পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৮৩
সিলেবাস
Exam - 40 Evidence Act: Subject Final Topic ➝ EA-Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৮৩ প্রশ্ন

.
অনুমান কত প্রকারের হতে পারে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে- অনুমান (Presumption) ৩ প্রকার:
১) অনুমান করতে পারে (May presume);
২) অনুমান করবে (Shall presume);
৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof)।

অনুমান করতে পারে (May presume):
যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

অনুমান করবে (Shall presume):
যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof):
এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত। করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।
.
The Evidence Act, 1872 কে প্রণয়ন করে?
  1. Lord Steven
  2. Lord Macaulay
  3. James Stephen
  4. G.W. Anderson
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ জেমস স্টিফেন কর্তৃক প্রণীত হয়।
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর প্রাথমিক তথ্য:
আইন নং: ১৮৭২ সালের ১নং আইন।
প্রকাশিত : ১৫ মার্চ, ১৮৭২।
কার্যকর : ১ লা সেপ্টেম্বর, ১৮৭২।
ধারা : ১৬৭ টি।
 
খণ্ড : ৩টি
১ম খণ্ড : ১ - ৫৫ ধারা - ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা,
২য় খণ্ড : ৫৬ - ১০০ ধারা - ঘটনার প্রমাণ,
৩য় খণ্ড : ১০১ - ১৬৭ ধারা - সাক্ষ্য উপস্থাপন ও ইহার ফলাফল।
.
সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার অধীন প্রদত্ত বিবৃতি কয়টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১১টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী-
কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
 
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
.
সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী কয় ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া যায়?
  1. ৩ ধরনের
  2. ২ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারার বিধান অনুযায়ী- 'বিচার্য ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা'- এই দুই ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে।

⇒ কোন মামলায় বা কার্যক্রমে বিচার্য প্রত্যেক বিষয়ের এবং এই আইনের অতঃপর যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে তাহাদের অস্তিত্ব বা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে। ইহা ভিন্ন অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না।
ব্যাখ্যাঃ দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে বর্তমান প্রচলিত কোন আইন অনুসারে কোন ব্যাক্তি যে বিষয় প্রমাণ করার অধিকার নহে, এই ধারা অনুসারে সেই ব্যাক্তি সেই বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারে না।

Section 5⇒ Evidence may be given of facts in issue and relevant facts:
Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are hereinafter declared to be relevant, and of no others.
Explanation.-This section shall not enable any person to give evidence of a fact which he is disentitled to prove by any provision of the law for the time being in force relating to Civil Procedure.
.
সাক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃতি কোন অর্থে ব্যবহার করা যায়?
  1. Estoppel
  2. Evidence
  3. Confession
  4. Conclusive Proof
ব্যাখ্যা
• স্বীকৃতি হচ্ছে মৌখিক বা লিখিত এমন কোন বিবৃতি, যা কোন বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোন অনুমানের ইঙ্গিত বহন করে।
 
সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে: 
কোন বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
 
Section 31: Admissions not conclusive proof, but may stop:
Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.
.
যে দলিল আইনে সত্যায়ন করার জন্য নির্দেশিত, সেই দলিল প্রমাণ করার জন্য অন্ততপক্ষে কয়জন সত্যায়নকারী সাক্ষী তলব না করা পর্যন্ত দলিলটি সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না?
  1. ২ জন
  2. ১ জন
  3. ৩ জন
  4. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারা- যে দলিল সত্যায়িত করা আইনত প্রয়োজন, তা সম্পাদনের প্রমাণ:
 
যে দলিল আইনে সত্যায়ন করার জন্য নির্দেশিত সেই দলিল প্রমাণ করার জন্য অন্ততপক্ষে একজন সত্যায়নকারী সাক্ষী তলব না করা পর্যন্ত দলিলটি সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।
তবে শর্ত থাকে যে, উইল ব্যতীত অন্য কোন দলিল যদি রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকে এবং সম্পাদনকারী যদি সম্পাদনের কথা নির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা না হয়, তা হলে সত্যায়নকারী সাক্ষীকে তলব করা প্রয়োজন হবে না।
 
Section 68- Proof of execution of document required by law to be attested:
If a document is required by law to be attested, it shall not be used as evidence until one attesting witness at least has been called for the purpose of proving its execution, if there be an attesting witness alive, and subject to the process of the Court and capable of giving evidence: 
 
Provided that it shall not be necessary to call an attesting witness in proof of the execution of any document, not being a will, which has been registered in accordance with the provisions of the Registration Act, 1908, unless its execution by the person by whom it purports to have been executed is specifically denied.
.
'স্বীকৃতি হলাে মৌখিক বা লিখিত বক্তব্য, যা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোন ধারণার সূত্রপাত করে।'- এই সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে-
  1. সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ১৬ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ১৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারাঃ ১৭: স্বীকৃতি বা Admission-
স্বীকৃতি হলাে মৌখিক বা লিখিত বক্তব্য, যা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোন ধারণার সূত্রপাত করে।

প্রকারভেদ: স্বীকৃতি ২ প্রকার-
১। মৌখিক স্বীকৃতি;
২। লিখিত স্বীকৃতি।

সাক্ষ্য আইনের ভাষায়-
An admission is a statement, oral or documentary which suggest any inference as to any fact in issue or relevant fact and which is made by any of the persons and under the circumstances hereinafter mentioned.
.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারনের ক্ষেত্রে চরিত্র-
  1. প্রাসঙ্গিক হবে
  2. অপ্রাসঙ্গিক হবে
  3. চূড়ান্ত প্রমাণ হবে
  4. স্বীকারোক্তি হিসেবে প্রমাণিত হবে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারা অনুসারে,
দেওয়ানি মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারনের ক্ষেত্রে চরিত্র প্রাসঙ্গিক হবে।
 
Section 55⇒ Character as affecting damages:
In civil cases the fact that the character of any person is such as to affect the amount of damages which he ought to receive, is relevant. 
.
সাক্ষ্য আইনের ২৩ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক
  2. মামলার বিষয় বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক
  3. পক্ষগণের প্রতিনিধির স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক
  4. দলিলের বিষয় সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা
ধারা ২৩: দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক:
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।
ব্যাখ্যাঃ কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না।

⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
১. স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
২. সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।

Section 23: Admissions in civil cases when relevant:
In civil cases no admission is relevant, if it is made either upon an express condition that evidence of it is not to be given, or under circumstances from which the Court can infer that the parties agreed together that evidence of it should not be given.
Explanation.– Nothing in this section shall be taken to exempt any 17[Advocate] from giving evidence of any matter of which he may be compelled to give evidence under section 126.
১০.
যে কোনো ঘটনা যা আদালতকে মামলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সহায়তা করে, সেগুলোকে সাক্ষ্য আইনের _____ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য করা হবে।
  1. ১৩
  2. ১২
  3. ১৬
  4. ১৫
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী,
যে কোনো ঘটনা যা আদালতকে মামলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সহায়তা করে, সেগুলোকে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য করা হবে।

কিছু প্রাসঙ্গিক ঘটনার উদাহরণ:
১. ক্ষতির প্রকৃতি ও আকার সম্পর্কিত ঘটনা (শারীরিক ক্ষতি, আর্থিক ক্ষতি ইত্যাদি);
২. ক্ষতিগ্রস্থের আর্থিক অবস্থা বুঝতে সাহায্যকারী ঘটনা (আয়, খরচ ইত্যাদি);
৩. দায়ী পক্ষের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কিত ঘটনা;

৪. দায়িত্বের প্রকৃতি ও কারণ বুঝতে সাহায্যকারী ঘটনা;
৫. ক্ষতির ফলাফল সম্পর্কিত ঘটনা (শারীরিক/মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি);
৬. ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কিত ঘটনা।

সুতরাং ১২ ধারার লক্ষ্য হলো ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে যে কোনো প্রাসঙ্গিক ঘটনাকে গ্রহণ করা যাতে আদালতকে সহায়তা করা যায়। প্রাসঙ্গিকতার মূল লক্ষ্য হল যথাযথ ক্ষতিপূরণ নির্ণয়।
১১.
সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারার বিষয়বস্তু কী?
  1. Facts judicially noticeable need not be proved
  2. Facts admitted need not be proved
  3. Facts of which Court must take judicial notice
  4. Facts not admitted must be proved
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- আদালত কোন কোন বিষয় অবশ্যই বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (জুডিশিয়াল নোটিশ) নিবেন [Facts of which Court must take judicial notice].
 
৫৭ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অবশ্যই জুডিশিয়াল নোটিশ নিবেন-
i) বাংলাদেশের সকল আইন;
ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রনীত যুদ্ধবিধি বা অস্ত্র ও রসদ;
iii) সংসদের কার্যসমূহ;
iv) বাংলাদেশের আদালত, নৌ ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত এবং নোটারি পাবলিকের সীলমোহর;
v) সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে উল্লেখিত নাম, পদ, স্বাক্ষর, যোগদানের সময়;
vi) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পতাকা;
vii) সময় ও ভৌগলিক বিভাগসমুহ, রোজা, ছুটির দিন সমুহ;
viii) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা;
ix) আদালতের সদস্যবৃন্দ ও এ্যাডভোকেটগন;
x) বাংলাদেশের সাথে অপর কোন রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ:
xi) স্থল, জল ও সমুদ্রপথের নিয়মাবলী।
১২.
সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারায় কোন বিষয় প্রাসঙ্গিক ধরা হয়েছে?
  1. উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আচরণ
  2. অভিন্ন অভিপ্রায় এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র
  3. যে সব ঘটনা বিচার্য ঘটনার উপলক্ষ, কারণ বা ফলাফল
  4. যে সব ঘটনা দেহের অবস্থা, জ্ঞান, সরল বিশ্বাস, অবহেলা, অনুভূতি প্রকাশ করে
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারায় Criminal Conspiracy (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) এবং Common Intention (অভিন্ন অভিপ্রায়) সম্পর্কে বলা আছে।

ধারা ১০: অভিন্ন অভিপ্রায় প্রসঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীর কথা বা কাজ:
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একযোগে কোন অপরাধ বা নালিশ যোগ্য অন্যায় কার্য করার ষড়যন্ত্র করেছে, এরূপ বিশ্বাস করার যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে; তবে তাদের যেকোন একজনের উক্তি, ষড়যন্ত্রের ইচ্ছা পোষণ করার পর তাদের ঐ সাধারণ ইচ্ছা সম্পর্কে তাদের মধ্যে যেকোন একজনের কোন কথা, কার্য বা লেখা ষড়যন্ত্রকারী বলে মনে করা হচ্ছে, এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক ঘটনা, ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য তা প্রাসঙ্গিক; তেমনি কোন ব্যক্তি যে উক্ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তা প্রমাণ করার জন্য তাও প্রাসঙ্গিক।

⇒ যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে কোন অপরাধ সংঘটন করে এবং সেই অভিন্ন অভিপ্রায়ের লক্ষ্যে করা কোন এক জনের কথা, কাজ বা বিবৃতি প্রাসঙ্গিক। অর্থাৎ অভিন্ন অভিপ্রায় প্রসঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীর কথা বা কাজ ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য প্রাসঙ্গিক হবে।

Section 10- Things said or done by conspirator in reference to common design:
Where there is reasonable ground to believe that two or more persons have conspired together to commit an offence or an actionable wrong, anything said, done or written by any one of such persons in reference to their common intention, after the time when such intention was first entertained by any one of them, is a relevant fact as against each of the persons believed to be so conspiring, as well for the purpose of proving the existence of the conspiracy as for the purpose of showing that any such person was a party to it.
১৩.
ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোন সাক্ষ্য দেয়ার ক্ষেত্রে নিম্নের কোন শর্ত পূরণ করা আবশ্যক নয়?
  1. আদালতের অনুমতি নেয়া
  2. পক্ষদ্বয়ের অনুমতি নেয়া
  3. প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো
  4. প্রতিবেদন বা মতামতের কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারা- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:

(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
 
অর্থাৎ শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোন সাক্ষ্য দিতে-
১. আদালতের অনুমতি গ্রহণ করবে;
২. তার বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন বা মতামতের কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করবে;
৩. আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
 
Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.-
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
১৪.
According to Section 60 of The Evidence Act, 1872, Oral evidence must be ______.
  1. proved
  2. direct
  3. accurate
  4. disproved
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৬০ মতে-
মৌখিক সাক্ষ্যকে সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে (oral evidence must be direct)।

অর্থাৎ এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয়, যা দেখা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলবে যে, সে এটি দেখেছে তার সাক্ষ্যই দিতে হবে; এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয় যা শোনা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলে যে, সে এটি শুনেছে, তার সাক্ষ্যই দিতে হবে। অর্থাৎ অন্যের কাছ থেকে শোনা সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
১৫.
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি কখন প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. পুরনো রেকর্ড হলে
  2. যথাযথ হেফাজত থেকে পাওয়া না গেলে
  3. রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক নয়
ব্যাখ্যা
• The Evidence (Amendment) Act, 2022 দ্বারা ২২ক ধারাটি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল রেকর্ডের বিবরণ বিষয়ে মৌখিক বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হওয়ার শর্ত ২২ক ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২২ক ধারায় বলা হয়েছে,
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না উত্থাপিত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
[Oral admissions as to contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question].

অর্থাৎ রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হলেই মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হবে।
১৬.
'ক', 'খ' কে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ড সকলের অগোচরে হলেও, 'গ' তার অবস্থান থেকে গুলির শব্দ এবং 'খ'- এর আর্তনাদ শুনতে পেয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে 'গ' রক্তের দাগ ও বন্দুক দেখতে পেয়েছে। এক্ষেত্রে 'গ' যদি সাক্ষ্য দেয়, তবে তার সাক্ষ্য-
  1. গ্রহণযোগ্য হবে না
  2. শোনা সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে
  3. প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে
  4. অবস্থাগত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে
ব্যাখ্যা
এখানে 'গ' যদি সাক্ষ্য দেয়, তবে তার সাক্ষ্য অবস্থাগত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।

অবস্থাগত সাক্ষ্য (Circumstantial Evidence) হল এমন প্রকার প্রমাণ বা সাক্ষ্য যা প্রত্যক্ষভাবে কোনো ঘটনাকে প্রমাণিত না করলেও পরোক্ষভাবে সেই ঘটনার অস্তিত্বকে ইঙ্গিত করে।

উদাহরণ:
আলাদা বস্তু: যেমন রক্তাক্ত কাপড়, অস্ত্র, গাড়ির ট্র্যাক মার্ক ইত্যাদি যা ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।
আচরণগত সাক্ষ্য: অপরাধীর সন্দেহজনক আচরণ, পলাতক অবস্থা ইত্যাদি।
সাক্ষী বক্তব্য: প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা যা পরোক্ষভাবে ঘটনার সাথে জড়িত।
মোটিভ: অপরাধের কারণ বা উদ্দেশ্য যা অবস্থাগত সাক্ষ্য হিসাবে কাজ করতে পারে।

অবস্থাগত সাক্ষ্য সাধারণত ফরেনসিক বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের সাথে যুক্ত হয়ে একটি শক্তিশালী প্রমাণের সৃষ্টি করে। তবে একক অবস্থাগত সাক্ষ্য দ্বারা কোনো রায় দেওয়া সম্ভব হয় না।
১৭.
'Inculpatory Confessional Statement' বলতে কী বোঝায়?
  1. অন্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়া
  2. দুষ্কর্মের সহযোগী কর্তৃক সাক্ষ্য দেয়া
  3. অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক নিজের বিরুদ্ধে দোষ অস্বীকার করা
  4. অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক নিজের বিরুদ্ধে দোষ স্বীকার করা
ব্যাখ্যা
• কোন ফৌজদারী মামলার অভিযুক্ত তার কৃত অপরাধ স্বীকার করে যে বিবৃতি প্রদান করে, তাকে স্বীকারোক্তি বা Confession বলা হয়।

⇒ অপরাধ স্বীকারের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে স্বীকারোক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়-
i) Inculpatory Confessional Statement; ও
ii) Ex-culpatory Confessional Statement.

Inculpatory Confessional Statement এর অর্থ হল এমন একটি স্বীকারোক্তি বা বিবৃতি যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্পষ্টভাবে তার নিজের বিরুদ্ধে অপরাধের স্বীকারোক্তি করেন।
এর বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ:

১/ স্বীকারোক্তির মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার নিজের বিরুদ্ধেই অপরাধের কথা স্বীকার করেন।
২/ এটি একটি আত্ম-অপরাধমূলক (self-incriminatory) বিবৃতি যা অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করে।
৩/ Inculpatory Confessional Statement কে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয় যদি এটি যথাযথভাবে এবং আইনগতভাবে গৃহীত হয়।

⇒ আর অভিযুক্ত নিজেকে অপরাধের সাথে না জড়িয়ে, অন্য কোন ব্যক্তিকে অপরাধের সাথে জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারমূলক বিবৃতি প্রদান করলে তাকে Ex-culpatory Confessional Statement বলা হয়।
১৮.
সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা থেকে ১১৪ ধারা পর্যন্ত কী সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা
  2. প্রমাণের দায়ভার
  3. সাক্ষ্য গ্রহণের পদ্ধতি
  4. বিশেষ সাক্ষী সংক্রান্ত বিধান
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা থেকে ১১৪ ধারা পর্যন্ত প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব (Burden of proof) সম্পর্কে বলা হয়েছে।
 
⇒ প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব (Burden of proof) -
দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার ক্ষেত্রেই প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব শব্দদ্বয় বিশেষ তাৎপর্য এবং পক্ষগণের আইনগত অধিকার বহন করে। সাধারণ অর্থে প্রমাণের দায়ভার অর্থ হলো প্রমাণ দাখিলের দায় বা দায়িত্ব। প্রমাণের দায়ভার অর্থ হলো মোকদ্দমার কোনো পক্ষ কর্তৃক আদালতের বিচার্য বিষয় সংশ্লিষ্ট তথ্য বা তথ্যাবলি প্রমাণ করার দায়িত্ব। সুতরাং প্রমাণের দায়ভার (Burden of proof) কথাটির অর্থ হল মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর অস্তিত্ব সাক্ষ্যের দ্বারা আদালতের সন্তুষ্টি অনুযায়ী প্রমাণ করে মামলাকে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব।
১৯.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে কোনটির ডেটা ইলেকট্রনিক রেকর্ড হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ড্রোন ডেটা
  2. সিসিটিভি ডেটা
  3. সেলফোন ডেটা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act (Amendment ), 2022 এর সংশোধন অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রিক রেকর্ড বলতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো যুক্ত হবে-

⇒ ম্যাগনেটিক বা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমরি, মাইক্রোফিল্ম,
⇒ অডিও, ভিডিও, ডিজিটাল বহুমুখী ডিস্ক বা ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক (ডিভিডি), কম্পিউটার উদ্ভূত মাইক্রোফিচ ইত্যাদিতে প্রস্তুতকৃত, প্রেরিত, গৃহীত বা ধারণকৃত কোন রেকর্ড, ডাটা বা তথ্য;
⇒ ড্রোন ডেটা বা ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশনের রেকর্ড (সিসিটিভি)
;
সেল ফোন, হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়্যার বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ তে সংজ্ঞায়িত অন্য কোন ডিজিটাল ডিভাইসের কোন রেকর্ডস।
২০.
নিম্নের কোন বিধানটি স্বীকারোক্তি ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে সঠিক নয়?
  1. স্বীকৃতি শুধু ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
  2. স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে শাস্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে
  3. স্বীকৃতিতে দোষ স্বীকার থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে
  4. সকল স্বীকারোক্তিই স্বীকৃতি এর অন্তর্ভুক্ত কিন্তু সকল স্বীকৃতি স্বীকারোক্তি নয়
ব্যাখ্যা
স্বীকারোক্তি ও স্বীকৃতি:

⇒ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করে বিবৃতি প্রদান করলে তাকে স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার বলে; কিন্তু কোন মামলার বিষয়ে কোনো বিবৃতি প্রদান করা হলে, উক্ত বিবৃতি যদি সেই মামলার বিচার্য বিষয় সম্পর্কে ইঙ্গিত বহন করে তাহলে তাকে স্বীকৃতি বলে।
⇒ স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার কে ইংরেজিতে confession এবং স্বীকৃতি কে ইংরেজিতে admission বলে।

সকল স্বীকারোক্তি অবশ্যই স্বীকৃতি কিন্তু সকল স্বীকৃতি স্বীকারোক্তি নয়।
⇒ স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে প্রমাণের প্রয়োজন কিন্তু স্বীকৃতির ক্ষেত্রে প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।

স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে শাস্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে কিন্তু স্বীকৃতিতে দোষ স্বীকার না থাকলে শাস্তি হয় না।
স্বীকারোক্তি শুধু ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিন্তু স্বীকৃতি ফৌজদারি ও দেওয়ানী উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

⇒ স্বীকারোক্তি সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয় কিন্তু স্বীকৃতি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
স্বীকারোক্তিতে অবশ্যই দোষ স্বীকার থাকে কিন্তু স্বীকৃতিতে দোষ স্বীকার থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
২১.
একটিন বাড়ির চুরির ঘটনায় গৃহকর্মীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। গৃহকর্মী যুক্তি দেখান যে, সে ঘটনার সময় বাইরের বাজারে কেনাকাটা করছিলেন।- সাক্ষ্য আইনের কত ধারার সাথে উক্ত ঘটনা সম্পর্কযুক্ত?
  1. ৭ ধারা
  2. ৯ ধারা
  3. ১১ ধারা
  4. ১৩ ধারা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১ অনুসারে, অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণ করা হলে, তা ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে পারে।

যখন কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তখন সে Plea of alibi দিয়ে দাবি করতে পারে যে সে অপরাধের সময় অন্য কোথাও উপস্থিত ছিল এবং সুতরাং অপরাধে জড়িত থাকতে পারে না। 'Plea of alibi' হল একটি আইনগত জবাব, যা কোনো অপরাধীকে নিজেকে দোষমুক্ত প্রমাণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হল "অন্যত্র উপস্থিতি"। এটি হল একটি বিশেষ প্রকৃতির অপরাধমুক্তির প্রমাণ যেখানে প্রসিকিউটরদের দাবিকৃত অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ,
যদি কাউকে খুনের অভিযোগ আনা হয়, তাহলে সে Plea of alibi দিয়ে দাবি করতে পারে যে সে খুনের সময় অন্য কোথাও ছিল এবং তার অনুপস্থিতির প্রমাণ দেখাতে পারে। এটি তাকে দোষী সাব্যস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
২২.
কয় প্রকার দালিলিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যায়?
  1. তিন প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
দালিলিক সাক্ষ্য (Documentary evidence)- আদালতের পরিদর্শনের জন্য যে সমস্ত দলিল বা লিপিবদ্ধ বস্তু উপস্থাপন করা হয় তাকে দালিলিক সাক্ষ্য বলে। সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুসারে দলিলের বিষয়বস্তু দুই প্রকার দালিলিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যায় -
১. প্রাথমিক সাক্ষ্য; এবং
২. মাধ্যমিক সাক্ষ্য।
 
সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্যের দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে।

Section 61⇒ Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.
২৩.
বিবাদীপক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কী?
  1. বাদীর দাবীকে প্রমাণ করা
  2. বিবাদীর দাবীকে প্রমাণ করা
  3. অভিযুক্তকে শাস্তি দেয়া
  4. মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা
ব্যাখ্যা
বিবাদীপক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল বিবাদীর দাবীকে প্রমাণ করা।

বিবাদীর আহ্বানে যারা সাক্ষী দিতে আসে, তাদেরকে "প্রতিপক্ষ সাক্ষী" (Adverse Witness) বা "বিরোধী পক্ষের সাক্ষী" (Witness of the Opposite Party) বলা হয়। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৪৫ ধারায় এই ধরনের সাক্ষীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
"A witness shall be subject to cross-examination by the adverse party as to any relevant matter..."
অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয়ে একজন সাক্ষীকে বিরোধী পক্ষ দ্বারা জেরা করা যেতে পারে।

বিবাদীর আহ্বানে আসা প্রতিপক্ষ সাক্ষীদের কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:
১. তারা সাক্ষ্য দেয় বিবাদীর পক্ষে।
২. তাদের বিরোধী পক্ষ জেরা করতে পারে।
৩. তাদের সাক্ষ্যকে মূল প্রমাণ হিসাবে গণ্য করা হয় না।
৪. তারা বিবাদীর সাক্ষ্যকে সমর্থন বা বাতিল করতে পারেন।
৫. তাদের সাক্ষ্য মূলত বিবাদীর দাবী প্রমাণের জন্য গ্রহণযোগ্য।

সুতরাং, বিবাদীর আহ্বানে যে সাক্ষীরা আসেন, তারা প্রতিপক্ষ সাক্ষী বা বিরোধী পক্ষের সাক্ষী নামে অভিহিত হন। তাদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে বিবাদীর দাবী প্রমাণিত করা হয়।
২৪.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারা মতে, আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার ________ বলে পরিগণিত হবেন।
  1. অযোগ্য ব্যক্তি
  2. উপযুক্ত ব্যক্তি
  3. অনুপযুক্ত ব্যক্তি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ১৩৩- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।
 
Section 133- Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
২৫.
'দোবারা সাজা নীতি'- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ২৬ ধারায়
  2. ৪০ ধারায়
  3. ৪৩ ধারায়
  4. ৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় ২টি নীতির প্রতিফলন হয়েছে। তা হলো:
i) Res-judicata;
ii) Double Jeopardy (দোবারা সাজা নীতি)।

সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারার বিধান: দ্বিতীয় মোকদ্দমা বা বিচার বন্ধ করার জন্য পূর্ববর্তী রায় প্রাসঙ্গিক:
যে রায়, আদেশ বা ডিক্রি আদালতকে আইনত অন্য একটি মামলাকে বিচারার্থে গ্রহণ করতে বা এর বিচার করতে বাধা দেয়, সেই রায় বা আদেশ বা ডিক্রির অস্তিত্ব তখনই প্রাসঙ্গিক বিষয়, যখন প্রশ্ন উঠে যে, উক্ত মোকদ্দমা বিচারার্থে গ্রহণ করা বা এর বিচার করা সেই আদালতের পক্ষে উচিত কি না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় যে বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে সেটিকে Judgment in personam (ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) বলে।
⇒ এই ধারানুযায়ী পূর্ববর্তী মামলার রায়, ডিক্রি বা আদেশ পরবর্তী মামলার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হবে।
⇒ এই ধারার বিধান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(২) এবং General Clauses Act, 1897 এর ২৬ ধারার সাথে প্রাসঙ্গিক।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারা দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২৬.
'Test Identification Parade' কী?
  1. ভিকটিম শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া
  2. অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া
  3. অপরাধের স্থান নির্ধারণকরণ প্রক্রিয়া
  4. মামলার পক্ষদ্বয়ের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
শনাক্তকরণ প্যারেড বা Test Identification Parade হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সাক্ষীরা একজন অপরাধীকে শনাক্ত করতে সাহায্য করেন।

এই প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
১. একটি গ্রুপ তৈরি করা হয় যেখানে অপরাধী সন্দেহভাজন এবং অন্যান্য কিছু লোকদের রাখা হয়। সকলের বয়স, চেহারা ও পোশাক প্রায় একই ধরনের হয়।
২. সাক্ষীদের এই গ্রুপের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়।
৩. সাক্ষীদের অনুরোধ করা হয় যে তারা যদি সত্যিকারের অপরাধীকে দেখতে পান তাহলে তাকে শনাক্ত করবেন।
৪. সাক্ষীরা যদি কাউকে শনাক্ত করেন তাহলে সেটাই রেকর্ড করা হয়। আর যদি না করেন তাহলে তাও রেকর্ড করা হয়।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুসারে শনাক্তকরণ প্যারেড বা টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেডকে সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। ৯ ধারায় "প্রাসঙ্গিক তথ্য" (Facts Relevant) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
"Facts necessary to be proved are those which are...facts which establish their design or conduct, tending to show a particular knowledge or intent of any person."
অর্থাৎ, প্রাসঙ্গিক তথ্যগুলি সেই সব তথ্য যা কোনো ব্যক্তির জ্ঞান বা উদ্দেশ্যমূলক আচরণ প্রমাণ করে।

এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো সাক্ষীদের কাছে একটি বাস্তবিক পরিস্থিতি তৈরি করে দেখানো যাতে তারা নিঃসন্দেহে অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি বিশেষত চুরি, ডাকাতি, খুন ইত্যাদি মামলায় অপরাধীর পরিচয় নির্ণয়ের জন্য অনুসৃত হয়। আদালতসমূহও শনাক্তকরণ প্যারেডের ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করে থাকেন।
২৭.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী 'Facts in Issue' কত প্রকারের হয়ে থাকে?
  1. ৩ প্রকারের
  2. ২ প্রকারের
  3. ৪ প্রকারের
  4. ৬ প্রকারের
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী, বিচার্য বিষয় বা Facts in Issue দুই প্রকারের হয়ে থাকে:

১. তথ্যগত বিচার্য বিষয়:
এগুলি হলো সেই ঘটনাগত বা বাস্তবিক তথ্যসমূহ যা মামলার বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত এবং যেগুলির প্রমাণ প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, একটি হত্যা মামলায় হত্যাকাণ্ডের সময়, স্থান ও নিহতের বয়স প্রভৃতি তথ্যগত বিচার্য বিষয়।

২. আইনগত বিচার্য বিষয়:
এগুলি হলো সেই আইনগত বিষয়সমূহ যেগুলির বিচার করা মামলার আওতাধীন এবং যেগুলি প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি চুরি মামলায় বিচার্য হবে যে আসামীর কাজটি আইনের ভাষায় চুরি কিনা।

এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২ এর ৩ ধারায় বিচার্য বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
"facts in issue" means and includes any fact from which, either by itself or in connection with other facts, the existence, non-existence, nature or extent of any right, liability or disability asserted or denied in any suit or proceeding necessarily follows."

"বিচার্য বিষয় বলতে বুঝায় এবং তা অন্তর্ভুক্ত করে এমন যে কোনো তথ্য যা নিজে কিংবা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেকোনো মামলা বা কার্যক্রমে অভিযুক্ত বা অস্বীকৃত যেকোনো অধিকার, দায়বদ্ধতা বা অক্ষমতার অস্তিত্ব, অনাস্তিত্ব, প্রকৃতি বা পরিমাণ অবশ্যম্ভাবীভাবে অনুসরণ করে।"

এই সংজ্ঞা থেকে বোঝা যায় যে, বিচার্য বিষয় মামলার সাথে সম্পৃক্ত এমন যেকোনো তথ্য যা কোনো অধিকার, দায়িত্ব বা অসমর্থতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন। সুতরাং বিচার্য বিষয় উপরোক্ত দুই ধরণেরই হতে পারে।
২৮.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৩০ ধারার অধীন একজন অপরাধীর দোষ স্বীকারোক্তি-
  1. শুধুমাত্র তার নিজের বিরুদ্ধেই প্রমাণযোগ্য
  2. আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়
  3. যৌথ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য
  4. যৌথ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৩০ ধারা অনুসারে,
একজন অপরাধীর দোষ স্বীকারোক্তি শুধুমাত্র তার নিজের বিরুদ্ধেই প্রমাণযোগ্য নয়, বরং একই অপরাধের জন্য অন্য যৌথ অভিযুক্তদের (co-accused) বিরুদ্ধেও তা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

এই ধারার সম্পূর্ণ অংশটি নিম্নরূপ:
"When more persons than one are being tried jointly for the same offence, and a confession made by one of such persons affecting himself and some other of such persons is proved, the court may take into consideration such confession as against such other person as well as against the person who makes such confession."

অর্থাৎ, যখন একাধিক ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য একসাথে বিচার করা হয় এবং তাদের একজন যে স্বীকারোক্তি দেয়, সেখানে তিনি নিজের সাথে অন্য কাউকে যদি জড়িয়ে ফেলেন, তাহলে আদালত সেই স্বীকারোক্তিকে সেই অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধেও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন, স্বীকারোক্তিটিকে অন্য প্রমাণাদি দ্বারা সমর্থন করতে হবে ইত্যাদি।
২৯.
সাক্ষ্য গ্রহণের কোন ক্রমটি ভুল নয়?
  1. জবানবন্দি গ্রহণ, পুন:জবানবন্দি এবং জেরা
  2. জেরা, জবানবন্দি গ্রহণ এবং পুন:জবানবন্দি
  3. জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুন:জবানবন্দি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
 
সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]:
যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে, সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।
 
জেরা [Cross Examination]:
বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।
 
পুন: জবানবন্দি [Re-examination]:
জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুন: জবানবন্দি (Re- examination) বলে।
 
ধারা ১৩৮: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুন:জবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুন: জবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
৩০.
মৌখিক সাক্ষ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে-
  1. সাক্ষ্য আইনের ৫৭ এবং ৫৮ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ৫৯ এবং ৬০ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ৫৬ এবং ৫৭ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৬২ এবং ৬৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৫৯ এবং ৬০ ধারায় মৌখিক সাক্ষ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

৫৯ ধারায় বলা হয়েছে:
"All facts, except the contents of documents or electronic records, may be proved by oral evidence."
অর্থাৎ, দলিল বা ইলেকট্রনিক রেকর্ডের বিষয়বস্তু ছাড়া অন্য সব তথ্য মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করা যাবে।

৬০ ধারায় বলা হয়েছে:
"Oral evidence must, in all cases whatsoever, be direct."
অর্থাৎ, যেকোনো ক্ষেত্রেই মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে।

সুতরাং, উপরোক্ত এই দুই ধারায় মৌখিক সাক্ষ্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তার প্রকৃতি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু বিষয় যেমন দলিলের বিষয়বস্তু ছাড়া অন্য যেকোনো ঘটনা মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণযোগ্য। এছাড়াও মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই সরাসরি হতে হবে। এসব নিয়মাবলী ৫৯ এবং ৬০ ধারায় বর্ণিত হয়েছে।
৩১.
'ক' ১০০০ টাকার দাবিতে 'খ' এর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করে। 'খ' এর নিকট টাকা পাওনা আছে, এটি প্রমাণ করার জন্য 'ক তার খাতায় লেখা হিসাব দেখালো। এক্ষেত্রে 'খ' এর দেনা প্রমাণ করার জন্য উক্ত খাতা-
  1. চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে
  2. কোনো প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক হবে না
  3. অন্য কোন সাক্ষ্য না থাকলেও, যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে
  4. অন্য কোন সাক্ষ্য না থাকলে, যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী, ব্যবসায়িক কারণে হিসেবের খাতায় যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসাবে গণ্য।

৩৪ ধারা অনুযায়ী ব্যবসা প্রসঙ্গে নিয়মিত যে হিসেবের খাতা রাখা হয়, উক্ত খাতায় লিখিত কোন কিছুতে যখন এমন বিষয়ের উল্লেখ থাকে, যে বিষয়ে অনুসন্ধান করা আদালতের কর্তব্য, তখন হিসাবের খাতায় লিপিবদ্ধ বিষয় প্রাসঙ্গিক। কিন্তু কেবলমাত্র এরূপ বিবৃতি কারও উপর দায় আরোপ করার জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য বলে বিবেচিত হবে না।

যেমন-
'ক' ১০০০ টাকার দাবিতে 'খ' এর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করল। 'খ' এর নিকট তার উক্ত টাকা পাওনা আছে, এটি প্রমাণ করার জন্য ক তার খাতায় লেখা হিসাব দেখাল। এক্ষেত্রে খাতায় লেখা হিসাবগুলো প্রাসঙ্গিক। কিন্তু যদি অন্য কোন সাক্ষ্য না থাকে, তবে 'খ' এর দেনা প্রমাণ করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।

Section 34⇒ Entries in books of account or digital record when relevant:
Entries in books of account or digital record, regularly kept in the course of business, are relevant whenever they refer to a matter into which the Court has to inquire, but such statements shall not alone be sufficient evidence to charge any person with liability.

Illustration-
A sues B for Taka 1,000, and shows entries in his account books showing B to be indebted to him to this amount. The entries are relevant, but are not sufficient, without other evidence, to prove the debt.
৩২.
'যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে'- সাক্ষ্য আইনে তাদেরকে বলা হয়?
  1. Factual question
  2. Common question
  3. Leading question
  4. Informative question
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারা- ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন:
প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
 
অর্থাৎ যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে। সাধারণত 'হ্যা' অথবা 'না' এই দুই  ভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়।
 
যেমন- প্রশ্ন: আপনার নাম কি 'ক'?
উত্তর: হ্যা, আমার নাম 'ক'। এখানে প্রশ্নের মধ্যে উত্তরের ইঙ্গিত রয়েছে। এটাই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question.
৩৩.
দোষ স্বীকার কখন গ্রহণযোগ্য হয় না?
  1. দোষ স্বীকার যদি স্বেচ্ছামূলক হয়
  2. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
  3. দোষ স্বীকার যদি কোনো ভীতির কারণে হয়
  4. ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, 1872 এর ধারা ২৪ এ দেয়া আছে:

"দোষ স্বীকারোক্তি তখনই গ্রহণযোগ্য হইবে না যখন এইরূপ প্রতীয়মান হইবে যে, ইহা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলক আশ্বাস প্রদান করিয়া আদায় করা হইয়াছে।"

অর্থাৎ, যদি দোষ স্বীকার করানোর জন্য কোনো ভীতি দেখানো হয়, বা মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।

অন্যদিকে,
যদি দোষ স্বীকার স্বেচ্ছামূলক এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হয় বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট হয়, তাহলে সেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে। তবে প্রমাণিত হলে যে স্বীকারোক্তি ভীতি বা প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে, তখন তা অগ্রহণযোগ্য হবে।
৩৪.
যদি কোনো ফৌজদারি মামলা দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতাভুক্ত হয়, তাহলে তা প্রমাণের দায়িত্ব-
  1. আদালতের
  2. আসামী পক্ষের
  3. বাদী পক্ষের
  4. তদন্তকারী কর্মকর্তার
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো আসামী দাবি করে যে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতাভুক্ত, তাহলে সেই দাবি প্রমাণ করার দায়িত্ব থাকবে আসামী পক্ষের।

বলা আছে-
"দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রম যে সমস্ত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেই সমস্ত ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যতিক্রম প্রযোজ্য এই দাবি করাই যথেষ্ট নয়, বরং এই ব্যতিক্রমের উপস্থিতি প্রমাণ করতে হবে।"

অর্থাৎ, যদি আসামীপক্ষ দাবি করে যে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতাভুক্ত, তাহলে শুধু দাবি করা যথেষ্ট নয়, বরং তাদেরকে সেই দাবি প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণের দায়িত্ব থাকবে আসামীপক্ষের।

Section 105- Burden of proving that case of accused comes within exceptions:
When a person is accused of any offence, the burden of proving the existence of circumstances bringing the case within any of the General Exceptions in the Penal Code, or within any special exception or proviso contained in any other part of the same Code, or in any law defining the offence, is upon him, and the Court shall presume the absence of such circumstances.
৩৫.
সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় _________ সম্পর্কিত বিধানাবলী রয়েছে।
  1. মৌখিক সাক্ষ্য (Oral Evidence)
  2. প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)
  3. মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence)
  4. প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য (Direct Evidence)
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence) সম্পর্কিত বিধানাবলী রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে:

"Secondary evidence means and includes, among other things-
(1) Certified copies given under the provisions hereinafter contained;
(2) Copies made from the original by mechanical processes which in themselves insure the accuracy of the copy, and copies compared with such copies;
(3) Copies made from or compared with the original;
(4) Counterparts of documents as against the parties who did not execute them;
(5) Oral accounts of the contents of a document given by some person who has himself perceived it."

অর্থাৎ এই ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যেমন:
১. এই আইনে বর্ণিত বিধানমতে প্রদত্ত সার্টিফাইডকৃত অনুলিপি;
২. যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মূল থেকে তৈরিকৃত অনুলিপি যা নিজেই অনুলিপির নির্ভুলতা নিশ্চিত করে এবং সেই অনুলিপির সাথে তুলনাকৃত অন্যান্য অনুলিপি;
৩. মূল থেকে তৈরিকৃত বা মূলের সাথে তুলনাকৃত অনুলিপি;
৪. দলিলের মূল অংশবিশেষ যা যারা এটি সম্পাদন করেনি তাদের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য;
৫. কোন দলিলের বিষয়বস্তুর মৌখিক বিবরণ যা দেয় এমন কেউ যিনি নিজে এটি দেখেছেন।
৩৬.
এয়ারলাইন্সের কম্পিউটার সিস্টেমে সংরক্ষিত ফ্লাইট ডেটা থাকে, যা নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হয়। এই ডেটা কোন ধরনের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে?
  1. গ্রহণযোগ্য প্রমাণ
  2. অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ
  3. অসমর্থনযোগ্য প্রমাণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৬৫খ ধারা হল "ডিজিটাল রেকর্ডের গ্রহণযোগ্যতা" দেয়া হয়েছে। এই ধারার বিভিন্ন দিক নিম্নরূপ:

১. এই ধারা অনুযায়ী, একটি কম্পিউটার উৎপন্ন রেকর্ড বা ডিজিটাল রেকর্ড আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
২. তবে এর জন্য রেকর্ডটি যে পদ্ধতিতে তৈরি, সংরক্ষিত ও পরিচালিত হয়েছে তা আইনগত চাহিদা পূরণ করতে হবে।
৩. রেকর্ডের যথার্থতা ও অখণ্ডতা প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক। প্রযুক্তি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪. রেকর্ডটি যে ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংরক্ষিত বা পরিচালিত হয়েছে তাদের কর্মক্ষমতা ও যোগ্যতা প্রমাণিত হওয়া দরকার।
৫. রেকর্ডের প্রকৃতি, উৎস ও উপস্থাপনার পদ্ধতি যুক্তিসংগত হওয়া আবশ্যক।

এক্ষেত্রে ডিজিটাল রেকর্ডটির অখণ্ডতা ও যথার্থতা নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ডিজিটাল রেকর্ড যদি আইনগত নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ও পরিচালিত হয়, তাহলে তা আদালতে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে।
৩৭.
সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী বিচারক হিসেবে যে সকল ঘটনা দৃষ্টিগোচরে নিবেন তা ______________।
  1. প্রমাণের প্রয়োজন
  2. প্রমাণের প্রয়োজন নেই
  3. অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে
  4. মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে
ব্যাখ্যা
• জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice)-
যেসব বিষয় আদালত জানেন বা জানেন বলে ধরা হয়, সেগুলোকে জুডিশিয়াল নোটিশ বা বিচারিক দৃষ্টিগোচর বলে। সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের বিধান রয়েছে।

সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী-
যে সকল ঘটনা আদালত কর্তৃক লক্ষণীয় তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
(Fact judicially noticeable need not be proved)

তবে জুডিশিয়াল নোটিশ চূড়ান্ত প্রমান নয়, এর বিরূদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করা যায়। অর্থাৎ, জুডিশিয়াল নোটিশের বিষয়গুলো চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয় প্রমাণ নয়। কোনো পক্ষ চাইলে এর বিপরীতে সাক্ষ্য পেশ করে তা খণ্ডন করতে পারবে। তবে প্রাথমিকভাবে এগুলোকে আলাদাভাবে প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
৩৮.
সজল ও মিনা ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারি মিনার একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এক্ষেত্রে শিশুটি সজলের বৈধ সন্তান হিসেবে-
  1. চূড়ান্তভাবে গণ্য হবে
  2. অনুমান করা যেতে পারে
  3. অনুমান করা যেতে পারে না
  4. আদালত কোনো অনুমান করবে না
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা: সন্তানের জন্মই বিবাহ স্থির থাকাকালে এর বৈধতার চূড়ান্ত প্রমাণ-

কোন ব্যক্তির মাতার সঙ্গে এক ব্যক্তির আইনসঙ্গত বিবাহ কায়েম থাকাকালে অথবা বিবাহবিচ্ছেদের পর দুইশত আশি দিনের ভিতর তার মাতা অবিবাহিতা থাকাকালে যদি তার জন্ম হয় ও যদি এটা দেখান না হয় যে, ঐ ব্যক্তি যখন মাতৃগর্ভে এসে থাকতে অনুরূপ কোন সময়ে বিবাহিত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মিলনের পথ উন্মুক্ত ছিল, তাহলে সে যে জন্মেছে এ প্রসঙ্গ দ্বারা অবশ্যই চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হবে যে, সে সে ব্যক্তির বৈধ সন্তান।
 
Section 112: Birth during marriage conclusive proof of legitimacy-
The fact that any person was born during the continuance of a valid marriage between his mother and any man, or within two hundred and eighty days after its dissolution, the mother remaining unmarried, shall be conclusive proof that he is the legitimate son of that man, unless it can be shown that the parties to the marriage had no access to each other at any time when he could have been begotten.

এক্ষেত্রে, শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে মিনার বিবাহবিচ্ছেদের ২৮০ দিনের মধ্যে এবং প্রমাণও নেই যে গর্ভধারণের সময় সজল ও মিনার মিলন সম্ভব ছিল না। সুতরাং সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা মোতাবেক, শিশুটি সজলের বৈধ সন্তান বলেই চূড়ান্তভাবে গণ্য হবে।
৩৯.
কোন ধরনের সাক্ষীদের 'বৈরী সাক্ষী' বলা হয়?
  1. যারা সাক্ষ্য দিতে অক্ষম
  2. যারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
  3. যারা সত্য সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়
  4. যারা নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
ব্যাখ্যা
বৈরী সাক্ষী হল এমন একধরণের সাক্ষী যারা আদালতে নিজ পক্ষের বিপরীতে সাক্ষ্য প্রদান করে। বৈরী সাক্ষীর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

১. বৈরী সাক্ষী সাধারণত একপক্ষের সপক্ষে ডাকা হলেও, পরবর্তীতে সে অপরপক্ষের সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে।
২. একজন বৈরী সাক্ষীকে ভিন্ন প্রশ্নগুলো দ্বারা পরীক্ষা করা যেতে পারে এবং তার বিশ্বস্ততা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যায়।
৩. যে পক্ষের সপক্ষে সে ডাকা হয়েছিল সেই পক্ষের আইনজীবী বৈরী সাক্ষীকে তার নিজস্ব সাক্ষ্য দ্বারা আক্রমণ করতে পারবেন।
৪. জেরা চলাকালীন বৈরী সাক্ষীকে অস্বীকারযোগ্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায়।
৫. বৈরী সাক্ষীর সাক্ষ্য পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে এবং সাক্ষী সমর্থন করলেও মূল পক্ষের জন্য সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

সুতরাং, বৈরী সাক্ষী হল এক পক্ষের সপক্ষে ডাকা সাক্ষী যিনি পরবর্তীতে বিপক্ষের সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তাদের সাক্ষ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।
৪০.
কোনো সাক্ষীকে জেরা করার উদ্দেশ্য কী?
  1. সত্য উদঘাটন করা
  2. সাক্ষ্যকে নস্যাৎ বা দুর্বল করা
  3. বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেরার সংজ্ঞা (Cross- Examination):
আহবানকারী পক্ষের সাক্ষীকে বিরুদ্ধ পক্ষ সাক্ষ্য গ্রহন করলে তাকে বলা হয় জেরা। অন্যভাবে বলা যায়, কোন সাক্ষী যে পক্ষের সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসে, সে পক্ষের জিজ্ঞাসাবাদের পর বিপরীত পক্ষ যে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাই জেরা বা 'Cross- Examination' হিসেবে পরিচিত। সাক্ষ্য আইনের ১৩৯, ১৪০, ১৪৩, ১৪৫, ১৪৬ ও ১৪৭ ধারায় জেরার বিধান রয়েছে।
 
সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারামতে- নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে জেরা করা যায়। যথা-
i) আসামীর সত্যবাদিতা, পরিচয় ও মর্যাদা উদ্ঘাটন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা;
ii) বিরুদ্ধ পক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যকে নস্যাৎ বা দুর্বল করা;
iii) সাক্ষীর মুখ দিয়ে জেরাকারীর পক্ষে কথা বের করা; 
iv) সাক্ষীর বিশ্বাস যোগ্যতা খণ্ডন করার মাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষ্যকে বিশ্বাসের অযোগ্য করে তোলার উদ্দেশ্যে; এবং
v) তর্কিত বিষয়ে সত্য উদঘাটন করাও জেরার উদ্দেশ্য।
৪১.
যেসব ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায়, তা উল্লেখ আছে সাক্ষ্য আইনের-
  1. ৬২ ধারায়
  2. ৬৫ ধারায়
  3. ৬৪ ধারায়
  4. ৬১ ধারায়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন ধারা ৬৪- প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ
এ আইনে অত:পর যে সমস্ত ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি ব্যতীত অপর সমস্ত ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।

তবে কোন কোন ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায়, তা সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় বলা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় ৭টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।

⇒ ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপঃ

ক. দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে তার আয়ত্তে আছে বা আদালতের সমনের আওতার বাইরে বা সেই ব্যক্তির দখলে আছে যে ব্যক্তি দলিলটি পেশ করতে বাধ্য কিন্তু নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও দাখিল করছে না;
খ. দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে, সে ব্যক্তি দলিলটির অস্তিত্ব লিখিত ভাবে স্বীকার করে নিয়েছে;
গ. মূল দলিলটি হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে;
ঘ. দলিলটি সহজে স্থানান্তরযোগ্য না হলে;
ঙ. মূল দলিলটি সরকারী দলিল হলে;
চ. দলিলটির জাবেদা নকল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের নিয়ম থাকলে;
ছ. মূল দলিলের পরীক্ষা আদালতের জন্য সুবিধাজনক না হলে।
৪২.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুযায়ী, সরকারি কাগজপত্রের জাবেদা নকল ঐ কাগজের প্রমাণ হিসাবে আদালতে দাখিল করা যাবে?
  1. ৭২ ধারা
  2. ৭৫ ধারা
  3. ৭৩ ধারা
  4. ৭৭ ধারা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো আনুষ্ঠানিক বা সরকারি কাগজপত্রের নকল তৈরি করা হয়, তাহলে সেই নকল কাগজকে মূল কাগজের প্রমাণ হিসাবে আদালতে দাখিল করা যাবে।

সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা:
"অনুরূপ জাবেদা নকল সর্বসাধারণের যে দলিলের নকল বা যে দলিলের অংশ বিশেষের নকল বলে বুঝতে দেয়া হয়, সে দলিলের বা তার অংশ বিশেষের বিষয়বস্তুর প্রমাণ স্বরূপ তা উপস্থাপন করা যেতে পারে।"
[Such certified copies may be produced in proof of the contents of the public documents or parts of the public documents of which they purport to be copies.]

এই ধারার মূল বিষয়বস্তু হলো:
১. একটি দলিলের অনুমোদিত/জাবেদা নকলকে সেই মূল দলিলের প্রতিনিধিত্বকারী হিসাবে গণ্য করা হয়।
২. এই নকল মূল দলিলের সম্পূর্ণ নকল হতে পারে অথবা আংশিক নকল হতে পারে।
৩. এই অনুমোদিত/জাবেদা নকল দলিলকে আদালতে মূল দলিলের বিষয়বস্তুর প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা হবে।

সহজ কথায়,
এই ধারা অনুসারে যেকোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের জারি করা দলিলের অনুমোদিত/জাবেদা নকলকে মূল দলিলের প্রতিনিধি হিসাবে আদালতে গ্রহণ করা হবে। এটি আদালতের প্রক্রিয়াকে সহজতর করে।
৪৩.
ফৌজদারি মামলায় কার ভাল চরিত্র বা সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক?
  1. সাক্ষীর
  2. অভিযুক্তের
  3. নালিশকারীর
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারামতে,
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাল চরিত্র বা সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক।

Section 53 ⇒ In criminal proceedings the fact that the person accused is of a good character is relevant.
৪৪.
কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. উত্তরটি উক্ত ব্যক্তির পক্ষে অনুকূল হতো
  2. উত্তরটি আদালতে প্রকাশ করার যোগ্য নয়
  3. উক্ত ব্যক্তি আদালত অবমাননাকারী
  4. উত্তরটি উক্ত ব্যক্তির পক্ষে অনুকূল হতো না
ব্যাখ্যা
ধারা ১১৪: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে।

আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরি মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।
৪৫.
একজন শিশুকে কীসের ভিত্তিতে যোগ্য সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হবে?
  1. বয়স
  2. বোধশক্তি
  3. শিক্ষাগত যোগ্যতা
  4. সবগুলোর উপর
ব্যাখ্যা
•  সাক্ষীর যোগ্যতা: সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা আছে ১১৮- ১৩১ ও ১৩৩ ধারায়।

সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারা- যে সাক্ষ্য দিতে পারে:
সকল ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্য, যদি আদালত মনে না করেন যে, তাহার অল্প বয়স, অতি বৃদ্ধ বয়স, দৈহিক বা মানসিক ব্যাধি বা অনুরূপ অন্য কোন কারণে তাহাদিগকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝিতে বা সেই প্রশ্নে যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে তাঁহারা অক্ষম।
ব্যাখ্যা- কোন বিকৃত মস্তিক ব্যক্তি যদি তাহার মস্তিষ্ক বিকৃতির জন্য তাহাকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝিতে বা উহার যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে অক্ষম না হয়, তবে সেই ব্যক্তি সাক্ষ্যদানে অযোগ্য হইবে না।

উক্ত ধারা অনুযায়ী প্রশ্ন বুঝে উত্তর দিতে সক্ষম সকল ব্যক্তি যোগ্য সাক্ষী। যেমন- বোধশক্তিসম্পন্ন শিশু, অল্পবয়স্ক বুদ্ধিমান বালক, প্রশ্ন বুঝে উত্তরদানে সক্ষম বিকৃতমস্তিস্কের ব্যক্তি; বোবা, জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝে উত্তরদানে সক্ষম ব্যক্তি। এক্ষেত্রে তাদের বয়স, দৈহিক বা মানসিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা সাক্ষ্য প্রদানে বাধার সৃষ্টি করবে না।
৪৬.
'Opinion as to handwriting, when relevant'- সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিষয়বস্তু কী?
  1. ৪২ ধারা
  2. ৪৬ ধারা
  3. ৪৭ ধারা
  4. ৪৯ ধারা
ব্যাখ্যা
Section 47- Opinion as to handwriting, when relevant:
When the Court has to form an opinion as to the person by whom any document was written or signed, the opinion of any person acquainted with the handwriting of the person by whom it is supposed to be written or signed that it was or was not written or signed by that person, is a relevant fact.

Explanation.– A person is said to be acquainted with the handwriting of another person when he has seen that person write, or when he has received documents purporting to be written by that person in answer to documents written by himself or under his authority and addressed to that person, or when, in the ordinary course of business, documents purporting to be written by that person have been habitually submitted to him.

• সাক্ষ্য আইনের ৪৭ ধারা- হস্তলিপি সম্বন্ধে অভিমত যেক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক:
একটি দলিল কোন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে সে সম্বন্ধে আদালতকে যখন কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন যে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত বা স্বাক্ষরিত হচ্ছে বা হয়নি এ মর্মে উক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত কোন ব্যক্তির অভিমত প্রাসঙ্গিক পরিগণিত।

ব্যাখ্যা- এক ব্যক্তি যেক্ষেত্রে অন্য এক ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছে অথবা যেক্ষেত্রে সে ব্যক্তির নিকট প্রেরিত নিজের লেখার বা নিজ কর্তৃত্বে লিখিত কোন নথির উত্তরে তার নিকট হতে তার দ্বারা লিখিত বলে প্রতীয়মান নথি পেয়েছে প্রতীয়মান কাগজপত্র বরাবর তার নিকট দাখিল হয়ে আসছে, সেক্ষেত্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তির শেষোক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত বলে ধরা হয়।

⇒ উক্ত ধারামতে, একজন ব্যক্তির অভিমত অন্য ব্যক্তির হস্তলিপি বা হাতের লেখা প্রমাণের ক্ষেত্রে তখন প্রাসঙ্গিক হবে, যখন কোন ব্যক্তি-
- অপর ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছে;
- অপর ব্যক্তির লিখিত কোন দলিল পেয়েছে;
- স্বাভাবিক কাজকর্ম হিসেবে যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাতের লেখার সাথে পরিচিত হয়েছে।
৪৭.
'Estoppel' নীতি প্রযোজ্য হবে-
  1. ঘোষণার ক্ষেত্রে
  2. কাজের ক্ষেত্রে
  3. কার্য বিরতির ক্ষেত্রে
  4. উল্লিখিত সব ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• 'Estoppel' নীতি যার বাংলা অর্থ ‘স্বকার্যজনিত বাধা’।

‘Estoppel' বা 'স্বকার্যজনিত বাধা’ শব্দটি একটি আইনি নীতিকে বোঝায় যা কাউকে কিছু অস্বীকার করতে বা এমন একটি অধিকার জাহির করতে বাধা প্রদান করে যা কিনা তারা পূর্বে বলেছিল বা আইন দ্বারা সম্মত হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে পূর্বের কর্মের বিরোধিতা করছে। সহজ ভাষায় বললে, Estoppel (এস্টপেল) বা স্বকার্যজনিত বাধা একজন ব্যক্তিকে অতীতের কোনো কর্ম বা বিবৃতিকে বিরোধিতা করতে বাধা দেয়। এটি সাধারণ আইনের অংশ এবং অন্য ব্যক্তির কথা বা কাজের অসঙ্গতি দ্বারা মানুষকে অন্যায়ভাবে অবিচার করা থেকে বিরত রাখার জন্য।

সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে,
‘যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র দ্বারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করায় এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করতে বলে, তখন উক্ত ২ পক্ষের মধ্যে কোন মামলায় ১ম পক্ষ তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না।’

সাক্ষ্য আইনের এই নীতি শুধুমাত্র দেওয়ানী কার্যক্রমে প্রয়োগ করা হয়। ফৌজদারি কার্যক্রমে Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার কোন ব্যবহার নেই।
৪৮.
'স্বীকৃতিকারীর বিপক্ষে স্বীকৃতি প্রমাণ করা যায় কিন্তু পক্ষে প্রমাণ করা যায় না'- এই নীতির ব্যতিক্রম সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ২৩ ধারায়
  2. ২০ ধারায়
  3. ২১ ধারায়
  4. ২২ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাধারণ নিয়ম হলো- 'স্বীকৃতিকারীর বিপক্ষে স্বীকৃতি প্রমাণ করা যায় কিন্তু পক্ষে প্রমাণ করা যায় না' এই নীতির ব্যতিক্রম আছে। সাক্ষ্য আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী উক্ত ব্যতিক্রম গুলি নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

⇒ স্বীকৃতিকারীর স্বীকৃতি যদি এমন হয় যে স্বীকৃতিকারী মৃত্যু হলে তা প্রাসঙ্গিক হবে তাহলে স্বীকৃতিকারী বা তার প্রতিনিধির পক্ষে তা ব্যবহার করা যাবে।
⇒ স্বীকৃতিতে যদি মানসিক বা দৈহিক সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক কোন বিষয় উল্লেখ থাকে, তাহলে উক্ত মানসিক বা দৈহিক বিশেষ অবস্থা বিদ্যমান থাকাকালীন কোন বিবৃতি প্রদান করলে এবং উক্ত বিবৃতি মিথ্যা মনে করা অসম্ভব হলে স্বীকৃতিকারীর পক্ষে তা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
⇒ স্বীকৃতি টি যদি স্বীকৃতি হিসেবে প্রাসঙ্গিক না হয়ে ভিন্নভাবে প্রাসঙ্গিক হয়, তাহলে স্বীকৃতিকারী পক্ষে তা ব্যবহার করা যাবে।
৪৯.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১২৬ ধারায় কাদের মধ্যকার তথ্য আদান-প্রদানের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. স্বামী এবং স্ত্রীর
  2. আইনজীবী এবং তার মক্কেলের
  3. বিচারক এবং আইনজীবীর
  4. আইন উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১২৬ ধারায় আইনজীবী এবং তার মক্কেলের মধ্যকার তথ্য আদান-প্রদানের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই ধারা অনুযায়ী, একজন আইনজীবী তার মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত নিম্নলিখিত তথ্যগুলি প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবেন না:
১. তার নিযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে মক্কেল বা মক্কেলের প্রতিনিধি থেকে প্রাপ্ত যে কোনো তথ্য বা যোগাযোগ।
২. তার নিযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে যে কোনো দলিলের বিষয়বস্তু বা অবস্থা যার সাথে তিনি পরিচিত হয়েছেন।
৩. তার নিযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি যে কোনো পরামর্শ তার মক্কেলকে দিয়েছেন।

এই ধারার উদ্দেশ্য হলো- আইনজীবী ও মক্কেলের মধ্যে বিশ্বাস ও গোপনীয়তা রক্ষা করা যাতে মক্কেল নিঃসংকোচে তথ্য প্রদান করতে পারেন।
৫০.
ডিজিটাল আকারে চুক্তির অনুমানের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. may presume
  2. shall presume
  3. conclusive proof
  4. None of them
ব্যাখ্যা
• Section 85A- Presumption as to agreements in digital forms:
The Court shall presume that every digital record purporting to be an agreement containing the digital signatures of the parties was so concluded by affixing the digital signature of the parties.

ধারা-৮৫ক: ডিজিটাল আকারে চুক্তির অনুমান:
আদালত অনুমান করবে, যে প্রতিটি ডিজিটাল রেকর্ড পক্ষগুলির ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চুক্তি যা পক্ষগুলির ডিজিটাল স্বাক্ষর সংযুক্ত করে সম্পন্ন করা হয়েছিলো।
৫১.
একজন বিশেষজ্ঞ তার পেশা সম্পর্কিত পুস্তক দেখে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারে-
  1. সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ৫৯ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ১৫১ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ১৫৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষী সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তার স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল দেখে উত্তর দিতে পারেন। এক্ষেত্রে সাক্ষী তার নিজের লেখা, অন্যের লেখা বা দলিলের নকল দেখেও উত্তর দিতে পারেন। এটাই হল Refreshing memory। সাক্ষ্য আইনের ১৫৯ ধারায় স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করন বা Refreshing memory এর বিধান রয়েছে। এছাড়াও সাক্ষ্য আইনের ১৫৯ থেকে ১৬১ ধারায় এ সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়েছে যা নিম্নরূপ-

i) সাক্ষ্য আইনের ১৫৯ ধারা অনুসারে কোন মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে তার স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কেস ডায়েরী দেখতে পারবেন। এভাবে ১৫৯ ধারার অধীন একজন বিশেষজ্ঞ তার পেশা সম্পর্কিত পুস্তক দেখে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।

ii) সাক্ষ্য আইনের ১৬০ ধারা অনুসারে কোন মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার তার মামলা তদন্তকালে কেস ডায়েরীতে লিপিবদ্ধকৃত বিষয়াবলী সম্পর্কে আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারেন।

iii) সাক্ষ্য আইনের ১৬১ ধারা অনুসারে কোন মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার সাক্ষ্য আইনের ১৬০ ধারা অনুসারে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বিবাদী পক্ষ জেরা করতে পারবেন। অর্থাৎ স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কোন সাক্ষী কর্তৃক যে লিখিত বিবৃতি ব্যবহার করা হয়েছে, বিরোধী পক্ষ উক্ত লিখিত বিবৃতি দেখতে চাইতে পারে, উক্ত সাক্ষীকে জেরা করতে পারে বা উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে।
৫২.
সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন নিজ পক্ষের সাক্ষীর-
  1. জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়
  2. জেরা করা হয়
  3. পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা হয়
  4. বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হয়
ব্যাখ্যা
• যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।

⇒ বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে।
 
⇒ সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

⇒ যখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়:
১) সাক্ষী যদি নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়;
২) সাক্ষী যদি বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়;
৩) সাক্ষী যদি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।
 
⇒ এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ নিজ সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতির জন্য দরখাস্ত/ আবেদন দেয়। আদালত উক্ত আবেদন গ্রহণ করলে সাক্ষী বৈরী হয় এবং নিজপক্ষের অ্যাডভোকেট তাকে জেরা করতে পারে।
৫৩.
_______ বছরের পুরনো ডিজিটাল রেকর্ড সঠিক ব্যক্তির হেফাজত থেকে দাখিল করা হলে, উক্ত রেকর্ড সম্পর্কে আদালত অনুমান করতে পারে।
  1. তিন
  2. পাঁচ
  3. দশ
  4. সাত
ব্যাখ্যা
ধারা ৯০ক: পাঁচ বছরের পুরনো ডিজিটাল রেকর্ডের অনুমান:

যেখানে কোনো ডিজিটাল রেকর্ড, পাঁচ বছরের পুরানো বলে প্রমাণিত এবং যে হেফাজত থেকে দাখিল করা হয় তা বিশেষ ক্ষেত্রে আদালত যথাযথ বিবেচনা করে, আদালত অনুমান করতে পারে যে, ডিজিটাল স্বাক্ষর কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ডিজিটাল স্বাক্ষর হতে পারে যা এই জন্য তার দ্বারা বা তার দ্বারা অনুমোদিত যে কোন ব্যক্তি দ্বারা সংযুক্ত।
ব্যাখ্যা- ডিজিটাল রেকর্ডগুলিকে যথাযথ হেফাজতে আছে বলা হয় যদি সেগুলি সেই জায়গায় থাকে সেখানে, এবং যার তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিকভাবেই থাকে; কিন্তু কোন হেফাজত অনুপযুক্ত নয় যদি এটি প্রমাণিত হয় যে এটির একটি বৈধ উৎস ছিল, বা বিশেষ মামলার পরিস্থিতি এমন হয় যে এই জাতীয় উৎসকে সম্ভাব্য গণ্য করা যায়।

অর্থাৎ,
⇒ পাঁচ বছরের পুরনো ডিজিটাল রেকর্ড সম্পর্কে আদালত may presume ধরে নিবেন।
⇒ ডিজিটাল রেকর্ডটি সঠিক ব্যক্তির হেফাজত থেকে দাখিল করতে হবে।
⇒ ৯০ ধারার দলিলের মতোই ব্যবহার হবে।
৫৪.
একজন মৃত ব্যক্তির আর্থিক বিষয়ে কোনো বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হবে, যদি উক্ত বিবৃতিটি-
  1. উক্ত ব্যক্তির স্বার্থের অনুকূলে হয়
  2. প্রতিপক্ষ উক্ত বিবৃতি অস্বীকার করলে
  3. উক্ত ব্যক্তির আর্থিক স্বার্থের পরিপন্থি হয়
  4. প্রতিপক্ষের আর্থিক স্বার্থের প্রতিকূলে হয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-

ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা;
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি;
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে;
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত;
ⅴ) পারিবারিক দলিল বা উইল;
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি;
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি।

অর্থাৎ একজন মৃত ব্যক্তির আর্থিক বিষয়ে কোনো বিবৃতি নিজ স্বার্থের পরিপন্থি হলে, উক্ত বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হবে।
৫৫.
সাক্ষ্য আইনের ১২৫ ধারায় কে কোনো অপরাধ সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য বা সংবাদ প্রকাশ করতে বাধ্য নয়?
  1. ম্যাজিস্ট্রেট
  2. পুলিশ কর্মকর্তা
  3. রাজস্ব কর্মকর্তা
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১২৫ ধারা:
কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তাকে এই প্রশ্ন করতে বাধ্য করা যাবে না যে তিনি কোনো অপরাধের সংঘটনের তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন, এবং কোনো রাজস্ব কর্মকর্তাকেও এই প্রশ্ন করতে বাধ্য করা যাবে না যে তিনি কোনো রাজস্ব সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন।
ব্যাখ্যা: এই ধারায় "রাজস্ব কর্মকর্তা" বলতে বোঝানো হয়েছে রাজস্বের যেকোনো শাখায় নিযুক্ত যেকোনো কর্মকর্তাকে।

Section 125: Information as to commission of offences-
No Magistrate or Police-officer shall be compelled to say whence he got any information as to the commission of any offence, and no Revenue-officer shall be compelled to say whence he got any information as to the commission of any offence against the public revenue.
Explanation.–"Revenue-officer" in this section means any officer employed in or about the business of any branch of the public revenue.
৫৬.
'ক' আদালতের কাছে বলছে যে, 'খ' এই অপরাধটি করেছে এবং তার জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। এক্ষেত্রে-
  1. আদালত শাস্তি দিবে
  2. 'খ' কে প্রমাণ করতে হবে সে নির্দোষ
  3. 'ক' কে প্রমাণ করতে হবে 'খ' অপরাধী
  4. আদালতকে প্রমাণ করতে হবে 'খ' অপরাধী
ব্যাখ্যা
•The Evidence Act, 1872 এর ১০১ ধারা অনুযায়ী প্রমাণের দায়ভার বলতে বুঝায়- যদি কোন ব্যক্তি তার দাবি অনুযায়ী অন্যের বিরুদ্ধে রায় কামনা করে তাহলে উক্ত দাবীকৃত বিষয়ের অস্তিত্ব তাকেই প্রমাণ করতে হয়। অর্থাৎ, যে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো আইনগত অধিকার বা দায়িত্বের বিষয়ে আদালতের রায় চান, যা তার দাবীকৃত কিছু ঘটনার উপর নির্ভরশীল, তাহলে তাকেই সেই ঘটনাগুলির অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হবে।

Section 101- Burden of proof:
Whoever desires any Court to give judgment as to any legal right or liability dependent on the existence of facts which he asserts, must prove that those facts exist. When a person is bound to prove the existence of any fact, it is said that the burden of proof lies on that person.

Illustrations
(a) A desires a Court to give judgment that B shall be punished for a crime which A says B has committed. A must prove that B has committed the crime.

এই ধারা অনুযায়ী,
যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছে, তারই দায়িত্ব সেই অভিযোগের প্রমাণ পেশ করা। অর্থাৎ 'ক' যদি বলে যে 'খ' অপরাধী, তাহলে তা 'ক' এর দায়িত্ব প্রমাণ করার যে 'খ' সত্যিই ওই অপরাধটি করেছে। তাহলেই আদালত 'খ'-কে সেই অপরাধের জন্য শাস্তি দিতে পারবে।
৫৭.
চোরাইমাল যার কাছে পাওয়া গেছে সে কারণ দর্শাতে না পারলে, আদালত তাকে চোর বা জেনেশুনে চোরাইমাল গ্রহণ করেছে বলে অনুমান করে নিতে পারে- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ১১১ ধারায়
  2. ১১২ ধারায়
  3. ১১৩ ধারায়
  4. ১১৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ১১৪: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে। আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -

(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরি মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;

(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।
৫৮.
বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে বিবাহ বলবৎ থাকাকালে কখন তাদের ভেতরের পত্রালাপ সাক্ষ্যের জন্য প্রকাশযোগ্য হয়?
  1. যদি তাদের কেউ মৃত হয়
  2. পক্ষদ্বয়ের আইনজীবী আবেদন করলে
  3. পরস্পরের ভেতরে কোনো দেওয়ানি মামলায়
  4. বর্ণিত কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারা: বিবাহ বজায় থাকাকালীন বার্তা:
কোন ব্যক্তি যিনি বিবাহিত বা যাহার সহিত বিবাহ হইয়াছে, বিবাহ বজায় থাকাকালে সেই ব্যক্তির সহিত তাহার স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না; বার্তা প্রদানকারীর বা তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মতি ব্যতীত বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিবার অনুমতিও তাহাকে দেওয়া যাইবে না, তবে বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে কোন দেওয়ানী মামলায় অথবা তাহাদের একজনের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করিবার দায়ে অপরজন ফৌজদারীতে সোর্পদ থাকিলে সেইক্ষেত্রে বার্তার বিষয় প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে।

Section 122⇒ Communications during marriage:
No person who is or has been married shall be compelled to disclose any communication made to him during marriage by any person to whom he is or has been married: nor shall he be permitted to disclose any such communication, unless the person who made it, or his representative in interest, consents, except in suits between married persons, or proceedings in which one married person is prosecuted for any crime committed against the other.
৫৯.
ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণের ক্ষেত্রে আদালত নিম্নের কাকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারে?
  1. প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে
  2. নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে
  3. যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারা- ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ:
যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সেই ব্যক্তির কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে-
(ক) সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে,
(খ) অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে।
 
ব্যাখ্যা: এখানে "নিয়ন্ত্রক" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৮ (১) এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক।
 
Section  73A⇒ Proof as to verification of digital signature:
In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-
(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;
(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.
 
Explanation- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).
৬০.
কোনো ব্যক্তি এবং তার আইন উপদেষ্টার মধ্যকার গোপন যোগাযোগ কখন আদালতে প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে?
  1. আদালতের ইচ্ছাক্রমে
  2. সাক্ষ্য ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে
  3. আইন উপদেষ্টার আবেদনক্রমে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই বাধ্য করা যাবে না
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১২৯ ধারামতে, কোন ব্যক্তি এবং তার আইন উপদেষ্টার মধ্যে গোপন যোগাযোগ আদালতে প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে না। তবে উক্ত ব্যক্তি যদি কোন মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে আদালতে তার দেওয়া সাক্ষ্য ব্যাখ্যার জন্য উক্ত গোপন যোগাযোগ প্রকাশ করতে তাকে বাধ্য করা যাবে।

সাক্ষ্য আইনের ১২৯ ধারা: আইন উপদেষ্টার সঙ্গে গোপন সংবাদের আদান-প্রদান:
কোন ব্যক্তি এবং তার পেশাদার আইন উপদেষ্টার ভিতর গোপনীয় বার্তার আদান-প্রদান হলে, সে ব্যক্তি যদি মোকদ্দমার সাক্ষ্য দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ না করেন, তবে সে গোপনীয় আদান-প্রদানের বিষয় আদালতে ব্যক্ত করতে তাকে বাধ্য করা যাবে না। যদি তিনি সাক্ষ্য দেন, তবে তার দেয়া সাক্ষ্যের ব্যাখ্যার জন্য উক্ত গোপনীয় সংবাদ আদান- প্রদানের বিষয় আদালতের জানা প্রয়োজন হলে শুধু তাকে তা প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে, অন্যথায় নয়।

Section 129: Confidential communications with legal advisers:
No one shall be compelled to disclose to the Court any confidential communication which has taken place between him and his legal professional adviser, unless he offers himself as a witness, in which case he may be compelled to disclose any such communications as may appear to the Court necessary to be known in order to explain any evidence which he has given, but no others.
৬১.
'বিশেষজ্ঞদের মতামত' এর ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক?
  1. আদালতের জন্য বাধ্যকর
  2. এটি চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়
  3. অনুসমর্থন প্রকৃতির সাক্ষ্য
  4. পক্ষদ্বয় মানতে বাধ্য
ব্যাখ্যা
• যখন আদালতকে বিদেশী আইন, বা বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড, বা চারুকলা, বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ বা পায়ের ছাপের বা হাতের তালুর ছাপ বা চোখের আইরিসের ছাপ বা টাইপ রাইটিং বা ব্যবসায়িক প্রথা ব্যবহার বা টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন এই বিষয়ে বিশেষভাবে দক্ষ ব্যক্তির অভিমত অনুরূপ প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক বিষয়। এই ধরনের ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ বলা হয়।
 
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ এবং ৪৫ক ধারায় বিশেষজ্ঞদের মতামত (Expert Opinion) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। পূর্বে পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক ছিল। কিন্তু সাক্ষ্য আইন (সংশোধন) ২০২২ এর ফলে ৪৫ ধারাটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন ৪৫ ধারা অনুসারে, নিম্নলিখিত ১৩টি ক্ষেত্রে বিশারদের মতামত সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে-

(i) বিদেশী আইন;
(ii) বিজ্ঞান;
(iii) শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য;
(iv) ডিজিটাল রেকর্ড;

(v) চারুকলা;
(vi) হস্তলিপি বা হাতের লেখা;
(vii) আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসহি;
(viii) পায়ের ছাপ;
(ix) তালুর ছাপ;

(x) চোখের কনীনিকার ছাপ;
(xi) টাইপ রাইটিং;
(xii) ট্রেড বা টেকনিকাল অভিব্যক্তির ব্যবহার;
(xiii) ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচিতি।

⇒ Expert Opinion আদালতের জন্য বাধ্যকর নয়, এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। এটি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু অনুসমর্থন প্রকৃতির। অর্থাৎ অন্যান্য সাক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৬২.
'আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে বাধ্য হবে।'- The Evidence Act, 1872 এর কত ধারায় এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে?
  1. ১৫২ ধারায়
  2. ১৬২ ধারায়
  3. ১৬১ ধারায়
  4. ১৬৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
• যদি সাক্ষীকে দলিল দাখিলের জন্য সমন দেওয়া হয় এবং সেই দলিল সাক্ষীর দখলে থাকে, তাহলে সেই সাক্ষী দলিলটি আদালতে হাজির করতে বাধ্য থাকবেন।

The Evidence Act, 1872 এর ১৬২ ধারা এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়। এই ধারা অনুসারে,
আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে হবে। দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো আপত্তি থাকলে তা পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।

যদি কোনো সাক্ষী আদালতের সমনকে অমান্য করেন এবং দলিল হাজির না করেন, তাহলে তিনি আদালতের অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হতে পারেন। সুতরাং, দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে যেকোনো আপত্তি থাকলেও, সাক্ষীকে আদালতের সমন অনুসারে দলিল হাজির করতে হবে।
৬৩.
আদালত কখন ভিক্টিমের অনৈতিক চরিত্র ও পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করার অনুমতি প্রদান করবে?
  1. ন্যায়বিচারের স্বার্থে
  2. অভিযুক্তের আবেদনক্রমে
  3. প্রতিপক্ষ আইনজীবির আবেদনক্রমে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪৬(৩) এ বলা হয়েছে-
ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না: আরও শর্ত থাকে যে, এই ধরনের প্রশ্ন শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যদি এটি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।

এখানে বলা হয়েছে,
সাক্ষীর চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে জেরায় ভিক্টিমের অনৈতিক চরিত্র ও পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা যাবে না। তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতের অনুমতি নিয়ে করা যাবে।
৬৪.
According to Section 64 of the The Evidence Act, 1872- Documents must be proved by __________ except in the cases hereinafter mentioned.
  1. oral evidence
  2. written evidence
  3. direct evidence
  4. primary evidence
ব্যাখ্যা
• প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)-
প্রাথমিক সাক্ষ্য হল এমন সাক্ষ্য যা কোনও ঘটনা বা বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে প্রাপ্ত। প্রাথমিক সাক্ষ্য এক প্রকারের মৌল সাক্ষ্য। কোন বিচার্য বিষয়ে প্রাথমিক সাক্ষ্যের অস্তিত্ব থাকলে সেটাই প্রমাণ করতে হয়। এই ধরনের সাক্ষ্য সাধারণত মৌখিক বা দালিলিক আকারে থাকে।

⇒ Section 64 ⇒ Proof of documents by primary evidence:
Documents must be proved by primary evidence except in the cases hereinafter mentioned.

সাক্ষ্য আইনের ৬৪ ধারা- প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ:
এই আইনে অতঃপর যে সকল ব্যতিক্রমের উল্লেখ করা হইয়াছে উহা ভিন্ন অন্য সকল ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই মুখ্য সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করিতে হইবে।
৬৫.
রমেশ ও সুমন একসাথে ডাকাতি করেছিল। পরে তাদের আটক করা হয়। বিচারকালীন সময়ে রমেশ আদালতে হাজির হয়ে সুমনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় এবং বলে যে সুমনই মূল অপরাধী ছিল এবং সে শুধুমাত্র সুমনের সহযোগী ছিল। এক্ষেত্রে রমেশের সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে সুমনকে-
  1. সাজা দেয়া যাবে না
  2. সাজা দিলে অবৈধ হবে
  3. সাজা দিলে বেআইনী হবে না
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ধারা ১৩৩- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।
 
Section 133- Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.

এক্ষেত্রে, রমেশকে সুমনের 'দুষ্কর্মের সহযোগী' বলে গণ্য করা যায়। যদিও রমেশই একমাত্র সাক্ষী এবং তার সাক্ষ্য অসমর্থিত, তবুও শুধুমাত্র এই কারণে সুমনের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা বেআইনী হবে না। কারণ আদালত রমেশের সাক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এবং অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুমনকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে শুধু এই কারণে যে রমেশের সাক্ষ্য অসমর্থিত ছিল তা সাজাকে বেআইনী করবে না। অবশ্য এটা আদালতের বিবেচনার বিষয় যে, রমেশের সাক্ষ্যকে কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং অন্যান্য প্রমাণসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
৬৬.
কোন ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যাবে না?
  1. জেরা কালে
  2. জবানবন্দী গ্রহণকালে
  3. পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে। সাধারণত 'হ্যা' অথবা 'না' এই দুই  ভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়।
 
১৪২ ধারার বিধান-
বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা চলিবে না।
 
১৪৩ ধারার বিধান-
জেরার ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা চলিবে।
৬৭.
নিম্নের কোনটি 'Public Document?'
  1. কবলা
  2. আরজি
  3. উইল
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• সমগ্র দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং
২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document).

• ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারা মতে নিম্নলিখিত দলিল গুলি সরকারী দলিলঃ
(১) যে সমস্ত দলিল-
(ক) কোন সাবভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোন অংশের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যাক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারায় সরকারি দলিলের কোনো তালিকা না দিয়ে এর বৈশিষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে। আদালতের ডিক্রি, আদেশ, আরজি তা যখন আদালতে দাখিল করা হয় এবং সমনের আসল এগুলো সবই আদালতের কার্যক্রমের অংশ। সুতরাং তা সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

• ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)-
সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল । কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
৬৮.
মামলার কোনো পর্যায়ে নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও কোন পক্ষ দলিল দাখিল করতে অস্বীকৃতি জানালে, পরবর্তীতে উক্ত দলিল-
  1. দাখিল করা যাবে না
  2. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে দাখিল করা যাবে
  3. অপর পক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে দাখিল করা যাবে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act 1872 এর ১৬৪ ধারার বিধান মতে-
কোন পক্ষকে দলিল দাখিল করার জন্য নোটিশ দেওয়ার পরও যদি দলিল দাখিল করতে অস্বীকার করে, পরবর্তীতে অপর পক্ষ বা আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত দলিল আদালতে দাখিল করতে পারবেন না। অর্থাৎ অপর পক্ষ বা আদালতের অনুমতি নিয়ে উক্ত দলিল আদালতে দাখিল করতে পারবেন।

Section-164: Using, as evidence, of document production of which was refused on notice:
When a party refuses to produce a document which he has had notice to produce, he cannot afterwards use the document as evidence without the consent of the other party or the order of the Court.
৬৯.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুযায়ী আদালত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান করতে পারে?
  1. ৮৩গ ধারা
  2. ৮৫গ ধারা
  3. ৮৭ক ধারা
  4. ৮৮ ধারা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারা- ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান:
বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, গ্রাহকের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়নি তা ব্যতীত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের উল্লেখিত তথ্য সঠিক, যদি সনদটি গ্রাহক দ্বারা গৃহিত হয়। 
 
⇒ গ্রাহকের তথ্য হিসেবে নির্ধারিত তথ্য যাচাই করা না হলে তা সঠিক বলে আদালত অনুমান করবে না।
 
Section 85C- Presumption as to Digital Signature Certificates.-
The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber.
৭০.
'Estoppel' নীতি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. আইনের প্রশ্নে
  2. তথ্যগত প্রশ্নে
  3. ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে
  4. ক ও খ উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
• 'Estoppel' নীতি যার বাংলা অর্থ ‘স্বকার্যজনিত বাধা’। সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে,
‘যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র দ্বারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করায় এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করতে বলে, তখন উক্ত ২ পক্ষের মধ্যে কোন মামলায় ১ম পক্ষ তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না।’

সহজ ভাষায় বললে,
Estoppel (এস্টপেল) বা স্বকার্যজনিত বাধা একজন ব্যক্তিকে অতীতের কোনো কর্ম বা বিবৃতিকে বিরোধিতা করতে বাধা দেয়। এটি সাধারণ আইনের অংশ এবং অন্য ব্যক্তির কথা বা কাজের অসঙ্গতি দ্বারা মানুষকে অন্যায়ভাবে অবিচার করা থেকে বিরত রাখার জন্য।

আইনের বিষয়ে Estoppel নীতি:
প্রতিবন্ধক বা Estoppel এর নীতিটি ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য হয়, আইন বিষয়ে নয়। অর্থাৎ আইন বলে কেউ যদি কোন অধিকার লাভ করে সেক্ষেত্রে Estoppel নীতি প্রয়োজ্য হবে না।

আইনের বিষয়ে Estoppel নীতি প্রযোজ্য হয় না কারণ:
১. আইন একটি সার্বজনীন নিয়ম যা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। আইন অনুযায়ী কাউকে কোন অধিকার দেওয়া হলে, কেউ এই অধিকার অস্বীকার করতে পারবে না বা এর বিরোধিতা করতে পারবে না।
২. Estoppel হলো এমন একটি নীতি যা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং এটি ঘটনাগত তথ্য ও আচরণের উপর প্রযোজ্য। কিন্তু আইন একটি নিরপেক্ষ নিয়ম যা কারো অনুমতি বা আচরণের উপর নির্ভরশীল নয়।
৩. যদি আইন অনুযায়ী কোন অধিকার প্রদত্ত হয়, তাহলে এই অধিকারকে Estoppel এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধিত করা যাবে না, কারণ আইন প্রধানতর এবং সার্বজনীন রূপ বহন করে।
৭১.
'ক' গুরতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং তার চিকিৎসকে জানায় এই আঘাত 'খ' দিয়েছে। ৩ দিন পর 'ক' মারা যায়। এক্ষেত্রে 'ক' এর বিবৃতি মৃত্যুকালীন ঘোষণা হিসেবে-
  1. গ্রহণযোগ্য হবে
  2. গ্রহণযোগ্য নয়
  3. পুলিশের কাছে দিলে গ্রহণযোগ্য হতো
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিকে বোঝায়। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি প্রদান করেন, তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা dying declaration বলা হয়। মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার আওতায় সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। 

- 'Dying Declaration' বা মৃত্যুকালীন বিবৃতি যেকোনো ব্যক্তির নিকট বা সামনে করা যায়।
 
⇒  সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
 
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা;
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি;
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে;
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত;
ⅴ) পারিবারিক দলিল বা উইল;
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি;
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি;

অর্থাৎ উল্লেখিত প্রশ্নে 'ক' এর বক্তব্য ৩২ ধারায় বর্ণিত শর্ত অনুসারে মৃত্যুকালীন ঘোষণা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।
৭২.
আদালত কোন ক্ষেত্রে কুৎসাজনক প্রশ্ন করার অনুমতি প্রদান করতে পারে?
  1. সাক্ষীর চরিত্র সম্পর্কিত হলে
  2. অভিযুক্তের সম্পর্কিত হলে
  3. বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত হলে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৫১ ধারা- অশ্লীল ও কুৎসাজনক প্রশ্ন:
 
যদি কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসাবাদ আদালত অশ্লীল অথবা কেলেঙ্কারীজনক মনে করেন, তবে আদালতের বিচার্য বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্নটির কিছু গুরুত্ব থাকলেও আদালত এর প্রশ্ন নিষিদ্ধ করতে পারেন প্রশ্নটি যদি না বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত হয় অথবা বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব নির্ধারণের জন্য যা জানা প্রয়োজন এমনি বিষয় সম্পর্কিত হয়।
 
Section 151- Indecent and scandalous questions:
The Court may forbid any questions or inquiries which it regards as indecent or scandalous, although such questions or inquiries may have some bearing on the questions before the Court, unless they relate to facts in issue, or to matters necessary to be known in order to determine whether or not the facts in issue existed.
৭৩.
সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী কখন আদালত একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে সঠিক মনে করবে?
  1. দলিলটি ২০ বছরের পুরাতন এবং সরকারি অফিস হতে দাখিল করতে হবে
  2. দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন এবং সঠিক ব্যক্তির হেফাজত হতে দাখিল করতে হবে
  3. দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন এবং সরকারি কর্মচারির হেফাজত হতে দাখিল করতে হবে
  4. দলিলটি ২৫ বছরের পুরাতন এবং সঠিক ব্যক্তির হেফাজত হতে দাখিল করতে হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে, যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।
 
এ ধারার বিধান অনুযায়ী-
১. দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হতে হবে;
২. দলিলটি সঠিক ব্যক্তির হেফাজত হতে আদালতে দাখিল করতে হবে।
 
৯০ ধারা: ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান-
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।

Section 90: Presumption as to documents thirty years old:
Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested. 
 
Explanation- Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable.
৭৪.
বোবা ব্যক্তি আদালতে কীভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেন?
  1. লিখে
  2. ইশারায়
  3. সাক্ষী হিসেবে অযোগ্য হবেন
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872 এর ১১৯ ধারা অনুযায়ী, বোবা ব্যক্তি আদালতে প্রকাশ্যে লিখে বা ইশারায় সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো সাক্ষী বধির বা বোবা হন এবং সে লিখতে বা ইশারা করতে পারেন, তাহলে তাকে লিখিত বা ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে দেওয়া যেতে পারে।
সুতরাং, একজন বোবা সাক্ষীকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে:

লিখিত সাক্ষ্য:
বোবা ব্যক্তি তার সাক্ষ্য লিখিতভাবে দিতে পারবেন। তিনি প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর লিখবেন এবং সেই লিখিত উত্তরগুলি আদালতে পাঠ করা হবে।

ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য:
বোবা ব্যক্তি ইশারা করে তার সাক্ষ্য দিতে পারবেন। একজন দোভাষী তার ইশারাগুলি অনুবাদ করবেন এবং সেই অনুবাদগুলি আদালতে পাঠ করা হবে।
৭৫.
ডিজিটাল গেজেট যথাযথ হেফাজত থেকে দাখিল করা হলে আদালত তা অবশ্যই সঠিক হিসেবে-
  1. অনুমান করবে
  2. অনুমান করতে পারে
  3. অনুমান নাও করতে পারে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা- ৮১ক: ডিজিটাল আকারে গেজেট হিসাবে অনুমান:
আদালত সরকারী গেজেট বলে অভিহিত প্রতিটি ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা অনুমান করবে, বা কোনও ব্যক্তির দ্বারা রাখা হবে এমন কোনও আইন দ্বারা নির্দেশিত ডিজিটাল‌ রেকর্ডও হতে পারে, সত্যতা অনুমান করবে যদি এই জাতীয় ডিজিটাল রেকর্ড যথেষ্ট পরিমানে রাখা হয় আইন দ্বারা প্রয়োজনীয় কোন ফর্মে এবং যথাযথ হেফাজত থেকে দাখিল হয়।

ব্যাখ্যা: ডিজিটাল রেকর্ডগুলিকে যথাযথ হেফাজতে বলা হবে যদি সেগুলি সেই জায়গায় থাকে যেখানে এবং যার সাথে সেগুলি স্বাভাবিকভাবেই থাকে, তবে কোন হেফাজত অনুপযুক্ত নয় যদি প্রমাণিত হয় যে এটির বৈধ উৎস ছিল বা বিশেষ ক্ষেত্রের পরিস্থিতি এমন যে এমন একটি উৎপত্তি সম্ভাব্যতা প্রদান করা।

অর্থাৎ ডিজিটাল গেজেট যথাযথ হেফাজত থেকে দাখিল করা হলে আদালত তা অবশ্যই সঠিক হিসেবে অনুমান করবে। ডিজিটাল আকারে গেজেট হিসেবে আদালত 'shall presume' ধরে নিবেন।
৭৬.
জনাব 'ক' একজন অত্যন্ত নীতিবান এবং ধার্মিক মানুষ। 'ক' এর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আদালতে উঠেছে। সেখানে তার আইনজীবী সাক্ষ্য শুনানীর সময় 'ক' এর সচ্চরিত্রের বিস্তারিত তুলে ধরতে চাইলে-
  1. আদালত বাধা প্রদান করবে
  2. বিপক্ষ আইনজীবী তাকে বাধা প্রদান করবে
  3. আদালতের অনুমতি ছাড়া বলা যাবে না
  4. সচ্চরিত্র তুলে ধরতে কোনো বাধা নেই আদালতে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারামতে,
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাল চরিত্র বা সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক।

তবে ৫৪ ধারা অনুসারে, অভিযুক্তের পূর্বাচারের প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ তার আগের অপরাধমূলক কাজকর্ম বা খারাপ চরিত্র প্রমাণ করা যাবে না। অর্থাৎ, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সচ্চরিত্র বা ভালচরিত্র তার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে গণ্য। এটি আইনগতভাবে স্বীকৃত এবং সাক্ষ্য আইনে ব্যবস্থা রয়েছে। তাই উল্লিখিত ক্ষেত্রে 'ক' এর আইনজীবী কর্তৃক 'ক' এর সচ্চরিত্রের বিস্তারিত তুলে ধরার আইনগত অধিকার রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
৭৭.
বিগত ________ যাবত খবর পাওয়া যায় না, এমন ব্যক্তিকে আদালত মৃত অনুমান করতে বাধ্য।
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী-
আদালত কোন ব্যক্তিকে মৃত অনুমান করতে বাধ্য যদি বিগত ৭ বৎসর যাবৎ তার কোন খবর পাওয়া না যায়। এমন ব্যক্তিকে যে জীবিত দাবী করে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে উক্ত ব্যক্তি জীবিত।

Section 108 ⇒ Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years:
Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.
৭৮.
Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধা কোন ধরনের মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. দেওয়ানি
  2. ফৌজদারি
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র দ্বারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করায় এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করতে বলে, তখন উক্ত ২ পক্ষের মধ্যে কোন মামলায় ১ম পক্ষ তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না।’- একে ‘Estoppel' বা 'স্বকার্যজনিত বাধা’ নীতি বলা হয়।

সাক্ষ্য আইনের এই নীতি শুধুমাত্র দেওয়ানী কার্যক্রমে প্রয়োগ করা হয়। ফৌজদারি কার্যক্রমে Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার কোন ব্যবহার নেই।
৭৯.
সাক্ষ্য আইনের ১৫২ ধারার বিষয়বস্তু কী?
  1. অশালীন বা কুৎসাজনক প্রশ্ন প্রসঙ্গে
  2. অপমান বা উত্যক্ত করার জন্য উদ্দেশ্যমূলক প্রশ্ন প্রসঙ্গে
  3. যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া প্রশ্ন করা হলে আদালতের কর্মপদ্ধতি
  4. সত্যবাদিতা পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন করা হলে উত্তরের বিরোধিতায় সাক্ষ্য বর্জন
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৫২ ধারা অনুসারে,
যদি কোনো প্রশ্ন সাক্ষীকে অপমানিত বা উত্যক্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়, তাহলে আদালত সেই প্রশ্নকে অগ্রাহ্য করতে পারে। অর্থাৎ এরকম প্রশ্নের প্রয়োজন নেই এবং আদালত এই ধরনের প্রশ্ন প্রসঙ্গে বর্জন করতে পারে।

Section 152- Questions intended to insult or annoy:
The Court shall forbid any question which appears to it to be intended to insult or annoy, or which, though proper in itself, appears to the Court needlessly offensive in form.
৮০.
আদালত কর্তৃক অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলে, কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ করার অজুহাতে-
  1. পুনর্বিচার করা যাবে
  2. নতুন করে বিচার হবে না
  3. মামলা বাতিল হবে
  4. সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারায় আদালত কর্তৃক অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারামতে,
আদালত অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করে থাকলে যে সাক্ষ্যের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, সেই সাক্ষ্য ছাড়াও যদি এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে যা দ্বারা আদালতের সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন হয়, অথবা যে সাক্ষ্য বর্জন করা হয়েছে, তা গ্রহণ করা হলেও আদালতের সিদ্ধান্তে কোন তারতম্য হতো না, তবে কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করার অজুহাতে কোন মামলার পুনর্বিচার বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দাবি করা যাবে না। সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারার বিধান দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই সমভাবে প্রযোজ্য।

Section 167⇒ No new trial for improper admission or rejection of evidence:
The improper admission or rejection of evidence shall not be ground of itself for a new trail or reversal of any decision in any case, if it shall appear to the Court before which such objection is raised that, independently of the evidence objected to and admitted, there was sufficient evidence to justify the decision, or that, if the rejected evidence had been received, it ought not to have varied the decision.
৮১.
বিচারক উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য যে কোন সাক্ষীকে কখন প্রশ্ন করতে পারেন?
  1. মামলার যে কোন সময়
  2. বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের সময়
  3. অভিযুক্ত পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের সময়
  4. রায় প্রদানের সময়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারার বিধান: বিচারক কর্তৃক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার বা কিছু দাখিল করার আদেশ প্রদানের ক্ষমতা-
বিচারক প্রাসঙ্গিক ঘটনা উদঘাটন করার জন্য অথবা উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য যে কোন সাক্ষীকে যে কোন সময় যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন, অথবা প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে পক্ষগণকে যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন এবং যে কোন দলিল বা বস্তু উপস্থাপন করার আদেশ দিতে পারবেন।

এখানে বিচারক একজন আইনজীবী ও তদন্তকারীর ভূমিকা পালন করেন। তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন অনুসারে যে সকল ঘটনা প্রাসঙ্গিক ও যথারীতি প্রমাণিত বলে ঘোষিত হবে, তার ভিত্তিতেই মামলার রায় দান করতে হবে।

⇒ পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিগণ বিচারকের কোন প্রশ্ন বা আদেশ সম্পর্কে কোন আপত্তি করতে পারবে না। অনুরূপ কোন প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী যা বলবে ঐ সম্পর্কে আদালতের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষীকে কোন জেরা করতেও পারবে না।
⇒ ১৬৫ ধারার ক্ষমতা আদালতের সহজাত ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
⇒ ১৬৫ ধারার ক্ষমতাবলে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য আদালত মামলার পক্ষ বা সাক্ষী অথবা কোন ব্যক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে পারে।
৮২.
ধারা ৮৯ক এর অধীন শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে আদালত-
  1. কোনো অনুমান করবে না
  2. শুধুমাত্র সাক্ষ্য সম্পর্কে অনুমান করতে পারে
  3. যে সংগ্রহ করেছে, তার সম্পর্কে আদালত অনুমান করতে পারে
  4. যার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তার সম্পর্কে আদালত অনুমান করতে পারে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৮৯ক: শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য হিসাবে অনুমান:

আদালত অনুমান করতে পারে যদি না বিপরীত প্রমাণিত হয় যে, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণগুলি সেই ব্যক্তির অন্তর্গত বা তৈরি করা হয়েছে যার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছে।
[The court may presume, unless the contrary is proved, that the physical or forensic evidence was contained in or made by the person from whom it was obtained.]

অর্থাৎ শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য যার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তার সম্পর্কে আদালত অনুমান করতে পারে।
৮৩.
একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোনো কূপের পানি ব্যবহার করার অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে কাদের অভিমত প্রাসঙ্গিক?
  1. যারা উক্ত অধিকার ভোগ করে
  2. উক্ত অধিকার যারা প্রকাশ করেছে
  3. যারা উক্ত অধিকার দিয়েছে
  4. উক্ত অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যাদের জানা স্বাভাবিক
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪৮- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।
ব্যাখ্যাঃ "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ঠ সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।

উদাহরণ-
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।

অর্থাৎ এক্ষেত্রে পানি ব্যবহারের অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যাদের জানা স্বাভাবিক, তাদের অভিমত প্রাসঙ্গিক হবে।

Section 48- Opinion as to existence of right or custom, when relevant:
When the Court has to form an opinion as to the existence of any general custom or right, the opinions, as to the existence of such custom or right, of persons who would be likely to know of its existence if it existed, are relevant.
Explanation. The expression "general custom or right" includes customs or rights common to any considerable class of persons.

Illustration-
The right of the villagers of a particular village to use the water of a particular well is a general right within the meaning of this section.