পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২০: বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি (পাহাড়, নদী, সাগর ইত্যাদি), জলবায়ু ও পরিবেশ। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কোনটি?
  1. গারো পাহাড়
  2. চন্দ্রনাথ পাহাড়
  3. কালা পাহাড়
  4. জৈয়ন্তিকা পাহাড়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী।
- গারো পাহাড় মূলত পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ গারো পাহার এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর  দ্রাঘিমাংশে এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলসমূহ এই পাহাড়ের পাদদেশীয় পালিজ সমৃদ্ধ।
 
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হচ্ছে তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।
- স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বড় আর ডং অর্থ পাহাড়। একত্রে বড় পাহাড় বা তাজিংডং।
- তাজিংডং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত। 
তাজিংডং এর উচ্চতা:
- ১২৩১ মি. বা ৪০৩৯ ফুট [সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল]।
- ১৩৭২ মি. বা ৪৫০০ ফুট [সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন]। 
- ১০০৩ মিটার [সূত্র: জেলা প্রশাসক কার্যালয়, বান্দরবান]।

- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (রুমা, বান্দরবান)।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু পাহাড় হচ্ছে গারো পাহাড়।
 
নিম্নে পাহাড় ও পর্বতের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলো -
পাহাড় (Hill)
সমুদ্রতল থেকে ৬০০-১০০০ মিটার উঁচু স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপ পাহাড় নামে পরিচিত। পর্বতের তুলনায় পাহাড় নিচু ও কম আয়তনের হয়। যেমন—গারো পাহাড়, রাজা পাহাড় ও চন্দ্রনাথ পাহাড়।

পর্বত (Mountain)
সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপ পর্বত নামে পরিচিত। পর্বতের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার মিটার হতে পারে। যেমন—কিলিমানজারো ও হিমালয় পর্বতমালা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো আর্কাইভ, কালেরকণ্ঠ , সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
.
হালদা ও বোয়ালখালি কোন নদীর উপনদী?
  1. পদ্মা নদীর
  2. ফেনী নদীর
  3. মেঘনা নদীর
  4. কর্ণফুলী নদীর
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী।
- মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের লংলেহ কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কর্ণফুলী।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি।
- অর্থাৎ হালদা ও বোয়ালখালি কর্ণফুলী নদীর উপনদী।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন মাসে বাংলাদেশের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে?
  1. নভেম্বর
  2. ডিসেম্বর
  3. জানুয়ারি
  4. ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শীতকাল:
- সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- জানুয়ারি মাসে দেশে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।

তাপমাত্রা:
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
- এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস থাকে।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এই মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

বায়ু প্রবাহ:
উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালের বাতাসের আদ্রতা অত্যন্ত কম থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আদ্রতা - ৩৬ ভাগ।

বৃষ্টিপাত:
শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
- তবে উত্তর - পূর্ব মৌসুমি বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে কিছু কিছু অঞ্চল বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় অল্প বৃষ্টিপাত হয়।
-  এর পরিমাণ ১০ সেন্টিমিটারের অধিক নয়।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।
.
কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. নিম্নতাপ
  2. নিম্নচাপ
  3. উচ্চচাপ 
  4. আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
কালবৈখাশী ঝড় (North Westerlies):
- বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো কালবৈখাশী ঝড়।
- এটি গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়।
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে আসে এবং সেই সাথে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো বাতাস প্রবাহিত হয়।
- এটিই কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। 
- কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হল নিম্নচাপ (Depression)।
- নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
- এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডাবাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়।
- ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়?
  1. খুলনা
  2. সিলেট
  3. রংপুর
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
-মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
এই ৪টি প্রকার হলো:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত 
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত 
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত এবং 
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: 
-জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি।