ব্যাখ্যা
ভট্টির ভট্টিকাব্য রামায়ণের আখ্যানভিত্তিক সংস্কৃত ঐতিহাসিক কাব্যের সূচনা করে। এতে কাব্য ও ব্যাকরণ শিক্ষার সমন্বয় দেখা যায়।আর এ কারণেই ভট্টিকে সংস্কৃত ঐতিহাসিক কাব্যের প্রবর্তক মনে করা হয়।
৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন
ভট্টির ভট্টিকাব্য রামায়ণের আখ্যানভিত্তিক সংস্কৃত ঐতিহাসিক কাব্যের সূচনা করে। এতে কাব্য ও ব্যাকরণ শিক্ষার সমন্বয় দেখা যায়।আর এ কারণেই ভট্টিকে সংস্কৃত ঐতিহাসিক কাব্যের প্রবর্তক মনে করা হয়।
কাশ্মীরের ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ রাজতরঙ্গিনী রচনা করেন আনু. দ্বাদশ শতকের কবি কলহণ। এটি সংস্কৃত সাহিত্যের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক কাব্য।
কলহণের রাজতরঙ্গিনী কাশ্মীরের প্রাচীন ও মধ্যযুগের রাজাদেরক্রমিক ইতিহাস উপস্থাপন করেছেছে। সুতরাং রাজতরঙ্গিনীর বিষয়বস্তু কাশ্মীরের ইতিহাস।
ভট্টিকাব্য রামায়ণের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। তবে এর উদ্দেশ্য কেবল কাহিনি নয়- ব্যাকরণশিক্ষাও।
কলহণ বিরচিত রাজতরঙ্গিনী মূলত শ্লোক বা শার্দূলবিক্রীড়িত ছন্দে রচিত। আর এ ছন্দে রচিত বলেই তে মহাকাব্যিক ভঙ্গি বজায় রয়েছে।
কবি কলহণ তার রাজতরঙ্গিনীকে ৮ টি তরঙ্গ বা অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন। গ্রন্থটির প্রতিটি তরঙ্গে একাধিক রাজবংশের কাহিনি লিপিবদ্ধ রয়েছে।
ভট্টিকাব্যে রামায়ণ আখ্যানের পাশাপাশি য়াকরণের সূত্র ও অলঙ্কারের প্রয়োগ শিখানো হয়েছে।
কবি কলহণ ১২শ শতকে তার রাজতরঙ্গিনী গ্রন্থটি রচনা করেন, যা মধ্যযুগীয় সংস্কৃত ঐতিহাসিক সাহিত্যের নিদর্শন।
ঐতিহাসিক কাব্যে মূলত কাব্যের সৌন্দর্য বজায় রেখেও বাস্তব ইতিহাসকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এধরণের কাব্য ইতিহাসের কোনো সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা হয়ে থাকে বলেই এগুলো ইতিহাস প্রধান হয়ে থাকে।
ভট্টিকাব্যে রামায়ণ কাহিনি বর্ণনার সাথে ব্যাকরণবিদ পানিনির সূত্র প্রয়োগ শিখানো হয়েছে।
বিষ্ণুশর্মার পঞ্চতন্ত্র সংস্কৃত গল্পসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। এতে নীতি ও
শিক্ষার জন্য প্রাণিজগতের বিভিন্ন প্রাণীকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
হিতোপদেশ গ্রন্থটি নারায়ণ পণ্ডিতের রচনা, যা তিনি পঞ্চতন্ত্রের অনুকরণে রচনা করেছেন।
পঞ্চতন্ত্রে সর্বমোট ৫ টি ভাগ বা তন্ত্র রয়েছে, এই ভাগ বা তন্ত্রগুলোতে স্থান পাওয়া প্রতিটি গল্প নীতিকথা ও জীবনের শিক্ষা দেয়।
বেতালপঞ্চবিংশতিতে রাজা বিক্রমাদিত্য ও বেতালের কথাপকথনে নানান নীতিকথা প্রকাশ করে অনেক সুন্দর কাহিনি রচিত হয়েছে।
সোমদেব কথাসরিৎসাগর গ্রন্থটি রচনা করেছেন। এই বিখ্যাত গ্রন্থটি সংস্কৃত গল্পসাহিত্য -এরেক বিশাল ভাণ্ডার।
কথাসরিৎসাগর গ্রন্থটি মূলত গুণাঢ্য রচিত বৃহৎকথা থেকে সংগৃহীত। গ্রন্থ দুটিই সংস্কৃত গল্পসাহিত্য -এরবিশাল দুটি ভাণ্ডার।
মূলত রাজকুমারদের নীতিশিক্ষা দেয়ার জন্যই হিতোপদেশ গ্রন্থটি রচিত হয়েছিল।
জাতক কাহিনিগুলো বুদ্ধের পূর্বজন্মের নীতিকথা ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার।
পঞ্চতন্ত্র সর্বাধিক অনূদিত একটি সংস্কৃত গ্রন্থ। এটি গ্রিক, আরবি, ফার্সি এবং ইংরেজিসহ আরও বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
বেতালপঞ্চবিংশতি গল্প গ্রন্থে সর্বমোট ২৫টি গল্প স্থান পেয়েছে। এই ২৫ টি গল্পই অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং হৃদয়গ্রাহী।
সংস্কৃত গীতিকাব্য -এ কবির ব্যক্তিগত আবেগ, প্রেম, প্রকৃতি, সৌন্দর্য ও জীবনভাব অত্যন্ত সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহীভাবে প্রকাশ পায়।
সংস্কৃত সাহিত্যের মহাকবি কালিদাস বিরচিত মেঘদূত কাব্যটি গীতিকাব্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।এখানে নির্বাসন দণ্ডপ্রাপ্ত বিরহী যক্ষ তার প্রিয়াকে মেঘের মাধ্যমে তার মনের আকুতি জানাতে প্রয়াস পেয়েছেন।
জয়দেব বিরচিত গীতগোবিন্দ বৈষ্ণবসাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টি এবং সার্থক গীতিকবিতা। একাব্যে তিনি রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কাহিনি গীতিময়রূপে প্রকাশ করেছেন।
মহাকবি কালিদাস বিরচিত মেঘদূত কাব্যটি মন্দাক্রান্তা ছন্দে রচিত, যা গীতিকাব্যের ললিত ভঙ্গির সঙ্গে শতভাগ মানানসই।
জয়দেব বিরচিত গীতগোবিন্দ কাব্যে কৃষ্ণ-রাধার প্রেম, বিরহ ও মিলনের লীলাময় অপূর্ব বর্ণনা পাওয়া যায়।
কালিদাসের কুমারসম্ভব কাব্যে যদিওকাব্যের ললিত সৌন্দর্য গীতিকাব্যসুলভ, তবু্ও এটিকে গীতিকাব্য বলা যায় না না- এটি একটি মহাকাব্য।
মহাকবি কালিদাস বিরচিত মেঘদূত কাব্যটিতে দুটি ভাগ রয়েছে- প্রথম ভাগের নাম - পূর্বমেঘ এবং দ্বিতীয় ভাগের নাম উত্তরমেঘ।
সংস্কৃত গীতিকাব্যগুলোতে সাধারণত প্রেম ও সৌন্দর্যের বর্ণনা থাকে বলে এখানে শৃঙ্গার রস প্রাধান্য পায়।
জয়দেব বিরচিত গীতগোবিন্দ মোট ১২টি সর্গে বিভক্ত, প্রতিটি সর্গে গীতিময় বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছে।
মেঘদূত কাব্যে মেঘের ভূমিকা বার্তা বাহকের। এখানে বিরহী যক্ষ মেঘকে তার প্রিয়ার কাছে তার বিরহী মনের কথাগুলো অলকাপুরীতে পৌঁছে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।