পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

পরীক্ষাব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়06 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
Exam - 4 Daily Quiz: General Knowledge: Topic: History of Bangladesh [From Ancient Period to 1947] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ। iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
The reign of which Sultan of Bengal is called the ‘Golden Age’?
  1. Alauddin Hussain Shah
  2. Ghiyasuddin Azam Shah
  3. Shamsuddin Ilyas Shah
  4. Fakhruddin Mubarak Shah
ব্যাখ্যা

- আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে বাংলায় শান্তি, সমৃদ্ধি, এবং শিল্প-সাহিত্যের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল, তাই তার শাসনকালকে প্রায়শই 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।  

• আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি আরাকান ও চট্টগ্রাম দখল করেন।
- তার সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো।
- তিনি বাংলাকে রাজদরবারের ভাষা হিসেবে স্থান দেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তাকে নৃপতি তিলক, জগৎভূষণ, কৃষ্ণাবতার বলা হতো।
- তার শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়। 

উল্লেখ্য,
- তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজও করেন।
- তিনি গরিব-দুঃখীদের জন্যে দেশে অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন ও পানির কূপ খনন করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- তিনি বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেবকে সম্মান করতেন এবং তাঁকে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে সুবিধা দিয়েছিলেন।
- তার সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয় এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।
- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- তাঁর রাজত্বকালে গৌড়ের 'ছোট সোনা' মসজিদ নির্মিত হয়।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
In which year did the 'Battle of Buxar' take place? 
  1. 1761
  2. 1861
  3. 1764
  4. 1864
ব্যাখ্যা

• বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ। 
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
 
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
Who introduced the 'Permanent Settlement System' in Bengal?
  1. Lord Cornwallis
  2. Warren Hastings
  3. Lord Clive
  4. Lord Wellesley
ব্যাখ্যা

• চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত:
- এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি। 
- চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত  ১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত হয়।
- এটি প্রবর্তন করেন লর্ড কর্নওয়ালিস প্রশাসন।
- এ চুক্তির আওতায় জমিদার উপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভূ-সম্পত্তির নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হন।
- জমির স্বত্বাধিকারী হওয়া ছাড়াও জমিদারগণ স্বত্বাধিকারের সুবিধার সাথে চিরস্থায়ীভাবে অপরিবর্তনীয় এক নির্ধারিত হারের রাজস্বে জমিদারিস্বত্ব লাভ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

.
The incident known as the ‘Black Hole Tragedy’ took place under the reign of which Nawab of Bengal?
  1. Siraj-ud-Daulah
  2. Alivardi Khan
  3. Nawab Murshid Quli Khan
  4. Mir Qasim
ব্যাখ্যা

• অন্ধকূপ হত্যা:  
- অন্ধকূপ হত্যা (Black Hole Tragedy)  ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা।
-এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত। 

-১৭৫৬ সালের ১৬ জুন ত্রিশ হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে ইংরেজদের হাত থেকে কলকাতা জয়ের লক্ষ্যে নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা ফোর্ট উইলিয়মের প্রবেশদ্বারে উপনীত হন।
-দুদিন যুদ্ধের পর ইংরেজ গভর্নর রজার ড্রেক নিশ্চিত হন যে, নওয়াবের সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই তিনি ১৯ জুন দুর্গের ইংরেজ বাসিন্দাদের বড় অংশ নিয়ে ফুলতা পালিয়ে যান।
-  ইংরেজ সেনাপতি হলওয়েল ইউরোপীয় এবং আর্মেনীয় সেনা ছাড়াও প্রায় ১৭০ জন শ্বেতাঙ্গ সৈন্যের একটি দল নিয়ে ফোর্ট উইলিয়ম দুর্গে থেকে যান।
-  ২০ জুন সিরাজউদ্দৌলার সৈন্যরা কলকাতার দুর্গ দখল করে। ইংরেজ নেতা হলওয়েল আত্মসমর্পণ করলে কিছু ইউরোপীয় সৈন্যকে বন্দি করা হয়। 
-অভিযোগ ওঠে তাদের একটি ছোট কক্ষে (Black Hole) গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। প্রচণ্ড গরম ও শ্বাসকষ্টে রাতেই ১৪৬ জন বন্দির মধ্যে প্রায় ১২৩ জন মারা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ; ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'Barendra' was a part of which ancient township?
  1. Pundra
  2. Harikela
  3. Banga
  4. Samatata
ব্যাখ্যা

• বরেন্দ্র: 
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

• পুণ্ড্র
-  পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে  প্রাচীনতম।
- জনপদ গড়ে তুলেছিল। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুত্ব জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। 
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত ‘পুদনগল’ (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়। 
- প্রাচীন এই জনপদের সীমানা চিহ্নিত করে ড. নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন, "পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্র বা হৃদয়স্থানের একটি নতুন নাম পাইতেছি দশম শতক হইতে; এ নাম বরেন্দ্র অথবা বরেন্দ্রী।" 
- অর্থাৎ এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দুটো ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল।
 -কতিপয় লিপি প্রমাণে এ কথা বলা যায় যে, বরেন্দ্র পুণ্ড্রবর্ধনেরই অংশবিশেষ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাপিডিয়া।

.
Which Mughal ruler was responsible for constructing the iconic 'Red Fort' in Delhi?
  1. Shah Jahan
  2. Akbar
  3. Aurangzeb
  4. Humayun
ব্যাখ্যা

• লাল কেল্লা:
- ভারতের পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নতুন রাজধানী শাহজাহানাবাদের প্রাসাদ দুর্গ হিসেবে নির্মিত হয়েছিল।
- লাল কেল্লাকে মুঘল সৃজনশীলতার শীর্ষস্থানীয় বলে মনে করা হয়। 
- এটি নির্মিত হয়েছিল১৭ শতকের মাঝামাঝি সময়ে
- সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক দুর্গটি নির্মিত হয়েছিল।
- বর্তমানে এটি একটি প্রধান পর্যটন আকর্ষণ।
- এই দুর্গটি ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত ছিল ২০০৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

উল্লেখ্য,
- শাহ জাহান (১৫৯২-১৬৬৬) ১৬২৮ থেকে ১৬৫৮ সাল পর্যন্ত ভারতের মুঘল সম্রাট ছিলেন, যিনি তাঁর স্থাপত্য অবদানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
- তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীর এবং রাজপুত রাজকন্যা মনমতীর তৃতীয় পুত্র ছিলেন।
- তিনি ১৬১২ সালে আরজুমান্দ বানু বেগমকে (পরবর্তীকালে মমতাজ নামে পরিচিত) বিয়ে করেন।

• তাঁর স্থাপত্যের মধ্যে রয়েছে:
- আগ্রার মতি মসজিদ (মুক্তার মসজিদ)।
- আগ্রার জামে মসজিদ (গ্রেট মসজিদ)।
- দিল্লির লাল কেল্লা কমপ্লেক্স।
- দিল্লির জামি মসজিদ (ভারতের সেরা মসজিদগুলির মধ্যে একটি)।
- দিল্লির নতুন রাজধানী শাহজাহানবাদ।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

.
Which European trading group was the first to arrive in the Indian subcontinent? 
  1. Portuguese
  2. Dutch
  3. British
  4. French
ব্যাখ্যা

• বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- এরপর ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- তারা সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- পর্তুগিজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত।
- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
The famous Buddhist monastery ‘Shalban Vihara’ was built during the reign of which dynasty?
  1. Rarh
  2. Pala
  3. Chandra
  4. Deva
ব্যাখ্যা

• শালবন বিহার:
- শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম।
-কুমিল্লা শহর হতে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা কোটবাড়ী এলাকায় অবস্থিত।
- খ্রিস্টীয় ৭ম হতে ৮ম শতক পর্যন্ত দেব বংশের শাসন আমলে চতুর্থ রাজা ভবদেব শালবন রাজার প্রাসাদ (শালবন বিহার) নির্মাণ করেন। 

- বর্গাকার বিহারটির চার বাহুতে সর্বমোট ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ, মধ্যভাগে ১টি বৌদ্ধ মন্দির এবং মূল মন্দিরের চারপাশে ছোট ছোট ১০টি মন্দির এবং ১২টি স্তূপের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হয়েছে। 
-এখানে কয়েক দফা প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোড়ামাটির ফলক, ব্রোঞ্জের মূর্তি, নকশাকৃত ইট ও মুদ্রাসহ বিভিন্ন প্রত্নবস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
-  তিববতীয় সূত্র থেকে জানা যায় পাল বংশের রাজা ধর্মপাল ভাগলপুরের নিকটে ‘বিক্রমশীলা মহাবিহার’ ও নওগাঁ নির্মাণ করেন। 

তথ্যসূত্র: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত ঘোষিত পুরাকীর্তির তালিকা, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

.
Who was the first Mughal emperor to write an autobiography?
  1. Akbar
  2. Babur 
  3. Humayun
  4. Shah Jahan
ব্যাখ্যা

- মুঘল সম্রাটদের মধ্যে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন সম্রাট বাবর। তার রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তযুক-ই-বাবরী'। 

• সম্রাট বাবর:
- জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ছিলেন ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
- বাবরের পিতা উমর শেখ মির্জা ছিলেন দুধর্ষ সমর নেতা তৈমুরের বংশধর এবং মাতা কুতলুঘ নিগার খানম ছিলেন মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খানের অধস্তন বংশধর ইউনুস খানের কন্যা।
- মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর পিতৃ সিংহাসনে উপবেশন করেন।
- বাবর অল্পদিনের মধ্যেই সমগ্র আফগানিস্তানে নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে 'পাদশাহ' (বাদশাহ) উপাধি গ্রহণ করে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কাবুলের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে উজবেকদের সাথে সংঘটিত এক যুদ্ধে বাবর পরাজিত হয়ে সমরকন্দ থেকে বিতাড়িত হন।
- অতঃপর মধ্য এশিয়ায় রাজ্য স্থাপন অসম্ভব মনে করে বাবর ভারতবর্ষের দিকে মনোনিবেশ করেন।

-  ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদীকে, ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে মেবারের রাজপুত নেতা রানা সংগ্রাম সিংহকে, ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে চান্দেরী অভিযানের সময় মেদেনী রাওকে এবং সর্বশেষ ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে গোগরার যুদ্ধে সম্মিলিত আফগান শক্তিকে পরাস্ত করার মধ্যে বাবরের উন্নত সামরিক কৌশল, রণনিপুণতা এবং একজন সফল সমর নায়কের কৃতিত্ব ফুটে উঠে। 

- জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্য শাসন করেন।
- তাঁর সময় মুঘল সাম্রাজ্য পশ্চিমে কাবুল থেকে পূর্বে বিহার এবং উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে চান্দেরি পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। মাত্র চার বছরের সংক্ষিপ্ত রাজত্বকালে বাবর বিশাল সাম্রাজ্যে সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখেন।
- তবে বাবর খলিফার ক্ষমতাকে অস্বীকার করে স্বয়ং 'বাদশাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- বাবর সমগ্র সাম্রাজ্যব্যাপী ১৫ মাইল অন্তর অন্তর ডাকচৌকির ব্যবস্থা করেন।
- তিনি তুর্কি ও ফার্সি ভাষায় অসংখ্য কবিতা রচনা করেন। তাঁর রচিত তুর্কি কবিতার সংকলন 'দিওয়ান' নামে পরিচিত।
- জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের সাহিত্যানুরাগের শ্রেষ্ঠ নির্দশন তুর্কি ভাষায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তযুক-ই-বাবরী'।
- 'তুযুক-ই-বাবরী' মুঘল ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
The construction of the architectural marvel 'Chhota Sona Masjid' occurred during the reign of -
  1. Alauddin Husain Shah
  2. Shamsuddin Ilyas Shah
  3. Ghiyasuddin Azam Shah
  4. Nasiruddin Mahmud Shah
ব্যাখ্যা

• ছোট সোনা মসজিদ:
- এটি বাংলার রাজধানী গৌড়-লখনৌতির ফিরোজপুর কোয়াটার্স এর তাহখানা কমপ্লেক্স থেকে অর্ধ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং কোতোয়ালী দরওয়াজা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে (চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা) অবস্থিত। 
- এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি. দূরে অবস্থিত।
- প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়।
- শিলালিপিতে নির্মানের সঠিক তারিখ সম্বলিত অক্ষরগুলি মুছে গেছে। 
- তবে এতে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর নামের উল্লেখ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, মসজিদটি তার রাজত্বকালের (১৪৯৪-১৫১৯) কোন এক সময় নির্মিত।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। (Link)

১১.
Isha Khan, a prominent Baro-Bhuyan, had his capital at -
  1. Sonargaon 
  2. Bikrampur
  3. Jahangirnagar
  4. Nadia
ব্যাখ্যা

• জমিদার ঈশা খাঁ:
- মুঘলদের বিরুদ্ধে বাংলার যুদ্ধে যে বারভূঁইয়া বা বারো ভূঁইয়াদের নাম শোনা যায়, তাদের তালিকায় সবার আগে আসে ঈশা খাঁর নাম।
- ঢাকার অদূরে সোনারগাঁয়ে ছিল তার রাজধানী। 
- জমিদার পুত্র হিসেবে যার জন্ম, কিন্তু তার শৈশব কেটেছে সুদূর তুরান বা তুর্কমেনিস্তানে একজন ক্রীতদাস হিসাবে।
- ঈশা খাঁর পূর্বপুরুষেরা ভারতের রাজস্থান থেকে ভাগ্যান্বেষণে বাংলায় এসে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের দরবারে কাজ শুরু করেন। 
- ঈশা খাঁর দাদা ভগীরথকে দেওয়ানি দিয়েছেন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা। (Link)

১২.
‘Ajanta Caves’ artwork dates back to which period?
  1. Gupta
  2. Maurya
  3. Chola
  4. Kushan
ব্যাখ্যা

• অজন্তার গুহাচিত্র:
- ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র আওরঙ্গাবাদ শহর থেকে অজন্তার দূরত্ব প্রায় ১০১ কিলোমিটার।
- খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ সাল থেকে সপ্তম খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে নির্মিত এসব গুহা। 
- মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুরা উপাসনার জন্য নির্জন এ পাহাড়ে খোদাই করে গুহাগুলো তৈরি করেছেন।

- কেবল গুহা নয়, এসব গুহার ভেতর বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিপুণ হাতে পাথরের পাহাড় কেটে কেটে তৈরি করেছেন বুদ্ধের মূর্তিসহ নানা শিল্পকর্ম; শিল্পের ভাষায় যাকে ‘রিলিফ ওয়ার্ক’ বলে। 
- এ ছাড়া গুহার ছাদ বা সিলিংয়েও অনেক শিল্পকর্ম আছে; যাকে শিল্পের ভাষায় ফ্রেসকো বলে। 
- ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, বৌদ্ধ ভিক্ষু বা সন্ন্যাসীরা উপাসনা বা ধর্মচর্চা ও সংস্কৃতিচর্চার জন্যই অরণ্যঘেরা নির্জন এ অজন্তার পাহাড় খোদাই করে গড়েছেন গুহাগুলো।
- ছোট-বড় মিলিয়ে গুহা আছে ২৯টি। 

- ভারতীয় শিল্পকলার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে গুপ্ত সম্রাট (খ্রি. ৩২০-৬৭৫) এবং তাঁদের নিকটবর্তী সময়ে। 
- এ সময়কার সৃষ্টিই অজন্তার গুহা। 
-  বিরল গুহা চিত্রের জন্য  অজন্তা ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

১৩.
The famous Muslim traveller 'Ibn Battuta' arrived in Bengal during the reign of which ruler?
  1. Fakhruddin Mubarak Shah
  2. Shamsuddin Ilyas Shah
  3. Ghiyasuddin Azam Shah
  4. Rukunuddin Kaikaus
ব্যাখ্যা

 • ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের (তাতার খান) মৃত্যু হলে 'ফখরা' বা ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাহ্দার (বর্মরক্ষক) স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কদরখানের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে সোনারগাঁও পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হন।
- এই সোনারগাঁও-ই হল স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান।
- তিনি একজন বিচক্ষণ ও প্রজাহিতৈষী শাসক ছিলেন।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে সুদূর আফ্রিকার মরক্কো থেকে ইবনে বতুতা নামে একজন মুসলিম পর্যটক ১৩৪৫-৪৬ খ্রি. বাংলায় অসেন। 

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
Which Mughal emperor authorized the East India Company to establish a 'Kuthi' in Surat? 
  1. Jahangir
  2. Shah Jahan
  3. Akbar
  4. Aurangzeb
ব্যাখ্যা

- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি  বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে 'সম্রাট জাহাঙ্গীরের' অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপিত করে। 

• ইংরেজ:

- সমুদ্রপথে ইউরোপীয় বণিকদের সাফল্য প্রাচ্যের ধনসম্পদের প্রাচুর্য, ইংরেজ বণিকদেরকেও বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত করে। - এই উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের একদল বণিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে একটি বণিক সংঘ গড়ে তোলে।
- বণিক সংঘটি ১৬০০ সালে রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে।
- এই সনদপত্র নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আশায় আকবরের দরবারে হাজির হন।

- এরপর ক্যাপ্টেন হকিস ১৬০৮ সালে রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপিত হয়। 
- পরবর্তীকালে ১৬১৫ সালে প্রথম জেমসের দূত হয়ে জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন স্যার টমাস রো। 
- সম্রাটেরকাছ থেকে তিনি ইংরেজদের জন্য বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করে নেন। 
- কোম্পানি সুরাট, আগ্রা,আহমেদাবাদ প্রভৃতি স্থানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে তাদের ভিত্তিমজবুত করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৫.
Mangal Pandey is remembered for his participation in which anti-British revolt?
  1. Sepoy Revolt
  2. Chakma Revolt
  3. Santhal Revolt
  4. Indigo Revolt
ব্যাখ্যা

• সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।