পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

পরীক্ষাপ্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৪ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি (পাহাড়, নদী, সাগর ইত্যাদি), জলবায়ু ও পরিবেশ, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সম্পদ (বন, কৃষি, শিল্প, পানি), পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাংলাদেশের সমাজজীবন, সমস্যা, জনমিতিক পরিচয়।।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫ · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৩ প্রশ্ন

.
“মিন্টু” ও “বাহার” কোনটির উন্নত জাতের নাম? 
  1. আলু
  2. পুঁই শাক
  3. টমেটো
  4. মিষ্টি কুমড়া 
ব্যাখ্যা

ফসলের উন্নত জাতের নাম:
- 'মিন্টু' ও 'বাহার' টমেটো'র উন্নত জাতের নাম।
- টমেটো'র অন্যান্য উন্নত জাতের নাম-
- মানিক, রতন, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী, অপূর্ব।
- এগুলো হলো বাংলাদেশে উদ্ভাবিত জনপ্রিয় হাইব্রিড বা উন্নত জাতের টমেটো, যা বেশি ফলনশীল এবং স্বাদে সুস্বাদু।
-------------------------
অন্যদিকে,
• আলুর উন্নত জাতের নাম- ডায়মন্ড, কুফরী, সিন্দুরী, কার্ডিনাল।
• পুঁই শাকের উন্নত জাতের নাম- সবুজ, চিত্রা।
• মিষ্টি কুমড়ার উন্নত জাতের নাম- হাজী ও দানেশ। 
---------------------
উল্লেখ্য,
• আরও কিছু ফসলের নাম ও জনপ্রিয় জাত:
• কলা: কানাইবাসি, মোহনবাসি, অগ্নিশ্বর, বীটজবা, চম্পা। 
• পাট: সিভিএল, তোষা। 
• ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্র, মোহর, সুপার সুইট কর্ন, উত্তরণ।
• গম: বলাকা, দোয়েল, সোনালিকা, শতাব্দী, আকবর, বরকত।
• ধান: হরি, হীরা, ময়না, ইরাটম, ব্রিশাইল, চান্দিনা, মুক্তা, আশা, প্রগতি।
• আম: মহানন্দা, মোহনভোগ, গোপালভোগ, গৌড়মতি।
• তামাক: সুমাত্রা, ম্যানিলা।
• বেগুন: উত্তরা, শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, কাজল।
• তরমুজ: পদ্মা, মধুবালা।
• সরিষা: সফল, অগ্রণী, কল্যাণীয়া।
• পেয়ারা: কাজী, স্বরূপকাঠি, কাঞ্চননগর। 
• তুলা: রুপালি, ডেলফোস। 
• মরিচ: যমুনা, চন্দ্রমুখী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
বাংলাদেশে ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল- 
  1. পেট্রোলিয়াম
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কয়লা
  4. জ্বালানি তেল
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন) প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
------------------------ 
• ইউরিয়া সার:
- বাংলাদেশে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (BCIC) এর অধীনে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সার কারখানা রয়েছে।
- এই কারখানাগুলো দেশের কৃষিক্ষেত্রের জন্য ইউরিয়া এবং অন্যান্য সার উৎপাদন করে।
- ১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বাংলাদেশের প্রথম ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপিত হয়। 
- এর নাম ছিল ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড।
- এই কারখানায় ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম সালফেট সার উৎপাদন করা হতো।

- বাংলাদেশে ইউরিয়া সার তৈরির মূল কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন, CH₄)।
- মিথেন থেকে হাইড্রোজেন নেওয়া হয় এবং নাইট্রোজেনের সঙ্গে মিশিয়ে অ্যামোনিয়া (NH₃) তৈরি করা হয়, যার সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয়।
- পরে এই অ্যামোনিয়াকে Haber-Bosch প্রক্রিয়া ব্যবহার করে উচ্চ চাপে ইউরিয়া সারে রূপান্তর করা হয়।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউরিয়া সার কারখানা —যেমন যমুনা, শাহজালাল, আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল, পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড —এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সার উৎপাদন করে।
- উৎপাদিত ইউরিয়া সার দেশের কৃষিক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
সংশোধিত জাতীয় বাজেটে (২০২৫-২৬) মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে? 
  1. ৫ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা
  2. ৫ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা
  3. ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা
  4. ৫ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা
ব্যাখ্যা

• সংশোধিত জাতীয় বাজেট (২০২৫-২৬):
- ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- এই বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বাজেটটি ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
- চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমায় বাজেটের শেষ নাগাদ এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

- সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমিয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমানোর জন্য উন্নয়ন ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।
- সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা।
- এবং দেশীয় অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।
- সংশোধিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এছাড়া সংশোধিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ।
- এই ঘাটতির মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ৬৩ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকা 

.
খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের প্রধান কাঁচামাল কোনটি?
  1. কেওড়া
  2. গেওয়া
  3. সুন্দরী 
  4. ওড়া 
ব্যাখ্যা

সুন্দরবন:
- সুন্দরবন হচ্ছে বাংলাদেশের ফুসফুস।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হচ্ছে সুন্দরি।
- এছাড়া, সুন্দরবন অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে—
- গড়ান, গেওয়া, পশুর, ধুন্দুল, কেওড়া, বাইন, ওড়া, হেন্দাল ও কাঁকড়া প্রভৃতি।

- সুন্দরবনের বনসম্পদকে কেন্দ্র করে কয়েকটি শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খুলনার নিউজপ্রিন্ট মিল এবং হার্ডবোর্ড মিল।
- হার্ডবোর্ড মিল এর কাঁচামাল হিসেবে সুন্দরী বৃক্ষ ব্যবহৃত হয়।

- খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের প্রধান কাঁচামাল হলো সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ।
- এটি নিউজপ্রিন্ট তৈরির জন্য উপযুক্ত কারণ এর ফাইবারের গঠন ও গুণমান কাগজের শক্তি এবং সহনশীলতা নিশ্চিত করে।
- যদিও পরবর্তীতে আখের ছোবড়া ও অন্যান্য বিকল্প কাঁচামালের ব্যবহার চেষ্টা করা হয়েছে;
- তবুও গেওয়া কাঠ মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর; 
২. জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
কোন প্রতিষ্ঠান রিবন রেটিং পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে?
  1. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট
  3. জাতীয় বীজ বোর্ড
  4. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা

রিবন রেটিং (Ribbon Retting): 
- রিবন রেটিং হলো বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। 
- এই পদ্ধতি পাটের আঁশ আলাদা করে পচানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কাঁচা পাট গাছ কাটার পর রিবনার (Ribboner) যন্ত্রের মাধ্যমে ফিতার মতো ছাল আলাদা করা হয় এবং অল্প পানিতে পচানো হয়।

• এই পদ্ধতির প্রধান সুবিধা হলো:
- কম পানি ও সময়:
- প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় কম পানি ব্যবহার হয় এবং ৪–৫ দিন কম সময়ে উন্নত মানের আঁশ পাওয়া যায়।

- উন্নত মানের আঁশ:
- প্রাপ্ত আঁশের রঙ উজ্জ্বল এবং মান উন্নত।

- ছাল আলাদা করা সহজ:
- Ribboner যন্ত্র দিয়ে সহজেই ছাল আলাদা করা যায়।

- পচন প্রক্রিয়া:
- আলাদা ছাল কম পানিতে বা ছোট ডোবা/গর্তে পচানো যায়।

- সার হিসেবে ব্যবহার:
- অবশিষ্ট পাতা ও ছাল জমিতে পচিয়ে সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

- খরচ ও পরিবেশ বান্ধব:
- পানি সংকটের এলাকায় কার্যকর এবং পরিবেশের জন্য উপকারী।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

.
'ধলেশ্বরী' কোন নদীর শাখানদী?
  1. মহানন্দা 
  2. যমুনা
  3. পদ্মা
  4. মেঘনা 
ব্যাখ্যা

• 'ধলেশ্বরী'— যমুনা নদীর শাখানদী। 
------------------------
• যমুনা:
- যমুনা নদী মূলত ব্রহ্মপুত্র নদীর একটি শাখা।
- এটি গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- ১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প এবং ভয়াবহ বন্যার কারণে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়, যা বর্তমান যমুনা নদীর সৃষ্টি করেছে।
- প্রথমে যমুনা নদীর নাম ছিল জোনাই।
- যমুনা নদী তিস্তা নদীর মিলিত স্রোতধারার সঙ্গে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে পদ্মার সাথে যুক্ত হয়েছে।

• যমুনার শাখানদী হিসেবে রয়েছে- ধলেশ্বরী। 

• এছাড়া বিভিন্ন উপনদী রয়েছে, যেমন:
- তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, বাঙ্গালী, কালজানি, ডোরসা, যমুনেশ্বরী, দুধকুমারত, গঙ্গা, তুলসী গঙ্গা, বড়াল ও নারদ।

উৎস: ভূগোল, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ECNEC-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Economic Committee of National Economy
  2. Executive Committee of the National Economic Council
  3. Economic Council of National Executive
  4. Executive Council of National Economy 
ব্যাখ্যা

ECNEC:
- ECNEC-এর পূর্ণরূপ হলো- Executive Committee of the National Economic Council.
- বাংলায় এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি হিসেবে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের একটি প্রধান সরকারি সংস্থা।
- সংস্থাটি দেশের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের দায়িত্বে কাজ করে।
- একনেকের সভাপতি সাধারণত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এবং তার অনুপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। 
- এই কমিটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। 
- সংস্থাটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তত্ত্বাবধান ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

- একনেক মূলত এমন প্রকল্প যাচাই ও অনুমোদন করে যেগুলোর বাজেট বড়—
• সরকারি ক্ষেত্রে পাঁচ কোটি টাকার বেশি;
• এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে পনের কোটি টাকার বেশি।

- এছাড়া এটি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে;
- বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ যাচাই করে;
- এবং দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালার পর্যালোচনা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করে।

- একনেককে কখনও কখনও ‘অর্থনৈতিক মিনি-ক্যাবিনেট’ বলা হয়।
- কারণ এটি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন নিশ্চিত করে।
- দেশের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এবং বেসরকারি প্রকল্পের অনুমোদনে একনেকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
হালদা নদীর প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. কর্ণফুলী
  2. কাপ্তাই
  3. মহানন্দা
  4. ধুরুং
ব্যাখ্যা

• হালদা নদী:
- হালদা নদী পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করে।
- নদীটি হাটহাজারী, রাউজান এবং চট্টগ্রাম শহরের চাঁদগাও থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীতে মিলিত হয়।
- হালদা কর্ণফুলী নদীর উপনদী।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিমি।
- এই নদীর মাধ্যমে রামগড়ের দক্ষিণাঞ্চল থেকে কাঠ, বাঁশ, ছনসহ বনজ সম্পদ চট্টগ্রাম শহরে আনা হয়।
- নদীর নামকরণ সালদা গ্রামের পাহাড়ি ছড়া থেকে হয়েছে।

- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং।
- এটি ফটিকছড়ি উপজেলা ঘুরে হালদা নদীতে মিলিত হয়।
- নদীর গতিপথ সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে, যার কারণে ধুরুং-এর মূল স্রোতধারা শুকিয়ে আসছে।

- হালদা নদী দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউস মাছ এখানে ডিম দেয়।
- স্থানীয় জেলে ও ডিম সংগ্রহকারীরা এই সময় নদীতে অবস্থান করে এবং সংগৃহীত ডিম মাটির কুয়ায় ফোটানো হয়, যা কার্প পোনা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
------------------- 
অন্যদিকে, 
- পদ্মা নদীর প্রধান উপনদী হলো মহানন্দা। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন [লিঙ্ক]। 

.
চামড়া পাকা করা ও রং তৈরির কাজে কোন বৃক্ষের ছাল ব্যবহার করা হয়? 
  1. গেওয়া
  2. গরান 
  3. সুন্দরি
  4. গোলপাতা 
ব্যাখ্যা

বৃক্ষ:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারধৌত বনভূমি।
- এই অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে গড়ান, গেওয়া, সুন্দরী ও গোলপাতা।

- গড়ান গাছের ছালের কষ চামড়া পাকা করা (tanning) ও রং তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
- গরান বৃক্ষের ছালের কষ জাল রং করতেও ব্যবহার করা হয়। 
- গড়ানের ছাল থেকে এক ধরনের কালো বা গাঢ় রঙের রঞ্জক পাওয়া যায়, যা চামড়াকে শক্ত ও টেকসই করে তোলে।
- গড়ান একটি ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ;
- তবে দুঃখজনকভাবে এটি আইইউসিএন-এর তালিকায় বাংলাদেশের বিপন্ন প্রজাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
• গেওয়া কাঠ নিউজপ্রিন্ট ও দিয়াশলাই কারখানায় ব্যবহার করা হয়। 
• সুন্দরি বড় বড় খুঁটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
• গোলপাতা ঘরের ছাউনিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর;
২. জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১০.
'বিজু' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব? 
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. খাসিয়া
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৃহত্তম উপজাতি হলো চাকমা।
- তারা প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বসবাস করে।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে প্রভাবশালী উপজাতি।
- তাদের গ্রামকে ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’ বলা হয়।
- কয়েকটি পরিবার নিয়ে চাকমাদের গ্রাম গঠিত হয়।
- চাকমাগোষ্ঠীর গ্রামের প্রধানকে ‘কার্বারি’ বলা হয়।
- চাকমারা থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম অনুসরণ করে।
- তাদের প্রধান উৎসব হলো বিজু, যা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে পালিত হয়।
--------------------- 
অন্যদিকে,
• গারো সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব হলো ওয়ানগালা বা নবান্ন উৎসব, যা নতুন ফসল তোলার পর উদযাপিত হয়।
- এই উৎসবে তারা সূর্য দেবতা মিসি সালজংকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে।

• খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলো সেং কুটস্নেম। 
- এটি মূলত বর্ষবিদায় ও নতুন বছরের সূচনা উদযাপন করতে প্রতি বছর ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।

• ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক ও বর্ষবরণ উৎসব হলো বৈসু। 
- চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন—মোট তিন দিনব্যাপী এই উৎসব উদযাপিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

১১.
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় কত কিলোমিটার?
  1. ৮ কিলোমিটার
  2. ১২ কিলোমিটার
  3. ১৮ কিলোমিটার
  4. ২৪ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত:
- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত একটি দীর্ঘ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপূর্ণ সৈকত।
- এই সমুদ্র সৈকতটি "সাগর কন্যা" নামে পরিচিত।
- এই সৈকত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৩ কিলোমিটার প্রশস্ত। 

- সৈকতের আশেপাশে নারিকেল গাছ, ঝাউবন, নীল ঢেউ এবং রুপালি বালুকা ভূমি সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলে।
- কুয়াকাটার কাছে রাখাইন পল্লী ও বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে।
- সৈকতের আশেপাশে প্রচুর লাল কাঁকড়া দেখা যায়। 
- সৈকতের পশ্চিমদিকে অবস্থিত ফাতরার ম্যানগ্রোভ বনকে "দ্বিতীয় সুন্দরবন" বলা হয়।
- এছাড়া, সৈকতের নামকরণের পেছনে ঐতিহাসিক কুয়াটিও আছে।
- কুয়াকাটায় স্থানীয় উৎসব, তাঁতশিল্প, নৌকা বাইচ এবং মাছ ধরার মতো সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।
- এখান থেকে একই স্থানেই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়, যা বাংলাদেশের অন্য কোনো সমুদ্র সৈকতে বিরল।
- এই অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং বঙ্গোপসাগরের মনোরম দৃশ্যের কারণে পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা ‘সাগর কন্যা’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১২.
কোন নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রাকৃতিক সীমান্ত গঠন করে?
  1. নাফ নদী 
  2. হাড়িয়াভাঙ্গা নদী
  3. মাতামুহুরী নদী 
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

নাফ নদী:
- নাফ নদী বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণ দিয়ে প্রবাহিত একটি প্রধান নদী।
- এটি মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের কক্সবাজারকে বিভক্ত করে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের ও মিয়ানমারের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- নদীটি নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফ হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- নাফ নদীর ডান তীরে বাংলাদেশের টেকনাফ উপজেলা অবস্থিত।
- আর বাম তীরে মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর অবস্থিত।
- নদীটির প্রস্থ ১.৬১ থেকে ৩.২২ কিলোমিটার। 
- নদীটি জোয়ার-ভাটা প্রবণ, যার তীরবর্তী সমভূমি যেমন কদমভূমি চিংড়ি চাষে ব্যবহৃত হয়।

উল্লেখ্য, 
- মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নদীর মধ্যে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী রয়েছে।
- আর বাংলাদেশ ও ভারতকে বিভক্তকারী নদী হচ্ছে- হাড়িয়াভাঙ্গা নদী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৩.
বাংলাদেশের কোথায় প্লাইস্টোসিন কালের সোপান দেখা যায়? 
  1. কুমিল্লা 
  2. রাজশাহী
  3. নওগাঁ
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিন কালের সোপান:
- প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ হলো হিমবাহ যুগের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের ওঠানামা ও নদী উপত্যকার ক্ষয়-ক্ষতির ফলস্বরূপ গঠিত স্তরীভূত উঁচু ভূমি।
- এই সোপানসমূহ গঠিত হয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের বারবার ওঠানামা এবং নদীতে পলি জমার কারণে। 
- মাটি সাধারণত লালচে, স্তরীভূত ও অনুর্বর, যা ‘লাল মাটি’ নামে পরিচিত। 
- এগুলো প্রায় ২৫,০০০ বছর আগে গঠিত হয়েছিল এবং প্লাবনভূমির তুলনায় তুলনামূলকভাবে উঁচু ও কম প্লাবিত। 
- সোপানগুলো বেঞ্চের মতো স্তরীভূত গঠনযুক্ত এবং বাংলাদেশে প্লাইস্টোসিনকালের ভূ-প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

- প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়-
১) বরেন্দ্রভূমি;
২) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং
৩) লালমাই পাহাড়।

- বাংলাদেশে এগুলো দেখা যায়— 
- উত্তর-পশ্চিমের বরেন্দ্রভূমি (রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা),
- মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় (টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর) এবং
- দক্ষিণ-পূর্বের কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা। 

১৪.
বাংলাদেশের পাহাড়ি বনভূমি প্রধানত কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. সুন্দরবন
  2. খুলনা
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. বরিশাল 
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বন: 
- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বন প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
- এই বনভূমি অতিবৃষ্টির কারণে গড়ে উঠেছে।
- এর মোট আয়তন ১৩,৭৭,০০০ হেক্টর, যা বাংলাদেশের মোট আয়তনের প্রায় ৯.৩৩%।

- পাহাড়ি বনভূমিতে প্রধান গাছের মধ্যে রয়েছে—
- গর্জন, ময়না, তেলসুর, চাপালিশ, গামার, জারুল, কড়ই, সেগুন ও চম্পা।
- এছাড়া এখানে প্রচুর বাঁশ ও বেত জন্মায়।
- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাজারীখীল বনপ্রাণী অভয়ারণ্য অঞ্চলে বিরল প্রজাতির বৈলাম বৃক্ষ দেখা যায়। 
- বৈলাম ১০০ মিটার উচ্চতায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত।

- বনের শিল্প ও ব্যবহারিক গুরুত্ব অনুযায়ী, গর্জন ও জারুল রেলের স্লিপার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- গামার ও চাপালিশ আসবাবপত্র ও নৌকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

- বনাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে রয়েছে—
- হাতি, চিতাবাঘ, সাম্বর ও মায়া হরিণ, বন শুকর, হনুমান, বানর, উল্লুক, সজারু, বনরুই, ধনেশ, ময়ূর, শকুন, অজগর, টিয়া ও ময়না।

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর;
২. বাংলাপিডিয়া। 

১৫.
বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান কোনটি?
  1. জাফলং 
  2. মাধবপুর 
  3. মালনীছড়া 
  4. মৌলভীবাজার 
ব্যাখ্যা

চা বাগান:
- চা বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান অর্থকরী ফসল।
- চা চাষের জন্য প্রয়োজন—
• উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু (১৬°–১৭° সে. তাপমাত্রা),
• ২৫০ সে.মি. বার্ষিক বৃষ্টিপাত এবং
• আবাদি এলাকায় ৪০% ছায়া।
- চা বাগানে চায়ের চারা সমান্তরালভাবে এবং ছায়াদানকারী গাছের সঙ্গে রোপণ করা হয়।
- পাহাড়ি এলাকা ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট অঞ্চল চা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।

 - বাংলাদেশে চা চাষের ইতিহাস ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে শুরু হয়। 
- এখানে প্রথম চা তৈরি ও পান করা হয়।
- বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৪ (মতান্তরে ১৮৫৭) সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে।
- মালনীছড়া বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান;
- এবং উপমহাদেশের প্রাচীনতম চা বাগান।
- উত্তরবঙ্গে চা চাষ প্রথম শুরু হয় পঞ্চগড়ে। 
- পঞ্চগড়ে সম্প্রতি অর্গানিক চা উৎপাদনও শুরু হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৬.
বাংলাদেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানার নাম কী?
  1. যমুনা সিমেন্ট কারখানা
  2. ছাতক সিমেন্ট কারখানা
  3. শাহজালাল সিমেন্ট কারখানা
  4. ঘোড়াশাল সিমেন্ট কারখানা
ব্যাখ্যা

ছাতক সিমেন্ট কারখানা:
- ছাতক সিমেন্ট কারখানা (সুনামগঞ্জ) বাংলাদেশের প্রথম ও প্রাচীনতম সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৩৭ সালে আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট কোম্পানি নামে স্থাপিত হয়।
- কারখানাটি সুনামগঞ্জের ছাতকে, সুরমা নদীর তীরে, স্থাপিত হয়।
- ১৯৪১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু হয় এবং একই বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।
- ছাতক সিমেন্ট কারখানা বাংলাদেশের একমাত্র সমন্বিত, রাষ্ট্রায়ত্ত সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। 
- এটি দেশের সিমেন্ট শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

- স্বাধীন বাংলাদেশের পর এটি একাধিক সরকারী সংস্থার অধীনে আসে।
- পরে ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (BCIC) এর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

- প্রাথমিকভাবে কারখানা ওয়েট প্রসেস ব্যবহার করত। 
- কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের জন্য বর্তমানে ড্রাই প্রসেস লাইন স্থাপনের কাজ চলছে;
- যা দৈনিক প্রায় ১৫০০–২০০০ টন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রাখে।
- কারখানার কাঁচামাল হিসেবে চুনাপাথর আসে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ও নিজস্ব টেকেরঘাট খনি থেকে।
- আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এটি আরও লাভজনক হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭.
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় কত মিলিমিটার?
  1. ১০৫০ মি.মি.
  2. ১৫০০ মি.মি.
  3. ২০৩০ মি.মি.
  4. ২৫০০ মি.মি.
ব্যাখ্যা

বৃষ্টিপাত:
- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আদ্র এবং সমভাবাপন্ন।
- বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।
- তবে অঞ্চলভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ভিন্ন হয়।
- উত্তর ও পশ্চিমের তুলনায় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যেমন সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
- দেশের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০% বর্ষাকালীন সময়ে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) ঘটে।
- সিলেটকে সাধারণত সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতপ্রাপ্ত এলাকা হিসেবে ধরা হয়।
- বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়- লালখাল, সিলেটে।
- আর জাতীয় তথ্য বাতায়ন অনুসারে, সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়- শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারে।
- এছাড়া, বাংলাদেশে সর্বনিম্ম বৃষ্টিপাত হয়- লালপুর, নাটোরে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৮.
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ১১.৮ কিমি 
  2. ১৫ কিমি
  3. ১০.৭ কিমি
  4. ৭.৯ কিমি
ব্যাখ্যা

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার:
- দেশের দীর্ঘতম ফ্লাইওভার হলো মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার। 
- পূর্বে এটি যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার নামে পরিচিত ছিল।
- এই ফ্লাইওভার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (PPP) দেশের প্রথম প্রকল্প হিসেবে নির্মিত হয়।
- এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ৪ জুন ২০০৬ সালে। 
- নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয় ২২ জুন ২০১০ সালে।
- ফ্লাইওভারটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় ১১ অক্টোবর ২০১৩ সালে।
- মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ১১.৮ কিমি। 
- এই ফ্লাইওভার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সংযোগের মাধ্যমে যানজট কমাতে এবং দ্রুত যাত্রা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

উৎস: প্রথম আলো ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা। 

১৯.
বাংলাদেশের জার্মানিতে রপ্তানি করা সবচেয়ে বড় সমুদ্রগামী জাহাজ কোনটি?
  1. এমভি মেরিস 
  2. এমভি আনসু
  3. এমভি চট্টগ্রাম
  4. এমভি সিলেট
ব্যাখ্যা

‘এমভি আনসু’ (MV Ansu):
- বাংলাদেশের জার্মানিতে রপ্তানি করা সবচেয়ে বড় সমুদ্রগামী জাহাজ হলো —‘এমভি আনসু’। 
- এটি নারায়ণগঞ্জের আনন্দ শিপইয়ার্ড কোম্পানি দ্বারা নির্মিত। 
- ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির HS Schiffahrts GmbH & Co. KG MS কোম্পানির কাছে এমভি আনসু হস্তান্তর করা হয়।
- এমভি আনসু একটি মাল্টিপারপাস মালবাহী জাহাজ।
- এর ধারণক্ষমতা ৫৫০০ ডিডব্লিউটিএ।
- জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৩৪২ ফুট, প্রস্থ ৫০ ফুট, গভীরতা ২৪.২৭ ফুট।
- জাহাজটির ইঞ্জিন ক্ষমতা ২৭৫০ হর্সপাওয়ার এবং ঘন্টায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিবেগে চলতে পারে।
- এটি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের তৈরি অন্যতম বৃহত্তম জাহাজ, যা রপ্তানির মাধ্যমে জার্মানিতে পাঠানো হয়।

উৎস: দৈনিক ইত্তাফাক পত্রিকা। 

২০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোন সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বাধিক?
  1. ঢাকা উত্তর
  2. চট্টগ্রাম
  3. বরিশাল
  4. ঢাকা দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা:
- বাংলাদেশে জনশুমারি বা আদমশুমারি হলো জনগণের সংখ্যা ও তাদের আর্থ-সামাজিক তথ্য সংগ্রহের একটি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া।
- সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর এই শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- এবং সর্বশেষ ষষ্ঠ জনশুমারি সম্পন্ন হয়েছে ২০২২ সালে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

- জনসংখ্যার ঘনত্ব ও বণ্টন অনুযায়ী (২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী),
• ঢাকা জেলা সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ (১০,০৬৭ জন প্রতি বর্গকিমি),
• আর রাঙ্গামাটি জেলা সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ (১০৬ জন প্রতি বর্গকিমি)।

- জেলা ও বিভাগের দিক থেকে,
• সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা বিভাগে (৪৫,৬৪,৪৫,৮৬ জন) বসবাস করে;
• এবং সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (৯,৩২৫,৮২০ জন) বসবাস করে।

• ঢাকা বিভাগের জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বাধিক (২,১৫৬ জন প্রতি বর্গকিমি),
• আর বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বনিম্ন (৬৮৮ জন প্রতি বর্গকিমি)।

- শহরভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
• সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (৫৯,৯০,৭২৩ জন) বসবাস করে;
• এবং সবচেয়ে কম বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (৭,০৮,৫৭০ জন) বসবাস করে।

- শহরগুলোর ঘনত্বের দিক থেকে,
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে সর্বোচ্চ (৩৯,৪০৬ জন প্রতি বর্গকিমি),
• এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনে সর্বনিম্ন (৩,৪৪৫ জন প্রতি বর্গকিমি)।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।

২১.
বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত কোন বায়ুর প্রভাবে গঠিত?
  1. ক্রান্তীয় মৌসুমি বায়ু
  2. পশ্চিমী বায়ু
  3. সমুদ্রবায়ু
  4. আদ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু 
ব্যাখ্যা

জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মূলত সমভাবাপন্ন।
- এখানে গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও আর্দ্র, শীতকাল শুষ্ক এবং চরমভাবে ঠাণ্ডা বা গরম হয় না।
- দেশের জলবায়ু মূলত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- গ্রীষ্মে দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টি আনে।
- শীতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু জলবায়ুকে আরামদায়ক রাখে।
- দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ২০°৩৪´ থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১´ থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে, যা সমভূমি, পাহাড় ও বঙ্গোপসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত।

- বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি।
- তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, মেঘ ও বৃষ্টিপাতের ঋতুগত বৈচিত্র্য লক্ষ্যণীয়।
- শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমের বিপরীতমুখী বায়ু প্রবাহ দেশের বায়ুমন্ডলীয় বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে।
- শীতকালে উত্তরের উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়।
- আর গ্রীষ্মে পশ্চিম ভারতের নিম্নচাপ কেন্দ্র থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

২২.
‘ফেবো’ উপন্যাসটি কোন ভাষায় লেখা হয়েছে?
  1. বাংলা
  2. মান্দি 
  3. চাকমা
  4. মিয়ানমার
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- চাকমা শব্দের অর্থ – মানুষ।
- চাকমারা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম।
- তারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। 
- তাদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ হলো ত্রিপিটক।
- চাকমাদের শিক্ষা স্তর অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় সর্বোচ্চ।
- তাদের সমাজে গ্রামকে বলা হয় আদম।
- গ্রামপ্রধানকে কারবারি বলা হয়।
- কয়েকটি গ্রাম মিলিত হয়ে মৌজা গঠন করে, যার প্রধানকে হেডম্যান বলা হয়।
- চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো ফাল্গুনী পূর্ণিমা। 
- তাদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে বলা হয় বিজু।
- তাদের ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ নায়ক ছিলেন জুম্মা খান, যিনি চাকমা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।

- চাকমা ভাষায় লিখিত প্রথম উপন্যাস হলো ফেবো (Phoebo)।
- এটি ২০০৪ সালে দেবপ্রিয় চাকমা রচনা করেন। 
- এটি চাকমা হরফে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসটি চাকমা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

২৩.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় কোন ধরনের শিলায় গঠিত?
  1. চুনাপাথর, স্লেট ও গ্রানাইট
  2. বেলে পাথর, স্লেট ও কর্দম
  3. ব্যাসল্ট ও লাভা
  4. মার্বেল ও বেলে পাথর 
ব্যাখ্যা

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:  
- ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- সার্বিকভাবে, টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলো ভাঁজ করা পাহাড় বা ফোল্ড মাউন্টেন হিসেবে পরিচিত।
- হিমালয় পর্বতের উত্থানের সময়, প্রায় দুই কোটি বছর আগে এই পাহাড়গুলোর সৃষ্টি হয়।
- দীর্ঘকাল ধরে প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়ের ফলে এসব পাহাড়ের উচ্চতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে।
- এবং ক্ষয়প্রাপ্ত উপাদান আশপাশের এলাকায় জমে নতুন সমতল ভূমি ও মৃত্তিকা গঠনে সহায়তা করেছে।
- বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১২ শতাংশ এলাকাজুড়ে এই টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বিস্তৃত।
- বাংলাদেশে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় প্রধানত রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

- ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে এসব পাহাড়কে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়—
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়-
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে পাহাড়ের গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার।
- এদের গঠন আসামের লুসাই ও মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়শ্রেণির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, স্লেট ও কর্দমের সংমিশ্রণে গঠিত।
- এখানেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিনডং বা বিজয় অবস্থিত, যার উচ্চতা ১২৩১ মিটার।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়-
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা অঞ্চলে ছোট-বড় বিচ্ছিন্ন পাহাড় ও টিলার উপস্থিতি দেখা যায়।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো সাধারণত কোনো সুসংগঠিত গিরিশ্রেণি তৈরি করেনি। 
- এদের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম, সাধারণত ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২৪.
মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কী?
  1. মুনাফা ও প্রতিযোগিতা
  2. সরকারী নিয়ন্ত্রণ
  3. কর ও শুল্ক ব্যবস্থা 
  4. আমদানি- রপ্তানি 
ব্যাখ্যা

• মুক্তবাজার অর্থনীতি:
- মুক্তবাজার অর্থনীতি বা ধনতান্ত্রিক অর্থনীতি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে পণ্য উৎপাদন, মূল্য নির্ধারণ এবং বণ্টন মূলত বাজারের চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করে।
- এই ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো- মুনাফা অর্জন এবং অবাধ প্রতিযোগিতা। 
- এর মাধ্যমে উৎপাদনকারীরা উন্নত পণ্য ও সেবা সরবরাহে উৎসাহিত হয়।
- এবং সম্পদের কার্যকর বণ্টন নিশ্চিত হয়।
- এতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
- সরকার মূলত নীতি নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি আনুষ্ঠানিকভাবে ১ জানুয়ারি, ১৯৯১ সালে চালু হয়।

- ১৯৯১ সালে এই নীতি চালু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে ব্যক্তিগত মালিকানা, অবাধ প্রতিযোগিতা, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উদারীকরণ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। 
- বাংলাদেশে এই নীতি প্রবর্তনের পর রপ্তানিমুখী শিল্প, বেসরকারি ব্যাংকিং এবং টেলিযোগাযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। 

- মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
• বাজার-ভিত্তিক দাম নির্ধারণ, 
• পণ্যের দাম চাহিদা ও যোগান অনুযায়ী ঠিক হয়,
• বেসরকারি খাতের প্রাধান্য ও প্রতিযোগিতা, যা পণ্যের গুণমান ও উদ্ভাবন বাড়ায়,
• উদার বাণিজ্য নীতি, যেখানে আমদানি-রপ্তানির শুল্ক ও কোটা সীমিত রাখা হয়,
• সম্পদ ও উৎপাদনের ওপর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মালিকানা,
• এবং ভোক্তার স্বাধীনতা, যেখানে ক্রেতা নিজের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করতে পারে।

উৎস:
ব্রিটানিকা; 
অর্থনীতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
কোন জনগোষ্ঠীর গ্রামের প্রধানকে ‘রোয়াজা’ বলা হয়?
  1. সাঁওতাল
  2. মারমা
  3. চাকমা
  4. খাসিয়া 
ব্যাখ্যা

মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী। 
- তারা প্রধানত পার্বত্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাস করে।
- মারমারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত। 
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে, যা বর্মী ভাষার ‘ভোট বর্মী’ শাখার অন্তর্গত।
- তাদের বর্ণমালার নাম ম্রাইমাজা, যা বাম থেকে ডানদিকে লেখা হয় এবং ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভূত।

- মারমাদের ঘরবাড়ি সাধারণত বাঁশ, পাহাড়ি ছন ও ঘাস দিয়ে তৈরি, যা উঁচু মাচাং-এর ওপর নির্মিত হয়।
- মারমাদের প্রধান খাদ্য ভাত ও সিদ্ধ শাক।
- মারমারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- তাদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে রয়েছে- বুদ্ধ পূর্ণিমা, ওয়াছো বা আষাঢ়ী পূর্ণিমা এবং প্রবারণা পূর্ণিমা।
- সবচেয়ে বড় উৎসব হলো সাংগ্রাই, যা সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

- মারমাদের জীবিকা মূলত কৃষি নির্ভর, বিশেষ করে জুমচাষ।
- মারমাদের গ্রামকে বলা হয়- রোয়াজ।
- মারমা জনগোষ্ঠীর গ্রামের প্রধানকে ‘রোয়াজা’ বলা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অষ্টম শ্রেণি;
বাংলাপিডিয়া।  

২৬.
২০১৭ সালে দুদক কোন প্রতিপাদ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়? 
  1. দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি
  2. আসুন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই
  3. ন্যায় ও সততার পথে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ 
  4. দুর্নীতি দমন করি, দেশ গড়ি
ব্যাখ্যা

দুর্নীতিবিরোধী দিবস ও দুদক সংক্রান্ত তথ্য:
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হলো বাংলাদেশের একটি স্বতন্ত্র, স্বশাসিত ও সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা।
- এটি ২০০৪ সালের আইনের মাধ্যমে গঠিত।
- এটি মূলত দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও তদন্তের দায়িত্ব পালন করে।
- ২০১৭ সালে দুদক “আসুন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই” প্রতিপাদ্য নিয়ে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
- জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল। 
- যদিও ২০০৭ সাল থেকে দুদক দিবস পালন শুরু করেছিল, সরকারিভাবে তা কার্যকর হতো না।
- পরে ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই সরকার দিনটিকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
--------------------- 
উল্লেখ্য,
- দুদক দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান, মামলা দায়ের এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ করে।
- যেকোনো ব্যক্তি সরাসরি ১০৬ হটলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন, অথবা লিখিত ও অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
- দুদকের প্রধান কার্যালয় ১ সেগুন বাগিচা, ঢাকায় অবস্থিত।
- দুদক শুধু তদন্ত ও মামলা নয়, নিজস্ব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং কনস্টেবল পদে নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থার কার্যক্রম নির্বাহ করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২৭.
বাংলাদেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত? 
  1. কাপ্তাই
  2. আশুগঞ্জ
  3. ঘোড়াশাল
  4. ভেড়ামারা
ব্যাখ্যা

পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর ওপর অবস্থিত। 
- এটি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৫০–৬৫ কিলোমিটার দূরে।
- এই কেন্দ্রটি ১৯৬২ সালে চালু হয়।
- বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৬৭০.৬ মিটার এবং উচ্চতা ৪৫.৭ মিটার।
- বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট এবং ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি স্পীলওয়ে রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।
- এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র প্রধান জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২৮.
বাংলাদেশ বিমান সংস্থার বাণিজ্যিক নাম কী? 
  1. বিমান বাংলাদেশ লিমিটেড 
  2. বাংলাদেশ বিমান 
  3. এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ লিমিটেড 
  4. বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড 
ব্যাখ্যা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স:
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ বিমান সংস্থার বাণিজ্যিক নাম। 
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (Biman Bangladesh Airlines)।
- ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিমান সংস্থা যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী উভয় ধরনের বিমান পরিচালনা করে থাকে।
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতীক - উদীয়মান সূর্যের মধ্যে উড়ন্ত বলাকা।
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হয়- ৪ঠা মার্চ,১৯৭২ সালে।
- রুট ছিল- ঢাকা- লন্ডন- ঢাকা।
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইনফ্লাইট ম্যাগাজিনের নাম- দিগন্ত।
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সদর দপ্তর- বলাকা ভবন, কুর্মিটোলা, ঢাকা। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২৯.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে একমাত্র মুসলমান জনগোষ্ঠী কোনটি?
  1. গারো
  2. সাঁওতাল
  3. চাকমা 
  4. পাঙাল
ব্যাখ্যা

মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে। 
- পাঙাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- তারা মুসলিম মণিপুরি নামেও পরিচিত।
- তারা পারিবারিকভাবে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় বিশ্বাসী।
- বাংলাদেশে তাদের প্রধান বসতি সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে হলেও, বাংলাদেশের বাইরে ভারতের মণিপুর, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যেও পাঙাল জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা বসবাস করে।
- জাতিগতভাবে তারা মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- কিন্তু ধর্মীয় দিক থেকে তারা সুন্নি মুসলিম এবং ইসলামই তাদের প্রধান ধর্ম।
- ভাষাগতভাবে তারা মণিপুরি (মেীতৈ) ভাষার একটি স্বতন্ত্র উপভাষা ব্যবহার করে, যা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে স্পষ্ট করে।
- ধর্মবিশ্বাস ও কিছু সামাজিক রীতিনীতিতে তারা মূলধারার বাঙালি মুসলমানদের থেকে কিছুটা ভিন্ন হলেও, তারা প্রথাগত মুসলিম আচার-অনুশীলন মেনে চলে।
----------------------
অন্যদিকে,
- গারো জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ও আদি ধর্মের নাম সাংসারেক।
- সাঁওতালরা প্রধানত সারি ধর্ম বা সারনা ধর্ম অনুসরণ করে।
- চাকমা জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। 

উৎস: BBC News, বনিক বার্তা ও বাংলাপিডিয়া। 

৩০.
বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শুরু হয় কত সালে? 
  1. ১৯৭৩ সালে 
  2. ১৯৭৪ সালে 
  3. ১৯৭৫ সালে 
  4. ১৯৭৬ সালে 
ব্যাখ্যা

পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা:
- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট কৌশল, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারের পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রণীত হয়।
- বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৭৩ সালে।
- ২০২০ সাল পর্যন্ত ৭টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে।

- প্রথম পরিকল্পনা (১৯৭৩–১৯৭৮) ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা।
- এর মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ফলে দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পকারখানা, কৃষি ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
- তাই এই পরিকল্পনায় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং উদ্বাস্তু ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- মূলত এই পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করে দেশকে পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো-
• সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, 
• অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, 
• কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন, 
• শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, 
• অবকাঠামো উন্নয়ন, 
• দারিদ্র্য বিমোচন, 
• কর্মসংস্থান সৃষ্টি, 
• টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি।

উৎস:
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
২. বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন।

৩১.
ওয়ারপো (WARPO) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে 
  2. ১৯৯০ সালে 
  3. ১৯৯২ সালে 
  4. ১৯৯৫ সালে  
ব্যাখ্যা

ওয়ারপো (WARPO):
- ওয়ারপো হলো বাংলাদেশের একটি স্বশাসিত সরকারি সংস্থা।
- এর পূর্ণরূপ- Water Resources Planning Organization (পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা)।
- এটি দেশের পানি সম্পদকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের কাজ করে থাকে।
- এর মূল লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- এটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর অধীনে কাজ করে।
- সংস্থাটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ ও বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩-এর আওতায় দেশের সর্বোচ্চ পরিকল্পনাকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে।
- এই সংস্থার সদর দপ্তর ৭২ গ্রিন রোড, ঢাকায় অবস্থিত। 

উল্লেখ্য,
• ওয়ারপোর প্রধান কাজগুলো হলো:
- জাতীয় পানি সম্পদ পরিকল্পনা (NWRP) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
- বাংলাদেশ পানি আইন-এর সমন্বয় ও বাস্তবায়ন করা।
- সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা (IWRM)-এর জন্য কাজ করা।
- জাতীয় পানি সম্পদ ডেটাবেস ও জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
- পানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন ও পর্যবেক্ষণ করা।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতি ও প্রবিধান বাস্তবায়ন করা 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩২.
ডাচ–বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. রকেট
  2. নগদ
  3. মাই ক্যাশ
  4. বিকাশ
ব্যাখ্যা

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বর্তমানে রকেট নামে পরিচিত।
-------------------------------------------
মোবাইল ব্যাংকিং: 
- মোবাইল ব্যাংকিং হলো আধুনিক ডিজিটাল সেবা। 
- এর মাধ্যমে ব্যাংকের শাখায় না গিয়ে মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, ব্যালেন্স চেক ও ক্যাশ-আউট করা যায়।
- এটি দ্রুত, নিরাপদ এবং সুবিধাজনক লেনদেনের একটি ব্যবস্থা।

- বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সূচনা ও বিকাশ ধাপে ধাপে ঘটেছে।
- দেশে প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক লিমিটেড।
- ২০১১ সালের ৩১ মার্চ সিটিসেল ও বাংলালিংক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে;
- যা পরবর্তীতে ‘রকেট’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার পথিকৃত হিসেবে ব্যাংক এশিয়া প্রথম এই সেবা চালু করে।
- এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকাশ কার্যক্রম শুরু হয় এবং দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
- পরবর্তীকালে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাদের নিজস্ব ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ’ চালু করে।
- বর্তমানে দেশে বিকাশ ও রকেটের পাশাপাশি মাই ক্যাশ, উপায়, শিওরক্যাশসহ মোট প্রায় ১৫টি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইট। 

৩৩.
এমআরটি লাইন–৬ কবে উদ্বোধন করা হয়? 
  1. ১১ ডিসেম্বর, ২০২২ 
  2. ২২ ডিসেম্বর, ২০২২ 
  3. ১৬ ডিসেম্বর, ২০২২ 
  4. ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ 
ব্যাখ্যা

এমআরটি লাইন–৬:
- ঢাকার এমআরটি লাইন–৬ হলো বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র দ্রুতগামী মেট্রোরেল ব্যবস্থা।
- এটি উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) পরিচালনা করে।
- ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এমআরটি লাইন–৬ এর অন্তর্ভুক্ত এরিয়া উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও অংশের উদ্বোধন করেন।
- এবং ২৯ ডিসেম্বর থেকে মেট্রোরেলটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়।
- পরে ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশ চালু হওয়ার মাধ্যমে পুরো রুট কার্যকর হয়।
- সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত এই আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢাকার যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
- স্টেশনভেদে ভাড়া ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত।
- এমআরটি লাইন–৬ এর পাশাপাশি লাইন–১সহ অন্যান্য রুটের কাজ চলমান।
- এর মাধ্যমে ২০২৬–২০৩০ সালের মধ্যে একটি বৃহৎ মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।