পরীক্ষা আর্কাইভ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

পরীক্ষাসহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes২৭ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
[ATEO - নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ২১] বাংলা পরীক্ষা - ৫ (ব্যাকরণ) পরীক্ষার টপিক: উপসর্গ ১. বচন, লিঙ্গ, সংখ্যাবাচক শব্দ, ২. সমাস, ৩. পদ প্রকরণ, ৪. বাগ্‌ধারা, উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
“ঘরজামাই” কোন ধরনের সমাস?
  1. রূপক কর্মধারয়
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
“ঘরজামাই” হচ্ছে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন-
ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত,
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি,
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা। 

• কর্মধারয় সমাস
• যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

• যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে। যেমন-
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে। যেমন-
- তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
- চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
.
কোন উপসর্গটি "অভাব" অর্থ প্রকাশ করে?
  1. রাম
  2. কদ
  3. আব
  4. হা
সঠিক উত্তর:
হা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হা
ব্যাখ্যা
হা উপসর্গটি "অভাব" অর্থ প্রকাশ করে।

• হা
- অর্থদ্যোতকতা: অভাব অর্থে
- উদাহরণ: হাপিত্যেশ, হাভাতে, হাঘরে, হাকপাল, হাহুতাশ।

অন্যান্য অপশন:
• রাম
- অর্থদ্যোতকতা: বড় বা উৎকৃষ্ট অর্থে
- উদাহরণ: রামছাগল, রামশিঙা, রামবোকা, রামদা।

• আব
- অর্থদ্যোতকতা: অস্পষ্টতা অর্থে
- উদাহরণ: আবছায়া, আবডাল।

• কদ
- অর্থদ্যোতকতা: নিন্দিত অর্থে
- উদাহরণ: কদবেল, কদর্য, কদাকার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দ্বিতীয়
  2. সোয়া
  3. তেসরা
  4. চতুর্থ
সঠিক উত্তর:
সোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোয়া
ব্যাখ্যা

সোয়া হচ্ছে ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ।

• পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান বা পরিমাণ বোঝানো হয়।

• পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ তিন ধরনের হয়:
১. সাধারণ পূরণবাচক

- যেগুলো সাধারণ সংখ্যা বা ক্রম বোঝায়।
- যেমন: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ইত্যাদি।

২. তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
- কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যেমন আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

.
“তাজা মাছ” – এখানে “তাজা” কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. গুণবাচক
  3. বর্ণবাচক
  4. অংশবাচক
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
“তাজা মাছ” - এখানে “তাজা” অবস্থাবাচক বিশেষণ।
বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।

• নাম-বিশেষণ:
- যে বিশেষণ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দকে বিশেষিত করে, তাকে নাম-বিশেষণ বলে।
- নাম-বিশেষণ নিম্নলিখিত কয়েক প্রকারের হতে পারে। যেমন-
- বর্ণবাচক: বিশেষিত পদের বর্ণ বা রং নির্দেশ করে। যেমন-সবুজ মাঠ, নীল আকাশ, কালো মেঘ ইত্যাদি।
- গুণবাচক: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন-চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
- অংশবাচক: বিশেষিত পদের অংশ প্রকাশ করে। যেমন অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।

আরও কিছু নাম-বিশেষণের প্রকারভেদ দেওয়া হলো- 
- সংখ্যাবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা নির্দেশ করে। যেমন। হাজার লোক, দশ টাকা, শ টাকা, সাত দিন।
- ক্রমবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা ক্রমিক অবস্থা নির্দেশ করে। যেমন: দশম শ্রেণি, দ্বিতীয় পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
- পরিমাণবাচক: বিশেষিত পদের পরিমাণ বা মাত্রা নির্দেশ করে। যেমন: বিষাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনি জাহাজ, এক কেজি চাল ইত্যাদি।
- উপাদানবাচক:বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি।
- প্রশ্নবাচক: প্রশ্নবাচক পদের জবাব বিশেষণ হয়। যেমন: কত দূর পথ? কেমন অবস্থা। কতক্ষণ সময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘-অক’ প্রত্যয়ের পরিবর্তে নারীবাচক শব্দে কোন প্রত্যয় বসে?
  1. -নী
  2. -আনী
  3. -ইকা
  4. -মতী
সঠিক উত্তর:
-ইকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-ইকা
ব্যাখ্যা
‘-অক’ প্রত্যয়ের পরিবর্তে নারীবাচক শব্দে -ইকা প্রত্যয় বসে।

• প্রত্যয় যোগে
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। 
'-অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে 'অক'-এর জায়গায় '-ইকা' হয়।
যেমন
- পাঠক-পাঠিকা,
- লেখক-লেখিকা,
- গায়ক-গায়িকা।

- আনী প্রত্যয় যোগ করে: ইন্দ্র-ইন্দ্রাণী, শূদ্র-শূদ্রাণী।
- নী প্রত্যয় যোগ করে: দুঃখী-দুঃখিনী, শ্বেতাঙ্গ-শ্বেতালিনী।
- মতী: আয়ুম্মান-আয়ুষ্মতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
.
"নিজেরা নিজেরা সমস্যা সমাধান করো।" - এখানে কোন ধরনের সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে?
    অনির্ধারিত
    ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর - খ) পারস্পরিক সর্বনাম।
    দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
    যেমন পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

    অন্যান্য অপশন:
    • সকলবাচক সর্বনাম:
    - ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়।
    - যেমন: সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

    • আত্মবাচক সর্বনাম:
    - কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
    - যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

    • সাপেক্ষ সর্বনাম:
    - পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
    - যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    .
    “ডুমুরের ফুল” বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
    1. সুসময়ের বন্ধু
    2. অদৃশ্য বস্তু
    3. নাছোড়বান্দা
    4. কূটবুদ্ধি
    সঠিক উত্তর:
    অদৃশ্য বস্তু
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    অদৃশ্য বস্তু
    ব্যাখ্যা
    “ডুমুরের ফুল” বাগ্‌ধারাটির অর্থ- অদৃশ্য বস্তু।
    ডুমুরের ফুল (অদৃশ্য বস্তু): তুমি দেখি একেবারে ডুমুরের ফুল হয়ে গেছ!

    • অন্যান্য অপশন:
    - দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু): সুযোগসন্ধানীরা সব সময়ে দুধের মাছির মতো ক্ষমতার আশপাশে ঘোরে।
    - চিনে জোঁক (নাছোড়বান্দা): লোকটি এ কাজ পাওয়ার জন্য একেবারে চিনে জোঁকের মতো লেগে আছে।
    - জিলাপির প্যাঁচ (কূটবুদ্ধি): বাইরে থেকে দেখতে সরল হলেও লোকটির অন্তরে জিলাপির প্যাঁচ।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    .
    একবচন বাচক নির্দেশক কোনটি?
    1. দাম
    2. গাছি
    3. গ্রাম
    4. মহল
    সঠিক উত্তর:
    গাছি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    গাছি
    ব্যাখ্যা
    গাছি একবচন বাচক নির্দেশক।
    যেমন: মালাগাছি।

    • একবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
    'টি', 'টা', 'খানা', 'খানি' ইত্যাদি নির্দেশক প্রত্যয় 'এক'-এর সঙ্গে যোগ করে, অথবা 'এক' শব্দটিকে ব্যবহার না করেও বিশেষ্যের সঙ্গে টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক প্রত্যয় যোগে একবচন গঠন করা যায়। যেমন:
    - একটি ছেলে অথবা ছেলেটি।
    - তার গলায় ছিল একখানি হার।

    • সমষ্টিবাচক শব্দ যোগে:
    - দাম: শৈবালদাম,
    - গ্রাম: গুণগ্রাম,
    - মহল: মহিলামহল, গুণিমহল।

    উৎস: ১। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ২। বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
    .
    কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
    1. কাজলকালো
    2. তুষারপুত্র
    3. চাঁদমুখ
    4. শশব্যস্ত
    সঠিক উত্তর:
    চাঁদমুখ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    চাঁদমুখ
    ব্যাখ্যা
    চাঁদমুখ হচ্ছে উপমিত কর্মধারয় সমাস।

    • উপমিত কর্মধারয় সমাস
    - যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
    - এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
    - যেমন সোনার মতো মুখ সোনামুখ, বাস্তু লতার ন্যায় বাতুলতা। 
    - এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
    যেমন
    - মুখ চন্দ্রের ন্যায় মুখচন্দ্র।

    এরূপ-
    করকমল, করপল্লব, অধরপল্লব, চরণকমল, চরণণয়, চাঁদবদন, চাঁদমুখ, নয়নপল্প, মুখগল্প, হাঁড়িমুখ ইত্যাদি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

    • উপমান কর্মধারয় সমাস
    - যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
    যেমন-
    ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।

    - কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
    - তুষারের ন্যায় পুত্র = তুষারপুত্র
    - শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

    এরূপ-
    অগ্নিশর্মা, অরুণরাঙা, কচুকাটা, কদমহাট, কাচভঙ্গুর, কুসুমকোমল, কাজলকালো, গোবেচারা, শৈলোন্নত, দুখখবল, ধনুকবাঁকা, নিমতেতো, প্রস্তরকঠিন, ফুটিফাটা, রক্তিমূর্থ, বকধার্মিক, বিড়ালভপমী, বরফসাদা, বজ্রকঠিন, লৌহকঠিন, শিশির-রিপ, সিদুররাঙা ইত্যাদি উপমান কর্মধারয় সমাস।

    উৎস:
    ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ১০.
    কোনটি ফারসি উপসর্গ?
    1. আম
    2. খাস
    3. গর
    4. নিম
    সঠিক উত্তর:
    নিম
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    নিম
    ব্যাখ্যা
    নিম হচ্ছে ফারসি উপসর্গ।
    - অর্থদ্যোতকতা: আধা, আংশিক
    - উদাহরণ: নিমরাজি, নিমমোল্লা, নিমখুন

    আম , খাস, গর হচ্ছে আরবি উপসর্গ।

    • আম
    - অর্থদ্যোতকতা: সাধারণ
    - উদাহরণ: আমদরবার, আমমোক্তার

    • খাস
    - অর্থদ্যোতকতা: বিশেষ
    - উদাহরণ: খাসমহল, খাসদরবার, খাসকামরা

    • গর
    - অর্থদ্যোতকতা: অভাব বা অনুপস্থিতি
    - উদাহরণ: গরহাজির, গররাজি, গরমিল

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ১১.
    কোনটি ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বিশিষ্ট বাক্য?
    1. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
    2. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
    3. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
    4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
    সঠিক উত্তর:
    টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
    ব্যাখ্যা
    টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে - একটি ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। 
    - কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
    • উদাহরণ
    - টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
    - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

    স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
    - ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
    • উদাহরণ
    - মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
    - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
    - বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
    • উদাহরণ
    - কি: আমি কি যাব?
    - যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

    কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:

    - এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
    • উদাহরণ
    - আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
    - যথাসময়ে সে হাজির হয়।

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ১২.
    “কানাকানি” কোন সমাস?
    1. ব্যতিহার বহুব্রীহি
    2. সমানাধিকার বহুব্রীহি
    3. পদলোপী কর্মধারয়
    4. অলুক বহুব্রীহি
    সঠিক উত্তর:
    ব্যতিহার বহুব্রীহি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ব্যতিহার বহুব্রীহি
    ব্যাখ্যা
    “কানাকানি” হচ্ছে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
    - পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। 
    - হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
    - কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

    • অন্যান্য অপশন:
    সমানাধিকার বহুব্রীহি

    - পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
    • উদাহরণ
    - এক গোঁ যার = একগুঁয়ে,
    - লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

    পদলোপী বহুব্রীহি
    - যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
    • উদাহরণ
    - চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,
    - হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

    অলুক বহুব্রীহি
    - যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
    • উদাহরণ
    - গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
    - কানে খাটো যে = কানেখাটো।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ১৩.
    কোন শব্দটি ‘পর্বত’ শব্দের বহুবচন রূপ প্রকাশ করে?
    1. নিচয়
    2. মালা
    3. রাজি
    4. রাশি
    সঠিক উত্তর:
    মালা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    মালা
    ব্যাখ্যা
    মালা শব্দটি ‘পর্বত’ শব্দের বহুবচন রূপ প্রকাশ করে।
    • মালা শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
    - মেঘমালা,
    - গ্রন্থমালা,
    - পর্বতমালা

    অন্যান্য অপশন:
    • নিচয় শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
    - পুষ্পনিচয়,
    - বুধনিচয়।

    • রাজি শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
    - পুষ্পরাজি,
    - বৃক্ষরাজি,
    - গ্রন্থরাজি।

    রাশি শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
    - পুষ্পরাশি,
    - পত্ররাশি।

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ১৪.
    “মাথার উপরে আকাশ।” — এখানে ‘উপরে’ কোন ধরনের অনুসর্গ?
    1. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
    2. সাধারণ অনুসর্গ
    3. অব্যয়সূচক অনুসর্গ
    4. সম্বন্ধসূচক অনুসর্গ
    সঠিক উত্তর:
    সাধারণ অনুসর্গ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    সাধারণ অনুসর্গ
    ব্যাখ্যা
    “মাথার উপরে আকাশ।” - এখানে ‘উপরে’ হচ্ছে সাধারণ অনুসর্গ।

    • সাধারণ অনুসর্গ
    - যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
    • উদাহরণ
    - উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
    - কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
    - জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
    - দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
    - বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ১৫.
    নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ নয় কোনটি?
    1. কুলটা
    2. সতীন
    3. রজঃস্বলা
    4. পাগলি
    সঠিক উত্তর:
    পাগলি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    পাগলি
    ব্যাখ্যা
    পাগলি নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ নয়।
    পাগলি -ই প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ।

    • কিছু শব্দ রয়েছে যা নিত্য নারীবাচক।
    নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ যেমন:
    - সতীন,
    - বিধবা,
    - বারবানিয়া (অন্যান্য প্রতিশব্দ),
    - অসতী,
    - কুলটা,
    - গর্ভবতী,
    - রজঃস্বলা, ইত্যাদি।

    উৎস: ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ১৬.
    ঈষৎ অর্থ প্রকাশ করছে কোন উপসর্গযুক্ত শব্দটি?
    1. অভিজ্ঞ
    2. আরক্ত
    3. আখাম্বা
    4. তুল্য
    সঠিক উত্তর:
    আরক্ত
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    আরক্ত
    ব্যাখ্যা
    আরক্ত দ্বারা ঈষৎ অর্থ প্রকাশ করছে।
    আরক্ত অর্থ হচ্ছে রক্তিম আভাযুক্ত।

    • আ-
    - অর্থদ্যোতকতা: ঈষৎ
    - উদাহরণ: আ+রক্ত = আরক্ত

    অন্যান্য অপশন:
    • অভি-
    - অর্থদ্যোতকতা: সম্যক
    - উদাহরণ: অভি+জ্ঞ = অভিজ্ঞ

    • আ-
    - অর্থদ্যোতকতা: সদৃশ
    - উদাহরণ: আ+ খাম্বা = আখাম্বা

    • প্রতি-
    - অর্থদ্যোতকতা: তুল্য
    - উদাহরণ: প্রতি+ধ্বনি = প্রতিধ্বনি

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ১৭.
    কোনটি অলুক তৎপুরুষ?
    1. হাতেপায়ে
    2. তেলেভাজা
    3. কানেখাটো
    4. পথেপ্রবাসে
    সঠিক উত্তর:
    তেলেভাজা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    তেলেভাজা
    ব্যাখ্যা
    তেলেভাজা অলুক তৎপুরুষ সমাস।

    • অলুক তৎপুরুষ সমাস
    পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে তৎপুরুষ সমাস হলে তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। 'অলুক' শব্দের অর্থ অ-লোপ, অর্থাৎ লোপ না হওয়া।
    যেমন-
    - সোনার তরী = সোনার তরী,
    - চিনির বলদ = চিনির বলদ,
    - তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
    - খেলার মাঠ = খেলার মাঠ ইত্যাদি অলুক তৎপুরুষ সমাস।

    অন্যদিকে, 
    • অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
    - যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সুস্ত না হয়ে সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে তাকে অনুক হন্দু বলে।
    - যেমন:
    কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে,
    দুধে ও ভাতে = দুধেতাতে ইত্যাদি।

    এরূপ- আদায়-কাঁচকলায়, আগেপিছে, কাগজে-কলমে, ধীরেসুস্থে, ক্ষেতেখামারে, দলেদলে, দুঃখেসুখে, হাতেপায়ে, হাতেনাতে, যাকেতাকে, ঝোপেঝাড়ে, মনেপ্রাণে, জলেডাঙায়, পথেপ্রবাসে, ইত্যাদি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

    • অলুক বহুব্রীহি সমাস
    - যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। যেমন-
    - গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
    - কানে খাটো যে = কানেখাটো।

    উৎস:
    ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ১৮.
    সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ কোনটি?
    1. ৪ঠা
    2. ৫ম
    3. ৩রা
    4. ৫ই
    সঠিক উত্তর:
    ৫ম
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ৫ম
    ব্যাখ্যা
    সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে ৫ম।

    • সাধারণ পূরণবাচক

    যেসব সংখ্যাশব্দ দ্বারা কোনো বস্তুর ক্রমবাচক পর্যায় বা অবস্থান বোঝানো হয়, তাদের সাধারণ পূরণবাচক বলে।
    উদাহরণ:
    প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ, ত্রয়োদশ, চতুর্দশ, পঁচদশ ইত্যাদি।

    • সংক্ষিপ্ত রূপে লেখা যায়:
    - প্রথম → ১ম
    - দ্বিতীয় → ২য়
    - তৃতীয় → ৩য়
    - চতুর্থ → ৪র্থ

    ৪ঠা, ৩রা, ৫ই হচ্ছে তারিখ পূরণবাচক শব্দ।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ১৯.
    “তুমি খোকাকে কাঁদিও না।” - এখানে ‘তুমি’ হচ্ছে -
    1. প্রযোজ্য কর্তা
    2. সহায়ক কর্তা
    3. প্রযোজক কর্তা
    4. প্রধান কর্তা
    সঠিক উত্তর:
    প্রযোজক কর্তা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    প্রযোজক কর্তা
    ব্যাখ্যা
    “তুমি খোকাকে কাঁদিও না।” - এখানে ‘তুমি’ হচ্ছে প্রযোজক কর্তা।
    এখানে,
    - তুমি: প্রযোজক কর্তা
    - খোকাকে: প্রযোজ্য কর্তা
    - কাঁদিও না: প্রযোজক ক্রিয়া

    প্রযোজক ক্রিয়া:
    যে ক্রিয়া একজনের (কর্তার) প্রযোজনা বা চালনায় অন্যের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে বলে প্রযোজক ক্রিয়া। (সংস্কৃতে একে ণিজন্ত ক্রিয়া বলে)।
    যেমন-আনিস শাস্তুকে পড়াচ্ছে। এখানে প্রকৃতপক্ষে পড়ার কাজটি শান্ত করছে, কিন্তু কাজটি পরিচালনা করছে আনিস।

    প্রযোজক কর্তা: যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে বলে প্রযোজক কর্তা।
    পূর্ববর্তী উদাহরণে আনিস প্রযোজক কর্তা আর পড়াচ্ছে প্রযোজক ক্রিয়া।

    প্রযোজ্য কর্তা: যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।

    • উদাহরণ -
    -মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
    এখানে,
    - মা : প্রযোজক কর্তা
    - শিশুকে: প্রযোজ্য কর্তা
    - চাঁদ দেখাচ্ছেন: প্রযোজক ক্রিয়া

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ২০.
    "ব্যাঙের সর্দি" বাগ্‌ধারার সমার্থক কোনটি?
    1. ভিজে বিড়াল
    2. বাঘের দুধ
    3. কুয়োর ব্যাঙ
    4. কৈ মাছের প্রাণ
    সঠিক উত্তর:
    বাঘের দুধ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    বাঘের দুধ
    ব্যাখ্যা
    ব্যাঙের সর্দি বাগ্‌ধারার সমার্থক হচ্ছে বাঘের দুধ।
    - ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব বন্ধু)-দশ বছর যে জেল খাটল তাকে দেখাচ্ছ জেলের ভয়, ব্যাঙের আবার সর্দি?
    - বাঘের দুধ (অসম্ভব বস্তু): টাকায় কী না হয়? বাঘের দুধ মেলে।

    • অন্যান্য অপশন:
    - ভিজে বিড়াল (কপট ব্যক্তি): সাবধান, আমাদের চারদিকে ভিজে বিড়ালের অভাব নেই।
    - কুয়োর ব্যাঙ (সংকীর্ণমনা লোক): ও রকম কুয়োর ব্যাঙ দিয়ে নতুন কিছু করা যাবে না।
    - কৈ মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না): শত প্রতিকূল পরিবেশেও এরা কৈ মাছের প্রাণ হয়ে বাঁচে।

    উৎস:
    ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ২১.
    ‘শূদ্র’ শব্দের নারীবাচক রূপ কোনটি?
    1. শূধা
    2. শূদ্রাণী
    3. শূদ্রিনী
    4. শূদ্রিয়া
    সঠিক উত্তর:
    শূদ্রাণী
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    শূদ্রাণী
    ব্যাখ্যা
    ‘শূদ্র’ শব্দের নারীবাচক রূপ হচ্ছে- শূদ্রাণী।

    • ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যয়যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দের অর্থপার্থক্য
    ভিন্ন ভিন্ন নারীবাচক প্রত্যয় যোগে একই পুরুষবাচক শব্দের একাধিক নারীবাচক রূপ হতে পারে।
    সেক্ষেত্রে অর্থগত পার্থক্য হয়ে থাকে।
    যেমন:
    আচার্য- আচার্যা (অধ্যাপিকা),
    আচার্যানী (আচার্যের স্ত্রী)।

    ক্ষত্রিয়-ক্ষত্রিয়া/ক্ষত্রিয়াণী ক্ষত্রিয় রমণী,
    ক্ষত্রিয়ী (ক্ষত্রিয়ের স্ত্রী)।

    চণ্ড-চণ্ডা (কোপন স্বভাবের নারী),
    চন্ডী (দেবী দুর্গা)।

    প্রাজ্ঞ-প্রাজ্ঞা (প্রজ্ঞাবতী মহিলা),
    প্রাজ্ঞী (প্রজ্ঞাবানের স্ত্রী),

    বৈশ্য-বৈশ্যা (বৈশ্য নারী),
    বৈশ্যানী (বৈশ্যের স্ত্রী),

    শূদ্র-শূদ্রা (শূদ্র জাতীয় নারী),
    শূদ্রাণী (শূদ্রের পত্নী)।

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ২২.
    "যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।" - বাক্যটিতে ব্যবহৃত কোন ধরনের যোজক রয়েছে?
    1. বিকল্প
    2. সাধারণ
    3. বিরোধ
    4. সাপেক্ষ
    সঠিক উত্তর:
    সাপেক্ষ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    সাপেক্ষ
    ব্যাখ্যা
    "যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।" - বাক্যটিতে ব্যবহৃত সাপেক্ষ যোজক রয়েছে।
    এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
    • উদাহরণ
    - যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
    - যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

    বিকল্প যোজক:
    - এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
    • উদাহরণ
    - লাল বা নীল কলমটা আনো।
    - চা না-হয় কফি খান।

    সাধারণ যোজক:
    - এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
    • উদাহরণ
    - রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
    - জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

    বিরোধ যোজক:
    - এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
    • উদাহরণ 
    - এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
    - তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ২৩.
    "অক্কা পাওয়া" দ্বারা কোন বাগ্‌ধারাটিকে বোঝায়?
    1. ঠোঁট কাটা
    2. গোল্লায় যাওয়া
    3. গায়ে পড়া
    4. পটল তোলা
    সঠিক উত্তর:
    পটল তোলা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    পটল তোলা
    ব্যাখ্যা
    "অক্কা পাওয়া" দ্বারা পটল তোলা বাগ্‌ধারাটিকে বোঝায়।
    - অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া): খারাপ লোকটা আরো আগেই অক্কা পেতে পারত।
    - পটল তোলা (মারা যাওয়া): আজ বাদে কাল পটল তুলবে, অথচ তার মিথ্যাচার গেল না।

    • অন্যান্য অপশন:
    - ঠোঁট কাটা (বেহায়া): আজকাল ঠোঁটকাটা লোকের অভাব নেই।
    - গোল্লায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া): সৎ সঙ্গে মিশলে গোল্লায় যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
    - গায়ে পড়া (অযাচিত): গায়ে পড়ে কোনো কাজ করতে যেও না বাপু।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ২৪.
    প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ কোনটি?
    1. উচ্চয়
    2. ব্রজ
    3. কুল
    4. জাল
    সঠিক উত্তর:
    কুল
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    কুল
    ব্যাখ্যা
    প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ হচ্ছে কুল।
    - যেমন: জীবকুল, অলিকুল।

    • অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত শব্দ 
    ব্রজ - ভূধরব্রজ, গিরিব্রজ,
    জাল - শরজাল, বিপজ্জাল,
    উচ্চোয় - শিলচ্চয়, পুষ্পোচ্চয়।

    • অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
    - আবলি,
    - গুচ্ছ,
    - দাম,
    - নিকর,
    - পুঞ্জ,
    - মালা,
    - রাজি,
    - রাশি।
     
    • প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
    - গণ,
    - কুল,
    - পাল,
    - ব্রাত,

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ২৫.
    কোনটি বিভক্তি লোপ প্রাপ্ত তৎপুরুষ সমাস?
    1. হাতে কাটা
    2. তেলেভাজা
    3. গরুরগাড়ি
    4. ছেলে ভুলানো
    সঠিক উত্তর:
    ছেলে ভুলানো
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ছেলে ভুলানো
    ব্যাখ্যা
    ছেলে-ভুলানো বিভক্তি লোপ প্রাপ্ত তৎপুরুষ সমাস।

    • অলুক তৎপুরুষ সমাস:
    - সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম অলুক তৎপুরুষ সমাস।
    - এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
    - বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
    দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
    ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো,
    মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
    ধানের খেত = ধানখেত,
    পথের রাজা = রাজপথ,
    গোলায় ভরা = গোলাভরা,
    গাছে পাকা = গাছপাকা,
    অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ২৬.
    ‘সোনালি ফসল’ - এখানে ‘সোনালি’ কোন ধরনের বিশেষণ?
    1. গুণবাচক
    2. বিশেষ্যজাত
    3. ক্রিয়াদ্বিত্বজাত
    4. উপাদানবাচক
    সঠিক উত্তর:
    বিশেষ্যজাত
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    বিশেষ্যজাত
    ব্যাখ্যা
    ‘সোনালি ফসল’ - এখানে ‘সোনালি’ বিশেষ্যজাত বিশেষণ।
    বিশেষ্যের সঙ্গে প্রত্যয় (তদ্ধিত প্রত্যয়) যোগে এ ধরনের বিশেষণ গঠিত হয়।এদেরকে বিশেষ্যজাত বিশেষণ।
    - দেশীয় (দেশ+ঈয়) সম্পদ,
    - সোনালি (সোনা+আলি। ফসল,
    - মেঘলা (মেঘ+লা) আকাশ।

    • অন্যান্য অপশন:
    - গুণবাচক: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন-চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
    - ক্রিয়াদ্বিত্বজাত বিশেষণ: ক্রিয়াপদের দ্বিত্ব ঘটিয়ে গঠিত হয়। যেমন। যায় যায় অবস্থা, খাই খাই মলন, কাঁদো কাঁদো চেহারা।
    - উপাদানবাচক বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পামুদ্রে মূর্তি।

    উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    ২৭.
    অপত্নীবাচক শব্দ কোনটি?
    1. জেলেনি
    2. শিক্ষিকা
    3. গুরুপত্নী
    4. দাদি
    সঠিক উত্তর:
    শিক্ষিকা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    শিক্ষিকা
    ব্যাখ্যা
    শিক্ষিকা একটি অপত্নীবাচক শব্দ।

    সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।
    স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
    যেমন
    - পিতা-মাতা,
    - চাচা-চাচি,
    - দাদা-দাদি,
    - জেলে-জেলেনি,
    - গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

    অন্যদিকে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
    যেমন
    - খোকা-খুকি,
    - ছাত্র-ছাত্রী,
    - শিক্ষক-শিক্ষিকা,
    - নেতা-নেত্রী,
    - পাগল-পাগলি।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
    ২৮.
    "গায়েপড়া" শব্দটি কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
    1. সংখ্যাবাচক
    2. পদলোপী
    3. ব্যাধিকরণ
    4. অলুক
    সঠিক উত্তর:
    অলুক
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    অলুক
    ব্যাখ্যা
    "গায়েপড়া" শব্দটি অলুক বহুব্রীহি সমাস।

    • অলুক বহুব্রীহি সমাস
    - যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
    যেমন-
    - গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
    - কানে খাটো যে = কানেখাটো।

    • অন্যান্য অপশন:
    • সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
    - যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
    যেমন-
    - চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ,
    - সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

    পদলোপী বহুব্রীহি সমাস
    - যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন-
    - চিরুনির মতো দাঁত যার চিরুনদাঁতি,
    - হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে হাতেখড়ি।

    • ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
    - পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
    যেমন-
    - গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।