উত্তর
ব্যাখ্যা
- শিক্ষাক্রম বা 'কারিকুলাম' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ Currere থেকে। 'Currere' শব্দের অর্থ হল 'Course of study'।
(Encyclopaedia Britannica)
৪৯তম বিসিএস ⎯ শিক্ষা [২২১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন
- শিক্ষাক্রম বা 'কারিকুলাম' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ Currere থেকে। 'Currere' শব্দের অর্থ হল 'Course of study'।
(Encyclopaedia Britannica)
জাতীয় শিক্ষার অভীষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই শিক্ষাক্রমের যাবতীয় কার্যক্রম আবর্তিত হয়। সে বিবেচনায় শিক্ষাক্রমের ভিত্তি হচ্ছে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার অভীষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। জাতীয় চাহিদা প্রয়োজনের নিরিখে শিক্ষার অভীষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিরূপিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে কোন দেশের
শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রধান উৎস হল সে জাতির চাহিদা, প্রয়োজন ও আশা আকাঙ্ক্ষা। কোন দেশ বা জাতির অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ভিত্তিতে জাতীয় চাহিদা ও প্রয়োজন নির্ণীত হয়ে থাকে। আর এসব কিছুর মূল হল জাতীয় জীবনদর্শন। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, একটি জাতির জীবনদর্শন থেকেই সে জাতির শিক্ষা দর্শনের উৎপত্তি হয়। আর শিক্ষাদর্শনই শিক্ষার সার্বিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে থাকে।
(স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়))
রাফ টাইলার শিক্ষাক্রমের সরাসরি সংজ্ঞা প্রদান না করে চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষাক্রমের একটি স্বচ্ছ ধারণা দানের চেষ্টা করেছেন। এ প্রশ্নগুলো হচ্ছে -
শিক্ষা কি কি উদ্দেশ্য অর্জন করবে?
কি কি শিখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিদ্যালয় উল্লিখিত উদ্দেশ্য অর্জন করবে?
এ সকল শিখন অভিজ্ঞতা কি উপায়ে সংগঠন ও বিন্যাস করা যাবে?
উদ্দেশ্যগুলো অর্জিত হয়েছে কি না তা কিভাবে যাচাই করা যাবে?
উপরিউক্ত প্রশ্নসমূহ থেকে এটা স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, একটি শিক্ষাক্রমে উদ্দেশ্য, শিখন অভিজ্ঞতা, শিখন অভিজ্ঞতার সংগঠন ও বিন্যাস এবং এসব শিখন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাত্রা নিরূপণের জন্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়া - এই চারটি দিক অন্তর্ভুক্ত থাকে।
(Tyler, R.W. (1949). Basic Principles of Curriculum and Instruction. Chicago, Ill.: University of Chicago Press.)
শিক্ষাক্রমে বিষয়বস্তু বিন্যাসের ঐতিহ্যগত নীতি:
- সহজ থেকে জটিল (যেমন- বিদেশি ভাষা শিক্ষা)
- সমগ্র থেকে অংশ (যেমন- ভূগোল)
- কালক্রম অনুসারে ঘটনার বিন্যাস (যেমন- ইতিহাস)
- বর্তমান থেকে অতীত
- কাছে থেকে দূরে
- মূর্ত থেকে বিমূর্ত
- সমকেন্দ্রিক নীতি বা পেঁচানো নীতি অনুযায়ী বিন্যাস।
(শিক্ষা বিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা, মালেক, মরিয়ম, রিয়াদ প্রমুখ।)
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠ্যক্রমের আধুনিক ধারণা চালু হয়েছিল.
(Encyclopaedia Britannica)
শিক্ষাক্রম হচ্ছে শিক্ষার লক্ষ্য এবং তা অর্জনের বিশ্বদ পরিকল্পনা। শিক্ষাক্রমের পরিসর বহু বিস্তৃত। শিক্ষাক্রম পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক হল:
- শিক্ষার্থীরা কি শিখবে?
- তাকে শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি করার নির্ণায়ক কি হবে?
- কত সময় ধরে শিক্ষার্থী শিখবে এবং শিক্ষাদানে শিখনসামগ্রী কি হবে?
- কে শেখাবে এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি হবে?
- শিক্ষার্থীর অর্জিত শিক্ষাকে কিভাবে পরিমাপ করা হবে?
অর্থাৎ শিক্ষাক্রমকে কেন্দ্র করেই পুরো শিক্ষাব্যবস্থা প্রাণ লাভ করে।
(শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ''নীতি ও পদ্ধতি“, ড. মোহাম্মদ আবুল এহসান। )
লক্ষ্য হল জাতীয় নীতির অনুসরণে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণীত কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফললাভ।
উদাহরণ: শিক্ষার্থী সাংবিধানিক বিধি সম্বন্ধে অবহিত হবে।
(শিক্ষক বাতায়ন)
- শিক্ষাক্রমের শাব্দিক অর্থ যাই হোক না কেন, বর্তমানে এর পরিধি প্রসারিত হয়েছে। অতীতে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিকে সমার্থক বলে গণ্য করা হত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষাক্রমের প্রকৃতি ও পরিসর প্রসারিত হচ্ছে। শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলেছে।
(শিক্ষক বাতায়ন)
শিক্ষাবিজ্ঞানী বেনজামিন ব্লুম শিক্ষার উদ্দেশ্যের taxonomy উদ্ভাবনের মাধ্যমে তা শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহার করার একটি বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বে শিক্ষাক্রম প্রণেতাগণ এই taxonomy অনুসরণ করে শিক্ষার উদ্দেশ্য শ্রেণিকরণ করে থাকেন। Bloom’s taxonomy-তে আচরণিক ভাষায় উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়। তিনি প্রথমত উদ্দেশ্যগুলোকে তিনটি ভাগ করেছেন-
- জ্ঞান সম্বন্ধীয় (cognitive)
- অনুভূতিমূলক (affective)
- মনোপেশীজ (psychomotor)
(The Tenth Annual Curriculum Mapping Institute: Snowbird Utah, July15-18, 2004 Adapted from Benjamin Bloom)
যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমে এক নির্দিষ্ট মেয়াদকালে শিক্ষার্থীগণ কি কি যোগ্যতা কতটুকু অর্জন করবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়। এতে যোগ্যতার পরিমাণ ও পরিসর সুচিহ্নিত থাকে। যোগ্যতাসমূহ নির্বাচনের সময় জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও দক্ষতা এ ৪ প্রকার যোগ্যতার যথাযথ সংমিশ্রণ ঘটানো সম্ভব।
(শিক্ষক বাতায়ন)
শিক্ষাক্রম, শিক্ষার্থীর চাহিদা, আগ্রহ, সামর্থ, ধারণ ক্ষমতা ইত্যাদি দিককে ভিত্তি করে প্রণয়ন করতে হয়। অর্থাৎ শিক্ষাক্রম হবে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক কর্মকা-ে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখার সুযোগ থাকতে হবে।
(শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ''নীতি ও পদ্ধতি“, ড. মোহাম্মদ আবুল এহসান। )
শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কিছু একাডেমিক নীতিমালা রয়েছে। যেমন, শিক্ষানীতি এবং বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় দলিলে একটি রাষ্ট্রের শিক্ষার লক্ষ্য কী হবে সে সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা উল্লেখ থাকে। শিক্ষাক্রমে এসব দিকগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে হয়।
(স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়))
অনেকেই শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিকে একই অর্থে ব্যবহার করেন। প্রকৃতপক্ষে উভয়ের মধ্যে কতকগুলো সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। যেমন-
১। শিক্ষাক্রম একটি ব্যাপক ধারণা। পাঠ্যসূচি শিক্ষাক্রমের একটি অংশমাত্র।
২। শিক্ষাক্রম হল একটি শিক্ষাস্তরের সকল শিক্ষণীয় বিষয়ের (জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা, মূল্যবোধ ইত্যাাদি) ও কর্মকান্ডের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। আর পাঠ্যসূচি হল একটি পাঠ্যবিষয়ে কী কী বিষয়বস্তু শেখানো হবে তার তালিকা।
৩। শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য শিক্ষার্থীর সামগ্রিক জীবনের বিকাশসাধন। পক্ষান্তরে পাঠ্যসূচি শিক্ষার্থীর একটি বিশেষ দিকের বিকাশ সাধন।
৪। শিক্ষাক্রম একটি স্তরের জন্য প্রণীত হতে পারে। কিন্তু পাঠ্যসূচি একটি স্তরের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদাভাবে প্রণয়ন করতে হয়।
৫। সামগ্রিক বিচারে শিক্ষাক্রম একটি বৃক্ষ হলে পাঠ্যসূচি হবে ঐ বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা।
(স্কুল অভ্ এগ্রিকালচার এন্ড রুর্যাল ডিভেলপ্মেন্ট, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
অনুভূতিমূলক ডোমেইন (affective)
কোন বিষয় গ্রহণ ও বর্জন, পছন্দ, অনুভূতি এবং আবেগের মাত্রা ইত্যাদি অনুভূতিমূলক উদ্দেশ্যের অন্তর্গত।
অনুভূতিমূলক উদ্দেশ্যকে পাঁচটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন- (১) গ্রহণ, (২) প্রতিক্রিয়া, (৩) গুরুত্ব, (৪) সংগঠন ও (৫) বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে গুরুত্ব।
এসব অনুভূতিমূলক উদ্দেশ্যের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি কোন বিষয় সম্পর্কে কিরূপ মনোভাব, আচার আচরণ প্রকাশ করে তা জানা যায়।
(Bloom's Taxonomy, Joaja Ajayi)
জ্ঞান সম্বন্ধীয় উদ্দেশ্যকে ছয়টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
(১) স্মরণ,
(২) অনুধাবন,
(৩) প্রয়োগ,
(৪)বিশ্লেষণ,
(৫) মূল্যায়ন এবং
(৬) সৃজন।
(A taxonomy for learning, teaching, and assessing. New York: Longman. Forehand, M. (2007, July).)
- শিক্ষাক্রমের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় রৈখিক মডেলের উদ্ভাবক Tyler.
(Encyclopaedia Britannica)
- শিখন উদ্দেশ্যগুলোকে তিনটি ক্ষেত্রে ভাগ করা যায়।
ক. জ্ঞানগত ক্ষেত্র
খ. মনোপেশীজ ক্ষেত্র
গ. আবেগিক ক্ষেত্র
জ্ঞানগত ক্ষেত্রের উদ্দেশ্য চিন্তনের সাথে, মনোপেশীজ ক্ষেত্রের উদ্দেশ্য কায়িক শ্রমের সাথে এবং আবেগিক ক্ষেত্রের উদ্দেশ্য অনুভবের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
(C. Ed Program, Educational Evaluation, Bangladesh Open University)
- অনুভূতিমূলক উদ্দেশ্যকে পাঁচটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন- (১) গ্রহণ, (২) প্রতিক্রিয়া, (৩) গুরুত্ব, (৪) সংগঠন ও (৫) বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে গুরুত্ব।
(Using Bloom’s Taxonomy to Write Effective Learning Objectives, Jul 26, 2022, University of Arkansas)
- যে কার্য সম্পাদনে মন ও পেশীর সমন্বয় সাধনের কাজগুলোকে মনোপেশীজ দক্ষতা বলা যায় যেমন- বিজ্ঞানের ব্যবহারিক কাজ বা যেকোনো কায়িক শ্রমমূলক কাজ।
(শিক্ষা বিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা, মালেক, মরিয়ম, রিয়াদ প্রমুখ।)
- শিক্ষাক্রমের উদ্দেশ্য অর্জনের বাহন হল বিষয়বস্তু।
(শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ,স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
শিক্ষাক্রমের মূল উপাদান চারটি -
(১) উদ্দেশ্য
(২) বিষয়বস্তু
(৩) শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল
(৪) মূল্যায়ন
(শিক্ষাক্রম উন্নয়ন নীতি ও পদ্ধতি, ড. মোহাম্মদ আবুল এহসান।)
ব্যক্তি কীভাবে শেখে (শিখনের ক্ষেত্র) সে বিষয়ে ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ বেঞ্জামিন ব্লুম এবং তাঁর সহকর্মিরা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁদের মতে ব্যক্তি যেভাবে শেখে তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবে শিখনের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্যবস্তু (Goal) নির্ধারণ করা গেলে তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির শিখনের অগ্রগতি (Performance) পরিমাপ করা সম্ভব। বিষয়টির ওপর বেঞ্জামিন স্যামুয়েল ব্লুম ১৯৫৬ সালে ‘Taxonomy of Educational Objectives’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
(The Tenth Annual Curriculum Mapping Institute: Snowbird Utah, July15-18, 2004 Adapted from Benjamin Bloom)
শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির মধ্যে পার্থক্যঃ
অনেকেই শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিকে একই অর্থে ব্যবহার করেন। প্রকৃতপক্ষে উভয়ের মধ্যে কতক গুলো সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-
১। শিক্ষাক্রম একটি ব্যাপক ধারণা। অন্যদিকে, পাঠ্যসূচি শিক্ষাক্রমের একটি অংশমাত্র।
২। শিক্ষাক্রম হল একটি শিক্ষাস্তরের সকল শিক্ষণীয় বিষয়ের (জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা, মূল্যবোধ ইত্যাদি) ও কর্মকান্ডের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। অন্যদিকে, পাঠ্যসূচি হল একটি পাঠ্যবিষয়ে কী কী বিষয়বস্তু শেখানো হবে তার তালিকা।
৩। শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য শিক্ষার্থীর সামগ্রিক জীবনের বিকাশ সাধন। অন্যদিকে, পাঠ্যসূচি শিক্ষার্থীর একটি বিশেষ দিকের বিকাশ সাধন।
৪। শিক্ষাক্রম একটি স্তরের জন্য প্রণীত হতে পারে। অন্যদিকে, পাঠ্যসূচি একটি স্তরের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে প্রণয়ন করতে হয়।
৫। সামগ্রিক বিচারে শিক্ষাক্রম একটি বৃক্ষ হলে পাঠ্যসূচি হবে ঐ বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা।
(শিক্ষক বাতায়ন)
শিক্ষা ব্যক্তির জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ ইত্যাদির বিকাশ ও উন্নয়ন করে থাকে। এ দিকগুলোর বিকাশ ও গড়ে তোলার সামগ্রিক যোগান বা পরিকল্পনাকে সাধারণভাবে শিক্ষাক্রম বলা যায়।
(শিক্ষক বাতায়ন)
রাফ টাইলার শিক্ষাক্রমের সরাসরি সংজ্ঞা প্রদান না করে চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষাক্রমের একটি স্বচ্ছ ধারণা দানের চেষ্টা করেছেন।
এ প্রশ্নগুলো হচ্ছে -
শিক্ষা কি কি উদ্দেশ্য অর্জন করবে?
কি কি শিখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিদ্যালয় উল্লিখিত উদ্দেশ্য অর্জন করবে?
এ সকল শিখন অভিজ্ঞতা কি উপায়ে সংগঠন ও বিন্যাস করা যাবে?
উদ্দেশ্যগুলো অর্জিত হয়েছে কি না তা কিভাবে যাচাই করা যাবে?
অর্থাৎ তিনি সর্বপ্রথম শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে কী অর্জিত হবে তার উপর জোর দিয়েছেন।
( Tyler, R.W. (1949). Basic Principles of Curriculum and Instruction. Chicago, Ill.: University of Chicago Press.)
- Bloom's Taxonomy হল ১৯৫৬ সালে Benjamin Bloom কর্তৃক প্রণীত একটি শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো যা শিক্ষাগত লক্ষ্য এবং শেখার উদ্দেশ্যগুলিকে জটিলতার ভিত্তিতে শ্রেণীবদ্ধ করে।
(Encyclopaedia Britannica)
- শিক্ষাক্রমের প্রকৃতি ও পরিসর নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা নির্ধারিত হয়।
সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থা
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিত
সমাজের চাহিদা
জনগণের মৌলিক ধর্মীয় চেতনা ও বিশ্বাস
বিদ্যালয়ের বাইরের সমকালীন জীবন ব্যবস্থা
দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা
বস্তুগত সম্পদের প্রাপ্যতা
শিক্ষার্থীর চাহিদা
সমাজের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
ভবিষ্যৎ সমাজ নির্মাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের রূপরেখা ইত্যাদি।
(Goodlad, J. I. (Ed.). (1979). Curriculum Inquiry: The study of curriculum practice. New York: McGraw Hill.)
- প্রাচীনপন্থী শিক্ষাবিদদের ধারণা ছিল যে, শিশুর সুষ্ঠু মানসিক বিকাশ ঘটাতে হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে কতগুলো অপরিহার্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এগুলো হলো মাতৃভাষা, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন ও পশ্চিমা দেশের ভাবধারা। ফলে সে সময়
শিক্ষাক্রমে এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। । সে সময় শিক্ষাক্রমের মূল ফোকাস ছিল শিশুর মানসিক এবং জ্ঞানের বিকাশ। এজন্য শিক্ষাক্রমে বংশানুক্রমিক সুসংবদ্ধ জ্ঞান ও মানসিক শৃঙ্খলা অর্জনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হত।
(Bobbitt, F. (1918). The Curriculum. Boston: Houghton Mifflin. (Reprinted 1972, New York: Arno Press)
- Bloom's Taxonomy, 1956 সালে প্রণীত হয়।
(Encyclopaedia Britannica)
শিক্ষাক্রম উন্নয়ন (Curriculum Development)ঃ
বিশ শতকের ষাটের দশকে শিক্ষাব্যবস্থার একটি আবশ্যিক অঙ্গ হিসেবে শিক্ষাক্রম এর আবির্ভাব ঘটে। ফলে শিক্ষাক্রম সম্পর্কিত ধারণার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে এবং শিক্ষাক্রম উন্নয়নে আরও সুবিন্যস্ত কলাকৌশল অনুসৃত হয়। এ কারণেই শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন যে, এটি হল শিক্ষাক্রম রচনার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বিশেষ। কারণ এতে রয়েছে শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সামাগ্রিক পরিকল্পনা এবং সুবিন্যস্ত ধারাবাহিক পদ্ধতি।
(Johnson, M. (1967). Definitions and models in curriculum theory. Educational Theory )
পাঠ্যসূচি (Syllabus):
একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীতে একটি বিষয়ের জন্য প্রণীত শিক্ষাক্রমে কি কি শেখানো হবে তার তালিকার নাম পাঠ্যসূচি। পাঠ্যক্রম একটি নির্দিষ্ট কোর্স বা বিষয়ের আচ্ছাদিত পুরো একাডেমিক বিষয়বস্তু বর্ণনা করে। এটি শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যা একজন শিক্ষক বা অধ্যাপক কর্তৃক প্রণীত হয়।
শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন প্রক্রিয়ার শুরুতে একটি পাঠ্যসূচি প্রদান করা হয়। এটি মূলত শিক্ষার্থীদের বিষয়টির মধ্যে যা শিখবে এবং জমা দেবে তার বিস্তারিত রূপরেখা। পাঠ্যসূচি প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য শ্রেণী ভিত্তিক আলাদা আলাদা প্রণয়ন করতে হয়।
(শিক্ষক বাতায়ন)
জ্ঞান সম্বন্ধীয় ডোমেইন (cognitive)
- জ্ঞান সম্বন্ধীয় উদ্দেশ্যকে ছয়টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
(১) স্মরণ,
(২) অনুধাবন,
(৩) প্রয়োগ,
(৪)বিশ্লেষণ,
(৫) মূল্যায়ন এবং
(৬) সৃজন।
- জ্ঞান সম্বন্ধীয় এসব উদ্দেশ্য পুরোপুরিভাবে জানা থাকলে যে কোন বিষয়ে সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা লাভ করা এবং কার্য সম্পাদনে তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
(TAXONOMY OF EDUCATIONAL OBJECTIVES, The Classification of Educational Goals, Handbook 1 of Cognitive Domain)
মনোপেশীজ দক্ষতাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
অনুকরণ (Imitation) - যে সকল কাজ করতে গিয়ে পেশীর সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না।
হাতের কাজ (Manipulation) - আদেশ অনুসারে অথবা নির্দেশনা মোতাবেক কাজ সম্পন্ন করা।
খুটিনাটি কাজ নিখুঁতভাবে করা (Precision) - দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করা।
গ্রন্থনা (Articulation) - বিভিন্ন কার্যাদির মধ্যে ধারাবাহিকভাবে সমন্বয় সাধন করা।
সহজীকরণ (Naturalization) - প্রতিনিয়ত অনুশীলন করতে করতে স্বভাবে পরিণত হওয়ার ফলে পরবর্তী সময়ে তা স্বয়ংক্রিয় এবং স্বতঃস্ফুর্তভাবে ঘটতে থাকে।
(A Revision of Bloom's Taxonomy, Krathwahl, 2002)
- শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ উভয়ের জন্যই শিক্ষাক্রম প্রণীত হয়ে থাকে।
(শিক্ষক বাতায়ন)
যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের বৈশিষ্ট্য
যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমে এক নির্দিষ্ট মেয়াদকালে শিক্ষার্থীগণ কি কি যোগ্যতা কতটুকু অর্জন করবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়। এতে যোগ্যতার পরিমাণ ও পরিসর সুচিহ্নিত থাকে।
যোগ্যতাসমুহ নির্ধারণ বা নির্বাচনের সময় শিক্ষার্থীর বয়স ও গ্রহণ ক্ষমতার ওপর দৃষ্টি রাখা যায়।
নির্ধারিত যোগ্যতাসমুহের কাঠিণ্য অনুসারে শ্রেণীভিত্তিক বিন্যাস করা যায়। সহজ যোগ্যতা থেকে কঠিন যোগ্যতা শিখনক্রমে স্থান পায়।
যোগ্যতাসমূহ নির্বাচনের সময় জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতা এ তিন প্রকার যোগ্যতার যথাযথ সংমিশ্রণ ঘটানো সম্ভব।
এতে বিভিন্ন শিখন পদ্ধতি নির্ধারণ করা যায়।
কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনে শিক্ষার্থীর প্রকৃত অগ্রগতি যাচাই করা যায় এবং দুর্বল শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়।
(শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ,স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
শিক্ষাক্রমের ব্যবহারিক দিকের ওপর লক্ষ্য রেখে আমরা একে নিম্নরূপে সংজ্ঞায়িত করতে পারিঃ
- সুনির্দিষ্ট কয়েকটি লক্ষ্যের ভিত্তিতে নির্ণীত শিখন অভিজ্ঞতা, পঠন-পাঠন সামগ্রী এবং শিক্ষাদান কার্যাবলির সমন্বিত রূপরেখাই হচ্ছে শিক্ষাক্রম
- শিক্ষার্থীর আচার-আচরণ, মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও বাঞ্ছিত পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে তাদেরকে যথাযথ শিখন অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত সুবিন্যস্ত কর্মকাণ্ডকে শিক্ষাক্রম বলা হয়।
- বিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত একটি সুনির্দিষ্ট শিক্ষাস্তরের জন্য পূর্বনির্ধারিত ও পর্যায়ক্রমে বিন্যস্ত জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা, মূল্যবোধ ইত্যাদি অর্জন এবং তার স্বীকৃত স্বরূপকে সামগ্রিকভাবে শিক্ষাক্রম বলে।
(Johnson, M. (1967). Definitions and models in curriculum theory. Educational Theory )
ব্লুম জ্ঞানীয় ক্ষেত্রের এই বিকাশকে ছয়টি উপ-ক্ষেত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
১. জ্ঞান ( Knowledge ): জ্ঞান হলো কোনো বিষয়ে তথ্য জেনে প্রয়োজনে স্মরণ করার সামর্থ্য।
অর্থাৎ কোন বিষয়ের তথ্য, তত্ত্ব, সূত্র, সংজ্ঞা, নীতি ইত্যাদি মুখস্ত করে শিক্ষার্থী কতটুকু স্মরণ বা পুনর্ব্যক্ত করতে পারল তার সামর্থ্য বোঝায়।
২. বোধগম্যতা( Comprehension ): বোধগম্যতা হলো কোন কিছু বোঝার সামর্থ্য।
শিক্ষার্থী কোনো বিষয় শিখে তার অর্থ বা মূলভাব কতটুকু বুঝতে বা আয়ত্ত করতে পারল সেই সামর্থ্যকে বোঝায়।
৩. প্রয়োগ ( Application ): প্রয়োগ হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর সামর্থ্য।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক জ্ঞান অর্থাৎ কোনো বিষয়ের অর্জিত জ্ঞান ও বোধগম্যতাকে তারা বাস্তব ক্ষেত্রে কতটুকু কাজে লাগাতে পারছে তার সামর্থ্যকে বোঝা যায়।
৪. বিশ্লেষণ ( Analysis ): বিশ্লেষণ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনার উপাদানগুলোকে অর্থপূর্ণভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রভাবে ভাগ করার সামর্থ্য।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শেখা কোনো বিষয়বস্তু, কোনো ঘটনা, রূপ, সূত্র, উপাদান, নীতি বা ধারণা ইত্যাদি ক্ষুদ্রক্ষুদ্র রূপে ভেঙে আন্তঃসম্পর্ক বজায় রেখে উপস্থাপন করার সামর্থ্যকে বোঝায়।
৫. সংশ্লেষণ ( Synthesis ): সংশ্লেষণ হলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত উপাদানের সমন্বয়ে কোনো বিষয় সম্পর্কে সামগ্রিক মত বা ধারণা বা সিদ্ধান্ত প্রদান করার সামর্থ্য।
এর মাধ্যমে কোনো বিষয়ের উপাদানগত বিন্যাস ও গঠন অংশের সমন্বয় বিবেচনা করে কোনো সিদ্ধান্তে আসার সামর্থ্যকে বোঝায়।
৬. মূল্যায়ন ( Evaluation ): বস্তুর ধারণা বা মূল্য সম্পর্কে বিচার করাই হলো মূল্যায়ন।
(Using Bloom's Taxonomy to Write Effective Learning Objectives, 2002)
- ব্লুম-এর ট্যাক্সোনোমি অনুসারে শিক্ষার্থীর শিখন নিম্ন স্তরথেকে উচ্চ স্তরের দিকে অগ্রসর হয়। অর্থাৎ নিম্ন স্তরের জ্ঞান ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীর উচ্চ স্তরের শিখন গড়ে ওঠে। এই স্তর নির্দেশ করার জন্য শিখন ক্ষেত্রগুলোকে আবার কতগুলো উপ-ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে। এই ভাগগুলো শিক্ষার্থীরবিকাশ সহজ থেকে জটিল দিকে অগ্রসর হওয়াকে নির্দেশ করে।
(শিক্ষক বাতায়ন)
শিক্ষাক্রমের প্রকৃতি ও পরিসর
• শিক্ষাক্রম হচ্ছে শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের বিশদ পরিকল্পনা। এটি কোন স্তরের বা বিষয়ের শিক্ষা সম্পর্কিত কর্মতৎপরতার সামগ্রিক নীলনকশা এবং কর্মসম্পাদনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
• শিক্ষাক্রমের পরিসর বহু বিস্তৃত। শিক্ষাক্রম কেবল একটি বিষয়ে একটি শ্রেণির জন্য প্রণীত হতে পারে। আবার একটি বিষয়ে একটি সম্পূর্ণ স্তরের জন্য শিক্ষাক্রম তৈরি হতে পারে। এছাড়া একটি শিক্ষাস্তর বা ধারার সকল বিষয় ও সকল স্তরের জন্যও এটি প্রণয়ন করা হয়।
• শিক্ষাক্রম প্রণয়নে যে দিকগুলো বিবেচনা করা হয় তা হলো শিক্ষার্থীরা কী শিখবে? কখন, কীভাবে, কার সহায়তায় এবং কত সময় ধরে শিখবে? শিক্ষাদানে কী শিখন সামগ্রী ও উপকরণ ব্যবহৃত হবে? শিক্ষকের কী যোগ্যতা থাকতে হবে? শিক্ষার্থীর অর্জনকে কীভাবে পরিমাপ করা হবে? ইত্যাদি।
• শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিখন অভিজ্ঞতা, বিষয়বস্তু, শিখন-সামগ্রী প্রণয়ন, উৎপাদন, সরবরাহ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ(বিস্তরণ), ভৌত সুবিধা, সহায়ক শিক্ষা উপকরণ, শিখন অগ্রগতি পরিমাপ ইত্যাদি সবই যেন একীভূত ও অভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়।
• শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত কাজসমূহও (পরিদর্শন, তত্ত্বাবধান, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যোগান ইত্যাদি) শিক্ষাক্রমের পরিসরের অন্তর্ভুক্ত।
• শিক্ষাক্রম যে কোন শিক্ষা ধারা (আনুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক) এবং প্রশিক্ষণের জন্য প্রণীত হতে পারে।
(শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ,স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
- যে কার্য সম্পাদনে মন ও পেশীর সমন্বয় সাধনের কাজগুলোকে মনোপেশীজ দক্ষতা বলা যায় যেমন-
বিজ্ঞানের ব্যবহারিক কাজ।
মনোপেশীজ দক্ষতাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
অনুকরণ (Imitation) - যে সকল কাজ করতে গিয়ে পেশীর সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না।
হাতের কাজ (Manipulation) - আদেশ অনুসারে অথবা নির্দেশনা মোতাবেক কাজ সম্পন্ন করা।
খুটিনাটি কাজ নিখুঁতভাবে করা (Precision) - দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করা।
গ্রন্থনা (Articulation) - বিভিন্ন কার্যাদির মধ্যে ধারাবাহিকভাবে সমন্বয় সাধন করা।
সহজীকরণ (Naturalization) - প্রতিনিয়ত অনুশীলন করতে করতে স্বভাবে পরিণত হওয়ার ফলে পরবর্তী সময়ে তা স্বয়ংক্রিয় এবং স্বতঃস্ফুর্তভাবে ঘটতে থাকে।
(Bloom's Taxonomy of Measurable Verbs, Utica University)
কেন্দ্রীয় পদ্ধতির শিক্ষাক্রম:
এ পদ্ধতিতে একদল বিশেষজ্ঞকে কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনীত করে শিক্ষাক্রম প্রণয়নের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অতঃপর প্রণীত শিক্ষাক্রম সারা দেশে প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশের শিক্ষাক্রম কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে প্রণীত হয়।
(শিক্ষক বাতায়ন)
(স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে যে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করা হয় তাকে সাধারণভাবে উদ্দেশ্য বলা হয় । উদ্দেশ্যের অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট বিবৃতি হল শিখনফল। শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট পাঠ বা কোর্সের মাধ্যমে কী অর্জন করবে সে সম্পর্কে উদ্দেশ্যের চাইতেও অপেক্ষাকৃত সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট বিবৃতি হল শিখনফল। তাই বলা যায় যে শিক্ষাক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য আচরণিক ভাষায় লিখতে হয়।
( শিক্ষাক্রম উন্নয়ন নীতি ও পদ্ধতি“, ড. মোহাম্মদ আবুল এহসান।)
শিক্ষাক্রমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল:
- যে বিষয় বা জ্ঞান সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শনাক্ত করা।
- সমাজ ও ব্যক্তির প্রয়োজনানুসারে শিক্ষার বিষয়বস্তু বিন্যাস করা
- সকল শিক্ষার্থীর গ্রহণ ক্ষমতা অনুসারে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা।
- শিক্ষার্থীর বয়স, গ্রহণ ও ধারণ ক্ষমতা অনুসারে কাজের মাত্রা ঠিক করা।
- শনাক্তকৃত বিষয়বস্তু সহজ থেকে কঠিন - এ নীতি অনুসরণে বিন্যাস করা।
- শিক্ষার্থীর সামার্থ্য অনুসারে কর্মমুখী ও বৃত্তিমূলক বিষয়াদির চয়ন ও বিন্যাস করা।
- বিষয়বস্তুর পারম্পর্য, ধারাবাহিকতা, সমন্বয় বিধান করা।
- শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদানের গুণগতমান উন্নতি করার জন্য শিক্ষক-প্রশিক্ষণ জোরদার করা।
- বিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন প্রকার কর্মতৎপরতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সর্বমুখী
- অভিজ্ঞতা প্রদানের পথ প্রশস্ত করা।
(স্কুল অভ্ এগ্রিকালচার এন্ড রুর্যাল ডিভেলপ্মেন্ট, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি))
অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগিয়ে যখন বাস্তব জীবনে কোন সমস্যা সমাধানে সমর্থ হওয়াই হল যোগ্যতা। বস্তুত যোগ্যতা একটি সুনির্দিষ্ট আচরণীয় রূপ লাভ করে। শিক্ষাক্রম হল কতকগুলো পরিকল্পিত কর্মকান্ড। এ কর্মকান্ডগুলোর মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আচরণিক পরিবর্তন হয় এবং তারা বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে। শিক্ষার্থীদের এ জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গী এবং দক্ষতাকে বলা হয় যোগ্যতা।
(Various Concepts of Curriculum and the Factors Involved in Curricula-making, Journal of Language Teaching Learning)
সময়ের পরিবর্তন, শিক্ষার বহুমুখী চাহিদা, জ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের ফলে শিক্ষাক্রমের ধারণা ও প্রকৃতি ও পরিসরের ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন
ঘটছে। তাই শিক্ষাক্রমকে গতিশীল রাখার জন্য ধারাবাহিকভাবে পরিমার্জন ও নবায়ন করতে হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া ক্রমাগত চলবে।
(স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
কয়েকজন শিক্ষাবিদ 'শিক্ষক্রম' এর সংজ্ঞায় নিম্নলিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
- হিলডা তাবার মতে যুগের চিন্তাভাবনার অবয়বহীন ফসলই হল শিক্ষাক্রম (The amorphous product of generations of thinking)। অন্য কথায়, শিক্ষাক্রমে সমকালীন জগৎ ও জীবনের প্রতিফলন ঘটে.
- হুইলার শিক্ষাক্রম বলতে শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিখন অভিজ্ঞতা নির্বাচন, বিষয়বস্তু শনাক্তকরণ, বিষয়বস্তু সংগঠন, মূল্যায়ন ইত্যাদির একটি বৃত্তাকার প্রক্রিয়াকে বুঝিয়েছেন।
- কার এর মতে বিদ্যালয় কর্তৃক পরিকল্পিত ও পরিচালিত যাবতীয় শিখন যা বিদ্যালয়ে এবং বিদ্যালয়ের বাইরে দলগত বা ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন করা হয় তাই শিক্ষাক্রম। (All learning which is planned or guided by the school whether it is carried on in groups or individually inside or outside the school).
(শিক্ষা বিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা, মালেক, মরিয়ম, রিয়াদ প্রমুখ।)
- হুইলার শিক্ষাক্রম বলতে শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিখন অভিজ্ঞতা নির্বাচন, বিষয়বস্তু শনাক্তকরণ,বিষয়বস্তু সংগঠন, মূল্যায়ন ইত্যাদির একটি বৃত্তাকার প্রক্রিয়াকে বুঝিয়েছেন। হুইলার শিক্ষাক্রম মডেল (Wheeler's Curriculum Model) হলো একটি চক্রাকার মডেল যা শিক্ষাক্রম উন্নয়নকে একটি গতিশীল এবং প্রতিক্রিয়াশীল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখে। এই মডেলে চারটি প্রধান উপাদান—উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, শিখন অভিজ্ঞতা এবং মূল্যায়ন—একে অপরের সাথে আন্তঃসম্পর্কিত এবং একটি বৃত্তাকার পথে আবর্তিত হয়, যা শিক্ষার পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে।
(Walker, D. F. (1971, November). The process of curriculum development: A naturalistic model.)
- রাল্ফ টাইলার ১৯৪৯ সালে তার বিখ্যাত পাঠ্যক্রমের মডেলটি তার ক্লাসিক বই, "বেসিক প্রিন্সিপালস অফ কারিকুলাম অ্যান্ড ইন্সট্রাকশন"-এ প্রস্তাব করেছিলেন। এই কাজটি পাঠ্যক্রম তৈরির জন্য একটি চারস্তর বিশিষ্ট রৈখিক কাঠামো প্রবর্তন করে, উদ্দেশ্য নির্ধারণের উপর জোর দেয়, শেখার অভিজ্ঞতা নির্বাচন এবং সংগঠিত করে এবং ফলাফল মূল্যায়ন করে।