পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৫৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৫ পার্ট-১) বাংলা ব্যাকরণ: টপিকসমূহ ১. বাংলা ভাষা (ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি; বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয়) ২. ধ্বনিতত্ত্ব (ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ; ধ্বনির উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি) পার্ট-২) জাতিসংঘ - History, মূল সংস্থা, জড়িত ব্যক্তি, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও নোবেল, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (গুরুত্বপূর্ণ), জাতিসংঘ মিশন সমূহ, World Bank, IMF, WTO, UNCTAD. ------------------ পার্ট–১ সোর্স: উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই। তবে, সংস্থাগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটগুলো সম্ভব হলে একটু দেখে নিবেন। গাইডে অনেক সময় ভুল থাকে ও আপডেটেড তথ্য দেওয়া থাকে না।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৪ প্রশ্ন

.
বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় কোনটি?
  1. ফারসি ও উর্দু
  2. নেপালি ও সিংহলি
  3. হিন্দি ও উর্দু
  4. অহমিয়া ও ওড়িয়া
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
কোন ভাষা অপরিবর্তনীয় এবং কৃত্রিম?
  1. চলিত ভাষা
  2. উপভাষা
  3. সাধু ভাষা
  4. আঞ্চলিক ভাষা
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
'শ্মশান' - শব্দের উচ্চারণ কোনটি সঠিক?
  1. শঁশান্‌
  2. শ্মশান
  3. শশান্
  4. শমশান
ব্যাখ্যা

'ম' বর্ণের উচ্চারণ:
- বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শঁশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'উপসর্গ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

রূপতত্ত্ব:
- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ। 
- রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব বলা হয়।
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় - শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, বচন, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ, অনুসর্গ, পদ- প্রকরণ, অনুজ্ঞা, ক্রিয়ার কাল, পুরষ, লিঙ্গ, বচন, ধাতু  ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

.
'জানালা > জান্‌লা' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে, 
- কুটুম্ব > কুটুম, 
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'ইতস্তত' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ইত + তত
  2. ইতঃ + তত
  3. ইতঃ + সত
  4. ইতসঃ + তত
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর,
- ইতঃ + তত = ইতস্তত,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'শ' বর্ণের [শ] উচ্চারণের উদাহরণ কোনটি?
  1. সাধারণ
  2. শত
  3. শৃগাল
  4. শ্রমিক
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

.
কোনটি ভাষা পরিবারের নাম নয়?
  1. ইন্দো-ইউরোপীয়
  2. অস্ট্রো-এশীয়
  3. আফ্রিকীয়
  4. ইন্দো-সেমীয়
ব্যাখ্যা

• ভাষা-পরিবারের নাম নয় - ইন্দো-সেমীয়

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

.
'বলিয়া > বলে' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. অপিনিহিতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০.
'জয়ধ্বনি' - শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. জয়দ্‌ধ্বোনি
  2. জয়োদ্‌ধোনি
  3. যয়োদ্‌ধোনি
  4. যয়োদ্‌ধ্বনি
ব্যাখ্যা

• 'জয়ধ্বনি' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ - জয়োদ্‌ধোনি
- শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- জয়োল্লাসের ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১২.
কোনটি চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
  2. চটুল, সরল ও সাবলীল
  3. গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
  4. সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য - গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর

চলিত ভাষারীতি:

১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
২. চলিত ভাষা সবসময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৩.
'সার + অঙ্গ = সারঙ্গ' - এটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতি'র উদাহরণ?
  1. করিয়া > করে
  2. ফলাহার > ফলার
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্তর্হতি - ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার।
অভিশ্রুতি - করিয়া > করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫.
'গায়ক' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গে + অক
  2. গো + অক
  3. গৌ + অক
  4. গৈ + অক
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
কোনটি অর্থতত্ত্বে আলোচনা কর হয়?
  1. বাক্যের ব্যঞ্জনা
  2. বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. শব্দ গঠন
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৭.
কোনটি অর্ধস্বরধ্বনি?
  1. [অ্যাঁ]
  2. [উ]
  3. [আ]
  4. [অ]
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

অন্যদিকে,
- [আ] এবং [অ] হচ্ছে মৌলিক স্বরধ্বনি।
- [অ্যাঁ] হচ্ছে অনুনাসিক স্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৮.
কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. দন্ত
  2. বাঘ
  3. কান
  4. হাতি
ব্যাখ্যা

কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ কর্ণ - কান,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
→ মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৯.
কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. [অ]
  2. [উ]
  3. [এ]
  4. [আ]
ব্যাখ্যা

সম্মুখ স্বরধ্বনি:
- সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন:
- [ই], [এ], [অ্যা] সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মধ্য স্বরধ্বনি:
- মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]

পশ্চাৎ স্বরধ্বনি:
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২০.
নিচের কোন দুটি তালব্য বর্ণ?
  1. ত, দ
  2. ন, র
  3. ঝ, শ
  4. ভ, ম
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
- ভ, ম - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।
- ন, র - দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন।
- ত, দ - দন্ত্য ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২১.
'বড়দাদা > বড়দা' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনি চ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।

যেমন:
- বউদিদি > বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২২.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. অদ্য
  2. যদিও
  3. তথাপি
  4. নতুবা
ব্যাখ্যা

• অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:

সাধু - চলিত:
→ অদ্য - আজ,
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ নচেৎ - নইলে,
→ নতুবা - নইলে,
→ যদ্যপি - যদিও

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৩.
'বনৌষধি' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বন + ওষূধি
  2. বন + ওষধি
  3. বন + ওষুধি
  4. বন + ঔষধি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- মহা + ঋষি = মহর্ষি,
- শীত + ঋত = শীতার্ত,
- জন + এক = জনৈক,
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৪.
'পদ্ম > পদ্দ' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্যোন্য সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
  4. প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পরিষ্কার
  2. স্পষ্ট
  3. ভূষণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়৷
যথা: ষড়ঋতু, ভাষণ, ঊষা, ভূষণ, ঔষধ ইত্যাদি৷

অন্যদিকে,
- ট–বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়৷

যথা:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' বসে।
যেমন - পরিষ্কার

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক্রন্দণ
  2. কঙ্কণ
  3. পিণাক
  4. বেণু
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - ক্রন্দণ

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন:
- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন

অন্যদিকে,
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭.
'ঞ্চ' যুক্তবর্ণটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ঞ্ + ছ
  2. ঞ্ + চ
  3. চ্ + ঞ
  4. ছ্ + ঞ
ব্যাখ্যা

• 'ঞ্চ' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো - ঞ্চ = ঞ্ + চ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

২৮.
২০২৬ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ১৪তম মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
  1. নাইরোবি, কেনিয়া
  2. আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত
  3. ইয়াউন্দে, ক্যামেরুন
  4. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

WTO:
- WTO-এর পূর্ণরূপ: World Trade Organization.
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- বর্তমান সদস্য: ১৬৬টি দেশ।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- মহাপরিচালক: এনগোজি ওকোনজো ইওয়েলা।
- প্রতিষ্ঠাকালীন নাম: General Agreement on Tariffs and Trade (GATT).

⇒ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14) ২০২৬ সালের ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ইয়াউন্দে, ক্যামেরুন-এ অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।

২৯.
কোন সংস্থা বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে?
  1. ICSID
  2. MIGA
  3. IBRD
  4. IFC
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ:
- বিশ্বব্যাংক ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
1. International Bank for Reconstruction and Development (IBRD).
2. International Finance Corporation (IFC).
3. Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA).
4 International Center for Settlement of Investment Disputes (ICSID).
5.International Development Association (IDA).

• ICSID:

- ICSID-এর পূর্ণরূপ: International Center for Settlement of Investment Disputes.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৪ অক্টোবর, ১৯৬৬।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ১৫৮টি। 
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র।

⇒ ICSID এর প্রধান কাজ হলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিরোধগুলির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।

৩০.
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন -
  1. জন মেনার্ড কেইন্‌স
  2. হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট
  3. পল স্যামুয়েলসন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন জন মেনার্ড কেইন্‌স ও হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট।

বিশ্বব্যাংক:

- বিশ্বব্যাংক বলতে IBRD (International Bank for Reconstruction and Development) কে বুঝানো হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ সালে।
- কার্যক্রম শুরু করে: জুন, ১৯৪৬ সালে।
- ১৯৪৬ সালে যখন এটি কার্যক্রম শুরু করে, তখন এর সদস্য ছিল ৩৮টি। 
- বর্তমান সদস্য ১৮৯টি দেশ।
- বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ সদস্য দেশ নাউরু।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি. সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: অজয় বঙ্গ (বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সবসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা মনোনীত এবং মার্কিন নাগরিক হয়ে থাকে)।
- প্রধান অঙ্গসংস্থা: ৫টি।

⇒ ১৯১৮-৩৯ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়ে উল্লম্ফন মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক বাণিজ্যে সীমাবদ্ধতা, বিদেশি শেয়ারবাজারে ফটকাবাজি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক রিজার্ভে উত্থান-পতন, স্বর্ণের সংকট, মুদ্রামান কমে যাওয়া- বৈশ্বিক অর্থনীতি ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত ছিল।
- এ সমস্যা সমাধানে একটি বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করা হয়।
- বিশ্ব অর্থনীতির উল্লিখিত এই টানাপড়েনের লাগাম ধরতে ১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ব্রেটন উডস নামক স্থানে জাতিসংঘ মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস।
- ব্রেটন উডস সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ৪৪টি দেশ দুটি বৈশ্বিক আর্থিক সংস্থা ও একটি বাণিজ্যিক বৈশ্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠার জন্য Articles of Agreement স্বাক্ষর করে।
- ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিশ্বব্যাংক ও IMF গঠনের Articles of Agreement অনুমোদন করে।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।

৩১.
WTO-এর সদস্য দেশের সংখ্যা কত? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ১৬৪টি
  2. ১৬৬টি
  3. ১৯১টি
  4. ১৯৩টি
ব্যাখ্যা

WTO:
- WTO-এর পূর্ণরূপ: World Trade Organization.
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১৬৬টি।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- মহাপরিচালক: এনগোজি ওকোনজো ইওয়েলা।
- প্রতিষ্ঠাকালীন নাম: General Agreement on Tariffs and Trade (GATT).

⇒ WTO-এর সর্বশেষ ১৬৫তম দেশ কমোরোস এবং ১৬৬তম দেশ পূর্ব তিমুর।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।

৩২.
নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক করতে কতটি সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন?
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা

নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council):
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ হলো জাতিসংঘের প্রধান সংস্থা যা আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। 
- এর প্রধান দায়িত্ব হলো বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখা এবং সংঘাত প্রতিরোধ করা।
- নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা: ১৫টি (৫টি স্থায়ী সদস্য এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য)।
- স্থায়ী সদস্য: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র। এই পাঁচ পরাশক্তিকে একত্রে পি-৫ নামে অভিহিত করা হয়।
- অস্থায়ী সদস্য দেশ হলো: আলজেরিয়া (২০২৪-২৫), গায়ানা (২০২৪-২৫), কোরিয়া (২০২৪-২৫), সিয়েরা লিওন (২০২৪-২৫), স্লোভেনিয়া (২০২৪-২৫) ও ডেনমার্ক (২০২৫-২৬), গ্রিস (২০২৫-২৬), সোমালিয়া (২০২৫-২৬), পাকিস্তান (২০২৫-২৬), পানামা (২০২৫-২৬)।

⇒ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৭ নং অনুচ্ছেদ: ভোটদান রীতি
১. নিরাপত্তা পরিষদে প্রত্যেক সদস্যের একটি ভোটদানের অধিকার থাকবে।
২. পদ্ধতিগত বিষয়গুলো ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদে নয়টি সদস্যের ইতিবাচক ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
৩. অন্যান্য বিষয়ে স্থায়ী সদস্যদের সমর্থনসূচক ভোটসহ মোট নয়টি সদস্যের ইতিবাচক ভোটে নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে; অবশ্য ষষ্ঠ অধ্যায় অথবা ৫২-এর ৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে বিবদমান সদস্য ভোটদানে বিরত থাকবে।

উৎস: UN Security Council ওয়েবসাইট।

৩৩.
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের কোন সংস্থা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে?
  1. ICSID
  2. IBRD
  3. IDA
  4. IFC
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ:
- বিশ্বব্যাংক ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
1. International Bank for Reconstruction and Development (IBRD).
2. International Finance Corporation (IFC).
3. Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA).
4. International Center for Settlement of Investment Disputes (ICSID).
5. International Development Association (IDA).

• IFC (International Finance Corporation):
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২০ জুলাই, ১৯৫৬।
- বর্তমান সদস্য: ১৮৬টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রধান লক্ষ্য: বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাস, টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন।
- মূল সেবা: ঋণ (Loans), ইক্যুইটি বিনিয়োগ (Equity Investments), ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (Risk Management), টেকনিক্যাল সহায়তা (Advisory Services)।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।

৩৪.
মোস্ট-ফেভারড-নেশন (MFN) নীতি কোন সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা
  3. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  4. বিশ্ব ব্যাংক
ব্যাখ্যা

মোস্ট-ফেভারড-নেশন (Most-Favored-Nation) নীতি:
- মোস্ট-ফেভারড-নেশন (MFN) নীতিটি মূলত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) সাথে সম্পর্কিত। 
- এই নীতি অনুসারে, কোনো দেশ তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে বৈষম্যহীন আচরণ করবে অর্থাৎ একটি দেশকে যে সুবিধা দেওয়া হবে, অন্য দেশগুলোকেও সেই একই সুবিধা দিতে হবে। 
- WTO-এর অধীনে, MFN নীতি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্যহীন বাণিজ্য নিশ্চিত করে।

উল্লেখ্য,
- এ নীতি বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সমতা স্থাপন করে।
- তাই এই চুক্তি সদস্যভূক্ত নির্দিষ্ট কোনো দেশকে কোনো বিশেষ সুযোগ সুবিধা প্রদান করে না।
- কেবলমাত্র চুক্তিভূক্ত দেশের সামগ্রীকে একই পর্যায়ে বিবেচনা করে।
- এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক বৈষম্য কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রাথমিকভাবে, MFN নীতি GATT (General Agreement on Tariffs and Trade) চুক্তির অধীনে কার্যকর ছিল, কিন্তু পরে এটি WTO-র আওতায় চলে আসে।

উৎস: WTO ওয়েবসাইট।

৩৫.
জাতিসংঘ সনদের কোন অনুচ্ছেদে নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২৩
  2. অনুচ্ছেদ ২৪
  3. অনুচ্ছেদ ২৭
  4. অনুচ্ছেদ ২৮
ব্যাখ্যা

নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council):
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ হলো জাতিসংঘের প্রধান সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। 
- এর প্রধান দায়িত্ব হলো বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখা এবং সংঘাত প্রতিরোধ করা।
- নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ১৫ (পাঁচটি স্থায়ী সদস্য এবং দশটি অস্থায়ী সদস্য)।

⇒ জাতিসংঘ সনদের ২৩ নং অনুচ্ছেদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে।
- স্থায়ী সদস্যদের ভেটো (Veto) পাওয়ার থাকে, অর্থাৎ তারা একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে না। 
- অস্থায়ী সদস্যরা নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন এবং তাদের মেয়াদকাল সাধারণত দুই বছর। এই সদস্যদের কোনো ভেটো ক্ষমতা নেই, তবে তারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ভোট দিতে পারে।

অন্যদিকে,
- জাতিসংঘ সনদের ২৪ নং অনুচ্ছেদে নিরাপত্তা পরিষদের কাজ, দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- জাতিসংঘ সনদের ২৭ নং অনুচ্ছেদে নিরাপত্তা পরিষদের ভোটিং পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- জাতিসংঘ সনদের ২৮নং অনুচ্ছেদে নিরাপত্তা পরিষদের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: UN Security Council ওয়েবসাইট। 

৩৬.
'The World Investment Report' প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. IMF
  2. WTO
  3. UNCTAD
  4. World Bank
ব্যাখ্যা

United Nations Conference on Trade and Development (UNCTAD):
- এটি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন।
- যাত্রা শুরু করে: ১৯৬৪ সালে।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৯৫।
- সংস্থাটি বার্ষিক বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

⇒ জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (UNCTAD) বাৎসরিক যে রিপোর্টগুলো প্রকাশ করে সেগুলো হল: 
- The Trade and Development Report,
- The Trade and Environment Review,
- The World Investment Report,
- The Least Developed Countries Report,
- The Technology and Innovation Report,
- Digital Economy Report ইত্যাদি।

উৎস: UNCTAD ওয়েবসাইট।

৩৭.
IMF-এর Special Drawing Rights (SDR)-এর মূল্য কয়টি প্রধান মুদ্রার উপর নির্ভর করে? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

Special Drawing Rights (SDR):
- SDR হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) দ্বারা তৈরি একটি বিশেষ ধরনের মুদ্রা।
- এটা কোনো দেশের স্থানীয় মুদ্রা নয় বরং একটি আন্তর্জাতিক "মুদ্রা ইউনিট" যা বিভিন্ন দেশ তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করতে পারে।
- অর্থাৎ, SDR হল IMF-এর তৈরি একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা যা সদস্য দেশের সাহায্য বা সংকট কাটাতে ব্যবহৃত হয়।
- এর মাধ্যমে একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে যায়।
- নিয়মিত এসডিআরের মূল্যমান হালনাগাদ করা হয়।
- IMF ১৯৬৯ সালে SDR গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছিল।

⇒ IMF-এর Special Drawing Rights (SDR)-এর মূল্য ৫টি প্রধান মুদ্রার উপর নির্ভর করে। 
- এগুলো হলো: মার্কিন ডলার (USD), ইউরো (EUR), চীনা রেনমিনবি (CNY), জাপানি ইয়েন (JPY) এবং ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP)।
- এটা সরাসরি কোনো দেশের মুদ্রার মতো ব্যবহার হয় না, কিন্তু আন্তর্জাতিক লেনদেন বা দেশগুলোর মধ্যে অর্থ সাহায্য দেওয়ার জন্য কাজ করে।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।

৩৮.
জাতিপুঞ্জের উদ্যোক্তা হয়েও সদস্য ছিল না -
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ফ্রান্স
  3. জাপান
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

লীগ অব নেশনস:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি প্যারিস শান্তি সম্মেলনে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘লীগ অব নেশনস’।
- লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন।
- এর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।
- সদস্য রাষ্ট্র ছিল ৬৩টি।
- সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সীমানা অক্ষুণ্ণ রাখা, একে অপরকে আক্রমণ করতে নিরুৎসাহিত করা এবং কোনো সদস্য রাষ্ট্র অপর রাষ্ট্র কর্তৃক আক্রান্ত হলে সমবেতভাবে আক্রান্ত রাষ্ট্রকে সহায়তা করা, সংখ্যালঘু সমস্যা, ম্যান্ডেট ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা এ লীগ গঠনের উদ্দেশ্য ছিল।

⇒ জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য না হয়েও উদ্যোক্তা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। 
- যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট লীগ অব নেশনসে যোগদান অনুমোদন করেনি।
- ১৯১৯ সালে লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার জন্য ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট একে প্রত্যাখ্যান করে।
- তাদের এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের রাষ্ট্রগুলোর বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি, যা তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের অংশ হতে আপত্তি সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই লীগ অব নেশনস এর সদস্য হতে পারেনি।
- পরবর্তীতে, ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ (United Nations) প্রতিষ্ঠার সময় যুক্তরাষ্ট্র তখন জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে যোগ দেয়।

অন্যদিকে,
- ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি জাতিপুঞ্জের সদস্য ছিল।

[জাতিপুঞ্জের বিলুপ্তির তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। ব্রিটানিকা অনুসারে ১৯ এপ্রিল, ১৯৪৬ তারিখে জাতিপুঞ্জ বিলুপ্ত হয়। কিন্তু জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুসারে, ২০ এপ্রিল, ১৯৪৬ তারিখে জাতিপুঞ্জ বিলুপ্ত হয়। তাই ২০ এপ্রিল, ১৯৪৬ অধিক গ্রহণযোগ্য। বিস্তারিত জানার জন্য তথ্যকল্পদ্রুপ-৩০ দেখতে পারেন।]

উৎস: i) Office of the Historian (.gov).
ii) UN ওয়েবসাইট।

৩৯.
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন -
  1. ফিলেমন ইয়াং
  2. আনালেনা বায়েরবক
  3. ভোলকান বোজকার
  4. মেরি রবিনসন
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ:
- সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গ সংস্থা।
- বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৯৩টি।

⇒ বাৎসরিকভাবে এ পরিষদের অধিবেশন বসে যা সাধারণ অধিবেশন নামে পরিচিত। 
- সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের ৩য় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিটি রাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিনিধি পাঠাতে পারে।এই প্রতিনিধির মধ্যে সাধারণত একটি প্রধান প্রতিনিধি (অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা রাষ্ট্রদূত) এবং সহকারী প্রতিনিধি থাকতে পারে।
তবে, প্রয়োজন অনুযায়ী, দেশটি আরও প্রতিনিধির উপস্থিতির অনুমতি পেতে পারে, তবে ৫ জনের বেশি প্রতিনিধির অনুমতি নেই।

⇒ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি:
- ২০২৫ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন আনালেনা বায়েরবোক (Annalena Baerbock)।
- তিনি জার্মানির প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে,
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন ক্যামেরুনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফিলেমন ইয়াং।

উৎস: UN General Assembly ওয়েবসাইট।

৪০.
GATT চুক্তির কোন রাউন্ডের মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার জন্ম হয়?
  1. উরুগুয়ে রাউন্ড
  2. টোকিও রাউন্ড
  3. কেনেডি রাউন্ড
  4. জেনেভা রাউন্ড
ব্যাখ্যা

GATT চুক্তির রাউন্ড:
- ১৯৪৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত GATT-এর মোট আটটি রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ১৯৯৫ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডে, GATT থেকে পরবর্তীতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) তৈরি হয়, যা GATT-এর নীতিগুলোকে অধিক কার্যকরী করে তোলে। 
১. জেনেভা রাউন্ড (Geneva Round),
২. অ্যানেসি রাউন্ড (Annecy Round),
৩. টরকুয়ে রাউন্ড (Torquay Round),
৪. জেনেভা রাউন্ড II (Geneva II Round),
৫. ডিলন রাউন্ড (Dillon Round),
৬. কেনেডি রাউন্ড (Kennedy Round),
৭. টোকিও রাউন্ড (Tokyo Round),
৮. উরুগুয়ে রাউন্ড (Uruguay Round)।

⇒ উরুগুয়ে রাউন্ড (Uruguay Round):
- GATT চুক্তির রাউন্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড।
- উরুগুয়ে রাউন্ডের সংলাপ ৮ বছর ধরে চলেছিল।
- এই রাউন্ড শুরু হয় ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে।
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তি হয় GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে।
- এর ফলে নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যার ফলে ১৯৯৫ সালে World Trade Organization (WTO) -এর জন্ম হয়।

উৎস: WTO ওয়েবসাইট।

৪১.
জাতিসংঘ সনদের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিরক্ষী বাহিনী বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করে?
  1. ৩৯ নং 
  2. ৪৪ নং
  3. ৪৬ নং
  4. ৪৯ নং
ব্যাখ্যা

শান্তিরক্ষী বাহিনী:
- জাতিসংঘ সনদের রচয়িতা - আর্চিবাল্ড ম্যাকলিশ (Archibald Macleish)।
- জাতিসংঘ সনদের অধ্যায়-১৯টি। সনদে মোট ১১১টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

⇒ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শান্তিরক্ষী মিশনগুলো কাজ করে। 
- জাতিসংঘ সনদের ৪৩ ও ৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিরক্ষী বাহিনী বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন, যুদ্ধ বিরতি চুক্তি তদারকি ও কার্যকর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে কাজ করে। 
- বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষক নিয়োগের মধ্য দিয়ে মূলত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের শুরু।

অন্যদিকে,
- ধারা ৪৯: নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক স্থিরীকৃত কর্মপন্থা অনুসরণ করার জন্য জাতিসংঘের সদস্যরা পারস্পরিক সহযোগিতা প্রদানে স্বীকৃত থাকবে।
- ধারা ৪৬: সামরিক বাহিনী নিয়োগ-সম্পর্কিত পরিকল্পনাদি সামরিক স্টাফ কমিটির সহায়তায় নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রণীত হবে।
- ধারা ৩৯: শান্তির প্রতি কোনো হুমকি রয়েছে কি না, শান্তিভঙ্গ হয়েছে কি না, অথবা কোনো আক্রমণাত্মক কার্য ঘটেছে কি না, নিরাপত্তা পরিষদ তা নির্ধারণ করবে এবং 

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৪২.
অজয় বঙ্গ বিশ্বব্যাংকের কততম প্রেসিডেন্ট?
  1. ১২তম
  2. ১৩তম
  3. ১৪তম
  4. ১৫তম
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক:
- বিশ্বব্যাংক বলতে IBRD (International Bank for Reconstruction and Development) কে বুঝানো হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ সালে।
- কার্যক্রম শুরু করে: জুন, ১৯৪৬ সালে।
- ১৯৪৬ সালে যখন এটি কার্যক্রম শুরু করে, তখন এর সদস্য ছিল ৩৮টি। 
- বর্তমান সদস্য ১৮৯টি দেশ।
- বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ সদস্য দেশ নাউরু।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি. সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: অজয় বঙ্গ (বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সবসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা মনোনীত এবং মার্কিন নাগরিক হয়ে থাকে)।
- প্রধান অঙ্গসংস্থা: ৫টি।

⇒ অজয় বঙ্গ:
- বিশ্বব্যাংকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ।
- তিনি বিশ্বব্যাংকের ১৪তম প্রেসিডেন্ট।
- তিনি ২০২৩ সালে পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হন।
- এর আগে, অজয় বঙ্গা ভিসা, মাস্টারকার্ডের CEO হিসেবে কাজ করেছিলেন।
- তিনি দ্য সাইবার রেডিনেস ইনস্টিটিউটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং নিউ ইয়র্কের ইকোনমিক ক্লাবের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
- উল্লেখ্য, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সবসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা মনোনীত এবং মার্কিন নাগরিক হয়ে থাকে।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।

৪৩.
ECOSOC প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ১৮টি
  2. ২১টি
  3. ২২টি
  4. ২৯টি
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC):
- অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ইস্যু নিয়ে পলিসি নির্ধারণ, সময় ও সদস্যদের আলােচনার প্রধান অঙ্গ হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC)। 
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য উদ্ভাবনমূলক ধারণা (Innovative idea) নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় প্লাটফর্ম হলো এই পরিষদ।
- জাতিসংঘ সনদের দশম অধ্যায় (৬১ - ৭২নং অনুচ্ছেদ)- এ ECOSOC সম্পর্কে বলা হয়েছে।

⇒ প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ১৮টি।
- বর্তমান সদস্য: ৫৪টি।

⇒ ১৯৬৫ সালে জাতিসংঘ সনদের তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে সদস্য সংখ্যা ৫৪ হয়।
- প্রতি বছর ১৮টি সদস্য দেশ ৩ বছরের জন্য এই পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়।
- বছরে কমপক্ষে দুইবার এ পরিষদের অধিবেশন বসে নিউইয়র্কে অথবা জেনেভায়।

⇒ জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) ২০২৫-২০২৭ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ ১৮৯ ভোটের মধ্যে ১৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৪৪.
কোন ধরনের দেশগুলোর জন্য TRIPS চুক্তি কার্যকরে রেয়াত সুবিধা প্রদান করা হয়?
  1. শুধুমাত্র উন্নত দেশ
  2. শুধুমাত্র উন্নয়নশীল দেশ
  3. শুধুমাত্র এলডিসিভুক্ত দেশ
  4. উন্নয়নশীল ও এলডিসিভুক্ত দেশ
ব্যাখ্যা

TRIPS:
- TRIPS-এর পূর্ণরূপ: Trade Related Aspects of Intellectual Property Rights.
- এটি হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা গৃহিত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের মেধাস্বত্ব বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- গৃহিত হয়:  ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ (মরক্কোর মারাক্কাশে)।
-  কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫। 

⇒ উন্নয়নশীল ও এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্যে TRIPS চুক্তি কার্যকরের রেয়াত সুবিধা প্রদান করা হয়।
- স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট মেধাস্বত্ব (TRIPS) চুক্তি রহিতের সুবিধা আরও ১৩ বছর (১ জুলাই, ২০৩৪ পর্যন্ত) বাড়ানো সংক্রান্ত প্রস্তাব সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় WTO'র TRIPS কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

উৎস: WTO ওয়েবসাইট।

৪৫.
জাতিসংঘ ও এর সাথে সম্পর্কিত ব্যাক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠান মোট কতবার নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ১০ বার
  2. ১১ বার
  3. ১২ বার
  4. ১৩ বার
ব্যাখ্যা

নোবেল পুরস্কার:
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতিসংঘ ও এর সাথে সম্পর্কিত ব্যাক্তিবর্গ মোট ১২ বার নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- জাতিসংঘের ২ জন মহাসচিব নোবেল (শান্তি) পুরস্কার লাভ করে। এরা হলেন: দ্যাগ হেমারশোল্ড (১৯৬১ সাল) ও কফি আনান (২০০১ সাল)।

⇒ পুরস্কার:
- ২০২০ সাল: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)।
- ২০১৩ সাল: অর্থনৈতিক ও রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা (OPCW)।
- ২০০৭ -সাল: আইপিসিসি (IPCC) এবং Al Gore Jr.
- ২০০৫ সাল: আইএইএ (IAEA) এবং Mohamed ElBaradei.
- ২০০১ সাল: জাতিসংঘ এবং কফি আনান।
- ১৯৮৮ সাল: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী।
- ১৯৮১ সাল: ইউএনএইচসিআর (UNHCR)।
- ১৯৬৯ সাল: আইএলও (ILO)।
- ১৯৬৫ সাল: ইউনিসেফ (UNICEF)।
- ১৯৬১ সাল: দ্যাগ হেমারশোল্ড।
- ১৯৫৪ সাল: ইউএনএইচসিআর (UNHCR)।
- ১৯৫০ সাল: Ralph Bunche.

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। [link]

৪৬.
ডাম্বারটন ওকস সম্মেলনে কত সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়?
  1. ৯ সদস্য
  2. ১১ সদস্য
  3. ১৩ সদস্য
  4. ১৫ সদস্য
ব্যাখ্যা

ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন:
- ওয়াশিংটনের ডাম্বারটন ওকস ভবনে ২১ আগস্ট- ৭ অক্টোবর, ১৯৪৪ পর্যন্ত জাতিসংঘ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'Dumbarton Oaks Conference' নামে পরিচিত।
- এতে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন উপস্থিত ছিলো।
- এ সম্মেলনে কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়।
- এ সম্মেলনে জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রথম প্রণীত ও গৃহীত হয়।

⇒ প্রস্তাবগুলো হলো:
- জাতিসংঘ গঠনের রূপরেখা, লক্ষ্য ও দায়িত্ব নির্ধারণ, 
- সমস্ত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সাধারণ পরিষদ,
- এগারো সদস্যের একটি নিরাপত্তা পরিষদ (যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী হবে এবং বাকি ছয়টি সাধারণ পরিষদ দ্বারা দুই বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবে),
- একটি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত,
- একটি সচিবালয়।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.

৪৭.
বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব কে ছিলেন?
  1. কুর্ট ওয়াল্ডহেইম
  2. উ থান্ট
  3. ড. বুট্রোস বুট্রোস ঘালি
  4. ট্রিগভেলী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ:
- বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সম্পর্কের সূত্রপাত ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই। 
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন কুর্ট ওয়াল্ডহেইম।

⇒ ১৯৭১ সালের এপ্রিলে ভারত সরকার জাতিসংঘের কাছে শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা দিতে অনুরোধ জানায়। এই অনুরোধে তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব কুর্ট ওয়াল্ডহেইম উদ্যোগী হন। জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্ট ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে মানব ইতিহাসে অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে ঘোষণা করেন।

⇒ বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ৮ আগস্ট জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য আবেদন পাঠিয়েছিল, তবে ১১ আগস্ট নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদনটি পুনরায় বিবেচনার জন্য ২১ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করতে সব সদস্যই সম্মত হয়। ২৩ আগস্ট বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য যুক্তরাজ্য, ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়া সমর্থিত একটি প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু ২৫ আগস্ট চীন ওই প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করার ফলে ওই সময় বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করা সম্ভব হয়নি।

⇒ ১৯৭৪ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ পুনরায় আবেদন করে। ১৯৭৪ সালের ১০ জুন নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের প্রস্তাবটি উত্থাপিত হলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। চীন বাংলাদেশের বিপক্ষে না গিয়ে ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। অতঃপর প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশসহ সাধারণ পরিষদে পাঠানো হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে ২৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। ওই দিনই সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশকে জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

উল্লেখ্য,
- উ থান্ট (১৯৬১-৭১): জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব ছিলেন মিয়ানমারের উ থান্ট। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ছিলেন।
- কুর্ট ওয়াল্ডহেইম (১৯৭২-৮১): চতুর্থ মহাসচিব ছিলেন অস্ট্রিয়ার কুর্ট ওয়াল্ডহেইম। তার সময়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
iii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
iv) কালের কন্ঠ পত্রিকা।

৪৮.
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন UNMISS কোথায় কার্যরত?
  1. দক্ষিণ সুদান
  2. গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
  3. সাইপ্রাস
  4. লেবানন
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন:
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (United Nations Peacekeeping Mission) একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যা সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
- এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সংঘর্ষমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, মানবাধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করা।
- বর্তমানে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশন চলমান রয়েছে।
- এগুলো হলো: MINURSO (পশ্চিম সাহারা), MINUSCA (মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র), MONUSCO (গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র), UNDOF (গোলান হাইটস), UNFICYP (সাইপ্রাস), UNIFIL (লেবানন), UNISFA (আবিয়েই), UNMIK (কসোভো), UNMISS (দক্ষিণ সুদান), UNMOGIP (ভারত ও পাকিস্তান), UNTSO (মধ্যপ্রাচ্য)।

⇒ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মূল উদ্দেশ্য:
- সংঘাতের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র বিরোধী পক্ষদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা।
- যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত জনগণের জন্য মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ মিশন আঞ্চলিক সরকারের সহায়তায় কাজ করে থাকে। 
- যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা, যেমন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে সংঘটিত ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়। এই মিশনের নাম ছিল "United Nations Truce Supervision Organization (UNTSO)"। এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা।

উৎস: United Nations Peacekeeping

৪৯.
UNCTAD-এর কতটি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ১৮৯টি
  2. ১৯১টি
  3. ১৯৩টি
  4. ১৯৫টি
ব্যাখ্যা

UNCTAD:
- UNCTAD-এর পূর্ণরূপ: United Nations Conference on Trade and Development বা জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন।
- UNCTAD ১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করে।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ১৯৫টি।
- সংস্থাটি বার্ষিক বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- UNCTAD-এর মূল লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধি করা। এটি বিশ্ব বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা, বিশ্লেষণ এবং নীতি-নির্ধারণে সহায়তা করে। 

উৎস: UNCTAD ওয়েবসাইট।

৫০.
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. দ্যাগ হ্যামারশোল্ড
  2. পল-হেনরি স্পাক
  3. ট্রিগভেলী
  4. লেস্টার বি. পিয়ারসন
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ:
- সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গ সংস্থা।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি।
- জাতিসংঘ সনদের চতুর্থ অধ্যায় (৯ - ২২ নং অনুচ্ছেদ) এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
- বাৎসরিকভাবে এ পরিষদের অধিবেশন বসে যা সাধারণ অধিবেশন নামে পরিচিত।
- সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন:
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৪৬ সালের ১০ই জানুয়ারি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 
- ৫১টি দেশের প্রতিনিধিরা এই অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। 
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল-হেনরি স্পাক।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। [link]

৫১.
WTO-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শাখা কোনটি?
  1. Dispute Settlement Body
  2. Ministerial Conference
  3. Trade Policy Review Body
  4. General Council
ব্যাখ্যা

Ministerial Conference:
- WTO-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শাখা হলো Ministerial conferences।
- মন্ত্রী পরিষদের অধিবেশন (Ministerial conference) সকল সদস্য নিয়ে গঠিত।
- এটি বিশ্ব-বাণিজ্য সংস্থার কার্যকরী বিভাগ।
- সাধারণ পরিষদ (General Council)-মন্ত্রী পরিষদের অধিবেশনের অন্তর্বর্তী সময়ে এটি কার্য পরিচালনা করে।
- WTO-এর "Ministerial Conference" প্রতি দুই বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এর ১৩ তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলন) অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের  সম্মেলন (মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলন) (MC14) ২০২৬ সালের ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ইয়াউন্দে, ক্যামেরুন-এ অনুষ্ঠিত হবে।

⇒ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান কাজ হচ্ছে–
১) উরুগুয়ে রাউন্ডের চুক্তিসমূহের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা,
২) বহুপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার জন্য ফোরাম হিসেবে কাজ করা,
৩) বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করা,
৪) বিভিন্ন সদস্য দেশের জাতীয় বাণিজ্য নীতিমালা পরীক্ষা করে দেখা এবং,
৫) কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশসমূহের বাণিজ্য নীতিমালার বিষয়ে সহায়তা করা।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।

৫২.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের কততম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেন?
  1. ৪২তম
  2. ৫৮তম
  3. ৬৭তম
  4. ৭৯তম
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তার ৭৯তম অধিবেশন:
- সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এই অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন ক্যামেরুনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফিলেমন ইয়াং।
- এই অধিবেশনে সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করাসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলেচনা করা হয়েছে।

- বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেন।
- নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে ভাষণ প্রদান করেন তিনি।
- বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

উৎস: UN General Assembly ওয়েবসাইট।

৫৩.
সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে কতটি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল?
  1. ৪৮টি
  2. ৫০টি
  3. ৫১টি
  4. ৫৪টি
ব্যাখ্যা

সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন:
- সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা সম্মেলন হিসেবেও পরিচিত।
- ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল - ২৬ জুন পর্যন্ত সান ফ্রান্সিসকো, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশক্তির মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
- এই সম্মেলনে ৫০টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল।

⇒ এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠন করা, যা যুদ্ধ এবং সংঘাত প্রতিরোধ করবে এবং বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখবে। 
- সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে ৫০টি দেশ অংশগ্রহণ করে এবং তারা জাতিসংঘের সংবিধান বা চার্টার অনুমোদন করে।
- এই সম্মেলনে প্রধানভাবে মিত্র শক্তি বা Allied Powers-এর ৫০টি দেশ অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স।
- ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ অনুমোদন করে এবং একে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- সেজন্য ২৪শে অক্টোবর জাতিসংঘের জন্ম দিনকে সারা বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৫৪.
মোট কতটি দেশের অনুমোদন নিয়ে IMF প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২৯টি
  2. ৩২টি 
  3. ৪২টি 
  4. ৪৪টি 
ব্যাখ্যা

IMF:
- IMF-এর পূর্ণরূপ: The International Monetary Fund বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
- গঠনের সিদ্ধান্ত: ৪ জুলাই, ১৯৪৪ সাল।
- আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫।
- কার্যক্রম শুরু করে: মার্চ, ১৯৪৭।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: নিউ হ্যাম্পশায়ার, যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: Bretton Woods Conference।
- বর্তমান সদস্য: ১৯১টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক: ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।
- এর রিজার্ভ মুদ্রা: ৫টি (ডলার, পাউন্ড, ইয়েন, ইউরো ও ইউয়ান)।

উল্লেখ্য,
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২৯টি দেশের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। 

⇒ ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিশ্বব্যাংক ও IMF গঠনের Articles of Agreement অনুমোদন করে।
- যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে ২৯টি দেশ ব্রেটন উডস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। মোট ২৯টি দেশের অনুমোদন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর IMF প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ IMF-এর কাজ:
- IMF এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
- যখন কোনো দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে, তখন IMF সেই দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ঋণ প্রদান করে। 
- IMF সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে তাদের উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেয়। 
- IMF বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে গবেষণা করে। তারা এসব তথ্য দেশগুলোকে প্রদান করে, যাতে দেশগুলি তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা সঠিকভাবে তৈরি করতে পারে।
- IMF সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মুদ্রা বিনিময়ের সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করে। তারা মুদ্রার মানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সহজ হয়।
- IMF সদস্য দেশগুলোকে সংকটকালীন সময়ে অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহৃত হতে পারে।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।