পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
১) বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা। ২) বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা : আইন, শাসন ও বিচার বিভাগসমূহ, আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও সংস্কার। ৩) বাংলাদেশের ইতিহাসঃ প্রাচীন যুগঃ প্রাচীন বাংলার জনপদ, বিভিন্ন রাজ্য ও রাজবংশ। মধ্যযুগঃ মুসলমান শাসন (দিল্লী সালতানাত, মুঘল আমল, সুলতানি আমল, নবাবী আমল ইত্যাদি)। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, SSC & HSC বোর্ড বই, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের সাইটের সাধারণ তথ্যাবলী।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
কোন মুঘল সম্রাট ’সুবাহ’ ব্যবস্থা চালু করেন?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) সম্রাট হুমায়ুন
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
‘সুবাহ’ 

- মুঘল প্রদেশগুলো ‘সুবাহ’ নামে পরিচিত ছিল।
- সুবাহ্ ব্যবস্থা চালু হয় ১৫৭৯-১৫৮০ সালে ।
-  সুবাহ্ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকদের বলা হতো সুবাদার।
 - মুঘল সম্রাট আকবর এর প্রবর্তন করেন।
- প্রথমে তার সাম্রাজ্যকে বারোটি (১২) সুবাহতে বিভক্ত করেন। এগুলো হলো:
লাহাবাদ, আগ্রা, অযোধ্যা, আজমীর, আহমেদাবাদ, বিহার (রাজধানী-পাটনা), বাংলা (রাজধানী- রাজমহল), দিল্লি, কাবুল, লাহোর, মুলতান এবং মালওয়া।

- পরবর্তীতে সুবাহর সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে উড়িষ্যা ও কাশ্মির সুবাহ্র মর্যাদা পেলে, সুবাহ্র সংখ্যা হয় সতেরোটি। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বা আইনসভার নেতা কে?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী
  3. গ) স্পীকার
  4. ঘ) প্রধান বিচারপতি
সঠিক উত্তর:
খ) প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
সংসদ নেতা: 
- সংসদ নেতা হলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শাসক দলের নেতা, যিনি জাতীয় সংসদে সরকারের কার্যক্রম নির্ধারন ও পরিচালনার জন্য দায়ী থাকেন। 
- সংসদ নেতা ও সংসদ উপনেতা সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।
- বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তার নেতৃত্বেই জাতীয় সংসদে আইন প্রণীত হয় এবং তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করে থাকেন।
- বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ নেতার কার্যালয় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

অপরদিকে, 

- সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভাপতি স্পিকার
- স্পিকার হলেন জাতীয় সংসদের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
.
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ দপ্তর নয় কোনটি?
  1. ক) জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)
  2. খ) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ
  3. গ) গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট
  4. ঘ) বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে, 
- বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন এবং সংবিধিবদ্ধ একটি সরকারী সংস্থা। 
- এছাড়া, বাদবাকীগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ দপ্তরসমূহ:-

- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)
- বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)
- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)
- পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ কর্তৃপক্ষ
- গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট
- জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা
- এনজিও বিষয়ক ব্যুরো
- স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স
- উপআঞ্চলিক সহযোগিতা সেল (এসআরসিসি)
- বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (পিইপিজেড)
- জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)

উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট।
.
বারো ভুঁইয়াদের রাজত্ব ছিল কোন আমলে?
  1. ক) সুলতানী
  2. খ) তুর্কি
  3. গ) আফগান
  4. ঘ) মুঘল
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুঘল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুঘল
ব্যাখ্যা
বারো ভু্‌ঁইয়া: 
- বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বাংলার ইতিহাসে 'বারো ভুঁইয়া' নামে পরিচিত।
- যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপের ক্ষমতা ও খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনার গাঁয়ের জমিদার - ঈসা খাঁ। তার মৃত্যুর পর মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ স্তিমিত হয়ে যায়।


তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
.
প্রাচীন বাংলার ক্ষত্রিয় গোত্রের পেশা মূলত কী ছিল?
  1. ক) অধ্যাপনা করা
  2. খ) যুদ্ধ করা
  3. গ) ব্যবসা বানিজ্য করা
  4. ঘ) মাছ ধরা
সঠিক উত্তর:
খ) যুদ্ধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যুদ্ধ করা
ব্যাখ্যা

প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ: 

1. ব্রাহ্মণ- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম । তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
2. ক্ষত্রিয়- ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
3. বৈশ্য- ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
4. শূদ্র- সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।

বর্ণপ্রথা
- বর্ণপ্রথা উপমহাদেশে আর্যীকরণের পর সামাজিক শ্রেণিসমূহকে বিন্যস্ত করেছিল।
- তাত্ত্বিকভাবে এ বিন্যাসে শ্রেষ্ঠত্বের ক্রম নির্ধারিত হতো সংশ্লিলষ্ট বিভিন্ন বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ তাঁদের চরিত্রে ও কর্মে যে সব গুণাগুণের প্রকাশ ঘটাতেন তার ওপর ভিত্তি করে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, 

- ব্রাহ্মণরা ছিলেন ‘সত্ত্বা’র রক্ষক, এবং সে হিসেবে তাদের পবিত্রতম বলে গণ্য করা হতো। ।
- পবিত্রতার এ মাত্রা ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যদের গুণাগুণের প্রতীক, যথাক্রমে ‘রজ’ ও ‘তম’-এর ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী বলে বিবেচিত হতো।
- সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচু স্তরে থাকা শুদ্রদের এ রকম কোনো গুণই ছিল না বলে মনে করা হতো। 

তথ্যসূত্র:  নীহাররঞ্জন রায়, বাঙালির ইতিহাস : আদি পর্ব, (১ম সংস্করণ)

.
‘মাৎস্যন্যায়' বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে কোন সময়কে?
  1. ক) ৫ম শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত।
  2. খ) ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
  3. গ) ৯ম শতক থেকে ১২ শতক পর্যন্ত ।
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয় ।
সঠিক উত্তর:
খ) ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
ব্যাখ্যা
‘মাৎস্যন্যায়’
- ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।  ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে  হিসেবে অভিহিত করেন ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়ম্’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।

[রেফারেন্স: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
.
বাংলার জনগোষ্ঠী সর্বপ্রথম ‘বাঙালী’ নামে পরিচিতি পায় কার শাসনামলে?
  1. ক) ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
  3. গ) শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) রাজা গণেশ
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮ খ্রি.)।
- তার সময় থেকেই বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ‘বাঙালি’ নামে পরিচিত পায়।
- তিনি ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহকে পরাজিত করে দুই বাংলা একত্র করে বৃহত্তর বা অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
- এছাড়া তিনি `ইলিয়াস শাহী’ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তার উপাধি ছিলো ‘শাহ-ই বাঙালা’ ও ‘শাহ-ই বাঙালিয়ান’।

অন্যদিকে, 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে  সোনারগাঁও দখল করে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এর পূর্ণতা দান করেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- রাজা গণেশ (১৪১৪-১৪১৮) দিনাজপুরের ভাতুলিয়ার রাজা ছিলেন। এবং আজম শাহের অমাত্য বা মন্ত্রী ছিলেন। 
- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ (১৩৮৯-১৪১০/৭৯২-৮১৩ হিজরি)  বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান। 

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
.
দন্ডবিধি আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ক) ১৮৬০
  2. খ) ১৮৭০
  3. গ) ১৮৫৭
  4. ঘ) ১৮৯৩
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৬০
ব্যাখ্যা
দন্ডবিধি আইন: 
-১৮৩৪ সালে স্যার টমাস ব্যাবিংটন মেকলের সভাপতিত্বে প্রথম আইন কমিশন গঠিত হয়, যার সুপারিশে ১৮৬০ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধি প্রণীত হয়।
- দেশ স্বাধীনের পর এর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ দণ্ডবিধি।
- এটি বর্তমানে প্রচলিত প্রধান এবং প্রাচীনতম আইন সংকলন।

উল্লেখ্য,
ফৌজধারী কার্যবিধি বা Criminal Procedure - ১৮৯৮ সালে প্রণীত হয়। 

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
.
সংসদ সদস্য পদের আসন শূন্য হবার কারন নয় কোনটি?
  1. ক) বিনা অনুমতিতে একাধারে ৬০ দিন অনুপস্থিত থাকলে
  2. খ) নিজ দল ব্যতীত অন্য দলের পক্ষে ভোট প্রদান করলে
  3. গ) স্পিকারের নিকট পদত্যাগ করলে
  4. ঘ) বিনা অনুমতিতে একাধারে ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকলে
সঠিক উত্তর:
ক) বিনা অনুমতিতে একাধারে ৬০ দিন অনুপস্থিত থাকলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিনা অনুমতিতে একাধারে ৬০ দিন অনুপস্থিত থাকলে
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হয় যদি: 

- যদি কোনো সংসদ সদস্য একাধারে ৯০ দিন সংসদে অনুপস্থিত থাকেন।
- নিজ দল হতে পদত্যাগ করেন।
- স্পিকারের নিকট পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
- সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অযোগ্য হয়ে যান। 
- সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতি উদ্ভব হয়।


তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১০.
ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী কোথায় রাজধানী স্থাপন করেছিলেন?
  1. ক) লখনৌতে
  2. খ) গৌড়ে
  3. গ) নদীয়াতে
  4. ঘ) মধ্য প্রদেশ
সঠিক উত্তর:
খ) গৌড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গৌড়ে
ব্যাখ্যা
- ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কর্তৃক নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন। 
- বখতিয়ার খলজী স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে তিনি গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন মূল জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) অস্ট্রোলয়েড
  2. খ) নেগ্রিড
  3. গ) মঙ্গোলয়েড
  4. ঘ) ভোটচীনীয়
সঠিক উত্তর:
ক) অস্ট্রোলয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অস্ট্রোলয়েড
ব্যাখ্যা
অস্ট্রোলয়েডঃ
- অস্ট্রোলয়েড  প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী। নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে  মনে করেন। এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত। পন্ডিতদের মতে, অস্ট্রোলয়েডদের আদি বাসস্থান মধ্য ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারত এবং সিংহল থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে। 

অতএব প্রদত্ত প্রশ্নের এটিই সঠিক উত্তর।

এছাড়াও,
-  নেগ্রিটো: প্রস্তরযুগে প্রাচীন ভারতের আদিম মানুষ। বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তীতে আসে নেগ্রিটো জনগোষ্ঠী।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।
- প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা এখানে বাস করতো তারা হলো- অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নেগ্রিটো ও ভোটচীনীয়।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
১২.
সাংবিধানিক পদ নয় কোনটি?
  1. ক) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
  2. খ) মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. গ) ডেপুটি স্পীকার
  4. ঘ) নির্বাচন কমিশনার
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদ মোট ৯ টি এবং সাংবিধানিক সংস্থা মোট ৭টি । 

সাংবিধানিক পদ সমূহ: 
- রাষ্ট্রপতি,
- প্রধানমন্ত্রী,
- স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার,
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ,
- সংসদ সদস্য,
- নির্বাচন কমিশনার,
- সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য,
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।

অপরদিকে, সাংবিধানিক পদ নয়
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। 
- দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইত্যাদি ।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর  ইত্যাদি। 

এছাড়াও, 
সাংবিধানিক সংস্থাগুলো হল: 

১। নির্বাহী বিভাগ বা শাসন বিভাগ
২। আইন বিভাগ
৩। বিচার বিভাগ
৪।নির্বাচন কমিশন
৫। সরকারি কর্ম কমিশন
৬। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়
৭। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়

তথ্যসূত্রঃ  বাংলাদেশের সংবিধান
 
১৩.
পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ মোট কতটি জেলা নিয়ে গঠিত?
  1. ক) ০২
  2. খ) ০৩
  3. গ) ০৪
  4. ঘ) ০৫
সঠিক উত্তর:
খ) ০৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ০৩
ব্যাখ্যা
পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ

- পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন এ ৩ টি জেলার জনগনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ তার শাসনামলে এটি গঠন করেন। 
- ১৯৮৯ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদে পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন করে একটি বিল পাস করে।
- ১৯৮৯ সালের ৬ মার্চ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করে তা আইনে পরিণত হয়।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
বেলা (BELA) কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) মানবাধিকার
  2. খ) অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষক
  3. গ) জেন্ডার ও সমতা বিষয়ক
  4. ঘ) পরিবেশ আইনজীবীদের সংগঠন
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরিবেশ আইনজীবীদের সংগঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরিবেশ আইনজীবীদের সংগঠন
ব্যাখ্যা
 BELA (Bangladesh Environmental Lawyers Association)
-বাংলাদেশের বেসরকারি পরিবেশ আইনজীবীদের সংগঠন হলো বেলা
- ১৯৯২ সালে মহিউদ্দীন ফারুক এটি প্রতিষ্ঠা করে । 
- নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরনের কারণে  এটি সারাদেশে প্রসংশা কুড়ায়।
- বাংলাদেশ মহিলা সমিতি নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করার পাশাপাশি নারীদের বিভিন্ন আইনি বিষয়গুলিতেও সহায়তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করছে।
- বর্তমানে এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
- তিনি ২০১২ সালে এশিয়ার নোবেল পুরস্কার হিসেবে বিবেচ্য ফিলিপাইনভিত্তিক রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ করেন

তথ্যসূত্র-  বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় দৈনিক। 
১৫.
বাংলাদেশের ১৩তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কে?
  1. ক) কে এম নুরুল হুদা
  2. খ) কাজী হাবিবুল আউয়াল
  3. গ) কাজী রকিবুদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী হাবিবুল আউয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী হাবিবুল আউয়াল
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল
- তিনি ১৩ তম নির্বাচন কমিশনার। তিনি নিয়োগ পান, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে। 

অপরদিকে, 
-  কাজী রকিবুদ্দিন আহমদ  ১১ তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 
- কে এম নুরুল হুদা ১২ তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন  কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনে। 

রেফারেন্সঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
১৬.
সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসের(BCS) ক্যাডার কয়টি?
  1. ক) ২৯টি
  2. খ) ২৭টি
  3. গ) ২৬টি
  4. ঘ) ২৩টি
সঠিক উত্তর:
গ) ২৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ গেজেটে ১৩ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত এস.আর.ও. নম্বর-৩৩৫-আইন/২০১৮ অনুযায়ীঃ
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ইকোনমিক) ক্যাডারকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের সাথে একীভূত করা হয়েছে।
বর্তমানে ক্যাডার সংখ্যা ২৬টি।

উল্লেখ্য
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে থেকেই সিভিল সার্ভিস প্রচলিত ছিল। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় বিসিএস ক্যাডার সংখ্যায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

তথ্যসূত্রঃ bpsc.gov.bd
১৭.
জাতীয় সংসদে ’কাস্টিং’ ভোট প্রদান করেন কে?
  1. ক) মহামান্য রাষ্ট্রপতি
  2. খ) সংসদ নেতা
  3. গ) স্পীকার
  4. ঘ) চীফ হুইপ
সঠিক উত্তর:
গ) স্পীকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্পীকার
ব্যাখ্যা

কাস্টিং ভোট: (Casting Vote)

- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়,  কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন। একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে। এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পীকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'। 
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পীকার) ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।”

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

১৮.
নিচের কোন প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ ছিলেন শীলভদ্র?
  1. ক) বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) তক্ষশিলা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) সোমপুর বিহার
  4. ঘ) নালন্দা মহাবিহার
সঠিক উত্তর:
ঘ) নালন্দা মহাবিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নালন্দা মহাবিহার
ব্যাখ্যা
নালন্দা মহাবিহার 
- ভারতের বিহারে অবস্থিত নালন্দা মহাবিহার প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। এটিকে পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় বিবেচনা করা হয়।
- বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত শীলভদ্র ৬৩৫ সালে নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং-এর ভ্রমণের ৩০ বছরের মধ্যে ই-ৎসিঙ (৬৭৫ থেকে ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর এখানে শিক্ষাগ্রহণ করেন) সহ কমপক্ষে ১১ জন কোরীয় ও চৈনিক তীর্থযাত্রীসহ বিশিষ্টজনেরা নালন্দা ভ্রমণ করেন বলে জানা যায়।
- বারো শতকের দিকে নালন্দা তার গুরুত্ব হারায়। 

অন্যদিকে, 
- বিক্রমশিলা মহাবিহার বা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল প্রাচীন ভারতের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি ম্লান হয়ে আসার সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভব ঘটে।  বর্তমান বিহারের ভাগলপুর জেলার কাছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- তক্ষশিলা ছিল প্রাচীন ভারতের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বৈদিক যুগে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা হলেও এটি বৌদ্ধযুগ পর্যন্ত স্থায়িত্ব লাভ করেছিল। এই  বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল বর্তমান পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাওয়ালপিণ্ডির নিকটবর্তী অঞ্চলে। 

রেফারেন্স:  বাংলাপিডিয়া
১৯.
নিচের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) দলীয় সংগঠন বিহীন
  2. খ) জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
  3. গ) সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃৃক্ত নয়
  4. ঘ) জাতীয় সংসদে হ্যাঁ-না ভোটে অংশ নেয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাতীয় সংসদে হ্যাঁ-না ভোটে অংশ নেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাতীয় সংসদে হ্যাঁ-না ভোটে অংশ নেয়া
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: (Pressure Group)
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের
ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে। 
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, “স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।” 

অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

১। দলীয় সংগঠনবিহীন
২। দলীয় কর্মসূচিবিহীন 
৩। নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
৪। সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা
৫। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়
৬। সমজাতীয় মনোভাব
৭। বেসরকারি সংগঠন

রেফারেন্স: 
রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী।
২০.
Warrant of precedence অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পীকার কততম?
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) চতুর্থ
  3. গ) পঞ্চম
  4. ঘ) সপ্তম
সঠিক উত্তর:
ক) তৃতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৃতীয়
ব্যাখ্যা
Warrant of precedence (পদমানক্রম)
- Warrant of precedence হল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পদমর্যাদার ক্রম।
- পদমানক্রম বিদেশি কূটনীতিক কোরের সদস্যবর্গসহ রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদের আপেক্ষিক মানক্রম।
- বর্তমান পদমানক্রমে জাতীয় সংসদের স্পীকার তৃতীয় অবস্থানে আছেন। 
- রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ ও তাদের আসনের ব্যবস্থা, রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিদেশ গমন ও প্রত্যাবর্তনের সময় তাদের বিদায় ও অভ্যর্থনা জানানো এবং সমপর্যায়ের বিদেশি অতিথিদের দেশে স্বাগত ও পরে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে সাধারণত পদমানক্রম অনুসরণ করা হয়।

উল্লেখ্য যে,
- ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বা পদমর্যাদা ক্রম রিটের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করে। 


তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র। 
 
২১.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট কয়বার জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ক) ৩ বার
  2. খ) ৫ বার
  3. গ) ৭ বার
  4. ঘ) ১০ বার
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ বার
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫ বার জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে: 
১. ১৯৭৪ সালের ২৮শে ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা মোকাবেলা করার জন্য জরুরী অবস্থা জারি করেন ।
২. জিয়াউর রহমান খুন হলে উপ-রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হয়ে  ১৯৮১ সালের ৩০শে মে জরুরী অবস্থা জারি করেন।
৩. ১৯৮৭ সালের ২৭শে নভেম্বর জেনারেল এরশাদ জরুরী অবস্থা জারি করেন।
৪. ১৯৯০ সালের ২৭শে নভেম্বর জেনারেল এরশাদ জরুরী অবস্থা জারি করেন। 
৫. ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ জরুরী অবস্থা জারি করেন। এই দিনটি ১/১১ নামে পরিচিত।

সংবিধানের ১৪১ক(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ যেকোন গোলযোগের কারণে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

- তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
- ১৪১ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাথে সাথে এই ৬টি মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায়।
- জরুরি অবস্থার সময় স্থগিত হয় ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪২ অনুচ্ছেদ গুলো।

তথ্যসূত্র:   বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়?
  1. ক) সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
  2. খ) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা
  3. গ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
  4. ঘ) জরুরী অবস্থার সরকার ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
ক) সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী
- শিরোনাম - সংবিধান [দ্বাদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯১।
- উত্থাপনকারী - তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
- সংসদে পাশের তারিখ - ৬ আগস্ট, ১৯৯১।

বিষয়বস্তু সমূহ:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন।
- উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদগুলো বাতিল ঘোষণা।

উল্লেখ্য যে,  দ্বাদশ সংশোধনীকে চতুর্থ সংশোধনীর বিপরীত সংশোধনী বলা হয়।

তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন-একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি। 
২৩.
”কৈবর্ত বিদ্রোহ” সংঘটিত হয়েছিলো কোন অঞ্চলে?
  1. ক) সমতট
  2. খ) হরিকেল
  3. গ) রাঢ়
  4. ঘ) বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা

কৈবর্ত বিদ্রোহ
- একে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- যদিও কৈবর্ত বিদ্রোহ শুধুই জনবিদ্রোহ ছিল না, বরং তাতে যুক্ত হয়েছিল তৎকালীন সামন্তদের একটি বড় অংশ।
- তার পরও বাংলার ইতিহাসে কৈবর্ত বিদ্রোহ একটি জনবিদ্রোহ হিসেবেই ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (১০৭৫-১০৮০) শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়।
- অনেকে শুধু জেলে সম্প্রদায়কে কৈবর্ত বললেও প্রকৃতপক্ষে জেলে, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাধারণত কৈবর্ত বলা হতো।
- পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দ্রীয় অংশ দখল করে নেয়।
- রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমন করতে দিয়ে নিজে নিহত হন।
- বরেন্দ্র বিদ্রোহ সম্পর্কে জানার একমাত্র উৎস হচ্ছে সন্ধ্যাকর নন্দীর বিখ্যাত কাব্য রামচরিতম্। এ কাব্যের প্রধান বিষয় হলো বরেন্দ্রের পতন এবং রামপাল কর্তৃক তা পুনরুদ্ধার। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

 
২৪.
জাতীয় সংসদে ’পয়েন্ট অব অর্ডার’ বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য
  2. খ) সংসদীয় বৈঠকের কার্যপ্রণালীর বিররণ
  3. গ) বিধি বহির্ভূত বিষয়ের জন্য অনির্ধারিত আলোচনার দাবি জানানো
  4. ঘ) সংসদে সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন
সঠিক উত্তর:
গ) বিধি বহির্ভূত বিষয়ের জন্য অনির্ধারিত আলোচনার দাবি জানানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিধি বহির্ভূত বিষয়ের জন্য অনির্ধারিত আলোচনার দাবি জানানো
ব্যাখ্যা
পয়েন্ট অব অর্ডার: (Point of Order)
- পয়েন্ট অব অর্ডার হলো এক প্রকার আপত্তি।
- জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালীন নিয়ম বহির্ভূত কোনো কিছু হলে এর জন্য অনির্ধারিত আলোচনার দাবি জানানোকে Point of Order বলে।
- সংসদের কার্যক্রম চলাকালে কোনো সদস্য যদি মনে করেন যে, প্রথাগত বিধিমালার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে বা পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে তাহলে কোনো সদস্য তত্ক্ষণাত্ সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন । এই দৃষ্টি আকর্ষণটাই পয়েন্ট অব অর্ডার ।

অন্যদিকে,
- সংসদের প্রত্যেক বৈঠকের কার্যপ্রণালীর সংক্ষিপ্ত বিবরনকে বুলেটিন বলে।

 ‍সূত্রঃ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। 
 
২৫.
ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ কত বছর?
  1. ক) ০৪ বছর
  2. খ) ০৫ বছর
  3. গ) ০৩ বছর
  4. ঘ) ০২ বছর
সঠিক উত্তর:
খ) ০৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ০৫ বছর
ব্যাখ্যা
ইউনিয়ন পরিষদ
- বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ।
- এর মেয়াদকাল পাঁচবছর।

ইউনিয়ন পরিষদ মোট ১৩জন নির্বাচিত প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত। এরা হলেন:
-  ১ জন চেয়ারম্যান।
- ৯ জন সাধারণ সদস্য।
- ৩ জন সংরক্ষিত নির্বাচিত নারী সদস্য।

এছাড়াও,  ইউনিয়ন পরিষদে একজন সরকারি বেতনভুক্ত সচিব থাকেন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী