পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 12” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ৯ বিষয়: বাংলাদেশ বিষয়াবলি ------------------ টপিক: i) বাংলাদেশের সংবিধান (ইতিহাস, অনুচ্ছেদ, সংশোধনী ও তফসিল সমূহ)। ii) বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা [নম্বর কাভার - ৬]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশের সংবিধানের ২নং অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের জন্য কোন সংশোধনী প্রয়োগ করা হয়েছে?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. ষষ্ঠ সংশোধনী
  3. তৃতীয় সংশোধনী
  4. চতুর্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
তৃতীয় সংশোধনী:
- তৃতীয় সংশোধনী আইন সংবিধান (তৃতীয় সংশোধনী) আইন, ১৯৭৪ বলবৎ হয় ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর।
- এর দ্বারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কতিপয় ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত রেখা নির্ধারণের ব্যাপারে একটি চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে সংবিধানের ২নং অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়।

অন্যদিকে:
চতুর্থ সংশোধনী:
- ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে সংবিধানের মৌলিক সংশোধন সাধিত হয়।
- সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন ১৯৭৫ দ্বারা সংসদীয় পদ্ধতি পরিত্যক্ত হয় এবং এক-দলীয় রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়।

ষষ্ঠ সংশোধনী:
- ষষ্ঠ সংশোধনী আইন ১৯৮১ সালের সংবিধানের ৫১ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক এই আইন কার্যকর হয়।

পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় - পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয় ।
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম বারের মতো বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি থেকে সরে আসে।
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধন করায় এই সংশোধনীকে 'First distortion of Constitution' বলা হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
.
বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. উপজেলা প্রশাসন
  3. জেলা প্রশাসন
  4. বিভাগীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের "স্থানীয় প্রশাসন" একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যা সরকারের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত হয়।
→ স্থানীয় প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তর হলো উপজেলা প্রশাসন ৷ 
- বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো ৩টি স্তরে বিভক্ত।

যথা:-
১। বিভাগীয় প্রশাসন, 
২। জেলা প্রশাসন এবং
৩। উপজেলা প্রশাসন। 

এছাড়াও,
→ স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর - ইউনিয়ন পরিষদ।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৭২ সালে সংবিধান খসড়া তৈরির জন্য ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয় কত তারিখে?
  1. ১৭ এপ্রিল
  2. ১৫ এপ্রিল
  3. ১১ এপ্রিল
  4. ১৩ এপ্রিল
ব্যাখ্যা

- ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল, গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন সংবিধান খসড়া প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করেন।

• সংবিধান:

- ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- শুধু 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
- সবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

এছাড়াও, 
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

.
একজন বাংলাদেশি নাগরিক সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হতে চাইলে কত বছর বিচার বিভাগীয় পদে চাকরি করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১৫ বছর
ব্যাখ্যা
• সুপ্রীম কোর্টের গঠন:
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম হলো সুপ্রীম কোর্ট।
- এই আদালতের প্রধান হলেন প্রধান বিচারপতি।

উল্লেখ্য, 
- সুপ্রীম কোর্টে দুটি বিভাগ রয়েছে—হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ।
- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
- এরপর প্রধান বিচারপতির পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ প্রদান করেন।

এছাড়াও, 
- কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি ১০ বছর এডভোকেট হিসেবে কাজ করেন অথবা বিচার বিভাগীয় কোনো পদে ১০ বছর চাকরি করেন, তবে তিনি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সংবিধানের কোন ভাগে বাংলাদেশে আইনসভা গঠনের প্রক্রিয়া উল্লেখ আছে?
  1. সপ্তম ভাগে
  2. দ্বিতীয় ভাগে
  3. পঞ্চম ভাগে
  4. তৃতীয় ভাগে
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের পঞ্চম ভাগে বাংলাদেশে আইনসভা গঠনের প্রক্রিয়া উল্লেখ আছে। 
- পঞ্চম ভাগ -  আইনসভা (অনুচ্ছেদ ৬৫ -  অনুচ্ছেদ  ৯৩)।  

বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী,
- দশম ভাগে সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
.
কবে থেকে বাংলাদেশের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়?
  1. ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- সংবিধান রচনা ও গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার যথাক্রমে শাহ আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ উল্লাহ।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান ও বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের উপাদান?
  1. শিক্ষা
  2. সংস্কৃতি
  3. সার্বভৌমত্ব
  4. ভাষা
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্র:
- আদিম যুগে মানুষ প্রথমে গোত্রভিত্তিক জীবন যাপন করত। তারা ছোট ছোট গোষ্ঠীতে বাস করত এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার জন্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সময়ের প্রবাহে ও প্রয়োজনের তাগিদে এই গোত্রভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি সংগঠিত রূপ নেয়, এর ফলে রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

- মূলত রাষ্ট্রের সৃষ্টি মানুষের হাতেই ঘটে। রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পরিচিত। একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেককে রাষ্ট্রের সকল নিয়ম-কানুন ও আইন মান্য করতে হয়। রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব। 

• রাষ্ট্রের উপাদান:
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান পাওয়া যায়।
যথা:
(ক) জনসমষ্টি,
(খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
(গ) সরকার,
(ঘ) সার্বভৌমত্ব।

সূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী “বাংলাদেশ” এই নামে সরকার কর্তৃক বা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে?
  1. অনুচ্ছেদ - ১৪৩
  2. অনুচ্ছেদ - ১৪৬
  3. অনুচ্ছেদ - ১৪৫
  4. অনুচ্ছেদ - ১৪৯
ব্যাখ্যা
১৪৬নং অনুচ্ছেদ: বাংলাদেশের নামে মামলা:
"বাংলাদেশ"-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে।

অন্যদিকে: 
→ অনুচ্ছেদ - ১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি, 
→ অনুচ্ছেদ - ১৪৫: চুক্তি ও দলিল, 
→ অনুচ্ছেদ - ১৪৯: প্রচলিত আইনের হেফাজত। 

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- তফসিল আছে ৭টি।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
.
কোনটি বিচার বিভাগের কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে না?
  1. ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা
  3. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা
  4. আইন তৈরি করা
ব্যাখ্যা
- আইন তৈরি করা - বিচার বিভাগের কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে না। 
- আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ আইন বিভাগ।

বিচার বিভাগ:

- বিচার বিভাগ সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে অন্যতম, দেশের সমস্ত বিচারকদের নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত।
- বিচার বিভাগ বিচার পরিচালনা করে।

নিম্নে বিচার বিভাগের কার্যাবলি আলোচনা করা হলো:
বিচার সংক্রান্ত কাজ:
- বিচার বিভাগ আইনকে বাস্তবায়িত করে। এ বিভাগ দেশের আইন মোতাবেক বিচার কার্য সম্পাদন করে।
- এটা ব্যক্তির সাথে, রাষ্ট্রের সাথে, প্রতিষ্ঠানের সাথে বিরোধের মোকাবেলা সম্পন্ন করে।

সংবিধান সংরক্ষণ:
- বিচার বিভাগ সংবিধান সংরক্ষণ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক।
- সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা করে যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখে।

ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা:
- ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
- বিচার বিভাগ মামলা পরিচালনার তথ্য অনুসন্ধানের জন্য নথিপত্র দেখে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করে অপরাধীর শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা করে।

আইন সংক্রান্ত:
- বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা করে। প্রয়োজনে নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটায়।
- আইনের এ ব্যাখ্যা পরবর্তীকালে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শাসন সংক্রান্ত কাজ করা:
- বিচার বিভাগ শুধু বিচার সংক্রান্ত কাজ করে না। শাসন সংক্রান্ত কাজও করে থাকে।
- নাবালকের সম্পত্তি দেখা শোনা করা, বিদেশী নাগরিককে নাগরিকত্ব প্রদান করাও বিচারবিভাগের কাজ।

পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ:
- শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ, বিচার বিভাগের পরামর্শের প্রত্যাশী হয়।
- বিচার বিভাগ সেক্ষেত্রে তাদের জ্ঞানগর্ভ শলা-পরামর্শ বা উপদেশ প্রদান করে থাকে।

জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা:
- বিচার বিভাগ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে। শাসন বিভাগের যথেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
- এটা বিভিন্নভাবে ব্যক্তির অধিকার রক্ষার প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

তদন্ত সংক্রান্ত কাজ:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সম্পত্তি ও জানগণের নিরাপত্তা দান করতে সরকার ওয়াদাবদ্ধ থাকে।
- ফলে রাষ্ট্রে যদি কোন অন্যায় বা জোর-জবরদস্তি, অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগ তদন্ত কাজ পরিচালনা করেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্বদ্যালয়।
১০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ৩৪নং
  2. ৩১নং
  3. ৩৬নং
  4. ২৯নং
ব্যাখ্যা
• সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- অনুচ্ছেদ ৩৪ (১), ৩৪ (২ ক) অনুযায়ী সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ।
- এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
- তবে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়াও,
- ২৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা,
- ৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার,
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- তফসিল আছে ৭টি।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১১.
কোন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইন বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সরকারের এ বহুবিধ কার্য মূলত তিনটি বিভাগের মাধ্যমে সম্পাদন করে ।
- আইন বিভাগ,   
- বিচার বিভাগ, 
- শাসন বিভাগ,  

আইনসভা:
- আইনসভা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা হিসেবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের অভাব অভিযোগ তুলে ধরে।
- আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ বা আইন বিভাগ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ (House of the Nation)।
- এটি এক কক্ষবিশিষ্ট।

সূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২.
কোনটি আইন বিভাগের কার্যাবলির মধ্যে পড়ে?
  1. বিচার সংক্রান্ত
  2. আইন সংশোধন
  3. আইন প্রণয়ন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আইন বিভাগ: 
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- জবাবদিহিতা আইন বিভাগের প্রধান কাজ নয়।

সংসদের উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা ও কার্যাবলি নিম্নরূপ:
আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলি:
আইন প্রণয়ন করার কাজটি আইন সভার প্রধান কাজ।

সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন:
বাংলাদেশের আইন সভা সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।

অর্থ-সংক্রান্ত কার্যাবলি:
বাংলাদেশের আইন সভা নানাবিধ অর্থ সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।

শাসন সংক্রান্ত কার্যাবলি:
বাংলাদেশের আইন সভা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন সন্ধি বা চুক্তি অনুমোদন করা, যুদ্ধ ঘোষণা প্রভৃতি শাসন সংক্রান্ত কাজ করে থাকে।
যেমন, আইন সভার সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

বিচার সংক্রান্ত কার্যাবলি:
প্রয়োজনের নিরীখে কখনও বাংলাদেশের আইন সভা বিচার সম্পর্কিত কার্যাদিও সম্পাদন করে থাকে। এমনকি রাষ্ট্রপতিও যদি কোন গুরুতর অসদাচরণ করেন তাহলে সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ তাঁর অভিশংসন অর্থাৎ বিচারিক কাজটি করতে পারবে।

শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যাবলি:
তত্ত্বগতভাবে শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণকল্পে অর্থাৎ শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে আইন বিভাগ ভূমিকা পালন করে।

প্রতিনিধিত্বশীল কার্যাবলি:
আইন সভার সদস্যগণ নিজ নিজ এলাকার জনগণের সমস্যাবলী সম্পর্কে আইন সভায় আলোচনা করে এবং এসব পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে আইন সভা আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।

সূত্র: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
বাংলাদেশ সরকারের সকল কার্যাদি কার নামে সম্পাদিত হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পীকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. আইন সভা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের প্রধান হওয়ায় সরকারের সকল কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়।

রাষ্ট্রপতির শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা:
- রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের সর্বাধিনায়ক।
- রাষ্ট্রের প্রধান হওয়ায় সরকারের সকল কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়।
- প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তিনি অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ প্রদান করেন।
- এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি প্রধান বিচারপতি, এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দান করে থাকেন।
- তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।

সূত্র: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে?
  1. ৩৬নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩৭নং অনুচ্ছেদে
  3. ৩৮নং অনুচ্ছেদে
  4. ৩৯নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

৩৯নং অনুচ্ছেদ: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা - 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদের ১ম উপধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র নাগরিকদের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
- ২য় উপধারায় বলা হয়েছে, বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকবে।
- তবে এগুলো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা, নৈতিকতা ইত্যাদি কারণে যুক্তিসঙ্গত আইনি সীমাবদ্ধতার আওতাভুক্ত হতে পারে।
- এই অনুচ্ছেদটি ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
- সংবিধানের এই ধারার মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

অন্যদিকে: 
→ ৩৬নং অনুচ্ছেদে - চলাফেরার স্বাধীনতা, 
→ ৩৭নং অনুচ্ছেদে - সমাবেশের স্বাধীনতা
→ ৩৮নং অনুচ্ছেদে - সংগঠনের স্বাধীনতা। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১৫.
প্রধানমন্ত্রী কোন বিধি অনুযায়ী 'প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা' নিয়োগ করেন?
  1. রুলস অব প্রসিডিউর
  2. রুলস অব পার্লামেন্ট
  3. রুলস অব বিজনেস
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী:
- প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের 'রুলস অব বিজনেস' অনুযায়ী 'প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা' পদেও নিয়োগ দিতে পারেন।
- প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন এবং
- এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।
- জাতীয় সংসদের নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের প্রধান হিসেবে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সর্বাধিক।
- এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শাসন বিষয়ক, আইন বিষয়ক, নিয়োগ সংক্রান্ত, বাজেট সংক্রান্ত বিবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।
- সংবিধানের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের কমপক্ষে ৯০ শতাংশ সদস্য জাতীয় সংসদ সদস্যের মধ্য থেকে থেকে নিয়োগ প্রদান করবেন।
- এছাড়া বাইরে থেকে ১০ শতাংশ সদস্য তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ করতে পারবেন (টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী)।

সূত্র: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ডেইলি স্টার।
১৬.
সংবিধান রচনাকালীন এর ভাষাগত ত্রুটি দূর করার জন্য গঠিত কমিটির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. ড. মযহারুল ইসলাম
  3. এম মনসুর আলী
  4. শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন
ব্যাখ্যা
- ড. মযহারুল ইসলাম সংবিধান রচনাকালীন এর ভাষাগত ত্রুটি দূর করার জন্য গঠিত কমিটির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 

খসড়া সংবিধান প্রস্তুতকরণ:
- বিভিন্ন সুপারিশ ও ব্যাপক আলোচনার পর ১৯৭২ সালের ১০ জুন খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের একটি প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করেন।
- পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সংবিধান সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভের উদ্দেশ্যে কমিটির সভাপতি (আহবায়ক) ড. কামাল হোসেন ভারত ও ইংল্যান্ড সফর করেন।
- সংবিধানের আইনি ভাষা ও কারিগরি বিভিন্ন দিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ব্রিটিশ আইনি খসড়া প্রণয়ন বিশেষজ্ঞ জন গাথরিকের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, 
- সংবিধানের ভাষাগত সংস্থান ও ব্যাকরণগত ভুলত্রুটি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন
→ আহবায়ক - অধ্যাপক আনিসুজ্জামান (তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান)
→ সদস্য - ড. মযহারুল ইসলাম (বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক)
→ সদস্য - সৈয়দ আলী আহসান (তৎকালীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য)

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১৭.
বান্দরবান জেলার সংসদীয় আসন সংখ্যা কতটি?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের আসন: 
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি—প্রতিটি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- এর মধ্যে বান্দরবান জেলার জন্য নির্ধারিত আসনটি জাতীয় সংসদের ৩০০ নম্বর আসন হিসেবে চিহ্নিত।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- এর মধ্যে ৩০০টি আসনে সরাসরি জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, আর বাকি ৫০টি আসন সংরক্ষিত থাকে নারী প্রতিনিধিদের জন্য। 

এছাড়াও, 
- জাতীয় সংসদের ১ নম্বর আসন হিসেবে চিহ্নিত হলো পঞ্চগড়-১ আসন।
- দেশের রাজধানী ঢাকা জেলা সর্বাধিক ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে। 

সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
১৮.
কোন ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার রায় আসে?
  1. বিচারপতি আবু সাঈদ
  2. বিচারপতি মাজদার হোসেন
  3. বিচারপতি এম আবদুর রহমান
  4. বিচারপতি আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ:
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের জন্য মামলা করেন বিচারপতি মো. মাজদার হোসেন।
- ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর, তাঁর দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে।
- এই রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রশাসনিক ক্যাডার থেকে আলাদা করে একটি স্বাধীন জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়াও, 
- আদালত আরও নির্দেশ দেয় যে, বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- এই রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হয়ে ওঠে। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন কার্যকর করে পৃথকীকরণ বাস্তবায়ন শুরু করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৯.
সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও সদস্যদের নিয়োগের ক্ষমতা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. অনুচ্ছেদ ১৩৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৪০
  3. অনুচ্ছেদ ১৩৮
  4. অনুচ্ছেদ ১৪১
ব্যাখ্যা
- ১৩৮নং অনুচ্ছেদ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও সদস্যদের নিয়োগের ক্ষমতা সংক্রান্ত। 

কর্ম কমিশন:

- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭-১৪১নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩৭নং ধারায় বলা হয়েছে, 'আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারী কর্মকমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাইবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেইরূপ নির্ধারিত হইবে, সেইরূপ অন্যান্য সদস্যকে লইয়া প্রত্যেক কমিশন গঠিত হইবে।'
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য-নিয়োগ দেয়া হয়।
(১) প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক কমিশনের যতদূর সম্ভব অর্ধেক (তবে অর্ধেকের কম নহে) সংখ্যক সদস্য এমন ব্যক্তিগণ হইবেন, যাঁহারা কুড়ি বৎসর বা ততোধিককাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন সময়ে কার্যরত কোন সরকারের কর্মে কোন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে কোন সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে।

অন্যদিকে: 
অনুচ্ছেদ - ১৩৭: কর্ম কমিশন কমিশন-প্রতিষ্ঠা, 
অনুচ্ছেদ - ১৪০: কমিশনের দায়িত্ব, 
অনুচ্ছেদ - ১৪১: বার্ষিক রিপোর্ট। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২০.
সংবিধানের ১৮নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র কোন দুটি সামাজিক অনৈতিকতা নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে?
  1. বাল্যবিবাহ ও মানব পাচার
  2. দুর্নীতি ও ঘুষ
  3. গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা
  4. মাদক ও জঙ্গিবাদ
ব্যাখ্যা

জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা - ১৮: 
(১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 

(২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। 

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান। 

২১.
সংবিধানের ২২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র কী নিশ্চিত করবে?
  1. ধর্মনিরপেক্ষতা
  2. নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব
  3. বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ
  4. চলাফেরার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

২২নং অনুচ্ছেদ: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ- 
- রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন। 

অন্যদিকে: 
- ১২নং অনুচ্ছেদ : ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ৩৬নং অনুচ্ছেদ : চলাফেরার স্বাধীনতা।
- ৪১নং অনুচ্ছেদ : ধর্মীয় স্বাধীনতা।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।