পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৫ পার্ট-১) বাংলাদেশ বিষয়াবলি: টপিকসমূহ ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: ২. বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা পার্ট-২) বাংলা ব্যাকরণ: টপিকসমূহ বাক্য প্রকরণ (প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ; বানান ও বাক্যশুদ্ধি; যতিচিহ্ন ও এর ব্যবহার; পরিভাষা; বাগ্‌ধারা; সমার্থক শব্দ/প্রতিশব্দ; বিপরীতার্থক শব্দ; শব্দজোড় ও প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ; এক কথায় প্রকাশ/বাক্য সংক্ষেপ বিবিধ।) ------------------ পার্ট–১ সোর্স: পৌরনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪১ প্রশ্ন

.
"যা আঘাত পায়নি" এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. অনাহুত
  2. অনাঘাত
  3. অনাহত
  4. অধিঘাত
ব্যাখ্যা
• 'যা আঘাত পায়নি' এর এক কথায় প্রকাশ - অনাহত।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- 'যা আহুত হয় নি' - অনাহুত।
- যা বলা হয়নি - অনুক্ত।
- যা প্রকাশ করা হয়নি - অব্যক্ত।
- যা পূর্বে শুনা যায় নি - অশ্রুতপূর্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'Secularism' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ধর্মানুসরণ
  2. ধর্মহীনতা
  3. ধর্মনিরপেক্ষতা
  4. ধর্মদ্রোহীতা
ব্যাখ্যা
• 'Secularism' এর বাংলা পরিভাষা - ধর্মনিরপেক্ষতা।
-------------------- 
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পরিভাষা:
• 'Fiction' - কথাসাহিত্য।
• 'Intervention' - হস্তক্ষেপ। 
• 'Internal' - অভ্যন্তরীণ।
• 'Latitude' - অক্ষাংশ।
• 'Longitude' - দ্রাঘিমাংশ।
• 'Plosive' - ধ্বনি। 
• 'Interval' - বিরাম, অন্তর।
• 'Interim' - মধ্যকালীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
.
'Externed' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. নির্বাপিত
  2. দেশান্তরিত
  3. নিষ্কাশন
  4. বহিঃসমর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'Externed' এর বাংলা পরিভাষা — 'দেশান্তরিত'।

অন্যদিকে,
Extinct - নির্বাপিত;
Extraction - নিষ্কাশন;
Extradition - বহিঃসমর্পণ।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা বাংলা একাডেমি।
.
'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ -
  1. অরবিন্দ
  2. যামিনীনাথ
  3. দামিনী
  4. মেদেনী
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ - 'যামিনীনাথ'।

অন্যদিকে,
• 'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ -অরবিন্দ।
• ‘বিদ্যুৎ’ শব্দের সমার্থক শব্দ - দামিনী।
• 'পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ - মেদেনী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"এত অল্পে তার মন উঠে না।" - এ বাক্যে 'মন উঠা' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. গুজব উঠা
  2. শুনতে পাওয়া
  3. সন্তুষ্ট হওয়া
  4. বিবর্ণ হওয়া
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি- "এত অল্পে তার মন উঠে না।"

"মন উঠা"-  যা "সন্তুষ্ট হওয়া" বা "পরিতৃপ্ত হওয়া" বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
এখানে বোঝানো হয়েছে যে, সে সহজে বা কম পরিমাণে সন্তুষ্ট হয় না।

অন্যদিকে,
উঠা এর কিছু ভিন্নার্থক প্রয়োগ: 
রব উঠা - গুজব উঠা।
কানে উঠা- শুনতে পাওয়া।
রং উঠা- বিবর্ণ হওয়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'অকালপক্ক' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ঠোঁট কাটা
  2. খয়ের খাঁ
  3. তালকানা
  4. ইঁচড়ে পাকা
ব্যাখ্যা
• 'ইঁচড়ে পাকা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ — অকালপক্ক।

অন্যদিকে,
- ঠোঁট কাটা = বেহায়া; 
- খয়ের খাঁ = চাটুকার; 
- তালকানা = কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'বিদ্যমান' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. সংক্ষিপ্ত
  2. অন্তর্হিত
  3. মলিন
  4. প্রস্থিত
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যমান' এর বিপরীতার্থক শব্দ - অন্তর্হিত। 

উল্লেখ্য,
'অন্তর্হিত' শব্দের অর্থ- অদৃশ্য হয়েছে এমন।

• আরো কিছু বিপরীতার্থক শব্দ- 
- 'বিস্তৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ'- সংক্ষিপ্ত।
- 'নির্মল' শব্দের বিপরীত শব্দ - মলিন।
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'নিক্বণ' কোন শব্দগুচ্ছের এক কথায় প্রকাশ?
  1. শুকনো পাতার শব্দ
  2. ঝনঝন শব্দ
  3. নূপুরের ধ্বনি
  4. ধনুকের ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• 'নূপুরের ধ্বনি' এর এক কথায়- 'নিক্বণ'

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 'নিক্বণ' অর্থ- নূপুর বীণা প্রভৃতির ঝংকার। 

অন্যদিকে, 
• 'শুকনো পাতার শব্দ' - 'মর্মর'।  
• 'ঝনঝন শব্দ' - 'ঝংকার'।  
• 'ধনুকের ধ্বনি' - 'টংকার'।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'তমদ্দুন' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. খ্যাতি
  2. সংস্কৃতি
  3. সন্ধান
  4. আধুনিক
ব্যাখ্যা
• 'তমদ্দুন' এর প্রতিশব্দ — 'সংস্কৃতি'।

অন্যদিকে,
• 'খ্যাতি' এর প্রতিশব্দ: সুবাদ,
• 'সন্ধান' এর প্রতিশব্দ: অন্বেষা,
• 'নতুন' শব্দের প্রতিশব্দ: আধুনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০.
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মুহুর্ত
  2. নূনাধিক
  3. অন্বেষণ
  4. শ্বাশত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অন্বেষণ'- বানানটি শুদ্ধ।

• অন্বেষণ (বিশেষ্য) এর অর্থ- 
- তালাশ;
- অনুসন্ধান;
- খোঁজ।

অন্যদিকে,
- 'মুহুর্ত' এর শুদ্ধ বানান - মুহূর্ত।
- 'নূনাধিক' এর শুদ্ধ বানান- ন্যূনাধিক।
- 'শ্বাশত' এর শুদ্ধ বানান- শাশ্বত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১.
'সহিত' শব্দের অর্থ সঙ্গে; আর, স্বহিত শব্দের অর্থ-
  1. নিজের সঙ্গে
  2. সংকেত
  3. সকল
  4. নিজের মঙ্গল
ব্যাখ্যা
'সহিত' শব্দের অর্থ সঙ্গে।
আর,
'স্বহিত' শব্দের অর্থ - নিজের মঙ্গল।

অন্যদিকে,
- তরণী অর্থ- নৌকা।
- তরুণী অর্থ– যুবতী।

- তারা – নক্ষত্র।
- নিতি – রোজ।

- ‘শরণ’ অর্থ - আশ্রয়।
- ‘স্বরণ’ অর্থ - স্মৃতি।

- ‘বেশি’ অর্থ - অনেক।
- ‘বেশী’ অর্থ - বেশধারী।

- ‘রতি’ অর্থ - পরিমাণ।
- ‘রথী’ অর্থ - রথের আরোহী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২.
'চোখের প্রান্তভাগ' এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. নয়না
  2. অপাঙ্গ
  3. অক্ষিগোলক
  4. কিনারা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অপাঙ্গ' - শব্দের অর্থ - চোখের প্রান্তভাগ বা চোখের কোণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ, যা বিশেষ করে চোখের পাশের অংশ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

অন্য অপশন:
(ক) নয়না → "নয়না" শব্দটি চোখ বোঝায়, কিন্তু এর প্রান্তভাগ নয়।
(গ) অক্ষিগোলক → "অক্ষিগোলক" হলো চোখের পুরো বলের মতো অংশ, যা চোখের ভেতরের গঠন বোঝায়।
(ঘ) কিনারা → "কিনারা" সাধারণভাবে যেকোনো কিছুর শেষ প্রান্ত বোঝায়, তবে এটি বিশেষভাবে চোখের জন্য ব্যবহার হয় না।

অতএব,
‘চোখের প্রান্তভাগ’ এর এক কথায় প্রকাশ হলো "অপাঙ্গ"।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'তস্কর' শব্দের অর্থ -
  1. ব্যবসায়ী
  2. মাতব্বর
  3. চোর
  4. সৈন্য
ব্যাখ্যা
• তস্কর:
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: অপহরণকারী, অপহরক, চোর।

অর্থাৎ, তস্কর বলতে অসাধু বা কপট ব্যক্তিকে বুঝাচ্ছে।

অন্যদিকে, 
• লস্কর শব্দের অর্থ- সৈন্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪.
নিচের কোন বাক্যে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
  1. ৪৫/বি মিরপুর রোড ঢাকা ১২০৫।
  2. ৪৫/বি, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৫।
  3. ৪৫, বি, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৫।
  4. ৪৫ বি, মিরপুর-রোড, ঢাকা ১২০৫।
ব্যাখ্যা
• কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খন্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
৫) কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খন্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।

৭) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে।
যেমন,
- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
- ৪৫/বি, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৫।

8) ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
'চপল' এর বিপরীত শব্দ -
  1. বিনীত
  2. নির্ভীক
  3. স্থাবর
  4. গম্ভীর
ব্যাখ্যা
• 'চপল' এর বিপরীত শব্দ - গম্ভীর।
এখানে,
'চপল' অর্থ - চঞ্চল।

অন্যদিকে,
'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিনীত।
'ভীরু' শব্দের বিপরীত শব্দ  - নির্ভীক।
'জঙ্গম' শব্দের বিপরীত শব্দ - স্থাবর। 

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
• হরদম- কদাচিৎ,
• হর্ষ - বিষাদ,
• সুলভ- দুর্লভ,
• স্থাবর - জঙ্গম,
• ধূর্ত- সাধু,
• ধীর - অধীর,
• প্রসন্ন- বিসন্ন। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
'Archaean' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রত্নতাত্ত্বিক
  2. স্থপতি
  3. আদিম
  4. মূলধন
ব্যাখ্যা
• 'Archaean' এর বাংলা পরিভাষা — 'আদিম'।

অন্যদিকে,
• Archaeologist - প্রত্নতাত্ত্বিক;
• Architect - স্থপতি;
• Capital - মূলধন।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা- বাংলা একাডেমি।
১৭.
নিচের কোন শব্দটিতে প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগ রয়েছে?
  1. মাহাত্ম্য
  2. দরিদ্রতা
  3. প্রবলতা
  4. আধিক্যতা
ব্যাখ্যা
• 'আধিক্যতা'- 'অপপ্রয়োগ'।
- এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: আধিক্য।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দ্যতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মাহাত্ম্য; দরিদ্রতা; প্রবলতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
"সূর্য্যের দুত্যিমান কিরন সমগ্র পৃথিবীকে আলোকিত করে।" - এ বাক্যে কয়টি অশুদ্ধ বানান রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

"সূর্য্যের দুত্যিমান কিরন সমগ্র পৃথিবীকে আলোকিত করে।" - এ বাক্যে ৩টি অশুদ্ধ বানান রয়েছে।

অশুদ্ধ বানান: সূর্য্যের;
শুদ্ধ বানান: সূর্যের।

অশুদ্ধ বানান: দুত্যিমান;
শুদ্ধ বানান: দ্যুতিমান।

অশুদ্ধ বানান: কিরন;
শুদ্ধ বানান: কিরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
"ঘ্রাণ নেওয়া হয়নি এমন" এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. অনঘ্রেয়
  2. অনাঘ্রাত
  3. অঘ্রান
  4. জঙ্গম
ব্যাখ্যা
• "ঘ্রাণ নেওয়া হয়নি এমন" এর এক কথায় প্রকাশ - অনাঘ্রাত।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ হলো:
- ‘যা বলা হয়েছে’ - উক্ত।
- ‘যা বলা হবে’ - বক্তব্য।
- ‘যা বলা হচ্ছে’ - বক্ষ্যমাণ।
- ‘যা প্রকাশ করা হয়নি’ - অব্যক্ত।
- ‘যা পূর্বে শোনা যায় নি’ - অশ্রুতপূর্ব।
- 'যা বলার যোগ্য নয়' - অকথ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
'Criminology' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. দণ্ডপ্রণালী
  2. ফৌজদারি মামলা
  3. দুষ্ক্রিয়াবিদ্যা
  4. আদালতি বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
• 'Criminology' এর বাংলা পরিভাষা — 'দুষ্ক্রিয়াবিদ্যা'।

অন্যদিকে,
• Criminal procedure- দণ্ডপ্রণালী;
• Criminal prosecution - ফৌজদারি মামলা ;
• Forensic Science - আদালতি বিজ্ঞান/ বিচারসহায়ক বিজ্ঞান।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা- বাংলা একাডেমি।
২১.
কোন শব্দটির প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. প্রাতরাশ
  2. চক্ষুঃরাগ
  3. চূষ্য
  4. বিশিষ্টতা
ব্যাখ্যা
• প্রাতরাশ, চূষ্য, বিশিষ্টতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
চক্ষুঃরাগ - সন্ধিঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - 'চক্ষুরাগ'।

• 'চক্ষুরাগ' অর্থ - চোখের রক্তিম আভা।

উল্লেখ্য,
বিশিষ্ট (বিশেষণ) এর বিশেষ্য শব্দ বিশিষ্টতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২.
'সিংহ' এর প্রতিশব্দ -
  1. ভুজঙ্গ
  2. কেশরী
  3. কুরঙ্গ
  4. কুঞ্জর
ব্যাখ্যা
• 'সিংহ' এর প্রতিশব্দ - কেশরী। 

• ‘সিংহ' এর সমার্থক শব্দ: 
- পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ।

অন্যদিকে, 
ভুজঙ্গ = 'সাপ' শব্দের প্রতিশব্দ। 
কুরঙ্গ = হরিণ শব্দের প্রতিশব্দ।
কুঞ্জর = ‘হাতি’ এর প্রতিশব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা।
  2. মেয়েটি অন্ত্বঃসত্তা।
  3. মেয়েটি অন্তসত্ত্বা।
  4. মেয়েটি অন্তঃসত্বা।
ব্যাখ্যা
'অন্ত্বঃসত্তা' এর সঠিক বানান হবে 'অন্তঃসত্তা/অন্তঃসত্ত্বা'।

তবে, 
মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। - বাক্যটি শুদ্ধ।

• অন্তঃসত্ত্বা (বিশেষ্য পদ):
অর্থ: গর্ভবতী, গর্ভিণী।

উল্লেখ্য, 
• অন্তঃসত্তা (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: আত্মা, অভ্যন্তরে কোনো বস্তুর অবস্থিতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪.
কোন বাগ্‌ধারাটি ভিন্ন অর্থ বহন করে?
  1. সাপে-নেউলে
  2. আদায় কাঁচকলায়
  3. শাপে বর
  4. দা-কুমড়ো
ব্যাখ্যা
বাগ্‌ধারাগুলোর অর্থ: 
• ‘আদায় কাঁচকলায়’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ = ঘাের শত্রুতা।
• ‘দা-কুমড়া’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ = শত্রুতা।
• ‘সাপে-নেউলে’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ = ভীষণ শত্রুতা। 

'শাপে বর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = অমঙ্গলের মঙ্গল ঘটা। 

অর্থাৎ, ভিন্ন অর্থ প্রকাশে সঠিক উত্তর বাগ্‌ধারা - (শাপে বর)।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫.
একটি ইউনিয়ন পরিষদ কয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত?
  1. ৩টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
ইউনিয়ন পরিষদের গঠন:
- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- চেয়ারম্যান: ১ জন।
- নির্বাচিত সদস্য: ৯ জন।
- সংরক্ষিত মহিলা সদস্য: ৩ জন।
- ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়।
- ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
রাজনৈতিক দল কিসের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করে?
  1. ব্যক্তিস্বার্থ
  2. সরকারি নীতি
  3. দলীয় মতাদর্শ
  4. আন্তর্জাতিক চাপ
ব্যাখ্যা
⇒ রাজনৈতিক দল দলীয় মতাদর্শের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করে।

রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য নিচের কোনটি অতি আবশ্যক?
  1. সুশীল সমাজ
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. বিরোধী দল
  4. সামরিক বাহিনী
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
কেন্দ্রিয় প্রশাসনের অতিগুরুত্বপূর্ণ কাঠামো কোনটি?
  1. হাইকোর্ট
  2. অধিদপ্তর
  3. সচিবালয়
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রিয় প্রশাসন:
- কেন্দ্রিয় প্রশাসনের অতিগুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর নাম সচিবালয়।
- প্রশাসনিক সংগঠনের পদসোপানে সচিবালয়ের স্থান সর্বোচ্চ।
- সচিবালয় মন্ত্রীকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ ও পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজকে এগিয়ে নিয়ে থাকে।
- এছাড়া মন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ, সংসদে তা উত্থাপন ও বক্তব্য প্রস্তুত করতে সহযোগিতা প্রদানসহ নানাবিধ প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
- সচিবালয় মন্ত্রণালয় চালনার অন্যতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেব কাজ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা দেয়ার কত দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করতে হয়?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- মহিলা আসন সংখ্যা ৫০টি।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা: ৩৫০টি।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ: ৫ বছর।
- সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৩০.
বিরোধী দলের কাজ নয়-
  1. সরকার গঠন করা
  2. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  3. রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
  4. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
⇒ সরকার গঠন করা বিরোধী দলের কাজ নয়।

বিরোধী দলের কাজ:

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
নিচের কোনটি জেলা প্রশাসকের কার্যসমূহের অন্তর্ভূক্ত?
  1. স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত কাজ
  2. রাজস্ব সংক্রান্ত কাজ
  3. প্রশাসন সংক্রান্ত কাজ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেলা প্রশাসন:
- ডেপুটি কমিশনার বা জেলা প্রশাসক হল জেলা প্রশাসনের প্রাণ। 
- জেলা প্রশাসককে কেন্দ্র করেই জেলার সকল কার্যপ্রণালি চালিত হয়।
- একটি জেলার মধ্যে সকল ধরনের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা, কর আদায় এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন।
- ‘জেলা প্রশাসক’ পদটি সচিবালয়ের উপ-সচিব পদের সমান।

⇒ জেলার প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যসমূহ নিম্নরূপ:
• প্রশাসন সংক্রান্ত কাজ।
• আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজ।
• রাজস্ব সংক্রান্ত কাজ।
• উন্নয়নমূলক কাজ।
• সমন্বয় সংক্রান্ত কাজ।
• স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত কাজ।
• বিচারিক কাজ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরিচালিত প্রথম জাতীয় নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮৬ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরিচালিত প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি সরকারের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় থেকে নতুন একটি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্ববর্তী সময়ে রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনায় নিয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
- সাধারণত যেকোন প্রতিষ্ঠিত সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব পর্যন্ত বিদায়ী সরকারের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথা লক্ষণীয়।
- এ স্বল্পস্থায়ী সরকার দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে এবং নীতি নির্ধারণী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে, যাতে এ সরকারের কার্যাবলী নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব সৃষ্টি না করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী ছাড়াই ১৯৯০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল।
- সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
নির্বাচন কমিশনারগণকে নিয়োগ প্রদান করেন -
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। (ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।

⇒ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন সমূহ,
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
• জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
• সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
• জেলা পরিষদ নির্বাচন।
• উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
• পৌরসভা নির্বাচন।
• ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৩৪.
উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি দলের ন্যায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে -
  1. বিরোধী দল
  2. সুশীল সমাজ
  3. সচিব
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
⇒ উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি দলের ন্যায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে বিরোধী দল।

বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা -
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. আইন মন্ত্রী
  4. এটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
এটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগের ৫ম পরিচ্ছেদে ৬৪ নং অনুচ্ছেদে এটর্নি জেনারেল পদের উল্লেখ রয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন এটর্নি জেনারেল থাকবেন।
- এটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- তিনি আইনগত দিক নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন।
- সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত এটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।
- বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
- বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের ন্যায় মর্যাদা ভোগের অধিকারী হবেন।

⇒ এটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
• এটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
• এটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
• বাংলাদেশ সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে এটর্নি জেনারেল তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
জাতীয় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. স্পীকার
  2. চীফ হুইপ
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- স্পীকার সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- জাতীয় সংসদের বৈঠকে স্পীকার সভাপতিত্ব করেন।
- সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পীকার ও একজন ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন করা হয়।
- স্পীকারের প্রধান দায়িত্ব সংসদে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং এর মর্যাদা সংরক্ষণ করা।
- স্পীকারকে নিরপেক্ষ হতে হয় এবং সংসদে সংখ্যালঘিষ্ঠ দলের সদস্যদের অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
- সংসদের অধিবেশন চলাকালে স্পীকারের সিদ্ধান্ত ও রুলিং অবশ্য পালনীয়।
- সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে স্পীকার যেকোন সদস্যকে বহিষ্কার করতে পারেন।
- স্পীকার সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি বা তাঁর অসামর্থ্যের ক্ষেত্রে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৭.
মন্ত্রণালয়ের শাখা বা সেকশন প্রধান কে?
  1. জেষ্ঠ সহকারী সচিব
  2. উপসচিব
  3. যুগ্ম-সচিব
  4. অতিরিক্ত সচিব
ব্যাখ্যা
মন্ত্রনালয়গুলোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়গুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলা হয়।
• মন্ত্রী: মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে
থাকে।
• সচিব: মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক।
• অতিরিক্ত সচিব: উপ-বিভাগের প্রধান।
• যুগ্ম-সচিব: উপ-বিভাগের প্রধান।
• উপসচিব: একাধিক শাখার প্রধান।
• সিনিয়র বা জেষ্ঠ সহকারী সচিব: শাখা বা সেকশন প্রধান।
• সহকারী সচিব: শাখা বা সেকশন প্রধান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
৩৮.
নাগরিক সংগঠন 'সুজন' আত্মপ্রকাশ করে কত সালে?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা
সুজন:
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে: ১২ নভেম্বর, ২০০২ সালে।
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র - সুজন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩৯.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে কে?
  1. হ্যারি ট্রুম্যান
  2. অ্যালেন পটার
  3. আর্থার বেণ্টলে
  4. এইচ জিগলার
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা:
⇒ অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' (Organized group) শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।

⇒ অ্যালান বলের মতে, 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ'।

⇒ এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।

⇒ অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, 'স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
কোন বাংলাদেশী নাগরিকের সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে না কোনটি?
  1. অপ্রকৃতিস্থ
  2. বিদেশী নাগরিকত্ব অর্জন
  3. ৬ মাসের জন্য সাজাপ্রাপ্ত
  4. দেউলিয়া
ব্যাখ্যা
সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা:
- সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ বছর বয়স্ক বাংলাদেশী যেকোন নাগরিক সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা রাখে।
- অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশী নাগরিকত্ব অর্জন, কোন অপরাধে ২ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত নাগরিক সংসদ সদস্য হতে পারবে না।
- সংসদের মেয়াদ ৫ বছর। তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- অধিবেশন আরম্ভ করার জন্য ৬০ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ হতে হয়।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকারি দলের এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে বিজয়ী দল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। সংসদ সদস্যগণ অনেকে একই সাথে হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
- কোন সংসদ সদস্য নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ দাখিল করলে অথবা একাধারে ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।
- তাছাড়া তিনি যে দল থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে সে দলের বিপক্ষে ভোট দান করলেও তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
জাতীয় সংসদের কার্যাবলী নয় কোনটি?
  1. নির্বাচন পরিচালনা করা
  2. আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলি
  3. সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন
  4. শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যাবলি
ব্যাখ্যা
⇒ নির্বাচন পরিচালনা করা জাতীয় সংসদের কার্যাবলী নয়।

জাতীয় সংসদের কার্যাবলী:
- বাংলাদেশের আইনসভাকে জাতীয় সংসদ বলে আখ্যা দেয়া হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ মূলত: সংসদীয় গণতন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রধান নির্বাহী।
- জাতীয় সংসদের কার্যাবলি সংবিধান প্রণীত নীতি অনুযায়ী সংঘটিত হয়। আইন প্রণয়ন হলো জাতীয় সংসদের প্রধান কাজ।
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের আইনসভার কার্যাবলিসমূহ সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলি: আইন প্রণয়ন করার কাজটি আইন সভার প্রধান কাজ। বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন বিভাগ এই কাজটি করে থাকে। এই বিভাগটি নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরাতন আইন বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

⇒ সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন: বাংলাদেশের আইন সভা সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে। দেশের সংবিধান উল্লিখিত দুইটি ক্ষমতাই আইন সভাকে প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে আইন সভা সংবিধান সংশোধনকল্পে বিভিন্ন সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ ও প্রয়োজনে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

⇒ বিচার সংক্রান্ত কার্যাবলি: প্রয়োজনের নিরীখে কখনও বাংলাদেশের আইন সভা বিচার সম্পর্কিত কার্যাদিও সম্পাদন করে থাকে। এমনকি রাষ্ট্রপতিও যদি কোন গুরুতর অসদাচরণ করেন তাহলে সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ তাঁর অভিশংসন অর্থাৎ বিচারিক কাজটি করতে পারবে। নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধের বিচার সংক্রান্ত ব্যাপারেও বাংলাদেশের আইনসভা ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

⇒ শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যাবলি: তত্ত্বগতভাবে শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণকল্পে অর্থাৎ শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে আইন বিভাগ ভূমিকা পালন করে। তবে রাষ্ট্রভেদে তা ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করতে দেখা যায়।

⇒ অর্থ-সংক্রান্ত কার্যাবলি: বাংলাদেশের আইন সভা নানাবিধ অর্থ সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে। বিশেষ করে অর্থের অপচয় রোধে আইন সভা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির চর্চা করে তা নিয়ন্ত্রণ করে। বাজেট পেশসহ সরকারি আয়-ব্যয়ের পর্যালোচনা, পরবর্তী বছরের ব্যয় বরাদ্দের কাজ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কার্যকর করে তোলে। বাংলাদেশের আইন সভার অনুমতি ছাড়া কর ধার্য বা পুরাতন কর ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস সম্ভব হয় না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।