পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes৩১ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৫: বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ: [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নীলিমা ইব্রাহিম, প্রমথ চৌধুরী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, মুনীর চৌধুরী, অন্নদাশঙ্কর রায়, অমিয় চক্রবর্তী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, আবু জাফর শামসুদ্দীন, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিহারীলাল চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, বেগম রোকেয়া, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২. অন্যান্য লেখকগণ: গোবিন্দচন্দ্র দাস, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড, নওয়াব ফয়জুন্নেসা, নবীনচন্দ্র সেন, নির্মলেন্দু গুণ, নুরুল মোমেন, প্রেমেন্দ্র মিত্র, প্যারীচাঁদ মিত্র, ফররুখ আহমদ, বদরুদ্দীন ওমর, বন্দে আলী মিয়া, বিজন ভট্টাচার্য, বিষ্ণু দে, মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ, মামুনুর রশিদ, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ নজিবর রহমান, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, অতুলপ্রসাদ সেন, অদ্বৈত মল্লবর্মণ, আনিসুজ্জামান, আব্দুল কাদির, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল্লাহ আল মুতী, আব্দুল হাই, আবু ইসহাক, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল ফজল, আবুল মনসুর আহমেদ, আবুল হাসান, আবুল হুসেন, আল মাহমুদ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আহমদ ছফা, আহমদ শরীফ, আহসান হাবীব, ইবরাহীম খাঁ, এস ওয়াজেদ আলি, কাজী আব্দুল ওদুদ, কাজী ইমদাদুল হক।। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
'বাল্মীকি প্রতিভা' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নৃত্যনাট্য
  3. গীতিনাট্য
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'বাল্মীকি প্রতিভা' গীতিনাট্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮১ সালে "বাল্মীকি প্রতিভা" নামক গীতিনাট্যটি রচনা করেন।
- এতে তিনি স্বরচিত গানের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মিশ্রণ ঘটান। ঠাকুরবাড়ির ‘বিদ্বজ্জন সমাগম’ উপলক্ষে বাল্মীকিপ্রতিভার অভিনয় হয়।
- রবীন্দ্রনাথ নিজেই অভিনয় করেন বাল্মীকির চরিত্রে। তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী প্রতিভা অভিনয় করেন সরস্বতীর ভূমিকায়।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- বাল্মীকিপ্রতিভা রচনার সময় থেকে কবি সম্পূর্ণভাবে গান ও  কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস?
  1. দুয়ে দুয়ে চার
  2. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  3. সূর্যাস্তের পর
  4. যে অরণ্যে আলো নেই
ব্যাখ্যা
• ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ উপন্যাস:
- নীলিমা ইব্রাহিম লিখিত উপন্যাস ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ প্রকাশিত হয় ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে।  
- প্রকাশক ছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা, প্রকাশিত হয় (পুথিঘর লিঃ) ঢাকা থেকে। প্রকাশ কালে গ্রন্থটির মূল্য ছিল দুই টাকা পঁচিশ পয়সা মাত্র।
- কেয়াবন সঞ্চারিণী, উপন্যাসে মূল চরিত্র আইরিন, রিনা নামেই সে পরিচিত। তাকে ঘিরে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস।
- নিরা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, ঢাকার মগবাজারে তাদের বাসা। বাবা প্রয়াত স্কুল শিক্ষক, পিতার মৃত্যুর পর রিনা সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়, তখন তার বয়স মাত্র উনিশ। এভাবেই সংসারের দায়িত্ব ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস হয়েছে। 

------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:

- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• গবেষণা:
- শরৎ-প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক।

• উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ।

উৎস: ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'গৌড়তটবাসী মশা' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন সেগুলো হলো-
- গৌড়তটবাসী মশা, 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে, 
------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর, 
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর, 
- আন্নাকালী পাকড়াশী, 
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য, 
- নবীনকিশোর শর্মণঃ, 
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, 
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, 
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা, 
- শ্রীমতি মধ্যমা।

• অন্নদাশঙ্ক রায়ের অনেক লেখা 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়েছিল।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ছদ্মনাম 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত 'বন্দে মাতরম্' সঙ্গীতটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সম্বাদ কৌমুদী
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গদর্শন মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।

- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে। বঙ্কিমচন্দ্রের ধর্ম ও সাম্যবিষয়ক চিন্তা এই পত্রিকায়ই প্রকাশিত হয়।

- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।

- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম্' এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক-
  1. নবান্ন
  2. মানুষ
  3. নেমেসিস
  4. কিত্তনখোলা
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপে:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- ফরিদ,
- জুলেখা,
- বাবা,
- মা,
- ডাক্তার।

অন্যদিকে,
• 'নবান্ন' বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক। নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।

• 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক। ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।

• সেলিম আল দীন রচিত নাটক - কিত্তনখোলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
গোবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম
  2. দুঃখ-দৈন্যের বর্ণনা 
  3. ঈশ্বরে প্রেম
  4. মানবতার জয়গান 
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিল একজন স্বভাবকবি। ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি মাসিক পত্রিকা 'বিভা' প্রকাশ করেন। এবং শেরপুরে 'চারুবার্তা' কাগজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন। অ্যালেন হিউম রচিত 'অ্যায়োএক' কবিতা অনুবাদের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু; তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলা একাডেমি উপভাষা অভিধান
  2. আঞ্চলিক অভিধান
  3. আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
  4. বাঙ্গালা উপভাষা অভিধান
ব্যাখ্যা
• 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- "আঞ্চলিক ভাষার অভিধান" বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের একটি সংকলন প্রকাশ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং এ উদ্দেশ্যে বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে তিন খণ্ডে সমাপ্য একটি অভিধান প্রণয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

- ১৯৫৮ সালের প্রথম দিকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, সাময়িক পত্রিকা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নিকট আবেদনপত্র প্রেরণের মাধ্যমে শব্দ সংগ্রহ করা হয়।

- ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, খুলনা, পাবনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, রংপুর, যশোর, বাখেরগঞ্জ, বগুড়া, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, নোয়াখালী, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও করাচি অঞ্চল থেকে ৪৫৩ জন সংগ্রাহকের মাধ্যমে মোট ১,৬৬,২৪৬টি আঞ্চলিক শব্দ সংগৃহীত হয়। সংশোধন ও বিচার-বিবেচনার পর এ থেকে প্রায় পঁচাত্তর হাজারের মতো শব্দ সংকলনের জন্য গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোন ব্যাকরণগ্রন্থে প্রথম বাংলা হরফ মুদ্রিত হয়?
  1. Bengali Grammar in the English Language
  2. A Grammar of the Bengali Language
  3. Vocabolario em idioma Bengalla e Potuguez
  4. A Grammar of the Bengal Language
ব্যাখ্যা
• 'A Grammar of the Bengal Language':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেডের 'A Grammar of the Bengal Language' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি ভাষায় রচিত আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ বই। এটি বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ।

- হ্যালহেডের ব্যাকরণ সম্পূর্ণ ইংরেজিতে রচিত হলেও এতেই প্রথম বাংলা হরফ মুদ্রিত হয়, এ কারণে বাংলা মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে গ্রন্থটি মূল্যবান। চার্লস উইলকিনসন এবং পঞ্চানন কর্মকার যৌথ প্রচেষ্টায় ছাপাখানার জন্য যে বাংলা হরফ (font) প্রবর্তন করেন, তার সাহায্যেই হ্যালহেডের গ্রন্থে বাংলা উদাহরণগুলি মুদ্রিত হয়েছে। এমনকি বেশ কিছু দীর্ঘ কবিতার উদাহরণও বাংলা হরফে মুদ্রিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• রামমোহন রায়ের ইংরেজিতে রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ "Bengali Grammar in the English Language" প্রকাশিত হয় ১৮২৬ সালে, কলকাতার ইউনিটারিয়েন প্রেস থেকে। রামমোহন কেরী বা হটনের মতো সংস্কৃতের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ককে বড় করে দেখেননি। তিনি বাংলা ভাষার একটি মূল প্রবণতা লক্ষ্য করেছিলেন। তাই তিনিই প্রথম ব্যাকরণের বিভিন্ন প্রকরণ (বিশেষ্য, বিশেষণ, কারক ইত্যাদি) সম্পর্কে শুধু দৃষ্টান্ত নয়, খানিকটা তাত্ত্বিক আলোচনাও পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করেছেন। 

• উনিশ শতকের প্রথমেই রচিত হয় উইলিয়ম কেরীর বাংলা ব্যাকরণ 'A Grammar of the Bengali Language' (১৮০১)। হ্যালহেডের ব্যাকরণের অনুকরণে কেরীর গ্রন্থটি প্রণীত, তবে হ্যালহেড যেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেননি, যেমন বিশেষ্য, ক্রিয়াপদ বা পার্টিকেল ব্যবহারের ক্ষেত্র, কেরী তাঁর রচনায় ওই সব ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

• মনোএল ভাওয়ালের একটি গির্জায় ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালনকালে ১৭৩৪-৪২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে "Vocabolario em idioma Bengalla, e Potuguez dividido em duas partes" শীর্ষক গ্রন্থটি রচনা করেন। গ্রন্থটি দুটি অংশে বিভক্ত: প্রথম অংশ বাংলা ব্যাকরণের একটি সংক্ষিপ্তসার এবং দ্বিতীয় অংশ বাংলা-পর্তুগিজ ও পর্তুগিজ-বাংলা শব্দাভিধান। গ্রন্থটি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে রোমান হরফে মুদ্রিত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মেঘমল্লার
  2. পথের পাঁচালী
  3. যাত্রাবদল
  4. আদর্শ হিন্দু হোটেল
ব্যাখ্যা
• "পথের পাঁচালী" উপন্যাস:
- "পথের পাঁচালী" (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশালয়, কলকাতা থেকে।

- এই কাহিনির পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত, মানুষের জীবন। । এর প্রধান অংশই হলো একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয়। প্রত্যেকটি আপাততুচ্ছ বিষয় ও ঘটনা নিয়ে আসে রহস্য ও সৌন্দর্যের আভাস, সবই মূল্যবান ও আনন্দময়।

- এর তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ।

- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু। উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড 'অপরাজিত' (১৯৩১)। দ্বিতীয় অংশে অপুর কৈশোর ও যৌবনের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। পথের পাঁচালী উপন্যাসটি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

'পথের পাঁচালী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

------------------
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- মেঘমল্লার (১৯৩১),
- অশনি সংকেত,
- যাত্রাবদল (১৯৩৪)
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০),
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত নাগরিক উপন্যাস কোনটি?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. আরণ্যক
  3. শাদা হাওয়া
  4. দৃষ্টি প্রদীপ
ব্যাখ্যা
• 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস:
- 'শাদা হাওয়া' অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা নাগরিক উপন্যাস। এ উপন্যাস লেখা সম্পন্ন হয় ১৯৪২ সালে। প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে, সোনার তরী পত্রিকায়।
- কলকাতায় বিলিতি সেনা, যাদের টমি নামে অভিহিত করা হত, তাদের আগমনকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি লিখিত।
- উপন্যাসের চরিত্র গোয়েন্দা গোবিন্দ শর্মার চিন্তাবাক্যের সূত্রে বহু রাজনৈতিক সন্দর্ভ লিখেছেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। তাতে পুরনো ভারতচিন্তা যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে যুদ্ধবিরোধী ভাবনাও।

অন্যদিক, 
• অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রভৃতি আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
• 'আরণ্যক' ও 'দৃষ্টি প্রদীপ' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

উৎস: 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণ কাহিনি নয় কোনটি?
  1. ভ্রমি দেশে দেশে
  2. আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি
  3. ভলগার তীরে
  4. জলে ডাঙ্গায়
ব্যাখ্যা
• 'জলে ডাঙ্গায়' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

• নির্মলেন্দু গুণ:

- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'। নির্মলেন্দু গুণের ডাকনাম ছিলো রতন। প্রিয়জনেরা 'রতু' বলে ডাকতেন।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
এক চরিত্রবিশিষ্ট নাটক কোনটি?
  1. রূপান্তর
  2. নেমেসিস
  3. বহুরূপা
  4. নয়া খান্দান
ব্যাখ্যা
• "নেমেসিস" নাটক:
- নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।

- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। এর রচনাশৈলী ও পরিকল্পনা অভিনব।

- সম্পূর্ণ‌ নাটকটি এক চরিত্র বিশিষ্ট। একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনি বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন।

অন্যদিকে, 
--------------
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ সালে নুরুল মোমেনের 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।
- নুরুল মোমেনের 'নয়া খান্দান' নাটকটি ১৯৬১ সালে রচিত, ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। বংশমর্যাদা ও এ নিয়ে আভিজাত্যের প্রতি শ্লেষ ব্যক্ত হয়েছে এ নাটকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. রত্নাকুমারী
ব্যাখ্যা
• "আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর (১৮১৪-১৮৮৩) ১৮৫৭ সালে এটি রচনা করেন।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্তু। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। 'ঠকচাচা' এর অন্যতম  একটি প্রধান চরিত্র।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিতি লাভ করে।

অন্যদিকে, 
• প্যারীচাঁদ মিত্রের দ্বিতীয় গ্রন্থ 'মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়' ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির মধ্যে তৎকালীন গোঁড়া শ্রেণির ব্যক্তিদের চিত্রাঙ্কন করা
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত ও প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।

• কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের রোমান্সমূলক উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
"চার-ইয়ারী কথা" গ্রন্থের গল্পগুলো প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী 
  2. পরিচয় 
  3. সাধনা 
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• "চার-ইয়ারী কথা" গল্পগ্রন্থ:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত "চার-ইয়ারী কথা" প্রথম প্রকাশিত হয় 'সবুজপত্র' পত্রিকায়। ১৩২২ বঙ্গাব্দের চৈত্র, ১৩২৩-এর বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য সংখ্যায় তিন কিস্তিতে গল্পটি প্রকাশিত হয়। বহু প্রশংসিত হবার পর, এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সাধারণাব্দে।

- প্রমথ চৌধুরী বইটি উৎসর্গ করেন স্ত্রী ইন্দিeরা দেবী চৌধুরাণীকে। ১৯৪৪-এ এই বইটির ইন্দিরা দেবীকৃত ইংরেজি তর্জমা 'Tale of Four Friends' প্রকাশ করে বিশ্বভারতী।

- গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনি। গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়। গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।

- সেসময় অনেকেই প্রমথ চৌধুরীকে মুখে বলেছেন: তাঁর নায়িকাগুলির বর্ণনা, কথোপকথন ও চরিত্রাঙ্কন এত নিখুঁত যে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে 'চার ইয়ারি কথা'-র চারটি নায়িকার সঙ্গে বিলেতে তাঁর নিশ্চয়ই পরিচয় ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন লেখা সম্ভব নয়।

- প্রত্যুত্তরে প্রমথ চৌধুরী বলেন: “প্রথম নায়িকা হচ্ছে পাগল, দ্বিতীয়টি চোর, তৃতীয়টি জুয়াচ্চোর, আর চতুর্থটি ভূত। বলা বাহুল্য, একরকম চারটি সম্পূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রের নায়িকার একটির পর একটির সঙ্গে পরিচয় হওয়া অসম্ভব। এই চারটিই আমার মনগড়া। তবে এর ভিতর তৃতীয় গল্পের নায়িকার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, যাকে আমি রিণী নামে গড়ে তুলেছি।"

- সেকালে পাঠক সমাজের বিশেষ উৎসাহ ছিল তৃতীয় গল্পের রহস্যময়ী নায়িকা রিণীকে নিয়ে। বিশেষত রিণীর সঙ্গে লেখকের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা-ই নিয়ে। আত্মকথায় এ বিষয়ে প্রমথ চৌধুরী যা লিখেছিলেন তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আর যে কিছুটা অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তা বৈশাখী-তে (১৩৫২) প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: চার-ইয়ারী কথা' গল্পগ্রন্থ।
১৫.
১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত কবিতা-
  1. লাশ
  2. পাঞ্জেরী
  3. তুফান
  4. দরিয়ায় শেষ রাত্রি
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

- ১৯৪৫ সাল থেকে তিনি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং দেশভাগের পর ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে স্টাফ শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি জনপ্রিয় খেলাঘর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।

- কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে ফররুখ আহমদ সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
'যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ' প্রবন্ধ সংকলনটি কার রচনা?
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ:
• বদরুদ্দীন উমরের এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধগুলি ১৯৭২ সালের প্রথম থেকে ১৯৭৪ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিলো। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও এগুলির মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা এবং ঐক্যসূত্র আছে।

লেখক জবানিতে-
সংকলনের প্রবন্ধগুলিতে আমি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পরবর্তী দুই বৎসরের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কতকগুলি সমস্যার পর্যালোচনা করেছি। এই পর্যালোচনার পরিধির মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যারই প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্ভব হয় নি। সেদিক থেকে সংকলনটির অপূর্ণতা অনস্বীকার্য। কিন্তু তবু আশা করি যে, এই ক্ষুদ্র পরিসরে সংক্ষিপ্তভাবে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির ওপর আলোচনা ও পর্যালোচনা এই প্রবন্ধগুলিতে করা হয়েছে তার থেকে পাঠকরা যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশের একটা সাধারণ ও সামগ্রিক চিত্রের সাথে পরিচিত হতে সক্ষম হবেন।

----------------
বদরুদ্দীন উমর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
-  যুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ' গ্রন্থ।
১৭.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. জীয়নকন্যা
  2. জনপদ
  3. গোত্রান্তর
  4. কলঙ্ক
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য দুটি গল্প হচ্ছে তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত 'জনপদ' এবং দেশবিভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত 'রাণী পালঙ্ক'।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো:
• ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো 'মরাচাঁদ' ও 'কলঙ্ক'। 'মরাচাঁদ' চব্বিশ পরগনার এক অন্ধ গায়কের জীবনকাহিনী, আর 'কলঙ্ক' বাঁকুড়ার সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবনালেখ্য।

• তাঁর 'গোত্রান্তর' (১৯৬০) নাটকের বিষয়বস্তু ছিন্নমূল পূর্ববঙ্গবাসীর ভাগ্যবিপর্যয়। পরে তিনি লেখেন মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে অবরোধ (১৯৪৭)। ১৯৬৬-তে লেখেন দেবীগর্জন ও বেদেদের - জীবন নিয়ে গর্ভবতী জননী।

• বিজন ভট্টাচার্যের প্রতিভার সার্থকতম নিদর্শন হলো 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটক। বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।
গণনাট্য সংঘের প্রযোজনায় নবান্ন নাটকে তিনি নিজে অভিনয় করেন এবং অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছিলেন তৃপ্তি মিত্র, শম্ভু মিত্র, গঙ্গাপদ বসু, শোভা সেন, গোপাল হালদার প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮.
'সাহিত্যপত্র' পত্রিকা প্রকাশের কৃতিত্ব কার?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।

- ১৯২৩ সালে 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। কিন্তু ১৯৩০ সালে কল্লোল পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'পরিচয়' (১৯৩১) পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৪৭ পর্যন্ত এর সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় 'সাহিত্যপত্র' প্রকাশ করেন। তিনি নিজেও নিরুক্ত নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। বিষ্ণু দে কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য জীবন শুরু করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯.
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থটি কোন হরফে মুদ্রিত?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. রোমান
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদরি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ' গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

•  গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী (বর্তমান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার একটি গ্রাম) নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজ ভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিস্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিস্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। খ্রিস্টীয় ধর্মশাস্ত্রকে কৃপা বা দয়ার শাস্ত্র মনে করে এর অর্থ রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা আলোচ্য গ্রন্থে পরিদৃষ্ট হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২০.
ইবলিশ ও গিনিপিগ নাটকের নাট্যকার কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. আব্দুল্লাহ আল মুতী
ব্যাখ্যা
• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক। তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রাজাবলী
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. হিতোপদেশ
  4. বেদান্ত সার 
ব্যাখ্যা
• 'বেদান্ত সার' রাজা রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ। 

----------------------
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯) সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পণ্ডিতে পরিণত হোন। তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

• উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন। পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পণ্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন। পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিতে হিসেবে।

• অনেকের মতে, তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেকার সবচেয়ে ভালো বাংলা গদ্য লেখক। তাঁর রচনা-রীতি খুব সংস্কৃত-ঘেঁষা হলেও, তিনি বাংলা ভাষার স্বাভাবিক পদক্রম, শব্দাবলীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অন্বয় স্থাপনের মধ্য দিয়ে সঠিক এবং সাবলীল বাক্য-কাঠামোর দিক নির্দেশ করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি হলো:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।

• এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন 'বেদান্তচন্দ্রিকা'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২২.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন কে?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3.  বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।

- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।

- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

- মোজাম্মেল হক কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক 'সময়' পত্রিকায় প্রথম সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন। 

- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।

- মোজাম্মেল হক 'লহরী' (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। চল্লিশ বছর যাবৎ তিনি শান্তিপুর মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনার ও কিছুকাল ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ত্রিশ বছর নদীয়া জেলা বোর্ডের শিক্ষা কমিটির সদস্য, বিশ বছর অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট ও কিছুকাল বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (১৯১১) সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৩.
মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1.  বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
• বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা। তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী। ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪.
রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন কোন কবি?
  1.  বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে 
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

• কাব্যগ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

------------------

• আলাউদ্দিন আল আজাদ তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬.
আবু ইসহাক রচিত 'জাল' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস
  2. জেলে জীবন ভিত্তিক উপন্যাস
  3. সমাজ সমস্যামূলক উপন্যাস
  4. পদ্মার তীরবর্তী ধীবর জীবন ভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর। সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।

--------------
•  আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'জাল' উপন্যাস।
২৭.
শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক' সম্পাদনা ও প্রকাশের সাথে যুক্তছিলেন কে?
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
ত্রয়ী উপন্যাস রচনা করেছেন নিচের কোন সাহিত্যিক?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন এবং মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়ই ত্রয়ী উপন্যাস রচনা করেছেন।
অপশনে একাধিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:

- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯.
'সরীসৃপ’ গল্পটি কার রচনা?
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. মামুনুর রশীদ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘সরীসৃপ’ গল্প:
 - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সরীসৃপ’ গল্পটি ১৯৪৩-এর আগেই লেখা। নির্মম এই গল্পে দুই নারী আর এক পুরুষের কাহিনি বিধৃত হয়েছে সম্পূর্ণ বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে।
- শেষ পর্যন্ত এটি নিছক ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি নয়, বরং মানব চরিত্র উন্মোচক হয়েই পাঠকের মনে রয়ে যায়।

- গল্পটিতে লেখক মানুষ নামক প্রাণীটির ঠিক কোন দিকটাতে ইঙ্গিত করেছেন, তা শেষ বাক্যে মোটামুটি পরিষ্কার হচ্ছে: ‘ঠিক সেই সময় মাথার উপর দিয়া একটি এরোপ্লেন উড়িয়া যাইতেছিল। দেখিতে দেখিতে সেটা সুন্দরবনের উপর পৌঁছে গেল। মানুষের সঙ্গ ছাড়িয়া বনের পশুরা যেখানে আশ্রয় লইয়াছে।’ অর্থাৎ মানুষ এমন এক প্রাণী, বনের পশুরাও যার মুখ দেখতে চাইবে না।

- এই গল্পে যৌনতা একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তবে সেই বিশেষও আলাদা বিশেষত্ব পেয়েছে লেখকের কলমে। লেখকে দেখিয়েছেন যে যৌনতাও স্রেফ শরীরের তাড়না নয়, বরং হতে পারে কুৎসিতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গল্পের চরিত্রগুলো হলো-
- বনমালী,
- চারু এবং 
- পরী। 

-----------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য কিছু গল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: ‘সরীসৃপ’ গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩০.
'বিনুর বই' আত্মজীবনমূলক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'বিনুর বই' আত্মজীবনমূলক রচনা:
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের বয়স যখন চল্লিশ বছর তখন তিনি বিনুর বই-এর প্রথম পর্ব রচনা করেন।পরস্পরসংলগ্ন অধ্যায় পরম্পরায় মাত্র তিন মাসেই সে লেখা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় পর্বের লেখা শুরু হয় ছিয়াশি বছর বয়সে। যখন শেষ হয় তখন তাঁর বয়স উননব্বই। পরিচ্ছেদগুলি দীর্ঘায়িত।

- জীবনসায়াহ্নের সে রচনা অনেকটাই যেন তাঁর বর্ণময় জীবন ও যাপনের 'Summing up'I 'বিনুর বই' জীবনশিল্পী অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা।

- উভয় পর্বেই অন্নদাশঙ্কর রচনা করে চলেন তাঁর মনের, মননের এক আত্মস্বীকারোক্তিমূলক জীবনকাহিনি। অসামান্য এই কাহিনি একদিকে যেমন আমাদের পরিচিত করিয়ে দেয় তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্ব ও বাঁকবদলের সঙ্গে, তেমনই আমরা জানতে পারি মনস্বী এই লেখকের জীবনদর্শন সম্পর্কেও।

- তাই বিনুর উপলব্ধি আসলে অন্নদাশঙ্করেরই উপলব্ধি। তিনি বলেছেন: 'মানুষকে লেবেল দিয়ে শনাক্ত করা যায় না। মানুষকে ভালোবাসলে তার স্বরূপ জানতে পারা যায়।'

-------------------
অন্নদাশঙ্কর রায়ের অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- দেশকাল পাত্র,
- জীয়ন কাটি,
- ইশারা,
- নতুন করে বাঁচা ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- কামিনী কাঞ্চন,
- যৌবন জ্বালা,
- মন পবন,
- প্রকৃতির পরিহাস।

• ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১.
বুদ্ধদেব বসু কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. বিক্রমপুর
  3. ফরিদপুর
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে 'সব্যসাচী লেখক' বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
অভিনয়, অভিনয় নয়, রেখাচিত্র, হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
তিথিডোর, সাড়া, সানন্দা, লালমেঘ, পরিক্রমা, কালো হাওয়া, নির্জন স্বাক্ষর, নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• কাব্যগ্রন্থ:
কঙ্কাবতী, দময়ন্তী, মর্মবাণী, যে আঁধার আলোর অধিক।

• নাটক:
মায়া মালঞ্চ,  তপস্বী ও তরঙ্গিনী, কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২.
'দোজখের ওম' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প সংকলন
  3. কাব্যনাট্য
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'দোজখের ওম' গল্প সংকলন:
- 'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ছোটগল্প সংকলন।
- এটি ১৯৮৯ সালে ঢাকার প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়।
- 'দোজখের ওম' নামে এই গল্পগ্রন্থে একটি নামগল্প রয়েছে।
- ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প।

এগুলো হচ্ছে-
- কীটনাশকের কীর্তি,
- যুগলবন্দি,
- অপঘাত ও
- দোজখের ওম।

উৎস: 'দোজখের ওম' গল্প সংকলন।