পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes৬৬ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৬৭
সিলেবাস
৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড ⎯ ২] বিষয়ের নাম: বাংলা সাহিত্য সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৬৭ প্রশ্ন

.
দৌলত কাজী কোন কাব্য অবলম্বনে 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' রচনা করেন?
  1. উর্দু কবি আল্লামা ইকবালের 'শিকওয়া'
  2. হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
  3. ফারসি কবি জামীর 'লায়লী ওয়া-মজনুন'
  4. আরবি উপাখ্যান 'আলিফ লায়লা'
সঠিক উত্তর:
হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার (থিরি-থু-ধম্ম, ১৬২২-১৬৩৮) সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের মৈনাসৎ ও মোল্লা দাউদের চান্দাইন কাব্য অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়। কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমা্যন্টিক আখ্যানমূলক কাব্য।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত। হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে আর কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. মঙ্গল কবিরত্ন
  2. নাগরিক কবি
  3. অলঙ্কার কবি
  4. কাব্যভূষণ
সঠিক উত্তর:
নাগরিক কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি। ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
.
'বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।' - এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. নবান্ন
  2. খেয়াপার
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. খেয়া পারের তরণী
সঠিক উত্তর:
খেয়া পারের তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়া পারের তরণী
ব্যাখ্যা
• ''বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।'' - এই উদ্ধৃতাংশটি 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

খেয়া পারের তরণী
- কাজী নজরুল ইসলাম

‘শাফায়ত’-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল,
‘জান্নাত্’ হতে ফেলে হুরি রাশ্ রাশ্ ফুল।
শিরে নত স্নেহ-আঁখি মঙ্গল দাত্রী,
গাও জোরে সারি-গান ও-পারের যাত্রী।
বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
.
'নীলদর্পণ' নাটক প্রথম মঞ্চস্থ হয় কোথায়?
  1. বরিশাল
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য আবিষ্কার করেন কে?
  1. বসন্তরঞ্জন সাহা
  2. দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
  3. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
  4. বসন্তরঞ্জন রায়
সঠিক উত্তর:
বসন্তরঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তরঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে। বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কোন কাব্য অবলম্বনে রচিত?
  1. ভাগবত
  2. কাদম্বরী
  3. রামায়ণ
  4. মহাভারত
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
ব্যাখ্যা
'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
.
সৈয়দ সুলতানের শিষ্য ছিলেন কে?
  1. ভারতচন্দ্র
  2. মুহম্মদ খান
  3. দৌলত কাজী
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছেন কে?
  1. রাজা শিবসিংহ
  2. রাজা কৃষ্ণদাস
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
রাজা শিবসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা শিবসিংহ
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘সাত সাগরের মাঝি’ কার লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. কায়কোবাদ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে। সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
'চর্যাপদ' প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. শ্রীরামপুর মিশন
  3. এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনলিপি 'ফেরারী ডায়েরী' রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. জাহানারা ইমাম
  4. রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'ফেরারী ডায়েরী' গ্রন্থ:
- গ্রন্থটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ
- গ্রন্থটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের দিনলিপি নিয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের আলোকে রচনা করেন 'ফেরারী ডায়েরী।''

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। 
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
কবি কায়কোবাদ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ধামরাই
  2. নবাবগঞ্জ
  3. কেরানীগঞ্জ
  4. দোহার
সঠিক উত্তর:
নবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? 
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
নিষিদ্ধ লোবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
"নিষিদ্ধ লোবান" উপন্যাস:
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
- এটি আড়াই দিনের ঘটনাপ্রবাহে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনবদ্য এক উপন্যাস। এর প্রধান চরিত্র বিলকিস। অন্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে কিশোর বয়সী প্রবীর যাকে সিরাজ নাম গ্রহণ করতে হয়েছিল।
- এই উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'গেরিলা'।

অন্যদিকে,
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।

উৎস: "নিষিদ্ধ লোবান" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
কোন দুটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ? 
  1. বনলতা সেন ও উত্তর ফাল্গুনী
  2. বেলা অবেলা কালবেলা ও ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. ঝরা পালক ও মাল্যবান
  4. ছাড়পত্র ও বনলতা সেন
সঠিক উত্তর:
বেলা অবেলা কালবেলা ও ধূসর পাণ্ডুলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলা অবেলা কালবেলা ও ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ - বেলা অবেলা কালবেলা ও ধূসর পাণ্ডুলিপি

অন্যদিকে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তর ফাল্গুনী।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ - ছাড়পত্র।

জীবনানন্দ দাশ:

- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫.
‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ প্রকাশ করেছিলেন?
  1. কাঙাল হরিনাথ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
কাঙাল হরিনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঙাল হরিনাথ
ব্যাখ্যা
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকা:
- উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরের বছর (১২৭১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়) থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল (১২৭৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ) থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হয়।
- প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালিতে মথুরানাথ যন্ত্র স্থাপিত হলে সেখান থেকে মুদ্রিত হতে থাকে।
- এ ছাপাখানাটি ১৮৭৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় হরিনাথকে দান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬.
চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত এটি প্রথম প্রমাণ করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক আলোচনা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।  ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৭.
কৃত্তিবাস ওঝার অনূদিত রামায়ণের নাম কী?
  1. রামলীলা
  2. রামচরিত মানস
  3. শ্রীরাম পাঁচালি
  4. রামায়ণ মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
শ্রীরাম পাঁচালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীরাম পাঁচালি
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি ‘কৃত্তিবাস ওঝা’। কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল ‘মুখোপাধ্যায়’। কবির কাব্যের ‘আত্ম পরিচয়' অংশ থেকে তাঁর বংশ পরিচয় পাওয়া যায়।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন। তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি কে?
    অনির্ধারিত
    ব্যাখ্যা
    'মর্সিয়া' সাহিত্য:
    - কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
    - মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ।
    - তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
    - মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ।
    - রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ১৯.
    'কবর' নাটক লেখার অনুরোধ করেন কে?
    1. হাসান হাফিজুর রহমান
    2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
    3. আব্দুল মতিন
    4. রণেশ দাশগুপ্ত
    সঠিক উত্তর:
    রণেশ দাশগুপ্ত
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    রণেশ দাশগুপ্ত
    ব্যাখ্যা
    'কবর' নাটক:
    - 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
    - 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
    - জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

    মুনীর চৌধুরী:
    - মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
    - ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
    - মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
    - রক্তাক্ত প্রান্তর,
    - চিঠি,
    - দণ্ডকারণ্য,
    - পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

    উৎস:
    ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ২) বাংলাপিডিয়া।
    ২০.
    রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য -
    1. নূরনামা
    2. লাইলি মজনু
    3. জয়নবের চৌতিশা
    4. ইউসুফ জুলেখা
    সঠিক উত্তর:
    ইউসুফ জুলেখা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ইউসুফ জুলেখা
    ব্যাখ্যা
    'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
    - ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য
    - গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
    - বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। সগীর বাইবেল পড়েননি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
    - পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

    অন্যদিকে,
    - আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য - নূরনামা।
    - ‘লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
    - পনেরো শতকের কবি শেখ ফয়জুল্লাহর 'জয়নবের চৌতিশা' একটি শোককাব্য।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
    ২১.
    কার মতে চর্যাপদের ভাষা বঙ্গকামরূপী?
    1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
    2. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
    3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
    4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
    সঠিক উত্তর:
    ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
    ব্যাখ্যা
    চর্যাপদ বিষয়ক আলোচনা:
    - বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
    - ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
    - চর্যায় নাসিক্যধ্বনির প্রাধান্য ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে কেউ কেউ এ ভাষাকে পশ্চিমবঙ্গের মনে করেন। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র মতে চর্যার ভাষাকে প্রাচীন বাংলা কিংবা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী ভাষা বলাই সঙ্গত।

    উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
    ২২.
    কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক লেখা?
    1. আমার কথা
    2. আত্মকথা
    3. আত্মচরিত
    4. স্মৃতি কথামালা
    সঠিক উত্তর:
    আত্মচরিত
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    আত্মচরিত
    ব্যাখ্যা
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
    - তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
    - তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
    - বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়।
    - বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।
    - ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

    উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
    ২৩.
    'কখনো আসে নি’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন -
    1. সুভাষ দত্ত
    2. জহির রায়হান
    3. সত্যজিৎ রায়
    4. হুমায়ূন আহমেদ
    সঠিক উত্তর:
    জহির রায়হান
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    জহির রায়হান
    ব্যাখ্যা
    জহির রায়হান:
    - তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
    - জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
    - জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
    - তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। এবং পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
    - তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

    জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
    - হাজার বছর ধরে,
    - আরেক ফাল্গুন,
    - বরফ গলা নদী,
    - আর কতদিন,
    - শেষ বিকেলের মেয়ে,
    - তৃষ্ণা,
    - কয়েকটি মৃত্যু।

    উৎস:
    ১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
    ২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ২৪.
    বাংলা নাট্যের ইতিহাসে ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ কে স্থাপন করেন?
    1. দীনবন্ধু মিত্র
    2. হেরাসিম লেবেডফ
    3. তারাচরণ শিকদার
    4. প্রসন্নকুমার ঠাকুর
    সঠিক উত্তর:
    হেরাসিম লেবেডফ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    হেরাসিম লেবেডফ
    ব্যাখ্যা
    বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
    - আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
    - কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
    - বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
    - হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
    - তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
    - ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
    - বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

    উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
    ২৫.
    উল্লিখিতদের মধ্যে কে প্রাচীন যুগের কবি নন?
    1. রমনীপা
    2. জয়নন্দীপা
    3. কম্বলাম্বরপা
    4. দারিকপা
    সঠিক উত্তর:
    রমনীপা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    রমনীপা
    ব্যাখ্যা
    রমনীপা - প্রাচীন যুগের কবি নন।

    চর্যাপদের কবিগণ:
    - সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
     
    এরা হলেন:
    - কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
    ২৬.
    ‘আগুনের পরশমণি’ কোন বিষয়ের উপর রচিত উপন্যাস?
    1. রাজনীতি
    2. প্রেম ও বিচ্ছেদ
    3. মুক্তিযুদ্ধ
    4. ভাষা আন্দোলন
    সঠিক উত্তর:
    মুক্তিযুদ্ধ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    মুক্তিযুদ্ধ
    ব্যাখ্যা
    ‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
    - হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
    - উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে। উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
    - এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

    হুমায়ূন আহমেদ:
    - তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
    - হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
    - তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
    - তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
    - তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

    উৎস:
    ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ২) বাংলাপিডিয়া।
    ২৭.
    কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস কোন গ্রামে?
    1. তাম্বুলখানা
    2. পাড়াতলী
    3. কাঁঠালপাড়া
    4. দেবানন্দপুর
    সঠিক উত্তর:
    পাড়াতলী
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    পাড়াতলী
    ব্যাখ্যা
    শামসুর রাহমান:
    - তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
    - তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
    - শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

    তিনি লিখেছেন- 
    মেঘনা নদী দেবো পাড়ি কল-অলা এক নায়ে।
    আবার আমি যাবো আমার পাড়াতলী গাঁয়ে।

    শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
    - অক্টোপাস,
    - নিয়ত মন্তাজ,
    - এলো সে অবেলায়।

    শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
    - 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
    - প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
    - রৌদ্র করোটিতে,
    - বিধ্বস্ত নীলিমা,
    - নিজ বাসভূমে,
    - বন্দী শিবির থেকে,
    - ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
    - উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ ইত্যাদি।

    উৎস:
    ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ২) বাংলাপিডিয়া।
    ২৮.
    ‘ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল’ গ্রন্থটি কোন ধরনের রচনা এবং রচয়িতার নাম কী?
    1. নাটক - মুনীর চৌধুরী
    2. উপন্যাস - হুমায়ুন আজাদ
    3. প্রবন্ধ - আব্দুল মান্নান সৈয়দ
    4. উপন্যাস - শওকত ওসমান
    সঠিক উত্তর:
    উপন্যাস - হুমায়ুন আজাদ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    উপন্যাস - হুমায়ুন আজাদ
    ব্যাখ্যা
    'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
    - 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। 
    - এই উপন্যাস প্রকাশের মধেদিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন।
    - বাংলাদেশে সামরিক আইন জারীর প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

    হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
    - ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল,
    - সব কিছু ভেঙে পড়ে,
    - একটি খুনের স্বপ্ন। 

    হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:

    - নারী,
    - বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র,
    - বাক্যতত্ত্ব,
    - লাল নীল দীপাবলি,
    - কতো নদী সরোবর।

    উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস।
    ২৯.
    ‘ঘনাদা’ চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
    1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
    2. চন্দ্রকুমার দে
    3. কাঙাল হরিনাথ
    4. গোবিন্দ চন্দ্র
    সঠিক উত্তর:
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    ব্যাখ্যা
    ‘মশা’ গল্প ও ‘ঘনাদা’ চরিত্র:
    - বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি ‘ঘনাদা’ চরিত্রটি।
    - প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা চরিত্রে সৃষ্টি হয় তাঁর রচিত ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
    - শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
    - ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে।
    - কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।
    - অপরদিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কুহকের দেশে লিখে বাংলা ভাষায় এ ধারার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

    প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
    - পঞ্চশর,
    - বেনামী বন্দর,
    - পুতুল ও প্রতিমা,
    - অফুরন্ত,
    - ধূলিধূসর,
    - জলপায়রা,
    - মৃত্তিকা ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর; ‘মশা’ গল্প।
    ৩০.
    গীতগোবিন্দম্ কাব্যে মোট কতটি সর্গ আছে?
    1. ৮টি
    2. ১০টি
    3. ১২টি
    4. ১৪টি
    সঠিক উত্তর:
    ১২টি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ১২টি
    ব্যাখ্যা
    গীতগোবিন্দম্:
    - জয়দেবের বিখ্যাত রচনা গীতগোবিন্দম্। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
    - ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
    - কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য। - রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
    - ভারত ও ভারতের বাইরেও গ্রন্থটি বেশ জনপ্রিয় এবং ইংরেজিসহ ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় এটি অনূদিত হয়েছে। গীতগোবিন্দম্-এর ওপর প্রায় অর্ধশত টীকাগ্রন্থ রচিত হয়েছে।
    - গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ। এর ভাষা সহজ-সরল এবং প্রায় বাংলার কাছাকাছি। সংস্কৃত ও বাংলার যুগসন্ধিক্ষণে রচিত বলে গ্রন্থটির ভাষা এরূপ সহজ ও বাংলার অনুগামী হয়েছে।

    উৎস: বাংলাপিডিয়া।
    ৩১.
    ‘সুলতানার স্বপ্ন’ কী ধরনের রচনা?
    1. প্রবন্ধ
    2. কাব্য
    3. ছোটগল্প
    4. উপন্যাস
    সঠিক উত্তর:
    উপন্যাস
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    উপন্যাস
    ব্যাখ্যা
    রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
    - নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
    - বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
    - মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
    - 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
    - এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
    - তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
     
    তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
    - মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),  
    - সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী উপন্যাস রচনা),
    - পদ্মরাগ (উপন্যাস),
    - অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
    ৩২.
    কোন সালে বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শন রচিত হয়?
    1. ১৭৫৭ সালে
    2. ১৬০০ সালে
    3. ১৫৫৫ সালে
    4. ১৪৯৮ সালে
    সঠিক উত্তর:
    ১৫৫৫ সালে
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ১৫৫৫ সালে
    ব্যাখ্যা
    বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
    - বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
    - ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
    - ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
    - ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।

    উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
    ৩৩.
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উর্বশী' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? 
    1. বলাকা
    2. সোনার তরী
    3. মানসী
    4. চিত্রা
    সঠিক উত্তর:
    চিত্রা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    চিত্রা
    ব্যাখ্যা
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উর্বশী' কবিতাটি 'চিত্রা' কাব্যের অন্তর্গত।

    'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বিখ্যাত কবিতাসমূহ:
    - উর্বশী, 
    - বিজয়িনী, 
    - জীবনদেবতা, 
    - স্বর্গ হইতে বিদায়, 
    - ১৪০০ সাল, 
    - দুই বিঘা জমি, 
    - এবার ফিরাও মোরে ইত্যাদি।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
    - মানসী,
    - সোনার তরী,
    - চিত্রা,
    - কল্পনা,
    - ক্ষণিকা,
    - গীতাঞ্জলি,
    - বলাকা,
    - পূরবী,
    - পুনশ্চ,
    - পত্রপূট,
    - সেঁজুতি,
    - শেষলেখা,
    - কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৩৪.
    কোরেশী মাগন ঠাকুর কোন শতকের কবি? 
    1. তের শতক
    2. ষোল শতক
    3. পনের শতক
    4. সতের শতক
    সঠিক উত্তর:
    সতের শতক
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    সতের শতক
    ব্যাখ্যা
    কোরেশী মাগন ঠাকুর:
    - কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
    - তিনি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
    - তিনি মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
    - কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
    - বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল।

    উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৩৫.
    শরৎচন্দ্রের 'নারীর মূল্য' কোন ধরনের রচনা?
    1. ছোটগল্প
    2. নাটক
    3. নিবন্ধ
    4. উপন্যাস
    সঠিক উত্তর:
    নিবন্ধ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    নিবন্ধ
    ব্যাখ্যা
    ‘নারীর মূল্য’:
    - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নারী ও শিশু বিষয়ক নিবন্ধ।
    - 'নারীর মূল্য' (১৯২৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নারীর সামাজিক অধিকার ও সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ।
    - 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে 'যমুনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
    - অনিলা দেবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় বোনের নাম।

    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
    - ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
    - শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
    - তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
    - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। 

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও নারীর মূল্য- নিবন্ধ গ্রন্থ।
    ৩৬.
    চর্যাপদে কতটি প্রবাদবাক্য পাওয়া যায়?
    1. ৪টি
    2. ৫টি
    3. ৬টি
    4. ৭টি
    সঠিক উত্তর:
    ৬টি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ৬টি
    ব্যাখ্যা
    • চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি।

    এগুলো হলো:
    - অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী( ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।
    - দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
    - হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
    - হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩নং পদ)।
    - বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
    - আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৩৭.
    ‘বৈকুণ্ঠের উইল’ গ্রন্থটি কার রচনা?
    1. কাজী নজরুল ইসলাম
    2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সঠিক উত্তর:
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    ব্যাখ্যা
    'বৈকুণ্ঠের উইল' উপন্যাস:
    - 'বৈকুণ্ঠের উইল' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে রচিত হয়।
    - সহায় সম্পত্তি বিষয়-আশয়ের উইল নিয়ে দুই ভাইয়ের মনোভাবের কাহিনি নিয়েই রচিত হয়েছে 'বৈকুণ্ঠের উইল'।
    - এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- গোকুল ও বিনোদ।

    উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
    একজন ব্যবসায়ী লোক বৈকুন্ঠ মজুমদার। ব্যবসার প্রতি তাঁর যেমন আদর্শ, তেমনিই ভালোবাসা। খুব সৎভাবে পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁর ধ্বংসপ্রায় মুদির দোকানকে বড় আড়তে পরিণত করেন তিনি।
    বৈকুণ্ঠের দুই ছেলে-বড় ছেলে গোকুল এবং ছোট ছেলে বিনোদ। গোকুল হচ্ছে তাঁর প্রথম স্ত্রীর সন্তান, যখন তাঁর প্রথম স্ত্রী মারা যান তখন ছেলের দিকে তাকিয়ে আবার দ্বিতীয় বিবাহ করেন এবং সেই দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান হচ্ছে বিনোদ। গোকুল অনেকটা বোকা ধরনের কিন্তু বাবা, মা এবং ভাইয়ের প্রতি তার ভালোবাসা অনেক গভীর। পড়ালেখাতে ভালো ছিল না বিধায় সে ছোটবেলা থেকেই বাবার আড়তের কাজে লেগে যায়। অন্যদিকে বিনোদ পড়ালেখায় খুবই ভালো তাই সবার আস্থা ও আশা বেশি তাকে নিয়ে। কিন্তু বিনোদের স্বভাব-চরিত্র, চালচলনে মোটেও সন্তুষ্ট নন বাবা বৈকুণ্ঠ। বৈকুণ্ঠের কেন যেন যেন মনে হয় এত কষ্ট করে গড়ে তোলা তাঁর সহায়-সম্পদ বিনোদ আরাম-আয়েস করেই ধ্বংস করে দেবে আর এই ভাবনা থেকেই মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর স্ত্রী ভবানীর সম্মতি নিয়ে সমস্ত সম্পত্তি গোকুলের নামে উইল করে যান। গোকুল বোকাসোকা হলেও সে যথেষ্ট আদর্শবান। এই বিষয়-আশয়ের উইল নিয়ে দুই ভাইয়ের মনোভাবের কাহিনি নিয়েই রচিত হয়েছে 'বৈকুণ্ঠের উইল'।

    উৎস: 'বৈকুণ্ঠের উইল' উপন্যাস শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
    ৩৮.
    ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের নায়ক ও নায়িকা কে?
    1. অসীম ও পদ্মাবতী
    2. সাধন ও পদ্মাবতী
    3. মরদান ও পদ্মাবতী
    4. রত্নসেন ও পদ্মাবতী
    সঠিক উত্তর:
    রত্নসেন ও পদ্মাবতী
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    রত্নসেন ও পদ্মাবতী
    ব্যাখ্যা
    'পদ্মাবতী' নাটক:
    - মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য। ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন। এর রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী।
    - পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
    - হিন্দি কাব্যে সুফিবাদের প্রতিফলন আছে, কিন্তু বাংলায় তা লৌকিক প্রেমকাব্যে পরিণত হয়েছে। লোককাহিনী ও ইতিহাসের মিশ্র পটভূমিতে রচিত এ কাব্যে প্রেম, অভিযাত্রা, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও মিলন-বিরহের সমন্বয়ে মধ্যযুগীয় রোম্যান্টিক কাব্যের রসাস্বাদন করা যায়। - এ কাব্যে আলাওলের কবিত্বশক্তির পাশাপাশি ভাষাজ্ঞান ও পান্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। শিল্প ও ভাষার উৎকর্ষের জন্য পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য কাব্যের মর্যাদা লাভ করেছে।

    উৎস: বাংলাপিডিয়া।
    ৩৯.
    হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কবে গ্রন্থাকারে চর্যাপদ প্রকাশ করেন?
    1. ১৯২৩ সালে
    2. ১৯১৬ সালে
    3. ১৯০৯ সালে
    4. ১৯০৭ সালে
    সঠিক উত্তর:
    ১৯১৬ সালে
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ১৯১৬ সালে
    ব্যাখ্যা
    • মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতকগুলো পদ আবিষ্কার করেন। তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব-এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
    - এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।
    - ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন।
    - ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন। ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

    উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
    ৪০.
    'সিতারা-এ-খেদমত' ও 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি পান কে?
    1. গোলাম মোস্তফা
    2. আবুল কালাম আজাদ
    3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
    4. আবদুল কাদির
    সঠিক উত্তর:
    আবুল কালাম শামসুদ্দীন
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    আবুল কালাম শামসুদ্দীন
    ব্যাখ্যা
    আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
    - তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
    - ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
    - তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।
    - ১৯২৩ সালে দৈনিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
    - তিনি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-খিদমত (১৯৬১) এবং সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৭) উপাধিতে ভূষিত হন। কিন্তু ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরকারি দমননীতির প্রতিবাদে উভয় খেতাব বর্জন করেন।

    তাঁর রচিত গ্রন্থ:
    - কচি পাতা (শিশু সাহিত্য)
    - ত্রিস্রোতা (তুর্গেনিঙের তিনটি গল্পের অনুবাদ),
    - দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
    - ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
    - পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস),
    - অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৪১.
    রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
    1. উইলিয়াম কেরি
    2. লর্ড কার্জন
    3. দ্বিতীয় আকবর
    4. ব্রিটিশ গভর্নর
    সঠিক উত্তর:
    দ্বিতীয় আকবর
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    দ্বিতীয় আকবর
    ব্যাখ্যা
    রাজা রামমোহন রায়:
    - বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
    - ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
    - রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
    - রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
    ৪২.
    জ্ঞানদাস কোন যুগের কবি ছিলেন?
    1. উত্তর আধুনিক যুগ
    2. চৈতন্যোত্তর যুগ
    3. আধুনিক যুগ
    4. প্রাক-চৈতন্য যুগ
    সঠিক উত্তর:
    চৈতন্যোত্তর যুগ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    চৈতন্যোত্তর যুগ
    ব্যাখ্যা
    জ্ঞানদাস:
    - জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
    - তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
    - জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
    - তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
    - তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
    - প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

    উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
    ৪৩.
    কোনটি ভুসুকুপা রচিত পদ?
    1. হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী
    2. অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী
    3. হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন
    4. দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায়
    সঠিক উত্তর:
    অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী
    ব্যাখ্যা
    • অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী ( ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।

    ভুসুকুপা:

    - চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
    - তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়। তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
    - নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
    - ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
    - ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

    অন্যদিকে,
    - দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
    - হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
    - হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
    ৪৪.
    'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
    1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    2. মুহম্মদ আবদুল হাই
    3. অন্নদাশঙ্কর রায়
    4. সৈয়দ মুজতবা আলী
    সঠিক উত্তর:
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    ব্যাখ্যা
    'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র':
    - 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
    - চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

    গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ:
    - ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর যুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
    - য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
    - য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
    - পথের সঞ্চয়,
    - জাপান যাত্রী,
    - পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
    - জাভা যাত্রীর পত্র,
    - রাশিয়ার চিঠি,
    - পারস্য যাত্রী।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
    ৪৫.
    "যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।" — পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেছেন কে?
    1. সৈয়দ সুলতান
    2. আব্দুল হাকিম
    3. দৌলত কাজী
    4. আব্দুল করিম
    সঠিক উত্তর:
    আব্দুল হাকিম
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    আব্দুল হাকিম
    ব্যাখ্যা
    • 'যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা আবদুল হাকিম।
    - এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যের অন্তর্গত 'বঙ্গবানী' কবিতায় লিখেছেন।

    আব্দুল হাকিম:
    - আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
    - তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

    তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
    - ইউসুফ জোলেখা,
    - নূরনামা,
    - দুররে মজলিশ,
    - লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
    - হানি-ফার লড়াই।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৪৬.
    মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমান সাহিত্যিকদের উল্লেখযোগ্য রচনা কোনটি?
    1. মঙ্গলকাব্য
    2. জীবনী সাহিত্য
    3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
    4. নাথ সাহিত্য
    সঠিক উত্তর:
    রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
    ব্যাখ্যা
    রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
    - 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
    - অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

    রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
    - শাহ মুহম্মদ সগীর,
    - সৈয়দ সুলতান,
    - আবদুল হাকিম,
    - আলাওল,
    - কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

    'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
    - ইউসুফ-জোলেখা,
    - লায়লী মজনু,
    - মধুমালতী,
    - গুলে বকাওলী,
    - চন্দ্রাবতী,
    - পদ্মাবতী
    - সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
    ৪৭.
    ‘কাব্যসুধাকর’ কার উপাধি?
    1. শামসুর রাহমান
    2. আল মাহমুদ
    3. গোলাম মোস্তফা
    4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
    সঠিক উত্তর:
    গোলাম মোস্তফা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    গোলাম মোস্তফা
    ব্যাখ্যা
    গোলাম মোস্তফা:
    - যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
    - গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
    - ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
    - সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

    তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
    - রক্তরাগ,
    - খোশরোজ,
    - কাব্য-কাহিনী,
    - সাহারা,
    - হাসনাহেনা,
    - বুলবুলিস্তান,
    - তারানা-ই-পাকিস্তান,
    - বনিআদম।

    উৎস:
    ১) বাংলাপিডিয়া।
    ২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৪৮.
    আলাওলের হপ্তপয়কর কোন ভাষার কাব্যের অনুবাদ?
    1. ফারসি
    2. উর্দু
    3. হিন্দি
    4. আরবি
    সঠিক উত্তর:
    ফারসি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ফারসি
    ব্যাখ্যা
    'হপ্তপয়কর' কাব্য:
    - 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। এটি আলাওল রচিত কাব্য।
    - আরাকান রাজসভায় আলাওল এই কাব্য রচনা করেন। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
    - প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি / ফারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
    - রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
    - পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৪৯.
    শবরপা সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে মোট কতটি গ্রন্থ রচনা করেন?
    1. ১২টি
    2. ১৪টি
    3. ১৬টি
    4. ১৮টি
    সঠিক উত্তর:
    ১৬টি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ১৬টি
    ব্যাখ্যা
    শবরপা:
    - ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
    - তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য। শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
    - শবরপার জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
    - ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

    শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
    "উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
    মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৫০.
    'ঔরঙ্গজেব' কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
    1. মৃণালিনী
    2. রাজসিংহ
    3. কৃষ্ণকান্তের উইল।
    4. বিষবৃক্ষ
    সঠিক উত্তর:
    রাজসিংহ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    রাজসিংহ
    ব্যাখ্যা
    ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
    - ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
    - বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
    - ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
    - 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
    - উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 

    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
    - কপালকুণ্ডলা,
    - মৃণালিনী,
    - বিষবৃক্ষ,
    - ইন্দিরা,
    - যুগলাঙ্গুরীয়,
    - চন্দ্রশেখর,
    - রাধারানী,
    - রজনী,
    - কৃষ্ণকান্তের উইল।

    উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
    ৫১.
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম তারিখ ১৮৬১ সালের মে মাসের কোন তারিখ?
    সঠিক উত্তর:
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ব্যাখ্যা
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
    - তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
    - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
    - তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
    - এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
    - তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
    - ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
    ৫২.
    গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম কী?
    1. প্রেমসাগর
    2. মৈনাসত
    3. সংগীতমাধব
    4. অন্নদামঙ্গল
    সঠিক উত্তর:
    সংগীতমাধব
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    সংগীতমাধব
    ব্যাখ্যা
    গোবিন্দদাস:
    - মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
    - তাঁর আসল পদবি সেন। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
    - গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
    - গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
    - শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৫৩.
    কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আলেয়া' কোন ধরনের রচনা?
    1. গীতিনাট্য
    2. গল্প
    3. উপন্যাস
    4. প্রবন্ধ
    সঠিক উত্তর:
    গীতিনাট্য
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    গীতিনাট্য
    ব্যাখ্যা
    কাজী নজরুল ইসলাম:
    -  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
    - নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
    - বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
    - ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
    - ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
    - ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গীতিনাট্য:
    - আলেয়া,
    - মধুমালা।

    উৎস:
    ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ২) বাংলাপিডিয়া।
    ৫৪.
    ভাদেপার গুরুর নাম কী?
    1. জালন্ধরীপা
    2. ডোম্বীপা
    3. লুইপা
    4. সরহপা
    সঠিক উত্তর:
    জালন্ধরীপা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    জালন্ধরীপা
    ব্যাখ্যা
    ভাদেপা:
    - তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো। এবং শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
    - ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
    - চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

    ভাদেপা রচিত পদ:
    এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
    এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৫৫.
    পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক কে?
    1. আলাওল
    2. ফকির গরীবুল্লাহ
    3. দৌলত কাজী
    4. আমীর হামজা
    সঠিক উত্তর:
    ফকির গরীবুল্লাহ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ফকির গরীবুল্লাহ
    ব্যাখ্যা
    পুঁথি সাহিত্য:
    - পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
    - বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
    - দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
    - ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা। মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।

    উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৫৬.
    ‘রঙ্গিলা নায়ের মাঝি’ এর লেখক হলেন -
    1. অতুলপ্রসাদ
    2. ফররুখ আহমেদ
    3. জীবনানন্দ দাশ
    4. জসীম উদ্‌দীন
    সঠিক উত্তর:
    জসীম উদ্‌দীন
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    জসীম উদ্‌দীন
    ব্যাখ্যা
    'রঙিলা নায়ের মাঝি':
    - 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলনটির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন
    - এটি তাঁর রচিত একটি গানের সংকলন। সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

    'রঙিলা নায়ের মাঝি' গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংগীত:

    - আজ আমার মনে ত না মানেরে, 
    - আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে, 
    - আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি, 
    - উজান গাঙের নাইয়া, 
    - ও আমার গহিন গাঙের নায়া, 
    - ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে,
    - ও মোহন বাঁশী,
    - নদীর নাই-কিনার নাইরে,
    - নিশিতে যাইও ফুলবনে,
    - বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে,
    - সিন্দুরের বেসাতি।

    জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলন হলো:
    - রঙিলা নায়ের মাঝি,
    - গাঙ্গের পাড়,
    - জারিগান ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর; 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলন এবং বাংলাপিডিয়া।
    ৫৭.
    বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য কোনটি?
    1. রামায়ণ
    2. মঙ্গলকাব্য
    3. চর্যাপদ
    4. প্রাকৃত পৈঙ্গল
    সঠিক উত্তর:
    মঙ্গলকাব্য
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    মঙ্গলকাব্য
    ব্যাখ্যা
    মঙ্গলকাব্য:
    - দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
    - ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
    - এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
    - এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
    - মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
    - একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
    ৫৮.
    নিচের কোন সাহিত্যধারা শ্রী চৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে?
    1. প্রণয়কাব্য
    2. প্রাকৃত গীতিকাব্য
    3. মঙ্গলকাব্য
    4. বৈষ্ণব সাহিত্য
    সঠিক উত্তর:
    বৈষ্ণব সাহিত্য
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    বৈষ্ণব সাহিত্য
    ব্যাখ্যা
    শ্রী চৈতন্যদেব:
    - মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
    - শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
    - তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
    - তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’।
    - ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা: জীবনীকাব্য, বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পদাবলী
    - বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত।
    - বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
    - চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৫৯.
    নিম্নলিখিত কোন দুইটি আখ্যানকাব্য দৌলত উজির বাহরাম খানের রচনা?
    1. ইমামগনের কেচ্ছা ও ইউসুফ জুলেখা
    2. লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়
    3. ইউসুফ জুলেখা ও নূরনামা
    4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
    সঠিক উত্তর:
    লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়
    ব্যাখ্যা
    দৌলত উজির বাহরাম খান:
    - দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
    - তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
    - তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
    - তাঁর প্রকৃত নাম - আসাউদ্দীন। তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
    - দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
    ৬০.
    'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়' চরণটির রচয়িতা কে?
    1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
    2. জীবনানন্দ দাশ
    3. শামসুর রহমান
    4. কাজী নজরুল ইসলাম
    সঠিক উত্তর:
    সুকান্ত ভট্টাচার্য
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    সুকান্ত ভট্টাচার্য
    ব্যাখ্যা
    • 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা সুকান্ত ভট্টাচার্য
    আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত।  কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

    সুকান্ত ভট্টাচার্য:
    - ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
    - তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
    - তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
    - নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

    সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ:
    - পূর্বাভাস,
    - হরতাল,
    - ঘুম নেই,
    - ছাড়পত্র,
    - অভিযান।

    উৎস:
    ১) বাংলাপিডিয়া।
    ২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৬১.
    নিম্নোক্তদের মধ্যে কে 'মহুয়া' পালার চরিত্র নয়?
    1. কাজলরেখা
    2. সাধু
    3. হুমরা বেদে
    4. নদের চাঁদ
    সঠিক উত্তর:
    কাজলরেখা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    কাজলরেখা
    ব্যাখ্যা
    • 'মহুয়া' পালার চরিত্র নয়- কাজলরেখা। 
    মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকার মধ্যে একটি হচ্ছে - কাজলরেখা।

    -----------------
    'মহুয়া' পালা:

    - নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
    - এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
    - 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

    মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
    - মহুয়া,
    - নদের চাঁদ,
    - হুমরা বেদে,
    - সাধু।

    মহুয়া পালার পংক্তি:
    'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
    রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৬২.
    'Tree without Roots' কোন গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ?
    1. নীলদর্পণ
    2. বিষাদসিন্ধু
    3. লালসালু
    4. বিষবৃক্ষ
    সঠিক উত্তর:
    লালসালু
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    লালসালু
    ব্যাখ্যা
    'লালসালু' উপন্যাস:
    - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
    - লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
    - 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
    - লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, জমিল, আমেন, খালেক ব্যাপার, রহিম, আক্কাচ, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
    - কাঁদো নদী কাঁদো,
    - লালসালু,
    - চাঁদের অমাবস্যা।

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক:
    - বহিপীর,
    - তরঙ্গভঙ্গ,
    - সুড়ঙ্গ,
    - উজানে মৃত্যু।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
    ৬৩.
    অমিয় চক্রবর্তী কোন আন্দোলনের পটভূমিতে ‘বাংলাদেশ’ কবিতা রচনা করেন?
    1. কৃষক বিদ্রোহ
    2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
    3. তেভাগা আন্দোলন
    4. ভাষা আন্দোলন
    সঠিক উত্তর:
    স্বাধীনতা সংগ্রাম
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    স্বাধীনতা সংগ্রাম
    ব্যাখ্যা
    অমিয় চক্রবর্তী:
    - তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
    - ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
    - তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
    - তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
    - পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
    - তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
    - কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
    - বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

    তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
    - খসড়া,
    - এক মুঠো,
    - মাটির দেয়াল,
    - অভিজ্ঞান বসন্ত,
    - অনিঃশেষ ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
    ৬৪.
    আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার প্রথম কবি কে?
    1. সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার
    2. দিজেন্দ্রলাল রায়
    3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
    4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
    সঠিক উত্তর:
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    ব্যাখ্যা
    বিহারীলাল চক্রবর্তী:
    - বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
    - বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
    - তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
    - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
    - বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’। তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

    বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
    - স্বপ্নদর্শন,
    - সঙ্গীত শতক,
    - বঙ্গসুন্দরী,
    - নিসর্গ সন্দর্শন,
    - বন্ধু বিয়োগ,
    - সারদা মঙ্গল,
    - প্রেম প্রবাহিণী।

    উৎস:
    ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ২) বাংলাপিডিয়া।
    ৬৫.
    ‘পলাশির যুদ্ধ’ কাব্যটি কোন ধরনের সাহিত্য?
    1. সামাজিক উপন্যাস
    2. ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য
    3. ঐতিহাসিক উপন্যাস
    4. সনেট
    সঠিক উত্তর:
    ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য
    ব্যাখ্যা
    পলাশির যুদ্ধ:
    - এটি নবীনচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য।
    - পলাশি যুদ্ধ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে। ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে নবীনচন্দ্র সেন ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

    নবীনচন্দ্র সেন:
    - ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
    - তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
    - ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

    তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
    - অবকাশরঞ্জিনী,
    - পলাশীর যুদ্ধ,
    - রৈবতক,
    - কুরুক্ষেত্র,
    - প্রভাস,
    - অমৃতাভ ইত্যাদি।

    উৎস:
    ১)বাংলাপিডিয়া।
    ২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ৬৬.
    মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন কাব্য রচনা করেছেন?
    1. চণ্ডীমঙ্গল
    2. ধর্মমঙ্গল
    3. অন্নদামঙ্গল
    4. মনসামঙ্গল
    সঠিক উত্তর:
    চণ্ডীমঙ্গল
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    চণ্ডীমঙ্গল
    ব্যাখ্যা
    'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
    - 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
    - এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।  চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

    চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো:
    - দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

    মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:

    - মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন। মেদিনীপুরের রাজা রঘু নাথ রায় তাঁকে তাঁর রচনার স্বীকৃতি স্বরূপ এই উপাধি দেন।
    - মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কন) চণ্ডীমঙ্গল এর রচয়িতা। রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরধে তিনি এই কাব্য লেখেন।
    - মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা।
    - মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

    উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
    ৬৭.
    ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
    1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
    2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
    3. সুকুমার সেন
    4. আব্দুল হাই
    সঠিক উত্তর:
    ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
    ব্যাখ্যা
    ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
    - ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
    - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
    - তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
    - তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
    - ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
    - ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।