পরীক্ষা আর্কাইভ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

পরীক্ষাউপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৭৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৯ বিষয়: ফুল মডেল টেস্ট - ৩
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ৭৯ প্রশ্ন

.
______ Greek language is one of the oldest in the world.
  1. A
  2. An
  3. The
  4. No article
ব্যাখ্যা
• ভাষার নামের পূর্বে The বসে না।
- Example: English is an international language.

• কিন্তু ভাষার পর Language শব্দটি থাকলে উক্ত ভাষার পূর্বে The ব্যবহার করা হয়।

Correct Answer: The Greek language is one of the oldest in the world.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
.
He died following the incident.
The underlined word is
  1. adjective
  2. adverb
  3. noun
  4. preposition
ব্যাখ্যা
→[46th BCS Preliminary]

• Following (Preposition):
এটা হচ্ছে Participle Preposition, যা ‍এখানে after বা পরে অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।

• He died following the incident.
- এই বাক্যে 'following' শব্দটি the incident - Noun এর পূর্বে বসে বাক্যের অন্যান্য অংশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে। তাই, এখানে 'following' শব্দটি preposition হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 

এছাড়াও,
- 'Following' শব্দটি adjective ও noun হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

• Following (adjective):
Meaning - The following day, morning, etc. is the next one.

• Following (noun):
Meaning - (often used to introduce a list, report, etc.) of what comes next. 

Source:
1. Longman Dictionary.
2. Cambridge Dictionary.
3. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
.
Choose the correct option to complete the sentence meaningfully:
I have got __ friends, so I am not lonely.
  1. a few
  2. a little
  3. fewer
  4. little
ব্যাখ্যা
• Little, A little, Few, A few এর ব্যবহার:
- এগুলো হচ্ছে quantifier determiners. যার দ্বারা কিছু পরিমাণ, সংখ্যাকে বুঝায়।
- Little এবং A little বসে uncountable noun এর ক্ষেত্রে,
- Few এবং A few বসে countable noun এর ক্ষেত্রে।   
- Little ও Few, negative quantifier determiners ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ অল্প সংখ্যক বা নেই বললেই চলে।
 
• অল্প কয়েকটি অর্থে countable noun এর আগে A few বসে এবং অল্প একটু বা সামান্য অর্থে uncountable noun এর আগে A little বসে।
- A few বা A little উভয়ের অর্থই হচ্ছে Some (অল্প কয়েকটি বা অল্প পরিমাণ)।

• প্রদত্ত sentence টিতে Friends হচ্ছে Countable noun. তাহলে এখানে Few/ A few এর ব্যবহার হবে এবং এরপর 'I am not lonely' আছে। যার অর্থ: আমি একা নই।
- আর আমরা জানি, Few অর্থ হলো অল্প সংখ্যক বা নেই বললেই চলে, আর A few এর অর্থ হলো অল্প কয়েকটি বা অল্প পরিমাণ।
- তাই এখানে Few না হয়ে A few হয়েছে।

Complete Sentence: I have got a few friends, so I am not lonely.

Source: A Passage To The English Language, S. M. Zakir Hussain.
.
Which of the following is a plural number?
  1. Analysis
  2. Datum
  3. Criterion
  4. Phenomena
ব্যাখ্যা
Phenomena is the Plural Number.

Phenomena:
- English meaning: A fact or an event in nature or society, especially one that is not fully understood.
- Bangla meaning: ইন্দ্রিয়গোচর বস্তু বা বিষয়।

• তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় Plural বানানোর স্বাভাবিক নিয়ম হলো noun এর শেষে s/ es যোগ করা।
- কিন্তু কিছু বিদেশী শব্দ রয়েছে যেগুলোর Plural স্বাভাবিক নিয়মে হয় না। সেগুলো মুখস্ত করে নেয়াই যুক্তিযুক্ত।

• নিম্নে কিছু বিদেশী ভাষা থেকে আগত উল্লেখযোগ্য শব্দের plural form দেওয়া হলো।
- Singular - Plural
- Phenomenon - Phenomena,
- Radius - Radii,
- Medium - Media,
- Analysis - Analyses,
- Datum - Data,
- Criterion - Criteria, etc.

Source: Applied English Grammar and Composition by P. C. Das.
.
We suggested that they _____ adopting modern methods in agriculture to increase crop yield.
  1. considering
  2. considered
  3. to consider
  4. consider
ব্যাখ্যা
Complete sentence: We suggested that they consider adopting modern methods in agriculture to increase crop yield.
- Bangla meaning: আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম যে তারা আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করুক কৃষিতে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য।

Present Subjunctive
- চাওয়া বা ইচ্ছা প্রকাশ করতে sub-ordinate clause হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- এ verb এর Base form ব্যবহারের রীতিই হলো Present Subjunctive.

Structure: Subject + verb (any tense) + that + subject + verb এর base form + extension.
- সাধারণত advise, necessary, ask, command, recommend, demand, urge, propose, suggest, insist, prefer, request, require, ইত্যাদি verb গুলো ব্যবহৃত হলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
- এক্ষেত্রে that যুক্ত subordinate clause এ সর্বদাই verb এর Base form হবে এবং Negative এর ক্ষেত্রে base form এর পূর্বে শুধু not বসবে।
- be verb থাকলে শুধু 'be' বসবে।

More examples:
- He recommended that we watch the new movie this weekend.
- I advised her to attend the conference for networking opportunities.
.
Choose the correct option to complete the sentence:
If he _______ the opportunity, he _______ the competition.
  1. had taken, would win
  2. had taken, would have won
  3. takes, would have won
  4. would have taken, won
ব্যাখ্যা
Complete the sentence: If he had taken the opportunity, he would have won the competition.
- প্রদত্ত sentence টি Third conditional এর শর্ত মেনে হয়েছে।

Third Condition এর নিয়ম অনুসারে:
- If বা Had যুক্ত দুটি clause থাকে। 
- দুটি Clause এর যেকোন একটিতে If/ Had দিয়ে Clause টি শুরু হবে।
- If বা Had যুক্ত Cause টি Past Perfect Tense হয়। 
- ২য় Clause টি Past perfect Conditional (would have, might have, should have, could have) বসে।
- Verb এর Past Participle form বসে।

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
.
Neither John nor his friends ____ going to the beach today.
  1. were
  2. are
  3. is
  4. had
ব্যাখ্যা
• এখানে "Neither --- nor" Co-relative Conjunction ব্যবহার করা হয়েছে।
- Neither --- nor দ্বারা দুইটা Noun/ Pronoun যুক্ত হলে শেষের noun/ pronoun অনুযায়ী verb বসে।
- যেহেতু প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যের শেষে his friends আছে, যা plural noun কে বুঝায়।
- উল্লিখিত অপশনগুলোর মধ্যে were, are, had সবগুলোই plural noun এর সাথে ব্যবহার হয়, কিন্তু sentence এর শেষে today থাকায় sentence টি বর্তমান কাল বা Present tense কে বোঝাছে।
- তাই, এখানে সঠিক উত্তর হিসেবে are বসবে।

- "Neither --- nor" expresses a negative relationship between two elements.

Structure:
• [Either/neither] + noun + [or/nor] + singular noun + singular verb.
- Example: Neither the salesmen nor the marketing manager is in favor of the system.

• [Either/neither] + noun + [or/nor] + plural noun + plural verb.
- Example: Neither the manager nor the workers were at fault.

Correct answer: Neither John nor his friends are going to the beach today.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
.
The government decided ______ more in agriculture to ensure food security for the growing population.
  1. invested
  2. investing
  3. to invest
  4. to be invest
ব্যাখ্যা
• কিছু Verb আছে যেগুলোর পর যদি আরেকটি Verb ব্যবহার করতে হয়, তাহলে infinitive (to+verb) ব্যবহার করতে হবে,
- Verb এর সাথে Verb+ing ব্যবহার করা যাবে না।

Verb গুলো হচ্ছে:
- agree,
- want,
- arrange
- decide,
- demand,
- require,
- forget,
- manage,
- refuse,
- ask, etc.

Correct answer: The government decided to invest more in agriculture to ensure food security for the growing population.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
.
Pluck me some ripe mangoes. (make it passive)
  1. Let some ripe mangoes be plucked by me.
  2. Let some ripe mangoes be plucked on me.
  3. Let some ripe mangoes be plucked with me.
  4. Let some ripe mangoes be plucked for me.
ব্যাখ্যা
• শুধুমাত্র মূল verb দিয়ে শুরু করা Imparetive sentence এর Active voice কে Passive voice এ রুপান্তরের নিয়ম:
 - Let দিয়ে Passive voice এর বাক্যটি শুরু হবে।
- Active voice এর object টি Passive voice এ subject হিসেবে বসে।
- be বসে।
- মূল verb এর past participle form বসে।
- অনেক ক্ষেত্রে Active voice এর Verb এরপর Passive voice এ by ছাড়া অন্য preparation বসে। যেমন: to, at, on, with, for ইত্যাদি।
- Active voice এর subject টি Passive voice এ object হিসেবে বসে।

Active voice: Pluck me some ripe mangoes.
Passive voice: Let some ripe mangoes be plucked for me.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
১০.
Modern irrigation techniques have _______ the agricultural lands that were once dry and infertile.
  1. destroyed
  2. decorated
  3. enlivened
  4. isolated
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত অপশন গুলোর মধ্যে:

ক) Destroyed: (Verb)
- English meaning: 
01. Destroy something to damage something so badly that it no longer exists, works, etc.
02. Destroy somebody/something to take all the value and pleasure from somebody's life; to ruin (= completely damage) somebody's life or reputation
-  Bangal meaning: ধ্বংস/ নষ্ট/ বিধ্বস্ত/ পয়মাল করা।

খ) Decorated: (Adjective)
- English meaning:
01. To make something look more attractive by putting things on it.
02. To put paint, wallpaper, etc. on the walls and ceilings of a room or house.

- Bangal meaning:
০১. decorate with অলংকারাদি পরা; অলংকৃত/ মুণ্ডিত/ ভূষিত/ শোভিত করা।
০২. (ভবনের বহির্ভাগ) রঞ্জিত/আস্তৃত করা; (দালানের অভ্যন্তর) রং, দেওয়ান-কাগজ ইত্যাদি দিয়ে সজ্জিত/ পরিশোভিত/ অলংকৃত করা।
০৩. decorate (for) (পদক ইত্যাদি দিয়ে) ভূষিত/ মণ্ডিত/ সম্মানিত করা।

গ) Enlivened: (Adjective, Verb)
- English meaning: To give life, vigor, or spirit to.
- Bangal meaning: উদ্দীপ্ত করা; প্রাণ সঁচার করা; চেতনা সঁচার করা; সক্রিয় করা; প্রাণচঁচল করা।

ঘ) Isolated: (Adjective, Verb)
- English meaning: Single; happening once. 
- Bangal meaning: পৃথক/ বিচ্ছিন্ন করা।

• অপশন গুলো বিবেচনা করলে দেখা যায় শুন্যস্থানে Enlivened বসালে বাক্যটি পরিপূর্ণ হয়।

- Complete Sentence: Modern irrigation techniques have enlivened the agricultural lands that were once dry and infertile.
- Bangla meaning: আধুনিক সেচ প্রযুক্তি সেই কৃষিজমিগুলোকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে, যেগুলো একসময় শুষ্ক ও অনুর্বর ছিল।

Source: Accessible Dictionary, Merriam-Webster Dictionary, Cambridge Dictionary, English-Bangla Dictionary.
১১.
The antonym of the word "Nourish" is -
  1. Cultivate
  2. Plain
  3. Hinder
  4. Heed
ব্যাখ্যা
• Nourish (Verb).
- English meaning: 
01. Nourish somebody/ something to keep a person, an animal or a plant alive and healthy with food, etc.
02. Nourish something (formal) to allow a feeling, an idea, etc. to develop or grow stronger.
- Bangla meaning: পুষ্টিসাধন/ পোষণ করা; পরিপুষ্ট করা; উর্বরতা বাড়ানো।

Synonym: Promote, Cultivate, Encourage, Nurture.
Antonym: Prevent, Hinder, Inhibit, Discourage.

উল্লিখিত অপশনগুলো,
- Cultivate - চাষ করা, বিকাশ সাধন করা;
- Plain - স্পষ্ট, সোজা;
- Hinder - ব্যাহত/ বিঘ্নিত/ বিলম্বিত করা;
- Heed - মনোযোগ দেওয়া।

Example sentence:
- A balanced diet is essential to nourish a healthy body and mind.
- Farmers nourish the soil with organic fertilizers to improve crop yield.

Source: Merriam & Webster Dictionary, Oxford Dictionary, Accessible Dictionary.
১২.
He questioned whether the report was accurate.
Here is the underlined clause a/ an -
  1. Adjective Clause
  2. Prepositional Clause
  3. Noun Clause
  4. Adverbial Clause
ব্যাখ্যা
Noun Clause:
- যে সব Subordinate Clause Noun এর কাজ করে থাকে, অর্থাৎ Subject, Object, Compliment বা Case in Apposition- এর কাজ করে থাকে তাকে Noun Clause বলে।

Noun Clause বিভিন্নভাবে ব্যবহার হতে পারে। যেমন:
- Verb এর Subject হিসেবে।
- Verb এর Object হিসেবে।
- Object এর complement হিসেবে। Complement দুই প্রকার। যেমন: 1. Subjective Complement এবং 2. Objective Complement
- Verb এর Subject এর Complement হিসেবে। 
- Preposition এর object হিসেবে।

• Noun Clause যখন verb এর Object হিসেবে কাজ করে তখন তা That, Wh word: what, when, where, whom, why, whether, how এবং if দিয়ে শুরু হয়।
- প্রদত্ত sentence টিতে 'whether the report was accurate' Noun clause এর নিয়ম অনুযায়ী whether দ্বারা শুরু হয়েছে এবং Questioned (verb) এর object হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
- উল্লেখ্য, Noun Clause যখন transitive Verb এর Object হিসেবে That দিয়ে শুরু হয় তখন That বাদ যায়।

Correct Answer: He questioned whether the report was accurate. Here the underlined clause is a/ an - Noun Clause.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
১৩.
নিম্নলিখিত চরিত্রগুলোর মধ্যে ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের অন্তর্গত চরিত্র নয় কোনটি?
  1. রাজলক্ষ্মী
  2. কাপালিক
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. নবকুমার
ব্যাখ্যা
'কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটির চরিত্র - রাজলক্ষ্মী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. প্রবীণ
  2. গায়ক
  3. জলধি
  4. পাঞ্জাবী
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ়  শব্দ বলে।

যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - প্রবীণ, পাঞ্জাবী।
যৌগিক শব্দ - গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
কোনটি কম্পিত ব্যঞ্জন?
  1. ড়
  2. ঢ়
ব্যাখ্যা
কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
‘পাঞ্জেরি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. সিন্দাবাদ
  4. নৌফেল ও হাতেম
ব্যাখ্যা
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা - সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
'হরিণ' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. মধুকর
  2. সুনয়ন
  3. ভুজগ
  4. ফণী
ব্যাখ্যা
'হরিণ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মৃগ, কুরঙ্গ, সারঙ্গ, সুনয়ন, কুড়ঙ্গম।

অন্যদিকে,
'মৌমাছি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মধুকর, মধুমক্ষিকা, মধুপ, মধুলেহ, পুষ্পলিহ ইত্যাদি

'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অহি, উরগ, পন্নগ, কুণ্ডলী, ফণী, ভুজগ, আশীবিষ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
"মজলুম" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. বাংলা
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• "মজলুম" শব্দটি 'আরবি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- অত্যাচারিত (মজলুম জননেতা),
- উৎপীড়িত।

আরো কিছু আরবি শব্দের উদাহরণ:

- এতিম,
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- খারাপ,
- খারিজ,
- তকদির,
- ফসল,
- মুসাফির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
‘অ’ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ নিচের কোন শব্দে পাওয়া যায়?
  1. পক্ষ
  2. অদ্য
  3. অনাথ
  4. অতি
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০.
"মর্মন্তুদ" বলতে কী বোঝায়?
  1. মন হরণ করে যা
  2. মরতে বসেছে যে
  3. মুক্তি পেতে ইচ্ছুক
  4. মর্মে বেদনা দেয় যা
ব্যাখ্যা
• 'মর্মে বেদনা দেয় যা' এর এক কথায় প্রকাশ - মর্মান্তিক / মর্মন্তুদ

অন্যদিকে,
মুক্তি পেতে ইচ্ছুক - মুমুক্ষু।
মরতে বসেছে যে - মুমূর্ষু।
মন হরণ করে যা - মনোহর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১.
দ্বিগু সমাসের সমাসনিষ্পন্ন পদটি কী হয়?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
'করিয়া > করে' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. অভিশ্রতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।

যেমন:
করিয়া > কইর‌্যা > করে,
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
'কাঁচা হাত' বাগ্‌ধারার  অর্থ -
  1. নিরেট মূর্খ
  2. ভাবনাচিন্তাহীন
  3. অপটু
  4. সীমাবন্ধ জ্ঞান
ব্যাখ্যা
'কাঁচা হাত' বাগ্‌ধারার  অর্থ - অপটু।

অন্যদিকে,
কূপমণ্ডূক - সীমাবন্ধ জ্ঞান। 
খোদার খাসি - ভাবনাচিন্তাহীন।
গোবরগণেশ - নিরেট মূর্খ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪.
নিচের কোনটি নাম ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সরে দাঁড়ানো
  2. চমকানো
  3. খেলছে
  4. করাচ্ছেন
ব্যাখ্যা
নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।

যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো
সরল ক্রিয়া - ছেলেরা মাঠে খেলছে।
প্রযোজক ক্রিয়া - তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫.
কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. তৎ + মাত্র = তন্মাত্র
  2. ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি
  3. উৎ + নীত = উন্নীত
  4. উৎ + লাস = উল্লাস
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - তৎ + মাত্র = তন্মাত্র। এর শুদ্ধরূপ - তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র।

সন্ধির নিয়ম:

- আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন্‌' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্‌' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।

যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬.
'উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।' - এটি প্রকার বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক
  2. মিশ্র
  3. জটিল
  4. সরল
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে 'চোরে' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অভীভুত
  2. অভিভুত
  3. অভীভূত
  4. অভিভূত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - অভিভূত
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৯.
‘গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ’–সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ৪৭ (৩) নং
  2. ৫৩ নং
  3. ৫৭ নং
  4. ৬০ নং
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৭(৩) নং অনুচ্ছেদে "গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ" সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ৪৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সাথে অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী হিসেবে গণ্য হবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হয়েছে বলে গণ্য হবে না ।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের সংবিধানে ৫৩ নং অনুচ্ছেদে 'অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ' এর কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৭ নং অনুচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩০.
‘G-20 সম্মেলন ২০২৫’ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
  1. রোম, ইতালি
  2. বালি, ইন্দোনেশিয়া
  3. বেইজিং, চীন
  4. জোহানেসবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
২০তম G-20 সম্মেলন:
- ২০২৫ সালের ২২-২৩ নভেম্বরে ২০তম জি-২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকায় জোহানেসবার্গ-এ।

⇒ G-20 বা Group of 20 আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান ফোরাম।
- বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে গঠিত হয়েছিল গ্রুপ অব টুয়েন্টি বা জি-২০।
- এটি বৈশ্বিক স্থাপত্য গঠন ও শক্তিশালীকরণ আর সব প্রধান আন্তর্জাতিক অর্থনীতি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- ফোরামটি বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি প্রশমন এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনার প্ল্যাটফর্ম।
- বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৮৫ শতাংশই এই জোটের দখলে।
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশের সঙ্গে জড়িত জি-২০ দেশগুলো।

⇒ জি-২০’র সদস্য: ২১টি।
- দেশ ১৯টি এবং জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন।
- সদস্য দেশ: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক।
- স্পেন স্থায়ী অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়।

উৎস: i) Department of Foreign Affairs and Trade ওয়েবসাইট।
ii) BBC.
৩১.
শাসন বিভাগের নির্বাহী প্রধান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
শাসন বিভাগ:
- শাসন বিভাগের নির্বাহী প্রধান প্রধানমন্ত্রী।

⇒  শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে; কিন্তু সকল ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান।
- মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দায়দায়িত্ব বন্টন করেন প্রধানমন্ত্রী।
- সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সরকার ব্যবস্থার প্রধান নীতিনির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তবে আইন বাস্তবায়নগত সকল ক্ষমতা শাসন বিভাগের এখতিয়ারে।
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগ এর ব্যাপ্তি সমুন্নত রেখেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ থেকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত।
- এ কারণে সরকারের এই বিভাগটির মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সকল স্তরে আইন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
ই-কমার্স জায়ান্ট Amazon-এর প্রতিষ্ঠাতা -
  1. ইলন মাস্ক
  2. জেফ বেজোস
  3. স্টিভ জবস
  4. মার্ক জাকারবার্গ
ব্যাখ্যা
Amazon:
- Amazon.com বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা এবং ক্লাউড কম্পিউটিং পরিষেবা প্রদানকারী একটি অন্যতম প্রধান কোম্পানি।
- তারা মূলত ই-কমার্স এবং ক্লাউড কম্পিউটিং এই দুটি প্রধান ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কাজ করে। 
- প্রতিষ্ঠাতা: জেফ বেজোস (Jeff Bezos)।
- প্রতিষ্ঠা সাল: ৫ জুলাই, ১৯৯৪ (ওয়াশিংটনের সিয়াটলে)।

⇒ জেফ বেজোস:
- মার্কিন ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমের স্বত্বাধিকারী ও বিনিয়োগকারী জেফরি প্রেসটন জেফ বেজোস।
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই–কমার্স সাইট ও ক্লাউড কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
- জেফ বেজোস বর্তমানে অ্যামাজনের নির্বাহী চেয়ারম্যান।
- তিনি ব্লু অরিজিন, বেজোস এক্সপেডিশনস ও বেজোস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা।
- এ ছাড়াও জেফ বেজোস সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর স্বত্বাধিকারী ও বেজোস আর্থ ফান্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে -
- টেসলা, টুইটার ছাড়াও রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স ও নিউরালিংকের প্রধান হিসেবে রয়েছেন ইলন মাস্ক।
- ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।
- Apple Inc. কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস।

উৎস: Britannica.
৩৩.
Green Climate Fund (GCF)-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. লন্ডন
  2. ইয়েনচিয়ন
  3. কানকুন
  4. নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
Green Climate Fund (GCF):
- Green Climate Fund (GCF) জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) কর্তৃক গঠিত একটি গঠিত তহবিল।
- শিল্পোন্নত দেশ সমূহের প্রদত্ত চাঁদা থেকে এই তহবিল গঠিত হবে।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: কানকুন, মেক্সিকো।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১০ সাল।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: কপ-১৬।
- সদর দপ্তর: ইয়েনচিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া।
- No. of projects: ২৫৩টি।

উল্লেখ্য,
- ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে ১৫তম কপ সমেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের প্রস্তাব রাখা হয় এবং ২০১০ সালে কানকুনে ১৬তম কপ সম্মেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্যোগে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
- এর মূল লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে সহায়তা করা ও কার্বন নির্গমন কমানো।
- সম্মেলনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস মধ্যে সীমিত রাখতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ একমত প্রকাশ করে।
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

উৎস: Green Climate Fund ওয়েবসাইট।
৩৪.
ভারতীয় লেখক বানু মুশতাক কোন উপন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার-২০২৫ লাভ করেন?
  1. শুগি বেইন
  2. দ্য প্রমিজ
  3. টোম্ব অব স্যান্ড
  4. হার্ট ল্যাম্প
ব্যাখ্যা
২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার:
- ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জিতেছেন ভারতীয় লেখক, আইনজীবী ও অধিকারকর্মী বানু মুশতাক।
- ছোটগল্পের সংকলন ‘হার্ট ল্যাম্প/ Heart Lamp’–এর জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
- ৭৭ বছর বয়সী এই লেখকের ছোটগল্পের সংকলন কান্নাড়া ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন দীপা ভাস্তি।
- এ ভাষার লেখকদের মধ্যে তিনি প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি পেলেন।
- পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড (৬৭ হাজার ডলার), যা অনুবাদক দীপা ভাস্তির সঙ্গে তিনি সমানভাবে ভাগ করে নেবেন।
- ‘হার্ট ল্যাম্প’-এ ১২টি গল্প সংকলিত হয়েছে, যেগুলো ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয়। গল্পগুলোতে দক্ষিণ ভারতের মুসলিম সমাজের দৈনন্দিন জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। গল্পগুলোতে বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের অভিজ্ঞতা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বুকার পুরস্কার (Booker Prize) একটি সাহিত্য পুরস্কার।
- এটি যুক্তরাজ্য থেকে প্রদান করা হয়।
- পুরস্কারটির পূর্বনাম ছিল: Booker–McConnell Prize ও Man Booker Prize।
- শুরুতে পুরস্কারটি শুধু ব্রিটিশ লেখকদের প্রদান করা হত।
- পরবর্তীতে তা কমনওয়েলথ দেশ সমূহের ইংরেজি ভাষার লেখক এবং ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ইংরেজি ভাষার লেখকদের প্রদান করা হয়ে আসছে।
- ১৯৬৯ সাল থেকে প্রতিবছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
- বুকারজয়ের শর্ত হলো, উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা হতে হবে এবং যুক্তরাজ্যে বা আয়ারল্যান্ডে প্রকাশিত হতে হবে।

উৎস: The Booker Prizes ওয়েবসাইট।
৩৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘অনিল বাগচীর একদিন’ কার?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'অনিল বাগচীর একদিন'।

• অনিল বাগচীর একদিন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।
- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ পালিত হয় কবে?
  1. ২৮ মে
  2. ৩১ মে
  3. ১৫ জুন
  4. ৯ আগস্ট
ব্যাখ্যা
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস:
- ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিএইচও) সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ১৯৮৭ সালে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস চালু করে।
- বিশ্বজুড়ে ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা ধরে তামাক সেবনের সব প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকাতে উৎসাহিত করার জন্য দিবসটি পালন করা হয়।
- এছাড়া দিবসটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তামাক ব্যবহারে ব্যাপক নিরুৎসাহিতকরণ এবং স্বাস্থ্যের ওপর তামকের নেতিবাচক প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করানো।

অন্যদিকে,
- ২৮ মে: বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস।
- ১৫ জুন: বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস।
- ৯ আগস্ট: আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।

উৎস: Britannica.
৩৭.
‘Line of Actual Control (LAC)’ কোন দুটি দেশের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্তরেখা?
  1. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  2. ভারত ও চীন
  3. ভারত ও আফগানিস্তান
  4. ভারত ও পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
‘Line of Actual Control (LAC)’ ভারত ও চীনের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্তরেখা।

উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ম্যাকমোহন লাইন: ভারত ও চীন,
- র‍্যাডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তান,
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান,
- তিন বিঘা করিডোর: ভারত ও বাংলাদেশ,
- লাইন অব কন্ট্রোল (LOC ): ভারত ও পাকিস্তান,
- ১০ ডিগ্রী চ্যানেল: আন্দামান ও নিকোবর,
- ১৭তম প্যারালাল: উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম,
- ৩৮তম প্যারালাল: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া,
- ওডার-নাইসে লাইন: পূর্বতন পূর্ব জার্মানি ও পোল্যান্ড,
- ম্যাগিনট লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স,
- ম্যানারহেম রেখা: রাশিয়া ও ফিনল্যান্ড,
- লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেন,
- ওডারনিস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- সিগফ্রিড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- হিন্ডারবার্গ লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- সনোরা লাইন: যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

উৎস: i) Britannica.
ii) WorldAtlas.
৩৮.
'আল্পস পর্বতমালা' কোন শ্রেণির পর্বত?
  1. ক্ষয়জাত পর্বত
  2. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  3. ভঙ্গিল পর্বত
  4. আগ্নেয় পর্বত
ব্যাখ্যা
ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountain):
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- চার ধরনের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বত সর্বাধিক বিস্তৃত।
- অভিসারী প্লেট সীমানায় সংকোচনজনিত চাপে এ ধরনের পর্বত গঠিত হয় বলে এর শিলা কাঠামো ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত।
- ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।
-যেমন: এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের ওজনের কত শতাংশ পানি?
  1. ৫৫ শতাংশ
  2. ৬০ শতাংশ
  3. ৭০ শতাংশ
  4. ৯০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
পানি:
- পরিমাণের দিক থেকে দেহের প্রধান গঠন উপাদান পানি। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের ওজনের প্রায় ৭০% পানি। দেহের প্রতিটি কোষেই পানি থাকে। দেহে মোট পানির ৫০% থাকে কোষের মধ্যে। অবশিষ্ট পানি কোষের বাইরে দুই কোষের মধ্যবর্তী স্থান, রক্ত, লসিকা, কলারস ইত্যাদিতে অবস্থান করে। পানি ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব।

⇒ উৎস: বিশুদ্ধ খাবার পানি, ডাবের পানি, দুধ, বিভিন্ন রসালো ফল, শাক সবজি পানির প্রাকৃতিক উৎস। প্রস্তুতকৃত বা রন্ধনকৃত খাবারের মধ্যে স্যুপ, সরবত, চা, ঘোল, লাচ্ছি, ফলের রস ইত্যাদি পানীয় জাতীয় খাদ্য।

⇒ কাজ:
১। পানি খাদ্য পরিপাক ও শোষণে সহাযতা করে।
২। পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের এক অংশ হতে অন্য অংশে বহন করে নিয়ে যায়।
দেহের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান পানিতে দ্রবীভূত হয়ে বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেয়।
৩। ৪। বিপাক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে দেহ হতে বের করে দেয়।
৫। দেহ হতে ঘাম নিঃসরণ করে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৬। রক্তের তারল্য বজায় রাখে।
৭। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
৮। দেহ তরতাজা ও সজীব রাখে।

⇒ অভাবজনিত অবস্থা:
১ । কোনো কারণে দেহ হতে প্রচুর পানি বের হয়ে গেলে (বমি, ডায়রিয়া, কলেরা, ঘাম) দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
২। পানিশূন্যতায় ঠোঁট শুকিয়ে যায়, গলা শুকিয়ে যায়, ত্বক ঢিলা হয়ে কুঁচকে আসে ইত্যাদি।
৩। দেহের পরিপাক, শোষণ ও বিপাক ব্যাহত হয়।
৪। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
৫। রক্তের তারল্য কমে যায়।
৬। মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
ব্লু-টুথ এর মাধ্যমে কোন নেটওয়ার্কটি তৈরি হয়?
  1. PAN
  2. LAN
  3. WAN
  4. MAN
ব্যাখ্যা
ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুসারে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক:
১. Personal Area Network (PAN)
২. Local Area Network (LAN)
৩. Metropolitan Area Network (MAN)
৪. Wide Area Network (WAN)

⇒ PAN:
- কোন ব্যক্তির নিকটবর্তী ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে তথ্য আদান প্রদানের নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান বলে।
- প্যান এর বিস্তৃতি সাধারণত কয়েক মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে নেটওয়ার্ক (ব্লু-টুথ এর মাধ্যমে) তৈরি করা হয় তা হলো PAN।
- প্যানে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডিভাইস হচ্ছে- ল্যাপটপ, পিডিএ, মোবাইল, প্রিন্টার ইত্যাদি।

উৎস: i) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অষ্টম শ্রেণি।
৪১.
প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান -
  1. সোডিয়াম
  2. ক্যালসিয়াম
  3. পটাসিয়াম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম।
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।

⇒ রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে।
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে।
- দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য সবচেয়ে জরুরি মিনারেল হলো ক্যালিসিয়াম।
- দুগ্ধদানকারী মায়েরা দুধ উৎপাদনের জন্য বেশি পরিমাণে ক্যালিসিয়াম লাগে।
- ক্যালিসিয়াম শিশু ও দুগ্ধদানকারী মায়ের হাড়, দাঁত ও মাংসপেশির জন্য জরুরি।
- জিংক, আয়োডিন ও আয়রনও গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল কিন্তু ক্যালিসিয়ামের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

উৎস: i) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) Britannica.
৪২.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়ু
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ:
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। যেমন- ইস্পাত, লোহা।
- তরল পদার্থে শব্দের বেগ কঠিন পদার্থের চেয়ে কম হয়।
- বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম।

উল্লেখ্য,
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে কোনো মাধ্যম নেই, তাই শব্দ সেখানে চলাচল করতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩.
খরা সহনশীল ধানের জাত কোনটি?
  1. ব্রি ধান৫৬
  2. ব্রি ধান৫২
  3. ব্রি ধান৭৯
  4. ব্রি ধান৫৪
ব্যাখ্যা
- বন্যা, খরা, লবণাক্ততা বাংলাদেশের প্রধান কৃষি সমস্যা।
- এ সমস্যা দূরীকরণের জন্য বিজ্ঞানীরা বেশ অগ্রসর হয়েছেন।
- যেমন- বন্যার শেষে ধান চাষের জন্য বিলম্ব জাত: ব্রিধান ২২ ব্রি ধান২৩ ব্রিধান-৩৭ এবং ব্রি ধান-৩৮।
- বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ধানের জাত: ব্রি ধান-১১, ব্রি ধান-১২, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান৫২ব্রি ধান৭৯। এই পাঁচ জাতের ধান পানির নিচে ১০-১৫ দিন টিকে থাকতে পারে। 
- খরা সহনশীল ধান: ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭ ।
- উপকূল অঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে চাষের জন্য ধানের জাত: ব্রি ধান-৪০, ব্রি ধান-৪১, ব্রি ধান-৪৬, ব্রি ধান-৪৭, ব্রি ধান-৫৩, ব্রি ধান৫৪ ও ব্রি ধান-৫৫ ।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৪.
লেজ বা পাখনা পচা রোগ কীসের আক্রমণে হয়?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. নেমাটোড
ব্যাখ্যা
লেজ বা পাখনা পচা রোগ:
- এ্যারোমোনাডস ও মিক্সোব্যাকটার জাতীয় ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
- প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশ্রিত করে আক্রান্ত মাছকে ৩-৫ মিনিট গোসল করাতে হবে।
- পুকুরে সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।
- প্রতি শতক পুকুরে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করা যেতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৫.
নিচের কোনটি বৃষ্টিপাতজনিত ভূমিক্ষয়?
  1. আস্তরণ ভূমিক্ষয়
  2. রিল ভূমিক্ষয়
  3. নালা বা গালি ভূমিক্ষয়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়ের শ্রেণিবিভাগ:
- ভূমিক্ষয়কে প্রধানত দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
ক. বৃষ্টিপাতজনিত ভূমিক্ষয় এবং
খ. বায়ুপ্রবাহজনিত ভূমিক্ষয়।

ক. বৃষ্টিপাতজনিত ভূমিক্ষয়: বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক ভূমিক্ষয় হয়। এই ভূমিক্ষয়কে নিচের চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়;
i) আস্তরণ ভূমিক্ষয়
ii) রিল ভূমিক্ষয়
iii) নালা বা গালি ভূমিক্ষয়
iv) নদী ভাঙন।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৬.
ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢেলা, কাচকি মাছে কোন ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. ভিটামিন 'এ'
  2. ভিটামিন 'বি'
  3. ভিটামিন 'সি'
  4. ভিটামিন 'ডি'
ব্যাখ্যা
- আমিষের প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ।
- এটি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার।
- আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রায় ৬০% আমিষের জোগান দেয় মাছ।
- একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের দৈনিক ৮০ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাবারের প্রয়োজন হয়।
- কিন্তু বর্তমানে আমরা গড়ে মাত্র ৬০ গ্রাম আমিষ খেয়ে থাকি।
- মাছ চাষের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা মেটানো সম্ভব। 
- এছাড়া মাছের তেল দেহের জন্য উপকারী।
- বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢেলা, কাচকি মাছে প্রচুর ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়।
- ভিটামিন 'এ' রাতকানা রোগ দূর করে।
- মাছের কাঁটায় প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায় যা দেহের হাড় গঠনে সাহায্য করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৭.
ইনকিউবেটরের মধ্যে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা কত রাখা হয়?
  1. ৩৫-৪০% এর মধ্যে
  2. ৪৫-৫০% এর মধ্যে
  3. ৫৫-৬০% এর মধ্যে
  4. ৬৫-৭০% এর মধ্যে
ব্যাখ্যা
ইনকিউবেটর যন্ত্র দ্বারা বাচ্চা ফোটানোর সময় নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ গুরুত্ব সহকারে অনুসরণ করতে হবে।
১। তাপমাত্রা: ইনকিউবেটরের তাপমাত্রা ৯৯.৫-১০০.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উল্লেখ্য উপযুক্ত তাপমাত্রা না পেলে ভ্রুণের কোষ বিভাজন হবে না এবং ভ্রুণের মৃত্যু হবে।
২। আর্দ্রতা: ইনকিউবেটরের মধ্যে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ৬৫-৭০% এর মধ্যে রাখা হয়। ইনকিউবেটরে আর্দ্রতা কম থাকলে ডিম থেকে পানি বাষ্পায়িত হয়ে ভ্রুণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৩। বায়ুপ্রবাহ: ভ্রুণের অক্সিজেন গ্রহণ এবং ডিম থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস বের হওয়ার জন্য বায়ুপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ইনকিউবেটরে বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে অক্সিজেনের প্রবেশ এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড দূরীকরণের ব্যবস্থা থাকে। বায়ুপ্রবাহ না থাকলে ভ্রুণের মৃত্যু হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৪৮.
কোন কাঠ থেকে পেন্সিল তৈরি হয়?
  1. গেওয়া
  2. ধুন্দল
  3. সুন্দরী
  4. কেওড়া
ব্যাখ্যা
শিক্ষায় কৃষি:
- আখের ছোবড়া, বাঁশ ও গেওয়া কাঠ থেকে লেখার কাগজ তৈরি হয়।
- ধুন্দল কাঠ থেকে পেন্সিল তৈরি হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৯.
নমুনা বীজের শতকরা কতটি বীজ গজায় তা বের করা হচ্ছে -
  1. বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা
  2. বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা
  3. বীজের জীবনীশক্তি পরীক্ষা
  4. বীজের তেজ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা
বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা
- নমুনা বীজের শতকরা কতটি বীজ গজায় তা বের করাই বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা।
- যখন বীজের আর্দ্রতা ৩৫-৬০% বা তার উপর হয় তখন অঙ্কুরোদগম শুরু হয়। এর হার শতকরায় প্রকাশ করা হয়।
- ১০০টি বীজ গুণে একটি বেলে মাটিপূর্ণ মাটির পাত্রে রেখে পানি দ্বারা ভিজিয়ে রাখতে হবে।
- প্রতিদিন দেখতে হবে পানি যেন শুকিয়ে না যায়। নির্ধারিত সময় পরে বীজের অঙ্কুরোদগম শুরু হবে।
 যতটি বীজ গজাবে ততটি হবে বীজের অঙ্কুরোদগম হার।

বীজের জীবনীশক্তি পরীক্ষা
- এই পরীক্ষার জন্য বীজ গজানোর একটি প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি করা হয়।
- এই প্রতিকূল অবস্থায় যে বীজ বেশি গজাবে সে বীজেরই জীবনীশক্তি বেশি বলে প্রতীয়মান হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০.
কোন পোকা ধানের দুধ সৃষ্টির সময় আক্রমণ করে?
  1. মাজরা পোকা
  2. পামরি পোকা
  3. গান্ধি পোকা
  4. চুঙ্গী পোকা
ব্যাখ্যা
ধানক্ষেতে পোকা দমন:
- ধানক্ষেতে অনেক পোকার উপদ্রব হয়।
- এদের আক্রমণে ধানের ফলন অনেক কমে যায়।
- সাধারণত ধান ফসলে মাজরা পোকা, পামরি পোকা, বাদামি গাছ ফড়িং, গান্ধি পোকা, গল মাছি, শীষকাটা লেদা পোকা প্রভৃতি দেখা যায়।

গান্ধি পোকা: 
১) গান্ধি পোকা ধানের দানায় দুধ সৃষ্টির সময় আক্রমণ করে।
২) বয়স্ক পোকার গা থেকে গন্ধ বের হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১.
নিচের কোনটি তোষা পাটের জাত?
  1. সিসি-৪৫
  2. ও-৪
  3. ডি-১৫৪-২
  4. সিভিএল-১
ব্যাখ্যা
- ও-৪ তোষা পাটের জাত। 

পাটের দেশী জাত:

জাত: ডি-১৫৪-২
চলতি নাম: সাদা পাট
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: এ জাতের গাছের কান্ডের গোড়া অপেক্ষাকৃত মোটা হলেও সহজে ঢলে পরে না এবং পাট কাটার পর রোপা আমন লাগানো সম্ভব।

জাত: সিভিএল-১
চলতি নাম: সবুজ পাট
উচ্চ ফলনশীল, সর্বাধিক জনপ্রিয় সাদা পাটের জাত।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: ক্লোরোসিস রোগ তুলনামূলক ভাবে এ জাতে কম হয়, কাটিংস অন্য জাতের তুলনায় কম এবং আর্শের মান ভাল।

জাত: সিসি-৪৫
চলতি নাম: জো পাট
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: দেশী জাত সমূহের মধ্যে এই জাতের ফসল সবচেয়ে আগে বপন করা যায়। অকাল ফুলমুক্ত ও দীর্ঘ বপনকালীন সিসি-৪৫ জাতটি ফাল্গুনের ১ম সপ্তাহ থেকে বপন করা যায়।

তোষা জাত:
জাত: ও-৪
চলতি নাম: বৈশাখী তোষা
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: উচ্চ ফলনশীল জাত।

উৎস: বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৫২.
কোনটি পাটের কাণ্ড পচা রোগের লক্ষণ?
  1. কাণ্ডে কালো বেষ্টনীর মতো দাগ থাকে
  2. কাণ্ডে গাঢ় বাদামি দাগ হয়
  3. আক্রান্ত স্থান ফেটে যায়
  4. কাণ্ডে কালচে দাগ হয়
ব্যাখ্যা
কাণ্ড পচা রোগ: 
- পাতা ও কাণ্ডে গাঢ় বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয়।
- এ দাগ গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত যে কোনো অংশে দেখা দিতে পারে।
- দাগগুলোতে অসংখ্য কালো বিন্দু দেখা যায়।
- এ কালো বিন্দুগুলোতে ছত্রাক জীবাণু থাকে।
- কখনো কখনো আক্রান্ত স্থানে গোটা গাছই ভেঙে পড়ে।
- কেনাফ ও মেস্তা পাটে এ রোগ দেখা দিতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৩.
নিচের কোনটি বেশি থাকলে সেসব ঘাস সাইলেজের জন্য ভালো?
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. প্রোটিন
  3. স্নেহ
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
সাইলেজ:
- যেসব ঘাসে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে, সেসব ঘাস সাইলেজের জন্য ভালো।
- কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ বা সাইলেজের জন্য উন্নত জাতের কাঁচা ঘাস যেমন: প্যারা, নেপিয়ার, জার্মান, গিনি, ভুট্টা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
- তবে ভুট্টার সাইলেজ অনেক ভালো।
- কাঁচা ধানের খড় ও কাঁচা ঘাস ১:৫ অনুপাতে মিশিরে সাইলেজ তৈরি করা যেতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৪.
DAE কোন ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে?
  1. কৃষি গবেষণা
  2. কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ
  3. কৃষি সম্প্রসারণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
DAE:
- পূর্ণরূপ Department of Agricultural Extension বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
- এটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
- ১৯৮২ সালে ফসল প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নিয়োজিত ছয়টি সংস্থা একিভূত করে বর্তমান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সৃষ্টি করা হয়।
- কাজ: চাহিদাভিত্তিক এবং সমন্বিত কৃষি সম্প্রসারণ সেবা প্রদান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৫.
কোন ধরনের মাটিতে আলু উৎপাদন বেশি হয়?
  1. দোআঁশ মাটিতে
  2. বেলে দোআঁশ মাটিতে
  3. পলি মাটিতে
  4. দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে
ব্যাখ্যা
গোল আলু চাষোপযোগী মাটির বৈশিষ্ট্য
১) দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি আলু উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী।
২) আলুর জন্য বায়ু চলাচল করতে পারে এরূপ নরম ও ঝুরঝুরে মাটি দরকার। এতে আলু বড় হওয়ার সুযোগ পায়।
৩) গোল আলুর মাটিতে প্রচুর জৈব পদার্থ থাকা দরকার।
৪) মাটির PH মাত্রা ৬-৭ এর মধ্যে থাকা ভালো।

আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুতি: 

- নিচু এলাকায় বর্ষার পানি নেমে গেলে বা উঁচু এলাকায় আশ্বিন মাস হতে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ শুরু করা হয়।
- সাধারণত দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে আলুর চাষ করা হয়।
- এই মাটি চাষ করা মোটামুটি সহজ। আলুর জমি ৫-৬ বার চাষ ও বার কয়েক মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে জমি প্রস্তুত করা হয়।
- আজকাল পাওয়ার টিলার দ্বারা চাষ করা হয় বলে ৩-৪ বার আড়াআড়ি চাষ দিলেই ঝুরঝুরা হয় এবং সমান করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৬.
পাট জাগ দেওয়ার সময় কোন সার ছিটিয়ে দিলে পাট তাড়াতাড়ি পচে ও পাটের আঁশের রং ভালো হয়?
  1. ইউরিয়া
  2. টিএসপি
  3. এমওপি
  4. জিপসাম
ব্যাখ্যা
পাট জাগ দেওয়া: 
- প্রথমে ১০-১৫টি আঁটি একদিকে গোড়া রেখে তারপর উল্টা দিকে গোড়া রেখে আরও আঁটি পানির উপর সাজাতে হবে একেই পাটের জাগ বলে।
- খেয়াল রাখতে হবে যাতে জাগের উপর ৩০ সেমি ও নিচে ৬০ সেমি পানি থাকে।
- প্রতি ১০০টি আঁটির উপরে ১ কেজি ইউরিয়া ছিটিয়ে দিলে পাট তাড়াতাড়ি পচে ও পাটের আঁশের রং ভালো হয়।
- পাট জাগ দেওয়ার জন্য বিল, খাল বা নদীর মৃদু স্রোতযুক্ত পরিষ্কার পানি সর্বাপেক্ষা উত্তম।
- জাগ ডুবানোর জন্য মাটির ঢেলা, কলাগাছ, আমগাছ ইত্যাদি ব্যবহার করা উচিত নয়।
- কারণ এতে আঁশের রং কালো হয়।
- বাঁশের খুঁটির সাথে রশি দিয়ে বেঁধে, কিংবা পাথর দিয়ে চাপা দিয়ে জাগ ডুবানো যায়।
- জাগ ঢাকার জন্য কচুরিপানা, ধানের খড় ব্যবহার করা যেতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৭.
সকল পাহাড়ি অঞ্চল কোন কৃষি পরিবেশ অঞ্চল এর অন্তর্গত?
  1. পরিবেশ অঞ্চল ২৫
  2. পরিবেশ অঞ্চল ২৬
  3. পরিবেশ অঞ্চল ২৭
  4. পরিবেশ অঞ্চল ২৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কৃষি পরিবেশ অঞ্চল: 
- পরিবেশ অঞ্চল ২৫, ২৬, ও ২৭ এলাকাজুড়ে রয়েছে যথাক্রমে রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুরের বরেন্দ্র অঞ্চল।
- এখানে উঁচু এলাকায় প্রায় সকল ফসলই ফলে।
- পরিবেশ অঞ্চল ২৮ মধুপুর থেকে ঢাকার তেজগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত লালমাটি অঞ্চল।
- এখানকার বিশেষ বৃক্ষ হচ্ছে শাল। এখানকার ফসল হচ্ছে কাঁঠাল ও আনারস।
- সকল পাহাড়ি অঞ্চল পরিবেশ অঞ্চল ২৯-এর অন্তর্গত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজার ছাড়াও অন্যান্য জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার বিশেষ ফসল চা।
- পরিবেশ অঞ্চল ৩০-এ রয়েছে আখাউড়ার লালমাটি অঞ্চল। এখানকার প্রধান ফসল কাকরোল এবং মুকুন্দপুরী পেয়ারা।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫৮.
মাটিতে খনিজ পদার্থের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. প্রায় ৫ ভাগ
  2. প্রায় ২৫ ভাগ
  3. প্রায় ১৫ ভাগ
  4. প্রায় ৪৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
মাটির গঠন উপাদান:
- মাটি প্রধানত ৪টি উপাদান দ্বারা গঠিত।
- উপাদানগুলো হলো-
(১) অজৈব পদার্থ বা খনিজ পদার্থ
(২) জৈব পদার্থ
(৩) পানি ও
(৪) বায়ু।

খনিজ পদার্থ:
- ভূ-পৃষ্ঠ প্রকৃতপক্ষে শিলা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- প্রাকৃতিক শক্তি তথা তাপ, চাপ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, পানিপ্রবাহ ইত্যাদির প্রভাবে সময়ের ব্যবধানে আদি শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটির অজৈব বা খনিজ পদার্থ সৃষ্টি করেছে।
- নুড়িপাথর, বালিকণা, পলিকণা ও কর্দমকণা হচ্ছে মাটির খনিজ পদার্থ।
- এসব খনিজ পদার্থ নানাভাবে মিশে মাটির বুনট সৃষ্টি হয়েছে।
- মাটিতে খনিজ পদার্থের পরিমাণ আয়তন ভিত্তিতে শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ অর্থাৎ মাটির সর্ববৃহৎ অংশ জুড়ে আছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৯.
কোন বীজ থেকে প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদন করা হয়?
  1. প্রজনন বীজ
  2. ভিত্তি বীজ
  3. মানঘোষিত বীজ
  4. যেকোন বীজ
ব্যাখ্যা
প্রত্যায়িত বীজ (Certified Seed):
- ভিত্তি বীজ থেকে প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদন করা হয়।
- যাতে বংশগত ও বাহ্যিক বিশুদ্ধতা নির্ধারিত মানে থাকে।
- বীজের গুণাবলী সংরক্ষণের জন্য প্রত্যয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।
- বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী এই অনুমোদনের কাজটি করে থাকে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার নীল হয়।

উৎস: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী (SCA) ।
৬০.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, কৃষিখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ কত?
  1. ৪০ শতাংশ
  2. ৪৫ শতাংশ
  3. ৫০ শতাংশ
  4. ৫৫ শতাংশ
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী জিডিপিতে বিভিন্ন খাতের অবদান:
- সেবা খাতের অবদান ৫১.০৪ শতাংশ।
- শিল্প খাতের অবদান ৩৭.৯৫ শতাংশ।
- কৃষি খাতের অবদান ১১.০২ শতাংশ।
- সেবা খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি।

এছাড়াও -
- অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে কৃষিখাতে বেশি কর্মসংস্থান হয়।
- কৃষিখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ ৪৫.০০%
- শিল্পখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ১৭.০০%
- সেবাখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ৩৮.০০%

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৬১.
বীজের বস্তায় পোকার উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য মেশানো হয় কোনটি?
  1. নিমের পাতার গুঁড়া
  2. আপেলের বীজের গুঁড়া
  3. কমলার বীজের গুঁড়া
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বীজ শুকানো ও চটের বস্তায় সংরক্ষণ: 
- বীজ শুকানো অর্থ হচ্ছে বীজ থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা সরানো এবং পরিমিত মাত্রায় আনা।
- আর্দ্রতার মাত্রা ১২-১৩% হলে ভালো হয়।
- বাংলাদেশে বীজ শুকানো হয় রোদে বা সূর্যতাপে।
- এই আর্দ্রতা ১২-১৩ শতাংশ নামাতে বীজগুলোকে প্রায় তিন দিন প্রখর রোদে শুকাতে হয়।
- ঠিকমতো শুকিয়েছে কিনা তা বীজে কামড় দিয়ে পরখ করতে হবে।
- বীজে কামড় দেওয়ার পর যদি 'কট' করে আওয়াজ হয় তবে মনে করতে হবে বীজ ভালোমতো শুকিয়েছে।
- অতঃপর বীজগুলোকে চটের বস্তায় নিয়ে গোলা ঘরে রাখা হয়।
- বীজ পোকার উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য বীজের বস্তায় নিমের পাতা, নিমের শিকড়, আপেল বীজের গুঁড়া, বিশকাটালি ইত্যাদি মেশানো হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬২.
রোটেনন কেন ব্যবহার করা হয়?
  1. পুকুরের পানির অম্লত্ব/ক্ষারত্ব দূরীকরণে
  2. চুনের বিকল্প হিসেবে
  3. রাক্ষুসে মাছ নিধনে
  4. মাছের সম্পূরক খাদ্য হিসেবে
ব্যাখ্যা
রাক্ষুসে ও অচাষযোগ্য মাছ:
- বিভিন্ন রাক্ষুসে মাছ যেমন-শোল, বোয়াল, চিতল, ফলি, টাকি, গজার ইত্যাদি সরাসরি চাষের মাছ খেয়ে ফেলে।
- এছাড়া পুঁটি, চাপিলা, চান্দা ইত্যাদি অচাষযোগ্য মাছ।
- এরা চাষযোগ্য মাছের জায়গা, খাদ্য, অক্সিজেন সবকিছুতেই ভাগ বসায়।
- এর ফলে চাষকৃত মাছের উৎপাদন কমে যায়।

নিচের যেকোনো পদ্ধতিতে রাক্ষুসে ও আবাদযোগ্য নয়, এমন মাছ দূর করা যায়-
ক) পুকুর শুকিয়ে:
- পুকুরের পানি শুকিয়ে সব মাছ ধরে ফেলা যায়।
- অনেক মাছ পুকুরের তলায় কাদায় লুকিয়ে থাকতে পারে।
- তাই কড়া রোদে পুকুর শুকিয়ে ফেলতে হবে।

খ) জাল টেনে:
- পুকুরে পানি কম থাকলে বার বার জাল টেনে মাছ ধরে ফেলা যায়।

গ) মাছ মারার বিষ ব্যবহার করে:
- এক্ষেত্রে রোটেনন বা মহুয়ার খৈল ব্যবহার করা যায়।
- এসব দ্রব্য পুকুরে দিলে মাছের ফুলকার ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। ফলে মাছ দম বন্ধ হয়ে মারা যায়।
- পুকুরে ১ ফুট বা ৩০ সেমি গভীরতায় পানির জন্য শতক প্রতি ৩০-৩৫ গ্রাম রোটেনন অথবা ৩ কেজি মহুয়ার খৈল ব্যবহার করতে হবে। 
- বিষ দেওয়ার পর ৭-১০ দিন পুকুরের পানি ব্যবহার করা যাবে না ও নতুন মাছ ছাড়া যাবে না।
- পুকুরে বিভিন্ন রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করেও মাছ মারা যায় যেমন-ফসটক্সিন ট্যাবলেট। তবে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে মাছ মারা ঠিক নয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৩.
নিচের কোনটি গমের জাত?
  1. ফরিদপুরী
  2. ম্যানিলা
  3. সৌরভ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
গমের জাত:
- কাঞ্চন
- আকবর
- অঘ্রাণী
- প্রতিভা
- সৌরভ (বারি গম-১৯)
- গৌরব (বারি গম-২০)

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
৬৪.
Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের কারণে আলুর কোন রোগ হয়?
  1. পাতা কুঁকড়ানো রোগ
  2. আগাম ধ্বসা রোগ
  3. বিলম্বিত ধ্বসা রোগ
  4. পচন রোগ
ব্যাখ্যা
আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগ (Late Blight of Potato):
- গাছের পাতা, কান্ড, ফুল ইত্যাদি শুকিয়ে যাওয়াকে বলা হয় ধ্বসা রোগ (Blight)।
- আলু গাছে দু'ধরনের ব্লাইট দেখা যায়। যথা- (ক) বিলম্বিত ধ্বসা রোগ এবং (খ) আগাম ধ্বসা রোগ।
- বিলম্বিত ধ্বসা রোগের জন্য অনেক সময় ক্ষেতের সমস্ত ফসলই নষ্ট হয়।
- তাই একে অনেক সময় মড়ক রোগও বলা হয়।
- এ রোগ বিশ্বের সর্বত্রই পরিলক্ষিত হয়।
- ১৮৪৫ সালে আয়ারল্যান্ডে এ রোগ মারাত্মকভাবে দেখা দেয়ায় সে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়।
- ফলে বহুলোক মারা যায় এবং বহুলোক দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমায়।
- সাধারণত বপনের প্রায় দু'মাস পর এ রোগের আবির্ভাব হয় বলে এ রোগকে বিলম্বিত ধ্বসা রোগ বলা হয়।
- Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের কারণে আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগের সৃষ্টি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণে যে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয় তাকে কী বলে?
  1. সমতল বন
  2. গজারী বন
  3. সামাজিক বন
  4. ম্যানগ্রোভ বন
ব্যাখ্যা
সামাজিক বন:
- সামাজিক বনায়ন ব্যবস্থাপনায় জনসাধারণ সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে।
- জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণে যে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়, তাকেই সামাজিক বনায়ন বলা হয়।
- বাংলাদেশের বন বিভাগ এরই মধ্যে উপকূলীয় চরাঞ্চলসমূহে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃষ্টির প্রয়াস গ্রহণ করেছেন।
- এছাড়া বাংলাদেশ সরকার জনালগ্ন থেকেই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
- এতে জনসাধারণ সরাসরি অংশগ্রহণ করছে এবং উপকৃত হচ্ছে।
- বর্তমানে দেশের প্রায় সকল সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়েছে।
- বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণের ব্যাপারে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রধানত উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে সামাজিক বন প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৬.
হানিডিউ কোন ফসলের জাত?
  1. পেঁপে
  2. কমলা
  3. আনারস
  4. পেয়ারা
ব্যাখ্যা
পেঁপে চাষ:
- পেঁপে অত্যন্ত সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন ফল।
- কাঁচা অবস্থায় তরকারি এবং পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে খাওয়া হয়।
- সারা বছর পেঁপে পাওয়া যায়।
- আমাদের দেশে শাহী, রাঁচি, ওয়াশিংটন, হানিডিউ, পুষা এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষ করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬৭.
নিচের কোনটি ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. বীজ দাগযুক্ত বা পোকা খাওয়া বা ভাঙা হবে না
  2. বীজ অঙ্কুরোদ্গমের শতকরা হার কম পক্ষে ৮০ ভাগ
  3. বীজ পরিষ্কার ও পুষ্ট
  4. অন্য জাতের মিশ্রণযুক্ত
ব্যাখ্যা
- ভালো বীজে ভালো ফসল অর্থাৎ গুণগত মানসম্পন্ন বীজ থেকেই ভালো ফসল জন্মায়।
- ফসল উৎপাদনে ভালো বীজের গুরুত্ব অপরিসীম।
- অনেক সময় ভালো বা উন্নত জাতের বীজ হলেও নানা কারণে বীজ ভালো হয় না।
- বীজে অনেক কিছু থাকতে পারে যা উন্নত জাতের বীজকেও নির্গুণ করে দেয়।

ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য:
১। অন্য জাতের মিশ্রণমুক্ত থাকতে হবে।
২। বীজ পরিষ্কার ও পুষ্ট হবে।
৩। বীজের রং স্বাভাবিক হবে।
৪। বীজ দাগযুক্ত বা পোকা খাওয়া বা ভাঙা হবে না।
৫। ইট, পাথরের কণা ও আগাছা থেকে বীজ মুক্ত হবে।
৬। বীজ অঙ্কুরোদ্গমের শতকরা হার কম পক্ষে ৮০ ভাগ হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৮.
Pomology কী সম্পর্কিত?
  1. ফল চাষ
  2. সবজি চাষ
  3. ফুল চাষ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফলের পরিচিতি:
- নিষিক্ত হওয়ার পরে ফুলের গর্ভাশয় অংশ বিশেষ পরিপুষ্ট, পরিবর্ধিত ও বিকশিত হয়ে ফলে পরিণত হয়।
- অর্থাৎ এক কথায় নিষিক্ত পরিপক্ক গর্ভাশয়ই ফল।
- উদ্ভিদ বিজ্ঞানে এগুলো প্রকৃত ফল বলে।
- সব সময় নিষিক্ত পরিপক্ক গর্ভাশয় থেকে ফল উৎপন্ন হয় না।
- নিষেক ছাড়া গর্ভাশয় বিশেষ প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ পার্থেনোজেনিটিকভাবে বা ডিম্বক সরাসরি ফলে পরিণত হয়।
- এসব ফলে বীজ থাকে না।
- যেমন: গর্ভাশয় ছাড়াও সম্পূর্ণ পুষ্পমঞ্জুরী ফলে রূপান্তরিত হতে পারে এগুলোকে অপ্রকৃত ফল বলে।
- আমরা বলতে পারি প্রকৃত বা অপ্রকৃত ফল পরিণত বা পাকা অবস্থায় রান্না ছাড়াই খাওয়া হয় তাদেরকে উদ্যানতাত্বিক ফল বলে।
- উদ্যানতত্বের যে শাখায় ফল, নিয়ে আলোচনা করে তাকে ফল বিজ্ঞান বা পোমোলজি (Pomology) বলে।

উল্লেখ্য,
- Olericulture হল উদ্যানপালনের একটি শাখা যা শাকসবজি উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণন বা ব্যবহারের জন্য উদ্ভিদ চাষের সাথে সম্পর্কিত। 
- Floriculture হল ফুল চাষ সম্পর্কিত। 

উৎস: Global Conference on Agriculture and Horticulture
কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
প্রত্যায়িত বীজের ট্যাগের রং কী?
  1. নীল
  2. সাদা
  3. হলুদ
  4. সবুজ
ব্যাখ্যা
মৌল বা প্রজনন বীজ (Breeder Seed):
- উদ্ভিদ প্রজনন প্রতিষ্ঠান বা কোন প্রজনন বিদের ঘনিষ্ট ও সরাসরি তত্ত্ববাবধানে উৎপন্ন এবং যা থেকে ভিত্তি শ্রেণীর বীজ উৎপাদন করা হয় তাকে প্রজনন বীজ বলে।
- এই বীজের সর্বাধিক কৌলিক বিশুদ্ধতা থাকে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার সবুজ হয়।

ভিত্তি বীজ (Foundation seed):
- বীজের পরবর্তী বিস্তার ঘটানোর জন্য মৌলিকভাবে শনাক্ত করণযোগ্য জাতের প্রাথমিক উৎসকে ভিত্তি বীজ বলে।
- ভিত্তি বীজে কৌলিক স্বাতন্ত্র্য ও জাতের বিশুদ্ধতা বিদ্যমান থাকে।
- ভিত্তি বীজ থেকে প্রত্যায়িত যে বীজ উৎপাদন করা হয়।
- এ বীজের ট্যাগের কালার সাদা হয়।

প্রত্যায়িত বীজ (Certified Seed):
- ভিত্তি বীজ থেকে প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদন করা হয়।
- যাতে বংশগত ও বাহ্যিক বিশুদ্ধতা নির্ধারিত মানে থাকে।
- বীজের গুণাবলী সংরক্ষণের জন্য প্রত্যয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।
- বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী এই অনুমোদনের কাজটি করে থাকে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার নীল হয়।

মানঘোষিত বীজ (Truthfully labeled seed: TLS):
- উপরে তিনটি শ্রেণীর বীজ ছাড়া অন্য যে বীজ উৎপাদনকারী নিজেই উৎপাদন করে এবং নিজেই বীজের মাননিয়ন্ত্রণ করে এবং নিজেই ঘোষনা দেয় তাহাই মানঘোষিত বীজ।
- তিনি নিজস্বভাবে যাচাইপূর্বক ব্যাগ বা বস্তার গায়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করবে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার হলুদ হয়।

উৎস: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী (SCA) ।
৭০.
নিচের কোনটি মাটির ভৌত গুণাগুণ এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. মাটির অম্লত্ব ক্ষারত্ব
  2. অণুজীবের কার্যাবলি
  3. মাটির লবণাক্ততা
  4. মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
মাটির গুণাগুণ:
- ফসল উৎপাদনে মাটির গুণাগুণ প্রভাব বিস্তার করে।
- কোন মাটিতে কোন ধরনের ফসল উৎপাদন করা যাবে তা মাটির গুণাগুণের উপর নির্ভর করে।
- মাটির সকল গুণাবলিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) ভৌত গুণাগুণ,
(খ) রাসায়নিক গুণাগুণ ও
(গ) জৈবিক গুণাগুণ।

(ক) মাটির ভৌত গুণাগুণ: মাটির ভৌত গুণাগুণ বলতে ১) মাটির বুনট ২) মাটির সংযুতি ৩) মাটির ঘনত্ব ৪) মাটির বর্ণ ৫) মাটির তাপমাত্রা ৬) মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ৭) মাটির বায়ু চলাচল ইত্যাদিকে বোঝায়।

(খ) মাটির রাসায়নিক গুণাগুণ: মাটির রাসায়নিক গুণাগুণ বলতে ১) মাটির অম্লত্ব ক্ষারত্ব ২) উদ্ভিদের জন্য সহজলভ্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ৩) মাটির লবণাক্ততা ইত্যাদিকে বোঝায়।

(গ) মাটির জৈবিক গুণাগুণ: মাটির জৈবিক গুণাগুণ বলতে ১) অণুজীবের প্রকার ২) অণুজীবের সংখ্যা ৩) অণুজীবের কার্যাবলি ইত্যাদিকে বোঝায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭১.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কী তৈরি হয়?
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. ভিটামিন
  4. স্নেহ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ:
- যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে আলোর উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে শর্করা ও পানি উৎপন্ন করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন অবমুক্ত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
- সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া।
- বিক্রিয়া: 6CO2 + 12H2O = C6H12O6 + 6H2O + 6O2
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোক্সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোক্সংশ্লেষণের দুটি পর্যায় রয়েছে: আলোকনির্ভর পর্যায় এবং আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ।
৭২.
ধানের ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. Xanthomonas oryzae pv. oryzae
  2. Xanthomonas oryzae pv. oryzicola
  3. Rhizoctonia Solani
  4. Pyricularia oryzae
ব্যাখ্যা
ধানের ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট:
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে গাছের কিছু কিছু অংশ খুব দ্রুত বিবর্ণ হয়।
- ফলে রোগাক্রান্ত গাছগুলো মরে যায়। অনেক সময় মৃত অংশ পঁচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
- এটি ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ বা ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত।
- ধানের যতগুলো মারাত্মক রোগ রয়েছে তার মধ্যে ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট অন্যতম।
- এটির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো- Xanthomonas oryzae pv. oryzae |
- জাপানের কৃষকরা সর্বপ্রথম ধানের ব্লাইট রোগের সন্ধান পান।
- বাংলাদেশে এ রোগের অস্তিত্ব প্রথম পাওয়া যায় ১৯৬৬ সালে রোপা আমন ধানে।
- এ রোগের প্রকোপের মাত্রা অনুযায়ী ধানের ফলন ৬- ৬০% কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কৃষি বাতায়ন।
৭৩.
হাঁস-মুরগির ঘর কোনমুখী হতে হবে?
  1. উত্তরমুখী
  2. পূর্বমুখী
  3. দক্ষিণমুখী
  4. পশ্চিমমুখী
ব্যাখ্যা
হাঁস-মুরগির ঘর:
- হাঁস-মুরগি পালনের জন্য আয়তাকার ঘর সবচেয়ে ভালো।
- হাঁস-মুরগির সংখ্যার উপর ঘরের দৈর্ঘ্য নির্ভর করে।
- তবে ঘরের দৈর্ঘ্য যাই হোক না কেন প্রস্থ ৪.৫-৯.০ মিটারের মধ্যে হতে হবে।
- হাঁস-মুরগির ঘর পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বি এবং দক্ষিণমুখী হতে হবে।
- ছাদের ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে দু'ধরনের মুরগির ঘর বেশি দেখা যায়। যেমন-
১। গ্যাবল টাইপ
২। শেড টাইপ

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৪.
C4 চক্রের অপর নাম কী?
  1. ব্যাশাম চক্র
  2. ক্যালভিন চক্র
  3. হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র
  4. ক্রাসুলেসিয়ান এসিড চক্র
ব্যাখ্যা
হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র (Hatch and Slack cycle):
- দু'জন অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M. D. Hatch এবং C. R. Slack (১৯৬৬) ইক্ষু উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার সময় দেখান যে, সালোকসংশ্লেষণের সময় এদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার-কার্বনবিশিষ্ট।
- এ চার কার্বনবিশিষ্ট পদার্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড।
- তাদের নাম অনুযায়ী সালোকসংশ্লেষণের এ চক্রকে হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র বলা হয়।
- যেহেতু এ উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট সেহেতু হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রকে C4 চক্রও বলা হয় এবং যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫.
নিচের কোনটি মৌসুম নিরপেক্ষ ফসল?
  1. পেঁপে
  2. পাট
  3. আলু
  4. ফুলকপি
ব্যাখ্যা
- যেসব ফসল সারা বছর লাভজনকভাবে চাষ করা হয় তাদেরকে মৌসুম নিরপেক্ষ ফসল বা বারমাসি ফসল বলা হয়।
- মৌসুম নিরপেক্ষ ফসলগুলোকে আবার দিবা নিরপেক্ষ ফসলও বলে।
- কারণ যেকোনো দৈর্ঘ্যের দিনে এসব ফসল ফুল-ফল উৎপাদন করতে পারে।
- ফসলের ফুল-ফল উৎপাদনে দিবা দৈর্ঘ্যের প্রভাবের বিষয়ে আমরা পরের পাঠে বিস্তারিত জানব।
- আমাদের দেশে মৌসুম নিরপেক্ষ উদ্যান ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে- লালশাক, বেগুন, মরিচ, পেঁপে, কলা ইত্যাদি।
- অন্যদিকে মৌসুম নিরপেক্ষ মাঠ ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভুট্টা, চিনাবাদাম ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৬.
উদ্ভিদের নিষিক্ত ও পরিপক্ক ডিম্বককে কী বলে?
  1. বীজ
  2. পরাগধানী
  3. পরাগরেণু
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বীজ:
- উদ্ভিদের বংশবিস্তারের মাধ্যম হলো বীজ।
- বীজ থেকেই নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়।
- সাধারণভাবে বীজ বলতে উদ্ভিদের নিষিক্ত ও পরিপক্ক ডিম্বককে বোঝায়
- যেমন: ধান, গম, পাট ইত্যাদির বীজ।
- তবে ব্যাপকভাবে বীজ বলতে উদ্ভিদের যে কোনো জীবন্ত অংশ যা পরবর্তীতে বংশবিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যেমন ধান, মিষ্টি আলুর লতা, আখের কাণ্ড, পাথর কুচির পাতা, পেঁয়াজ, গোলআলু ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৭.
নিচের কোনটি ঔষধি গাছ?
  1. পাট
  2. ধনিয়া
  3. থানকুনি
  4. তুলা
ব্যাখ্যা
ঔষধি উদ্ভিদ ও এর ব্যবহার: 
- আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ অতি প্রাচীনকাল থেকে রোগব্যাধি উপশমে বিভিন্ন রকম উদ্ভিদ ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছে।
- ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয় বলে এসব উদ্ভিদকে ঔষধি বা ভেষজ উদ্ভিদ বলা হয়।
- থানকুনি একটি ঔষধি গাছ। 

থানকুনি:
- থানকুনি একটি ছোট লতানো বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ।
- এর প্রতি পর্ব থেকে নিচে মূল এবং উপরে শাখা ও পাতা গজায়। পাতা সরল বৃক্কের মতো, একান্তর।
- ব্যবহার্য অংশ: সমস্ত উদ্ভিদ
- ব্যবহার: ছেলে মেয়েদের পেটের অসুখ, বিশেষ করে বদহজম ও আমাশয় রোগ নিরাময়ে থানকুনি খুব বেশি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া থানকুনি আয়ুবর্ধক, স্মৃতিবর্ধক, আমরক্ত নাশক, চর্মরোগনাশক।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৮.
ধানের পাতায় ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে কোন রোগের আক্রমণে?
  1. ব্লাইট রোগ
  2. ব্লাস্ট রোগ
  3. টুংরো রোগ
  4. কান্ড পচা রোগ
ব্যাখ্যা
ধানের ব্লাস্ট রোগ:
লক্ষণসমূহ:
১) পাতায় ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে।
২) দাগের চারদিকে গাঢ় বাদামি এবং মাঝের অংশ সাদা ছাই বর্ণের হয়।
৩) অনেকগুলো দাগ একত্রে মিশে গিয়ে সম্পূর্ণ পাতা মরে যায়।

দমনপদ্ধতি
১) নীরোগ বীজ ব্যবহার করা।
২) পটাশ জাতীয় সার উপরি প্রয়োগ করা।
৩) বীজ শোধন করে বোনা।
৪) জমিতে পানি ধরে রাখা।
৫) জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করা।
৬) রোগ প্রতিরোধ জাত বিআর৩, বিআর ১৪, বিআর ১৫, বিআর ১৬, বিআর ২৪, ব্রি ধান ২৮ রোপণ করা।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৯.
উদ্ভিদ জীবনের বিশেষ প্রক্রিয়া, যৌন-বংশ বৃদ্ধির উপর আলোর এরূপ প্রভাব বিস্তারকে কী বলে?
  1. ফটোসিন্থেসিস
  2. ফটোলাইসিস
  3. ফটো পিরিয়ডিজম
  4. ফটো ফসফোরাইলেশন
ব্যাখ্যা
ফসলের উপর আলোর প্রভাব:
- সূর্যের আলো আবহাওয়া ও জলবায়ুর অন্যতম প্রধান উপাদান।
- শস্যের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য আলোর প্রভাব অনস্বীকার্য।
- পর্যাপ্ত সূর্যের আলো উদ্ভিদের সালোক-সংশ্লেষনের জন্য অপরিহার্য।
- অধিকাংশ ঘাস জতীয় শস্যের বীজের অংকুরোদগমের জন্য আলোর বিশেষ প্রয়োজন।
- আলো অনেক উদ্ভিদের ফুল ও বীজ উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে।
- উদ্ভিদ জীবনের বিশেষ প্রক্রিয়া, যৌন-বংশ বৃদ্ধির উপর আলোর এরূপ প্রভাব বিস্তারকে ফটো পিরিয়ডিজম বলে।
- কিছু উদ্ভিদের শীষ, ফুল ও বীজ উৎপাদনের জন্য ১২ ঘন্টার বেশী আলোর প্রয়োজন।
- আবার কিছু উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য ১২ ঘন্টার কম আলো প্রয়োজন যেমন: পাট।
- কিছু উদ্ভিদের পুষ্পায়ণে আলোর প্রভাব পড়ে না যেমন: তুলা, ভুট্টা, তিল, চিনাবাদাম ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।