পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
বিষয় - কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি টপিক - কম্পিউটার ১. কম্পিউটারের ইতিহাস ও বিবর্তন। ২. কম্পিউটারের প্রকারভেদ ও এমবেডেড (Ambeded) কম্পিউটার। উৎস: অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে 'মার্ক-১' নির্মাণ করা হয়?
  1. Von Neumann ​
  2. Charles Babbage
  3. Howard Aiken
  4. Alan Turing
সঠিক উত্তর:
Howard Aiken
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Howard Aiken
ব্যাখ্যা

• ‘মার্ক–১’ ছিল বিশ্বের প্রথম দিকের স্বয়ংক্রিয় ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কম্পিউটার, যা ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়। এটি নির্মাণের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাওয়ার্ড আইকেন (Howard Aiken)। তিনি এই প্রকল্পের ধারণা দেন এবং IBM কোম্পানির সহযোগিতায় যন্ত্রটি নির্মিত হয়। মার্ক–১ বিশাল আকৃতির হলেও সে সময়ের জন্য অসাধারণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ছিল। এর মাধ্যমে জটিল গাণিতিক সমাধান দ্রুত করা সম্ভব হয়েছিল, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সামরিক প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) Howard Aiken, যিনি এই ঐতিহাসিক যন্ত্রটির নির্মাণে নেতৃত্ব দেন।

- মার্ক-১ নামে পরিচিত ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কম্পিউটারটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন (International Business Machine) কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়।
- হাওয়ার্ড এইকিনের তত্ত্বাবধানে ১৯৪৪ সালে এটি নির্মিত হয়।

- মার্ক-১ কম্পিউটারের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো-
ক) মার্ক-১ ছিল পৃথিবীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হিসাবকারী যন্ত্র।
খ) কম্পিউটারটির মাধ্যমে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং ত্রিকোণমিতিক ফাংশন ছাড়াও অনেক জটিল গাণিতিক কাজ করা যেত।
গ) কম্পিউটারটির দৈর্ঘ্য ছিল ৫১ ফুট ও উচ্চতা ৮ ফুট। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ঘ) এর ওজন ছিল প্রায় ৫ টন।
এ কম্পিউটারটিতে সাত লক্ষেরও অধিক যন্ত্রাংশ সংযোগের জন্য প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ তারের প্রয়োজন হয়েছিল। মার্ক-১ কম্পিউটারটি প্রদর্শনের জন্য বর্তমানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সযত্নে সংরক্ষিত আছে।

উৎস: কম্পিউটারের ইতিহাস ও শ্রেণিবিভাগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সুপারকম্পিউটার প্রধানত কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. অফিসের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি 
  2. গেম খেলা
  3. ভিডিও এডিটিং
  4. আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং বৈজ্ঞানিক সিমুলেশন
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং বৈজ্ঞানিক সিমুলেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং বৈজ্ঞানিক সিমুলেশন
ব্যাখ্যা

• সুপারকম্পিউটার হলো অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পিউটার, যা জটিল ও বিশাল ডেটা দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। এগুলো সাধারণ কাজ যেমন অফিসের উৎপাদনশীলতা, গেম খেলা বা ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় না, কারণ এই ধরনের কাজ সাধারণ কম্পিউটার বা ওয়ার্কস্টেশন দিয়েই সহজে সম্পন্ন করা যায়। সুপারকম্পিউটারের মূল ব্যবহার হলো আবহাওয়া পূর্বাভাস, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সিমুলেশন, যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের মডেল তৈরি, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস, মহাকাশ গবেষণা কিংবা জটিল চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশ্লেষণ। এতে বিপুল পরিমাণ তথ্য সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়, যা বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• সুপার কম্পিউটার:
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার।
- সুপার কম্পিউটারে একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে।
- এই ধরনের কম্পিউটারে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত মেমরি এবং উচ্চ ক্ষমতার প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা থাকে।
- সুপার কম্পিউটারে একাধিক প্রসেসর একযোগভাবে কাজ করে এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক এবং প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদন করে।
- সুপার কম্পিউটারগুলি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ, নভোযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, আগ্নেয়াস্ত্র ডিজাইন, সিমুলেশন, পরমাণু চুল্লির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
- সুপার কম্পিউটারের উদাহরণ হিসেবে রয়েছে ইন্টেল কর্পোরেশনের প্যারাগন, জাপানের নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানির Super SX II, CRAY-I, CRAY-XMP, CYBER 205, ETA-D2P ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন প্রজন্মে প্রথমবার IC ব্যবহৃত হয়?
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. পঞ্চম
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
ব্যাখ্যা

• তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে প্রথমবার ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) ব্যবহার করা হয়। প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারগুলোতে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করা হতো, যা বড়, ভারী এবং অধিক তাপ উৎপাদনকারী ছিল। দ্বিতীয় প্রজন্মে ট্রানজিস্টর ব্যবহার শুরু হয়, যা ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় ছোট, শক্তি খরচ কম এবং দ্রুত কাজ করত। তবে তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারগুলোতে IC প্রযুক্তি প্রবেশের ফলে কম্পিউটার আরও ছোট, দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে। IC-এর ব্যবহার কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং একই সাথে দামও কমায়। পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

• কম্পিউটারের পাঁচটি প্রজন্ম/জেনারেশন:
- প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪২ - ১৯৫৯),
- দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৯ - ১৯৬৫),
- তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫ - ১৯৭১),
- চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৭১ - বর্তমান),
- পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৮২ - বর্তমান)।

• তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫-১৯৭১):
- একীভূত বর্তনী (IC-Integrated Circuit) এর ব্যবহার।
- মিনি কম্পিউটার আবির্ভাব।
- উন্নত নির্ভরযোগ্যতা।
- উচ্চ প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা।
- উচ্চতর প্রোগ্রামিং ভাষার ব্যবহার।
- ন্যানো সেকেন্ডে কাজ সম্পাদন।
- যেমন: IBM 360.

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি হাইব্রিড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের উদাহরণ?
  1. ক্যালকুলেটর
  2. স্মার্টফোন
  3. আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
  4. ডিজিটাল ঘড়ি
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

• হাইব্রিড কম্পিউটার হলো এমন একটি কম্পিউটার যা ডিজিটাল এবং অ্যানালগ দু’ ধরনের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। এটি এমন কাজের জন্য ব্যবহার হয় যেখানে সংবেদনশীল এবং পরিমাণগত (analog) ডেটা সঙ্গে জটিল হিসাব (digital) একসাথে প্রয়োজন। প্রশ্নে দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে, ক্যালকুলেটর, স্মার্টফোন, এবং ডিজিটাল ঘড়ি মূলত ডিজিটাল কম্পিউটার, কারণ এগুলো শুধুমাত্র সংখ্যাগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে। তবে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা একটি হাইব্রিড কম্পিউটারের উদাহরণ, কারণ এটি তাপমাত্রা, চাপ, বাতাসের গতি ইত্যাদির মতো অ্যানালগ সিগন্যাল সংগ্রহ করে, এবং তারপর সেই তথ্যকে ডিজিটাল আকারে বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট তৈরি করে। তাই আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা হাইব্রিড কম্পিউটারের সঠিক উদাহরণ।

​• হাইব্রিড কম্পিউটার:
- এনালগ এবং ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের নীতির সমন্বয়ে যে কম্পিউটার তৈরি হয়, তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে।
- এটি এমন একটি সিস্টেম যা অ্যানালগ কম্পিউটার (যেমন সিগন্যাল প্রসেসিং, অবিচ্ছিন্ন ডেটা প্রক্রিয়াকরণ) এবং ডিজিটাল কম্পিউটার (যেমন লজিক্যাল অপারেশন, ডেটা স্টোরেজ)-এর সক্ষমতাকে একত্রিত করে।
- এটি বিশেষভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইঞ্জিনিয়ারিং সিমুলেশন এবং রিয়েল-টাইম কন্ট্রোল সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়।
- একে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়।
- ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে।

• হাইব্রিড কম্পিউটারের ব্যবহারসমূহ:
১। মিসাইল, সমরাস্ত্র ক্ষেত্রে।
২। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান তৈরিতে।
৩। রাসায়নিক দ্রব্যের গুণাগুণ নির্ণয়, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
৪। হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃত্যন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
  1. মাইক্রোপ্রসেসর
  2. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
  3. ট্রানজিস্টার
  4. ভ্যাকুয়াম টিউব
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোপ্রসেসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোপ্রসেসর
ব্যাখ্যা

• চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার মূলত মাইক্রোপ্রসেসরের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি ১৯৭০-এর দশকে উদ্ভাবিত হয় এবং পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় অনেক দ্রুত, কম জায়গা নেয় এবং শক্তি খরচ কম। এই প্রজন্মের কম্পিউটারে একক চিপে কেন্দ্রীয় প্রসেসিং ইউনিট (CPU) রাখা হয়, যা সমস্ত হিসাব ও নিয়ন্ত্রণ কাজ সম্পন্ন করে। ভ্যাকুয়াম টিউব ও ট্রানজিস্টারের পরিবর্তে মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহারের কারণে কম্পিউটারগুলো ছোট, দ্রুত এবং আরও কার্যকর হয়েছে। এছাড়াও, এই প্রজন্মের কম্পিউটারগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সূচনা করেছে, তবে মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে মাইক্রোপ্রসেসরই প্রথম স্থানে আসে। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) মাইক্রোপ্রসেসর।

• চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৭১- বর্তমান):
- মাইক্রোপ্রসেসর ও বৃহদাকার একীভূত বর্তনী ব্যবহার।
- আরও ছোট ও শক্তিশালী।
- মাইক্রো কম্পিউটারের উদ্ভব।
- সফটওয়্যার ও প্রোগ্রাম প্যাকেজের ব্যবহার।
- মাল্টিপ্রসেসর সিস্টেমের আবির্ভাব।
- উদাহরণ: IBM PS/2, Apple Macintosh.

• কম্পিউটারের পাঁচটি প্রজন্ম বা জেনারেশন:
- প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪২ - ১৯৫৯),
- দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৯ - ১৯৬৫),
- তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫ - ১৯৭১),
- চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৭১ - বর্তমান),
- পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৮২ - বর্তমান)।

• প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪২-১৯৫৯):
- আকারে বড় ও ভারী।
- উচ্চ শব্দ ও উত্তাপ সমস্যা।
- সীমিত তথ্য ধারণ ক্ষমতা।
- ধীর গতিসম্পন্ন।
- প্রথমে মেশিন ভাষা, তারপর এসেম্বলি ভাষার ব্যবহার।
- যেমন: ABC, ENIAC, UNIVAC.

• দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৯-১৯৬৫):
- ট্রানজিস্টার ব্যবহার।
- আকার ছোট ও হালকা।
- দ্রুত গতি।
- কম উত্তাপ।
- চুম্বকীয় কোর মেমোরি ব্যবহৃত।
- অ্যাসেম্বলি ভাষার প্রচলন।
- যেমন: IBM 1600, CDC 1604, NCR 300 সিরিজ।

• তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫-১৯৭১):
- একীভূত বর্তনী (IC-Integrated Circuit) এর ব্যবহার।
- মিনি কম্পিউটার আবির্ভাব।
- উন্নত নির্ভরযোগ্যতা।
- উচ্চ প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা।
- উচ্চতর প্রোগ্রামিং ভাষার ব্যবহার।
- ন্যানো সেকেন্ডে কাজ সম্পাদন।
- যেমন: IBM 360.

• পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৮২-বর্তমান):
- তথ্য ধারণ ক্ষমতার ব্যাপক উন্নতি।
- উন্নত মানের operating system.
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI- Artificial Intelligence) এর ব্যবহার।
- নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি থাকবে।
- মানুষের কন্ঠস্বর বুঝতে পারবে।
- পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে (ডাক্তার, শিক্ষক ইত্যাদি)।
- বিশাল তথ্য ধারণ ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পামটপ বলতে কী বোঝায়?
  1. কম্পিউটার ভাইরাস
  2. স্মার্টফোন
  3. ছোট কম্পিউটার
  4. প্রিন্টার
সঠিক উত্তর:
ছোট কম্পিউটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোট কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

• পামটপ বলতে বোঝায় ছোট আকারের কম্পিউটার। এটি মূলত একটি হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস যা ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো কাজ করতে পারে, কিন্তু বহন করা সহজ। পামটপে সাধারণত ছোট পর্দা, কীপ্যাড বা টাচস্ক্রিন থাকে, এবং এটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়। ইমেল চেক করা, নোট নেওয়া, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা, ছোট ধরনের অফিসের কাজ করা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যায়। পামটপকে অনেক সময় “পকেট কম্পিউটার” হিসেবেও বলা হয়। এটি স্মার্টফোনের চেয়ে কিছুটা বড় এবং সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে ছোট, তাই ব্যবহারকারী সহজেই এটি সঙ্গে নিয়ে যেতেই পারে। সুতরাং সঠিক উত্তর হবে গ) ছোট কম্পিউটার।

​• পামটপ :
​- পামটপ হলো এক ধরনের মাইক্রো কম্পিউটার।
- মাইক্রো কম্পিউটার হচ্ছে একটি ছোট কম্পিউটার যা পার্সোনাল কম্পিউটার হিসাবেও পরিচিত।
- এই ধরনের কম্পিউটারগুলোতে মাইক্রো প্রসেসরের সাথে সিপিইউ, মেমোরি ও ইনপুট আউটপুট ব্যবহৃত হয়।
- অধিকাংশ হার্ডওয়্যারের উপাদানগুলো একটি মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে।

- বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের মাইক্রো কম্পিউটার রয়েছে। যেমন:
১. ডেস্কটপ মাইক্রো কম্পিউটার,
২. নোটবুক বা ল্যাপটপ মাইক্রো কম্পিউটার,
৩. ট্যাবলেট মাইক্রো কম্পিউটার,
৪. পামটপ মাইক্রো কম্পিউটার।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।

.
নিচের কোনটি সবচেয়ে দ্রুতগতির কম্পিউটার?
  1. সুপার কম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. মাইক্রো কম্পিউটার
  4. নোটবুক কম্পিউটার
সঠিক উত্তর:
সুপার কম্পিউটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপার কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

• সবচেয়ে দ্রুতগতির কম্পিউটার হল সুপার কম্পিউটার। সুপার কম্পিউটারগুলো বিশেষভাবে গণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতার জন্য তৈরি করা হয়। এগুলি অত্যন্ত জটিল বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করা হয়, যেমন আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পারমাণবিক গবেষণা বা মহাকাশ সম্পর্কিত বিশ্লেষণ। মেইনফ্রেম কম্পিউটার সাধারণত বড় প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে অনেক ব্যবহারকারী একসঙ্গে কাজ করতে পারে। মাইক্রো কম্পিউটার এবং নোটবুক কম্পিউটার সাধারণ ব্যক্তিগত ও অফিসের কাজের জন্য উপযুক্ত, কিন্তু এগুলোর গণনা ক্ষমতা সুপার কম্পিউটারের তুলনায় অনেক কম। তাই গতি ও ক্ষমতার দিক থেকে সুপার কম্পিউটারই সেরা।

​• সুপার কম্পিউটার:
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার।
- সুপার কম্পিউটারে একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে।
- এই ধরনের কম্পিউটারে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত মেমরি এবং উচ্চ ক্ষমতার প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা থাকে।
- সুপার কম্পিউটারে একাধিক প্রসেসর একযোগভাবে কাজ করে এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক এবং প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদন করে।
- সুপার কম্পিউটারগুলি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ, নভোযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, আগ্নেয়াস্ত্র ডিজাইন, সিমুলেশন, পরমাণু চুল্লির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
- সুপার কম্পিউটারের উদাহরণ হিসেবে রয়েছে ইন্টেল কর্পোরেশনের প্যারাগন, জাপানের নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানির Super SX II, CRAY-I, CRAY-XMP, CYBER 205, ETA-D2P ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
EDVAC এর পূর্ণরূপ হচ্ছে -
  1. Electronic Discrete Variable Automatic Computer
  2. Electronic Delay Variable Automatic Computer
  3. Electronic Delay Variable Automatic Calculator
  4. Electronic Data Variable Automatic Computer
সঠিক উত্তর:
Electronic Discrete Variable Automatic Computer
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Electronic Discrete Variable Automatic Computer
ব্যাখ্যা

• EDVAC-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic Discrete Variable Automatic Computer। এটি ১৯৪০-এর দশকে ডিজাইন করা একটি প্রাথমিক কম্পিউটার যা প্রথম প্রজন্মের বৈদ্যুতিন ডিজিটাল কম্পিউটারগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। EDVAC-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি স্টোরড-প্রোগ্রাম আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে তৈরি, অর্থাৎ প্রোগ্রাম এবং ডেটা একই মেমোরিতে রাখা যেত। এটি পূর্বের ENIAC-এর উন্নত সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়। EDVAC ডিজিটাল কম্পিউটিং-এর ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল এবং আধুনিক কম্পিউটারের নকশা ও কার্যপ্রণালীকে প্রভাবিত করেছে। এটি মূলত গাণিতিক এবং যৌক্তিক অপারেশন দ্রুত করার জন্য ব্যবহৃত হতো এবং পরবর্তীতে আরও উন্নত কম্পিউটারের পথ প্রশস্ত করে।

​• EDVAC:
- EDVAC এর পূর্ণরূপ Electronic Discrete Variable Automatic Computer।
- EDVAC কম্পিউটারে সংরক্ষিত প্রোগ্রাম নির্বাহের কিছু সুবিধা ছিল।
- ড. জন মউসলি এবং তাঁর ছাত্র প্রেসপার একার্ট যৌথভাবে EDVAC কম্পিউটার নির্মাণ করেন।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোনটি এমবেডেড সিস্টেমের উদাহরণ?
  1. গেমিং ল্যাপটপ
  2. ওয়েব সার্ভার
  3. ওয়াশিং মেশিন কন্ট্রোলার
  4. ডেস্কটপ কম্পিউটার
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিং মেশিন কন্ট্রোলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিং মেশিন কন্ট্রোলার
ব্যাখ্যা

•এমবেডেড সিস্টেম হলো একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সম্পন্ন কম্পিউটার সিস্টেম যা নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়। এটি সাধারণত বড় কম্পিউটার বা সার্ভারের মতো বহুমুখী নয়, বরং নির্দিষ্ট ফাংশন সম্পাদনে সীমাবদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ, একটি ওয়াশিং মেশিন কন্ট্রোলার এমবেডেড সিস্টেমের নিখুঁত উদাহরণ। এটি শুধুমাত্র ওয়াশিং মেশিনের প্রোগ্রামিং এবং নিয়ন্ত্রণের কাজ করে, যেমন জল ভর্তি, ঘূর্ণন, ধোয়া ও পানি নিষ্কাশন। অন্যদিকে, গেমিং ল্যাপটপ, ওয়েব সার্ভার বা ডেস্কটপ কম্পিউটার সাধারণ উদ্দেশ্য সম্পন্ন কম্পিউটার যা বিভিন্ন কাজ করতে সক্ষম, তাই এগুলো এমবেডেড সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং, গ) ওয়াশিং মেশিন কন্ট্রোলার হলো এমবেডেড সিস্টেমের উদাহরণ।

• এমবেডেড কম্পিউটার:
এমবেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম (ROM) নিয়ে গঠিত। আধুনিক এমবেডেড সিস্টেমে মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার করা হয়।

• এমবেডেড কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ:
- গাড়ি,
- সেলফোন ও স্মার্টফোন,
- প্রিন্টার,
- মাইক্রোওয়েভ,
- ওয়াশিং মেশিন,
- এয়ার কন্ডিশন(এসি),
- ঘড়ি,
- থার্মোস্ট্যাট,
- ভিডিও গেমস্,
- ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং,
- ATM,
- সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ARPANET মূলত কী করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল?
  1. কমার্শিয়াল ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করা
  2. অনলাইন গেম খেলার সুবিধা দেওয়া
  3. মিলিটারি এবং গবেষণা কম্পিউটারগুলোকে সংযুক্ত করা
  4. হোম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করা
সঠিক উত্তর:
মিলিটারি এবং গবেষণা কম্পিউটারগুলোকে সংযুক্ত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিলিটারি এবং গবেষণা কম্পিউটারগুলোকে সংযুক্ত করা
ব্যাখ্যা

• ARPANET মূলত মিলিটারি এবং গবেষণা সংক্রান্ত কম্পিউটারগুলোকে সংযুক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীনে ARPA (Advanced Research Projects Agency) দ্বারা উদ্ভাবিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল একাধিক কম্পিউটারকে এক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত করে তথ্য বিনিময় এবং গবেষণামূলক যোগাযোগকে সহজ করা। তখনকার দিনে আলাদা আলাদা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। ARPANET এর মাধ্যমে তথ্য দ্রুত স্থানান্তর করা সম্ভব হয় এবং এটি পরবর্তীতে আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তি গড়ে তোলে। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) মিলিটারি এবং গবেষণা কম্পিউটারগুলোকে সংযুক্ত করা।

• ARPANET:
- ১৯৬৮ সালের ARPANET ছিলো ইন্টারনেটের প্রাথমিক পর্যায়।
- ARPANET-এর পূর্ণরূপ হলো: ‘Advanced Research Projects Agency Network’.
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১৯৬৯ সালে ARPANET এর প্রকৃত যাত্রা শুরু হয়।
- ১৯৮২ সালে TCP/IP উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রটোকল TCP/IP.
- ১৯৯২ সালে ইন্টারনেট সোসাইটি (ISOC) প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
কোন উপাদানটি সাধারণত একটি IoT সিস্টেমের অংশ নয়?
  1. মাইক্রোকন্ট্রোলার
  2. অ্যাকচুয়েটর
  3. টাইপরাইটার
  4. সেন্সর
সঠিক উত্তর:
টাইপরাইটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইপরাইটার
ব্যাখ্যা

• একটি IoT (ইন্টারনেট অফ থিংস) সিস্টেম সাধারণত এমন ডিভাইস নিয়ে তৈরি যা তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে। এতে মাইক্রোকন্ট্রোলার থাকে যা ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেন্সর থাকে যা পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, এবং অ্যাকচুয়েটর থাকে যা কোন কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে বাস্তব জগতে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে টাইপরাইটার একটি ঐতিহাসিক লেখার যন্ত্র, যা তথ্য সংগ্রহ বা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযোগের কাজ করে না। সুতরাং, IoT সিস্টেমের অংশ হিসেবে এটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয় না। তাই, অপশন গুলোর মধ্যে টাইপরাইটার সাধারণ IoT উপাদানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইন্টারনেট অফ থিংস (Internal of things - IOT):
- ইন্টারনেট অফ থিংস (IOT) হলো পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এমন একটি সনাক্তকারী কম্পিউটিং ডিভাইস, যা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষের সাথে মানুষের বা মানুষের সাথে কম্পিউটারের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর করতে সাহায্য করে।
- একাধিক প্রযুক্তি যেমন মেশিন লার্নিং, কমোডিটি সেন্সর, এমবেডেড সিস্টেম এবং রিয়েল-টাইম অ্যানালিটিকস, একত্রিত করার কারণে ইন্টারনেট অফ থিংস বাস্তবায়িত হয়েছে।

IoT ডিভাইসের বৈশিষ্ট্য:
- কম শক্তি ব্যবহার করে কাজ করে, 
- ছোট আকারের কম্পিউটার চিপ ব্যবহার করে, 
- নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রোগ্রাম করা হয়, 
- সেন্সর, একচুয়েটর এবং ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

উৎস:
১। Computer Applications in Business, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। আইবিএম ওয়েবসাইট। 

১২.
কোন অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত মেইনফ্রেমের সাথে যুক্ত?
  1. z/OS
  2. Windows 11
  3. Linux
  4. macOS
সঠিক উত্তর:
z/OS
উত্তর
সঠিক উত্তর:
z/OS
ব্যাখ্যা

• মেইনফ্রেম কম্পিউটার মূলত বৃহৎ পরিসরের ডেটা প্রক্রিয়াকরণ, ব্যাংকিং লেনদেন, সরকারি রেকর্ড সংরক্ষণ এবং জটিল ব্যবসায়িক কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। এসব কাজের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য একটি অপারেটিং সিস্টেম প্রয়োজন হয়। তালিকার মধ্যে z/OS-ই মেইনফ্রেমের সাথে সাধারণত যুক্ত অপারেটিং সিস্টেম। এটি IBM দ্বারা উন্নতকৃত একটি বিশেষায়িত সিস্টেম, যা হাজার হাজার ব্যবহারকারীকে একসাথে সাপোর্ট করতে পারে এবং টেরাবাইট পরিমাণ ডেটা নিরাপদে পরিচালনা করতে সক্ষম। অন্যদিকে Windows 11, Linux বা macOS ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও সার্ভারে ব্যবহৃত হলেও মেইনফ্রেমের জন্য সাধারণত ব্যবহৃত হয় না। তাই সঠিক উত্তর হলো z/OS।

• মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer):
- মাইক্রো ও মিনি কম্পিউটার অপেক্ষা মেইনফ্রেম কম্পিউটার আকৃতিতে বড় কিন্তু সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট।
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার যার সঙ্গে অনেক ছোট ছোট কম্পিউটার যুক্ত করে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে।
- এ ধরনের কম্পিউটারে এক বা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রসেসর থাকে বিধায় অনেক দ্রুতগতিসম্পন্ন, তথ্য সংরক্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি।
- এ ধরনের কম্পিউটারে অনেক বড় বড় এবং জটিল ও সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে।
- UNIVAC 1100, NCR 8000, IBM 4300 ইত্যাদি মেইনফ্রেম কম্পিউটারের উদাহরণ।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
পোটেনশিওমিটারকে অ্যানালগ কম্পিউটার হিসেবে বিবেচনা করার মূল কারণ কী?
  1. এসি থেকে ডিসি রূপান্তর
  2. ডেটা স্থায়ীভাবে সঞ্চয়
  3. ভোল্টেজ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে সমীকরণ সমাধান
  4. উচ্চ কারেন্ট সরাসরি পরিমাপ
সঠিক উত্তর:
ভোল্টেজ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে সমীকরণ সমাধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোল্টেজ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে সমীকরণ সমাধান
ব্যাখ্যা

• পোটেনশিওমিটারকে অ্যানালগ কম্পিউটার হিসেবে বিবেচনা করার মূল কারণ হলো এটি ভোল্টেজ বিভাজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সমীকরণের সমাধান করতে সক্ষম। পোটেনশিওমিটারের প্রতিটি অবস্থান নির্দিষ্ট রেজিস্ট্যান্স মান তৈরি করে, যা ভোল্টেজকে অনুপাতিকভাবে ভাগ করে দেয়। অ্যানালগ কম্পিউটারের কাজ হলো ভৌত মানের মাধ্যমে গণনা বা সমস্যার সমাধান করা, এবং পোটেনশিওমিটার এই প্রক্রিয়ায় একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ইনপুট হিসেবে কাজ করে। এটি এসি থেকে ডিসি রূপান্তর, ডেটা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ বা উচ্চ কারেন্ট পরিমাপের জন্য নয়, বরং সরাসরি ভোল্টেজ ভাগ করে সমীকরণে ব্যবহারযোগ্য আউটপুট প্রদান করে। তাই এর কার্যপ্রণালী অ্যানালগ কম্পিউটার হিসাবে কার্যকর।

উত্তর: গ) ভোল্টেজ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে সমীকরণ সমাধান।

​• অ্যানালগ কম্পিউটার (Analog Computer):
- যে সকল কম্পিউটার বৈদ্যুতিক সংকেতের ওপর নির্ভর করে ইনপুট গ্রহণ করে প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদিত করে, সেসব কম্পিউটারকে অ্যানালগ কম্পিউটার বলা হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের জন্য অ্যানালগ কম্পিউটারে বর্ণ বা অংকের পরিবর্তে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বা অ্যানালগ বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবহার করা হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের পর প্রাপ্ত ফলাফল সাধারণত মিটার, ওসিলোসকোপ ইত্যাদিতে প্রদর্শিত হয়।

• অ্যানালগ কম্পিউটারের উদাহরণ:
 - মোটরগাড়ির স্পিডোমিটার,
- স্লাইড রুল,
- অপারেশনাল অ্যামপ্লিফায়ার ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
হাসপাতালগুলোতে হার্টের বৈদ্যুতিক সংকেত পর্যবেক্ষণের জন্য সাধারণত কোন কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়?
  1. এনালগ কম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. ডিজিটাল কম্পিউটার
  4. হাইব্রিড কম্পিউটার
সঠিক উত্তর:
হাইব্রিড কম্পিউটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইব্রিড কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

• হাসপাতালে হার্টের বৈদ্যুতিক সংকেত পর্যবেক্ষণের জন্য সাধারণত হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। হাইব্রিড কম্পিউটার হলো এমন একটি সিস্টেম যা এনালগ এবং ডিজিটাল উভয় ধরণের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য সমন্বিত করে। হার্টের বৈদ্যুতিক সংকেত খুব সূক্ষ্ম এবং ধারাবাহিক এনালগ সিগন্যাল হিসেবে আসে, যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাথমিক বিশ্লেষণের জন্য এনালগ কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণে সুবিধাজনক। তারপর এই সিগন্যালগুলোকে ডিজিটাল ফর্ম্যাটে রূপান্তরিত করে বিস্তারিত বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ এবং রোগীর ইতিহাসের সাথে তুলনা করা হয়। এই মিলিত প্রক্রিয়ার কারণে চিকিৎসকরা দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে রোগীর হার্টের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। হাইব্রিড কম্পিউটার তাই মেডিকেল মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে অপরিহার্য।

• হাইব্রিড কম্পিউটার:
- অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের নীতির সমন্বয়ে যে কম্পিউটার গঠিত তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলা হয়। একে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়।
- ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে।
- হাইব্রিড কম্পিউটার অত্যন্ত দামি। তাই কেবলমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়; যেমন- মিসাইল, সমরাস্ত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সূত্র: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তৈরি প্রথম মাইক্রোপ্রসেসরটির নাম কী?
  1. AMD K6
  2. Intel 4004
  3. Intel 8080
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
Intel 4004
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Intel 4004
ব্যাখ্যা

• বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তৈরি প্রথম মাইক্রোপ্রসেসরটি হল Intel 4004। এটি ১৯৭১ সালে ইন্টেল কোম্পানি তৈরি করে, যা পুরোপুরি একক চিপে কেন্দ্রীয় প্রসেসিং ইউনিট (CPU) হিসেবে কাজ করতে সক্ষম ছিল। Intel 4004 মূলত হিসাবসংক্রান্ত কাজ এবং ছোট কম্পিউটার সিস্টেমের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। এর আগেও অন্যান্য প্রসেসর বা চিপ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ বা একক চিপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। পরবর্তীতে Intel 8080 এবং AMD K6-এর মতো প্রসেসর বাজারে আসে, কিন্তু এগুলো Intel 4004-এর পরে উদ্ভাবিত। সুতরাং বাণিজ্যিকভাবে তৈরি প্রথম মাইক্রোপ্রসেসরটি হলো Intel 4004.

উত্তর: খ) Intel 4004.

• মাইক্রোপ্রসেসর:
- কম্পিউটারের কার্যব্যবস্থাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য কম্পিউটারের যে অংশটি বা হার্ডওয়্যারটি সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে, তাকে মাইক্রোপ্রসেসর বা প্রসেসর হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- মাইক্রোপ্রসেসরের প্রতিষ্ঠাতা হলেন টেড হফ।
- যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেল কর্পোরেশন ১৯৭১ সালে প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবন করে।
- মাইক্রোপ্রসেসর হলো সিলিকনের তৈরি এক ধরনের ভিএলএসআই (VLSI-Very Large Scale Integration) চিপ।
- মাইক্রোপ্রসেসর কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ হিসেবে কাজ করে।

- মাইক্রোপ্রসেসরকেই মাইক্রোকম্পিউটারের মস্তিষ্ক বা ব্রেইন বলা হয়।
- মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারের আকার আরো ছোট হয়ে যায়, দাম কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে যায় যার ফলে কাজ করার ক্ষমতা, কাজের গতি ও নির্ভরশীলতা বহুগুণে বেড়ে যায়।
- বিটের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মাইক্রোপ্রসেসরের নামকরণ করা হয়ে থাকে। যথা: 4 বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 16 বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 32 বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 64 বিট মাইক্রোপ্রসেসর ইত্যাদি।
- বাণিজ্যিকভাবে নির্মিত বিশ্বের প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর Intel 4004।

সূত্র: ব্রিটানিকা।