পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৬৮
সিলেবাস
৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড ⎯ ৩] বিষয়ের নাম: বাংলাদেশ বিষয়াবলি⎯১ [১০০ নাম্বার] (টপিকগুলোর বিস্তারিত সিলেবাস বাটনে বা পিএসসির সিলেবাসেই পাবেন।) ১) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি। ২) বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ। ৩) বাংলাদেশের অর্থনীতি। ৪) বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৬৮ প্রশ্ন

.
নিম্নের কোন পর্যটক সোনারগাঁও ভ্রমণ করেছিলেন?
  1. মার্কো পোলো
  2. হিউয়েন সাং
  3. ফা-হিয়েন
  4. ইবনে বতুতা
সঠিক উত্তর:
ইবনে বতুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

⇒ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন।
- সাদকাঁও থেকে কামারু তাঁর বর্ণনায় এক মাসের পথ। এরপর সেখানে তিনি সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর খানকায় সাক্ষাৎ করেন। দরবেশের খানকায় তিন দিন অবস্থানের পর তিনি আন-নহর উল-আয্রাক (নীল নদী অর্থে) নদীর তীরবর্তী হবঙ্ক শহর অভিমুখে রওনা হন।
- এই নদীপথে ১৫ দিন নৌকায় ভ্রমণের পর তিনি সুনুরকাঁও (সোনারগাঁ) শহরে পৌঁছেন (১৪ আগস্ট ১৩৪৬)।
- সোনারগাঁ থেকে একটি চীনা জাহাজে করে তিনি জাভার উদ্দেশে রওনা হন।

অন্যদিকে,
- মার্কো পোলো, হিউয়েন সাং, ফা-হিয়েন সোনারগাঁও ভ্রমণ করেননি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশে শীতকালে নিম্নের কোন ফসলের চাষ বেশি হয়?
  1. পাট
  2. ভুট্টা
  3. গম
  4. তিল
সঠিক উত্তর:
গম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে শীতকালে গমের চাষ বেশি হয়।

কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:

- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:
i) রবি মৌসুম,
ii) খরিপ মৌসুম।

⇒ রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রবি শস্য বপন করা হয়। কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

⇒ খরিপ মৌসুম:
- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিপ শস্য। চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম।
- খরিপ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়।
- যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

খরিফ-১ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে। এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।
- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

খরিফ-২ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।
- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

এছাড়া
- কিছু ফসল ও শাক-সবজি আছে যেগুলো উভয় মৌসুমেই বা সারা বছর চাষাবাদ করা হয়ে থাকে।
- এদেরকে বারোমাসী ফসল বলে। যেমন- কলা, পেঁপে ইত্যাদি।
- আধুনিক চাষাবাদ কলাকৌশলের মাধ্যমে বর্তমানে সারাবছর সবধরনের ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
.
দেশের প্রথম 'সোশ্যাল কারেন্সি কার্ড' চালু করেছে কোন ব্যাংক?
  1. এবি ব্যাংক পিএলসি
  2. সিটি ব্যাংক পিএলসি
  3. ডাচ বাংলা ব্যাংক পিএলসি
  4. ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি
সঠিক উত্তর:
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি
ব্যাখ্যা
সোশ্যাল কারেন্সি কার্ড:
- দেশের প্রথম 'সোশ্যাল কারেন্সি কার্ড' চালু করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি।

⇒ ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্কাইফ্লেক্স ভিসা প্রিপেইড কার্ড’ চালু করেছে।
- এটি দেশের প্রথম অ্যাপ-ভিত্তিক সোশ্যাল কারেন্সি প্রিপেইড কার্ড।
- এতে কৌশলগত সহযোগিতা দিয়েছে দ্য ইউরস ট্রুলি ও ভিসা।
- এ উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইবিএল এমডি আলী রেজা ইফতেখার, এএমডি আহমেদ শাহীন ও ডিএমডি এম খোরশেদ আনোয়ার; ভিসার কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ এবং দ্য ইউরস ট্রুলির চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলম, এমডি মাহজাবিন ফেরদৌস ও সিইও ব্রেইটি সাবরিন।

উৎস: Eastern Bank PLC ওয়েবসাইট।
.
বাংলাদেশের অভিবাসী নারী শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে বড় গন্তব্যস্থল কোন দেশ? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. সৌদি আরব
  2. সংযুক্ত আরব আমিরাত 
  3. যুক্তরাষ্ট্র 
  4. কাতার 
সঠিক উত্তর:
সৌদি আরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌদি আরব
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অভিবাসী নারী শ্রমিকদের সর্বাধিক গন্তব্যস্থল:
- বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য মতে, বাংলাদেশের অভিবাসী নারী শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় গন্তব্যস্থল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।
- এর মধ্যে অভিবাসী নারী শ্রমিকরা সবচেয়ে বড় গন্তব্যস্থল সৌদি আরব। 
- মোট নারী অভিবাসীর ৭২ শতাংশের গন্তব্য হলো সৌদি আরব।

এছাড়াও,
- অভিবাসী নারী শ্রমিকদের ২য় বড় গন্তব্যস্থল জর্ডান (১৮%)।
- অভিবাসী নারী শ্রমিকদের ৩য় বড় গন্তব্যস্থল কাতার (১৮%)।
- কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে গন্তব্যের পরিমাণ ১%।

উৎস: BMET ওয়েবসাইট। [link]
.
কার সভাপতিত্বে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়?
  1. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. কাজী গোলাম মাহবুব
  3. অধ্যাপক আবুল কাসেম
  4. অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
• তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।
• ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি বিকেলে বার লাইব্রেরী হলে ঢাকার ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিবিদ ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক নিযুক্ত করে একটি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠন করা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়। এটিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি ভুট্টা উৎপাদিত হয়?
  1. রাজশাহী
  2. দিনাজপুর
  3. রংপুর
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
ভুট্টা:
- ভুট্টা (বৈজ্ঞানিক নাম: Zea mays) একপ্রকারের খাদ্য শস্য।
- ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশী।
- এতে প্রায় ১১% আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে।
- বেলে দোআশ ও দোআশ মাটি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী।

⇒ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুসারে, ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: দিনাজপুর।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
ii) কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।
.
বাংলাদেশের কোন ইপিজেডে সবচেয়ে বেশি উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. মোংলা
  4. আদমজী
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ):
- শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশ এর লক্ষ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ-বেপজা (Bangladesh Export Processing Zone Authority-BEPZA) দেশে ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণসহ দেশে শিল্প খাত বিকাশে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।
- বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৮টি সরকারি ইপিজেড রয়েছে।
- যথা: চট্টগ্রাম, ঢাকা, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, উত্তরা, আদমজী ও কর্ণফুলী ইপিজেড।
- বর্তমানে বেপজার অধীনস্থ অঞ্চলগুলোয় ৫৬৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। বাকি ১১৩টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

⇒ সবচেয়ে বেশি উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে চট্টগ্রাম ইপিজেডে।
- সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয় ও রপ্তানি আয় আসে চট্টগ্রাম ইপিজেড।
- দ্বিতীয়: ঢাকা ইপিজেড।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাধীন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড ) ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি বেড়েছে ১৬ শতাংশ, যা দেশের মোট পণ্য রপ্তানির ১৭ শতাংশ।
- বর্তমানে ইপিজেডে উৎপাদিত পণ্য ১২০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
- বেপজার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৭ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। 

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
.
সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল কোথায় শহিদ হন?
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জে
  2. ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়
  3. মৌলভীবাজারে
  4. রাঙামাটিতে
সঠিক উত্তর:
ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়
ব্যাখ্যা
সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় শহিদ হন।

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- ভোলা জেলায় দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল-এর জন্ম হয়।
- মোস্তফা কামাল ১৯৬৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন।
- প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে নিয়োগ করা হয় ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, কুমিল্লায়।

উল্লেখ্য,
- তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ কেরন।
- ১৯৭১ সালের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় মোতায়েন করে।
- মোস্তফা কামালের গুলিবর্ষণে পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রায় ২০-২৫ জন হতাহত হয় এবং তাদের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়ে।
- পাকিস্তানিরা মরিয়া হয়ে মোস্তফা কামালের অবস্থানের উপর মেশিনগান এবং মর্টারের গোলাবর্ষণ করতে থাকে।
- এক পর্যায়ে মোস্তফা কামালের এল.এম.জি-র গুলি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তিনি মারাত্বক জখম হন।
- তখন পাকিস্তানি সৈনিকরা ট্রেঞ্চে এসে তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।
- দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সমাহিত করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
ফসলের ক্ষেত্রে কোনটি 'হোয়াইট গোল্ড' হিসেবে পরিচিত?
  1. তুলা
  2. আখ
  3. পাট
  4. তামাক
সঠিক উত্তর:
তুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলা
ব্যাখ্যা
তুলা:
- বস্ত্র শিল্পের মূল ও প্রধান উপাদান তুলা।
- তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল এবং আন্তর্জাতিক শিল্প ফসল, যা বিশ্বব্যাপী ‘সাদা সোনা’ হিসেবে পরিচিত।
- বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি শিল্প বস্ত্রশিল্পের প্রধান কাঁচামাল তুলা।

⇒ বাংলাদেশে মূলত সমভূমি জাতের এবং সীমিত আকারে পাহাড়ী জাতের তুলার চাষ হয়ে থাকে। প্রধানত যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বন্যামুক্ত সমভূমিতে এবং বন্যামুক্ত চরাঞ্চলে তুলা চাষ হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে পাহাড়ি অঞ্চলের সমতল ভূমিতেও সমভূমির জাতের তুলা চাষ হচ্ছে। যেহেতু তুলা একটি খরা ও লবন সহনশীল ফসল, তাই কম বৃষ্টি প্রবণ রাজশাহী ও রংপুরের বরেন্দ্র অঞ্চলে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ত ভূমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সমভূমি অঞ্চলে তুলাচাষ নির্ভরই আমাদের বস্ত্র শিল্প।

⇒ তুলা থেকে আঁশ ছাড়াও ভোজ্য তেল, খৈল, জ্বালানি উপজাত হিসাবে পাওয়া যায়।
- খৈল গবাদি পশু ও মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- তুলা উৎপাদন, জিনিং, টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, ভোজ্য তেল এবং সাবান শিল্প ইত্যাদির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ লোকের জীবিকা নির্বাহ করে।
- তুলা বিশ্বের অন্যতম টেক্সটাইল তন্ত্র এবং তুলা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।
- বর্তমানে বস্ত্র এবং গার্মেন্টস খাত বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ বিদেশে চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তাই চিংড়িকে ‘সাদা সোনা’ বা ‘হোয়াইট গোল্ড’ বলা হয়।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।
১০.
অর্থনীতিতে বাফার স্টক বলতে কী বোঝায়?
  1. বাজার স্থিতিশীলতার জন্য রিজার্ভ পরিমাণ পণ্য
  2. কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল
  3. শুধুমাত্র রপ্তানির জন্য সংরক্ষিত পণ্য
  4. পণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য সংরক্ষিত মজুত
সঠিক উত্তর:
বাজার স্থিতিশীলতার জন্য রিজার্ভ পরিমাণ পণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাজার স্থিতিশীলতার জন্য রিজার্ভ পরিমাণ পণ্য
ব্যাখ্যা
বাফার স্টক:
- বাজার স্থিতিশীল করার জন্য পণ্যদ্রব্য বা সংরক্ষণ করে রাখার কৌশলকে বলা হয় বাফার স্টক।
- অর্থনীতিতে যখন রাজস্ব ঘাটতি থাকে না, অর্থাৎ রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকে, তখন পণ্যদ্রব্য কেনা হয়। অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে এই পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে ফেলা হয়। এটাই হলো বাফার স্টক।

⇒ বাফার স্টক (Buffer Stock) হলো একটি অতিরিক্ত বা রিজার্ভ পরিমাণ পণ্য, যা একটি প্রতিষ্ঠানের বা সরকারের কাছে থাকে, যাতে জরুরি বা চাহিদা বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।
- এটি একটি "নিরাপত্তা মজুত" হিসেবে কাজ করে, যা পণ্যের দাম ওঠানামা বা সরবরাহে সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- কৃষি পণ্যের উৎপাদন মৌসুমের বাইরের সময়ে বা বন্যা, খরা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি সরবরাহ কমে যায়, তবে সরকার বাফার স্টক থেকে সেই পণ্যগুলি বাজারে সরবরাহ করতে পারে।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য বিদেশী মুদ্রার বাফার স্টক রাখতে পারে।
- এটি মূলত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: Economics Help.
১১.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এ কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেননি?
  1. জন লেনন
  2. লিওন রাসেল
  3. বিলি প্রেস্টন
  4. রিঙ্গো স্টার
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উল্লেখ্য,
- ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শুরু হয়েছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করের একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে।
- এ কনসার্টের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন ‘বাংলাদেশ ধুন’ বলে নতুন একটি সুর।
- আর তাঁর সঙ্গে সরোদে যুগলবন্দী ছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খান।
- তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন বিখ্যাত আল্লারাখা।
- তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিবাদী গানের রাজা বব ডিলান।
- সেদিন বব ডিলানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন, ব্যাস লিওন রাসেল ও ট্যাম্বুরিন রিঙ্গো স্টার।
- সে অনুষ্ঠানে বিটলসের অন্যতম সদস্য রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, ডন প্রেস্টন প্রমুখ গান গেয়েছেন, গিটার বাজিয়েছেন।

এছাড়াও,
- জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC।
১২.
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো GDP পরিমাপের জন্য অর্থনীতিকে মোট কয়টি প্রধান খাতে বিভক্ত করেছে?
  1. ১৫টি
  2. ১৮টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
সঠিক উত্তর:
১৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে জাতীয় আয় পরিমাপ পদ্ধতি:
- বাংলাদেশে জাতীয় আয় গণনার কাজটি করে থাকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। এই প্রতিষ্ঠান প্রত্যেক বছর চলতি বাজার মূল্যে ও স্থির মূল্যে দ্রব্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করে থাকে। এ হিসাব করার জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো GDP ও GNI গণনা করার জন্য উৎপাদন ও ব্যয় পদ্ধতি ব্যবহার করে।

⇒ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) উৎপাদন পদ্ধতিতে GDP পরিমাপের জন্য অর্থনীতিকে মোট ১৯টি প্রধান খাতে বিভক্ত করেছে। খাতসমূহ হচ্ছে:
১। কৃষি ও বনজ এবং মৎস্য সম্পদ (উপখাত - ৪টি)।
২। খনিজ ও খনন (গ্যাস, তেল ইত্যাদি) (উপখাত - ২টি)।
৩। ম্যানুফ্যাকচারিং (উপখাত - ৩টি)।
৪। বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাষ্প এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (উপখাত - ২টি)।
৫। পানি সরবরাহ, পয়নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুর্নব্যবহার কার্যক্রম।
৬। নির্মাণ।
৭। পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, যানবাহন ও মোটরসাইকেল মেরামত।
৮। পরিবহণ এবং সংরক্ষণ (উপখাত - ৫টি)।
৯। আবাসন এবং খাদ্য পরিবেশন কার্যক্রম।
১০। তথ্য ও যোগাযোগ।
১১। আর্থিক এবং বীমা কার্যক্রম (উপখাত-৩টি)।
১২। রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম।
১৩। পেশাদার, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রম।
১৪। প্রশাসনিক ও সহায়তামূক পরিষেবা কার্যক্রম।
১৫। জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা।
১৬। শিক্ষা।
১৭। মানবস্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কার্যক্রম।
১৮। শিল্পকলা ও বিনোদন।
১৯। অন্যান্য সেবা কার্যক্রম।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ওয়েবসাইট।
১৩.
পায়রা সমুদ্র বন্দর কোন চ্যানেলে অবস্থিত?
  1. গাবখান চ্যানেল
  2. রামনাবাদ চ্যানেল
  3. কর্ণফুলী চ্যানেল
  4. পশুর চ্যানেল
সঠিক উত্তর:
রামনাবাদ চ্যানেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনাবাদ চ্যানেল
ব্যাখ্যা
পায়রা সমুদ্র বন্দর:
- বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর ‘পায়রা বন্দর'।
- পায়রা সমুদ্র বন্দর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেল সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর পাড়ের টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়ায় অবস্থিত।

⇒ ‘পায়রা বন্দর' পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, বালিয়াতলী, ধূলাসার, ধানখালী ও টিয়াখালী ইউনিয়নের অনত্মর্গত রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
- শিপিং-বান্ধব বিস্মীর্ণ এলাকা হিসেবে এটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য প্রাকৃতিকভাবেই উপযুক্ত একটি অঞ্চল।
- ১৩ আগস্ট, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
- এ উদ্বোধনের দ্বারা বাংলাদেশের আমদানি- রপ্তানি বাণিজ্য তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নে নতুন মাইল ফলক রচিত হবে বলে আশা করা যায়।
- ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
- এটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রামনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত।

উৎস: পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
১৪.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের ‘জাতীয় জরুরি সেবা' প্রদান করে থাকে?
  1. ৩৩৩
  2. ৯৯৯
  3. ১০৩
  4. ২২২
সঠিক উত্তর:
৯৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৯৯
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সেবায় হেল্পলাইন:
- ৯৯৯: বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস। দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের জরুরি সেবা প্রদানের উদ্দেশ্য ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর এই সেবা চালু হয়। যেকোনো বিপদে পড়লে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে দ্রুত সেবা পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
- ১০৬: দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার।
- ১৬৪৩০: সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার।
- ১৬১২৩: কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন।
- ১০৯: নারী ও শিশু নির্যাতন অথবা পাচারের ঘটনা প্রতিরোধে কল সেন্টার
- ১০৯৮: শিশু সহায়তামুলক কল সেন্টার।
- ৩৩৩: জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার।
- ১৬২৬৩: বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য কল সেন্টার।
- ১৬১০৮: মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার।
- ১৬২৫৬: আপনার ইউনিয়নের সকল তথ্য জানতে কল করুন ইউনিয়ন সহায়তামুলক কল সেন্টারে।
- ১৩১: বাংলাদেশ রেলওয়ে কল সেন্টার।
- ১০৫: জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য কল সেন্টার।
- ১০০: বিটিআরসি কল সেন্টার।
- ১৬৪২০: বিটিসিএল কল সেন্টার।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৫.
যমুনা রেলওয়ে সেতুতে কোন ধরনের রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে?
  1. সিঙ্গেল গেজ সিঙ্গেল ট্র্যাক
  2. ডুয়েল গেজ সিঙ্গেল ট্র্যাক
  3. ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাক
  4. ব্রড গেজ সিঙ্গেল ট্র্যাক
সঠিক উত্তর:
ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাক
ব্যাখ্যা
যমুনা রেলসেতু:
- যমুনা সেতু দেশের দীর্ঘতম রেলসেতু।
- সেতুটি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে।
- সেতুর দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার।
- সেতুর মোট স্প্যান ৪৯টি।
- সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৫০টি।
- সেতুটিতে ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
- সেতুর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
- ১৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে যমুনা সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

⇒ যমুনা রেলসেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা)।
- দেশের সর্ববৃহৎ এ রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে জাপানি কোম্পানি ওটিজি ও আইএইচআই জয়েন্টভেঞ্চার।
- জাপানি ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশাল এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের রেলপথ দুই ধরনের: মিটারগেজ ও ব্রডগেজ।
- মিটারগেজ এক মিটার তথা ৩৯.৩৭ ইঞ্চি প্রশস্ত।
- ব্রডগেজ ৬৫.৯৮ ইঞ্চি প্রশস্ত।
- ডুয়েলগেজে তিনটি রেল (রেলের পাত বা ট্র্যাক) থাকে, যাতে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ– উভয় ট্রেন চলতে পারে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) সেতু বিভাগ ওয়েবসাইট।
১৬.
প্রথমবারের মতো ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ সোলার প্যানেল কোন দেশে রপ্তানি হয়েছে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. জাপান
  3. জার্মানি
  4. ফ্রান্স 
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ সোলার প্যানেল:
- প্রথমবারের মতো ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ সোলার প্যানেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে। 

⇒ ২০২৫ সালের ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্লিনগ্রিড ইনকরপোরেশনের কাছে প্রথম চালানটি পাঠানো হয়।
- দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী ইস্ট কোস্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেডিয়েন্ট অ্যালায়েন্স যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো সোলার (সৌর) পিভি মডিউল রপ্তানির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ চেইনে যুক্ত করল।
- ২১৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চার বছর মেয়াদি এ রপ্তানি চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত মোট ৬৪ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট সোলার মডিউল সরবরাহ করবে। এর মধ্যে ২০২৫ সালেই ১২ দশমিক ৪০ মেগাওয়াট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
- আশুলিয়ার সাভারে অবস্থিত রেডিয়েন্ট অ্যালায়েন্সের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কারখানায় ১০০ ও ২০০ ওয়াট ক্ষমতার সোলার মডিউল উৎপাদিত হচ্ছে। বছরে ৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এ কারখানাটি দেশের অন্যতম আধুনিক উৎপাদন প্ল্যান্ট।

উৎস: The Business Standard.
১৭.
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট আবাদী জমির পরিমাণ -
  1. ৮০.২৮ লক্ষ হেক্টর
  2. ৮০.৮২ লক্ষ হেক্টর
  3. ৮২.৪৯ লক্ষ হেক্টর
  4. ৮২.৯৪ লক্ষ হেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮০.২৮ লক্ষ হেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮০.২৮ লক্ষ হেক্টর
ব্যাখ্যা
এক নজরে কৃষি পরিসংখ্যান:
- মোট আবাদযোগ্য জমি (Gross Cropped Area): ৩,৯২,৯৬,০০০ একর (১,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর)।
- মোট আবাদী জমি (Net Cropped Area): ১,৯৮,২৯,০০০ একর (৮০,২৮,০০০ হেক্টর)।
- এক ফসলি জমি: ৫০,৪৯,০০০ একর (২০,৪৪,০০০ হেক্টর)।
- দুই ফসলি জমি: ১,০১,৪০,০০০ একর (৪১,০৫,০০০ হেক্টর)।
- তিন ফসলি জমি: ৪৫,৯৩,০০০ একর (১৮,৫৯,০০০ হেক্টর)।
- চার ফসলি জমি: ৪৭,০০০ একর (১৯,০০০ হেক্টর)।
- আবাদযোগ্য নয় এমন জমির পরিমাণ: ৮৩, ৫৮,০০০ একর।
- বনাবচল: ৬৩,৬৩,০০০ একর।
- মোট জমির পরিমাণ: ৩,৬৪,৬৫,০০০ একর।
- মোট খাদ্যশস্য: ৪,৪৮,২৯,০০০ মেট্রিক টন।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।
১৮.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কত তারিখে গৃহীত হয়?
  1. ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ২১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  3. ২ মার্চ, ১৯৭২
  4. ৭ মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- আয়তাকার এই পতাকার অনুপাত হচ্ছে অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- সংবিধানের ৪নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।

⇒ ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পতাকা উত্তোলন করেন সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।

উল্লেখ্য
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।

উৎস: i) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
ii) ২ মার্চ, ২০২২, প্রথম আলো।
১৯.
বাংলাদেশে সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয় কত সালে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০২১ সালে
  4. ২০২২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
কৃষি শুমারি:
- বাংলাদেশে সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে।
- কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরণ, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

⇒ এদেশে ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মত নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,
- কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় ৩টি। যথা: শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ।
- ২০০৮ সালে সমগ্র দেশে শহর ও পল্লি এলাকায় সকল সাধারণ খানায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ৪র্থ কৃষি শুমারি পরিচালনা করা হয়।
- এটিই দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষি শুমারি।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
ii) BBS ওয়েবসাইট।
২০.
পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট কে মনোনীত হয়েছিলেন?
  1. ইয়াহিয়া খান 
  2. আইয়ুব খান 
  3. ইস্কান্দার মির্জা 
  4. মালিক ফিরোজ খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা 
ব্যাখ্যা
পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।

⇒ ইস্কান্দার মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২১ দিনের মাথায় ২৭ অক্টোবর, ১৯৫৬ আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা পাকাপাকি করার জন্য ১৩ জন জেনারেলকে বরখাস্ত করেন এবং নিজেকে ভূষিত করেন ফিল্ড মার্শাল উপাধিতে।
- তা ছাড়া রাজধানী করাচি থেকে প্রথমে স্থানাস্তর করেন রাওয়ালপিন্ডিতে, পরে ইসলামাবাদে।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২১.
বাংলাদেশের সর্বাধিক শিল্পজাত আমদানি পণ্য কোনটি?
  1. পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী
  2. তুলা
  3. সার
  4. সুতা
সঠিক উত্তর:
পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী
ব্যাখ্যা
ক) প্রধান প্রাথমিক পণ্য:
১. তুলা: ২,২৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২. গম: ১,১৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. তৈলবীজ: ৭২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম: ৬৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৫. চাল: ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

খ) প্রধান শিল্পজাত পণ্যসমূহ
১. পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী: ৩,২৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২. সার: ২,০৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. সুতা: ২,০৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. ভোজ্যতৈল: ১,৪১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৫. স্টেপল ফাইবার: ৯৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৬. ক্লিংকার: ৬২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- একক পণ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়: তুলা।
- শিল্পজাত পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়: পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী।
- প্রাথমিক পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়: তুলা।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
২২.
কোন ফসল পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে?
  1. চিভ
  2. পেঁপে
  3. ক্যাপসিকাম
  4. চুইঝাল
সঠিক উত্তর:
চিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিভ
ব্যাখ্যা
চিভ:
- চিভ (Allium tuberosum) একটি বহুবর্ষজীবী মসলা ফসল।
- এর পাতা লিনিয়ার আকৃতির, ফ্ল্যাট, পাতার কিনারা মসৃণ, বাল্ব লম্বা আকৃতির।
- এর ফুলের রঙ সাদা-পার্পল বর্ণের। 
- এর উৎপত্তিস্থল সাইবেরিয়ান-মঙ্গোলিয়ান-নর্থ চাইনা অঞ্চল।

⇒ আমাদের দেশে এটি পেঁয়াজ ও রসুনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি মসলা ফসল হিসেবে স্যুপ ও সালাত তৈরিসহ বিভিন্ন চাইনিজ ডিসে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা, কন্দ ও অপরিপক্ব ফুল সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি হজমে সাহায্য করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধী গুণাগুণ বিদ্যমান। আন্তঃফসল হিসেবে চাষ করার মাধ্যমে এটি কলার পানামা রোগ নিয়ন্ত্রণ সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও খনিজ পদার্থ বিদ্যমান। তুলনামূলকভাবে সিলেট অঞ্চলে এর চাষাবাদ বেশি হয়ে থাকে।চিভ পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব এবং এটি সারা বছর চাষ করা যায়।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)। 
২৩.
টঙ্ক আন্দোলন প্রধানত কোন গোষ্ঠীর কৃষকরা পরিচালনা করেছিল?
  1. ত্রিপুরা ও মারমা
  2. চাকমা ও মারমা
  3. গারো ও হাজং
  4. মণিপুরী ও সাঁওতাল
সঠিক উত্তর:
গারো ও হাজং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো ও হাজং
ব্যাখ্যা
টঙ্ক (Tonk) আন্দোলন:
- ১৯৪৬-৫০ সালে উত্তর ময়মনসিংহে কৃষকদের দ্বারা পরিচালিত আন্দোলন টঙ্ক আন্দোলন নামে পরিচিত।
- টঙ্ক মানে ধান ফলনের প্রতিশ্রুত খাজনা। স্থানীয় ভাষায় টংক শব্দটি 'জমিতে উৎপাদিত ফলনের প্রদেয় খাজনাকে' বুঝায়।
- টঙ্ক মূলত মুদ্রা-পূর্বকালের প্রথা। কৃষকরা ধানে তাদের খাজনা পরিশোধ করত। জমিতে ফসল হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান খাজনা দিতেই হবে।
- প্রথাগতভাবে টংক প্রজারা প্রতি ১.২৫ একর জমির জন্য ১০ থেকে ১৫ মণ ধান খাজনা দিত। ধানের দর ছিল প্রতি মণ সোয়া দুই টাকা। ফলে প্রতি সোয়া একরে খাজনা পড়ত ১৭ টাকা। অথচ একই সময় জোতজমির খাজনা ছিল প্রতি সোয়া একরে ৫ থেকে ৭ টাকা। সুতরাং ধানে খাজনা দিলে টাকার হিসাবে এটি দ্বিগুণেরও বেশি ছিল।
- ময়মনসিংহের কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, হালুয়াঘাট, শ্রীবর্দি ইত্যাদি থানায় বিশেষ করে সুসং এলাকায় ভয়ংকর টংক ব্যবস্থা ছিল। এসব স্থানে প্রধানত গারো ও হাজং গোষ্ঠীর লোকেরা চাষাবাদ করত।
- এই প্রথা কৃষকদের উপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করত এবং তাদের শোষণ করত।

⇒ তৎকালীন উত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং ১৯৫০ সালে টঙ্ক প্রথা ও জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সমাপ্তি হয়। তেভাগা, নানকার, নাচোল আন্দোলনের মতো এটিও ছিলো কৃষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

উল্লেখ্য,
- টঙ্ক আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন সুসং-দুর্গাপুরের জমিদার সন্তান কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মণি সিংহ। টঙ্ক আন্দোলনে যে সকল লড়াকু বীর শহীদ হন, তাদের মধ্যে রাসমণি অন্যতম। তিনিই টঙ্ক আন্দোলনের প্রথম শহিদ। তিনি টঙ্ক ও কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রীও ছিলেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৪.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কত তারিখে আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ১৫ জুলাই, ২০২৪
  2. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  3. ১৭ জুলাই, ২০২৪
  4. ১৮ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা
শহীদ আবু সাঈদ:
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।
২৫.
বাংলাদেশের কোথায় প্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়েছে?
  1. সিলেটে
  2. মৌলভীবাজারে
  3. পঞ্চগড়ে
  4. চট্টগ্রামে
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়ে
ব্যাখ্যা
অর্গানিক চা:
- অর্গানিক বা ভেষজ চা হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কোনোরকম ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কৃত্রিম উপাদান ছাড়া উৎপাদন প্রক্রিয়া।
- অর্গানিক চা চাষে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলাদেশে পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়ায় সর্বপ্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়।
- ২০০০ সালে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে চায়ের আবাদ শুরু হয়।
- উৎপাদন শুরু হয় ২০০৪ সালে।
- বর্তমানে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলায় ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে অর্গানিক চায়ের চাষ হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- জৈব চাষের প্রথাগত নিয়ম মেনেই তৈরি হয় অর্গ্যানিক চা।
- এক্ষেত্রে চা পাতায় কোনও রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না।
- সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই চাষ করা হয় এই চা।
- এই ধরনের চা পাতার গন্ধ ও গুণ আলাদা হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন
২৬.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৫০ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
'রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (The State Acquisition and Tenancy Act, 1950):
- 'রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (১৯৫১ সনের ২৮নং আইন' যা ১৯৫০ সালে প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনে পূর্ববাংলায় জমিতে খাজনা সংগ্রাহক ও অন্যান্য স্বার্থধারীদের তালুক অধিগ্রহণের বিধান, তালুকে প্রজাদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত আরও অন্যান্য বিষয়ের আইনগত সম্পর্ক সংজ্ঞায়িত করার বিধান রয়েছে।
- আইনটি পাশের আগে এদেশের কৃষিসংক্রান্ত আইন বলতে প্রধানত ছিল ১৭৯৩ সালের বঙ্গীয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবিধান ও বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫।
- দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল প্রণয়ন করে ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ তা প্রকাশ করা হয়।
- তারপর এই বিলটিকে আইন পরিষদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি পাস হওয়ার পর ১৬ মে ১৯৫১ সালে বিলে প্রয়োজনীয় অনুমোদনমূলক সম্মতি পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- এই আইনের ৩ নং ধারা বলবৎ হওয়ায় জমির সকল মালিক সরকারের প্রত্যক্ষ প্রজায় পরিণত হয়।
- এই আইনবলে সরকার হাটবাজার, ফেরি ও মাছ উৎপাদনমূলক জলভাগের মালিক ও ব্যবস্থাপক হয়।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত।

উৎস: ভূমি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২৭.
জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল কোথায় অবস্থিত?
  1. লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ
  2. মিরসরাই, চট্টগ্রাম
  3. সাভার, ঢাকা
  4. আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
Special Economic Zone (SEZ):
- একটি দেশের নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত সেই সকল অঞ্চল যেগুলি দেশের আন্যান্য অঞ্চলের তুলজ অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারী নীতি নিয়মের ব্যাপারে অধিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করে তাদের SEZ বলে। উদ্দেশ্য:
(i) দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা,
(ii) রপ্তানী বৃদ্ধি করা,
(iii) সরকারী নিয়মনীতির জটিলত নেই বলে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ বোধ করা।
(iv) উৎপাদনমূলক ও পরিষেবামূলক শিল্পে সুলঙ্গে আন্তর্জাতিক গুণমানের পণ্য উৎপাদন করা।
(v) সহজে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা ও দেশের অর্থনৈতি উন্নতি তরান্বিত করা।

⇒ বাংলাদেশের প্রথম স্পেশাল ইকোনমিক জোন বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হলো জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
- এটি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে।

উৎস: BSEZ ওয়েবসাইট।
২৮.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমদ্দুন মজলিশ' কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
  2. ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
  3. ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
  4. ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

⇒ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস"।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর নতুন বাস্তবতায় তমদ্দুন মজলিস কেবল বাংলা ভাষায়ই নয়, বরং একটা সার্বিক জীবন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ভাষায় একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছিলো।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বেই ১৯৪৭ সালের পহেলা অক্টোবর প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের দোসরা মার্চ তমদ্দুন মজলিশসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যৌথসভায় শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ' নামে নতুন কমিটি হয়েছিলো।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড) অনুসারে, ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাপিডিয়ার সূত্র অনুসারে, তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র এই বিষয়ে অন্য যেকোনো রেফারেন্স থেকে অগ্রগণ্য হবে। অপশনে ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ না থাকলে ১ সেপ্টেম্বর উত্তর হবে।

[বিস্তারিত তথ্যকল্পদ্রুম-7]

উৎস: i) ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
iii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা- ৪৯।
২৯.
আনন্দবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. রাজা আনন্দদেব
  2. রাজা কুমারগুপ্ত
  3. রাজা ধর্মপাল
  4. রাজা ভবদেব
সঠিক উত্তর:
রাজা ভবদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা ভবদেব
ব্যাখ্যা
আনন্দবিহার:
- আনন্দবিহার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে সমৃদ্ধ কুমিল্লার নিকটবর্তী কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
- এ বিহার ময়নামতিতে আবিষ্কৃত সৌধমালার মধ্যে সর্ববৃহৎ।
- এ এলাকার সর্ববৃহৎ পুষ্করিণীসহ আনন্দবিহার কমপ্লেক্সটি সাত শতকের শেষ বা আট শতকের প্রথম দিকের কোনো এক সময়ে প্রথম দেববংশের তৃতীয় শাসক শ্রী আনন্দ দেব কর্তৃক নির্মিত হয়।

⇒ দেববংশীর রাজা ভবদেব এই বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঐ সময় বিহারটি এশিয়ার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিগণিত হয়।
- সেই সময় একে বিশ্বিবদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- তার প্রমাণ হলো, বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং আনন্দ বিহারে আসেন এবং তিনি এখানে প্রায় ৪০০০ ভিক্ষু ও ময়নামতি অঞ্চলে ৩৫টি শিক্ষাকেন্দ্র দেখতে পান।
- যার কারণে তিনি কুমিল্লাবাসীকে প্রবল শিক্ষানুরাগী বলে আখ্যায়িত করেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ভারতের নালন্দের পর এশিয়ার দি¦তীয় বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্র ছিলো লালমাই-ময়নামতি অঞ্চল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩০.
পুণ্ড্র জনপদের বর্তমান অবস্থান কোনটি?
  1. ওয়ারী-বটেশ্বর
  2. ময়নামতি
  3. মহাস্থানগড়
  4. সোমপুর বিহার
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ। প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

⇒ মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল। ১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান। ২০১৬ সালে এটিকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।
৩১.
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, কত ইঞ্চির ছোট কার্প জাতীয় মাছের রেণু ও পোনা আহরণ নিষিদ্ধ?
  1. ৮ ইঞ্চি
  2. ৯ ইঞ্চি
  3. ২৩ ইঞ্চি
  4. ২৫ ইঞ্চি
সঠিক উত্তর:
৯ ইঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ ইঞ্চি
ব্যাখ্যা
মৎস্য আইন:
- The Protection and Conservation of Fish Act, 1950; সাধারণভাবে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ নামে পরিচিত।
- নির্বিচারে পোনা মাছ ও প্রজননক্ষম মাছ নিধন সমস্যা দূরীকরণে সরকার মাছের আকার, প্রজনন ও বৃদ্ধির সময়, বিচরণক্ষেত্র ইত্যাদি বিষয়ে কতিপয় বিধি নিষেধ আরোপ করে ১৯৫০ সলে এ আইন প্রণয়ন করে।
- পরবর্তীতে বাস্তব প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে আইনটি উলেস্নখযোগ্য সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করা হয়।

⇒ এই আইন অনুসারে,
- প্রতি বছর জুলাই হতে ডিসেম্বর মাস পর্যমত্ম ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) ছোট আকারের কাতলা, রুই, মৃগেল, কালিবাউস ,ঘনিয়া;
- প্রতি বছর নভেম্বর হতে মে মাস পর্যন্ত ২৫ সেন্টিমিটারের (১০ ইঞ্চি) ছোট আকারের ইলিশ (যা জাটকা নামে পরিচিত);
- প্রতি বছর নভেম্বর হতে এপ্রিল মাস পর্যমত্ম ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) ছোট আকারের পাংগাস;
- প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী হতে জুন মাস পর্যন্ত ৩০ সেন্টিমিটারের ( ১২ ইঞ্চি) ছোট আকারের আকারের সিলন, বোল ও আইড় মাছ ধরা, নিজের দখলে রাখা, পরিবহন বা বিক্রয় করা নিষিদ্ধ।
- বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে মাছ মারা যাবে না । অভ্যন্তরীণ জলাভূমিতে বিষ প্রয়োগ , পরিবেশ দূষণ , বাণিজ্যিক বর্জ্য বা অন্যবিধ উপায়ে মাছ ধংসের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।
- মাছ ধরার ক্ষেত্রে ৪.৫ সেন্টিমিটার বা তদপেক্ষা কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যের ফাঁস বিশিষ্ট ফাঁসজাল এর ব্যবহার নিষিদ্ধ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর।
৩২.
ওয়েজ আর্নার্স স্কিম কত সালে প্রবর্তিত হয়?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
ওয়েজ আর্নার্স স্কিম:
- ওয়েজ আর্নার্স স্কিম ১৯৭৪ সালে প্রবর্তিত হয়।
- বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্জিত আয় সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রেরণে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে স্কিমটি চালু করা হয়।
- এ সময় বৈদেশিক মুদ্রা মজুত থাকার কারণে আমদানিকারকদের অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রার ছাড় হ্রাস পায়, যার ফলে স্কিমটি কার্যকারিতা অর্জন করে।
-  বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমজীবীদের প্রেরিত অর্থ খোলাবাজার বিনিময় হারের কাছাকাছি হারে বিনিময়ের লক্ষ্যে স্কিমটি চালু করা হয়।

⇒ প্রবাসী কর্মীদের অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের এবং দেশে বিদেশে কর্মীদের পরিবার পরিজনকে সাহায্য সহযোগিতা কিংবা উদ্ভূত সমস্যার সমাধান কল্পে তথা সার্বিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার Emigration Ordinance-1982 এর ১৯(১) ধারার ক্ষমতাবলে ১৯৯০ সালে “ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল” গঠন করে।
- “ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন,২০১৮” এর মাধ্যমে “ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড” একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড ওয়েবসাইট।
৩৩.
দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত ছিল কোন জনপদ?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. তাম্রলিপ্ত
সঠিক উত্তর:
তাম্রলিপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা
তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।

⇒ সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড কোথায় অবস্থিত?
  1. ময়মনসিংহ
  2. খুলনা
  3. ঢাকা
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড:
- বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা।
- এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে অবস্থিত।

⇒ প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রেশম বোর্ড গঠিত হয়।
- আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন ও আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোই ছিল এ সংস্থার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালের পর পূর্ব পাকিস্থানে রেশম কার্যক্রম শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগের অধীনে ন্যাস্ত ছিল। ১৯৬১-৬২ সাল থেকে ১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত রেশম কার্যক্রম ইপসিক এর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৯৭ সালে কোম্পানি আইনে বাংলাদেশ সিল্ক ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটকে রেশম বোর্ডের আওতামুক্ত করে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ন্যাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে রেশম শিল্পের সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশ সিল্ক ফাউন্ডেশন ৩টি পৃথক সংস্থা একীভূত করে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী। রেশম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছেন সংস্থার মহাপরিচালক।

⇒ বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট ৪টি বিভাগ রয়েছে; যথা: (১) প্রশাসন ও সংস্থাপন বিভাগ, (২) অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগ, (৩) সম্প্রসারণ ও প্রেষণা বিভাগ এবং (৪) উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিভাগ।
- এ ছাড়াও গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটসহ এমআইএস সেল, নিরীক্ষা শাখা, জনসংযোগ শাখা সরাসরি মহাপরিচালকের অধীনে ন্যাস্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নুতন অর্গানোগ্রাম প্রণয়নের বিষয়টি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড ওয়েবসাইট।
৩৫.
মধ্যম মেয়াদী পরিকল্পনার মেয়াদ সর্বোচ্চ কত বছর?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
সঠিক উত্তর:
৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ বছর
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনার ধারণা:
- পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অগ্রিম সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি প্রক্রিয়া।
- পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার প্রথম ও প্রধান ধাপ।
- পূর্ব এবং বর্তমান অভিজ্ঞতা, পরিসংখ্যানিক তথ্যাদি এবং যুক্তিসঙ্গত কারণের উপর ভিত্তি করেই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।

⇒ মেয়াদভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ (Classification on the basis of time):
১. স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা (Short-term plan): এ ধরনের পরিকল্পনা সাধারণত ১ বছর মেয়াদি বা আরও কম মেয়াদি হয়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা দুই প্রকারের হয়; যথা-এ্যাকশন প্লান ও রি-এ্যাকশন প্লান।
২. মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা (Medium-term plan): মধ্যম মেয়াদের পরিকল্পনা সাধারণত ১ বছর থেকে ৫ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে। মধ্যম ও প্রথম স্তরের ব্যবস্থাপকদের জন্য এরূপ পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৩. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা (Long-term plan): এ ধরনের পরিকল্পনা সাধারণত ৫ বছরের বেশী সময়ের জন্য হয়ে থাকে। কোন কোন কোম্পানী ১৫/২০ বছরের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করে থাকে।

উৎস: ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের মাধ্যমে কয়টি স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় প্রায় ৪ শতকের শুরুতে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথম গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মগধ বা বরেন্দ্রের অধিপতি ছিলেন গুপ্তদের আদিপুরুষ শ্রীগুপ্ত।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একে একে সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য, ১ম কুমারগুপ্ত মহেন্দ্রাদিত্য, স্কন্ধগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের প্রবল পরাক্রান্ত শাসন লক্ষ করা যায়।
- তবে পরবর্তীকালের গুপ্ত শাসকগণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিলেন।
- তারপর হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

⇒ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
কল মানি মার্কেট বলতে কী বোঝায়?
  1. শেয়ার বাজার লেনদেন
  2. বাণিজ্যিক ঋণ বাজার
  3. আন্তঃব্যাংক ঋণ প্রদান এবং গ্রহণ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আন্তঃব্যাংক ঋণ প্রদান এবং গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্তঃব্যাংক ঋণ প্রদান এবং গ্রহণ
ব্যাখ্যা
Call Money:
- Call money Market বলতে বোঝায় Interbank money market transactions.
- ‘কলমানি’ বলতে বোঝায় আন্তঃব্যাংক ঋণ প্রদান এবং গ্রহণকে।
- অর্থাৎ স্বল্প সময়ের জন্য এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে চাহিবামাত্র পরিশোধ করার শর্তসাপেক্ষে যে ঋণ গ্রহণ করে তাই কলমানি।
- এটা এক দিনের জন্যও হতে পারে, এর বেশি দিনের জন্যও হতে পারে।
- এখানে রেট বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো, ব্যাংকগুলো আরও বেশি সুদে ডিপোজিট সংগ্রহের দিকে ঝুঁকবে।

উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
৩৮.
'বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. মুন্সীগঞ্জ
  2. গাজীপুর
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
গাজীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজীপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী:
- বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি গাজীপুরে অবস্থিত।
- এটি একটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যধর্মী প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক যন্ত্রাংশ তৈরি ও যুক্তকরণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৯.
নিম্নের কোনটি নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন করে?
  1. কেন্দ্রীয় ব্যাংক
  2. কৃ্ষি ব্যাংক
  3. বিশেষায়িত ব্যাংক
  4. ইপিজেড
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যাখ্যা
নিকাশ ঘর:
- নিকাশ এমন একটি প্রক্রিয়া যাহার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে দেনা পাওনা অতি সহজেই নিষ্পত্তি করা যায়।
- এই প্রক্রিয়াটি সমাধা করার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিগণ নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সমবেত হয়ে নেতা ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একে অন্যের উপর আদিষ্ট চেক, ড্রাফট ইত্যাদি দলিলসমূহ বিনিময় করেন।
-  ব্যাংক ব্যবস্থার সূচনা হতেই বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে সহজে দেনা পাওনা নিষ্পত্তির জন্য কোন প্রকার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু ছিল না।
- ১৯৩৫ সালে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্ব পর্যন্ত পাক-বাংলা-ভারত-উপমহাদেশে ইম্পোরিয়াল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে বিকাশ কার্য পরিচালিত হত।
- নিকাশ ঘরে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিগণ মিলিত হয় এবং সকলে সেখানে আসার সময় অন্য ব্যাংকের নামে কাটা চেকসমূহ সাথে করে নিয়ে আসে।
- নিকাশ-ঘরে একত্রিত হওয়ার পর তারা চেক বিনিময় করে।

⇒ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিকাশ ব্যবস্থার দায়িত্ব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'বাংলাদেশ ব্যাংক' গ্রহণ করে।
- যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের হয়ে নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন করে।
- বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৬টি জেলা শহরে নিকাশ ঘর ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।
- এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি ৪টি কেন্দ্র এবং সোনালী ব্যাংক ১২টি কেন্দ্র পরিচালনা করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন কে?
  1. ড. মোবারক আহমেদ খান
  2. ড. মাকসুদুল আলম
  3. ড .জাহিদ ফারুক
  4. ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ড. মোবারক আহমেদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মোবারক আহমেদ খান
ব্যাখ্যা
জুটিন:
- পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন ড. মোবারক আহমেদ খান।
- পাট (Jute) দিয়ে তৈরী বলে এ টিনের নাম জুটিন (Jutin).
- তাঁর অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনালি ব্যাগ, হেলমেট ও টাইলস।
- তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে।

⇒ জুটন:
- জুটন হচ্ছে পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র।
- এর আবিষ্কারক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ।
- এখানে পাট ও সুতার অনুপাত ৭০ : ৩০।
- এ প্রক্রিয়ায় তুলার আঁশের তৈরি বস্ত্রের বিকল্প হিসেবে এক ধরনের নতুন বস্ত্র উদ্ভাবনের জন্য পাট ও তুলার আঁশ নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশানো হয়।

উৎস: i) বাংলা পিডিয়া।
ii) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৪১.
বাংলাদেশের সর্বশেষ উপকূলীয় নদীবন্দর কোনটি? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. মোংলা
  2. সন্ধীপ
  3. হাতিয়া
  4. ভোলাগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
হাতিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতিয়া
ব্যাখ্যা
দেশের উপকূলীয় নদীবন্দর:
- দেশের প্রথম উপকূলীয় নদীবন্দর হলো সন্দ্বীপ। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপকে দেশের প্রথম উপকূলীয় নদীবন্দর ঘোষণা করেছে সরকার।
- দেশের সর্বশেষ উপকূলীয় নদীবন্দর হলো হাতিয়া। নোয়াখালীর হাতিয়াকে দেশের ২য় উপকূলীয় নদীবন্দর ঘোষণা করেছে সরকার।

⇒ ৩ জুন ২০২৫ তারিখে বিষয়টি নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে একটি সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
- এই গেজেট অনুযায়ী, হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের চানন্দি চ্যানেলের একটি নির্দিষ্ট অংশকে নদী বন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বন্দর সংক্রান্ত ১৯০৮ সালের একটি আইনের আওতায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ওয়েবসাইট।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।
৪২.
'রূপালী' ও ‘ডেলফোজ' কী?
  1. উন্নত জাতের তুলা
  2. উন্নত জাতের গম
  3. উন্নত জাতের টমেটো
  4. উন্নত জাতের আলু
সঠিক উত্তর:
উন্নত জাতের তুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নত জাতের তুলা
ব্যাখ্যা
উন্নত জাতের ফসল:
- 'রূপালী' ও ‘ডেলফোজ' হলো উন্নত জাতের তুলা।
- উন্নত জাতের তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।

অন্যদিকে,
• উন্নত জাতের গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।
• উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি।
• উন্নত জাতের তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
• উন্নত জাতের ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ।
• উন্নত জাতের আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, ক্ষীরসাপাতি ও মােহনভােগ।
• উন্নত জাতের টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
• উন্নত জাতের মরিচ: যমুনা।
• উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
• উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
• উন্নত জাতের আনারস: জায়ান্ট কিউ, হানি কুইন, ঘোড়াশাল, জলঢুপি।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৪৩.
সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
সাধারণ বীমা কর্পোরেশন:
- সাধারণ বীমা কর্পোরেশন একমাত্র রাষ্ট্রীয় সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান যা সরাসরি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সাধারণ বীমা কর্পোরেশন বীমা কর্পোরেশন আইন ১৯৭৩ (এক্ট নং ৬) এর অধীনে ১৯৭৩ সালের ১৪ মে এটি গঠিত হয়।
- বর্তমানে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন বীমা কর্পোরেশন আইন, ২০১৯ এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

⇒ সাধারণ বীমা কর্পোরেশন একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত।
- সাধারণ বীমা কর্পোরেশন দেশের সবচেয়ে বড় বীমা প্রতিষ্ঠান।
- এর অনুমোদিত মূলধন ১৫০০ কোটি টাকা, পরিশোধিত মূলধন ৯০০ কোটি টাকা।

উৎস: সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
৪৪.
বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি সাধারণত জিডিপির কত শতাংশের মধ্যে থাকে?
  1. ৫%
  2. ৬%
  3. ৭%
  4. ৮%
সঠিক উত্তর:
৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫%
ব্যাখ্যা
ঘাটতি বাজেট:
- কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে।
- বাজেটের এ ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঋণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান নিয়ে থাকে।
- ঘাটতি বাজেট বলতে বোঝায় যখন ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হয়।
- সাধারণত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতিকে সহনীয় বলে ধরা হয়।

⇒ বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি সাধারণত জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে থাকে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় বাজেট ঘাটতি ২,২৬,০০০ কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৬২ শতাংশ)।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৪ শতাংশের নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

উৎস: i) অর্থবিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) The Daily Star Bangla.
৪৫.
বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮৩ সালে
  2. ১৯৮৭ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৩ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড:
- বাংলাদেশের প্রথম রপ্তানী প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল হিসাবে ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামের হালিশহরে ৪৫৩ একর জায়গার উপর নির্মাণ করা হয় চট্টগ্রাম ইপিজেড।
- এটা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩.১০ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে মাত্র ১১.৩০ কিলোমিটার দুরত্বে হওয়ায় শিল্প পার্ক হিসাবে দ্রুত প্রসার লাভ করেছ।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চট্টগ্রামতথা বাংলাদেশের বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে চট্টগ্রাম রপ্তানী প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

⇒ সরকারি ইপিজেডগুলো হলো:
• চট্টগ্রাম ইপিজেড: ১৯৮৩ সাল,
• ঢাকা: ১৯৯৩ সাল,
• মংলা, খুলনা: ১৯৯৮ সাল,
• কুমিল্লা: ২০০০ সাল,
• উত্তরা, নীলফামারী: ২০০১ সাল,
• ঈশ্বরদী, পাবনা: ২০০১ সাল,
• আদমজী, নারায়ণগঞ্জ: ২০০৬ সাল,
• কর্ণফুলি, চট্টগ্রাম: ২০০৬ সাল।

উৎস: বেপজা ওয়েবসাইট।
৪৬.
আর্থিক বছরের শেষে কোন বাজেট করা হয়?
  1. সুষম বাজেট
  2. সম্পূরক বাজেট
  3. ঘাটতি বাজেট
  4. উদ্বৃত্ত বাজেট
সঠিক উত্তর:
সম্পূরক বাজেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূরক বাজেট
ব্যাখ্যা
বাজেট:
- বাজেট হচ্ছে একটি দেশের এক বছরের সম্ভাব্য সব আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব-নিকাশের বিবরণী।
- কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে কতটুকু আয় প্রাপ্তির আশা করে এবং বিভিন্ন খাতে কী পরিমাণ ব্যয় করতে চায়, তার সুবিন্যস্ত হিসাবকে সরকারি বাজেট বলে।
- বাংলাদেশ সরকারের একটি বাজেটের সময়কাল হচ্ছে এক অর্থবছর, যা ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানে বাজেট শব্দটি ব্যবহারের পরিবর্তে সমরূপ শব্দ ‘বার্ষিক আর্থিক বিবরণী’ ব্যবহার করা হয়েছে।

⇒ সম্পূরক বাজেট:
- কোন খাতে ব্যয়ের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হয় তার চাইতে বেশি ব্যয় হলে তার অনুমোদন করতে যে বিল পাশ করা হয় তাকে সম্পূরক বাজেট বলে।
- যেকোন আর্থিক বছরের শেষে এই বাজেট করা হয়। 

অন্যদিকে,
- সুষম বাজেট: যে বাজেটে আয় ও ব্যয়ের পরিমান সমান থাকে তাকে সুষম বাজেট বলে।
- উদ্বৃত্ত বাজেট: যে বাজেটে ব্যয়ের চেয়ে আয়ের পরিমাণ বেশি ধরা হয় তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলা হয়।
- ঘাটতি বাজেট: যে বাজেটে আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি ধরা হয় তাকে ঘাটতি বাজেট বলে। 

উৎস: অর্থনীতি, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. হরিণা
  2. হেজামারা
  3. বাঁশতলা
  4. মেলাঘর
সঠিক উত্তর:
হরিণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিণা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
= ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

অন্যদিকে,
= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৮.
ব্ল্যাক বেঙ্গল হলো একটি উন্নত জাতের -
  1. গরু
  2. ছাগল
  3. মহিষ
  4. ভেড়া
সঠিক উত্তর:
ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাগল
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল:
- ব্ল্যাক বেঙ্গল একটি উন্নত জাতের ছাগল।
- বিশ্ববাজারে এই প্রজাতির ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত।

⇒ এর আকার ছোট।
- পূর্ণবয়স্ক ছাগলের উচ্চতা ৫০ সেন্টিমিটার।
- দেহের বর্ণ মূলত কালো; তবে ধুসর, বাদামি বা সাদাও হয়।
- এদের কানের আকার ১১-১৪ সেন্টিমিটার এবং সামনের দিকে সুচালো।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পরিষ্কার, শুষ্ক এবং উঁচু জায়গায় থাকতে পছন্দ করে।
- বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ জেলায় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মাংস এবং চামড়ার জন্য বিখ্যাত।।
- ২০১৮ সালে ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের জেনোম সিকোয়েন্সিং বা পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের একটি দল।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল জিআই স্বীকৃতি লাভ করে।

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) কালের কন্ঠ।
৪৯.
জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদ-এর সভাপতি কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. বিনিয়োগ মন্ত্রী
  3. শিল্পমন্ত্রী
  4. বাণিজ্যমন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদ:
- জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদ (NCID) হল শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পরিষদ।
- দেশব্যাপী ব্যাপক ভিত্তিতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদ (NCID) গ্রহণ করে থাকে।
- এর সভাপতি: প্রধানমন্ত্রী।
- সহ-সভাপতি: মন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রণালয়। 

⇒ প্রতি ছয় মাসে পরিষদ একবার সভায় মিলিত হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় এ পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
- পরিষদের সদস্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর উল্লেখ থাকলেও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় প্রতিমন্ত্রীও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন।
- পরিষদ আবেদনকারী কোন উদীয়মান যোগ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাতে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দিতে পারবে। বিদ্যমান অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাতের পর্যালোচনা ও তালিকা হালনাগাদ করাসহ প্রদেয় প্রণোদনাসমূহের ধরন ও শর্ত নির্ধারণ করবে এবং শিল্পনীতি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করবে।
- বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় পরিষদে আরো সদস্য কো-অপ্ট করা যাবে। যখন কোন সুনির্দিষ্ট উপ-খাত বিষয়ক আলোচনা হবে তখন উপ-খাতের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

উৎস:জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ ওয়েবসাইট।
৫০.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে নিম্নের কোনটি পরিলক্ষিত হয় না?
  1. ধানের শীষ
  2. শাপলা
  3. পান পাতা
  4. তারকা
সঠিক উত্তর:
পান পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পান পাতা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

⇒ জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।

⇒ ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।

⇒ এই জাতীয় প্রতীক কিন্তু সবাই ব্যবহার করতে পারেন না।
- শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫১.
বাংলাদেশে প্রথম রেল লাইন কত সালে স্থাপিত হয়?
  1. ১৮৬২ সালে
  2. ১৮৭২ সালে
  3. ১৯৬২ সালে
  4. ১৯৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম রেল লাইন:
- দেশের গণপরিবহন মাধ্যমসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের রেলওয়ে সরকারের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত।
- এ দেশে প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা- জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে।
- রেলওয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৬২ সালে।
- প্রথম দিকে শুধু অর্থনৈতিক কাজের জন্য রেলপথ চালু করা হয়।
- ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম এ অঞ্চলে রেলপথ স্থাপন করে।
- ১৮৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কলকাতা থেকে রাণাঘাট পর্যন্ত রেলপথ উদ্বোধন করে।
- প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরের ১৫ নভেম্বর রানাঘাট থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেলপথ চালু করে।

⇒ ১৯৪৭ সালের পূর্বে অবিভক্ত ভারতবর্ষে রেলওয়ে বোর্ডের মাধ্যমে তৎকালীন রেলওয়ে পরিচালিত হতো।
- ১৯৭৩ সালে বোর্ডের কার্যক্রম বিলুপ্ত করে একে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রেলপথ বিভাগ গঠন করা হয়।

উৎস: i) রেলপথ মন্ত্রণালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫২.
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কোন দেশটিতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানি করে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. নেদারল্যান্ডস
  2. ফ্রান্স
  3. জার্মানি
  4. স্পেন
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি:
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প। প্রতি বছর এই খাত থেকে শত শত কোটি ডলারের ব্যবসা হয় এবং পোশাক রপ্তানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে পোশাক রপ্তানি করে।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি খাতে ৮.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 
- বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখনও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে রয়েছে। এই বাজারে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯.৭১ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট আরএমজি রপ্তানির ৫০.১০ শতাংশ।
- একক দেশ হিসেবে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ১৯.১৮ শতাংশ। 
- কানাডা ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে যথাক্রমে ১.৩০ বিলিয়ন ডলার (৩.৩১ শতাংশ) এবং ৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার (১১.০৫ শতাংশ)।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপের মধ্যে জার্মানি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে রপ্তানি হয়েছে ৪.৯৫ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে স্পেন (৩.৪০ বিলিয়ন ডলার), ফ্রান্স (২.১৬ বিলিয়ন ডলার), নেদারল্যান্ডস (২.০৯ বিলিয়ন ডলার), পোল্যান্ড (১.৭০ বিলিয়ন ডলার), ইতালি (১.৫৪ বিলিয়ন ডলার) এবং ডেনমার্ক (১.০৪ বিলিয়ন ডলার)।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। [link]
ii) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
iii) প্রথম আলো।
৫৩.
প্রথম শহীদ মিনার আনুষ্ঠানিকভাবে কে উদ্বোধন করেন?
  1. গাজীউল হক
  2. জিএস শরফুদ্দিন
  3. বদরুল আলম
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

⇒ প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ২ টাকার নোটে শহীদ মিনারের ছবি রয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৪.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণের জনক কে?
  1. মো. সফিকুল হক চৌধুরী
  2. স্যার ফজলে হাসান আবেদ
  3. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র ঋণ:
- ক্ষুদ্রঋণের মূল ধারণাটি হচ্ছে, দরিদ্র ব্যক্তিদের কিছু টাকা ঋণ দেওয়া। সেই টাকায় তাঁরা ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করবেন। ব্যবসার মুনাফা থেকে ঋণের টাকা ফেরত দেবেন প্রতিষ্ঠানকে। প্রতিষ্ঠান আবার ওই টাকা ঋণ দেবে অন্য কাউকে। এভাবেই বিষয়টি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখবে।

⇒ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণের জনক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের সমসাময়িক কাজ করেন ব্র্যাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও আশার প্রতিষ্ঠাতা মো. সফিকুল হক চৌধুরী।
- তারপর অন্যরাও এগিয়ে আসেন।

⇒ দেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দেখভালে বহু বছর কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছিল না।
- প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ২০০৬ সালে গঠিত হয় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)।
- এ সংস্থার সনদ ছাড়া বর্তমানে কেউ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাতে পারেন না।
- ব্র্যাক, আশা, বুরো বাংলাদেশ, টিএমএসএস, এসএসএস, সাজেদা ফাউন্ডেশন, উদ্দীপন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন, শক্তি ফাউন্ডেশন—এ ১০টি দেশের শীর্ষ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান।

⇒ বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বিশেষ আইনবলে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালে।
- এ গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে বহুমাত্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা হয়।
- এ জন্য ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বিবিসি বাংলা। 
৫৫.
রিবন রেটিং কী?
  1. মাছ চাষ পদ্ধতি
  2. পাট চাষ পদ্ধতি
  3. ধান চাষ পদ্ধতি
  4. পাট পচানোর পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
পাট পচানোর পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাট পচানোর পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
পাটের রিবন রেটিং (পাটের ছালকরণ ও পচন) প্রযুক্তি:
- স্বল্প পানি এলাকায় পাট পচন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট স্বল্প পানি এলাকার পাট চাষিদের জন্য রিবন রেটিং (পাটের ছালকরণ ও পচন) প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।
- এ পদ্ধতিতে পুরো পাট গাছ না পচিয়ে কাঁচা গাছ হতে প্রথমে ছাল বা বাকল ছাড়িয়ে নেয়া হয়।
- সেই ছাল আগে থেকে তৈরি করা মাটির গর্তে বা চাড়িতে রক্ষিত পানিতে পচানো হয়।
- এ প্রযুক্তির গোটা প্রক্রিয়া দুটি অংশে বিভক্ত। যথা : ১. পাটের ছালকরণ (রিবনিং), ২. রিবন রেটিং (ছাল পচন)।

⇒ রিবনিং প্রক্রিয়ায় পৃথককৃত ছাল বা বাকলগুলোকে তিনভাবে পচানো যায়। যথা- ক. বড় মাটির চাড়িতে; খ. পাটক্ষেতের আশে পাশে ছোট ডোবা, পুকুর বা খালে ও গ. মাটির তৈরি গর্তে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের শুষ্ক অঞ্চলসমূহে বিশেষ করে বৃহত্তর যশোর, কুষ্টিয়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহের কিছু অংশে উন্নত মানের পাট ফসল উৎপন্ন হয় কিন্তু পচন পানির অপর্যাপ্ততা ও প্রয়োজনীয় পানির অভাবেই উৎপাদিত পাট থেকে যে আঁশ পাওয়া যায় তা প্রায়ই নিম্ন মানের হয়ে থাকে। এখানে উল্লেখ্য, স্বল্প পানি এলাকায় রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচন উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব উদ্যোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩,০০০(তেত্রিশ হাজার) রিবনার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাটচাষি কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের শুষ্ক অঞ্চল বা স্বল্প পানি এলাকার পাটচাষিগণ বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত রিবন রেটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত মানের পাট আঁশ উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন বলে গবেষকগণ মনে করেন।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৫৬.
নিচের কোনটি অর্থ বাজারের উপাদান নয়?
  1. ট্রেজারি বিল
  2. বন্ড
  3. পুণঃক্রয় চুক্তি
  4. বাণিজ্যিক কাগজ
সঠিক উত্তর:
বন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্ড
ব্যাখ্যা
বন্ড অর্থ বাজারের উপাদান নয়। 

অর্থ বাজার (Money Market):

- অর্থ হলো এমন একটি বাজার যেখানে স্বল্পমেয়াদী (১ বছর বা তার চেয়ে কম সময়) আর্থিক সম্পদসমূহ ক্রয় বিক্রয় করা হয়।
- সুতরাং যে বাজারে স্বল্পমেয়াদি অর্থাৎ এক বছরের কম মেয়াদ সম্পন্ন আর্থিক সম্পদসমূহ লেনদেন হয় তাকে অর্থ বাজার বলে।

⇒ অর্থ বাজার নির্দিষ্ট কোন স্থানে কেন্দ্রীভূত থাকে না।
- আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে অর্থ বাজার পরিচালিত হয় যেমন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
- সাধারনত কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।
- অর্থ বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক, কারণ এটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি শ্রেণিকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ করে থাকে।
- যেমন: ব্যাংক বাণিজ্যিক কাগজ বাট্টাকরণের মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করে।
- আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আর্থিক বাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হল কেন্দ্রিয় ব্যাংক অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক।

⇒ অর্থ বাজার সিকিউরিটিজ/উপাদানসমূহ:
- অর্থ বাজারের উপাদানসমূহ হলো: ট্রেজারি বিল, বাণিজ্যিক কাগজ, ব্যাংকের স্বীকৃতিপত্র, পুণঃক্রয় চুক্তি, হস্তান্তরযোগ্য আমানত সার্টিফিকেট ইত্যাদি।

উৎস: i) ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Investopedia.
৫৭.
কার শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল?
  1. গোপাল
  2. বল্লাল সেন
  3. দ্বিতীয় মহীপাল
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় মহীপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় মহীপাল
ব্যাখ্যা
কৈবর্ত বিদ্রোহ:
- কৈবর্ত বিদ্রোহকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- এ সময় পাল বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় মহীপাল, যাঁর রাজত্বকাল ধারণা করা হয় ১০৭৫ সাল থেকে ১০৮০ সালের মধ্যে।
- এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্যক বা দিব্য।
- তিনি খুব সম্ভব প্রথম দিকে পালদের একজন রাজকর্মচারী কিংবা সামন্ত ছিলেন।
- কৈবর্তদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করেন তিনি।
- কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় ধর্মীয় কারণকে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
'মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ' কোন সালে BFIU নাম ধারণ করে?
  1. ২০০২
  2. ২০০৮
  3. ২০১০
  4. ২০১২
সঠিক উত্তর:
২০১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২
ব্যাখ্যা
BFIU:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ।
- BFIU- এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Financial Intelligence Unit।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (এপিজি) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগদান করার মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সাথে সম্পৃক্ত হয়।
- পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার অবৈধ হুন্ডি তৎপরতা, বিদেশে অর্থ পাচার এবং মানিলন্ডারিং তৎপরতা প্রতিরোধ ও দমনের কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে ২৭ জানুয়ারি ২০০২ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিসভিত্তিক ৭টি আঞ্চলিক টাস্কফোর্স গঠন করে এবং এপ্রিল ২০০২ এ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন জারি করে।
- উক্ত আইনে বর্ণিত দায়িত্ব পালনের জন্য ১৮ জুন ২০০২ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক 'মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ' নামে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে, যা ২০১২ সালে পরিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নাম ধারণ করে

⇒ উদ্দেশ্য:
- বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হলো সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর), নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) এবং রিপোর্টিং এজেন্সি এবং থেকে প্রাপ্ত মানি লন্ডারিং (এমএল) / সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন (টিএফ) সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য দায়ী অন্যান্য উত্স এবং প্রাসঙ্গিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তথ্য/গোয়েন্দা তথ্য প্রচার করা।
- বিএফআইইউ-এর মূল উদ্দেশ্য হল অর্থ পাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

⇒ নির্বাহী পরিচালক ও উপ-প্রধান: একেএম এহসান,
- পরিচালক: মোহাম্মদ আনিসুর রহমান,
- পরিচালক: মোঃ মোস্তাকুর রহমান।

উৎস: i) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) BFIU ওয়েবসাইট।
৫৯.
বিএফআইডিসির মালিকানাধীন দেশে কয়টি রাবার বাগান রয়েছে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ১৬টি
  2. ১৭টি
  3. ১৮টি
  4. ১৯টি
সঠিক উত্তর:
১৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮টি
ব্যাখ্যা
রাবার:
- রাবার একটি অত্যন্ত মূল্যবান অর্থকরী বনজ সম্পদ যার বিভিন্ন ধরণের ব্যবহার রয়েছে।
- রাবার গাছের কষ (ল্যাটেক্স) থেকে রাবার উৎপন্ন হয়।
- বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বৃটিশদের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম রাবার চাষ শুরু হয়।
- ১৯৫২ সালে তৎকালীন বনবিভাগ মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা হতে রাবার বীজ ও কয়েক হাজার রাবার চারা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম ও টাঙাইলের মধুপুর এলাকায় কিছু গাছ রোপণ করে।
- ১৯৫৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) বাংলাদেশে রাবার চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং এদেশের জলবায়ু ও মাটি রাবার চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী তাই বাণিজ্যিকভাবে রাবার চাষ করার সুপারিশ করে।
- ১৯৬১ সালে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পার্বত্য এলাকায় রাবার চাষ শুরু করা হয়।

উল্লেখ্য,
- বিএফআইডিসির মালিকানাধীন রাবার বাগান রয়েছে ১৮টি।
- এর মধ্যে চট্টগ্রাম জোন (৯টি বাগান), সিলেট জোন (৪টি বাগান), টাংগাইল-শেরপুর জোন (৫টি বাগান)।

⇒ বিএফআইডিসি ১৯৮০-৮১ সাল হতে উচ্চ ফলনশীল রাবার চারা রোপণ শুরু করে এবং ১৯৯৭ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট ও মধুপুরের ১৩,২০৭ হেক্টর জমিতে ১৬টি রাবার বাগান সৃজন করে।
- তার মধ্যে ৮% চারা মালয়েশিয়া হতে আনীত প্রিম ৬০০ এবং পিবি ২৩৫ ক্লোন হতে লাগানো হয়।
- প্রতিটি ক্লোন হতে উৎপন্ন চারা হতে বছরে তিন কেজি করে রাবার উৎপন্ন হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ রাবার বোর্ড ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
৬০.
Bangladesh Trade and Tariff Commission কয়টি শাখায় বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
Bangladesh Trade and Tariff Commission (BTTC):
- ট্যারিফ কমিশন পাকিস্তান ট্যারিফ কমিশনের পূর্ব পাকিস্তান শাখার উত্তরবর্তী।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর নতুন নাম হয় ট্যারিফ কমিশন।
- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২৮ জুলাই, ১৯৭৩ তারিখের সিদ্ধান্তবলে উক্ত মন্ত্রণালয়ের একটি অধীনস্থ অধিদপ্তর হিসেবে কাজ শুরু করে।
- ১৯৯২ সালের নভেম্বরে উক্ত কমিশন বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন আইন ১৯৯২ (১৯৯২ সনের ৪৩ নম্বর আইন)-এর অধীনে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন নামে পুনর্গঠিত হয়।

⇒ বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।
- এর প্রধান হচ্ছেন সরকারের সচিব পর্যায়ের মর্যাদাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান।
- কমিশন তিনটি শাখায় বিভক্ত: বাণিজ্য নীতিমালা, বাণিজ্য প্রতিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শাখা।
- প্রতিটি শাখা একজন সদস্য দ্বারা পরিচালিত। 

উৎস: বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন ওয়েবসাইট।
৬১.
১৯০৫ সালে নবগঠিত পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর কে ছিলেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড মিন্টো
  4. ব্যামফিল্ড ফুলার
সঠিক উত্তর:
ব্যামফিল্ড ফুলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা
ব্যামফিল্ড ফুলার:
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার।

⇒ তিনি ১৮৮৫ সালে মধ্য প্রদেশের ভূমি জরিপ ও কর নির্ধারণ এবং কৃষিবিষয়ক কমিশনার হিসেবে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালে ভাইসরয়ের পরিষদের অতিরিক্ত সদস্য এবং ১৯০১-০২ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের সচিব ছিলেন।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদে নিয়োগ লাভের পূর্বে ফুলার আসামের প্রধান কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনে সেবা প্রদানের জন্য নাইট উপাধি লাভ করেন।

⇒ বাংলা ও ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫-১৯১১) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি। কলকাতা ছিল এর রাজধানী। এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ। শাসন কার্যের সুবিধার্থে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সির বিভক্তকরণের কথা চিন্তা করতে থাকে। উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন স্যার রাম্পফিল্ড ফুলার এবং স্যার এন্ড্রু ফ্রেজার। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জনও বহুবার বিষয়টি আলোচনা করেন। অতঃপর ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়। সৃষ্টি হয় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও আসামকে নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে' এক নতুন প্রদেশ এবং এর রাজধানী হয় ঢাকা।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
বাংলাদেশের কৃষি কোন প্রকারের?
  1. স্বয়ংভোগী শস্য চাষ ও পশুপালন
  2. ধান-প্রধান বাণিজ্যিক
  3. স্বয়ংভোগী মিশ্র
  4. ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
সঠিক উত্তর:
ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কৃষি ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী প্রকারের।

স্বয়ং ভোগী কৃষি ব্যবস্থা:

- শুধুমাত্র মানুষ নিজ নিজ প্রয়োজন মেটানোর জন্য যে যে ব্যববস্থা করে থাকে তাকেই স্বয়ং ভোগী চাষ ব্যবস্থা বলে। 

⇒ ধান প্রধান নিবিড় কৃষি ব্যবস্থা:
- আর্দ্র মৌসুমী ভাবাপন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, ময়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান, উত্তর ও দক্ষিন কোরিয়া প্রভৃতি দেশে নিবিড় কৃষি ব্যবস্থা চালু আছে।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩.
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতিতে রেপো রেট বা নীতি সুদহার কত?
  1. ৮.২৫%
  2. ৮.৭৫%
  3. ৯.৫%
  4. ১০%
সঠিক উত্তর:
১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০%
ব্যাখ্যা
মুদ্রানীতি (Monetary policy):
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যে নীতি গ্রহণ করা হয়, তাকে মুদ্রানীতি বলে।
- সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
- মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।
- এ জন্য দেশের আর্থিক খাতের চিত্র কেমন হবে—এ নিয়ে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নীতি ঠিক করা হয়।
- বাজারে মুদ্রার সরবরাহ পরিস্থিতি দিয়েই মূলত এটি ঠিক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

⇒ বাংলাদেশে প্রতি ছয় মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- সাধারণত জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর—এই সময়সীমা ধরে বাংলাদেশে মুদ্রানীতি দেওয়া হয়।
- ২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম মুদ্রানীতি দেওয়া হয়। তখন বছরে দুবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করত বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ফজলে কবির বছরে একবার মুদ্রানীতি প্রণয়নের ঘোষণা দেন।  পরে ২০২৩ সাল থেকে আবার বছরে দুবার মুদ্রানীতি ঘোষণার রীতিতে ফিরে যায় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
- এতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের অর্ধবার্ষিকের ৯.৮ শতাংশ থেকে অনেকটা কমিয়ে ৭.২ শতাংশ করা হচ্ছে।

উৎস: i) Bangladesh Bank ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো। [link]
৬৪.
ইলবার্ট বিল প্রণয়ন করেন কে?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
ইলবার্ট বিল:
- ইলবার্ট বিল প্রণয়ন করেন লর্ড রিপন।

⇒ লর্ড রিপন ভারতে আসার আগে কোন ভারতীয় বিচারকরা কোন অভিযুক্ত ইংরেজের বিচার করতে পারত না।
- এই বৈষম্য দূর করতে লর্ড রিপনের পরামর্শে তার আইন সচিব ইলবাট একটি বিলের খসড়া রচনা করেন।
- এই খসড়া বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইংরেজ অভিযুক্তের বিচার করার অধিকার দেওয়া হয়।
- এই খসড়া বিলই ইলবার্ট বিল (১৮৮৩) নামে পরিচিত।

⇒ ইলবার্ট বিল বিতর্ক ভারতের বিশেষত বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী ও সার্বজনীন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
- ইলবার্ট বল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রথমে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) এবং পরে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৫.
বাংলাদেশের জিডিপিতে (GDP) কৃষি খাতের অবদান কত শতাংশ?
  1. ১১.৬২%
  2. ১১.৩৪%
  3. ১১.০৮%
  4. ১১.৪৬%
সঠিক উত্তর:
১১.৬২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১.৬২%
ব্যাখ্যা
খাতভিত্তিক GDP প্রবৃদ্ধি:
- সর্বশেষ (মে, ২০২৫) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপি'র সাময়িক হিসাব অনুসারে -

• কৃষি খাতের অবদান ১১.৬২ শতাংশ ও কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার: ১.৭৯%।
• শিল্প খাতের অবদান ৩৪.৮১ শতাংশ ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার: ৪.৩৪।
• সেবা খাতের অবদান ৫৩.৫৬ শতাংশ ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির হার: ৪.৫১%।

⇒ ইতঃপূর্বে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপি'র চূড়ান্ত হিসাব প্রাক্কলন ও প্রকাশ করা হয়েছিলো।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপি'র সাময়িক হিসাব প্রাক্কলন করা হয়েছে।
- সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৯৭% [উল্লেখ্য, চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪.২২%]।
- মাথাপিছু আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ওয়েবসাইট।
৬৬.
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং নিম্নের কোন কাজ পরিচালনা করে?
  1. মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ সেবা প্রদান
  2. কৃষি পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ
  3. কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন
  4. কৃষি গবেষণা পরিচালনা
সঠিক উত্তর:
মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ সেবা প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ সেবা প্রদান
ব্যাখ্যা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং:
- ডিএই’র কর্মকান্ডের মুল কেন্দ্রবিন্দুই হলো সরেজমিন উইং।
- ডিএই’তে কর্মরত প্রায় ২৫ হাজার কর্মকর্তা/কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ২১ হাজার কর্মকর্তা/কর্মচারী এ উইংয়ে কর্মরত।
- একজন পরিচালক উইং এর দায়িত্বে আছেন।

⇒ মাঠ পর্যায়ে বার্ষিক কৃষি সম্প্রসারণ কর্মপরিকলনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন করা এ উইং-এর মূল কাজ।
- এছাড়াও কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, উপকরণের চাহিদা নিরূপন, বরাদ্দ ও মনিটরিং এবং মাঠের কার্যক্রম তদারকী করা।

⇒ সম্প্রসারণ সেবা প্রদানকারী অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন, বার্ষিক রাজস্ব বাজেট প্রণয়ন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য সমূহ সম্প্রসারণ বার্তা হিসেবে রূপান্তর করে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা।
- এ ছাড়া ১৪টি অঞ্চল (ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা ও সিলেট), ৬৪টি জেলা, ৪৮৫টি উপজেলা ও ১২৬৪০টি ব্লকের সম্প্রসারণ কার্যক্রমের তদারকি এ উইং এর মাধ্যমে করা হয়।

অন্যদিকে,
- প্রশাসন ও অর্থ উইং-এর প্রধান কাজ হচ্ছে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব ও নিরীক্ষা নিশ্চিত করা ও নথিপত্র সংরক্ষণ।

উৎস: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৬৭.
মীর জুমলাকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন কে?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
মীরজুমলা:
- মীরজুমলা বাংলার সুবাহদার।
- জন্মসূত্রে তিনি ছিলেন ইরানি এবং প্রথমে তাঁর নাম ছিল মুহম্মদ সাঈদ।
- মুগল সম্রাটের কাছ থেকে তিনি মুয়াজ্জম খান, খান-ই-খানান, সিপাহ সালার এবং ইয়ার-ই-ওয়াফাদারের মতো বিভিন্ন উপাধি লাভ করেছিলেন। 
- মীর জুমলাকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন সম্রাট আওরঙ্গজেব।

⇒ সম্রাট আওরঙ্গজেবের অধীনে মীরজুমলা শাহ সুজার মোকাবিলা করার দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। খাজোয়ার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শাহ সুজা তান্ডায় পালিয়ে যান এবং ৯ মে ১৬৬০ খিস্টাব্দে ঢাকায় পৌঁছেন। মীর জুমলা খাজোয়া থেকে তান্ডা হয়ে ঢাকা পর্যন্ত শাহ সুজার পশ্চাদ্ধাবন করেন। কিন্তু সুজা ঢাকা থেকে পূর্ব সীমান্ত অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত আরাকানের রাজার কাছে আশ্রয়লাভ করেন। মীরজুমলা ঢাকায় পৌঁছার অল্পদিন পরই বাংলার সুবাহদার হিসেবে তাঁর নিয়োগের রাজকীয় ফরমান লাভ করেন ১৬৬০ খিস্টাব্দে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৮.
কয় ধরনের পণ্যের মোড়কে পাটের ব্যাগ বাধ্যতামূলক করা হয়?
  1. ১৭
  2. ১৯
  3. ২১
  4. ২২
সঠিক উত্তর:
১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯
ব্যাখ্যা
পাটজাত পণ্য ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা:
- পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ অনুসারে, ১৯ ধরনের পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- পাট চাষি ও পাটকল মালিকদের স্বার্থ রক্ষা ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার সীমিত করার জন্য আইনটি প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ অনুযায়ী ৬টি পণ্য অর্থাৎ ধান, চাল, গম, ভূট্টা, সার ও চিনি পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
- পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি আরো মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা, তুষ-খুদ-কুড়াসহ মোট ১৭ (সতের)টি পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।
- ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট পোল্ট্রি ও ফিস ফিড মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়।
- পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ এর ধারা-১৪ অনুযায়ী পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
- এ অপরাধ পুনঃসংগঠিত হলে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০।