পরীক্ষা আর্কাইভ

২৪তম বিসিএস [বাতিল] প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

পরীক্ষাPSCতারিখ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩সময়50 minutes৯৮ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১০০
সিলেবাস
২৪তম বিসিএস [বাতিল] প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মূল প্রশ্ন ও সমাধান
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

২৪তম বিসিএস [বাতিল] প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

PSC · ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ · ১০০ প্রশ্ন

.
I don't mind ____ with the cooking but I am not going to wash the dishes.
  1. to help
  2. help
  3. helping
  4. for helping
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - helping.
- সম্পূর্ন বাক্য - I don't mind helping with the cooking but I am not going to wash the dishes.

•  Mind, worth, can not help, with a view to, get used to, would you mind এবং যেকোনো preposition এর পর verb থাকলে উক্ত verb এর present form + ing যুক্ত হয়ে থাকে।

• অর্থাৎ,
- Mind যুক্ত incomplete sentence কে complete করার নিয়ম:-
- mind এর পরে verb এর মূল form এর সাথে 'ing' যোগ করতে হয়।
- Structure: Subject + mind + verb+ ing + object?
.
I decided to go ____ with my friend as I needed some exercise.
  1. to a walk
  2. for a walk
  3. for a walking
  4. walk
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - for a walk.
- সম্পূর্ণ বাক্য - I decided to go for a walk with my friend as I needed some exercise.

• Go for a walk অর্থ হাঁটতে যাওয়া।
- তাই শূন্যস্থানে for a walk বসালেই বাক্যটি শুদ্ধ হবে।
.
My uncle arrived while I _____ the dinner.
  1. would cook
  2. had cooked
  3. cook
  4. was cooking
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর হবে - was cooking.
Complete Sentence: My uncle arrived while I was cooking the dinner.

• While দ্বারা দুইটি বাক্যাংশ যুক্ত হলে - 
- While এর পূর্বে অংশ টি past indefinite এ হলে, এরপরের অংশে past continuous tense হয়। 
- while যুক্ত অংশটি Past continuous tense হলে অপরটি Past indefinite tense হয়।
.
In order to improve farming methods, we need ____.
  1. machine
  2. machinery
  3. a machinery
  4. machineries
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - 
- Complete sentence: In order to improve farming methods, we need machinery.

• Machinery
English Meaning: the components of a machine.
Bangla Meaning: যন্ত্রপাতি; কলকবজা।

• Machine শব্দটি countable.
- তাই এর পরিবর্তে a machine বা machines হলে তা উত্তর হতো।

অন্যদিকে,
- machinery শব্দটি uncountable noun.
- এর পূর্বে article বসে না এবং তার plural form হয় না।
- তাই শূন্যস্থানে সঠিক শব্দ হিসেবে machinery শব্দটি বসবে।
.
My friend always goes home ___ foot.
  1. by
  2. with
  3. on a
  4. on
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - on.
- Complete sentence: My friend always goes home on foot.

• On foot - walking
- if you go somewhere on foot, you walk there.
- অর্থাৎ, পায়ে হেঁটে কোথাও যাওয়া বোঝাতে on foot ব্যবহৃত হয়।
- Example: It takes about 30 minutes on foot, or 10 minutes by car.
.
We need two hundred dollars ____ this to pay for everything.
  1. as well
  2. also
  3. beside
  4. besides
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - besides.
- Complete Sentence: We need two hundred dollars besides this to pay for everything.

• Besides:
- English meaning: in addition to; also.
- Bangla Meaning:  তাছাড়া; এতদ্ব্যতীত; অতিরিক্ত; অধিকন্তু।
- কোন কিছুর জন্য অতিরিক্ত প্রয়োজন নির্দেশ করতে সাধারনত adjective হিসেবে besides ব্যবহৃত হয়।
.
The team is ___ eleven players.
  1. made of
  2. made up of
  3. made up
  4. made
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - made up of.
- Complete sentence: The team is made up of eleven players.

• Make up of - একটি Phrasal Verb.
- যার অর্থ-  consist বা গঠিত হওয়া।

• অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে - 
• Make of - কোনোকিছু থেকে সরাসরি তৈরি।
- The table is made of wood. 

• Make up - মনস্থির করা।
- She has not made up her mind.

• Make from - কোনো কিছু থেকে রূপান্তরিত হয়ে তৈরি।
- Paper is made from wood.

Source: Accessible Dictionary by Bangla Academy.
.
My wife reminded me ____.
  1. of my appointment
  2. to go my appointment
  3. to my appointment
  4. my appointment
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - of my appointment.
- Complete sentence: My wife reminded me of my appointment.

• Remind someone of something/someone (phrasal verb)

English Meaning: To be similar to, and make someone think of, something or someone else:
Bangla Meaning: স্মরণ/মনে করিয়ে দেওয়া।
Example: Your hair and eyes remind me of your mother.

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy 
2. Cambridge Dictionary.
.
At least one of the students ____ full marks every time.
  1. get
  2. are getting
  3. gets
  4. have got
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - gets.
- সম্পূর্ণ বাক্যটি - At least one of the students gets full marks every time.

•  One of the দ্বারা মূলত অনেকের মধ্যে একজনকে বোঝায়।
- কোনো বাক্যে one of the থাকলে বাক্যের গঠন হবে -
- One of the + Noun (plural) + Verb (singular) + Possessive (singular).
- তাই বাক্যটিতে one of the এরপর plural noun students হবে এবং singular form হিসেবে verb হবে gets.
১০.
Please ___ the necessity of arriving early.
  1. emphasise about
  2. emphasise to
  3. emphasise on
  4. emphasise
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - emphasise.
- Complete sentence:  Please emphasise the necessity of arriving early.

• Emphasise (verb)
- English meaning: to show that something is very important or worth giving attention to.
- Bangla Meaning: গুরুত্ব নির্দেশের উদ্দেশ্যে কোনো শব্দের উপর জোর দেওয়া; গুরুত্ব দেওয়া।

Emphasis (noun)
English Meaning: the particular importance or attention that is given to something:
Bangla Meaning: গুরুত্ব নির্দেশের উদ্দেশ্যে কোনো শব্দের উপর জোর দেওয়া; গুরুত্ব দেওয়া।

• Parts of speech এর ভিত্তিতে -
- emphasize/ emphasise (verb) হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হলে এর সাথে সাধারণত preposition বসেনা।
- emphasis (noun) রূপে বাক্যে ব্যবহৃত হলে এর সাথে on ব্যবহৃত হয়।
- প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যে emphasise verb হিসেবে এসেছে তাই এর সাথে preposition হবে না।

Example: 
• Emphasise (verb)
- I'd just like to emphasise how important it is for people to learn foreign languages.
- He emphasised that all the people taking part in the research were volunteers.
- You can use italics or capitals to emphasise a word in a piece of writing.

• Emphasis (noun)
- I think we should put as much emphasis on preventing disease as we do on curing it.
-  Schools here put/place/lay great emphasis on written work and grammar.
- The emphasis is on the final syllable.

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy 
2. Cambridge Dictionary.
১১.
I don't think you will have any difficulty ___ a driving license.
  1. to get
  2. in getting
  3. for getting
  4. get
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - in getting.
Complete sentence: I do not think you will have any difficulty in getting a driving license.

• Difficulty (noun)
- English Meaning: the fact of not being easy to do or understand
- Bangla Meaning: দুঃসাধ্যতা; কাঠিন্য; মুশকিল; বাধা; জটিলতা; প্রতিবন্ধকতা।

• অর্থাৎ কোনো কিছু করা কষ্টকর বোঝানোর জন্য difficulty in ব্যবহৃত হয় এবং 
- নিয়মানুযায়ী difficulty in এর পর verb এর সাথে ing যুক্ত হয়। 
- যেমন:
- difficulty in breathing, difficulty in learning etc.
- Do you have any difficulty in understanding spoken English?
- He completed the work without any difficulty.

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy 
2. Cambridge Dictionary.
১২.
I thought that ___ was the last one.
  1. the most prettiest of all
  2. prettiest one of all
  3. the prettiest one from all
  4. the prettiest one of all
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - the prettiest one of all.
- Complete sentence: I thought that the prettiest one of all was the last one.
- Superlative এর নিয়মানুযায়ী এটি সঠিক উত্তর,
- Pretty (সুন্দর, মনোরম) এর comparative form হচ্ছে prittier and superlative form হচ্ছে prettiest.

• অন্যদিকে, 
• কোনো বাক্যে Double superlative ব্যবহার করা যায় না। তাই (ক) তে most prettiest ব্যবহার ভুল।
• Superlative degree এর পূর্বে the বসে কিন্তু খ) তে prettiest শব্দটির পূর্বে the নেই।
• এছাড়াও superlative degree তে যাদের সাথে তুলনা করা হয়, তাদের পূর্বে of বসে। তাই (গ) তে from ব্যবহার ভূল।
১৩.
The ministers arrived ___ a decision last night.
  1. to
  2. at
  3. on
  4. by
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - at.
- Complete sentence: The ministers arrived at a decision last night.

• Arrive at something
English Meaning: to reach an agreement about something.
Bangla Meaning: (সিদ্ধান্ত, মূল্য, বয়স ইত্যাদিতে) উপনীত হওয়া বা পৌঁছানো।
Example sentence: We all argued about it for hours and eventually arrived at a decision.

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy 
2. Cambridge Dictionary.
১৪.
She is beautiful but she is ____ her mother.
  1. most beautiful
  2. less beautiful
  3. as beautiful
  4. not so beautiful as
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - not so beautiful as.
- Complete sentence: She is beautiful but she is not so beautiful as her mother.

• কতগুলো conjunction আছে যাদের দুটি অংশ থাকে, এবং দুটি অংশ মিলে একটি compound conjunction গঠন করে।এদের কে correlative conjunction বলে। 
- Example : as…as, so…...as, such… that, not only …. But also, hardly …before /when, no sooner …than, neither … nor, either … or, both… and, the same.…. as.

• প্রশ্নে 'but' থাকায় পরের adjective টির negative form হবে।
- তাই, এখানে 'not as beautiful as' হবে। 

Source: A passage to the English Language by S.M Zakir Hussain.
১৫.
The government gave ____ the demands of the people.
  1. in to
  2. in
  3. to
  4. over to
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর - in to.
- Complete sentence: The government gave in to the demands of the people.

• বাক্যে সরকারের মেনে নেয়া বা নতি স্বীকার করা অর্থে give in সঠিক।
-  অর্থাৎ, give in হচ্ছে phrasal verb এবং এর পরে to বসবে।

• Give in (to somebody) (phrasal verb)
English Meaning: to finally agree to something that someone wants after first refusing
Bangla Meaning: আত্মসমর্পণ করা; নতি বা বশ্যতা স্বীকার করা।
Example:
- Our men were forced to give in.
- She usually had to give in to her husband .

• অন্যদিকে,
• Give something in
- যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া।
- It’s time for you to give in your examination papers.

Source: 
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy 
2. Cambridge Dictionary.
১৬.
The Second World War broke _____ in September, 1939.
  1. through
  2. away
  3. out
  4. in
ব্যাখ্যা
• শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - out.
- Complete sentence: The second World War broke out in September, 1939.
- Break out হচ্ছে একটি Phrase. কোনো কিছু ছড়িয়ে পড়া অর্থে Break out ব্যবহৃত হয়।

• Break out
English Meaning: If something dangerous or unpleasant breaks out, it suddenly starts.
Bangla Meaning: খারাপ কিছু হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া / প্রাদুর্ভাব

Ex. Sentence: War broke out in 1914.
Bangla Meaning: ১৯১৪ সালে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

• অন্য অপশন গুলোর মধ্যে -
- Break-in (noun) break in (up) on বাধা দেওয়া: break in (up) on a discussion.
- break-through (noun) (ক) (সামরিক) ব্যূহভেদ (শত্রুপক্ষের)।

Source: Live MCQ Lecture and Bangla Academy Dictionary.
১৭.
Choose the correct meaning of the following words
১৭) Gullible
  1. foolish
  2. willing to believe anything or anyone
  3. simple
  4. easily deceived
ব্যাখ্যা
• Gullible (adjective)
English Meaning: Easily deceived or tricked.

Synonyms: Credulous (সরল বিশ্বাসী; বিশ্বাসপ্রবণ), Impressionable (সহজপ্রবণ), Naïve (সাদাসিধা). Unwary (অসতর্ক), Credible (সহজে বিশ্বাস করা যায় এমন)। 
Antonyms: Cynical (নৈরাশ্যবাদীর আচরণসম্পন্ন), Suspicious (সন্দেহজনক; সন্দেহভাজন), Taunting (বিদ্রুপাত্মক), Fishy (সন্দেহজনক), Mistrustful (সন্দিগ্ধ, আস্থাহীন)। 

• Other Forms:
- Gullibility [গালাবিলাটি] (noun)
- Gull [গাল্] (verb transitive) ধোঁকা দেওয়া, প্রতারণা করা।
- Gull [গাল্] (noun) সামুদ্রিক পাখিবিশেষ; শঙ্খচিল।
- Gullibly (Adverb)

Example Sentence: 
1. After all, there are so many gullible people who believe whatever they read from internet!
2. At that early age she had been gullible and in love.

Source:
1. Cambridge Dictionary
2. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
3. Live MCQ lecture.
১৮.
Viable
  1. possible
  2. that can be done
  3. capable
  4. that will work
ব্যাখ্যা
• Viable (adjective)
English Meaning: Able to exist, perform as intended, or succeed.
Bangla Meaning: টিকে থাকতে সমর্থ; বাইরের (গাড়ি, ১৯১৬ সালের আগের) সাহায্য ছাড়া বিকশিত হতে ও টিকে থাকতে সক্ষম।

Synonyms: Feasible (সম্ভব), Usable (ব্যবহারযোগ্য), Suitable (উপযোগী), Capable (সক্ষম), Achievable (অর্জনীয়)।
Antonyms: Impracticable (যা কার্যকর করা সম্ভব নয়; অসাধ্য), Impossible (অম্ভব), Nonviable (অলভ্য/অপ্রাপ্য), Unattainable (অসাধ্য), Out of the Question (হিসাবের/গণনার বাইরে)।

Other Forms:
- Viably (adverb).

Example Sentence:
1. The company had to seek other ways to remain viable.
2. He could not suggest a viable alternative.

Source:
1. Cambridge Dictionary
2. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
3. Live MCQ lecture.
১৯.
Handy
  1. comfortable
  2. useful
  3. convenient to handle or use
  4. necessary
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
•  উল্লেখিত অপশন গুলোর মধ্যে  convenient to handle or use এবং Useful শব্দ দুইটি Handy এর সমার্থক অর্থ প্রকাশ করে।
- অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায়, উত্তর নেয়া সম্ভব হয় নি।

• Handy
English Meaning: Convenient to handle or use; useful.
Bangla Meaning:  হাতের কাজে পটু; কুশলী।

• উল্লেখিত অপশন গুলোর মধ্যে - 
ক) Comfortable - আরামদায়ক।
খ) Useful - দরকারি; কাজের; উপকারী; হিতকর; ব্যবহার্য; প্রয়োজনীয়
গ) Convenient to handle or use - সুবিধাজনক; উপকারী; হিতকর
ঘ) necessary - প্রয়োজনীয়; আবশ্যক; অপরিহার্য; দরকারি।

Source:
1. Collins Dictionary.(Link)
2. . Accessible Dictionary by Bangla Academy.
২০.
Select the pair that best expresses a relationship similar to that expressed in the original pair.
২০) Conscious ... Careless.
  1. Careful ... Indifferent
  2. Graceful ... Ugly
  3. Generous ... Unkind
  4. Well-informed ... Knowing little
ব্যাখ্যা
• Careless যত্নহীন; অসাবধান; অসতর্ক; অমনোযোগী; অনবধান।
• Conscious- সচেতন; সজ্ঞান 

• Careful- সতর্ক/হুঁশিয়ার/সাবধান/মনোযোগী/যত্নবান হওয়া। 
• Indifferent - নিঃস্পৃহ; অনীহ; উদাসীন; নিরুৎসুক। 

• Other options:
• Careful - মনোযোগী; Ugly - কুৎসিত।
• Generous - উদার; Unkind - নির্দয়।
• Well-informed - সুবিদিত, ওয়াকিফহাল; Knowing little - অল্প জানা।

• Conscious লোকজন যেকোনো কিছুর ব্যাপারে careful থাকেন, careless নয়।
- যে ব্যাক্তি কোনো কিছুর ব্যাপারে careful তিনি সে ব্যাপারে indifferent থাকেন না, careless হলেই indifferent হওয়া সম্ভব।
- যদিও conscious-careless এবং careful-indifferent এর সম্পর্ক দেখে মনে হচ্ছে এরা বুঝি বিপরীত সম্পর্ক বুঝাচ্ছে, আদতে এমন হলে উত্তর অপশন গ এবং ঘ-ও হতে পারতো।
- কিন্তু এখানে প্রশ্নে আচরণের যে বিপরীতমুখিতা, তাই অপশন থেকে বেছে নিতে বলা হয়েছে।
- সে অনুযায়ী উত্তর - ক) রাখা হয়েছে।

Source: Accessible Dictionary by Bangla Academy.
২১.
'ভানুসিংহ' কার ছদ্মনাম?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের
  3. প্রমথ চৌধুরীর
  4. টেকচাঁদ ঠাকুরের
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

----------------------
অন্যদিকে,
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২.
'সুন্দর মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।'- এই বাক্যে সুন্দর শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘সুন্দর মাত্রেরই একটি আকর্ষণ শক্তি আছে’ - এই বাক্যে ‘সুন্দর’ শব্দটি হলো 'বিশেষ্য' পদ।
- এখানে 'সুন্দর' হলো গুণবাচক বিশেষ্য।

• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।

তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

• সন্দর বিশেষ্য পদ যোগে গঠিত কিছু বাক্য হলো:
- সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
- সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
- সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
'সাম্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা
• ‘সাম্য’ গদ্যগ্রন্থ:
- 'সাম্য' (১৮৭৯) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গদ্যগ্রন্থ।
- 'বঙ্গদর্শনে' প্রকাশিত 'সাম্য' বিষয়ক তিনটি এবং 'বঙ্গদেশের কৃষক' প্রবন্ধের কিছু অংশ নিয়ে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- ইউরোপীয় সাম্যচিন্তার ধারার ইতিহাস এখানে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই গ্রন্থে বঙ্কিমচন্দ্রের সমাজ ও অর্থনৈতিক প্রগতিশীল চিন্তা প্রকাশিত।

উল্লেখ্য,
- ‘সম্যবাদী’ নামে কাজী নজরুল ইসলামের একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। এবং ‘সাম্য’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কবিতা, তবে তা কোনো একক গ্রন্থ নয়।

----------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
কোন গ্রন্থটি এয়াকুব আলী চৌধুরী প্রণীত?
  1. মোস্তফা চরিত
  2. নয়াজাতির স্রষ্টা হযরত মোহাম্মদ
  3. বিশ্বনবী
  4. মানব-মুকুট
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী:
- মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী ছিলেন একজন লেখক ও সাংবাদিক।
- ১৩৯৫ বঙ্গাব্দের ১৮ কার্তিক (নভেম্বর, ১৮৮৮) ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার অন্তর্গত মাগুরাডাঙ্গা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- এয়াকুব আলী চৌধুরী কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯২০-২১ সালে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে তিনি কারাবরণ করেন। এর ফলে তাঁর শিক্ষকজীবনেরও অবসান ঘটে।
- অতঃপর তিনি কলকাতা গিয়ে অনুজ আওলাদ আলী চৌধুরীর সঙ্গে সাংবাদিকতার কাজে যোগ দেন এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (১৯১১) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। তিনি কিছুকাল এ সমিতির সম্পাদকও ছিলেন।
- তাঁর ও কবি গোলাম মোস্তফার যুগ্ম সম্পাদনায় ১৯২৭ সালের জানুয়ারি মাসে সমিতির মুখপত্র মাসিক সাহিত্যিক প্রকাশিত হয়।
- জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক কোহিনূরে প্রবন্ধ লিখে তিনি সাহিত্যসাধনা শুরু করেন।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা বাংলা না উর্দু হবে এ বিতর্কে তিনি বাংলা ভাষাকেই সমর্থন করেন।

তাঁর প্রধান রচনাগুলো হলো:
- ধর্মের কাহিনী (১৯১৪),
- নূরনবী (১৯১৮),
- শান্তিধারা (১৯১৮) ও
- মানব মুকুট (১৯২৬)।

অন্যদিকে,
• মাওলানা আকরম খাঁ রচিত হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর জীবনী 'মোস্তফা চরিত'।
• ‘বিশ্বনবী’ গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
• ‘নয়াজাতি স্রষ্টা: হযরত মুহাম্মদ’ মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৫.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকাটির নাম কি?
  1. সওগাত
  2. সমকাল
  3. উত্তরণ
  4. শিখা
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল।
- সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

-------------------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর।
- তিমিরান্তিক।
- বৈরী বৃষ্টিতে।
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- নবী কাহিনী।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬.
'ফণি-মনসা' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আহসান হাবীব
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• ‘ফণি-মনসা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭.
'বীরবলের হালখাতা' গ্রন্থটি কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘বীরবলের হালখাতা’:
- ‘বীরবলের হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য/প্রবন্ধ রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

---------------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল’।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
বাংলা একাডেমীর 'আঞ্চলিক অভিধান' সম্পাদনা কে করেন?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমী 'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

---------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
সনেটের ক'টি অংশ?
  1. একটি
  2. দুটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
• সনেট (Sonnet):
- গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে ।
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়।
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক।
- প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষটক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক - ইতালীয় কবি পেত্রার্ক।
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০.
'কাঁচি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা
• 'কাঁচি' তুর্কি ভাষার শব্দ।
'কাঁচি' অর্থ : কাগজ কাপড় প্রভৃতি কাটার জন্য ব্যবহৃত দুটি হাতল যুক্ত ইস্পাতের ফলা একত্রে জুড়ে তৈরি ধারালো অস্ত্রবিশেষ।

• তুর্কি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ শব্দ:
তোপ, চাকু, বাবা, বাবুর্চি, মুচলেকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩১.
'কাটাকুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা'
-এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বেনজীর আহমেদ
ব্যাখ্যা
'কাটা-কুঞ্জে বসি' তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তাের বেদনার টীকা।'- পঙ্‌ক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থ:

- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে।

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘মুক্তি’।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২.
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ আছে কোন বাক্যটিতে?
  1. ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল
  2. কাজের পরিচয় ফলে বোঝা যায়
  3. ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা একলা জেগে রই
  4. আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

 প্রশ্নে প্রদত্ত,
''আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস'' এই বাক্যে ''আকাশে'' শব্দ দ্বারা স্থানকে বুঝিয়েছে এবং এতে সপ্তমী বিভক্তি (এ) আছে। তাই ‘আকাশে’ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

আবার,
- বাক্যের ক্রিয়াকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলেও ‘আকাশে’ উত্তর পাওয়া যায়। সুতরাং ‘আকাশ’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণে সপ্তমী কারক।

অন্যদিকে,
• 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা'- এখানে 'ফুলের' সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ।
• কাজের পরিচয় ফলে বোঝা যায়।- কাজের পরিচয় কী দ্বারা বোঝা যায় ফল দ্বারা। সুতরাং ‘ফলে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
৩৩.
কোন সাহিত্যাদর্শের মর্মে নৈরাশ্যবাদ আছে?
  1. রোমান্টিসিজম
  2. আধুনিকতাবাদ
  3. উত্তরাধুনিকতাবাদ
  4. বাস্তববাদ
ব্যাখ্যা
• উত্তর-আধুনিকতাবাদ:
- উত্তর-আধুনিকবাদ মতটি সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্প, দর্শন, ইতিহাস, অর্থনীতি, স্থাপত্য, সমালোচনার ক্ষেত্রে Deconstruction ও Post-structural- ism-এর সঙ্গে অনেকটাই সংশ্লিষ্ট।

- Postmodernism শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৮৭০ সালে। জন ওয়াটকিনস চ্যাপম্যান ফরাসি Impressionism থেকে চিত্রকলাকে পৃথক করার জন্য প্রথম এই ধারার চিত্রের কথা বলেন।

- সাহিত্যের ক্ষেত্রে Postmodern ধারণাটি প্রথম আসে ১৯৭২ সালে আমেরিকান 'সীমান্ত ২' (Boundary 2) পত্রিকার মাধ্যমে। ডেভিড এনটিন, চার্লস অলসন, জর্জ লুইস বর্জ প্রমুখ এই ধারাকে বেগবান করেন। আরব-আমেরিকার লেখক ইহাব হাসান ১৯৭১ সালে উত্তর-আধুনিক ধারায় সাহিত্য সমালোচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।

- উত্তর-আধুনিকতার মূলকথা হচ্ছে: 'সব কিছুই বহমান ও খণ্ডিত। সত্যের কোনো বস্তুগত রূপ নেই। সমস্ত নৈতিক, সামাজিক রীতি-নীতি কৃত্রিম, বিধি বহির্ভূত অকারণ ও বাইরে থেকে চাপানো; সত্য কেবল বিষয়গত ও আধ্যাত্মীয়।'

- আরনল্ড টয়েনবি, আরভিং হো, হ্যারি লেভিন, এডওয়ার্ড সাইড প্রমুখ উত্তর-আধুনিক ধারার সমর্থক।

- এই ধারা মূলত আধুনিকতার বিপরীতে পথসন্ধান করে এবং মধ্যযুগের মূল্যবোধে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। মধ্যযুগ ব্যাখ্যায় বৈজ্ঞানিকতার বদলে অনেকে ধর্মীয় ব্যাখ্যায় স্থিত হন। এখানেই উত্তর-আধুনিকতার সীমাবদ্ধতা।

- মূলত নৈরাশ্য থেকে এ পথে তারা সর্বসমস্যার সমাধান খোঁজেন। তখন আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধারাকে পাশ কাটিয়ে তারা পতিত হন ধর্মমোহে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪.
'কাশবনের কন্যা' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. আবুল ফজল
  4. জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
• কাশবনের কন্যা:
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

-------------------------------------
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
'শাশ্বত বঙ্গ' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. আবুল হুসেন
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. কাজী আনোয়ারুল কাদির
ব্যাখ্যা
• শাশ্বত বঙ্গ:
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত ‘শাশ্বত বঙ্গ’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ।
- একটি কবিতাসহ ৭৫টি প্রবন্ধ নিয়ে সংকলিত হয় এ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৫৮ সনে, কলকাতা থেকে।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত নবর্পয্যায় (১ম ও ২য় খণ্ড), রবীন্দ্রকাব্য পাঠ, সমাজ ও সাহিত্য, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ, আজকার কথা, নজরুল প্রতিভা, স্বাধীনতা-দিনের উপহার প্রভৃতি গ্রন্থের নির্বাচিত প্রবন্ধ এবং অপ্রকাশিত কিছু প্রবন্ধ নিয়ে গ্রন্থ আকারে ‘শাশ্বত বঙ্গ’ সংকলিত হয়।

--------------------------------
• কাজী আবদুল ওদুদ:
- কাজী আবদুল ওদুদ একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারায় কাজী আবদুল ওদুদের প্রধান পরিচয় চিন্তাশীল লেখক হিসেবে। তবে তাঁর লেখালেখি শুরু হয় কথাসাহিত্যের মাধ্যমে।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ মীর পরিবার পাঁচটি গল্পের সংকলন।
- এরপর তিনি তিনটি গল্প রচনা করেন যা পরবর্তী সময়ে তরুণ (১৯৪৮) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- নদীবক্ষে ও আজাদ (১৯৪৮) তাঁর দু’টি উপন্যাস।
- নাটকও রচনা করেন দু’টি ‘পথ ও বিপথ’ (১৯৩৯) এবং ‘মানব-বন্ধু’। মানব-বন্ধু পরবর্তীকালে তরুণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
'বেটাইম' শব্দটি গঠিত হয়েছে-
  1. ফারসি ও ইংরেজি শব্দে
  2. ফরাসি ও ইংরেজি শব্দে
  3. ফারসি ও ফরাসি শব্দে
  4. ফারসি ও হিন্দি শব্দে
ব্যাখ্যা
• ‘বেটাইম’ শব্দে বে ফারসি উপসর্গ এবং টাইম ইংরেজি শব্দ।
- অর্থাৎ ফারসি উপসর্গ এবং ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে বেটাইম শব্দটি গঠিত।
অর্থ: 
- অসময়,
- অসুবিধাজনক সময়।

- কোনাে কোনাে সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে।
যেমন:
- ‘কাঁচামাল’ (বাংলা + আরবি),
- রাজা-বাদশা (তৎসম + ফারসি),
- হাট-বাজার (বাংলা + ফারসি),
- চৌহদ্দি ( বাংলা + ফারসি),
- হেড-পণ্ডিত (ইংরেজি+তৎসম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৭.
'হাত-ভারি' বাগধারার অর্থ-
  1. দাতা
  2. কম খরচে
  3. দরিদ্র
  4. কৃপণ
ব্যাখ্যা
• 'হাত-ভারি' বাগ্‌ধারার অর্থ 'কৃপণ'। 
বাক্য গঠন: তাঁর মত হাতভারি লোক আমি কমই দেখেছি। 

আরও কিছু বাগ্‌ধারার এবং এর অর্থ- 
- 'হাত ধরা' বাগ্‌ধারার অর্থ বশীভূত।
- 'হাড় হাভাতে' বাগ্‌ধারার অর্থ হতভাগ্য,
- 'হাল ছাড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ হতাশ হওয়া।
- 'হাত পাকান' বাগ্‌ধারার অর্থ দক্ষতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮.
'লাজ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া-বিশেষণ
  4. বিশেষ্যের-বিশেষণ
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
• লাজ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- লজ্জা, শরম।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯.
ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ'-এর প্রতিষ্ঠা কোন খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৯২৬
  2. ১৯১১
  3. ১৮৬৪
  4. ১৯০৫
ব্যাখ্যা
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
- নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।
এছাড়াও-
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন।
- এই পত্রিকার স্লোগান ছিলো - 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪০.
'সঞ্চিতা' কোন কবির কাব্য সংকলন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• ‘সঞ্চিতা’- 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর কাব্য সংকলন।

• 'সঞ্চিতা' কাব্য সংকলন:
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।

• উল্লেখ্য 'সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১.
লেজার রশ্মি কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
  1. বোর, ১৯৬৩
  2. রাদারফোর্ড, ১৯১৯
  3. হাইগ্যান, ১৯৬১
  4. মাইম্যান, ১৯৬০
ব্যাখ্যা
- LASER এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Light Amplification by Stimulated Emission Radiation. 
অর্থাৎ, উত্তেজিত বিকিরণের সাহায্যে আলোক বিবর্ধক। 
- ১৯৬০ সালে আমেরিকান পদার্থবিদ থিওডর মাইম্যান প্রথম লেজার রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- লেজারের বিবিধ ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে মৃদু শল্যচিকিৎসা এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব পরিমাপ করা। 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ডট কম ওয়েবসাইট।
৪২.
আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ৩৯
  2. ৩২
  3. ৩৩
  4. ৩৪
ব্যাখ্যা
- আর্সেনিকের (As) পারমাণবিক সংখ্যা হচ্ছে ৩৩ । 
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic).
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- জার্মেনিয়ামের (Ge) পারমাণবিক সংখ্যা ৩২। 
- সেলেনিয়ামের (Se) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৪। 
- ইট্রিয়ামের (Y) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৯। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ) এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। 
৪৩.
প্রথম টেস্টটিউব বেবীত্রয় কবে ভূমিষ্ঠ হয়?
  1. ২৭ মে
  2. ২৪ মে
  3. ৩০ মে
  4. ৩১ মে
ব্যাখ্যা
- টেস্ট টিউব বেবি নেয়া হয় মূলত আইভিএফ চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে। 
- ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে আইভিএফ। 
- এ পদ্ধতিতে স্ত্রীর পরিণত ডিম্বাণু ল্যাপারেস্কোপিক পদ্ধতিতে অত্যন্ত সন্তর্পণে বের করে আনা হয়, পরে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর ল্যাবে সংরক্ষণ করা হয়। 
- এছাড়া একই পদ্ধতিতে স্বামীর শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়, পরে ল্যাবে বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় সবচেয়ে ভালো জাতের একঝাঁক শুক্রাণু। 
- ইনকিউবেটরের মধ্যে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পরই বোঝা যায় নিষিক্তকরণের পর ভ্রূণ সৃষ্টির সফলতা সম্পর্কে। 
- ভ্রূণ সৃষ্টির পর সেটিকে একটি বিশেষ নলের মাধ্যমে জরায়ুতে সংস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়। 

- বাংলাদেশে প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জন্ম হয় ৩০ মে, ২০০১ সালে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে। 
- দেশের প্রথম টেস্ট টিউব বেবির মা ফিরোজা বেগম ও বাবা আবু হানিফ তাঁদের বিবাহিত জীবনের ১৬ বছর পর এই টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতিতে একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তান লাভ করেন।
উল্লেখ্য, 
- পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম টেস্ট টিউব বেবি লুইস ব্রাউনের জন্ম হয় ১৯৭৮ সালের ১১ নভেম্বর ইংল্যান্ডে। 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা ও এনটিভি নিউজ রিপোর্ট।
৪৪.
ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা?
  1. অ্যানোফিলিস
  2. এডিস
  3. কিউলেক্স
  4. সব ধরনের মশা
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা। 
- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। 
- এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। 
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। 
- ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ: জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি। 
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। 
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর বলা হয়। 
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। 
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

অন্যদিকে, 
- ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- অ্যানোফিলিস। 
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং WHO ওয়েবসাইট।
৪৫.
কোনটি বেশি স্থিতিস্থাপক?
  1. ইস্পাত
  2. রাবার
  3. কাচ
  4. পানি
ব্যাখ্যা
স্থিতিস্থাপকতা: 
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে। 
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৪৬.
ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে-
  1. অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
  3. অধিক পরিমাণে কার্বন মনো-অক্সাইড নির্গত হয়
  4. বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
ব্যাখ্যা
- ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছ হতে রাতের বেলা উদ্ভিদের শ্বসনের পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ রাতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়
- এ সময় উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শারীরবৃত্তীয় বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাই রাতের বেলা গাছের নিচে অক্সিজেনের ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত কম থাকে। 
৪৭.
চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রথম অবতরণকারী মানুষের নাম ও দেশ -
  1. ইয়ুরি গ্যাগারিন, রাশিয়া
  2. জন গ্লেন, যুক্তরাষ্ট্র
  3. রিচার্ড এলড্রিন, যুক্তরাষ্ট্র
  4. নীল আর্মস্ট্রং, যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে চাঁদের বুকে মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং প্রথম পা রাখেন। 
- তাঁর কিছুক্ষণ পরই চাঁদে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পা রাখেন বাজ অলড্রিন। 
- তাঁরা দুজনই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রযানে করে চাঁদের বুকে অবতরণ করেছিলেন। 
- সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় তাঁদের সঙ্গী ছিলেন মাইকেল কলিন্স। 
- তিনি অবশ্য দুই সঙ্গীর সঙ্গে চাঁদে পা রাখতে পারেননি, কারণ তিনি চাঁদের কক্ষপথে কমান্ড মডিউলের দায়িত্বে ছিলেন। 
- এই তিন মার্কিন নভোচারীই পরে ইতিহাসের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। 

উৎস: নাসার ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা (২১ জুলাই, ২০১৯)।
৪৮.
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিত নয়?
  1. বেলে মাছ
  2. পালং শাক
  3. খাশির মাংস
  4. মুরগির মাংস
ব্যাখ্যা
- 'রেড মিট' বলতে গরু বা খাসির মাংসকে বুঝায়। 
- রক্তে কোলেস্টেরল-এর পরিমাণ বেড়ে গেলে গরু বা খাসির মাংস খাওয়া উচিত নয়। 
- কারণ রেড মিটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। 
- আর উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। 
- রেড মিটে যে কোলেস্টেরল থাকে সেটি বেশি বেড়ে গেলে হার্টের শিরায় জমে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দেয়।

উৎস: বিবিসি। 
৪৯.
স্বর্ণের খাদ বের করতে কোন অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়?
  1. সাইট্রিক অ্যাসিড
  2. নাইট্রিক অ্যাসিড
  3. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড
  4. টারটারিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
- 1 মোল HNO3 ও 3 মোল HCl এর মিশ্রণকে রাজঅম্ল বা অ্যাকোয়া রেজিয়া বলে। 
- স্বর্ণের খাঁদ বের করতে এই এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- স্বর্ণের খাদ বের করার জন্য তাকে নাইট্রিক এসিড দিয়ে পোড়ানো হয়। 
- আর সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয় সালফিউরিক এসিড। 
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যেকোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়। 

- Aqua regia can dissolve gold because each of its two component acids carries out a different function. 
- The nitric acid is a good oxidizing agent. 
- Chloride ions from the hydrochloric acid from coordination complexes with the gold ions, removing them from solution. 
- Reducing the concentration of the Au3+ ions shifts the equilibrium towards the oxidized form. 

উৎস: MIT
৫০.
কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদানের প্রযুক্তিকে বলা হয়-
  1. ইন্টারকম
  2. ইন্টারনেট
  3. ই-মেইল
  4. ইন্টারসীড
ব্যাখ্যা
- কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদানের প্রযুক্তিকে ইন্টারনেট বলা হয়। 

ইন্টারনেট: 
- কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদানের প্রযুক্তিকে বলা হয় ইন্টারনেট। 
- ইন্টারনেট পৃথিবীর বিস্তৃত একটি বৃহত্তম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। 
- আরপানেট দিয়ে ইন্টারনেটের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। 
- ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষামূলক কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত করে। এ নেটওয়ার্কের নাম আর্পানেট। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।
৫১.
বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. সমতট
  2. পুণ্ড্র
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বঙ্গ জনপদ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই'।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া 'আল' নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে পানি থেকে শস্যক্ষেত রক্ষার জন্য বড় বড় 'আল' বাঁধা হতো এবং তার ফলে এ অঞ্চলটি 'বঙ্গাল' নামে পরিচিত হয়।

অন্যদিকে -
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- সমতটের অন্তর্গত ছিল বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালি অঞ্চল। বর্তমান কুমিল্লা জেলার লালমাই এলাকা ছিল এ অঞ্চলের মূল কেন্দ্র।
- শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত হরিকেল জনপদের সীমানা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
৫২.
বাংলায় মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের সূচনা কে করেন?
  1. আলী মর্দান খলজী
  2. তুঘরিল খান
  3. শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  4. ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা
• বাংলায় মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের সূচনা করেন — ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী। 

• ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। 
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। 
- তিনি — ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৫৩.
ঢাকায় সুবা-বাংলার রাজধানী কখন স্থাপিত হয়?
  1. ১৬১০ সালে
  2. ১৫৭৬ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
• ঢাকায় সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় — ১৬১০ খ্রিঃ। 

• রাজধানী হিসেবে ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের — বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল — বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী — ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম — 'জাহাঙ্গীরনগর' রাখা হয়।

উল্লেখ্য, 
• ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

• ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।

• কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।

• ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: ঢাকা জেলা, dhaka.gov.bd.জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৪.
কোন মুঘল সুবাদার চট্টগ্রাম দখল করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ?
  1. ইসলাম খান
  2. রাজা মানসিংহ
  3. মীর জুমলা
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
• বাংলার মুঘল সুবাদার — শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম দখল করে এর নাম রাখেন — ইসলামাবাদ। 

• শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খান ছিলেন বাংলার মুঘল সুবাদার।
- ১৬৭৮-৭৯ খ্রিস্টাব্দে এক বছরের সামান্য বেশি সময়ের বিরতিসহ দীর্ঘ ২৪ বছর তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি ছিলেন মুঘল সম্রাট — আওরঙ্গজেবের মামা।
- তিনি যখন ঢাকায় পৌঁছেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬৩ বছর।
- ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- প্রধানত চট্টগ্রাম জয়ের জন্যই বাংলায় শায়েস্তা খানের বিশাল খ্যাতি।
- ১৬৬৬ সালে বাংলার মোঘল শাসক শায়েস্তা খান তাঁর পুত্র বুজুর্গ — ওমেদখানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিজয় সম্পন্ন করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের নাম রাখেন — ইসলামাবাদ।

উৎস:
i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
iii) ইতিহাস - চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, ccc.gov.bd.
৫৫.
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কখন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে?
  1. ১৬৯০ সালে
  2. ১৭৬৫ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি — ১৭৬৫ সালে — বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে
-------------------- 
• কোম্পানির দেওয়ানি লাভ: 
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লীর সম্রাটের পরাজয় ইংরেজ শক্তিকে এই ক্ষমতা লাভের সুযোগ করে দেয়।
- বক্সারের যুদ্ধের পর — ক্লাইভ দ্বিতীয়বার (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
- ক্লাইভ দেশ থেকে ফিরে অযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন। 
- তার বিনিময়ে আদায় করে নেন — কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।

- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে — কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- মোগল সম্রাট — দ্বিতীয় শাহ্ আলম একটি ফরমানের মাধ্যমে — বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি ইংরেজ কোম্পানির হাতে তুলে দেন।
- ইংরেজরা এর বিনিময়ে শাহ্ আলমকে বছরে ২৬ লক্ষ টাকা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠাবার জামিনদার হবে কোম্পানি।
- ইতিহাসে এটি — এলাহাবাদ চুক্তি নামে পরিচিত। 
- ১৭৬৫ সালের ১২ই অগাস্ট এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে জয়ী হয়ে 'ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা তথা ভারতবর্ষে তাদের কর্তৃত্বের ভিত্তি রচনা করেন।
- ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে বাংলা, বিহার, অযোধ্যা ও দিল্লির সম্রাটের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করলে, ইংরেজদের সেই ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৫৬.
বাংলায় ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
  1. মাওলানা কেরামত আলী
  2. শাহ ওলিউল্লাহ
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. পীর মুহসীনুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• হাজী শরিয়ত উল্লাহ:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা — হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় — ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল — ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
-  শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
 
উল্লেখ্য,
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র — মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
বাংলায় মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
ব্যাখ্যা
• বাংলার মুসলিমদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে — আবদুল লতিফের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
-------------------------- 
• নওয়াব আবদুল লতিফ:

- বাংলার মুসলমানদের মধ্যে নবজাগরণ আসে — নওয়াব আবদুল লতিফ তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা মাদরাসায় ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন।
- শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল।
- এবং পরে কোলকাতা মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন।

- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পদে যোগদান করেন।
- ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে কোলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত করা হয়।
- ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে খান বাহাদুর পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- আবদুল লতিফ বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজন এবং এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ও আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা চালু করা হয়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

উল্লেখ্য, 
বাংলার মুসলিমদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে মুসলিমদের প্রভাব বিস্তার এবং পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমিতি’ (Mohammedan Literary Society of  Calcutta) গঠন ছিল আবদুল লতিফের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৫৮.
বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কোন সালে?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভঙ্গ:
— ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- এটি ভারতীয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- এ বঙ্গভঙ্গকে পূর্ববাংলার মুসলমান সম্প্রদায় আশীর্বাদ বলে স্বাগত জানায়।
- কিন্তু হিন্দু জনগণ বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতারা এটিকে কোনভাবেই মেনে নেয় নি।
- তারা নানারকম ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তাদের এ আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করে।
- ফলে তাদের এ চাপের মুখে পড়ে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- এবং পুনরায় পূর্ববঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে একত্রিত করা হয়। এটিই মূলত বঙ্গভঙ্গ রদ।

• বঙ্গভঙ্গ রদ:
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট — পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে বঙ্গভঙ্গ রদের কথা ঘোষণা করেন।
- এবং পূর্ববঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে পুনরায় এক করেন।

• বঙ্গভঙ্গ রদের ফলাফল:
- বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু – মুসলমানদের সম্প্রতি নষ্ট হয়। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বাতন্ত্র্যবোধ প্রসার লাভ করে।
- ধর্মকেন্দ্রিক জাতীয়তার বীজ অঙ্কুরিত হয়।
- মুসলমানদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
- তারা বুঝতে পারে যে আপস নয় বরং সংগ্রামের পথেই উন্নতি ও স্বাধীনতার পথে তাদেরকে আগাতে হবে।
- অর্থাৎ মুসলমানগণ তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণে আরও তৎপর হয়ে উঠতে থাকে।

উৎস- বাংলাপিডিয়া।
৫৯.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. আবুল হাশেম
ব্যাখ্যা
• অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং — শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। 
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।  
- এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।

এছাড়াও,
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে — খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার — প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
-  ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের পর ১৯৩৭ সালে — অবিভক্ত বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয় যার মুখ্যমন্ত্রী (অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী) নির্বাচিত হন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক।

------------------------ 
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী:
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যরিস্টার-এট-ল সম্পন্ন করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন.ডি.এফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের আইয়ুব-বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী সমাজ কর্তৃক 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলে আখ্যায়িত হন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন - দ্বিতীয় পত্র - এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
৬০.
পাকিস্তান শাসনতান্ত্রিক পরিষদের (Constituent Assembly) ধারা বিবরণীতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি কে প্রথম করেছিলেন?
  1. আবুল হাশেম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৮ সালের ২৫ আগস্ট — পাকিস্তান গণপরিষদে তিনি অধিবেশনের সকল কার্যবিবরণী ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাও অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবি উত্থাপন করেন।
----------------------- 
• ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮৬-১৯৭১):
- তিনি ছিলেন একজন আইনজীবী, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯৪৭ সালের পর একজন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিক হিসেবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
— ১৯৪৮ সালের ২৫ আগস্ট পাকিস্তান গণপরিষদে তিনি অধিবেশনের সকল কার্যবিবরণী ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাও অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবি উত্থাপন করেন। 
- ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে পুত্র দিলীপকুমার দত্তসহ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁদেরকে ময়নামতী সেনানিবাসে নিয়ে হত্যা করা হয়।
- তাঁর স্মরণে কুমিল্লা শহরে তাঁর বাসভবনের সামনের রাস্তাটির নামকরণ করা হয়েছে ’ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সড়ক’।

উল্লেখ্য,
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৬১.
বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যে সবেচেয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে কোনটি?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. পদ্মা
  3. মেঘনা
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা
• ব্রহ্মপুত্র নদ: 
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- পৃথিবীর দীর্ঘতম নদনদীগুলির একটি। এর অববাহিকা অঞ্চল চীন (তিববত), ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। 
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। 
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে। 
- দক্ষিণপশ্চিম তিব্বতের উৎপত্তি স্থল থেকে ব্রহ্মপুত্রের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ২৮৫০ কিমি।
- আসামের হিমালয় অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র দিহাঙ নামে পরিচিত।
- এই বিশাল নদটির প্রভাবিত এলাকার আয়তন ৫,৮৩,০০০ বর্গ কিমি, যার ৪৭,০০০ বর্গকিলোমিটারের অবস্থান বাংলাদেশ এলাকায়। - বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নদীটি বিনুনি ধরনের। 

- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা। 
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা। 
- এখানে উল্লেখ্য যে, ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র কোনটি?
  1. ময়নামতি
  2. পাহাড়পুর
  3. মহাস্থান গড়
  4. সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র — মহাস্থান গড়। 

• মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক স্থান হলো মহাস্থানগড়। 
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- ১৯৬০ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে শুরু করে বিভিন্ন যুগের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।
-------------------- 
• সোনারগাঁও: 
- সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী। 
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।

• ময়নামতি:
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- এযাবৎ আবিষ্কৃত লালমাই অঞ্চলের প্রাচীনতম সভ্যতার নিদর্শন হল ময়নামতি প্রত্নস্থল।
- বর্তমানে ময়নামতি অঞ্চলে যে ধ্বংশস্তুপ দেখা যায় তা প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাচীন নগরী ও বৌদ্ধ বিহারের অবশিষ্টাংশ।
- প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ইহা জয়কর্মান্তবসাক নামক একটি প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ ।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান।
- ধারণা করা হয় যে খৃষ্টিয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। 

• পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।

সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৬৩.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মধ্যযুগীয় মসজিদ কোনটি?
  1. কুসুম্বা মসজিদ
  2. বড় সোনা মসজিদ
  3. ষাট গম্বুজ মসজিদ
  4. সাত গম্বুজ মসজিদ
ব্যাখ্যা
• ষাটগম্বুজ মসজিদ  বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলির মধ্যে বৃহত্তম এবং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম চিত্তাকর্ষক নিদর্শন। 

♦ ষাট গম্বুজ মসজিদ:

• ষাট গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাটে অবস্থিত।
• ষাট গম্বুজ মসজিদটি বর্তমানে বাগেরহাট শহর থেকে তিন মাইল পশ্চিমে গড়াদীঘির পূর্ব পাড়ে অবস্থিত।
• ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত ষাট গম্বুজ মসজিদ, এই বৃহত্তম মসজিদটি সুলতানি আমলে নির্মিত হয়।
• খান জাহান আলি (উলুঘ খান) এটি নির্মাণ করেন ১৫০০ শতাব্দীতে। 
• মসজিদটির মোট গম্বুজ সংখ্যা ৮১ টি । 

- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত।
- ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।
- সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খান জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন।
- খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ষাট-গম্বুজ-মসজিদ - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন-গণপ্রজাতন্ত্রী, parjatan.gov.bd.
৬৪.
ইরানের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ হয়েছিল বাংলার কোন সুলতানের?
  1. গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
  2. আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
  3. ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
• গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ: 
- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান।
- সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি — হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।
- একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান।
- হাফিজ দ্বিতীয় চরণটি রচনা করে কবিতাটি পূর্ণ করে পাঠান।
- তিনি সুলতানের নিকট একটি গজলও লিখে পাঠান।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন। 

উৎস: ইতিহাস, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬৫.
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?
  1. ১৬ ডিসেম্বর
  2. ২৬ মার্চ
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ৭ মার্চ
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতা দিবস:
— ২৬ শে মার্চ — বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।
- ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
- ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেজন্যে একে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়।

অন্যদিকে, 
- ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস এবং
- ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস - ৭ মার্চ। 

বাংলাদেশের জাতীয় দিবস সমূহ: 
• জাতীয় শিক্ষক দিবস- ১৯ জানুয়ারী, 
• জাতীয় পতাকা দিবস- ০২ মার্চ, 
• জাতীয় শিশু দিবস- ১৭ মার্চ, 
• মজিবনগর দিবস- ১৭ এপ্রিল,
• জাতীয় শোক দিবস- ১৫ আগষ্ট, 
• জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস- ৭ নভেম্বর, 
• সশস্ত্রবাহিনী দিবস- ২১ নভেম্বর,
• মুক্তিযোদ্ধা দিবস- ০১ ডিসেম্বর, 
• শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস- ১৪ ডিসেম্বর। 

সূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬৬.
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কে আহ্বান করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের — ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- সংবিধানে বর্ণিত কয়েকটি পরিস্থিতিতে যেমন — রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এর ক্ষেত্রে স্পিকার সংসদ আহ্বান করতে পারেন।

উল্লেখ্য,
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে।
- সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন।
- এর আগে, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২০২৪ সালের প্রথম সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্পিকার যথাক্রমে জাতীয় সংসদের নেতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
         ii) ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
৬৭.
বাংলাদেশের কোন স্থপতি সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন?
  1. হামিদুর রহমান
  2. ফজলুর রহমান খান
  3. নভেরা আহমদ
  4. জুলফিকার আলী খান
ব্যাখ্যা
ফজলুর রহমান খানসবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। 
----------------------------- 
• ফজলুর রহমান খান:
- স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৯২৯ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকা শহরে জন্ম।
- তিনি ১৯৭২ সালে আরবানার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যালুমনি এওয়ার্ড, ১৯৭৩ সালে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অব সায়েন্স এবং ১৯৮০ সালে লেহাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সম্মানে ভূষিত হন।

- ১৯৭৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এ একজন ইঞ্জিনিয়ারের জন্য প্রদেয় সর্বোচ্চ সন্মানে ভূষিত হন।
- ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ রেকর্ডস-এর ‘ম্যান হু সার্ভড দি বেষ্ট ইন্টারেস্ট অব দি কন্সট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি’-তে ফজলুর রহমানের নাম পাঁচ বার এসেছে (১৯৬৫, ১৯৬৮, ১৯৭০, ১৯৭১ এবং ১৯৭৯ সালে)।

- ১৯৭২ সালে তিনি ‘কন্সট্রাকশনস ম্যান অব দি ইয়ার’-এ ভূষিত হন।
- ১৯৮৩ সালে আমেরিকান ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস ফজলুর রহমান খানকে তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য এআইএ ইন্সটিটিউট সম্মাননা প্রদান করে। একই বছর মুসলিম স্থাপত্যে অসাধারণ অবদানের (জেদ্দার হাজী টার্মিনাল) জন্য তাঁকে ‘আগা খান’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।

- ইলিনয়ের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৯৮৭ সালে ফজলুর রহমান খানকে মরণোত্তর ‘জন পারমার’ সম্মানে ভূষিত করে এবং সিয়ার্স টাওয়ারের লবিতে স্পেনীয় ভাস্কর কার্লোস ম্যারিনাস নির্মিত এফ. আর খানের ভাস্কর্য স্থাপন করে।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদকে’ ভূষিত করে এবং তাঁর স্মরণে স্মারক একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬৮.
পরী বিবি কে ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেবের কন্যা
  2. শায়েস্তা খানের কন্যা
  3. মুর্শিদকুলি খানের স্ত্রী
  4. আজিমুসশানের মাতা
ব্যাখ্যা
• পরীবিবি:
- পরী বিবি ছিলেন বাংলার মুগল সুবাহদার — শায়েস্তা খান এর কন্যা।
- তিনি ছিলেন বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- বাংলাদেশ সরকারের কাটরার ওয়াকফ পরিদপ্তরে সংরক্ষিত শায়েস্তা খানের নিজস্ব অছিয়তনামা থেকেই শায়েস্তা খানের কন্যা হিসেবে বিবি পরীকে চিহ্নিত করা যায়।
- এক লক্ষ আশি হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দের ৩মে শাহজাদা আজমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
- এর পর বিবি পরী আজমের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করেন।

- শাহজাদা আজম কর্তৃক ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে আরম্ভ করা লালবাগ দুর্গের নির্মাণ কাজ শায়েস্তা খান তাঁর দ্বিতীয় দফা সুবাহদারির সময়ে (১৬৭৯-৮৮ খ্রি.) চালিয়ে যান।
- কিন্তু ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে কন্যা বিবি পরীর মুত্যৃতে তিনি দুর্গ নির্মাণ একটি অশুভ লক্ষণ ভেবে বন্ধ করে দেন।
- দুর্গের অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়।
- শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৯.
পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারের নির্মাতা কে?
  1. করামপাল
  2. ধর্মপাল
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. আদিশুর
ব্যাখ্যা
• পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারের নির্মাতা — ধর্মপাল। 
------------------------- 
• পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।

- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।
- খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বৌদ্ধধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭০.
বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের জেলা কোনটি?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ভোলা
  3. কক্সবাজার
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের জেলা — কক্সবাজার। 
------------------ 
• সীমান্তবর্তী স্থান, উপজেলা, জেলা:

- সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান — বাংলাবান্ধা।
- সর্ব উত্তরের উপজেলার — তেঁতুলিয়া।
- সর্ব উত্তরের জেলা — পঞ্চগড়।
- সর্ব পূর্বের স্থান — আখাইনঠং।
- সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা — থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা — বান্দরবান।
- সর্ব পশ্চিমের স্থান — মনাকষা।
-  সর্ব পশ্চিমের উপজেলা — শিবগঞ্জ।
- সর্ব পশ্চিমের জেলা — চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- সর্ব দক্ষিণের স্থান — ছেড়াদ্বীপ।
- সর্ব দক্ষিণের উপজেলা — টেকনাফ।
- সর্ব দক্ষিণের জেলা — কক্সবাজার।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখান, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা: রাঙামাটি।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা: মেহেরপুর।

উৎ: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭১.
কে গণিতবিদ নন?
  1. ওমর খৈয়াম
  2. আল-খারিজমী
  3. ইবনে খালদুন
  4. উলুগ বেগ
ব্যাখ্যা
- ইবনে খালদুন ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ আরব ইতিহাসবিদ।
- তিনি ২৭ মে, ১৩৩২ সালে তিউনিসিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ওলী উদ্দিন আবু যায়েদ আবদুর রহমান ইবনে মুহম্মদ ইবনে খালদুন আল-হাযরামী।
- এ নামের মধ্যে 'ওলী উদ্দিন' তাঁর পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদত্ত উপাধি; যার অর্থ হল 'ধর্মের অভিভাবক'।
- তিনি তার সেরা গ্রন্থ 'মোক্বাদ্দিমা' তে ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীনতম অসাম্প্রদায়িক দর্শনের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৭ মার্চ, ১৪০৬, কায়রো, মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।
৭২.
২ এবং ৩২ এর মধ্যে মৌলিক সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১টি
  2. ৯টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ২ এবং ৩২ এর মধ্যে মৌলিক সংখ্যা কয়টি?

সমাধান: 
• ২ এবং ৩২ এর মধ্যে মৌলিক সংখ্যা ১০টি।
• সংখ্যাগুলো হলো: ৩, ৫, ৭, ১১, ১৩, ১৭, ১৯, ২৩, ২৯, ৩১।
• কিন্তু যদি বলা হতো ২ থেকে ৩২ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা তাহলে ২ অন্তর্ভূক্ত হতো এবং সংখ্যা হতো ১১টি।
৭৩.
১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, .............. এই সংখ্যা পরম্পরায় অষ্টম পদ কত?
  1. ২১
  2. ১৩
  3. ১৯
  4. ১৬
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮,.................... এই সংখ্যা পরম্পরায় অষ্টম পদ কত?

 সমাধান:
প্রথম পদ = ১
দ্বিতীয় পদ =  ১
তৃতীয় পদ = ১ + ১ = ২
চতুর্থ পদ = ১ + ২ = ৩
পঞ্চম পদ =২ + ৩ = ৫
ষষ্ঠ পদ = ৩ + ৫ = ৮
সপ্তম পদ= ৫ + ৮ = ১৩ 
অষ্টম পদ= ১৩ + ৮ = ২১
৭৪.
টিপুর বোনের বয়স টিপুর বয়সের ও তাঁর বাবার বয়সের মধ্য-সমানুপাতী। টিপুর বয়স ১২ বছর, বাবার বয়স ৪৮ বছর হলে বোনের বয়স কত?
  1. ১৬ বছর
  2. ২৪ বছর
  3. ১৮ বছর
  4. ২০ বছর
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: টিপুর বোনের বয়স টিপুর বয়সের ও তাঁর বাবার বয়সের মধ্য-সমানুপাতী। টিপুর বয়স ১২ বছর, বাবার বয়স ৪৮ বছর হলে বোনের বয়স কত?

সমাধান:
 টিপুর বয়স=ক = ১২ বছর 
টিপুর বোনের বয়স= খ বছর 
টিপুর বাবার বয়স = গ  =৪৮বছর 

সমানুপাতীর সূত্রানুসারে 
ক : খ = খ : গ 
ক/খ = খ /গ 
খ২ = ক × গ 
খ = √(১২ × ৪৮) 
খ = √৫৭৬
খ = ২৪

টিপুর বোনের বয়স = ২৪ বছর
৭৫.
কোন সংখ্যাটি ক্ষুদ্রতম?
  1. ১/১১
  2. ৩/৩১
  3. ২/২১
  4. √০.০২
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোন সংখ্যাটি ক্ষুদ্রতম?

সমাধান:
ক) ১/১১ =.০৯০৯
খ) ৩/৩১ = ০.০৯৬৭
গ) ২/২১ = ০.০৯৫২
ঘ) √০.০২ = ০.১৪১৪
৭৬.
২০০২ সংখ্যাটি কোন সংখ্যাগুচ্ছের ল.সা.গু. নয়?
  1. ১৩, ৭৭, ৯১, ১৪৩
  2. ৭, ২২, ২৬, ৯১
  3. ২৬, ৭৭, ১৪৩, ১৫৪
  4. ২, ৭, ১১, ১৩
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ২০০২ সংখ্যাটি কোন সংখ্যাগুচ্ছের ল.সা.গু. নয়?

সমাধান:
১৩, ৭৭, ৯১, ১৪৩ - সংখ্যাগুচ্ছের ল.সা.গু ১০০১।
অন্যান্য সংখ্যাগুচ্ছের ল.সা.গু. ২০০২।
৭৭.
একজন শ্রমিক প্রতিদিন প্রথম ৮ ঘণ্টা কাজের জন্য ঘণ্টায় ১০ টাকা করে এবং পরবর্তী সময়ের ঘণ্টায় ১৫ টাকা করে মজুরি পায়। দৈনিক ১০ ঘন্টা কাজ করলে তার ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি কত?
  1. ১১ টাকা
  2. ১২ টাকা
  3. ১২.৫০ টাকা
  4. ১৩ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একজন শ্রমিক প্রতিদিন প্রথম ৮ ঘণ্টা কাজের জন্য ঘণ্টায় ১০ টাকা করে এবং পরবর্তী সময়ের ঘণ্টায় ১৫ টাকা করে মজুরি পায়। দৈনিক ১০ ঘন্টা কাজ করলে তার ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি কত?

সমাধান:
প্রথম ৮ ঘণ্টায় পায় = ৮ × ১০ = ৮০ টাকা।
পরবর্তী ২ ঘণ্টায় পায় = ২ × ১৫= ৩০ টাকা।

১০ ঘণ্টায় মোট মজুরি পায়= ৮০ + ৩০ = ১১০ টাকা
∴ ঘণ্টা প্রতি গড় মজুরি = ১১০/১০ = ১১ টাকা।
৭৮.
৬০ জন ছাত্রের মধ্যে ৪২ জন ফেল করলে পাসের হার কত?
  1. ২৫%
  2. ২৮%
  3. ৩০%
  4. ৩২%
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৬০ জন ছাত্রের মধ্যে ৪২ জন ফেল করলে পাসের হার কত?

সমাধান: 
পাশ করে = (৬০ - ৪২) জন = ১৮ জন 

৬০ জন ছাত্রের মধ্যে পাশ করে = ১৮ জন 
১ জন ছাত্রের মধ্যে পাশ করে = ১৮/৬০ জন
∴ ১০০ জন ছাত্রের মধ্যে পাশ করে = (১৮ × ১০০)/৬০ জন 
= ৩০ জন
৭৯.
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ১৮৫ মাইল। চট্টগ্রাম থেকে একটি বাস ২ ঘণ্টায় প্রথম ৮৫ মাইল যাওয়ার পর পরবর্তী ১০০ মাইল কত সময়ে গেলে গড়ে ঘণ্টায় ৫০ মাইল যাওয়া হবে?
  1. ১০০ মিনিট
  2. ১০২ মিনিট
  3. ১১০ মিনিট
  4. ১১২ মিনিট
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ১৮৫ মাইল। চট্টগ্রাম থেকে একটি বাস ২ ঘণ্টায় প্রথম ৮৫ মাইল যাওয়ার পর পরবর্তী ১০০ মাইল কত সময়ে গেলে গড়ে ঘণ্টায় ৫০ মাইল যাওয়া হবে?

সমাধান:
গড়ে ঘণ্টায় ৫০ মাইল গেলে
৫০ মাইল যায় ১ ঘন্টায়
∴ ১৮৫ মাইল যায় (১৮৫/৫০) ঘণ্টায়
= (১৮৫ × ৬০)/৫০ মিনিট
= ২২২ মিনিট

∴ পরবর্তী ১০০ মাইল যেতে সময় লাগবে = ২২২ মিনিট - ২ ঘণ্টা
= (২২২ - ১২০) মিনিট
= ১০২ মিনিট
৮০.
০.১ এর বর্গমূল কত?
  1. ০.১
  2. ০.০১
  3. ০.২৫
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ০.১ এর বর্গমূল কত?

সমাধান:
 ০.১ এর বর্গমূল = √০.১
=০.৩১
৮১.
SAPTA অর্থ -
  1. SAARC Preferential Trading Arrangement
  2. South Asian Preferential Trading Arrangement
  3. SAARC Preferential Tariff Agreement
  4. South Asian Preferential Tariff Agreement
ব্যাখ্যা
SAPTA অর্থ SAARC Preferential Trading Arrangement।

SAPTA:
- SAPTA এর পূর্ণরূপ: SAARC Preferential Trading Arrangement।
- সার্কের সদস্য দেশসমূহের মধ্যে বাণিজ্যিক সমতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য এই চুক্তিটি করা হয়।
- কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সার্কের ষষ্ঠ সম্মেলনে চুক্তিটির বিষয়ে সম্মতি প্রদান করা হয়।
- এপ্রিল, ১৯৯৩ সালে এটি ঢাকায় স্বাক্ষরিত হয়।
- কার্যকর হয়: ১৯৯৫ সালে।

উল্লেখ্য,
SAFTA:
- SAFTA এর পূর্ণরূপ: South Asian Free Trade Area (SAFTA)।
- সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া (সাফটা) সংক্রান্ত চুক্তি ইসলামাবাদে দ্বাদশ সার্ক সম্মেলনের সময় স্বাক্ষরিত হয়েছিল ৬ জানুয়ারি ২০০৪।
- এটি কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি, ২০০৬ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ ৮টি।
- সাফটা স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

উৎস: SAARC ওয়েবসাইট।
৮২.
ক্রিকেট টেস্টের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করেছেন-
  1. ভারতের শচীন টেন্ডুলকার
  2. অস্ট্রেলিয়ার ডন ব্র্যাডম্যান
  3. ইংল্যান্ডের বেন হার্টন
  4. বাংলাদেশের মোঃ আশরাফুল
ব্যাখ্যা
ক্রিকেট টেস্টের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের মোঃ আশরাফুল।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল:

- টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করে: ২০০০ সালে।
- সর্বপ্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে ২০০০ সালের ১০ই নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে।
- প্রথম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান।
- প্রথম টেস্ট জয় পায় ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে।
- টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
- টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ব্যক্তিগত হাজার রান সংগ্রাহক হাবিবুল বাশার।
- বাংলাদেশ তার শততম টেস্ট খেলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

উল্লেখ্য,
- ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
- শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

অন্যদিকে,
- মোহাম্মদ আশরাফুল টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন।
- ২০০১ সালে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার টেস্টের তৃতীয় দিনে আশরাফুল সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড করেন।

উৎস: i) ESPNcricinfo.
         ii) ১৪ মে, ২০২২, প্রথম আলো।
৮৩.
ফুটবল বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে -
  1. আর্জেন্টিনা
  2. ব্রাজিল
  3. ইতালি
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

ফুটবল বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল।

FIFA World Cup:

- ফিফা বিশ্বকাপ (ফুটবল বিশ্বকাপ) একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা।
- এখানে ফিফাভুক্ত দেশগুলোর পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল অংশ নেয়।
- ফিফা বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা।
- ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ এবং ১৯৪৬ এই ২টি বিশ্বকাপের আসর বসেনি।
- সর্বশেষ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে কাতারে, ২০২২ সালে।
- এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ফুটবল বিশ্বকাপের ২২টি আসর।
- ২০২২ এর শিরোপা জয়ী আর্জেন্টিনা।

উল্লেখ্য,
- ৮টি জাতীয় দল বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে -
১। ব্রাজিল: ৫ বার,
২। জার্মানি ও ইতালি ৪ বার,
৩। আর্জেন্টিনা ৩ বার,
৪। উরুগুয়ে ও ফ্রান্স ২ বার,
৫। ইংল্যান্ড ও স্পেন ১ বার।

উৎস: FIFA ওয়েবসাইট।
৮৪.
IUCN -এর কাজ হলো বিশ্বব্যাপী -
  1. প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা
  2. মানবাধিকার সংরক্ষণ করা
  3. পানি সম্পদ সংরক্ষণ করা
  4. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন করা
ব্যাখ্যা
IUCN -এর কাজ হলো বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা।

IUCN:
- IUCN এর পূর্ণরুপ: International Union for the Conservation of Nature.
- বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করার জন্য ফ্রান্সের ফন্টেইনব্লিউ 'IUCN' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৫ অক্টোবর, ১৯৪৮।
- সদর দপ্তর: গ্লান্ড, সুইজারল্যান্ড।
- এটি বিশ্বের ১৭০টির অধিক দেশ কাজ করছে।
- উদ্দেশ্য: বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা।
- এটি প্রজাতিকে নয়টি বিভাগে বিভক্ত করে।
- যথা: মূল্যায়ন করা হয়নি, ডেটার ঘাটতি, ন্যূনতম উদ্বেগ, কাছাকাছি হুমকির মুখে, ঝুঁকিপূর্ণ, বিপন্ন, গুরুতরভাবে বিপন্ন, বন্য অঞ্চলে বিলুপ্ত এবং বিলুপ্ত।

উৎস: IUCN ওয়েবসাইট।
৮৫.
WTO-এর সদর দপ্তর কোন শহরে?
  1. প্যারিস
  2. টোকিও
  3. জেনেভা
  4. নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
WTO-এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে।

WTO (World Trade Organization):
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- বর্তমান সদস্য: ১৬৬টি দেশ।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- মহাপরিচালক: এনগোজি ওকোনজো ইওয়েলা।
- প্রতিষ্ঠাকালীন নাম: General Agreement on Tariffs and Trade (GATT).
- বাংলাদেশ WTO এর সদস্য হয় ১লা জানুয়ারি, ১৯৯৫ সালে।

উল্লেখ্য,
- General Agreement on Tariffs and Trade (GATT) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালে এবং কার্যকর হয় ১৯৪৮ সালে।
- ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত GATT চুক্তির দুর্বলতা ও সমস্যা সমাধানের জন্য মোট ৮টি রাউন্ড সম্পন্ন হয়।
- এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড।
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তি হয় GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে।
- এর ফলে World Trade Organization গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যার ফলে ১৯৯৫ সালে জন্ম হয় World Trade Organization (WTO)-এর।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।
৮৬.
এনরন (ENRON) কি?
  1. একটি যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ
  2. একটি ঔষধের নাম
  3. এক প্রকার রোগজীবাণু
  4. পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম দেউলিয়া ঘোষিত জ্বালানি কোম্পানি
ব্যাখ্যা
এনরন (ENRON) হলো পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম দেউলিয়া ঘোষিত জ্বালানি কোম্পানি।

এনরন কেলেঙ্কারি:
- মার্কিন প্রতিষ্ঠান এনরন করপোরেশন।
- এনরন করপোরেশন বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস ও পণ্য সেবাসহ নানা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। 
- এনরন ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- হিউস্টন ন্যাচারাল গ্যাস এবং ইন্টারনর্থ কোম্পানি একত্রিত করে কেনিথ লে নরন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ২০০১ সালের ২ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হয়ে যায়।
- প্রতিষ্ঠানটিতে ২০ হাজার কর্মী ছিল।
- ‘ফরচুন’ সাময়িকীর চোখে এনরন টানা ছয় বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত ছিল।
- দেউলিয়া হওয়ার এক বছর আগেও প্রতিষ্ঠানটির আয় দেখানো হয়েছিল এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি।
- অথচ বছর ঘুরতে না ঘুরতেই প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হয়ে যায়।
- এরপর অবলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- এনরন কেলেঙ্কারি যুক্তরাষ্ট্র তথা পৃথিবীর সবচেয়ে কুখ্যাত হিসাব জালিয়াতি।
- পৃথিবীর প্রথম পাঁচটি বৃহৎ অডিট ফার্মের একটি অ্যাকাউন্টিং ফার্ম আর্থার অ্যান্ডারসেনের বিলুপ্তি ঘটে ।

উৎস: Britannica.
৮৭.
২০০২ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন -
  1. ইয়াসির আরাফাত
  2. জিমি কার্টার
  3. কফি আনান
  4. মাদার তেরেসা
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

২০০২ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন জিমি কার্টার।


উল্লেখ্য,
২০২৩ সালের নোবেল বিজয়ী:
- সাহিত্য: জন ফসে।
- শান্তি: নার্গিস মোহাম্মদী।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান: ক্যাটালিন কারিকো এবং ড্রু উইসম্যান।
- পদার্থবিজ্ঞান: পিয়েরে অ্যাগোস্টনি, ফিরেন্স ক্রাসজ এবং অ্যান লরিয়েল।
- রসায়ন: মুঙ্গি জি বাউইন্ডি, লুইস ই ব্রাস এবং আলেক্সি ই.ইকিমভ।
- অর্থনীতি: ক্লদিয়া গোল্ডিন।

উৎস: Nobel Prize ওয়েবসাইট।
৮৮.
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর সদর দপ্তর কোথায়?
  1. প্যারিস
  2. জেনেভা
  3. রোম
  4. লন্ডন
ব্যাখ্যা
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে।

Amnesty International:
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৬১ সালে।
- সদর দপ্তর: লন্ডন, যুক্তরাজ্য।
- বর্তমান মহাসচিব: অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
- সংস্থাটি ১৯৭৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড ফ্রান্সের।

উৎস: Amnesty International ওয়েবসাইট।
৮৯.
ওপেকভুক্ত অ-আরব মুসলিম দেশ কোনটি?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. মালয়েশিয়া
  3. ইরাক
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
ওপেকভুক্ত অ-আরব মুসলিম দেশ ইরান।

OPEC:

- OPEC এর পূর্ণরূপ: Organization of the Petroleum Exporting Countries.
- এটি পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলির সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: বাগদাদ, ইরাক।
- ১৯৬০ সালে OPEC গঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ৫টি (ইরাক, ইরান, কুয়েত, সৌদি আরব ও ভেনিজুয়েলা)।
- বর্তমান সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদরদপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- ১৯৬৫ সালের পূর্বে এর সদর দপ্তর ছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।
- সদস্য দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, কঙ্গো, নিরক্ষীয় গিনি, গ্যাবন, ইরান, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভেনিজুয়েলা।

উল্লেখ্য,
- ১ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী অ্যাঙ্গোলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মত বিরোধের পর OPEC থেকে বেরিয়ে এসেছে।

উৎস: OPEC এর ওয়েবসাইট।
৯০.
জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর সম্মেলনে উপস্থিত না থেকেও কোন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে পরিগণিত হয়?
  1. হাঙ্গেরি
  2. জার্মানি
  3. পোল্যান্ড
  4. ব্রিটেন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর সম্মেলনে উপস্থিত না থেকেও পােল্যান্ড প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে পরিগণিত হয়।

জাতিসংঘ সনদ (UN Charter):
- জাতিসংঘ সনদ হচ্ছে একটি সংবিধান।
- এতে রয়েছে উদ্দেশ্য ও মূলনীতি, যেগুলোকে ভিত্তি করে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত।
- একই সঙ্গে এটি একটি চুক্তি, যাতে একটি দেশ স্বাক্ষর দেয় এবং জাতিসংঘের সদস্য হলে যার প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সম্মত হয়।
- ১১১টি ধারা সংবলিত এ সনদ ১৯টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- জাতিসংঘ সনদের রচয়িতা আর্চিবাল্ড ম্যাকলিশ (Archibald Macleish)।
- আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্পর্কিত জাতিসংঘ সম্মেলন সমাপ্তির পর ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন সানফ্রানসিসকো নগরীতে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর তা কার্যকর হয়।
- আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সংবিধান জাতিসংঘ সনদেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- তারপর থেকে প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন, জাতিসংঘের সনদে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছিলেন।
- পোল্যান্ড, সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করেও, পরে এটি স্বাক্ষর করে এবং মূল ৫১ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে একটি হয়ে ওঠে।
- পোল্যান্ড ১৫ অক্টোবর ১৯৪৫ সালে স্বাক্ষর করে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৯১.
'ব্লাক ক্যাট' কোন দেশের কমান্ডো বাহিনী?
  1. নেপাল
  2. ভারত
  3. মিয়ানমার
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
'ব্লাক ক্যাট' ভারতের কমান্ডো বাহিনী।

ব্লাক ক্যাট (BLACK CAT):

- ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) সাধারণত ব্ল্যাক ক্যাটস নামে পরিচিত।
- এটি ভারতের কমান্ডো বাহিনী।
- এটা একটা কম্বাইন্ড কাউন্টার টেররিজম এলিট ফোর্স যেখানে সব বাহিনী থেকেই বাছাই করে লোক নেয়া হয়।
- এটি শুধু ভারতের অভ্যন্তরেই কাজ করে।
- এটি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬ই অক্টোবর, ১৯৮৪ সালে।
- এর সদরদপ্তর: নয়াদিল্লি, ভারত।

উৎস: Indian National Security Guard Website.
৯২.
কত সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়?
  1. ১৯৮৮ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়।

আফগানিস্তান:

- আফগানিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র।
- রাষ্ট্রীয় নাম: ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান (Islamic Emirate of Afghanistan)।
- আফগানিস্তান শব্দটির অর্থ 'আফগান বা পশতুন জাতির দেশ'।
- ভাষা: পশতু, দারি।
- মুদ্রা: আফগানি।

⇒ আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনী:
- ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট সরকারকে রক্ষা করতে সেদেশে ঢুকে পড়লো সোভিয়েত সেনাবাহিনী।
- মস্কো তখন বলেছিল, সোভিয়েত সৈন্যরা ৬ মাস থাকবে।
- কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেদেশে সোভিয়েত সৈন্যরা ছিল দীর্ঘ ১০ বছর, এবং আফগানিস্তান পরিণত হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিয়েতনামে।
- আফগানিস্তানের সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়া্ইয়ের ভেতর দিয়েই জন্ম হয়েছিল তালেবান এবং আল-কায়েদার মতো জিহাদি বাহিনীগুলোর।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল -তার বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠলো আফগানিস্তান।
- ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহার শেষ হয়।
- আফগানিস্তানে ১৫ হাজার সোভিয়েত সৈন্য এবং ১০ লাখ আফগান মারা যায়।
- উল্লেখ্য, এর দু' বছর পর ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) National Geographic Kids ওয়েবসাইট।
         ii) ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, BBC.
৯৩.
'নাগার্নো কারাবাখ' কোন দুটি দেশের করিডোর?
  1. আজারবাইজান-আর্মেনিয়া
  2. আর্মেনিয়া-লাটভিয়া
  3. কাজাখস্তান-আজারবাইজান
  4. রাশিয়া-আর্মেনিয়া
ব্যাখ্যা
'নাগার্নো কারাবাখ' আজারবাইজান-আর্মেনিয়া-এর করিডোর।

নাগার্নো কারাবাখ:
- 'নাগার্নো কারাবাখ' আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এর বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে সাবেক সোভিয়েত রিপাবলিকের অংশ এই দেশ দুটির মধ্যে।
- ১৯৮৮-৯৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলেছে।
- এলাকাটি নিয়ে কোন ধরনের নিষ্পত্তি দুই দেশের মধ্যে হয়নি।
- আন্তর্জাতিকভাবে এই এলাকাটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত।
- কিন্তু এটি পরিচালনা করে জাতিগত আর্মেনিয়রা।
- বন্দী বিনিময় এবং মরদেহ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি করার জন্য এই যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান:
- স্বাক্ষর: ৯ নভেম্বর, ২০২০।
- স্থান: মস্কো, রাশিয়া।
- মধ্যস্থতাকারী: রাশিয়া।
- যুদ্ধবিরতি কার্যকর: ১০ নভেম্বর, ২০২০।

উৎস: i) Britannica.
          ii) ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
৯৪.
ইন্দোনেশিয়ার পর্যটনকেন্দ্র বালি দ্বীপে কোন তারিখে শক্তিশালী বোমা হামলায় ব্যাপক প্রাণহানিসহ একটি নাইট ক্লাব ধ্বংস হয়ে গেছে?
  1. ১০ অক্টোবর, ২০০২
  2. ১২ অক্টোবর, ২০০২
  3. ১০ নভেম্বর, ২০০২
  4. ১২ নভেম্বর, ২০০২
ব্যাখ্যা
ইন্দোনেশিয়ার পর্যটনকেন্দ্র বালি দ্বীপে ১২ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে শক্তিশালী বোমা হামলায় ব্যাপক প্রাণহানিসহ একটি নাইট ক্লাব ধ্বংস হয়ে গেছে।

২০০২ বালি বোমা হামলা:

- জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ ইন্দোনেশিয়ার বালি। 
- বালির বার ও নাইটক্লাবে ২০০২ সালের ১২ই অক্টোবর চালানো হয় দুটি বোমা হামলা।
- বোমা হামলার পেছনে ছিল ইন্দোনেশিয়ার আল-কায়েদা অনুপ্রাণিত সংগঠন জেমা ইসলামিয়া।
- হামলায় ২১টি দেশের নাগরিকেরা নিহত হন।
- ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা।

উল্লেখ্য,
- বালি বোমা হামলার সময় জেমা ইসলামিয়া (জেআই) নামের জঙ্গী সংগঠনের কম্যাণ্ডার ছিলেন আবু বাকার বা'আসির।
- বালি বোমা হামলার ষড়যন্ত্রের জন্যও মি. বা'আসিরের কারাদণ্ড হয়েছিল।

ইন্দোনেশিয়া:
- এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের মাঝখানে অবস্থিত দ্বীপ রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া।
- বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া।
- ডাচ উপনিবেশ থাকা দেশটি আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৪৯ সালে স্বাধীন হয়।
- রাষ্ট্রীয় নাম: রিপাবলিক অব ইন্দোনেশিয়া।
- রাজধানী: জাকার্তা।
- মুদ্রা: ইন্দোনেশীয় রুপিয়া।
- প্রধান ভাষা: বাহাসা ইন্দোনেশিয়া। 
- সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি শাসিত।

উৎস: i) Britannica.
         ii) ৮ জানুয়ারি ২০২১, বিবিসি।
৯৫.
সুইজারল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কখন জাতিসংঘের সদস্য হয়?
  1. ৩০ আগস্ট, ২০০২
  2. ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০২
  3. ১০ সেপ্টেম্বর, ২০০২
  4. ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০২
ব্যাখ্যা
১০ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে সুইজারল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সদস্য হয়।

জাতিসংঘ:
- বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘ (United Nations Organization).
- এটি জাতিপুঞ্জের (League of Nations) উত্তরসূরী।
- ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ গঠিত হয়।
- ২৬ জুন ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ৫১টি।
- বর্তমান সদস্য ১৯৩টি।
- জাতিসংঘের সর্বশেষ সদস্য: দক্ষিণ সুদান।
- বর্তমান মহাসচিব: আন্তোনিও গুতেরেস।
- সদর দপ্তর: ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
- দাপ্তরিক ভাষা ৬টি: ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, চীনা, রুশ, স্প্যানিশ এবং আরবি।
- কার্যকরী দাপ্তরিক ভাষা ২টি - ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ।
- জাতিসংঘের স্থায়ী পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২ টি: ভ্যাটিকান সিটি, ফিলিস্তিন।

জাতিসংঘের মূল অঙ্গসংস্থা ছয়টি:
• সাধারণ পরিষদ
• নিরাপত্তা পরিষদ
• অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন
• আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত
• অছি পরিষদ ও
• জাতিসংঘ সচিবালয়।

উল্লেখ্য,
- সুইজারল্যান্ড ১০ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে জাতিসংঘে যোগদান করে।
- তখন সুইস নাগরিকদের প্রায় ৫৫ শতাংশ সেই বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় গণভোটে সংস্থার সদস্য হওয়ার পক্ষে ভোট দেয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৯৬.
আফগানিস্তানের প্রধান ভাষা কোনটি?
  1. আফগানি
  2. ফার্সি
  3. পশতু
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা
আফগানিস্তানের প্রধান ভাষা পশতু।

আফগানিস্তান:
- আফগানিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র।
- রাষ্ট্রীয় নাম: ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান (Islamic Emirate of Afghanistan)।
- আফগানিস্তান শব্দটির অর্থ 'আফগান বা পশতুন জাতির দেশ'।
- ভাষা: পশতু, দারি।
- মুদ্রা: আফগানি।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৯ সালে তৃতীয় ব্রিটিশ-আফগান যুদ্ধশেষে আফগানিস্তান দেশটি ব্রিটেন থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৯৯৬ সালে তালেবান গোষ্ঠী কাবুলের দখল নেয়।
- ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০০১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান আক্রমণ করে এবং ২০০১-এর শেষে তালেবানদের উৎখাত করে।
- এক বিধ্বংসী সামরিক অভিযানে ২০০১ সালে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গত ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার নেটো মিত্ররা।
- ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়।
- ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবানরা কাবুল পুনরায় দখল করে।

উৎস: National Geographic Kids ওয়েবসাইট।
৯৭.
কোন দেশটি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নাউরু
  2. কেনিয়া
  3. কিউবা
  4. গায়ানা
ব্যাখ্যা
নাউরু ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

ওশেনিয়া:
- প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যভাগ ও দক্ষিণাংশের দ্বীপসমূহকে একত্রে ওশেনিয়া বলা হয়।
- ওশেনিয়া বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।
- এই অঞ্চলকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা: অস্ট্রেলিয়া (অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড), মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া এবং পলিনেশিয়া।
- ওশেনিয়া মহাদেশের স্বাধীন দেশ ১৪টি।
- দেশগুলো: অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, কিরিবাতি, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, নাউরু, নিউজিল্যান্ড, পালাউ, পাপুয়া নিউগিনি, সামোয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, টোঙ্গা, টুভালু, ভানুয়াতু। 

উৎস: Britannica.
৯৮.
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর কোথায়?
  1. কোপেনহেগেন
  2. লন্ডন
  3. রোম
  4. ব্রাসেলস
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (EU):
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (EU)।
- এটি ইউরোপীয় দেশের একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ নভেম্বর, ১৯৯৩ (মাস্ট্রিচ চুক্তি)।
- এটি তখন থেকে বিশ্বের বৃহত্তম ট্রেডিং ব্লকে পরিণত হয়।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য দেশ: ৬টি।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ: ২৭টি।
- ইইউ দেশগুলো হলো: অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া , স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং সুইডেন।

উৎস: EU ওয়েবসাইট।
৯৯.
নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের কি বলা হয়?
  1. কুর্দি
  2. তাতার
  3. রেড ইন্ডিয়ান
  4. মাউরি
ব্যাখ্যা
মাউরি:
- নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের বলা হয় মাউরি।

অন্যদিকে -
- কুর্দি জাতি পশ্চিম এশিয়ার কুর্দিস্তানের পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় একটি ইরানি জাতিগোষ্ঠী, যারা দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক, উত্তর-পশ্চিম ইরান, উত্তর ইরাক এবং উত্তর সিরিয়ায় বাস করে।
- জুলু উপজাতি বাস করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
- তাতার জাতি হল তুর্কি জাতিগোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতি, যারা প্রধানত ইউরোপ ও এশিয়ায় বসবাস করে।
- আমেরিকান অধিবাসীদের বলা হয় রেড ইন্ডিয়ান।
- আফ্রিদি হলো বর্তমান পাকিস্তানের এক পাশতুন নৃগোষ্ঠী, যাদের কিছু অংশ আফগানিস্তানেও বসবাস করে।

উৎস: Britannica.
১০০.
কানাডা কোন শিল্পের জন্য বিখ্যাত?
  1. কার্পাস
  2. লোহা
  3. কাগজ
  4. বস্ত্র
ব্যাখ্যা
কানাডা কাগজ শিল্পের জন্য বিখ্যাত।

কানাডা:
- আয়তনে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডা।
- এটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- কানাডার মুদ্রা: ডলার।
- রাজধানী: অটোয়া।
- রাষ্ট্রের প্রধান রাজা তৃতীয় চার্লস ও সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী। 
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: জাস্টিন ট্রুডো (Justin Trudeau)।
- কানাডা ম্যাপল পাতার দেশ হিসেবে পরিভিত।

উল্লেখ্য,
- কানাডা কাগজ শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
- কাগজ শিল্পের জন্য কানাডা বিশেষভাবে অগ্রণী একটি দেশ।
- নিউজপ্রিন্ট উৎপাদনে কানাডা বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করে।
- কানাডার উত্তরে রয়েছে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈগা বনভূমি।
- এই সরলবর্গীয় বনভূমি থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে নরম কাঠের যোগান পাওয়া যায়, যা কাগজের মন্ড ও নিউজপ্রিন্ট তৈরির প্রধান উপকরণ।
- কানাডায় কাগজ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্য প্রতিবেশী শিল্পোন্নত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহজে পাওয়া যায়।

উৎস: i) Britannica.
         ii) Pulp and Paper Canada.