পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৭৭
সিলেবাস
Exam - 34 Full Model Test-6 Topic: • BAR Council Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৭৭ প্রশ্ন

.
সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুসারে দেওয়ানি আদালতের প্রকারভেদ কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৪টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
⇒ সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭ এর ধারা ৩ অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতের মোট ৫টি প্রকারভেদ রয়েছে।
- এগুলো হলো:
১. জেলা জজ আদালত (Court of District Judge)
২. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত (Court of Additional District Judge)
৩. যুগ্ম জেলা জজ আদালত (Court of Joint District Judge)
৪. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (Court of Senior Assistant Judge)
৫. সহকারী জজ আদালত (Court of Assistant Judge)

- এই পাঁচটি আদালতই দেওয়ানি বিচার কার্য পরিচালনার জন্য গঠিত।
- প্রতিটি আদালতের এখতিয়ার ও কার্যাবলি ভিন্ন, এবং এগুলো বিচারিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে অবস্থিত।
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪১ বিধি-৩ অনুসারে, কখন আদালত আপিলের স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করতে পারে?
  1. যখন স্মারকলিপি সঠিকভাবে সংশোধন করা হয়
  2. যখন আপিলকারী আদালতের নির্দেশ পালন করেন
  3. যখন স্মারকলিপি নির্দিষ্ট পদ্ধতি মোতাবেক প্রণীত হয়নি
  4. যখন আপিলের বিষয়বস্তু ফৌজদারি মামলার সাথে সম্পর্কিত
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) যখন স্মারকলিপি নির্দিষ্ট পদ্ধতি মোতাবেক প্রণীত হয়নি।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ৩ অনুসারে, যদি আপিলের স্মারকলিপি নির্ধারিত বা নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি অনুযায়ী তৈরি না হয়, তবে আদালতের কাছে দুইটি বিকল্প থাকে:
১) স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করা, বা
২) সংশোধনের জন্য তা আপিলকারীর কাছে ফেরত দেওয়া, যাতে তা সংশোধন করে আবার জমা দেওয়া যায়।
- এই বিধানের লক্ষ্য হলো, আদালতে দাখিল করা স্মারকলিপি যেন সঠিক ও বিধিসম্মত হয়, এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে মামলার অগ্রগতি ব্যাহত না হয়।
- অতএব, নির্ধারিত ফরম্যাট বা নিয়ম লঙ্ঘন করে করা স্মারকলিপি আদালত গ্রহণ নাও করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-৩: স্মারকলিপি প্রত্যাখান বা সংশোধন:
১) যেক্ষেত্রে ইতোপূর্বে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মোতাবেক আপিলের স্মারকলিপি প্রণীত হয় নি, সেক্ষেত্রে আদালত সেটি প্রত্যাখ্যান করতে পারবে, অথবা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি সংশোধনের জন্য অথবা তৎক্ষণাৎ সেটি সংশোধন করার জন্য আপিলকারীর নিকট ফেরত দেয়া যাবে।
২) যেক্ষেত্রে আদালত কোন স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করে, সেক্ষেত্রে ঐ অগ্রাহ্যের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।
৩) যেক্ষেত্রে আপিলের স্মারকলিপি সংশোধন করা হয় সেক্ষেত্রে বিচারক অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সংশোধনীতে স্বাক্ষর বা অনুস্বাক্ষর করবেন।
.
সমন জারি সংক্রান্ত আদেশ ৫, বিধি ৯-এর উদ্দেশ্যে জেলা জজ কী প্রস্তুত করবেন?
  1. ফি কাঠামো
  2. বিচারক তালিকা
  3. পুলিশি সহায়তা ব্যবস্থা
  4. কুরিয়ার সার্ভিসের তালিকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫, বিধি ৯(৪) অনুসারে, সমন (Summon) দ্রুত এবং কার্যকরভাবে জারি করার জন্য জেলা জজকে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে, যেটি নিয়মিত হালনাগাদ (update) করতে হবে।
- এই তালিকা তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রভুক্ত সকল দেওয়ানি আদালতকে অবহিত করতে হবে।
- এই তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেই আদালত সমন প্রেরণ করতে পারবে।
- যদি কোনো কুরিয়ার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে জেলা জজ তালিকা থেকে সেই কুরিয়ারকে বাদ দিতে পারবেন।

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ৯ (জারির জন্য সমন অর্জন অথবা প্রেরণ) -
(১) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, বিবাদী সেটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বসবাস করে বা সমন গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বিবাদীর পক্ষে যদি এরূপ এলাকার ভিতর বসবাস করে, তবে আদালত অন্য কোনরূপ নির্দেশ না দিলে হয় উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট স্বয়ং জারি করার লক্ষ্যে বা তাদের অধঃস্তন কোন ব্যক্তি দ্বারা অথবা উপ-ধারা(৪) এর বিধান অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন অর্পিত বা প্রেরিত হবে।
(২) উপযুক্ত কর্মকর্তা যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে সেখানকার না হয়ে অন্য কোন আদালতের কর্মকর্তাও হতে পারেন, এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তার নিকট ডাকযোগে বা আদালত যেভাবে নির্দেশ দিতে পারে অনুরূপ অন্য যে কোন উপায়ে প্রেরণ করা যাবে।
(৩) আদালত উপ-বিধি (১) তে বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদীকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একইসঙ্গে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বা ইলেক্ট্রনিক মেইল সার্ভিস এর মাধ্যমে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিবেন।
(৪) জেলা জজ উপ-বিধি(১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় হালনাগাদসহ) এবং তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতসমূহকে তা অবহিত করবেন।
(৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস এর নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে সার্ভিস বা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এতদবিষয়ে অবহিত করবেন: তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ারের ক্ষেত্রে,জেলা জজ প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দিবেন।
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৭ কোন বিশেষ ধরনের মামলার সাথে সম্পর্কিত?
  1. নাবালকের মামলা
  2. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  3. হস্তান্তরযোগ্য দলিল
  4. স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৭ (Order XXXVII of the Code of Civil Procedure, 1908) শুধুমাত্র হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instruments) সংক্রান্ত মামলার জন্য প্রযোজ্য। এটি সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি (summary procedure) প্রবর্তন করে, যার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ও নির্দিষ্ট আর্থিক দাবিসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ থাকে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৭-এর আওতাভুক্ত হস্তান্তরযোগ্য দলিল:
- হুন্ডি (Hundi)
- চেক (Cheque)
- প্রমিসরি নোট (Promissory Note)
এই মামলাগুলিতে বিবাদী সাধারণভাবে সরাসরি প্রতিরক্ষা দিতে পারে না; প্রতিরক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে:
ক) নাবালকের মামলা – আদেশ ৩২ (Order XXXII)-এর অধীনে।
খ) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা – আদেশ ৩৯ (Order XXXIX)-এর অধীনে।
ঘ) স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা (Interpleader Suit) – আদেশ ৩৫ (Order XXXV)-এর অধীনে।
.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৬-এর মূল বিষয় কী?
  1. আদালতের স্থানীয় এখতিয়ার
  2. দেওয়ানি মামলার ফি নির্ধারণ
  3. দেওয়ানি আদালতের আপিল এখতিয়ার
  4. আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৬ মূলত আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction) নিয়ে আলোচনা করে।
- এই ধারার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি অন্য কোনো আইন বা বিধানে স্পষ্টভাবে কিছু না বলা থাকে, তাহলে কোন আদালত এমন কোন মামলার বিচার করতে পারবে না যার বিষয়বস্তুর মূল্য (amount or value of subject-matter) তার সাধারণ আর্থিক সীমার (ordinary pecuniary jurisdiction) চেয়ে বেশি।
→ অর্থাৎ, প্রতিটি দেওয়ানি আদালতের একটি নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা থাকে এবং সেই সীমার বাইরে মামলার বিচার করার এখতিয়ার সেই আদালতের নেই — যদি না অন্য কোনো আইন তাকে সে ক্ষমতা দেয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৬ ধারায় আর্থিক এখতিয়ার সম্পর্কে বলা আছে:
অন্যত্র বর্ণিত সুস্পষ্ট বিধানসমূহ ছাড়া এই আইনের বিধান কোন আদালতকে তার সাধারণ এখতিয়ারের আর্থিক সীমারেখার (যদি থাকে) বেশি মূল্যসম্পন্ন বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মোকদ্দমার বিচার করার এখতিয়ার প্রদান করবে না।
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section- 6: Pecuniary Jurisdiction:-
Save in so far as is otherwise expressly provided, nothing herein contained shall operate to give any Court jurisdiction over suits the amount or value of the subject-matter of which exceeds the pecuniary limits (if any) of its ordinary jurisdiction.

.
একজন pauper হিসেবে মামলা করার জন্য আবেদনপত্রে কী থাকতে হবে?
  1. চাকরির বিবরণ
  2. পরিবারের সদস্যদের তথ্য
  3. সম্পত্তির তালিকা ও মূল্য
  4. উকিলের নাম ও স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩ অনুযায়ী, একজন pauper হিসেবে মামলা করার জন্য আবেদনপত্রে আবেদনকারী ব্যক্তির সমস্ত সম্পত্তির তালিকা এবং সেই সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য থাকতে হবে। আবেদনপত্রটি অবশ্যই সঠিকভাবে স্বাক্ষরিত ও যাচাই করা উচিত।
- এছাড়া, উকিলের নাম ও স্বাক্ষর আবশ্যক নয়, কারণ একটি pauper মামলা সাধারণত ব্যক্তি নিজে বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে করা হয়। তবে, আবেদনটি যখন উপস্থাপন করা হবে, তখন এটি আদালতে বা উপযুক্ত ব্যক্তি দ্বারা সরাসরি উপস্থাপন করা উচিত।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩, বিধি ২ অনুসারে, একজন দরিদ্র (pauper) হিসেবে মামলা করার আবেদনপত্রে নিম্নলিখিত তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক:
সম্পত্তির তালিকা ও আনুমানিক মূল্য:
- আবেদনকারীকে তার সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত তালিকা জমা দিতে হবে।
- প্রতিটি সম্পত্তির আনুমানিক বাজার মূল্য উল্লেখ করতে হবে।
ব্যতিক্রম: পরিধানের প্রয়োজনীয় পোশাক ও মামলার বিষয়বস্তু সম্পত্তি হিসাবে গণ্য হবে না।
মামলার প্রাসঙ্গিক তথ্য: সাধারণ আরজিতে (plaint) যা যা তথ্য প্রয়োজন (যেমন: পক্ষদের বিবরণ, মামলার কারণ ইত্যাদি) তা উল্লেখ করতে হবে।
স্বাক্ষর ও শপথনামা:
আবেদনপত্র আবেদনকারী দ্বারা স্বাক্ষরিত ও শপথনামাযুক্ত হতে হবে (যেমন অন্যান্য লিখিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজন)।
.
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা দায়েরের জন্য কার অনুমতি প্রয়োজন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. আদালত
  3. বিবাদী
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
⇒ প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। দেওয়ানি কার্যবিধির ১ নং আদেশের ৮ নং বিধি অনুযায়ী, যদি কোনো মামলায় বহু ব্যক্তির একই ধরনের স্বার্থ থাকে, তবে আদালতের অনুমতিক্রমে একজন বা একাধিক ব্যক্তি সেই মামলার জন্য প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
- প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমায়, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পক্ষে একজন বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারবেন, তবে এর জন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। আদালত এটি নিশ্চিত করবে যে প্রতিনিধির মাধ্যমে মামলাটি সঠিকভাবে পরিচালিত হবে এবং যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা মামলার মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের স্বার্থ সঠিকভাবে রক্ষিত হচ্ছে।
এছাড়া, আদালতকে গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নোটিশ প্রদান বা ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ প্রদান করার বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্বও দেওয়া থাকে।

অতএব, প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন।
.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী নিম্নের কোন ক্ষেত্রে আপিল করা যাবে না?
  1. প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে
  2. চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে
  3. একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে
  4. পক্ষদের সম্মতিতে প্রদত্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির (Code of Civil Procedure) ধারা ৯৬(৩) অনুযায়ী, যদি কোনো আদালত পক্ষদের সম্মতিতে একটি ডিক্রি প্রদান করে, তবে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না। এর মানে হলো, যখন পক্ষসমূহ আদালতের কাছে তাদের সম্মতি দিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং আদালত সেই সম্মতিতে ডিক্রি প্রদান করে, তখন সেই ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

অন্যদিকে, প্রাথমিক ডিক্রি (প্রশ্নের ক) এবং চূড়ান্ত ডিক্রি (প্রশ্নের খ) সম্পর্কিত বিধান অনুসারে, আপিল করা যায়। একতরফা ডিক্রি (প্রশ্নের গ) সম্পর্কেও আপিল করা সম্ভব, যদি ডিক্রি প্রাপ্ত পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ভুল বা অসঙ্গতি থাকে।

তবে পক্ষদের সম্মতিতে প্রদত্ত ডিক্রি আপিলের জন্য যোগ্য নয়, কারণ এটি তাদের সম্মতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-১ অনুসারে, নাবালকের পক্ষে মামলা কে দায়ের করবেন?
  1. স্বয়ং নাবালক
  2. নেক্সট ফ্রেন্ড 
  3. সরকারি অভিভাবক
  4. আদালতের কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), আদেশ ৩২, বিধি ১ অনুযায়ী: “Every suit by a minor shall be instituted in his name by a person who in such suit shall be called the next friend of the minor.”
অর্থাৎ, নাবালক (যিনি আইনত মামলা করার যোগ্য নন) যদি কোন দেওয়ানি মামলা করতে চান, তাহলে সেই মামলা তার নিজ নামে, কিন্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে দায়ের করতে হবে, যাকে বলা হয় "নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend)"। এই ব্যক্তি নাবালকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এবং তার স্বার্থ রক্ষা করেন।

- নাবালক নিজে মামলা দায়ের করতে পারে না।
- নেক্সট ফ্রেন্ডের মাধ্যমে মামলাটি দায়ের করতে হয়।
- নেক্সট ফ্রেন্ড হতে হবে এমন একজন ব্যক্তি যার স্বার্থ নাবালকের বিপরীত নয়।
- যদি কোন নেক্সট ফ্রেন্ড না থাকে, আদালত বিবাদীর আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি খারিজ করতে পারে (বিধি ২)।
১০.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন খণ্ডে "বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি" পদ্ধতি উল্লেখ আছে?
  1. দ্বিতীয় খণ্ড
  2. পঞ্চম খণ্ড
  3. সপ্তম খণ্ড
  4. একাদশ খণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ "বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি" (Alternative Dispute Resolution – ADR) বিষয়ক বিধানসমূহ দেওয়ানি কার্যবিধির পঞ্চম খণ্ডে (Part V) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- এই খণ্ডের অধীনে ধারা ৮৯B থেকে ৮৯E পর্যন্ত সালিশি ও মধ্যস্থতা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে, যা আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা প্রদান করে।
- এই ধারাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো মামলা দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত, সহজ ও আপোষযোগ্য পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা, যাতে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমে এবং পক্ষগণ নিজেদের মধ্যে সমাধানে পৌঁছাতে পারে।

উল্লেখযোগ্য ধারা:
ধারা ৮৯A: আদালতের মধ্যস্থতা বা নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা।
ধারা ৮৯B: সালিশির মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি।
ধারা ৮৯C: আপিল পর্যায়ে মধ্যস্থতা।
ধারা ৮৯D ও ৮৯E: পূর্বের মামলাগুলোর জন্য ও কার্যকর তারিখ নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধান।
১১.
আদেশ ২১ বিধি ৭৪(২) অনুসারে, কৃষিজাত দ্রব্যের নিলাম কখন স্থগিত করা যায়?
  1. যদি নিলামের সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়
  2. যদি আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে নির্দেশ দেন
  3. যদি নিলামে অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত না থাকেন
  4. যদি ন্যায্য মূল্য প্রস্তাবিত না হয় এবং মালিক স্থগিতের আবেদন করেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) যদি ন্যায্য মূল্য প্রস্তাবিত না হয় এবং মালিক স্থগিতের আবেদন করেন।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-২১, বিধি-৭৪(২) অনুযায়ী, কৃষিজাত দ্রব্যের নিলামে যদি ন্যায্য মূল্য প্রস্তাবিত না হয় এবং মালিক বা তার প্রতিনিধি নিলাম স্থগিত করার আবেদন করেন, তবে আদালত নিলাম স্থগিত করে পরবর্তী নির্ধারিত দিনে পুনরায় নিলাম পরিচালনা করবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-২১, বিধি-৭৪(২) এ বলা হয়েছে: 
(২) যখন ফসল বিক্রয়ের জন্য তোলা হবে, তখন−
(ক) যদি বিক্রির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মনে করেন যে ন্যায্য মূল্য প্রস্তাবিত হয়নি, এবং
(খ) মালিক বা তার প্রতিনিধির অনুরোধে বিক্রয় পরবর্তী দিন বা বাজারের দিনে স্থগিত করার আবেদন করা হয়,
তাহলে বিক্রয় স্থগিত থাকবে এবং পরবর্তী নির্ধারিত দিনে যে মূল্যই হোক, তা অনুসারে বিক্রয় সম্পন্ন হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21,Rule-74 (2) Where, on the produce being put up for sale,−
(a) a fair price, in the estimation of the person holding the sale, is not offered for it, and
(b) the owner of the produce or a person authorized to act in his behalf applies to have the sale postponed till the next day or, if a market is held at the place of sale, the next market-day,
the sale shall be postponed accordingly and shall be then completed, whatever price may be offered for the produce.
১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬, বিধি-১৪ অনুযায়ী কমিশনারের প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের সময়সীমা কত?
  1. ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ২ মাস
  4. ১ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ১৪ (২) অনুযায়ী:
- যদি একাধিক কমিশনার নিযুক্ত হন এবং তারা একমত না হন, তবে তারা পৃথক পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করে স্বাক্ষর করবেন।
- এই প্রতিবেদনসমূহ আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে।
- তবে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা ৩ (তিন) মাস অতিক্রম করতে পারবে না।
- যদি যথার্থ কারণ দেখিয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়, তাহলে আদালত সেই সময়সীমা বর্ধিত করতে পারেন।
 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-26, Rule-14: -Procedure of Commissioner-
(2) Preparation of Report:
The Commissioner (or Commissioners, if the commission was issued to multiple persons and they cannot agree) will prepare and sign a report. The report will detail the share of each party, distinguishing each share with specific boundaries (if directed by the order). If multiple reports are prepared, they will be annexed to the commission and transmitted to the Court within the time fixed by the Court, not exceeding three months. After receiving the report(s), the Court will hear any objections from the parties and may confirm, vary, or set aside the report(s).
Provision for Extension of Time: The Court may extend the time upon a request from the Commissioner and upon sufficient cause being shown.
১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে হাইকোর্টের রিভিশন ক্ষমতা কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ধারা ১১৬
  2. ধারা ১১৫
  3. ধারা ১১৪
  4. ধারা ১১৩
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশন (Revision) সংক্রান্ত ক্ষমতা নির্ধারণ করে। এই ধারার আওতায়, হাইকোর্ট কোনো নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বা আদেশে আইনগত ভুল (error of jurisdiction) হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করতে পারে।
ধারা ১১৫ এর মূল বিষয়: যখন কোনো নিম্ন আদালত, নিজ এখতিয়ার অতিক্রম করে কোনো আদেশ দেয়, বা যার এখতিয়ার ছিল না তেমন কোনো বিষয় সম্পর্কে আদেশ দেয়, বা আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করে অন্যায্য আদেশ দেয়, তখন হাইকোর্ট এই আদেশ রিভিশনের মাধ্যমে বাতিল বা সংশোধন করতে পারে। তবে সাধারণত যেখানে আপিল করা যায়, সেখানে রিভিশন গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-১১৫ এর বিধান রিভিশন:
১) কোন মোকদ্দমায় কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় জেলা জজ আদালত বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হলে, বা যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক ডিক্রি প্রদত্ত হলে, যার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা চলে না; সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশন তার নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা সমাপণ করিয়ে এই ডিক্রি বা আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃশ্যমান হলে হাইকোর্ট ডিভিশন এই ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা তা যে-রূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
২) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কোন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত এই মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করিয়ে এই আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃশ্যমান হলে জেলা জজ আদালত উক্ত আদেশ সংশোধন করতে পারবে এবং তা যে-রূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
৩) জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা হস্তান্তর করলে উপধারা (২) এর অধীনে জেলা জজের সকল সর্বময় ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে থাকবে।
৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার অবসান করিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত প্রদান করলে প্রয়োজনীয় আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন রিভিশনের অনুমতির অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে উপধারা (২) বা (৩) এর অধীনে প্রদানকৃত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা চলবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশন তা যে-রূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
৫) এই ধারাটির প্রতিস্থাপনে যেটাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ঐরূপ প্রতিস্থাপনের পূর্বে ১১৫নং ধারার অধীনে আরম্ভ হওয়া বা ঝুলন্ত থাকা কর্মপ্রক্রিয়া যেরূপে নিষ্পত্তি হবে যেন ১১৫নং ধারা প্রতিস্থাপিত হয়নি।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-115: Revision:
(1) The High Court Division may, on the application of any party aggrieved, call for the record of any suit or proceedings, in which a decree or an order has been passed by a Court of District Judge or Additional District Judge, or a decree has been passed by a Court of Joint District Judge, Senior Assistant Judge or Assistant Judge, from which no appeal lies; and if such Court appears to have committed any error of law resulting in an error in such decree or order occasioning failure of justice, the High Court Division may, revise such decree or order and, make such order in the suit or proceedings, as it thinks fit.
(2) The Court of District Judge may, on the application of any party aggrieved, call for the record of any suit or proceeding, in which an order has been passed by a Court of Joint District Judge, Senior Assistant Judge or Assistant Judge, from which no appeals lies; and if such Court appears to have committed any error of law resulting in an error in such order occasioning failure of justice, the Court of District Judge may, revise such order and, make such order as it thinks fit.
(3) A Court of Additional District Judge shall have all the powers of the District Judge under sub-section (2) in respect of revision case which may be transferred to it by the District Judge.
(4) An application to the High Court Division for revision of an order of the District Judge or, Additional District Judge, as the case may be, made under sub-section (2) or (3) shall lie, where the High Court Division grants leave for revision on an (4) An application to the High Court Division for revision of an order of the District Judge or, Additional District Judge, as the case may be, made under sub-section (2) or (3) shall lie, where the High Court Division grants leave for revision on an error of an important question of law resulting in erroneous decision occasioning failure of justice, and the High Court Division may make such order in the suit or proceeding as it thinks fit.
(5) Notwithstanding the substitution of this section, any proceeding commenced and pending under section 115 prior to such substitution shall be disposed of in such manner as if section 115 has not been substitute
১৪.
ORDER XII, Rule 4 অনুযায়ী, স্বীকারোক্তির জন্য নোটিশ দিতে হবে শুনানির কতদিন আগে?
  1. ৭ দিন
  2. ৯ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order XII, Rule 4 অনুযায়ী, কোনো পক্ষ অন্য পক্ষকে লিখিতভাবে একটি নোটিশ দিতে পারে, যাতে সে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা স্বীকার করে। এই নোটিশ শুনানির তারিখের নয় (৯) দিন আগে প্রদান করতে হয়।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ORDER-XII, Rule-4 অনুযায়ী: কোনো পক্ষ ঘটনা স্বীকারের জন্য লিখিত নোটিশ পেলে, তাকে ৬ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। এই সময়সীমা নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে গণনা করা হয়। আদালত প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় দিতে পারে।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ORDER XII, Rule 4 অনুসারে, মামলার কোনো পক্ষ লিখিতভাবে অপর পক্ষকে নির্দিষ্ট ঘটনা বা ঘটনাবলী স্বীকার করার জন্য নোটিশ দিতে পারে। এই নোটিশ শুনানির তারিখের নয় (৯) দিন আগে দিতে হবে।
- এ ধরনের নোটিশ পাওয়ার পর ছয় (৬) দিনের মধ্যে বা আদালতের অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে উত্তর প্রদান করতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বীকারোক্তি না করা হয় বা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঘটনা প্রমাণ করার জন্য যে ব্যয় হবে, তা সেই পক্ষকে পরিশোধ করতে হবে, যদি না আদালত অন্য কোনো নির্দেশ দেন।
- এছাড়া, এই স্বীকারোক্তি কেবল সংশ্লিষ্ট মামলার জন্যই প্রযোজ্য হবে এবং এটি অন্য কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। আদালত উপযুক্ত মনে করলে, শর্তসাপেক্ষে স্বীকারোক্তি সংশোধন বা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে পারেন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-12 Rule-4: Notice to Admit Facts:
- Any party may, by notice in writing, at any time not later than nine days before the day fixed for the hearing, call on any other party to admit, for the purposes of the suit only, any specific fact or facts mentioned in such notice.
- In case of refusal or neglect to admit the same within six days after service of such notice, or within such further time as may be allowed by the Court, the costs of proving such fact or facts shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs.
Provided that any admission made in pursuance of such notice shall be deemed to be made only for the purposes of the particular suit and not as an admission to be used against the party on any other occasion or in favor of any person other than the party giving the notice.
Provided also that the Court may, at any time, allow any party to amend or withdraw any admission so made on such terms as may be just.

১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩১ এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা
  2. সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো
  3. আপিল প্রক্রিয়া সহজ করা
  4. ট্রাস্টি মামলার জটিলতা কমানো
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) ট্রাস্টি মামলার জটিলতা কমানো।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩১-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ট্রাস্টি, এক্সিকিউটর বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (প্রশাসক) সংক্রান্ত মামলাগুলোকে সহজ ও সুসংগঠিত করা। এই আদেশের মাধ্যমে:
প্রতিনিধিত্বের সুবিধা:
- ট্রাস্টি/এক্সিকিউটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের (beneficiaries) প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ফলে, প্রতিটি সুবিধাভোগীকে আলাদাভাবে মামলার পক্ষ করতে হয় না, যা মামলার জটিলতা ও সময় কমায়।
পক্ষগঠনের সরলীকরণ:
- একাধিক ট্রাস্টি থাকলে সাধারণত সকলকে পক্ষ করতে হয় (বিধি ২), তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে (যেমন: বিদেশি ট্রাস্টি বা অপ্রমাণিত উইলের এক্সিকিউটর)।
- আদালত প্রয়োজনে অতিরিক্ত পক্ষ যুক্ত করতে পারে (বিধি ১)।
বিবাহিত ট্রাস্টির স্বামী/স্ত্রীর বিষয়:
- বিবাহিত ট্রাস্টির স্বামী/স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পক্ষ হন না (বিধি ৩), যাতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো যায়।
মামলার কার্যকারিতা:
- এই বিধিগুলো ট্রাস্ট সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকে দ্রুততর ও দক্ষ করে তোলে।
১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এ মোট কতটি তফসিল রয়েছে এবং কতটি বর্তমানে কার্যকর?
  1. ৫টি, ২টি কার্যকর
  2. ৫টি, ৩টি কার্যকর
  3. ৪টি, ২টি কার্যকর
  4. ৬টি, ৩টি কার্যকর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এ মোট ৫টি তফসিল (Schedule) সংযুক্ত আছে। তবে এদের মধ্যে ২টি তফসিল বর্তমানে বাতিল, আর ৩টি তফসিল কার্যকর রয়েছে।
১) মোট তফসিল আছে – ৫টি
২) তার মধ্যে বর্তমানে কার্যকর – ৩টি
৩) কার্যকর তফসিল –
- প্রথম তফসিল: বিধি ও ফরম; মূল আইনের অংশ
- তৃতীয় তফসিল: কালেক্টরের মাধ্যমে ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
- চতুর্থ তফসিল: অন্যান্য আইন সংশোধনের বিধান (যেমন: কোর্ট ফি অ্যাক্ট সংশোধন)
৪) বাতিল তফসিল –
- দ্বিতীয় তফসিল: সালিস আইন, ১৯৪০ দ্বারা বাতিল
- পঞ্চম তফসিল: Repealing and Amending Act, ১৯১৪ দ্বারা বাতিল
১৭.
যদি বাদী আদালত ফি বা ডাক খরচ না দেয় এবং এর ফলে সমন জারি না হয়, তবে আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলাটি খারিজ করতে পারে
  2. মামলাটি স্থগিত করতে পারে
  3. মামলাটি গ্রহণ করতে পারে
  4. বিবাদীর পক্ষে রায় দিতে পারে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) মামলাটি খারিজ করতে পারে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ-IX, বিধি-২ অনুসারে, যদি বাদী সমন জারির জন্য প্রয়োজনীয় আদালত ফি বা ডাক খরচ প্রদান করতে ব্যর্থ হন এবং এর ফলে বিবাদীর প্রতি সমন জারি না হয়, তাহলে আদালত সেই কারণে মামলাটি খারিজ করতে পারে।
তবে একটি প্রভিশো (ব্যতিক্রম) রয়েছে, যদি সমন জারি না হওয়া সত্ত্বেও বিবাদী নির্ধারিত দিনে ব্যক্তিগতভাবে বা এজেন্টের মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত হন, তাহলে মামলাটি খারিজ করা যাবে না।
---------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-9 Rule-2. Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff's failure to pay costs:
- Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed:
Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.
১৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় আদেশ ও নোটিশ লিখিতভাবে প্রদানের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১৫০
  2. ধারা ১৪২
  3. ধারা ১০৭
  4. ধারা ৯৬
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪২ ধারা অনুযায়ী, আদালতের যে কোনো আদেশ বা নোটিশ লিখিতভাবে প্রদান করতে হয়। এই বিধান নিশ্চিত করে যে আদালতের সমস্ত আদেশ ও নোটিশ স্পষ্টভাবে লিখিত থাকবে, যাতে পরবর্তীতে তা আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য হয় এবং ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ না থাকে।

- দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪২ ধারা অনুযায়ী, এই বিধির অধীনে যে কোনো আদেশ বা নোটিশ লিখিতভাবে প্রদান করতে হবে। এই বিধান আদালতের আদেশ ও নোটিশকে স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য করে তোলে।
সুতরাং, আদালতের আদেশ ও নোটিশ লিখিতভাবে প্রদানের বিধান দেওয়া আছে দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪২ ধারায়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 142. Orders and notices to be in writing.
- All orders and notices served on or given to any person under the provisions of this Code shall be in writing.
১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫ ধারা অনুসারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কোন পদ্ধতিতে প্রদান করা যায় না?
  1. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
  2. ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের মাধ্যমে।
  3. সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে।
  4. কোনো পক্ষকে তার বাধ্যতামূলক কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে।
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ নং ধারা অনুসারে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাঁচটি পদ্ধতিতে প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান অন্তর্ভুক্ত নয়। এই ধারায় ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত অধিকার নির্ণয় ও ঘোষণার কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু সরাসরি ক্ষতিপূরণ প্রদানের কোনো বিধান নেই।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 5. Specific relief how given:
Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.
২০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৩৭ ধারা অনুসারে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকরির বিকল্প হিসেবে রদের আবেদনটি কোন পর্যায়ে আদালতে প্রার্থনা করা যেতে পারে?
  1. সাক্ষ্যগ্রহণের পরে
  2. আপিল চলাকালীন
  3. মামলার রায়ের পর
  4. মামলার প্রাথমিক আবেদনে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৩৭ ধারার বিধান অনুযায়ী, যদি কেউ একটি লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকরির জন্য মামলা দায়ের করে, তবে বাদীকে শুরুতেই, অর্থাৎ মামলার প্রাথমিক আবেদনে (plaint)- বিকল্পভাবে এই প্রার্থনাও করতে হয় যে, যদি আদালত চুক্তিটি কার্যকর করতে না পারে, তবে সেটি রদ (rescission) করে বাতিল ঘোষণা করা হোক।
এটি করার উদ্দেশ্য হলো- একই মামলায় সুনির্দিষ্ট কার্যকরির পাশাপাশি বিকল্প প্রতিকার (চুক্তি রদ) চাওয়া যাতে বাদী অপ্রতুলতা বা অকার্যকারিতার কারণে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত না হন।
অতএব, এটি মামলার শুরুতেই প্রার্থনা করতে হয়, পরবর্তীতে (যেমন, সাক্ষ্যগ্রহণের পরে, রায়ের পর বা আপিলের সময়) প্রথমবার বিকল্প আবেদন করলে তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------  
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭-এর ২৬ ধারা অনুসারে, কোন ক্ষেত্রে চুক্তির পরিবর্তন ছাড়া সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন সম্ভব নয়?
  1. বাদী শর্ত পালন করলে
  2. চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি হলে
  3. চুক্তির শর্ত সঠিক হলে
  4. প্রতারণার কারণে শর্ত ভুল হলে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ২৬ নং ধারা অনুসারে, যখন কোন বাদী লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য মামলা করে, এবং প্রতিরোধকারী (defendant) দাবি করে যে চুক্তির শর্তাবলীতে ভুল বা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, তখন সেই বাদী শুধুমাত্র ওই পরিবর্তনসহ চুক্তির কার্যকর দাবি করতে পারেন।
- এই ধারা বিশেষভাবে উল্লেখ করে যে, যদি প্রতারণা বা সত্যের ভুলের কারণে চুক্তির শর্ত এমনভাবে নির্ধারিত হয় যা প্রতিরোধকারী যখন চুক্তি করেন, তখন যা ভাবছিলেন তার থেকে ভিন্ন হয়, তাহলে চুক্তির সেই পরিবর্তন ছাড়া সুনির্দিষ্ট কার্যকর সম্ভব নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭-এর ধারা ২৬: পরিবর্তন ছাড়া কার্যকরী করা যাবে না:
যখন কোনো বাদী লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চায় এবং প্রতিরোধকারী তা পরিবর্তনের দাবি জানায়, তখন বাদী সেই কার্যসম্পাদন লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সেই পরিবর্তনটি কার্যকর করা হয়, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে:
(ক) যেখানে প্রতারণা বা সত্যের ভুলের কারণে চুক্তির শর্তগুলো এমনভাবে তৈরি হয়েছে যা প্রতিরোধকারী যখন চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন তখন তিনি যেভাবে এটি ভাবছিলেন তেমন ছিল না;
(খ) যেখানে প্রতারণা, সত্যের ভুল বা বিস্ময়ের কারণে প্রতিরোধকারী চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, যখন তিনি সঠিকভাবে চুক্তির ফলাফল বোঝেননি এবং বাদীর সঙ্গে চুক্তির সম্পর্কেও ভুল ধারণা করেছিলেন;
(গ) যেখানে প্রতিরোধকারী চুক্তির শর্তগুলো জানতেন এবং তার প্রভাব বুঝতেন, এবং চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন বাদীর কিছু ভুল বিবৃতি বা বাদীর শর্তের ভিত্তিতে যা চুক্তিতে সংযোজন ছিল, কিন্তু বাদী সেই শর্ত পূর্ণ করতে অস্বীকার করেছিলেন;
(ঘ) যেখানে পক্ষদের উদ্দেশ্য ছিল একটি নির্দিষ্ট আইনি ফলাফল অর্জন করা, কিন্তু চুক্তির বর্তমান শর্তগুলো সেই ফলাফল অর্জন করার জন্য উপযুক্ত নয়;
(ঙ) যেখানে পক্ষরা চুক্তি সম্পাদনের পরে চুক্তির শর্তাবলী পরিবর্তন করতে চুক্তি করেছেন।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 26. Non-enforcement except with variation:
Where a plaintiff seeks specific performance of a contract in writing, to which the defendant sets up a variation, the plaintiff cannot obtain the performance sought, except with the variation so set up, in the following cases (namely):- 
(a) where by fraud or mistake of fact the contract of which performance is sought is in terms different from that which the defendant supposed it to be when he entered into it; 
(b) where by fraud, mistake of fact, or surprise the defendant entered into the contract under a reasonable misapprehension as to its effect as between himself and the plaintiff; 
(c) where the defendant, knowing the terms of the contract and understanding its effect, has entered into it relying upon some misrepresentation by the plaintiff, or upon some stipulation on the plaintiff's part, which adds to the contract, but which he refuses to fulfil; 
(d) where the object of the parties was to produce a certain legal result, which the contract as framed is not calculated to produce; 
(e) where the parties have, subsequently to the execution of the contract, contracted to vary it.
২২.
ঘোষণামূলক মামলা সম্পর্কিত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ৫০
  2. ধারা ৪২
  3. ধারা ৩৮
  4. ধারা ৩৪
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪২-এ ঘোষণামূলক মামলা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই ধারার অধীনে, যখন কোন ব্যক্তি তার আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার স্বত্ব অস্বীকার করা হয়, তখন সেই ব্যক্তি আদালতে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
- আদালত এই মামলায় শুধুমাত্র বাদীর অধিকার ঘোষণা করে, নতুন কোনো অধিকার সৃষ্টি না করে।
অন্যদিকে, ধারা ৫০ থেকে ধারা ৩৮-এ ঘোষণামূলক মামলা সম্পর্কিত কোনো বিধান নেই, তাই সঠিক উত্তর হচ্ছে ধারা ৪২।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
২৩.
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ৪২
  2. ধারা ৪৪
  3. ধারা ৫৪
  4. ধারা ৫৫
ব্যাখ্যা
⇒ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৪-এ রয়েছে।
- ধারা ৫৪ অনুযায়ী, আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন যখন আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো বাধ্যবাধকতা (চুক্তির কারণে বা অন্য কোনো কারণে) ভঙ্গ করার হুমকি থাকে এবং সেই বাধ্যবাধকতার প্রতিকার শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা সম্ভব নয় বা তা যথেষ্ট হবে না। এই নিষেধাজ্ঞা সাধারণত কোনো সম্পত্তির অধিকারের লঙ্ঘন প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োগ করা হয়, যেমন জমির দখল বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারার বিধান চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়। এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 54 Perpetual injunctions when granted: Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication.
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act.
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):-
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff;
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion;
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief;
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion;
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings.
Explanation - For the purpose of this section a trademark is property.
২৪.
'ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮' কবে কার্যকর হয়েছিল?
  1. ১৮৯৮ সালের ১লা জানুয়ারি
  2. ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই
  3. ১৮৯৮ সালের ২২শে মার্চ
  4. ১৮৯৮ সালের ১লা এপ্রিল
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই।
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898) ১৮৯৮ সালের ২২শে মার্চ প্রণীত হয়,
- তবে এটি কার্যকর (effective) হয় ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই থেকে।
- ফৌজদারি কার্যবিধি একটি আইনি পদ্ধতি যা ফৌজদারি মামলা প্রক্রিয়া এবং বিচার সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধি-বিধান নির্ধারণ করে, যেমন তদন্ত, বিচার, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, এবং রায় প্রদান ইত্যাদি।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ সালের আইন। ফৌজদারি কার্যবিধি হলো প্রধানত একটি পদ্ধতিগত আইন।
- ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারি কার্যবিধি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পাস করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৭২ এবং ১৮৮২ সালে ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কার করে, ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রেসিডেন্সি শহরে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়।
- ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ সালে পুনরায় সংস্কার করে কার্যকর করা হয়।
- এই আইনটি ১৮৯৮ সালের পহেলা জুলাই হতে কার্যকর করা হয়।
- অর্থাৎ বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধিটি প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়) ১৮৯৮ সালের ২২ মার্চ এবং কার্যকর হয় ১৮৯৮ সালের ১ জুলাই।
২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১(ক) অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট কখন আসামিকে অব্যাহতি দিতে পারেন?
  1. শুধুমাত্র চূড়ান্ত শুনানিতে
  2. অভিযোগ প্রমাণিত হলে
  3. চার্জ গঠনের পরে
  4. চার্জ গঠনের আগে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১ক বা Section 241A অনুযায়ী, যদি ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন বা তথ্য-প্রমাণে সমর্থিত নয়, তাহলে তিনি চার্জ গঠনের আগেই অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
- অতএব, চার্জ গঠনের আগেই যদি অভিযোগের ভিত্তি না থাকে, ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে অব্যাহতি দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার কার্যক্রম সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- ধারা ২৪১ক-ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আসামির অব্যাহতি [Discharge of Accused by Magistrate):
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে ২৪১ক ধারায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিবে। পুলিশ কেসের ক্ষেত্রে মামলার এফআইআর, চার্জশিট, পুলিশের নিকট দেয়া বা সংগ্রহকৃত তথ্য বা প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্ট, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দি, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং নালিশি কেসের ক্ষেত্রে মামলার অভিযোগ, বিচারিক অনুসন্ধান ও মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি কাগজপত্র আমলে নিবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-241A: When accused shall be discharged:
- When the accused appears or is brought before the Magistrate, and if the Magistrate, upon consideration of the record of the case and the documents submitted therewith and making such examination, if any, of the accused as the Magistrate thinks necessary and after giving the prosecution and the accused an opportunity of being heard, considers the charge to be groundless, he shall discharge the accused and record his reasons for so doing.

২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২২-এর অধীনে দখল পুনরুদ্ধারের আদেশ কখন দেওয়া যেতে পারে?
  1. যেকোনো সময়
  2. শুধু দণ্ডাদেশ প্রদানের সময়
  3. মামলা দায়েরের ৩ মাসের মধ্যে
  4. দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ১ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২২ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, শক্তি প্রদর্শন বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কাউকে কোনো স্থাবর সম্পত্তি থেকে বেদখল করে এবং সেই অপরাধে দণ্ডিত হয়, তবে আদালত চাইলে দণ্ডাদেশ প্রদানের সময় বা দণ্ডের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২২ ধারার বিধান:
(১) যখন কোন ব্যক্তি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, বা শক্তি প্রদর্শন বা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন সহযোগে কৃত অপরাধে দণ্ডিত হয়, এবং আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ বল প্রয়োগ বা শক্তি প্রদর্শন বা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দ্বারা কোন ব্যক্তিকে কোন স্থাবর সম্পত্তিতে বেদখ করা হয়েছে, তখন আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত ব্যক্তিকে দণ্ডদানের সময় বা এই দণ্ডের তারিখ হতে একমাসের মধ্যে যেকোনো সময় বেদখল হওয়া ব্যক্তিকে উক্ত সম্পত্তির দখল দেওয়ার আদেশ দিতে পারবেন।
(২) কোন ব্যক্তি দেওয়ানী মামলার দ্বারা এরূপ স্থাবর সম্পত্তিতে কোন অধিকার বা স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে উক্ত আদেশ দ্বারা তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
(৩) যেকোনো আপিল আদালত, দণ্ড অনুমোদন, রেফারেন্স বা রিভিশন আদালত এই উপধারার অধীন আদেশ দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 522. Power to restore possession of immovable property:
(1) Whenever a person is convicted of an offence attended by criminal force or show of force or by criminal intimidation and it appears to the Court that by such force or show of force or by criminal intimidation any person has been dispossessed of any immovable property, the Court may, if it thinks fit, when convicting such person or at any time within one month from the date of the conviction order the person dispossessed to be restored to the possession of the same.
(2) No such order shall prejudice any right or interest to or in such immovable property which any person may be able to establish in a civil suit.
(3) An order under this section may be made by any Court of appeal, confirmation, reference or revision.
২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯খ(১) অনুযায়ী, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করতে হলে আদালত প্রথমে কোন দুটি ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?
  1. ধারা ৩৪ ও ৩৫
  2. ধারা ৮৭ ও ৮৮
  3. ধারা ১৬১ ও ১৬২
  4. ধারা ৪২০ ও ৩৭৯
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯খ(১) অনুযায়ী, আসামি যদি পলাতক থাকে বা আত্মগোপনে থাকে এবং তাকে গ্রেফতারের আশু সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে আদালত তার অনুপস্থিতিতে বিচার করতে পারেন। তবে এর আগে আদালতকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধারা ৮৭ ও ৮৮ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ।
→ ধারা ৮৭: আসামি পলাতক থাকলে, আদালত তার বিরুদ্ধে জারি-নামা (Proclamation) জারি করতে পারে, যাতে তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
→ ধারা ৮৮: জারি-নামার পর আদালত আসামির সম্পত্তি ক্রোক (Attachment) করার আদেশ দিতে পারেন, যদি সে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হয়।
→ এই দুটি ধারা কার্যকর করার পর যদি আদালত বিশ্বাস করেন যে আসামিকে ধরা সম্ভব নয়, তখন তিনি দুইটি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেবেন। নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু করা যাবে।
অতএব, ধারা ৩৩৯খ(১) অনুযায়ী আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আগে ধারা ৮৭ ও ৮৮ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামিকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয় সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নাই, সেক্ষেত্রে নালিশি অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।
(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.
(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
২৮.
"অভিযোগ" (Complaint) বলতে কী বোঝায়?
  1. পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট
  2. আদালতে দায়েরকৃত মামলার চার্জশিট
  3. সরকারি উকিলের দাখিলকৃত প্রতিবেদন
  4. আদালতে করা মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) আদালতে করা মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪(১)(h) অনুযায়ী:
"অভিযোগ (Complaint)" বলতে বোঝায় এমন একটি মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ, যা কোনো ব্যক্তি আদালতের (ম্যাজিস্ট্রেটের) কাছে করে এই উদ্দেশ্যে যে, আদালত যেন সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেয়।
- তবে এটি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, "অভিযোগ" বলতে পুলিশের রিপোর্ট বোঝানো হয় না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-4 (1)(h) "complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police-officer

২৯.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের বিধান রয়েছে?
  1. ৫৩ ধারা
  2. ৫৪ ধারা
  3. ৫৫ ধারা
  4. ৫৬ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ৫৪ ধারা অনুযায়ী, ৯টি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়াই এবং পরোয়ানা ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
- এই ধারা মূলত "arrest without warrant" বা “বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার” সংক্রান্ত বিধান প্রদান করে।
⇒ পুলিশ ৯ প্রকার ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে:-
১. কোন আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত আছে মর্মে সন্দেহ হলে (Cognizable Offence)
২. ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম পেলে (Implement of House breaking )
৩. অপরাধী ঘোষিত হলে (Proclaimed offender)
৪. চোরাই মাল পাওয়া গেলে (Stolen property )
৫. পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দিলে, আইনসঙ্গত হেফাজত থেকে পলায়নের চেষ্টা বা পলায়ন করলে (Obstructs)
৬. সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়ন করলে (Deserter from Armed forces)
৭. বাংলাদেশের বাইরে বাংলাদেশের আইনে আমলযোগ্য অপরাধ করলে (Out of BD act committed)
৮. মুক্তিপ্রাপ্ত আসামি ৫৬৫(৩) ধারা ভঙ্গ করলে (Released Convict )
৯. যাকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ রয়েছে (Requisition of arrest) ।
------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 54.When police may arrest without warrant:
(1) Any police-officer may, without an order from a Magistrate and without a warrant, arrest-
firstly , any person who has been concerned in any cognizable offence or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received, or a reasonable suspicion exists of his having been so concerned;
secondly , any person having in his possession without lawful excuse, the burden of proving which excuse shall lie on such person, any implement of house breaking;
thirdly , any person who has been proclaimed as an offender either under this Code or by order of the Government;
fourthly, any person in whose possession anything is found which may reasonably be suspected to be stolen property and who may reasonably be suspected of having committed an offence with reference to such thing;
fifthly, any person who obstructs a police-officer while in the execution of his duty, or who has escaped, or attempts to escape, from lawful custody;
sixthly, any person reasonably suspected of being a deserter from the armed forces of Bangladesh;
seventhly , any person who has been concerned in, or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received or a reasonable suspicion exists of his having been concerned in, any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would have been punishable as an offence, and for which he is, under any law relating to extradition or under the Fugitive Offenders Act, 1881, or otherwise, liable to be apprehended or detained in custody in Bangladesh;
eighthly , any released convict committing a breach of any rule made under section 565, sub-section (3);
ninthly, any person for whose arrest a requisition has been received from another police-officer, provided that the requisition specifies the person to be arrested and the offence or other cause for which the arrest is to be made and it appears therefrom that the person might lawfully be arrested without a warrant by the officer who issued the requisition.
৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় দোভাষী সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ৫৪৪ ধারা
  2. ৫৪৩ ধারা
  3. ৫৪০ক ধারা
  4. ৫৪১ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪৩-এ দোভাষী (Interpreter) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন কোনো ক্রিমিনাল কোর্টে সাক্ষ্য বা বক্তব্য অনুবাদের জন্য দোভাষীর প্রয়োজন হয়, তখন দোভাষী বাধ্য থাকবেন:
- উক্ত সাক্ষ্য বা বিবৃতির সত্য ও সঠিক অনুবাদ আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে, এবং কোনোভাবেই বক্তব্য বিকৃত বা পরিবর্তন না করতে।
- এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, বিশেষ করে যখন কোনো সাক্ষী বা অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের ভাষা বুঝতে অক্ষম হন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৩ অনুযায়ী, যখন কোনো ক্রিমিনাল কোর্টে দোভাষী (Interpreter) প্রয়োজন হয়, তার প্রধান দায়িত্ব হল সঠিকভাবে সাক্ষ্য বা বক্তব্যের অনুবাদ প্রদান করা, এবং এই অনুবাদটি সত্যানুগ হতে হবে। দোভাষীকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তিনি যে কোনো সাক্ষ্য বা বিবৃতি সঠিকভাবে, এবং কোনোরূপ বিকৃতি বা পরিবর্তন ছাড়াই অনুবাদ করবেন।
------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 543. Interpreter to be bound to interpret truthfully:
 When the services of an interpreter are required by any Criminal Court for the interpretation of any evidence or statement, he shall be bound to state the true interpretation of such evidence or statement.
৩১.
প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারেন?
  1. দশ বছর
  2. পাঁচ বছর
  3. তিন বছর
  4. দুই বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩২ অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট (Metropolitan Magistrate বা Magistrate of the First Class) সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারেন। এছাড়াও তারা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং চাবুকের দণ্ড দিতে পারেন (যদি আইন অনুমোদন করে)।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২ ধারার বিধান: (১) ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্নবর্ণিত আদালতসমূহ নিম্নলিখিত দণ্ড দিতে পারবেন যথা:
(ক) মেট্রোপলিটন এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ পাঁচ বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, দশ হাজার টাকা অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত।
(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ তিন বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত৷
(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দুই বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড দুই হাজার আদালত টাকা অর্থদণ্ড।
২) যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইনের দ্বারা যে-সব দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা অর্জন করেছেন, সেসব দণ্ডের মধ্যে একটির সহিত আরেকটির যুক্ত করে যেকোনো আইনসংগত দণ্ড প্রদান করতে পারেন।
------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 32.Sentences which Magistrates may pass:
(1) The Courts of Magistrates may pass the following sentences namely:-
(a) Courts of Metropolitan Magistrates and of Magistrates of the first class: Imprisonment for a term not exceeding five years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding ten thousand taka; Whipping.
(b) Courts of Magistrates of the second class: Imprisonment for a term not exceeding three years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding five thousand taka;
(c) Courts of Magistrates of the third class: Imprisonment for a term not exceeding two year; Fine not exceeding two thousand taka.
(2) The Court of any Magistrate may pass any lawful sentence, combining any of the sentences which it is authorized by law to pass.
৩২.
বাংলাদেশের ফৌজদারি আদালত প্রধানত কত শ্রেণির?
  1. ৫ শ্রেণির
  2. ৪ শ্রেণির
  3. ৩ শ্রেণির
  4. ২ শ্রেণির
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে (Criminal Procedure Code, 1898) ধারা ৬(১) অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফৌজদারি আদালত প্রধানত দুইটি শ্রেণির: ১) দায়রা আদালত (Courts of Sessions) ২) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Courts of Magistrates)

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬ ধারার ফৌজদারি আদালতের শ্রেণীবিভাগ:
(১) সুপ্রিম কোর্ট এবং উক্ত কোড ভিন্ন সাময়িকভাবে বলবৎ অপর কোন আইনবলে প্রতিষ্ঠিত আদালতসমূহ ব্যতীত, বাংলাদেশে দুই প্রকারের ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে; যথা:
(i) দায়রা আদালত; এবং
(ii) ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত।
(২) দুই প্রকারের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে; যথা:
(i) বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট; এবং
(ii) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
(৩) চার প্রকারের বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন; যথা:
(i) মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর এলাকায় এবং মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট, অন্যান্য এলাকায়;
(ii) মহানগর এলাকায় স্থিত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মর্মে আখ্যায়িত হবে;
(iii) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট:
(iv) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।
ব্যাখ্যা: এই উপধারার উদ্দেশ্যে, চিফ মোট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" এবং "চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট" শব্দ দুটিকে যথাক্রমে "অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" এবং "অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট" বুঝাবে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section: 6: Classes of Criminal Courts:
1) Besides the Supreme Court and the Courts constituted under any law for the time being in force, other than this Code, there shall be two classes of Criminal Courts in Bangladesh, namely:-
(a) Courts of Sessions ; and
(b) Courts of Magistrates.
(2) There shall be two classes of Magistrate, namely: -
(a) Judicial Magistrate; and
(b) Executive Magistrate.
(3) There shall be four classes of judicial Magistrate, namely: -
(a) Chief Metropolitan Magistrate in Metropolitan Area and Chief judicial Magistrate to other areas;
(b) Magistrate of the first class, who shall in Metropolitan area, be known as Metropolitan Magistrate;
(c) Magistrate of the second class; and
(d) Magistrate of the third class.
Explanation: For the purpose of this sub-section, the word "Chief Metropolitan Magistrate" and "Chief judicial Magistrate" shall include "Additional Chief Metropolitan Magistrate" and "Additional Chief judicial Magistrate" respectively.
৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৯(৩) অনুযায়ী, যদি কোনো অপরাধ সংঘটনের যথেষ্ট কারণ না থাকে, তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কী হবে?
  1. তাকে জরিমানা করা হবে
  2. তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে
  3. তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হবে
  4. তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৯(৩) অনুযায়ী বলা হয়েছে:
- "If there is no sufficient reason to believe that he has committed any offence, he shall be at once released."
- অর্থাৎ, যদি কোনো বেসরকারি ব্যক্তি কাউকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে তদন্তে দেখা যায় যে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ সংঘটনের যথেষ্ট কারণ নেই, তবে পুলিশ সেই ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে বাধ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার বিধান সাধারণ নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতার এবং এই ধরনের গ্রেফতারের পরবর্তী কার্যপ্রণালি:
(১) যে কোন সাধারণ নাগরিক তাঁর মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনকারীকে অথবা অপরাধী মর্মে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে তাকে নিকটস্থ থানায় হেফাজতে নিয়ে যাবেন বা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।
(২) এই ধরনের ব্যক্তি ৫৪ ধারার বিধানসাপেক্ষ বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে একজন পুলিশ অফিসার পুনরায় তাকে গ্রেফতার করবেন।
(৩) সে আমল-অযোগ্য অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে এবং পুলিশ অফিসারের দাবিকে সে নিজের নাম ও বাসস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে অথবা যদি এরূপ নাম ও বাসস্থান দেয় যা উক্ত অফিসারের মিথ্যা রূপে বিশ্বাস করবার কারণ ঘটে, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার বিধান সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে কোন অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করবার মত পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে তাকে সাথে সাথে ছেড়ে দিতে হবে।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section-59: Arrest by private persons and procedure on such arrest:
(1) Any private person may arrest any person who in his view commits a non-bailable and cognizable offence, or any proclaimed offender, and without unnecessary delay, shall make over any person so arrested to a police-officer, or, in the absence of a police-officer, take such person or cause him to be taken in custody to the nearest police-station.
(2) If there is reason to believe that such person comes under the provisions of section 54, a police-officer shall re-arrest him.
(3) If there is reason to believe that he has committed a non-cognizable offence, and he refuses on the demand of a police-officer to give his name and residence, or gives a name or residence which such officer has reason to believe to be false, he shall be dealt with under the provisions of section 57. If there is no sufficient reason to believe that he has committed any offence, he shall be at once released.
৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী ফৌজদারি আদালতের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. শুধুমাত্র মামলার পক্ষগণের জন্য উন্মুক্ত
  2. শুধুমাত্র আইনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত
  3. উন্মুক্ত আদালত হিসেবে গণ্য হয়
  4. গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী: “কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে স্থান সংকুলান হয়, সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার থাকবে।”
- অর্থাৎ সাধারণত ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম সবার জন্য উন্মুক্ত। এতে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও জনবিশ্বাস বজায় থাকে।
 তবে ব্যতিক্রম আছে: বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বসাধারণ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন, তাহলে তিনি আদেশ দিয়ে আদালত কক্ষ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে পারেন।
→ সুতরাং, ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম সাধারণভাবে "উন্মুক্ত আদালত" হিসেবে পরিচালিত হয় – এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, যতক্ষণ না বিচারক ব্যতিক্রমী আদেশ দেন।
- তাই সঠিক উত্তর: গ) উন্মুক্ত আদালত হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২: আদালত উন্মুক্ত থাকবে-
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ
শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।
------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 352: Courts to be open-
The place in which any Criminal Court is held for the purpose of inquiring into or trying any offence shall be deemed an open Court, to which the public generally may have access, so far as the same can conveniently contain them:
Provided that the presiding Judge or Magistrate may, if he thinks fit, order at any stage of any inquiry into, or trial of, any particular case, that the public generally, or any particular person, shall not have access to, or be or remain in, the room or building used by the Court.

৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৪৫-এর অধীনে জরুরি পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কী করতে পারেন?
  1. সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে পারেন
  2. বিরোধের বিষয় জব্দ করতে পারেন
  3. মামলাটি হাইকোর্টে পাঠাতে পারেন
  4. সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণ করতে পারেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) বিরোধের বিষয় জব্দ করতে পারেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৪৫ এমন পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য যেখানে জমি, জলাশয় বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ফলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দেয়।
- এ ক্ষেত্রে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, বিরোধ থেকে জনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটতে পারে, তাহলে তিনি তদন্ত শুরু করতে পারেন এবং উভয় পক্ষকে দখলের দাবিসমূহ উপস্থাপন করতে বলেন।

Proviso to Section 145(4)):
"Provided also, that if the Magistrate considers the case one of emergency, he may at any time attach the subject of dispute, pending his decision under this section."
- অর্থাৎ, জরুরি পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধপূর্ণ জমি বা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ (attach) করার আদেশ দিতে পারেন, যাতে পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।
৩৬.
১৫ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত অপরাধ কোন আদালত বিচার করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগ
  2. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. 'খ' বা 'গ'
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৯খ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আদালতে হাজির হওয়ার সময় ১৫ বছরের কম বয়সী হন এবং তার অপরাধটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে তার বিচার করতে পারেন:
১) চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM)
২) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM)
৩) অথবা সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ম্যাজিস্ট্রেট
- তাই সঠিক উত্তর ঘ) 'খ' বা 'গ' — কারণ CJM ও CMM উভয়েই এ ক্ষেত্রে বিচার করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৯খ অনুসারে, ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ (যদি তা মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়) চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচারযোগ্য।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৯খ (Section 29B, CrPC) অনুযায়ী বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি, যিনি আদালতে হাজির হওয়ার সময় ১৫ বছরের কম বয়সী, এবং তিনি যদি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ ব্যতীত অন্য কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তার বিচার করতে পারেন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM), চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM), অথবা সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি শিশু অপরাধ সংক্রান্ত আইনের অধীনে বিচার করার ক্ষমতা রাখেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 29B. Jurisdiction in the case of juveniles:
Any offence, other than one punishable with death or transportation for life, committed by any person who at the date when he appears or is brought before the Court is under the age of fifteen years, may be tried by Chief Judicial Magistrate] or the Chief Metropolitan Magistrate, or by any Magistrate specially empowered by the Government to exercise the powers conferred by or under any law] providing for the custody, trial or punishment of youthful offenders, by any Magistrate empowered by or under such law to exercise all or any of the powers conferred thereby.
৩৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা কী সম্পর্কে?
  1. গ্রেফতারি পরোয়ানার ক্ষমতা
  2. জামিন মঞ্জুর করার ক্ষমতা
  3. বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত করার ক্ষমতা
  4. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ হলো: "Power to direct admission to bail or reduction of bail", অর্থাৎ "জামিন মঞ্জুর করার বা জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা"।
⇒ এই ধারায় বলা হয়েছে: 
- জামিনের অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে, এবং সেটি অত্যধিক হওয়া উচিত নয়।
- হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন, সেটি সাজা হওয়ার পর আপিল থাকুক বা না থাকুক।
- তারা চাইলে পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত জামিনের পরিমাণও হ্রাস করার আদেশ দিতে পারেন।
সুতরাং, এই ধারা সরাসরি জামিন মঞ্জুর করার এবং জামিনের শর্ত হ্রাস করার ক্ষমতা সম্পর্কিত।
অন্য কোন বিষয় যেমন গ্রেফতারি পরোয়ানা, বিচার স্থগিত , কিংবা অব্যাহতি- এই ধারা তার সাথে সম্পর্কিত নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান: জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা:
- (১) এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বন্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপিল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail:
- The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.

৩৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারা কোন আদালতের সহজাত ক্ষমতা সংরক্ষণ করে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. জেলা ও দায়রা জজ আদালত
  3. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. উল্লিখিত সকল আদালতের
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারা বিশেষভাবে হাইকোর্ট বিভাগ-এর সহজাত (inherent) ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। এই ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, আদালতের আদেশ কার্যকর করা এবং আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করার জন্য প্রযোজনীয় আদেশ দিতে পারে। এটি অন্যান্য আদালতের জন্য প্রযোজ্য নয়।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-561A: Saving of inherent power of High Court Division:
-Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮ ধারা অনুসারে, সমন কীভাবে প্রদান করতে হবে?
  1. লিখিতভাবে এবং এক কপিতে
  2. লিখিতভাবে এবং দুই কপিতে
  3. লিখিতভাবে এবং তিন কপিতে
  4. মৌখিকভাবে এবং এক কপিতে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৮(১) এ বলা হয়েছে: “কোন আদালত কর্তৃক এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে প্রদত্ত প্রত্যেকটি সমন লিখিতভাবে ও দুই কপিতে দিতে হবে এবং উক্ত আদালতের বিচারক বা সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রণীত বিধি অনুযায়ী নির্দেশিত অন্য কোন অফিসার দ্বারা স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরকৃত হতে হবে।”
- অর্থাৎ, সমন একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ যেটি, লিখিতভাবে হতে হবে, দুই কপিতে প্রস্তুত করতে হবে (একটি কপি রেকর্ডে, অপরটি প্রাপকের জন্য), এবং সেটি অবশ্যই বিচারক বা অনুমোদিত কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সীল থাকতে হবে। মৌখিকভাবে বা এক কপিতে সমন প্রদান আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।
→ সুতরাং, ধারা ৬৮ অনুযায়ী, সমনের বৈধতা নিশ্চিত করতে হলে তা “লিখিত ও দুই কপিতে” হতে হবে, তাই সঠিক উত্তর "খ"।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮ ধারার বিধান সমনের ফরম:
(১) কোন আদালত কর্তৃক এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে প্রদত্ত প্রত্যেকটি সমন লিখিতভাবে ও দুই কপিতে দিতে হবে এবং উক্ত আদালতের বিচারক বা সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রণীত বিধি কর্তৃক নির্দেশিত অন্য কোন অফিসার দ্বারা স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরকৃত হবে।
(২) সমন জারিকারক : এরূপ সমন কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক অথবা এতদ্দুদ্দেশ্যে সরকার দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে সমন প্রদানকারী আদালতের কোন অফিসার কর্তৃক অথবা কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক জারী হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898-Section- 68. Form of summons:
1) Every summons issued by a Court under this Code shall be in writing in duplicate, signed and sealed by the presiding officer of such Court, or by such other officer as the Supreme Court may, from time to time, by rule, direct.
Summons by whom served:
2) Such summons shall be served by a police-officer, or subject to such rules as the Government may prescribe in this behalf, by an officer of the Court issuing it or other public servant.

৪০.
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কারো জামা টেনে ধরে, তাহলে তা দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে?
  1. ধারা ৩৪৭
  2. ধারা ৩৪৮
  3. ধারা ৩৪৯
  4. ধারা ৩৫২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪৯ অনুযায়ী, যদি কেউ অন্য কোনো ব্যক্তির জামা টেনে ধরে, তাহলে সে ব্যক্তি বলপ্রয়োগ করেছে বলে গণ্য হবে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ অন্য কারো গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা কোনো বস্তুতে এমন গতি সৃষ্টি করে যা অপর ব্যক্তির দেহের অংশের সাথে সংস্পর্শে আসে, তখন এটি বলপ্রয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860 -Section 349: Force:
- A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling:
Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described:
Firstly. By his own bodily power.
Secondly. By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person.
Thirdly. By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.
৪১.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ষষ্ঠ অধ্যায় কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মানহানি
  2. রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ
  3. বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ
  4. সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ষষ্ঠ অধ্যায় (Chapter VI) এর শিরোনাম হলো:
- "Offences Against the State" অর্থাৎ রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ।
- এই অধ্যায় ধারা ১২১ থেকে ১৩০ পর্যন্ত বিস্তৃত অপরাধগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।
- ষষ্ঠ অধ্যায় মূলত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রদ্রোহ, সরকারবিরোধী সহিংসতা ইত্যাদি অপরাধের বিচার ও শাস্তির বিধান দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও বিষয়বস্তু:
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা (ধারা ৬-৫২-ক) – অপরাধ সংজ্ঞায়নের মূল শব্দাবলি।
তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি (ধারা ৫৩-৭৫) – মৃত্যুদণ্ড, কারাদণ্ড, জরিমানা প্রভৃতি।
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম (ধারা ৭৬-১০৬) – আত্মরক্ষা, ভুল ইত্যাদি কারণে দায়মুক্তি।
পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (ধারা ১০৭-১২০)।
পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা ১২০-ক থেকে ১২০-খ)।
ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ (ধারা ১২১-১৩০) – রাষ্ট্রদ্রোহ, যুদ্ধঘোষণা ইত্যাদি।
নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তাদের অপরাধ (ধারা ১৬১-১৭১) ।
নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ১৭১-ক থেকে ১৭১-ঝ)।
ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ২৯৯-৩৭৭) – হত্যা, আহত করা, ধর্ষণ ইত্যাদি।
সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ৩৭৮-৪৬২খ) – চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা।
বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ৪৯৩-৪৯৮) – বহুবিবাহ, বৈবাহিক প্রতারণা।
একবিংশ অধ্যায়: মানহানি (ধারা ৪৯৯-৫০২) – মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।
৪২.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর কোন ধারায় 'মুদ্রা'র সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২৫০
  2. ধারা ২৪০
  3. ধারা ২৩০
  4. ধারা ২২০
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারার বিধান: 'মুদ্রার' সংজ্ঞা:- বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।
- বাংলাদেশি মুদ্রা:- বাংলাদেশি মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে; এবং অর্থরূপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশি মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) কড়ি (কাউরি) মুদ্রা নয়।
(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো, যদিও তা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়, মুদ্রা নয়।
(গ) মেডেল মুদ্রা নয়, কারণ সেগুলো অর্থরূপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় না।
(ঘ) কোম্পানির টাকা নামে পরিচিত মুদ্রা রানির মুদ্রা।
(ঙ) "ফরুখাবাদ" টাকা, যা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হতো, তা বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবেই গণ্য হবে, যদিও তা এখন আর ব্যবহৃত হয় না।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 230. “Coin” defined Bangladesh coin:
- Coin is metal used for the time being as money, and stamped and issued by the authority of some State or Sovereign Power in order to be so used.
- Bangladesh coin is metal stamped and issued by the authority of the Government in order to be used as money; and metal which has been so stamped and issued shall continue to be Bangladesh coin for the purposes of this Chapter, notwithstanding that it may have ceased to be used as money.

Illustrations:
(a) Cowries are not coin.
(b) Lumps of unstamped copper, though used as money, are not coin.
(c) Medals are not coin, inasmuch as they are not intended to be used as money.
(d) The coin denominated as the Company's taka is the Queen's coin.
(e) The "Farukhabad" taka, which was formerly used as money under the authority of the Government of India, is Bangladesh coin although it is no longer so used.

৪৩.
দণ্ডবিধির ধারা ৩২০ অনুসারে, গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে আহত ব্যক্তির কমপক্ষে কতদিন প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করা লাগবে?
  1. ১০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ২০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩২০–এ গুরুতর আঘাতের সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি এমন একটি আঘাতে আহত হন “যাতে আহত ব্যক্তি ২০ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করেন অথবা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হন, তাহলে তা ‘গুরুতর আঘাত’ হিসেবে গণ্য হবে।”
অর্থাৎ, কমপক্ষে ২০ দিন যদি কেউ তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করেন, সেটি গুরুতর আঘাত।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংসকরণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 320: Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":-
Firstly.-Emasculation.
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye.
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear.
Fourthly.-Privation of any member or joint.
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint.
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face.
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth.
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.

৪৪.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় দাঙ্গা দমনের সময় সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদানের শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১৫৪
  2. ধারা ১৫২
  3. ধারা ১৫১
  4. ধারা ১৪৯
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৫২ অনুযায়ী, যদি কেউ দাঙ্গা বা অবৈধ সমাবেশ দমন করার সময় কোনো সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ করে, হুমকি দেয় বা বাধা দেয়, তাহলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারার বিধান: দাঙ্গা ইত্যাদি দমনকালে সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদান করা:- কোন সরকারি কর্মচারী অনুরূপ সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্তব্য সম্পাদন উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অথবা দাঙ্গা দমন করার প্রচেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে আক্রমণ করে অথবা আক্রমণ করার হুমকি প্রদর্শন করে, অথবা বাধাদান করে বা বাধাদান করার চেষ্টা করে, অথবা অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা করার হুমকি প্রদর্শন করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-152- Assaulting or obstructing public servant when suppressing riot, etc.
- Whoever assaults or threatens to assault, or obstructs or attempts to obstruct, any public servant in the discharge of his duty as such public servant, in endeavouring to disperse an unlawful assembly, or to suppress a riot or affray, or uses, or threatens, or attempts to use criminal force to such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years or with fine, or with both.
৪৫.
দণ্ডবিধির ধারা ২৭৫ অনুযায়ী ভেজাল ঔষধ বিক্রির সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২৭৫ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি জেনেশুনে ভেজালযুক্ত ঔষধ: বিক্রি করে, বিক্রির জন্য প্রদর্শন করে, ডিসপেনসারি থেকে অশোধিত/ভেজালমুক্ত বলে ইস্যু করে, অজ্ঞাতসারে কোনো ব্যক্তিকে ব্যবহার করতে দেয়, তাহলে তার শাস্তি হবে: সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা  ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি। 

⇒The Penal Code, 1860 – Section 275. Sale of adulterated drugs:
Whoever, knowing any drug or medical preparation to have been adulterated in such a manner as to lessen its efficacy, to change its operation, or to render it noxious, sells the same, or offers or exposes it for sale, or issues it from any dispensary for medicinal purposes as unadulterated, or causes it to be used for medicinal purposes by any person not knowing of the adulteration, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
৪৬.
দণ্ডবিধির ধারা ১০৭ অনুযায়ী, প্ররোচনা (abetment) মোট কতটি উপায়ে সংঘটিত হতে পারে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০৭ অনুযায়ী "Abetment" বা প্ররোচনা/সহায়তা মূলত ৩টি উপায়ে হয়ে থাকে:
১) প্ররোচনা (Instigation),
২) ষড়যন্ত্র (Conspiracy),
৩) ইচ্ছাকৃত সহায়তা (Intentional aid).

⇒ যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন জোগান কিংবা সমর্থন করাকে আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়।
-দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে।
(i) কাউকে প্ররোচিত করে (instigation)
(ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (engagement)
(iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding)
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 107: Abetment of a thing: A person abets the doing of a thing, who
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.
Explanation-1: A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
৪৭.
দণ্ডবিধির ধারা ৪১৪-এর অধীনে সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ কত?
  1. ছয় মাস
  2. এক বছর
  3. তিন বছর
  4. সাত বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪১৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে (voluntarily), চুরিকৃত সম্পত্তি লুকানো, অপসারণ বা বিক্রয়ে সহায়তা করে, এ সময় জানে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে সম্পত্তিটি চুরিকৃত, তাহলে তার শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড (সাধারণ বা কঠোর) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি।

⇒ The Penal Code, 1860 – Section 414. Assisting in concealment of stolen property:
- Whoever voluntarily assists in concealing or disposing of or making away with property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
৪৮.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী সম্পদ আদায় বা অবৈধ কাজ করানোর জন্য ইচ্ছাকৃত গুরুতর আঘাত দেওয়ার শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে?
  1. ধারা ৩২৫
  2. ধারা ৩২৭
  3. ধারা ৩২৯
  4. ধারা ৩৩১
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩২৯ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করে এবং এর উদ্দেশ্য হয় ভুক্তভোগী বা সংশ্লিষ্ট কারো কাছ থেকে সম্পত্তি বা মূল্যবান দলিল আদায় করা, অথবা কাউকে অবৈধ কোনো কাজ করতে বাধ্য করা, সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, বা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো ধরনের কারাদণ্ড, এবং জরিমানায় দণ্ডিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩২৯ অনুযায়ী: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করে, উদ্দেশ্য যদি হয় (১) ভুক্তভোগী অথবা ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে (২) সম্পদ বা মূল্যবান দলিল আদায় করা,(৩) অথবা তাকে অবৈধ কোনো কাজ করতে বাধ্য করা, তাহলে সেই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদি যে-কোনো ধরণের কারাদণ্ড, এবং জরিমানায় দণ্ডিত করা যেতে পারে।”
এই ধারায় গুরুতর শারীরিক আঘাত (grievous hurt) ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্য একসাথে সংঘটিত হলে আইন কঠোর শাস্তির বিধান দিয়েছে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 329. Voluntarily causing grievous hurt to extort property, or to constrain to an illegal act
- Whoever voluntarily causes grievous hurt for the purpose of extorting from the sufferer or from any person interested in the sufferer any property or valuable security, or of constraining the sufferer or any person interested in such sufferer to do anything that is illegal or which may facilitate the commission of an offence, shall be punished with imprisonment for life, or imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
৪৯.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৮ কোন অপরাধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. চুরি
  2. রাষ্ট্রদ্রোহ
  3. মানহানি
  4. ডাকাতি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লিখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 378: Theft:
- Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.- A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.- A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.- A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.- A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.- The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.
৫০.
দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী সংঘটিত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি নারীর শালীনতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। এছাড়া জরিমানা বা উভয় শাস্তিও প্রযোজ্য হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি: কোনো নারীর উপর আক্রমণ (assault) বা অপরাধমূলক বল (criminal force) প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বা জ্ঞানসহকারে যে এতে তার শালীনতায় আঘাত (outrage modesty) পড়বে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি একসাথে প্রযোজ্য।
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 354. Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty:
Whoever assaults or uses criminal force to any woman, intending to outrage or knowing it to be likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৫১.
দণ্ডবিধির ৫০৭ ধারা অনুসারে, কোন কাজ এই ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. প্রকাশ্যে কাউকে অপরাধমূলক হুমকি দেওয়া
  2. অজ্ঞাত পরিচয়ে অপরাধমূলক হুমকি দেওয়া
  3. বন্ধুকে মজা করে হুমকি দেওয়া
  4. আইনি প্রক্রিয়ায় হুমকি দেওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৫০৭ ধারা অনুসারে, অজ্ঞাত পরিচয়ে বা নাম-ঠিকানা গোপন করে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করা এই ধারার অধীনে অপরাধ। প্রকাশ্য হুমকি বা মজার ছলে হুমকি এই ধারার আওতায় পড়ে না।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭- অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন:
যে ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে, বা যে ব্যক্তি হুমকি প্রদানের জন্য যার নাম বা অবস্থান গোপন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছরের পর্যন্ত যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া, এই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত শাস্তিও তাকে প্রদান করা হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section - 507: Criminal intimidation by an anonymous communication:
Whoever commits the offence of criminal intimidation by an anonymous communication, or having taken precaution to conceal the name or abode of the person from whom the threat comes, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, in addition to the punishment provided for the offence by the last preceding section.

৫২.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩১০ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. চুরির সংজ্ঞা
  2. ঠগের সংজ্ঞা
  3. শাস্তির প্রকারভেদ
  4. মানহানি সংজ্ঞা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১০ ধারায় ঠগের সংজ্ঞা (Thug) রয়েছে। খুন অথবা খুন সহকারে দস্যুতা সংঘটন অথবা শিশু অপহরণ করার উদ্দেশ্যে দুষ্টু মন নিয়ে মেলামেশা করাকে ঠগ (Thug) বলে। অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে কাউকে খুন বা শিশু অপহরন করে দস্যুতার উদ্দেশ্যে মেলামেশা করাকে ঠগ বলা হয়। সমস্ত ঠগই দস্যু এবং ডাকাত কিন্তু সমস্ত দস্যু বা ডাকাত ঠগ নয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৩১১ ধারার বিধান ঠগের শাস্তি:-কোন ব্যক্তি যদি ঠগ হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------
⇒ The Penal Code, 1860: Section 310: Thug:
-Whoever, at any time after the passing of this Act, shall have been habitually associated with any other or others for the purpose of committing robbery or child-stealing by means of or accompanied with murder, is a thug.
⇒ The Penal Code, 1860: Section 311:Punishment:
- Whoever is a thug, shall be punished with imprisonment for life, and shall also be liable to fine.
৫৩.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী 'খুন'-এর সংজ্ঞা ও শর্তাবলি দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২৯৯
  2. ধারা ৩০০
  3. ধারা ৩০২
  4. ধারা ৩০৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী ধারা ৩০০ (Section 300) তে "Murder" বা 'খুন'-এর সংজ্ঞা ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, "Culpable Homicide" কখন Murder হিসেবে পরিগণিত হবে এবং কখন ব্যতিক্রম হিসাবে Murder হবে না।
- ধারা ৩০০-তে মোট চারটি মূল অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো থাকলে খুনের অপরাধ সংঘটিত হয়, যেমন:
১) মৃত্যুর ইচ্ছা থাকলে,
২) এমন আঘাত দিলে যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে অপরাধী জানে,
৩) এমন আঘাত যা সাধারণভাবে মৃত্যু ঘটানোর পক্ষে যথেষ্ট,
৪) এমন আশু বিপজ্জনক কাজ করা যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানা ছিল।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 300: Murder:
-Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or-
Secondly.-If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or –
Thirdly.-If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or –
Fourthly.-f the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid.

Illustration:
(a) A shoots Z with the intention of killing him. Z dies in consequence. A commits murder.

৫৪.
দণ্ডবিধির ধারা ৫১০ অনুযায়ী নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির শাস্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ কত?
  1. ১০ টাকা
  2. ৫০ টাকা
  3. ১০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫১০ ধারায় নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যে অসদাচরণ করে, তাহলে তাকে চব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অধিকতম ১০ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৫১০ ধারা অনুযায়ী, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি দ্বারা প্রকাশ্যে অসদাচরণ:
কোন ব্যক্তি যদি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোন প্রকাশ্য স্থানে গমন করে, বা যে স্থানে প্রবেশ করা তার পক্ষে অনধিকার প্রবেশ, সে স্থানে প্রবেশ করে এবং সে স্থানে এমন আচরণ করে, যার ফলে কারো বিরক্তি ঘটে, তবে সে ব্যক্তি চব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা দশ টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 510- Misconduct in public by a drunken person:
Whoever, in a state of intoxication appears in any public place, or in any place which it is a trespass in him to enter, and there conducts himself in such a manner as to cause annoyance to any person, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to twenty-four hours, or with fine which may extend to ten taka, or with both.
৫৫.
দণ্ডবিধির ধারা ১৪৩ অনুযায়ী বেআইনি সমাবেশের সদস্য হওয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. এক বছর কারাদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. তিন বছর কারাদণ্ড
  4. ছয় মাস কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒  দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি বেআইনি সমাবেশের সদস্য হয়, তাকে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম), অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
⇒ দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারার বিধান বেআইনি সমাবেশের সদস্য হওয়ার শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি বেআইনি সমাবেশে যোগদান করে, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।
--------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-143: Punishment: Whoever is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine, or with both.
৫৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক অনুযায়ী, নিচের কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য দিতে পারেন?
  1. ধর্ম সম্পর্কে
  2. আইন সম্পর্কে
  3. রাজনীতি সম্পর্কে
  4. ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৪৫ক (Section 45A) অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি শুধুমাত্র শারীরিক (physical) বা ফরেনসিক (forensic) প্রমাণ সম্পর্কিত বিষয়ে আদালতের অনুমতিক্রমে সাক্ষ্য দিতে পারেন।
এই ধারা স্পষ্টভাবে বলে: “Opinion of experts on physical or forensic evidence…”
অর্থাৎ, বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য বৈজ্ঞানিক বা প্রযুক্তিগত বিষয়ে সীমাবদ্ধ, যেমন: ডিএনএ বিশ্লেষণ, আঙুলের ছাপ (fingerprint), রক্তের নমুনা পরীক্ষা, অস্ত্র পরীক্ষার ফলাফল ইত্যাদি।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক: বিশেষজ্ঞের মতামত শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে:
(১) আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যতক্ষণ না তার প্রতিবেদনটি (উপ-ধারা ২ অনুযায়ী) সমস্ত পক্ষকে প্রদান করা হয়।
(২) বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদনটি আদালতের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হবে এবং কোনো পক্ষের পক্ষে নয়, এবং বিশেষজ্ঞের কর্তব্য হচ্ছে আদালতকে সাহায্য করা।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872 Section 45A. Opinion of experts on physical or forensic evidence:
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
৫৭.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১২৬ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মৃত্যুকালীন ঘোষণা
  2. স্বীকৃত ঘটনার প্রমাণ
  3. সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা
  4. পেশাগত বার্তার গোপনীয়তা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) পেশাগত বার্তার গোপনীয়তা।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১২৬ মূলত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিলের (অ্যাডভোকেট) সঙ্গে তাদের মক্কেলের মধ্যকার পেশাগত যোগাযোগের গোপনীয়তা সংরক্ষণ করে। এই ধারা অনুযায়ী, একজন আইনজীবী তার মক্কেলের কাছ থেকে যে তথ্য বা পরামর্শ পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পেয়েছেন, তা মক্কেলের সম্মতি ছাড়া আদালতে প্রকাশ করতে পারবেন না। এটি শুধু কথাবার্তা নয়, বরং যেকোনো ডকুমেন্ট বা দলিলের বিষয়বস্তুও গোপন রাখতে হয়। এমনকি এই গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা নিযুক্তি শেষ হওয়ার পরেও অব্যাহত থাকে।
তবে দুটি ব্যতিক্রম আছে:
১. যদি সেই বার্তা অবৈধ উদ্দেশ্যে আদান-প্রদান হয়ে থাকে, অথবা
২. যদি উকিল দেখেন যে নিযুক্তির পরে কোনো অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে, তবে তা গোপন রাখার প্রয়োজন নেই।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।
তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না।
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 126 Professional communications:
- No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:
Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.
Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.
৫৮.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী 'সাক্ষ্য'(Evidence) বলতে কী বোঝায়?
  1. Oral Evidence
  2. Documentary Evidence
  3. Forensic Evidence
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী "Evidence" বলতে বোঝানো হয়েছে তিনটি বিষয়কে (1) Oral Evidence (2) Documentary Evidence (3) Forensic/Physical Evidence. 
অতএব, সবকিছু মিলিয়ে সঠিক উত্তর: All of the above.

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৩ অনুযায়ী, “Evidence” বলতে বোঝায়, 
১. মৌখিক সাক্ষ্য (Oral Evidence):
আদালতে সাক্ষীরা যে বক্তব্য প্রদান করেন, যা বিচারক গ্রহণ করেন—তা মৌখিক সাক্ষ্য।
২. লিখিত সাক্ষ্য বা নথিপত্র (Documentary Evidence):
যেকোনো কাগজপত্র, দলিল বা রেকর্ড যা আদালতের পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
৩) ফরেনসিক উপাদান (Physical/Forensic Evidence): সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া এই অংশে বলা হয়েছে: DNA, রক্ত, চুল, বীর্য, আঙুলের ছাপ, চোখের মণির ছাপ, পায়ের ছাপ ইত্যাদি যা অপরাধ ও অভিযুক্তের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বা অপরাধ প্রমাণে সহায়ক।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী: "Evidence includes—
(1) all oral statements which the Court permits as testimony (oral evidence),
(2) all documents produced for inspection (documentary evidence), and
(3) forensic materials like DNA, fingerprints, etc."
৫৯.
স্বীকৃত ঘটনা প্রমাণের প্রয়োজন হয় না – এই নীতি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ৫৬
  2. ধারা ৫৭
  3. ধারা ৫৮
  4. ধারা ৫৯
ব্যাখ্যা
⇒  সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৮ অনুযায়ী, যে ঘটনা পক্ষগণ আদালতে স্বীকার করে নেয় বা লিখিতভাবে স্বীকার করে, সে ঘটনা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
- এই ধারা স্পষ্টভাবে বলছে যে, পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিগণ যদি কোনো বিষয়কে স্বীকার করেন (মোকদ্দমার শুনানির সময় বা তার পূর্বে লিখিতভাবে), তবে সে ঘটনা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। তবে আদালত তার discretion (বিশেষ ক্ষমতা) অনুযায়ী, সেই স্বীকৃত ঘটনার অতিরিক্ত প্রমাণ চাইতে পারেন।
- অর্থাৎ, যখন কোনো পক্ষ একটি ঘটনা স্বীকার করে নেয়, তখন সেটি আর আলাদাভাবে প্রমাণ করার প্রয়োজন হয় না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার বিধান: স্বীকৃত ঘটনাসমূহ প্রমাণ করার আবশ্যকতা নেই:-
মোকদ্দমায় পক্ষগণ বা তার প্রতিনিধিগণ যদি কোন বিষয় মামলার শুনানির সময়কালে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা শুনানির পূর্বে যদি তারা এটা নিজ হস্তে লিখে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা উক্ত সময়ে কার্যকর কোন নিয়ম বা পক্ষগণের কোন আরজি-জবাব ইত্যাদি অনুসারে এটা পক্ষগণের দ্বারা স্বীকৃত বলে বিবেচিত হয়, তবে সে ঘটনা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
তবে, নিজের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী আদালত কোন স্বীকৃত ঘটনার এবং অন্যবিধ প্রমাণ চাইতে পারেন।
--------------
⇒ The Evidence Act, 1872 Section-58. Facts admitted need not be proved:
- No fact need be proved in any proceeding which the parties thereto or their agents agree to admit at the hearing, or which, before the hearing, they agree to admit by any writing under their hands, or which by any rule or pleading in force at the time they are deemed to have admitted by their pleadings:
Provided that the Court may, in its discretion, require the facts admitted to be proved otherwise than by such admissions.
৬০.
কোন ধরনের বিবৃতি সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২(৩) এর অধীনে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়?
  1. যা বিবৃতিকারীর স্বার্থের পরিপন্থী
  2. সর্বসাধারণের অধিকার সংক্রান্ত মতামত
  3. পারিবারিক দলিল বা উইল সম্পর্কিত বিবৃতি
  4. কয়েকজনের প্রদত্ত অনুভূতি প্রকাশক বিবৃতি
ব্যাখ্যা
উত্তর: ক) বিবৃতি যা বিবৃতিকারীর স্বার্থের পরিপন্থী।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অক্ষম হয়, তখন তার কিছু নির্দিষ্ট বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এই ধারায় নিম্নলিখিত ৮টি পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত:
১) মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration) — যখন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পূর্বে কোনো ঘটনার সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
২) ব্যবসার কার্যক্রমে বিবৃতি (statement made in course of business) — যখন কোনো ব্যক্তি তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিবৃতি দেন।
৩) স্বার্থবিরোধী বিবৃতি (statement against interest) — যে বিবৃতি ব্যক্তির নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে।
৪) জনস্বার্থ বা প্রথা সংক্রান্ত বিবৃতি (opinion as to public right or custom) — যখন কোনো ব্যক্তি সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা সম্পর্কিত বিবৃতি দেন।
৫) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি (relates to existence of relationship) — আত্মীয়তার অস্তিত্বের ব্যাপারে বিবৃতি।
৬) পারিবারিক দলিল বা উইলে করা বিবৃতি (statement made in will or deed relating to family affairs) — উইল বা পারিবারিক দলিলে করা বিবৃতি।
৭) লেনদেন সংক্রান্ত দলিলের বিবৃতি- "transaction mentioned in section 13, clause (a)"ধারা ১৩-এর (ক) অংশে উল্লেখিত লেনদেন সংক্রান্ত দলিলের বিবৃতি।
৮) কিছু ব্যক্তির প্রদত্ত বিবৃতি (statement made by several persons) — যখন একাধিক ব্যক্তি একটি বিশেষ বিষয় সম্পর্কে একই মতামত দেন।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question
৬১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫১ অনুযায়ী, যখন কোনো জীবিত ব্যক্তির মতামত আদালতে প্রাসঙ্গিক হয়, তখন নিচের কোনটি আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হতে পারে?
  1. কেবল তার নাম
  2. তার মতামতের ভিত্তি
  3. তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস
  4. অন্যের মতামত যা তিনি শুনেছেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) তার মতামতের ভিত্তি।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫১ বলছে, যখন কোনো জীবিত ব্যক্তির মতামত আদালতে প্রাসঙ্গিক হয় (যেমন—বিশেষজ্ঞ মতামত), তখন সেই মতামতের ভিত্তিগুলোও প্রাসঙ্গিক হিসেবে গৃহীত হবে। অর্থাৎ, একজন বিশেষজ্ঞ কেবল তার মতামত নয়, বরং তার মতামত যেসব পরীক্ষার বা যুক্তির উপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে, সেগুলিও আদালতে উপস্থাপন করতে পারবেন।
- এই বিধান বিচারককে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে কারণ এতে মতামতের যৌক্তিকতা ও ভিত্তি স্পষ্ট হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫১ (Section 51 of the Evidence Act, 1872) অনুযায়ী, “যখন কোনো জীবিত ব্যক্তির মতামত কোনো মামলায় প্রাসঙ্গিক হয়, তখন সেই মতামতের উপর ভিত্তি করে যে কারণ বা ভিত্তি গঠিত হয়েছে, তা-ও প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।”
উদাহরণ হিসেবে, যদি একজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য দেয় যে তিনি একটি রাসায়নিক পরীক্ষা করে ফলাফল পেয়েছেন, তাহলে তিনি কেবল ফলাফলই বলবেন না, সেই পরীক্ষাটি কীভাবে করেছেন, সেটিও বলতে পারবেন। কারণ তা তার মতামতের ভিত্তি।
- অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ৫১ ধারাই নিশ্চিত করে যে, বিশেষজ্ঞ বা প্রাসঙ্গিক মতামতের ভিত্তিগুলোও (Grounds of opinion) আদালতে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হতে পারে।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section- 51. Grounds of opinion, when relevant:
- Whenever the opinion of any living person is relevant the grounds on which such opinion is based are also relevant.

- Illustration: An expert may give an account of experiments performed by him for the purpose of forming his opinion.
৬২.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৫ অনুযায়ী, পুলিশ অফিসারের নিকট আসামীর স্বীকারোক্তি কী ধরনের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. প্রাথমিক সাক্ষ্য
  2. মাধ্যমিক সাক্ষ্য
  3. গ্রহণযোগ্য নয়
  4. গ্রহণযোগ্য প্রমাণ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২৫ অনুযায়ী: “কোনো পুলিশ অফিসারের নিকট আসামীর করা স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।”
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো আসামীকে পুলিশি হেফাজতে চাপ, ভয়ভীতি বা নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা থেকে রক্ষা করা। এই ধারা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায় নিশ্চিত করে।
- তাই, পুলিশ অফিসারের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নয় এবং আদালতে তা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারা অনুসারে, পুলিশ অফিসারের কাছে কোনো আসামী যে স্বীকারোক্তি করে, তা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এই ধারা বাস্তবিকভাবে পুলিশকে সন্ত্রাস বা চাপের মাধ্যমে আসামীর স্বীকারোক্তি নেয়ার প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখে। এর উদ্দেশ্য হলো আসামীর উপর অযাচিত চাপ না দেওয়া এবং স্বীকারোক্তি সঠিক ও স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা।
⇒ The Evidence Act, 1872 Section 25. Confession to police-officer not to be proved:
- No confession made to a police-officer shall be proved as against a person accused of any offence.

৬৩.
"No new trial for improper admission or rejection of evidence" এই নীতিটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ১৬৫
  2. ধারা ১৬৬
  3. ধারা ১৬৭
  4. ধারা ১৬৮
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৬৭ (Section 167– No new trial for improper admission or rejection of evidence)-এ বলা হয়েছে, যদি আদালত ভুলভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করে, তবুও যদি মামলার অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতের সিদ্ধান্ত ন্যায়সঙ্গত হয়, অথবা যদি বর্জিত সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও রায়ের কোন পরিবর্তন হতো না, তাহলে কেবলমাত্র সেই ভুল গ্রহণ বা বর্জনের কারণে মামলার নতুন বিচার (retrial) বা রায় পরিবর্তন (reversal) করা যাবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারামতে,
- আদালত অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করে থাকলে যে সাক্ষ্যের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, সেই সাক্ষ্য ছাড়াও যদি এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে যা দ্বারা আদালতের সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন হয়, অথবা যে সাক্ষ্য বর্জন করা হয়েছে, তা গ্রহণ করা হলেও আদালতের সিদ্ধান্তে কোন তারতম্য হতো না, তবে কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করার অজুহাতে কোন মামলার পুনর্বিচার বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দাবি করা যাবে না। সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারার বিধান দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই সমভাবে প্রযোজ্য।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 167- No new trial for improper admission or rejection of evidence:
The improper admission or rejection of evidence shall not be ground of itself for a new trail or reversal of any decision in any case, if it shall appear to the Court before which such objection is raised that, independently of the evidence objected to and admitted, there was sufficient evidence to justify the decision, or that, if the rejected evidence had been received, it ought not to have varied the decision.

৬৪.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী Estoppel কোন ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র আইনগত প্রশ্ন
  2. শুধুমাত্র ঘটনাভিত্তিক প্রশ্ন
  3. ঘটনাভিত্তিক এবং আইনগত উভয় প্রশ্ন
  4. কোনো প্রশ্নেই প্রযোজ্য নয়
ব্যাখ্যা

⇒ Estoppel (স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা) একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি যা সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য। এই নীতি অনুসারে, যদি কেউ কোনো বক্তব্য, আচরণ বা নীরবতার মাধ্যমে অন্যকে একটি ঘটনা বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয় এবং সেই ব্যক্তি সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো কার্য করে, তবে প্রথম ব্যক্তি ভবিষ্যতে তার আগের বক্তব্য বা অবস্থান অস্বীকার করতে পারে না।
⇒  Estoppel কেবল ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য; আইনগত অধিকার বা বিধান বিষয়ে এটি প্রযোজ্য নয়।
- Estoppel (স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা) হলো এমন একটি নীতি, যা কাউকে তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির পরিপন্থী কথা বলার বা দাবি করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যদি সেই পূর্ববর্তী আচরণ বা কথার ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।
⇒ তবে এই নীতির প্রযোজ্যতা কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ:
- ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে (Questions of fact): যেমন, কে কী বলেছিল, কে কী কাজ করেছিল, কোনো জমি কার দখলে ছিল ইত্যাদি।
- দেওয়ানি মামলায় (Civil cases): বিশেষত অধিকার ও মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে।

⇒ “আইনগত প্রশ্ন” (Questions of Law) - যেমন কার আইনগত অধিকার আছে, আইন কী বলে ইত্যাদি বিষয়ের ক্ষেত্রে Estoppel প্রযোজ্য নয়। কেউ যদি ভুল করে বলে যে তার কোনো অধিকার নেই, তবুও আইনের চোখে যদি তার অধিকার থাকে, সে তা দাবি করতে পারে।

৬৫.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৭ অনুযায়ী, জেরা (Cross-Examination) কোন পক্ষ কর্তৃক পরিচালিত হয়?
  1. সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ
  2. বিরুদ্ধ পক্ষ
  3. আদালত
  4. সাক্ষী নিজে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৭ অনুযায়ী, জেরা (Cross-Examination) হলো সেই পর্যায় যেখানে বিরুদ্ধ পক্ষ (adverse party) সাক্ষীকে প্রশ্ন করে।
যে পক্ষ আদালতে একজন সাক্ষীকে হাজির করে, সেই পক্ষের জবানবন্দি গ্রহণের পরেই বিরুদ্ধ পক্ষ (অপর পক্ষ) যদি চায়, তবে সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে পারে। এই প্রশ্ন করাকে জেরা (Cross-Examination) বলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]: যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।
- জেরা [Cross Examination]: বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।
- পুনঃজবানবন্দি [Re-examination]: জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুনঃজবানবন্দি (Re- examination) বলে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারার বিধান: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুনঃজবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 137:
- Examination-in-chief: The examination of a witness by the party who calls him shall be called his examination-in-chief.
- Cross-examination: The examination of a witness by the adverse party shall be called his cross-examination.
- Re-examination: The examination of a witness, subsequent to the cross-examination by the party who called him, shall be called his re-examination.
⇒ The Evidence Act, 1872 section 138. Order of examinations:
Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined.
The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.
৬৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৪ কোন বিশেষ ধরনের সাক্ষীর সাথে সম্পর্কিত?
  1. বোবা সাক্ষী
  2. বৈরী সাক্ষী
  3. নাবালক সাক্ষী
  4. বিশেষজ্ঞ সাক্ষী
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৪ বিশেষভাবে বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) এর সাথে সম্পর্কিত।
- ধারা ১৫৪ অনুসারে, আদালত যখন দেখে যে, একজন সাক্ষী নিজের পক্ষের বিপরীতে বা বিরুদ্ধ পক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়, তখন তাকে বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) বলা হয়। সাধারণত, একটি পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না, কারণ সাক্ষী ওই পক্ষের পক্ষেই সাক্ষ্য দেবে। তবে, যদি সাক্ষী বিরুদ্ধ অবস্থান নেয় বা সত্য গোপন করতে থাকে, তখন আদালত অনুমতি দেয় সেই পক্ষকে তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করার জন্য, যা সাধারণত প্রতিপক্ষ করে থাকে।
- এই বিধানটি বৈরী সাক্ষী সম্পর্কিত এবং ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালত তার বিচারিক বিবেচনায় অনুমতি দেয় যে, সাক্ষীকে জেরা করার জন্য।
- সঠিক উত্তর: খ) বৈরী সাক্ষী। 

⇒ The Evidence Act, 1872, Section 154. Question by party to his own witness:
 - The Court may, in its discretion, permit the person who calls a witness to put any questions to him which might be put in cross-examination by the adverse party.

৬৭.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের প্রথম বিভাগে কোন বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. আপীল দায়ের
  2. মোকদ্দমা দায়ের
  3. দরখাস্ত দায়ের
  4. রিভিশন দায়ের
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিল তিনটি বিভাগে বিভক্ত, যেখানে প্রতিটি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের আইনি কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বা তামাদির মেয়াদ (limitation period) নির্ধারণ করেছে।
- প্রথম বিভাগ (First Division):
এখানে উল্লেখ আছে "Limitation for Filing Suits" — অর্থাৎ মোকদ্দমা দায়েরের সময়সীমা। এই বিভাগে অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত মোকদ্দমা দায়েরের বিভিন্ন বিষয় যেমন: চুক্তি, জমি সংক্রান্ত মামলা, পাওনা আদায়, মালিকানা দাবি ইত্যাদি ক্ষেত্রে তামাদির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাই, প্রথম তফসিলের প্রথম বিভাগ সরাসরি মোকদ্দমা দায়ের-এর সময়সীমা বা তামাদি মেয়াদ নির্ধারণ করে।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ৩টি বিভাগ:
১) প্রথম বিভাগ (First Division):
→ মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Suits)
- এই বিভাগের অধীনে ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলার তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
২) দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division):
→ আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Appeals)
- এই বিভাগের অধীনে ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত বিভিন্ন আপীলের তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
৩) তৃতীয় বিভাগ (Third Division):
→ বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Applications and Petitions)
- এই বিভাগের অধীনে ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত বিভিন্ন দরখাস্ত বা পিটিশনের তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
৬৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর কোন ধারার অধীনে মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-৩ প্রযোজ্য?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ৮
  3. ধারা ৯
  4. ধারা ৩১
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ-৩ এ বলা হয়েছে: “Under the Specific Relief Act, 1877, Section 9, to recover possession of immovable property.”
অর্থাৎ, যদি কেউ অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তিকে তার স্থাবর (স্থায়ী) সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯ অনুসারে আদালতে মামলা করতে পারবেন।
⇒  এই মামলার উদ্দেশ্য: মালিকানা নয়, দখলের অধিকার রক্ষা করা।
- এই আইনে বলা হয়, কারো বৈধ দখল থাকলে, তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না – এমনকি উচ্ছেদকারী মালিক হলেও।

→ তামাদি সময়সীমা: এই ধারা অনুযায়ী দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে হবে বেদখলের তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে।
- এই সময়সীমা তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-৩ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
৬৯.
তামাদি আইনের সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১২ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ৬০ বছর
  4. ১২০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের আইনি কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বা তামাদির মেয়াদ ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই মেয়াদগুলি প্রথম তফসিলের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
→ সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ: অনুচ্ছেদ ১৪৭ থেকে ১৪৯ এ বন্ধক (mortgage) সংক্রান্ত মামলা ও অন্যান্য নির্দিষ্ট সিভিল দাবির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ ৬০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 উদাহরণ:
- যদি কেউ কোনো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক দিয়ে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা ফেরত না পায়, তাহলে সে ৬০ বছরের মধ্যে আদালতে মামলা করতে পারবে।
৭০.
তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, তামাদি মেয়াদ কখন থেকে নতুন করে গণনা করা হয়?
  1. মামলা দায়েরের সময় থেকে
  2. সুদ পরিশোধের সময় থেকে
  3. ঋণের চুক্তি স্বাক্ষরের সময় থেকে
  4. আদালতের আদেশের সময় থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) সুদ পরিশোধের সময় থেকে।
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ধারা ২০ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ঋণ বা লিগ্যাসির সুদ পরিশোধ করে এবং তা একটি স্বাক্ষরিত বা হস্তলিখিত স্বীকৃতিতে প্রতিফলিত হয়, তাহলে:
- তামাদির নতুন সময় গণনা শুরু হবে যেদিন এই পরিশোধ করা হয় সেই দিন থেকে।
এই ধারা মূলত ঋণগ্রহীতার তরফ থেকে সুদ বা আংশিক অর্থ ফেরতের মাধ্যমে দায় স্বীকারকে নির্দেশ করে, যা তামাদি মেয়াদ পুনরারম্ভ করার জন্য যথেষ্ট, যদি তা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ঘটে এবং তা লিখিতভাবে স্বীকৃত হয়।

উদাহরণ:
একজন ব্যক্তি যদি ঋণের কিছু সুদ ১ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে পরিশোধ করেন এবং তা লিখিত স্বীকৃতিতে থাকে, তাহলে তামাদির নতুন সময়সীমা শুরু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে — পূর্বের মেয়াদ গণনা স্থগিত হয়ে যাবে।

⇒ তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, যদি ঋণ বা লিগ্যাসির সুদ পরিশোধ করা হয়, তাহলে নতুন তামাদির মেয়াদ পরিশোধের তারিখ থেকে গণনা শুরু হবে।
অর্থাৎ, যখন ঋণগ্রহীতা বা তার প্রতিনিধি সুদ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন, তখন তামাদির মেয়াদ নবায়ন হবে এবং নতুন মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে।
তবে, এটা শর্তসাপেক্ষ যে, পরিশোধের জন্য কোনো স্বীকৃতি বা লিখিত স্বাক্ষর থাকা উচিত।
- এটি ঋণদাতা বা লিগ্যাসির অধিকারী ব্যক্তির জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা পরিশোধের মাধ্যমে নতুন সময় শুরু করতে পারে।

⇒ The Limitation Act:- Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
৭১.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৭০ অনুসারে নি:স্ব হিসাবে আপীল করার অনুমতি দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৬০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ২০ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ-১৭০ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি নিজেকে নি:স্ব বা দরিদ্র (pauper) দাবি করে এবং কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করতে চান, তাহলে তাকে ডিক্রির তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে "leave to appeal as a pauper" দরখাস্ত দাখিল করতে হবে।
- এই ধারা দরিদ্র বা আর্থিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিকে ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে সহযোগিতা করে।

উদাহরণস্বরূপ:
- একজন দরিদ্র ব্যক্তি যদি কোনো দেওয়ানি মামলায় হেরে যান এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, কিন্তু আদালতের ফি দিতে অক্ষম হন — তাহলে তিনি ৩০ দিনের মধ্যে দরখাস্ত দাখিল করে বিনা খরচে আপিল করার অনুমতি চাইতে পারেন।
৭২.
তামাদি আইনের ১৩ ধারা কাদের অনুপস্থিতির সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ দেয়?
  1. সাক্ষীর
  2. বাদীর
  3. বিবাদীর
  4. আদালতের কর্মকর্তার
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৩ (Section 13) অনুযায়ী, যখন বিবাদী (Defendant) বাংলাদেশে অনুপস্থিত থাকেন, তখন তার অনুপস্থিতির সময়টি তামাদি মেয়াদ গণনার সময়ের বাইরে রাখা হবে (excluded from computation of limitation period)। 

⇒ তামাদি আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী,
বাদীর যখন মামলা করার অধিকার জন্মায় তখন যদি বিবাদী উক্ত সময়ে সরকারের কার্যের অংশ হিসাবে দেশের বাইরে থাকে, বিবাদী যতদিন বিদেশে থাকবে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে। তাই বলা যায় যে, বিবাদীর বিদেশে অবস্থানের সময়টুকু তামাদি থেকে বাদ যাবে।

⇒ The Limitation Act:- Section 13: Exclusion of time of defendant’s absence from Bangladesh and certain other territories-
In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the defendant has been absent from Bangladesh and from the territories beyond Bangladesh under the administration of the Government shall be excluded.
৭৩.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-৫২ অনুসারে ধারে বিক্রিত পণ্যের মূল্য আদায়ের মামলার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ-৫২ অনুযায়ী, যদি কোনো পণ্য ধারে বিক্রি বা অর্পণ করা হয় এবং তার মূল্য পরিশোধের সময় নির্ধারিত না থাকে, তবে মূল্য আদায়ের জন্য মামলা পণ্য অর্পণের তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে করতে হবে।
- অর্থাৎ, যদি বিক্রেতা বা মালিক পণ্য বিক্রি করেন, কিন্তু ক্রেতা মূল্য পরিশোধে দেরি করেন এবং নির্দিষ্ট সময় না জানান, তাহলে ৩ বছরের মধ্যে সেই মূল্য আদায়ের জন্য মামলা করতে হবে।

উদাহরণ:
- আপনি কাউকে কোনো মালামাল বা পণ্য দেন, কিন্তু দাম দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় বলেননি। তাহলে তিনি যদি দাম না দেন, আপনি ডেলিভারির তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে পারবেন।
৭৪.
তামাদি আইনের ১৪(১) ধারা অনুযায়ী, কোন সময় তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়?
  1. আদালতের ছুটির সময়
  2. বাদী মামলা দায়েরের দিন
  3. বিবাদীর অনুপস্থিতির সময়
  4. বাদী সৎ উদ্দেশ্যে এখতিয়ারবিহীন আদালতে কার্যক্রম চালানোর সময়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৪(১) (Section 14(1), Limitation Act, 1908) অনুসারে, যখন বাদী সৎ উদ্দেশ্যে (in good faith) ও যথাযথ যত্নসহকারে (with due diligence) একটি মামলা পরিচালনা করে এমন একটি আদালতে, যার এখতিয়ার (jurisdiction) নেই বা যে কোনো অনুরূপ কারণে মামলা গ্রহণে অক্ষম, তখন সেই কার্যক্রম পরিচালনার সময়কাল তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৪: এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে কার্যক্রমের সময় বাদ দেওয়া:
(১) যেকোনো মামলার জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, বাদী যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে অন্য একজন বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি একই কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এবং সৎ উদ্দেশ্যে সেই আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।
(২) কোনো আবেদনটির জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, আবেদনকারী যদি একই পক্ষের বিরুদ্ধে একই ক্ষতিপূরণের জন্য অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি সৎ উদ্দেশ্যে এমন একটি আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section-14: Exclusion of time of proceeding bona fide in Court without jurisdiction:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the plantiff has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the defendant, shall be excluded, where the proceeding is founded upon the same cause of action and is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
(2) In computing the period of limitation prescribed for any application, the time during which the applicant has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the same party for the same relief shall be excluded, where such proceeding is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
Explanation I - In excluding the time during which a former suit or application was pending, the day on which that suit or application was instituted or made, and the day on which the proceedings therein ended, shall both be counted.
Explanation II - For the purposes of this section, a plaintiff or an applicant resisting an appeal shall be deemed to be prosecuting a proceeding.
Explanation III - For the purposes of this section misjoinder of parties or of causes of action shall be deemed to be a cause of a like nature with defect of jurisdiction.
৭৫.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ক্যাননস অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট, ১৯৬৯-এর ১ম অধ্যায়ের কোন বিধিতে অ্যাডভোকেটদের পেশাগত বিজ্ঞাপন দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
  1. বিধি-৪
  2. বিধি-৩
  3. বিধি-২
  4. বিধি-১
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ক্যাননস অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট, ১৯৬৯-এর ১ম অধ্যায়ের বিধি-২ অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেট বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য মাধ্যম দ্বারা পেশাগত চাকরি বা কেস তালাশ করতে পারবেন না। তবে, সাধারণ পেশাগত কার্ড, নামফলক বা প্রচলিত ডাইরেক্টরিতে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়, যেখানে শুধুমাত্র পেশাগত ও একাডেমিক যোগ্যতা এবং সরকারি পদ উল্লেখ করা হয়।
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর ১ম অধ্যায়ের বিধি-২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, একজন অ্যাডভোকেট কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো মাধ্যম দিয়ে পেশাগত চাকরি/কেস তালাশ করতে পারবেন না। তবে এটি সাধারণ পেশাগত কার্ড, নামফলক বা প্রচলিত ডাইরেক্টরিতে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যদি সেখানে শুধুমাত্র তার পেশাগত ও একাডেমিক যোগ্যতা এবং বর্তমান সরকারি পদ (যদি থাকে) উল্লেখ থাকে।

2. An Advocate shall not solicit professional employment by advertisement or by any other means. This clause shall not be construed as prohibiting the publication or use of ordinary professional cards, name plates or conventional listings in directories, so long as the information contained therein is limited to professional and academic qualifications and public offices currently held, and does not contain any matter which savours of personal advertisement.
৭৬.
পেশাগত আচরণ বিধিমালা অনুসারে, বিচারক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন আইনজীবীর কী ধরনের ভূমিকা রাখা উচিত?
  1. রাজনৈতিক দলের সুপারিশ অনুযায়ী সমর্থন জানানো
  2. পরিবারের সদস্যদের নিয়োগের জন্য বিশেষ সুপারিশ করা
  3. শুধুমাত্র নিজের চেম্বারের সহকর্মীদের পক্ষে সুপারিশ করা
  4. প্রার্থীর আইনি জ্ঞান, বিচারিক দক্ষতা ও চরিত্রগত সততাকে প্রাধান্য দেওয়া
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) প্রার্থীর আইনি জ্ঞান, বিচারিক দক্ষতা ও চরিত্রগত সততাকে প্রাধান্য দেওয়া।
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব হলো বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা পারিবারিক প্রভাব না রেখে শুধুমাত্র আইনি জ্ঞান, বিচারিক দক্ষতা এবং চরিত্রগত সততাকে প্রাধান্য দেওয়া।
এটি বিচারকদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি মৌলিক নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যাতে বিচারকদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিচারিক নিরপেক্ষতা এবং পেশাগত উৎকর্ষ বজায় থাকে। একজন অ্যাডভোকেটকে বিচারক নিয়োগে মুক্ত, নিরপেক্ষ, এবং ন্যায্য প্রক্রিয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে, এবং তারা অবশ্যই এমন প্রার্থীকে সমর্থন করবেন যারা বিচারকের দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত এবং নৈতিকভাবে সৎ।

অতএব, রাজনৈতিক বা পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা অনৈতিক এবং আইনিভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette, অধ্যায়-৩, বিধি-৭ অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব হচ্ছে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, বরং যোগ্যতা এবং নৈতিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া। অ্যাডভোকেটদের উচিত শুধুমাত্র যোগ্য ও নৈতিকভাবে উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে নিয়োগের জন্য সমর্থন করা। তারা অবশ্যই চেষ্টা করবেন এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে যারা বিচারকদের দায়িত্ব পালনে মুক্ত এবং নিরপেক্ষ থাকবেন, এবং যারা রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক চাপ থেকে মুক্ত।

7. It is the duty of Advocates to endeavour to prevent political considerations from outweighing judicial fitness in the appointment and selection of Judges. They should protest earnestly and actively against the appointment or selection of persons who are unsuitable for the Bench and thus should strive to have elevated thereto only those willing to forego other employments whether of a business, political or other character, which may embarrass their free and fair consideration of questions before them for decision. The aspiration of Advocates for judicial position should be governed by an impartial estimate of their ability to add honour to the office and not by a desire for the distinction the position may bring to themselves.
৭৭.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ-৮(১) অনুসারে বার কাউন্সিলের নির্বাচন কবে সম্পন্ন করতে হবে?
  1. ৩১ মে’র মধ্যে
  2. ৩১ মার্চের মধ্যে
  3. ৩০ জুনের মধ্যে
  4. ৩০ এপ্রিলের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ-৮(১) অনুসারে, বার কাউন্সিলের নির্বাচন ৩১ মে বা তার আগে সম্পন্ন করতে হবে, যেই বছরে বার কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
- Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর সংশোধিত Article 8(1) অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের নির্বাচন ৩১ মে বা তার আগে সম্পন্ন করতে হবে, যে বছরে বার কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
- এই নিয়মটি নিশ্চিত করে যে, নির্বাচনের মাধ্যমে বার কাউন্সিলের সদস্যদের নির্বাচন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে করা হবে। তবে, যদি কোনো অব্যাহতিপূর্ণ পরিস্থিতি (যেমন মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি) ঘটে, তবে Ad-hoc Bar Council গঠন করা হতে পারে, যার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর হতে পারে।

Article- 8. (1) Elections to the Bar Council shall be held so as to conclude on or before the thirty first day of May in the year in which the term of the Bar Council expires.
(2) If the elections to the Bar Council cannot be held within the time specified in clause (1) due to pandemic, epidemic, act of God or for any other unavoidable circumstances as may be determined by the Government from time to time, the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members for a term not exceeding one year and this term shall not be further extended.
The Attorney-General for Bangladesh shall be one of the members of the Ad-hoc Bar Council and shall also be its Chairman.
(4) Notwithstanding anything contained in any other provision of this Order, the Ad-hoc Bar Council shall exercise such powers and functions of the Bar Council as specified in this Order and the rules made thereunder.