পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
"পরীক্ষা - ১৭ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: বাংলাদেশের ইতিহাস (ব্রিটিশ শাসন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ইত্যাদি)। উৎস: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
উপমহাদেশে বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন -
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড বেন্টিক
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি
- সাম্রাজ্যবাদী লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই (১৮৫৩ সালে) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
উপমহাদেশে ওয়ারেন হেস্টিংস এর অবদান কোনটি?
  1. প্রচলিত জমিদার পদ্ধতির পরিবর্তে ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ প্রবর্তন
  2. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন
  3. 'একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংস
- বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস। 
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেলও ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। 
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- ওয়ারেন হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন।

- ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালের ১৩ আগস্ট বাংলায় প্রথম রাজস্ব বোর্ড গঠন করেন।
- তিনি প্রচলিত জমিদার পদ্ধতির পরিবর্তে ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ (১৭৭২-১৭৭৭) প্রবর্তন করেন।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো খাজনা আদায় বৃদ্ধি এবং যথাসময়ে রাজস্ব সংগ্রহ। 
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন। 

- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে  সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ভারত শাসন আইন -১৯৩৫ এর বৈশিষ্ট নয় কোনটি?
  1. ভারতীয় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান
  2. ভারতে প্রথম বারের জন্য সরাসরি নির্বাচন উপস্থাপন
  3. ভারত থেকে মায়ানমার এর পৃথকীকরণ
  4. এই আইনের আলোকে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়
সঠিক উত্তর:
এই আইনের আলোকে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই আইনের আলোকে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়
ব্যাখ্যা
ভারত শাসন আইন:
- সাইমন কমিশনের রিপোর্ট এবং উক্ত শ্বেতপত্রের আলোকে পরের বছর ভারতের জন্য একটা নতুন সংবিধানের খসড়া প্রকাশিত হয়।
- এ খসড়ার ভিত্তিতেই ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ পার্লামেন্টের উভয় হাউসে ভারতের শাসনকার্যের জন্য একটা নতুন শাসনতন্ত্র গৃহীত হয়।
- এটাই ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের বিখ্যাত ভারত শাসন আইন।

- ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ ছিল ব্রিটিশ সরকার রাজের পরাধীন ভারতের শেষ সংবিধান। 
- এই আইনটি ছিল একটি সুবৃহৎ দলিল।
- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত বিভক্তির সময়ও এ আইন কার্যকরী ছিল।

এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক :
- এইটি ভারতীয় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করল এবং ভারত শাসন আইন ১৯৪৭ শেষ হল।
- এইটি ফলে সমস্ত ভারতীয় প্রাদেশিক রাজ্য গুলি ভারত ফেডারেশনের জন্য যোগ দিল।
- প্রথম বারের জন্য সরাসরি নির্বাচন উপস্থাপন করা হল। ভোট দেবার অধিকার বৃদ্ধি কর হল।
- সিন্ধু বোম্বে থেকে পৃথকী করণ হল। উড়িষ্যা বিহার থেকে আলাদা করা হল।
- বর্মা বা মায়ানমার ভারত থেকে আলাদা করা হল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
ভারতে স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় কবে?
  1. ১৭৪৩ সালের ২২শে মার্চ
  2. ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ
  3. ১৮৯৩ সালের ২২শে মার্চ
  4. ১৮৪৩ সালের ২২শে মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- এ প্রথা চালু হওয়ার ফলে জমিদারদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার কৃষকরা জমির উপর তাদের মালিকানা হারায়।
- ১৯৫০ সালের ‘পূর্ববঙ্গ জমিদার অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে’র ফলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার বিলুপ্তি হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এর কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা যায় -
  1. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
  2. শিল্পবিপ্লব
  3. অনাবৃষ্টি ও খরা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লব : একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর প্রেক্ষাপট :
- ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন।
- তখন থেকেই এ দেশে ব্যাপক সম্পদ লুণ্ঠন করতে থাকে ইংরেজরা।
১. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে।
- বাংলার নবাবের হাতে থাকে নামে মাত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা। রাজস্ব আদায় ও আয়-ব্যয়ের হিসাব থাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কাছে।
- ফলে ইতিহাসে দ্বৈত শাসন নামে শাসনব্যবস্থার সৃষ্টি হয়।
-  দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে থাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব, আর রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব পায় কোম্পানি।
-  ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি খাজনা আদায়ের নামে সীমাহীন শোষণ আর লুণ্ঠন করে পাচার করতে থাকে।
২. অনাবৃষ্টি ও খরা
- পাশাপাশি সেই সময় (১৭৬৮-১৭৬৯) অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।
- কিন্তু অব্যহত থাকে ইংরেজদের খাজনা আদায়।
 ৩. শিল্পবিপ্লব
- ১৭৬৫-১৭৮৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপেক্ষা বেশি দুর্নীতিপূর্ণ, বেশি অত্যাচারী ও লুণ্ঠন প্রবৃত্তির তথাকথিত সভ্য সরকার পৃথিবীর বুকে আর দেখা যায়নি।
- অন্যদিকে, ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের উড্ডয়নকাল ১৭৬০-১৭৮০ খ্রি. ধার্য করেন।
- ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি প্রকৃত অর্থে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্র রচনা করে। 
- আটলান্টিক তীরে পশ্চিমের সেই শিল্পবিপ্লবের রসদ যোগাতে গিয়ে ব্রিটিশ শাসনাধীন বাংলায় নেমে আসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। 
- জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ, প্রায় ১ কোটি মানুষ এই দুর্ভিক্ষে মারা যায়।

- সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় -এর ‘আনন্দমঠ‘ উপন্যাস থেকে এই মন্বন্তরের ভয়াবহতার এক সকরুণ চিত্র পাওয়া যায়।
- এই সময় এই অঞ্চলের জনগন তাদের নিজ মাতৃভূমিতেই সব ধরণের মৌলিক বা মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে একে একে জীবন সংগ্রামে পরাজিত হতে থাকে। 
- খাদ্যভাবে শীর্ণ লোকরা দলে দলে মারা যায়। অন্নহীন কঙ্কালসার মৃত্যু দেহগুলো রাস্তাঘাটে পড়ে থাকে। 
- গ্রামবাংলায় যখন এই মৃত্যুর মিছিল চলছিল, তখন কলকাতায় শেতাঙ্গ সমাজে আমোদণ্ডপ্রমোদ, বিলাসিতা, নাচ, সুরাপানে আনন্দণ্ডউচ্ছল জীবনযাপনে রত ছিল।
- অথচ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনকে পঙ্গু করে দেয়।

তথ্যসূত্র - ১. বাংলাপিডিয়া।  
২. বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী।
৩. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪. ব্রিটানিকা।
৫. জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চট্টগ্রামের শাসনভার লাভ করে -
  1. ১৭৫২ সালে
  2. ১৭৬০ সালে
  3. ১৭৪৮ সালে
  4. ১৭৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ সালে
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বাণিজ্যিক রাজধানী।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে।
- পর্তুগিজরা প্রথমে জন দ্য সিলভিরার নেতৃত্বে ১৫১৭ সালে এবং পরে আলফন্সো দ্য মিলোর নেতৃত্বে ১৫২৭ সালে চট্টগ্রাম দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করে।
- তারা বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহকে সাহায্য করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়েরও অধিকার লাভ করে।
- এটিকে পর্তুগিজরা পোর্টো গ্র্যান্ডে নামকরণ করেন।
- জোয়াও ডি ব্যারোস ১৫৫২ সালে 'বাংলা রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ধনী শহর' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
- সাতগাঁও বন্দরের নামকরণ হয় ‘পোর্টো পেকুইনে’।
- ১৬৬৫-৬৬ সালে বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম অভিযান করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দরটি দখল করে নেন।
- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) Britannica.
.
উপমহাদেশে প্রথম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিঙ্ক এদেশে গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন।
- তিনি ১৮২৮ থেকে ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিঙ্কই প্রথম গভর্নর জেনারেল যিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে এদেশে প্রজাদের কল্যাণ সাধনই শাসকের প্রধান কর্তব্য।

- তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সভ্যতার অবাধ প্রসারের পথ উন্মুক্ত হয়।
- তাঁর আমলে ১৮৩৫ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা উপমহাদেশের প্রথম মেডিকেল কলেজ।
- উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সময় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরন আইন ( ১৮২৯ )পাস হয় এতে তিনি রাজা রামমোহন রায় ও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করেন।
- উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলায় সর্বপ্রথম ‘জুরী ব্যবস্থার’ প্রবর্তন করেন।
- তিনি লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন। 
- তিনি সেনাবাহিনীতে বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - ১. ব্রিটানিকা।
২.  বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী।
.
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয় -
  1. ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট
  2. ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট
  3. ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই
  4. ১৯৪৭ সালের ২৩ জুন
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই
ব্যাখ্যা
• 'ভারত স্বাধীনতা আইন' 

- ব্রিটিশ ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসের গতিধারায় ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইন ভারতীয়দের জাতীয় জীবনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ।
- তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মি. এটলির ঘোষণা মোতাবেক ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন ভারতবর্ষকে বিভক্তির মাধ্যমে ভারতীয় শাসন পরিকল্পনায় যে সমস্ত সুপারিশ করেন সেগুলোকে সামনে রেখে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের জনগণের স্বাধীনতা প্রদানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়।
- ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

-  এ আলোকেই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই কতিপয় ধারা সংবলিত ভারত শাসন আইন পাস করে ।
- এই আইন অনুসারে ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে ।
- পৃথিবীর মানচিত্রে অখণ্ড ভারতের পরিবর্তে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে ।

উৎস- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতাঃ নবম-দশম শ্রেণী।
.
উপমহাদেশে প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. মজনু শাহ
  2. ভবানী পাঠক
  3. উভয়েই
  4. কেউই নন
সঠিক উত্তর:
উভয়েই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়েই
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০)

• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। -১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।ণ
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
'বাঁশের কেল্লা' বিদ্রোহের সাথে সংশ্লিষ্ট -
  1. তিতুমীর
  2. কর্নেল স্টুয়ার্ট
  3. মাসুম খাঁ
  4. উল্লিখিত সবাই
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর ও বাঁশের কেল্লা 
- ১৮২৭ সালে তিতুমীর তার গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৮৩১ সালে বারাসতের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তারা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন।
- বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তারা দ্বি-স্তর বিশিষ্ট এই কেল্লা নির্মাণ করেন।
- তিতুমীর বর্তমান চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অধিকার নিয়ে সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। 
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর কামানের গোলায় তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিতুমীর শহিদ হন।
- তার বাহিনীর প্রধান সেনাপতি মাসুম খাঁ বা গোলাম মাসুমকে ফাঁসি দেয়া হয়। বাশেঁর কেল্লা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
- ইতিহাসে এ কেল্লাই নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা নামে বিখ্যাত।

- ১৯৭১ সালে মুহাম্মদ জিন্নাহ কলেজ কে তার নাম অনুসারে সরকারী তিতুমীর কলেজ নামকরণ করা হয়।
- তার নামে বুয়েট এ একটি ছাত্র হলের নামকরণ করা হয় তিতুমীর হল।
- বিবিসির জরিপে তিনি ১১ তম শ্রেষ্ঠ বাঙালি।
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিতুমীরের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুলনা শহরে রূপসা নদীর তীরে 'বানৌজা তিতুমীর' নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি কমিশন করেন ও ‘নেভাল এনসাইন’ প্রদান করেন।
- এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজের নামকরণ করা হয় বিএনএস তিতুমীর।
- রাজশাহী ও নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্টেশনের মধ্যে 'তিতুমীর এক্সপ্রেস' নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিলো -
  1. চব্বিশ পরগনা
  2. হুগলী
  3. ফরিদপুর
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন
- উনিশ শতকের প্রথমদিকে হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেন।
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল। 
- ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
- ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১২.
বাংলা প্রদেশকে দ্বিখন্ডিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন -
  1. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. পঞ্চম জর্জ
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
-  পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
- এই সিদ্ধান্তের ফলে  ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু – মুসলমানদের সম্প্রতি নষ্ট হয়। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বাতন্ত্র্যবোধ প্রসার লাভ করে এবং ধর্মকেন্দ্রিক জাতীয়তার বীজ অঙ্কুরিত হয়।

- ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- প্রচণ্ড গণআন্দোলনের ফলশ্রুতিতে  ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল পুনরায় দুই বাংলা একত্রিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্বদান করেন কে?
  1. বলভভাই প্যাটেল
  2. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. অরবিন্দ ঘোষ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। এটি গান্ধীপূর্ব আন্দোলনসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সফল আন্দোলন বিবেচনা করা হয়।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

- স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন। 

-  মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
খিলাফত আন্দোলন প্রেক্ষাপট -
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. অটোমান সাম্রাজ্যের পতন
  3. হিন্দু-মুসলিম বিরোধ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
অটোমান সাম্রাজ্যের পতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অটোমান সাম্রাজ্যের পতন
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কে খিলাফত বিলুপ্ত করলে খিলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৫.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মহাত্মা গান্ধী ভারতে কোন আন্দোলনের ডাক দেন?
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. অসহযোগ আন্দোলন
  3. ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. আইন অমান্য আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভারত ছাড় আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত ছাড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড়’ আন্দোলন
• ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
• মহাত্মা গান্ধী নামে তিনি পরিচিত।
• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধী ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাক দেন।
• ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা, সম্ভাব্য জাপানি আক্রমণের আশঙ্কা, ভারতকে ব্রিটিশ ডোমিনিয়নের মর্যাদা প্রদানের দাবী ইত্যাদি ইস্যুতে কংগ্রেস ১৯৪২ সালের আগস্টে ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাক দেন। 
• ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
• মহাত্মা গান্ধী হরিজন পত্রিকায় ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারত ছাড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
• গান্ধীর মনোভাব লক্ষ্য করে কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি ১৯৪২ সালের ১৪ জুলাই গান্ধীর ভারত ছাড়  নীতি অনুমোদন করে।
• কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি সিদ্ধন্ত গ্রহন করে যে অবিলম্বে ব্রিটিশ সরকারকে ভারত ছাড়তে হবে নতুবা দেশব্যাপী তারা আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করবে।
• ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

- ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রধান তিনটি পর্ব দেখা যায়। প্রথম পর্বে এ আন্দোলন প্রধানত শহর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। এ পর্বের আন্দোলন ছিল খুবই ব্যাপক এবং সহিংস। কিন্তু দ্রুততার সাথেই এ আন্দোলনকে দমন করা হয়।
- আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় আগস্টের মধ্যভাগ থেকে। এ পর্যায়ে ছাত্ররা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ে।
- সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে আন্দোলনের তৃতীয় পর্ব শুরু হয়। এ পর্বের বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষিত যুবক সম্প্রদায় ও কৃষক দলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা এবং গেরিলা যুদ্ধ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৬.
কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনের নেতা কে?
  1. হাজী মোহাম্মদ মুহসীন
  2. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  3. হাজী শরিয়তউল্লাহ
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
হাজী মোহাম্মদ দানেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী মোহাম্মদ দানেশ
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন। 
- ১৯৪০-৫০ সময়ে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- আন্দোলনটি নিশ্চিতভাবেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করেছিল। 

- এই আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার কৃষকসভার কমিউনিস্ট কর্মীরা। হাজী মোহাম্মদ দানেশ তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন। 
- কৃষকদের নিকট তিনি রানী মা হিসেবে পরিচিতি পান।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন অমল সেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭.
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে -
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৪৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- ১৯৫১ ইং সনের ১৬ মে, এই আইন পাস এর মাধ্যমে এদেশ থেকে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত। 

- আইনটি পাশের আগে এদেশের কৃষিসংক্রান্ত আইন বলতে প্রধানত ছিল ১৭৯৩ সালের বঙ্গীয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবিধান ও বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫।
- লর্ড কর্নওয়ালিস বাংলায় ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন করেন যার ফলে জমিদাররা শাসক শ্রেণীরূপে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে।

তথ্য - ভূমি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেয়ার সাথে কোন ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ?
  1. কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  2. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  3. বঙ্গভঙ্গ
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল রাউলাট অ্যাক্ট-এর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে এক জনসমাবেশে ভারতীয়দের ওপর ব্রিটিশ পুলিশ আকস্মিকভাবে গুলি চালিয়ে অসহায় ব্যক্তিদের হত্যা করে। 
- এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে 'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত। 
- ইংরেজের এই অত্যাচারী মূর্তি দেখে রবীন্দ্রনাথ ভাইসরয়কে এক পত্র লিখে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন। 
- প্রত্যাখ্যান পত্রে তিনি লর্ড চেমসফোর্ডকে লিখেছিলেন- 'আমার এই প্রতিবাদ আমার আতঙ্কিত দেশবাসীর মৌনযন্ত্রণার অভিব্যক্তি।'

- যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক উপাধি 'নাইট'।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম বাঙালি হিসেবে ‘নাইট’ খেতাব পেয়েছিলেন। 
- ব্রিটিশ সরকার ৩রা জুন, ১৯১৫ সালে তাঁকে 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।