পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১৮ টপিক: পুরুষ ও স্ত্রী-বাচক শব্দ পদাশ্রিত নির্দেশক উক্তি - কারক ও বিভক্তি [লাইভ ক্লাস - ৩৫ ও ৩৬]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
'পুণ্যবান' শব্দের শুদ্ধ নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. পুণ্যবতিনী
  2. পুণ্যমতী
  3. পুণ্যবতী
  4. পুণ্যশীলা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় যোগে:
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখানো হলো:

• বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।

এরূপ-
• ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
• ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
• মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

অন্যদিকে, 
• পুণ্যশীল - পুণ্যশীলা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'পদাশ্রিত নির্দেশক' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত পদের নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে। সুতরাং এটি ব্যাকরণের রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

• রূপতত্ত্ব:

শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণের কাজ ব্যাকরণের যে অংশে হয় তার নাম রূপতত্ত্ব (morphology)।
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

রূপতত্ত্বের দুটি প্রধান এলাকা: শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ। এছাড়াও দুটি গৌণ এলাকা আছে-শব্দশ্রেণি নির্ধারণ এবং শব্দের উৎস নির্ণয়।

--------------
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। বাংলায় নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The'-এর স্থানীয়। বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশকেরও বিভিন্নতা প্রযুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকারণ।
.
উপস্থাপক অংশের পরে প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. উদ্ধার চিহ্ন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. কলন
ব্যাখ্যা
• উক্তি-পরিবর্তনের নিয়ম:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির উপস্থাপিত অংশ উদ্ধার চিহ্নের (" ") মধ্যে রাখা হয়।
২. পরোক্ষ উক্তিতে উপস্থাপিত অংশের পরিবর্তিত অংশটা উদ্ধার চিহ্নের ("" ) মধ্যে রাখা হয় না।
৩. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় কেবল উপস্থাপিত বাক্যের- সর্বনামের রূপ, ক্রিয়ার রূপ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং কদাচিৎ ক্রিয়ার কাল পরিবর্তন করতে হয়।
উপস্থাপক অংশের কোনো পরিবর্তন হয় না।
৪. উপস্থাপক অংশের পরে প্রত্যক্ষ উক্তিতে একটা কমা চিহ্ন (,) বসে।

যেমন:
- "রহিম বলল, "আমি তোমাকে চিনি।”

[এই বাক্যে 'রহিম'-কে উপস্থাপক-কর্তা এবং 'আমি'-কে উপস্থাপিত কর্তা বা উপস্থাপিত বাক্যের কর্তা বলে চিহ্নিত করা যায়। তাহলে আমরা পাচ্ছি- 'রহিম বলল' উপস্থাপক অংশ; "আমি তোমাকে চিনি"- উপস্থাপিত অংশ; 'বলল'- উপস্থাপক অংশের ক্রিয়া: 'চিনি'- উপস্থাপিত অংশের ক্রিয়া।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
সামান্য অংশ বা স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত নির্দেশক কোনটি?
  1. টু
  2. টো
  3. গোটা
  4. টে
ব্যাখ্যা
• 'টুকু' নির্দেশক:
'টুকু' নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ:-টু বা-টুক।
যেমন-
সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'ঘোড়ায় গাড়ি টানে।' এখানে 'ঘোড়ায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে সপ্তমী
  2. করণ কারকে সপ্তমী
  3. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  4. কোনোটীই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যের যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সাহায্যে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয়, তাকে বলা হয় কর্তৃকারক।
যেমন- শামীম কলেজে যাচ্ছে।
[এ বাক্যের কর্তা হলো বিশেষ্য পদ শামীম। অতএব শামীম হলো কর্তৃকারক।]

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

• প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: খোকন বই পড়ে।
• দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: মাসুমকে যেতে হবে।
• তৃতীয় বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসি কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

• ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

• সপ্তমী বা এ, য়, তে বিভক্তি:
- গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।
- বাপে না জিজ্ঞাসে, মায়ে না সম্ভাষে।
- পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়।
- বাঘে-মহিষে খানা একঘাটে খাবেন।

• য়-বিভক্তি: ঘোড়ায় গাড়ি টানে।

•তে-বিভক্তি:
- গরুতে দুধ দেয়।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিবে কীসে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. নারী
  2. মেয়ে
  3. শ্রীমতী
  4. বেদেনি
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন-
• ভাই - বোন,
• পিতা - মাতা,
• ছেলে - মেয়ে,
• বর - কনে,
• বাদশা - বেগম।

অন্যদিকে, 
• ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
• নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
• মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।
.
বৈজ্ঞানিক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. বৈজ্ঞানিক বললেন, চুম্বক যে লোহাকে আকর্ষণ করে।
  2. বৈজ্ঞানিক বলেছিলেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
  3. বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
  4. বৈজ্ঞানিক বলছেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
• পরোক্ষ: শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।

• প্রত্যক্ষ: বৈজ্ঞানিক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।"
• পরোক্ষ: বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'বিশ্বাস থেকে বস্তু মেলে।'- বাক্যে 'বিশ্বাস থেকে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

উদাহরণ-
• বিচ্যুত:
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় ইত্যাদি।

• গৃহীত:
- দুধ থেকে দই হয়।
- বিশ্বাস থেকে বস্তু মেলে।
[ কি থেকে প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায় 'বিশ্বাস থেকে'। সুতরাং বিশ্বাস থেকে অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• জাত:
- জমি থেকে আমরা ফসল পাই।
- খেজুর রসে গুড় হয়।

• বিরত:
- পাপে বিরত হও।
- মিথ্যা বলা ছাড়।

• দূরীভূত: দেশ থেকে পাপাচার দূর করতে হবে।
• রক্ষিত: বিপদ থেকে আমায় বাঁচাও।
• আরম্ভ: বুধবার থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলবে।
• ভীত: বাঘে ভীত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মানুষের বেলায় ও সংখ্যার সঙ্গে ব্যবহৃত নির্দেশক কোনটি?
  1. জন
  2. টো
  3. টুক
  4. খানা
ব্যাখ্যা
• -জন পদাশ্রিত নির্দেশক: শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন:
বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।

সংখ্যার সঙ্গেও-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- একজন রাজা,
- দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।

• অধিক সংখ্যার বেলায় 'জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে। যেমন-পাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০.
'ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।'- বাক্যে 'ছেলেটিকে' কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
 কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন:
- সেলিম বই পড়ে।
[এ বাক্যের কর্ম হলো বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।]

কর্ম প্রধানত দুই প্রকার- মুখ্য কর্ম এবং গৌণ কর্ম।
১. মুখ্য কর্ম:
কোনো কোনো বাক্যে দুটি কর্ম থাকে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার অপ্রাণিবাচক বা বস্তুবাচক কর্মটিকে বলা হয় মুখ্য কর্ম। যেমন- সুমি রিপনকে একটি কলম দিয়েছে। এ বাক্যে দুটি কর্ম রয়েছে- রিপন এবং কলম। কলম হলো বস্তুবাচক কর্ম; অতএব কলম হলো মুখ্য কর্ম।

২. গৌণ কর্ম:
দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মকে বলা হয় গৌণ কর্ম।
যেমন:
- জয়নাল, ফারুককে একটি বই দিয়েছিল।
[এ বাক্যের ব্যক্তিবাচক কর্ম হলো জয়নাল। অতএব ফারুক হলো গৌণ কর্ম।]

কর্মকারকের প্রকারভেদ:
• সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: রিমা ফুল তুলছে।
• প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
• সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
• উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর আপেক্ষিক কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মপদটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মপদটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম।
যেমন-
- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় উপস্থাপিত বাক্যের কোন রূপের পরিবর্তন করতে হয় না?
  1. সর্বনাম রূপ
  2. বিশেষ্যে রূপ
  3. ক্রিয়া-বিশেষণ রূপ
  4. ক্রিয়া রূপ
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় উপস্থাপিত বাক্যের বিশেষ্যে রূপের পরিবর্তন করতে হয় না। 

--------------
• উক্তি:

বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
• ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
• ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি। আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

• উক্তি-পরিবর্তনের নিয়ম:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির উপস্থাপিত অংশ উদ্ধার চিহ্নের (" ") মধ্যে রাখা হয়।
২. পরোক্ষ উক্তিতে উপস্থাপিত অংশের পরিবর্তিত অংশটা উদ্ধার চিহ্নের ("" ) মধ্যে রাখা হয় না।
৩. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় কেবল উপস্থাপিত বাক্যের- সর্বনামের রূপ, ক্রিয়ার রূপ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং কদাচিৎ ক্রিয়ার কাল পরিবর্তন করতে হয়।
উপস্থাপক অংশের কোনো পরিবর্তন হয় না।
৪. উপস্থাপক অংশের পরে প্রত্যক্ষ উক্তিতে একটা কমা চিহ্ন (,) বসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২.
নিচের কোন পদাশ্রিত নির্দেশক বচনবাচক শব্দের আগে বসে?
  1. খানা
  2. গোটা
  3. টুকু
  4. খানি
ব্যাখ্যা
• 'গোটা' বচনবাচক শব্দটির আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে। এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য। 'গোটা' শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন-
- গোটা দেশই ছারখার হয়ে গেছে।
- গোটাদুই কমলালেবু আছে (অনির্দিষ্ট)।
- গোটাসাতেক আম এনো।

আবার, 
- দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম (নির্দিষ্ট)।
- একখানা বই কিনে নিও (অনির্দিষ্ট)।

• কিন্তু কবিতায় বিশেষ অর্থে 'খানি' নির্দিষ্টার্থে ব্যবহৃত হয়। যথা-'আমি অভাগা এনেছি বহিয়া নয়ন জলে ব্যর্থ সাধনখানি।

অন্যদিকে, 
• টাক, টুক, টুকু, টো ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক বচনবাচক শব্দের পরে বসে নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পোয়াটাক দুধ দাও (অনির্দিষ্টতা)।
- সবটুকু ওষুধই খেয়ে ফেলো (নির্দিষ্টতা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-সংস্করণ)।
১৩.
'ছাত্ররা ক্রিকেট খেলছে।'- এখানে 'ক্রিকেট' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

• ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

তাই,
'ছাত্ররা ক্রিকেট খেলছে।'- এখানে 'ক্রিকেট' কর্ম কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৪.
আ- প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মালিকা
  2. নাটিকা
  3. বিবাহিতা
  4. গীতিকা
ব্যাখ্যা
• আ- প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ:
সাধারণ অর্থে:
- মৃত - মৃতা,
- বিবাহিত -বিবাহিতা,
- মাননীয় - মাননীয়া,
- বৃদ্ধ - বৃদ্ধা,
- প্রিয় - প্রিয়া,
- প্রথম - প্রথমা,
- চতুর - চতুরা,
- চপল - চপলা,
- নবীন - নবীনা,
- কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা,
 -মলিন - মলিনা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• '-অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে 'অক'-এর জায়গায় '-ইকা' হয়। ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগ নারীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন: নাটক-নাটিকা, মালা-মালিকা, গীত-গীতিকা, পুস্তক-পুস্তিকা ইত্যাদি। (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-২০২১ সংস্করণ)।
১৫.
'এই' এর পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. তাহা
  2. উহা
  3. এটা
  4. সেই
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ - পরোক্ষ:
• এই - সেই। 
• ইহা - তাহা/উহা। 
• এমন - অমন, তেমন। 
• ওখানে - ওইখানে। 
• আগামীকাল - পরদিন। 
• গতকল্য - পূর্বদিন। 
• এটা - ওটা / সেটা
• এ - সে। 
• এখানে - সেখানে। 
• আজ - সেদিন। 
• গতকাল- আগের দিন। 
• এখন - তখন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
'শীতে গাছের পাতা ঝরে যায়।'- বাক্যে 'শীতে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।

অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 

অধিকরণ কারক তিন প্রকার-
ক) আধারাধিকরণ খ) কালাধিকরণ ও গ) ভাবাধিকরণ।

•  আধারাধিকরণ কারক: যে স্থানে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয়, তাকে আধারাধিকরণ কারক বলে। যেমন- সাগরে পানি আছে। আপনি এ পথে যান। আধারাধিকরণ কারক আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. ঐকদেশিক: বিরাট স্থানের যে অংশে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বলা হয় ঐকদেশিক আধারাধিকরণ কারক বলে। যেমন- পুকুরে মাছ আছে (পুকুরের যে কোনো স্থানে)। তেমনি বনে বাঘ থাকে। আকাশে চাঁদ উঠেছে। সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ কারক হয়। যেমন- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। দুয়ারে দাঁড়িয়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেও তারে। রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপক: সমগ্র স্থান বা এলাকা জুড়ে যদি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয়, তবে তাকে বলা হয় অভিব্যাপক। যেমন-পুকুরে মাছ আছে (পুকুরের সমগ্র এলাকা জুড়ে)। তিলে তেল আছে (তিলের পুরো জায়গায়)।

৩. বৈষয়িক কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে দক্ষতা বোঝাতে যে কারক হয় তাকে বলা হয় বৈষয়িক আধারাধিকরণ কারক। যেমন- আজাদ ইংরেজিতে ভালো কিন্তু বাংলায় দুর্বল। আমাদের সোনার ছেলেরা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

• কালাধিকরণ কারক: যে অধিকরণ কারকের সাহায্যে ক্রিয়া সংঘটনের কালকে নির্দেশ করে তাকে বলা হয় কালাধিকরণ কারক।
যেমন-
- শুক্রবার কলেজ বন্ধ থাকে।
- শীতে গাছের পাতা ঝরে যায়। [কখন গাছের পাতা ঝরে যায়?- উত্তর পাওয়া যায় শীতে। সুতরাং 'শীতে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• ভাবাধিকরণ কারক: যে ক্রিয়া দ্বারা ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা হয়, তাকে বলা হয় ভাবাধিকরণ কারক।
যেমন-
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
- সূর্যোদয়ে চারদিক আলোকিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
'মহৎ' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মহতনী
  2. মহতিনী
  3. মহঈয়সী
  4. মহতী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মানু, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতী, ঈয়সী হয়।
যথা:
• সৎ - সতী,
• মহৎ - মহতী,
• গুণবান - গুণবতী,
• রূপবান - রূপবতী,
• শ্রীমান - শ্রীমতী,
• বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী,
• গরীয়ান - গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৮.
রহিম বলল, "করিম, আমি তোমার কাছে আসছি।”- উক্তিটির পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. রহিম করিমকে ডেকে বলল আমি তোমার কাছে আসছি।
  2. রহিম করিমকে ডেকে বলল যে আমি তোমার কাছে আসছি।
  3. রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।
  4. রহিম করিমকে ডেকে বলল যে আমি তোমার কাছে কাছে যাচ্ছি।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির উপস্থাপিত অংশের ক্রিয়াপদও কখনো কখনো অর্থসঙ্গতির জন্য পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত হয়।
যেমন:
•  প্রত্যক্ষ: রহিম বলল, "করিম, আমি তোমার কাছে আসছি।”
•  পরোক্ষ: রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।

এরূপ কিছু নিয়ম-
• আশ্রিত খণ্ডবাক্যের ক্রিয়ার কাল পরোক্ষ উক্তিতে সব সময় মূল বাক্যাংশের ক্রিয়ার কালের ওপর নির্ভর করে না।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ: ছেলে লিখেছিল, "শহরে খুব গরম পড়েছে।"
• পরোক্ষ: ছেলে লিখেছিল যে, শহরে খুব গরম পড়েছিল। অথবা, ছেলে লিখেছিল শহরে খুব গরম পড়েছে।

• প্রত্যক্ষ: করিম বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।”
• পরোক্ষ : করিম বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছে।

• প্রত্যক্ষ: মনসুর বলল, "আমি ঢাকা যাব।”
• পরোক্ষ: মনসুর বলল যে, সে ঢাকা যাবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।