পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: মুক্তিযুদ্ধ ও সমসাময়িক ইতিহাস, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে ছিলেন?
  1. মীর মুগ্ধ 
  2. ওয়াসিম আকরাম 
  3. তাহমিদ তামিম 
  4.  আবু সাঈদ
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- ৫ জুন ২০২৪ তারিখে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
- এই রায়ের পর থেকেই সারাদেশে শিক্ষার্থীরা “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” গড়ে তোলে। 
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ- আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে তিনি শহীদ হন।
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
- তার বাবা-মা, মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

উৎস: প্রথম আলো।

.
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  2. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস
  4. খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয় শিক্ষার্থী এবং দক্ষ ফ্রিল্যান্সার।
- তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইলে।
- তাঁর পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান ও মাতা শাহানা চৌধুরী।
- তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। 
- মৃত্যুর সময় তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এ এমবিএ করছিলেন।
- মুগ্ধ ফাইভারে এক হাজারের বেশি কাজ সম্পন্ন করেছিলেন এবং এসইও ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পারদর্শী ছিলেন।

- ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ঢাকার উত্তরার আজমপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পানি ও বিস্কুট বিতরণ করার সময় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন।
- পরে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
- মৃত্যুর আগে তাঁর উচ্চারিত “পানি লাগবে পানি” বাক্য পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রতীকী স্লোগানে পরিণত হয়।
- ঢাকার উত্তরা মুক্তমঞ্চের নাম পরিবর্তন করে “মুগ্ধ মঞ্চ” রাখা হয়েছে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন হিসেবে।

- এছাড়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল ‘বিজয় তোরণ’;
- এবং ৩০ জুন এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়।
- কিন্তু ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা ফটকের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ রাখেন।

উৎস:
The Daily Star Bangla; 
প্রথম আলো।

.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন কোন নদীর তীরে শহীদ হন?
  1. মেঘনা
  2. পদ্মা
  3. যমুনা
  4. রূপসা
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ তিনি রূপসা নদীর তীরে শহীদ হন।
------------------------------------------------------ 
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:
- বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন (১৯৩৫–১৯৭১) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন নৌ-সেনা ছিলেন।
- তিনি অসাধারণ সাহসিকতার জন্য সর্বোচ্চ সামরিক পদ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
- তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

- মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পরিবারকে ছেড়ে ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করে ২নং সেক্টরে যোগ দেন;
- এবং সেখানে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন।
- ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ ‘পিএনএস পলাশ’ জাহাজে রূপসা নদীতে যুদ্ধরত অবস্থায় আহত হয়ে স্থানীয় রাজাকার ও পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হন।
- শাহাদাত বরণ করার পর তাঁকে রূপসা নদীর তীর সংলগ্ন বাগমারা গ্রামে সমাহিত করা হয়।
- খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছেই তাঁর সমাধিসৌধ সংরক্ষিত আছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।   

.
পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেছিল-
  1. লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরা
  2. লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  3. আতাউল গণি ওসমানী
  4. লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ 
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ:
- আমাদের জাতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। 
- এই যুদ্ধের মাধ্যমেই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম ঘটে।

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ড যুদ্ধে হেরে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
- পাকিস্তানের পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী।
- নিয়াজী ৯৩,০০০ সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন।
- যৌথ বাহিনীর পক্ষে এই দলিল গ্রহণ করেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় নিশ্চিত হয়।
- এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
------------------------------------ 
অন্যদিকে,
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন আতাউল গণি ওসমানী।
- এস ফোর্সের প্রধান ছিলেন-  লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ।  

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি নিউজ। 

.
জুলাই বিপ্লবের সময় “দোহযাত্রা” কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. সরকারের পতন দাবি
  2.  রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতিবাদ 
  3. কোটা পুনর্বহালের দাবি
  4. শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো
ব্যাখ্যা

জুলাই বিপ্লবের সময় -“দোহযাত্রা” কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল -রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতিবাদ।
------------------------------------------------------------------- 
• “দোহযাত্রা” কর্মসূচি:
- ৫ জুন ২০২৪ তারিখে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
- এই রায়ের পর থেকেই সারাদেশে শিক্ষার্থীরা “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” গড়ে তোলে।
- ১ জুলাই ২০২৪ থেকে এই আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়; 
- যার মূল দাবি ছিল - “সকলের জন্য সমান সুযোগ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা।”

- ২০২৪ সালের ২ আগস্ট জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজধানীসহ সারাদেশে ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে একটি গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
- শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে স্বীকৃতিদান সরূপ ২ আগস্ট শিক্ষক ও নাগরিক সমাজ যোগ দেয় “দ্রোহযাত্রা” কর্মসূচিতে। 
- এই কর্মসূচীর মূল উদ্দেশ্য ছিল: রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতিবাদ।

- ছাত্র-জনতার ওপর দমন–পীড়ন ও হত্যার প্রতিবাদ এবং আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত হয় এ কর্মসূচি।
- পরবর্তীতে এই কর্মসূচি অসহযোগ আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই কর্মসূচির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও প্রেসক্লাব এলাকায়।
- এই কর্মসূচিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
- কর্মসূচির ফলে আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক মোড় নেয়; 
- এবং ওই দিন থেকেই আন্দোলন ছাত্র আন্দোলন থেকে পরিণত হয় জাতীয় নাগরিক আন্দোলনে।

- ৩ আগস্ট সারাদেশে কালো ব্যাজ ও নীরব অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
- ৪ আগস্ট  দেশজুড়ে চলমান আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
- সেদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ছাত্র–জনতা ব্যাপক বিক্ষোভ ও মিছিল করে।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কারফিউ জারি করে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
- তবে রাতের দিকেই আন্দোলনকারীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘেরাও করে নেয়, যা সরকারের পতনের পূর্বমুহূর্ত তৈরি করে।
- অবশেষে, আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এবং দেশত্যাগ করেন। 

উৎস:
প্রথম আলো পত্রিকা;
The Daily Star (July–August 2024) - “Timeline of July Movement.”

.
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে আয়োজিত কনসার্টটির নাম কী ছিল?
  1. Voices of Change
  2. Songs for Justice 
  3. Echoes of Freedom: Charity Concert
  4. Echoes of Revolution: Charity Concert 
ব্যাখ্যা

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে আয়োজিত কনসার্টটির নাম-  Echoes of Revolution: Charity Concert.
---------------------------------------------------------- 
• Echoes of Revolution: Charity Concert:
- তারিখ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ভেন্যু: আর্মি স্টেডিয়াম, ঢাকা।
- আয়োজক: Spirits of July এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
- উদ্দেশ্য:
- জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তার জন্য এই কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
- দেশজুড়ে আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ ও মানবিক সহযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই কনসার্টটি বিশাল সাড়া ফেলে।

উৎস: The Daily Star. 

.
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কত সদস্যের সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে?
  1. ৭ সদস্য 
  2. ১১ সদস্য
  3. ৫ সদস্য
  4. ৯ সদস্য
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ৯ সদস্যের সংবিধান সংস্কার কমিশন (Constitution Reform Commission) গঠন করে।

• কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল -
1️. সংবিধানের প্রয়োজনীয় ধারা ও অনুচ্ছেদসমূহ পুনর্মূল্যায়ন করা।
2️. গণতন্ত্র ও প্রশাসনিক ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
3️. নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

• কমিশনের সদস্যবৃন্দ:
- চেয়ারম্যান: প্রফেসর আলী রিয়াজ। 

- অন্যান্য ৮ জন সদস্য:
- ড. সুমাইয়া খায়ের,
- ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, 
- অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক, 
- ড. শরীফ ভুইয়া, 
- ড. এম. মঈন আলম ফিরোজি, 
- ড. ফিরোজ আহমেদ, 
- ড. মোস্তাইন বিল্লাহ, 
- মাহফুজ আলম। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

.
জুলাই গনঅভ্যুত্থানে “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির ঘোষণা কখন দেয়া হয়েছিল?
  1. ৩ জুলাই, ২০২৪
  2. ৬ জুলাই, ২০২৪ 
  3. ১০ জুলাই, ২০২৪  
  4. ১৬ জুলাই, ২০২৪ 
ব্যাখ্যা

জুলাই গনঅভ্যুত্থানে “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল- ৬ জুলাই,২০২৪। 
----------------------------------------------------  
• “বাংলা ব্লকেড”:
- ৫ জুন ২০২৪ তারিখে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
- এই রায়ের পর থেকেই সারাদেশে শিক্ষার্থীরা “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” গড়ে তোলে।
- ১ জুলাই ২০২৪ থেকে এই আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। 
- আন্দোলনের মূল দাবি ছিল - “সকলের জন্য সমান সুযোগ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা।”
- ৬ জুলাই ছাত্ররা ঘোষণা দেয় “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির, যার মাধ্যমে সারাদেশে প্রতীকী অবরোধ পালিত হয়।
- এই কর্মসূচির ফলে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।

 - “বাংলা ব্লকেড”- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল-
• কোটা ব্যবস্থা সংস্কার বা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র পুনর্বহাল,
• সরকারের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি এবং
• আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি করা।

- শিক্ষার্থীরা “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচীর মাধ্যমে চার দফা দাবি জানিয়েছিল: 
• কোটা বৈষম্য দূর করা,
• ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল,
• আন্দোলনে হামলার বিচার এবং
• অন্যান্য শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন।

উৎস: বিবিসি নিউজ ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০নং নৌ-সেক্টরের অধীনে পরিচালিত বিখ্যাত অভিযানটির নাম কী?
  1. অপারেশন লিবারেশন
  2. অপারেশন জ্যাকপট
  3. অপারেশন বিজয়
  4. অপারেশন মুক্তি
ব্যাখ্যা

'অপারেশন জ্যাকপট':
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- যেখানে ১০নং সেক্টর ছিল নৌ-সেক্টর।
- এটি কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না;
- বরং সমুদ্রবন্দর, নদীপথ ও উপকূলীয় এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এই সেক্টরের অধীনে নৌ-কমান্ডোরা গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করত; 
- এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো অপারেশন জ্যাকপট। 
- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালের ১৫-১৬ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিলো। 
- এ অভিযানে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজ ও সমরাস্ত্র ধ্বংস করা হয়।
- অপারেশন সফল হওয়ায় পাকিস্তান সরকারের প্রচারণা ভ্রান্ত প্রমাণিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায়।
- ১০নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত কমান্ডার ছিল না;
- নৌ-কমান্ডোদের কাজ প্রধান সেনাপতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় “বীর প্রতীক” খেতাবে ভূষিত একমাত্র বিদেশী নাগরিক-
  1. ক্লাইভ ফিলিপসন
  2. মাইকেল আলেকজান্ডার ফস
  3. উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারল্যান্ড
  4. ডোনাল্ড এন্ড্রুসন 
ব্যাখ্যা

‘বীর প্রতীক’:
- বীরত্বসূচক খেতাব হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ দেখানো বিশেষ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রদত্ত সম্মানসূচক খেতাব।
- ৪২৬ জন 'বীর প্রতীক' খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে একমাত্র বিদেশী- উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারলল্যান্ড। 
- উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারলল্যান্ড ছিলেন একজন ডাচ-অস্ট্রেলীয় কমান্ডো অফিসার।
- তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অবদান রাখেন।
- বাটা বাংলাদেশের প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে থাকাকালীন তিনি ২নং সেক্টরে গেরিলা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করতেন।
- বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া। 

১১.
মুক্তিযুদ্ধে বীরপ্রতীক খেতাব প্রাপ্ত কাঁকন বিবি কোন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ছিলেন?
  1. খাসিয়া
  2. চাকমা
  3. মারমা
  4. গারো 
ব্যাখ্যা

কাঁকন বিবি: 
- কাঁকন বিবির মূল নাম- কাঁকাত হেনিনচিতা।
- কাঁকন বিবি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর কাঁকন ওরফে নূরজাহান নামে পরিচিত হন।
- কাঁকন বিবি ছিলেন খাসিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের একজন বাঙালি নারী মুক্তিযোদ্ধা।
- তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি ‘মুক্তিবেটি’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- কাঁকন বিবি প্রায় ২০টি যুদ্ধে অংশ নেন। 
- তিনি মুক্তিবাহিনীর হয়ে ৫ নং সেক্টরে গুপ্তচরের কাজ করেছেন।
- স্বাধীনতার ২৫ বছর পর, ১৯৯৬ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন।
- জীবদ্দশায় তিনি বীরপ্রতীক খেতাবের সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করতে পারেননি।
- তিনি ১০৩ বছর বয়সে ২১ মার্চ, ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা [ লিঙ্ক]। 

১২.
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-  
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস 
  2. সারজিস আলম
  3. মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ 
  4. নাহিদ ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন: 
- জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে।
- এটি একটি অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক সংস্থা। 
- এই সংস্থা শহীদদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
- ফাউন্ডেশন ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদন পায়;
- এবং ১২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

- ফাউন্ডেশনটির প্রধান উপদেষ্টা ও সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস;
- ফাউন্ডেশনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, এবং 
- প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধকে নির্বাচিত করা হয়। 
- ফাউন্ডেশনটির কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত।
- প্রাথমিক তহবিল হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা অনুদান প্রাপ্ত হয়।
------------------------------------------------- 
উল্লেখ্য,
- জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। 
- তিনি ২১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে ৮ মে ২০২৫ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
- পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন।

উৎস: July Shaheed Smrity Foundation Website. 

১৩.
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন- 
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ 
  2. আ স ম আবদুর রব
  3. নূরুল ইসলাম
  4. জিয়াউর রহমান 
ব্যাখ্যা

পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।
- একাত্তরে এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে প্রথমবার স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- পতাকা উত্তোলন করেন ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব।
- এরপর ৩ মার্চ প্রথমবার জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা” এর সঙ্গে পতাকা উত্তোলন করা হয়। 
- জাতীয় সংগীত এর সঙ্গে পতাকা উত্তোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের প্রতিক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গ্রহণ করা হয়।

উৎস:
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি); 
বাংলাপিডিয়া। 

১৪.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য প্রণীত অধ্যাদেশের নং কত?
  1.  ৬০ নং 
  2. ৬১ নং 
  3. ৬৩ নং 
  4. ৬৫ নং 
ব্যাখ্যা

২০২৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের সরকারি নং ৬৩।
- এটি “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫” নামে পরিচিত।
-----------------------------------------
“জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ”: 
- ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটে।
- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শাসকের পতন ঘটে। 
- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ছিল স্বৈরাচারী সরকারের উত্থান ও দমন-পীড়নের কেন্দ্র।
- তাই ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়। 
- ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে সরকার এ প্রস্তাব অনুমোদন করে।
- রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গণভবনের ১৭.৬৮ একর জমিতে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এখনও নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। 

- “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ” (৬৩ নং) অনুযায়ী এই জাদুঘর তৈরির মূল উদ্দেশ্য—
• আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষিত করা;
• গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংবলিত নিদর্শন ও দলিল সংগ্রহ করে জাতীয় ইতিহাসে প্রামাণিকভাবে সংরক্ষণ করা। 

উৎস: Laws Of Bangladesh.  

১৫.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কবে শপথ গ্রহণ করে? 
  1. ৫ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৮ আগস্ট, ২০২৪
  4. ১০ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান।
- এরপর ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গবন্ধু ভবনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন।
- এই সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মনোনীত করা হয়।
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার  ৮ আগস্ট, ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেন।
- অন্যান্য উপদেষ্টা একই দিনে শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীতে শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
- এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসন। 

- এই সরকার গঠনের জন্য আইনগত ভিত্তি ছিল সংসদ ভেঙে যাওয়া;
- এবং দেশের বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধানের ‘প্রয়োজনীয়তা নীতি’ অনুসরণ করা।

- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল:
• রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা,
• অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা,
• জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের বিচার করা,
• ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা।

উৎস:
জাতীয় তথ্য বাতায়ন; 
প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৬.
মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত বাহিনী কোন এলাকায় সক্রিয় ছিল?
  1. গোপালগঞ্জ
  2. মানিকগঞ্জ
  3. মাগুরা
  4. সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা

হেমায়েত বাহিনী:
- মুক্তিযুদ্ধে বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বাহিনী- হেমায়েত বাহিনী। 
- হেমায়েত বাহিনী স্থানীয় যুবকদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী গেরিলা বাহিনী। 
- হেমায়েত বাহিনী- মূলত বরিশাল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর এবং বাগেরহাট ও যশোরের কিছু অঞ্চলে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল।
- এই বাহিনী নদী ও উপকূল ব্যবহার করে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করত।
- এবং নদী উপকূলীয় এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলত এবং বেশ কিছু এলাকা মুক্তও করেছিল।

• সেক্টর এলাকার বাইরে গঠিত উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক বাহিনীসমূহ:
- হেমায়েত বাহিনী – গোপালগঞ্জ, বরিশাল।
- কাদেরিয়া বাহিনী – টাঙ্গাইল। 
- আকবর বাহিনী – মাগুরা।  
- লতিফ মীর্জা বাহিনী – সিরাজগঞ্জ, পাবনা।  
- জিয়া বাহিনী – সুন্দরবন। 
- আফসার ব্যাটালিয়ন – ভালুকা, ময়মনসিংহ।
- বাতেন বাহিনী – টাঙ্গাইল। 
- হালিম বাহিনী – মানিকগঞ্জ। 

- এছাড়া ঢাকার গেরিলা দল (‘ক্র্যাক প্লাটুন’) ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাত।
- এই বাহিনীসমূহ মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময় আঞ্চলিক এবং শহুরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

১৭.
কোন দেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. চীন
  3. যুক্তরাজ্য
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানপন্থী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মোট তিনবার উত্থাপিত হয়।
- বিশেষ করে ৪ ও ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব তোলে।
- এসব প্রস্তাব গৃহীত হলে যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যেত;
- এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশে থেকেই যেত, ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতো।
- এই বাস্তবতা বিবেচনায় সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধে ভেটো প্রয়োগ করে।

- সোভিয়েত ইউনিয়নের এই ভেটোর ফলে:
• যুদ্ধ চালু থাকে,
• মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে এবং
• শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান বাহিনীর পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৮.
চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় কবে? 
  1. ৩১ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে
  2. ১১ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে
  3. ১ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে
  4. ২৩ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশসমূহ:
- বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ভুটান।
- ভুটান ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ভুটানের পর একই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- ৩১ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে। 
---------------------------------------
• স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশসমূহ:
- স্বাধীনতার পর বিভিন্ন দেশ পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

• আরব বিশ্বের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ ছিল- ইরাক। 
• অনারব মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া- একই দিনে, ১৯৭২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। 
• ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- পূর্ব জার্মানি।
• আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে সেনেগাল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
• সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ ছিল- পোল্যান্ড।
• দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে- ভেনিজুয়েলা।
• উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- বার্বাডোস।
• ওশেনিয়া অঞ্চলে প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- টোঙ্গা।

• মহাশক্তিগুলোর মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২।
• যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৪ এপ্রিল ১৯৭২। অপরদিকে ।
• পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪।

উৎস: BBC News ও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা [লিঙ্ক]। 

১৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. সংগ্রাম
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. ওরা ১১ জন 
  4. একাত্তরের যীশু
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা ও তার প্রভাব চলচ্চিত্রে বিভিন্নভাবে ফুটে উঠেছে।
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। 
-  নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- এটি ১৯৭২ সালে মুক্তি পায়।
- ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিনেমা।
- এটি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১১ জন যুবকের সাহসিকতা, পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতা এবং দেশের স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষার জীবন্ত দলিল হিসেবে পরিচিত।
--------------------------
উল্লেখ্য,
• সরাসরি যুদ্ধ দেখানোহয়েছে এমন চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- 'ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘হাঙর নদীর গ্রেনেড’, ‘একাত্তরের যীশু’।

• কিছু চলচ্চিত্র যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে উপস্থাপন করেছে, যেমন— শরণার্থী বা পালিয়ে বেড়ানো মানুষের জীবনের কাহিনী—
- ‘মুক্তির গান’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘খেলাঘর’।

• এছাড়াও, যুদ্ধ পূর্বকালীন ও পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছে চলচ্চিত্রগুলো, যেমন:
- ‘জীবন থেকে নেওয়া’, ‘এখনো অনেক রাত’, ‘মেঘের অনেক রং’, ‘আলোর মিছিল’।

উৎস:
বাংলা মুভি ডেটাবেজ;
প্রথম আলো পত্রিকা। 

২০.
যুদ্ধ কৌশলগত কারণে মুক্তিবাহিনীতে গঠিত ‘জেড ফোর্স’ ব্রিগেডের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান
  2. লে. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  3. লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ
  4. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিবাহিনীতে Z, S, K ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স ছিল।
- এগুলো তেলিয়াপাড়া রণকৌশল অনুযায়ী গঠিত হয়েছিল।
- তেলিয়াপাড়া রণকৌশল হল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পরিকল্পনা;
- যেখানে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমণের কৌশল তৈরি করা হয়।

Z ফোর্স-
- Z ফোর্স গঠিত হয় ৭ জুলাই ১৯৭১।
- এর অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান। 
- সদর দপ্তর ছিল তেলঢালায়।
- জিয়াউর রহমানের নামের প্রথম অক্ষর অনুযায়ী এই ফোর্স এর নাম Z ফোর্স রাখা হয়। 
- Z ফোর্স প্রধানত পূর্বাঞ্চলে সামরিক নেতৃত্ব দেয়; 
- এবং সেক্টর ২, ৩ ও ৪ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করত।
- ফোর্সটি মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত ব্রিগেড গঠন এবং সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
---------------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
S ফোর্স-
- লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ- S ফোর্স এর অধিনায়ক ছিলেন। 
- S ফোর্স গঠিত হয় সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে।
- এর সদর দপ্তর ছিল হাজামারায়।
- S ফোর্স উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করত এবং সেক্টর ৫, ৬ ও ৭ তত্ত্বাবধান করত।
- এর মূল লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের কাঠামোগত নেতৃত্ব প্রদান এবং সেক্টরভিত্তিক লড়াইকে সুসংগঠিত করা।

K ফোর্স-
- K ফোর্স এর অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল খালেদ মোশাররফ। 
- K ফোর্স গঠিত হয় ১৪ অক্টোবর ১৯৭১।
- এর সদর দপ্তর ছিল আগরতলায়।
- K ফোর্স দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করত এবং সেক্টর ৮, ৯ ও ১১ এর দায়িত্ব পালন করত।
- ফোর্সটি মুক্তিযুদ্ধের জন্য নিয়মিত ব্রিগেড গঠন ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।

উৎস: বনিক বার্তা ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা।