পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান টপিক: [নিচের টপিকগুলোর শুধু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়বেন।] ১. প্রাচীন রাজবংশ (মৌর্য, গুপ্ত, গৌড়, পাল, সেন প্রভৃতি) ২. প্রাচীন জনপদ (পুন্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, গৌড়, রাঢ়, হরিকেল প্রভৃতি) ৩. উপমহাদেশের ইতিহাস (মুসলিম শাসন, মোগল শাসন, বারো ভূঁইয়া, নবাবী শাসন ব্রিটিশ শাসন প্রভৃতি) [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৫১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭১ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: 
- পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
- মুঘল সম্রাট আকবর এবং দিল্লির হিন্দু রাজা হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য (হেমু)-র মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- বৈরাম খানের নেতৃত্বে মুঘল বাহিনী হেমুর বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সুদৃঢ় করে। 

উল্লেক্য,
- ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে সম্রাট বাবর ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। সম্রাট বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে বসেন। সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তাঁর ১৩ বছর বয়সী পুত্র আকবর। সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণের সময় মোগল সাম্রাজ্য ছোট হয়ে কেবল কাবুল, কান্দাহার ও পাঞ্জাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সম্রাট আকবর তাঁর অভিভাবক বৈরাম খাঁর পরামর্শে রাজ্য শাসন করছিলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
প্রাচীন গৌড় নগরীর অংশবিশেষ বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  2. কুমিল্লা
  3. বগুড়া
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা

গৌড় নগরী:
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী। 
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।

উল্লেখ্য,
- প্রাচীন গৌড় নগরীর বৃহদাংশের বর্তমান অবস্থান মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার সদর মহকুমার সীমান্তবর্তী গ্রাম মহদিপুরে এবং ক্ষুদ্রাংশ অবস্থিত বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের গৌড় নামক গ্রামে।
- এখানে ‘দাখিল দরওয়াজা’ নামক একটি প্রত্ননির্দশন ও তার পুরু দেয়াল দিয়ে দুটি দেশের সীমান্ত বিভক্ত হয়েছে। ‘দাখিল দরওয়াজা’ দুদেশের প্রবেশ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় অংশে পড়েছে বড় সোনা মসজিদসহ বহুসংখ্যক দৃষ্টিনন্দন প্রত্ননিদর্শন। আর ছোট সোনা মসজিদসহ কিছু নিদর্শন রয়েছে বাংলাদেশ অংশে।

উৎস: i) দৈনিক ইনকিলাব।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কোন রাজাকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা

ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি এবং আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন। ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

.
কোন যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী পৃথ্বিরাজকে পরাজিত করে দিল্লি ও আজমীর দখল করেন?
  1. তরাইনের প্রথম যুদ্ধ
  2. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. কলিঙ্গের যুদ্ধ
  4. কনৌজের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- ১১৯২ সালে সংঘটিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ বর্তমান হরিয়ানার থানেশ্বরের নিকটে তরাইন নামক শহরের নিকটে সংঘটিত হয়।
- মুহম্মদ ঘুরির নেতৃত্বাধীন ঘুরি বাহিনী ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের নেতৃত্বে চৌহান রাজপুত বাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী, পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করেছিলেন এবং এই বিজয় দিল্লি সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করে। তিনি ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং দেশে তিনি 'মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা' হিসাবেও পরিচিত।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন কোথায় অবস্থিত?
  1. পাহাড়পুর
  2. বিক্রমপুর
  3. ময়নামতি
  4. মহাস্থানগড়
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র জনপদ:
- পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
- প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

⇒ মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল। ১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান। ২০১৬ সালে এটিকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
 
উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।

.
ঢাকায় কত সালে প্রথম সুবা বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
  1. ১৬০৫ সালে
  2. ১৬০৮ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
ব্যাখ্যা

রাজধানী ঢাকা:
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।

উৎস: i) ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যাডার্ড।

.
বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. পুণ্ড্র
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা

বঙ্গ জনপদ:
- বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই'।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল। সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
প্রাচীন বাংলায় মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. বিন্দুসার 
  3. অশোক মৌর্য
  4. বৃহদ্রথ
সঠিক উত্তর:
অশোক মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশোক মৌর্য
ব্যাখ্যা

মৌর্য সাম্রাজ্য:
- প্রাচীন ভারতে সাম্রাজ্যের বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে।
- ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- বাংলায় মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন সম্রাট আশোক।

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন। তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন। রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন। তিনি ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) ইতিহাস, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন ইউরোপীয় জাতি প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে?
  1. ডাচ
  2. ফরাসি
  3. পর্তুগিজ
  4. ইংরেজ
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

প্রথম চট্টগ্রামে আগমন:
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে। পর্তুগিজরা এই বন্দর এলাকাকে 'পোর্তো গ্রান্দে দি বেঙ্গলা' বা 'গ্রেট পোর্ট অফ বেঙ্গল' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 
- ১৫১৭ সাল থেকে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে আসতে শুরু করে। বাণিজ্যের চেয়ে তাদের মধ্যে জলদস্যুতার বিষয়টি প্রবল ছিল। সুলতান প্রবলভাবে তাদের দমনের চেষ্টা করেন। কিন্তু এ সময় আফগান শাসক শের শাহ বাংলা আক্রমণ করবে শুনে ভীত সন্ত্রস্ত হোসেন শাহ পর্তুগিজদের সহায়তা কামনা করেন। তখন সামরিক সহায়তার বিনিময়ে ১৫৩৭ সালে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে বাণিজ্য কুঠি নির্মান করে। একই সঙ্গে তাদেরকে বন্দর এলাকার শুল্ক আদায়ের অধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ১৫৩৮ সালে শের শাহ‌-র সেনাপতি চট্টগ্রাম দখল করে।

- ১৫৮১ সাল থেকে ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সম্পূর্ণভাবে আরাকান রাজাদের অধীনে শাসিত হয়। তবে, পর্তুগিজ জলদস্যুদের দৌরাত্ম এ সময় খুবই বৃদ্ধি পায়। বাধ্য হয়ে আরাকান রাজা ১৬০৩ ও ১৬০৭ সালে শক্ত হাতে পর্তুগিজদের দমন করেন। ১৬০৭ সালেই ফরাসি পরিব্রাজক ডি লাভাল চট্টগ্রাম সফর করেন।তবে সে সময় পর্তুগিজ জলদস্যু গঞ্জালেস সন্দীপ দখল করে রাখে। পর্তুগিজ মিশনারি পাদ্রি ম্যানরিক ১৬৩০-১৬৩৪ সময়কালে চট্টগ্রামে উপস্থিতকালে চট্টগ্রাম শাসক আলামেনের প্রশংসা করে যান। ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম মোগলদের হস্তগত হয়।

- ১৬৬৬ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খানকে চট্টগ্রাম দখলের নির্দেশ দেন। সুবেদারের পুত্র উমেদ খাঁর নেতৃত্বে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আরাকানীদের পরাজিত করে এবং আরাকানী দূর্গ দখল করে। যথারীতি পর্তুগিজরা আরাকানীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে মোঘলদের পক্ষ নেয়। পরবর্তীতে ১৬৬৬ সালে মুঘলরা পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করে। 

- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) চট্টগ্রাম জেলা ওয়েবসাইট।

১০.
খড়গ রাজবংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় কোন রাজবংশের উত্থান ঘটে?
  1. দেব রাজবংশ
  2. পাল রাজবংশ
  3. সেন রাজবংশ
  4. চন্দ্র রাজবংশ
সঠিক উত্তর:
দেব রাজবংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেব রাজবংশ
ব্যাখ্যা

দেব রাজবংশ:
- খড়গ রাজবংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় দেব রাজবংশের উত্থান ঘটে।
- দেব রাজবংশ সমতট অঞ্চলে শাসনকারী রাজবংশ।
- সাত শতকের শেষ ভাগ থেকে আট শতকের প্রথমার্ধে (৭৫০-৮০০খ্রি.) দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ দেব রাজবংশের অধীনে শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাদের রাজধানী ছিল বর্তমান লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের দেবপর্বত।
- ময়নামতির শালবন বিহার খনন করে এই রাজবংশের চারটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- দেববংশের রাজারা প্রাথমিক যুগের পাল রাজাদের সমসাময়িক ছিলেন। 

- দেব রাজবংশের চারজন বিখ্যাত রাজার নাম শ্রী শান্তিদেব, শ্রী বীরদেব, শ্রী আনন্দদেব ও শ্রী ভবদেব।
- আনন্দদেব ছিলেন দেব রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। তিনি প্রায় ৩৯ বছর দেবপর্বতের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি পরমসৌগত, পরমেশ্বর, পরমভট্টারক ও মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- রাজা আনন্দদেবের আনন্দবিহার ও ভবদেবের সময় নির্মিত শালবন বিহার তথা ভবদেব মহাবিহার ঐ সময়ে বিকশিত বৌদ্ধ সংস্কৃতির কথা জানান দেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদ বাংলাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত ছিল?
  1. গৌড়
  2. পুণ্ড্র
  3. হরিকেল
  4. রাঢ়
সঠিক উত্তর:
হরিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিকেল
ব্যাখ্যা

হরিকেল জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার জনপদ হরিকেল বাংলাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত ছিল। এই জনপদটি বর্তমান সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

উল্লেখ্য,
- খ্রিস্টীয় সাত শতকের প্রাচীন ভারতীয় লেখকগণ পূর্বভারতীয় একটি অঞ্চলকে হরিকেল বলে উলে­খ করেন।
- সাত শতকের চৈনিক পরিব্রাজক ই-ৎসিঙ্ হরিকেলের অবস্থানকে ‘পূর্বভারতের পূর্বসীমা’য় নির্দেশ করেন। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ অঞ্চলের একটি পুরানো মন্দিরে আবিষ্কৃত কান্তিদেবের (খ্রিস্টীয় নয় শতক) অসম্পূর্ণ তাম্রলিপিটি হরিকেল সম্পর্কিত সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য দলিল।
- মহারাজাধিরাজ কান্তিদেব হরিকেলের শাসক ছিলেন।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১২.
নীল বিদ্রোহ কত সালে শুরু হয়েছিল?
  1. ১৮৫৭ সালে
  2. ১৮৫৮ সালে
  3. ১৮৫৯ সালে
  4. ১৮৬০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- নীল বিদ্রোহ ১৮৫৯-৬২ সালে বাংলায় সংঘটিত নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের একটি সফল প্রতিরোধ আন্দোলন।
- এই বিদ্রোহে কৃষকরা নীলকুঠি আক্রমণ, খাজনা বন্ধ এবং লাঠিয়ালদের প্রতিহত করে, যা বাংলায় নীল চাষের অবসান ঘটায়। 

উল্লেখ্য,
- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলায় ইংরেজ আমলে নীল চাষ শুরু হয়।
- বাংলাদেশে নীলের ব্যবসা ছিল একচেটিয়া ইংরেজ বণিকদের।  ফরিদপুর, ঢাকা, পাবনা, যশোর, রাজশাহী, নদীয়া, মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো।
- ১৮৫৯ সালে যশোর ও নদীয়ায় এ আন্দোলনের সূচনা হয়। দ্রুত এ আন্দোলন নীল চাষের আওতাভুক্ত অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৮৬২ সালে রায়তদের অনুকূলে সরকারি হস্তক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেনী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলীতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার। নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই। 
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া। 

১৩.
কৌলিন্য প্রথা বাংলায় কে প্রবর্তন করেন?
  1. রাজা বল্লাল সেন
  2. রাজা বিজয় সেন
  3. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  4. রাজা হেমন্ত সেন
সঠিক উত্তর:
রাজা বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা:
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায় যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। 

• বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- ব্রাহ্মণগণ এ প্রথা প্রবর্তনের উদ্যোক্তা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ প্রথার একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি দেখানোর জন্য প্রচার করেন যে, সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
ইবনে বতুতা কার রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  3. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন। এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)। সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' কত খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল?
  1. ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হলো ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দ) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় সংগঠিত ইতিহাসের ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষ।
- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীন বাংলায় দেখা দেয় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। তীব্র খরা ও বন্যার কারণে ধানসহ অন্যান্য ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কোম্পানির কর আদায় বন্ধ হয়নি, চাষিদের কাছ থেকে জোর করে খাজনা আদায় করা চলতেই থাকে। ফলস্বরূপ, খাদ্যের অভাব মারাত্মক রূপ নেয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে, রোগে, ও ক্লান্তিতে মারা যায়। 
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় এক কোটি মানুষ খাবারের অভাবে মারা যায়, যা সমগ্র বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় এবং খাদ্যশস্যের বাজারে বেশি মুনাফা অর্জন এই দুর্ভিক্ষের একটি বড় কারণ হলেও ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি এটিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে আখ্যায়িত করে।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে। দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- দুর্ভিক্ষের এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
উপমহাদেশে প্রথম কার শাসনামলে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু হয়?
  1. শেরশাহ
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. শায়েস্তা খান
  4. কুতুবউদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেণ, মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন করেন, বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে -
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন।
- মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন।
- শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, সাতগম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
'উয়ারী-বটেশ্বর' গ্রামে কোন সময়ে প্রাচীন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?
  1. প্রায় দুইশ বছর আগে
  2. প্রায় ছয়শ বছর আগে
  3. প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
  4. প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে
সঠিক উত্তর:
প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
ব্যাখ্যা

উয়ারী-বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম।
- উয়ারী-বটেশ্বর গ্রামে আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে (খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ থেকে ১০০ অব্দের মধ্যে) লৌহ যুগে এই প্রাচীন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন, প্রত্নতাত্ত্বিক এবং একটি দুর্গ-নগর বা বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল, যেখানে ছাপাঙ্কিত মুদ্রা, নগর পরিকল্পনা ও উন্নত বসতি স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৮.
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ-এর স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী কোনটি ছিল?
  1. গৌড় 
  2. লক্ষ্মণাবতী
  3. সোনারগাঁও
  4. কর্ণসুবর্ণ
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর প্রতিষ্ঠা করা বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের রাজধানী হয় সোনারগাঁও। ইতিহাসবিদরা বলেন, এটাই সোনারগাঁ-এর সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। 

উল্লেখ্য,
- তিনি দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের সিলাহদার বা অস্ত্রাগারের তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। ১৩৩৭ সালে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ের শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন। ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়। তিনি কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম জয় করেন।

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন। তিনি বাংলায় তাঁর ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি তাঁর বিবরণে ফখরুদ্দীনের চারিত্রিক গুণাবলির প্রশংসা করে তাঁকে একজন খ্যাতনামা নরপতি হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলায় সর্বাধিক সুদৃশ্য মুদ্রার রূপকার, চারুশিল্প ও হস্তশিল্পের পৃষ্ঠপোষক, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারক, বহিরাগত ও ফকির-দরবেশদের উদার পৃষ্ঠপোষক, মসজিদ সমাধিসৌধ ও সড়ক নির্মাতা, আরাকানি মগদের অত্যাচার ও লুণ্ঠন থেকে রাজ্যের জনগণের রক্ষক এই মহান নৃপতি বাংলার ইতিহাসে এক উজ্জল স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ব
- ১৩৪৯ খ্রিস্টাব্দে (৭৫০ হিজরি) সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের মৃত্যু হয়।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৯.
ভারতে সর্বপ্রথম কার সময় রেলপথ ও টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপিত হয়?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড ডালহৌসী 
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসী 
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ডালহৌসী কঠোরতার সাথে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রসারের পথ আরও প্রশস্ত করে তোলেন।
- তিনি গভর্নর জেনারেলের কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (ছোট লাট) নিযুক্ত করেন।
- সমগ্র ব্রিটিশ ভারতকে বিভিন্ন জেলায় ভাগ করা হয়।
- তিনি বার্ষিক সংবাদ সংগ্রহের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং বে-সামরিক কর্মচারীদের বিভাগীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। 
- তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসঙ্গত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসীকে সাহায্য করেন। ডালহৌসী এমন একটি আইন পাস করান যাতে এদেশীয়গণ ধর্মান্তরিত হলেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করতে পারে।
- তিনি পূর্তবিভাগের প্রতিষ্ঠিত গঙ্গা খাল খনন ও জল সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তিনি রাজপথ ও সড়কগুলোর উন্নয়ন করেন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়।
- এদেশীয় রেলপথ ব্যবস্থার জনক ছিলেন ডালহৌসী। তাঁর সময়ে বোম্বাই হতে টানা পর্যন্ত রেললাইন চালু হয় (১৮৫৩ খ্রি:)।
- ডালহৌসি ডাক বিভাগের সংস্কার, কলকাতা হতে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ও পেনী পোস্টকার্ড ব্যবস্থা চালু করেন।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন এবং চা ও কফি বাগানের প্রসার সাধন করেন।
- তিনি রুরকির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও স্থাপন করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২০.
ঐতিহাসিকদের মতে, গঙ্গারিডাই কোন জনপদের সমতুল্য?
  1. পুণ্ড্র
  2. হরিকেল
  3. রাঢ়
  4. বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা

গঙ্গারিডাই:
- গঙ্গারিডাই প্রথম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখায় একটি জনগোষ্ঠী ও একটি দেশের নাম হিসেবে উল্লিখিত।
- গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বকালে প্রধান গ্রিক সেনাপতি ছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। আলেকজান্ডার ও তাঁর সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ডিওডোরাস সিন্ধু পরবর্তী দেশ সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, গঙ্গা পেরিয়ে যে অঞ্চল সেখানে ‘প্রাসিয়ই' ও গঙ্গারিডাইদের আধিপত্য।
- টলেমি (দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দ) গঙ্গারিডাই-এর অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, গঙ্গার পাঁচটি মুখ সংলগ্ন প্রায় সমস্ত এলাকা গঙ্গারিডাইগণ দখল করে রেখেছিল, ‘গাঙ্গে’ (Gange) নগর ছিল এর রাজধানী। 
- প্রাচীন বাংলার বঙ্গ জনপদকে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখকদের ‘গঙ্গারিডাই’-এর সমতুল্য গণ্য করা যেতে পারে।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে 'ঐতিহ্য অন্বেষণ' নামক সংস্থাটি দাবি করেছে যে, উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলেই হয়তো ইতিহাস বিখ্যাত গঙ্গারিডি বা গঙ্গারিডাই রাজ্য গড়ে উঠেছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. পাটলিপুত্র
  2. তক্ষশীলা
  3. কনৌজ
  4. বড়কামতা
সঠিক উত্তর:
পাটলিপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাটলিপুত্র
ব্যাখ্যা

গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- প্রাচীন ভারতের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে পরিচিত গুপ্ত যুগ। 
- শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত (আর্যভট্ট) এবং জ্যোতির্বিদ্যায় অসামান্য অগ্রগতির জন্য বিখ্যাত।
- সময়কাল: ৪র্থ শতাব্দী- ৬ষ্ঠ শতাব্দী।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ তবে প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তাই প্রথম চন্দ্রগুপ্ত গুপ্ত যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতে এসেছিলেন।
- সমুদ্রগুপ্ত 'ভারতের নেপোলিয়ন' নামে পরিচিত।
- মহাকবি কালিদাস, আর্যভট্ট (গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা) এই যুগের রত্ন ছিলেন।
- হূণ আক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই শক্তিশালী সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।

২২.
ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে কে নিয়োগ দেন?
  1. আকবর
  2. শাহজাহান
  3. জাহাঙ্গীর
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
- ইসলাম খান চিশতি (১৬০৮-১৬১৩) পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বাংলার মুগল সুবাহদার ছিলেন।
 - সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত পূর্বসূরিগণ যেখানে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেখানে চট্টগ্রাম ছাড়া সমগ্র বাংলা জয় করে মুগলদের নিয়ন্ত্রণে আনার সাফল্য লাভ করায় বাংলার সুবাহদার হিসেবে ইসলাম খান খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- জাহাঙ্গীরের অধিনস্ত প্রথম কয়েকজন সুবাহদার বাংলা জয়ে সাফল্য অর্জণে ব্যর্থ হলে তরুণ ও উদ্যমী ইসলাম খানকে তিনি বাংলা জয়ের জন্য নির্বাচিত করেন ও সুবাহদার হিসেবে ১৬০৮ সালে বাংলায় প্রেরণ করেন।

•ইসলাম খান সর্বপ্রথম ভাটি ও বারো ভূঁইয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেন। তিনি ঢাকায় বালার রাজধানী স্থানান্তর করেন।
- ইসলাম খান ঢাকা দখল করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এ স্থানের নতুন নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২৩.
মুঘল আমলে প্রদেশকে কী বলা হতো?
  1. সুবাহ 
  2. পরগনা
  3. সরকার
  4. মহল
সঠিক উত্তর:
সুবাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবাহ 
ব্যাখ্যা

মুঘল আমলে প্রদেশ:
- মুঘল আমলে প্রদেশকে সুবাহ বলা হতো। 

• সুবিশাল ভারতকে শাসন করার জন্য আকবর তার সাম্রাজ্যকে ১৫৮২ খ্রি. ১৫টি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং সুবার শাসক হিসেবে ১ (এক) জন সুবাদার নিয়োগ করেন। 
- সুবাদার ছাড়াও প্রদেশের এ শাসনকার্যে একজন দিওয়ান, আমিল, ফৌজদার, কাজি ইত্যাদি পদের রাজকর্মচারি ছিলেন।
- শাসনকার্যের সুবিধার জন্য প্রত্যেক সুবাকে কতগুলো সরকার ও প্রত্যেক সরকারকে কতগুলো পরগনায় বিভক্ত করেছিলেন।

উল্লেখ্য
- ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহৎ ও জৌলুশময় সাম্রাজ্যের একটি হচ্ছে মুঘল আমল। এর বিস্তৃতি ছিল বর্তমান আফগানিস্তান থেকে শুরু করে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে।
- ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল রাজত্বের সূচনা হয়েছিল জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবরের হাত ধরে, যিনি মূলত বর্তমান উজবেকিস্তান থেকে আফগানিস্তান, এরপর ভারতবর্ষে আসেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.

২৪.
১৮৫৮ সালের আইন অনুযায়ী গভর্নর জেনারেল কোন নতুন উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. সম্রাট
  2. লর্ড প্রোটেক্টর
  3. ভাইসরয়
  4. চ্যান্সেলর
সঠিক উত্তর:
ভাইসরয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইসরয়
ব্যাখ্যা

ভারত শাসন আইন:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এই আইনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়। ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ব্রিটিশ সরকার ভারত বিষয়ক মন্ত্রকের হাতে এর শাসন ব্যবস্থার কার্যাদি হস্তান্তর করে। ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল ভাইসরয় উপাধি নিয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করার নিয়ম প্রবর্তিত হয়।
- ১৮৫৭ সালে সিপাহী অভ্যুত্থান ঘটার প্রেক্ষিতে ভারতে সিভিল প্রশাসনের ভিত্তি মজবুত করার লক্ষে ১৮৫৮ থেকে ১৮৬৪ সাল পর্যন্ত সামরিক আইন, ভারতীয় পরিষদ (১৮৬১) ইত্যাদি প্রশাসনিক সংস্কারেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
গজনীর সুলতান মাহমুদ মোট কতবার ভারত আক্রমণ করেন?
  1. ১৫ বার
  2. ১৬ বার
  3. ১৭ বার
  4. ১৮ বার
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
ব্যাখ্যা

সুলতান মাহমুদ:
- সুলতান উপাধিধারী প্রথম শাসক গজনভির মাহমুদ বা সুলতান মাহমুদ। তাঁর পুরো নাম ইয়ামিনউদ্দৌলা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে সবুক্তগিন। মাহমুদ-ই জাবুলি নামেও তিনি পরিচিত।
- সুলতান মাহমুদ ছিলেন গজনভি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সবুক্তগিনের (আবু মনসুর সবুক্তগিন) জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- তিনি পূর্ব প্রাদেশিক শহর গজনিকে একটি বৃহৎ সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধশালী রাজধানীতে পরিণত করেন। বর্তমান আফগানিস্তান, পূর্ব ইরান ও পাকিস্তানের একটি বড় অংশজুড়ে তাঁর সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে।
- সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মোট ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন এবং প্রতিবারই বিজয়ী হন।

উল্লেখ্য,
- সুলতান মাহমুদের সভাকবি ছিলেন মহাকবি ফেরদৌসী। ফেরদৌসীর রচিত অমর কাব্যগ্রন্থের নাম শাহনামা। ফেরদৌসীকে বলা হয় প্রাচ্যের হোমার। 

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।