পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৭ পার্ট-১) বাংলা সাহিত্য: টপিকসমূহ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ: [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, জহির রায়হান, জীবনানন্দ দাশ, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হাসান আজিজুল হক, হাসান হাফিজুর রহমান, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ। ২. অন্যান্য লেখকগণ: কাজী মোতাহার হোসেন, কামিনী রায়, কালীপ্রসন্ন সিংহ, কুসুমকুমারী দাশ, কায়কোবাদ, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, গোলাম মোস্তফা, চণ্ডীচরণ মুনশী, জাহানারা ইমাম, জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন, জন ক্লার্ক মার্শম্যান, জোশুয়া মার্শম্যান, হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, দাউদ হায়দার, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, দীনেশচন্দ্র সেন, রফিক আজাদ, হুমায়ুন কবির, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্ট-২) ১) এটমের গঠন, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, এসিড, ক্ষার, লবণ, পদার্থের ক্ষয়, সাবানের কাজ, মৌলিক কণা, ধাতব পদার্থ এবং তাদের যৌগসমূহ, অধাতব পদার্থ, জারণ-বিজারণ, তড়িৎ কোষ, অজৈব যৌগ, জৈব যৌগ, ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, শক্তির উৎস ও প্রয়োগ, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উৎস, শক্তির রূপান্তর। ২) ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, হৃদ্পিণ্ড ও হৃদরোগ, স্নায়ু ও স্নায়ুরোগ, রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, খাদ্য ও পুষ্টি, ভিটামিন, মাইক্রোবায়োলজি। ------------------ পার্ট–১ সোর্স: উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ধূমকেতু
  2. রুদ্র-মঙ্গল
  3. কবিতার কথা
  4. রাজবন্দীর জবানবন্দী
ব্যাখ্যা
• 'আমার পথ' প্রবন্ধ
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ আছে।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
.
জসীম উদ্‌দীনের ‘রঙিলা নায়ের মাঝি’ গ্রন্থটি কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক সংকলন
  3. গানের সংকলন
  4. গল্পের সংকলন
ব্যাখ্যা
• 'রঙিলা নায়ের মাঝি':
- রচয়িতা- 'জসীম উদ্‌দীন'।
- এটি একটি গানের সংকলন। 

• জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলনের নাম:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।
------------------- 
• রঙিলা নায়ের মাঝি- গানের সংকলন এর অন্তর্গত গানগুলো হলো: 
- আজ আমার মনে ত না মানেরে।
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে।
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি।
- উজান গাঙের নাইয়া।
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া।
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে।
- ও মোহন বাঁশী।
- নদীর নাই-কিনার নাইরে।
- নিশিতে যাইও ফুলবনে। 
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে।
- সিন্দুরের বেসাতি।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, ও বাংলাপিডিয়া।
.
জহির রায়হান ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্পটি কোন প্রেক্ষাপটে লিখছেন?
  1. ভাষা আন্দোলনের
  2. মুক্তিযুদ্ধের
  3. উনসত্তরের অভ্যুত্থানের
  4. দেশভাগের
ব্যাখ্যা
•‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্প:
রচয়িতা: জহির রায়হান।
প্রেক্ষাপট: মুক্তিযুদ্ধ।

• ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্পের অংশবিশেষ:
রাইফেলটা কাঁধে তুলে নিয়ে ছোট্ট টিলারটার ওপরে এসে দাঁড়াই। সামনে তাকাই। বিরাট আকাশ। একটা লাউয়ের মাচা। কচি লাউ ঝুলছে। বাতাসে মৃদু দুলছে। কয়েকটা ধানক্ষেত। দুটো তালগাছ। দূরে আর একটা গ্রাম। খবর এসেছে ওখানে ঘাঁটি পেতেছে ওরা। একদিন যারা আমাদের অংশ ছিল। একসঙ্গে থেকেছি। শুয়েছি। খেয়েছি। ঘুমিয়েছি। এক টেবিলে বসে গল্প করেছি। প্রয়োজনবোধে ঝগড়া করেছি। ভালোবেসেছি। আজ তাদের দেখলে শরীরের রক্ত গরম হয়ে যায়। চোখ জ্বালা করে ওঠে। হাত নিশপিশ করে। পাগলের মতো গুলি ছুড়ি। মারার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠি। একজনকে মারতে পারলে উল্লাসে ফেটে পড়ি। ঘৃণার থুতু ছিটোই মৃতদেহের মুখে।

উৎস: ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্প - জহির রায়হান।
.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের রচনা নয়?
  1. মহাপৃথিবী
  2. ঝরাপালক
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. বেলা অবেলা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাকে ধূসরতার কবি বলা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতদাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
"বেলা অবেলা" - নামে তাঁর কোনো সাহিত্যকর্ম নেই। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,  বাংলাপিডিয়া ।
.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান কোথায়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. বীরভূম
  3. কলকাতা
  4. কালিন্দী
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।

- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. দ্য ক্যাপটিভ লেডি
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম সাহিত্য চর্চা:
মধুসূদন ভাগ্যান্বেষণে ১৮৪৮ সালে মাদ্রাজ গমন করেন। মাদ্রাজে অবস্থানকালেই Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 
হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।

তার রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
.
”আত্মজা ও একটি করবী গাছ” - কার লেখা গল্প?
  1. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্
  2. আবু ইসহাক
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. মানিক বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আত্মজা ও একটি করবী গাছ:
হাসান আজিজুল হকের আটটি গল্পের সমাহারে রয়েছে 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থটিতে। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।

- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'পরবাসী', 'সারাদুপুর', 'অন্তর্গত নিষাদ', 'মারী', 'উটপাখি', 'সুখের সন্ধানে', 'আমৃত্যু আজীবন' এই আটটি গল্প।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইনাম,
- ফেকু,
- সুহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থ, হাসান আজিজুল হক।
.
'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনে কী ধরনের সাহিত্য স্থান পেয়েছিল?
  1. শুধু কবিতা
  2. শুধু কবিতা ও গল্প
  3. প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস
  4. শুধু গল্প
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয়।

- এই সংকলনে স্থান পেয়েছিল একুশের প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' থেকে এটি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনৈতিককর্মী মোহাম্মদ সুলতান। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি'  গানটি প্রথম এ গ্রন্থে সংকলিত হয়
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
হুমায়ুন আজাদের 'ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল' - কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৯৯
  2. ১৯৯৪
  3. ১৯৭৬
  4. ১৯৯০
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল'।
- ১৯৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- রাশেদ।
----------------------- 
• হুমায়ুন আজাদ:
হুমায়ুন আজাদের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের কামারগাঁয়ে নানা বাড়িতে। ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি জার্মানিতে মৃত্যুবরণ করেন।
- ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’।
- তার প্রথম উপন্যাস 'ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল', যা ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
-  ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস),
- পাক সার জমিন সাদ বাদ, 
- একটি খুনের স্বপ্ন, 
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০.
কথাসাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. আগুনের পরশমণি
  3. শ্যামল ছায়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনিল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
"জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলি
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ। 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ। ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।

এ প্রবন্ধে বলা হয়েছে,
- "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- তিনি বলেছেন, যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. মাল্য ও নির্মাল্য
  2. আলো ও ছায়া
  3. অশোকসঙ্গীত
  4. গুঞ্জন
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে সাহিত্য রচনা করেন -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।
 
কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
-হুতোম প্যাঁচার নকশা (মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা)।
-সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক -
  1. সীতার বনবাস
  2. সীতাহরণ
  3. প্রফুল্ল
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল,
- জনা,
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
চণ্ডীচরণ মুনশী কোন কলেজে বাঙালি ভাষার অধ্যাপক ছিলেন?
  1. প্রেসিডেন্সি কলেজ
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬.
ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত "Linguistic Survey of India" এর রচয়িতা কে?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনের ভাষা নিয়ে গবেষণা:
- ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে গ্রিয়ারসন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ইংল্যান্ড যান এবং সংগৃহীত ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত তথ্য ও উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা শুরু করেন। এ গবেষণার ফলই তাঁর জীবনের অমর কীর্তি Linguistic Survey of India।

১৯০৩-২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ২০ খন্ডে ৮০০০ পৃষ্ঠায় এ মহাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি ভারতের ভাষা-জাত-কুল সম্পর্কে যেমন বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা করেছে, তেমনি ভারতের আধুনিক ভাষাতত্ত্বের সূতিকাগার হিসেবেও কাজ করেছে। তাঁর এ অসামান্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ Order of Merit উপাধিতে ভূষিত করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭.
"সমাচার দর্পণ" পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনে
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• "সমাচার দর্পণ" পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন - জন ক্লার্ক মার্শম্যান। তিনি পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন।
------------------------- 
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:

- ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৮.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও কোন গোষ্ঠীর প্রবক্তা ছিলেন?
  1. ব্রাহ্ম সমাজ
  2. ইয়ংবেঙ্গল
  3. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  4. ভারতীয় সাহিত্য পরিষদ
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।

- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ছিলো - ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।

উল্লেখ্য, 
- ‘ইয়ং বেঙ্গলে’ ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার কোন সাহিত্য শাখায় বিশেষ পরিচিত?
  1. শিশু সাহিত্য
  2. মহাকাব্য
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক ‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

উল্লেখ্য, 
বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত -
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
"মিছিলে তোমার মুখ, মায়ের চোখে, আমরা যেন খাঁচায় পোষা পাখি, কবিতার এলোমেলো ভেলা" - ইত্যাদি এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্যম কবিতা।

• দাউদ হায়দার:
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত লেখক।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কোন ধরনের লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন না?
  1. কবি
  2. ঔপন্যাসিক
  3. নাট্যকার
  4. গীতিকার
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার। প্রহসন, কাব্যনাট্য, ব্যঙ্গ ও হাস্যরসাত্মক কবিতাও রয়েছে। জীবনের শেষ দশ বছর তিনি প্রধানত নাটক রচনা করেন।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কালিদাস ও ভবভূতি।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
তিনি - ঔপন্যাসিক ছিলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২২.
'নদী ও নারী' উপন্যাসের পটভূমি কোন নদীকে কেন্দ্র করে?
  1. তিতাস
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. পদ্মা
  4. মেঘনা
ব্যাখ্যা
• "নদী ও নারী" উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
রচয়িতা: হুমায়ুন কবির।
- ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।

- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

• হুমায়ুন কবির:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৩.
ম্যালিক এসিড পাওয়া যায়-
  1. আমলকিতে
  2. কমলালেবুতে
  3. তেঁতুলে
  4. আপেলে
ব্যাখ্যা
- আপেল, আনারসে ম্যালিক এসিড বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।

উল্লেখ্য,
- টমেটোতে অক্সালিক এসিড, ম্যালিক এসিড ও সাইট্রিক এসিড পাওয়া যায়।
- স্যালিসাইক্লিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২৪.
পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. সীসা
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. পারদ
ব্যাখ্যা
• কার্বন:
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক।
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল‍্যাক।

• গ্রাফাইটের ব্যবহার:
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক/মডারেটর হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান।
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।
- এ ছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গলিত ধাতব লবণের তড়িৎ বিশ্লেষণে গ্রাফাইট অ্যানোড ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ- NaCl-এর তড়িৎ বিশ্লেষণ থেকে সোডিয়াম নিষ্কাশনে, KCI থেকে K, MgCl₂ থেকে Mg, CaCl₂ থেকে Ca প্রভৃতি ধাতু আহরণে গ্রাফাইট ইলেকট্রোড ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২৫.
পিঁপড়ার কামড়ে জ্বালাপোড়া করে কোন রাসায়নিক পদার্থের কারণে?
  1. ফরমিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. জিংক সালফাইড
ব্যাখ্যা
• ফরমিক এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
- আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়া হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়।
- এসব জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, যা নিষ্ক্রিয় করতে জিংক কার্বোনেট, বেকিং সোডা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে,
- আপেল, টমেটোতে ম্যালিক এসিড পাওয়া যায়।
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড পাওয়া যায়।
- সাপের বিষে জিংক সালফাইড  পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২৬.
যদি কোন যৌগের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে তাহলে যৌগটি-
  1. অম্ল
  2. ক্ষার
  3. লবণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- উদাহরণ: : সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৭.
কোন যৌগটি সাবানকে শক্ত করে?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম সিলিকেট
  3. সোডিয়াম গ্লটামেট
  4. সোডিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R- COOK)।
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- 'সোডিয়াম সিলিকেট(Na2SiO3) ' সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি।
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮.
চিপসের প্যাকেটে থাকে-
  1. নাইট্রোজেন গ্যাস
  2. হাইড্রোজেন গ্যাস
  3. অক্সিজেন গ্যাস
  4. হিলিয়াম গ্যাস
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন গ্যাসের  ব্যবহার:
- সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতিতে ব্যবহৃত হয়,
- চিপসের প্যাকেটে নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- এই নাইট্রজেন গ্যাস খাবারের গুণগত মান বজায় রাখে যা বিভিন্ন ধরনের চাপ থেকে উপাদানগুলোর গুঁড়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
- ইউরিয়া সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও,
- সবচেয়ে হালকা গ্যাস - হাইড্রোজেন।
- দিয়াশলাই এর মাথায় থাকে - লোহিত  ফসফরাস।
- অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারে থাকে - তরল কার্বন ডাই অক্সাইড।

উৎস: তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান বই ও ব্রিটানিকা।
২৯.
ফরমালিন কী?
  1. ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণ
  2. ফরমালডিহাইডের ৩০% জলীয় দ্রবণ
  3. ফরমালডিহাইডের ১০% জলীয় দ্রবণ
  4. ফরমালডিহাইডের ৬০% জলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা
• ফরমালিন:
- মিথান্যাল বা ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- ফরমালিনে শতকরা ৪0% মিথান্যাল, ৫২% পানি ও ৮% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে।
 
এছাড়াও
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

উৎস: রসায়ন, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
৩০.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি?
  1. হীরক
  2. ইস্পাত
  3. টাইটেনিয়াম
  4. প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা
• কার্বন:
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক।
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়।
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস  তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
রাডারে কোন তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়?
  1. এক্স-রে
  2. অবলোহিত রশ্মি
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ:
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করে দ্রুত খাবার গরম বা রান্না করা যায়।
- রাডার সিস্টেমে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে বস্তুর দূরত্ব, গতি এবং অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। 
- মাইক্রোওয়েভ ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ এবং অন্যান্য ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• এক্স-রে: 
- বিভিন্ন প্রকার রোগের কারণ অনুসন্ধানে, ক্যান্সার কোষ ধ্বংসের জন্য এই রশ্মি ব্যবহার করা হয়।
- তবে এই রশ্মি কোনো জীবিত কোষে আপতিত হলে সেই কোষ ধ্বংস করে।
- কেলাসিত পদার্থের গঠন অনুসন্ধানে এই রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

• রেডিও তরঙ্গঃ
- মোবাইল ফোন, বিমান চালনা, রেডিও এবং টিভি সংক্রান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

• অবলোহিত রশ্মিঃ
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে, কম্পন সংক্রান্ত বর্ণালী বিদ্যায় এবং অবলোহিত ফটোগ্রাফিতে এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এইচএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
৩২.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে তাপ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়?
  1. মোটর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. ডায়নামো
  4. লাউড স্পিকার
ব্যাখ্যা
• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
- কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়।
- এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়।
- যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়।
- আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
- এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

অন্যদিকে,
- মোটর বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- ট্রান্সফরমার বিদ্যুৎ বিভব বাড়ান কমানোর কাজ করে।।
- লাউড স্পিকার বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
যে সকল প্রাণী এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে রোগ জীবাণু বহন করে, তাদের কী বলে?
  1. এজেন্ট
  2. হোস্ট
  3. ভেক্টর
  4. হোস্টেজ
ব্যাখ্যা
• ভেক্টর (Vector):
- যে সকল প্রাণী এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে রোগ জীবাণু বহন করে, তাদের রোগ বাহক বা ভেক্টর (Vector) বলে।
- ভেক্টর এমন প্রাণী, সাধারণত কীটপতঙ্গ বা আর্থ্রোপড, যারা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু (যেমন, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্রোটোজোয়া) বহন করে এবং এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে স্থানান্তর করে।
- এরা নিজে রোগ সৃষ্টি করে না, তবে রোগ ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণ:
• মশা:
- এডিস মশা: ডেঙ্গু এবং জিকা ভাইরাস বহন করে।
- কিউলেক্স মশা: ফাইলেরিয়া রোগ ছড়ায়।
- এনোফিলিস মশা: ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি প্রাণীবিজ্ঞান।
৩৪.
মানব রক্তের হিমোগ্লোবিনের কাজ কী?
  1. রোগ প্রতিরোধ করা
  2. রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করা
  3. এলার্জি প্রতিরোধ করা
  4. অক্সিজেন পরিবহণ করা
ব্যাখ্যা
• অক্সিজেন পরিবহন (Transportation of Oxygen):
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়।
- ৯৭- ৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে।
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত।
- একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে।
- ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

অন্যদিকে,
- শ্বেত রক্তকনিকা রোগ প্রতিরোধে সহয়তা করে এবং এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
ডায়াস্টোলিক চাপ বলতে কী বুঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারন
  3. ফুসফুসের সংকোচন
  4. ফুসফুসের প্রসারন
ব্যাখ্যা
• হৃৎপিণ্ড (Heart):
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত।
- হৃৎপিণ্ড ক্রমাগত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করে।
- হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে, যা নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হলে একে সিস্টোল (systole) এবং প্রসারিত হলে একে ডায়াস্টোল (diastole) বলে।
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন নিলয় ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
চিন্তার সঙ্গে মস্তিস্কের যে অংশের সম্পর্ক তাকে কী বলা হয়?
  1. সেরিবেলাম
  2. সেরেব্রাম
  3. থ্যালামাস
  4. হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে) এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
- দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
কাজঃ বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

অন্যদিকে,
- থ্যালামাস: সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়। মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়। ঘুমন্ত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্পর্কে সতর্ক করে তোলে।
- হাইপোথ্যালামাস: স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- সেরেবেলাম: দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করে। পেশির টান ও দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস:প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী-
  1. ইথার
  2. এস্টার
  3. ইথিলিন
  4. এলকোহল
ব্যাখ্যা
• এস্টার (Ester):
- এস্টার হলো এমন যৌগ, যা কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের (-COOH) হাইড্রোক্সিল (-OH) অংশ প্রতিস্থাপন করে অ্যালকক্সি (-OR) বা অ্যারাইলক্সি (-OAr) দ্বারা গঠিত হয়।
- এস্টারের সাধারণ কার্যকরী মূলক হলো -CO-O-R।
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সাধারণত সুগন্ধিযুক্ত।
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- রাসায়নিকভাবে সংশ্লেষিত এস্টার ব্যবহার করে কৃত্রিম ফলের সুগন্ধি প্রস্তুত করা হয়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
নিচের কোন ধাতুর গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম?
  1. পারদ
  2. গ্যালিয়াম
  3. সীসা
  4. সিজিয়াম
ব্যাখ্যা
• গলনাঙ্ক:
- যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে, তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
- অপশনের পদার্থ গুলোর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম; যার মান -৩৮.৮৩°C।
- ফলে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল পদার্থ।

অন্যদিকে,
- গ্যালিয়াম এর গলনাঙ্ক - ২৯.৭৬৪৬ °সে।
- সীসার গলনাঙ্ক - ৩২৭°C।
- সিজিয়াম গলনাঙ্ক - ২৮.৪ °C ।

 উৎস: ব্রিটানিকা।
৩৯.
ডিমের কুসুমে কোন প্রোটিন বিদ্যমান?
  1. অ্যালবুমিন
  2. গ্লোবিউলিন
  3. গ্লুটেনিন
  4. হিস্টোন
ব্যাখ্যা
• গ্লোবিউলিন (Globulin): 
- জাতীয় প্রোটিন পানিতে দ্রবীভূত হয় না কিন্তু লবণের দ্রবণে দ্রবীভূত হয়।
- উচ্চতাপে গ্লোবিউলিন সহজে জমাট বাঁধে।
- যেমন: ডিমের কুসুম (অভোগ্লোবিউলিন), রক্তরস (সিরাম গ্লোবিউলিন), চোখের লেন্স (ক্রিস্টালিন গ্লোবিউলিন), মাংসপেশি (মায়োসিন গ্লোবিউলিন) ইত্যাদি গ্লোবিউলিন প্রোটিনের উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
- গ্লুটেলিন (Glutelin): এসব প্রোটিন লঘু অম্লিয় ও ক্ষারিয় দ্রবণে দ্রবীভূত হয়। এ প্রোটিনগুলো উত্তাপে জমাট বাঁধে না। যেমন-ধানের অরাইজেনিন এবং গমের গুটেলিন।
- হিস্টোন (Histone): এ জাতীয় প্রোটিন পানি অথবা পাতলা ক্ষার বা এসিড দ্রবণে দ্রবীভূত হয় এবং উত্তাপে সহজে জমে না। হিস্টোনে ক্ষারীয় অ্যামিনো এসিড যেমন-আরজিনিন ও লাইসিন থাকে। 
- অ্যালবুমিন (Albumin): যে সব প্রোটিন পানিতে বা লবণের দ্রবণে সহজে দ্রবীভত হয়ে ঘোলাটে দ্রবণ তৈরি করে তাদের অ্যালবুমিন বলে।যেমন- ডিমের সাদা অংশ, রক্তরস ও লসিকার সিরাম।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৪০.
পানির লবণাক্ততা কোনটির মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?
  1. গ্লুকোমিটার
  2. হ্যালোমিটার
  3. স্যালিনোমিটার
  4. এডাফিমিটার
ব্যাখ্যা
• লবণাক্ততা:
- পানিতে উপস্থিত দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ ।
- জলের প্রাকৃতিক সংস্থাগুলিতে, লবণাক্ততা সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি পরিমাপ (NaCl; সাধারণ লবণ)।
- ম্যাগনেসিয়াম , সালফেট , ক্যালসিয়াম, এবং অন্যান্য আয়ন অল্প ঘনত্বে লবণাক্ততায় অবদান রাখে।
- লবণাক্ততা সাধারণত একটি স্যালিনোমিটার দিয়ে পরিমাপ করা হয় ।
- যা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে উপস্থিত লবণের পরিমাণ বা ওজন গণনা করে।
- একে এককে প্রকাশ করা যেতে পারে যেমন পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম) এবং প্রতি কিলোগ্রাম পানিতে গ্রাম লবণ (যাকে ব্যবহারিক লবণাক্ততা একক [psu] বলা হয়) বা সাধারণ শতাংশ হিসাবে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪১.
যক্ষ্মার টিকা কোনটি?
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিপিটি
  4. ওপিভি
ব্যাখ্যা
- যক্ষ্মার টিকা হলো BCG(Bacillus Calmatte Guerin) । 
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন। 
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। 

অন্যদিকে,
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়। 
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine). 
- হাম রোগের টিকা এমএমআর। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪২.
রক্তশূণ্যতা দেখা দেয় কোনটির অভাবে?
  1. লৌহ
  2. ভিটামিন A
  3. ক্যালসিয়াম
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা
• লৌহ বা আয়রণ (Fe):
- রক্তের অন্যতম প্রধান উপাদান লৌহ বা আয়রণ।
- প্রতি ১০০ মিলি রক্তের প্রায় ৫০ মিলি গ্রাম লৌহ থাকে।
- এছাড়া যকৃত, প্লিহা, অস্তিমজ্জায় লৌহ সঞ্চিত থাকে।
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে বিদ্যমান ৩-৪ গ্রাম লৌহের চার ভাগের তিন ভাগই রক্তে থাকে।
- উৎস: কাঁচা কলা, সবুজ শাক, কচু, শুকনো ফল, আপেল, কলা ইত্যাদি লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস। ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছ, মাংস ইত্যাদি লৌহের প্রাণিজ উৎস।
- কাজ : লৌহ রক্তের লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, রক্তে অক্সিজেন বহন করে।
- অভাবজনিত অবস্থা: লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন A  এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
- ক্যালসিয়াম  এর অভাবে শিশুদের রিকেট এবং বয়স্ক মহিলাদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়।
- আয়োডিন এর অভাবে গলগণ্ড রোগ হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।