পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
বিষয় - ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টপিক - ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব) ও পরিবেশ ১) বাংলাদেশ ও অঞ্চলভিত্তিক ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব; ২) অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ (ভূ-প্রাকৃতিক), সম্পদের বণ্টন ও গুরুত্ব; ৩) বাংলাদেশের পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ, প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ সম্পর্কিত অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], বাংলাপিডিয়া, ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। -------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
নিচের কোন গ্রহগুলোর কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই?
  1. শনি ও মঙ্গল
  2. শনি ও ইউরেনাস
  3. মঙ্গল ও বৃহস্পতি
  4. বুধ ও শুক্র
ব্যাখ্যা
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।

বুধ গ্রহ:
- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ।
- সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- বুধ গ্রহে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস বা পানি কোনো কিছু নেই।
- এর কোন কোন উপগ্রহ নেই।

শুক্র গ্রহ:
- পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- শুক্র সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম।
- শুক্রের গড় তাপমাত্রা অন্যান্য সকল গ্রহ থেকে বেশি।
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। এতে কোন বায়ুমণ্ডল নেই।
- এর কোন কোন উপগ্রহ নেই।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কত সালে পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। 

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উল্লেখ্য,
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে ইকোলজিকাল ক্রিটিকাল এরিয়া(ইসিএ) বা বিপন্ন প্রতিবেশ এলাকা ঘোষণা করে এবং ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক 'রামসার সাইট' ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
.
মধুপুর গড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. টাঙ্গাইল
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

- মধুপুর গড় টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

(ক) বরেন্দ্রভূমি: দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত। প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

(খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এরউচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। মাটির রং লালচে ও ধূসর।

(গ)লালমাই পাহাড়: কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

.
ব্রহ্মপুত্র নদ কোথায় থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
  1. হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ
  2. মানস সরোবর
  3. তিব্বতের লহাসা
  4. নেপালের পোখরা
ব্যাখ্যা

- হিমালয়ের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে অবস্থিত মানস সরোবর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ উৎপন্ন হয়।

ব্রহ্মপুত্র:

- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রথমে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে ও পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অতঃপর ব্রহ্মপুত্র কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্বে বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পতিত হয়েছে।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী এবং বংশী ও শীতলক্ষ্যা প্রধান শাখানদী।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

.
'Swatch of No Ground' কোথায় অবস্থিত?
  1. আন্দামান সাগরে
  2. বঙ্গোপসাগরে
  3. আরব সাগরে
  4. লাক্ষাদ্বীপ সাগরে
ব্যাখ্যা
- 'Swatch of No Ground' বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। এটি একটি গভীর সামুদ্রিক খাদ।

Swatch of No Ground: 
- 'Swatch of No Ground' ভূমিরূপটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। 
- Swatch of No Ground একটি খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত এবং গঙ্গা খাদ নামেও পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, এবং তার তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল, তবে পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- এই খাদটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা, যার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মিটার।
- এটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, যা বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা হিসেবে পরিচিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা কোনটি?
  1. মহেশখালী
  2. উখিয়া
  3. কুতুবদিয়া
  4. টেকনাফ
ব্যাখ্যা

কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত টেকনাফ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান হলো ছেড়াদ্বীপ।
- এটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বিন্দু হিসেবে পরিচিত।
- সর্ব দক্ষিণের উপজেলা হলো টেকনাফ এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
- এছাড়া, সর্ব দক্ষিণের জেলা হলো কক্সবাজার।

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

সূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।

.
ওজোন স্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ট্রপোমণ্ডলে
  2. স্ট্রাটোমণ্ডলে
  3. মেসোমণ্ডলে
  4. এক্সোমণ্ডলে
ব্যাখ্যা
- সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণকারী ওজোন স্তর স্ট্রাটোমণ্ডলের ওপরের দিকে অবস্থিত।

স্ট্রাটোমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল।
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল নামে পরিচিত।
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
- জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর।
- তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না।

সূত্র: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ব্যাসল্ট হচ্ছে - 
  1. রূপান্তরিত শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ব্যাসল্ট একটি আগ্নেয় শিলা।

আগ্নেয় শিলা:
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিন্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই। তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অন্তরীভূত শিলা। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই।

- এই শিলার বৈশিষ্ট্য হলো-
(ক) স্ফটিকার,
(খ) অন্তরীভূত,
(গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর,
(ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং
(ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী।

- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে। এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়।

- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা ও
(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।

(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম, রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসন্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি।

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্কুল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
.
ল্যাকোলিথ পর্বত শ্রেণির উদাহরণ হচ্ছে -
  1. যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত
  2. পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো
  3. দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পর্বত:
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- অপর দিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ থেকে ১,০০০ মিটার উঁচু, স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পাহাড় বলে।
- পর্বতের ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর, ঢাল খুব খাড়া এবং সাধারণত চূড়া বিশিষ্ট হয়।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- আবার কিছু পর্বত অনেকগুলো পৃথক শৃঙ্গসহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে অবস্থান করে, যেমন- হিমালয় পর্বতমালা।

• পর্বতের প্রকারভেদ:
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা:
(ক) ভঙ্গিল পর্বত,
(খ) আগ্নেয় পর্বত,
( গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত এবং
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত।

ল্যাকোলিথ পর্বত:
- ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন উপায়ে ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে।
- কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাগমাসমূহ বাঁধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে জমাট বেঁধে উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূ-ত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে।
- এভাবে সৃষ্ট শৃঙ্গবিহীন সামান্য খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্প অঞ্চল ব্যাপী বিস্তৃত এই পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
আমাজান নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. আন্দিজ পর্বতমালা
  2. ব্ল্যাক ফরেস্ট
  3. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  4. মিনোসোটা হ্রদ
ব্যাখ্যা
→ আমাজন নদী পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়।

আমাজন নদী:
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি। 
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- আমাজন নদী ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর অংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- এই নদীটি - পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ।

বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল-
→ মারে ডার্লিং নদী: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্ৰেলিয়া।
→ তিস্তা নদী: সিকিমের পর্বত অঞ্চল।
→ হোয়াংহো নদী: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ।
→ মিসিসিপি নদী: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
→ দানিয়ুব নদী: ব্ল্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ।
→ নীলনদ: ভিক্টোরিয়া হ্রদ, আফ্রিকা মহাদেশ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com & Worldatlas.com
১১.
বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র কোনটি?
  1. বিবিয়ানা
  2. তিতাস
  3. হরিপুর
  4. কৈলাশটিলা
ব্যাখ্যা
- সিলেটের হরিপুর বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।

হরিপুর খনিজ তেলক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের দুটি খনিজ তেলক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র হলো হরিপুর তেলক্ষেত্র।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।

এছাড়াও,
- হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৫৫ সালে সর্বপ্রথম এখানে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- ১৯৫৭ সালে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো।
১২.
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখা কত কিলোমিটার?
  1. ২৫০ কিলোমিটার
  2. ২৮০ কিলোমিটার
  3. ৩০০ কিলোমিটার
  4. ৩২০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তরেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার, এটা মূলত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

বাংলাদেশের সীমা:
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
- বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার এবং
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী এবং দক্ষিণপূর্বে নাফ নদী ভারত ও মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থিত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

১৩.
নিচের কোনটি বার্ষিক গতির ফলাফল?
  1. সমুদ্রের পানিতে গতি সঞ্চার হয়
  2. ঋতু পরিবর্তন
  3. তারিখ পরিবর্তন হয়
  4. তাপমাত্রার তারতম্য হয়
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গতি:
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এই গতিকে বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে।
- একবার সূর্যকে পূর্ণ পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। একে সৌরবছর বলে।
- কিন্তু আমরা ৩৬৫ দিনকে এক বছর ধরি। এতে প্রতি বছর প্রায় ৬ ঘণ্টা অতিরিক্ত থেকে যায়। এ অতিরিক্ত সময়ের সামঞ্জস্য আনার জন্য প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন বাড়িয়ে সময়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়।
- এভাবে যে বছর ফেব্রুয়ারি মাসকে ১ দিন বাড়িয়ে ২৯ দিন করা হয় এবং ঐ বছরটিকে ৩৬৬ দিন ধরা হয়। সেই বছরকে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ বলে।
- সাধারণত কোনো বছরকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে যদি ভাগশেষ না থাকে, তবে ঐসব বছরকে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year) ধরা হয়।

বার্ষিক গতির ফল হলো-
(১) দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি,
(২) ঋতু পরিবর্তন

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
কত সালে বাংলাদেশে প্রথম নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়?
  1. ১৯৮৭ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে প্রথম নলকূপে আর্সেনিক শনাক্ত হয় ১৯৯৩ সালে।

আর্সেনিক:
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic)।
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আর্সেনিক একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম।
- তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে।
- বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণ প্রবণ জেলা।
- ১৯৯৩ সালে চাপাইনবাবগঞ্জে দেশে প্রথম নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।

সূত্র: ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
১৫.
তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে কী বলা হয়?
  1. মেসোস্ফিয়ার
  2. ওজোন স্তর
  3. থার্মোস্ফিয়ার
  4. আয়নমণ্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমণ্ডল:
- তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল বলা হয়।
- এটি মেসোবিরতির উপরের তাপমণ্ডলের অংশ, যেখানে তীব্র সৌর বিকিরণ বায়ুর অণু ও পরমাণুকে আঘাত করে তাদের আয়নে পরিণত করে।
- এই কারণে এই স্তরে বায়ু আয়নিত থাকে, অর্থাৎ এতে পজিটিভ ও নেগেটিভ আয়ন সৃষ্টি হয়।
- আয়নমণ্ডল মূলত তাপমণ্ডলের ৬০ কিলোমিটার থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনে সহায়তা করে বলে রেডিও যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- আয়নমণ্ডল সৌর রশ্মি ও মহাকাশীয় বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে আংশিকভাবে রক্ষা করে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬.
নিচের কোন দেশটি ইন্দোচীন অঞ্চলের অন্তর্গত নয়?
  1. লাওস
  2. থাইল্যান্ড
  3. কম্বোডিয়া
  4. ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
থাইল্যান্ড ইন্দোচীনের অংশ নয়। অন্য তিনটি দেশ এই অঞ্চলের অন্তর্গত।

ইন্দোচীন:
- ইন্দোচীনের অন্তর্ভুক্ত ভিয়েতনাম, লাওস এবং কম্বোডিয়া। 
- ফ্রান্স অষ্টাদশ শতকে ইন্দোচীন হিসাবে পরিচিত বর্তমান ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বােডিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত অঞ্চলটির উপর শাসন অব্যাহত রাখে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপান ইন্দোচীন দখল করে নেয়।
- ১৯৪৫ সালে ভিয়েতনাম স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
- ফ্রান্স ভিয়েতনামকে ফরাসি ইউনিয়নের অধীনে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৪৬ সালে দেশটির উপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১৭.
বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের কোন কোন রাজ্য রয়েছে?
  1. পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা
  2. মেঘালয় ও মিজোরাম
  3. আসাম ও ত্রিপুরা
  4. পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের তিনটি রাজ্য—পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম।

বাংলাদেশের সীমা:
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য;
- পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার;
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
- বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার এবং
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী এবং দক্ষিণপূর্বে নাফ নদী ভারত ও মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থিত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

১৮.
বলকান অঞ্চল কোথায় অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ
  2. উত্তর ইউরোপ
  3. মধ্য এশিয়া
  4. উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ
ব্যাখ্যা
- বলকান দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত। এটি একটি পার্বত্য ও উপদ্বীপ অঞ্চল।

বলকান রাষ্ট্র:
- বলকান হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত একটি পার্বত্য অঞ্চল।
- বলকান পর্বতমালার পাদদেশ বা বলকান পেনিনসুলায় অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

এই অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ হলো:
- ক্রোয়েশিয়া,
- কসোভো,
- মন্টিনিগ্রো,
- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা,
- রােমানিয়া,
- সার্বিয়া,
- উত্তর মেসিডোনিয়া,
- স্লোভেনিয়া,
- বুলগেরিয়া,
- আলবেনিয়া।

উল্লেখ্য,
- গ্রিস এবং তুরস্কের কিছু অংশও বলকান অঞ্চলে অবস্থিত।

সূত্র: ব্রিটানিকা
১৯.
বাংলাদেশে কয়টি রামসার সাইট রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে রামসার সাইট ২টি হলো—সুন্দরবন ও টাঙ্গুয়ার হাওর।

রামসার কনভেনশন:
- রামসার কনভেনশন-এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
- এটি একমাত্র আন্তর্জাতিক চুক্তি যা শুধুমাত্র জলাভূমি সংরক্ষণের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- রামসার কনভেনশনের মূল উদ্দেশ্য: জলাভূমি সংরক্ষণ, টেকসই ব্যবহারের প্রচার, বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা।
- ১৯৯৭ সাল থেকে ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব জলাভূমি দিবস হিসেবে IUCN, UNESCO-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ১০০টিরও বেশি দেশে পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা পালন করে আসছেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট (Ramsar sites) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।

সূত্র: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।
২০.
পৃথিবীর কোন দেশে ভূভাগের সর্বাধিক অংশ পাহাড় দ্বারা আচ্ছাদিত?
  1. ভুটান
  2. তাজিকিস্তান
  3. কিরগিজস্তান
  4. সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- বিশ্বে আয়তনের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পাহাড়ে আচ্ছাদিত দেশ হলো ভুটান, এর প্রায় ৯৮.৮% ভূভাগ পাহাড়ি অঞ্চল। এটি পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এবং “Land of the Thunder Dragon” নামে পরিচিত।

সবচেয়ে বেশি পাহাড় আছে যে দেশে:
- পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি অঞ্চল ভুটানে।
- এর ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ পাহাড়ে আবৃত।
- তিব্বত ও ভারতের মধ্যে স্থলবেষ্টিত এই দেশ।
- পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশটি ‘ল্যান্ড অফ দ্য থান্ডার ড্রাগন’ নামেও পরিচিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০,৭৬০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই দেশ।
- ভুটান বিশ্বের প্রথম কার্বন-নেতিবাচক দেশ হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।

১। ভুটান – ৯৮.৮%
২। তাজিকিস্তান – ৯১.৯%
৩। কিরগিজস্তান – ৯০.৭%
৪। লেসোথো – ৯০.৫%
৫। মন্টেনেগ্রো – ৮৯.৩%
৬। আর্মেনিয়া – ৮৫.৯%
৭। উত্তর মেসিডোনিয়া – ৮৫.৫%
৮। সুইজারল্যান্ড – ৮৩.৬%
৯। লেবানন – ৮১.১%
১০। নেপাল – ৮০.৭%

সূত্র: Worldatlas.
২১.
আতাকামা মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. চিলি
  2. ব্রাজিল
  3. উরুগুয়ে
  4. কলম্বিয়া
ব্যাখ্যা
আতাকামা মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকার চিলি দেশে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিগুলোর একটি।

আতাকামা মরুভূমি:

- আতাকামা মরুভূমি চিলির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ থেকে ৭০০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারিত নয়, তবে এটি মূলত লোয়া নদীর দক্ষিণ বাঁক এবং সালাডো-কোপিয়াপো জলাধারের মধ্যবর্তী পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত।
- উত্তরে, মরুভূমি পেরুর সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত।

কয়েকটি মরুভূমি ও এদের অবস্থান:
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি: চিলি ও আর্জেন্টিনা,
- থর মরুভূমি: ভারত ও পাকিস্তান,
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা,
- কালাহারি মরুভূমি: নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা,

সূত্র: Britannica.
২২.
কোন ধরনের শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভবনা রয়েছে?
  1. রূপান্তরিত শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা:
- পাললিক শিলা কথাটি এসেছে 'পলি' বা 'পলল' থেকে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
- এই শিলায় স্তরায়ন এবং কাদার চির খাওয়া দাগ লক্ষ্য করা যায়।
- একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় সচ্ছিদ্রতা ও ভঙ্গুরতা দেখা যায়।
- এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি।
- ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বিভিন্ন রকম হয়।
- কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার এই শিলা।
- কাঠিন্য আগ্নেয় শিলার থেকে কম।
- দারণ, ফাটল বা কেলাসের গঠন থাকে না।

উল্লেখ্য,
- পাললিক শিলার বিভিন্ন স্তরে আবদ্ধ হয়ে থাকা উদ্ভিত ও প্রাণীর দেহাবশেষ বা প্রস্তরীভূত রূপকে জীবাশ্ম বলে (Fossil)।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কতটি জেলার সীমান্ত রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে।

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি।
রাজ্যগুলো হলো: 
- আসাম,
- মিজোরাম,
- ত্রিপুরা,
- মেঘালয় ও
- পশ্চিমবঙ্গ।

এছাড়াও, 
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট ৩০টি জেলা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। 
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত ৩টি জেলা যুক্ত রয়েছে।  
- রাঙামাটি জেলা ভারত এবং মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী জেলা।  

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও প্রথম আলো।
২৪.
নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. সৌরশক্তি
  4. খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
- সৌরশক্তি হলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া শক্তি যা অবিরামভাবে পাওয়া যায় এবং নিঃশেষ হয় না, এটি নবায়নযোগ্য শক্তি।

নবায়নযোগ্য শক্তি:
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ু প্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈব শক্তি (জৈবভর), ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনবায়নযোগ্য শক্তি:
- অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable Energy) হলো যে সম্পদ প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে নবায়ন হয় না এমনকি মানুষ ও নবায়ন করতে পারে না।
- যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, নিউক্লীয় শক্তি, খনিজ তেল ইত্যাদি।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
নীলগিরি-নীলাচল কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. বান্দরবান
  3. রাঙামাটি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
- নীলগিরি ও নীলাচল বান্দরবানে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
- এই হ্রদের চারদিকে সবুজ ঘেরা পাহাড়, নীলাভ পানি এবং হ্রদের ধারে ছোট ছোট টিলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে অনাবিল আনন্দ উপভোগের এক মোহনীয় স্থানে রূপান্তরিত করেছে।
- এখানে বৌদ্ধ বিহার ও চাকমা রাজার রাজবাড়ি অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
- খাগড়াছড়ির বনভূমি, পাহাড় ও প্রাকৃতিক ঝরনা।
- বান্দরবানের মেঘলা, শৈলপ্রপাত, নীলগিরি ও নীলাচল ইত্যাদি পর্যটন স্পট অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৬.
ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় তাকে কী বলে?
  1. সমোষ্ণ রেখা
  2. সমচাপ রেখা
  3. সমবর্ষণ রেখা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

সূত্র: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
লালমাই পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাজশাহী
  3. কুমিল্লা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
- লালমাই পাহাড় কুমিল্লা জেলার একটি বিখ্যাত ভূ-আকৃতি।

লালমাই পাহাড়: 
- লালমাই পাহাড়ের গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এটি কুমিল্লা জেলার একটি বিশেষ ধরনের উঁচুভূমি, এটি প্লাইস্টোসিন যুগে গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পাহাড়টি কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- পাহাড়ের মাটি লাল রঙের এবং এতে নুড়ি, বালি, ও অন্যান্য খনিজ উপাদান মিশ্রিত।
- সমভূমি থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক উচ্চভূমি হিসেবে বিবেচিত।  

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মালভূমিটির নাম কী?
  1. পামির মালভূমি
  2. পাটাগোনিয়া মালভূমি
  3. তিব্বত মালভূমি
  4. মঙ্গোল মালভূমি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতার মালভূমি হচ্ছে পামির মালভূমি।

পামির মালভূমি:
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভূমির নাম পামীর মালভূমি।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ১৬,০০০ ফুটের মতো।
- 'পামির মালভূমি' মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত পামীর পর্বতমালাকে ঘিরে এ মালভূমিটির অবস্থান।
- তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তিব্বত, চীন এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ পর্যন্ত এ মালভূমিটি বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলটি মূলত বিভিন্ন উঁচু পর্বতের মিলনস্থল।
- এ কারণে তাই পামীর মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়।

সূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
২৯.
কোনটি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়?
  1. আসাম
  2. ত্রিপুরা
  3. মিজোরাম
  4. মনিপুর
ব্যাখ্যা
মনিপুর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়।

বাংলাদেশের সীমানা:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাতটি রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
কোন শিলা রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল হয়?
  1. গ্রানাইট
  2. কাঁদা
  3. চুনাপাথর
  4. বেলেপাথর
ব্যাখ্যা
চুনাপাথর প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ফলে রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল তৈরি হয়।

রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।

কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
→ চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
→ কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
→ গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
→ বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, 
→ কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
  1. কেওক্রাডং
  2. চিম্বুক
  3. তাজিনডং
  4. লাউয়াছড়া
ব্যাখ্যা

বান্দরবানে অবস্থিত তাজিনডং শৃঙ্গটির উচ্চতা ১,২৮০ মিটার, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি: 

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। গঙ্গা নদী পশ্চিম, ব্রহ্মপুত্র নদ উত্তর, সুরমাও কুশিয়ারা নদী উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একযোগে সুবিশাল ব-দ্বীপের সৃষ্টি করেছে। স্থায়ী বসবাসের জন্য সমভূমিই আদর্শ। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।

ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, 
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ, 
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। 

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত। পাহাড়গুলো আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়। এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়),যার উচ্চতা ১,২৮০ মিটার।
- এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবেটিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।