পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

পরীক্ষাব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
Exam - 74 Daily Quiz: Bangla: Topic: সন্ধি, উপসর্গ, অনুসর্গ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. পরম + ঈশ = পরমেশ
  2. ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত
  3. সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
  4. দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
ব্যাখ্যা
• পরম + ঈশ = পরমেশ; স্বরসন্ধির উদাহরণ।

• সূত্র:

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।

অন্যদিকে,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
- ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
সূত্র: 
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ, ড্ (ড়), দ্‌, ,ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ কয়টি?
  1. ১৯টি
  2. ২০টি
  3. ২১টি
  4. ২২টি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশ(২০)টি।
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশ(২১)টি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'তৃষ্ণার্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. তৃষ্ণা + রিত
  2. তৃষ্ণা + ঋত
  3. তৃষ্ণা + ঋতো
  4. তৃষ্ণা + আর্ত
ব্যাখ্যা
• 'তৃষ্ণার্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - তৃষ্ণা + ঋত।

• সূত্র:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়। যেমন-
- অ+ঋ = আর; শীত + ঋত = শীতার্ত।
- আ + ঋ = আর; তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।
- এরূপ- ভয়ার্ত, ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যে অনুসর্গ ব্যবহার করা হয়নি?
  1. আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
  2. সে মায়ের মতো কথা বলে।
  3. বিনি সুতায় গাঁথা মালা।
  4. পাখি আকাশে উড়ছে।
ব্যাখ্যা
• 'পাখি আকাশে উড়ছে।' বাক্যটিতে কোনো অনুসর্গ ব্যবহার করা হয়নি।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে,
- আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়,
- আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন-
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)। 
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।

অন্যদিকে,
- আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
- সে মায়ের মতো কথা বলে।
- বিনি সুতায় গাঁথা মালা।
- বাক্যগুলোতে জন্য, মতো ও বিনি অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন শব্দটি সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. পাতিহাঁস
  2. কদবেল
  3. রামছাগল
  4. অধিপতি
ব্যাখ্যা
• 'অধিপতি' সংস্কৃত 'অধি' উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।

• 'অধি' উপসর্গযোগে গঠিত অন্যান্য শব্দ:
- অধিকার, অধিবাস, অধিগত, 
- অধিরোহণ, অধিষ্ঠান, 
- অধিকার, অধিপতি, অধিবাসী।

অন্যদিকে,
পাতিহাঁস, কদবেল ও রামছাগল বাংলা উপসর্গ যথাক্রমে পাতি, কদ ও রাম যোগে গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'তোমার তরে এনেছি এক হাড়ি রসগোল্লা।' এখানে 'তরে' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. নিমিত্ত
  2. মধ্যে
  3. নিকট
  4. মত
ব্যাখ্যা
• 'তোমার তরে এনেছি এক হাড়ি রসগোল্লা।' এখানে 'তরে' অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থ প্রকাশ করছে।

এছাড়াও 
- কখনো কখনো তরে 'মত' অর্থেও ব্যবহৃত হয় ।
- যেমন: এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।

উল্লেখ্য,
'নিমিত্ত' অর্থে 'হেতু' ও 'জন্যে' অনুসর্গও ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- 'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।'
- 'এ ধন-সম্পদ তোমার জন্যে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন শব্দটি আরবি উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. বেআদব
  2. বদমেজাজ
  3. খাসখবর
  4. নারাজ
ব্যাখ্যা
• 'খাসখবর' আরবি উপসর্গ 'খাস' যোগে গঠিত হয়েছে।

• আরবি উপসর্গ:
- আম - আমদরবার, আমমোক্তার
- খাস - খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা, খাসদরবার
- লা - লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা
- গর - গরমিল, গরহাজির, গররাজি।

অন্যদিকে,
- বেআদব, বদমেজাজ ও নারাজ ফারসি উপসর্গ যথাক্রমে বে, বদ ও না যোগে গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'পাতিলেবু' শব্দে 'পাতি' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পরিপক্ব অর্থে
  2. সুঘ্রাণ অর্থে
  3. ক্ষুদ্র অর্থে
  4. অপরিপক্ব অর্থে
ব্যাখ্যা
• 'পাতিলেবু' শব্দে 'পাতি' ক্ষুদ্রঅর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'পাতি' একটি বাংলা উপসর্গ।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'পাতিলেবু' অর্থ: সবুজ হলুদাভ ছোটো প্রজাতির গোলাকার ভিটামিন সি সমৃদ্ধ রসালো অম্লস্বাদ ফলবিশেষ।

• 'পাতি' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ:
- পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু, পাতকুয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'গ্রীষ্মের পর আসে শীত।' এখানে 'পর' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. দীর্ঘ বিরতি
  2. বিরতি
  3. অল্প বিরতি
  4. নৈকট্য
ব্যাখ্যা
• 'গ্রীষ্মের পর আসে শীত।' এখানে 'পর' অনুসর্গটি দীর্ঘ বিরতি অর্থ প্রকাশ করছে।

• 'পর/পরে' অনুসর্গ :
- স্বল্প বিরতি অর্থে: এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
- দীর্ঘ বিরতি অর্থে: শরতের পরে আসে বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ভো + উক = ভাবুক
  2. পৌ + ইত্র = পবিত্র
  3. পৌ + অক = পাবক
  4. গো + আবাদি = গবাদি।
ব্যাখ্যা
• পৌ + অক = পাবক; সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক।

সূত্র:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন-
- ঔ + উ = আব্ + উ;  ভৌ + উক = ভাবুক।
- ও + ই = অব্‌ + ই;  পো + ইত্র = পবিত্র।
- ঔ + অ = আব্‌ + অ;  পৌ + অক = পাবক।
- ও + আ = অব্ + আ; গো + আদি = গবাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১.
'আবছায়া' কোন উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ-
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. বাংলা উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'আবছায়া' বাংলা 'আব' উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।
- 'আব' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ:
- আবছায়া, আবডাল।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. স্বাধীন পদ রূপে বসতে পারে না
  2. শব্দের পরে বসে
  3. স্বাধীন পদ রূপে বসতে পারে
  4. বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে
ব্যাখ্যা
• 'অনুসর্গ' স্বাধীন পদ রূপে বসতে পারে না। এই তথ্যটি ভুল।
- কারণ অনুসর্গ স্বাধীন পদ রূপে বসতে পারে।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ:

- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে,
- আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়,
- আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন-
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)। 
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩.
'তস্কর' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. তৎ + কর
  2. তস্‌ + কর
  3. তঃ + কর
  4. তদ্‌ + কর
ব্যাখ্যা
• 'তস্কর' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ তৎ + কর।

• কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:

- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।