গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্ কাভার
পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১
বিষয়: বাংলা সাহিত্য
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
টপিক:
i) বাংলা সাহিতের প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম,
ii) সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা ও সাময়িকী,
iii) কবি-সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি, চরিত্র, সংলাপ ও উক্তি,
iv) ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য
v) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
[নম্বর কাভার - ১১]
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২.
চর্যার ২৩নং পদটি কার রচনা?
ক
শবরপা
খ
ভুসুকুপা
গ
কুক্কুরীপা
ঘ
কাহ্নপা
সঠিক উত্তর: খ
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ভুসুকুপা
খ
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা: - চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা। - তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়। - তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন। - তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং। - ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন। - ভুসুকুপা রচিত চর্যাপদের ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়। - এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙক্তি পাওয়া যায়নি। - তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন। - 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।
অন্যদিকে, • শবরপা রচিত পদ- ২৮ ও ৫০। • কুক্কুরীপা রচিত পদ- ২, ২০ ও ৪৮নং (৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি)। • কাহ্নপা রচিত পদগুলো হলো - ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
'বইপড়া' প্রবন্ধ: • 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী। • এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো- - ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ - ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানে বড় নয়।’ - ‘পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়।’ - ‘যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।
------------------------- • প্রমথ চৌধুরী: - প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। - তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। - প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।' - প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান। - বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। - তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: - সনেট পঞ্চাশৎ, - পদচারণ।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: - তেল নুন লকড়ি, - বীরবলের হালখাতা, - নানাকথা, - আমাদের শিক্ষা, - রায়তের কথা, - নানাচর্চা, - আত্মকথা, - প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: - চার ইয়ারী কথা, - আহুতি, - নীললোহিত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪.
'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
ক
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খ
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ
ব্যাখ্যা
• ‘ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।’- উক্তিটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
---------------------------- • “শেষের কবিতা” উপন্যাস: • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
•“শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।
• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ। • অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।
• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।
• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা: - ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী। - কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫.
রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার' গল্পের সাথে কোন উপন্যাসের কাহিনির যোগসূত্র রয়েছে?
ক
কুহেলিকা
খ
পথের দাবী
গ
গোরা
ঘ
চার অধ্যায়
সঠিক উত্তর: ঘ
চার অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
চার অধ্যায়
ঘ
ব্যাখ্যা
• ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাস: - 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। - অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে। - আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত। - সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। - তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। - সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর। - চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।
উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: - অতীন, - এলা, - ইন্দ্রনাথ।
--------------------- অন্যদিকে, • 'গোরা' উপন্যাস: - গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। - গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়। - ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে। - উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী। - উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।
------------------- • 'পথের দাবী' উপন্যাস: • 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে। • এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কোনো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।
- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।
- ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য,আমার একটি মাত্র সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
---------------------- • কুহেলিকা (উপন্যাস): - 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত শেষ উপন্যাস। - ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় উপন্যাসটির প্রকাশ আরম্ভ হয়। - উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে বড় ক্যানভাসে। - কলকাতার এক মেসের পরিবেশকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে। উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। - এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: - মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। - ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পাণ্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন। - মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ: - অন্নদামঙ্গল, - গঙ্গাষ্টক, - রসমঞ্জরী।
অন্যদিকে, • 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর। কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন। • বিদ্যাপতিকে ‘মিথিলার কবি’ বা ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়। তাঁকে ‘কবি কণ্ঠহার’ উপাধি দেন রাজা শিবসিংহ। • রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭.
‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
ক
নগেন্দ্রনাথ
খ
বিমলা
গ
প্রফুল্ল
ঘ
জেবউন্নিসা
সঠিক উত্তর: গ
প্রফুল্ল
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
প্রফুল্ল
গ
ব্যাখ্যা
• ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস: - ‘দেবী চৌধুরাণী’ হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস। - এটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সুবোধ চন্দ্র মিত্র এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। - উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘প্রফুল্ল’ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভিতর থেকে শক্তির সাথে লড়াই করে। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র এক নারীকে নেতৃত্ব দিয়ে সংগ্রাম করার কাহিনি উপস্থাপন করেছেন। - এটি বাংলা ও ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। যেহেতু এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামকে উস্কে দিয়েছিল তাই উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল। - স্বাধীনতার পর ভারত সরকার পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।
অন্যদিকে, • দুর্গেশনন্দিনী: - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। - এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। - উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। - এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা। - উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।
------------------- • ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস: - 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস। - উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। - চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। - বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ। - লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে। - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল। - উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
-------------------- ‘রাজসিংহ' উপন্যাস: • ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। • বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। • ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম। • 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত। • উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী।
উৎস: ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮.
চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছেন-
ক
কায়কোবাদ
খ
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
গ
কানাহরি দত্ত
ঘ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: ঘ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস: - চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। - চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়। - তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন। - চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”। - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯.
'সুভাষিণী' রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
ক
সমাপ্তি
খ
সুভা
গ
বিলাসী
ঘ
ভিখারিনী
সঠিক উত্তর: খ
সুভা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
সুভা
খ
ব্যাখ্যা
• ‘সুভা’ ছোটগল্প: - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প 'সুভা'। - ‘সুভা’ গল্পটিতে একটি বোবা মেয়ের করুণ কাহিনির ছবি অঙ্কিত হয়েছে। - গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম 'সুভা'। সুভার বাবা তাঁর বড়ো দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে ছোট বোনের নাম রেখেছিলেন 'সুভাষিণী'। - তাঁর বড় দুই বোনের নাম- 'সুকেশিনী' ও 'সুহাসিনী'।
-------------------------- • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। - বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। - এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাহিত্যকর্ম: • উপন্যাস: - বউ ঠাকুরাণীর হাট, - রাজর্ষি, - চোখের বালি, - নৌকাডুবি, - ঘরে বাইরে, - যোগাযোগ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০.
'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।’- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত?
ক
সভ্যতার সংকট
খ
মানুষের ধর্ম
গ
শিক্ষা
ঘ
কালান্তর
সঠিক উত্তর: ক
সভ্যতার সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
সভ্যতার সংকট
ক
ব্যাখ্যা
সভ্যতার সংকট: • ‘সভ্যতার সংকট’ ( ১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা। • এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে। • 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত। • 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।’
------------------------- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ গ্রন্থগুলো হলো: • সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ: 'প্রাচীন সাহিত্য', 'লোকসাহিত্য', 'আধুনিক সাহিত্য', 'সাহিত্য', 'সাহিত্যের পথে', 'সাহিত্যের স্বরূপ' প্রভৃতি। [এসব প্রবন্ধ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যতত্ত্ব সাহিত্যবিচার ও বিভিন্ন কবিসাহিত্যিক সম্পর্কে মূল্যবান প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।]
• ভাষাতত্ত্বমূলক প্রবন্ধ: 'শব্দতত্ত্ব', 'ছন্দ', 'বাংলা ভাষা পরিচয়' প্রভৃতি গ্রন্থে ভাষাতত্ত্বমূলক রসহীন বিষয়কে সাহিত্য-বিচারবুদ্ধি দ্বারা রমণীয় করে তুলেছেন।
• রাজনৈতিক প্রবন্ধ: 'আত্মশক্তি', 'ভারতবর্ষ', 'রাজাপ্রজা', 'স্বদেশ', 'পরিচয়', 'কালান্তর', 'সভ্যতার সংকট' প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর রাজনীতি বিষয়ক মতবাদ প্রকাশক। [দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে তিনি যে সচেতন ছিলেন তার প্রমাণ এসব গ্রন্থ থেকে লাভ করা যায়।]
• 'শিক্ষা' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতি আলোকপাত করেছেন।
• ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ: 'ধর্ম', 'শান্তিনিকেতন', 'মানুষের ধর্ম' প্রভৃতি তাঁর ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ।
• 'চারিত্র্যপূজা', 'পঞ্চভূত', 'লিপিকা' প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর বিচিত্র ব্যক্তিমানসের প্রকাশ ঘটেছে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
ক
বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
খ
ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
গ
কী চাহ শঙ্খচিল
ঘ
হাঙর নদী গ্রেনেড
সঠিক উত্তর: খ
ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
খ
ব্যাখ্যা
• ‘ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে’ কাব্যগ্রন্থ: ‘ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে’ জসীম উদ্দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। ‘তুজম্বর আলি’ ছদ্মনামে এই কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠানো হয়েছিল। কবি জসীম উদ্দীনের মেয়ে হাস্না এর মধ্যে কিছু কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করে নিউইয়র্কে বিদ্বান-সমাজে বেনামিতে পাঠ করেছিলেন। রাশিয়াতেও কবিতাগুলো সমাদৃত হয়েছিল। সেখানেও কিছু কিছু লেখা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ভারতে এই লেখাগুলো প্রকাশিত হইলে মুল্করাজ আনন্দ প্রমুখ বহু সাহিত্যিক ও কাব্যরসিকের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো: - বঙ্গ-বন্ধু, - কি কহিব আর, - খবর, - দগ্ধগ্রাম - মুক্তি-যোদ্ধা, - হবে হবে জয় - স্বাধীনতার দিনে - জাগায়ে তুলিব আশা - Dedication, - The last poem for you, - Where is Mina?, - Freedom Fighter, - A Poet's Appeal, - The Chariot of Dhamrai - দিলরাশ বানুর কাহিনী - মুক্তিযোদ্ধা মোফাখখর হোসেন - শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী।
অন্যদিকে, • সরদার জয়েনউদ্দীনের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপাদানে রচিত একটি বৃহৎ উপন্যাস ‘বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ’। • মমতাজউদ্দিন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। • সেলিনা হােসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬)।
উৎস: ‘ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে’ কাব্যগ্রন্থ কবি জসীম উদ্দীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
ক
মহুয়া
খ
চিত্রা
গ
মানসী
ঘ
খাপছাড়া
সঠিক উত্তর: ঘ
খাপছাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
খাপছাড়া
ঘ
ব্যাখ্যা
• খাপছাড়া: - 'খাপছাড়া' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ। - এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। - এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "অন্ত্যপর্ব"- এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। - রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থটি রাজশেখর বসু (পরশুরাম) কে উৎসর্গ করেন।
----------------- • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: - তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। - তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। - এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। - রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। - ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। - তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন। - ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ: - মানসী, - সোনার তরী, - চিত্রা, - চৈতালী, - কল্পনা, - মহুয়া, - ক্ষণিকা, - গীতাঞ্জলি, - বলাকা, - পূরবী, - পুনশ্চ, - পত্রপুট, - সেঁজুতি, - শেষ লেখা।
উৎস: খাপছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩.
কালিদাস রায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
ক
মৌমাছি
খ
হুতুম পেঁচা
গ
বেতালভট্ট
ঘ
কালকূট
সঠিক উত্তর: গ
বেতালভট্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
বেতালভট্ট
গ
ব্যাখ্যা
• কালিদাস রায়ের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - বেতালভট্ট।
অন্যদিকে, • বিমল ঘোষ ব্যবহৃত ছদ্মনাম - মৌমাছি। • কালীপ্রসন্ন সিংহের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - হুতুম পেঁচা। • সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
• ’সাধনা’ পত্রিকা: - এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা। - সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)। - ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে। - চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন। - এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।
------------- • ‘ভারতী' পত্রিকা: - ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা। - প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে। - প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। - পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।
--------------- • 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা: - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়। - এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন। - বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।
------------------ • 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা: - 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিল। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা। - পত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিল ব্রাহ্মসমাজের মাহাত্ম প্রচার করা। - ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। - প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
অন্যদিকে, • সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা - পূর্বাশা। এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়। এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। • শেখ ফজলল করিম সম্পাদিত পত্রিকা ‘বাসনা’। • শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা ‘সুধাকর’।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
'প্রমীলা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
ক
বড়দিদি
খ
শ্রীকান্ত
গ
পল্লীসমাজ
ঘ
চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর: ক
বড়দিদি
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
বড়দিদি
ক
ব্যাখ্যা
• ‘বড়দিদি’ উপন্যাস: - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭)। - ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। - একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: - মাধবী, - সুরেন্দ্রনাথ, - ব্রজরাজ, - প্রমীলা।
অন্যদিকে, • ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি। • ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম। • ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
কাজী নজরুল ইসলামের যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
ক
লাঙ্গল
খ
মোহাম্মদী
গ
দৈনিক নবযুগ
ঘ
ধূমকেতু
সঠিক উত্তর: গ
দৈনিক নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
দৈনিক নবযুগ
গ
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা: - পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। - দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়। - এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। - জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক। - পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন।
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা- - 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। - ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে, • মোহাম্মদ আকরম খাঁ সম্পাদিত পত্রিকা- দৈনিক আজাদ ও মোহাম্মদী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
কবি দ্বিজ কানাইয়ের ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনা ও বেদনার সাদৃশ্য কোন পালায় ফুটে উঠেছে?
ক
মলুয়া
খ
কমলা
গ
দস্যু কেনারাম
ঘ
মহুয়া
সঠিক উত্তর: ঘ
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
মহুয়া
ঘ
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা: - নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা। - এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে। - 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।