যাদি। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- নিম্ন তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী পদার্থ অপরিবাহীর মতো আচরণ করে। 
- তাপমাত্রা বাড়ালে এটি পরিবাহীর মতো আচরণ করে। 
যেমন- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
.
আলোর প্রতিসরণ কী? 
  1. আলো প্রতিফলিত হয়
  2. আলো সবসময় সরলরেখায় চলে
  3. আলো শুধুমাত্র ঘন মাধ্যমের ভেতর দিক পরিবর্তন করে
  4. আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে দিক পরিবর্তন করে
সঠিক উত্তর:
আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে দিক পরিবর্তন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে দিক পরিবর্তন করে
ব্যাখ্যা
আলোর প্রতিসরণ: 
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি তার গতিপথের দিক পরিবর্তন করে, আলোক রশ্মির এই দিক পরিবর্তনকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সরল রেখায় চলে, কিন্তু অন্য মাধ্যমে প্রবেশের সাথে সাথেই এটি মাধ্যমের অলোকীয় বৈশিষ্ট্য অনুসারে দিক পরিবর্তন করে। 
উল্লেখ্য যে, 
- লম্বভাবে আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় এর গতিপথের কোনো দিক পরিবর্তন হয় না। 

আলোর প্রতিসরণের নিয়ম: 
- আলোক রশ্মি যখন হালকা মাধ্যমে থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্বের দিকে সরে আসে। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ আপেক্ষা বড় হয়। 
- আলোকরশ্মি প্রথমে একটি মাধ্যম থেকে (যেমন বায়ু) অন্য মাধ্যমে (কাঁচ) প্রতিসরিত হওয়ার পর পুনরায় একই মাধ্যমে (বায়ু) নির্গত হলে আপতন কোণ ও নির্গমন কোণ সমান হয়। 
- আপতিত রশ্মি, প্রতিসরিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে। 
- এছাড়াও আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ অপেক্ষা ছোট হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন অভিলম্ব বরাবর আপতিত হয় তখন আপতন কোণ, প্রতিসরণ কোণ ও নির্গত কোণের মান শূন্য হয়। এক্ষেত্রে আপতিত রশ্মির দিক পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
.
পদার্থের চতুর্থ অবস্থার নাম কী?
  1. গ্যাস
  2. কঠিন
  3. তরল
  4. প্লাজমা
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা
ব্যাখ্যা
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা হচ্ছে প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে, সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়।
- ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে।
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায়, সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।
- বর্তমানে ফিশান পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়। হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র! 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোন পদার্থটি বোতলে রেখে দিলে সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে?
  1. পানি
  2. বাতাস
  3. দুধ
  4. পাউডার
সঠিক উত্তর:
বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাস
ব্যাখ্যা
- যদি সমপরিমাণ বাতাস দুইটি বোতলে রাখা হয় তাহলে তা ছোট বোতলের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ বাতাস বড় বোতলে রাখলেও তা সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে। 

কঠিন পদার্থ: 

- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি আছে, কোনো বস্তু যতটুকু জায়গা দখল করে সেটিই ঐ বস্তুর আয়তন। 
- সকল কঠিন বস্তুই জায়গা দখল করে, তাই সকল কঠিন বস্তুরই আয়তন আছে। 
- কঠিন পদার্থের আয়তন ও আকার সহজে পরিবর্তন করা যায় না। 
- এরা যথেষ্ট দৃঢ় অর্থাৎ এদের দৃঢ়তা আছে। তবে কিছু কিছু কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা কম। 
যেমন: সরিষার দানা, ভাত, কলা ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই, এটি যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আকৃতি ধারণ করে। 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে, কারণ কঠিন পদার্থের মতো এরাও জায়গা দখল করে। 
- এদের আয়তন পরিমাপ করা যায়। পাত্রভেদে আকৃতি পরিবর্তন হলেও আয়তন কিন্তু একই থাকে। 
- যেহেতু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই, আকৃতি পরিবর্তনশীল, সেহেতু বলা যায় যে এরা কঠিন পদার্থের মতো দৃঢ় নয়, অর্থাৎ তরল পদার্থের দৃঢ়তা নেই। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থ যেমন- বাতাসের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। 
- একই পরিমাণ গ্যাস ছোট পাত্রে রাখলে এর আয়তন কম হয় আবার বড় পাত্রে রাখলে এর আয়তন বেশি হয়। 
যেমন- যদি সমপরিমাণ গ্যাস দুইটি সিলিন্ডারে রাখা হয় তাহলে তা ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ গ্যাস বড় সিলিন্ডরে রাখলেও তা সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে। অর্থ্যাৎ, গ্যাসীয় পদার্থ যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আয়তনই গ্যাসের আয়তন। 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই, দৃঢ়তা তো একবারেই নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
.
নিচের কোন গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই?
  1. বুধ
  2. বৃহস্পতি
  3. মঙ্গল
  4. পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
বুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুধ
ব্যাখ্যা
গ্রহ: 
- গ্রহসমূহ সাধারণত গোলাকৃতির, গ্রহগুলোতে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ রয়েছে। 
- কিন্তু গ্রহগুলো নিজেরা শক্তি উৎপাদন করে না, তাই কোনো গ্রহ নিজে আলো বা তাপ নিঃসরণ করে না। 
- পৃথিবী থেকে সূর্যের অন্যান্য গ্রহকে উজ্জ্বল দেখালেও এগুলো আসলে সূর্যের আলোতে আলোকিত। 
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ। 
যেমন- 
বুধ: 
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। 
- বুধ গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। 

শুরু: 
- পৃথিবী থেকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরবেলায় শুকতারা রূপে যে তারাটি দেখা যায়, সেটি কোনো নক্ষত্র নয়। এটি আসলে সূর্যের একটি গ্রহ, যার নাম শুক্র। 
- সূর্যের আলো এ গ্রহের উপরে পড়ে, তাই একে আলোকিত দেখা যায়। 

পৃথিবী: 
- কেবল পৃথিবীতেই জীবনের জন্য উপযোগী উপকরণ ও পরিবেশ রয়েছে। 
- পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় গ্রহ। 

মঙ্গল: 
- মঙ্গলকে কখনো কখনো লাল গ্রহ বলা হয় কারণ এর পৃষ্ঠ লাল রঙের। এর পৃষ্ঠ ধূলিময় এবং খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। 
- মঙ্গলের মাটির নিচে পানি থাকার সম্ভাবনা আছে বলে বিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন। 

বৃহস্পতি: 
- বৃহস্পতি সূর্যের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ। 
- এটিতে শুধু গ্যাসই রয়েছে, কোনো কঠিন পৃষ্ঠ নেই। 

শনি: 
- শনি গ্রহটিও কেবল গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটিকে ঘিরে কতগুলো রিং বা আংটা রয়েছে। 

ইউরেনাস: 
- ইউরেনাস গ্যাস ও বরফ দিয়ে গঠিত। 

নেপচুন: 
- নেপচুনও অনেকটা ইউরেনাসের মতো একটি গ্রহ। 
- এছাড়া প্লুটো নামক একটি জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলা হতো। কিন্তু ২০০৬ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে, এটি একটি ক্ষুদ্র অসম্পূর্ণ গ্রহাণু। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
.
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 
  1. ৯০.৪ ডিগ্রি
  2. ৯৮.৪ ডিগ্রি
  3. ১০০.৪ ডিগ্রি
  4. ১০২.৪ ডিগ্রি
সঠিক উত্তর:
১০০.৪ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০.৪ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি
C/5 = (F - 32)/9   [এখানে C = 38]
∴ 38/5 = (F - 32)/9
বা, 5(F - 32) = 9 × 38
বা, F - 32 = 342/5
বা, F = 68.4 + 32
∴ F = 100.4
অর্থাৎ, ফারেহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
.
স্টপ ওয়াচের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সময়ে খরচ কমানো
  2. সময়ের গতি বৃদ্ধি করা
  3. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা
  4. একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে সময় পরিমাপ করা
সঠিক উত্তর:
একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে সময় পরিমাপ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে সময় পরিমাপ করা
ব্যাখ্যা
থামা ঘড়ি (Stop Watch): 
- সময়কাল মাপার জন্য স্টপ ওয়াচ ব্যবহার করা হয়। 
- একসময় নিখুঁত স্টপ ওয়াচ অনেক মূল্যবান সামগ্রীথাকলেও ইলেকট্রনিকসের অগ্রগতির কারণে খুব অল্প দামের মোবাইল টেলিফোনেও আজকাল অনেক সূক্ষ্ম স্টপ ওয়াচ পাওয়া যায়। 
- স্টপ ওয়াচে যেকোনো একটি মুহূর্ত থেকে সময় মাপা শুরু করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর সময় মাপা বন্ধ করে কতখানি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, সেটি বের করে ফেলা যায়। 
- স্টপ ওয়াচ যত সূক্ষ্মভাবে সময় মাপতে পারে, হাত দিয়ে কখনোই তত সূক্ষ্ম সময়ে বের করতে পারা যায় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে কোন মেরু হিসেবে কাজ করে?
  1. দক্ষিণ মেরু
  2. উত্তর মেরু
  3. পশ্চিম মেরু
  4. পূর্ব মেরু
সঠিক উত্তর:
উত্তর মেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর মেরু
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে। 
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়। 
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান। 
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে। 
- এখানে দন্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে। কিন্তু একটি উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে, ফলে ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১১.
তরলের বাষ্পায়ন নিচের কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে?
  1. বায়ুর শুষ্কতা
  2. বাতাসের চাপ
  3. বাতাসের প্রবাহ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের নির্ভরশীলতা: 
- পানির বাষ্পায়ন বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
- সাধারণভাবেই একটা তরলের বাষ্পায়ন বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
১। বাতাসের প্রবাহ: 
- বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 

২। তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল: 
- তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 
- এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। 

৩। তরলের প্রকৃতি: 
- তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন বেশি। 
- উদ্বায়ী তরলের বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি। 

৪। বাতাসের চাপ: 
- বাতাসের চাপ যত কম হবে বাষ্পায়নের হার তত বেশি। 
- শূন্যস্থানে বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি, তাই খাদ্য সংরক্ষণের জন্য খাবারকে শুকাতে পাম্প দিয়ে বাতাস বের করে নেওয়া হয়। 

৫। উষ্ণতা: 
- তরল এবং তরলের কাছাকাছি বাতাসের উষ্ণতা বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 

৬। বায়ুর শুষ্কতা: 
- বাতাস যত শুষ্ক হবে তরল তত তাড়াতাড়ি বাষ্পায়ন হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
মানুষ কোন কম্পনমাত্রার শব্দ শুনতে পারে?
  1. সেকেন্ডে ২০ এর কম কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
  2. সেকেন্ডে ২০,০০০-এর বেশি কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
  3. সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
  4. সেকেন্ডে ২০ থেকে ২৫,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা: 
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- সকল কম্পনশীল বস্তুর শব্দ মানুষ শুনতে পাই না। 
- যে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ২০টির কম কম্পন দিয়ে সৃষ্টি হয়, তা মানুষেরা শুনতে পাই না, এরকম শব্দকে শ্রুতিপূর্ব শব্দ বলা হয়। 
- আবার প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০-এর বেশি কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দকেও মানুষ শুনতে পাই না, একে শ্রুতি-উত্তর শব্দ বলা হয়। 
সুতরাং মানুষের জন্য শ্রাব্যতার সীমা হলো প্রতি সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পন দিয়ে সৃষ্ট শব্দ। 
- প্রতি সেকেন্ডে কোনো বস্তু যতটা কম্পন দেয় তাকে বলা হয় ঐ বস্তুর কম্পাঙ্ক। 
- এই কম্পাঙ্ক প্রকাশের একক হলো হার্জ (Hertz)। 
- কোনো বস্তু সেকেন্ডে ২০ বার কাঁপলে তার কম্পাঙ্ক ২০ হার্জ, ২০,০০০ বার কাঁপলে ২০,০০০ হার্জ। 
সুতরাং মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ, এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে। 

- কোনো কোনো প্রাণী ২০,০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়। 
যেমন- কুকুরের এই ক্ষমতা আছে। পুলিশ অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের হুইসেল ব্যবহার করে যা কুকুর শুনতে পায় কিন্তু মানুষ শুনতে পায় না। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক অতিশব্দ (শ্রুতি-উত্তর শব্দ ব্যবহারকারী) যন্ত্রের একটি হলো আল্ট্রাসনোগ্রাম। এ যন্ত্র ২০,০০০ হার্জের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দের সাহায্যে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৩.
কোন সাল থেকে পৃথিবীতে এস.আই পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়?
  1. ১৯৪৫
  2. ১৯৫৬
  3. ১৯৬০
  4. ১৯৬৮
সঠিক উত্তর:
১৯৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬০
ব্যাখ্যা
এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি: 
- পূর্বে কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয়ের বিভিন্ন একক পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। 
- একই পরিমাপের জন্য প্রচলিত বিভিন্ন একক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- এমকেএস (মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড), এফপিএস (ফুট, পাউন্ড, সেকেন্ড) ও সিজিএস (সেন্টিমিটার, গ্রাম, সেকেন্ড) পদ্ধতি নামে প্রচলিত। 
- দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন একক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 
অথাৎ, একই রাশি পরিমাপের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন একক ব্যবহার করা হতো। এককের এই বিভিন্নতার কারণে নানা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৯৬০ সাল থেকে পৃথিবীর সমগ্র দেশে একটি সাধারণ পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যাকে এস.আই বা ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিট বলা হয়। 
- এই আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে সকল ভৌত রাশির জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট একক নির্ধারণ করা হয়েছে। 
যেমন: 
• দৈর্ঘ্যের একক মিটার, 
• ভরের একক কিলোগ্রাম, 
• সময়ের একক সেকেন্ড, 
• তাপমাত্রার একক কেলভিন, 
• বৈদ্যুতিক আধানের একক কুলম্ব, 
• আলোক ঔজ্জ্বল্যের একক ক্যান্ডেলা ও 
• পদার্থের পরিমাণের একক মোল। 
- এই এককগুলো বর্তমানে এস. আই পদ্ধতির মৌলিক একক। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৪.
সার্কিট ব্রেকারের প্রধান কাজ কী?
  1. ব্যাটারির চার্জ সংরক্ষণ করা
  2. বিদ্যুৎ প্রবাহ কমিয়ে দেওয়া
  3. বিদ্যুতের গতি বাড়ানো
  4. অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করা
সঠিক উত্তর:
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করা
ব্যাখ্যা
সার্কিট ব্রেকার এবং ফিউজ: 
- বিদ্যুতের বড় বড় দুর্ঘটনা হয় যখন হঠাৎ কোনো একটা ত্রুটির কারণে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- হঠাৎ করে বিপজ্জনক বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করার জন্য সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়।
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই সার্কিট ব্রেক (বিচ্ছিন্ন) করে দেয়
- ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু একটা তারের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়।
- যদি কোনো কারণে বেশি বিদ্যুৎ যাওয়ার চেষ্টা করে ফিউজের সরু তার সেই (রোধ বেশি, কাজেই I2R বেশি অর্থাৎ তাপ বেশি) বিদ্যুতের কারণে উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ফেলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর ক্ষেত্রে ভুল তথ্য কোনটি?
  1. কোনো স্থানের জলবায়ু অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
  2. কাছাকাছি অঞ্চলের আবহাওয়া একই সময়ে ভিন্ন হতে পারে।
  3. আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান ভিন্ন।
  4. কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত একই রকম হয়।
সঠিক উত্তর:
কোনো স্থানের জলবায়ু অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো স্থানের জলবায়ু অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া: 
- আবহাওয়া বলতে স্বল্প সময়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুমণ্ডলের অবস্থাকে বোঝায়। 
- বায়ুর তাপমাত্রা, চাপ, বায়ু কোন দিক থেকে কত জোরে প্রবাহিত হচ্ছে, বায়ুর আর্দ্রতা বা বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ, মেঘ, কুয়াশা ও বৃষ্টিপাত- এই অবস্থাগুলোকে একত্রে আবহাওয়া বলা হয়। 
যেমন- কোনো দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বোঝা যায় আবহাওয়া বেশ গরম, আবার কোনো দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বোঝা যায় আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা। আবার আকাশ মেঘলা অথবা কুয়াশাচ্ছন্ন- এরকম অবস্থাও স্বল্প সময়ের আবহাওয়া নির্দেশ করে। 

জলবায়ু: 
- জলবায়ু সহসা বদলায় না, জলবায়ু হলো কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়ার একটি সামগ্রিক বা গড় ফল। 
যেমন- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র- থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশে বেশ গরম পড়ে এবং বায়ু ভেজা বা আর্দ্র থাকে। আবার রাশিয়ার জলবায়ু শীতপ্রধান; এ থেকে বুঝা যায় রাশিয়ায় সাধারণত খুব শীত পড়ে। 

আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য: 
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান মূলত একই। 
- বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা (জলীয় বাষ্পের আপেক্ষিক পরিমাণ), বৃষ্টিপাত সবগুলোই আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান। 
- উপাদানসমূহ একই হলে আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে- 
১। কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পকালীন অবস্থাই আবহাওয়া, আর কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাই জলবায়ু। 
২। কোনো স্থানের আবহাওয়া অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু কোনো স্থানের জলবায়ু সহসা পরিবর্তন হয় না, পরিবর্তন হতে অনেক বছর লেগে যায়। 
৩। কাছাকাছি অঞ্চলের আবহাওয়া একই সময়ে ভিন্ন হতে পারে। 
যেমন- কোনো নির্দিষ্ট দিনে ফরিদপুরে বৃষ্টি হতে পারে কিন্তু বরিশালে বৃষ্টি নাও হতে পারে। 
- কিন্তু কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত একই রকম। 
যেমন- বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু একই রকম। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৬.
গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কেমন?
  1. মাঝারি
  2. খুব কম
  3. খুব দীর্ঘ
  4. অনির্ধারিত
সঠিক উত্তর:
খুব কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুব কম
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- কাজেই গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭.
যখন দুটি পদার্থকে ঘর্ষণ করা হয়, তখন চার্জ (আধান) সৃষ্টির প্রধান কারণ কী? 
  1. নতুন ইলেকট্রন তৈরি হয়
  2. নিউট্রন চার্জ উৎপন্ন করে
  3. প্রোটন এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে চলে যায়
  4. এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়
সঠিক উত্তর:
এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা
আধান বা চার্জের উৎপত্তি: 
- পদার্থ কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, যার নাম পরমাণু। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের সমন্বয়ে পরমাণু গঠিত। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, যা প্রোটন ও নিউট্রনের সমন্বয়ে গঠিত। 
- ইলেকট্রন এই নিউক্লিয়াসের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে। 
- প্রোটন ধনাত্মক (+) আধানযুক্ত, ইলেকট্রন ঋণাত্মক (-) আধানযুক্ত এবং নিউট্রন হলো আধান নিরপেক্ষ কণা। 
- প্রোটনের ধনাত্মক চার্জের পরিমাণ ইলেক্ট্রনের ঋণাত্মক চার্জের সমান ও বিপরীতধর্মী। 

- কিন্তু পরমাণু নিজে আধান নিরপেক্ষ, পরমাণু ধনাত্মক বা ঋণাত্মক কোনোটাই নয়। 
- পরমাণুতে কোনো মোট চার্জ থাকে না, কারণ একটি পরমাণুতে যে কয়টি প্রোটন থাকে, সেই কয়টিই ইলেকট্রন থাকে। যার ফলে পরমাণু চার্জ বা আধান নিরপেক্ষ হয়। 
- কিন্তু যখনই দুটো পদার্থকে ঘর্ষণ করা হয়, তখন একটি পদার্থের ইলেকট্রন অন্য একটি পদার্থে স্থানান্তরিত হয় ফলে একটি পদার্থে ইলেকট্রনের আধিক্য দেখা দিতে পারে। 
- ঘর্ষণের ফলে নতুন কোনো আধানের সৃষ্টি হয় না বরং পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান ইলেকট্রনে অবস্থিত আধান ইলেকট্রনের সাথে এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে স্থানান্তরিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৮.
ট্রান্সফরমার কী কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন করা
  2. ব্যাটারির চার্জ সংরক্ষণ করা
  3. এসি (AC) ভোল্টেজ বাড়ানো বা কমানো
  4. ডিসি (DC) ভোল্টেজ পরিবর্তন করা
সঠিক উত্তর:
এসি (AC) ভোল্টেজ বাড়ানো বা কমানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসি (AC) ভোল্টেজ বাড়ানো বা কমানো
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। 
- বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 
- প্রতি সেকেন্ডে কতটুকু বৈদ্যুতিক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেটা পরিমাপ করা হয় VI (ভোল্টেজ × কারেন্ট) দিয়ে, একটা ট্রান্সফরমারে প্রাইমারিতে যে পরিমাণ VI প্রয়োগ করা হয়, সেকেন্ডারি কয়েল থেকে ঠিক সেই পরিমাণ VI ফেরত পাওয়া যায়। কাজেই সেকেন্ডারিতে যদি ভোল্টেজ দশ গুণ বাড়িয়ে নেয়া যায় তাহলে সেখানে বিদ্যুৎও দশ গুণ কমে যাবে। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
টেলিস্কোপে মূলত কোন ধরনের আয়না ব্যবহার করা হয়?
  1. উত্তল আয়না
  2. সমতল আয়না
  3. অবতল আয়না
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অবতল আয়না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবতল আয়না
ব্যাখ্যা
উত্তল আয়না: 
- উত্তল আয়নায় যেহেতু সোজা এবং ছোট প্রতিবিম্ব তৈরি করা যায়, তাই বড় কোনো দৃশ্যকে ছোট জায়গায় দেখতে হলে উত্তল আয়না ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- গাড়ির দক্ষ ড্রাইভাররা গাড়ি চালানোর সময় সব সময় পেছনে কী হচ্ছে তা দেখার জন্য গাড়ির ড্রাইভারের সামনে রিয়ার ভিউ মিরর থাকে। এই মিররগুলোতে উত্তল আয়না ব্যবহার করা হয় যেন ছোট একটা আয়না দিয়েই গাড়ির ড্রাইভাররা পেছনের বড় একটা জায়গা দেখতে পারেন। 

অবতল আয়না: 
- অবতল আয়নার সবচেয়ে বড় ব্যবহার হচ্ছে টেলিস্কোপে। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সুক্ষ্ম টেলিস্কোপে অবতল আয়না ব্যবহার করা হয়। 
- টেলিস্কোপের দায়িত্ব অনেক, কম আলোতেও স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করা। 
- সেজন্য অবতল আয়নার আকার যত বড় হবে, সেটি তত বেশি আলো সংগ্রহ করে তত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করতে পারবে। 
- অবতল আয়নার আরেকটি ব্যবহার হচ্ছে আলোকের সমান্তরাল বিম বা রশ্মি গুচ্ছ তৈরি করা। 
- জাহাজ বা লঞ্চের সার্চলাইটে অবতল আয়না ব্যবহার করা হয়। 
- আলোর উৎসটুকু থাকে ফোকাস বিন্দুতে, তাই সেটি অবতল আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে সমান্তরাল বিম হিসেবে বের হয়ে যায়। 
- দৈনন্দিন কাজে যে টর্চলাইট ব্যবহার করা হয় সেখানেও বাল্বটি রাখা হয় একটি অবতল আয়নার ফোকাস বিন্দুতে। 
- অবতল আয়নায় ফোকাস দূরত্বের ভেতরে কিছু থাকলে যেহেতু সোজা এবং বড় প্রতিবিম্ব তৈরি হয় তাই কোনো কিছু বড় করে দেখতে হলেও অবতল আয়না ব্যবহার করা হয়।
- ডাক্তার কিংবা ডেন্টিস্টরা তাই অনেক সময়ই কিছু দেখার জন্য অবতল আয়না ব্যবহার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা তার বিস্তারের-
  1. সমানুপাতিক
  2. বর্গের সমানুপাতিক
  3. ঘনের সমানুপাতিক
  4. বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
বর্গের সমানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, তা প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
যেমন- ইলেকট্রনিক স্পিকারে যে পাতলা ডায়াফ্রাম রয়েছে সেটিকে সুনির্দিষ্টভাবে কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করা হয়। স্কুলের ঘণ্টার মাঝে আঘাত করলে সেটি কাঁপতে শুরু করে শব্দ তৈরি করে, এবং তখন হাত দিয়ে সেটাকে চেপে ধরে কম্পন বন্ধ করে ফেললে সাথে সাথে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়। গিটারের তারে টোকা দিলে সেটি কাঁপতে থাকে এবং শব্দ তৈরি করে। ল্যাবরেটরিতে সুর শলাকা দিয়ে নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করা যায়। 
- শব্দের কম্পাঙ্ক যদি 20 Hz থেকে 20,000 Hz (অর্থাৎ 20 kHz) এর মাঝখানে থাকে তাহলে সেই শব্দ শোনা যায়। 
(তবে কানে হেডফোন লাগিয়ে অবিরত গান শুনে কিংবা প্রচণ্ড শব্দদূষণে থাকলে অনেক সময় শোনার ক্ষমতা কমে যায়।) 
- শব্দের কম্পাঙ্ক 20 Hz থেকে কম হলে সেটাকে শব্দেতর বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে এবং 20 kHz থেকে বেশি হলে সেটাকে শব্দোত্তর বা আলট্রাসাউন্ড বলে। 
- 20 Hz থেকে কম কিংবা 20 kHz থেকে বেশি কম্পাঙ্ক তৈরি করা হলে সেটি বাতাসে যে আলোড়ন সৃষ্টি করে তা শুনতে পাওয়া যায় না। এ ধরনের শব্দের অস্তিত্ব বুঝতে হলে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফোন বা রিসিভার ব্যবহার করতে হবে। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১.
তেজস্ক্রিয় রশ্মি কোন বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়? 
  1. রাসায়নিক বিক্রিয়া
  2. তাপ এবং চাপ
  3. বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. কোনো বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
সঠিক উত্তর:
কোনো বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। (যদিও প্রোটন সংখ্যা 43-Technetium এবং 61-Promethium মৌলের কোনো স্থায়ীরূপ পাওয়া যায় না)। 
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। কাজেই কোনো একটি মৌলের পরমাণুতে তার ইলেকট্রন এবং প্রোটনের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট হলেও নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যায় নিউট্রনযুক্ত একই প্রোটন সংখা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসের পরমাণুকে বলা হয় সেই মৌলের আইসোটোপ। কাজেই কোনো একটি মৌলের একটি আইসোটোপ স্থিতিশীল হতে পারে আবার সেই মৌলের অন্য একটি আইসোটোপ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
উদাহরণ- কার্বন মৌলটির নিউক্লিয়াসে ছয়টি প্রোটন এবং এর প্রধাণত তিনটি আইসোটোপ: 
• C12: 6টি প্রোটন এবং এটি নিউট্রন, 
• C13: 6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন, 
• C14: 6টি প্রোটন এবং ৪টি নিউট্রন । 
- কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 আইসোটোপটি অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। 

- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড (Ernest Rutherford), পিয়ারে কুরি (Pierre Curie), মেরি কুরি (Marie Curie) এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২.
চোখের শ্বেতমন্ডলের সামনের অংশকে কী বলে?
  1. লেন্স
  2. রেটিনা
  3. কর্নিয়া
  4. আইরিস
সঠিক উত্তর:
কর্নিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নিয়া
ব্যাখ্যা
মানব চক্ষু: 
- চোখ পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের অন্যতম। 
- মানব চক্ষুর কার্যপ্রণালি ছবি তোলার ক্যামেরার মতো। 
- মানব চক্ষুর বিশেষ বিশেষ প্রধান অংশগুলোর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো - 
১। অক্ষিগোলক (Eye-ball): 
- চোখের কোটরে অবস্থিত এর গোলাকার অংশকে অক্ষিগোলক বলে। 
- একে চক্ষু কোটরের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সীমার চারদিকে ঘুরানো যায়। 

২। শ্বেতমণ্ডল (Sclera): 
- এটা অক্ষিগোলকের বাহিরের সাদা, শক্ত ও ঘন আঁশযুক্ত অস্বচ্ছ আবরণবিশেষ। 
- এটি চক্ষুকে বাহিরের বিভিন্ন প্রকার অনিষ্ট হতে রক্ষা করে এবং চোখের আকৃতি ঠিক রাখে। 

৩। কর্নিয়া (Cornea): 
- শ্বেতমন্ডলের সামনের অংশকে কর্নিয়া বলে। 
- শ্বেতমণ্ডলের এই অংশ স্বচ্ছ এবং অন্যান্য অংশ অপেক্ষা বাহিরের দিকে অধিকতর উত্তল। 

৪। কোরয়েড বা কৃষ্ণমণ্ডল (Choroid): 
- এটি কালো রঙের একটি ঝিল্লি দ্বারা গঠিত শ্বেতমণ্ডলের ভিতরের গাত্রের আচ্ছাদনবিশেষ। 
- এই কালো রঙের জন্য চোখের ভিতরে প্রবিষ্ট আলোকের প্রতিফলন হয় না। 

৫। আইরিস (Iris): 
- এটি কর্নিয়ার ঠিক পিছনে অবস্থিত একটি অস্বচ্ছ পর্দা। 
- পর্দাটি স্থান ও লোকবিশেষে বিভিন্ন রঙের নীল, গাঢ়, বাদামি, কালো ইত্যাদি হয়ে থাকে। 

৬। মণি বা তারারন্ধ্র (Pupil): 
- এটি কর্নিয়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মাংসপেশিযুক্ত একটি গোলাকার ছিদ্রপথ। 
- মাংসপেশির সংকোচন ও প্রসারণে তারারন্ধ্রের আকার পরিবর্তিত হয়। 

৭। উত্তল লেন্স (Convex lens): 
- এটি কর্নিয়ার পিছনে অবস্থিত জেলির মতো নরম স্বচ্ছ পদার্থে তৈরি একটি উত্তল লেন্স। 

৮। অক্ষিপট বা রেটিনা (Retina): 
- এটি গোলকের পিছনে অবস্থিত একটি ঈষদচ্ছ গোলাপি আলোকগ্রাহী পর্দা। 
- রেটিনার উপর আলো পড়লে স্নায়ুতন্ত্রে এক প্রকার উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগায়। 

৯। অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমার (Aqueous humour and vitreous humour): 
- লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার। 
- লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৩.
শব্দোত্তর তরঙ্গের সাহায্যে জামা-কাপড় কীভাবে পরিষ্কার করা হয়?
  1. শব্দ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  2. শব্দ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  3. শব্দ শক্তিকে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  4. শব্দ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
সঠিক উত্তর:
শব্দ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- কয়লা পোড়ালে রাসায়নিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- সাধারণত বিদ্যুৎকোষে রাসায়নিক দ্রব্যের বিক্রিয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এছাড়া কয়লা, পেট্রোল, কেরোসিন, গ্যাস ইত্যাদি পুড়িয়ে রাসায়নিক শক্তিকে তাপ ও আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 

পারমাণবিক শক্তির রূপান্তর: 
- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক শক্তিকে প্রাথমিকভাবে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 
- তাপশক্তিকে ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরিয়ে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। পরবর্তীতে যান্ত্রিক শক্তিকে জেনেরেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 

তাপ শক্তির রূপান্তর: 

- বাষ্পীয় ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে উৎপন্ন তাপশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে রেলগাড়ি চালানো হয়। 

আলোক শক্তির রূপান্তর: 
- ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- সূর্যের আলোকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে পরিণত করা হয়। 
- এছাড়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি যেমন- পকেট ক্যালকুলেটর, রেডিয়ো ও ইলেকট্রনিক ঘড়িতে সৌর শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়। 

শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- শব্দোত্তর তরঙ্গ দ্বারা উৎপন্ন শব্দশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জামা কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করে। 
- অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- আবার টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরক যন্ত্রে শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করে। 

চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- লোহাকে দ্রুত ও বারবার চুম্বক এবং বিচুম্বকরনকালে তাপ উৎপন্ন হয়। এতে চৌম্বক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- তাছাড়া তড়িৎ চুম্বকের সাহায্যে ভারী জিনিসপত্র উঠানো যায়। এতে চৌম্বকশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

বিদ্যুৎশক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে বিদ্যুৎ চালনা করলে তাপ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখার মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে পাখা ঘুরতে থাকে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্ব বা LED লাইট জ্বললে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।