পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes৪১ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 16” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন বিষয়ের নাম: ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ [৫০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের কয়টি রাজ্যের সীমান্ত আছে? 
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান)।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- সীমান্ত রাজ্য হলো:  পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, এবং মিজোরাম।

- বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ২টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
পানি প্রবাহের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নদী - 
  1. হোয়াংহো নদী
  2. নীল নদ
  3. আমাজন নদী
  4. টাইগ্রীস নদী
ব্যাখ্যা

• আমাজন নদী:
- দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ নদী।
- এবং পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রবাহ ও অববাহিকার অধিকারী।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পানি প্রবাহিতকারী নদী হিসেবে পরিচিত।
- অবস্থান: দক্ষিণ আমেরিকা, ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বোলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম, ফরাসি গায়ানা।
- উৎস: পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা।
- দৈর্ঘ্য: প্রায় ৭,০৬২ কিলোমিটার (নীল নদীর পর দ্বিতীয় দীর্ঘতম,)
- প্রবাহের গন্তব্য: অটলান্টিক মহাসাগর।
- পানি প্রবাহ: পৃথিবীর মোট নদী প্রবাহের ২০% নিয়ন্ত্রণ।
- চ্যালেঞ্জ: বন উজাড়, পরিবেশ দূষণ।

উৎস: Britannica.

.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়?
  1. চাঁদপুর
  2. চাঁপাই নবাবগঞ্জ  
  3. রাজশাহী
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

-  চাঁপাই নবাবগঞ্জ সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আর্সেনিক (Arsenic):
- আর্সেনিক দূষণ একটি Global Problem.
- তাইওয়ানে প্রথম শনাক্তকরণ হয়।
- পৃথিবীর সকল মহাদেশের ৫০ টির মতো দেশে ভূগর্ভস্থ বা ভূউপরিস্থ পানিতে উচ্চমাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চাঁপাই নবাবগঞ্জ উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে, পানিতে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ০.০১ পিপিএম আর্সেনিকের মাত্রা গ্রহণযোগ্য। 
- তবে যখন কোন এলাকার পানিতে ০.০১ পিপিএম এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আর্সেনিক থাকে তখন সেই এলাকার পানিকে আর্সেনিক দূষণযুক্ত বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আর্সেনিক দূষণের মাত্রা বেশি।
- এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এ দূষণের মাত্রা কম।
- সর্বোচ্চ দূষণযুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর (৯০%), মুন্সিগঞ্জ (৮৩%), গোপালগঞ্জ (৭৯%), মাদারীপুর (৬৯%), নোয়াখালী (৬৯%), সাতক্ষীরা (৬৭%), কুমিল্লা (৬৫%), ফরিদপুর (৬৫%), শরিয়তপুর (৬৫%), মেহেরপুর (৬০%) ও বাগেরহাট (৬০%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. বাগেরহাট
  3. সুনামগঞ্জ
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

রামসার সাইট:
- রামসার কনভেনশন রামসার চুক্তি হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট  হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।
- বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট সুন্দরবন।
- ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবনকে রামসার সাইট (রামসার কনভেনশন কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর।
- এটি সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি টাঙ্গুয়ার হাওরকে সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উৎস: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।

.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কত সমুদ্রসীমা নটিক্যাল মাইল?
  1. ১৫ নটিক্যাল
  2. ১২ নটিক্যাল
  3. ১০ নটিক্যাল
  4. ৮ নটিক্যাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা (Boundary):
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে অবস্থিত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।
- এ দেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে  আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
লোহিত সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1.  অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে
  2. ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে 
  3. এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে
  4. আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে
ব্যাখ্যা

• লোহিত সাগর (Red Sea):
- ভারত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- যা আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি সুয়েজ প্রণালী ও বাব এল-মানদেব প্রণালীর মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত।
• অবস্থান ও সীমান্তবর্তী দেশসমূহ:
- উত্তর সীমা: সিনাই উপদ্বীপ, সুয়েজ উপসাগর ও আকাবা উপসাগর;
- দক্ষিণ সীমা: বাব এল-মানদেব প্রণালী, যা গালফ অব অ্যাডেনের সাথে সংযুক্ত;
- লোহিত সাগরের তীরবর্তী ৬টি দেশ;
- পূর্ব তীর: সৌদি আরব ও ইয়েমেন;
- পশ্চিম তীর: মিশর, সুদান, ইরিত্রিয়া ও জিবুতি।

উল্লেখ্য,
- লোহিত সাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত আকাবা উপসাগর (Gulf of Aqaba) এবং সুয়েজ উপসাগর (Gulf of Suez) এর কারণে ইসরায়েল এবং জর্ডানও তীরবর্তী হিসেবে গণ্য হয়। তবে সরাসরি সংযুক্ত নেই লোহিত সাগরের সাথে।

উৎস: Britannica.

.
ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে প্রধানত বাংলাদেশকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে?  
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা

ভূ-প্রকৃতি:
- ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ,
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি,


টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এসকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও (খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।


প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভ, মি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভ, মি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।


• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি।
- এর কিছুসংখ্যক পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত।
- স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- এদের মধ্যে চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওড়সমূহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
তামার দেশ হিসেবে পরিচিত- 
  1. ইতালি
  2. জাম্বিয়া
  3. মিশর
  4. তাইওয়ান
ব্যাখ্যা

ভৌগলিক উপনাম:
- সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
- লিলি ফুলের দেশ: কানাডা।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- সিল্ক রুটের দেশ: ইরান।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- তামার দেশ: জাম্বিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- প্রাচীরের দেশ: চীন।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।

উৎস: Britannica.com.

.
কালাহারি মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. বতসোয়ানা
  2. নামিবিয়া
  3. দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

কালাহারি মরুভূমি: 
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আফ্রিকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অঞ্চল মরুভূমি দ্বারা আবৃত।
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম।
- এবং বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ বৃহত্তম মরুভূমি।
- এটি তিনটি দেশে বিস্তৃত।
- বতসোয়ানা,নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা।
- এর আয়তন প্রায় ৯,৩২,০০০ বর্গ কিমি।
- এটি বতসোয়ানার ৭০% অঞ্চল,
- নামিবিয়ার পূর্ব অংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর অংশ জুড়ে বিস্তৃত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১০.
বাংলাদেশের প্রায় মাঝ বরাবর পূর্ব থেকে পশ্চিমে অতিক্রম করে যাওয়া রেখাটি কোনটি?
  1. বিষুব রেখা 
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. আর্কটিক সার্কল 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত।
- বাংলাদেশ ২০৩৪' উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮০১' পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২৪১' পূর্ব দ্রাঘিমারেখা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের প্রায় মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩৫) অতিক্রম করেছে।
- যা এদেশকে ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে অবস্থিত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
বিশ্বের গভীরতম হ্রদ কোনটি? 
  1. সুপিরিয়র হ্রদ
  2. টাঙ্গানিকা হ্রদ 
  3. ভিক্টোরিয়া হ্রদ 
  4. বৈকাল হ্রদ 
ব্যাখ্যা

বৈকাল হ্রদ: 
- যা দক্ষিণ সাইবেরিয়ার বুরিয়াত প্রজাতন্ত্র ও ইরকুতস্ক ওব্লাস্ট-এর মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- বিশ্বের গভীরতম হ্রদ বৈকাল হ্রদ।
- যা আয়তনের দিক থেকে নয় বরং পানির পরিমাণ বা আয়তন (volume) অনুসারে প্রথম।
- পৃথিবীর মোট ভূপৃষ্ঠের কমপক্ষে ২২% মিঠা পানি এই হ্রদে সংরক্ষিত।
- উত্তর আমেরিকার সমস্ত গ্রেট লেকসের পানির পরিমাণ একত্র করলেও তা লেক বৈকাল পূর্ণ করতে পারে - 
- বৈকাল হ্রদ সবচেয়ে গভীরতম হ্রদ।
- এটি বিশ্বের অন্যতম স্বচ্ছ (clearest) হ্রদ হিসেবেও পরিচিত।

অপরদিকে,
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশুদ্ধ পানির আধার।
- টাঙ্গানিকা হ্রদ এটি বিশ্বের দীর্ঘতম স্বাদু পানির হ্রদ।
- সুপিরিয়র হ্রদ উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ হ্রদ। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 

১২.
নিচের কোন দেশটিতে নদী নেই?  
  1. টোঙ্গা
  2. কোমোরোস 
  3. জিবুতি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• নদী বিহীন দেশ:
- কিছু দেশ এত ছোট যে সেখানে নদী থাকার জায়গাই নেই।
- অনেক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, শহর-রাষ্ট্র, অথবা যে-সব দেশে শুধুমাত্র মৌসুমি পানি প্রবাহ ঘটে।
- যা প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী নদী হিসেবে বিবেচিত হয় না।
- এই মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ১৯টি দেশ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে কোনো স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই।

• নদী বিহীন দেশগুলো হলো যথা:
- কোমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত,ইয়েমেন,মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি,  কিরিবাটি, নাউরু,  টোঙ্গা, টুভ্যুলু।

উৎস: World Atlas. 

১৩.
দুর্যোগের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাকে বলা হয়- 
  1. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি 
  2. দুর্যোগ প্রতিরোধ 
  3. দুর্যোগ প্রশমন
  4. দুর্যোগ উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:

প্রতিরোধ (Prevention)
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে। দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে। কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
প্রশমন (Mitigation)
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি।

দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।
- এইগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১৪.
কয়লা রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
  1. নিস 
  2. গ্রানাইট 
  3. গ্রাফাইট
  4. স্লেট 
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।
যেমন:
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১৫.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড  – 
  1. একটি নদীর মোহনা
  2. একটি উপকূলীয় সৈকত 
  3. একটি সমুদ্র দ্বীপ
  4. একটি সমুদ্র খাদ 
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- এটি একটি সমুদ্র খাদ।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)  খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত,
- যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কিছু বদ্বীপমুখী খাদ দেখতে পাওয়া যায়,
- যেমন সিন্ধু নদীর মোহনার অদূরে সিন্ধু খাদ, মিসিসিপি বদ্বীপের পশ্চিম পাশে মিসিসিপি খাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৬.
সাহারা মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় কত শতাংশ জুড়ে রয়েছে?
  1. ৩১ শতাংশ
  2. ২১ শতাংশ
  3. ১১ শতাংশ
  4. ১৫ শতাংশ
ব্যাখ্যা

সাহারা মরুভূমি:
- প্রায় ৯,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমিকে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ (গরম) মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- আয়তনের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি,
- শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের মেরু মরুভূমির পরেই অবস্থান।
- এবং এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩১% অংশ দখল করে রেখেছে।
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, মরক্কো, তিউনিশিয়া, চাঁদ, মালি, নাইজার, মরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা।
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১৭.
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কোন সাগরে অবস্থিত? 
  1. বঙ্গোপসাগরে
  2. লোহিত সাগরে
  3. জাভা সাগরে
  4. আরব সাগরে
ব্যাখ্যা

• আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ যা বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সাগরকে পৃথক করে।
- দুটি প্রধান দ্বীপগুচ্ছ নিয়ে গঠিত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
- এই দ্বীপপুঞ্জগুলো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- এবং ভারতের অধীনস্থ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মোট ৫৭২টি দ্বীপ রয়েছে্

উল্লেখ্য
- ২০০৪ সালে, ভারত মহাসাগরে সংঘটিত হয়।
-  শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি এই দ্বীপপুঞ্জে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ করে।

উৎস: World Atlas.

১৮.
ডেড সী কোন দুটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. তুরস্ক এবং গ্রিস
  2. জর্ডান এবং ইসরায়েল 
  3. লেবানন এবং সিরিয়া 
  4. ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা

• ডেড সী:
- ডেড সী, যা লবণ সাগর নামেও পরিচিত।
- এটি একটি লবণাক্ত হ্রদ।
- জর্ডান এবং ইসরায়েল এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
-  সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ৪৩০.৫ মিটার নিচে অবস্থিত,
- যা একে পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্নভূমির স্থলভাগ হিসেবে পরিচিত।
- এর লবণাক্ততা সাধারণ সমুদ্রের চেয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি।
- এই হ্রদের একটি প্রধান পানির উৎস হলো জর্ডান নদী,
- তবে এর কোনো প্রাকৃতিক নিষ্কাশন পথ নেই।
- ফলে এটি প্রধানত বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি হারায়।
-  এই হ্রদে জীবনের অস্তিত্ব প্রায় নেই।
- শুধুমাত্র শৈবাল এবং কিছু আণুবীক্ষণিক জীব ছাড়া আর কিছু বেঁচে থাকতে পারে না।
 
উৎস: World Atlas. 

১৯.
কুশিয়ারা ও সুরমা নদী মিলিত হয়েছে- 
  1.  চাঁদপুর 
  2. আজমিরীগঞ্জ 
  3. ভৈরব
  4. গোয়ালন্দ
ব্যাখ্যা

- কুশিয়ারা ও সুরমা: আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।

গুরত্বপূর্ণ নদীসমূহের মিলিত স্থান:
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা: ভৈরব বাজার।
-  হালদা ও কর্ণফুলী: কালুরঘাট, চট্টগ্রাম।
- তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র: চিলমারি, কুড়িগ্রাম।
- পদ্মা ও যমুনা: গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি।
- পদ্মা ও মেঘনা: চাঁদপুর।
- কুশিয়ারা ও সুরমা: আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০.
বাংলাদেশে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে কত সালে? 
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

- ২০১৬ সালের ১৭ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় বজ্রপাতকে ১৩তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

• বজ্রপাত:
- প্রাকৃতিক কারণে যেসব দুর্যোগ সংঘটিত হয় তাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, নদীভাঙন, তুষারপাত, ঘূর্ণিঝড়, খরা, বজ্রপাত ইত্যাদি।
- প্রাকৃতিক কারণেই বজ্রমেঘের সৃষ্টি এবং বজ্রমেঘ থেকেই হয় বজ্রপাত। 'কিউমুলোনিম্বাস' মেঘ থেকে সাধারণত বজ্রপাতের সৃষ্টি।
-দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল তুলনায় বাংলাদেশে বজ্রপাতের প্রবণতা অনেক বেশি।
- আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান।
- ২০১৬ সালের ১৭ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় বজ্রপাতকে ১৩তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়।

২১.
বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী দেশ নয় কোনটি? 
  1. রোমানিয়া
  2. জার্মানি 
  3. লাটভিয়া 
  4. পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা

- বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী দেশ নয় রোমানিয়া।
- এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, ও লিথুয়ানিয়া-কে একত্রে বাল্টিক রাষ্ট্র বলা হয়।

• বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী দেশসমূহের নাম:
- ডেনমার্ক,
- এস্তোনিয়া,
- ফিনল্যান্ড,
- জার্মানি,
- লাটভিয়া,
- লিথুয়ানিয়া,
- পোল্যান্ড,
- রাশিয়া (কালিনিনগ্রাদ ও সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলের মাধ্যমে),
- সুইডেন।

উল্লেখ্য, 
- মোট ৯টি দেশ বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী।
- এর মধ্যে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, ও লিথুয়ানিয়া-কে একত্রে বাল্টিক রাষ্ট্র বলা হয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২২.
কিল প্রণালী (Kiel Canal) কোন দুটি সাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে? 
  1. আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগর 
  2. ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর
  4. উত্তর সাগর এবং বাল্টিক সাগর 
ব্যাখ্যা

কিল প্রণালী (Kiel Canal): 
- যা ইডার কানাল  কাইজার-উইলহেল্ম কানাল, নর্ড-ওস্টসি-কানাল, নর্ড-ওস্টসি-কানাল বা উত্তর সাগর-বাল্টিক সাগর প্রণালী নামেও পরিচিত।
- জার্মানির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- এটি পূর্বমুখী ৯৮ কিলোমিটার (৬১ মাইল) দৈর্ঘ্যের এই প্রণালী।
- উত্তর সাগর এবং বাল্টিক সাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- প্রণালীটি ব্রুনসবুটেলকুগ (উত্তর সাগরে, এলব নদীর মুখে) থেকে হোলটেনাউ (বাল্টিক সাগরে কিয়েল বন্দরে) পর্যন্ত বিস্তৃত।

উল্লেখ্য,
- কিল প্রণালী ১৮৮৭ থেকে ১৮৯৫ সালের মধ্যে নির্মিত হয়, যা প্রথমে জার্মান সামরিক চাহিদা মেটানোর জন্য তৈরি করা হয় যাতে জাহাজগুলিকে ডেনমার্কের জুটল্যান্ড উপদ্বীপের চারপাশে উত্তরমুখী যাত্রা এড়ানো যায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

২৩.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর ’হাকালুকি হাওর’ কোন কোন জেলায় বিস্তৃত রয়েছে? 
  1. মৌলভীবাজার এবং সুনামগঞ্জ
  2. মৌলভীবাজার এবং সিলেট
  3. হবিগঞ্জ এবং সিলেট
  4. সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ 
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওর: 
- হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর।
- মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে হাকালুকি হাওড় অবস্থিত।
- পূর্বে পাথারিয়া পাহাড়,
- এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড়,
- এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি।
- এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর, তন্মধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪,৪০০ হেক্টর।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা , কুলাউড়া এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে, গোলাপগঞ্জ  এবং বিয়ানীবাজার জুড়ে বিস্তৃত।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে এর অবস্থান, উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং পূর্বে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশ।
- হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
- টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর। 
- চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বাইক্কা বিলের অবস্থান। 
- নিকলী হাওর বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪.
ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশে  আঘাত হানে কত তারিখে? 
  1. ১৫ নভেম্বর,২০১৫ 
  2. ১৫অক্টোবর,২০১৫ 
  3. ১৫ সেপ্টেম্বর,২০১৫ 
  4. ১৫ নভেম্বর,২০১৬ 
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
---------------- 

সিডর:

- সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ চোখ।
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয়।
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নাম ঠিক করে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫.
নীল নদের অববাহিকায় কোন দেশ অবস্থিত নয়?
  1. ইরিত্রিয়া
  2. দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. কেনিয়া
  4. ইথিওপিয়া
ব্যাখ্যা

- দক্ষিণ আফ্রিকা নীল নদের অববাহিকায় কোন দেশ অবস্থিত নয়।

নীল নদ:
পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ।
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- নীল নামটি গ্রীক নিলোস থেকে এসেছে, যার অর্থ একটি উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- নীল নদ ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৮০০ কি.মি (৪,১৩৫ মাইল)।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
এর সবচেয়ে দূরবর্তী উৎস বুরুন্ডির কাগেরা নদী।
- নীল নদ তিনটি প্রধান স্রোত দ্বারা গঠিত।
- নীল নীল এবং আতবারা যা ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত হয় এবং সাদা নীল যার প্রধান স্রোত ভিক্টোরিয়া এবং আলবার্ট হ্রদে প্রবাহিত হয়।

উৎস: World atlas.

২৬.
পানামা খাল কোন দুটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর এবং আরব সাগর 
  2. ভারত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর 
  3. আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগর
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের মধ্যে একটি, যা পানামা প্রজাতন্ত্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত।
- এটি একটি লক-টাইপ খাল, যা আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর সংযুক্ত করে।
- উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য: প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিমি)।
- উদ্বোধন: আগস্ট, ১৯১৪।
• নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসন:
- ১৯১৪-১৯৭৯: খালটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃত্বে পরিচালিত।
- ১৯৭৯: পানামা খাল কমিশন নামে মার্কিন ও পানামার যৌথ সংস্থা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ।
- ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯: খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পানামা সরকারের কাছে হস্তান্তরিত।
- বর্তমান প্রশাসন: পানামা খাল কর্তৃপক্ষ, যা কেবল পানামা সরকারের কাছে জবাবদিহি করে।

উৎস: Britannica.

২৭.
জাপানের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় কী নামে পরিচিত?
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন 
  3. হারিকেন
  4. টর্নেডো
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
এডাম’স পিক কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. ভারত 
  2. নেপাল
  3. থাইল্যান্ড
  4. শ্রীলংকা 
ব্যাখ্যা

- এডাম’স পিক শ্রীলংকায় অবস্থিত।

শ্রীলংকা: 
- দাপ্তরিক নাম: ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক অফ শ্রীলংকা।
- পূর্ব নাম: সিলন- ১৯৭২ সালে "শ্রীলংকা" নাম গ্রহণ করে।
- প্রশাসনিক রাজধানী: শ্রী জয়বর্ধনপুর কোট্টে।
- বাণিজ্যিক রাজধানী: কলম্বো।
- ভাষা: সিংহলি ও তামিল (দুটি রাষ্ট্রভাষা), 
- ধর্ম: বৌদ্ধ প্রধান ধর্ম।
- মুদ্রা: শ্রীলংকান রুপি (LKR)।
- ভৌগোলিক অবস্থান: ভারত মহাসাগরে, দক্ষিণ এশিয়ায়, ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের নিকটে।
- সংবিধান: ১৯৭৮ সালে বর্তমান সংবিধান গৃহীত।
- আইনসভা: এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ (Unicameral Parliament)
- প্রশাসনিক বিভাগ: ৯টি প্রদেশ ও ২৫টি জেলা।
- এডাম’স পিক হলো শ্রীলংকার একটি পবিত্র পাহাড়,
- অবস্থান: শ্রীলংকার কেন্দ্র-পশ্চিম অংশে, সবারাগামুওয়া প্রদেশে (Sabaragamuwa Province)
- এটি শ্রীলংকার অন্যতম বিখ্যাত ও পবিত্র পর্বত শৃঙ্গ।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২৯.
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ-  
  1. ভোলা 
  2. কুতুবদিয়া
  3. সেন্টমার্টিন 
  4. মহেশখালী 
ব্যাখ্যা

মহেশখালী:
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
-  দ্বীপ সৃষ্টি: ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহেশখালী দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
- এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা মহেশখালী।
- আয়তন: ৩৬২.১৮ বর্গ কিমি।
- ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসন মহেশখালী থানাকে উপজেলায় রুপান্তরিত করে।
- এখানে কিছু দর্শনীয় স্থান: আদিনাথ মন্দির, মৈনাক পর্বত, সোনাদিয়া দ্বীপ, রাখাইনদের কেয়াং।

অপরদিকে, 
- শাহপরীর দ্বীপ: টেকনাফের সর্ব দক্ষিণে ভূ-ভাগের খুবই নিকটবর্তী একটি দ্বীপ।
- সেন্টমার্টিন: বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ।
- ভোলা: ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ।

উৎস: জাতীয় তথ্যবাতায়ন। 

৩০.
পদ্মা নদীর শাখানদী কোনটি? 
  1. মাথাভাঙ্গা
  2. গড়াই
  3. ভৈরব
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

পদ্মা নদী:
- বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা।
- এ নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে অগ্রসর হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট গঙ্গা নামে সমভূমিতে প্রবেশ করেছে।
- গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে। -
- অত:পর তিন নদীর মিলিত স্রোত মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
আচেহ প্রদেশ  কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. মালয়েশিয়া 
  2. ফিলিপাইন
  3. ইন্দোনেশিয়া 
  4. নাইজেরিয়া
ব্যাখ্যা

- আচেহ প্রদেশ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায়।

ইন্দোনেশিয়া:
- ইন্দোনেশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র।
- ইন্দোনেশিয়াতে সর্বমোট ১৭,০০০+ দ্বীপ রয়েছে।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপগুলো হচ্ছে-সুমাত্রা, জাভা, বালি ইত্যাদি।
- বৃহত্তম দ্বীপ সুমাত্রা।
- আচেহ প্রদেশ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায়।
- জনবহুল দ্বীপ জাভা (রাজধানী জাকার্তা অবস্থিত)।
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ডসের উপনিবেশ ছিল।
- নেদারল্যান্ডের কাছ থেকে দেশটি আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৪৯ সালে স্বাধীন হয়।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি (স্বাধীনতার নেতৃত্ব প্রদান) মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী।
- মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী (২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত)।
- তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধান।

উৎস: Worldatlas.

৩২.
বসফরাস প্রণালী কোন দুটি সাগরকে সংযুক্ত করে? 
  1. আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগর 
  2. লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগর
  3. কৃষ্ণ সাগর এবং মর্মর সাগর 
  4.  ভূমধ্যসাগর এবং কাস্পিয় সাগর 
ব্যাখ্যা

• বসফরাস প্রণালী:
- পৃথক করেছে: এশিয়া ও ইউরোপ।
- সংযুক্ত করেছে:  কৃষ্ণ সাগর এবং মর্মর সাগর।
- বসফরাস প্রণালী ১৯ মাইল দীর্ঘ এবং এর সর্বোচ্চ প্রস্থ উত্তর প্রান্তে ২.৩ মাইল।
- এর গভীরতা মাঝখানে ১২০ থেকে ৪০৮ ফুট পর্যন্ত।
- বসফরাস প্রণালীটি ব্যাপকভাবে মাছ ধরা হয়,
- কারণ এটি মাছের ঋতুকালীন অভিবাসন পথ হিসেবে কাজ করে,
- যা মাছকে কৃষ্ণ সাগর থেকে মর্মর সাগরে এবং বিপরীত দিকে নিয়ে যায়।
এছাড়াও,
- কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) শহরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বসফরাস প্রণালীটি।
- এই কারণে বাইজেন্টাইন সম্রাটরা এবং পরবর্তীতে উসমানীয় সুলতানরা প্রণালীর তীরে দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন,
- বিশেষ করে ইউরোপীয় তীরে।
- আনাদোলুহিসারি, যা ১৩৯০–৯১ সালে বাইয়াজিদ প্রথম নির্মাণ করেছিলেন,
- এবং রুমেলিহিসারি, যা ১৪৫২ সালে মেহমেদ দ্বিতীয় নির্মাণ করেছিলেন।

উৎস: Britannica.

৩৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত প্রশমন কোনটি? 
  1. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  2.  প্রশিক্ষণ
  3. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  4. পূর্বপ্রস্তুতি 
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 


প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা-
• বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪.
বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ০.০৩%
  2. ০.০১%
  3. ০.৪১%
  4. .০২%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- বায়ুমণ্ডল এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যা ৭৮.০২%।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যা ০.০১%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫.
ভোলা জেলায় কোন চরগুলো রয়েছে? 
  1. চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার
  2. চর শ্রীজনী ও চর শাহাবানী 
  3. চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি
  4. মুহুরীর চর ও নির্মল চর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের চরসমূহ:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়?
  1. পূর্ব- দক্ষিণাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলে
  4. পশ্চিম- পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

খরা (Drought): 
- ফসল জন্মানোর স্বাভাবিক সময়ে শস্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার চাইতে জমিতে কম আর্দ্রতা থাকলে সে সময়কে বাংলাদেশে ক্ষরা অবস্থা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়।
- ১৯৯৪-৯৫ খ্রিষ্টাব্দের খরা এবং পরবর্তীতে ১৯৯৫-৯৬ খ্রিষ্টাব্দের খরা খাদ্যশস্যের বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান কৃষিফসল ধান ও পাট মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
- খরার প্রকোপে শাকসবজি, তামাক, কলা, অন্যান্য শস্যের ফলন দারুণভাবে ব্যাহত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ- 
  1. হোনশু
  2. মালদ্বীপ
  3. গ্রিনল্যান্ড
  4. মাদাগাস্কার
ব্যাখ্যা

গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ।
- এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- গ্রীনল্যান্ড (স্থানীয় ভাষায় কালালিত নুনাত) পরিচিত এর বিশাল তুন্দ্রা অঞ্চল ও বিশাল হিমবাহের জন্য।
- তাঁরা তাঁদের মাতৃভূমিকে বলেন কালালিত নুনাত, অর্থাৎ "গ্রীনল্যান্ডবাসীদের দেশ”।
- গ্রীনল্যান্ডের রাজধানীর নাম নুক (ডেনিশ ভাষায় গোথহোব)।

অপরদিকে,
- মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- নিউ গিনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- বোর্নিও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- মাদাগাস্কার বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ।

উৎস: Britannica.

৩৮.
কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশ কয়টি? 
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ৮টি
  4. ৪টি 
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণ সাগর:
- কৃষ্ণ সাগর পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
• কৃষ্ণ সাগরের তীরে মোট ৬টি দেশ অবস্থিত।
- তুরস্ক, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, রাশিয়া।
- ইউরোপ মহাদেশ, আনাতোলিয়া এবং ককেশাস পর্বতমালা দ্বারা আবদ্ধ।
- এবং ভূ-মধ্যসাগর হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে মিলেছে।
- এই সাগর ভূ-মধ্যসাগরের সাথে বসফরাস প্রণালি দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
- এই প্রণালিটি সরু যার গড় গভীরতা ৭০০ মিটার এবং সর্বনিম্ন গভীরতা ৪০ মিটার।
- কৃষ্ণ সাগরের আয়তন প্রায় ৪.৩৬ বর্গকিলোমিটারG
- এবং গড় গভীরতা ১,৩১১ মিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৯.
ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে বলা হয়- 
  1. চোখ
  2. মোখা 
  3. ঢেউ
  4. ফণী
ব্যাখ্যা

- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।

• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সমূহের ব্যাস ২০০-৭০০ কি.মি হয় এবং গভীরতা হয় ১২-১৬ কি.মি পর্যন্ত।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় কেন্দ্রের ভিতরের দিকে বায়ুচাপ দ্রুত কমতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ বয়ে আনে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
ফারাক্কা বাঁধ ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
  1. ত্রিপুরা
  2. আসাম
  3. মিজোরাম
  4. পশ্চিমবঙ্গ 
ব্যাখ্যা

ফারাক্কা বাঁধ:
- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর ওপর ফারাক্কা বাঁধের অবস্থান।
- ফারাক্কা বাঁধ চালু হয় ১৯৭৫ সালে।
- ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত একটি বাঁধ।
- ভারতের হুগলী নদীতে পানি সরবরাহ এবং কলকাতা বন্দরটি সচল করার জন্য ১৯৭৪ সালে এই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
- এর অবস্থান বাংলাদেশ থেকে ১৮ মাইল উজানে ভারতের ভূখণ্ডে গঙ্গা নদীর ওপরে।
- ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রথম পরিকল্পনা করে ১৯৫১ সালে।
- ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালে।
- ২১ এপ্রিল, ১৯৭৫ থেকে এই বাঁধ চালু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা।

৪১.
GMT-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Global Mean Time
  2. Greenwich Mean Time
  3. General Meridian Time
  4. Great Mean Time
ব্যাখ্যা

গ্রিনিচ মান:
- GMT-এর পূর্ণরূপ: Greenwich Mean Time.
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয়।
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২.
এশিয়াকে ইউরোপ থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
  1. বেরিং প্রণালী 
  2. হরমুজ প্রণালী 
  3. ফ্লোরিডা প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা

বসফরাস প্রণালী:
- পৃথক করেছে: এশিয়া ও ইউরোপ।
- সংযুক্ত করেছে: কৃষ্ণ সাগর ও মরমর সাগর।
- বসফরাস প্রণালী ১৯ মাইল দীর্ঘ এবং এর সর্বোচ্চ প্রস্থ উত্তর প্রান্তে ২.৩ মাইল।

অপরদিকে,
- বেরিং প্রণালী: আমেরিকা-এশিয়া পৃথক করেছে।
- হরমুজ প্রণালী: ইরান-আরব আমিরাত পৃথক করেছে।
- ফ্লোরিডা প্রণালী: কিউবা-ফ্লোরিডা পৃথক করেছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।