পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৭
সিলেবাস
Exam - 15 Subject: বাংলা (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন

.
'পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে।' এখানে 'ক্লাসে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক 
  3. অধিকরণ কারক 
  4. কর্ম কারক 
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক: 
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
- অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- আহারে রুচি নেই।
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে।
 [এখানে 'কোন স্থানে পড়ে?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ক্লাসে'। তাই 'ক্লাসে' অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ। 

.
'কেঁচে গণ্ডূষ' বাগ্‌ধারায় 'গণ্ডূষ' শব্দের অর্থ কী?
  1. গাছের গুড়ি 
  2. অত্যন্ত অল্প পরিমাণ
  3. অমেরুদণ্ডী প্রাণী
  4. নতুন করে আরম্ভ করা
ব্যাখ্যা

• গণ্ডূষ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- মুখে বা হাতের কোষে যে পরিমাণ ধরে। 
- একমুখ বা এক অঞ্জলি পরিমাণ জল।
- হাতের কোষ।
- অত্যন্ত অল্প পরিমাণ।

উল্লেখ্য, 
• 'কেঁচে গণ্ডূষ' বাগ্‌ধারার অর্থ - নতুন করে আরম্ভ করা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চিরন্তন
  2. গতকল্য 
  3. রাজ্য
  4. গতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- গতিবিদ্যা, গতকল্য, অভিমুখিতা, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'সীমার মাঝে অসীম তুমি।'- এখানে 'মাঝে' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. ব্যাপ্তি
  2. প্রশস্ততা
  3. একদেশিক
  4. মধ্যে
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের ব্যবহার:
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

.
নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ কোনটি?
  1. নবীনা
  2. রজঃস্বলা
  3. কল্যাণীয়া
  4. কনিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• নিত্য পুংলিঙ্গ বা স্ত্রী লিঙ্গ: 
কোনো কোনো জীবিকার ক্ষেত্রে নিছক পুরুষদের বুঝায় সেগুলোর নাম-শব্দটি নিত্য পুংলিঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়। 
যেমন: পুরোহিত, মোল্লা, জল্লাদ, গুন্ডা, লম্পট, সন্তান ইত্যাদি। 

নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ: বারবনিতা, অসতী, কুলটা, গর্ভবতী, রজঃস্বলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
---------------
• 'আ' প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ: 
অনাথ-অনাথা, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা, পূজনীয়-পূজনীয়া, কল্যাণীয়-কল্যাণীয়া, নবীন-নবীনা, শ্রদ্ধেয়-শ্রদ্ধেয়া ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অমরনাথ' কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বিলাসী
  2. মহেশ
  3. মন্দির
  4. মেজদিদি
ব্যাখ্যা

• 'মন্দির' গল্প:
- শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম মন্দির।
- তিনি মন্দির গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমরনাথ,
- অপর্ণা প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• 'বিলাসী' গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে। গল্পের ন্যাড়া চরিত্র আসলে লেখক নিজেই।
• 'মহেশ' গল্পের চরিত্র: গফুর, আমেনা,মহেশ, তর্করত্ন, জমিদার শিববাবু প্রমুখ।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মেজদিদি' গল্পের প্রধান চরিত্র হলো কেষ্টা, কাদম্বিনী, হেমাঙ্গিনী।  

---------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- কাশীনাথ,
- মন্দির, 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- মেজদিদি ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনাপাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'মহেশ' গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।

.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. রণনিতী 
  2. রত্নজিবী 
  3. রাজরানী 
  4. রাজলক্ষ্মী 
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- রাজলক্ষ্মী। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- রাজ্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী,
- রাজশ্রী।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- 
• রণনীতি (বিশেষ্য পদ)। 
অর্থ: যুদ্ধসংক্রান্ত নীতি।

• রত্নজীবী (বিশেষণ পদ)। 
অর্থ: রত্নব্যবসায়ী।

• রাজরানি (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ: রাজার রানি, রাজ্ঞী; পাটরানি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
নিচের কোনটি বর্ণ বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. ধাইমা > দাইমা 
  2. রিকসা্‌ > রিস্‌কা
  3. বউদিদি > বউদি
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয় বা বর্ণ বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা,
- তলোয়ার > তরোয়াল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতি: 
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
 যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি: 
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন- ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'উন্নতি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? 
  1. উত + নতি
  2. উন + নতি
  3. উৎ + নতি
  4. উদ + নতি
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম: 
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং পরে ৎ + ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্ দ্ + ন হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
- কিন্তু, দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্ সন্ধিতে ল্ দ্ + ম হয় এবং ল্ পরের ল-এর ৎ+ সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে গঠিত কর্মধারয় সমাসের কোনটি?
  1. মহাত্মা
  2. চালাকচতুর
  3. কাঁচামিঠা
  4. সুস্থসবল
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।
যেমন:
ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী, 
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে কিছু উদাহরণ:

• (বিশেষণ+ বিশেষ্য): 
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা

• (বিশেষণ+ বিশেষণ):
- যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচামিঠে)। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১১.
'নাসিমা ফুল তুলছে।' বাক্যে 'ফুল' কোন কারক?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
ব্যাখ্যা

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।

কর্মকারকের প্রকারভেদ:
ক) সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
খ) প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
গ) সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি। [বাক্যে ঘুম কে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করেছে। সুতরাং 'ঘুম ' কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।]
ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম। যেমন- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না। 
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল
  2. যৌগিক 
  3. সরল 
  4. মিশ্র 
ব্যাখ্যা

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩.
নিচের কোনটি তুর্কি ভাষার শব্দ? 
  1. কাঁচি 
  2. চাবি
  3. গুদাম
  4. সালোয়ার
ব্যাখ্যা

• কাঁচি তুর্কি ভাষার শব্দ।
 
 • তুর্কি ভাষার কিছু শব্দ হলো:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরক, তুরগ, বেগম, বাবা।

অন্যদিকে, 
----------------                    
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং অভিগম্য অভিধান।

১৪.
স্থানান্তর অর্থে 'অপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অপকার
  2. অপহরণ
  3. অপযশ
  4. অপচয়
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ
- স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১৫.
'প্রজ্ঞাপন' শব্দের ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. Notify
  2. Declaration
  3. Notification
  4. Notice
ব্যাখ্যা

'Notification' শব্দের বাংলা অর্থ- প্রজ্ঞাপন।

অন্যদিকে, 
• 'Notice' অর্থ - বিজ্ঞপ্তি।
• 'Notify' অর্থ - প্রজ্ঞাপিত করা।
• 'Declaration' অর্থ - ঘোষণা; বিঘোষণ; প্রখ্যাপন।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৬.
‘মুমিন ও আসাদ’ জহির রায়হান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. হাজার বছর ধরে
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বরফ গলা নদী
  4. আর কতদিন
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
নিচের কোনটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. ময়ূরকণ্ঠী
  3. শহর-ইয়ার
  4. পঞ্চতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• 'শহর-ইয়ার' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- তুলনাহীনা,
- শহর-ইয়ার।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮.
'এখন শুয়ে পড়।'- এখানে 'শুয়ে পড়' কোন ধরনের ক্রিয়া? 
  1. মিশ্র ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. সমধাতুজ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
যৌগিক ক্রিয়ার গঠন বিধি অসমাপিকা ক্রিয়ার পরে যা, পড়, দেখ, লাগ্‌, ফেল্, আস্, উঠ, দে, লহ্, থাক্, প্রভৃতি ধাতু থেকে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়ে উভয়ে মিলিতভাবে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করে, এসব যৌগিক ক্রিয়া বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন-
 যা-ধাতু:
-  সমাপ্তি অর্থে: বৃষ্টি থেমে গেল।
-  অবিরাম অর্থে: গায়ক গেয়ে যাচ্ছেন।
- ক্রমশ অর্থে: চা জুড়িয়ে যাচ্ছে।
- সম্ভাবনা অর্থে: এখন যাওয়া যেতে পারে।

পড়্‌-ধাতু:
- সমাপ্তি অর্থে: এখন শুয়ে পড়।
- ব্যাপ্তি অর্থে: কথাটা ছড়িয়ে পড়েছে।
- আকস্মিকতা অর্থে: এখনই তুফান এসে পড়বে।
- ক্রমশ অর্থে: কেমন যেন মনমরা হয়ে পড়েছি।
যেমন:
- ঘটনাটা শুনে রাখ।
- তিনি বলতে লাগলেন।
- সাইরেন বেজে উঠল।

আস্-ধাতু: 
- সম্ভাবনা অর্থে: আজ বিকেলে বৃষ্টি আসতে পারে।
- অভ্যস্ততা অর্থে: আমরা এ কাজই করে আসছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯.
'ধূমকেতু' কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক 
  2. অর্ধ-সাপ্তাহিক
  3. দৈনিক 
  4. সাপ্তাহিক 
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো।
- নজরুলের কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা:
• 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০.
'সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?'- বাক্যে বিশেষ্য পদ কোনটি 
  1. সুস্থ
  2. সবল
  3. দেহ
  4. খ ও গ 
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত বাক্যে 'সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?' - 'দেহ' বিশেষ্য পদ। 

এখানে পদ নির্ণয় করলে পাওয়া যায়:
সুস্থ- বিশেষণ। 
সবল- বিশেষণ। 
দেহকে- বিশেষ্য (কর্ম কারক; ‘কে’ বিভক্তিযুক্ত)। 
কে- প্রশ্নবাচক সর্বনাম। 
না- অব্যয় (নিষেধার্থে ব্যবহৃত)। 
ভালোবাসে- ক্রিয়া। 

 -----------------
• নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা-

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ: বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন:
বিশেষণ রূপে: নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।
বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে: ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।
বিশেষ্য রূপে: আপন ভালো সবাই চায়।

বিশেষণ রূপে: মন্দ কথা বলতে নেই।
বিশেষ্য রূপে: এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে: তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।
বিশেষ্য রূপে: পুণ্যে মতি হোক।

বিশেষণ রূপে: শীতকালে কুয়াশা পড়ে। 
বিশেষ্য রূপে: শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।

বিশেষণ রূপে: সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে: এ এক বিরাট সত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২১.
'চোখে তার, যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার' পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. বনলতা সেন 
  2. শঙ্খমালা
  3. হায় চিল
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

• পঙ্‌ক্তিটি জীবনানন্দ দাশের "শঙ্খমালা" কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 
- "শঙ্খমালা" কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।এটি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত কবিতা হিসেবে বিবেচিত। 
- এ কবিতায় শত্রুখমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে। কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ- প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো-
রোমান্টিক কবিকল্পনা।

'শঙ্খমালা' কবিতার অংশবিশেষ- 

শঙ্খমালা- কবিতা
জীবনানন্দ দাশ
চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার;
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।

--------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়" কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ
কেউ কবি"
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং "বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; 'শঙ্খমালা- কবিতা' এবং এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
নিচের কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. খোলস
  2. বুনো
  3. পেরিয়ে
  4. শুকনো
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতি:
-  চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
-  এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
-  চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
-  সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।
- চলিত রীতির কিছু শব্দ হলো- পড়লো, খোসা, পেরিয়ে, দেননি, আগেই, মাথা, জুতো, তুলো, শুকনো, বুনো, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, তাঁরা/ওঁরা, তাকে/ওকে। 

-----------------
• সাধু রীতি:
-  বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ। 
- সাধু রীতির কিছু শব্দ হলোখোলস, জুতা, তুলা, তাহারই, তারই, পূর্বেই, সহিত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২৩.
'উনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. বিশিষ্ট ব্যক্তি
  2. অপদার্থ
  3. গুরুত্বহীন লোক
  4. ব্যক্তিত্বহীন
ব্যাখ্যা

• 'উনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারার অর্থ - দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন। 

অন্যদিকে, 
• 'কেউকেটা' অর্থ - বিশিষ্ট ব্যক্তি।
• 'ঊনপাঁজরে' অর্থ - অপদার্থ।
• 'উলুখাগড়া' অর্থ- গুরুত্বহীন লোক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪.
'Heroism' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. সাহসী
  2. বীরত্ব
  3. অকুতোভয়
  4.  মনোবল
ব্যাখ্যা

• 'Heroism' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- বীরত্ব। 

অন্যদিকে, 
'Gallant' অর্থ- সাহসী, অকুতোভয়। 
'Morale' অর্থ - মনোবল।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা। 

২৫.
'স্বাগত' কোন ধরনের সন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. ব্যঞ্জন সন্ধি 
  2. স্বরসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি 
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অনু + এষণ = অন্বেষণ,
- সু + অল্প = স্বল্প, 
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৬.
'সুপ্ত' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √সু + অপ্ত 
  2. √সু + ক্ত
  3. √স্বপ্ + ক্ত
  4. √সুপ্‌  + ক্ত
ব্যাখ্যা

কৃৎ-প্রত্যয়ের বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্‌ + ক্ত (পঠ্‌ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।

(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।

(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্‌ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্‌ + ক্ত = হত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭.
চর্যার কোন পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1. ৩৩নং 
  2. ৪৯নং 
  3. ২৬নং 
  4. ৪৮নং
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

-------------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহববল আলম।

২৮.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. দোনলা
  2. একোন
  3. দ্বীপ
  4. চৌচালা
ব্যাখ্যা

• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
- এক দ্বারা উন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়। যথা-  দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি; চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা; তিন পায়া যার = তেপায়া; দুই নল যার = দোনলা; দুই দিকে অপ্‌ যার = দ্বীপ। 

 এরকম: দশহাতি, একগুঁয়ে, দ্বিচক্র, একতারা, দশানন, দ্বিমাত্রিক, দ্বীপ, একরোখা, দুমুখো, পঞ্চানন, চতুর্ভুজ, পাঁচহাতি, চতুষ্কোণ, দোতলা, চতুষ্পদী, সেতার, দোপেয়ে, চারপেয়ে, চৌপায়া, তেতলা, ত্রিলোচন, ত্রিশূল, সাতনরি, শতমূলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯.
'আবির্ভাব' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. তিরোধান
  2. আবাহন
  3. তিরোভাব
  4. ক ও গ 
ব্যাখ্যা

• 'আবির্ভাব' এর বিপরীতার্থক শব্দ- তিরোধান/তিরোভাব। 

এরূপ কিছু বিপরীতার্থক শব্দ:
'আবাহন'  - বিসর্জন।
'আকর্ষণ' - বিকর্ষণ। 
'আদান' - প্রদান। 
'তিক্ত' - মধুর।
'অবিরল'- বিরল।
'কুটিল' - সরল।
'জীবিত' - মৃত।
'হর্ষ' - বিষাদ। 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০.
আরবি ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. খাসমহল
  2. খাসলত
  3. খাসজমি
  4. খাসদখল
ব্যাখ্যা

• আরবি ভাষার শব্দ নয়- খাসজমি। 
- 'খাসজমি' মিশ্র ভাষার শব্দ।
- এখানে, খাস (আরবি) ও জমি (ফারসি) ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- সরকারের কর্তৃত্বাধীন জমি।

 

আরবি ভাষার কিছু শব্দ:
এলাকা, এলাহি, কয়েদ, কসাই, কসরত, খারাবি, খারাপ, খারিজ, খাসমহল, খাসলত, খালাস, খাসদখল, খাসমহল, খাসলত, তুফান, তকদির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কোন রস প্রধান কাব্য?
  1. করুণরস প্রধান
  2. শৃঙ্গাররস প্রধান
  3. বীররস প্রধান
  4. হাস্যরস প্রধান
ব্যাখ্যা

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২.
'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. রাইচরণ
  2. অমল
  3. রতন
  4. অভীক
ব্যাখ্যা

• 'রাইচরণ' চরিত্রটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পে।

• 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অনুকূলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'। এর অন্য দুটি চরিত্র অমল, ভূপতি।
• 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
• 'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'রবিবার' গল্পের প্রধান চরিত্র।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।

৩৩.
'অথৈ' শব্দে 'অ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দিত
  2. গভীর 
  3. অভাব
  4. ক্রমাগত
ব্যাখ্যা

'অ' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত কিছু শব্দ: 
• 'নিন্দিত' অর্থে- অকেজো, অচেনা, অপয়া। 
'অভাব' অর্থে- অচিন, অজানা, অথৈ। 
• 'ক্রমাগত' অর্থে- অঝোর, অঝোরে। 

-----------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৪.
নিপাতনে সিদ্ধ প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ভক্তি
  2. মুক্তি
  3. উক্তি
  4. শক্তি
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ-প্রত্যয়:
√গৈ + ক্তি = গীতি, √সিধ + ক্তি = সিদ্ধি, √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি, √শক্ + ক্তি = শক্তি।

অন্যদিকে, 
• 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √বচ্ + ক্তি = উক্তি, √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি, √ভিজ্ + ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৫.
'কিরণ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. প্রভা
  2. মিহির
  3. বিভা 
  4. কর
ব্যাখ্যা

• 'কিরণ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- মিহির। 

• 'কিরণ' শব্দের সমার্থক শব্দ:

ময়ূখ, কর, প্রভা, দীপ্তি, জ্যোতি, অংশু, রশ্মি, আলো, আলোক, বিভা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• 'রবি' শব্দের সমার্থক শব্দ: অর্ক, আফতাব, আদিত্য, মিহির, অরুণ, সূর্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬.
'বসন আগলা যার' এক কথায় কী বলে?
  1. অসংবৃত
  2. অসংযত
  3. অসংযম
  4. অসংযমী
ব্যাখ্যা

• 'বসন আগলা যার' এক কথায় বলে- অসংবৃত।

অন্যদিকে, 
• 'অসংযত' অর্থ- সংযমহীন, উচ্ছৃঙ্খল, উদ্দাম।
• 'অসংযম' অর্থ- সংযমের অভাব, যথেচ্ছাচার, উচ্ছৃঙ্খলতা।
• 'অসংযমী' অর্থ- অশংজোমি, অসংযত, যথেচ্ছাচারী, অমিতাচারী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩৭.
ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে চর্যাগীতির ভাষায় কোন ভাষার প্রভাব রয়েছে?
  1. ওড়িয়ার 
  2. সংস্কৃতের 
  3. অপভ্রংশের
  4. হিন্দির 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন পণ্ডিতের মতে:
- পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। যদিও অনেকের ভাষায় একটু-আধটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তবুও চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে উল্লেখ করেছেন। এ অভিমতের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি উপস্থাপন করেন নি। অন্যদিকে, সব পণ্ডিত যে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করেছেন এমন নয়।

- ভাষাতাত্ত্বিক বিজয়চন্দ্র মজুমদার এ বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলা যাবে না। তাতে হিন্দি ও ওড়িয়া আছে। এটি মিশ্র ভাষা হিসেবে পরিচিত হতে পারে।

- ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতির ভাষা নিয়ে প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক বিশদ আলোচনা করেন দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রন্থে। তিনি তাতে সুস্পষ্টভাবে এ অভিমত দেন যে, চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে। যেমন: আইসন, জইসন, জিম, তিম ইত্যাদি পুরোপুরি বাংলার রূপ পাচ্ছিল না। কেননা চর্যাগীতিগুলো যখন রচিত হয় তখন বাংলা ভাষা পুরোপুরি অপভ্রংশের খোলস ত্যাগ করতে পারে নি।

- সুনীতিকুমারের মতকে সুকুমার সেন সমর্থন করে চর্যাগীতির ভাষাকে বাংলা বলেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি শৌরসেনী প্রভাবের বদলে অবহষ্ঠের প্রভাবের পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অসমিয়া ভাষীদের দাবিও অযৌক্তিক নয়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।

৩৮.
মূর্ত বিশেষ্য কোনটি?
  1. সাহস
  2. সৌন্দর্য
  3. আনন্দ
  4. গোলাপ
ব্যাখ্যা

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ ইত্যাদি।

২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি?
  1. কুলটা
  2. গোষ্পদ
  3. গবাক্ষ 
  4. প্রৌঢ়
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়মে সাধিত হয় না এমন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি:
- পর্ + পর পরস্পর,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- ষট্ + দশ = যোড়শ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- এক +  দশ = একাদশ।

-------------------
 কতগুলো স্বর সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।
যথা: কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়), গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়), প্র + উঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়), অন্য + অন্য = অন্যান্য, মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪০.
'কারক বিশ্লেষণ' নিয়ে ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা রয়েছে?
  1. অর্থতত্ত্বে 
  2. ধ্বনিতত্ত্বে
  3. শব্দতত্ত্বে
  4. বাক্যতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪১.
নিচের কোনটি 'আশ্রয়' অর্থে প্রযোজ্য?
  1. স্মরণ
  2. সরণ
  3. শরণ
  4. স্বরণ  
ব্যাখ্যা

'শরণ' শব্দের অর্থ - আশ্রয়। 

অন্যদিকে,
------------------ 
'স্মরণ' শব্দের অর্থ - মনে করা। 
'সরণ' শব্দের অর্থ - গমন। 
'স্বরণ' শব্দটি অশুদ্ধ।   

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
'সূর' শব্দের অর্থ- সূর্য। 
'সুর' শব্দের অর্থ- দেবতা, গানের সুর। 
'শূর' শব্দের অর্থ- বীর। 
'স্বর্গ' শব্দের অর্থ- দেবতার বাসযান। 
'সর্গ' শব্দের অর্থ- অধ্যায়। 
'সার্থ' শব্দের অর্থ- অর্থযুক্ত। 
'স্বার্থ' শব্দের অর্থ- নিজ প্রয়োজন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪২.
লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার 'কাজী নজরুল ইসলাম'কে কোন নামে ডাকতেন?
  1. দুখু মিয়া
  2. নজর আলী
  3. তারা ক্ষ্যাপা
  4. ব্যাঙাচি
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  এবং কবি নজরুল জীবনী।

৪৩.
নিচের কোনটি প্রবন্ধ?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. এক পথ দুই বাঁক
  4. দুয়ে দুয়ে চার
ব্যাখ্যা

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' প্রবন্ধ:
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।

- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি। বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

-----------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-

• তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।
• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৪.
'অভ্র' এর সমার্থক শব্দ- 
  1. মেঘ
  2. আকাশ
  3. খনিজ ধাতুবিশেষ
  4. উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

• অভ্র( বিশেষ্য পদ):
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- খনিজ ধাতুবিশেষ;  
- মেঘ (আকাশে ভাসে শরতের শুভ্র অভ্ররাশি);
-  আকাশ। 

উল্লেখ্য,
'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অম্বর, ব্যোম, খ, গগন, অন্তরিক্ষ, শূন্যলোক, আসমান, দ্যুলোক, অভ্র, নীলিমা, শূন্য, না, অনন্ত, সুরপথ, অম্বরতল, খলোক, খগোল, নক্ষত্রলোক, নভোলোক, নভোমন্ডল, নভস্তল, নভস্থল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়ৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।

৪৫.
কোনটি মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. রীতি-নীতি
  2. অহি-নকুল
  3. মাসি-পিসি
  4. আয় – ব্যয়
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- মা-বাপ,
- মাসি-পিসি,
- জ্বিন-পরি,
- চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
- অহি-নকুল,
- দা-কুমড়া,
- স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ-পরপদ একই অর্থ বা প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: কাজ-কর্ম, রীতি-নীতি, সমাজ-সংস্কার, ঘর-বাড়ি, নদ-নদী, হাট-বাজার, বই-পুস্তক, চোর-ডাকাত, কুলি-মজুর, খাল- বিল, টাকা-কড়ি, ধন-দৌলত, জন-মানব, বন-জঙ্গল, বন্ধু-বান্ধব, ভাগ-বাটোয়ারা, চালাক-চতুর, লোক-জন, আপদ-বিপদ ইত্যাদি।

বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
• জমা – খরচ,
আয় – ব্যয়,
• ছোট – বড়,
• লাভ – লোকসান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬.
"সারা দেশব্যাপী দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।" - বাক্যটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. বানানঘটিত
  2. সমাস-ঘটিত   
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. বাহুল্যজনিত
ব্যাখ্যা

• বাংলা বাক্যে বাহুল্যদোষ হয় তখনই, যখন বাক্যে অনর্থক, অপ্রয়োজনীয়, পুনরুক্ত বা অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার ফলে বাক্যটি ভারাক্রান্ত, অপরিষ্কার বা অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ হয়ে পড়ে।

• সারা দেশব্যাপী দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে:
- ‘উদ্‌যাপন’ বানান শুদ্ধ।
তবে ‘সারা দেশব্যাপী’ অশুদ্ধ, কারণ ‘সারা’ এবং ‘দেশব্যাপী’র দ্বৈত ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়।
অর্থ্যাৎ, বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

শুদ্ধ বাক্য: সারা দেশে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।

সুতরাং, বাক্যটিতে বাহুল্যজনিত - ভুল রয়েছে।

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৭.
সকল নির্বাচককে সমষ্টিগতভাবে কী বলা হয়?
  1. নির্বাচকমন্ডলী
  2. নির্বাচকমণ্ডলি
  3. নির্বাচকমণ্ডলী
  4. নির্বাচকমন্ডলি
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো - গ) নির্বাচকমণ্ডলী।

অর্থ্যাৎ,
সকল নির্বাচককে একত্রে "নির্বাচকমণ্ডলী" বলা হয়।



অপশনের অন্যান্য বানানগুলো ভুল রয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।