পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫ রিভিশন [পরীক্ষা: ১ - ৪ এর সকল টপিক] [Live Class - 1 & 8]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১০ প্রশ্ন

.
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. গীতগোবিন্দ
  2. পদ্মাবতী
  3. রামায়ণ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র?
  1. ভাঁড়ুদত্ত
  2. সনকা
  3. ধনপতি
  4. ফুল্লরা
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে যে কাব্যগুলো রচিত হয়েছে তাই মনসামঙ্গল। মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা। তাই মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ। মনসামঙ্গলকাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা। এখানের মানুষের সংগ্রামের কাহিনি দেখানো হয়।

কাব্যের চরিত্র:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- সনকা,
- বেহুলা,
- লখিন্দর।

অন্যদিকে,
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: - কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন কোনটি?
  1. গীতগোবিন্দম্‌
  2. রাধাকৃষ্ণগীত
  3. গোরক্ষ বিজয়
  4. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল। বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।
.
"জয়নবের চৌতিশা" কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. লোকসাহিত্য
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- পারস্যের কবিদের দ্বারা মর্সিয়া সাহিত্যের প্রসার ঘটে।
- বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
-  রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা ও অফৎনামা'।
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে 'জঙ্গনামা' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য লেখেন। এটি ১৭২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল কোনটি?
  1. ৮৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০ - ১১৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল (৯৫০ - ১২০০) সুতরাং ২৫০ বছর।
এবং বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যপ্তি ছিল (১২০১-১৮০০) সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথসাহিত্য
  2. বৈষ্ণবসাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।

নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

শুকুর মাহমুদ:
শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
চর্যাপদের কোন কবি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন?
  1. ডোম্বীপা
  2. ভাদেপা
  3. মহীধরপা
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা। তার গুরু ছিলেন - বিরুপা।
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
শেখ ফয়জুল্লাহ কত শতকের কবি?
  1. ১৬শ শতক
  2. ১৫শ শতক
  3. ১৭শ শতক
  4. ১৪শ শতক
ব্যাখ্যা
শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্ম:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়,
- সত্যপীর (১৫৭৫),
- জয়নবের চৌতিশা এবং
- রাগনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
.
চর্যাপদের কবি নয় কে?
  1. তাড়কপা
  2. জয়ীনন্দপা
  3. গুণ্ডরীপা
  4. চাটিল্লপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - জয়ীনন্দপা

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০.
কোন গ্রাম থেকে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' আবিষ্কার কর হয়?
  1. জয়দেবপুর
  2. কাঁকিল্যা
  3. বৃষ্ণপুর
  4. বাঁকুড়া
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।